বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২১ / ৩৮ · ২,০০১২,১০০ / ৩,৭৪৭

২,০০১.
পানির অপেক্ষা সোনা কতগুণ ভারি?
  1. ১৭ গুণ
  2. ১৮ গুণ
  3. ১৯ গুণ
  4. ২০ গুণ
ব্যাখ্যা
- এটি খুব ঘন।
- যদি পানির ঘনত্ব 1 g/cc হয় তাহলে সোনার ঘনত্ব পানির চেয়ে 19.3 গুণ বেশি।
- প্রতি গ্যালনে পানির ওজন প্রায় ৮.৩ পাউন্ড।
- তাই সোনার ওজন 19.3 গুণ বেশি বা (19.3 x 8.3 পাউন্ড) প্রতি গ্যালনে প্রায় 160 পাউন্ড। 
- পানি অপেক্ষা সোনা 19 গুণ ভারী। 
- তামা পানি অপেক্ষা 9 গুণ ভারী। 
২,০০২.
কোন বস্তুর বেগ দ্বিগুণ হলে এর ভরবেগ কত গুণ বৃদ্ধি পাবে?
  1. ক) দ্বিগুণ
  2. খ) চারগুণ
  3. গ) আটগুণ
  4. ঘ) নয়গুণ
ব্যাখ্যা

ভরবেগ হলো কোনো গতিশীল বস্তুর ভর ও বেগের গুণফল।
তাই বস্তুর বেগ দ্বিগুণ হলে এর ভরবেগও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।

২,০০৩.
১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে কত শক্তি ব্যয় হয়?
  1. ১০০ জুল
  2. ৬০ জুল
  3. ৬০০০ জুল
  4. ৩৬০০০০ জুল
ব্যাখ্যা
এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনাে তড়িৎ যন্ত্রে মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন বাতি জ্বললে আলােক শক্তি বা পাখা ঘুরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট x ১ ঘণ্টা
অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলােওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়।

এক কিলােওয়াট ঘণ্টা কতটুকু শক্তি সেটাও বের করা যায়।
১ কিলােওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট x ৩৬০০ সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ জুল
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল।

অর্থাৎ,
১০০o ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = ৩,৬০,০০০০ জুল
তাহলে, ১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = ৩,৬০,০০০ জুল

আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলােওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বাের্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলে। আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশােধ করি তা এই এককেই হিসাব করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, এনসিটিবি।
২,০০৪.
বায়ুমণ্ডলের চাপের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি লিফট পাম্পের সাহায্যে সর্বোচ্চ যে গভীরতা থেকে উঠানো যায়-
  1. ক) ১ মিটার
  2. খ) ১০ মিটার
  3. গ) ১৫ মিটার
  4. ঘ) ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা
Under ideal conditions the pressure of the air at sea level is enough to raise a column of water 10.3 m (34 ft) in a vertical pipe in which a perfect vacuum has been made.
Source: World Health Organization (WHO) Document on Pumps
২,০০৫.
বিগ ব্যাং এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে -
  1. ক) সময়
  2. খ) শক্তি
  3. গ) স্থান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তরীণ বিপুল তাপ ও চাপের কারণে প্রচন্ড শব্দে ডিম্বাকার বস্তুর মহাবিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের এই মহাবিশ্ব আর এটাই বিগ ব্যাং তত্ত্ব‌।
এর ফলে সৃষ্টি হয় সময়, স্থান, শক্তি ও পদার্থ।
• এর কারণে সৃষ্ট খণ্ডগুলো হলো- গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, ধূমকেতু ইত্যাদির যা প্রতিনিয়ত পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
• ১৯২৭ সালে এই তত্ত্ব প্রকাশ করে বিজ্ঞানী জি ল্যামেটার।
• এইজন্য তাকে বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বলা হয়।
• বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। তিনি একজন ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী।
২,০০৬.
পেরিস্কোপ কোন নীতির কারণে কাজ করে?
  1. আলোর ব্যতিচার
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২,০০৭.
কোন নীতির উপর ভিত্তি করে মিটার ব্রিজ তৈরি করা হয়?
  1. শক্তির সংরক্ষণ নীতি
  2. আধানের সংরক্ষণ নীতি
  3. হুইটস্টোন ব্রিজ নীতি
  4. ভরবেগের সংরক্ষণ নীতি
ব্যাখ্যা
মিটার ব্রিজ: 
- যে যন্ত্রে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের একটি তারকে কাজে লাগিয়ে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা হয় তাকে মিটার ব্রিজ বলে। 
- মিটার ব্রিজ হুইটস্টোন ব্রিজের একটি ব্যবহারিক রূপ। 
- মিটার ব্রিজের সাহায্যে কোনো পরিবাহীর রোধ নির্ণয় করা হয় এবং তা থেকে পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,০০৮.
সমান আয়তনের লোহা ও কাঠের মধ্যে লোহার ভর বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. লোহার ঘনত্ব কম
  2. লোহার ঘনত্ব বেশি
  3. লোহার আয়তন বেশি
  4. লোহার বেগ বেশি
ব্যাখ্যা

• লোহার ঘনত্ব বেশি — লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট থাকায় সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

• ঘনত্ব:
- কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে ঘনত্ব বলা হয়।
- গাণিতিকভাবে, ρ = m/V.
- এখানে ρ → ঘনত্ব, m → ভর, V → আয়তন।
- SI একক → kg·m-3

• ঘনত্বের ধারণা:
- সমান আয়তনের ভিন্ন বস্তুর ভর ভিন্ন হতে পারে।
- যে বস্তুর কণাগুলো অধিক সন্নিবিষ্ট থাকে তার ঘনত্ব বেশি।
- লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট।
- তাই সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

২,০০৯.
তাপ প্রয়োগ করলে চুম্বকের চুম্বকত্ব-
  1. ক) হ্রাস পায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কখনো বৃদ্ধি পায় কখনো হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
Heat

Heat will reduce the magnetic force of a magnet. Heat speeds up the rate at which the particles within the magnet move. When they move faster, they move more sporadically and misalign. In order for a magnetic to be a magnetic most of the magnetic molecules must be facing the same direction, so that each end of the magnet has opposite charges. When the particles begin moving faster the polar molecules move around as well and not as many of them will end up facing the same direction. This results in a decrease in the magnetism of the magnet
source:usmagnetix.com

২,০১০.
নিচের কোনটি বল পরিমাপের একক নয়?
  1. ডাইন
  2. পাউন্ডাল
  3. পাউন্ড-ওজন
  4. মোল
ব্যাখ্যা

- বল পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো নিউটন
এছাড়া আরো কিছু অপ্রচলিত একক রয়েছে, যেমন- ডাইন, পাউন্ডাল, পাউন্ড-ওজন, গ্রাম-ওজন, কিলোগ্রাম-ওজন।
- পদার্থের পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো মোল।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,০১১.
কম্পটন ক্রিয়ায় আলোর কোন ধর্ম প্রকাশ পায়?
  1. ক) তরঙ্গ ধর্ম
  2. খ) কণা ধর্ম
  3. গ) তরঙ্গ ও কণা ধর্ম
  4. ঘ) উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে। কিভাবে আলো উৎপত্তি হয়, কিভাবে আলো সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে কিভাবে আমাদের চোখে আসে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত মোট চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো হলো :
১) কণা তত্ত্ব (Corpuscular Theory)
২) তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory)
৩) তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব (Electromagnatic Theory)
৪) কোয়ান্টাম তত্ত্ব (Quantum Theory)

আলোর দ্বৈত প্রকৃতি:
আধুনিক তত্ত্ব অনুসারে, আলোর তরঙ্গ এবং কণিকা উভয় ধর্মই বিদ্যমান। আরও ব্যাপকভাবে বলা যায় সব বস্তুরই কণা এবং তরঙ্গ ধর্ম বিদ্যমান। বিভিন্ন পরীক্ষণ থেকে দেখা যায় আলো ও বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত করা যায়। বস্তুর ভর বেশি হলে সহজেই তার কণা ধর্ম প্রকাশ পায়।

-কম্পটন প্রভাব কে যাকে কম্পটন স্ক্যাটারিংও বলা হয়।
-এক্স-রে এবং অন্যান্য শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধি যা ইলেক্ট্রন দ্বারা স্থিতিস্থাপকভাবে বিক্ষিপ্ত হয়েছে; এ উপায়ে দীপ্তিময় শক্তি পদার্থে শোষিত হয়।
-প্রভাবটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম ভিত্তি হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।
- যা বিকিরণের পাশাপাশি পদার্থের তরঙ্গ এবং কণা উভয় বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২,০১২.
কোনটি মৌলিক পদার্থ?
  1. ক) চিনি
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) পানি
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
যে সব পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলে ওই পদার্থ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায়না তাদেরকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলা হয়। এ পর্যন্ত মোট ১১৮টি মৌল চিহ্নিত হয়েছে যার মধ্যে ৯৪টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকী ২৪টি কৃত্রিম উপায়ে তৈরী করা হয়। যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন। উৎসঃ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
২,০১৩.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'সমুদ্রস্রোত' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 
- এই 'সমুদ্রস্রোত' নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৪.
নিচের কোন রাশিটি শুধু মান দ্বারাই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়?
  1. ক) মন্দন
  2. খ) দ্রুতি
  3. গ) সরণ
  4. ঘ) বেগ
ব্যাখ্যা
- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ন রুপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন : সরণ, বেগ, ওজন, ত্বরণ, মন্দন ইত্যাদি।
শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তনে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 

- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন : দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর ইত্যাদি।
শুধু মানের পরিবর্তনে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,০১৫.
বলবৃদ্ধিকরণ নীতি কোন সূত্রের সাহায্যে প্রতিপাদন করা হয়েছে?
  1. প্যাসকেলের সূত্র
  2. নিউটনের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. কুলম্বের সূত্র
ব্যাখ্যা

- বলবৃদ্ধিকরণ নীতি প্যাসকেলের সূত্র থেকে এসেছে।

• প্যাসকেলের সূত্র:
- একটা আবদ্ধ পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থে বাইরে থেকে চাপ দেওয়া হলে সেই চাপ চারদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়ে পাত্রের সংলগ্ন গায়ে লম্বভাবে কাজ করবে।

- তরলে সৃষ্ট চাপ সবদিকে সমানভাবে বিস্তার লাভ করে।
এই নীতি ব্যবহার করে:
- হাইড্রোলিক প্রেস,
- হাইড্রোলিক ব্রেক,
- লিফট,
- কার জ্যাক,
ইত্যাদিতে কম বল প্রয়োগ করে বড় বল উৎপন্ন করা সম্ভব হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০১৬.
ডায়নামোতে বৈদ্যুতিক শক্তি কোন শক্তি থেকে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. চৌম্বকীয় শক্তি
ব্যাখ্যা
• ডায়নামোতে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তি থেকে রূপান্তরিত হয়। 

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• ডায়নামো:
- ডায়নামো হলো একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) এর নীতিতে কাজ করে।

• কার্যপ্রণালী:
→ যান্ত্রিক শক্তির প্রয়োগ:
- ডায়নামোর একটি কয়েল (তামার তারের পেঁচানো অংশ) চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘুরানো হয়।
- এই ঘূর্ণন সাধারণত বাইরে থেকে যান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করা হয় (যেমন: সাইকেলের প্যাডেল, হাইড্রো টারবাইন বা বায়ু টারবাইন, ডিজেল বা পেট্রোল ইঞ্জিন)।
→ তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- ফ্যারাডের সূত্র অনুসারে, চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে কয়েল ঘুরালে তাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ (তড়িৎ শক্তি) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
- Faraday's Law of Electromagnetic Induction – Britannica. 
২,০১৭.
'সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে'- সূত্রটি কে প্রদান করেন?
  1. কোপারনিকাস
  2. গ্যালিলিও
  3. কেপলার
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৮.
চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে সূত্র আবিস্কার করেন-
  1. মাইকেল ফ্যারাডে
  2. উইলিয়াম গিলবার্ট
  3. চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
  4. উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবার
ব্যাখ্যা
• কূলম্বের সূত্র:
১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী কুলম্ব চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে একটি সূত্র আবিস্কার করেন।
তাঁর নামানুসারে এই সূত্রটিকে কূলম্বের সূত্র বলে।
সূত্র: নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি পৃথক চুম্বকের মেরুর মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বা বলের মান মেরুদ্বয়ের শক্তির গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক এবং এই বল মেরুদ্বয়ের সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
ধরা যাক, মেরুদ্বয়ের শক্তি যথাক্রমে m1 ও m2 এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্ব d । মেরুদ্বয়ের মধ্যকার ক্রিয়াশীল বল F হলে,



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৯.
কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 20
  4. 22
ব্যাখ্যা

• মৌলিক পদার্থ (Elements):
- মৌলিক পদার্থ হলো সেই পদার্থ যা একধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত, এবং সাধারণ রাসায়নিকভাবে ভাঙা যায় না।
- যেমন: হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), কার্বন (C) ইত্যাদি।

• প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম মৌলিক পদার্থ:
- পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মৌলিক পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৯৮টি।
- যেসব মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে নেই, সেগুলো বিজ্ঞানীরা ল্যাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছেন।
- উদাহরণ: টেকনেশিয়াম (Tc), প্লুটোনিয়াম (Pu), অস্টেটিন (At) ইত্যাদি।

• কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা:
- বর্তমান পর্যন্ত ২০টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।
- এই মৌলিক পদার্থগুলো সাধারণত পরমাণু সংখ্যার দিক থেকে 93 বা তার বেশি (যেমন: Neptunium, Californium, Fermium, Oganesson)।
- এদের অধিকাংশ সংক্ষিপ্ত জীবনকালযুক্ত এবং দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

উৎস: NCTB, সাধারণ বিজ্ঞান।

২,০২০.
পর্যায়বৃত্ত গতির গতিপথ কোন ধরনের হতে পারে?
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion): 
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়। 
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল। 
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা) উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০২১.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি?
  1. কেলভিন
  2. ফারেনহাইট
  3. সেলসিয়াস
  4. ডিগ্রী সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
তাপ (Heat): 
- তাপ এক প্রকার শক্তি যার অভাবে ঠান্ডা এবং যার প্রভাবে বস্তু গরম হয়। 
- এক সময় বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল তাপ ক্যালরিক নামে এক প্রকার সূক্ষ্ম তরল বা বায়বীয় পদার্থ, কোনো বস্তুতে ক্যালরিক কম হলে বস্তু ঠান্ডা এবং বেশি হলে বস্তু গরম হয়। 
- ১৭৭৮ খ্রি: বিজ্ঞানী কাউন্ট রামফোর্ড আবিষ্কার করেন, পদার্থের মধ্যে অণুসমূহের গতির ফলই তাপ। 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তি দ্বারা কাজ সম্পাদন হয়, এই শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় আবার অন্য শক্তিও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
যেমন- বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে এবং তাপ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- তাপের S.I একক জুল (J), এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো, 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

তাপমাত্রা (Temparature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট । 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২২.
The study of light and vision is known as-
  1. ক) Astronomy
  2. খ) Acoustics
  3. গ) Neurology
  4. ঘ) Optics
ব্যাখ্যা
Optics - the scientific study of sight and the behaviour of light, or the properties of transmission and deflection of other forms of radiation.

source: oxford dictionary
২,০২৩.
কোন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না?
  1. পরিবহন
  2. বিকিরণ
  3. পরিচলন
  4. বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা

• বিকিরণ প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য কোনো জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, যেমন সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসা।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
তাপ সঞ্চালন তিনভাবে হয়।
- যথা—পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• তাপ বিকিরণ:
- পৃথিবীতে সূর্যই তাপের মূল উৎস।
- সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে প্রায় সবটুকুই ফাঁকা, কোনো বায়বীয় পদার্থও নেই।
- সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণের মাধ্যমে, যেখানে কোনো জড় মাধ্যম নেই, সেখানে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
- আলো এক রকমের তরঙ্গ, যা কোনো মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।
- বিকিরণের সময় তাপ আলো বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়।
- মাধ্যম থাকুক বা না থাকুক, উত্তপ্ত বস্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ নির্গত করে।

• বিকিরক ও শোষক:
- কোনো পদার্থ তাপ বিকিরণ করলে তাকে বিকিরক বলে।
- কোনো পদার্থ তাপ শোষণ করলে তাকে শোষক বলে।
- কোনো পদার্থ তার তাপমাত্রার জন্য তাপ বিকিরণ বা শোষণ করলে তাকে তাপীয় বিকিরণ (Thermal radiation) বা তাপীয় শোষণ বলে।
- বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কোনো পদার্থ ভালো তাপ বিকিরক হলে সেটি ভালো তাপ শোষকও হয়।
- তা না হলে একটি বিকিরক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ বিকিরণ করে ক্রমশ শীতল হবে এবং একটি শোষক ক্রমাগত বেশি তাপ শোষণ করে ক্রমশ উত্তপ্ত হবে।

• অন্যান্য অপশন:
- পরিবহন → কঠিন পদার্থে অণুর কম্পনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন হয়।
- পরিচলন → তরল বা বায়বীয় মাধ্যমে কণার সঞ্চালনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- বাষ্পীভবন → তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, এটি তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতি নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২,০২৪.
RFID-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Radio Frequency Identification
  2. Radio Frequency Interconnection
  3. Radio Frequency Information
  4. Radio Frequency Indication
ব্যাখ্যা
Radio Frequency Identification (RFID):
- RFID-এর পূর্ণরূপ: Radio Frequency Identification.

⇒ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) হল একটি বেতার প্রযুক্তি যা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে বস্তু বা ব্যক্তিকে সনাক্ত করে।
- এটি একটি ট্যাগ বা লেবেল এবং একটি রিডার/স্ক্যানার নিয়ে গঠিত।
- ট্যাগটিতে একটি ছোট চিপ এবং অ্যান্টেনা থাকে, যা ডেটা ধারণ করে।
- রিডার/স্ক্যানার রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ট্যাগের ডেটা পড়ে।
- RFID ‘র কাজ অনেকটা বারকোডের মতই। শপিংমল কিংবা যেখানে কোনও জিনিস কে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কম্পিউটার দ্বারা সনাক্ত করা লাগে, সেখানে অনেক সময় আরএফআইডি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

উৎস: Britannica.
২,০২৫.
চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক কোনটি? 
  1. লুমেন
  2. ওয়াট
  3. টেসলা
  4. ওয়েবার
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্র: 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (ক) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (খ) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক। 
- ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এর নামানুসারে একে টেসলা (T) বলে। 
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক। 
- এক চৌম্বকক্ষেত্র 1 কুলম্ব (C) আধান ক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে 1 ms-1 গতিশীল হলে 1 N বল অনুভব করে সেই চৌম্বকক্ষেত্রের মানকে 1 টেসলা বলে। 
- কোনো চুম্বক অথবা একটি গতিশীল চার্জের, চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চুম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ চুম্বক বা গতিশীল চার্জের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি একক চার্জ একক বেগে চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমকোণে গতিশীল হলে যে বল লাভ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের মান। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে, তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। তড়িৎবাহী তারের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম দ্বারা নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০২৬.
কিসের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়? 
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিধ্বনি
  3. প্রতিসরণ
  4. প্রতিসরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে। 
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৭.
'স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।' এটি-
  1. চার্লসের সূত্র
  2. বয়েলের সূত্র
  3. গে-লুস্যাকের সূত্র
  4. নিউটনের সূত্র
ব্যাখ্যা
• চার্লসের সূত্র:
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273 ;
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
গাণিতিকভাবে, V ∝ T.

• বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, PV = K.

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, P ∝ T.

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
২,০২৮.
কোন গ্যাসটি “ড্রাই আইস” তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) কার্ব ডাই-অক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাই-অক্সাই
  4. ঘ) নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস’ জমাট কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -78.5℃ উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০২৯.
ক্যাসেটের ফিতার শব্দ রক্ষিত থাকে কি হিসেবে?
  1. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
  2. মেমোরি চিপ হিসেবে
  3. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
  4. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
ব্যাখ্যা
- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। 
- এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
 - ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
- চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই এই ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২,০৩০.
বায়োগ্যাসে মিথেনের অনুপাত কত?
  1. ক) ৫০-৫৫%
  2. খ) ৪০-৫৫%
  3. গ) ৬০-৭০%
  4. ঘ) ৭০-৮০%
ব্যাখ্যা
বায়োগ্যাস:
প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুরূপ গ্যাস নানা রকম প্রাণী ও উদ্ভিদের বর্জ্য থেকে তৈরি করার ব্যবস্থা করা যায়। এ ধরনের গ্যাসকে বলে বায়োগ্যাস।

- বায়ো অর্থ জীবন। প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবনের অধিকারী বিধায় এদের দেহ এবং দেহ নিঃসৃত পদার্থ পচনশীল।
- গোবর, মলমূত্র, পাতা, খড়কুটো প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতি রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। ফলে এক ধরনের বর্ণহীন দাহ্য গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২,০৩১.
অদিক রাশির উদাহরণ কোনটি?
  1. বল
  2. ভর
  3. বেগ
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩২.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী-
  1. শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়
  2. শক্তি চিরকাল ধ্রুবক থাকে, কিন্তু এটি ব্যবহার করা যায় না
  3. শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
  4. শক্তিকে প্রয়োজন অনুসারে শূন্য থেকে সৃষ্টি করা যায়
ব্যাখ্যা

শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী, শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না।

• শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র:
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংশ করা যায় না।
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র।
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে আমরা নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করতে পারি না বা শক্তি ধ্বংসও করতে পারি না।
- বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৩৩.
সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে কী ধরনের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়? 
  1. সিম্পল প্রতিবিম্ব
  2. দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব
  3. ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব
  4. সিমুলেশন প্রতিবিম্ব
ব্যাখ্যা
সিটি স্ক্যান: 
- সিটিস্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan)। 
- সিটিস্ক্যান এর সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া। 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
- সিটিস্ক্যান একটি বৃহৎ যন্ত্র, এ যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
- এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 

- সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়। 
- যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
- সিটিস্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পাশ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
- মাথার সিটিস্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
- সিটিস্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 
- সিটিস্ক্যান পরীক্ষায় 'ডাই' ব্যবহৃত হয়ে এলার্জি জনিত বিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩৪.
শব্দের তীক্ষ্ণতা কত ডেসিবল এর কম হলে মানুষ তা শুনতে পায় না?
  1. ক) ৫
  2. খ) ১০
  3. গ) ১০৫
  4. ঘ) ২১০
ব্যাখ্যা
শব্দের একক বা শব্দের তীক্ষ্ণতা পরিমাপের একক ‘ডেসিবল’। শব্দের তীক্ষ্ণতা পরিমাপের একক এর উদ্ভাবক স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল এর নামানুসারে ‘ডেসিবল’ নামকরণ হয়েছে।
১. শব্দের তীক্ষ্ণতা ১০ ডেসিবল এর কম হলে মানুষ তা শুনতে পায় না।
২. শব্দের তীক্ষ্ণতা ১০৫ ডেসিবল এর বেশি হলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।
৩. পারমানবিক বোমা সবচেয়ে বেশি তীব্রতর শব্দ উৎপন্ন করে, ২১০ ডেসিবল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৩৫.
প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন কে?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) টলেমি
  3. গ) আরিস্তারাকস
  4. ঘ) ঈশপ
  5. ঙ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন আরিস্তারাকাস।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,০৩৬.
সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রং হলে, কালো রং কিসে হয়?
  1. ক) লাল ও সবুজের সমন্বয়ে
  2. খ) নীল ও লাল রঙের সমন্বয়ে
  3. গ) বেগুনি ও নীল রঙের সমন্বয়ে
  4. ঘ) সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য
ব্যাখ্যা
কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে।
তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়। সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়।

যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়।
যেমন - আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়।

আবার, দিনের বেলা সূর্যালোকে গাছের পাতা সবুজ দেখায় কিন্তু লাল আলোতে গাছের পাতা কালো বলে মনে হয়। দিনে গাছের সবুজ পাতা সূর্যালোকের সবুজ বাদে সাতটি বর্ণের সবকটিই শোষণ করে ফলে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলোকে শোষণ করে নেয় বলে কোনো আলোই প্রতিফলিত হয় না তাই লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
২,০৩৭.
একটি স্থানের তাপমাত্রা 77°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?
  1. 27.5° C
  2. 20° C
  3. 29.5° C
  4. 25° C
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি স্থানের তাপমাত্রা 77°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?

সমাধান:
ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের সম্পর্ক হলো:
C/5 = (F - 32)/9

F = 77° হলে,
C/5 = (77 - 32)/9
⇒ C/5 = 45/9
⇒ C = (45 × 5)/9
⇒ C = 225/9
∴ C = 25°

২,০৩৮.
কোনটি না থাকলে কাঠে পেরেক ঢুকানো যেত না?
  1. ক) অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. খ) আন্তঃআণবিক ফাঁক
  3. গ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ
  4. ঘ) স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক ফাঁক বা আন্তঃআণবিক দূরত্ব বলতে পদার্থের অণুর মধ্যবর্তী স্থানকে বোঝায়।

- কঠিন পদার্থে, আন্তঃআণবিক স্থান খুব কম, কারণ অণুগুলি একত্রে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে থাকে এবং জায়গায় কম্পন করে।
- তরল পদার্থে অণুগুলি তাদের মধ্যে আরও বেশি জায়গা রাখে এবং আরও অবাধে ঘুরে বেড়ায়, তবে এখনও একে অপরের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি থাকে।
- গ্যাসীয় পদার্থে অণুগুলি অনেক দূরে থাকে এবং একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে চলে।

• এই আন্তঃআণবিক ফাঁক থাকার কারণেই কাঠে পেরেক ঢুকানো যায়। কাঠে পেরেক ঢুকানোর ক্ষেত্রে পেরেকের চারপাশের আন্তঃআণবিক ফাঁক স্থায়ীভাবে সংকুচিত হয় এবং পেরেক এবং কাঠের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করবে।
আবার ঘর্ষণ বলের কারণে কাঠের মধ্যে এই পেরেক আটকে থাকে, বের হয়ে আসে না।
২,০৩৯.
লেকল্যান্স কোষে কোনটি ক্যাথোড হিসাবে ব্যাবহৃত হয়?
  1. MnO2
  2. Zn
  3. H2SO4
  4. ZnSO4
ব্যাখ্যা
লেকল্যান্স কোষ  
- লেকল্যান্স কোষ হলো একটি একপ্রবাহী কোষ।
- জরজেস লেকল্যান্স ১৮৬৫ সালে এই কোষ উদ্ভাবন করেন।
- Leclanche cell এর অপর নাম দস্তা-কার্বন ব্যাটারি। 

- লেকল্যান্স কোষে Zn ইলেক্ট্রোড অ্যানোড এবং MnO2 ইলেক্ট্রোড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ক্যাথোডে বিক্রিয়া : 2NH4+ + 2MnO2  + 2e- → 2MnO(OH) + 2NH3
- আ্যনোডে বিক্রিয়া : Zn → Zn2+ + 2e- 

উল্লেখ্য, 
 - প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
২,০৪০.
গামা রশ্মির প্রকৃতি কেমন?
  1. চার্জ পরিবর্তনশীল 
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  4. আধানহীন
ব্যাখ্যা

• গামা রশ্মি একটি ধরনের বৈদ্যুতিক চুম্বকীয় তড়িৎ তরঙ্গ, যা পারমাণবিক বিকিরণ থেকে উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে কোন প্রকার চার্জ বা আধান থাকে না, অর্থাৎ এটি নিরপেক্ষ। গামা রশ্মি শক্তিশালী এবং খুব ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো হিসাবে কাজ করে। এটি পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজেই প্রবেশ করতে পারে এবং ধাতব বা ঘন পদার্থের দ্বারা আংশিকভাবে শোষিত হয়। তাই গামা রশ্মি আধানহীন এবং চার্জবিহীন, যা এটিকে অন্যান্য কণা বিকিরণের তুলনায় আলাদা করে।

- সঠিক উত্তর: ঘ) আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৪১.
স্টিফেন হকিন্স বিশ্বের একজন অতিশয় বিখ্যাত-
  1. দার্শনিক
  2. পদার্থবিদ
  3. কবি
  4. রসায়নবিদ
ব্যাখ্যা
• স্টিফেন হকিং:
- স্টিফেন হকিং ছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.
- তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত Centre for Theoretical Cosmology এর পরিচালক ছিলেন।
- সম্মান: রয়্যাল সোসাইটির ফেলো, প্রেসিডেন্টিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, কপলি মেডেল
- ১৪ মার্চ ২০১৮ স্টিফেন হকিং মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- A Brief History of Time.

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,০৪২.
SI (International System of Units) পদ্ধতিতে পরিবাহিতার একক-
  1. ক) সিমেন্স
  2. খ) বেকেরেল
  3. গ) ডায়প্টার
  4. ঘ) কুলম্ব
ব্যাখ্যা
SI(International System of Units) পদ্ধতিতে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S); আধানের একক কুলম্ব(C); তেজস্ক্রিয়তার একক বেকেরেল(Bq) এবং লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার(D)।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
২,০৪৩.
কোনো তরঙ্গের কম্পাংক f এবং পর্যায়কাল T হলে এদের মধ্যে সম্পর্ক-
  1. ক) T = 1/f
  2. খ) T = f
  3. গ) T = 1/f2
  4. ঘ) f = 1/T2
ব্যাখ্যা

পর্যায়কাল বা দোলনকাল : তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণার একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল T বলে।
কম্পাঙ্ক : তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণা একক সময়ে যতগুলা পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে তাকে ঐ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f বলে।
কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f= N/t
কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়। কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।
আবার, পর্যায়কাল T হলে, T সময়ে সম্পন্ন হয় 1টি কম্পন
একক সময়ে সম্পন্ন হয় 1/T টি কম্পন
সুতরাং f = 1/T
(উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

২,০৪৪.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. বায়ুপ্রবাহ 
  3. বায়োগ্যাস 
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস 
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়োগ্যাস,  বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৪৫.
একটি পূর্ণতরঙ্গ রেকটিফায়ার কয়টি ডায়োড দ্বারা তৈরি হয়?
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৬ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণতরঙ্গ রেকটিফায়ার ৪ টি ডায়োড দ্বারা তৈরি হয়। 

• ডায়োড:
- ডায়োড হলো একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক উপাদান যা একদিকে বিদ্যুৎ প্রবাহ হতে দেয়, কিন্তু বিপরীত দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহকে বাধা দেয়।

• ডায়োডের বৈশিষ্ট্য:
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার হলো একটি ইলেকট্রনিক সার্কিট যা অল্টারনেটিং কারেন্ট (এসি) কে সরাসরি কারেন্ট (ডিসি) তে রূপান্তর করে।

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার চারটি ডায়োড দ্বারা তৈরি করা হয়। 
- এই ৪টি ডায়োড এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যাতে AC ইনপুটের উভয় অংশকে DC আউটপুটে রূপান্তর করা যায়।

• নিম্নের চিত্রে চারটি ডায়োড D1, D2, D3, D4 পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করে। 


তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৬.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত? 
  1. ৫৪.৯° সেলসিয়াস
  2. ৯৮.৪° সেলসিয়াস
  3. ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  4. ৯৮.৪° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে। 
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাঁটা থাকে। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,০৪৭.
বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কি?
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্ট মিটার
  3. গ্যালভানো মিটার
  4. ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপক যন্ত্র হলো অ্যামিটার। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য নির্ণয়ের যন্ত্র হলো ভোল্টমিটার। 
- ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি গতিহীন নিশ্চল বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,০৪৮.
টেপ রেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কোন ধরনের ব্যবহৃত হয়?
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. সিরামিক চুম্বক
  3. কোমল চুম্বক 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৪৯.
নক্ষত্রের ক্ষেত্রে চন্দ্রশেখর সীমা কোনটি?
  1. ক) ১ সৌরভর
  2. খ) ১.৪ সৌরভর
  3. গ) ৩.২ সৌরভর
  4. ঘ) ২ সৌরভর
ব্যাখ্যা
১৯৩০ সালে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী সুব্রাহহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর  মাত্র ১৯ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা ও আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব ব্যবহার করে দেখান যে, কোনো নক্ষত্রের ভর যদি ১.৪ সৌরভর হের চেয়ে বেশী হয়, তাহলে সেটি শ্বেত বামন নক্ষত্র হিসেবে স্থায়িত্ব লাভ করতে পারবে না। নক্ষত্রের এই ভরকে চন্দ্রশেখর সীমা বলে। কোন নক্ষত্রের ভর চন্দ্রশেখর সীমার চেয়ে বেশী হলে সেটি হয় নিউট্রন নক্ষত্র বা কৃষ্ণ গহবরে রুপান্তরিত হয়। ১৯৮৩ সালে এই আবিষ্কারের জন্য চন্দ্রশেখর উইলিয়াম ফাউলারের সাথে যুগ্মভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী
২,০৫০.
আসল ও নকল রত্নের পার্থক্য নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি 
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা

- রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করে পদার্থের ভেতরের গঠন ও ঘনত্বের পার্থক্য বোঝা যায়। আসল ও নকল রত্নের কেলাস গঠন এবং তাদের মধ্য দিয়ে রশ্মি চলাচলের ক্ষমতা (Radiolucency) ভিন্ন হওয়ার কারণে মণিকারেরা রঞ্জন রশ্মির সাহায্যে সহজেই এদের শনাক্ত করতে পারেন। 

এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 

- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫১.
সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে কী বলে?
  1. ক) ত্বরণ
  2. খ) দ্রুতি
  3. গ) সরণ
  4. ঘ) ভরবেগ
ব্যাখ্যা
ত্বরণ 
- সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে।
- যদি বেগের মান বাড়তে থাকলে বস্তুটির ত্বরণ হবে।
- আবার বেগের মান কমতে থাকলে তাহলে ঋণাত্মক ত্বরণ বা মন্দন হবে।
- ত্বরণ = (শেষ বেগ - আদি বেগ)/অতিক্রান্ত সময়
- ত্বরণের মাত্রা, [a] = [LT-2]
- ত্বরণের একক = ms-2

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৫২.
কোনটিতে সদ বিম্ব গঠিত হয়?
  1. ক) অবতল লেন্স
  2. খ) উত্তল লেন্স
  3. গ) উত্তল দর্পন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সদ বিম্ব: কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে তবে তাকে সদ বা বাস্তব প্রতিবিম্ব বলে।

• অবতল দর্পণ উত্তল লেন্সে সদ বিম্ব গঠিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫৩.
রেকটিফায়ার এর কাজ কি?
  1. ভোল্টেজকে বাড়ানো বা কমানো
  2. তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপ করা
  3. পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে পরিবর্তন
  4.  সুইচ বা অ্যামপ্লিফায়ার হিসাবে কাজ করা
ব্যাখ্যা

একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- ক। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং  খ। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

অন্যদিকে, 
- ট্রান্সফরমার: এটি AC ভোল্টেজকে বাড়াতে বা কমাতে পারে, কিন্তু এটি AC-কে DC-তে রূপান্তর করে না। 
- অ্যামিটার: অ্যামিটার বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- ট্রানজিস্টর: এটি মূলত একটি সুইচ বা অ্যামপ্লিফায়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সরাসরি AC-কে DC-তে রূপান্তর করে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,০৫৪.
গতিশীল চার্জের উপর যে বল ক্রিয়া করে তাকে বলে-
  1. ক) চৌম্বক বল
  2. খ) তড়িৎ বল
  3. গ) কুলম্ব বল
  4. ঘ) তড়িৎ-চুম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা
ধরা যাক, q পরিমাণ চার্জ B চৌম্বক আবেশযুক্ত ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে v বেগে গতিশীল। পরীক্ষালব্ধ ফলাফল হতে দেখা যায় যে, গতিশীল চার্জের ওপর একটি বল ক্রিয়া করে। এ বলকে চৌম্বক বল বলে। এ বল নিম্নরূপ:
F = qvBSinθ
এ বলের মান ও দিক ভেক্টর গুণনের বিধি দ্বারা নির্ধারিত।
এখানে, θ হল v ও B এর মধ্যবর্তী কোণ।
যদি v = 0 হয়, তবে F=0 অর্থাৎ স্থির চার্জের ওপর চৌম্বক বল শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫৫.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. ক) কাজ ও তাপের একক অভিন্ন।
  2. খ) তাপের SI একক ক্যালরি।
  3. গ) ১ জুল = ৪.২ক্যালরি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
তাপ শক্তির একটি রূপ। তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক।
তাপের SI একক জুল (J)।
এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১°C বাড়াতে বা কমাতে যতটা
তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য।
তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল।
∴ ১ জুল = ১/৪.২ ক্যালরি
= ০.২৪ ক্যালরি

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,০৫৬.
ট্রান্সফরমারের তড়িৎ শক্তি রূপান্তরের সময় শক্তির পরিমাণ কী হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অর্ধেক হয় 
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- ১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫৭.
কোন ধাতুটি অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তামা
  2. খ) লোহা
  3. গ) ব্রোঞ্জ
  4. ঘ) নিকেল
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন (Electroplating) : তড়িৎ বিশ্লেষণ করে একটি ধাতুর ওপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বলে। সাধারণত কোনো কম দামি ধাতু (যেমন তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি) দিয়ে তৈরি জিনিসকে জলবায়ু থেকে রক্ষা করার জন্য কিংবা সুন্দর দেখানোর জন্য সেগুলোর ওপর সোনা, রুপা, নিকেল এরকম মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়। যে ধাতব বস্তুটিকে প্রলেপ দিতে হবে, সেটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি পাত্রে রাখতে হবে। এটি হবে ক্যাথোড ইলেকট্রোড। যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়। তড়িৎ দ্রব হিসেবে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, তার কোনো একটি লবণের দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। এখন ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে রাখা ধাতব বস্তুর ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে।

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
২,০৫৮.
নিচের কোনটি ঋণাত্মক কাজের উদাহরণ?
  1. সমতলে হাটা
  2. সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা
  3. রশ্মি বেয়ে নিচে নামা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ঋণাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের বিপরীত দিকে সরে যায় তাহলে সেই বল যে কাজ সম্পন্ন করে তাকে ঋণাত্মক কাজ বলে। 
- একটি বস্তুকে মাটি থেকে উপরে ওঠালে বস্তুর উপর অভিকর্ষজ বল নিচের দিকে ক্রিয়া করে।
- এক্ষেত্রে বল ও সরণ বিপরীতমুখী হওয়ায় অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন হবে। এটি ঋণাত্মক কাজ।
 
উপরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা একটি ঋণাত্মক কাজ। 

ধনাত্মক কাজ:
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের দিকে সরে যায় তখন বল যে কাজ সম্পন্ন করে তাকে বলের দ্বারা কাজ বা ধনাত্মক কাজ বলা হয়।
- একটি বস্তু উপর থেকে ফেলে দিলে বস্তুটি অভিকর্ষ বলের দিকে পড়বে, ফলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল দ্বারা কাজ সম্পন্ন হবে। এটি ধনাত্মক কাজ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
২,০৫৯.
বৈদ্যুতিক কলিংবেলে কোন চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. পারম্যালয়
  3. অস্থায়ী চুম্বক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

• স্থায়ী চুম্বক:
- কোনো ফেরোচৌম্বক পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করার পর চুম্বকায়ন শক্তি অপসারণ করলেও যদি চুম্বকত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে ঐ চুম্বককে স্থায়ী চুম্বক বলে।
• অস্থায়ী চুম্বক:
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলা হয়।
• অস্থায়ী চুম্বকের বৈশিষ্ট্য:
- এটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ প্রবাহ চলাকালীন চুম্বকের মতো কাজ করে।
- সাধারণত নরম লোহার কোর ব্যবহার করা হয়, যা সহজে চুম্বকত্ব হারায়।
- এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে বৈদ্যুতিক কলিংবেল তৈরি করতে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয়। 

• বৈদ্যুতিক কলিংবেল (Electric Bell) কাজ করে তড়িৎ-চুম্বকীয় নীতির (Electromagnetic Principle) উপর।
- এতে একটি অস্থায়ী চুম্বক (Electromagnet) ব্যবহৃত হয়, যা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে চুম্বকে পরিণত হয় এবং প্রবাহ বন্ধ হলে চুম্বকত্ব হারায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২,০৬০.
একটি বাল্বে 60W – 220V লেখা থাকলে তার রোধ কত ওহম?
  1. ক) 16.36
  2. খ) 160.67
  3. গ) 280.36
  4. ঘ) 806.67
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাল্বে 60W – 220V লেখা থাকলে তার রোধ কত ওহম?

সমাধান: 
এখানে,
বিভব পার্থক্য, V = 220V
ক্ষমতা, P = 60 W
রােধ, R = ?

আমরা জানি,
P = V2/R
বা, R = V2/P
বা, R = 220×220/60
∴ R = 806.67 ওহম
২,০৬১.
শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হতে পারে নিচের কোন মাধ্যমে?
  1. বায়ু
  2. তরল
  3. কঠিন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
শব্দঃ শব্দ এক প্রকার শক্তি। বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। জড়
মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের
মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে আমাদের কানে প্রবেশ করে।
বায়ু বা যে কোন জড় মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করলে তা শুধু একদিকে নয় অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গাকারে
(গোলকাকৃতিকভাবে) সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬২.
কোনো সিলিকন চিপে লক্ষ লক্ষ বর্তনী সংযোজিত হলে তাকে কী বলে?
  1. সমান্তরাল বর্তনী
  2. অর্ধপরিবাহী ট্রানজিস্টর
  3. অর্ধপরিবাহী ডায়োড
  4. সমন্বিত বর্তনী
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- 1952 এর দিকেই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হলেও সত্যিকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় ষাটের দশকে। - পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা প্লেটে (Wafer) অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করার সময় এই প্রক্রিয়াটিকে আর একটুখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল।
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয়। এর নাম দেওয়া হলো ইন্টিগ্রেডেট সার্কিট (আইসি IC) বা সমন্বিত বর্তনী।
- প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অল্প জায়গায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর বসানো শুরু হলো এবং তার নাম দেওয়া হলো প্রথমে লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (LSI), পরে ভেরি লার্জ স্কেল ইন্ট্রেগ্রেশন (VLSI)।
- এই সার্কিটগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে প্যাকেজ করা হতো যেন সরাসরি সার্কিট বোর্ডে ব্যবহার করা যায়।
- মাইক্রোকম্পিউটার, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ভিডিও ক্যামেরা এবং যোগাযোগের উপগ্রহ এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ছাড়া কোনো দিনই সম্ভব হতো না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
২,০৬৩.
জৈব যৌগে কোনটি অবশ্যই থাকবে?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) কার্বন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা
উৎস বা প্রস্তুত পদ্ধতি যাই হোক না কেন সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। তাই বলা যায় জৈব যৌগ মূলত কার্বন যৌগ।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।

বর্তমানে জৈব যৌগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় ‘কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।’

যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৪.
পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে চাঁদে তার ভর কত হবে?
  1. ৯.৮ কেজি
  2. ১ কেজি
  3. ০ কেজি
  4. ১.৬৩ কেজি
ব্যাখ্যা

স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে।
আমরা জানি, ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি।
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি।

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ।
তাই চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১.৬৩ নিউটন।

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,০৬৫.
তাপ সঞ্চালন ______ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে চলে যায়, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলা হয়।

• তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়:

১. পরিবহন
২. পরিচলন
৩. বিকিরণ

• তাপ পরিচলন:
- একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে বসিয়ে তাপ দিলে পুরো পাত্রের পানিই গরম হতে থাকে।
- এক্ষেত্রে, পানির কণাগুলো তাপ গ্রহণ করে শক্তি অর্জন করে।
- শক্তি অর্জন করে গরম পানিকণা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়।
- উপরের ঠাণ্ডা পানির কণাগুলো নিচে নেমে এসে তাপ গ্রহণ করে।
- এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল কণা তাপ গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয় এবং তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়।
- কণাদের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়াকে পরিচলন বলা হয়।
- তরল পদার্থের কণার মতো, বায়বীয় পদার্থের কণারাও উত্তপ্ত হয়ে সহজেই স্থান পরিবর্তন করে তাপ সঞ্চালন করে।
- তরল ও বায়বীয় পদার্থে পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,০৬৬.
দেহের তাপমাত্রা 98°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?
  1. 36.7°
  2. 38°
  3. 39.1°
  4. 40.5°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দেহের তাপমাত্রা 98°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?

সমাধান:
ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের সম্পর্ক হলোঃ C/5 = (F - 32)/9
F = 98° হলে,
C/5 = (98 - 32)/9
⇒ C/5 = 66/9
⇒ C = (66 × 5)/9
⇒ C = 330/9
∴ C = 36.7°

সঠিক উত্তর- ক) 36.7° 

২,০৬৭.
মাইক্রোপ্রসেসরের মূল কাজ কী?
  1. তথ্য প্রদান করা
  2. তথ্য গ্রহণ করা
  3. তথ্য সংরক্ষণ করা 
  4. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
ব্যাখ্যা

মাইক্রোপ্রসেসর: 
- সমন্বিত (Integrated Circuit) বর্তনী আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং গাণিতিক/যুক্তি ইউনিটগুলো একই সংগে মাইক্রোপ্রসেসরে থাকে। ফলে আধুনিক কম্পিউটারে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকেই বুঝায়। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যের উপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজগুলো হলো- 
১. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সংগে কাজের সমন্বয় সাধন করা। 
২. গাণিতিক/যুক্তির কাজ করা। 
৩. কম্পিউটারের স্মৃতিতে সঞ্চিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা। 
৪. স্মৃতি ও গাণিতিক/যুক্তি অংশের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং অন্যান্য অংশের সাথে তথ্য বিনিময়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। 
- এই সমস্ত কাজ সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে প্রয়োজনীয় বর্তনী থাকে। 
- উপরে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরের সংগঠনকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নিয়ন্ত্রণ অংশ, 
২। গাণিতিক/যুক্তি অংশ এবং   
৩। স্মৃতি । 


উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৬৮.
কৃষ্ণবিবরের ঘনত্ব ও আয়তনের অবস্থা কেমন হয়? 
  1. আয়তন প্রায় বেশি, ঘনত্ব কম
  2. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
  3. আয়তন প্রায় অসীম, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  4. উভয়ই অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৯.
পাহাড়ে ওঠার সময় আমাদের সামনের দিকে ঝুঁকতে হয়, কারণ-
  1. ক) বেগ বাড়ানোর জন্য
  2. খ) ক্লান্তি এড়ানোর জন্য
  3. গ) শরীরকে স্থির রাখার জন্য
  4. ঘ) পেছনের দিকে হেলে পড়া রোধের জন্য
ব্যাখ্যা
পাহাড়ে উঠার সময় আমাদের শরীরের ভরকেন্দ্রের (Center of gravity) ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়, সেজন্য সামনের দিকে ঝুকে হাটতে হয়, নইলে নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার পাহাড় থেকে নামার সময় একই কারণে পেছনের দিকে হেলে হাটতে হয়।
২,০৭০.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. এডুইন হাবল
  2. স্টিফেন হকিং 
  3. জর্জ গ্যামো
  4. জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২,০৭১.
একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে-
  1. পাথরের টুকরাটি আগে মাটিতে পড়বে
  2. কাগজের টুকরাটি আগে মাটিতে পড়বে
  3. এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে
  4. উভয়টি শূন্যে ঝুলন্ত থাকবে
ব্যাখ্যা
একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে।
 
• পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রথম সূত্র : স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সব বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে।

প্রথম সূত্র : এ সূত্রানুসারে স্থির অবস্থান থেকে কোনো বস্তু ছেড়ে দিলে তা যদি বিনা বাধায় মাটিতে পড়ে, তাহলে মাটিতে পড়তে যে সময় লাগে তা বস্তুর ভর, আকৃতি বা আয়তনের ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন ভরের, আকারের ও আয়তনের বস্তুকে যদি একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এগুলো যদি বিনা বাধায় মুক্তভাবে পড়তে থাকে, তাহলে সবগুলোই একই সময়ে মাটিতে পৌঁছবে।

এই সূত্রানুসারে, একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৭২.
গোয়েন্দা বিভাগে কোন ধরনের রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
• গোয়েন্দা বিভাগে "রঞ্জন রশ্মি" ব্যবহৃত হয়।

• রঞ্জন রশ্মি:

- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি উৎপন্ন হয়।
- এক্স-রের একক রন্টজেন।
- এক্স-রে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩ × ১০১৬ থেকে
৩ × ১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়।

• এক্স-রে (ঞ্জন রশ্মি) এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৩.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র নিচের কোনটি? 
  1. অডিওমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ক্রনোমিটার 
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে- অডিওমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,০৭৪.
কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (1V) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (IC) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্ব-
  1. ক) 1 F
  2. খ) 2 F
  3. গ) 3 F
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরিবাহকের ধারকত্ব : কোনো পরিবাহীর বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহীর ধারকত্ব বলে ।
ফ্যারাড: কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (1V) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (IC) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্ব এক ফ্যারাড (1F) বলে ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৫.
শব্দ কী? 
  1. এক ধরনের পদার্থ
  2. এক ধরনের শক্তি
  3. এক ধরনের আলো
  4. এক ধরনের তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকারের শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৬.
আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ভিত্তিতে কোনটির ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. ক) মহাকর্ষ
  2. খ) নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. গ) সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

আপেক্ষিকতার নীতি (Principle of Relativity)

- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়। 
- কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। 
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়। 
- তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়।
অর্থাৎ সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করি। 

- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি। 
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান। 
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। 

- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধ মানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। 
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন। এটাই আপেক্ষিকতার নীতি। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৭.
নিচের কোনটি উত্তল লেন্সের ব্যবহার নয়? 
  1. অণুবীক্ষণ যন্ত্র 
  2. চশমা
  3. আতশী কাঁচ 
  4. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 

উত্তল লেন্সের ব্যবহার: 
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। 
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 

অবতল লেন্সের ব্যবহার: 
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়। 
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৭৮.
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট মিলিত হয় কোন বিন্দুতে?
  1. -40° 
  2. 100°
  3. -273°
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ
F =9C ⁄ 5 + 32

-40° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন -40°F
0° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন 32°F 
100° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন 212°F
-273° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন -459.4°F

*সূত্র ছাড়াও মনে রাখার বিষয় হল -40° তেই শুধুমাত্র সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট মিলিত হয়। 
* সেলসিয়াস ও কেলভিন কখনো মিলিত হয় না। 

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন।

২,০৭৯.
মৌলিক রাশির একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. কেলভিন
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে। 
- মৌলিক রাশি সাতটি। 
যেমন- 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা ও পদার্থের পরিমাণ। 

মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। 
যেমন- 
দৈর্ঘ্যের একক- মিটার
• ভরের একক- কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক- সেকেন্ড, 
তাপমাত্রা/উষ্ণতার একক- কেলভিন
তড়িৎ প্রবাহের একক- অ্যাম্পিয়ার
• দীপন তীব্রতার একক- ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক- মোল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৮০.
পাখা ঘোরাতে কোন ধরনের বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়?
  1. স্থির বিদ্যুৎ
  2. চল বিদ্যুৎ
  3. সম বিদ্যুৎ
  4. বিষম বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

যখন চার্জগুলাে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে অনবরত নির্দিষ্ট দিকে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে তাকে চল বিদ্যুৎ বলে।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি সেটি হচ্ছে চল বিদ্যুৎ। এ চল বিদ্যুই পাখা ঘােরায়, বাতি জ্বালায়, কলকারখানা চালায় এবং নানাবিধ কাজ সম্পন্ন করে থাকে।
চল বিদ্যুৎকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- একমুখী প্রবাহ ও পরিবর্তী প্রবাহ।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,০৮১.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হচ্ছে-
  1. ট্রেসার হিসাবে
  2. মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে
  3. হরমোন সংশ্লেষণে
  4. নিউট্রিয়েন্ট সংযোজনে
ব্যাখ্যা

◉ তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে ট্রেসার (Tracer) হিসাবে অর্থাৎ শনাক্তকরণে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ব্যবহার অন্যতম

তেজস্ক্রিয়তা:
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়। রেডিওনিউক্লাইড ট্রেসার (Radionuclide Tracer) ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড সমস্যা ও হৃৎপিণ্ডের রোগ শনাক্ত করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়

উৎস- পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৮২.
ভরবেগের মাত্রা কোনটি?
  1. ক) M
  2. খ) MLT-1
  3. গ) MLT-2
  4. ঘ) ML2T-2
ব্যাখ্যা
ভর হচ্ছে ভর ও বেগের গুণফল। ভর m ও বেগ v হলে,
ভরবেগ, p = mv

- ভরবেগের একক kgms-1
- ভরবেগের মাত্রা MLT-1 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
২,০৮৩.
কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. নীল
  2. হলুদ
  3. লাল
  4. কালো
ব্যাখ্যা

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮৪.
ক্যালকুলাসের জনক কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) কোপার্নিকাস
  4. ঘ) আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা

নিউটন ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক।
নিউটন প্রথমে ফ্লাক্সিওন নামে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন বটে, কিন্তু তিনি তার আবিষ্কার ঠিকমত প্রকাশও করেননি।
তবে ক্যালকুলাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব নিউটন আর লিবনিজ দুজনকেই দেওয়া হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

২,০৮৫.
তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মিতে শ্রেণিবদ্ধ করেন কে?
  1. পিয়ের কুরি
  2. মেরি কুরি
  3. আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
  4. হেনরি বেকেরেল
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মিতে শ্রেণিবদ্ধ করেন আর্নেস্ট রাদারফোর্ড।

• মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক অবদান:
- মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি ইউরেনিয়াম যৌগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে কিছু পদার্থ বাহ্যিক প্রভাব ছাড়াই শক্তিশালী বিকিরণ নির্গত করে।
- তাঁরা গবেষণার মাধ্যমে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম (Ra), পোলোনিয়াম (Po) আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তার ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- এটি আধুনিক পরমাণুবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়তা করে।
- মেরি কুরি ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (বেকেরেল, পিয়ের কুরি সহ) লাভ করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি এককভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করেন যে তেজস্ক্রিয়তা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং এটি পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনজনিত প্রক্রিয়া।

• রাদারফোর্ডের অবদান:
- রাদারফোর্ড তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান রশ্মি শনাক্ত করেন।
- আলফা (α) রশ্মি → ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ভারী, কম অনুপ্রবেশক্ষম।
- বিটা (β) রশ্মি → ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন সদৃশ কণা।
- গামা (γ) রশ্মি → কোনো চার্জ নেই, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, সর্বাধিক অনুপ্রবেশক্ষম।

• অন্যান্য অপশন:
- পিয়ের কুরি → তেজস্ক্রিয় মৌল আবিষ্কারে অবদান রাখেন।
- মেরি কুরি → রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেন।
- হেনরি বেকেরেল → তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

২,০৮৬.
বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ -
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) প্রথমে কমে, পরে বাড়ে
  4. ঘ) অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
- যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে।
- যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি।
- ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।
- সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২,০৮৭.
নিচের কোন তাপমাত্রায় ১ কেজি পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয়?
  1. ১০০° সেলসিয়াস
  2. ৪° ফারেনহাইট
  3. ০° সেলসিয়াস
  4. ৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ৪° সেলসিয়াস
পানির একটা খুব মজার এবং অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে, যাকে বলা হয় 'পানির অস্বাভাবিক প্রসারণ'(Anomalous expansion of water)।

অন্যান্য তরল পদার্থের ক্ষেত্রে যা হয়,
তাপমাত্রা বাড়লে → আয়তন বাড়ে → ঘনত্ব কমে
কিন্তু পানির ক্ষেত্রে একটা বিশেষ জায়গায় এটা উল্টো হয়।

বিভিন্ন তাপমাত্রায় যা ঘটে-
⋅ ০° সেলসিয়াসে ⇒ পানির আয়তন বেশি (ঘনত্ব কম)
⋅ তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে (০° থেকে ৪° পর্যন্ত) ⇒ পানির আয়তন কমতে থাকে
⋅ ঠিক ৪° সেলসিয়াসে ⇒ পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয় ⇒ ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ১০০০ কেজি/মি)
⋅ ৪°-এর উপরে আবার তাপমাত্রা বাড়লে ⇒ আয়তন বাড়তে শুরু করে (যেমন সাধারণ তরলের মতো)

সুতরাং, ১ কেজি পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয় ৪° সেলসিয়াসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৮৮.
কোন তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়?
  1. ০°
  2. ৪°
  3. - ৪০°
  4. ২৭৩.১৫°
ব্যাখ্যা
• - 40° তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়। 

• তাপমাত্রা পরিমাপের স্কেলের মধ্যে অন্যতম হলো সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল।

আমরা জানি, সেলসিয়াস (C) ও ফারেনহাইট (F) এর মধ্যে সম্পর্ক:
C/5 = (F - 32)/9

ধরি,
সেলসিয়াস স্কেলের পাঠ C = ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ F

এখন,
C/5 = (C - 32)/9
⇒ 5(C - 32) = 9C
⇒ 5C - 160 = 9C
⇒ 9C - 5C = - 160
⇒ 4C = - 160
⇒ C = - 160/4 = - 40 

∴ C = F = - 40°

অর্থাৎ - 40° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান সমান হবে।
২,০৮৯.
শব্দের বেগ মাধ্যমের কোন বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে?
  1. মাধ্যমের ঘনত্ব
  2. মাধ্যমের আর্দ্রতা
  3. মাধ্যমের তাপমাত্রা
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 

- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯০.
তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন কেমন হয়? 
  1. কম হয়
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. ধীরে ধীরে কম হয়
  4. বেশি হয়
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের নির্ভরশীলতা: 
- বর্ষাকালের বৃষ্টিভেজা দিনগুলোতে ভেজা কাপড় কিছুতেই শুকাতে চায় না। আবার শীতকালে ঘরের ভেতর ছায়াতেও একটা কাপড় শুকিয়ে যায় কারণ বিষয়টি পানির বাষ্পায়ন ছাড়া আর কিছু না। 
- পানির বাষ্পায়ন বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
- সাধারণভাবেই একটা তরলের বাষ্পায়ন কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে তা নিম্নে দেওয়া হলো- 

বাতাসের প্রবাহ: 
- বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল: 
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। 

তরলের প্রকৃতি: 
- তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। উদ্বায়ী তরলের বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি। 

বাতাসের চাপ: 
- বাতাসের চাপ যত কম হবে বাষ্পায়নের হার তত বেশি। শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি, তাই খাদ্য সংরক্ষণের জন্য খাবারকে শুকাতে পাম্প দিয়ে বাতাস বের করে নেওয়া হয়। 

উষ্ণতা: 
- তরল এবং তরলের কাছাকাছি বাতাসের উষ্ণতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

বায়ুর শুষ্কতা: 
- বাতাস যত শুষ্ক হবে তরল তত তাড়াতাড়ি বাষ্পায়ন হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯১.
নিচের কোন প্রতীক দ্বারা পদার্থের পরিমাণের একক প্রকাশ করা হয়?
  1. ক) kg
  2. খ) mol
  3. গ) m
  4. ঘ) g
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি ও একক:

- যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে।
- মৌলিক রাশি সাতটি।
- যেমনঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা ও পদার্থের পরিমাণ।
- মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। যেমনঃ
- দৈর্ঘ্যের একক - মিটার (m)
- ভর- কিলোগ্রাম (kg)
- সময়- সেকেন্ড (s)
- তাপমাত্রা - কেলভিন (K)
- তড়িৎ প্রবাহ - অ্যাম্পিয়ার (A)
- দীপন তীব্রতা - ক্যানডেলা (Cd)
- পদার্থের পরিমাণ - মোল (mol)

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯২.
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর কত?
  1. 1×10-7 m থেকে 4×10-7 m
  2. 4×10-6 m থেকে 7×10-6 m
  3. 7×10-7 m থেকে 1×10-6 m
  4. 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m
ব্যাখ্যা

• দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m.

• আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলোর বর্ণক্রম, বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
- এই বর্ণগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m।
- ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।

• তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও বিক্ষেপণ:
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে বিক্ষেপণ কম হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,০৯৩.
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন কত সালে?
  1. ১৯০০ সালে
  2. ১৯০৩ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯০৭ সালে
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া, দ্য ব্রগলি তরঙ্গ, কম্পটন প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তিত হয়।
-  আইনষ্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে ভর ও শক্তির, E = mc2  বিখ্যাত সম্পর্কটি বের করেন। 
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হলো - কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২,০৯৪.
যদি ট্রান্সফরমারে বিভব বৃদ্ধি পায় তাহলে তড়িৎ প্রবাহ কেমন হয়?
  1. হ্রাস পায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. শূন্য হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে।
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৯৫.
মানুষের চোখের শ্বেত মন্ডলের সামনের অংশের নাম- 
  1. তারার
  2. কর্নিয়া
  3. রেটিনা
  4. আইরিস
ব্যাখ্যা
চোখ: 
- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়। 
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক। 
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল। 
- শ্বেত মন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া। 
- শ্বেত মন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল। 
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়। 
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে। 
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯৬.
মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়-
  1. ইনফ্রারেড
  2. মাইক্রোওয়েভ
  3. আল্ট্রাভায়োলেট
  4. এক্স- রে
ব্যাখ্যা

মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয় মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি ।
- অণুতরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ (ইংরেজি: Microwave) দ্বারা সে সকল তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ নির্দেশ করা হয় যাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ন্যূনতম ১ মিলিমিটার হতে সর্বোচ্চ ১ মিটার পর্যন্ত।
- এদের কম্পাঙ্ক ৩০০ মেগাহার্জ (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১ মিটার) হতে ৩০০ গিগাহার্জ (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১ মিলিমিটার) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

উৎস:সাধারণ বিজ্ঞান নবম দশম শ্রেণি

২,০৯৭.
বাতাসের চেয়ে পানিতে শব্দ কত গুণ দ্রুত চলে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৫
ব্যাখ্যা
বাতাসের চেয়ে পানিতে শব্দ ৪ গুণ দ্রুত চলে। বাতাসের চেয়ে লোহার মধ্যে শব্দ প্রায় ১৫ গুণ দ্রুত চলে।
এছাড়াও-
১. শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে কঠিন মাধ্যমে
২. তরল মাধ্যমে তার চেয়ে ধীরে চলে
৩. বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম
৪. ভ্যাকুয়ামে বা শূন্যে শব্দের দ্রুতি শূন্য
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯৮.
নিচের কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অন্যগুলোর থেকে বেশি?
  1. ক) বেগুনী
  2. খ) হলুদ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) সবুজ
ব্যাখ্যা
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি
- অপশনের চারটির মধ্যে হলুদ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,০৯৯.
আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন কে? 
  1. কেপলার
  2. নিউটন
  3. রবার্ট হুক
  4. কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
আইজ্যাক নিউটন: 
- আইজ্যাক নিউটন ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়াও তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

রবার্ট হুক: 
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- এছাড়াও রবার্ট বয়েল গ্যাসের সূত্র আবিস্কার করেন। 

নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

অন্যদিকে, 
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 
- জার্মানীর বিজ্ঞানী স্নেল প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০০.
শূন্য মাধ্যমে তাপ সঞ্চারিত হয় কোন পদ্ধতিতে?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. সঞ্চালন
ব্যাখ্যা

শূন্য মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয় বিকিরণ পদ্ধতিতে।
যে পদ্ধতিতে তাপ জড় মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের আকারে উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুতে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকিরণ বলে।
তাপ পরিবহন ও তাপ পরিচলনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বিকিরণের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।