বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২২ / ৩৮ · ২,১০১২,২০০ / ৩,৭৪৭

২,১০১.
বাল্বের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত হলে কোন শক্তি সৃষ্টি হয়?
  1. তাপ ও আলোক শক্তি
  2. আলোক ও চৌম্বক শক্তি
  3. তাপ ও শব্দ শক্তি
  4. চৌম্বক ও শব্দ শক্তি
ব্যাখ্যা
• বাল্বের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত হলে তাপ ও আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০২.
একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটারকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে পরিণত করতে হলে এর সাথে কী যুক্ত করতে হবে?
  1. ব্যাটারি
  2. তামার তার
  3. রোধ
  4. ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
• একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটার (Low Range Ammeter) কেবলমাত্র সীমিত পরিমাণ বৈদ্যুতিক প্রবাহ (Current) মাপতে পারে।
-  কিন্তু যদি এই অ্যামিটারকে বেশি কারেন্ট মাপার উপযোগী করতে চাই, তবে তাকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে (High Range Ammeter) পরিণত করতে হবে।

•একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটারকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে পরিণত করতে হলে এর সাথে একটি শাণ্ট রোধ (shunt resistor)  সমান্তরাল সংযোগে যুক্ত করতে হয়।

একটি কম রোধবিশিষ্ট শাণ্ট রোধ সমান্তরালভাবে যুক্ত করা হলে এর ফলে মোট কারেন্টটি দুটি পথে বিভক্ত হয়।
→ বেশিরভাগ কারেন্ট চলে যায় শাণ্ট রোধের মধ্য দিয়ে, আর অ্যামিটারের মধ্য দিয়ে অল্প অংশ যায়।
→ ফলে বেশি রেঞ্জ এ কারেন্ট মাপা যায়।

তথ্যসূত্র: 
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
২,১০৩.
পদার্থ সাধারণত কয়টি অবস্থায় থাকে?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকে।কঠিন, তরল এবং বায়বীয়। এর চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন এবং পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১০৪.
AC কে DC-তে রূপান্তর করতে কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়?
  1. রেকটিফায়ার
  2. মোটর
  3. ডায়নামো
  4. ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা

• AC-কে DC-তে রূপান্তর করতে যা ব্যবহার করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলা হয়। রেকটিফায়ার মূলত বৈদ্যুতিক বর্তমানকে একমুখী ধারায় পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান যেমন ডায়োডের মাধ্যমে কাজ করে। যখন AC প্রবাহ রেকটিফায়ারের মধ্য দিয়ে যায়, তখন এটি শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হয় এবং বিপরীত দিকের কারেন্ট ব্লক হয়ে যায়। ফলে আমাদের কাছে একমুখী DC প্রবাহ পাওয়া যায়। এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং চার্জিং সিস্টেমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ক) রেকটিফায়ার।


• রেকটিফায়ার:
- যে সার্কিট অলটারনেটিং বা AC কারন্টকে ডাইরেক্ট বা DC কারেন্টে রূপান্তর করে তা রেকটিফায়ার।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে।
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না।
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
- এটি মূলত AC কারেন্টকে পালসেটিং DC তে রূপান্তর করে।
- অধিকাংশ ইলেকট্রিক সার্কিট লো- ভোল্টেজ এবং লো-ডি.সি. কারেন্টে চলে।
- এই বিপুল পরিমাণ পাওয়ারের চাহিদা মেটাতে সেল ব্যবহার সাশ্রয়ী নয়।
- তাই এ.সি. কে প্রয়োজনীয় মানে কমিয়ে ডি.সি. তে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।

• রেকটিফায়ার সার্কিটের প্রকারভেদ:
১. হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার (Half Wave Rectifier),
২. ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Full Wave Rectifier),
৩. সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Center Tape Full Wave Rectifier),
৪. ব্রীজ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Bridge Full Wave Rectifier)।

উৎস:
- পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১০৫.
বাদুড়ের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা হলো-
  1. ৪৫,০০০ Hz
  2. ১,০০,০০০ Hz
  3. ৩৫,০০০ Hz
  4. ২০,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 

- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয়, মানুষের শ্রাব্যতার সীমা/পাল্লা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 

- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচে উল্লেখ করা হলো - 

• মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz,
• কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz,
• বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz,
• ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz,
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১,০০,০০০ Hz।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০৬.
নিচের কোনটি কাজের এককের সমতুল্য? 
  1. Jm-1
  2. Nm 
  3. Nm-1
  4. mN-1
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T -2.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।
1 J = 1 Nm.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

২,১০৭.
ক্যালকুলেটরের ডায়ালে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আয়রণ চিপ
  2. খ) কপার চিপ
  3. গ) কার্কা চিপ
  4. ঘ) সিলিকন চিপ
২,১০৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) বিটা রশ্মি ধনাত্মক আধানযুক্ত
  2. খ) আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা বিটার চেয়ে বেশী
  3. গ) গামা রশ্মির ভর নেই
  4. ঘ) জিঙ্ক সালফাইডে আলফা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে না
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
- আলফা রশ্মি দুইটি প্রোটন ও দুইটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত। যা মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে। 
- এর শক্তি 1MeV হতে 9MeV পর্যন্ত হয়। 
- এই রশ্মির তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
- আয়নিত করবার ক্ষমতা অনেক বেশি। 
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
- জিঙ্ক সালফাইডে আলফা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে। 

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

গামা রশ্মির ধর্ম: 
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এবং এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল গামা রশ্মি নির্গত করে থাকে।
- এটি নির্গমনের সাথে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো ভর নেই।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,১০৯.
ফটো- ইলেকট্রিক কোষে শক্তির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

- ফটো- ইলেকট্রিক কোষে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,১১০.
নিউক্লিয়ার ফিশনে কী ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. পারমাণবিক শক্তি 
  2. তড়িৎ শক্তি 
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission): 
- কোনো ভারী নিউক্লিয়াসকে (A>230) সঠিক গতির নিউট্রন বা ফোটন দিয়ে আঘাত করে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে প্রায় সমান অংশে বিভক্ত করে প্রচণ্ড পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে নিউক্লীয় বিভাজন বা নিউক্লিয় ফিশান বলে। 
- ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায়। এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে। 
যেমন- 


নিউক্লীয় ফিউশন বা সংযোজন (Nuclear Fusion): 
- একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস একসঙ্গে জুড়ে অপেক্ষাকৃত বড়ো এবং ভারী একটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে নিউক্লীয় সংযোজন বলা হয়। 
- নিউক্লীয় সংযোজনকে নিউক্লীয় বিভাজনের বিপরীত ঘটনা বলা যায়। 
- দুটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ দুটি প্রোটনের মধ্যে সংযোজনের সম্ভাবনা খুবই কম। 
- নিউক্লীয় সংযোজনের সহজতম উদাহরণ হলো দুটি ডিউটেরন (deuteron)-এর সংযোজন। 

- এছাড়া হাইড্রোজেনের আর একটি আইসোটোপ ট্রিটিয়াম এর নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ ট্রাইটন (triton) এর সঙ্গে ডিউটেরনের সংযোজনের সম্ভাবনাও খুব বেশি। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১১.
কোনটির কার্যপ্রণালিতে তাড়িত চৌম্বক আবেশকে ব্যবহার করা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. মোটর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফর্মারের - কার্যপ্রণালিতে তাড়িত চৌম্বক আবেশকে ব্যবহার করা হয়। 

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বকীয় আবেশ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চবিভবকে নিম্নবিভবে এবং নিম্নবিভবকে উচ্চবিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলা হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বা তাড়িতচৌম্বক আবেশের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। 

• ট্রান্সফর্মার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।যথা-
- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।

২,১১২.
Sound waves cannot travel through which medium?
  1. Air 
  2. Water 
  3. Iron 
  4. Vacuum 
  5. Steel
ব্যাখ্যা

- শব্দ তরঙ্গ হলো যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার বিস্তারের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাস) প্রয়োজন। শব্দ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কণার কম্পনের মাধ্যমে শক্তি স্থানান্তর করে। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো কণা বা পদার্থ থাকে না, তাই সেখানে কম্পন সৃষ্টির মতো কিছুই থাকে না, ফলে শব্দ চলাচল করতে পারে না। 

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি জাগায়। 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ। 
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দু থেকে অন্য স্থান বা বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১৩.
পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) কেপলার
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। এ ধরনের পড়ন্ত বস্তু দেখে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র বের করেন। সূত্রগুলাে স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বস্তুর বেলায় ব্যবহার করা যায়। সূত্রগুলাে হচ্ছে:
প্রথম সূত্রঃ স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
দ্বিতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∞ t
তৃতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, h ∞ t2
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১১৪.
খুব দূরের কোন কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনার জন্য কোন ধরনের ফ্রিকোয়েন্সির সাহায্য নিতে হয়?
  1. UHF
  2. VHF
  3. LF
  4. HF
ব্যাখ্যা
LF (Low Frequency) বা নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো:

⇒এরা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে দিয়ে যেতে পারে (ground wave propagation)।
⇒এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্বে ছড়াতে সক্ষম।
⇒ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ: ৩০ কিলোহার্জ (kHz) থেকে ৩০০ কিলোহার্জ (kHz)।
⇒এই জন্য, খুব দূরের কেন্দ্রের রেডিও অনুষ্ঠান শোনার জন্য LF ফ্রিকোয়েন্সি সবচেয়ে কার্যকরী।

অন্যদিকে, 
 UHF (Ultra High Frequency):
⇒ ৩০০ MHz – ৩ গিগাহার্জ। 
⇒ এটির খুব বেশি দূর যেতে পারে না, মূলত টিভি, মোবাইল, Wi-Fi ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

 VHF (Very High Frequency):
⇒ ৩০ MHz – ৩০০ MHz
⇒ মাঝারি দূরত্বে অনেক কার্যকর, কিন্তু অনেক বেশি দূরে তেমন কার্যকর নয়।

 HF (High Frequency):
⇒ ৩ MHz – ৩০ MHz
⇒ এটি আকাশ তরঙ্গ (sky wave) হিসেবে অনেক দূরে যেতে পারে, তবে LF-এর তুলনায় কম স্থির ও কম নির্ভরযোগ্য।

তথ্যসূত্র: 
-  HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, ড. শাহজাহান তপন। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)।
-  NASA: Radio Communication Basics
২,১১৫.
নিচের কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে নিউটনের তৃতীয় সূত্র ব্যাখ্যা দেওয়া যায়?
  1. একটি বস্তুর ভর 
  2. দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
  3. সময়ের সাথে বেগ পরিবর্তন 
  4. শক্তির রূপান্তর 
ব্যাখ্যা

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ব্যাখ্যা করা যায় (খ)। এই সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান মানের কিন্তু বিপরীত দিকের একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও একই সঙ্গে প্রথম বস্তুর ওপর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে। সংঘর্ষের সময় এই ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়। যেমন, দুটি বল পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেলে উভয়ই একে অপরের ওপর বল প্রয়োগ করে এবং উভয়ের গতি বা দিক পরিবর্তিত হয়।
 
নিউটনের তৃতীয় সূত্র ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল: 
- নিউটনের প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্র একটি বস্তুর গতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা প্রদান করে। 
- নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে- " প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে"। 
যেমন- 

১। মাটির উপর দাঁড়ানো: 
- মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষটি স্থির থাকে। কারণ, মানুষটির ওজনের সমান একটি বল নীচের দিকে মাটির উপর ক্রিয়া করে। নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, মাটিও নীচ হতে মানুষটির উপর বল প্রয়োগ করে। এখানে, মানুষটির ওজন ও মাটি দ্বারা প্রযুক্ত প্রতিক্রিয়া বল পরস্পর সমান ও বিপরীত হওয়ায় সাম্যের সৃষ্টি করে। মানুষ দ্বারা মাটির উপর প্রযুক্ত বল ক্রিয়া বল এবং মাটি মানুষটির উপর যে বল প্রয়োগ করে তা প্রতিক্রিয়া বল। 

২। আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে যা হয়: 
- আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে, নৌকাটি পেছনে চলে যায়। কারণ আরোহী লাফ দেবার সময় নৌকার উপর বল প্রয়োগ করে ফলে নৌকাটি পিছনে সরে যায়। 
- নৌকাটি নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, আরোহীর উপর একটি সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে যা আরোহীকে সামনের তীরের দিকে লাফিয়ে পড়তে সাহায্য করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১৬.
পানিতে আলোর আপেক্ষিক প্রতিসাংরক কত?
  1. ১.৩৩
  2. ১.৫২
  3. ১.৪৪
ব্যাখ্যা
• পানিতে আলোর আপেক্ষিক প্রতিসাংরক ১.৩৩ (প্রায়)।

ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে আলোর প্রতিসারংক:
- শূন্য মাধ্যমে - ১.০০। 
- পানি - ১.৩৩। 
- সাধারণ কাচ- ১.৫২। 
- হীরা - ২.৫২। 
- কেরোসিন - ১.৪৪। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২,১১৭.
দৃশ্যমান আলোর তুলনায় গামা রশ্মির শক্তি প্রায় কত গুণ বেশি? 
  1. ৫০ গুণ 
  2. ৫০০ গুণ
  3. ৫,০০০ গুণ
  4. ৫০,০০০ গুণ
ব্যাখ্যা

এক্স রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে 10-8 m পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গসমূহকে বলা হয় X-ray বা এক্স রশ্মি। 
- বিজ্ঞানী উলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। তার নাম অনুসারে এই রশ্মিকে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। 
- গামা রশ্মি থেকে এর কম্পাঙ্ক কম বলে এর শক্তিও অপেক্ষাকৃত কম। 
- এই রশ্মি মানুষের দেহের নরম অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু হাড় বা টিউমার জাতীয় শক্ত টিস্যুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই এই রশ্মির সাহায্যে ফটো তুলে দেহের ভেতরের হাড় এবং টিউমার সনাক্ত করা হয়। 

গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray । 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে গামা রশ্মির শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য অতিবেগুনি রশ্মি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১৮.
আমরা যখন কথা বলি তখন শব্দশক্তি রূপান্তরিত হয়-
  1. ক) তড়িৎ শক্তিতে
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. গ) আলোক শক্তিতে
  4. ঘ) গতি শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল-

- আমরা যখন কথা বলি তখন শব্দশক্তি রূপান্তরিত হয় যান্ত্রিক শক্তিতে।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান এবং একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই (দ্বিতীয় পত্র)।
২,১১৯.
সূর্যের আলোতে মোট কতটি রঙ থাকে?
  1. ৫ টি 
  2. ৬ টি
  3. ৭ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা

আলোর বিক্ষেপণ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যে: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাত রঙের (লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, আসমানী ও বেগুনি) আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- এ আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়। 
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২,১২০.
নিউটনের সাথে স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাসের উন্নয়নের জন্য কাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়?
  1. আইনস্টাইন
  2. ডেমোক্রিটাস
  3. প্যাসকেল
  4. লিবনিজ
ব্যাখ্যা
• ক্যালকুলাসে নিউটন ও লিবনিজের অবদান: 
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 
- লিবনিজ এবং নিউটন উভয়ই ১৭শ শতাব্দীর শেষের দিকে ক্যালকুলাসের মৌলিক ধারণাগুলি বিকাশ করেছিলেন, কিন্তু তাদের পদ্ধতি এবং নোটেশন আলাদা ছিল।
- তাই, নিউটনের সাথে স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাসের উন্নয়নের জন্য লিবনিজকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২১.
Which of the following acts as a moderator in a nuclear reactor?
  1. Graphite
  2. Ordinary water
  3. Cadmium rod
  4. Liquid sodium
  5. Uranium-235
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে ফিশন বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিসম্পন্ন নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য যে পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাকে মডারেটর বলে। ভারী জল (D2O) বা গ্রাফাইট মডারেটর হিসেবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
- নিউট্রনের গতি কমলে তা পরবর্তী ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে একটি নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর:
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়।
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।

• মডারেটর:
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং ২। গ্রাফাইট।

অন্যান্য অপশন:
- ক্যাডমিয়াম দণ্ড: এটি অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণের জন্য 'কন্ট্রোল রড' হিসেবে কাজ করে।
- তরল সোডিয়াম: এটি রিঅ্যাকটরে উৎপন্ন প্রচণ্ড তাপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য 'শীতলকারক' বা কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
- ইউরেনিয়াম-২৩৫: এটি রিঅ্যাকটরের মূল জ্বালানি (Fuel) যা ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২২.
মাইক্রো উপসর্গ বা গুণিতকের মান কোনটি?
  1. 10-12
  2. 10-9
  3. 10-15
  4. 10-6
ব্যাখ্যা
উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারবে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২৩.
৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘন্টা করে ৩০ দিন জ্বালানো হয়। প্রতি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা হলে মোট তড়িৎ ব্যয় কত?
  1. ক) ৯০ টাকা
  2. খ) ৮৫ টাকা
  3. গ) ১০৫ টাকা
  4. ঘ) ৭৫ টাকা
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,১২৪.
সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. অডিওমিটার 
  2. ক্রনোমিটার 
  3. ম্যানোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,১২৫.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  2. খ) এটি সরল রৈখিক গতি
  3. গ) ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্যঃ
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,১২৬.
নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসে কেন?
  1. পৃষ্ঠটান
  2. প্লবতা
  3. তলীয়টান
  4. স্থিতিস্থাপকতা
ব্যাখ্যা
• তলটান বা পৃষ্ঠটান কারণে নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।

• তলটান
বা পৃষ্ঠটান:
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
- পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারনে।

• পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা।
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• স্থিতিস্থাপকতা:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, যে ধর্মের ফলে বস্তুটি এই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং বাহ্যিক বল অপসারিত হলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও আয়তন ফিরে পায়, সেই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।
- কঠিন, তরল, গ্যাসীয় সব পদার্থের মধ্যেই এই ধর্ম কম বেশী আছে।

• প্লবতা:
- নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে প্লবতা বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২৭.
বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে?
  1. ক) তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
  2. খ) ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
  3. গ) সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
  4. ঘ) অলৌকিকভাবে
ব্যাখ্যা
বাদুড় ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শােনার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- বাদুড় এই শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মাধ্যমে অন্ধকারে চলাফেরা করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান - ৮ম শ্রেণি
২,১২৮.
কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলো-
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টামিটার
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
আধানের অস্তিত্ব সনাক্তকরণ (Detection of Charge): 
- কোনো বস্তুতে আধানের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বস্তুটিকে একটি অনাহিত স্বর্ণপাত তড়িৎ বীক্ষণ যন্ত্রের গোলাকার ধাতব চাকতিতে স্পর্শ করতে হবে। 
- স্পর্শ করলে যদি স্বর্ণপাত দুটি ফাঁক হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে বস্তুটিতে আধান আছে আর যদি পাত দুটি ফাঁক না হয় তাহলে বুঝতে হবে বস্তুটিতে আধান নেই। 
- কোনো বস্তুতে চার্জ বা আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলাে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র। 
- তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে আধানের প্রকৃতিও নির্ণয় করা যায়। 

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা পরিমাপ করে। 

অণুবীক্ষণ যন্ত্র: 
- অণুবীক্ষণ যন্ত্র অতি ক্ষুদ্র বস্তু পর্যবেক্ষণ করে। 

ভোল্টামিটার: 
- ভোল্টামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিভব পার্থক্য, বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা ও বৈদ্যুতিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২৯.
6Ω, 8Ω ও 9Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে:
  1. 23 Ω
  2. 20 Ω
  3. 0.8 Ω
  4. 1.4 Ω
ব্যাখ্যা

• 6Ω, 8Ω ও 9Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে: 23 Ω

দেওয়া আছে, 
রোধ, R1 = 6Ω, 
রোধ, R2 = 8Ω এবং 
রোধ, R3 = 9Ω 

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 6Ω + 8Ω + 9Ω 
= 23Ω 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩০.
চোখের মধ্যে উত্তল ও স্বচ্ছ অংশের নাম কী?
  1. কর্নিয়া
  2. আইরিশ 
  3. রেটিনা
  4. শ্বেতমন্ডল
ব্যাখ্যা

চোখ: 
- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়। 
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক। 
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল। 
- শ্বেত মন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া। 
- শ্বেত মন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল। 
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়। 
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে। 
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

২,১৩১.
রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো-
  1. দর্পণের কাজ করে
  2. আতষীকাচের কাজ করে
  3. লেন্সের কাজ করে
  4. প্রিজমের কাজ করে
ব্যাখ্যা
- রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে। 
- প্রিজমে সাদা আলো পতিত হলে তা সাতটি বর্ণে বিশ্লিষ্ট হয়। 
যথা: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল, একে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
- বৃষ্টির ফোটায় সূর্যের আলো পড়লে তা প্রিজমের নেয় কাজ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৩২.
নিচের কোনটি অর্ধ-পরিবাহী নয়?
  1. সিলিকন
  2. জার্মেনিয়াম
  3. গ্যালিয়াম আর্সেনাইড
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী:
- অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি আপেক্ষিক রোধের কয়েকটি পদার্থ আছে সেগুলোকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর। যেমন-জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী।
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই সেমিকন্ডাক্টর চিহ্নিত করা হয় না।
- কেননা কিছু সংকরও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু সেগুলো সেমিকন্ডাক্টর নয়।

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:

- এর আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।
- এতে কোনো অপদ্রব্য মিশালে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় (0K, শূন্য কেলভিন) এরা অপরিবাহী।
- একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- দু প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বৃদ্ধি করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- এদের পরিবহণ ও যোজনব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর কম।

• জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী হলেও অ্যালুমিনিয়াম অর্ধপরিবাহী নয়, বরং এটি একটি পরিবাহী পদার্থ।

তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।

২,১৩৩.
১০০ W এর একটি বাতি জ্বালানোর অর্থ- 
  1. ১০০ সেকেন্ডে ১ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
  2. মোট ১০০ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
  3. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ নিউটন বল প্রয়োগ হচ্ছে
  4. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা: 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার।
অর্থাৎ, t সময়ে W পরিমাণ কাজ করা হলে ক্ষমতা P হবে, P = W/t. 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। তাই বলা যায়, ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। 
- কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে- ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে, [P] = ML2T -3
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে বলা হয় 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
- 100 W এর একটা বাতি জ্বালানোর অর্থ হচ্ছে বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩৪.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' ধারণাটি প্রথম কোন বিজ্ঞানী দেন? 
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. নিকোলাস কোপার্নিকাস 
  3. বিজ্ঞানী গ্যালিলিও 
  4. জোহান কেল্লার 
ব্যাখ্যা

নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার (১৫৭১-১৬৩০) গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
- গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

আইজ্যাক নিউটন: 
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩৫.
শব্দ কতটা জোরে হচ্ছে বা আস্তে হচ্ছে সেটি নিচের কোনটি থেকে বুঝা যায়? 
  1. ক) গুণ 
  2. খ) জাতি 
  3. গ) তীব্রতা 
  4. ঘ) তীক্ষ্ণতা 
ব্যাখ্যা
সুরযুক্ত শব্দের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকে । যথা-

১। তীব্রতা বা প্রাবল্য (Intensity)
২। তীক্ষ্ণতা (Pitch)
৩। গুণ বা জাতি (Quality) 

শব্দের প্রাবল্য বা তীব্রতা: প্রাবল্য বা তীব্রতা বলতে শব্দ কতটা জোরে হচ্ছে তা বুঝায়। শব্দ বিস্তারের অভিমুখে লম্বভাবে কল্পিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ শব্দ শক্তি প্রবাহিত হয় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে। শব্দের প্রাবল্য যত বাড়বে শব্দ তত জোরালো হবে।     
২,১৩৬.
কোনো যন্ত্রের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক্তিকে সরাসরি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. অ্যামপ্লিফায়ার
  2. মাইক্রোফোন
  3. ইলেকট্রিক মোটর
  4. লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা

লাউড স্পিকার বৈদ্যুতিক শক্তি থেকে প্রাপ্ত অডিও সিগনালকে তড়িৎচুম্বকীয় নীতি ব্যবহার করে যান্ত্রিক কম্পনের মাধ্যমে সরাসরি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- লাউডস্পিকারের মূল নীতি হলো তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction)। এটি ফ্লেমিং-এর বাম হস্ত নীতি (Fleming's Left-Hand Rule) অনুসারে কাজ করে।

• বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩৭.
তড়িৎ প্রবাহের একক কোনটি? 
  1. ক্যান্ডেলা 
  2. অ্যাম্পিয়ার 
  3. সিমেন্স
  4. কুলম্ব 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

অন্যদিকে, 
- দীপন ক্ষমতার একক ক্যান্ডেলা। 
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স। 
- আধানের একক কুলম্ব। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩৮.
কোনটি অর্ধ-পরিবাহী নয়?
  1. গ্যালিয়াম
  2. জার্মেনিয়াম
  3. লোহা
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা
১. পরিবাহী : যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়। যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী। পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায়ঃ ১০-৮ Ωm ক্রমের। রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক। পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।

২. অপরিবাহী : যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাচ, কাঠ, রাবার, প্লাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ। অপরিবাহী পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা খুব কম এবং আপেক্ষিক রোধের মান অত্যন্ত বেশি।

৩. অর্ধপরিবাহী : যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে।
যেমনঃ জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ ১০-৪ Ωm থেকে ১০-২ Ωm ক্রমের।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
২,১৩৯.
মানুষের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা কত? 
  1. ২০ থেকে ২০০০ হার্জ
  2. ২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ
  3. ২০ থেকে ৩৫,০০০ হার্জ
  4. ৫০ থেকে ৫০,০০০ হার্জ
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা: 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- সকল কম্পনশীল বস্তুর শব্দ মানুষ শুনতে পাই না। 
- যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টির কম কম্পন দিয়ে সৃষ্টি হয়, তা মানুষেরা শুনতে পাই না, এরকম শব্দকে শ্রুতিপূর্ব শব্দ বলা হয়। 
- আবার প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দকেও মানুষ শুনতে পাই না, একে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলা হয়। 
সুতরাং মানুষের জন্য শ্রাব্যতার সীমা হলো প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পন দিয়ে সৃষ্ট শব্দ। 
- প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু যতটা কম্পন দেয় তাকে বলা হয় ঐ বস্তুর কম্পাঙ্ক। 
- এই কম্পাঙ্ক প্রকাশের একক হলো হার্জ (Hertz)। 
- কোনো বস্তু সেকেন্ডে ২০ বার কাঁপলে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ, ২০,০০০ বার কাঁপলে ২০,০০০ হার্জ। 
সুতরাং মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ, এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে। 
- কোনো কোনো প্রাণী ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়। 
যেমন- কুকুরের এই ক্ষমতা আছে। পুলিশ অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের হুইসেল ব্যবহার করে যা কুকুর শুনতে পায় কিন্তু মানুষ শুনতে পায় না। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অতিশব্দ (শ্রুতি-উত্তর শব্দ ব্যবহারকারী) যন্ত্রের একটি হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম। এ যন্ত্র ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের সাহায্যে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,১৪০.
অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে কী বলা হয়?
  1. পরমাণুকরণ
  2. তেজস্ক্রিয়তা
  3. আয়নন
  4. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাই তেজস্ক্রিয়তা নামে পরিচিত।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
- কিছু পরমাণুর নিউক্লিয়াস স্বাভাবিকভাবে অস্থিতিশীল হয়।
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়।
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনের বিন্যাসের ভারসাম্য নষ্ট হলে তেজস্ক্রিয়তা দেখা দেয়।
- নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ছোট হলেও এতে পরমাণুর প্রায় সমগ্র ভর কেন্দ্রীভূত থাকে।
- নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্ব মূলত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাগত সম্পর্কের উপর নির্ভর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,১৪১.
ফোটন কণিকার বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. এর গতি শূন্য
  2. এর কোনো ভর নেই
  3. এর ভর আছে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলো (Light): 
- আলো এক প্রকার দৃশ্যমান শক্তি, এই শক্তি সূর্য থেকে আসে। 
- আর আলোক শক্তির কারণেই সব কিছু দেখতে পাওয়া যায়। 
অর্থাৎ, আলো এক প্রকার শক্তি বা বাহ্যিক কারণ যা চোখে প্রবেশ করে আমাদের দর্শনের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 

আলোর প্রকৃতি (Nature of Light): 
- বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, গতিশীল চার্জযুক্ত কণিকা দ্বারা আলোর বিকিরণ হয়। 
- আলো কখনো কণিকা আবার কখনো তরঙ্গ। 
- কণিকাগুলোকে বলা হয় ফোটন, কিন্তু বস্তু কণা থেকে এর ভিন্নতা হলো এর কোন ভর নাই এবং সব সময় শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি ৩০০,০০০ কি.মি/সে। 
- যখন আলো কোনো বস্তুর কিনারায় বাঁধাগ্রস্থ হয়ে বেঁকে যায় অর্থাৎ বিচ্ছুরণ ঘটে, তখন তরঙ্গের মতো ধর্ম প্রদর্শন বা আচরণ করে। 

আলোর বৈশিষ্ট্য: 
- আলোর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. আলো হচ্ছে এক প্রকার শক্তি। 
২. আলো সরলরেখায় বা সরলপথে গমন করে। 
৩. আলো কখনও কণিকা আবার কখনও তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়। 
৪. আলো হলো উচ্চ মাত্রার বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ। 
৫. আলো অত্যন্ত দ্রুত চলে যা সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার অতিক্রম করে। 
৬. আলো কম ঘন মাধ্যম থেকে বেশি ঘন মাধ্যমে অধিক বেগে চলে। 
৭. আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন এবং বিচ্ছুরণ ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪২.
আলফা কণিকা কী দ্বারা গঠিত?
  1. দুটি ইলেকট্রন ও একটি প্রোটন
  2. দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
  3. একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন
  4. একটি নিউট্রন ও দুটি ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
• আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি।
- ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব।
- এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44 × 10-12J পর্যন্ত হয়।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β -কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ -কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৩.
নিউটন মিটারকে আর কী নামে বলা হয়?
  1. ওয়াট 
  2. জুল 
  3. প্যাসকেল 
  4. ক্যালরি
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪৪.
নিচের কোনটি গ্রিন এনার্জি?
  1. খনিজ তেল
  2. কয়লা
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রিন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন:
- সমুদ্রস্রোত,
- বায়ুপ্রবাহ,
- সৌর শক্তি,
- ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে, অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- নিউক্লীয় শক্তি,
- প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৫.
আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. জোহান কেপলার
  2. ভাস্কর
  3. ইবনে আল হাইয়াম
  4. আল খোয়ারিজমি
ব্যাখ্যা
•  প্রাচীনকাল থেকে শুরু হওয়া পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা  শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে।  এর মাঝে অনেকে নানাবিধ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। 

→ জোহান কেপলার সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ ব্যাখ্যা করে তিনটি গানিতিক সূত্র প্রদান করেন।

→ ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন

→ মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর খোয়ারিজমির  নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয় । তার লেখা আল জাবির থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 

অন্যদিকে,
• ইবনে আল হাইয়াম (Ibn al-Haytham), যিনি পশ্চিমা বিশ্বে Alhazen নামে অধিক পরিচিত।  তাঁকে আধুনিক অপটিক্স বা আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে গণ্য করা হয়
- তিনি ১০ম শতাব্দীর একজন মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক, যিনি আলো, প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Kitab al-Manazir” (The Book of Optics)-এ তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোর ধর্ম নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। এই গ্রন্থটি পরবর্তীতে ইউরোপে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে "De Aspectibus" নামে পরিচিত হয় এবং এটি বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের জন্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ছিল। 


তথ্যসূত্র:
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান, প্রথম পত্র।
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
২,১৪৬.
নিচের কোন জোড় রাশির মাত্রা একই?
  1. ক) বল ও কাজ
  2. খ) কাজ ও শক্তি
  3. গ) বল ও টর্ক
  4. ঘ) কাজ ও ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
বলের মাত্রা MLT-2
কাজের মাত্রা ML2T-2
শক্তির মাত্রা ML2T-2
টর্কের মাত্রা ML2T-2
ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3

∴ কাজ, শক্তি ও টর্কের মাত্রা একই

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৪৭.
মোবাইল ফোনের ব্যাটারি এক প্রকার -
  1. প্রাইমারি কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. শুষ্ক কোষ
  4. ড্যানিয়েল কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
- যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
- প্রাথমিক কোষের চার্জ একবার শেষ হিয়ে গেলে আর ব্যাবহার করা যায় না। যেমন : পেন্সিল ব্যাটারি।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 
- সেকেন্ডারি বা সঞ্চয়ী কোষ চার্জ দিয়ে বারবার ব্যাবহার করা যায়। যেমন : চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে গ্যালভানিক কোষ। 
- এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল এবং সরল ভোল্টায়িক কোষ। 

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৪৮.
নিচের কোন ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্র AC থেকে DC তৈরি করতে পারে?
  1. ক) Diode
  2. খ) Transistor
  3. গ) JET
  4. ঘ) FET
ব্যাখ্যা
- রেকটিফায়ার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহকে (AC), একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহে (DC) রূপান্তরিত করে, যার দিক হলো একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে একমুখীকরন (রেকটিফিকেশন)।

- অ্যামপ্লিফায়ার এর সরল বাংলা অর্থ হতে পারে পরিবর্ধক বা শক্তিবর্ধক। এটি এমন একটি বৈদ্যুতিক ডিভাইস যা কোনও ইনপুট সিগন্যালের কারেন্ট বা শক্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

- ট্রানজিস্টর (Transistor) একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র, যা সাধারণত অ্যামপ্লিফায়ার এবং বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- ডায়োড মূলত একটি নির্দিষ্ট দিকের তড়িৎ প্রবাহকে সহায়তা করে এবং তার বিপরীত দিকের তড়িৎ প্রবাহকে বাধা প্রদান করে। এই ধরনের একদিকে প্রবাহিত করার প্রবণতাকে রেকটিফিকেশন বলা হয়ে থাকে যা এসি কারেন্ট থেকে ডিসি কারেন্টে তৈরি এবং রেডিও সংকেতের মর্মোদ্ধারের প্রথম ধাপ।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।
২,১৪৯.
একটি ট্রান্সফরমারের মুখ্য ও গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যার অনুপাত ২০:১। যদি গৌণ কুন্ডলীতে বিভব ১১V হয় তবে মুখ্য কুন্ডলীতে কত বিভব পাওয়া যাবে?
  1. ক) ১১০V
  2. খ) ২২০V
  3. গ) ২৫০V
  4. ঘ) ৩২০V
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
Ep/Es = np/ns
বা, Ep/Es = ২০/১
বা, Ep = ২০×Es
= ২০×১১
= ২২০

২,১৫০.
কোনো বস্তুকে মেরু থেকে বিষুবীয় অঞ্চলের দিকে আনলে ওজন এর কিরূপ পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) একই থাকে
  4. ঘ) শূন্য হয়
ব্যাখ্যা
- মেরু থেকে বিষবীয় অঞ্চলে ত্বরণের মান কম। বস্তুর ওজন ত্বরণের সমানুপাতিক অর্থাৎ যেখানে ত্বরণ বেশি সেখানে ওজন বেশি হবে।
তাই মেরুতে ওজন বেশি এবং বিষুবীয়তে ওজন কম।
- তাই মেরু থকে বিষুবীয়তে গেলে বস্তুর ওজন কমবে।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
২,১৫১.
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে -
  1. ক) ট্রান্সজিস্টর
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) তড়িৎ মোটর
ব্যাখ্যা
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৫২.
নিচের কোনটি ব্যাটারির সাধারণ অংশ নয়?
  1. ক) অ্যানােড
  2. খ) ক্যাথােড
  3. গ) সার্কিট
  4. ঘ) ইলেকট্রোলাইট
ব্যাখ্যা
ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। একটি অ্যানােড, একটি ক্যাথােড এবং মাঝখানে ইলেকট্রোলাইট। উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
২,১৫৩.
বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) স্টিফেন হকিংস
  3. গ) জেমস্ ওয়াট
  4. ঘ) হেনরিক মার্জ
ব্যাখ্যা
জেমস ওয়াট ১৭৬৯ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।
২,১৫৪.
বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কোন ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়? 
  1. চল ঘর্ষণ 
  2. প্রবাহী ঘর্ষণ 
  3. স্থিতি ঘর্ষণ 
  4. আবর্ত ঘর্ষণ 
ব্যাখ্যা

ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা - 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ: 
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাঁধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 
- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,১৫৫.
নিচের কোনটি মৌলিক একক নয়?
  1. ক) কেলভিন
  2. খ) ভোল্ট
  3. গ) অ্যাম্পিয়ার
  4. ঘ) ক্যানডেলা
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশিঃ যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে। মৌলিক রাশি সাতটি। যেমনঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা (Luminous Intensity) ও পদার্থের পরিমাণ।
মৌলিক এককঃ মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। যেমনঃ দৈর্ঘ্যের একক- মিটার, ভর- কিলোগ্রাম, সময়- সেকেন্ড, তাপমাত্রা/উষ্ণতা- কেলভিন, তড়িৎ প্রবাহ- অ্যাম্পিয়ার (Ampere), দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা, পদার্থের পরিমাণ- মোল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫৬.
ট্রানজিস্টরে কয়টি টার্মিনাল থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে।
- যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর।
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৫৭.
ডায়োডের প্রধান ব্যবহার কোনটি?
  1. ভোল্টেজ বৃদ্ধি করতে 
  2. একমুখীকরণে 
  3. রেজিস্টর হিসেবে 
  4. ট্রানজিস্টরের বিকল্প হিসেবে 
ব্যাখ্যা

p-n জাংশন বা ডায়োড: 
- p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে সম্মুখী ঝোঁকে। 
- একটি p- টাইপ এবং একটি n- টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করলে সংযোগ পৃষ্ঠকে p-n জাংশন বলে। 
- একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অংশ p- বা n- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য এবং অপর অংশে যথাক্রমে n- বা p- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- p-n জাংশন মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একধরনের আধান বাহক অনায়েসে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু বিপরীতধর্মী বাহক প্রবাহিত হতে পারেনা। 
- p-n জাংশনকে জাংশন ডায়োড বলে। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ একমুখীকরণে এবং অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে p-n জাংশন বা ডায়োডের বহুল ব্যবহার রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫৮.
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ ব্যবহার করা হয় এ ধরনের কোষে কত ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়?
  1. ০.২ ভোল্ট
  2. ১.৫ ভোল্ট
  3. ৫০-৬০ ভোল্ট
  4. ২২০ - ২৪০ ভোল্ট
ব্যাখ্যা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কাজে শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ ব্যবহার করা হয়। এ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দণ্ড ব্যবহার করা হয়।
এ ধরনের কোষে ১.৫ ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,১৫৯.
আপেক্ষিক তাপের একক কোনটি?
  1. JkgK-1
  2. JK-1
  3. Wm-1K-1
  4. Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা

• আপেক্ষিক তাপের একক হলো Jkg-1K-1.

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):
- একই পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
- যেমন ০.৫ kg পানির তুলনায় ৫ kg পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতা তুলনা করতে একক ভর ধরা হয়।
- ১ kg ভরের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা ১ K বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপকে ইংরেজি s অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• উদাহরণ:
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 অর্থাৎ ১ kg সীসার তাপমাত্রা ১ K বাড়াতে ১৩০ J তাপ প্রয়োজন।

• বিভিন্ন পদার্থের আপেক্ষিক তাপ (Jkg-1K-1):
- পানি → 4200,
- বরফ → 2100,
- জলীয় বাষ্প → 2000,
- তামা → 400,
- রূপা → 230,
- সীসা → 130,
- মাটি → 800 থেকে 1400,
- বায়ু → 700 থেকে 1000.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬০.
একই রকম প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হয়, তখন কী ধরনের তরঙ্গ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) অগ্রগামী তরঙ্গ
  2. খ) দীঘল তরঙ্গ
  3. গ) স্থির তরঙ্গ
  4. ঘ) আড় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে।
একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

২,১৬১.
শব্দের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন
  2. খ) শব্দের সঞ্চালন অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গাকারে মাধ্যমের সবদিকে হয়
  3. গ) শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন হয়
  4. ঘ) শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে না
ব্যাখ্যা
শব্দের বৈশিষ্ট্যঃ শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা) ওপর নির্ভর করে। শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন হয়। বায়ু বা যে কোন জড় মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করলে তা শুধু একদিকে নয় অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গাকারে (গোলকাকৃতিকভাবে) সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
২,১৬২.
জিওথার্মাল শক্তির প্রধান উৎস কী?
  1. সূর্যের তাপশক্তি
  2. বায়ুর গতি
  3. ভূগর্ভস্থ তাপ
  4. সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা
ব্যাখ্যা

◉ জিওথার্মাল এনার্জি (Geothermal Energy) হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে সংরক্ষিত তাপশক্তি, যা মূলত গলিত শিলা (magma), গরম পানি ও বাষ্প থেকে পাওয়া যায়।

জিওথার্মাল এনার্জি: 
- জিওথার্মাল এনার্জি হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপশক্তি, যা প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে রান্না, স্নান, ঘর গরম রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপ এবং তেজস্ক্রিয় উপাদানের ক্ষয়ের ফলে এই তাপ উৎপন্ন হয়। এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- পৃথিবীতে বিদ্যমান মোট জিওথার্মাল শক্তির পরিমাণ বিশ্বের বর্তমান জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ শক্তিকে ব্যবহার করা প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং। 
- তবুও, এটি জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের বিপরীতে একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২,১৬৩.
শব্দের তীক্ষ্ণতা প্রধানত কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. শব্দের অনুরণন
  2. শব্দের কম্পাঙ্ক
  3. শব্দের তীব্রতা
  4. শব্দের প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
শব্দের তীক্ষ্ণতা: 
- যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে কোন সুর চড়া বা সরু এবং কোন সুর মোটা বা খাদের তা বুঝা যায় তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে। 
- শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে। 
- কপাঙ্ক যত বেশি হবে শব্দের তীক্ষ্ণতা তত বৃদ্ধি পাবে। 
- ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা বেশি ও বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা কম। 
- পুরুষ অপেক্ষা মহিলা ও শিশুদের কন্ঠস্বরের কম্পাঙ্ক বেশি বলে তাদের স্বরও চড়া হয়। 
- মনে রাখতে হবে তীক্ষ্ণতা কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক হলেও দুটি এক জিনিস নয়। 
- কম্পাঙ্ক হলো যান্ত্রিক আন্দোলন যা নিখুঁতভাবে মাপা যায় আর তীক্ষ্ণতা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি। 
- কম্পাঙ্ক কারণ, আর তীক্ষ্ণতা তার ফল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৪.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্লুঅন 
  2. গ্রাভিটন 
  3. ফোটন 
  4. Z বোসন 
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
 
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
 
অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

২,১৬৫.
ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে তৈরী করা হয়-
  1. ক) ENIAC
  2. খ) IBM
  3. গ) ORPANET
  4. ঘ) INTRANET
ব্যাখ্যা
1946 সালে 1800 ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে ENIAC নামে প্রথম কম্পিউটার তৈরী হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৬৬.
মরীচিকার ক্ষেত্রে নিচের কোন আলোকীয় ঘটনাটি লক্ষ্য করা যায়?
  1. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  2. ব্যাতিচার
  3. অপবর্তন
  4. বিচ্ছুরণ
ব্যাখ্যা

আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয়, তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণভাবে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এ ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।
আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দায়ী -
- হীরার ঔজ্জ্বল্যের জন্য
- মরুভূমির মরিচীকার জন্য
- পদ্ম পাত্র ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে তা চকচক করার জন্য
সূত্র: মাধমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,১৬৭.
সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কী?
  1. ক্রেসকোগ্রাফ
  2. সেক্সট্যান্ট
  3. ক্রনোমিটার
  4. অলটিমিটার
ব্যাখ্যা

• সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম - ক্রনোমিটার।

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্নায়ক যন্ত্র - ক্রেসকোগ্রাফ।
- বিমানের উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র - অলটিমিটার।
- কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করার যন্ত্র হল-  সেক্সট্যান্ট।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,১৬৮.
বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর জন্য কোন বৈজ্ঞানিকের অবদান সবচেয়ে বেশি?
  1. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  2. আইজ্যাক নিউটন
  3. টমাস এডিসন
  4. ভোল্টা
ব্যাখ্যা
- টমাস এডিসন বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছিলেন।
- তিনি বৈদ্যুতিক বাল্ব উদ্ভাবন করেন এবং বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য একটি কার্যকর বৈদ্যুতিক গ্রিড সিস্টেম চালু করেন।
- এর ফলে বিদ্যুৎ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।

অন্যদিকে,
- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন: বিদ্যুতের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ প্রবাহের বিষয়টি আবিষ্কার করেন।
- আইজ্যাক নিউটন: তার কাজ মূলত পদার্থবিজ্ঞান ও মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ছিল, বিদ্যুৎ ব্যবহারে তার সরাসরি অবদান নেই।
- ভোল্টা: তিনি ব্যাটারি উদ্ভাবন করেছিলেন, যা বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারে বিদ্যুতের প্রসারে তার ভূমিকা সীমিত।
তাই, বিদ্যুৎকে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে টমাস এডিসনের অবদান সবচেয়ে বেশি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,১৬৯.
পানি কত ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফোটে?
  1. ১০০°F
  2. ১০০°C
  3. ১২০°F
  4. ১২০°C
ব্যাখ্যা
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 
 
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৭০.
Minimum distance for clear vision of an object -
  1. 25 m
  2. 2.5 cm
  3. 25 mm
  4. 25 cm
ব্যাখ্যা
দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব: 

- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম বা নিকটতম দূরত্ব বলে। 
- কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- চোখের লেন্স থেকে ২৫ সে.মি. দূরবর্তী বিন্দুতে স্থাপিত বস্তুটিকে সুন্দর সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। 
- এর থেকে কম দূরত্বে স্থাপিত বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭১.
বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তি কিসে পরিণত হয়?
  1. শব্দ শক্তিতে
  2. রাসায়নিক শক্তিতে
  3. যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. পারমাণবিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- রেলগাড়ি চলে বাষ্পিয় ইঞ্জিনের বা ইলেকট্রিক শক্তির সাহায্যে। 
- আবার, তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালনা করা হয়। 
অর্থাৎ, বাষ্পীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়। 
 - বাষ্পকে আবার বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালনা করা ছাড়াও আরো অনেক কাজে ব্যবহার করে থাকি। 
যেমন - বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন চালনা করা যায়। এ টারবাইন ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৭২.
একটি আহিত বস্তুর চারপাশের যে অঞ্চলে তার প্রভাব থাকে তাকে কী বলা হয়? 
  1. তড়িৎ প্রাবল্য
  2. তড়িৎ বিভব
  3. তড়িৎ ক্ষেত্র
  4. তড়িৎ দ্বিমেরু
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ক্ষেত্র: 
একটি আহিত বস্তুর চারপাশে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে অর্থাৎ অন্য কোনো আহিত বস্তু আনা হলে সেটি আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল লাভ করে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে। 

তড়িৎ বিভব: 
- অসীম থেকে প্রতি একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে। 

তড়িৎ দ্বিমেরু: 
- এক জোড়া সমান ও বিপরীত বিন্দু আধান অল্প দূরত্বে অবস্থিত থাকলে তাকে তড়িৎ দ্বিমেরু বলে। 

তড়িৎ প্রাবল্য: 
- তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি একক ধনাত্মক আধান স্থাপন করলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ প্রাবল্য বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,১৭৩.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. ক) বিভব
  2. খ) তাপমাত্রা
  3. গ) বল
  4. ঘ) ত্বরণ
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি:
কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না।

যৌগিক বা লব্ধ রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ।
- যে গুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৪.
একটি পাত্রে ১ লিটার পানি নিয়ে ১০ মিনিট তাপ দেয়ার পর পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। আরো ৩ মিনিট তাপ প্রয়োগ করলে পানির তাপমাত্রা কত ডিগ্রি বৃদ্ধি পাবে?
  1. ক) ১০০ ডিগ্রি
  2. খ) ৫০ ডিগ্রি
  3. গ) ০ ডিগ্রি
  4. ঘ) ২৫ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাই পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পর যতই তাপ প্রয়োগ করা হোক না কেন পানির তাপমাত্রা আর বৃদ্ধি পাবে না।
এই অতিরিক্ত প্রযুক্ত তাপ তরল পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করে।
তবে পানির উপরে চাপ বৃদ্ধি করলে এর স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। যেমন প্রেসার কুকারে পানি ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে।
২,১৭৫.
নিচের কোনটি ফ্রেয়ন নামে পরিচিত? 
  1. CClF3
  2. CCl2F2
  3. CCl2F4
  4. CCl3F4
ব্যাখ্যা
ফ্রেয়ন: 
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাঁপা নলের কুণ্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুণ্ডলী বলে। 
- এই কুণ্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়। 
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন (CCl2F2)। 
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে।
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
- এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকীটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে ফলে শীতলীকরণ ঘটে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৬.
To hear an echo, the minimum distance between the source and the reflector must be:
  1. 16.6 meters
  2. 15 meters
  3. 12.6 meters
  4. 8 meters
  5. 20 meters
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৭.
নিচের কোনটির ভেদন ক্ষমতা সবথেকে বেশি?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মি চার্জ নিরপেক্ষ অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে এই রশ্মির ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি। স্বল্প আয়নায়ন ক্ষমতা সম্পন্ন, এই রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে ও ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর কোন ভর নেই।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বাের্ড বই।

২,১৭৮.
মৌলিক রাশি কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা

যে সকল রাশি পরিমাপের জন্য অন্য রাশির সাহায্য দরকার হয় না বা অন্য রাশি পরিমাপের জন্য যে রাশিগুলাে দরকার হয় সেইসব রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
মৌলিক রাশি সাতটি।
যথাঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই

২,১৭৯.
ট্যাকোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে নিম্নের কোনটি নির্ণয় করা হয়?
  1. বায়ুর গতিবেগ
  2. তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব
  3. সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ
  4. উড়োজাহাজের গতি
ব্যাখ্যা
ট্যাকোমিটার:
- কোনাে ঘূর্ণন যন্ত্রের গতি পরিমাপের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ট্যাকোমিটার (Techometer)।
- এটি সাধারণত রেভোলিউশনস পার মিনিট (RPM) হিসেবে গতি পরিমাপ করে।
- ট্যাকোমিটারের সাহায্যে উড়োজাহাজের গতি নির্ণয় করা যায়।

অন্যদিকে -
- আনেমোমিটার: সাধারণত বায়ুর গতিবেগ মাপা হয় নট (knot) নামক একক দিয়ে। ১ নট = ১.৮২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। সাধারণত অ্যানিমোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর গতিবেগ পরিমাপ করা হয়।
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার। বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।

উৎস: Britannica.
২,১৮০.
টেলিফোনের আবিষ্কারকের নাম কী?
  1. ক) লজি বেয়ার্ড
  2. খ) গ্রাহাম বেল
  3. গ) ওপেন হেইমার
  4. ঘ) মাদাম কুরী
ব্যাখ্যা
১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। 

- টেলিফোনে পাঁচটি উপাংশ পাঁচটি। যথা- সুইচ, রিংগার, কী প্যাড, মাইক্রোফোন এবং স্পিকার। 
- টেলিফোন মানুষের মুখের কথা তাত্ক্ষণিক প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- টেলিফোন একটি ইংরেজি শব্দ। টেলি অর্থ দূর এবং ফোন অর্থ ধ্বনি।

সূত্র- ৩৭৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,১৮১.
কোথায় বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম?
  1. ভূ-পৃষ্ঠে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভরশীল। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর আদর্শমান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সেই স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুবীয় (নিরক্ষীয়) অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে কম তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে বেশি তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,১৮২.
একটি বাল্বে "30W - 120V" লেখা আছে। রোধ কত?
  1. 806.67 Ohm
  2. 16.67 Ohm
  3. 480 Ohm
  4. 320 Ohm
ব্যাখ্যা
R = V2/P = 1202/30 = 120 ×120/30 = 480 Ohm
২,১৮৩.
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির ডিজিটাল সংকেতের স্তরগুলো কীভাবে উপস্থাপন করা হয়?
  1. ০ এবং ১
  2. উচ্চ এবং নিম্ন
  3. সত্য এবং মিথ্যা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system) এবং 
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system) । 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- ডিজিটাল সংকেত একটি বিশেষ ধরনের সংকেত যা একটি নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মান ধারণ করে। এই সংকেতের মধ্যে অন্য কোনো স্তর বা মধ্যবর্তী মান থাকে না। 
- এই ধরনের সংকেতকে চৌকো তরঙ্গ (square waves) বলা হয়, কারণ এটি কেবল দুটি স্তরের (উচ্চ এবং নিম্ন) মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।
- ডিজিটাল সিগন্যালের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের পরিবর্তে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহৃত হয়।
- ইলেকট্রনিক্সে এই ধরনের সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারি (binary) সংকেত বলা হয়।
- ডিজিটাল সংকেতের জন্য, দুটি আলাদা অবস্থায় কাজ করা যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ট্রানজিস্টরের সচল (on) বা অচল (off) অবস্থা দ্বারা এই সংকেতকে বোঝানো সম্ভব।
- এছাড়াও, প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি, অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা এবং অচৌম্বকায়িত অবস্থা ব্যবহার করেও ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটি চিহ্নিত করা যায়।
- ডিজিটাল সংকেতের দুটি স্তরকে সাধারণত 0 এবং 1, সত্য এবং মিথ্যা, অথবা উচ্চ এবং নিম্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি জনপ্রিয় ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৪.
কোন পদার্থটির আপেক্ষিক তাপ বেশি?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. মাটি
  3. তামা
  4. পানি
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত পদার্থগুলোর মধ্যে পানির আপেক্ষিক তাপ বেশি।

• আপেক্ষিক তাপ:
- 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে।
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg- 1K- 1.
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 kg- 1K- 1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130J তাপের প্রয়োজন।
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়।

• নিচে কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ উল্লেখ করা হলো:
- পানির আপেক্ষিক তাপ 4200 Jkg- 1K- 1.
- জলীয় বাষ্পের আপেক্ষিক তাপ 2000 Jkg- 1K- 1.
- রূপার আপেক্ষিক তাপ 230 Jkg- 1K- 1.
- মাটির আপেক্ষিক তাপ 800 থেকে 1400 Jkg- 1K- 1.
- বরফের আপেক্ষিক তাপ 2100 Jkg- 1K- 1.
- তামার আপেক্ষিক তাপ 400 Jkg- 1K- 1.
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg- 1K- 1.
- বায়ুর আপেক্ষিক তাপ 700 থেকে 1000 Jkg- 1K- 1.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৫.
বাল্বের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত হলে কোন শক্তি সৃষ্টি হয়?
  1. আলোক ও চৌম্বক শক্তি
  2. তাপ ও আলোক শক্তি
  3. চৌম্বক ও শব্দ শক্তি
  4. তাপ ও শব্দ শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি: কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৬.
জেনারেটর হচ্ছে -
  1. ক) তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
  3. গ) রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
ব্যাখ্যা

যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্রকে জেনারেটর বলে।
তড়িৎ চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়।
জেনারেটর দুই ধরনের হয়ে থাকে।
যেমন, ডি. সি. জেনারেটর ও এ. সি.জেনারেটর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,১৮৭.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি হতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে কত তাপের প্রয়োজন?
  1. ক) ৫ ক্যালরি
  2. খ) ১০ ক্যালরি
  3. গ) ১৫ ক্যালরি
  4. ঘ) ১.৫ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
আমরা জানি এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়াতে ১ ক্যালরি তাপের প্রয়োজন।
তাহলে, এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ (৩০ ডিগ্রি হতে ৪০ ডিগ্রি) ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে ১০ ক্যালরি তাপের প্রয়োজন।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৮৮.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক (frequency) প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কি?
  1. ক) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার বদ্ধ হয়
  2. খ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
  3. গ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
  4. ঘ) প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার উঠানামা করে
ব্যাখ্যা
যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)।
বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৮৯.
পানিতে কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা না যাওয়ার কারণ কী?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর প্রতিফলন
  3. আলোর বিক্ষেপণ
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
• আলো:
- আলো এক প্রকার শক্তি বা বাহ্যিক কারণ যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে 3 × 108 মিটার, বা ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল এবং কিলোমিটারে আলোর গতি ৩ লাখ কিলোমিটার।
- সূর্য হতে পৃথিবীর দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য হতে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগবে ৫০০ সেকেন্ড বা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
- আলো এক সেকেন্ডে যায় ৩,০০,০০০ কিলোমিটার। আলো এই গতিতে চলে এক বছরে অর্থাৎ ৩৬৫ দিনে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাই হলো এক আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ হলো প্রায় ৯.৪৬ × ১০১৫ মিটার বা ৯.৪৬ × ১০১২ কিলোমিটার।

• আলোর প্রতিসরণ:
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয় তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে।
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে।
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না।

• আলোর প্রতিফলন:
- আলোক রশ্মি যখন কোন স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে এসে অন্য এক মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হয়, তখন ওই আলোক রশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমের তল থেকে দিক পরিবর্তন করে আবার প্রথম মাধ্যমের ফিরে আসে, একে আলোর প্রতিফলন বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৯০.
এক্স রে মূলত-
  1. ধনাত্মক আধান যুক্ত
  2. ঋণাত্মক আধান যুক্ত
  3. আধান নিরপেক্ষ
  4. কখনো ধনাত্মক, কখনো ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা
• এক্স-রে:
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান।
- এক্স-রে আদান নিরপেক্ষ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে।
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৯১.
গামা রশ্মির বেগ কত? 
  1. শূন্য
  2. শব্দের বেগের সমান 
  3. আলোর বেগের সমান 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 
- গামা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
- গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯২.
একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু যে পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে কী বলে?
  1. ক) আর্দ্রতা
  2. খ) বায়ুচাপ
  3. গ) স্থিরাঙ্ক
  4. ঘ) ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা

বায়ু তার ওজনের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের উপর যে চাপ প্রয়োগ করে তাই বায়ুচাপ।
একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু যে পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুচাপ বলে।
বায়ুচাপের একক হল প্যাসকেল।

বায়ুচাপ দুই প্রকার। যথাঃ
১। বায়ুর নিম্নচাপ উষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়, ২। বায়ুর উচ্চচাপ সাধারণত ঠাণ্ডা এলাকায় দেখা যায়।
বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ও যুগান্তর পত্রিকা (ব্যাখ্যা)

২,১৯৩.
পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) স্ফুটন
  2. খ) পাতন
  3. গ) পরিস্রাবণ
  4. ঘ) ক্লোরিনেশন
ব্যাখ্যা
সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলােঃ

পরিস্রাবণঃ পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশনঃ যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটনঃ পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতনঃ যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৯৪.
কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. দশা
  4. বিস্তার
ব্যাখ্যা
• কম্পাঙ্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
- কম্পাঙ্কের একক s- 1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণার একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল T বলে।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড।

• বিস্তার:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে।

• দশা:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে।

উৎস: 
১. পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।
২,১৯৫.
শব্দকে যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলা হয় কেন?
  1. কারণ শব্দ মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে
  2. কারণ শব্দ কণার স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়
  3. কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
  4. কারণ শব্দ কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে
ব্যাখ্যা

• শব্দ যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এটি মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে স্পন্দনের দিকের সমান্তরালে অগ্রসর হয়।

• শব্দ:
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ এর সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দ এক প্রকার অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এতে মাধ্যমের কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল।
- বস্তুর কম্পন থেকে শব্দের উৎপত্তি হয়।
- কম্পন বন্ধ হলে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়।

• শব্দের উৎপত্তি:
- কোনো বস্তুতে আঘাত করলে বা কম্পন সৃষ্টি করলে তার চারপাশের মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দিত হয়।
- এই স্পন্দনের ফলে মাধ্যমের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়।
- সংকোচন অংশে কণাগুলো ঘনভাবে অবস্থান করে এবং প্রসারণ অংশে কণাগুলো তুলনামূলকভাবে দূরে সরে যায়।
- এই সংকোচন ও প্রসারণ ক্রমান্বয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- মাধ্যমের কণাগুলো তাদের সাম্য অবস্থানের আশেপাশে সামনে-পেছনে স্পন্দিত হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয় না।
- শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো নিজ অবস্থান ত্যাগ করে না।

• শব্দের সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- উৎসে কম্পন সৃষ্টি হলে সংলগ্ন বায়ু স্তরে কম্পন শুরু হয়।
- এই কম্পন অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- বায়ু, তরল বা কঠিন মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে।
- মাধ্যম না থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।
- শব্দ তরঙ্গ কানে প্রবেশ করলে কর্ণঝিল্লিতে কম্পন সৃষ্টি করে।
- কর্ণঝিল্লির কম্পন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে।

• শব্দের বৈশিষ্ট্য:
- এটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- এটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- এটি শক্তি পরিবহন করে।
- এটি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়।
- শব্দের সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম অপরিহার্য।

• অন্যান্য অপশন:
- মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে: তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়: অনুপ্রস্থ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে: শব্দ কঠিন, তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে চলতে পারে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

২,১৯৬.
p-n সংযোগ বা ডায়োডকে কী বলা হয়?
  1. ক) রেকটিফায়ার
  2. খ) অ্যামপ্লিফায়ার
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
p-n সংযোগ বা ডায়োড একমুখীকরণ হিসাবে কাজ করে।
তাই p-n সংযোগ ডায়োডকে রেক্টিফায়ার বলা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৯৭.
Which material exhibits the highest electrical conductivity?
  1. Platinum
  2. Copper
  3. Gold
  4. Aluminum
  5. Silver
ব্যাখ্যা
• পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, 
I ∝ V 
বা, I = GV 
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens)। একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশী তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশী। 
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশী। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 

- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। 
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৮.
বায়ুর তাপমাত্রা 1k বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হবে?
  1. ক) 0.6 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
  2. খ) 0.6 ms-1 হ্রাস পাবে।
  3. গ) 1.2 ms-1 বৃদ্ধি পাবে।
  4. ঘ) অপরিবর্তিত থাকবে।
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।

কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২,১৯৯.
আলোক রশ্মি একবিন্দুতে মিলিত হয় -
  1. ক) উত্তল লেন্সে
  2. খ) অবতল লেন্সে
  3. গ) গোলীয় দর্পনে
  4. ঘ) সমতল দর্পনে
ব্যাখ্যা
- উত্তল লেন্সের প্রান্তভাগ সরু ও মধ্যভাগ মোটা।
- অবতল লেন্সের প্রান্তভাগ মোটা ও মধ্যভাগ সরু। 
- আলোক রশ্মি একবিন্দুতে মিলিত হয় উত্তল লেন্সে।
- অবতল লেন্সে আলোকরশ্মি পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
২,২০০.
কোন তত্ত্বের সাহায্যে বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করার ধারণা ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. ক) আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. খ) থিওরি অব রিলেটিভিটি
  3. গ) ফটো তড়িৎ ক্রিয়া
  4. ঘ) ওয়েব পার্টিকেল ডুয়ালিটি
ব্যাখ্যা
- আলাের বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমানা
- 1905 সালে ভৌত রাশি এবং পরিমাপ অইিনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
- থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E=mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানাে হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।