ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যাঃ
১৮৭৭ ও ১৮৭৮ সালে টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ(১৮৭৭), সিনেমাটোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি(১৮৭৮) আবিস্কার করেন।
অন্যদিকে,
আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে টেলিফোন আবিস্কার করেন।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩১ / ৩৮ · ৩,০০১–৩,১০০ / ৩,৭৪৭
ব্যাখ্যাঃ
১৮৭৭ ও ১৮৭৮ সালে টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ(১৮৭৭), সিনেমাটোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি(১৮৭৮) আবিস্কার করেন।
অন্যদিকে,
আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে টেলিফোন আবিস্কার করেন।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এই ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা-
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ন রুপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে। যেমন : সরণ, বেগ, ওজন, ত্বরণ, মন্দন ইত্যাদি।
শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তনে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে। যেমন : দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর ইত্যাদি।
শুধু মানের পরিবর্তনে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- স্ফেরোমিটারের কেন্দ্রীয় স্ক্রুটিকে উপরে বা নিচে নামিয়ে একটি সমতল থেকে গোলীয় তলের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন বিন্দুর দূরত্ব মাপা হয়। এই দূরত্বটি মূলত উচ্চতা (height বা Sagitta) নির্দেশ করে।
স্ফেরোমিটার:
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়।
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার।
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- স্ফেরোমিটার দ্বারা তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়।
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে,
R = {(d2/6h) + (h/2)}
যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
• সংঘর্ষ:
- অতি অল্প সময়ের জন্য বৃহৎ কোনো বল ক্রিয়া করে বস্তুর গতির হঠাৎ ও ব্যাপক পরিবর্তন করাকে সংঘর্ষ বলে।
- সাধারণত সংঘর্ষের সময় বস্তুর গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় কিনা, তার ওপর ভিত্তি করে সংঘর্ষকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:
• অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।
- একটি রাবারের বল দৃঢ় পাটাতনে আঘাত করলে, বলটির আকার বিকৃত হয় এবং এর গতিশক্তি হ্রাস পায়।
- এ কারণেই রাবারের বলের সাথে পাটাতনের যে সংঘর্ষ, হা হলো অস্থিতিস্থাপক।
- সংঘর্ষের পরে সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারী বস্তু দুটি যদি একত্রে যুক্ত হয় এবং একই বেগে চলতে থাকে, তবে সেই সংঘর্ষ হবে পূর্ণভাবে অস্থিতিস্থাপক।
- উদহরণ: যখন একটি গুলি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন গুলি ও লক্ষ্যবস্তুর সংঘর্ষ হলো অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ।
• স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ ও গতিশক্তি উভয়ই সংরক্ষিত থাকে, তাকে স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।
- পারমাণবিক, নিউক্লিয় ও মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে যে সংঘর্ষ ঘটে, তা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ।
উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৬৪ সালে পিটার হিগস এবং তাঁর পাঁচজন সহযোগী মিলে সর্বপ্রথম এ কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন।
সুইজারল্যান্ডের সার্ন এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে ২০১৩ সালে প্রথম এ কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে অভিহিত করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
◉ বায়ু টার্বাইন (Wind Turbine) বাতাসের গতিশক্তিকে (Kinetic Energy) ঘূর্ণনশক্তিতে রূপান্তর করে, যা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
বায়ু শক্তি:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল (টারবাইন) বলে।
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো।
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- বৈদ্যুতিক ঘন্টায় বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বৈদ্যুতিক মোটরে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বৈদ্যুতিক পাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- তাপ ইঞ্জিন তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তরিত করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
যে সকল রাশি পরিমাপের জন্য অন্য রাশির সাহায্য দরকার হয় না বা অন্য রাশি পরিমাপের জন্য যে রাশিগুলাে দরকার হয় সেইসব রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
মৌলিক রাশি সাতটি।
যথাঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ g তার ভর M এবং ব্যাসার্ধ R-এর উপর নির্ভর করে সূত্র g = GM/R2 দ্বারা, যেখানে G হলো অভিকর্ষ ধ্রুবক। যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যায়, অর্থাৎ R → 2R, কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে নতুন অভিকর্ষজ ত্বরণ হবে gnew = GM/(2R)2 = GM/4R2 = g/4। অর্থাৎ অভিকর্ষজ ত্বরণ চার গুণ কমে যাবে। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) এক চতুর্থাংশ হবে।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ (Gravitational Acceleration):
- পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ g নির্ভর করে পৃথিবীর ভর (M) এবং ব্যাসার্ধ (R) এর উপর। সূত্র হলো: g = GM/R2, যেখানে G হলো মহাজাগতিক অভিকর্ষধ্রুবক।
- যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যায় (R → 2R) কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে (M অপরিবর্তিত), তাহলে g এর মান কিভাবে পরিবর্তিত হবে তা নির্ণয় করতে হবে।
- সূত্র অনুযায়ী নতুন অভিকর্ষজ ত্বরণ g' হবে: g' = GM/(2R)2 = GM/(4R2) = g/4।
- অর্থাৎ, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ হলে অভিকর্ষজ ত্বরণ চারগুণ কমে যাবে, কারণ এটি ব্যাসার্ধের বর্গের বিপরীত আনুপাতিক।
- এর ফলে, বস্তু পৃথিবীর পৃষ্ঠে আগের তুলনায় অনেক ধীরে পড়বে।
সুতরাং, অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন: গ) এক চতুর্থাংশ।
সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আল্ট্রাসনিক শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও বাদুর, কুকুর, মৌমাছির ন্যায় কিছুকিছু প্রাণী উৎপন্ন করতে পারে আবার তা শুনতেও পারে।
আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো 20 Hz থেকে 20,000 Hz।
কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে।
আবার যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তাকে শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আল্ট্রাসনিক শব্দ বলে।
রোগ নির্ণয়ে, কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করা, সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি এবং এইসএসসি।
তেজস্ক্রিয়তা:
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা।
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে।
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর।
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে।
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
তিনটি মৌলিক রং হচ্ছে লাল, নীল, সবুজ। এই ৩টি রং এর সমন্বয়ে বাকী রং গুলো তৈরি করা যায়।
উৎসঃ ব্রিটানিকা।
শক্তির রূপান্তর:
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- সোলার প্যানেল: এটি আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, এখানে যান্ত্রিক শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।
- ইলেকট্রিক ইস্ত্রি: এটি তড়িৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেল: এটি আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, এখানে যান্ত্রিক শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ট্রানজিস্টরে অর্ধপরিবাহী হিসেবে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ব্যবহৃত হয়।
• ট্রানজিস্টর:
- ১৯৪৮ সালে জে. বার্ডিন ও ডব্লিউ. এইচ. ব্রাটেইন ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রিক সার্কিট বা বর্তনীতে ট্রানজিস্টর বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে প্রদত্ত সংকেত বহির্গামীতে বিবর্ধিত করে তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে।
- ট্রানজিস্টর দুই ধরনের। যথা- n-p-n এবং p-n-p ।
উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে এক রাশি ইলেকট্রন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন হেনরি বেকেরেল।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
বায়ুতে সব সময় একই রকম আদ্রতা থাকে না। স্থান ও ঋতুভেদে বায়ুর আদ্রতা পরিবর্তন ঘটে।
আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে এ সময় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে চায়না এবং অস্বস্তি লাগে।
পক্ষান্তরে শীতকালে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে বায়ু দ্রুত শরীরের অনাবৃত অংশে যেমন- ঠোঁট, গায়ের চামড়া প্রভৃতি হতে জলীয়বাষ্প শোষণ করে নেয়।
এজন্য শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় কিন্তু গায়ের চামড়া ফেটে যায়।
ঠোঁট ও গায়ের চামড়া ফাটা বন্ধ করতে পমেট বা গ্লিসারিন লাগিয়ে চামড়াকে ভিজা রাখা হয়।
অর্ধপরিবাহী:
- যে পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
যেমন- জার্মেনিয়াম ও সিলিকন ইত্যাদি।
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• নিউক্লিয়াসে আবদ্ধ শক্তিই পারমাণবিক শক্তি।
• পারমাণবিক শক্তি:
- আমরা জানি, সকল পদার্থ পরমাণু দিয়ে গঠিত।
- পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত নিউক্লিয়াসে অত্যন্ত শক্তিশালী বলের মাধ্যমে কণিকাগুলো আবদ্ধ থাকে।
- এই শক্তিকেই পারমাণবিক শক্তি বলা হয়।
- পারমাণবিক শক্তি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে কাজে লাগানো যায়।
• আলোক শক্তি:
- সূর্য থেকে তাপ শক্তির সঙ্গে যে শক্তি সরাসরি আসে, তাকে আলোক শক্তি বলা হয়।
- আলোক শক্তি ছাড়া আমরা কিছুই দেখতে পারি না।
- সূর্য হলো আলোক শক্তির প্রধান উৎস।
- এছাড়া আগুন ও বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়েও আমরা আলোক শক্তি পাই।
• শব্দ শক্তি:
- আমরা যখন কথা বলি, গান করি বা শাঁখ বাজাই, তখন এক ধরনের শক্তির উৎপত্তি হয়, যাকে শব্দ শক্তি বলা হয়।
- শব্দ শক্তির সাহায্যে আমরা একে অপরের কথা শুনতে পারি।
- টেলিফোন, রেডিও ও টেলিভিশনে শব্দ শক্তির ব্যবহার করা হয়।
- পদার্থের কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়।
• বিদ্যুৎ শক্তি:
- বিদ্যুৎ শক্তি হলো শক্তির একটি অত্যন্ত পরিচিত ও প্রয়োজনীয় রূপ।
- বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে আমরা বাতি জ্বালাই, পাখা চালাই এবং কল-কারখানায় বিভিন্ন যন্ত্র পরিচালনা করি।
- অনেক দেশে রেলগাড়িও বিদ্যুৎ শক্তির মাধ্যমে চলে।
- বিদ্যুৎ শক্তি তারের সাহায্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করা যায়।
উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
• স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎকে কমিয়ে গ্রাহকের ব্যবহারের উপযোগী (২২০ ভোল্ট) মানে রূপান্তর করে।
• তড়িতের সিস্টেম লস:
- দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পাওয়ার প্লান্টগুলোতে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে, এই বিদ্যুৎকে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন এলাকায় পাঠাতে হয়।
- বিদ্যুৎ বিতরণ করার জন্য প্রথমে বিভিন্ন এলাকার সাব-স্টেশনে পাঠানো হয়।
- সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ-ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ শক্তিকে একেবারে গ্রাহক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিতরণ করার জন্য যে পরিবাহী তার ব্যবহার করা হয়, কম হলেও তাদের কিছু পরিমাণ রোধ থাকে।
- একটা রোধের (R) ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ (I) হলে সবসময়েই (I2R) তাপ উৎপন্ন হয় এবং এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ শক্তির লস বা ক্ষয় হয়।
- একটা নির্দিষ্ট বিদ্যুৎ শক্তির জন্য যদি উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তাহলে রোধজনিত তাপশক্তি হিসেবে লস কমে যায়।
- সে জন্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হয় সেটিকে স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয়।
- গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ শক্তিকে বিতরণ করার আগে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করে সেটিকে আবার ব্যবহারযোগ্য ভোল্টেজে নামিয়ে আনা হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
আলাের বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর।
আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ তত কম হয়।
লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম। তাই লাল আলো অনেক দূর থেকে দেখা যায়। সে জন্য উঁচু টাওয়ার বা বিল্ডিং এর উপর লাল রঙের বাতি জ্বালানো হয় যাতে বিমান বা হেলিকপ্টার নিচ দিয়ে উড়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখে সতর্ক হতে পারে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- রেকটিফায়ার (Rectifier) এমন একটি বর্তনী যা অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) (এসি)-কে ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) (ডিসি)-এ রূপান্তরিত করে, যা ডায়োডে ব্যবহার করে করা হয় এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে এই রূপান্তর অপরিহার্য।
রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এই ক্রিয়া সম্পাদন করা হয়, তাকে একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier) বলা হয়।
- একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার মূলত দুই প্রকার।
যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। এই চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়।
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়।
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে লোড রেজিস্টান্স সংযোগ দেওয়া হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
• মহাকর্ষ ও নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র (Gravitation and Newton's Law of Gravitation):
- ১৬১৮ খ্রি. বিজ্ঞানী জে কেপলার সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন ও তাদের গতি সম্পর্কীয় সূত্রাবলি প্রকাশ করেন।
- কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং সৌর মন্ডলীর গ্রহ উপগ্রহসমূহ কোন বলের প্রভাবে ঘুরছে বা সাম্যবস্থায় আছে সে সম্পর্কে কেপলার বা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না।
- ১৬৮৭ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল।
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল।
- অর্থাৎ যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন।
- এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত।
• সূত্রটি হলো:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
CGS বা সিজিএস পদ্ধতি (Centimeter-gram-second system) পরিমাপের একটি বিশেষ ধরনের পদ্ধতিকে বোঝায়
এখানে, দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার, ভরের একক গ্রাম এবং সময়ের একক সেকেন্ড
- তাপ সঞ্চালনের বিকিরণ পদ্ধতিতে কোনো জড় মাধ্যমের (কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন হয় না, এই প্রক্রিয়ায় তাপ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের আকারে সঞ্চালিত হয়, যা শূন্যস্থানের মধ্য দিয়েও ভ্রমণ করতে পারে।
তাপ:
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়।
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
অন্যদিকে,
- পরিচলন বা সংবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনের জন্য তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় এবং মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরের মাধ্যমে তাপ বহন করে।
- পরিবহন মূলত কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলোর সরাসরি সংযোগ বা কম্পনের প্রয়োজন হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ আলোর মরীচিকা (Mirage) হলো একটি আলোক বিভ্রম (Optical Illusion), যা গরম মরুভূমি বা পিচঢালা রাস্তায় ঘটে। এটি মূলত আলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে ঘটে।
মরীচিকা:
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা অতি পরিচিত উদাহরণ।
- উত্তপ্ত মরুভূমিতে মরুচারী পথিক প্রায়শ মরীচিকা দেখতে পান এবং বিভ্রান্ত হন। মরীচিকা হল এক ধরণের দৃষ্টি ভ্রম।
- প্রচন্ড সূর্য তাপে মরুভূমির বালু খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়। ফলে বালু সংলগ্ন বাতাসও খুব গরম হয়। এতে বালু সংলগ্ন স্তরের বায়ু খুব হালকা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ু স্তরের তাপমাত্রা তত কম হয়। তাই ভূ সংলগ্ন বায়ু স্তর থেকে যতই ওপরে ওঠা যায় বায়ু স্তর তত ঘন হয়।
- এঅবস্থায় মরুভূমিতে দূরে কোন খেজুর গাছ থেকে পথিকের চোখে আসা আলোক রশ্মি ধাপে ধাপে ঘনতর মাধ্যম থেকে লঘুতর মাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে, ফলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে।
- এভাবে বাঁকতে বাঁকতে এমন কোন স্তরে পৌঁছায় যেখানে আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হয়।
- ফলে আপতিত আলোক রশ্মির প্রতিসরণ না হয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বৈদ্যুতিক ক্ষমতার,P =৪০ ওয়াট , সময় T= ১০ মিনিট=৬০০ সেকেন্ড।
আমরা জানি,
কাজ(W)=( P X T) জুল
= (৪০ X ৬০০)
= ২৪০০০ বা ২৪ X ১০৩ জু
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণী
রোদের তাপে কাপড়ের পানি বাস্পে পরিণত হয়। ফলশ্রুতিতে কাপড় শুকিয়ে যায়।
কোনো তরল পদার্থকে তাপ প্রদান করলে ঐ তরলের বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।
যেমন- চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়। এটি বাষ্পীভবনের উদাহরণ।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
- ফোটন হলো আলোর মৌলিক কণা এবং এটি তড়িৎ নিরপেক্ষ, অর্থাৎ এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। এই কারণে এটি তড়িৎ ক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত বা বিচ্যুত হয় না।
ফোটন কণা:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। ৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf (যেখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক)। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়, ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- VLSI-এর পূর্ণ রূপ হল Very Large Scale Integrated Circuit.
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি (Integrated Circuits or IC):
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস।
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।
- এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট (microelecrtonic circuit) বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী।
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না।
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়।
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits),
২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits) এবং
৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits)।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলটি হলো মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)।
• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।
২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।
৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পর্যায়কাল (Time period):
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায় কাল বলে।
- পর্যায়কালকে T' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।
• পূর্ণ কম্পন বা স্পন্দন (Complete Vibration):
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা কোন বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় ঐ বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণ স্পন্দন বলে।
• কম্পাঙ্ক (Frequency):
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- কম্পাঙ্কের একক হার্জ, সংক্ষেপে লেখা হয় Hz।
• দশা (Phase):
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থাকে তার দশা বলে।
- কোনো একটি মুহূর্তের গতির অবস্থা বলতে ঐ বিশেষ মুহূর্তে কণাটির সরণ, বেগ, ত্বরণ ইত্যাদি বুঝায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পানির ঘনত্বের পরিবর্তন (Density Anomaly of Water):
- পানি একটি বিশেষ ধরনের পদার্থ, যার ঘনত্ব তাপমাত্রার সাথে অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়।
- সাধারণত পদার্থ তাপমাত্রা বাড়লে প্রসারিত হয় এবং ঠান্ডা হলে সংকুচিত হয়।
- পানির ক্ষেত্রে ০° C থেকে ৪° C পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়লে ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
- পানি অণুগুলির মধ্যে থাকা হাইড্রোজেন বন্ধন এর কারণে এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়।
- ০° C-এ পানি বরফে পরিণত হয়, যেখানে অণুগুলি খোলামেলা ক্রিস্টাল কাঠামো তৈরি করে। এজন্য বরফের ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হয় এবং বরফ পানির ওপর ভেসে থাকে।
- পানির এই density anomaly নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাধারে জীবজন্তুর টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ঠান্ডা পরিবেশেও পানির নিচে উষ্ণ স্তর বজায় রাখতে সাহায্য করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় ব্যবধান 0.1 সেকেন্ড হতে হবে, কারণ মানুষের কান দুটি শব্দকে আলাদাভাবে বোঝার জন্য কমপক্ষে এই সময়টুকু প্রয়োজন হয়; এর কম হলে শব্দ দুটি মিশে যাবে এবং প্রতিধ্বনি শোনা যাবে না।
শব্দ:
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে।
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে।
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1।
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে।
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে।
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযােগে হয় না।
ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছােট ছােট আলো হল Light Emitting Diode.
ডায়ােডের আরাে একটি ব্যবহার হচ্ছে AC থেকে DC তৈরি করা অর্থাৎ ডায়োড রেক্টিফায়ার হিসাবে কাজ করে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
• ভোল্টেজ পরিবর্তনের জন্য অর্থাৎ উচ্চ ভোল্টেজকে নিম্ন ভোল্টেজে বা নিম্ন ভোল্টেজকে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ট্রান্সফরমার ব্যবহৃত হয়।
- এটি তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
• ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- ১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।
অন্যান্য অপশন:
- জেনারেটর: এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, কিন্তু বিদ্যমান ভোল্টেজ পরিবর্তন করে না।
- অ্যামিটার: এটি বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের (Current) মান পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ভোল্টমিটার: এটি বর্তনীর দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজ পরিমাপ করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity):
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে।
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার।
যথা-
১। পরম আর্দ্রতা:
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা:
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
অন্যদিকে,
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
দেওয়া আছে,
বিভব পার্থক্য, V = 200 V
তড়িৎ প্রবাহ, I = 20 A
এবং রোধ, R = ?
আমরা জানি,
I = V/R
বা, R = V/I
বা, R = 200/20
= 10Ω
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কুলম্বের সূত্র: দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল এদের আধানের পরিমানের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
এই বল এদের সংযোগ সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
এই বলের মান মাধ্যমের উপর নির্ভর করে।
সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
পদার্থের একক ভরের মোট তাপের পরিমাণকে বলে- আপেক্ষিক তাপ।
আপেক্ষিক তাপ: 1 kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1 K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। আপেক্ষিক তাপকে ইংরেজি অক্ষর S দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এনথালপি: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট সিস্টেমের অভ্যন্তরীন শক্তি এবং কৃতকাজ এর সমষ্টিকে এনথালপি বলে।
এনট্রপি: শক্তি রূপান্তরের অক্ষমতা বা তাপীয় বিশৃক্ষলাকে এনট্রপি বলে।
◉ এক্স-রে (X-ray) হল এমন একটি ইমেজিং প্রযুক্তি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি হাড়ের সমস্যা, ফুসফুসের রোগ এবং টিউমার শনাক্ত করতে কার্যকর।
এক্স-রে (রঞ্জন রশ্মি):
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
এক্স-রে রশ্মির ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
লেন্স:
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার।
যথা-
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে।
উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
২। অপসারী বা অবতল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বা অপসারিত করে তাকে অপসারী লেন্স বলে।
অবতল লেন্সের ব্যবহার:
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়।
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
প্রত্যেক ডিসি জেনারেটরের আর্মেচারে উৎপন্ন কারেন্ট সব সময় এসি হয়ে থাকে, ডিসি জেনারেটরের এই এসি ভোল্টেজকে বহিঃসার্কিটে ডিসি পাওয়ার জন্য যে ডিভাইস বা মেকানিজম ব্যবহৃত হয় তাকে কম্যুটেটর বলে।
- নরম লোহার উপরে তামার পুরো পাত একের পর এক সাজিয়ে কুণ্ডলী আকার বানিয়ে কম্যুটেটর বানানো হয় ।
- কম্যুটেটরের প্রধান কাজ হলো AC (অল্টারেন্ট কারেন্ট) কারেন্ট কে DC (ডাইরেক্ট কারেন্ট) কারেন্টে রূপান্তরিত করা ।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি
- 'রক্তচাপ পরিমাপ করতে' এক্সরে ব্যবহৃত হয় না।
এক্সরে যন্ত্রের মূলনীতি ও ও এর ব্যবহার:
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ।
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম।
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন।
- এক্সরে রঞ্জন রশ্মি নামেও পরিচিত।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়।
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়।
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়।
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়।
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়।
- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে।
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
স্পষ্ট দর্শনের ন্যুনতম বা নিকটতম দূরত্ব:
- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম বা নিকটতম দূরত্ব বলে।
- স্বাভাবিক চোখের জন্য স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম (নিকটতম) দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার।
অর্থাৎ, চোখের লেন্স থেকে ২৫ সেন্টিমিটার দূরবর্তী বিন্দুতে স্থাপিত বস্তুটিকে সুন্দর সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- এই সীমা থেকে কম দূরত্বে স্থাপিত বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আলোর প্রাথমিক বা মৌলিক বর্ণ ৩ টি।
(উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
• বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দে রূপান্তরিত করতে সক্ষম সরঞ্জাম হলো লাউডস্পিকার। লাউডস্পিকার বৈদ্যুতিক সিগন্যাল গ্রহণ করে তা যান্ত্রিক কম্পন বা স্পন্দনে রূপান্তর করে, যা আমাদের কানে শব্দ হিসেবে শোনা যায়। অন্যদিকে, মাইক্রোফোন শব্দকে বিদ্যুতের সিগন্যাল বা সংকেত হিসেবে রূপান্তরিত করে। জেনারেটর বা উইন্ডমিল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সরাসরি শব্দ তৈরি করতে পারে না। তাই শব্দ উৎপাদনের জন্য মূলত লাউডস্পিকার ব্যবহৃত হয়।
শক্তির রূপান্তর:
- মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়।
- ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস মূলত ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার থেকে শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। এটি একটি ছোট, শক্তিশালী এবং কম শক্তি ব্যবহারকারী ডিভাইস যা বিদ্যুৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ট্রানজিস্টরের আগমনের আগে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি প্রধানত ভ্যাকুয়াম টিউবের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা বড়, ভারী এবং অকার্যকর ছিল। ট্রানজিস্টরের কারণে কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র দ্রুত, ছোট এবং সাশ্রয়ী হয়। এটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যুগের ভিত্তি স্থাপন করেছে। সুতরাং, ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস শুরু হয় ট্রানজিস্টরের উদ্ভাবনের মাধ্যমে।
- সঠিক উত্তর: ঘ) ট্রানজিস্টর।
• ট্রানজিস্টর:
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এটি ভ্যাকুয়াম টিউবের বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়।
- ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories–এ John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
- এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর-এর বিকাশের পথ তৈরি করে, যা আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের মূল ভিত্তি।
তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।