বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ৩৭ / ৩৮ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ৩,৭৪৭

৩,৬০১.
লেন্সের ক্ষমতা -2D বলতে কোনটি নির্দেশ করে?
  1. ক) লেন্সটি অবতল
  2. খ) এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলােকরশ্নিকে অপসারিত করে
  3. গ) আলোকরশ্মি লেন্স থেকে ৫০ সেমি দূরের কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলােকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলাে কোনাে লেন্স থেকে ৫০ সেমি দূরের কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়।
উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান

৩,৬০২.
একটি ঘড়ির কাঁটা নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে। এ ধরনের গতি কোন শ্রেণিভুক্ত?
  1. সরল রৈখিক গতি
  2. বক্র রৈখিক গতি
  3. ঘূর্ণন গতি
  4. পর্যায় গতি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় গতি — নির্দিষ্ট সময় পরপর কোনো গতি যদি একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে, তাকে পর্যায় গতি বলা হয়।

• স্থিতি ও গতি:
- সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তন হলে গতি।
- অবস্থানের পরিবর্তন না হলে স্থিতি।
- সকল গতি ও স্থিতি আপেক্ষিক।

• গতির প্রকারভেদ:
- সরল রৈখিক গতি → বস্তু সরলরেখা বরাবর চললে।
- বক্র রৈখিক গতি → বস্তু বক্রপথে চললে।
- ঘূর্ণন গতি → নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণন।
- পর্যায় গতি → নির্দিষ্ট সময় পরপর একই অবস্থান ও দিক পুনরাবৃত্তি।
- দোলন গতি → পর্যায় গতির বিশেষ রূপ, যেখানে বস্তু সামনে–পিছনে গমন করে।
- যৌগিক গতি → একই সাথে একাধিক প্রকার গতি উপস্থিত থাকলে।

• অন্যান্য অপশন:
- সরল রৈখিক গতি → সোজা পথে চলাচল।
- বক্র রৈখিক গতি → বাঁকা পথে চলাচল।
- ঘূর্ণন গতি → অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘোরা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৩,৬০৩.
একমুখী প্রবাহের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?
  1. A.C
  2. D.C
  3. V.C
  4. R.C
ব্যাখ্যা
দিক পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ ও তড়িচ্চালক শক্তি:  
- তড়িৎ কোষ থেকে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ প্রেরণ করলে তড়িৎ প্রবাহ বর্তনীর মধ্য দিয়ে সমমাত্রায় একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ (direct current) বলা হয়। 
- একমুখী প্রবাহকে সংক্ষেপে ডি.সি (D.C) বলা হয়। 
- ডি.সি ভোল্টেজের তরঙ্গরূপ সরলরেখা হয়। 

দিক পরিবর্তী প্রবাহ: 
- কোনো বর্তনীতে প্রবাহমাত্রা যদি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার বিপরীত মুখী হয় এবং প্রবাহমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ (alternating current) বলা হয়। 
- একে সংক্ষেপে এ.সি. (A.C) বলা হয়। 

দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি: 
- যে তড়িচ্চালক শক্তির ক্রিয়ায় কোন বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, সেই তড়িচ্চালক শক্তিকে দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৪.
কোন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?
  1. তামা 
  2. রূপা 
  3. সিলিকন
  4. কাচ
ব্যাখ্যা

- সিলিকন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলত সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে (যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি) যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬০৫.
সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ কোনটি? 
  1. ইনফ্রারেড রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা, অন্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। 
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। 
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে, যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
৩,৬০৬.
মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় -
  1. ক) শব্দশক্তি
  2. খ) তড়িৎশক্তি
  3. গ) আলোকশক্তি
  4. ঘ) চৌম্বকশক্তি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎশক্তি (বা বিদ্যুৎ শক্তি) মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- মোবাইল টেলিফোন সিস্টেমে, আমাদের কথাবার্তা (শব্দ সিগন্যাল) প্রথমে বিদ্যুৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত হয় এবং তারপর এই বিদ্যুৎ সিগন্যাল ওয়্যারলেস মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
- টেলিফোনের লাইনের মধ্যে (যেমন ল্যান্ডলাইন) সরাসরি বিদ্যুৎ সিগন্যাল প্রবাহিত হয়।

মোবাইল টেলিফোনের সিস্টেমে যে তড়িৎশক্তি প্রবাহিত হয়, তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

১. ভয়েস টু ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল রূপান্তর:
- যখন আপনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন, তখন আপনার কণ্ঠস্বর (শব্দ তরঙ্গ) মোবাইলের মাইক্রোফোনে পড়ে। মাইক্রোফোন এই শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।

২. অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর:
- এই তড়িৎ সিগন্যাল প্রথমে অ্যানালগ ফরম্যাটে থাকে। ফোনের ভেতরে ADC (Analog-to-Digital Converter) এই অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে (বাইনারি কোড - 0 এবং 1 এর সিরিজ) রূপান্তরিত করে।

৩. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং:
- এই ডিজিটাল সিগন্যাল এরপর প্রসেস হয় - এর মধ্যে কম্প্রেশন (ডাটা সাইজ কমানো), এনক্রিপশন (সুরক্ষার জন্য), এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট (শব্দের মান উন্নত করা) অন্তর্ভুক্ত।

৪. রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর:
- এই প্রক্রিয়াকৃত ডিজিটাল সিগন্যাল পরে মোবাইলের ট্রান্সমিটার দ্বারা রেডিও তরঙ্গে (বিদ্যুতচুম্বকীয় তরঙ্গ) রূপান্তরিত হয়, যা মোবাইল টাওয়ারে প্রেরিত হয়।

৫. সিগন্যাল ট্রান্সমিশন:
- মোবাইল টাওয়ার এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং তারপর তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- এই তড়িৎ সিগন্যাল টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় - যা ফাইবার অপটিক কেবল, কপার কেবল বা মাইক্রোওয়েভ লিংকের মাধ্যমে হতে পারে।
- নেটওয়ার্কের মধ্যে, সিগন্যাল মোবাইল স্যুইচিং সেন্টার (MSC) দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত হয়, যেখানে সিগন্যাল রাউটিং ও প্রসেসিং হয়।

৬. প্রাপকের দিকে:
- প্রাপকের নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ার থেকে আবার রেডিও তরঙ্গ হিসেবে সিগন্যাল প্রেরিত হয়।
- প্রাপকের মোবাইল ফোন এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং আবার তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- ডিজিটাল থেকে অ্যানালগ রূপান্তরের পর, স্পিকারের মাধ্যমে এই তড়িৎ সিগন্যাল আবার শব্দে পরিণত হয়।
- তাই, সমগ্র প্রক্রিয়াটিতে শব্দ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→শব্দ এই রূপান্তর চক্র চলে।
- যদিও রেডিও তরঙ্গ ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তবুও নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে সিগন্যাল তড়িৎশক্তি হিসেবেই প্রবাহিত হয়।
৩,৬০৭.
মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ সবচেয়ে বেশি কোথায়?
  1. ক) ভূ - পৃষ্ঠে
  2. খ) ভূ - কেন্দ্রে
  3. গ) ভূ - পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার উপরে
  4. ঘ) ভূ - পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার নিচে
ব্যাখ্যা
• কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg এখানে, g = অভিকর্ষজ ত্বরণ। যার মান 9.8.
- এই g এর মান ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় g এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম। মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৩,৬০৮.
মানব চোখের লেন্স কোন ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. উত্তল
  2. সমতল
  3. অবতল
  4. দ্বি-উত্তল
ব্যাখ্যা
- মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যাবলী অনেকটা ক্যামেরার মতো।
- মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল
- চোখের আলোকসংবেদী অংশের নাম রেটিনা।
- কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিম্ব গঠন করে।
- রেটিনায় গঠিত বিম্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত।
- রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে।
- মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬০৯.
নিচের কোনটি লব্ধ রাশির উদাহরণ?
  1. দৈর্ঘ্য 
  2. ভর 
  3. তাপমাত্রা
  4. বল 
ব্যাখ্যা

রাশি এবং তাদের পরিমাপ: 
- প্রকৃত বিজ্ঞানে সবকিছুরই পরিমাপ করতে হয়; বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিমাপ করে সব কিছুকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা। 
- এই জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে, এই ভৌতজগতে অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা পরিমাপ করা সম্ভব। 
যেমন- কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়তন, ওজন, তাপমাত্রা, রং, কাঠিন্য, তার অবস্থান, বেগ, তার ভেতরকার উপাদান, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, ঘনত্ব, আপেক্ষিক তাপ, চাপ গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ভৌতজগতে রাশিমালার কোনো শেষ নেই। 
- এই অসংখ্য রাশিমালা পরিমাপ করার জন্য অসংখ্য রাশির সংজ্ঞা আর অসংখ্য একক তৈরি করে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়; শুধুমাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায়। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায় সে সব রাশিকে বলে মৌলিক রাশি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা। 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এই সাতটি একককে বলে এস.আই (S.I) একক। 

লব্ধ রাশি: 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যখন অন্য কোনো রাশি প্রকাশ করা হয়, তখন তালে বলে লব্ধ রাশি। 
যেমন- কাজ, ক্ষমতা, বল, বেগ, ত্বরণ, ঘনত্ব ইত্যাদি হচ্ছে লব্ধ রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬১০.
কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল সমান?
  1. -32°
  2. -40°
  3. 273°
  4. 373°
ব্যাখ্যা

• - 40° তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়। 

• তাপমাত্রা পরিমাপের স্কেলের মধ্যে অন্যতম হলো সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল।

আমরা জানি, সেলসিয়াস (C) ও ফারেনহাইট (F) এর মধ্যে সম্পর্ক:
C/5 = (F - 32)/9

ধরি,
সেলসিয়াস স্কেলের পাঠ C = ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ F

এখন,
C/5 = (C - 32)/9
⇒ 5(C - 32) = 9C
⇒ 5C - 160 = 9C
⇒ 9C - 5C = - 160
⇒ 4C = - 160
⇒ C = - 160/4 = - 40 

∴ C = F = - 40°

অর্থাৎ - 40° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান সমান হবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬১১.
আলোর মরীচিকা মূলত কোন কারণে ঘটে?
  1. বাতাসের ঘনত্বের পরিবর্তন
  2. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  3. ধূলিকণা দ্বারা আলো ছড়ানো
  4. আলো বাতাসে প্রতিফলিত হওয়া
ব্যাখ্যা

• মরীচিকা: 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা অতি পরিচিত উদাহরণ।
- উত্তপ্ত মরুভূমিতে মরুচারী পথিক প্রায়শ মরীচিকা দেখতে পান এবং বিভ্রান্ত হন। মরীচিকা হল এক ধরণের দৃষ্টি ভ্রম।
- প্রচন্ড সূর্য তাপে মরুভূমির বালু খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়। ফলে বালু সংলগ্ন বাতাসও খুব গরম হয়। এতে বালু সংলগ্ন স্তরের বায়ু খুব হালকা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ু স্তরের তাপমাত্রা তত কম হয়। তাই ভূ সংলগ্ন বায়ু স্তর থেকে যতই ওপরে ওঠা যায় বায়ু স্তর তত ঘন হয়।
- এ অবস্থায় মরুভূমিতে দূরে কোন খেজুর গাছ থেকে পথিকের চোখে আসা আলোক রশ্মি ধাপে ধাপে ঘনতর মাধ্যম থেকে লঘুতর মাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে, ফলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে।
- এভাবে বাঁকতে বাঁকতে এমন কোন স্তরে পৌঁছায় যেখানে আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হয়।
- ফলে আপতিত আলোক রশ্মির প্রতিসরণ না হয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়।

» পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সংঘটিত হতে প্রধানত দুটি শর্ত রয়েছে।
(১) আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও তুলনামূলক হালকা মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।
(২) আপতন কোণ ক্রান্তি বা সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।

তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬১২.
প্রতিধ্বনি তৈরি হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন দূরত্ব কত হওয়া উচিত?
  1. 3.32 মি.
  2. 1.165 মি.
  3. 1.68 মি.
  4. 16.5 মি.
ব্যাখ্যা

• প্রতিধ্বনি বা ইকো শুনতে হলে শব্দকে উৎস থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভিন্নতার প্রয়োজন। সাধারণত মানুষের কানে দুটি আলাদা শব্দ আলাদা হিসেবে চিনতে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ডের সময়ের পার্থক্য থাকা উচিত। 
- সঠিক উত্তর হলো ঘ) 16.5 মি.

• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।

- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
-  সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
-  তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৩,৬১৩.
কোন যন্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যারােমিটার
  2. ম্যানােমিটার
  3. পাইরোমিটার 
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

- ব্যারোমিটার হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৬১৪.
ডুবোজাহাজ কোন যন্ত্রের সাহায্যে পানির নিচ থেকে ওপরের দৃশ্য দেখে?
  1. পেরিস্কোপ
  2. টেলিস্কোপ
  3. মাইক্রোস্কোপ
  4. স্টেথোস্কোপ
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণকে কাজে লাগানো হয় সরল পেরিস্কোপে।
- প্রিজম ও আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে অনেক বেশি কার্যকর পেরিস্কোপ তৈরি করা যায়।
- কোনো দূরের জিনিস সোজাসুজি দেখতে বাধা থাকলে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
- ডুবোজাহাজ (Submrine) এর নাবিকেরা পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির নিচ থেকে উপরের দৃশ্য দেখেন
- ভীড় এড়িয়ে খেলা দেখা, শত্রু সৈন্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৬১৫.
অপটিক্যাল ফাইবারের অভ্যন্তরীণ অংশকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ল্যাড
  2. শেল
  3. কোর
  4. রিফ্লেক্টর
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। 

- অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬১৬.
আলোর ক্ষুদ্র অংশ কী নামে পরিচিত?
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. বোসন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
ফোটন কণা:

- আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
- পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
- ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
- ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬১৭.
যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুর দিকে নেওয়া হয়, তখন তার ওজনের কী হয়? 
  1. শূন্য হয়
  2. কমে 
  3. বাড়ে 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬১৮.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্রেসকোগ্রাফ
  2. ক্রোনোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ওডোমিটার
ব্যাখ্যা

• উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে গ) ট্যাকোমিটার সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর। ট্যাকোমিটার মূলত কোনো যন্ত্র বা ইঞ্জিনের ঘূর্ণনগতির হার (RPM) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন কত দ্রুত ঘুরছে, তা জানার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উড়োজাহাজের গতি ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপতে, ক্রোনোমিটার সময় নির্ণয়ে এবং ওডোমিটার দূরত্ব পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। তাই উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে ট্যাকোমিটারই প্রাসঙ্গিক যন্ত্র।
 
• বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অলটিমিটার।
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র - অডিওমিটার।
মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার।
দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র - ল্যাকটোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৩,৬১৯.
পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) নিউটন
  3. গ) আইন্সটাইন
  4. ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা
এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ যা দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন দ্বারা কোনো ধাতব পাতকে আঘাত করে উৎপন্ন করা যায়।
এক্স-রে আবিষ্কার করেন উইলিয়াম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এবং এক্স-রে আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৩,৬২০.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি কোন বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়? 
  1. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  2. তাপ এবং চাপ
  3. বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। (যদিও প্রোটন সংখ্যা 43-Technetium এবং 61-Promethium মৌলের কোনো স্থায়ীরূপ পাওয়া যায় না)। 
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। কাজেই কোনো একটি মৌলের পরমাণুতে তার ইলেকট্রন এবং প্রোটনের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট হলেও নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত একই প্রোটন সংখা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসের পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ। কাজেই কোনো একটি মৌলের একটি আইসোটোপ স্থিতিশীল হতে পারে আবার সেই মৌলের অন্য একটি আইসোটোপ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
উদাহরণ- কার্বন মৌলটির নিউক্লিয়াসে ছয়টি প্রোটন এবং এর প্রধাণত তিনটি আইসোটোপ: 
• C12: 6টি প্রোটন এবং এটি নিউট্রন, 
• C13: 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন, 
• C14: 6টি প্রোটন এবং ৪টি নিউট্রন । 
- কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 আইসোটোপটি অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford), পিয়ারে কুরি (Pierre Curie), মেরি কুরি (Marie Curie) এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬২১.
নিচের কোনটি ভরের মাত্রা?
  1. ক) L
  2. খ) M
  3. গ) T
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মাত্রা (Dimension):

- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২২.
যে কোনো ভরযুক্ত বস্তু অন্য বস্তুকে কোন বল দ্বারা আকর্ষণ করে? 
  1. মহাকর্ষ বল 
  2. বৈদ্যুতিক বল 
  3. ঘর্ষণ বল 
  4. চুম্বকীয় বল 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬২৩.
গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর কত? 
  1. 0.0005–0.15 nm
  2. 0.01-10 nm
  3. 10–400 nm
  4. 10–400 m
ব্যাখ্যা

◉ গামা রশ্মি হলো Electromagnetic Spectrum-এর সবচেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005–0.15 nm, যা এক্স-রে থেকেও ছোট।

তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। যথা- 

১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২৪.
গাছের একটি আপেল পৃথিবীকে f বলে আকর্ষণ করছে। পৃথিবী আপেলকে F বলে আকর্ষণ করছে। সুতরাং-
  1. ক) F >> f
  2. খ) f >> F
  3. গ) F < f
  4. ঘ) F = f
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
’মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজ দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু কণাদ্বয়ের ভরের গুনফলের সমানুপাতিক এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তু কণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

আপেলের আকর্ষণ বল f, পৃথিবীর আকর্ষণ বল F হলে,
F = f = GMm/R2
এখানে,
M = পৃথিবীর ভর,
m = আপেলের ভর,
R = মধ্যবর্তী দূরত্ব

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।
৩,৬২৫.
কোন বিজ্ঞানী 'মহাকর্ষ বলের সূত্র' আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. নিকোলাস কপারনিকাস
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ:
- ১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল।
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। অর্থাৎ যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন। এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত।
সূত্রটি হলো:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২৬.
'গ্রাভিটন' কোন বলের বাহক কণা?
  1. ক) দুর্বল নিউক্লিয় বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) মহাকর্ষ বল 
  4. ঘ) সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল:
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
৩,৬২৭.
নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে উৎপন্ন করা যায় -
  1. বিদ্যুৎ
  2. পারমাণবিক বোমা
  3. হাইড্রোজেন বোমা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক শক্তি
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস। 
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়, যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে  E=উৎপন্ন শক্তি, m=শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c=আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)। 
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া। 
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
- এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
৩,৬২৮.
তেজস্ক্রিয়তার এস.আই লব্ধ একক কোনটি?
  1. রন্টজেন 
  2. ওহম 
  3. বেকেরেল 
  4. কুরী 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার এস.আই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬২৯.
অন্ধ ব্যক্তিগণ সাদা রঙের একটি লাঠি বা ছড়ি ব্যবহার করেন কেন?
  1. সে যে অন্ধ তা অন্যদের বোঝানোর জন্য
  2. সাদা রঙ এক ধরণের আলো প্রদান করে
  3. সাদা রঙের লাঠি শক্ত হয়
  4. সাদা রঙ পবিত্রতার প্রতীক
ব্যাখ্যা

অন্ধ ব্যক্তিরা সাদা রঙের লাঠি ব্যবহার করেন প্রধানত অন্যদের সতর্ক করার জন্য যে তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
- এটি এক ধরনের পরিচয় সংকেত (identification symbol) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অন্ধ ব্যক্তিগণ সাদা ছড়ি ব্যবহার করার প্রধান কারণ হলো এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক যা অন্যদের স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ছড়ি বহনকারী ব্যক্তিটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
- এর ফলে পথচারী এবং বিশেষত যানবাহন চালকরা সতর্ক হতে পারে এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রাস্তা পারাপার বা চলাচলের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
- সাদা রঙ সাধারণত উজ্জ্বল এবং সহজে চোখে পড়ে (Highly Visible), বিশেষ করে ট্র্যাফিকের ভিড়ে, যা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- লাঠিটি সামনের বাধা শনাক্ত করতেও সাহায্য করে।
- সাদা ছড়ির ডগায় বা মাঝে লাল রঙের একটি স্ট্রাইপও ব্যবহার করা হয়, যা এটিকে আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণকারী করে তোলে।
- এই ছড়িকে "ক্যান (Cane)" বা "লং ক্যান (Long Cane)" বলা হয় এবং এটি অন্ধ ব্যক্তিদের পথ চলাচলের জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম।
- তাই সাদা রঙের মূল উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমানতা এবং পরিচয় প্রকাশ করা, যাতে সমাজের অন্যরা সহায়তা ও সহযোগিতা করতে পারেন।

উৎস: National Federation of the Blind (link)

৩,৬৩০.
কোনো পরিবাহকের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ করলে এর রোধ R কী হবে?
  1. 2R
  2. R/2
  3. R/4
  4. 4R
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
সুতরাং তাপমাত্রা ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর রোধের দুটি সূত্র প্রযোজ্য। 
যথা- 

১) দৈর্ঘ্যের সূত্র: 
- তাপমাত্রা এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং দৈর্ঘ্য। হলে সূত্রানুসারে R ∝ I, যখন এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর দৈর্ঘ্য যত বড় হবে রোধ তত বৃদ্ধি পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের 1m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 10 m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 100 Ω হবে। 

২) প্রস্থচ্ছেদের সূত্র: 
- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A হলে সূত্রানুসারে R ∝ 1/A, যখন এর দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল যত বড় হবে রোধ তত হ্রাস পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 2m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 5 Ω হবে।

অনুরূপভাবে, 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R Ω হয় তবে 2m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R/2 Ω হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩১.
নিচের কোন গ্যাসের ব্যাপন হার সবচেয়ে কম?
  1. ক) H2
  2. খ) NH3
  3. গ) CO2
  4. ঘ) HCL
ব্যাখ্যা
কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফুর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম, তার ব্যাপন হার তত বেশি৷
এখানে, H2 গ্যাসের আণবিক ভর ২, NH3 গ্যাসের আণবিক ভর ১৭, HCL এর আণবিক ভর ৩৬.৫, CO2 এর আণবিক ভর ৪৪।
কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার সবচেয়ে কম।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৬৩২.
পিকো (pico) উপসর্গটি কোন মান নির্দেশ করে?
  1. 10-6 
  2. 10-12
  3. 10-9
  4. 10-15
ব্যাখ্যা
- পিকো (pico) উপসর্গটির মান হচ্ছে 10-12 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু SI উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারা যায়। 
- কিছু উপসর্গ নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩৩.
সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়-
  1. শব্দোত্তর তরঙ্গ
  2. আলোক তরঙ্গ
  3. ডিটারজেন্ট
  4. তেল ও গ্রীজ
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লার উপরের (≥ 20 KHz ) কম্পন বিশিষ্ট তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলা হয়। এর বিভিন্ন ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। তা হলো- 
১. দেহের নরম টিস্যু এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকগণ দেহ অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তুলতে শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করেন, একে আলট্রাসনোগ্রাফি বলা হয়।
২. রক্তের গতি জানতে হৃদরোগ সনাক্ত করণে, মাতৃ গর্ভে জন্ম-পূর্ব শিশুর অবস্থা সনাক্ত করতে (আলট্রাসনোগ্রাফি)।
৩. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ডুবো জাহাজ, হিমশৈল ইত্যাদির অবস্থান জানতে।
৪. ধাতব পাত বা ধাতব খন্ডের মধ্যের সূক্ষ্ম ফাটল অনুসন্ধানে।
৫. সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে।
৬. ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজে।
৭. সাধারণভাবে মিশে না এমন (যেমন পানি-পারদ বা পানি-তেল) তরলসমূহের মিশ্রণ তৈরিতে।
৮. মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। যেমন বাদুর পথ চলতে এবং খাদ্য বস্তুর অনুসন্ধানের জন্য, তিমি পরম্পরের সাথে যোগাযোগ এবং মনোভাব আদান প্রদানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গই তিমির ভাষা।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩৪.
কোন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে? 
  1. পেট্রোল ইঞ্জিনে
  2. ডিজেল ইঞ্জিনে
  3. রকেট ইঞ্জিনে
  4. বিমান ইঞ্জিনে
ব্যাখ্যা
- মোটর গাড়ির যে প্রকোষ্ঠে বায়ু ও পেট্রোল মিশ্রিত করা হয় তাই হলো কার্বুরেটর। 
- বায়ু ও পেট্রোলের মিশ্রণ তৈরি হওয়ার পরে এটিকে দহন প্রকোষ্ঠে পাঠিয়ে দেয়া হয়। 
- সব ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না, শুধু পেট্রোল ইঞ্জিনে ৩টি কার্বুরেটর থাকে। 

- Carburetor prepares a mixture of air and fuel (which is suitable for combustion) for a spark ignition engine.
- Carburetor is also used to control the speed of the vehicle.
- It converts petrol into fine droplets and mixes it in air in such a way that it burns smoothly in engine, without any problem.

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিক।
৩,৬৩৫.
অপর্যায়বৃত্ত তড়িৎ প্রবাহ পাওয়া যায়-
  1. ব্যাটারি থেকে
  2. জেনারেটর থেকে
  3. ডায়নামো থেকে
  4. উপরের সবগুলো থেকে
ব্যাখ্যা

- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৩,৬৩৬.
কোন তরঙ্গ সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়?
  1. সমুদ্রের পানির তরঙ্গ
  2. ভূ-পৃষ্ঠের ভূ-কম্পন
  3. বেহালা হতে নিঃসৃত সুরেলা তরঙ্গ
  4. সূর্য হতে আগত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• আমরা সূর্য থেকে আলো এবং তাপ পাই। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মি, গামারশ্মি, তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ এর উদাহরণ।

• সূর্য হতে আগত আলো একটি তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।

সাধারণত, যেসব তরঙ্গের কম্পাংক বা তরঙ্গ'র দৈর্ঘ্য বেশি, সেসব তরঙ্গ বেশি অগ্রসর হয়। যেহেতু পানির তরঙ্গ, ভূকম্পন তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ-এর বেগ বা দ্রুতি আলোর দ্রুতির চেয়ে কম, তাই বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩৭.
প্রকৃতিতে সবচেয়ে দুর্বল বল কোনটি?
  1. দুর্বল বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল বল
  4. তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল মাত্র চারটি। সেগুলো হচ্ছে:
- মহাকর্ষ বল, 
- তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, 
- দুর্বল নিউক্লিয় বল ও 
- সবল নিউক্লিয় বল।
এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
 
The weakest, and yet the most pervasive, of the four basic forces is gravity. According to Newton's law, all bodies are attracted to each other by a force that depends directly on the mass of each body and inversely on the square of the distance between them. On the scale of atoms, the effects of gravity are negligible compared with the other forces at work.
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৬৩৮.
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লারের পরিবর্তে কী থাকে?
  1. ক) প্রাইম মুভার
  2. খ) ট্রান্সফরমার
  3. গ) জেনারেটর
  4. ঘ) রিয়েক্টর
ব্যাখ্যা
রিয়েক্টর/চুল্লি: 
- একটি চুল্লির প্রধান কাজ হল পারমাণবিক বিভাজনকে ধারণ করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা। পারমানবিক বিভাজন এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পরমাণু বিভক্ত হয় এবং শক্তি নির্গত হয়।
- চুল্লিগুলো পারমাণবিক জ্বালানীর জন্য ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে।
- ইউরেনিয়াম ছোট সিরামিক পেলেটে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং ফুয়েল রড নামক সিল করা ধাতব টিউবে একত্রে স্তূপাকার করা হয়।

বয়লার: 
- উচ্চ চাপযুক্ত বাষ্প তৈরি করার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বয়লার ব্যবহার করা হয়।
- যে প্রক্রিয়াটি এটি করে তা র‍্যাঙ্কাইন চক্র নামে পরিচিত।
- বয়লার কিছু ধরণের জ্বালানী যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, বা পারমাণবিক জ্বালানী থেকে শক্তি গ্রহণ করে যা জলকে বাষ্পে গরম করে। 
- এভাবেই জ্বালানীর শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: এনার্জি.গভ।
৩,৬৩৯.
বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়-
  1. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  2. স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  3. ট্রান্সমিটারের সাহায্যে
  4. এডাপটারের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়। 

- ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি স্থির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যার দ্বারা কোনাে পরিবর্তী তড়িৎ ব্যবস্থায় অপরিবর্তীত কম্পাঙ্কতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তিকে ভােল্টেজের মান অনুযায়ী কমিয়ে বা বাড়িয়ে এক সার্কিট থেকে অন্য সার্কিটে স্থানান্তর করা যায়।
- এ.সি. (Alternating Current) ব্যবস্থায় কম ভােল্টেজকে বেশি ভােল্টেজে বা বেশি ভােল্টেজকে কম ভােল্টেজে রূপান্তর করার জন্য ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

- কম থেকে বেশি ভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে ''স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার'' বা ''উচ্চধাপী ট্রান্সফর্মার''
- বেশি থেকে কম ভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে''স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার'' বা ''নিম্নধাপী ট্রান্সফর্মার'' বলা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৬৪০.
অ্যামোনিয়ার একটি অণুতে কয়টি পরমাণু থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
অ্যামোনিয়া হলো নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাসায়নিক যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত NH3.
অর্থাৎ, এর একটি অণুতে একটি নাইট্রোজেন ও তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। 
সুতরাং, মোট চারটি পরমাণু রয়েছে।
৩,৬৪১.
আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে কীভাবে ছবি তৈরি হয়?
  1. তাপের পরিবর্তনের মাধ্যমে
  2. প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে
  3. আলো শোষণের মাধ্যমে
  4. চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।

• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল।
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়।
- এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্নতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়।
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
- তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪২.
যে সকল পদার্থ চৌম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় তাদের কি বলে?
  1. ক) ডায়া চৌম্বক পদার্থ
  2. খ) প্যারা চৌম্বক পদার্থ
  3. গ) ফেরো চৌম্বক পদার্থ
  4. ঘ) উদ্বায়ী পদার্থ
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে ।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৩,৬৪৩.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এর প্রধান উপাদান কী?
  1. তামা
  2. সিলিকন
  3. গ্যালিয়াম
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এর প্রধান উপাদান সিলিকন। 

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হল একটি ছোট আকারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে অসংখ্য ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একটি একক চিপে যুক্ত থাকে। একে সিলিকন চিপও বলা হয়। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে (Wafer) অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো।
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয়। এভাবেই আইসি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। 

• IC এর প্রধান উপাদান:
→ সিলিকন (Silicon):
- এটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে।
- সিলিকন সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা IC তৈরির জন্য একে উপযুক্ত।

• সিলিকন ব্যবহারের কারণ:
- এটির সহজলভ্যতা বেশী। 
- এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা। 
- এর বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য IC তৈরির জন্য উপযোগী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
৩,৬৪৪.
কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখলে তা খুঁজে বের করতে ব্যবহার করা হয় -
  1. ক) বিটা রে
  2. খ) আলফা রে
  3. গ) এক্স রে
  4. ঘ) ম্যাগনেটিক রে
ব্যাখ্যা

এক্স-রের গােয়েন্দা বিভাগে ব্যবহারঃ
১। কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখলে তা খুঁজে বের করতে ব্যবহার করা হয়।
২। কাস্টম কর্মকর্তারা চোরাচালানের দ্রব্যাদি খুঁজে বের করতে ব্যবহার করেন। কোনাে নিষিদ্ধ পণ্য কোনো কাঠের বাক্স বা ধাতুর বাক্সে থাকলে এদের মধ্য দিয়ে এক্স-রে প্রবেশ করিয়ে তা জানা যায়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৩,৬৪৫.
রঙিন টেলিভিশনের ক্ষেত্রে নিচের কোন রঙের সেটটি প্রাথমিক বা মৌলিক রং হিসেবে পরিচিত?
  1. বেগুনী, সবুজ ও লাল
  2. সাদা, কালো ও লাল
  3. লাল, হলুদ ও নীল
  4. লাল, নীল ও সবুজ
ব্যাখ্যা

- রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়। 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়। 
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে। 
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে। 
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 
- টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪৬.
পারমাণবিক শক্তি এক ধরনের -
  1. নবায়নযোগ্য শক্তি
  2. অনবায়নযোগ্য শক্তি
  3. গ্রীন শক্তি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- সৌরশক্তি (Solar Energy), 
- জলবিদ্যুৎ (Hydropower), 
- বায়ু শক্তি (Wind Energy, 
- ভূতাপীয় শক্তি (Geothermal), 
- জৈবিকভর (Biomass) ইত্যাদি। 

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- পেট্রোলিয়াম (Petroleum), 
- প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural gas), 
- কয়লা (Coal), 
- পারমাণবিক শক্তি (Nuclear energy) । 

উল্লেখ্য যে, 
- পরমাণুতে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত আছে।
তাই, পরমাণুর সঞ্চিত শক্তি নবায়নযোগ্য শক্তির আধার।

অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভর করে।
- ইউরেনিয়ামের পরিমাণ সীমিত। তাই, এই শক্তি নবায়নযোগ্য নয়। 

উৎস: www.eia.gov এবং পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
৩,৬৪৭.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম? 
  1. বায়বীয় মাধ্যমে
  2. শূন্য মাধ্যমে 
  3. কঠিন মাধ্যমে
  4. তরল মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শব্দের গতি: 
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৪৮.
অবাস্তব বিম্ব তৈরি করার জন্য কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) গোলীয়
  4. ঘ) সব ধরনের লেন্স
ব্যাখ্যা

কোন বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলন বা প্রতিসরনের পর দ্বিতীয় কোন বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হলে দ্বিতীয় বিন্দুতে অবাস্তব বিম্ব তৈরি হয়। এক্ষেত্রে প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত রশ্মিগুলোর প্রকৃত মিলন হয় না। চোখে দেখা যায় কিন্তু পর্দায় ফেলা যায় না। সব ধরনের দর্পন ও লেন্সেই এই ধরনের বিম্ব তৈরি করা যায়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।

৩,৬৪৯.
ডায়োডে কোন অংশকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়?
  1. পেনট্রোড
  2. অ্যানোড
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ক্যাথোড
ব্যাখ্যা
- ডায়োড শব্দটি দুইটি কথার সমন্বয়ে গঠিত, ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’।
- সাধারণ ভাবে বলা যায় যে, দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড যার এক দিকে নেগেটিভ অপর দিকে পজেটিভ টার্মিনাল থাকে।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।
- ডায়োড একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে একমুখী তড়িৎ প্রবাহ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩,৬৫০.
চুম্বকের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি -
  1. ক) মাঝখানে
  2. খ) কিনারাতে
  3. গ) দুই মেরুতে
  4. ঘ) যে কোন এক মেরুতে
ব্যাখ্যা
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে।
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদে কে চুম্বক বলে।
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক।
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ।
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে তার দুই প্রান্তে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি
৩,৬৫১.
কোনটিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) টর্চলাইটে
  2. খ) রাডারে
  3. গ) গাড়িতে
  4. ঘ) সৌরচুল্লিতে
ব্যাখ্যা
যে দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠ উত্তল তাকে উত্তল দর্পণ বলে। 
এই দর্পণের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের কাজ করে। 
উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা ছোট ও সোজা হয়।

উত্তল দর্পণের ব্যবহার 
- বিস্তৃত এলাকা দেখতে দোকান বা শপিংমলে নিরাপত্তার কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়িতে ভিউ মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ির পিছনে বিস্তৃত এলাকা ছোট জায়গায় দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- রাস্তার বাতিতে প্রতিফলকরূপে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- প্রতিফলক টেলিস্কোপ তৈরিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে 
টর্চ লাইটে ব্যবহার অবতল দর্পণ  করা হয়
ছোট চুল্লীতে লেন্স কিন্তু বড় চুল্লীতে গোলীয় অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৩,৬৫২.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে কোনটি ধ্রুব?
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. সময়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
থিওরি অফ রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতাবাদের প্রণেতা আলবার্ট আইনস্টাইন।
নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় ধ্রুব - গতি নির্ভর নয়।
কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় আপেক্ষিক, যা বস্তু বা প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর নির্ভরশীল একে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলে।
আপেক্ষিকতা অর্থ কোন কিছুর সাপেক্ষে।
যেমন- আপেক্ষিক ভর বলতে কোন প্রসঙ্গ কাঠামো থেকে কোন স্থির পর্যবেক্ষক কোন বস্তুর ভর পরিমাপ করেন তা বোঝায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬৫৩.
স্যার আইজ্যাক নিউটান গতি সম্পর্কিত তিনটি সূত্র কোন সালে প্রদান করেন? 
  1. ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
গতি বিষয়ক সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 
- নিউটনের গতি বিষয়ক সূত্র তিনটি: 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 

৩। তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৫৪.
নিম্নলিখিত বলগুলোর মধ্যে কোনটি সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল?
  1. তড়িৎ চৌম্বক বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এই সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) প্রধানত কাজ করে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মধ্যকার এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বলের মাধ্যমে তারা নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বলের কারণে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৫৫.
ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য ও সরু তারের ব্যাস পরিমাপ করা যায় কোনটির সাহায্যে? 
  1. স্ক্রু গজ 
  2. ভার্নিয়ার স্কেল 
  3.  স্লাইড ক্যালিপার্স 
  4. স্ফেরোমিটার 
ব্যাখ্যা

- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়।  
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৩,৬৫৬.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি আপেক্ষিক?
  1. সময়
  2. ভর
  3. স্থান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:

- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন, যথা-
• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব।
• সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫৭.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি? 
  1. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। - বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল মানুষকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টানে এবং এর কারণেই মানুষ ওজনের অনুভূতি বুঝতে পারে। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

তড়িৎ চৌম্বক বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৫৮.
E = mc2 সূত্রটি প্রতিপাদন করেন-
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আর্কিমিডি
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
E = mc2 সূত্রটি বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের ভর-শক্তির সমীকরণ।
৩,৬৫৯.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য নিচের কোন শর্তটি আবশ্যক?
  1. আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণের চেয়ে ছোট হবে
  2. আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে যাবে
  3. আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে ছোট হবে
  4. আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে
ব্যাখ্যা

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আলোক রশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection):
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) হলো এমন একটি আলোকীয় ঘটনা যেখানে আলোকরশ্মি একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে।

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত:
১) আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে।
২) আপতন কোণ সংকট কোণের থেকে বড় হতে হবে।

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ:
- মরীচিকা, অপটিক্যাল ফাইবার, হীরার ঔজ্জ্বল্য ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৬০.
আলফা কণিকার কোন ধর্মটি সঠিক নয়?
  1. আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
  2. আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি।
  3. আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে।
  4. আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6 × 10-27 কেজি। 
২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2 × 10-19 কুলম্ব। 
৩। এর শক্তি 1 MeV বা 1.6 x 10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44 x 10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β -কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ -কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬১.
নিচের কোন ঘটনাটি পৃষ্ঠটানের উদাহরণ?
  1. পানির ফোঁটা পাতার উপর গোলাকার থাকা
  2. পুকুরে পাথর ফেললে পানি ছিটকে ওঠা
  3. কাগজের নৌকা পানিতে ডুবে যাওয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

- পৃষ্ঠটান (Surface Tension) হলো তরলের পৃষ্ঠের অণুগুলোর মধ্যে সংযোজক বলের কারণে তৈরি হওয়া এক ধরনের “ইলাস্টিক ঝিল্লি”র মতো বৈশিষ্ট্য।
- এর ফলে তরল নিজের পৃষ্ঠীয় ক্ষেত্রফল যতটা সম্ভব কমাতে চায়।

পানির ফোঁটা পাতার উপর গোলাকার থাকা → এটাই পৃষ্ঠটানের  উদাহরণ।
- পানির অণুগুলো নিজেদের মধ্যে আকর্ষণের কারণে ফোঁটাকে গোলাকার (সবচেয়ে কম পৃষ্ঠীয় ক্ষেত্রফল) আকৃতি দেয়। 

অন্যান্য অপশন:
- পুকুরে পাথর ফেললে পানি ছিটকে ওঠা → এটা মূলত গতিশক্তি ও মাধ্যাকর্ষণের ঘটনা। পাথরের আঘাতে পানি স্থানচ্যুত হয় এবং উপরে ছিটকে ওঠে।
- কাগজের নৌকা সাধারণত পৃষ্ঠটানের জন্যই ভাসে। পৃষ্ঠটান পানির পৃষ্ঠকে “শক্ত” করে, তাই হালকা কাগজের নৌকা ভাসতে পারে।ডুবে যাওয়া পৃষ্ঠটানের উদাহরণ নয়, বরং পৃষ্ঠটানের অভাব বা কমে যাওয়ার ফল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৬২.
Which instrument is used to see objects at the surface of water from a submarine underwater?
  1. Telescope
  2. Periscope
  3. Kaleidoscope
  4. Spectroscope
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:

- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩,৬৬৩.
অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) এর মান সর্বোচ্চ কোথায়?
  1. বিষুবরেখায়
  2. মেরুতে
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠে
  4. চাঁদের পৃষ্ঠে
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলে প্রভাব মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়তে থাকা বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
-  একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• g - মান নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
- ব্যাসার্ধ বেশি হলে g এর মান কম হয় এবং ব্যাসার্ধ কম হলে g এর মান বেশি হয়।

• বিষুব রেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায় ব্যাসার্ধ R-এর মান ততই কমতে থাকে এবং মেরু বিন্দুতে সর্ব নিম্ন হয়।
• বিষুব অক্ষরে g এর মান কম কারণ সেখানে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি। বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় 9.78 ms- 2.
অপরদিকে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারণে g এর মান সেখানে বেশি হয় যা সর্বাধিক। মেরু এলাকায় g-এর মান প্রায় 9.83 ms- 2.

 
তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬৪.
এক কুইণ্টাল ওজনে কত কিলোগ্রাম হয়?
  1. ক) ১ কিলোগ্রাম
  2. খ) ১০ কিলোগ্রাম
  3. গ) ১০০ কিলোগ্রাম
  4. ঘ) ১০০০ কিলোগ্রাম‘
ব্যাখ্যা
• এক কুইণ্টাল ওজনে ১০০ কিলোগ্রাম হয়।
• কোন বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- ওজনের পরিমাপের একক হলো নিউটন।
- কিলোগ্রাম হলো ভরের একক।
• ১০০ কিলোগ্রাম= ১ কুইন্টাল।
• ১০ কুইন্টাল = ১ টন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৬৬৫.
ইস্পাত সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। কারণ এতে-
  1. ক) বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহার করা হয়েছে
  2. খ) সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
  3. গ) লোহাকে টেম্পারিং করা হয়েছে
  4. ঘ) সব বিজাতীয় দ্রব্য বের করে দেয়া হয়েছে
ব্যাখ্যা
সাধারণ লোহার সাথে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা হয় তাই এটি সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন।
ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যাতে মান ভেদে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে।
এছাড়া, ম্যাংগানিজ, ক্রোমিয়াম, ভ্যানাডিয়াম এবং ট্যাংস্টেন লোহার সাথে মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা যায়।
৩,৬৬৬.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি নয়?
  1. তড়িৎপ্রবাহ
  2. পদার্থের পরিমাণ
  3. চৌম্বক প্রাবল্য
  4. দীপন তীব্রতা
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশিঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
 

চৌম্বক প্রাবল্য মৌলিক রাশি নয়। এর একক টেসলা। 
 
৩,৬৬৭.
AC কে DC করার যন্ত্র -
  1. ক) ডায়োড
  2. খ) অ্যামপ্লিফায়ার
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
- রেকটিফায়ার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহ (AC) কে একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ (DC) এ রূপান্তরিত করে।
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে, এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।

- একমুখীকারক দু'প্রকারের। যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

উৎস- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩,৬৬৮.
ফুল-ওয়েভ ব্রিজ রেক্টিফায়ারের জন্য কতগুলো ডায়োড প্রয়োজন?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. দুইটি
  4. একটি
ব্যাখ্যা

• ফুল-ওয়েভ ব্রিজ রেক্টিফায়ার তৈরির জন্য মোট চারটি ডায়োড প্রয়োজন। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) চারটি। এই রেক্টিফায়ারে চারটি ডায়োড এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যে এসি ইনপুটের উভয় অর্ধচক্রেই (পজিটিভ ও নেগেটিভ) লোডের মধ্যে দিয়ে একই দিকে কারেন্ট প্রবাহিত হয়। পজিটিভ অর্ধচক্রে দুইটি ডায়োড পরিবাহী হয় এবং নেগেটিভ অর্ধচক্রে বাকি দুইটি ডায়োড পরিবাহী হয়। এর ফলে আউটপুটে অপেক্ষাকৃত মসৃণ ডিসি ভোল্টেজ পাওয়া যায় এবং ট্রান্সফরমারের সেন্টার ট্যাপের প্রয়োজন হয় না, যা এটিকে অধিক কার্যকর ও জনপ্রিয় করে তোলে।

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার: 
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। 
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়। 
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়। 
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৬৯.
ইঁদুরের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা কত?
  1. ৪৫,০০০ Hz
  2. ৬৪,০০০ Hz
  3. ৯১,০০০ Hz
  4. ১১০,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
• ইঁদুরের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা ৯১,০০০ Hz।

• শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন, কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে।
- তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। প্রাণিভেদে এর তারতম্য আছে।

• কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা:
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা = ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz,
- কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা = ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz,
- বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা = ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz,
- ইঁদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা = ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz,
- বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা = ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭০.
রাডারে ব্যবহৃত তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ কোনটি?
  1. এক্স-রে
  2. মাইক্রোওয়েভ
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করে দ্রুত খাবার গরম বা রান্না করা যায়।
- রাডার সিস্টেমে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে বস্তুর দূরত্ব, গতি এবং অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
- মাইক্রোওয়েভ ওয়াই-ফাই, ব্‌লুটুথ এবং অন্যান্য ওয়‍্যারলেস প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• এক্স-রে:
- বিভিন্ন প্রকার রোগের কারণ অনুসন্ধানে, ক্যান্সার কোষ ধ্বংসের জন্য এই রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

• রেডিও তরঙ্গ:
- মোবাইল ফোন, বিমান চালনা, রেডিও এবং টিভি সংক্রান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

• অবলোহিত রশ্মি:
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে, কম্পন সংক্রান্ত বর্ণালী বিদ্যায় এবং অবলোহিত ফটোগ্রাফিতে এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭১.
ট্রান্সডিউসার নয় কোনটি?
  1. মোবাইল
  2. মাইক্রোফোন
  3. ইয়ারফোন
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
ট্রান্সডিউসার:
- যে যন্ত্র কোন অতড়িৎ সংকেতকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে অথবা তড়িৎ সংকেতকে অতড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তাকে ট্রান্সডিউসার বলে।
- সুতরাং মাইক্রোফোন ও ইয়ারফোন বা স্পিকার উভয়ই এক ধরণের ট্রান্সডিউসার। 

মাইক্রোফোন:
- মাইক্রোফোন এমন এক ধরনের ট্রান্সডিউসার যা শব্দশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করে। যেমন- কোন অনুষ্ঠানে বক্তা মাইক্রোফোনে কথা বলেন।
- মোবাইল বা টেলিফোন এর মুখের সম্মুখের অংশে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়, গান রেকর্ড করার জন্য মাইক্রোফোনের ব্যবহার করা হয়।

স্পীকার:
- স্পীকার এমন এক ধরনের ট্রান্সডিউসার যা তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- মোবাইল বা টেলিফোনে কানের কাছে, রেডিও-টেলিভিশনে স্পীকার ব্যবহার করা হয় জোরালো শব্দ শোনার জন্য।

অন্যদিকে,
- মোবাইল ফোন বা সেলফোন বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার অর্থাৎ একে এক কথায় ট্রান্সসিভার বলে

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭২.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ -
  1. ক) ধুলিকণা
  2. খ) বায়ুস্তর
  3. গ) বৃষ্টির কণা
  4. ঘ) অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যক্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। বৃষ্টি হবার পরপর যদি রােদ ওঠে তাহলে আমরা রংধনু দেখি।
- তার কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলাে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হবার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলাে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়।
- এই আলাের রশ্মিগুলাে দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (band) তৈরি হয়।
(উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৩,৬৭৩.
চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় কত কম?
  1. ১/৪
  2. ১/৬
  3. ১/৮
  4. ১/১২
ব্যাখ্যা
• বস্তুর ওজন:
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়।
- অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ১২০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ২০ নিউটন হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৬৭৪.
10 g ভরের একটি বুলেট 6 kg ভরের একটি বন্দুক থেকে 300 ms-1 বেগে নিক্ষিপ্ত হলো। বন্দুকটির পশ্চাৎ বেগ কত হবে?
  1. ক) 0.5 ms-1
  2. খ) 1.5 ms-1
  3. গ) 1.0 ms-1
  4. ঘ) 2.0 ms-1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 10 g ভরের একটি বুলেট 6 kg ভরের একটি বন্দুক থেকে 300 ms-1 বেগে নিক্ষিপ্ত হলো। বন্দুকটির পশ্চাৎ বেগ কত হবে? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
বন্দুকের ভর, M= 6 kg, 
বন্দুকের পশ্চাৎ বেগ, V = ? 
গুলির ভর, m = 10 g = 0.01 kg, 
গুলির বেগ, v = 300 ms-1

মনে করি, 
বন্দুকের পশ্চাৎ বেগ = V, 
ভরবেগের নিত্যতা সূত্র হতে আমরা পাই, 
MV = mv 
∴ V = mv/M 
= (0.01× 300)/6 
= 0.5 ms-1
উত্তর: 0.5 ms-1

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৭৫.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি?
  1. ক) আলফা কণিকা
  2. খ) বিটা কণিকা
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য ঃ
বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়ঃ 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া ।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৬৭৬.
রেটিনার প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্ত সরবরাহ করা
  2. চোখকে আর্দ্র রাখা
  3. বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
  4. আলোর প্রতিফলন ঘটানো
ব্যাখ্যা
রেটিনা (Retina): 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী। 
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 
- রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭৭.
সরল দোলকের দোলনকাল (T) অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) সাথে কী সম্পর্কযুক্ত?
  1. T ∝ g
  2. T ∝ g2
  3. T ∝ 1/√g
  4. T ∝ √g
ব্যাখ্যা

• দোলনকাল (T) অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য, তাই একটি সরল দোলককে। পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে।
- একটি পূর্ণ দোলন এর জন্য সরল দোলকের যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে।
- দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

• সরল দোলকের দোলনকালের সূত্র: T = 2π √(L/g)
- যেহেতু 2π এবং কার্যকরী দৈর্ঘ্য (L) সাধারণত স্থির থাকে,
- তাই আমরা লিখতে পারি, T ∝ 1/√g.
- অর্থাৎ, দোলনকাল (T) অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৭৮.
হাড়ে ফ্র্যাকচার নির্ণয়ের জন্য কী ধরনের রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• হাড়ে ফ্র্যাকচার বা ভাঙা হাড় নির্ণয়ের জন্য রঞ্জন রশ্মি (X-ray) ব্যবহার করা হয়। রঞ্জন রশ্মি হাড়ের ঘনত্ব বেশি জায়গায় সহজেই প্রতিফলিত হয়, ফলে হাড় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই রশ্মি শরীরের নরম অংশের মধ্য দিয়ে সহজে যেতে পারে, তাই হাড়ের অবস্থান, ফ্র্যাকচার বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা নির্ধারণে এটি খুব কার্যকর। চিকিৎসক X-ray ছবি দেখে হাড়ের সঠিক ভাঙন ও চিকিৎসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তাই হাড় পরীক্ষা করার জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং কার্যকর পদ্ধতি হলো রঞ্জন রশ্মি।

- উত্তর: ঘ) রঞ্জন রশ্মি।

• এক্সরে (রঞ্জন রশ্মি):
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

• এক্সরে এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৭৯.
থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে বাস যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়ে কেন?
  1. ক) জড়তার কারণে
  2. খ) গতির কারণে
  3. গ) অমনোযোগীতার কারণে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে বাস যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন জড়তার কারণে।
চলন্ত বাস থেকে নামতে গেলে ঠিক তার বিপরীত ব্যাপারটি ঘটে। পুরাে শরীরটি গতিশীল অবস্থায় পা যখন মাটি স্পর্শ করে, শরীরের নিচের অংশ স্থির হয়ে গেলেও উপরের অংশ গতিশীল থেকে যায় এবং যাত্রী সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।
কোনাে বস্তুর দিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও আমরা জড়তার প্রভাব অনুভব করি। যদি কোনাে বাস বা গাড়ি হঠাৎ বাক নেয়, যাত্রীরা অন্য পাশে ঝুঁকে পড়ে জড়তার কারণে।
উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান

৩,৬৮০.
সীসার আপেক্ষিক তাপ কত?
  1. 130 Jkg-1K-1
  2. 230 Jkg-1K-1
  3. 400 Jkg-1K-1
  4. 700 Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তাপ: 
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। 
যেমন - আঁধা লিটার (0.5 kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5 kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি। 
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়। 
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1 kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। 
- তাই 1 kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। 
- আপেক্ষিক তাপকে ইংরেজি s অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-1K-1। 
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৮১.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়-
  1. ক) বৈদ্যুতিক মোটর
  2. খ) জেনারেটর
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ একটি তারের কুণ্ডিলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুন্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৮২.
নিচের কোনটি ফোটন কণার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) মহাকর্ষ
  2. খ) আলো
  3. গ) শব্দ
  4. ঘ) বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

ফোটন হচ্ছে আলোর কণা বা ক্ষুদ্রতম একক।
প্লাঙ্কের তত্ত্ব অনুসারে - আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
ফোটনের কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৬৮৩.
Function of distribution sub-stations is to :
  1. ক) Step down voltage
  2. খ) step-up voltage
  3. গ) increase power
  4. ঘ) increase energy
ব্যাখ্যা
- একটি ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশন সাধারণত ট্রান্সমিশন লেভেল থেকে ডিস্ট্রিবিউশন লেভেলে ভোল্টেজ নামিয়ে দিয়ে থাকে।
- ব্যবহারকারীর সুবিধার্থে এই কাজটি করা হয়।
- ভোল্টেজ হ্রাস করার প্রক্রিয়াটিকে "স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার" বলা হয়।

উৎসঃ Massachusetts Institute of Technology (MIT) Website, Stanford University Website
৩,৬৮৪.
নিচের কোনটি মৌলিক বল?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল:
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 

মৌলিক বল চারটি। যথা- 
১. মহাকর্ষ বল;
২. তাড়িতচৌম্বক বল; 
৩. সবল নিউক্লিয় বল; 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল; 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৫.
একটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কুণ্ডলীর প্যাঁচ সংখ্যা ১০০ এবং সেকেন্ডারি কুণ্ডলীর প্যাঁচ সংখ্যা ৫০০ হলে এটি কী ধরণের ট্রান্সফরমার?
  1. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার 
  2. আদর্শ ট্রান্সফরমার 
  3. জেনারেটর
  4. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার এর মূলনীতি অনুযায়ী, যদি মুখ্য কুণ্ডলীর (Primary Coil) তুলনায় গৌণ কুণ্ডলীর (Secondary Coil) প্যাঁচ সংখ্যা বেশি হয়, তবে সেটি ভোল্টেজ বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু এখানে মুখ্য কুণ্ডলীর প্যাঁচ ১০০ এবং গৌণ কুণ্ডলীর প্যাঁচ ৫০০ (অর্থাৎ গৌণ কুণ্ডলীর প্যাঁচ বেশি), তাই এটি একটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার (Step-up Transformer) বা আরোহী ট্রান্সফরমার।

ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।

ট্রান্সফরমার দুই প্রকার:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।

• স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারনে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই।

৩,৬৮৬.
যখন কেউ প্যারাস্যুট নিয়ে প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন তখন কোন ঘর্ষণ বল কাজ করে?
  1. প্রবাহী ঘর্ষণ
  2. স্থিতি ঘর্ষণ
  3. গতি ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
• যখন কেউ প্যারাস্যুট নিয়ে প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন তখন প্রবাহী ঘর্ষণ বল কাজ করে।

• ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল:

- যখন দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থাকে এবং একটি বস্তু অপরটির উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে, তখন বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এই বাধাকে ঘর্ষণ বলা হয়।
- যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলা হয়।

• ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। যথা:
১. প্রবাহী ঘর্ষণ:
- যখন কোনাে বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থ এর ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ।
- প্যারাস্যুট নিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাঁধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আর এ বাঁধার ফলে প্রবাহী ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- আবার, মানুষ পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, আর এ বাঁধাই হলো প্রবাহী ঘর্ষণ।

২. স্থিতি ঘর্ষণ:

- যখন দুটি বস্তু একে অপরের সাপেক্ষে স্থির থাকে, তখন যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়, সেটি স্থিতি ঘর্ষণ।
- স্থিতি ঘর্ষণের কারণে আমরা হাঁটতে পারি, কারণ আমাদের পা বা জুতার তলা মাটিতে স্থিতি ঘর্ষণের ফলে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে না।

৩. গতি ঘর্ষণ:
- একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয় তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় সেটি হচ্ছে গতি ঘর্ষণ।
- সাইকেলের ব্রেক চেপে ধরলে সেটি সাইকেলের চাকাকে চেপে ধরে এবং ঘুরন্ত চাকাকে গতি ঘর্ষণের কারণে থামিয়ে দেয়।
- গতি ঘর্ষণ ওজনের উপর নির্ভর করে, ওজন যত বেশি হবে গতি ঘর্ষণ তত বেশি হবে।

৪. আবর্ত ঘর্ষণ:
- একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ।
- সবগুলাে ঘর্ষণ বলের মধ্যে এটা সবচেয়ে ছােট তাই আমরা সব সময়ই সকল রকম যানবাহনের মাঝে চাকা লাগিয়ে নিই। চাকা লাগানাে সুটকেস খুব সহজে টেনে নেওয়া যায়, যদি এর চাকা না থাকত তাহলে মেঝের উপর টেনে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হতাে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৭.
কোনটির গতিবেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) আলো
  2. খ) শব্দ
  3. গ) বুলেটের গতি
  4. ঘ) রকেটের গতি
ব্যাখ্যা

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে কোনো বস্তুই আলোর গতির সমান বা অধিক গতিবেগ নিয়ে চলতে পারে না।
আলোর গতি শূন্যমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি এবং তা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৬৮৮.
নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়? 
  1. W = mg
  2. F = ma
  3. E = mc2
  4. E = m2c
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সমীকরণ: 
- আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc2
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আমরা যে শক্তি পেয়ে থাকি তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৯.
In which season is sound heard louder and travels farther than in other seasons?
  1. Rainy season
  2. Winter season
  3. Summer season
  4. Spring season
  5. None of the above
ব্যাখ্যা

• বর্ষাকালে শব্দ কেন বেশি দূরে যায় এবং জোরে শোনা যায় তার প্রধান কারণ হলো বাতাসের আর্দ্রতা।
- আমরা জানি, শব্দের বেগ ঘনত্বের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক (v × 1/√ρ)। অর্থাৎ ঘনত্ব কমলে শব্দের বেগ বাড়ে।
- বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়। শব্দের বেগ বাতাসের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে; ঘনত্ব যত কম হয়, শব্দের বেগ তত বৃদ্ধি পায়। বর্ষাকালে এই বেগ বেশি থাকার কারণে শব্দ অনেক স্পষ্ট ও উচ্চৈঃস্বরে শোনা যায়।

• শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়।
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক।
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে।
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়।
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৯০.
টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় - 
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. অবলোহিত রশ্মি
  3. আলট্রা ভায়োলেট
  4. দৃশ্যমান রশ্মি
ব্যাখ্যা
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের। 
- আর এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র। 
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। 

শব্দ প্রেরণ: 
- এক্ষেত্রে শব্দ প্রেরণকারী যন্ত্র মাইক্রোফোনের সাহায্যে বক্তার শব্দ সংগ্রহ করে। 
- মাইক্রোফোনে একটি পাতলা ধাতব পদার্থ থাকে, একে ডায়াফ্রাম বলে। 
- মাইক্রোফোনে আগত শব্দ এই ডায়াফ্রামটিকে কম্পিত করে, এ যান্ত্রিক কম্পন তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত হয়। 
- এভাবে মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। 
- এরপর এ সংকেতকে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। 

ছবি প্রেরণ: 
- যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্যদিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। 
- এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। 
- এরপর তড়িৎ সংকেতকে তাড়িত চৌম্বক বেতার তরঙ্গে (রেডিও তরঙ্গ) রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। 

অর্থাৎ, অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - ক) রেডিও ওয়েভ । 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯১.
কুকুরের শ্রাব্যতার সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. 20,000 Hz
  2. 45,000 Hz
  3. 60,000 Hz
  4. 90,000 Hz
ব্যাখ্যা
• শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা সত্য নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- উৎসের কম্পন প্রতি সেকেন্ডে 20 টির নিচে হলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা আমরা শুনতে পাই না। আবার উৎসের কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে 20,000 টির বেশি হয় তাহলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তাও আমরা শুনতে পাই না।
- মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে কম) শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে বেশি) শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো-

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯২.
অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. আলোক শক্তি
  3. চুম্বক শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- এ ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৩.
পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্রানুসারে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. h2 ∝ t
  2. v ∝ t
  3. h ∝ t
  4. h ∝ 1/t2
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ: 
- কোন বস্তুকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষের প্রভাবে মাটিতে পড়ে। 
- বাতাসের বা অন্য কোন বাধা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কেবল অভিকর্ষের প্রভাবে পড়ন্ত বস্তুকে বলা হয় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু। 
- ষোড়শ শতাব্দীতে ইটালীর বিখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী গ্যালেলিও গ্যালিলাই পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে তিনটি সূত্র দেন যেগুলোকে পড়ন্ত বস্তুর সূত্র বলা হয়। 
- এগুলো এখন সর্বজন গৃহীত সূত্র। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বস্তু t সময়ে v বেগ প্রাপ্ত হলে, v ∝ t  । 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h ∝ t2

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৪.
ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোক ক্রিয়ার ফলে শক্তির কী ধরনের রূপান্তর ঘটে?
  1. আলোক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে
  2. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে
  4. তাপ শক্তি তড়িৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা

ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূর্যের আলোকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিণত করা হয়।
এছাড়া ক্যালকুলেটর, রেডিওবো ইলেকট্রনিক ঘড়িতে সৌর শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

৩,৬৯৫.
একটি সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল কত হবে?
  1. ক) ৩ গুণ কমবে
  2. খ) ৩ গুণ বাড়বে
  3. গ) ৯ গুণ কমবে
  4. ঘ) ৯ গুণ বাড়বে
ব্যাখ্যা

একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

৩,৬৯৬.
কোন বলের কারণে মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে?
  1. সবল নিউক্লিয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বল চারটি। 
যথা- 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force) । 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। 
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। 
- এ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি। 
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। 
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৭.
মোবাইলের ব্যাটারিকে চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ শক্তি প্রধানত কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি 
  2. তাপ শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি 
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের উদাহরণ দিতে হলে সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির উদাহরণ দেওয়া হয়, তার কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। শুধু তা-ই নয়, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- তাই চারপাশে নানা ধরনের শক্তি থাকার পরও আমাদের বাসায় অন্য কোনো শক্তি সরবরাহ না করে সবার প্রথমে তড়িৎশক্তি বা ইলেকট্রিসিটি সরবরাহ করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। (যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে দেখা যায়)। 

- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয়, সেটি এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। তারপরও স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে আসলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৯৮.
লর্ড কেলভিন কোন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন?
  1. আলোর প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা 
  2. তাপগতিবিজ্ঞানের দুটি সূত্র প্রদান করা
  3. বৈদ্যুতিক চার্জের সূত্র আবিষ্কার করা 
  4. ব্যাটারি আবিষ্কার করা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানীদের অবদান: 
- অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে তাপকে ভরহীন এক ধরনের তরল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। 1798 সালে কাউন্ট রামফোর্ড দেখান, তাপ এক ধরনের শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- আরও অনেক বিজ্ঞানীর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে লর্ড কেলভিন 1850 সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 

- বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ওপরেও এই সময় ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। 1778 সালে কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জের ভেতরকার বলের জন্য সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- 1800 সালে ভোল্টা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করার পর বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা শুরু হয়। 
- 1820 সালে অরস্টেড দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়। 
- 1831 সালে ফ্যারাডে এবং হেনরি ঠিক তার বিপরীত প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। 
- তারা দেখান চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। 
- 1864 সালে ম্যাক্সওয়েল তার বিখ্যাত ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ দিয়ে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে একই সূত্রের মাঝে নিয়ে এসে দেখান যে আলো আসলে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। বিদ্যুৎ ও চুম্বক আলাদা কিছু নয়, আসলে এ দুটি একই শক্তির দুটি ভিন্ন রূপ। এটি সময়োপযোগী একটি আবিষ্কার ছিল। কারণ, 1801 সালে ইয়ং পরীক্ষার মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ ধর্মের প্রমাণ করে রেখেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৯৯.
কোনটির সাহায্যে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়?
  1. কন্ট্রোল অ্যান্টেনা
  2. রি-অ্যাক্টর অ্যান্টেনা
  3. কন্ট্রোল রড
  4. রি-অ্যাক্টর রড
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার (পারমানবিক) বিক্রিয়া:
- নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে যেসব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, তার একটি হচ্ছে ইউরেনিয়াম (235)। এখানে 92টি প্রোটন এবং 143টি নিউট্রন রয়েছে। প্রকৃতিতে এর পরিমাণ খুব কম।
- প্রাকৃতিক ইউরোনিয়ামের মাত্র 0.7% এর অর্ধায়ু 704 মিলিয়ন বছর। এই ইউরেনিয়াম (235) নিউক্লিয়াস খুব সহজেই আরেকটা নিউট্রনকে গ্রহণ করতে পারে (যদি সে নিউট্রনের গতি কম হয়) তখন ইউরেনিয়াম (235) পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে যায়, এটা তখন 92Kr এবং 141Ba এই দুটো ছোট নিউক্লিয়াসে ভাগ হয়ে যায়। তার সাথে সাথে আরো তিনটা নিউট্রন বের হয়ে আসে যেটা নিচের সমীকরণে দেখানো হয়েছে।



- এই বিক্রিয়ায় যে তিনটি নিউট্রন বের হয়ে এসেছে, তারা আসলে প্রচণ্ড গতিতে বের হয়ে আসে, তাই খুব সহজে অন্য ইউরেনিয়াম (235) সেগুলো ধরে রাখতে পারে না। কোনোভাবে যদি এগুলোর গতিশক্তি কমানো যায়, তাহলে সেগুলো অন্য ইউরেনিয়াম (235) নিউক্লিয়াসে আটকা পড়ে সেটাকেও ভেঙে দিয়ে আরো কিছু শক্তি এবং আরো তিনটি নতুন নিউট্রন বের করবে।
- নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে এই কাজটি করা হয়, তাই বের হয়ে আসা নিউট্রনগুলোর গতি কমে আসার পর সেগুলো আবার অন্য নিউক্লিয়াসকে ভেঙে দেয় এবং এভাবে চলতেই থাকে। এই প্রক্রিয়াকে বলে চেইন রি-অ্যাকশন (Chain Reaction)।

• নিউক্লিয়ার (পারমানবিক) বিদ্যুৎকেন্দ্র:
- নিউক্লিয়ার চেইন রি-অ্যাকশন পদ্ধতিতে প্রচণ্ড তাপশক্তি বের হয়ে আসে, সেই তাপশক্তি ব্যবহার করে পানিকে বাষ্পীভূত করে সেই বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয় এবং এ রকম বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র।    
- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে খুব সহজেই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। 
- এই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার পর যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় সেগুলো ভয়ংকর রকম তেজস্ক্রিয়, তাই সেগুলো প্রক্রিয়া করার সময় অনেক রকম সাবধানতা নিতে হয়।
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার পর যে বাড়তি নিউট্রন বের হয় কোনোভাবে সেগুলোকে অন্য কোথাও শোষণ করিয়ে নিতে পারলেই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নিউট্রনকে শোষণ করার জন্য বিশেষ ধরনের রড নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরে থাকে যেগুলোকে বলে কন্ট্রোল রড। সেগুলো দিয়ে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

• কন্ট্রোল রড:
- এগুলো বোরন, ক্যাডমিয়াম বা হাফনিয়ামের মতো পদার্থ দিয়ে তৈরি, যা নিউট্রন শোষণ করতে পারে।
- এই রডগুলোকে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরের কোরের ভেতরে প্রবেশ করানো বা বের করে আনা হয়। নিউট্রন শোষণ করে এগুলো ফিশন বিক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখে।
- জরুরি পরিস্থিতিতে কন্ট্রোল রডগুলো দ্রুত চুল্লির ভেতরে ঢুকিয়ে চেইন বিক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যায়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৩,৭০০.
নিচের কোনটির ওপর পরিবাহীর রোধ নির্ভর করে?
  1. পরিবাহীর দৈর্ঘ্য
  2. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
  3. পরিবাহীর উপাদান
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহকালে বাধার সৃষ্টি হয় তাকে পরিবাহীর রোধ বলে।
- পরিবাহীর বিভিন্ন ধর্মের উপর রোধ নির্ভর করে। যেমন- পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ইত্যাদি।
- তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর রোধ বাড়ে। 
- তাপমাত্রা কমে গেলে পরিবাহীর রোধ কমে যায়।
- তবে পরিবাহীতে রোধ তাপমাত্রার সমানুপাতিক নয়।
- রোধের উষ্ণতা সহগ দ্বারা তাপমাত্রার সাথে রোধের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।