বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২০ / ৩৮ · ১,৯০১২,০০০ / ৩,৭৪৭

১,৯০১.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. দীপন তীব্রতা
  2. ত্বরণ
  3. বল
  4. বিভব
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০২.
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমারে কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কেমন থাকে? 
  1. মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে 
  2. মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা অত্যধিক বেশি থাকে 
  3. গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে 
  4. মুখ্য ও গৌণ দুই কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা সমান থাকে 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এই ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
সুতরাং, যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। 
- অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯০৩.
প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে - কে এটি বলেন
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তার অমর গ্রন্থ “ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকাতে” (Philosopher Naturalis Principia Mathematica) বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতিসূত্র (Newtons laws of motion) নামে পরিচিত।
১,৯০৪.
তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি কার? 
  1. দস্তা 
  2. রূপা
  3. তামা
  4. সোনা 
ব্যাখ্যা

পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I  
-​ পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, I ∝ V 
বা, I = GV. এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি।
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা।
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯০৫.
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাকে বলা হয় -
  1. ক) চৌম্বক ফ্লাক্স
  2. খ) চৌম্বক ভ্রামক
  3. গ) চৌম্বক মধ্যতল
  4. ঘ) চৌম্বক দ্বিমেরু
ব্যাখ্যা
চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ:
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত্ বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে।

চৌম্বক ফ্লাক্সের (SI) একক ওয়েবার (Weber) বা সংক্ষেপে (Wb).

জার্মান পদার্থবিদ উইলিয়াম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। 
১,৯০৬.
আপেক্ষিক তাপের একক কী?
  1. Jkg- 1K- 2
  2. JkgK- 1
  3. Jkg- 2K- 1
  4. Jkg- 1K- 1
ব্যাখ্যা
•  আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-  1K-  1.

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):

- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়।
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg- 1K- 1.
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg- 1K- 1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৭.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৮ N এবং ১৫ N, তাদের লব্ধি পরিমাণ কত?
  1. ৭ N
  2. ২২ N
  3. ১৩ N
  4. ১৭ N
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৮ N এবং ১৫ N, তাদের লব্ধি পরিমাণ কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
প্রথম শক্তি, F1 = ৮ N
দ্বিতীয় শক্তি, F2 = ১৫ N
দুটি শক্তি পরস্পর লম্বালম্বি।

যেহেতু বল দুটি লম্বালম্বিভাবে (অর্থাৎ ৯০° কোণে) কাজ করছে, তাদের লব্ধি (R) নির্ণয়ের জন্য পিথাগোরাসের উপপাদ্য (Pythagorean theorem) ব্যবহার করা হয়।

লব্ধি, R = √(F12 + F22)
= √(৮ + ১৫)
= √(৬৪ + ২২৫)
= √২৮৯ N
= ১৭ N

সুতরাং, লব্ধি পরিমাণ হলো ১৭ N।

১,৯০৮.
একটি বাল্বে '60W-220V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম (Ohm)?
  1. 16.36
  2. 160
  3. 280
  4. 806.67
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাল্বে '60W-220V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম (Ohm)? 

সমাধান: 
এখানে, 
বিভব পার্থক্য, V = 220V 
ক্ষমতা, P = 60 W 
রােধ, R = ? 

আমরা জানি, 
P = V2/R 
বা, R = V2/P 
বা, R = (220×220)/60 
∴ R = 806.67 ওহম।
১,৯০৯.
এক্স-রে কোন বেগে গমন করে?
  1. 3×104 m/s
  2. 3×106 m/s
  3. 3×108 m/s
  4. 3×109 m/s
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি থেকে এক্স-রে (X-rays) আবিষ্কার করেন।
- প্রফেসর রঞ্জন একে "X-rays" নামে অভিহিত করেন, পরবর্তীতে একে 'রঞ্জন রশ্মি' নামেও ডাকা হয়। 
- উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি (সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এক্সরের ক্ষেত্রে এমন ঘটে না)। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এক্সরে আলোর সমবেগে (3×108 ms-1) বেগে গমন করে। 
- এক্সরেতে আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এক্স রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না (এক্সরের কোন চার্জ নাই)।
- এক্স রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯১০.
কোনটি লব্ধ রাশি?
  1. তাপমাত্রা
  2. ভর
  3. তাপ
  4. তড়িৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• তাপ হচ্ছে লব্ধ রাশি।

• লব্ধ রাশি:

- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় তাকে লব্ধ রাশি বলে।
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।

• লব্ধ রাশির উদাহারণ:

- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি।

• মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না তাকে মৌলিক রাশি বলে।
- যেমন সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ হলো মৌলিক রাশি।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯১১.
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রথম স্বীকার্য কী?
  1. আলোর বেগ শূন্য
  2. জড় প্রসঙ্গ কাঠামো অপরিবর্তিত
  3. ভরের আপেক্ষিকতা
  4. শক্তির সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

• আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,৯১২.
পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকে পড়ে যাই না-
  1. ক) মহাকর্ষ বলের জন্য
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
  3. গ) আমরা স্থির থাকার জন্য
  4. ঘ) পৃথিবীর সাথে আমাদের আবর্তনের জন্য
ব্যাখ্যা
মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকে পড়ি না।
- কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা নিজের দিকে টানে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- যে বস্তুর ভর যত বেশি, তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও ততই বেশি।
- চাঁদ পৃথিবীর চেয়ে ছোট ও তার ভর কম হওয়ায় পৃথিবীর চেয়ে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৩.
একটি দোলক এক সেকেন্ডে যতবার পূর্ণ দোলন সম্পন্ন করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. বিস্তার
  2. কৌণিক বিস্তার
  3. কম্পাঙ্ক
  4. দোলনকাল
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক: 
- কোনো কম্পমান বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতবার কম্পন বা দোলন বা পুনরাবৃত্তি ঘটায় তাকে কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে ƒ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 


দোলনকাল বা পর্যায়কাল: 
- একবার পূর্ণ দোলন দিতে যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে। 
- দোলনকালকে T দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- চিত্রে C থেকে A হয়ে B তে পৌঁছিয়ে আবার B থেকে A হয়ে C তে পৌঁছাতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বা দোলনকাল বলে। 

দোলন তল: 
- সূতাসহ ববটি যে তলে দুলতে থাকে তাকে দোলন তল বলে। 
চিত্রে, OBAC যে তলে অবস্থিত সেটিই দোলন তল। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- আলম্ব বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে দোলকের কার্যকর দৈর্ঘ্য বলে। 
- r ব্যাসার্ধের গোলকাকৃতি ববের ভারকেন্দ্রটি ববের কেন্দ্রে অবস্থিত হয়; ফলে সুতোর দৈর্ঘ্য I হলে দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য, L = I + r  । 

বিস্তার: 
- সাম্যাবস্থান থেকে যেকোনো দিকে ববের সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলা হয়। 
প্রদত্ত চিত্রে, AB বা AC হল দোলকের বিস্তার। 
- বিস্তারকে সাধারণত x দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

কৌণিক বিস্তার: 
- ববের সাম্যাবস্থান ও সর্বাধিক সরণের অবস্থান লম্বন বিন্দুতে যে কোণ উৎপন্ন করে তাকে দোলকের কৌণিক বিস্তার বলা হয়। 
- কৌণিক বিস্তারকে সাধারণত θ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
এক্ষেত্রে চিত্র অনুসারে কৌণিক বিস্তার θ = ∠AOB = ∠AOC 
উল্লেখ্য, 
- সরল দোকের কৌণিক বিস্তার 4° এর কম হওয়া উচিত, যাতে CAB বৃত্তচাপটি প্রায় সরলরেখার আকার ধারণ করে। তাই AB বা AC কে পিন্ডের সর্বাধিক সরণ হিসেবে ধরা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৪.
গ্রীন হাউস গ্যাস নয় কোনটি?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. ওজোন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস গ্যাস:

- হিলিয়াম গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে - 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.
১,৯১৫.
তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. আইজ্যাক নিউটন
  3. হাইগেন
  4. ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন তত্ত্বের প্রবক্তা:

- আলোর কণা তত্ত্বের প্রবক্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন।
- তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা হাইগেন।
- তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সপ্লাঙ্ক।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৬.
ভূপৃষ্ঠে বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম -
  1. ক) মেরু অঞ্চলে
  2. খ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  3. গ) বিষুব অঞ্চলে
  4. ঘ) পাহাড়ের উপর
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর পৃষ্টে বস্তুর ওজনের অতি সামান্য তারতম্য ঘটে। এর কারণ হচ্ছে পৃথিবী সুষম গোলক নয় এবং ভূপৃষ্টে সর্বত্র অভিকর্ষজ ত্বরণের মানও এক নয়।
এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হবে পৃথিবীর দুই মেরুতে অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে। যেখানে এর ওজন হবে ৯.৮৩ নিউটন।
বিষুবীয় অঞ্চলে এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম ৯.৭৮ নিউটন।
ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর ওজন হবে ৯.৭৯ নিউটন।
উৎসঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।

১,৯১৭.
নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা কোনটি?
  1. ক) নবায়ন শক্তি সাধারণত ব্যয়বহুল
  2. খ) পরিবেশ দূষণ করে
  3. গ) গ্লোবাল ওয়ার্মিং তৈরি করে
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা হচ্ছে- নবায়ন শক্তি সাধারণত ব্যয়বহুল। 

নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা-
১. বায়োগ্যাস হতে যে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় তার পরিমাণ কম এবং সীমিত।
২. বায়ুপ্রবাহ ও স্রোত হতে যে নবায়নযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তার উৎস সীমিত। কারণ, এর জন্য যে প্লান্ট তৈরি করতে হয়, তার জন্য সুবিধাজনক জায়গা লাগে। বায়ুর মাধ্যমে উৎপাদনের অন্যতম সমস্যা হল সবসময় বায়ুপ্রবাহ থাকে না।
৩. সূর্যের আলো থাকলে সৌরশক্তি নির্ভর নবায়নযোগ্য শক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু বৃষ্টির জন্য এর উৎপাদন ব্যহত হতে পারে।
৪. অনেক সময় পানির জোয়ার-ভাটাকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহারের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়।
৫. সৌর, পানির স্রোত, এবং বায়ু থেকে উৎপন্ন নবায়নযোগ্য শক্তি সাধারণত ব্যয়বহুল।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

১,৯১৮.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কিসের উপর নির্ভর করে? 
  1. কণাদ্বয়ের তাপমাত্রা ও বায়ুর চাপ
  2. কণাদ্বয়ের ঘনত্ব ও চৌম্বক ক্ষেত্র
  3. কণাদ্বয়ের গতিবেগ ও ত্বরণ
  4. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুসারে দুটি কণার মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল F এর মান কণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক।
• F = G (m1 × m2)/r2  
- এখানে G হল মহাকর্ষীয় ধ্রুবক।

• মহাকর্ষ:

- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৯১৯.
BJT ট্রানজিস্টরের তিনটি টার্মিনাল কী কী?
  1. Gate, Source, Drain
  2. Base, Collector, Emitter
  3. Anode, Cathode, Grid
  4. Input, Output, Ground
ব্যাখ্যা

◉ BJT (Bipolar Junction Transistor)-এর তিনটি টার্মিনাল থাকে—

Base (B): ট্রানজিস্টরের নিয়ন্ত্রণ টার্মিনাল।
Collector (C): যেখানে প্রধানত কারেন্ট প্রবাহিত হয় এবং সংগ্রহ করা হয়।
Emitter (E): যেখানে থেকে চার্জ বাহক (electrons/holes) নির্গত হয়।

​ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
- এটি ১৯৪৮ সালে আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরিতে (Bell Laboratories) প্রথম আবিষ্কৃত হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকে এটি ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
- ট্রানজিস্টর সাধারণত বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বিদ্যুৎ সংকেতকে শক্তিশালী করে।
- যেহেতু ট্রানজিস্টারে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় চার্জ বাহক থাকে, একে বাইপোলার জাংশন ট্রানজিস্টর (Bipolar Junction Transistor) বলা হয়।

​ট্রানজিস্টরের তিনটি টার্মিনাল। যথা:
১. এমিটার (Emitter)
২. বেস (Base)
৩. কালেক্টর (Collector)

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯২০.
টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় - 
  1. ক) রেডিও ওয়েভ
  2. খ) অবলোহিত রশ্মি
  3. গ) আলট্রা ভায়োলেট
  4. ঘ) দৃশ্যমান রশ্মি
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের। আর এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র। একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

শব্দ প্রেরণ:
এক্ষেত্রে শব্দ প্রেরণকারী যন্ত্র মাইক্রোফোনের সাহায্যে বক্তার শব্দ সংগ্রহ করে। মাইক্রোফোনে একটি পাতলা ধাতব পদার্থ থাকে, একে ডায়াফ্রাম বলে। মাইক্রোফোনে আগত শব্দ এই ডায়াফ্রামটিকে কম্পিত করে, এ যান্ত্রিক কম্পন তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত হয়। এভাবে মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। এরপর এ সংকেতকে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গে রুপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

ছবি প্রেরণ:
যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্যদিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। এরপর তড়িৎ সংকেতকে তাড়িত চৌম্বক বেতার তরঙ্গে (রেডিও তরঙ্গ) রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।



অর্থাৎ, অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - ক) রেডিও ওয়েভ

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২১.
কোন তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়? 
  1. 25°
  2. 100°
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V.
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়।
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4°C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়।
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়
- তাই পানির ঘনত্ব 1000kg m-3 অথবা 1gm/cc.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২২.
সার্কিট ব্রেকার বা ফিউজ ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. বিদ্যুতের গতি বাড়ানো 
  2. বিদ্যুৎ উৎপাদন করা 
  3. বিদ্যুতের দিক পরিবর্তন করা 
  4. হঠাৎ বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করা 
ব্যাখ্যা

সার্কিট ব্রেকার এবং ফিউজ: 
- বিদ্যুতের বড় বড় দুর্ঘটনা হয় যখন হঠাৎ কোনো একটা ত্রুটির কারণে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- হঠাৎ করে বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই সার্কিট ব্রেক (বিচ্ছিন্ন) করে দেয়।
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু একটা তারের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়। যদি কোনো কারণে বেশি বিদ্যুৎ যাওয়ার চেষ্টা করে ফিউজের সরু তার সেই (রোধ বেশি, কাজেই I2R বেশি অর্থাৎ তাপ বেশি) বিদ্যুতের কারণে উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ফেলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯২৩.
'আপেক্ষিকতা তত্ত্ব' সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. আইনস্টাইন এটার জন্য নোবেল পুরষ্কার পান।
  2. ১৯০৫ সালে তত্ত্বটি প্রকাশিত হয়।
  3. তত্ত্ব অনুসারে স্থান পরিবর্তনশীল।
  4. তত্ত্ব অনুসারে সময় পরিবর্তনশীল।
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইন আলোক তড়িৎ ক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র আবিষ্কারের জন্য ১৯২১ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
- কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে -মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১,৯২৪.
পৃথিবীর সঙ্গে একটি বইয়ের আকর্ষণকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. পীড়ন
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. অভিকর্ষ বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়।
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না।
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ।
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯২৫.
p-n জাংশন ডায়োড কিভাবে তৈরি হয়?
  1. দুটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী যোগ করে 
  2. দুটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী যোগ করে 
  3. একটি ইলেকট্রন ও প্রোটন যোগ করে
  4. একটি p টাইপ এবং একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি লাগিয়ে 
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯২৬.
ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করার যন্ত্র কোনটি?
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. ব্যারোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

- ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট তরঙ্গ বা ভূ-অভ্যন্তরের কম্পন শনাক্ত এবং রেকর্ড করার জন্য সিসমোগ্রাফ (Seismograph) যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ভূমিকম্পের উৎপত্তি, স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। যদিও ভূমিকম্পের গাণিতিক পরিমাপ বা মাত্রা প্রকাশে রিখটার স্কেল বহুল পরিচিত, তবে মূল তথ্যটি সিসমোগ্রাফ যন্ত্র থেকেই পাওয়া যায়। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৯২৭.
ফিজিক্যাল ল (Physical Law) এর উপর নির্ভর করে হাইড্রলিক প্রেস কাজ করে, এটি কে আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. আর্কিমিডিস
  2. রয়েল
  3. প্যাসকেল
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law): 
- কোনো পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থ রাখলে তা পাত্রের সংলগ্ন গাত্রে চাপ প্রয়োগ করে। 
- কিন্তু এই পাত্রটি আবদ্ধ করে যদি তরলের বা বায়বীয় পদার্থের উপর যে কোনো স্থানে বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে সেই চাপ সবদিকে সঞ্চালিত হয়। 
- এ সম্পর্কে বিজ্ঞানী প্যাসকেল একটি সূত্র দেন। 
- এটি প্যাসকেলের সূত্র নামে পরিচিত। 

প্যাসকেলের সূত্র: 
- "পাত্রে আবদ্ধ তরল বা বায়বীয় পদার্থের যে কোনো অংশের উপর বাইরের থেকে চাপ প্রয়োগ করলে সেই চাপ কিছু মাত্র না কমে পদার্থের মধ্যে সব দিকে সঞ্চালিত হয় এবং পদার্থ সংলগ্ন পাত্র পৃষ্ঠের সর্বত্র লম্বভাবে সমান চাপ প্রয়োগ করে"। 
- ফিজিক্যাল ল (Physical Law) এর উপর নির্ভর করে হাইড্রলিক প্রেস কাজ করে, এটি প্যাসকেল আবিষ্কার করেছিলেন। 

- প্যাসকেলের সূত্রের বল বৃদ্ধির নীতি কাজে লাগিয়ে ১৭৯৫ সালে ব্রামা নামে একজন বৃটিশ ইঞ্জিনিয়ার এই যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- আবিষ্কারকের নাম অনুসারে একে ব্রামার প্রেসও বলা হয়।
- আবার তরল পদার্থ দ্বারা চালিত বলে একে হাইড্রোলিক প্রেসও বলা হয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ।
১,৯২৮.
নিউটনের গতিসূত্রের প্রথমটি কোন রাশি সম্পর্কে ধারণা দেয়?
  1. জড়তা 
  2. ভরবেগ 
  3. ত্বরণ 
  4. সরণ 
ব্যাখ্যা

নিউটনের গতিসূত্র: 
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ধারণার উপর ভিত্তি করে স্যার আইজ্যাক নিউটন গতির সূত্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে স্যার আইজাক নিউটন তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন যা তাঁর অমর গ্রন্থ ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া ম্যাথমেটিকাতে ১৬৮৭ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়। 
- এই সূত্র তিনটি নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত। 
প্রথম সূত্র: 
- "বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে (১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং (২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তা-ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চাওয়ার এই প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতির পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 
- যখন বস্তুর উপর বাহ্যিক লব্ধি বল প্রযুক্ত হয়। 
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে ভরবেগের পরিবর্তন, বলের অভিমুখ, বলের পরিমাপ, বল ও ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক এবং বলের একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯২৯.
নিম্নলিখিত কোনটির মাধ্যমে আলো শত শত কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত পরিবাহিত করা যায়?
  1. প্রিজম
  2. পেরিস্কোপ
  3. বাইনোকুলার
  4. অপটিক্যাল ফাইবার
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। 
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩০.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে ঘুরতে থাকে?
  1. ক) অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ বল
  3. গ) আপেক্ষিক বল
  4. ঘ) সমান্তরাল বল
ব্যাখ্যা
স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলাে ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চালনা করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে ঐ গতি নিয়েই সে বৃত্তাকার পথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। কারণ ঐ বলের প্রভাবে পৃথিবী তাকে কেন্দ্রের দিকে টানে তাই সে ঐ সমান্তরাল অবস্থায় সােজা পথে থাকতে পারে না।
১,৯৩১.
সদ বিম্ব গঠিত হয় -
  1. ক) অবতল দর্পণে
  2. খ) উত্তল লেন্সে
  3. গ) অবতল লেন্সে
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা

সদ বিম্বঃ কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে তবে তাকে সদ বা বাস্তব প্রতিবিম্ব বলে।
অবতল দর্পণ ও উত্তল লেন্সে সদ বিম্ব গঠিত হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩২.
কোনটি টেলিফোনের অংশ নয়?
  1. ক) সুইচ
  2. খ) রিংগার
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) মাউস প্যাড
ব্যাখ্যা
১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
টেলিফোনের পাঁচটি অংশ থাকে।
যথা- সুইচ, রিংগার, কি প্যাড, মাইক্রোফোন, এবং স্পিকার।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
১,৯৩৩.
তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. বিস্তার
  3. দশা
  4. পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা

• তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বলে।

• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলা হয়।
- পর্যায়কালকে সাধারণত T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।
- একটি কণা সাম্য অবস্থান থেকে শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় সেই অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য যে সময় প্রয়োজন, সেটিই পর্যায়কাল।
- পর্যায়কাল যত কম, কণার স্পন্দন তত দ্রুত সম্পন্ন হয়।
- পর্যায়কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
- যদি কম্পাঙ্ক f হয় এবং পর্যায়কাল T হয়, তবে f = 1/T.

• পূর্ণ স্পন্দন:
- কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে একদিকে গিয়ে পুনরায় সাম্য অবস্থানে ফিরে এলে সেটি অর্ধ স্পন্দন।
- সাম্য অবস্থান থেকে বিপরীত দিকে গিয়ে আবার প্রাথমিক অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য নির্দিষ্ট সময় লাগে, যা পর্যায়কাল দ্বারা নির্দেশিত হয়।

• তরঙ্গের ক্ষেত্রে পর্যায়কালের গুরুত্ব:
- তরঙ্গের গতি, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে পর্যায়কালের গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে।
- তরঙ্গ বেগ নির্ণয়ে পর্যায়কাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- তরঙ্গের সময়ভিত্তিক আচরণ বিশ্লেষণে পর্যায়কাল ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- কম্পাঙ্ক: এক সেকেন্ডে সম্পন্ন স্পন্দনের সংখ্যা।
- বিস্তার: সাম্য অবস্থান থেকে কণার সর্বাধিক সরণ।
- দশা: নির্দিষ্ট মুহূর্তে কণার সরণ, বেগ ও ত্বরণ দ্বারা নির্দেশিত অবস্থা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১,৯৩৪.
কোন রাতে শিশির বেশি জমে? 
  1. বৃষ্টিভেজা রাতে
  2. মেঘাচ্ছন্ন রাতে
  3. কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে
  4. মেঘশূন্য রাতে
ব্যাখ্যা
মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমার কারণ: 
- সব সময়ই বিভিন্ন জলাশয়ের পানির বাষ্পায়ন ঘটছে। এই বাষ্পায়নের ফলে জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হয় এবং তা বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। 
- বায়ুমণ্ডল সৃষ্ট জলীয় বাষ্প ধারণ করে। 
- দিনের বেলায় সূর্য তাপে বাতাস গরম থাকায় ঐ জলীয় বাষ্প দ্বারা বায়ুমণ্ডল সম্পৃক্ত হয় না। 
- রাতে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে যায়। তখন বাতাস ধারণকৃত জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় এবং তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে যায়, ফলে শিশির জমে। 
- রাতের আকাশে মেঘ থাকলে, মেঘমুক্ত রাতের থেকে তাপ বিকিরণ কম হয়। 
- তাপ বিকিরণ কম হওয়ায ভূ-পৃষ্ঠের বাতাসও তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা হয়। 
- বাতাসে তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের খুব নিচে যেতে পারে না, তাই কম শিশির জমে। 
অর্থাৎ, মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৫.
গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কেমন?
  1. মাঝারি
  2. খুব কম
  3. খুব দীর্ঘ
  4. অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- কাজেই গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩৬.
যে তরঙ্গের কণার স্পন্দনের দিক তরঙ্গের সঞ্চারণের দিকের সমান্তরাল, তাকে কী বলে? 
  1. আলোক তরঙ্গ 
  2. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ 
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়, সে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, সে তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও 
(২) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। 
যেমন- শব্দ তরঙ্গ ও স্প্রিং এর তরঙ্গ ইত্যাদি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ ইত্যাদি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩৭.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
  2. বিষুবীয় অঞ্চলে ওজন সর্বাধিক 
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রে g সর্বাধিক 
  4. সব স্থানে g সমান 
ব্যাখ্যা

- সঠিক তথ্যটি হচ্ছে- মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক। 
- পৃথিবীর আকৃতি এবং ঘূর্ণনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান বিভিন্ন হয়। 
যেমন-
মেরু অঞ্চল: পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চ্যাপ্টা। এর ফলে মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। অভিকর্ষজ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক হওয়ায়, দূরত্ব কম হলে g-এর মান সর্বাধিক হয়।
বিষুবীয় অঞ্চল: বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবী স্ফীত, তাই এটি কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। এই কারণে এখানে g-এর মান সবচেয়ে কম হয়।

পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৯৩৮.
সার্কিট ব্রেকারের প্রধান কাজ কী?
  1. ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণ করা
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ কমিয়ে দেওয়া
  3. বিদ্যুতের গতি বাড়ানো
  4. অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
ব্যাখ্যা
সার্কিট ব্রেকার এবং ফিউজ: 
- বিদ্যুতের বড় বড় দুর্ঘটনা হয় যখন হঠাৎ কোনো একটা ত্রুটির কারণে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- হঠাৎ করে বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়।
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই সার্কিট ব্রেক (বিচ্ছিন্ন) করে দেয়
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু একটা তারের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়।
- যদি কোনো কারণে বেশি বিদ্যুৎ যাওয়ার চেষ্টা করে ফিউজের সরু তার সেই (রোধ বেশি, কাজেই I2R বেশি অর্থাৎ তাপ বেশি) বিদ্যুতের কারণে উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ফেলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩৯.
বৈদ্যুতিক শক্তি ও চৌম্বকত্বকে একত্রিত করে বিজ্ঞানীরা যে বল আবিষ্কার করেন, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. নিউক্লিয়ার বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল 
  4. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা

প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে একটুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত, এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৪০.
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 
  1. ৯০.৪ ডিগ্রি
  2. ৯৮.৪ ডিগ্রি
  3. ১০০.৪ ডিগ্রি
  4. ১০২.৪ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি
C/5 = (F - 32)/9   [এখানে C = 38]
∴ 38/5 = (F - 32)/9
বা, 5(F - 32) = 9 × 38
বা, F - 32 = 342/5
বা, F = 68.4 + 32
∴ F = 100.4
অর্থাৎ, ফারেহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৯৪১.
সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক -
  1. ক) মিটার
  2. খ) ফুট
  3. গ) কিলোমিটার
  4. ঘ) ফ্যাদম
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক ফ্যাদম।
- এক ফ্যাদম সমান ৬ ফিট (১.৮৩ মিটার)।

==============
- বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র : হাইগ্রোমিটার
- গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র : ম্যানোমিটার
- বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র : ব্যারোমিটার
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে যন্ত্র : ফ্যাদোমিটার।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
১,৯৪২.
কোন বর্তনী পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে? 
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. রেকটিফায়ার
  4. সমন্বিত বর্তনী
ব্যাখ্যা
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- 
১। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
২। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৩.
বায়ুশূন্য একটি উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিলে কোনটি আগে মাটিতে পড়বে?
  1. হালকা বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  2. ভারী বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  3. বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
  4. বস্তুদ্বয় কিছু সময়ের ব্যবধানে মাটিতে পড়বে
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে গ্যালিলিওর সূত্র: 
- কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে খাড়াভাবে পতনের কারণ অভিকর্ষ বা পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- ইটালীর বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পিসা শহরে বায়ুশূন্য ১৮০ ফুট উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়ে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিচে পড়ার সময়, ভারী ও হালকা বস্তুর ত্বরণ একই হবে এবং বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পড়বে। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধার পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে তিনটি সূত্র দেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t  । 

৩। ততৃীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৪.
অপটিক্যাল ফাইবার কী? 
  1. এসবেস্টোস ফাইবার নল 
  2. সুপরিবাহী তামার তন্তু নল 
  3. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৯৪৫.
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য কয়টি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা

• ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তার 'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' (Special Theory of Relativity) প্রদানের সময় দুটি মূল প্রস্তাবনা বা স্বীকার্যের ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিষ্ঠিত করেন।

• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা - 
১। প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

২। দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪৬.
শীতকালে কাপড় দ্রুত শুকায়, এর প্রধান কারণ কী? 
  1. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
  2. বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  3. বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে
  4. সূর্যের আলো তীব্র থাকে
ব্যাখ্যা

শীতকালে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় বাতাস দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে, ফলে কাপড় দ্রুত শুকায়।

বাষ্পীভবন ও আর্দ্রতা:
- কাপড় শুকানো একটি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া।
- বাষ্পীভবনের হার নির্ভর করে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার উপর।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকলে বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বেশি থাকে।

• শীতকাল:
- শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক প্রকৃতির কারণে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে।
-  এই কারণে শীতকালে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে।
- ফলে বাতাস দ্রুত কাপড় থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
- এজন্য কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪৭.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন কে?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জন ডাল্টন
  4. ডিমিত্রি ম্যান্ডেলিফ
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া, দ্য ব্রগলি তরঙ্গ, কম্পটন প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তিত হয়।
- আইনষ্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে ভর ও শক্তির, E = mc2 বিখ্যাত সম্পর্কটি বের করেন।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হলো - কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,৯৪৮.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা হয়?
  1. ট্রান্সফর্মার 
  2. ক্যাপাসিটর 
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেক্টিফায়ার 
ব্যাখ্যা
• রেক্টিফায়ার:
- এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করার পদ্ধতিকে বলা হয় রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ।
- যে যান্ত্রিক ব্যবস্থা রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ করে তাকে বলা হয় রেক্টিফায়ার । 

- এটি সাধারণত ডায়োড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
- রেক্টিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- রেক্টিফায়ার ছাড়া ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরাসরি এসি প্রবাহ গ্রহণ করতে পারে না।

• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি ব্যবহার করে রেক্টিফায়ার  তৈরি করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৯৪৯.
কোনো বিন্দু উৎস বা ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় তাকে কী বলে?
  1. গোলীয় তরঙ্গমুখ
  2. চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ
  3. সমতল তরঙ্গমুখ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তরঙ্গমুখ সাধারণত তিন প্রকারের হয়। 
যথা - 

(ক) গোলীয় তরঙ্গমুখ: 
- কোনো বিন্দু উৎস বা ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় সেটি গোলাকার তরঙ্গমুখ। 

(খ) চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ: 
- কোনো রেখা থেকে বা চিড় থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় সেটি চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ। 
কারণ কোনো রেখা উৎস থেকে সমদূরত্বে অবস্থিত বিন্দুগুলো একটি চোঙের তলে অবস্থান করে। 

(গ) সমতল তরঙ্গমুখ: 
- অসীমে অবস্থিত উৎস থেকে যে রশ্মিগুলো আসে সেগুলো সমান্তরাল হওয়ায় এর তরঙ্গমুখ সমতল হয়। 
- ফলে সমতল তরঙ্গমুখ সৃষ্টি হয়। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫০.
কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না?
  1. তড়িৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. চাপ
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস।
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৫১.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) শব্দ একটি আড় তরঙ্গ।
  2. খ) শব্দ একটি দীঘল তরঙ্গ।
  3. গ) শব্দ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
  4. ঘ) শব্দ কোন তরঙ্গ নয়।
ব্যাখ্যা
শব্দ একটি দীঘল  তরঙ্গ।  

- যে তরঙ্গের ক্ষেত্রে মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ প্রবাহের অভিমুখের সমান্তরাল হয় তাকে দীঘল তরঙ্গ বলে।
- যেকোনো মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ একটি দীঘল তরঙ্গের উদাহরণ।
- দীঘল তরঙ্গের অপর নাম অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে এ ধরণের তরঙ্গ সঞ্চালিত হয়। 
- একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ নিয়ে এ তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত।

সূত্র: ২৮৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১,৯৫২.
এসিকে ডিসি করার যন্ত্র-
  1. এমপ্লিফায়ার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ডায়েড
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৩.
ড্রাগ শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মিটি ব্যবহৃত হয়?
  1. 100-380 nm
  2. 170–260 nm
  3. 200-400 nm
  4. 120-320 nm
ব্যাখ্যা
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m). 

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৪.
রোধ কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে না?
  1. উপাদান
  2. তড়িৎ প্রবাহ
  3. দৈর্ঘ্য
  4. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বিঘ্নিত হয় তাকে রোধ বলে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।  
যথা- 
১.পরিবাহীর দৈর্ঘ্য,
২.পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
৩.পরিবাহীর উপাদান এবং 
৪.পরিবাহীর তাপমাত্রা। 

- রোধের এস.আই. বা আন্তর্জাতিক একক হচ্ছে ও'ম। 
- কোনো পরিবাহীর রোধ 50 Ω বলতে বোঝায় এর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 50 V হলে এর মধ্যদিয়ে 1 A তড়িৎ প্রবাহ চলবে। 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)। 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্যের একক হলো ভোল্ট (V)।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১,৯৫৫.
চোখের হ্রস্বদৃষ্টি বা মাইওপিয়া দূর করার জন্য কোন ধরনের লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. অভিসারী লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. উত্তল লেন্স
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি বা মাইওপিয়া (Short sight or Myopia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না, তবে কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পায়। চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব বা নিকট দূরত্ব কমে যায়। নিকট বিন্দু চোখের সামনে চলে আসে। চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।

এই ত্রুটি দূর করার জন্য চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যরে বা পাওয়ারের অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। অবতল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফোকাস রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৯৫৬.
ডায়োডে কোন অংশকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল বলা হয়?
  1. ক্যাথোড
  2. অ্যানোড
  3. ট্রান্সফরমার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড।
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত।
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
১,৯৫৭.
নিচের কোনটি ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) নিকেল
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) কোবাল্ট
ব্যাখ্যা
সোনা ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে। 

ডায়া চৌম্বক (Diamagnetism):
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়, অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়, এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি।
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯৫৮.
নিউটনের গতির প্রথম সূত্র কোন রাশির ধারণা দেয়?
  1. ভরবেগ
  2. কাজ
  3. শক্তি
  4. জড়তা
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি বস্তুর জড়তা ও বলের গুণগত ধারণা দেয়।

জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম, যে ধর্মের কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে গতিশীল থাকতে চায়।
- জড়তা দু'প্রকার। যথা-
• স্থিতি জড়তা।
• গতি জড়তা।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৯.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. শোষণ
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন: 
- বিভিন্ন কাজে তাপশক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে হয় কিংবা সঞ্চালন করতে হয়।
- তিনটি উপায়ে তাপ সঞ্চালন করা হয়। 
যেমন- পরিবহণ, পরিচলন এবং বিকিরণ। 
১। পরিবহণ (conduction): 
- কঠিন পদার্থের বেলায় তাপ হচ্ছে অণুগুলোর কম্পন তাই যখন কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত উত্তপ্ত করা হয়, তখন সেই প্রান্তের অণুগুলো নিজের জায়গা থেকেই কাঁপতে থাকে।
- একটা অণু কাঁপতে থাকলে সেটি তার পাশের অন্য অণুকেও কাঁপাতে শুরু করে।
- সেই অণুটি তখন তার পাশের অণুকে কাঁপায়, এভাবে কম্পনটি কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিবাহিত হয় যা তাপ পরিবহণ নামে পরিচিত। 

২। পরিচলন (Convection): 
- তরল কিংবা গ্যাসকে উত্তপ্ত করা হলে তার ঘনত্ব কমে সেটি হালকা হয়ে যায়, কারণ তখন তাদের অণুগুলোকে বেশি বেগে ছোটাছুটি করতে হয় বলে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। 
- একই পরিমাণ তরল বা গ্যাস একটু বেশি জায়গায় নিয়ে থাকলে তার ঘনত্ব কমে যায় বা সেটি হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, তখন পাশের শীতল তরল বা গ্যাস সেখানে উপস্থিত হয়, এভাবে তরল বা গ্যাসের ভেতর একটা অভ্যন্তরীণ পরিচলন শুরু হয়। 

৩। বিকিরণ (Radiation): 
- আমরা যখন রোদে দাঁড়াই, তখন যে তাপ অনুভব করি, সেই তাপ যে পদ্ধতিতে আমাদের কাছে পৌঁছায় তার নাম বিকিরণ। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না, সেজন্য সূর্য আর পৃথিবীর ভেতরে মহাশূন্য থাকার পরেও দৃশ্যমান আলোর সঙ্গে অদৃশ্য অবলোহিত রশ্মি এবং অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে চলে আসতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,৯৬০.
একটি বল ঢাল বরাবর নিচে গড়িয়ে পড়ে। নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. বিভবশক্তি অপরিবর্তিত থাকে, গতিশক্তি বাড়ে
  2. বিভবশক্তি ও গতিশক্তি উভয়ই বাড়ে
  3. বিভবশক্তি কমে, গতিশক্তি বাড়ে
  4. উভয় শক্তিই কমে
ব্যাখ্যা

• বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তি হলো কোনো বস্তুর অবস্থানজনিত শক্তি।
- এটি নির্ভর করে বস্তুটির উচ্চতা এবং ভর-এর ওপর।
- সূত্র: Ep = mgh
- যখন বল ঢাল বরাবর নিচে নামে, তার উচ্চতা কমে যায়, ফলে বিভবশক্তি কমে।

• গতিশক্তি (Kinetic Energy):
- গতিশক্তি হলো বস্তুর চলার কারণে সৃষ্ট শক্তি।
- এটি বস্তুটির ভর ও বেগ উভয়ের ওপর নির্ভর করে।
- যখন বল নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তার বেগ বাড়ে, ফলে গতিশক্তি বাড়ে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৬১.
কোন বস্তুটির স্থিতিস্থাপকতা বেশি? 
  1. কাচ
  2. তামা
  3. ইস্পাত
  4. রাবার
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, যে ধর্মের ফলে বস্তুটি এই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং বাহ্যিক বল অপসারিত হলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও আয়তন ফিরে পায়, সেই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন, ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬২.
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে কোনটি নিসৃত হয় না?
  1. ক) আলফা
  2. খ) বিটা
  3. গ) গামা
  4. ঘ) এক্স রে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে আলফা, বিটা, গামা রশ্মি নির্গত হয়। গলগন্ড রোগ নির্ণয়ে, টিউমার, ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৯৬৩.
উপসর্গ “মেগা (Mega)” দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1. 10- 3
  2. 106
  3. 109
  4. 10- 6
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “মেগা (Mega)” দ্বারা বোঝানো হয়- 106 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৬৪.
কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. ক) দৈর্ঘ্য
  2. খ) ভর
  3. গ) ভরবেগ
  4. ঘ) তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পুর্ণরুপে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।  

যেমন: বেগ, ভরবেগ,সরণ, ত্বরণ, মন্দন, বল, বলের ঘাত, বলের ভ্রামক, চৌম্বক ভ্রামক, চৌম্বক দৈর্ঘ্য, চৌম্বক প্রাবাল্য, বৈদ্যূতিক প্রাবাল্য, ওজন, পৃস্টটান, সান্দ্রতা, গুনাঙ্ক, অভিকর্ষজ ত্বরণ ইত্যাদি।

উৎসঃ ৯ম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই   
১,৯৬৫.
এক খাদ্য ক্যালরি =?
  1. এক ক্যালরি
  2. একশ ক্যালরি
  3. এক হাজার ক্যালরি
  4. দশ হাজার ক্যালরি
ব্যাখ্যা
কিলোক্যালরি:
- খাদ্যের মধ্যে নিহিত শক্তিকে খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি হিসেবে মাপা হয়।
- ক্যালরি হচ্ছে শক্তির একক।
- এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে।
- এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° (ডিগ্রি) সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ তাপশক্তি হচ্ছে এক ক্যালরি।
- এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলোক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)।
- একটা খাদ্যের খাদ্য ক্যালরি বলতে বোঝায় খাদ্যটি সম্পূর্ণভাবে জারণ হলে কতখানি শক্তি বের হবে। (একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর ২০০০ kcal এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
১,৯৬৬.
জীবন্ত তারে কত ভোল্ট বিদ্যুৎ থাকে?
  1. ক) ১.৫ ভোল্ট
  2. খ) ৫০ ভোল্ট
  3. গ) ২২০ ভোল্ট
  4. ঘ) কোনাে তড়িৎ ভােল্টেজ থাকে না
ব্যাখ্যা
বাসায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান তার দুটির একটি হলাে জীবন্ত (সাধারণত লাল রঙের) তার এবং অন্যটি নিরপেক্ষ তার (সাধারণতকালাে রঙের) জীবন্ত তারে বিদ্যুৎ ভােল্টেজ (২২০Volt) থাকে। নিরপেক্ষ তারে কোনাে তড়িৎ ভােল্টেজ থাকে না যেহেতু এটিকে মাটির সাথে সংযােগ করে দেওয়া হয় এটি সার্কিট পূর্ণ করে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করে থাকে। উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
১,৯৬৭.
শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে কী বলে?
  1. ক) শব্দ সঞ্চালন
  2. খ) শব্দ পরিবহণ
  3. গ) শব্দত্তর তরঙ্গ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

শব্দের একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করাকে শব্দ সঞ্চালন বলে।

কোনো মাধ্যম ছাড়া শব্দ এক অবস্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে না।

যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20,000 Hz বা তার বেশি তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ / শ্রবণোত্তর তরঙ্গ বলে।

শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও বাদুর, কুকুর, মৌমাছি প্রভৃতি কিছু প্রাণী এই শব্দ শুনতে পায়।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান।

১,৯৬৮.
ব্যাটারিতে সঞ্চিত শক্তি কোন ধরনের শক্তি?
  1. রাসায়নিক শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. তাপশক্তি
  4. বিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা
•  ব্যাটারির রাসায়নিক শক্তি:
- ব্যাটারির মধ্যে থাকে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ (যেমন – লিথিয়াম, জিঙ্ক, বা অ্যাসিড)।

- যখন ব্যাটারিটি ব্যবহার করা হয়, তখন এই রাসায়নিক পদার্থগুলো একে অপরের সঙ্গে বিক্রিয়া (chemical reaction) করে ইলেকট্রন তৈরি করে।
- এই ইলেকট্রনগুলো বাইরে দিয়ে প্রবাহিত হলে সেটা আমরা তড়িৎ শক্তি (electric energy) হিসেবে পাই।
- ব্যাটারির ভিতরে শক্তি সঞ্চিত থাকে রাসায়নিক আকারে ব্যবহারের সময় সেটা তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়

উৎস: ব্রিটানিকা; পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৯.
শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান -
  1. ক) অসীম
  2. খ) শূন্য
  3. গ) অতি ক্ষুদ্র
  4. ঘ) অনেক বড়
ব্যাখ্যা
- পরমশূন্য তাপমাত্রা ব্যতীত যে কোন তাপমাত্রায় সকল পদার্থের অণুসমূহে তিন ধরণের গতি বিরাজ করে।

যথা: (i) চলমান গতি (translational motion),
(ii) ঘূর্ণায়মান গতি (rotational motion) এবং
(iii) কম্পন গতি (vibrational motion)।
- অণুসমূহ এ সকল গতিবেগের কারনে যে শক্তি লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতি শক্তির মান বেড়ে যায়
- শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান শূন্য হয়।

সূত্র: ৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭০.
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপড়ে উঠলে বস্তুর ভর-
  1. ক) বাড়ে
  2. খ) একই থাকে
  3. গ) কমে
  4. ঘ) শুন্য হয়ে যায়
ব্যাখ্যা
বস্তুর ওজন বস্তুটির ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণফলের সমান। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যতই উপড়ে ওঠা হয় ততই g এর মান কমে। কিন্তু বস্তুর ভর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এটি বাড়ে না বা কমে না। সুতরাং একই বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর গুণফল তথা ওজন ভূপৃষ্ঠের উপরের দিকে কমে।
সূত্রঃ অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১,৯৭১.
আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গমন করে তখন আলোর কোনটি পরিবর্তিত হয় না?
  1. ক) ফ্রিকুয়েন্সি
  2. খ) বেগ
  3. গ) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  4. ঘ) দ্রুতি
ব্যাখ্যা
 কোন মাধ্যমে প্রতি থেকে ও আলোর কি পরিমান সরন ঘটে বা কোন নির্দিষ্ট দিকে আলোর কি পরিমান দূরত্ব অতিক্রম করে
তাকে বলা হয় আলোর বেগ। কোন মাধ্যমে আলোর বেগ ঐ মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্গ বা ফ্রিকুয়েন্সির গুন
ফলের সমান।
আমরা জানি, যে, আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে ভ্রমন করলে এর কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকুয়েন্সি পরিবর্তিত হয় না। 

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৯৭২.
কোনটি দিয়ে উচ্চতা মাপা হয়?
  1. ক) ন্যানোমিটার
  2. খ) ল্যাকটোমিটার
  3. গ) ফ্যাদোমিটার
  4. ঘ) অলটিমিটার
১,৯৭৩.
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
এক্স-রে 
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন। 
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- এক্স-রে এক ধরনের চার্জহীন বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

- তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়: 
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে। 
-  এক্স-রে যন্ত্রে প্রযুক্ত বিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্স-রে উৎপাদিত হয় তাকে কঠিন এক্স-রে বলে। 
- কম বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে যে এক্স-রে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্স-রে বলে। 

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
১,৯৭৪.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত কোনটি?
  1. ক) আলোকরশ্মি হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমের দিকে যাবে
  2. খ) আপতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণ সমান হবে
  3. গ) আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হবে
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection):
এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্তঃ
১) আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে।
২) আপতন কোণ সংকট কোণের থেকে বড় হতে হবে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৯৭৫.
বরফ সাদা দেখায় কেন ?
  1. ক) আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে বলে।
  2. খ) বরফ কঠিন পদার্থ বলে ।
  3. গ) আলোর সব রশ্মিই প্রতিসরণ করে বলে।
  4. ঘ) বরফের বিক্ষেপণ বেশি বলে।
ব্যাখ্যা
আলো এলোমেলোভাবে নানাদিকে প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়ে থাকে। 
যে দিক থেকেই ওই বরফ-কেলাসের দিকে দেখা হোক না কেন, প্রত্যেকটিকে সে বিক্ষিপ্তভাবে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। 
আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলিত করে ফলে, তা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণালী তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উত্থাপিত হয় না। যার ফলে সাদা দেখায়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
১,৯৭৬.
নিচের কোনটিকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর অপবর্তন
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর প্রতিসরণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ:
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১,৯৭৭.
স্থির তরঙ্গে পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কতগুণ হয়? 
  1. অর্ধেক
  2. সমান
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা

• স্থির তরঙ্গে পরপর দুটি সুস্পন্দ বিন্দু (Antinodes) বা পরপর দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর (Nodes) মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক অর্থাৎ λ/২। একে একটি পূর্ণ লুপের দৈর্ঘ্যও বলা হয়।
- অন্যদিকে, একটি সুস্পন্দ বিন্দু এবং তার ঠিক পরবর্তী নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এক-চতুর্থাংশ বা  λ/৪।

• স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। 
- এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। 
- তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। 
- যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৭৮.
ইলেকট্রনিক্সে স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন প্রয়োজন?
  1. যন্ত্রের ওজন কমাতে
  2. যন্ত্রের গতি বাড়াতে
  3. যন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে
  4. বিদ্যুৎ খরচ কমাতে
ব্যাখ্যা

• স্থির বিদ্যুৎ ইলেকট্রনিক উপাদান, বিশেষ করে IC, ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; তাই ক্ষতি এড়ানোর জন্য স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

• স্থির বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স:
- শীতপ্রধান দেশে বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় সেখানে স্থির বিদ্যুতের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
- ইলেকট্রনিক্স এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে স্থির বিদ্যুতের প্রভাব ও আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য স্থির বিদ্যুতেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রে কাজ করার সময় মানবদেহে সঞ্চিত স্থির বিদ্যুৎ হঠাৎ যন্ত্রের সাথে স্পর্শের মাধ্যমে নির্গত হলে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit) ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদান স্থির বিদ্যুতের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
- এজন্য ইলেকট্রনিক্সে কাজ করার সময় স্থির বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৯৭৯.
ডায়নামোতে যান্ত্রিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. বৈদ্যুতিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. চৌম্বকীয় শক্তি
ব্যাখ্যা
• ডায়নামোতে যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• ডায়নামো:
- ডায়নামো হলো একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) এর নীতিতে কাজ করে।

• ডায়নামোর কার্যপ্রণালী:
→ যান্ত্রিক শক্তির প্রয়োগ:
- ডায়নামোর একটি কয়েল (তামার তারের পেঁচানো অংশ) চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘুরানো হয়।
- এই ঘূর্ণন সাধারণত বাইরে থেকে যান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করা হয় (যেমন: সাইকেলের প্যাডেল, হাইড্রো টারবাইন বা বায়ু টারবাইন, ডিজেল বা পেট্রোল ইঞ্জিন)।
→ তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- ফ্যারাডের সূত্র অনুসারে, চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে কয়েল ঘুরালে তাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ (তড়িৎ শক্তি) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
- Faraday's Law of Electromagnetic Induction – Britannica. 
১,৯৮০.
তেজস্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) তাপ প্রয়োগে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
  2. খ) চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তেজস্ক্রিয়তা হ্রাস পায়।
  3. গ) বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করা যায়।
  4. ঘ) তেজস্ক্রিয়তার উপর চাপের কোন প্রভাব নেই।
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয়তা: ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায় -
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া ।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৯৮১.
ক্ষমতার এস. আই একক কোনটি?
  1. ওয়াট
  2. জুল
  3. নিউটন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা:
-
ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
- ক্ষমতাকে p দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
- 1 HP = 746 ওয়াট
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৯৮২.
সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের–
  1. অর্ধবৃত্তাকার গতি
  2. উপবৃত্তাকার গতি
  3. সরল রৈখিক গতি
  4. রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা

- সরল দোলন গতি হলো এক বিশেষ ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। 

সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। অথবা, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮৩.
রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে শিহাব মোমবাতি জ্বালালো পড়ার জন্য। সে লক্ষ করলো মোমবাতি জ্বলার সাথে সাথে কিছু অংশ গলে গা বেয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর জমে শক্ত হয়ে যায়৷ শিহাব আসলে কোন প্রক্রিয়াটি লক্ষ করলো?
  1. ক) কঠিনীভবন
  2. খ) ঘনীভবন
  3. গ) শীতলীকরণ
  4. ঘ) ওয়াক্সিফিকেশন
ব্যাখ্যা
মোমবাতির একটি অংশ পুড়ে আলো দেয়, অন্য অংশ গলে মোমের গা বেয়ে পড়তে থাকে যা কিছুক্ষণ পর আবার জমে কঠিন মোমে পরিণত হয়৷ তরল মোম কঠিন হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে শীতলীকরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
১,৯৮৪.
পা কিংবা জুতাের তলা মাটিতে কোন ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে যায় না?
  1. প্রবাহী ঘর্ষণ
  2. গতি ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. স্থিতি ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণ:
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়, এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে।
- ঘর্ষণকে চারভাবে ভাগ করা যায়। যথা:

১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static Friction):
- দুটো বস্তু একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির থাকা অবস্থায় যে ঘর্ষণ বল থাকে সেটা হচ্ছে স্থিতি ঘর্ষণ।
- স্থিতি ঘর্ষণের জন্য আমরা হাঁটতে পারি, আমাদের পা কিংবা জুতাের তলা মাটিতে স্থিতি ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে যাই না।

২. গতি ঘর্ষণ (Sliding Friction):
- একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয় তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় সেটি হচ্ছে গতি ঘর্ষণ।
- সাইকেলের ব্রেক চেপে ধরলে সেটি সাইকেলের চাকাকে চেপে ধরে এবং ঘুরন্ত চাকাকে গতি ঘর্ষণের কারণে থামিয়ে দেয়।
- গতি ঘর্ষণ ওজনের উপর নির্ভর করে, ওজন যত বেশি হবে গতি ঘর্ষণ তত বেশি হবে।

৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling Friction):
- একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ।
- সবগুলাে ঘর্ষণ বলের মধ্যে এটা সবচেয়ে ছােট তাই আমরা সব সময়ই সকল রকম যানবাহনের মাঝে চাকা লাগিয়ে নিই। চাকা লাগানাে সুটকেস খুব সহজে টেনে নেওয়া যায়, যদি এর চাকা না থাকত তাহলে মেঝের উপর টেনে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হতাে।

৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid Friction):
- যখন কোনাে বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থ (Fluid) এর ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ।
- প্যারাস্যুট নিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৫.
সৌর কোষে শক্তি রূপান্তর প্রক্রিয়া কী নামে পরিচিত?
  1. তাপীয় প্রভাব
  2. ফটোভোলটাইক প্রভাব
  3. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় আবেশ
  4. রাসায়নিক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সৌর কোষে শক্তি রূপান্তর প্রক্রিয়া ফটোভোলটাইক প্রভাব নামে পরিচিত। 

• সৌর কোষ: 
- সৌর কোষ (Solar cell) হলো এক ধরনের ডিভাইস যা আলোক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এটি সাধারণত ফটোভোলটাইক প্রভাবের মাধ্যমে কাজ করে, যেখানে আলোকরশ্মি সৌর কোষের উপর পড়লে এটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। 

• গঠন:
- সৌর কোষ সাধারণত অর্ধপরিবাহী পদার্থ (যেমন সিলিকন) দিয়ে তৈরি হয়।
- এর মধ্যে দুটি স্তর থাকে, একটি p-টাইপ এবং অন্যটি n-টাইপ। এই দুটি স্তরের সংযোগস্থলে আলো পড়লে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

• ব্যবহার:
- সৌর কোষ বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন সৌর প্যানেল তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পকেট ক্যালকুলেটরে শক্তি সরবরাহ করা, ইত্যাদি।

• ফটোভোলটাইক প্রভাব:
- সৌর কোষে আলো পড়লে, ইলেকট্রনগুলো তাদের স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরে গিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াটিকেই আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া বা ফটোভোলটাইক প্রভাব বলা হয়।

• সৌর কোষে ফটোভোলটাইক প্রভাব (Photovoltaic Effect) হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সূর্যের আলো (ফোটন) সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়।
- এটি ১৮৩৯ সালে এডমন্ড বেকেরেল প্রথম আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
১,৯৮৬.
সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে-
  1. ট্রান্সফরমার
  2. জেনারেটর
  3. স্টোরেজ ব্যাটারি
  4. ক্যাপাসিটার
ব্যাখ্যা
- সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে স্টোরেজ ব্যাটারি। 
অর্থাৎ, স্টোরেজ ব্যাটারি সংযুক্ত থাকলে সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব। 
- Solar panels work hard all day producing electricity from the sun, You can continue benefiting from their energy production after sunset through net metering and solar battery storage.
১,৯৮৭.
টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকলে প্রান্ত বিন্দুতে কী সৃষ্টি হয়?
  1. সুস্পন্দ বিন্দু
  2. নিস্পন্দ বিন্দু
  3. অনুনাদ বিন্দু
  4. সংকোচন বিন্দু 
ব্যাখ্যা

• টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে নিস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হয়।

• টানা তারের আড় কম্পন:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ় অবলম্বনে টান টান করে বাঁধা হলে তা কম্পনের উপযোগী হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ তারের আবদ্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে।
- আগত ও প্রতিফলিত তরঙ্গের সমন্বয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি অবিরত কাঁপতে থাকে।

• নিস্পন্দ বিন্দু:
- তারের যে বিন্দুতে কোনো সরণ হয় না তাকে নিস্পন্দ বিন্দু বলে।
- দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে সরণ শূন্য থাকে।
- তাই প্রান্তদ্বয় নিস্পন্দ বিন্দু হিসেবে কাজ করে।
- মধ্যবর্তী অংশে এক বা একাধিক নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হতে পারে।

• সুস্পন্দ বিন্দু:
- যে বিন্দুতে সরণ সর্বাধিক হয় তাকে সুস্পন্দ বিন্দু বলে।
- একটি মাত্র সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে যে সুর উৎপন্ন হয় তাকে মূল সুর বলা হয়।
- একাধিক সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে উৎপন্ন সুরকে উপসুর বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- সুস্পন্দ বিন্দু: যেখানে কম্পনের বিস্তার সর্বাধিক।
- অনুনাদ বিন্দু: অনুনাদের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিশেষ অবস্থা নির্দেশ করে।
- সংকোচন বিন্দু: অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে ঘন অংশ নির্দেশ করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

১,৯৮৮.
চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলে?
  1. চৌম্বক মেরু
  2. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
  3. চৌম্বক মধ্যতল
  4. চৌম্বক বিভব
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মেরু N ও S দেখানো হয়েছে।

N = North Pole (উত্তরমেরু), 
S = South Pole (দক্ষিণমেরু)। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। 
চিত্রে, AB দন্ড চুম্বকের অক্ষ। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। 
চিত্রে, NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

ভৌগোলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮৯.
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে কোন পদার্থটি রয়েছে?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) সিলভার হ্যালাইড
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেট:

- ক্যামেরা বা আলোকচিত্রগ্রাহী যন্ত্র হল আলোকচিত্র গ্রহণ ও ধারণের যন্ত্র।
- দৃশ্যমান স্থির বা গতিশীল ঘটনা ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার হয়।
- ক্যামেরা চিত্র রেকর্ড করতে ব্যবহৃত একটি অপটিক্যাল যন্ত্র।
- ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে সিলভার হ্যালাইড এর প্রলেপের উপস্থিতি রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৯৯০.
ধাতব পদার্থের ক্ষেত্রে উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর রোধ-
  1. কমে যায়
  2. বেড়ে যায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে কমে পরে বাড়ে
ব্যাখ্যা
 ধাতব পদার্থের উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে এর- বৈদ্যুতিক রোধ বেড়ে যায়।

• বৈদ্যুতিক রোধ:
- বৈদ্যুতিক রোধ (Electrical Resistance) হলো একটি বৈদ্যুতিক সার্কিটে বৈদ্যুতিক প্রবাহের (Electric current) বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা।
- এটি এমন একটি উপাদান বা বৈশিষ্ট্য যা একটি পরিবাহকের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক প্রবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
- বৈদ্যুতিক রোধকে সাধারণত (R) দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
- এর একক হলো ওহম (Ω)।
 - কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা ( পরিবাহকত্ব) বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
ওহমের সূত্র (Ohm's Law):
V = IR;
এখানে,
V = ভোল্টেজ (Voltage) বা বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য।
R = রোধ (Resistance)। 
I = প্রবাহ (Current) বা তড়িৎ প্রবাহ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯১.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর শক্তি কিভাবে প্রকাশ পায়?
  1. শক্তি অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের মতো ছড়ায়
  2. শক্তি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট (কোয়ান্টাম) আকারে নির্দিষ্ট মান সহ ছড়ায়
  3. শক্তি শুধুমাত্র স্থির কণার মাধ্যমে ছড়ায়
  4. শক্তি যেকোনো অনিয়মিত আকারে ছড়ায়
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।

• আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিভিন্ন তত্ত্ব (Different theories of Light):
-ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে।
- কিভাবে আলো উৎপত্তি হয়, কিভাবে আলো সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে কিভাবে আমাদের চোখে আসে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত মোট চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো হলো:
• কণা তত্ত্ব, 
• তরঙ্গ তত্ত্ব, 
• তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব এবং
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব। 

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব :
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। - প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৯২.
সমতল দর্পণে কোন ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
  1. ক) বাস্তব ও সোজা
  2. খ) সদ ও বিবর্ধিত
  3. গ) অসদ ও সোজা
  4. ঘ) অবাস্তব ও খর্বিত
ব্যাখ্যা
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ ঃ
১. দর্পণ থেকে বস্তু দূরত্ব যত, দর্পণ থেকে বিম্বের দূরত্ব তত।
২. বস্তু ও বিম্ব সংযোগকারী রেখা দর্পণ তলকে লম্বভাবে ছেদ করে।
৩. সমতল দর্পণে গঠিত বিম্ব অসদ (অবাস্তব) ও সোজা।
৪. বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়।
৫. বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন ঘটে।


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৯৯৩.
রংধনুতে হলুদ রঙের পাশের দুটি রঙ কি কি?
  1. ক) সবুজ ও লাল
  2. খ) সবুজ ও কমলা
  3. গ) নীল ও কমলা
  4. ঘ) বেগুনী ও লাল
ব্যাখ্যা

রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।
রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।
অর্থাৎ হলুদ রঙের দুই পাশের দুইটি রং হলো- সবুজ এবং কমলা।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৯৪.
প্রকৃতির মৌলিক বলগুলোর মধ্যে কোন বলটি সবচেয়ে দুর্বল হিসেবে পরিচিত?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  3. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা

• প্রকৃতির মৌলিক চারটি বলের মধ্যে মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল হিসেবে পরিচিত। এই বলটি যেকোনো দুই ভরের মধ্যে কাজ করে এবং ভরের উপর নির্ভরশীল। যদিও মহাকর্ষ বল অসীম দূরত্বেও প্রভাব ফেলে, তবে এর শক্তি অন্যান্য মৌলিক বল যেমন তড়িৎচুম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল বা সবল নিউক্লীয় বলের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। উদাহরণস্বরূপ, একটি ছোট চুম্বকের তাড়নাও একটি ছোট কণার মহাকর্ষীয় প্রভাবকে লাঘব করতে পারে। মহাকর্ষ বল বৃহৎ স্কেলে যেমন গ্রহ, নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কণিকাগত বা দৈনন্দিন জীবনের ছোট পরিসরে এটি প্রায় অপ্রভাবশালী। তাই প্রকৃতির মৌলিক বলের মধ্যে এটি সবচেয়ে দুর্বল বল হিসেবে বিবেচিত হয়।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৯৫.
স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে লোহার মধ্যে কার্বনের ন্যুনতম সংযুক্তি কত শতাংশ?
  1. ক) ০.০৮%
  2. খ) ০.৮০%
  3. গ) ৮.০%
  4. ঘ) ০.০৮৮%
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বক: কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

অস্থায়ী চুম্বক:
চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

লোহার মধ্যে ০.৮% এর বেশি কার্বন থাকলে তা স্থায়ী চুম্বক তৈরি করে। 

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯৬.
A device which converts chemical energy into electrical energy is called?
  1. Generator
  2. Motor
  3. Transformer
  4. Battery
  5. Capacitor
ব্যাখ্যা

• রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াটি মূলত ব্যাটারি বা তড়িৎকোষের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট এবং ইলেকট্রোডগুলোর মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।
- ব্যাটারি ছাড়াও ফুয়েল সেল একই নীতিতে কাজ করে যেখানে রাসায়নিক উপাদানের বিক্রিয়ায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V।
- সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V। 
- আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।

১,৯৯৭.
অর্ধপরিবাহী পদার্থ অন্তরকের ন্যায় কাজ করে কোন তাপমাত্রায়?
  1. ক) 100°C
  2. খ) 273K
  3. গ) - 273K
  4. ঘ) 0K
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৮.
জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি?
  1. অতিবেগুনি রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মি:
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে।
- আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর।
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলো গামা রশ্মি।
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অন্যান্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি।
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

১,৯৯৯.
ক্ষমতার ক্ষেত্রে কোন সম্পর্কটি সঠিক?
  1. ক্ষমতা = বল × সরণ
  2. ক্ষমতা = ভর × বেগ 
  3. ক্ষমতা = বল × বেগ
  4. ক্ষমতা = ত্বরণ × বেগ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 

- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০০.
শব্দ তরঙ্গের বেগ কোন কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে? 
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও ব্যাস
  2. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
  3. চাপ ও ঘনত্ব
  4. সময় ও তরঙ্গের রঙ
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- চারপাশে অসংখ্য শব্দের উৎস রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত উৎস মানুষের কণ্ঠ; সেখানে যে ভোকাল কর্ড আছে তার ভেতর দিয়ে বাতাস বের হওয়ার সময় সেখানে যে কম্পন হয় সেটা দিয়ে শব্দ তৈরি হয়। কথা বলার সময় যদি গলায় স্পর্শ করা হয়, তাহলে সেই কম্পন অনুভব করতে পারা যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।