বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা২৫প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৩৮ · ৩,৭০১৩,৭২৫ / ৩,৭৪৭

৩,৭০১.
কোন বিক্রিয়াকে নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়?
  1. ফিশন
  2. ফিউশন
  3. কমবিউশন
  4. এণ্ডোথারমিক
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলা হয়।

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে শক্তি উৎপন্নের প্রক্রিয়া: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন। 

১. নিউক্লিয়ার ফিশন:
যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খণ্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 

অপশন আলোচনা:
→ কমবিউশন: এটি হচ্ছে দহন বিক্রিয়া। কোনো মৌল বা যৌগকে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে। 

→ এণ্ডোথারমিক: এটি হচ্ছে তাপহারী বিক্রিয়া। যে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার জন্য তাপের শোষণ ঘটে, তাকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০২.
ফ্রেয়ন হচ্ছে - 
  1. ডাইক্লোরাে-ট্রাইফ্লোরাে মিথেন
  2. ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে ইথেন 
  3. ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন
  4. ডাইক্লোরাে-ট্রাইফ্লোরাে ইথেন
ব্যাখ্যা
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী যা বাষ্পীভবন কুন্ডলী নামে পরিচিত। 
- এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়। 
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন। 
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে। 
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকিটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে, ফলে শীতলীকরণ ঘটে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৩.
তেজস্ক্রিয়তা সনাক্ত করতে কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) গ্রাডিমিটার
  2. খ) থিউডুলাইট
  3. গ) প্রণী ব্রেইক
  4. ঘ) গাইগার কাউন্টার
ব্যাখ্যা
Geiger counters are commonly used to measure the amount of radioactivity, but there are other types of detectors that may be used.
source: www.cdc.gov
৩,৭০৪.
নিউটনের প্রথম সূত্র কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. জড়তা
  2. ত্বরণ
  3. বল
  4. শক্তি
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
-"বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।"

জড়তা:
-  বল প্রয়োগ না করা পর্যন্ত স্থির বস্তু বা গতিশীল বস্তুর  অবস্থান পরিবর্তন করতে না চাওয়ার যে প্রবণতা তাকে বলা হয় জড়তা। 
• উদাহারন: চলন্ত বাস হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনে হেলে পড়ে এবং স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পেছনে হেলে পড়ে।  

অর্থাৎ বলা যায় যে জড়তার মূল আলোচ্য বিষয় হলো বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন হয় না, যা নিউটনের প্রথম সূত্রের সাথে সম্পর্কিত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
৩,৭০৫.
কোনো মাধ্যমের তাপমাত্রা বাড়ালে ঐ মাধ্যমে শব্দের গতি-
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. অনিয়মিত হয়
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
- কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। 
অর্থাৎ, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৬.
পারমাণবিক সংখ্যা সর্বনিম্ন কত হলে কোন মৌল তেজস্ক্রিয়তা ধর্ম প্রদর্শন করে?
  1. ৮২
  2. ৮৩
  3. ৮৪
  4. ৮৫
ব্যাখ্যা

তেজষ্ক্রিয়তা:
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে।
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে।
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়-
১. তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩. তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪. এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০৭.
মৌলিক রাশি নয় কোনটি?
  1. সময়
  2. বেগ
  3. দীপন তীব্রতা
  4. তড়িৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
সময়
• তাপমাত্রা, 
তড়িৎপ্রবাহ
দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- 
বেগ
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৮.
কোন ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বলকে অভিকর্ষ বলা হয়? 
  1. যখন কোনো বস্তুর উপর সূর্যের আকর্ষণ কাজ করে
  2. যখন কোনো বস্তুর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ কাজ করে
  3. যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
  4. যখন কোনো বস্তুর উপর কোনো গ্রহাণুর আকর্ষণ কাজ করে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: 
- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ। 
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
যেমন- গাছের ফল মাটিতে পড়ে আবার ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলেও বলটি মাটিতে এসে পড়ে। এখানে পৃথিবী যেমন ফল বা ক্রিকেট বলকে আকর্ষণ করে, তেমনি এরাও পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী অনেক বড় এবং এর আকর্ষণ বল অনেক বেশি হওয়ায় ফল ও ক্রিকেট বল মাটিতে পড়ে। 
- পৃথিবী এবং অন্য যেকোনো বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৭০৯.
বাতাসের আদ্রতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ব্যারোমিটার
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র:
- বাতাসের আদ্রতা পরিমাপের যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়- ল্যাক্টোমিটার।
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ।
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় -ওডোমিটার।

তথ্যসূত্র:
১. ভূগোল প্রথম পত্র, এইস.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

৩,৭১০.
পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান কত?
  1. ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. ১০ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : খ) শূন্য 

• অভিকর্ষ:

- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ।
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে বলে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বিজ্ঞান বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তন হয়। সময়ের সাথে যে হারে বেগ বৃদ্ধি পায় তাকে ত্বরণ বলে। অভিকর্ষ বলের প্রভাবেও বস্তুর ত্বরণ হয়। এ ত্বরণকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বলা হয়।
- যেহেতু বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, সুতরাং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কোনো স্থানে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ এক প্রকার ত্বরণ, সুতরাং এর একক হবে ত্বরণের একক অর্থাৎ মিটার/সেকেন্ড
- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে। 
আমরা জানি, 
W = mg 
এখানে, 
m = বস্তুর ভর।
g = অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 m/s2 । 
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে। 
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম। 
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৭১১.
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রটি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. ফ্যারাডে
  2. জুল
  3. এডিসন
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H
বা, W = JH 
এখানে, 
W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। 
- J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন যা জুলের সূত্র বা তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১২.
যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ কত গুণ বৃদ্ধি পাবে?
  1. ৪ গুণ
  2. ২ গুণ
  3. ১৬ গুণ
  4. একই থাকবে
ব্যাখ্যা

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে। 

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে, কারণ শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক 
v ∝ √T। তাই, তাপমাত্রা ৪ গুণ হলে, বেগ √4 বা ২ গুণ হবে। 

শব্দের বেগ (Speed of Sound):
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∝ √T। এখানে তাপমাত্রা কেলভিন স্কেলে।
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না।
- বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের বিপরীত আনুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায় এবং শব্দের বেগ বেড়ে যায়।
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে।
- তরল এবং কঠিন পদার্থের ধাতব ও অ-ধাতব প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন হওয়ায়, শব্দের বেগও সেখানে ভিন্ন হয়।
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭১৩.
যদি রৈখিক বিবর্ধন m < 1 হয়, তাহলে প্রতিবিম্ব কীরূপ হবে?
  1. খর্বিত হবে
  2. বিবর্ধিত হবে
  3. সমান হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। 
- কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L° এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য L
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/L° । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৪.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধানত কোন ধরনের চার্জ বাহক বিদ্যমান থাকে?
  1. হোল
  2. নিউট্রন
  3. ধনাত্মক আয়ন
  4. মুক্ত ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) মুক্ত ইলেকট্রন
- n-টাইপ (Negative-type) অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরের সাথে পঞ্চযোজী মৌল (যেমন- আর্সেনিক বা ফসফরাস) মেশানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ অতিরিক্ত ইলেকট্রন তৈরি হয়, যা প্রধান চার্জ বাহক (Majority Carrier) হিসেবে বিদ্যুৎ বহন করে।

• অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড:  
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। 
- বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
- একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭১৫.
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে- 
  1. ডায়নামো
  2. মাইক্রোফোন
  3. বৈদ্যুতিক মোটর
  4. ব্যাটারি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭১৬.
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  2. এটি সরল রৈখিক গতি
  3. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচের গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক, 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৭.
কোন বস্তুকে পানিতে ফেলে দেয়ার পর বস্তু কর্তৃক অপসারিত পানির ওজন যদি বস্তুর ওজনের সমান হয় তবে নিচের কোনটি ঘটবে?
  1. ক) বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
  2. খ) বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে।
  3. গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
  4. ঘ) কখনো ডুববে আবার কখনো ভাসবে।
ব্যাখ্যা
 
বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত (Conditions of floatation and Immersion of a body)
ধরা যাক একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন। ঐ বস্তুটিকে পানিতে ডোবানো হল।
বস্তুটির উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এখন -
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ডুববে না, ভেসে থাকবে।
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৭১৮.
চিরুনি দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ালে চিরুনিতে সঞ্চিত চার্জ -
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. শূন্য
  4. ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় ধরনের চার্জ
৩,৭১৯.
অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করণে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. এক্সরে রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা এক্স-রশ্মি:
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রশ্মি দুইটি শ্রেণীতে বিভক্ত-
• কঠিন এক্স-রশ্মি।
• কোমল এক্স-রশ্মি।

এক্স-রে এর ব্যবহার:
• স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল ও ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি সনাক্তকরণে এক্কারে ব্যবহার করা হয়।
• মুখমণ্ডলীর অভ্যন্তরের যেমন দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক।
পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়
• পিত্তথলি ও কিডনির পাথর সনাক্তকরার জন্য এক্সরে ব্যবহৃত হয়।
• বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়। ক্যান্সারের চিকিৎসা করা।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২০.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  2. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  3. বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
ব্যাখ্যা

- মহাকর্ষ হলো মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বল। তবে যখন এই আকর্ষণ বল পৃথিবী এবং অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে কাজ করে, তখন তাকে বিশেষভাবে 'অভিকর্ষ' বা মাধ্যাকর্ষণ বলা হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পৃথিবী ও বস্তুর মধ্যকার এই আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের সঠিক প্রতিফলন। 

মহাকর্ষ: 

- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৭২১.
ডায়োডের মূল কাজ কোনটি?
  1. সিগনাল বাড়ানো
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ
  3. বিদ্যুৎ সংরক্ষণ
  4. একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• P-N junction এ Forward Bias দেওয়া হয়, তখন ডায়োড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে।কিন্তু Reverse Bias দিলে কারেন্ট প্রবাহ হয় না। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ডায়োডকে বলা হয় Unidirectional Device বা অর্থাৎ একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রক।

- ডায়োড হলো একটি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান যা কারেন্টকে শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হতে দেয়, বিপরীত দিকে বাধা দেয়।
- এটি গঠিত হয় দুটি সেমিকন্ডাক্টর স্তর; P-type ও N-type সংযুক্ত করে। এই সংযোগকে বলা হয় P-N junction।

ডায়োডের প্রধান কাজ:
- কারেন্ট একদিকে প্রবাহিত করা (Rectification) এটিই মূল কাজ।
- Alternating Current (AC) কে Direct Current (DC)-তে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ সরবরাহে (Power supply circuits) AC থেকে DC তৈরির জন্য Rectifier Diode ব্যবহৃত হয়।

ডায়োডের অন্যান্য প্রয়োগ:
- Rectifier circuit: AC থেকে DC তৈরিতে।
- Clipping ও Clamping circuit: সিগনালের সীমা নির্ধারণে।
- Voltage protection: অতিরিক্ত ভোল্টেজ থেকে সার্কিট রক্ষা করতে।
- Switching circuit: দ্রুত চালু-বন্ধ ক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৩,৭২২.
'সোডিয়াম' কোন ধরনের পদার্থ?
  1. প্যারা চৌম্বক
  2. ডায়া চৌম্বক
  3. ফেরো চৌম্বক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্যারা চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। 
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়া চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
- অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। 
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

ফেরো চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৩.
সবচেয়ে ভাল তাপ পরিবাহক কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সীসা
  4. ব্রোঞ্জ
ব্যাখ্যা

- উল্লিখিত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে তামা।

পরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের। 
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক।
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭২৪.
বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ব্যারােমিটার 
  2. হাইগ্রোমিটার 
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
ব্যাখ্যা

ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৭২৫.
কোন যন্ত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য আর্গন ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. গাইগার মূলার কাউন্টার 
  3. সিসমোগ্রাফ
  4. স্পেকট্রোফোটোমিটার 
ব্যাখ্যা

• গাইগার মূলার কাউন্টার টিউবের ভেতরে অত্যন্ত কম চাপে আর্গন গ্যাস ভর্তি থাকে। যখন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এই গ্যাসের মধ্য দিয়ে যায়, তখন গ্যাসটি আয়নিত হয় এবং একটি ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে, যা পালস হিসেবে রেকর্ড করার মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার তীব্রতা মাপা হয়।

• আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- হাইগ্রোমিটার: বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাপ করে এবং এতে আর্গন গ্যাসের কোনো প্রয়োগ নেই।
- সিসমোগ্রাফ: ভূমিকম্পের কম্পন ও তীব্রতা রেকর্ড করতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের যন্ত্র নয়।
- স্পেকট্রোফোটোমিটার: আলোর তীব্রতা বা শোষণ ক্ষমতার মাধ্যমে নমুনার ঘনমাত্রা নির্ণয় করে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।