বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ৩৮ · ২০১৩০০ / ৩,৭৪৭

২০১.
নাসার সবচেয়ে বৃহৎ এবং শক্তিশালী টেলিস্কোপের নাম কি?
  1. ক) Fermi Gamma-ray Space Telescope
  2. খ) James Webb Telescope
  3. গ) SpitzerSpace Telescope
  4. ঘ) HerschelSpace Observatory
ব্যাখ্যা

- জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (ইংরেজি: James Webb Space Telescope বা JWST) মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- উৎক্ষেপণের তারিখ: ২৫শে ডিসেম্বর, ২০২১।
- ১০ বিলিয়ন ডলারের জেমস ওয়েব নামধারী স্পেস টেলিস্কোপটি ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
- হাবল টেলিস্কোপ ছিল মহাকাশে ভাসমান প্রথম কোনো টেলিস্কোপ।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট

২০২.
নিচের কোনটি স্কেলার রাশির উদাহরণ?
  1. বল 
  2. বেগ 
  3. দৈর্ঘ্য
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৩.
Full-wave bridge রেক্টিফিকেশনের জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) p-type সেমিকন্ডাক্টর
  2. খ) p-n জাংশন
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
p-n জাংশন:
- এটি রকধরনের সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস।
- p-n জাংশন এর অপর নাম ডায়োড বা রেক্টিফায়ার।
- রেক্টিফায়ার এর কাজ হলো  AC কে DC তে পরিবর্তন করা।
- এই রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণের তিনটি প্রক্রিয়া:
i) half - wave রেক্টিফিকেশন।
ii) full - wave রেক্টিফিকেশন।
iii) full - wave bridge রেক্টিফিকেশন।

ট্রানজিস্টর: 
- এটিও একধরনের সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস।
- p-n-p বা, n-p-n জাংশন নামে পরচিত।
- এটি সাধারণত দুর্বল সিগনালকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হয়।

ট্রান্সফর্মার: 
- এটি উচ্চ বিভবকে নিন্ম বিভবে বা, নিন্ম বিভবকে উচ্চ বিভিবে রূপান্তরিত করতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: একাদশ শ্রেনীর পদার্থবিজ্ঞান বই ।
২০৪.
একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে ঘড়িটি- 
  1. স্লো হবে
  2. ফাস্ট হবে
  3. ঠিক সময় দেবে
  4. কোনো রকম প্রভাবিত হবে না
ব্যাখ্যা
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 
- কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g). 
এখানে, t = দোলনকাল, L = কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g = অভিকর্ষজ ত্বরণ। 

উপরের সূত্র মতে আমরা পাই, 
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না। 
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারণ, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে। 
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে। 
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে। 
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে। 
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২০৫.
বস্তুর ওজন কোথায় শূন্য? 
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রে
  2. পাহাড়ের উপরে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. বিষুবীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- আবার পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২০৬.
পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয় কোনটিতে?
  1. ডায়োেট
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ট্রান্সজিস্টার
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
• পারস্পরিক আবেশ ব্যবহৃত হয় ট্রান্সফরমারে।
- এতে দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- প্রথম কুন্ডলী কে মুখ্য কুণ্ডলী এবং দ্বিতীয়টিকে অর্থাৎ যার মধ্যে তড়িচ্চালক আবিষ্ট হয় তাকে গৌণ কুলী বলে।
- মুখ্য কুণ্ডলীতে তড়িপ্রবাহিত করলে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্ত ও নিম্ন বিভক্তির ছবি ভাবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। 
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ।
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

উৎস:  সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি; এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
নির্দিষ্ট দূরত্বে যদি দুটি বস্তু কণার ভরের গুণফল দ্বিগুণ হয়, তাহলে আকর্ষণ বল কী হবে? 
  1. দ্বিগুণ হবে
  2. অর্ধেক হবে
  3. চারগুণ হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ও মহাকর্ষ বল: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে, এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: "মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
ধরা যাক, m1 এবং m2 ভরের দুটি বস্তু কণা পরস্পর থেকে d দূরত্বে অবস্থিত। এদের মধ্যকার আকর্ষণ বল F হলে, মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, 

F = G(m1m2)/d2
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক, একে সর্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। 
অর্থাৎ, দুটি এক কিলোগ্রাম ভরের বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তার মান সংখ্যাগতভাবে G এর মানের সমান। 
- মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত দুটি বস্তু কণাদ্বয়ের বস্তুর ভরের গুণফল দ্বিগুণ হলে বল দ্বিগুণ হবে, ভরের গুণফল তিনগুণ হলে বল তিনগুণ হবে। 
- আর নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের এক-চতুর্থাংশ হবে, দূরত্ব তিনগুণ করলে বল পূর্বের নয় ভাগের এক ভাগ হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২০৮.
মানবচক্ষুর জন্য “নিকট বিন্দু ” সাধারণত কত দূরত্বে অবস্থিত থাকে?
  1. 10 সেমি.
  2. 15 সেমি.
  3. 25 সেমি.
  4. 30 সেমি.
ব্যাখ্যা

নিকট বিন্দু (Near Point):
- নিকট বিন্দু (Near Point) হলো সেই ন্যূনতম দূরত্ব, যেখানে কোনো বস্তু চোখের জন্য স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়। অর্থাৎ রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি গঠিত হয়।
- সাধারণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এই দূরত্ব প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার।
- যখন কোনো বস্তু এই দূরত্বের চেয়ে কাছে রাখা হয়, তখন চোখের লেন্সকে অত্যধিক বাঁকতে হয় ফোকাস আনতে, যা চোখের পেশীর সীমার বাইরে, ফলে বস্তু ঝাপসা দেখা যায়।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিকট বিন্দু আরও দূরে সরে যায়; এটি প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia) নামে পরিচিত।

• দূর বিন্দু (Far Point)
- সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণত ∞ (অনন্ত) ধরে নেওয়া হয়।
- অপটিক্যাল যন্ত্র যেমন ম্যাগনিফায়িং গ্লাস, মাইক্রোস্কোপ, টেলিস্কোপ ডিজাইনে ২৫ সেমি. নিকট বিন্দু মান ব্যবহার করা হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica.

২০৯.
কোন পরিস্থিতিতে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়?
  1. বিভব হ্রাস করলে 
  2. বিভব বৃদ্ধি করলে 
  3. শক্তি রূপান্তর না করলে 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলত দুইটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।  
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১০.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. দূরত্ব
  2. সময়
  3. ভর
  4. ওজন
ব্যাখ্যা
• আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
- ভরের একক গ্রাম।
- ওজনের একক নিউটন।
- সময় এর একক সেকেন্ড।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. NASA ওয়েবসাইট।
২১১.
পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয়-
  1. ট্রানজিস্টারে
  2. ডায়োডে
  3. রূপান্তরকে
  4. অ্যামপ্লিফায়ারে
ব্যাখ্যা
• পারস্পারিক আবেশ: 
- পাশাপাশি স্থাপিত দুটি কুন্ডলীর মধ্যে একটিতে তড়িৎ প্রবাহ মাত্রার পরিবর্তনের ফলে অপর কুন্ডলীতে যে তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয় তাকে পারস্পারিক আবেশ বলে।

• পারস্পরিক আবেশের ব্যবহার:

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলে।
- তড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফর্মার সাধারণত দু প্রকারের হয়। যথা-

• আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলে।

• অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
২১২.
কাজের মাত্রা কোনটি? 
  1.  MLT-2
  2. ML2T-3
  3. ML2T-1
  4. ML2T-2
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ML2T-2 

কোনো বস্তুর উপর যদি F বল প্রয়োগ করা হয় এবং বল প্রয়োগ করার সময়টুকুতে যদি বস্তুটি বলের দিকে s দূরত্ব অতিক্রম করে (অর্থাৎ সরণ হয়), তাহলে ঐ বল দিয়ে করা কাজের পরিমাণ W হচ্ছে: W = Fs
কাজের একক J (জুল) কাজের মাত্রা [W] = ML2T-2

মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বলের মাত্রা MLT-2,
- শক্তির মাত্রা ML2T-2,
- টর্কের মাত্রা ML2T-2,
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৩.
নিচের কোন রাশি কাজের মাত্রা প্রকাশ করে?
  1. [MLT-2]
  2. [ML2T-2]
  3. [M2L2T-1]
  4. [ML-2T-2]
ব্যাখ্যা
কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা, [W] = [ML2T -2]
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 
∴ 1 J = 1 Nm. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২১৪.
অল্টামিটার কি?
  1. ক) তাপ পরিমাপক যন্ত্ৰ
  2. খ) উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্ৰ
  3. গ) গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র
  4. ঘ) উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র হলো অলটিমিটার।
- উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র হলো থার্মোমিটার।
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র হলো ক্যালরিমিটার।
- গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র হলো ম্যানোমিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২১৫.
যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই থাকে, তাদেরকে কী বলা হয়? 
  1. ভেক্টর রাশি 
  2. অদিক রাশি 
  3. ঘূর্ণন রাশি 
  4. স্কেলার রাশি 
ব্যাখ্যা

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

২। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৬.
নিচের কোনটিতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়?
  1. টেপরেকর্ডার
  2. রেডিও
  3. টেলিভিশন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফর্মার:

• ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সিকে কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।
• ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার (Step up Transformer): যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: দূরদূরান্তে তড়িৎ প্রেরণের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার (Step down Transformer): যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: অবরোহী বা স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষণ, বিএড প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
ট্রান্সফর্মার তৈরিতে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্থায়ী চুম্বক
  2. খ) অস্থায়ী চুম্বক
  3. গ) সংকর চুম্বক
  4. ঘ) সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৮.
চুম্বকত্বের উপর সাধারণত কোন বাহ্যিক প্রভাব থাকতে পারে? 
  1. আয়তন 
  2. তাপমাত্রা 
  3. ভর 
  4. ঘনত্ব 
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এসকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম, কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৯.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) অ্যামিটার দিয়ে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ মাপা যায়
  2. খ) গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব মাপা যায়
  3. গ) অ্যামিটার দিয়ে বর্তনীর বিভব পার্থক্য মাপা যায়
  4. ঘ) গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়
ব্যাখ্যা
অ্যামিটার হচ্ছে বৈদ্যুতিক যন্ত্র৷ এর সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়৷ এই যন্ত্রে একটি গ্যালভানোমিটার থাকে।
গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। গ্যালভানোমিটারের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
২২০.
প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণু কোনটিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে -
  1. ট্রান্সফরমার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না।
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২২.
লোড পরিবর্তন হলেও কোন উৎসের টার্মিনাল ভোল্টেজ সর্বদা স্থির থাকে?
  1. বাস্তব ভোল্টেজ উৎস
  2. আদর্শ কারেন্ট উৎস
  3. আদর্শ ভোল্টেজ উৎস
  4. পরিবর্তনশীল উৎস
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- গ) আদর্শ ভোল্টেজ উৎস

• আদর্শ ভোল্টেজ উৎস:

- একটি আদর্শ ভোল্টেজ উৎস হল এমন একটি তাত্ত্বিক উৎস যার টার্মিনাল জুড়ে ভোল্টেজ স্থির থাকে এবং লোডের পরিবর্তন নির্বিশেষে এটি পরিবর্তিত হয় না।
- এটি শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যদি উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ (internal resistance) শূন্য হয়। কারণ, যদি অভ্যন্তরীণ রোধ থাকে, তাহলে লোডের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভোল্টেজ ড্রপ হবে, যা আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাংঘর্ষিক।
- যদি অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য না হত, তাহলে উৎসের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার সময় ভোল্টেজ পতন (V = IR) ঘটত এবং ভোল্টেজ পরিবর্তিত হয়ে যেত।
- আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের ক্ষেত্রে, r = 0, তাই, 
Vterminal = Vsource অর্থাৎ, টার্মিনাল ভোল্টেজ সর্বদা উৎসের ভোল্টেজের সমান থাকে।
- সুতরাং, আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য (০)।
- এটি অসীম পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করতে সক্ষম।

উৎস:
১. "Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
২. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.

২২৩.
তাপ সঞ্চালনের সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি কোনটি?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. আবেশ
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন-
- উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রার স্থানে তাপের প্রবাহকে তাপ সঞ্চালন বলা হয়।

• তাপ সাধারনত ৩ টি উপায়ে সঞ্চালিত হয়। যথা- 
- পরিবহন
- পরিচলন
-  বিকিরন

• বিকিরন-
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।

• বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলা হয়।
- বিকীর্ণ তাপের শক্তি সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, বা জড় মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত করে না।
-  বিকীর্ণ তাপশক্তি আলোর বেগে সঞ্চালিত হয়। শূন্যস্থানে এই তরঙ্গের বেগ 3 × 108  ms-1
অর্থাৎ তাপ সঞ্চালনের জন্য সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি হলো বিকিরন। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৪.
ডুবোজাহাজ থেকে সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা দেখার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. দূরবীন
  2. টেলিস্কোপ 
  3. মাইক্রোস্কোপ
  4. পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা

- ডুবোজাহাজ থেকে সমুদ্র পৃষ্ঠে দেখার জন্য পেরিস্কোপ নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা আলো প্রতিফলিত করার জন্য আয়না বা প্রিজম ব্যবহার করে ডুবোজাহাজের নিচ থেকে জলের উপরের বস্তু দেখতে সাহায্য করে

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়াও বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২২৫.
কোন ধরনের লেন্স আলোর রশ্মিকে প্রতিসরণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত করে? 
  1. অবতল লেন্স
  2. উত্তল লেন্স
  3. সমতল দর্পণ
  4. অবতল দর্পণ
ব্যাখ্যা
লেন্স (Lens): 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- সাধারণত লেন্স কাচের তৈরি হয়।  
- তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, কোয়ার্টজ এমন কী তরল পদার্থ বা অর্ধতরল পদার্থ দিয়েও লেন্স তৈরি হতে পারে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স (Convex Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে উত্তল লেন্স বা অভিসারী লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্য ভাগ উঁচু বা মোটা এবং প্রান্ত ভাগ সরু, তাই একে স্থূল মধ্য বা উত্তল লেন্সও বলে। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স (Concave Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী বা অবতল লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্যভাগ সরু বা পাতলা এবং প্রান্ত ভাগ মোটা তাই একে ক্ষীণ মধ্য বা অবতল লেন্সও বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৬.
সমন্বিত বর্তনী প্যাকেজিং-এর মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. চিপের সংযোগের পিন সংখ্যা কমানো
  2. চিপের অভ্যন্তরে তাপ ধরে রাখা
  3. সার্কিট বোর্ডে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা
  4. চিপের উপাদানগুলির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা
ব্যাখ্যা

• সমন্বিত বর্তনী বা IC (Integrated Circuit) প্যাকেজিং-এর মূল উদ্দেশ্য হলো এটিকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং বাইরের সার্কিট বোর্ডের সাথে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।

• সমন্বিত বর্তনী বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit): 
- ১৯৫২ সালের দিকেই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হলেও সত্যিকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় ষাটের দশকে। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করার সময় এই প্রক্রিয়াটিকে আর একটুখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। 
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় যার নাম দেওয়া হয় ইন্টিগ্রেডেট সার্কিট (আইসি, IC) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অল্প জায়গায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর বসানো শুরু হলো এবং তার নাম দেওয়া হলো প্রথমে লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (LSI), পরে ভেরি লার্জ স্কেল ইন্ট্রেগ্রেশন (VLSI)।
- এই সার্কিটগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে প্যাকেজ করা হতো যেন সরাসরি সার্কিট বোর্ডে ব্যবহার করা যায়।
- মাইক্রোকম্পিউটার, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ভিডিও ক্যামেরা এবং যোগাযোগের উপগ্রহ এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ছাড়া কোনো দিনই সম্ভব হতো না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৭.
বল পরিমাপ করতে কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. Scales
  2. Force meter
  3. Force devise
  4. Top pan balance
ব্যাখ্যা
- বল পরিমাপ করতে Force meter ব্যবহার করা হয়। 
- Force meterকে কখনও কখনও Newton meterও বলা হয়।
২২৮.
বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) টমাস আলভা এডিসন
  2. খ) জি. মার্কনী
  3. গ) উইলিয়াম গিলবার্ট
  4. ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা

ইংরেজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম গিলবার্ট ১৬০০ সালে বহু পদার্থের বিদ্যুতায়নের বর্ণনা দিয়েছিলেন।
ফলস্বরূপ, গিলবার্টকে আধুনিক বিদ্যুতের জনক বলা হয়।
সূত্র: electricityforum.com

২২৯.
কাজ সৃষ্টির জন্য নিচের কোন দুটি রাশি জানা থাকা প্রয়োজন?
  1. সরণ ও ত্বরণ
  2. বল ও ত্বরণ
  3. বল ও সরণ
  4. সরণ ও মন্দন
ব্যাখ্যা
কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই। 

কাজের মাত্রা: 
কাজের মাত্রা = বলের মাত্রা × সরণের মাত্রা 
= ভর × সরণ/সময়2 × সরণ 
= ভর × (সরণ/সময়)2
[W] = ML2T-2 । 

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩০.
বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা -
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বাড়ে পরে কমে
ব্যাখ্যা
আর্দ্রতা: 
- বাতাসে ভাসমান জলীয় বাষ্পই হচ্ছে আর্দ্রতা। 
- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলা হয়। 
- জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্প চাপ নামে পরিচিত। 
- বায়ুতে উপস্থিত এই জলীয়বাষ্প নানা কারণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। 
যেমন- 
১। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পায়। 
২। চাপবৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প হ্রাস পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 

- ঠাণ্ডা বাতাসের তুলনায় গরম বাতাস বেশি পানির কণা ধরে রাখতে পারে। 
- গবেষকেরা বলেন, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (শূন্য দশমিক ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ে ৪ শতাংশ। 
- এ কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ একই থাকলেও শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে আমাদের অনেক বেশি অস্বস্তি লাগে। 
- শীতকালে আর্দ্রতা কম থাকে বলেই ভেজা কাপড় বর্ষাকালের চেয়ে তাড়াতাড়ি শুকায়। 
- আর বায়ুর উষ্ণতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে এবং বায়ুর উষ্ণতা কমলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়ে। 
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা একটি অনুপাত। 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ঐ একই তাপমাত্রায় ঐ আয়তনের বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন তার অনুপাতকে ঐ স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কিসের একক পাওয়া যায়? 
  1. ক্ষমতার
  2. ত্বরণের
  3. দৈর্ঘ্যের
  4. কাজের
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩২.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়-
  1. ক) জেনারেটর
  2. খ) বৈদ্যুতিক মোটর
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ একটি তারের কুণ্ডিলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুন্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৩.
'হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়' এখানে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটেছে?
  1. আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. চুম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তির রূপান্তর: 
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়। 
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়। 
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৪.
১ ওয়াট-ঘন্টা = কত? 
  1. ৩৬ জুল
  2. ৩৬০০ জুল
  3. ৩৬০ জুল
  4. ৩৬০০০ জুল
ব্যাখ্যা
ওয়াট-ঘন্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক ঘণ্টা ব্যাপী কাজ করলে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক ওয়াট-ঘণ্টা বলে। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = এক ওয়াট × এক ঘন্টা 
= এক ওয়াট × 3600 সেকেন্ড 
= 3600 (এক ওয়াট × এক সেকেন্ড) 
= 3600 জুল। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = 3600 জুল। 

তড়িৎ ক্ষমতা হতে তড়িৎ শক্তি: 
- এক সেকেন্ডে এক জুল কাজ করার ক্ষমতাকে এক ওয়াট বলে। 
অর্থাৎ, এক ওয়াট = এক জুল/এক সেকেন্ড 
বা, এক জুল = এক ওয়াট × এক সেকেন্ড 
সুতরাং, শক্তি = ক্ষমতা x সময়। 
- যদি এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক সেকেন্ড ব্যাপী কাজ করে তবে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক জুল বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
ট্রান্সফরমার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. তড়িৎ বিভব
  2. তাড়িতচৌম্বক আবেশ
  3. জারণ-বিজারণ
  4. তড়িৎ প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) তাড়িতচৌম্বক আবেশ।

• ট্রান্সফরমার (Transformer):
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৬.
বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর জন্য কোন বৈজ্ঞানিকের অবদান সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  2. খ) আইজ্যাক নিউটন
  3. গ) টমাস এডিসন
  4. ঘ) ভোল্টা
ব্যাখ্যা
Thomas Edison was an American inventor who is considered one of America's leading businessmen and innovators. Edison rose from humble beginnings to work as an inventor of major technology, including the first commercially viable incandescent light bulb,he had played a critical role in introducing the modern age of electricity.He is credited today for helping to build America's economy during the Industrial Revolution.

Source: biography.com
২৩৭.
কুলম্ব কোন পরিমাপের একক?
  1. আধান
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কুলম্ব (Coulomb) হল বৈদ্যুতিক চার্জের একক। এটি আধানের পরিমাপ নির্দেশ করে। এক কুলম্ব হল এমন একটি চার্জ যা এক অ্যাম্পিয়ারের ধারা এক সেকেন্ড ধরে প্রবাহিত হলে তৈরি হয়। সুতরাং, কুলম্ব ভোল্ট, সিমেন্স বা ওহম নয়; এটি সরাসরি বৈদ্যুতিক চার্জের পরিমাণকে প্রকাশ করে।

সঠিক উত্তর: ক) আধান।

- SI এককে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S)।

• এছাড়াও,
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৮.
কোন স্থানে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ২ গুণ কমবে
  2. ২ গুণ বাড়বে
  3. ৪ গুণ কমবে
  4. ৪ গুণ বাড়বে
ব্যাখ্যা
• সরল দোলক:
- সরল দোলক: একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে - সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল (T) মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ (g)  এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
• T = 2π√(L/g)

- সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ২ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২৩৯.
নিচের কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
  1. মোবাইল
  2. টেলিফোন
  3. ই-মেইল 
  4. রেডিও 
ব্যাখ্যা

রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 

অন্যদিকে, 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 
- ইমেইল এর মাধ্যমে প্রেরক ও গ্রহণকারী উভয়ে বার্তা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

২৪০.
পারমাণবিক চুল্লিতে “কন্ট্রোল রড” এর কাজ কী?
  1. তাপ শোষণ
  2. নিউট্রন শোষণ করে বিভাজন নিয়ন্ত্রন
  3. তড়িৎ উৎপাদন
  4. জ্বালানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লিতে কন্ট্রোল রড নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। 
 
• কন্ট্রোল রড:
- পারমাণবিক চুল্লির কন্ট্রোল রড হল এমন একটি উপাদান যা পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন (ফিশন) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি চুল্লির মধ্যে শৃঙ্খল বিক্রিয়ার হার (চেইন রিয়াকশন) কমাতে বা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।

• পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন (nuclear fission) অর্থাৎ নিউট্রনের সাহায্যে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে।
- এ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে “কন্ট্রোল রড” ব্যবহার করা হয়।

• কন্ট্রোল রড সাধারণত বোরন (Boron), ক্যাডমিয়াম (Cadmium) বা হ্যাফনিয়াম (Hafnium)-এর মতো উপাদানে তৈরি, যা অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে।
- এর ফলে, ফিশন প্রতিক্রিয়ার হার কমানো বা বাড়ানো যায় — অর্থাৎ এটি চুল্লির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
- এই উপাদানগুলি নিউট্রন শোষণ করতে খুব কার্যকর।
- যখন রডগুলি চুল্লির মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, তখন তারা নিউট্রন শোষণ করে এবং চেইন রিঅ্যাকশনকে ধীর করে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
- অন্যদিকে, রডগুলি বের করে নিলে চেইন রিঅ্যাকশন আরও দ্রুত হতে শুরু করে।
- এই রডগুলি পারমাণবিক চুল্লির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চুল্লিটিকে নিরাপদ রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- International Atomic Energy Agency (IAEA) – Reactor Safety Guidelines.
২৪১.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. ক) ট্রান্সফরমার
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) বৈদ্যুতিক মটর
  4. ঘ) হুইল
ব্যাখ্যা
• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে

• ট্রান্সফর্মার:
-যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৪২.
ট্রানজিস্টর প্রথম আবিষ্কৃত হয় কোন প্রতিষ্ঠানে? 
  1. এমআইটি
  2. নাসা 
  3. আইবিএম 
  4. বেল ল্যাবরেটরি 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। 
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর। 
- এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে। 
- আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৩.
কোন মাধ্যমে শব্দ দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়?
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. তরল মাধ্যমে
  3. কঠিন মাধ্যমে
  4. বায়বীয় মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৪৪.
একটি পরিবাহী তারের পরিবাহিতা 0.5 সিমেন্স হলে পরিবাহীর রোধ কত? 
  1. 2 Ω
  2. 3 Ω
  3. 4 Ω
  4. 6 Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি পরিবাহী তারের পরিবাহিতা 0.5 সিমেন্স হলে পরিবাহীর রোধ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
পরিবাহিতা, G = 0.5 সিমেন্স
রোধ, R =? 

আমরা জানি,
R = 1/G 
বা, R = 1/0.5
∴ R = 2 Ω 
উত্তর: 2 Ω ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
সরল পেরিস্কোপ তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উত্তল দর্পণ
  2. খ) অবতল দর্পণ
  3. গ) সমতল দর্পণ
  4. ঘ) উত্তল লেন্স
ব্যাখ্যা

বস্তু থেকে আগত রশ্মির পরপর দুবার সমতল দর্পণে প্রতিফলনের ফলে গঠিত প্রতিবিম্ব দেখার একটি সহজ যন্ত্র পেরিস্কোপ।
এটি একটি লম্বা আয়তাকার কাঠের বা ধাতুর তৈরি লম্বা নল। এই যন্ত্রের নলের মধ্যে দুটি সমতল দর্পণকে পস্পরের মুখোমুখি এবং সমান্তরাল করে নলের অক্ষের সাথে ৪৫º কোণে বসানো হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২৪৬.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. রৈখিক গতি
  2. অপর্যাবৃত্ত গতি
  3. পর্যাবৃত্ত গতি
  4. স্পন্দন গতি
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ।

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৭.
বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে কী বলে?
  1. ক) মধ্যবেগ
  2. খ) সমবেগ
  3. গ) অসমবেগ
  4. ঘ) তাৎক্ষণিক বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity)
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ (Average Velocily)
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity)
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

মধ্যবেগ (Mean Velocity)
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

সমবেগ (Uniform velocity)
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসম বেগ (Non-uniform Velocity)
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৮.
বর্তনীতে কত ধরনের রোধ ব্যবহার করা হয়? 
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৯.
50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)
  1. 14.7 kJ
  2. 1.47 kJ
  3. 15.8 KJ
  4. 1470 KJ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)

সমাধান:
দেওয়া আছে, ভর, m = 50 kg প্রতি তলার উচ্চতা = 3 m
মোট তলা = 10
∴ মোট উচ্চতা, h = 10 × 3 = 30 m
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2

ব্যক্তিটির দ্বারা সম্পাদিত কাজ (W) হলো মূলত অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কৃতকাজ, যা তার অর্জিত বিভবশক্তির (Ep) সমান।
আমরা জানি,
কাজ (W) = mgh
⇒ W = 50 × 9.8 × 30
⇒ W = 14700 J
⇒ W = 14700/1000 kJ
⇒ W = 14.7 kJ

∴ সম্পন্ন কাজের পরিমাণ = 14.7 kJ

২৫০.
SI পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য এর একক -
  1. ক) কিলোগ্রাম
  2. খ) ওয়াট
  3. গ) জুল
  4. ঘ) মিটার
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য এর একক হচ্ছে মিটার। 

- বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের একক চালু থাকার ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়।
- এসকল অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বিজ্ঞানীগণ বিশ্বব্যাপী একই ধরনের একক চালুর সিদ্ধান্ত নেন, একে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এস আই (SI) একক বলে।
- কয়েকটি হলো- কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), মিটার (m), অ্যাম্পিয়ার (A), অ্যাম্পিয়ার (A), মোল (mol)।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক হলো কিলোগ্রাম।
- মৌলিক ভৌত এককগুলো হলো—কিলোগ্রাম (kg, ভরের একক), সেকেন্ড (s, সময়ের একক), মিটার (m, দূরত্বের একক), অ্যাম্পিয়ার (A, বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক), কেলভিন (K, তাপমাত্রার একক), মোল (mol, পদার্থের পরিমাণের একক) এবং ক্যান্ডেলা (cd, দীপন তীব্রতার একক)।

সূত্র:  ৬ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫১.
নিচের কোনটি তাপীয় ইঞ্জিন?
  1. পেট্রোল ইঞ্জিন
  2. ডিজেল ইঞ্জিন
  3. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। 
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। 
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 
- বাসাবাড়ির রেফ্রিজারেটর তাপীয় পাম্পের একটি উদাহরণ যা আসলে একটি তাপ ইঞ্জিনের ঠিক বিপরীত।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫২.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের আনুমানিক পরিমাণ কত?
  1. ৫০-৬০%
  2. ৬০-৭০%
  3. ৭০-৮০%
  4. ৯৫-৯৯%
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৩.
দৃশ্যমান আলোর ক্ষুদ্রতম দৈর্ঘ্য কোন রঙের?
  1. লাল
  2. কালো
  3. সাদা
  4. বেগুনী
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৪.
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র অনুসারে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায়
  2. শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
  3. শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায়
  4. শক্তির রূপান্তরে মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র: 
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তি ধ্বংসও করা যায় না।
- এ বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এই শক্তি একটু বাড়েওনি বা কমেওনি, এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 

- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে।
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না
- এক রূপের শক্তিকে রুপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
টেলিফোন লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়-
  1. তড়িৎ শক্তি
  2. চৌম্বক শক্তি
  3. শব্দ শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎশক্তি (বা বিদ্যুৎ শক্তি) মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- মোবাইল টেলিফোন সিস্টেমে, আমাদের কথাবার্তা (শব্দ সিগন্যাল) প্রথমে বিদ্যুৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত হয় এবং তারপর এই বিদ্যুৎ সিগন্যাল ওয়্যারলেস মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
- টেলিফোনের লাইনের মধ্যে (যেমন ল্যান্ডলাইন) সরাসরি বিদ্যুৎ সিগন্যাল প্রবাহিত হয়।

মোবাইল টেলিফোনের সিস্টেমে যে তড়িৎশক্তি প্রবাহিত হয়, তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

১. ভয়েস টু ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল রূপান্তর:
- যখন আপনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন, তখন আপনার কণ্ঠস্বর (শব্দ তরঙ্গ) মোবাইলের মাইক্রোফোনে পড়ে। মাইক্রোফোন এই শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।

২. অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর:
- এই তড়িৎ সিগন্যাল প্রথমে অ্যানালগ ফরম্যাটে থাকে। ফোনের ভেতরে ADC (Analog-to-Digital Converter) এই অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে (বাইনারি কোড - 0 এবং 1 এর সিরিজ) রূপান্তরিত করে।

৩. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং:
- এই ডিজিটাল সিগন্যাল এরপর প্রসেস হয় - এর মধ্যে কম্প্রেশন (ডাটা সাইজ কমানো), এনক্রিপশন (সুরক্ষার জন্য), এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট (শব্দের মান উন্নত করা) অন্তর্ভুক্ত।

৪. রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর:
- এই প্রক্রিয়াকৃত ডিজিটাল সিগন্যাল পরে মোবাইলের ট্রান্সমিটার দ্বারা রেডিও তরঙ্গে (বিদ্যুতচুম্বকীয় তরঙ্গ) রূপান্তরিত হয়, যা মোবাইল টাওয়ারে প্রেরিত হয়।

৫. সিগন্যাল ট্রান্সমিশন:
- মোবাইল টাওয়ার এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং তারপর তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- এই তড়িৎ সিগন্যাল টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় - যা ফাইবার অপটিক কেবল, কপার কেবল বা মাইক্রোওয়েভ লিংকের মাধ্যমে হতে পারে।
- নেটওয়ার্কের মধ্যে, সিগন্যাল মোবাইল স্যুইচিং সেন্টার (MSC) দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত হয়, যেখানে সিগন্যাল রাউটিং ও প্রসেসিং হয়।

৬. প্রাপকের দিকে:
- প্রাপকের নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ার থেকে আবার রেডিও তরঙ্গ হিসেবে সিগন্যাল প্রেরিত হয়।
- প্রাপকের মোবাইল ফোন এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং আবার তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- ডিজিটাল থেকে অ্যানালগ রূপান্তরের পর, স্পিকারের মাধ্যমে এই তড়িৎ সিগন্যাল আবার শব্দে পরিণত হয়।
- তাই, সমগ্র প্রক্রিয়াটিতে শব্দ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→শব্দ এই রূপান্তর চক্র চলে।
- যদিও রেডিও তরঙ্গ ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তবুও নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে সিগন্যাল তড়িৎশক্তি হিসেবেই প্রবাহিত হয়।
২৫৬.
আলোকরশ্মি গমন পথে কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) আলোর প্রতিফলন
  2. খ) আলোর প্রতিসরণ
  3. গ) আলোর ব্যাতিচার
  4. ঘ) আলোর অপবর্তন
ব্যাখ্যা
কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে।
আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে।
যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৭.
কর্মদক্ষতা কী? 
  1. বল ও কাজের অনুপাত
  2. মোট প্রদত্ত শক্তি ও সময়ের গুণফল
  3. কার্যকর ক্ষমতা ও অপচয়কৃত ক্ষমতার অনুপাত
  4. কার্যকর শক্তি এবং প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
ব্যাখ্যা

• কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির অনুপাত থেকে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 80% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 80 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 20 একক শক্তি অপচয় হয়। 
∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1 - E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৮.
ট্রানজিস্টর প্রথম কবে আবিষ্কার করা হয়? 
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর (Transistor) হচ্ছে একটি ইংরেজি শব্দ। 
- Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপ্লব সংঘটিত করেছে। 
- ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন (J.Bardeen), ডবিউ ব্রাটেন (W. Brattain) ও ডবিউ সক্লে (W. Shockley) ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। 
- এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিন জনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
- দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে। 
- একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে। 
- গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার। 
যথা- 
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং 
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৯.
তেজস্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. তাপ, চাপ, দ্বারা প্রভাবিত হয় না
  2. আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল
  3. উৎপত্তি স্থল নিউক্লিয়াস
  4. প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয়তা:
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তার নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মিনামে পরিচিত।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- 
১. প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।

২. কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক কোনটি?
  1. ভোল্ট
  2. ওয়াট
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. ওহম
ব্যাখ্যা

• বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক হলো অ্যাম্পিয়ার (Ampere), যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

• ভৌত রাশি এবং তাদের পরিমাপ (Physical Quantities and Their Measurement):
- পানি ঠান্ডা করলে তা বরফে পরিণত হয়, আবার গরম করলে তা বাষ্পে রূপান্তরিত হয়—এটি একটি পরিচিত ভৌত পরিবর্তন।
- মানুষ দৈনন্দিন জীবনে এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলেও, কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়।
- প্রকৃত বিজ্ঞান বুঝতে হলে পরিমাপের মাধ্যমে বিষয়গুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- কোন তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়,
- কোন তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়,
- এগুলো পরিমাপের মাধ্যমেই নির্দিষ্টভাবে জানা যায়।
- বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পরিমাপের মাধ্যমে ভৌত রাশিগুলোকে নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা।
 
• ভৌত রাশি (Physical Quantity):
- যে সকল রাশির পরিমাপ করা যায় এবং যেগুলোকে সংখ্যা ও এককের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেগুলোকে ভৌত রাশি বলা হয়।
 
• SI পদ্ধতি ও মৌলিক ভৌত রাশি:
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI System) অনুযায়ী মোট সাতটি মৌলিক ভৌত রাশি নির্ধারিত আছে।
 
• SI একক পদ্ধতির মৌলিক ভৌত রাশি, একক ও প্রতীক:
• দৈর্ঘ্য:
- একক: মিটার (meter),
- প্রতীক: m

• ভর:
- একক: কিলোগ্রাম (kilogram),
- প্রতীক: kg

• সময়:
- একক: সেকেন্ড (second),
- প্রতীক: s

• বৈদ্যুতিক প্রবাহ:
- একক: অ্যাম্পিয়ার (ampere),
- প্রতীক: A

• তাপমাত্রা:
- একক: কেলভিন (kelvin),
- প্রতীক: K

• পদার্থের পরিমাণ:
- একক: মোল (mole),
- প্রতীক: mol

• দীপন তীব্রতা:
- একক: ক্যান্ডেলা (candela),
- প্রতীক: cd

• Other Options:
ক) ভোল্ট হলো বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্যের একক।
খ) ওয়াট হলো ক্ষমতার একক।
ঘ) ওহম হলো বৈদ্যুতিক রোধের একক।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৬১.
বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ী করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষা রাখার জন্য আপনি কোন উপায়টি গ্রহণ করবেন?
  1. ক) গাড়ির মধ্যে বসে থাকবেন
  2. খ) কোন গাছের তলায় আশ্রয় নিবেন
  3. গ) বাইরে এসে মাটির উপর শুয়ে থাকবেন
  4. ঘ) বাইরে এসে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন
ব্যাখ্যা
• বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ী করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষা রাখার জন্য আপনি গাড়ির মধ্যে বসে থাকবেন।
- আমাদের দেশে সরকারি নির্দেশনায় গাড়ির ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে।
- বজ্রপাতের সময়ে গাড়ির ভেতরে কোন ধাতব অংশের সাথে যেন স্পর্শ না লাগে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
- বাইরে খোলা জায়গাতে যেতে সরাসরিভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
- যদি কোন বিল্ডিং বা ছাদ বিশিষ্ট গাড়ি আশেপাশে না থাকে তাহলেই কেবল বাইরে শুয়ে পরতে হবে, যেন আশেপাশের সবকিছুর চেয়ে নিজের উচ্চতাটা কম থাকে।
২৬২.
যদি ওভারহেড লাইনের স্যাগ বাড়ানো হয় তবে টেনশন-
  1. ক) বাড়বে
  2. খ) কমবে
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকবে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

Sag:
- এর অর্থ ঝুলে থাকা।
- ট্রান্সমিশন লাইন কতটুকু ঝুলে থাকে তাই হলো স্যাগ।

S = WL2/8T
এখানে,
S = স্যাগ
W = তারের ওজন
L = তারের দৈর্ঘ্য
T = তারের টান

সূত্রানুযায়ী, স্যাগ টান বা টেনশনের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ যদি স্যাগ বাড়ে তাহলে টেনশন কমবে আর স্যাগ কমলে টেনশন বাড়বে।
২৬৩.
শব্দ একপ্রকার-
  1. ক) সাউন্ড
  2. খ) কাজ
  3. গ) ক্ষমতা
  4. ঘ) শক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দ একপ্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৬৪.
অভিকর্ষজ ত্বরণের আদর্শমান কোনটি?
  1. 9.81 ms-1
  2. 9.82 ms-1
  3. 9.81 ms-2
  4. 9.82 ms-2
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g-এর মান তত বাড়তে থাকে।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৫.
ব্যাটারীর ক্যাপাসিটি পরিমাপ করা হয়____ দ্বারা।
  1. ক) Ampere-Hour
  2. খ) Volt
  3. গ) Ampere
  4. ঘ) Weight
ব্যাখ্যা
ব্যাটারী ক্যাপাসিটি: 
- ব্যাটারী ক্যাপাসিটি হলো একটি ব্যাটারীর ধারণক্ষমতা অর্থাৎ একটি ব্যাটারী চার্জিত অবস্থায় সর্বোচ্চ কি পরিমান চার্জ ধারণ করে এবং ডিসচার্জড অবস্থায় কি পরিমান চার্জ ত্যাগ করে।
- এটি ডিসচার্জড অবস্থার সর্বোচ্চ ভোল্টেজ এবং সর্বনিন্ম ভোল্টেজ এর মধ্যবর্তী সময়ে তড়িৎ প্রবাহ থেকে পরিমাপ করা হয়।
- ব্যাটারীর ক্যাপাসিটি পরিমাপ করা হয় mAH বা, AH এককে। AH হলো অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। mAH হলো মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
- একটি ব্যাটারীর ক্যাপাসিটি 200mAH বলতে বুঝায় ঐ ব্যাটারী 200mA এর প্রবাহ 1H ধরে চালনা করতে পারবে।

উৎস: sciencedirect.
২৬৬.
ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. ক্যালরি
  2. ওয়াট 
  3. জুল
  4. নিউটন 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W কাজ করা হয়ে থাকলে ক্ষমতা P হচ্ছে, 
• P = W/t
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। 
- শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। 
- তাই ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট (W) । 
- ক্ষমতার মাত্রা: [P] = [ML2T -3]। 
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে বুঝায়। 
- আবার 100 W এর একটা বাতি জ্বালানর অর্থ এই বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 

অন্যদিকে, 
- ক্যালরি তাপ বা শক্তির একটি পুরোনো একক। 
- জুল কাজ (work) বা শক্তির (energy) আন্তর্জাতিক একক। 
- নিউটন বলের (force) আন্তর্জাতিক একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬৭.
আয়নাতে কাচের পেছনে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. লোহা
  2. রুপা
  3. তামা
  4. পারদ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- আয়নার পশ্চাতে পূর্বে মার্কারি বা পারদ এর প্রলেপ দেওয়া হতো, তবে বর্তমানে সিলভারের প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- অ্যালুমিনিয়ামও কিছুটা কম আলো প্রতিফলিত করতে পারে বিধায় পূর্বে তা ব্যবহার করা হতো। 

আয়না অথবা দর্পণ (Mirror): 
- আয়নায় নিয়মিত প্রতিফলনের কারণে স্পষ্ট প্রতিবিম্বের তৈরি হয়। 
- আয়না তৈরি করার জন্য কাচের পেছনে প্রতিফলনের উপযোগী রূপার প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- কাচের সামনের পৃষ্ঠ থেকে 4% আলো প্রতিফলিত হলেও পেছনের পৃষ্ঠ থেকে পুরো আলো প্রতিফলিত হয় বলে সেটি মূল প্রতিবিম্বটি তৈরি করে। 
- টেলিস্কোপ বা অন্য অপটিক্যাল (Optical) যন্ত্রে যখন মূল প্রতিবিম্বটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয় তখন কাচের উপরেই রূপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া হয় যেন একটি 4% হালকা আরেকটি 96% স্পষ্ট, এ রকম দুটি প্রতিবিম্ব তৈরি না হয়ে একটা 100% স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৮.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে - 
  1. ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৯.
এক্স-রে এক ধরনের-
  1. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
  2. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
-  যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
-  ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বা তড়িৎচৌম্বকীয় ( যেমন, রেডিও , এক্স রে আলো) তরঙ্গ হল অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ। 

এক্স-রে 

- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন। 
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- এক্স-রে এক ধরনের চার্জহীন বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

এক্স-রের ব্যবহার :
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়।
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

-  তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়: 
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে।
-  এক্স-রে যন্ত্রে প্রযুক্ত বিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্স-রে উৎপাদিত হয় তাকে কঠিন এক্স-রে বলে। 
- কম বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে যে এক্স-রে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্স-রে বলে। 

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
২৭০.
নিচের কোনটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীতমুখী হয়ে কাজ করে?
  1. জেনারেটর
  2. সৌর প্যানেল
  3. তাপীয় পাম্প
  4. থার্মোস্ট্যাট
ব্যাখ্যা

একটি তাপ ইঞ্জিন উচ্চ তাপমাত্রা থেকে তাপ গ্রহণ করে কাজ সম্পাদন করে, কিন্তু তাপীয় পাম্প তার বিপরীত কাজ করে। এটি বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো শক্তির সাহায্যে কাজ সম্পাদন করে তাপকে নিম্ন তাপমাত্রা থেকে উচ্চ তাপমাত্রার দিকে স্থানান্তর করে।
-
রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারও একই মূলনীতিতে কাজ করে।

তাপীয় ইঞ্জিন:
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে।
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে।
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে।

অন্যদিকে,
• তাপীয় পাম্প:
- তাপীয় পাম্প (Heat Pump) হলো এমন একটি যন্ত্র যা তাপগতিবিদ্যার নীতির ওপর ভিত্তি করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে। এটি রেফ্রিজারেটর বা এয়ার কন্ডিশনারের মতোই কাজ করে।
- একটি তাপীয় পাম্প যান্ত্রিক কাজ (বিদ্যুৎ) ব্যবহার করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে, যা তাপ ইঞ্জিনের কাজের সম্পূর্ণ বিপরীত।
- অর্থাৎ, তাপ ইঞ্জিন তাপকে কাজে পরিণত করে, আর তাপীয় পাম্প কাজকে তাপ স্থানান্তরে পরিণত করে।

উল্লেখ্য,
- জেনারেটর কোনো তাপীয় যন্ত্র নয়, বরং এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সৌর প্যানেল আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীত নয়।
- থার্মোস্ট্যাট হলো একটি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু নিজে তাপ স্থানান্তর করে না।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭১.
কোন সাল থেকে পৃথিবীতে এস.আই পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
  1. ১৯৪৫
  2. ১৯৫৬
  3. ১৯৬০
  4. ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি: 
- পূর্বে কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয়ের বিভিন্ন একক পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। 
- একই পরিমাপের জন্য প্রচলিত বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এমকেএস (মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড), এফপিএস (ফুট, পাউন্ড, সেকেন্ড) ও সিজিএস (সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড) পদ্ধতি নামে প্রচলিত। 
- দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
অথাৎ, একই রাশি পরিমাপের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক ব্যবহার করা হতো। এককের এই বিভিন্নতার কারণে নানা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯৬০ সাল থেকে পৃথিবীর সমগ্র দেশে একটি সাধারণ পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যাকে এস.আই বা ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিট বলা হয়। 
- এই আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে সকল ভৌত রাশির জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট একক নির্ধারণ করা হয়েছে। 
যেমন: 
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার, 
• ভরের একক কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক সেকেন্ড, 
• তাপমাত্রার একক কেলভিন, 
• বৈদ্যুতিক আধানের একক কুলম্ব, 
• আলোক ঔজ্জ্বল্যের একক ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক মোল। 
- এই এককগুলো বর্তমানে এস. আই পদ্ধতির মৌলিক একক। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২৭২.
নিচের কোনটি নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  3. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৩.
আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) 400 nm থেকে 700 nm
  2. খ) 500 nm থেকে 700 nm
  3. গ) 600 nm থেকে 900 nm
  4. ঘ) 400 nm থেকে 900 nm
ব্যাখ্যা

কোনো তরঙ্গের পরপর দুটি, একই দশা সম্পন্ন কণার মধ্যকার দূরত্বকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (Wave length) বলা হয়।
আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
সব ধরনের আলো আমরা দেখতে পাই না। 
যে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত সেই আলো আমরা দেখতে পাই। 
ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর আলো বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকলে রং পরিবর্তন হতে থাকে।
আই আলোই হচ্ছে দৃশ্যমান আলো। 

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা - ২১৩ - ২১৪, বোর্ড বই। 

২৭৪.
Which train does not touch the rail tracks?
  1. Electric train
  2. Coal powered train
  3. Magnetic train
  4. Diesel train
ব্যাখ্যা
• ম্যাগনেটিক ট্রেন (Magnetic levitation train বা Maglev train) হলো এমন একটি ট্রেন যা চুম্বকের সাহায্যে রেললাইন থেকে একটু উপরে ভেসে চলে। এতে চাকা থাকে না এবং এটি রেললাইন স্পর্শ করে না।

- এটি ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (Magnetic Levitation) প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলে, যেখানে চুম্বকের বিপরীত মেরু একে অপরকে ঠেলে দেয়, ফলে ট্রেনটি রেললাইন থেকে সামান্য উপরে উঠে ভেসে চলে।

• অপশন আলোচনা:
ক) Electric train – এটি বিদ্যুৎচালিত হলেও রেললাইন স্পর্শ করে চাকার মাধ্যমে চলে।

খ) Coal powered train – এটি কয়লা ব্যবহার করে এবং রেললাইন স্পর্শ করে চলে।

ঘ) Diesel train – এটি ডিজেল ব্যবহার করে এবং রেললাইন স্পর্শ করে চলে।

সঠিক উত্তর: গ) Magnetic train

সূত্র: ব্রিটানিকা।
২৭৫.
একটি ব্যাটারিতে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে? 
  1. দুইটি
  2. চারটি
  3. তিনটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
ব্যাটারি: 
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। 
যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 

- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ V, সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০ V । 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি, আবার ২২০ V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৬.
জড়তার ধারণা পাওয়া যায় নিউটনের কোন সূত্র থেকে?
  1. ক) ১ম সূত্র
  2. খ) ২য় সূত্র
  3. গ) ৩য় সূত্র
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
- সূত্রটি জড়তার ধারণা দেয়। 
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।
উদাহরণ:
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৭.
কোন বর্ণের আলোর প্রতিসরণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. নীল
  2. লাল
  3. সবুজ
  4. বেগুনী
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনী আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনী আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
আলো কী ধরণের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে?
  1. ক) তরঙ্গ
  2. খ) কণা
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- তরঙ্গতত্ত্ব অনুসারে আলো তরঙ্গ এবং কণাতত্ত্ব অনুসারে আলো কণা দিয়ে গঠিত৷
- আসলে আলো তরঙ্গ এবং কণা দুই ধরণের বৈশিষ্ট্যই প্রদর্শন করে৷

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
২৭৯.
মানব দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
  2. খ) ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  3. গ) ৩৯.৯° ফারেনহাইট
  4. ঘ) ৯৪.৯° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৬.৯° সেলসিয়াস অর্থাৎ ৯৮.৪° ফারেনহাইট।
মানবদেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২৮০.
শব্দ রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হল-
  1. ক) Barometer
  2. খ) Lactometer
  3. গ) Phonograph
  4. ঘ) Odometer
ব্যাখ্যা
শব্দ রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো - Phonograph.

- ফনোগ্রাফ আবিষ্কার করেন এডিসন। 
- এডিসনের সবচেয়ে মৌলিক উদ্ভাবন ছিল ফোনোগ্রাফ, এটি তার নিজেরও সবচেয়ে পছন্দের প্রযুক্তি ছিলো।
- এটিই ছিল সর্বপ্রথম প্রযুক্তি, যা শব্দ রেকর্ড করে তা পুনরায় শোনাতে সক্ষম হয়।
- ১৮৭৭ সালে এডিসন মেনলো পার্ক ল্যাবে ফনোগ্রাফ আবিষ্কার করেন। 
- পরবর্তীকালে আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেলসহ বেশ ক’জন বিজ্ঞানী ফোনোগ্রাফকে আরো উন্নত করে তোলেন। 

সূত্র: National Park Service [লিঙ্ক]
২৮১.
"ন্যানো" (n) উপসর্গের মান কত?
  1. 10 -9
  2. 10 -6
  3. 10 -12
  4. 10 -15
ব্যাখ্যা
- "ন্যানো" (n) উপসর্গের মান হলো 10-9  । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারবে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮২.
যে ডিভাইস এক ধরনের শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে তাকে কি বলে?
  1. ক) ডায়োড
  2. খ) ক্লিপার
  3. গ) ট্রান্সডিউসার
  4. ঘ) অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
যে যন্ত্র কোন অতড়িৎ সংকেতকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে অথবা তড়িৎ সংকেতকে অতড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তাকে ট্রান্সডিউসার বলে।
- মাইক্রোফোন ও ইয়ারফোন বা স্পিকার উভয়ই এক ধরণের ট্রান্সডিউসার।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
২৮৩.
সাধারণ জ্বর মাপার থার্মোমিটারে কোন তরল ব্যবহৃত হয়?
  1. পানি
  2. পারদ
  3. তেল
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ জ্বর মাপার থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহৃত হয়।

• থার্মোমিটার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুর তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায় তাকে থার্মোমিটার বা তাপমান যন্ত্র বলা হয়।

• থার্মোমিটার বা তাপমান যন্ত্র নির্মাণে এমন পদার্থ ব্যবহার করা হয়, তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে যার কোনো না কোনো ধর্মের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়।
- কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের নানা প্রকার ভৌত গুণাবলীর (Physical properties) উপর নির্ভর করে বিভিন্ন প্রকার থার্মোমিটার তৈরি করা হয়। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তন হয়, তরলের এ ধর্মকে অবলম্বন করে পারদ থার্মোমিটার, অ্যালকোহল থার্মোমিটার প্রভৃতি তরল থার্মোমিটার (Liquid Thermometers) তৈরি হয়েছে।

• জ্বর মাপার জন্য আমরা সাধারণ যে থার্মোমিটার ব্যবহার করি সেটি হলো পারদ থার্মোমিটার।
- এখানে পারদ হচ্ছে তাপমাত্রিক তরল পদার্থ এবং পারদের আয়তনের প্রসারণ হচ্ছে তার তাপমাত্রিক ধর্ম।
- তাপ দেওয়া হলে পারদের আয়তন বেড়ে যায় এবং একটি সরু নল বেয়ে উঠতে থাকে। কতদুর উঠেছে সেটাই হলো তাপমাত্রার পরিমাপ।
- থার্মোমিটারের গায়ে দাগ কাঁটা থাকে যার মাধ্যমে আমরা শরীরের তাপমাত্রার পরিমাণ বুঝতে পারি।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৮৪.
যে লোডের জন্য ফেরান্টি ইফেক্ট আসে, তাকে কি বলে?
  1. ক) ক্যাপাসিটিভ লোড
  2. খ) ইন্ডাকটিভ লোড
  3. গ) রেজিস্টিভ লোড
  4. ঘ) রাব
ব্যাখ্যা
ক্যাপাসিটিভ লোড: যে লোডের কারনে পাওয়ার ফেক্টর বৃদ্ধি পায় তাকে ক্যাপাসিটিভ লোড বলে।

ফেরান্টি ইফেক্ট: 
- তড়িৎ সরবরাহ লাইন এর শেষ প্রান্তে শুরুর প্রান্তের তুলনায় অত্যধিক বিভব সৃষ্টি হলে তাকে ফেরান্টি ইফেক্ট বলে।
- কন্ডাক্টর এর মধ্যে দিয়ে যখন লোড কারেন্ট প্রবাহিত হয় তখন পরিবাহির ধর্মের জন্য চার্জিং কারেন্ট সৃষ্টি হয়। ফলে মোট প্রবাহমাত্রা বাড়তে থাকে।
- এই কারনে প্রবাহের শেষপ্রান্তে উচ্চবিভবের সৃষ্টি হয়। 

যেহেতু ক্যাপাসিটিভ লোডের জন্য পাওয়ার ফেক্টর বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ক্ষমতা বা প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য ফেরান্টি ইফেক্ট তৈরি হয় তাই বলা যায় ক্যাপাসিটিভ লোডের জন্য ফেরান্টি ইফেক্ট হয়।

উৎস: allumiaXengineering[Link]
২৮৫.
স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর প্রাপ্ত বেগ কিসের সমানুপাতিক? 
  1. সময়ের
  2. ভরের
  3. উচ্চতার
  4. দূরত্বের
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): 
- সমত্বরণের একটি পরিচিত উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, যার প্রভাবে যেকোনো বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি ক্রমাগত ত্বরান্বিত বেগে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- এ ধরনের পড়ন্ত বস্তু দেখে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র বের করেন। 
- সূত্রগুলো স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বস্তুর বেলায় ব্যবহার করা যায়। 
সূত্রগুলো হচ্ছে: 
প্রথম সূত্র: স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 
দ্বিতীয় সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক
অর্থাৎ, v ∝ t  । 
তৃতীয় সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৬.
কোনটি তড়িৎ ডাইপোলের ন্যায় আচরণ করে?
  1. CH4
  2. N2
  3. CO2
  4. CO
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক বল (Intermolecular forces) :
- পরমাণুর ন্যায় অণুও তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু এদের মধ্যে ঋণাত্মক আধান ও ধনাত্মক আধানগুলো সুষমভাবে বন্টিত নাও থাকতে পারে। - যে সব অণুর ঋণাত্মক ও ধনাত্মক আধানগুলোর ভরকেন্দ্র একই বিন্দুতে অবস্থান করে তাদেরকে অমেরুবর্তী বা অপোলার (non-polar) অণু বলে।
- অপর দিকে যে সব অণুর ঋণাত্মক ও ধনাত্মক আধানগুলোর ভরকেন্দ্র একই বিন্দুতে অবস্থান করে না তাদেরকে মেরুবর্তী বা পোলার (polar) অণু বলে।
- মেরুবর্তী অণুগুলো তড়িৎ ডাইপোল (electrical dipole) এর ন্যায় আচরণ করে
যেমন: H2O, NH3, HCl, CO ইত্যাদি মেরুবর্তী অণু
- অপরদিকে CH4, CO2, H2, N2 ইত্যাদি অমেরুবর্তী অণুর উদাহরণ। মেরুবর্তী অণুগুলো তার পার্শ্ববর্তী অণুগুলোকে আবেশ প্রক্রিয়ায় আবিষ্ট করে, ফলে এদের মধ্যে আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়। এই বলই আণবিক বল। আণবিক বল খুব অল্প দূরত্বে ক্রিয়াশীল। সেজন্য এই বলকে ক্ষুদ্রসীমার বল (short range force) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৭.
চায়ের কাপে গরম চা রাখলে নিচের কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে?
  1. ক) পাতন
  2. খ) বাষ্পীভবন
  3. গ) শীতলীকরণ
  4. ঘ) ব্যাপন
ব্যাখ্যা
কোনো তরল পদার্থকে তাপ প্রদান করলে ঐ তরলের বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।
যেমন- চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়। এটি বাষ্পীভবনের উদাহরণ। আবার উক্ত বাষ্পকে শীতল করলে তা তরলে পরিণত হয় যাকে ঘনীভবন বলে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২৮৮.
ব্যারোমিটারের চাপ কমে যাওয়া কিসের লক্ষণ?
  1. তুষার
  2. শৈত্যপ্রবাহ
  3. তীব্র গরম
  4. বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

ব্যারোমিটার হল বায়ুর চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র।

ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী টরেসিলি। যে যন্ত্র দিয়ে বাতাসের চাপ মাপা হয় সে যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার।
- বাতাসের চাপ সবসময় স্থির থাকে না। কখনো তা বাড়ে আবার কখনো কমে। এর একমাত্র কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের হ্রাস-বৃদ্ধি।
- বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বাতাসের চাপ কমে যায় এবং তা ব্যারোমিটারে ধরা পড়ে।
- বাতাসের চাপ কমলে বুঝতে হবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাতাসের চাপ বাড়তে থাকলে আবহাওয়া পরিষ্কার হবে।

২৮৯.
CT scan শব্দটির পূর্ণরূপ কী? 
  1. Compact Tomography Scan
  2. Close Tomography Scan
  3. Complete Tomography Scan
  4. Computed Tomography Scan
ব্যাখ্যা
সিটি স্ক্যান (CT scan): 
- সিটিস্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan). 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
- এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 
- সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায। 
- যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
- সিটিস্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পার্শ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
- মাথার সিটিস্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
- সিটিস্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯০.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  3. পেট্রোল 
  4. কয়লা 
ব্যাখ্যা

- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, এই শক্তির উৎস স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল (পেট্রোল), নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯১.
এক্সরে কোনটিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে? 
  1. কাচ
  2. প্লাস্টিক
  3. ফটোগ্রাফিক প্লেট
  4. কাঠ
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার। 
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯২.
Photoelectric Effect ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কোন তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়?
  1. তরঙ্গ তত্ত্ব 
  2.  কণা তত্ত্ব 
  3. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব 
  4. কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার (Photoelectric Effect) ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৩.
X-অক্ষ বরাবর গতিশীল একটি কণার অবস্থান ( x ) সময় (t) এর সাপেক্ষে x = 2 - 5t + 6t2 সমীকরণ অনুসারে পরিবর্তিত হয়। কণাটির আদিবেগ হলো-
  1. ক) 6 ms-1
  2. খ) 3 ms-1
  3. গ) -5 ms-1
  4. ঘ) -3 ms-1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: X-অক্ষ বরাবর গতিশীল একটি কণার অবস্থান ( x ) সময় (t) এর সাপেক্ষে x = 2 - 5t + 6t2 সমীকরণ অনুসারে পরিবর্তিত হয়। কণাটির আদিবেগ হলো-

সমাধান:
বেগ = দূরত্বের পরিবর্তন/সময়ের পরিবর্তন = dx/dt
দেয়া আছে, x = 2 - 5t + 6t2 

∴ dx/dt = d(2 - 5t + 6t2 )/dt
= 0 - 5 + 6 × 2t
= - 5 + 12t

t = 0 সময়ে আদিবেগ পাওয়া যায়।
∴ আদিবেগ = - 5 + 12 × 0
= - 5 ms-1
২৯৪.
অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কাঠ
  2. খ) এলুমিনিয়াম
  3. গ) সোনা 
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা

কাঠের মধ্য দিয়ে তড়িৎ পরিবহনের জন্য কোন মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায়, ইহা বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ বলে। যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

২৯৫.
তাপের এস. আই. একক কোনটি? 
  1. ওয়াট
  2. কেলভিন
  3. জুল
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি বা SI পদ্ধতিতে তাপের একক হলো জুল (J)।

• তাপ:
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- তাপের অন্য একটি ব্যবহারিক একক ক্যালরি। 
- এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

• তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা SI একক কেলভিন। 
- এ ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক হল সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৬.
যেকোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার -
  1. ভোল্টমিটার
  2. অ্যামিটার
  3. গ্যালভানোমিটার
  4. ভেলাটোমিটার
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
- এ প্রবাহ আবার দু'রকম। 
যথা- 
১। এসি প্রবাহ এবং 
২। ডিসি প্রবাহ। 

- কোনো বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের জন্য দরকার এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য। 
- এই বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহকে শ্রেণি ও সমান্তরাল সংযোগ যুক্ত করা যায়। 
- এছাড়া বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য দরকার অ্যামিটার। 
- যেকোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 
- বেগ পরিমাপক যন্ত্র হলো ভেলাটোমিটার। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৯৭.
কোনাে মানুষ শূন্যে ভাসতে পারে না কিন্তু পানিতে ভাসতে পারে। কারণ-
  1. ক) পানির ঘনত্ব বায়ুর ঘনত্বের চেয়ে বেশি
  2. খ) বায়ুর উর্ধ্বমুখী বল পানির উর্ধ্বমুখী বল অপেক্ষা কম
  3. গ) অপসারিত বায়ুর ওজন অপসারিত পানির ওজনের চেয়ে কম
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র থেকে আমরা পাই পানিতে নিমজ্জিত কোন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর হারানো ওজনের সমান। এক্ষেত্রে পানি দ্বারা উপরের দিকে একটি ঊর্ধ্বমুখী বল কাজ করে।
২৯৮.
অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম কোন অঞ্চলে?
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. বিষুবীয় অঞ্চলে
  4. পাহাড়ের উপরে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম এবং মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g -এর মান তত বাড়তে থাকে। 
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-2 । 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2 । 

উৎস:
পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৯.
সেলসিয়াস স্কেলে মৌলিক ব্যবধানকে সমান কতভাগে বিভক্ত করা হয়?
  1. 25 ভাগ
  2. 32 ভাগ
  3. 75 ভাগ
  4. 100 ভাগ
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেল: 
- যে স্কেলে বরফ বিন্দুকে 0° এবং স্টিম বিন্দুকে 100° ধরে মধ্যবর্তী মৌলিক ব্যবধানকে 100 ভাগে ভাগ করা হয়েছে, সেই স্কেলকে সেলসিয়াস স্কেল বলে। 
- সেলসিয়াস স্কেলের এক এক ভাগকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস (1° C) বলা হয়। 
যেহেতু, সেলসিয়াস স্কেলে θice = 0° C, θsteam = 100° C এবং N = θsteam - θice = 100° C - 0° C =  100° C. 
সুতরাং, সেলসিয়াস স্কেলের জন্য সমীকরটির রূপ হলো - 
(θ - 0° C)/100° C = (Xθ - Xice)/(Xsteam - Xice
বা, θ = (Xθ - Xice)/(Xsteam - Xice) × 100° C. 
- সেলসিয়াস স্কেলে থার্মোমিটার দাগাঙ্কের জন্য এই সমীকরণ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩০০.
CNG-এর অর্থ-
  1. কার্বনমুক্ত নতুন পরিবেশ-বান্ধব তেল
  2. নতুন ধরনের ট্যাক্সি ক্যাব
  3. সীসামুক্ত পেট্রোল
  4. কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
সিএনজি: 
- সিএনজি (CNG) এর অর্থ কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- সিএনজি এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Compressed Natural Gas. 
- প্রাকৃতিক গ্যাসকে অতি উচ্চ চাপে সংকুচিত করা হলে প্রাপ্ত নমুনাকে CNG বলে। 
- এটি পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি। 
- বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে যাবাহনসমূহকে সিএনজিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে ২০০১ সালে সিএনজি থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।