বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ৩০ / ৩৮ · ২,৯০১৩,০০০ / ৩,৭৪৭

২,৯০১.
আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. অপবর্তন 
  2. ব্যতিচার 
  3. প্রতিফলন
  4. অপসরণ 
ব্যাখ্যা

প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
অর্থাৎ, আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে। 
- আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতির উপর এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণের উপর। 
- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়। কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাঁচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। 
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

আলোর প্রতিফলনের সূত্র: 
- আলোর প্রতিফলন দু'টি সূত্র মেনে চলে, এদের প্রতিফলনের সূত্র বলে। 
সূত্র দু'টি হলো- 
১. আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অংকিত অভিলম্ব এবং প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে। 
২. আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 
অর্থাৎ, আপতন কোণ i এবং প্রতিফলন কোণ r হলে, ∠i = ∠r. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯০২.
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = কত জুল?
  1. ৩৬০০ জুল
  2. ১.৬ × ১০ জুল
  3. ৩৬০০০ জুল
  4. ৩.৬ × ১০ জুল
ব্যাখ্যা
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা 
= ১ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩৬০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩৬০০ জুল
∴ ১ ওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬০০ জুল।

- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট-ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট Χ ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩.৬ × ১০ জুল 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা এই এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯০৩.
১০ জন ব্যক্তি একটি কাজ ১৪ দিনে শেষ করে। অতিরিক্ত ৪ জন যুক্ত হলে কাজটি শেষ করতে কতদিন লাগবে?
  1. ৮ দিন
  2. ১২ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১১ দিন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১০ জন ব্যক্তি একটি কাজ ১৪ দিনে শেষ করে। অতিরিক্ত ৪ জন যুক্ত হলে কাজটি শেষ করতে কতদিন লাগবে?

সমাধান:
৪ জন যুক্ত হলে মোট লোকসংখ্যা ১৪ জন।
তাহলে একটি কাজ,
১০ জন করে ১৪ দিনে
১ জনে করে (১৪ × ১০) দিনে
১৪ জন করে ১৪০/১৪ দিনে
= ১০ দিন
২,৯০৪.
মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দের কম্পাঙ্ক সীমা কত?
  1. 20 Hz - 20,000 Hz
  2. 10 Hz - 10,000 Hz
  3. 5 Hz - 50,000 Hz
  4. 50 Hz - 50,000 Hz
ব্যাখ্যা
• মানুষের কান সাধারণত ২০ হার্জ (Hz) থেকে ২০,০০০ হার্জ (Hz) পর্যন্ত কম্পাঙ্কযুক্ত শব্দ শুনতে সক্ষম।

• এর নিম্নসীমা হলো ২০ হার্জ (Hz) ও ঊর্ধ্বসীমা হলো ২০,০০০ হার্জ (Hz)।

- শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ Hz-এর কম হলে তাকে বলা হয় ইনফ্রাসাউন্ড বা শব্দেতর তরঙ্গ। — এটি মানুষ শুনতে পায় না।

- শব্দের কম্পাঙ্ক ২০,০০০ Hz-এর বেশি হলে তাকে বলা হয় আল্ট্রাসাউন্ড বা শব্দোত্তর তরঙ্গ। — এটিও মানুষ শুনতে পারে না, তবে ডলফিন, বাদুড়ের মতো প্রাণী শুনতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
২,৯০৫.
ভরবেগ কী ধরনের রাশি?
  1. ভেক্টর
  2. স্কেলার
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ভরবেগ:
- ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর ভর ও তার বেগের গুণফল।

• ভরবেগ,
p = mv 
এখানে,
p = ভরবেগ
m = ভর (স্কেলার রাশি)
v = বেগ (ভেক্টর রাশি)

• যেহেতু বেগ একটি ভেক্টর রাশি, তাই ভরবেগও একটি ভেক্টর রাশি । 
• ভরবেগের মান এবং দিক উভয়ই থাকে।
• এটির দিক বেগের দিকেই নির্দেশ করে।
২,৯০৬.
এক্স-রে (X-Ray) সম্পর্কে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. এটি চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ।
  2. এটি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
  3. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি।
  4. এর শক্তি তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে (X-Ray):
- এক্স-রে হলো তড়িৎচৌম্বক (Electromagnetic) তরঙ্গ, যা তড়িৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের দোলন দ্বারা গঠিত।
- এটি কোনো পদার্থগত কণার প্রবাহ নয়, বরং নিরপেক্ষ শক্তি বহনকারী বিকিরণ।
- এক্স-রে পদার্থের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পর্যায়ে শোষিত হয়, যা একে চিকিৎসা ও শিল্পে বহুল ব্যবহৃত করে।
- শিল্প ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয় ধাতু বা যন্ত্রাংশের ত্রুটি নির্ণয়ে।
- এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণত 0.01 nm থেকে 10 nm পর্যন্ত।
- ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে এক্স-রে উচ্চ শক্তিধর এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
- শক্তি নির্ণয়ের সূত্র: E = hν = hc/λ.
- অর্থাৎ, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, শক্তি তত বেশি।
- এক্স-রে কোনো চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ নয়।

• অন্যান্য অপশন:
- এটি চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ: এক্স-রে কণাপুঞ্জ নয়, এটি তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ।
- এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি: এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে অনেক কম।
- এর শক্তি তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়: শক্তি ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিপরীতানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৯০৭.
কোন কারখানার সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মবিল 
  2. খ) হুইল 
  3. গ) ডিটারজেন্ট
  4. ঘ) শব্দোত্তর তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা
শব্দোত্তর তরঙ্গের ব্যবহার 
• সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ডুবো জাহাজ, হিমশৈল ইত্যাদির অবস্থান জানতে। 
• ধাতব পাত বা ধাতব খন্ডের মধ্যের সূক্ষ্ম ফাটল অনুসন্ধানে ।
• সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে।
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজে ৷
• সাধারণভাবে মিশে না এমন (যেমন পানি-পারদ বা পানি-তেল) তরলসমূহের মিশ্রণ তৈরিতে।
২,৯০৮.
বরফ কোন প্রক্রিয়ায় তাপ শোষণ করে পানিতে পরিণত হয় আবার সেই পানি থেকে সমপরিমাণ তাপ অপসারণ করে সমআয়তনের বরফে পরিণত হয়?
  1. প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  2. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  3. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  4. উভমুখী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রত্যাবর্তী ও অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া: 
- কোনো সিস্টেম যখন এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যায় বা পরিবর্তিত হয়, তখন অবস্থার এ পরিবর্তন দু'ভাবে সংঘটিত হতে পারে। 
যথা- 
১। প্রত্যাবর্তী বা উভমুখী প্রক্রিয়া (Reversible Process) এবং 
২। অপ্রত্যাবর্তী বা একমুখী প্রক্রিয়া (Irreversible Process) । 

প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া: 
- যে প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী হয়ে প্রত্যাবর্তন করে এবং সম্মুখবর্তী ও বিপরীতমুখী প্রক্রিয়ার প্রতি স্তরে তাপ ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয়, সে প্রক্রিয়াকে প্রত্যাবর্তী বা প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া বলে। 

উদাহরণ-১: বরফ তাপ শোষণ করে পানিতে পরিণত হয়। এখন যদি সেই পানি থেকে সমপরিমাণ তাপ অপসারণ করে সমআয়তনের বরফ পাওয়া যায়, তবে এটি প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ। 

উদাহরণ-২: স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে খুব ধীরে ধীরে কোনো স্প্রিংকে সম্প্রসারণ করতে প্রতি ধাপে স্প্রিং এর উপর যে পরিমাণ কাজ করা হবে, সংকোচনের সময় স্প্রিংটিও সেই একই পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করবে। 

উদাহরণ-৩: অল্প উপর থেকে একটি স্থিতিস্থাপক বলকে একটি স্থিতিস্থাপক ইস্পাত পাতের উপর ফেলা হলে বলটি যদি | প্রাথমিক উচ্চতা পর্যন্ত উপরে উঠে আসে তবে বোঝা যাবে যে, শক্তির কোনো অপচয় হয়নি। সুতরাং প্রক্রিয়াটি প্রত্যাবর্তী। 

অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া: 
- যে প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী হয়ে প্রত্যাবর্তন করতে পারে না অর্থাৎ সম্মুখবর্তী ও বিপরীতমুখী প্রতি স্তরে তাপ ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয় না তাকে অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া বলে। 
- প্রকৃতিতে যে সমস্ত পরিবর্তন বা রূপান্তর নিজ থেকেই ঘটে সেগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তন বলে। যেমন- তাপ সবসময়ই উচ্চতর তাপমাত্রা থেকে নিম্নতর তাপমাত্রার দিকে প্রবাহিত হবে, বস্তু সবসময়ই উঁচু থেকে নিচুতে পড়তে থাকে। 

উদাহরণ-১: দুটি বস্তুর মধ্যে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। কারণ ঘর্ষণের বিরুদ্ধে যে কাজ হয় তাই তাপে রূপান্তরিত হয় এবং এ উৎপাদিত তাপকে কোনো প্রকারেই কাজে রূপান্তরিত করা যায় না। 

উদাহরণ-২: তাপমাত্রার পার্থক্য আছে এমন দুটি বস্তুকে তাপীয় সংস্পর্শে রাখলে তাপ সবসময়ই অধিক তাপমাত্রার বস্তু হতে কম তাপমাত্রার বস্তুতে প্রবাহিত হবে। কিন্তু কখনোই কম তাপমাত্রার বস্ত্র হতে অধিক তাপমাত্রার বস্তুতে তাপ প্রবাহিত হবে না। সুতরাং এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উদাহরণ-৩: বৈদ্যুতিক রোধের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তাপের সৃষ্টি হয়। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯০৯.
পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. স্বর্ণ
  2. রূপা
  3. হীরা 
  4. তামা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ:
পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ হলো হীরক যা কার্বনের একটি রুপভেদ।
• অসংখ্য কার্বন পরমাণু পরস্পরের সাথে বন্ধনযুক্ত হয়ে এ অণু তৈরি করে।
• একটি হীরক খণ্ডকে টুকরো করতে হলে অনেকগুলো শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন ছিন্ন করতে হয় বলে হীরক অত্যন্ত কঠিন।
• ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো: লোহা (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au), কিংবা রূপা (Ag)।
• অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ।
• আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯১০.
শীতকালের তুলনায় বর্ষাকালে বাষ্পায়নের হার -
  1. কম
  2. বেশি
  3. একই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- শীত কালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম তথা শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে।
- এজন্যই শীতকালে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়। ভেজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
- বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা তথা  বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়। সেজন্য কাপড়ও শুকায় দেরীতে।

[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
২,৯১১.
দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা কোন মেরুকে আকর্ষণ করে?
  1. দক্ষিণ মেরু
  2. উত্তর মেরু
  3. পূর্ব মেরু 
  4. পশ্চিম মেরু
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। 
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়। 
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান। 
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে; এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। 
- কিন্তু একটি দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে, ফলে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২,৯১২.
তাৎক্ষণিক বেগ পেতে হলে-
  1. সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হতে হবে
  2. সময় ব্যবধান শূন্য হতে হবে
  3. সময় ব্যবধান এক হতে হবে
  4. সময় ব্যবধান অসীম হতে হবে
ব্যাখ্যা
বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ: 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- চোখের পাতা বন্ধ বা খুলতে যে সময় ব্যবধান হয় তাকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বা শূন্যের কাছাকাছি ধরা যেতে পারে। গাণিতিকভাবে At→0 দ্বারা সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি বুঝায়। 
অর্থাৎ, সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমবেগ: 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন- শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

মধ্যবেগ: 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

অসম বেগ: 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসমবেগ বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৩.
তাপ পরিমাপক যন্ত্র-
  1. হাইড্রোমিটার
  2. অ্যালটিমিটার
  3. ক্যালরিমিটার
  4. স্ফিগমেমোমিটার
ব্যাখ্যা
• তাপ:
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক।
- তাপের SI একক জুল (J)।
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো।
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল।
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র ক্যালরিমিটার।
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না।
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

• আরো কিছু পরিমাপক যন্ত্র:
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র - থার্মোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র - অ্যালটিমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম - সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - রিখটার স্কেল।
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্ৰ - ব্যারোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র -ট্যাকোমিটার।
- আটিয়াল ও রক্তের চাপ মাপক যন্ত্র - স্ফিগমেমোমিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৪.
বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র কোনটি? 
  1. ল্যাকটোমিটার
  2. স্পিডোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. থার্মোমিটার
ব্যাখ্যা
- বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র হলো 'ব্যারোমিটার'। 

ব্যারোমিটার: 
- টরেসিলি ১৬৪৩ সালে তরল তলের উচ্চতা ও বায়ুচাপের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রথম বায়ুমন্ডলীয় চাপ পরিমাপের যন্ত্র আবিস্কার করেন। এর নাম ব্যারোমিটার। 
- ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতাকে বায়ুমন্ডলীয় চাপের আদর্শ ধরা হয়। 
- আদর্শ বায়ু চাপ 76cm পারদ স্তম্ভের ওজনের সমান। 

থার্মোমিটার: 
- থার্মোমিটার হলো তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র। 

স্পিডোমিটার: 
- স্পিডোমিটার, একটি যন্ত্র যা একটি গাড়ির গতি নির্দেশ করে। 

ল্যাকটোমিটার: 
- ল্যাকটোমিটার হলো দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
২,৯১৫.
যদি একটি লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হয়, তাহলে লেন্সের ক্ষমতা কত? 
  1. ০.২ ডায়াপ্টর
  2. ২.০ ডায়াপ্টর
  3. ০.৫ ডায়াপ্টর
  4. ৪.০ ডায়াপ্টর
ব্যাখ্যা
লেন্সের ক্ষমতা: 
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল এক গুচ্ছ আলোকরশ্মিকে উত্তল লেন্স কেন্দ্রীভূত বা অভিসারী করে এক বিন্দুতে মিলিত করে। অপরদিকে অবতল লেন্স একগুচ্ছ সমান্তরাল রশ্মিকে অপসারী করে; ফলে ঐ রশ্মিগুচ্ছ কোনো একটি বিন্দু থেকে অপসারিত হচ্ছে বা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। 
- আলোকরশ্মিকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াটি পরিমাপ করার জন্য লেন্সের "ক্ষমতা” ব্যবহার করা হয়। 
• ১-কে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব (মিটারে প্রকাশ করে) দিয়ে ভাগ করা হলে লেন্সের ক্ষমতা পাওয়া যায়, যার একক হল ডায়াপ্টর। 
অর্থাৎ, একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হলে তার ক্ষমতা হবে ১/২ ডায়াপ্টর = ০.৫ ডায়াপ্টর। 
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুই-ই হতে পারে। 
- কোনো লেন্সের ক্ষমতা +1D বলতে বোঝায়, লেন্সটি উত্তল এবং এটি প্রধান অক্ষের ১ মিটার দূরে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে মিলিত করবে। 
- একইভাবে লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলো কোনো লেন্স থেকে ১/২ মিটার বা ৫০ সেমি দূরের কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯১৬.
চাঁদে এক বস্তুর ওজন ৬ কেজি, পৃথিবীতে ঐ বস্তুটির ওজন কত?
  1. ক) ১ কেজি
  2. খ) ৬ কেজি
  3. গ) ২৪ কেজি
  4. ঘ) ৩৬ কেজি
ব্যাখ্যা
• বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভর করে। 
• চাঁদের অভিকর্ষজনিত ত্বরণের মান প্রায় পৃথিবীর ১/৬ ভাগ।
• সুতরাং চাঁদে ৬ নিউটন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে হবে ৩৬ নিউটন (N)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
২,৯১৭.
বায়ুর সাপেক্ষে কেরোসিনের প্রতিসরণাঙ্ক কত?
  1. 1.30
  2. 1.44
  3. 1.33
  4. 2.41
ব্যাখ্যা
পরম প্রতিসরণাঙ্ক: 
- শূন্য মাধ্যমের সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক। 
অর্থাৎ, আলোক রশ্মি যখন শূন্য মাধ্যম থেকে অন্য কোনো মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন শূন্য মাধ্যমের আপতন কোণের সাইন ও সেই মাধ্যমের প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক বিবেচনা করা হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন শূন্য মাধ্যম থেকে কোনো বস্তু মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক বলে। 
গাণিতিকভাবে শূন্য মাধ্যমে আপতন কোণ i এবং অন্য কোন মাধ্যম 'a' তে প্রতিসরণ কোণ r হলে, 'a' মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক μa প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- সাধারণত বায়ু মাধ্যমের সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ককে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক হিসাবে ধরা হয়। 
- কাঁচের পরম প্রতিসরণাঙ্ক 1.5 বলতে বুঝায় যে শূন্য মাধ্যম বা বায়ু মাধ্যম থেকে আলোক রশ্মি তীর্যকভাবে কাঁচের মধ্যে প্রবেশ করলে আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইন-এর অনুপাত 1.5 হয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯১৮.
আলোর ব্যাপারে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) কোনো তথ্যই ভুল নয়
  2. খ) আলো এক ধরনের তরঙ্গ
  3. গ) আলো এক ধরনের কণা
  4. ঘ) আলো এক ধরনের তাড়িত চৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
আলো একধরনের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। তরঙ্গতত্ত্ব অনুসারে আলো তরঙ্গ এবং কণাতত্ত্ব অনুসারে আলো কণা দিয়ে গঠিত৷ আসলে আলো তরঙ্গ এবং কণা দুই ধরণের বৈশিষ্ট্যই প্রদর্শন করে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই এবং ব্রিটানিকা
২,৯১৯.
যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number):
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২০.
শক্তির একক নয় কোনটি?
  1. আর্গ
  2. ক্যালরি
  3. ইলেকট্রন ভোল্ট
  4. ডাইন
ব্যাখ্যা
- আর্গ, ক্যালরি এবং ইলেকট্রন ভোল্ট হলো শক্তির বিভিন্ন পুরাতন একক।
- জুল হলো শক্তির আন্তর্জাতিক একক। 
- ডাইন হলো বলের পুরাতন একক।
- বলের আন্তর্জাতিক একক হলো নিউটন। 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,৯২১.
পৃথিবী পৃষ্ঠের অক্ষাংশ মানের সাথে অভিকর্ষজ ত্বরণের সম্পর্ক কী?
  1. অক্ষাংশ মান বাড়লে g-এর মান বাড়ে
  2. অক্ষাংশ মান কমলে g-এর মান কমে
  3. অক্ষাংশ মান বাড়লে g-এর মান কমে
  4. অক্ষাংশ মানের সাথে g-এর কোন সম্পর্ক নাই
ব্যাখ্যা
⇒ অক্ষাংশ মান বাড়লে g-এর মান কমে।

অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g-এর মান তত বাড়তে থাকে।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২২.
লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হলে প্রতিবিম্বটি হবে- 
  1. সমান
  2. খর্বিত
  3. বিবর্ধিত
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৩.
উচ্চ পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে; কারণ উচ্চ পর্বত চূড়ায়-
  1. অক্সিজেন কম
  2. ঠাণ্ডা বেশি
  3. বায়ুর চাপ বেশি
  4. বায়ুর চাপ কম
ব্যাখ্যা
- উঁচু পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে। 
কারণ- 
বায়ুর চাপ কম
• শুষ্ক বায়ু এবং 
• অক্সিজেন স্বল্পতা ইত্যাদি কারণে রক্তনালিতে চাপ পড়ে, ফলে রক্তপাত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৯২৪.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি? 
  1. শূন্য 
  2. কঠিন 
  3. তরল 
  4. বায়বীয় 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
যেমন- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯২৫.
সময়ে সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগ হ্রাসের হারকে কী বলে? 
  1. দ্রুতি
  2. মন্দন
  3. সরণ
  4. বেগ
ব্যাখ্যা
মন্দন: 
- সময়ে সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। 
- অন্য ভাবে একক সময়ে গতিশীল বস্তুকণার বেগের পরিবর্তন কমতে থাকলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে মন্দন বলে। 
- মন্দনের একক ও মাত্রা ত্বরণের অনুরূপ। 

ত্বরণ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। 
- ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো বস্তুর ত্বরণ জানতে হলে বস্তুটির বেগের পরিবর্তনের হার এবং উক্ত পরিবর্তনের দিক উভয়ই জানতে হয়। 

দ্রুতি: 
- কোনো বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে বা দূরত্বের হারকে দ্রুতি বলে। 
- এটি একটি স্কেলার রাশি। 
- বেগের মান দ্বারা দ্রুতি পরিমাপ করা হয়। 

সরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট দিকে সরল পথে কোনো বস্তু যে দূরত্ব বা পথ অতিক্রম করে তাকে সরণ বলে। 
- সরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো গতিশীল বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন একটি  নির্দিষ্ট দিকে হলে সরণ ঘটে। 

বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৬.
পানির বিভব শক্তি নিচে নামার সময় কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. গতি শক্তি
  2. তাপ শক্তি
  3. শব্দ শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
- এক রূপের শক্তিকে রুপান্তর করে অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৭.
বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস কী জন্য বিখ্যাত?
  1. প্লবতা সূত্র আবিষ্কারের জন্য
  2. ত্রিকোণমিতির ভিত প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. পড়ন্ত বস্তুর সূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য
  4. গতির সূত্রাবলী আবিষ্কারের জন্য
ব্যাখ্যা
• প্লবতার সূত্র এবং আর্কিমিডিসের নীতি পানির ভিতরে কোনো বস্তুর বৈশিষ্ট্য এবং তরল পদার্থের সাথে তার সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে উভয়ের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

প্লবতার সূত্র:
- প্লবতার সূত্রটি আর্কিমিডিসের সূত্র নামেও পরিচিত।
- বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস - প্লবতা সূত্র আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
- এটি মূলত হল:
"যে কোনো বস্তু যখন কোনো তরলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিমজ্জিত থাকে, তখন সেই বস্তুটি তরলের দ্বারা একটি ঊর্ধ্বমুখী বল অনুভব করে, যার মান বস্তু দ্বারা স্থানচ্যুত তরলের ওজনের সমান।"
- প্লবতা = শূন্যস্থানে বস্তুর ওজন − তরলে নিমজ্জিত বস্তুর ওজন

আর্কিমিডিসের নীতি:
- আর্কিমিডিসের নীতি হচ্ছে প্লবতার সূত্রের মূল ধারণা এবং এটি প্রাচীন গ্রিক গণিতজ্ঞ আর্কিমিডিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর্কিমিডিসের নীতির মূল বক্তব্য হলো:
- "যে কোনো বস্তুকে একটি তরলে নিমজ্জিত করলে, তার উপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল কাজ করে যা সেই বস্তু দ্বারা তরলে স্থানচ্যুত তরলের ওজনের সমান।"
- এই নীতি বস্তুর ভাসমানতা এবং তরলে বস্তু কতটা ডুববে তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। এটি জাহাজ নির্মাণ, পণ্যের ভাসমানতা এবং বিভিন্ন পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদাহরণ:
- জাহাজ: একটি জাহাজ সমুদ্রের পানিতে ভাসছে কারণ এটি এত বড় যে এটি অনেক পানি স্থানচ্যুত করে এবং তারপরে প্লবতার সূত্রের মাধ্যমে একটি বড় উর্ধ্বমুখী বল অনুভব করে।
- গ্লাসে পানির তলায় নিমজ্জিত বস্তু: যদি একটি বস্তুকে পানিতে নিমজ্জিত করা হয়, এটি একটি ঊর্ধ্বমুখী বল অনুভব করবে যা পানির দ্বারা স্থানচ্যুত পানি ওজনের সমান।

- প্লবতার সূত্র এবং আর্কিমিডিসের নীতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ রয়েছে।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯২৮.
স্থির তরঙ্গের নিস্পন্দ বিন্দুতে কণার বেগ কত ?
  1. ক) শূন্য
  2. খ) সর্বনিম্ন কিন্তু শূন্য নয়
  3. গ) সর্বাধিক
  4. ঘ) কোনােটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) : স্থির তরঙ্গের উপরস্থ যে সকল বিন্দুতে কণার স্পন্দনের বিস্তার সর্বাধিক হয় অর্থাৎ কণার সরণ সর্বোচ্চ হয় সেই সকল বিন্দুকে সুস্পন্দ বিন্দু বলে।
নিস্পন্দ বিন্দু (Node) : স্থির তরঙ্গর উপরস্থ যে সকল বিন্দুতে কণার কোনাে বিস্তার নেই অর্থাৎ কণার সরণ শূন্য হয় সেই সকল বিন্দুকে নিস্পন্দ বিন্দু বলে।
নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুর অবস্থানগুলাে স্থির। পর পর দুটি সুস্পন্দ বা দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

২,৯২৯.
পদার্থ কোন তাপমাত্রায় চুম্বকত্ব হারায় ?
  1. পরম শূন্য তাপমাত্রায়
  2. কক্ষ তাপমাত্রায়
  3. কুরি তাপমাত্রায়
  4. স্ফুটনাংকে
ব্যাখ্যা
• চুম্বকত্ব (Magnetism):
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম।
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে তাপ প্রয়োগে পদার্থের চুম্বকত্ব নষ্ট হয়ে যায়। 

• কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু (Curie temperature or Curie point):
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। এই তাপমাত্রার পর পদার্থের আর কোন চুম্বকত্ব থাকে না।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩০.
বাষ্পায়ন কোন বিষয়টির উপর নির্ভর করে না?
  1. তরলের প্রকৃতি
  2. পদার্থের ঘনত্ব
  3. তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা
  4. তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফুর্ত ঘটনা। এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। 
যেমন - 

১। তরলের প্রকৃতি: 
- বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। 
- সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। 
- উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 

২। বায়ু প্রবাহ: 
- তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 

৩। তরলের উপর চাপ: 
- তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। 
- চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। 
- শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 

৪। তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: 
- বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। 
- তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 

৫। তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 

৬। তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: 
- বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩১.
বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রির জন্য কোন ধাতুর তার ব্যবহৃত হয়?
  1. প্লাটিনাম
  2. নাইক্রোম
  3. টাংস্টেন
  4. স্টেনিয়াম
ব্যাখ্যা

• বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রির জন্য নাইক্রোম ধাতুর তার ব্যবহৃত হয়। নাইক্রোম হলো নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু, যার বৈদ্যুতিক রোধ খুব বেশি। বেশি রোধের কারণে এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা হিটার ও ইস্ত্রির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া নাইক্রোম উচ্চ তাপমাত্রায় সহজে গলে না এবং বাতাসে জারিত হয়ে নষ্ট হয় না, ফলে এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। প্লাটিনাম ও টাংস্টেন দামি এবং অন্য কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়, আর স্টেনিয়াম তাপ উৎপাদনে উপযুক্ত নয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো খ) নাইক্রোম।


নাইক্রোম তার: 
- বৈদ্যুতিক হিটার এবং ইস্ত্রিসহ আরো অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রে নাইক্রোমের তার ব্যবহার করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক হিটারের মধ্যে অপরিবাহী পদার্থের একটি গোল চাকতি থাকে। 
- চাকতিতে নাইক্রোম তারের কুণ্ডলী সাজিয়ে রাখা হয়। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তারটি গরম হয় এবং উত্তপ্ত হয়ে তাপ বিকিরণ করে। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির নাইক্রোম তারটি ইস্ত্রির নিচের মসৃণ লৌহ নির্মিত তলটিকে উত্তপ্ত করে। 
- এক্ষেত্রে তাপ উৎপাদন বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। 
- প্রবাহ বেশি হলে ইস্ত্রি বেশি উত্তপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৩২.
এন্ডোসকপি (Endoscopy) -তে প্রয়োগ করা হয়-
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  3. বৈদ্যুতিক তরঙ্গের নিঃসরণ
  4. আলোর আংশিক প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা

এন্ডোসকপি (Endoscopy):
- মানুষের উপর কোনো অস্ত্রোপাচার না করে তার শরীরের ভেতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দেখার কাজে এন্ডোস্কপি করা হয়।
- এন্ডোসকপি যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা শরীরের ফাঁকা অঙ্গসমূহের অভ্যন্তরভাগ পরীক্ষা করে থাকি।
- এন্ডোসকপি সাধারণত তখনই ব্যবহার করা হয় যখন শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা এক্সরে বা সিটি স্ক্যান করে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
- এন্ডোসকপির মাধ্যমে চিকিৎসকগন শরীরের অভ্যন্তরে বিশেষ করে পাকস্থলীতে যে কোনো ধরনের অস্বস্থিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন।
- পেটে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রনালী, স্ত্রী প্রজননতন্ত্র প্রভৃতির সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এন্ডোসকপি ব্যবহার নির্ধারণ করেন। এছাড়া পেটের আলসার নির্ণয়ে এন্ডোসকপি করা হয়।
- এন্ডোসকপি যন্ত্র সাধারণত একটি বাঁকানো টেলিস্কোপ। এই যন্ত্রের দুটি নল থাকে, এদের একটির মধ্যদিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়।
- আলোক তন্ত্রর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহব্বরে প্রবেশ করে।
- এই আলো ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে।
- প্রতিফলিত আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে।
- ফলে চিকিৎসক পরীক্ষণীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে-তা দেখতে পারে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৩৩.
স্যাটেলাইট ডিস এন্টেনায় কোন ধরনের দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অবতল দর্পণ
  2. খ) উত্তল দর্পণ
  3. গ) সমতল দর্পণ
  4. ঘ) উত্তল ও অবতল দর্পণ
ব্যাখ্যা

অবতল দর্পণের প্রতিফলক তল নিচু। এটি আলোক রশ্মিকে বাস্তবে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করতে পারে, ফলে এটি সদ ও অসদ উভয় প্রকারের বিম্ব গঠন করতে পারে। এজন্য এর ব্যবহার ব্যাপক। 

স্যাটেলাইট ডিস এন্টিনায় অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়। কমিউনিকেশন স্যাটেলইটের মাধ্যমে প্রেরক এন্টিনাসমূহ তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গকে মহাশূন্যে ছড়িয়ে দেয়। যেহেতু পৃথিবী থেকে স্যাটেলাইটগুলোর দূরত্ব অনেক বেশি তাই পৃথিবীতে আসা দুর্বল তরঙ্গগুলো প্রায় সমান্তরালভাবে অবতল তলে আপতিত হয় এবং প্রতিফলনের নিয়মে ফোকাসে মিলিত হয়। আগত দুর্বল তরঙ্গ একটি ফোকাসে মিলিত হওয়ায় বেশ জোরাল হয়। অতপর এটি বর্ধিত করে গ্রাহক যন্ত্রে প্রেরিত হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৯৩৪.
AC প্রবাহ কে DC প্রবাহে রূপান্তর করতে কোন ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) জেনারেটর
  2. খ) ডায়োড
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
• AC প্রবাহ কে DC প্রবাহে রূপান্তর করতে ডায়োড ব্যবহার করা হয়।

• ডায়োড: ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৩৫.
বৈদ্যুতিক ফিউজে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. তামা ও সীসা
  2. সীসা ও টিন
  3. সীসা ও ব্রোঞ্জ
  4. লোহা ও তামা
ব্যাখ্যা
• বৈদ্যুতিক ফিউজ: 
- কোনো বৈদ্যুতিক বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহকালে সরবরাহ লাইন থেকে যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে অগ্নিকান্ড ঘটাতে না পারে বা গৃহে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে না পারে সে জন্য বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ফিউজ ব্যবহৃত হয়। 
- বৈদ্যুতিক ফিউজ সাধারণত সীসা ও টিন (সীসা ৭৫% এবং টিন ২৫%) এর সংকরের উপযুক্ত ব্যাসের এক টুকরা সরু তার। 
- এর গলনাংক প্রায় ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 
- এরূপ এক খন্ড তার চীনা মাটির বাক্সে বাড়ির বৈদ্যুতিক বর্তনীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের সাথে আটকানো থাকে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩৬.
শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়ামে বাষ্পায়ন কেমন হয়? 
  1. খুব ধীরে 
  2. স্থির থাকে 
  3. বাতাসের মতো 
  4. সবচেয়ে বেশি 
ব্যাখ্যা

বাষ্পায়নের নির্ভরশীলতা: 
- বর্ষাকালের বৃষ্টিভেজা দিনগুলোতে ভেজা কাপড় কিছুতেই শুকাতে চায় না। আবার শীতকালে ঘরের ভেতর ছায়াতেও কাপড় ধুয়ে শুকাতে দিলে দ্রুত শুকিয়ে যায়। 
- ভেজা কাপড় শুকানোর বিষয়টি পানির বাষ্পায়ন ছাড়া আর কিছুই না, কাজেই পানির বাষ্পায়ন বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
- একটা তরলের বাষ্পায়ন কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে তা নিম্নে দেওয়া হলো- 
১। বাতাসের প্রবাহ: বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 
২। তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল: তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। 
৩। তরলের প্রকৃতি: তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন বেশি। উদ্বায়ী তরলের বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি। 
৪। বাতাসের চাপ: বাতাসের চাপ যত কম হবে বাষ্পায়নের হার তত বেশি। শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি, তাই খাদ্য সংরক্ষণের জন্য খাবারকে শুকাতে পাম্প দিয়ে বাতাস বের করে নেওয়া হয়। 
৫। উষ্ণতা: তরল এবং তরলের কাছাকাছি বাতাসের উষ্ণতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 
৬। বায়ুর শুষ্কতা: বাতাস যত শুষ্ক হবে তরল তত তাড়াতাড়ি বাষ্পায়ন হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৩৭.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের মাধ্যমে কোন বিকিরণ ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. রেডিও তরঙ্গ
  2. আলোর প্রতিফলন
  3. কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৩৮.
কোন পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 150 V এবং তড়িৎ প্রবাহ 15 A হলে এর রোধ কত?
  1. ক) 0.1Ω
  2. খ) 2250Ω
  3. গ) 10Ω
  4. ঘ) 100Ω
ব্যাখ্যা

দেওয়া আছে,
বিভব পার্থক্য, V = 150 V
তড়িৎ প্রবাহ, I = 15 A
এবং রোধ, R = ?
আমরা জানি,
I = V/R
বা, R = V/I
বা, R = 150/15
= 10Ω

২,৯৩৯.
তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো দূরত্বে রেডিও সংকেত প্রেরণ করার কাজটি কে করেছেন? 
  1. গ্রাহাম বেল 
  2. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল 
  3. জি. মার্কনী 
  4. জন বেয়ার্ড 
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 

- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৪০.
Bolts মূলত বহন করে-
  1. ক) Shear
  2. খ) Bending
  3. গ) Axial tension
  4. ঘ) Shear and banding
ব্যাখ্যা
bolts: 
- বোল্ট/নাট সমাবেশগুলি সাধারণত মেশিন এবং কাঠামোতে ব্যবহার করা হয় যাতে সহজে সমাবেশ এবং বিচ্ছিন্নকরণ সক্ষম হয়।
- বল্টু/নাট অ্যাসেম্বলিতে পুনরাবৃত্ত বাহ্যিক লোডিংয়ের কারণে এই জাতীয় সমাবেশগুলির অক্ষীয় শক্তি হ্রাস পায়।
- বোল্ট সাধারনত সকল ধরনের অক্ষীয় টান বা লোড ধারন করে। একটি নির্দিষ্ট লোড এর বেশি ধারন করতে পারে না তখন সমন্বয় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

উৎস: sciencedirect.
২,৯৪১.
হাউজ ওয়্যারিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কালো রংয়ের তারটি-
  1. জীবন্ত
  2. নিরপেক্ষ
  3. ধনাত্মক আধানযুক্ত
  4. ঋণাত্মক আধানযুক্ত
ব্যাখ্যা
The International Electrotechnical Commission (IEC) অনুসারে, 
- Live Wire : কালো, লাল অথবা অনু যে কোন রংয়ের হতে পারে (সাদা, ধূসর এবং সবুজ বাদে) 
- Neutral Wire: সাদা বা ধূসর রংয়ের হতে পারে
- Earth/Ground Wire: সবুজ 

অতএব, সঠিক উত্তর হবে 'ক' । 

উৎস: IEC এর ওয়েবসাইট।
২,৯৪২.
কোনো যন্ত্রের কর্মদক্ষতা ৭৫% বলতে কী বোঝায়?
  1. ৭৫ একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়
  2. ৭৫ একক শক্তি অপচয় হয়
  3. ৩৫ একক শক্তি অপচয় হয়
  4. ২৫ একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা ৭৫% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে ১০০ একক শক্তি সরবরাহ করলে তার ৭৫ একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী ২৫ একক শক্তি অপচয় হয়।

• কর্মদক্ষতা:
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়।
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত।
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়।
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা ৭৫% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে ১০০ একক শক্তি সরবরাহ করলে তার ৭৫ একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী ২৫ একক শক্তি অপচয় হয়।
-  কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/মোট প্রদত্ত শক্তি। 
- আবার, কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৪৩.
প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১১৮
  2. খ) ৯৮
  3. গ) ৯২
  4. ঘ) ২০
ব্যাখ্যা

প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন মৌলিক পদার্থের সংখ্যা- ৯৮টি। তবে, এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ১১৮টি এবং কৃত্রিমভাবে আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ২০টি।
যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি অর্থাৎ যে সব পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করলে ওই পদার্থ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায়না তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

২,৯৪৪.
অনবায়নযোগ্য শক্তি নয় কোনটি? 
  1. বায়োগ্যাস 
  2. খনিজ তেল 
  3. কয়লা 
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস 
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা-
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- সৌর শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি।

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৪৫.
শক্তির উৎস প্রধানত কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস:

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে খনিজ তেল, গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৬.
1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে কত তাপ প্রয়োজন?
  1. 1 জুল 
  2. 4.2 ক্যালরি 
  3. 1 ক্যালরি 
  4. 0.1 ক্যালরি 
ব্যাখ্যা

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৪৭.
ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বাতাস বেরিয়ে যাবার সঙ্গে বেলুনটি ছুটে যায়। কোন ইঞ্জিনের নীতির সঙ্গে এর মিল আছে?
  1. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  2. অন্তর্দহন ইঞ্জিন
  3. স্টারলিং ইঞ্জিন
  4. রকেট ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা

• ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বাতাস বেরিয়ে যাবার সঙ্গে বেলুনটি ছুটে যায়। রকেট ইঞ্জিনের নীতির সঙ্গে এর মিল আছে।

- ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বেলুনটি ছুটে যায় এবং এই প্রক্রিয়াটি নিউটনের তৃতীয় সুত্রের (Newton's Third Law of Motion) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- নিউটনের তৃতীয় সুত্রটি হলো: "প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।"
- বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বেলুনের ভিতরের বাতাস উচ্চচাপে বাইরে বেরিয়ে আসে, যা বেলুনের উপর বিপরীত দিকের বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া হিসাবে বেলুনটি বিপরীত দিকে ছুটে যায়।
- এই ধারণাটি রকেট ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালীতে ব্যবহৃত হয়।
- রকেট ইঞ্জিনে জ্বালানী পুড়িয়ে উচ্চচাপের গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে এবং এর ফলে রকেটটি বিপরীত দিকে ধাবিত হয়।

উৎস: ScienceDirect & Britannica Website

২,৯৪৮.
পেপটিক আলসার নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি কোনটি?
  1. ইসিজি
  2. এমআরআই
  3. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  4. এন্ডোসকপি 
ব্যাখ্যা

- পেপটিক আলসার নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো এন্ডোস্কোপি, কারণ এটি সরাসরি খাদ্যনালী, পাকস্থলী ও ডিওডেনামের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এবং বায়োপসি নিতে সাহায্য করে, যা আলসারের সঠিক কারণ ও ধরন (যেমন H. pylori সংক্রমণ) শনাক্ত করতে সবচেয়ে কার্যকর। যদিও আল্ট্রাসাউন্ড বা এক্স-রে সহায়ক হতে পারে, এন্ডোস্কোপিই "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য" পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। 

গ্যাস্ট্রিক ও পেপটিক আলসার: 
- আলসার বলতে যেকোনো এপিথেলিয়াম বা আবরণী টিস্যুর একধরনের ক্ষত বোঝায়। 
- পেপটিক আলসার বলতে খাদ্যনালির কোনো অংশের আলসার বোঝায়, সেটি যদি পাকস্থলীতে হয় তাহলে তাকে গ্যাস্ট্রিক আলসার, ডিওডেনামে হলে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়। 
- দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যগ্রহণে অনিয়ম হলে পাকস্থলীতে অম্লের আধিক্য ঘটে এবং অনেক দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে এই অম্ল বা এসিড দিয়ে পাকস্থলী বা অন্ত্রে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে পেপটিক আলসার হতে পারে। 
- তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবিন ওয়ারেন ও ব্যারি মার্শালের গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, বিষণ্ণতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এজন্য তাঁরা ২০০৫ সালে যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।  
- আগে ভাবা হতো পাকস্থলীর তীব্র হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে (pH 1.5-3.5) কোনো ব্যাকটেরিয়া টিকতে পারে না। নিজের ধারণা প্রমাণ করার জন্য ব্যারি মার্শাল H. pylori ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত দ্রবণ পান করে পেপটিক আলসারে ভুগেছিলেন। 
(উল্লেখ্য, এই ব্যাকটেরিয়া যে শুধু আলসারের জন্য দায়ী তাই নয়, এ থেকে পাকস্থলীর ক্যান্সারও হতে পারে। মার্শাল তাঁর নিজের জীবনের উপর মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েছিলেন, যা অনুসরণীয় নয়)। 

- পেপটিক আলসার রোগে সাধারণত পেটের ঠিক মাঝ বরাবর, নাভির একটু উপরে একঘেয়ে ব্যথা অনুভূত হয়। খালি পেটে বা অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাদ্য খেলে ব্যথা বাড়ে। আলসার মারাত্মক হলে বমি হতে পারে, কখনো কখনো বমি এবং মলের সাথে রক্ত নির্গত হয়। 
- এন্ডোসকপি (Endoscopy) বা বেরিয়াম এক্স-রের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- এই রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে যা করতে হবে তা হলো- 
• নিয়মিত সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ করা। 
• অধিক তেল এবং মশলাযুক্ত গুরুপাক খাদ্য পরিহার করা। 
• ফুটানো দুধ, পনির এবং কলা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। 
• নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করে, কফি, সিগারেট ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে ইত্যাদি। 
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৪৯.
কোন বিজ্ঞানী প্রথম কাজ এবং তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন?
  1. জুল
  2. ফ্যারাডে
  3. নিউটন
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

- বিজ্ঞানী জুল প্রথম যান্ত্রিক কাজ এবং তাপের মধ্যে একটি সঠিক ও গাণিতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, যান্ত্রিক শক্তি ও তাপ পরস্পর রূপান্তরযোগ্য এবং তারা পরস্পরের সমানুপাতিক ( W ∝ H)। তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কারই পরবর্তীতে তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রের ভিত্তি স্থাপন করে। 

তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 

- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H. 
বা, W = JH 
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। 
- J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন। এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৫০.
এক হর্স পাওয়ার (H.P) কত ওয়াটের সমান?
  1. 746 W
  2. 764 W
  3. 646 W
  4. 664 W
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতার একটি প্রচলিত একক হলো হর্স পাওয়ার (HP), যা সাধারণত ইঞ্জিন বা মোটরের ক্ষমতা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। এক হর্স পাওয়ার সমান ৭৪৬ ওয়াট। 

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৫১.
The upper limit of the human hearing range is approximately:
  1. 26 kHz
  2. 15 kHz
  3. 14 kHz
  4. 23 kHz
  5. 20 kHz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা:
- মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ হয়ে থাকে।
- এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে।
- কম্পাঙ্কের যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ মানুষ শুনতে পায় তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
- যে শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না তাকে অশ্রাব্য শব্দ বলে। অশ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের কম এবং ২০,০০০ হার্জের বেশি হয়। এ শব্দ কুকুর, বাদুড়, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণী শুনতে পায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৯৫২.
কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় আলোর-
  1. ক) বর্ণালী
  2. খ) বিক্ষেপন
  3. গ) বিচ্যুতি
  4. ঘ) বিচ্ছুরণ
ব্যাখ্যা

- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশিষ্ট হয়।
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে।
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৯৫৩.
দীর্ঘ দৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়ার কারণ কী?
  1. ক) চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ কমে যাওয়া
  2. খ) চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে যাওয়া
  3. গ) চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে যাওয়া
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
দীর্ঘ দৃষ্টি বা দূর বদ্ধ দৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়াঃ
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে, কিন্তু কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না। চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকট দূরত্ব দূরে সরে যায় বা বেড়ে যায়। চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ কমে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়। এই ত্রুটির ফলে চোখের কাছের লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিগুচ্ছ চক্ষু লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসৃত হয়ে রেটিনার পেছনে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়, ফলে রেটিনার পরিবর্তে পেছনে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। ফলে রেটিনায় গঠিত বিম্বটি অস্পষ্ট হয়। তাই চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় না। এই ত্রুটি দূর করার জন্যও চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যর বা পাওয়ারের উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয়। উত্তল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো সংকুচিত করে, ফলে ফোকাসটি রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়। এক্ষেত্রে লেন্স চোখের নিকট বিন্দুটি সামনেএগিয়ে আনে।
২,৯৫৪.
ব্যারোমিটার মূলত কোন বৈজ্ঞানিক মাত্রা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়? 
  1. বায়ুচাপ
  2. আর্দ্রতা
  3. তাপমাত্রা 
  4. বাতাসের গতি 
ব্যাখ্যা

ব্যারোমিটার: 
- টরেসিলি ১৬৪৩ সালে তরল তলের উচ্চতা ও বায়ুচাপের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রথম বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপের যন্ত্র আবিস্কার করেন, এর নাম ব্যারোমিটার
- ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতাকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপের আদর্শ ধরা হয়। 
- আদর্শ বায়ু চাপ 76cm পারদ স্তম্ভের ওজনের সমান। 

​অন্যদিকে, 
- ল্যাকটোমিটার হলো দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
- থার্মোমিটার (Thermometer) হল তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র।
- স্পিডোমিটার, একটি যন্ত্র যা একটি গাড়ির গতি নির্দেশ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

২,৯৫৫.
F = ma সূত্রের জন্য, F এর মাত্রা কোনটি?
  1. MLT-2
  2. ML2T-3
  3. ML2T-1
  4. ML2T2
ব্যাখ্যা
• F = ma সূত্রের জন্য, F (বল) এর মাত্রা  MLT-2

• মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

- কাজের মাত্রা ML2T-2.
- শক্তির মাত্রা ML2T-2.
- টর্কের মাত্রা ML2T-2.
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৬.
P-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরিতে কয়টি যোজন ইলেকট্রন প্রয়োজন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

- যে সব মৌলের (যেমন- অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম বা ইনডিয়াম) তিনটি যোজন ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম P-টাইপ বস্তুতে বা P-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়।
- যে সকল মৌলের (যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক বা অ্যান্টিমনি) বহির্খোলকে পাঁচটি ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম n-টাইপ বস্তুতে বা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।

২,৯৫৭.
তাপমাত্রার এস. আই একক কী?
  1. জুল
  2. সেলসিয়াস
  3. কেলভিন
  4. ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 

উষ্ণতা বা তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রার S.I একক কেলভিন। 
- তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট একক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯৫৮.
কৌণিক গতির জন্য নিউটন কতটি সূত্র প্রদান করেছেন?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
- কৌণিক গতির ক্ষেত্রেও নিউটনের  তিনটি সূত্র আছে।
নিম্নে সূত্রগুলো বর্ণনা করা হলো:

প্রথম সূত্র:
- বস্তুর ওপর বাহ্যিক টর্ক ক্রিয়া না করলে, স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং ঘূর্ণনরত বস্তু সমকৌণিক বেগে ঘুরতে থাকবে।

দ্বিতীয় সূত্র:
- ঘূর্ণনরত বস্তুর কৌণিক ভরবেগের পরিবর্তনের হার ঐ বস্তুর ওপর প্রকুক্ত টর্কের সমানুপাতিক এবং কৌণিক ভরবেগের এই পরিবর্তন প্রযুক্ত টর্কের দিকেই ঘটে।

তৃতীয় সূত্র:
- ঘূর্ণনরত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রত্যেক ক্রিয়ামূলক টর্কের একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ামূলক টর্ক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৯.
অচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চুম্বক আকর্ষণ করে কিন্তু চুম্বকে পরিণত হয় না
  2. চুম্বক আকর্ষণ করে না কিন্তু চুম্বকে পরিণত হতে পারে
  3. চুম্বক আকর্ষণ করে এবং চুম্বকে পরিণত হতে পারে
  4. চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং চুম্বকে পরিণত করা যায় না
ব্যাখ্যা

- অচৌম্বক পদার্থ বলতে সেই সকল পদার্থকে বোঝায় যাদের চুম্বক দ্বারা আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করা যায় না, যেহেতু এসব পদার্থের মধ্যে কোনো চৌম্বক প্রবেশ্যতা নেই, তাই এদের সাধারণ উপায়ে চুম্বকেও পরিণত করা সম্ভব নয়। 

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদের চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
- উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদের অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
- উদাহরণ: অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, সোনা, রূপা, তামা, পিতল, দস্তা ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৬০.
সমন্বিত বর্তনী তৈরিতে কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়? 
  1. মাইক্রো প্রযুক্তি
  2. রেডিও ওয়েভ
  3. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক
  4. নিউক্লিয়ার ফিউশন
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি (IC): 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়। এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬১.
তড়িৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয়কে বলে -
  1. ক) লোড শেডিং
  2. খ) সিস্টেম লস
  3. গ) পরিবহন ত্রুটি
  4. ঘ) অবৈধ সংযোগ 
ব্যাখ্যা
সিস্টেম লস
বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপন্ন বিদ্যুৎ শক্তি পরিবাহী তারের সাহায্যে প্রথমে সাব-স্টেশনে এবং সেখান থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য যে পরিবাহী তার ব্যবহার করা হয় এরও কিছু পরিমাণ রোধ আছে। ফলে কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি তাপে রূপান্তরিত হয়। এ কারণে গ্রাহক পর্যায়ে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ শক্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তি অপেক্ষা কম হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ শক্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তি অপেক্ষা কম হয়।

অর্থাৎ বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সময় পরিবাহী তারে যে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তাকে সিস্টেম লস বলে।

SOURCE:এস  এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৯৬২.
গামা রশ্মির উৎস কোনটি?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. পরমাণুর নিউক্লিয়াস
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা

• গামা রশ্মি উৎপন্ন হয় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের (Atomic Nucleus) ভিতরে।

- যখন কোনো নিউক্লিয়াস তেজস্ক্রিয় (radioactive) হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন এটি তার অতিরিক্ত শক্তি নির্গত করে গামা রশ্মির আকারে।
- এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Gamma Decay বা গামা ক্ষয়।
- গামা রশ্মি হলো তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের (Electromagnetic Wave) একটি অত্যন্ত উচ্চ-শক্তির রূপ, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুবই ক্ষুদ্র 10-12 মিটার।
- এটি দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কোটি গুণ বেশি শক্তিধর।

গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
- কোনো ভর বা চার্জ নেই।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র, ফলে অনুপ্রবেশ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
- বায়ু, কাগজ বা মানুষের ত্বক ভেদ করতে সক্ষম।
- সীসা (lead) বা কংক্রিটের মোটা স্তর দ্বারা শোষিত বা প্রতিরোধ করা যায়।
- এর বেগ আলোর সমান (3 × 108 m/s)।

গামা রশ্মির ব্যবহার:
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে: ক্যানসার কোষ ধ্বংসে (Radiation therapy)।
- শিল্পক্ষেত্রে: ধাতুর ফাটল শনাক্তে।
- বিজ্ঞান গবেষণায়: তেজস্ক্রিয় পদার্থ সনাক্তে।
- জীবাণুনাশে: খাবার বা চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

২,৯৬৩.
একটি সুরে কতটি কম্পাঙ্ক থাকতে পারে?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৪ টি
  4. অসংখ্য
ব্যাখ্যা
সুর ও স্বর:
- যদি কোনো উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দের একটি মাত্র কম্পাঙ্ক থাকে, তবে তাকে সুর বলে।
- কোনো শব্দের মধ্যে যদি একাধিক কম্পাঙ্ক থাকে তবে তাকে স্বর বলে।

মৌলিক সুর ও উপসুর:
কোনো স্বরের মধ্যে যে সব বিভিন্ন সুর থাকে তাদের মধ্যে যে সুরের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম তাকে মৌলিক সুর বলে ।
- বাকি সকল সুরই উপসুর।

হারমোনিক :
উপসুরগুলোর কম্পাঙ্ক যদি মূলসুরের কম্পাঙ্কের অখন্ড বা সরল গুণিতক হয় তবে সেসব উপসুরগুলোকে সমমেল বা সুর সঙ্গতি বা হারমোনিক বলে।

অষ্টক:
উপসুরগুলোর কোনোটির কম্পাঙ্ক মূল সুরের কম্পাঙ্কের দ্বিগুণ হলে তাকে অষ্টক বলে ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬৪.
নিচের কোন বস্তুটি এক্স-রে এর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে?
  1. লেড
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. কাঠ
  4. প্লাস্টিক
ব্যাখ্যা
লেড বা সীসার উচ্চ পারমাণবিক সংখ্যা (৮২) এবং সীসার ঘনত্ব এটিকে এক্স-রের তীব্রতা হ্রাস বা ব্লক করার জন্য একটি কার্যকর উপাদান করে তোলে।
সীসা বা লেড এক্স-রেকে বাধা দেয় যে প্রক্রিয়াগুলির সমন্বয়ের মাধ্যমে, সেগুলো হল:
(i) ফটোইলেকট্রিক শোষণ এবং 
(ii) কম্পটন বিচ্ছুরণ। 

এক্স-রে:
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8m থেকে 10-13m এর কাছাকাছি।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে।

এক্স-রের ব্যবহার:
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়।
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস:
১) Title: "Bushberg's Physics of Medical Imaging"
Authors: Stewart C. Bushberg, John M. Boone, Edwin M. Leidholdt Jr., and J. Anthony Seibert
Publisher: Wolters Kluwer
Edition: 4th Edition (2018)
২) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬৫.
নিচের কোনটি তাপ কুপরিবাহী নয়?
  1. ক) পানি
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) কাঠ
  4. ঘ) রাবার
ব্যাখ্যা
যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
যেমন - লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পানি ইত্যাদি।

যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
যেমন - তুলা, কাঠ, পশম, কাঁচ, কাঠ ইত্যাদি।
২,৯৬৬.
অপ্টিকাল ফাইবার ব্যবহার করা হয় কোন যন্ত্রে?
  1. ক) ইসিজি
  2. খ) সিটিস্ক্যান
  3. গ) এন্ডোস্কোপি
  4. ঘ) এনজিওগ্রাফি
ব্যাখ্যা
চিকিৎসার কারণে দেহের ভেতরের কোনো অঙ্গকে বাইরে থেকে সরাসরি দেখার প্রক্রিয়ার নাম এন্ডোস্কোপি৷ এন্ডোস্কোপি যন্ত্রে অপটিকাল ফাইবার ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৯৬৭.
কাজের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) বল × সরণ
  2. খ) ভর × সরণ
  3. গ) ভর × বল
  4. ঘ) ভর × সময়
ব্যাখ্যা
কাজ:

- কাজ = বল × সরণ।
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই ৷
- কাজের মাত্রা = বলের মাত্রা × সরণের মাত্রা।
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
-  বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের দিকে সরে যায় তখন বল যে কাজ সম্পন্ন করে তাকে ধনাত্মক কাজ বলা হয়।
- বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের বিপরীত দিকে সরে যায় তাহলে সেই বল যে কাজ সম্পন্ন করে তাকে ঋণাত্মক কাজ বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬৮.
স্থির তড়িৎ এর ব্যবহার হয় -
  1. স্প্রের সাহায্যে কোন বস্তু রং করতে
  2. ফটোকপি মেশিনে
  3. ক্যামেরায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

কল কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোয়ার কারণে বায়ুদূষণ মুক্ত করা, ছোট বা অসম আকৃতির বস্তুকে স্প্রের সাহায্যে রং করা, উচ্চ বিভব সৃষ্টি করা ইত্যাদির জন্য আমরা স্থির তড়িৎ ব্যবহার করে থাকি।
এমনকি বর্তমানে যে সব মুভি ক্যামেরা এবং স্থির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয় সেগুলোও পরিচালনার জন্য স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৬৯.
সমটান সম্পন্ন একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পনাঙ্কের কতটা পরিবর্তন ঘটবে?
  1. অর্ধেক হবে
  2. দ্বিগুণ হবে
  3. তিনগুণ হবে
  4. চারগুণ হবে
ব্যাখ্যা
- টানা তারে আড় কম্পনের দৈর্ঘ্যের সূত্রানুযায়ী টান স্থির থাকলে একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য এর কম্পাঙ্কের ব্যস্তানুপাতিক।
অর্থাৎ, তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পনাঙ্ক অর্ধেক হবে। 
২,৯৭০.
জাহাজের সার্চলাইটে কোন ধরনের দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) সমতলীয়
  4. ঘ) গোলীয়
ব্যাখ্যা
জাহাজ এবং লঞ্চ এর সার্চলাইটে অবতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়। 

কোনো গোলকের অবতল পৃষ্ঠ যদি প্রতিফলকরূপে কাজ করে অর্থাৎ আলোর নিয়মিত প্রতিফলন যদি গোলীয় দর্পণের অবতল পৃষ্ঠ হতে সংঘটিত হয় তবে সে দর্পণকে অবতল দর্পণ বলে।

অবতল দর্পণের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ :
১. অবতল দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
২. অবতল দর্পণ একটি অভিসারী দর্পণ।
৩. অবতল দর্পণে সব ধরনের (বাস্তব ও অবাস্তব) বিম্ব গঠিত হয়।

অবতল দর্পণ ব্যবহারসমূহ- 
১. সুবিধাজনক আকৃতির অবতল দর্পণ ব্যবহার করে মুখমণ্ডলের বিবর্ধিত এবং সোজা প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, এতে রূপচর্চা ও দাঁড়ি কাটার সুবিধা হয়।
২. দন্ত চিকিৎসকগণ অবতল দর্পণ ব্যবহার করেন।
৩. প্রতিফলক হিসেবে অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়। যেমন– টর্চলাইট, স্টিমার বা লঞ্চের সার্চলাইটে অবতল দর্পণ ব্যবহার করে গতিপথ নির্ধারণ করা হয়।
৪. অবতল দর্পণের সাহায্যে আলোকশক্তি, তাপশক্তি ইত্যাদি কেন্দ্রীভূত করে কোনো বস্তুকে উত্তপ্ত করতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এটি রাডার এবং টিভি সংকেত সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়। যেমন– ডিশ এন্টেনা, সৌরচুল্লী, টেলিস্কোপ এবং রাডার সংগ্রাহক ইত্যাদি।
৫. অবতল দর্পণের সাহায্যে আলোক রশ্মিগুচ্ছকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করা যায় বলে ডাক্তাররা চোখ, নাক, কান ও গলা পরীক্ষা করার সময় এ দর্পণ ব্যবহার করেন।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৭১.
আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে কোনটি তৈরি করা হয়?
  1. ক) পেরিস্কোপ
  2. খ) টেলিস্কোপ
  3. গ) নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) অণুবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 

পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। দর্পণের প্রতিফলন ‘তল’ এমনভাবে স্থাপিত যাতে নলটির অঙের সঙ্গে তা ৪৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করতে পারে। ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

উৎস: নবম অধ্যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই।

২,৯৭২.
এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় -
  1. ক) ১০-৭ মি
  2. খ) ১০-৬ মি
  3. গ) ১০-৯ মি
  4. ঘ) ১০-১০ মি
ব্যাখ্যা
- এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট।
- এ রশ্মি অত্যন্ত ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১০ মি।

[তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, ড সাহজাহান তপন, পৃষ্ঠা - ৩৮8]
২,৯৭৩.
ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটরের সমন্বয়ে গঠিত সার্কিটকে কী বলে? 
  1. RAM
  2. ROM
  3. IC
  4. Motherboard
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট(IC):
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি(IC) নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- যার ফলে সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৯৭৪.
সূক্ষ্ম রক্তনালিকার ব্লকেজ পরীক্ষা করার প্রযুক্তির নাম হলো-
  1. ক) এনজিওগ্রাফি
  2. খ) এন্ডোস্কোপি
  3. গ) এমআরআই
  4. ঘ) সিটিস্ক্যান
ব্যাখ্যা
এনজিওগ্রাফি
এনজিওগ্রাফি হলো এমন একটি প্রতিবিম্ব তৈরির পরীক্ষা যেখানে শরীরের রক্তনালিকাসমূহ দেখার জন্য এক্সরে ব্যবহার
করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তবাহী শিরা বা ধমনীগুলো সরু, ব্লকেজ  ও প্রসারিত হয়েছে কী না তা নির্ণয় করা যায়।
রক্তনালিতে ব্লক  এবং রক্তনালি সরু এবং অপ্রসস্থ হলে শরীরে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭৫.
20 Hz এর নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে কী বলা হয়? 
  1. শব্দেতর তরঙ্গ 
  2. শব্দোত্তর তরঙ্গ 
  3. শ্রাব্য তরঙ্গ 
  4. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- 20 থেকে 20,000 Hz এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। - অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। 
- মানুষ ভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো -


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৯৭৬.
নিচের কোন শক্তির উৎসটি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কয়লা
  2. বায়োগ্যাস
  3. বায়ুশক্তি
  4. পানির জোয়ারভাটা
ব্যাখ্যা

• কয়লা অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

• শক্তির উৎস:

- আমরা বিভিন্ন শক্তির উৎস থেকে শক্তি পাই। এই শক্তির উৎস প্রধানত দুই ধরনের—

- নবায়নযোগ্য শক্তি,
- অনবায়নযোগ্য শক্তি।
 
• নবায়নযোগ্য শক্তি:

- নবায়নযোগ্য শব্দ থেকেই বোঝা যায় যে, যে শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় বা নতুন করে উৎপাদন করা যায়, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি বলা হয়।
- অর্থাৎ, কোনো উৎস ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের পর সেই উৎসটি আবার ব্যবহার করে পুনরায় শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হলে, সেই শক্তি উৎসকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলা হয়।

• নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য:

- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বারবার ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তি সাধারণত পরিবেশবান্ধব।
- দীর্ঘমেয়াদে এই শক্তির উৎস নিঃশেষ হয়ে যায় না।
 
• নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ:

- সূর্যশক্তি,
- বায়ুশক্তি,
- পানি,
- বায়োগ্যাস,
- পানির জোয়ারভাটা।

• অনবায়নযোগ্য শক্তি:

- অনবায়নযোগ্য শক্তি বলতে সেই শক্তিকে বোঝায়, যা একবার ব্যবহার করা হলে তার উৎস থেকে পুনরায় শক্তি উৎপাদন করা যায় না।
- এই শক্তির উৎসগুলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন হতে অত্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগে অথবা আদৌ পুনরায় উৎপন্ন হয় না।

- ফলে, মানুষ যেসব হারে এই শক্তি ব্যবহার করছে, তার তুলনায় প্রকৃতিতে এগুলো তৈরি হতে অনেক বেশি সময় প্রয়োজন হয়।
- এই কারণেই অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস একসময় নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 
• অনবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য:

- একবার ব্যবহার করলে পুনরায় উৎপাদন করা যায় না।
- প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হতে দীর্ঘ সময় লাগে।
- অধিক ব্যবহারে শক্তির সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
- পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
 
• অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ:

- কয়লা,
- তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস,
- ইউরেনিয়াম।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

২,৯৭৭.
ট্রান্সফরমার কী পরিবর্তন করতে পারে? 
  1. দিক 
  2. শক্তি 
  3. ফ্রিকোয়েন্সি 
  4. বিভব 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৯৭৮.
এক অশ্বক্ষমতা (HP) = কত ওয়াট?
  1. 786 ওয়াট
  2. 800 ওয়াট
  3. 746 ওয়াট
  4. 1000 ওয়াট
ব্যাখ্যা

• 1 অশ্বক্ষমতা (HP) = 746 ওয়াট।

• ক্ষমতা:
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ -করা হয়।
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতা, P = সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়।
- কোনো যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা।
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
- এক অশ্বক্ষমতা (HP) = 746 ওয়াট।
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3.

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৭৯.
আইসি তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয় না? 
  1. রেজিস্টর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাপাসিটর
  4. ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৯৮০.
বিভবশক্তি কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. ক) বেগ
  2. খ) উচ্চতা
  3. গ) ত্বরণ
  4. ঘ) সরণ
ব্যাখ্যা
m ভরের একটি বস্তুকে ভূ-পৃষ্ঠ হতে অভিকর্ষজ বলের বিরুদ্ধে h উচ্চতায়  উঠানো হলে বিভবশক্তি = mgh
এটি উচ্চতার উপর নির্ভর করে। 

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৯৮১.
বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে শক্তির কোন রূপান্তর ঘটে?
  1. রাসায়নিক শক্তি → বিদ্যুৎ শক্তি 
  2. তাপ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি 
  3. যান্ত্রিক শক্তি → তাপ শক্তি 
  4. আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- এখানে কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হলো-
১। যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

২ । রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৩। তাপ শক্তির রূপান্তর: 
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়। 

৪। আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৫। বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৬। শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

৭। চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৮। নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর: 
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়। 
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৮২.
তড়িৎ ধারক আবিষ্কার করেন কে?
  1. ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক
  2. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  3. সি. এফ. ডুফে
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক ১৭৪৬ সালে তড়িৎ ধারক অবিষ্কার করেন।
- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৪৭ সালে আবিষ্কার করেন যে চার্জ দুই প্রকারঃ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক।
- সি. এফ. ডুফে ১৭৩৩ সালে আবিষ্কার করেন যে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন চার্জ বিপরীতধর্মী।
- ম্যাক্সওয়েল বেতার তরঙ্গের উদ্ভাবন করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৯৮৩.
কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব -
  1. ২৫ মি.মি.
  2. ২.৫ সে.মি.
  3. ২৫ সে.মি.
  4. ২৫ মি.
ব্যাখ্যা
দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব:
- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম বা নিকটতম দূরত্ব বলে।
- কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- চোখের লেন্স থেকে ২৫ সে.মি. দূরবর্তী বিন্দুতে স্থাপিত বস্তুটিকে সুন্দর সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- এর থেকে কম দূরত্বে স্থাপিত বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৪.
চোখের কোন স্তরটি আলোক সংবেদী?
  1. রেটিনা
  2. স্ক্লেরা
  3. কর্নিয়া 
  4. লেন্স
ব্যাখ্যা

- রেটিনা হলো মানুষের চোখের সবচেয়ে ভেতরের আলোক সংবেদী স্তর। এতে রড ও কোণ নামক দুই ধরনের বিশেষ আলোক সংবেদী কোষ থাকে, যা আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং আমাদের দেখতে সাহায্য করে। 

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

২,৯৮৫.
ডায়োডের প্রধান কাজ কী?
  1. একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
  2. ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা
  3. সার্কিটে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা
  4. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

◉ ডায়োড (Diode) হলো একটি সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্র, যা কেবল একদিকে তড়িৎ প্রবাহ যেতে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহ বাধা দেয়।

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৮৬.
কোন শক্তির উৎস কখনও ফুরিয়ে যায় না? 
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  2. নিউক্লিয় শক্তি 
  3. অনবায়নযোগ্য শক্তি 
  4. নবায়নযোগ্য শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- শুধু যে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের শক্তির ওপর মানুষ ভরসা করে আছে তা নয়, এই মুহূর্তেও তারা এমন শক্তির ওপর ভরসা করে আছে, যেগুলো ফুরিয়ে যাবে না। 
- সে শক্তিগুলো আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই শক্তিগুলো অফুরন্ত, যেগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy)। 
অর্থাৎ, যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, সে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে, তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাই শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৮৭.
কোন রঙের আলোর বিক্ষেপণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম? 
  1. হলুদ
  2. লাল
  3. সবুজ
  4. নীল
ব্যাখ্যা

লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 × 10-7m থেকে 7 × 10-7m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৯৮৮.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে থাকে-
  1. রেজিস্টর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাপাসিটর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- যার ফলে সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৮৯.
সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টরে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়? 
  1. অবতল
  2. অ্যানামর্ফিক লেন্স 
  3. দ্বি-উত্তল
  4. উত্তল ও অবতল
ব্যাখ্যা

• সিনেমাক্সোপ (Cinemascope) প্রজেক্টরে সাধারণত অ্যানামর্ফিক লেন্স (Anamorphic Lens) - (সিলিনড্রিক্যাল লেন্স) ব্যবহার করা হয়।

• Cinemascope কী?
- Cinemascope হলো একটি ওয়াইডস্ক্রিন ফরম্যাট যা ১৯৫০-এর দশকে জনপ্রিয় হয়। এটি 35mm ফিল্ম ব্যবহার করে, কিন্তু চিত্রটিকে হরাইজন্টালি সংকুচিত (squeeze) করে রেকর্ড করা হয়।

- লেন্সের ভূমিকা:
- অ্যানামর্ফিক লেন্স ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয় চিত্রটিকে সংকুচিত করে ধারণ করতে (সাধারণত 2:1 অনুপাতের সংকোচন)।

- প্রজেকশন টাইমে আবার একটি অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করে সংকুচিত চিত্রটিকে পুনরায় প্রসারিত করে সঠিক অনুপাত ও রেশিওতে স্ক্রিনে দেখানো হয়।
- ব্যবহার করা হয়:
- 1.5x বা 2x অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স, যা সংকুচিত চিত্রটিকে 2.35:1 বা 2.39:1 স্ক্রিন রেশিওতে পুনঃপ্রসারিত করে।
- সিনেমাক্সোপ প্রজেক্টরে অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করা হয়, যা সংকুচিত চিত্রকে পুনরায় প্রাকৃতিকভাবে স্ক্রিনে দেখায়।

সূত্র: widescreenmuseum [লিংক]

২,৯৯০.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ
  2. একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ
  3. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণ একটি মহাকর্ষ
  4. উপরের সবকয়টি সত্য
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে এই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল (Gravitational force) বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ (gravitational force) বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।

মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণকে মহাকর্ষ বলে।

• অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
• অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
• অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
• মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
• অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
• সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
• গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
• একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯১.
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ নীল দেখানোর কারণ কোনটি?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিক্ষেপণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলোর বিক্ষেপণ:
- আলো কোন মাধ্যমে যাওয়ার পথে মাধ্যমের কণাগুলোর সাথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করে তাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে।
- সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা ,পানিকণা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বেগুনী, নীল, আসমানি প্রভৃতি বর্ণের বিক্ষেপণ বেশি ঘটে।
- আলোর বিক্ষেপণ এর ফলেই আকাশ নীল দেখায়।
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশের খানিকটা অংশ গাড় লাল দেখায়।

অন্যদিকে -
- আলোর প্রতিফলন: আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশকালে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়ে যদি পূর্বের মাধ্যমেই ফিরে আসে তবে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
- আলোর প্রতিসরণ: আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে দিক পরিবর্তন করে। এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৯৯২.
পোস্ট অফিস বক্স নিচের কোন নিয়মটি মেনে চলে?
  1. হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি
  2. ফ্যারাডের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. জুলের সূত্র
ব্যাখ্যা
পোস্ট অফিস বক্স: 
- যে রোধ বাক্সের রোধগুলোকে হুইটস্টোন ব্রিজের তিনটি বাহু হিসেবে বিবেচনা করে এর সাহায্যে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে পোস্ট অফিস বক্স বলে। 
- পোস্ট অফিস বক্স হুইটস্টোন ব্রিজের নীতির আরেকটি রূপ। 
- পূর্বে পোস্ট অফিসের লোকজন টেলিগ্রাম, টেলিফোন লাইনের তারের রোধ নির্ণয়ের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন বলে একে পোস্ট অফিস বক্স বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,৯৯৩.
নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. একবার ব্যবহার করা যায়
  2. পরিবেশের ক্ষতি করে
  3. বারবার ব্যবহার করা যায়
  4. সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

- নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে এমন সব শক্তির উৎসকে বোঝায় যা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় পূরণ বা রিফিল হয়

শক্তি: 

- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না। 
- শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়, তাই জীবনের জন্য প্রয়োজন শক্তির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধান করে চলছে। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy): 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি, বায়োমাস শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable energy): 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- শক্তির চাহিদা মেটাতে আমাদেরকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 
- শক্তির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহারে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৯৪.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. সমচাপ প্রক্রিয়া
  2. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  3. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,৯৯৫.
একটি বস্তুর ভর ২০ কেজি। এর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হওয়ায় এর ত্বরণ হলো ২ মি./সে । প্রযুক্ত বলের মান কত ছিল?
  1. ৬০ নিউটন
  2. ৪০ নিউটন
  3. ৭৫ নিউটন
  4. ৮০ নিউটন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বস্তুর ভর ২০ কেজি। এর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হওয়ায় এর ত্বরণ হলো ২ মি./সে । প্রযুক্ত বলের মান কত ছিল? 

সমাধান: 
এখানে, 
বস্তর ভর, m = ২০ কেজি, 
ত্বরণ, a = ২ মি/সে
বল, F = ? 

আমরা জানি,
F = ma
= ২০ কেজি × ২ মি/সে
= ৪০ নিউটন 

সুতরাং, প্রযুক্ত বলের মান = ৪০ নিউটন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯৬.
ধারকের ব্যবহার নয় কোনটি?
  1. বেতার গ্রাহক যন্ত্রে টিউনিং এর কাজে ব্যবহার
  2. বিবর্ধক যন্ত্রে কাপলিং কাজে
  3. বৈদ্যুতিক পাখাকে জোরে ঘুরাতে
  4. বর্তনীতে এসি ব্লকিং হিসাবে
ব্যাখ্যা

ধারকের ব্যবহারসমূহ হলো নিম্নরূপ -
- টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, বেতার গ্রাহক যন্ত্রে টিউনিং এর কাজে
- বিবর্ধক যন্ত্রে কাপলিং কাজে
- বৈদ্যুতিক পাখাকে জোরে ঘুরাতে
- বৈদ্যুতিক বর্তনীতে ডিসি ব্লকিং হিসাবে
- বর্তনীতে চার্জিং ও ডিসচার্জিং এর কাজে
- ফিলটার সার্কিটে এবং স্পন্দকে ব্যবহার
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৯৯৭.
কম্পাঙ্কের একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. সেকেন্ড
  3. হার্জ
  4. ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
পর্যায়কাল (Time period) :
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s) ।

কম্পাঙ্ক (Frequency) : তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- কম্পাঙ্কের একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয়, Hz।

বিস্তার (Amplitude) : তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা (Phase) : তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে।

অন্যদিকে, লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৯৮.
কোন যন্ত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য আর্গন ব্যবহার করা হয়? 
  1. থার্মোমিটার 
  2. স্পেকট্রোফোটোমিটার 
  3. গাইগার মূলার কাউন্টার 
  4. পিএইচ মিটার 
ব্যাখ্যা

আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৯৯.
ভেক্টর রাশির কোন ধর্মটি সঠিক নয়? 
  1. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
  2. ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
  3. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
  4. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এ জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

 ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশির ধর্ম: 
ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। 
যেমন- 
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে। 
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না। 
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০০০.
কোন পানির প্লবতা বেশি? 
  1. নদীর
  2. পুকুরের
  3. সমুদ্রের
  4. সুইমিং পুলের
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ: 
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমূখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে। 
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়। 
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়। 
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং কালের কণ্ঠ পত্রিকা।