বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ৩৮ · ১০১২০০ / ৩,৭৪৭

১০১.
কোনটি অধাতুর বৈশিষ্ট নয়? 
  1. ক) তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়
  2. খ) বিজারক 
  3. গ) আঘাত করলে শব্দ হয় না
  4. ঘ) ঘষলে চকচক করে না 
ব্যাখ্যা
অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:  

- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়।
- আঘাত করলে শব্দ হয় না।
- অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়।
- ঘষলে চকচক করে না।
- অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই।
- ওজনে হালকা হয়।
- সহজে জোড়া লাগানো যায় না।
- পিটিয়ে পাত করা যায় না।
- কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ।
- অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট।
- অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না।
- চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির।
১০২.
একজন শিশুর স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব-
  1. ক) ৫ সেমি
  2. খ) ১৫ সেমি
  3. গ) ২৫ সেমি
  4. ঘ) ৩৫ সেমি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
একজন শিশুর স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব৫ সেন্টিমিটার এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫ সেন্টি মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১০৩.
নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম পরমাণুকে আঘাত করা হয়-
  1. ইলেক্ট্রন দ্বারা
  2. নিউট্রন দ্বারা
  3. পজিট্রন দ্বারা
  4. প্রোটন দ্বারা
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
আলফা কণিকার চার্জ কোনটি? 
  1. শূন্য 
  2. ধনাত্মক 
  3. ঋণাত্মক 
  4. পরিবর্তনশীল 
ব্যাখ্যা

আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব
৩। আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়, এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৫.
লাউড স্পিকার কোন শক্তিকে রূপান্তর করে?
  1. যান্ত্রিক → তড়িৎ
  2. শব্দ → যান্ত্রিক
  3. তড়িৎ → যান্ত্রিক 
  4. তড়িৎ → শব্দ
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৬.
পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান কত? 
  1. ০ মিটার/সেকেন্ড2
  2. ৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড2
  3. ৯.৮০ মিটার/সেকেন্ড2
  4. ৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড2
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতির জন্য বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজন বিভিন্ন হওয়ার কারণ: 
- পৃথিবী সুষম গোলক না হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সকল স্থান সমদূরে নয়। 
- যেহেতু g এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g এর মানের পরিবর্তন হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় g এর মান সবচেয়ে কম (৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড)। সুতরাং বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত যাওয়া যায়, কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব তত কমতে থাকে এবং g এর মান বাড়তে থাকে (৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড)। এর ফলে বস্তুর ওজনও বাড়তে থাকে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় g এর মান মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, ফলে ওজনও সবচেয়ে বেশি হয়। 
- আবার, পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১০৭.
পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
  1. ক) ক্রিয়ার বদলে প্রতিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়
  2. খ) সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
  3. গ) পালের দাড়িতে টানের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দিকে বাতাসকে কার্যকর করে
  4. ঘ) পালের আকৃতিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
পালতোলা নৌকাতে বাতাস দুইভাবে কাজ করে।একটি বলের অভিমূখে অন্যটি বলের বিপরীত। যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে বিপরীতমূখী বলকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে নৌকা অন্যদিকের বাতাসকে সম্মুখ অভিমূখে বলের উপাংশটিকে কাজে লাগিয়ে তা নৌকার সম্মুখগতিতে ব্যাবহার করতে পারে।
১০৮.
'তামা'-এর আপেক্ষিক তাপ কত?
  1. 130 Jkg-1K-1
  2. 230 Jkg-1K-1
  3. 400 Jkg-1K-1
  4. 420 Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা
- তামা'র আপেক্ষিক তাপ হচ্ছে- 400 Jkg-1K-1

আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat): 
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। 
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি। 
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়। 
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। 
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। 
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-1K-1
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন।  
নিচের তালিকায় কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৯.
পর্যায় কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
  1. T = f
  2. T = 1/f
  3. f = 2π/T
  4. T = 2π/f
ব্যাখ্যা
• সরল দোলন গতি:
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ওই কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়।
- অন্য ভাবে বলা যায়, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে।

• সরল দোলন গতি সম্বন্ধীয় কয়েকটি রাশি:
- দোলনকাল (Time Period): একটি পূর্ণদোলনের জন্য কোনো কণা যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বা দোলনকাল (T) বলা হয়।
- এর মাত্রা হলো সময়ের মাত্রা T এবং একক হলো সেকেন্ড (s)।

- কম্পাঙ্ক (Frequency): একক সময়ে কোনো কণা যে কয়টি পূর্ণদোলন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক (f) বলা হয়।
- যেহেতু T সময়ে 1 টি পূর্ণদোলন হয় তাই, একক সময়ে পূর্ণদোলনের সংখ্যা = 1/T
- অর্থাৎ, পর্যায় কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক হলো, f = 1/T বা, T = 1/f
- কম্পাঙ্কের মাত্রা হল T-1 এবং একক হার্জ (Hz) বলা হয়। 1Hz = 1s-1

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে -
  1. অ্যাটমোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. ফ্যাদোমিটার
ব্যাখ্যা
ক্রনোমিটার (Chronometer):
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।
- বাষ্পীভবনের হার মাপার যন্ত্র অ্যাটমোমিটার।
- শ্রাব্যতা মাপার যন্ত্র মাপার যন্ত্র অডিওমিটার।
- বায়ুচাপ বলোমিটার(bolometer) - তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ মাপার যন্ত্র ক্যালোরিমিটার।
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব মাপার যন্ত্র ল্যাক্টোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- ধাবমান বস্তুর গতি/বেগ মাপার যন্ত্র স্পিডোমিটার।
- রক্ত চাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগোমোম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
১১১.
কর্মদক্ষতা হচ্ছে -
  1. কাজ ও বলের অনুপাত
  2. ক্ষমতা ও শক্তির অনুপাত
  3. কাজ ও ক্ষমতার অনুপাত
  4. কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা (Efficiency): 
- শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে একটি যন্ত্রের কার্যকর শক্তি (output energy) যন্ত্রে প্রদত্ত মোট শক্তির (input energy) সমান হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে কার্যকর শক্তি সকল সময় মোট শক্তির চেয়ে কম হয়। 
- নানা কারণে যন্ত্রে শক্তির অপচয় ঘটে এবং এ কারণে যন্ত্রের ইনপুট ও আউটপুটে শক্তির এই তারতম্যের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- জেনারেটরের ক্ষেত্রে ঘর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে শক্তির অপচয় হয় যা তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে শক্তির মোট স্থানান্তর স্থির থাকে। 
- যন্ত্রেও কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 
কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= (E1 - E2)/E1 × 100%  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১২.
চুম্বকের আকর্ষণ শক্তি মূলত কোথায় বেশি কার্যকর? 
  1. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  2. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

• চুম্বকের আকর্ষণ শক্তি মূলত চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে বেশি কার্যকর। চুম্বক একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে ক্ষেত্রের ঘনত্ব এবং লাইনগুলো প্রায়শই প্রান্তের দিকে ঘন হয়ে থাকে। এই কারণে, চুম্বকের মধ্যভাগে চৌম্বকীয় প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে, কারণ সেখানে চৌম্বক ক্ষেত্রের লাইনগুলো সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে, চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু বা প্রান্তগুলোতে চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় আকর্ষণ শক্তিও সর্বাধিক হয়। তাই যেকোনো লোহার বা চৌম্বকীয় পদার্থ চুম্বকের প্রান্তের দিকে স্থাপন করলে সর্বোচ্চ আকর্ষণ অনুভব করা যায়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: খ) চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে।

চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১১৩.
জড়তার ধারণা পাওয়া যায় নিউটনের কোন সূত্র থেকে?
  1. ক) প্রথম সূত্র
  2. খ) দ্বিতীয় সূত্র
  3. গ) তৃতীয় সূত্র
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু সম গতিতে চলতে থাকবে। অন্যদিকে স্থির বস্তু স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতাকে জড়তা বলে।
১১৪.
মাইক্রোওয়েভ কোথায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) রেডিও
  2. খ) রাডার
  3. গ) গোয়েন্দা কাজে
  4. ঘ) ক্যান্সার নির্ণয়ে
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ রাডারে ব্যবহৃত হয়। 
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
১১৫.
What does Newton’s first law of motion state?
  1. The relationship between force and acceleration
  2. Action-reaction principle
  3. Inertia of matter
  4. Gravitational force effect
  5. The principle of conservation of energy
ব্যাখ্যা
• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"

• এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• জড়তা:
- জড়তা হলো বস্তুর একটি ধর্ম, যা দ্বারা বস্তু তার বর্তমান গতি বা স্থির অবস্থা বজায় রাখতে চায়।
• উদাহরণ:
- গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- টেবিলের উপর রাখা বই যতক্ষণ পর্যন্ত না ঠেলা হয় ততখন পর্যন্ত নিজে থেকে নড়ে না।
 
অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বল ও ত্বরণের সম্পর্ক সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র।
• মহাকর্ষ সূত্র হলো মহাবিশ্বের ভর যুক্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল সম্পর্কিত সূত্র।
• শক্তির সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী শক্তির কোন ধ্বংস নেই, এটি কেবল এক রূপ থেক অন্য রূপে স্থানান্তরিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১১৬.
'তাপমাত্রা' কোন ধরনের ভৌত রাশি?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. দিক রাশি
  4. লব্ধ রাশি
ব্যাখ্যা

'তাপমাত্রা' একটি স্কেলার রাশি। 

ভৌত রাশি (Physical Quantity):
কিছু ভৌত রাশি প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মান প্রয়োজন, আবার কিছু প্রকাশের জন্য মানের পাশাপাশি দিকও প্রয়োজন। এই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির মান এবং দিক উভয়ই থাকে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলা হয়।
উদাহরণ: ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল, সরণ ইত্যাদি।
ভেক্টর রাশির ধর্ম:
- সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায়, কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
- দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
- ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
- ভেক্টরকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

২. স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বলা হয়।
উদাহরণ: তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য, কাজ, ভর, সময়, দ্রুতি ইত্যাদি।
স্কেলার রাশির ধর্ম:
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৭.
যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্টি হতে হলে কোনটির প্রয়োজন? 
  1. শূন্য ভ্যাকুয়াম 
  2. অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম 
  3. শক্তিশালী চুম্বকক্ষেত্র 
  4. কোনো নির্দিষ্ট দিকের আলোকরশ্মি 
ব্যাখ্যা

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- বিভিন্ন উপায়ে শব্দ সৃষ্টি হয় তা বিভিন্ন জড় পদার্থের কম্পন থেকে। 
- তাই পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. এই তরঙ্গ সৃষ্টি ও সঞ্চালনের জন্য অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
২. এই তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ঘটে। 
৩. মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের বা স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
৪. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৫. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য সময় প্রয়োজন হয়। 
৬. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চারণের দিক এক নাও হতে পারে। 
৭. তরঙ্গের কণাগুলোর বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। 
অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৮. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপর নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৮.
আয়নায় প্রতিফলিত হলে নিচের কোন শব্দটির কোনো পরিবর্তন হবে না?
  1. ক) OPT
  2. খ) NOON
  3. গ) SOS
  4. ঘ) OTTO
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১১৯.
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস নিচের কোনটি? 
  1. সৌরকোষ
  2. ডায়নামো
  3. ব্যাটারি 
  4. ডিসি জেনারেটর
ব্যাখ্যা

- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস হচ্ছে 'জেনারেটর বা ডায়নামো'।

তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
১. পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

২. অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১২০.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. লেকল্যান্স কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১২১.
ট্রানজিস্টরকে কোন কাজে ব্যবহার করা যায়?
  1. শুধুমাত্র তাপ উৎপাদনে
  2. উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে
  3. ব্যাটারি চার্জ করার জন্য
  4. আলো তৈরি করার জন্য
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর একটি ইংরেজি শব্দ। Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপণ্ড সংঘটিত করেছে। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন, ডব্লিউ ব্রাটেন ও ডব্লিউ সক্লে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
- দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার।
যথা- ১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং ২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২২.
​ক্ষমতার সূত্র কোনটি সঠিক? 
  1. P = বল + বেগ 
  2. P = কাজ / সময়
  3. P = কাজ × সময় 
  4. P = সময় / কাজ
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৩.
কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা ইস্পাতের তুলনায় কেমন হয়?
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. চৌম্বক প্রবণতা শূন্য
ব্যাখ্যা
•  চৌম্বক প্রবণতা (Magnetic Susceptibility) হলো একটি পদার্থ কতটা সহজে চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা চুম্বকিত হতে পারে, তার পরিমাপ। এটি পদার্থটির চৌম্বক হওয়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।

কাঁচা লোহা (Soft Iron):
-  কাঁচা লোহার ডোমেইনগুলোকে বহিঃচৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে সহজে বিন্যস্ত করে চুম্বকে পরিণত করা যায়।  কিন্তু চৌম্বকক্ষেত্রের অপসারণে এরা আবার বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ফিরে যায়।
-  ফলে এদের চুম্বকত্ব নষ্ট হয়ে যায়। এজন্যে কাঁচা লোহাকে কলিংবেলের মতো যেখানে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয় সেখানে ব্যবহার করা হয়।

কাঁচা লোহার বৈশিষ্ট্য: 
-  অত্যন্ত উচ্চ চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন। 
-  দ্রুত চৌম্বকিত হয় ও দ্রুতই চৌম্বকত্ব হারায়। 
-  চুম্বক তৈরির জন্য Temporary Magnet হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

অপরদিকে,
ইস্পাত (Steel):
-  ইস্পাতের ক্ষেত্রে ডোমেইনগুলো সহজে বিন্যস্ত হতে চায় না। এজন্য বেশ শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের প্রয়োজন হয় এবং একবার চুম্বকে পরিণত হলে সহজে চুম্বকত্ব হারায় না। এজন্যে ভালো স্থায়ী চুম্বক তৈরি করতে ইস্পাতের প্রয়োজন হয়।

ইস্পাতের বৈশিষ্ট্য: 
-  তুলনামূলকভাবে কম চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন।
-  ধীরে চৌম্বকিত হয়, কিন্তু একবার চৌম্বক হলে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
-  ব্যবহৃত হয় Permanent Magnet তৈরিতে। 

অতএব, কাঁচা লোহা ইস্পাতের তুলনায় অনেক বেশি সহজে চৌম্বকিত হয়, অর্থাৎ কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা বেশি।

তথ্যসূত্র: 
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. শাহজাহান তপন। 
- Encyclopaedia Britannica. 
১২৪.
ভোল্ট কিসের একক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তড়িৎ প্রবাহ
  2. খ) তড়িৎ ক্ষেত্র
  3. গ) তড়িৎ বিভব
  4. ঘ) তড়িৎ আধান
ব্যাখ্যা
• বিভব পার্থক্যের একক - ভোল্ট (V);
• চার্জ বা আধানের একক হচ্ছে - কুলম্ব (C).
• তড়িৎ প্রবাহের একক - এম্পিয়ার (A);
• পরিবাহিতার একক সিমেন্স (S);
• রোধের একক - ওহম (Ω);
• কম্পাঙ্কের একক - হার্জ (Hz).

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
১২৫.
পোস্ট অফিস বক্সের সাহায্যে কী পরিমাপ করা যায়? 
  1. প্রবাহ
  2. আধান
  3. রোধ
  4. বিভব পার্থক্য
ব্যাখ্যা
পোস্ট অফিস বক্স: 
- যে রোধ বাক্সের রোধগুলোকে হুইটস্টোন ব্রিজের তিনটি বাহু হিসেবে বিবেচনা করে এর সাহায্যে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে পোস্ট অফিস বক্স বলে। 
- পোস্ট অফিস বক্স হুইটস্টোন ব্রিজের আরেকটি রূপ। 
- পূর্বে পোস্ট অফিসের লোকজন টেলিগ্রাম, টেলিফোন লাইনের তারের রোধ নির্ণয়ের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন বলে একে পোস্ট অফিস বক্স বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১২৬.
পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে কী ধরনের শক্তি সঞ্চিত থাকে?
  1. স্থিতিশক্তি
  2. আলোকশক্তি
  3. তাপশক্তি
  4. গতিশক্তি
ব্যাখ্যা

• পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে স্থিতিশক্তি (Potential Energy) সঞ্চিত থাকে। এটি মূলত ভর এবং উচ্চতার কারণে সঞ্চিত শক্তি। যেহেতু বরফ পাহাড়ের উচ্চ স্থানে অবস্থিত, তাই তার নিজস্ব ভরের কারণে ভূমিকর্ষণের বিপরীতে একটি সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তি তখন প্রকাশ পায় যখন বরফ নেমে আসে বা কোনাে বলের আঘাতে সরানো হয়, তখন তা গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বরফের মধ্যে আলোকশক্তি বা তাপশক্তি অল্প পরিমাণে থাকতে পারে, কিন্তু প্রধানভাবে শক্তি হিসেবে এটি স্থিতিশক্তি হিসাবেই বিবেচিত হয়। তাই পাহাড়ের চূড়ার বরফে প্রধান শক্তি ধরণ হলো স্থিতিশক্তি।

- সঠিক উত্তর: ক) স্থিতিশক্তি।

• পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে শক্তি (Energy in Snow on Mountain Peak):
- পাহাড়ের চূড়ায় থাকা বরফকে উপরে তুলে রাখা অবস্থায় একটি বিশেষ ধরনের শক্তি সঞ্চিত থাকে।  
- এই শক্তি মূলত উচ্চতাজনিত শক্তি, অর্থাৎ স্থিতিশক্তি (Potential Energy)।  
- কারণ, যেকোনো বস্তুকে উচ্চ অবস্থানে রাখলে তার নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  
- এই সম্ভাব্য শক্তি স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে, যেমন বরফ নেমে আসার সময়।  
- বরফের মধ্যে আলোকশক্তি বা তাপশক্তি থাকলেও এটি মূলত তার উচ্চতা বা অবস্থানের কারণে সঞ্চিত হয়।  

বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ।
- অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। যথা- একটি হচ্ছে গতি শক্তি এবং অপরটি হচ্ছে বিভবশক্তি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
সমুদ্রের জোয়ারভাটা থেকে কোন ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. তাপশক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা

জোয়ারভাটা শক্তি (Tidal Energy) হলো সমুদ্রের পানির উত্থান-পতনের ফলে সৃষ্ট যান্ত্রিক শক্তি, যা টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। পানির গতি ও চাপের পরিবর্তন থেকে এই শক্তি উৎপন্ন হয়, তাই এটি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস।

জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।
- এই ট্রার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১২৮.
দৃশ্যমান আলোর তুলনায় এক্সরে রশ্মির -
  1. ক) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি
  2. খ) কম্পাঙ্ক কম
  3. গ) ভেদন ক্ষমতা বেশি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাধারণ আলো অস্বচ্ছ পদার্থকে ভেদ করতে পারেনা। এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন। এক্স-রশ্মি অনেক কিছু ভেদ করে যেতে পারে। যেমন, মানুষের শরীর, কাঠ এমনকি লোহাকেও ভেদ করতে পারে।
এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক ছোট।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১২৯.
বিভবশক্তি সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. অপর নাম স্থিতিশক্তি
  2. উচ্চতার উপর নির্ভর করে
  3. যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বিভবশক্তি সম্পর্কিত উল্লিখিত সবগুলো তথ্যই সঠিক।

• বিভবশক্তি:

- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি।
- বিভবশক্তি নির্ভর করে উচ্চতার উপর।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
- যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- বস্তু কর্তৃক সম্পন্ন কাজ বা বিভবশক্তি,
Ep = বল × সরণ (উচ্চতা)
⇒ Ep = mgh

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
একটি PV cell উৎপন্ন করে
  1. AC voltage
  2. DC voltage
  3. Both AC and DC voltages
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- একটি ফটোভোলটাইক (পিভি) সেল, সাধারণত একটি সৌর কোষ হিসাবে পরিচিত, একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা আলোক শক্তিকে ফটোভোলটাইক প্রভাবের মাধ্যমে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।
- এই কোষগুলি সৌর প্যানেলের বিল্ডিং ব্লক।
- PV কোষ DC voltage উৎপন্ন করে। একাধিক কোষ একটি সৌর প্যানেল বা মডিউল গঠন করতে সংযুক্ত করা হয়।
- এই প্যানেলগুলি উচ্চ শক্তি আউটপুট উত্পাদন করতে সক্ষম। 
- একটি সৌর অ্যারে তৈরি করতে প্যানেলগুলি সংযুক্ত করা যেতে পারে।
১৩১.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে? 
  1. লোহা
  2. প্লাস্টিক
  3. সিলিকন
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩২.
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে নিম্ন কম্পাঙ্ক (২ - ৫ MHz) কোন অঙ্গের জন্য উপযোগী?
  1. থাইরয়েড গ্রন্থি
  2. ত্বক ও চোখ
  3. লিভার ও কিডনি
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) লিভার ও কিডনি
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে (২-৫ MHz) কম্পাঙ্ক (Frequency) সাধারণত শরীরের গভীর স্তরের বা ভেতরের অঙ্গগুলো দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মূল কারণ হলো নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ টিস্যুর অনেক গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এই কম্পাঙ্ক প্রধানত নিচের অঙ্গগুলোর পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়:
১. পেটের ভেতরের অঙ্গ (Abdominal Organs): যকৃৎ (Liver), পিত্তথলি (Gallbladder), অগ্ন্যাশয় (Pancreas), কিডনি (Kidney) এবং প্লীহা (Spleen)।

২. প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ (Obstetrics and Gynecology): গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের পরীক্ষার জন্য।

৩. গভীর রক্তনালী: শরীরের গভীরে অবস্থিত বড় রক্তনালীগুলোর প্রবাহ পর্যবেক্ষণে।

সহজ কথা: অঙ্গ যত গভীরে হবে, কম্পাঙ্ক তত কম (যেমন ২-৫ MHz) প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, শরীরের উপরিভাগের অঙ্গ (যেমন- থাইরয়েড বা স্তন) পরীক্ষার জন্য উচ্চ কম্পাঙ্ক (৭-১৫ MHz) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৩৩.
কোনটি অপরিবাহী পদার্থ?
  1. ক) লোহা
  2. খ) তামা
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) সিলিকন
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩৪.
100 W এর একটি বাতি জ্বালালে প্রতি সেকেন্ডে কত ওয়াট শক্তি ব্যয় হয়?
  1. ক) 1W
  2. খ) 100W
  3. গ) 100/60 W
  4. ঘ) 100/3600 W
ব্যাখ্যা
যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে আমরা বলি 1ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
আমরা যদি 100 W এর একটা বাতি জ্বালাই তার অর্থ এই বাড়িতে প্রতি সেকেন্ডে 100W শক্তি ব্যয় হচ্ছে।

যখন আমরা খবরের কাগজ পড়ি, দেশে 1000 MW নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হবে তার অর্থ সেই নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে প্রতি সেকেন্ডে 1000 x 10J বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হবে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩৫.
শক্তিশালী চুম্বক তৈরীর জন্য কোন ধরনের চৌম্বক পদার্থ প্রয়োজন?
  1. ক) ফেরো-চৌম্বক পদার্থ
  2. খ) প্যারা-চৌম্বক পদার্থ
  3. গ) ডায়া-চৌম্বক পদার্থ
  4. ঘ) যে কোনো চৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরনের চৌম্বক পদার্থঃ
- প্যারা-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা - চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে।
যেমন - অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, পন্টিনিয়াম, টিন ইত্যাদি।
- ডায়া-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।
- ফেরো-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১৩৬.
যখন দুটি পদার্থকে ঘর্ষণ করা হয়, তখন চার্জ (আধান) সৃষ্টির প্রধান কারণ কী? 
  1. নতুন ইলেকট্রন তৈরি হয়
  2. নিউট্রন চার্জ উৎপন্ন করে
  3. প্রোটন এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে চলে যায়
  4. এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
আধান বা চার্জের উৎপত্তি: 
- পদার্থ কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, যার নাম পরমাণু। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সমন্বয়ে পরমাণু গঠিত। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যা প্রোটন ও নিউট্রনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- ইলেকট্রন এই নিউক্লিয়াসের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। 
- প্রোটন ধনাত্মক (+) আধানযুক্ত, ইলেকট্রন ঋণাত্মক (-) আধানযুক্ত এবং নিউট্রন হলো আধান নিরপেক্ষ কণা। 
- প্রোটনের ধনাত্মক চার্জের পরিমাণ ইলেক্ট্রনের ঋণাত্মক চার্জের সমান ও বিপরীতধর্মী। 

- কিন্তু পরমাণু নিজে আধান নিরপেক্ষ, পরমাণু ধনাত্মক বা ঋণাত্মক কোনোটাই নয়। 
- পরমাণুতে কোনো মোট চার্জ থাকে না, কারণ একটি পরমাণুতে যে কয়টি প্রোটন থাকে, সেই কয়টিই ইলেকট্রন থাকে। যার ফলে পরমাণু চার্জ বা আধান নিরপেক্ষ হয়। 
- কিন্তু যখনই দুটো পদার্থকে ঘর্ষণ করা হয়, তখন একটি পদার্থের ইলেকট্রন অন্য একটি পদার্থে স্থানান্তরিত হয় ফলে একটি পদার্থে ইলেকট্রনের আধিক্য দেখা দিতে পারে। 
- ঘর্ষণের ফলে নতুন কোনো আধানের সৃষ্টি হয় না বরং পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান ইলেকট্রনে অবস্থিত আধান ইলেকট্রনের সাথে এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে স্থানান্তরিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৩৭.
শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার/সেকেন্ড হলে, প্রতিফলনের ন্যূনতম কোন দূরত্বে প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?
  1. ক) ৩৩ মিটার
  2. খ) ১৭.৬ মিটার
  3. গ) ১৫.৬ মিটার
  4. ঘ) ১৬.৫ মিটার
ব্যাখ্যা
আমরা যখন কোন শব্দ শুনি তার অনুভূতি মস্তিষ্কে ০.১ সেকেন্ড সময় পর্যন্ত থেকে যায়। তাই দুটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে ০.১ সেকেন্ডের একটি ব্যবধান থাকা দরকার।
শব্দের বেগ ৩৩০ m/s হলে ০.১ সেকেন্ডের ব্যবধান তৈরি করতে শব্দকে কমপক্ষে ৩৩ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। তাই উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব এর অর্ধেক (১৬.৫ মিটার) হলে, শব্দটি গিয়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড সময় লাগবে এবং আমরা প্রতিধ্বনি শুনতে পাব।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৮.
"চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে" এটি নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. নিউটনের চতুর্থ সূত্র
ব্যাখ্যা
১. নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
• উদাহরণ:
- চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

২. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

৩. নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।
• উদাহরণ:
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৯.
বর্ণান্ধ লোকেরা কোন কোন রং বুঝতে পারে না?
  1. লাল ও সবুজ
  2. লাল ও নীল
  3. লাল, নীল ও সবুজ
  4. সবুজ ও নীল
ব্যাখ্যা
বর্ণান্ধতা: 
- কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা হলো নির্দিষ্ট রং চেনার অক্ষমতা। 
- বর্ণান্ধতা হলো চোখের দৃষ্টিশক্তির এমন একটি অবস্থা, যখন আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক আলোয় বিশেষ কিছু রঙের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পান না। 
- সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষদের এই রোগ বেশি হয়। প্রতি ১০ জন পুরুষের ১ জনের এই সমস্যা দেখা যায়। 
- কালার ব্লাইন্ডের অন্য একটি নাম ‘কালার ভিশন ডিফিসিয়েন্সি’। 
- মানুষের চোখের ভেতরে রেটিনা নামে একটি পাতলা স্তর রয়েছে, যেটি দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ বা ফটোরিসেপ্টর বহন করে। 
- এগুলো হলো রড কোষ ও কোন কোষ। 
- কোন কোষ আমাদের বিভিন্ন রং চেনাতে সাহায্য করে এবং এই কোষের মাধ্যমেই আমরা বিভিন্ন রঙের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি। 
- অন্যদিকে রড কোষ আমাদের আলো শনাক্ত করতে এবং আলোর ধরন বুঝতে সাহায্য করে, কিন্তু রং চেনানোর ব্যাপারে এই কোষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। 
- বর্ণান্ধ হওয়ার ব্যাপারটি তাই কোন কোষের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 
- আমাদের চোখে তিন ধরনের কোন কোষ রয়েছে। 
- এগুলো তিনটি মৌলিক রং শনাক্ত করতে পারে- লাল, সবুজ ও নীল। 
- চোখের রেটিনায় কোনোভাবে যদি এই তিন ধরনের কোন কোষের যেকোনো একটির ঘাটতি দেখা যায়, তাহলে বর্ণান্ধতা তৈরি হয়। 
- সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়, যখন কোনো ব্যক্তির চোখের রেটিনায় এই তিন ধরনের কোন কোষই অনুপস্থিত থাকে। 
- ওই ব্যক্তি এ ধরনের সমস্যার কারণে সব রংই ধূসর বা সাদা-কালো দেখেন। 
- এমনকি নিজের রক্তও তিনি সাদা-কালো দেখেন। 
- কালার ব্লাইন্ড তিন ধরনের হতে পারে। 
যেমন লাল-সবুজ, নীল-হলুদ ও কমপ্লিট কালার। 

কারণ: 
- বর্ণান্ধ হওয়ার পেছনে জেনেটিক ও বংশগত উভয় কারণই রয়েছে। 
- এছাড়া আরও কিছু কারণ আছে যেমন- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, গুরুতর আঘাত, চোখে ছানি পড়া। 
- পারকিনসন রোগ, শরীরে ভিটামিন-এ–এর ঘাটতি হলেও বর্ণান্ধতা দেখা দিতে পারে। 
- অনেক সময় স্রেফ বার্ধক্যজনিত কারণেও বর্ণান্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

প্রতিকার: 
- বর্ণান্ধতার কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা নেই। 
- তবে বিশেষ কিছু চশমা (যেমন এনক্রোমা গ্লাস) ও মোবাইলভিত্তিক অ্যাপের সাহায্যে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (৩০ জানুয়ারি, ২০২৩)।
১৪০.
বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য প্রেরণ করা হয়- 
  1. তড়িৎ প্রবাহের মাধ্যমে
  2. শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে
  3. আলোক সংকেতের মাধ্যমে
  4. চৌম্বক তরঙ্গের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য প্রেরণ করা হয় আলোক সংকেতের মাধ্যমে। অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি এক ধরণের পাতলা তন্তু, যার মধ্য দিয়ে তথ্য পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) প্রক্রিয়ায় আলোর গতিতে যাতায়াত করে। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪১.
নিচের কোন বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) সেতার
  2. খ) গীটার
  3. গ) একতারা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
স্থির তরঙ্গ
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। 
- এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। 
- প্রথমোক্ত বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং শেষোক্ত বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
অর্ধপরিবাহীর উদাহরণ কোনটি? 
  1. লোহা 
  2. জার্মেনিয়াম 
  3. তামা
  4. প্লাস্টিক 
ব্যাখ্যা

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৩.
বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে কত বার দিক পরিবর্তন করে?
  1. আশি
  2. সত্তর
  3. পঞ্চাশ
  4. ষাট
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ এবং 
(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ। 

(ক) অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

(খ) পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৪৪.
পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে বস্তুর ওজন- 
  1. স্থির থাকে
  2. বাড়ে
  3. কমে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৪৫.
সরু তারের ব্যাস নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. স্লাইড ক্যালিপার্স 
  2. তুলা যন্ত্র
  3. স্ক্রু গজ 
  4. মিটার স্কেল 
ব্যাখ্যা

স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- স্ক্রু যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৬.
ডায়োডের কোন অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বলা হয়?
  1. গেট 
  2. সোর্স 
  3. ক্যাথোড
  4. অ্যানোড 
ব্যাখ্যা

- ডায়োডের অ্যানোড অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বা ধনাত্মক টার্মিনাল বলা হয়। ডায়োডের কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, যখন অ্যানোডকে ব্যাটারির পজিটিভ (+) প্রান্তের সাথে এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ (-) প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন ডায়োডটি 'ফরোয়ার্ড বায়াস' অবস্থায় থাকে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয়। 

ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৭.
তড়িৎ প্রবাহের একক কোনটি?
  1. ক্যান্ডেলা
  2. কুলম্ব
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. ভোল্ট
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

অন্যদিকে, 
- আলোক তীব্রতার একক ক্যান্ডেলা। । 
- রোধেের একক ওহম।
- আধানের একক কুলম্ব।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সাধারণত কত?
  1. 2-10 Hz
  2. 2-10 kHz
  3. 2-10 MHz
  4. 2-10 GHz
ব্যাখ্যা

- ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গ বা আল্ট্রাসাউন্ডের কম্পাঙ্ক সাধারণত 2 থেকে 10 মেগাহার্টজ (MHz) এর মধ্যে থাকে। 

ইকোকার্ডিওগ্রাফি: 

- ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের সাহায্যে হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়। 
- শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিণ্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে 2-10 MHz কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- টিস্যুর মধ্যে শব্দ তরঙ্গ সাধারণত 1540 ms-1 এবং রক্তের মধ্যে 1570 ms-1 বেগে সঞ্চালিত হয়। 
- আপতিত শব্দ তরঙ্গ হৃৎযন্ত্রের টিস্যুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃৎযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত হতে থাকে। 
- যত বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, প্রতিফলিত বিম্বের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা তত বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৯.
যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে কোনটি?
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. জেনারেটর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
কয়েকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র এবং কাজের ধরণ:

• বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• ডায়নামো বা জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• লাউড স্পিকার তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• এমিটার - বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ করে।
• ভোল্টমিটার- বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
• ট্রান্সফরমার - একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সির কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পদার্থবিজ্ঞান বই।
১৫০.
কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত রশ্মি নিচের কোনটি? 
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার: 
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ। 
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়। 
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫১.
অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় কোনটিতে?
  1. ক) মোটরে
  2. খ) জেনারেটরে
  3. গ) ট্রান্সফর্মারে
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায় । 

কৃত্রিম চুম্বক:
কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক, 
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক। 

অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫২.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল কত?
  1. ২ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ৫ সেকেন্ড
  4. ১০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

সরল দোলক:
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।

সরল দোলন গতি:
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে।

সেকেন্ড দোলক:
- যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে

কার্যকরী দৈর্ঘ্য:
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

১৫৩.
নিচের কোনটি সুপরিবাহী?
  1. ক) সিলিকন
  2. খ) অ্যালুমিনিয়াম
  3. গ) জার্মেনিয়াম
  4. ঘ) গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে। 
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
- যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহী বলে। 
- যেমন- কাঁচ, কাঠ, রাবার, পাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ।
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- যেমন: জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম  ইত্যাদি  অর্ধপরিবাহী পদার্থ।

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
রোধ পরিমাপের একক কোনটি?
  1. কুলম্ব (C)
  2. অ্যাম্পিয়ার (A)
  3. ওহম (Ω)
  4. ভোল্ট (V)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- গ) ওহম (Ω)

• রোধ:
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ (ইলেকট্রন প্রবাহ) বাধাগ্রস্ত হয় বা বিঘ্নিত হয়, তাকে রোধ (Resistance) বলে।
- এটি পরিবাহীর এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা বিদ্যুৎ চলাচলের বিরোধিতা করে।
- পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদ, উপাদান এবং তাপমাত্রার ওপর রোধ নির্ভর করে।
- এই রোধ বা Resistance-এর একক হচ্ছে ওহম (Ohm)।
- এটাকে গ্রিক অক্ষর Ω (ওমেগা) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- কোনো বস্তুর দুই প্রান্তে 1 V বিভব পার্থক্য প্রযুক্ত হলে যদি দেখা যায় 1 A বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে সেই বস্তুর রোধ 1 Ω।
- বৈদ্যুতিক রোধ (Resistance) পরিমাপের প্রধান যন্ত্রের নাম ওহমমিটার (Ohmmeter)।

অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আধান বা চার্জের একক হলো কুলম্ব (C)।
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট (V)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৫.
স্ফিগ্‌মোম্যানোমিটার কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে
  2. খ) মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণয়ে
  3. গ) মোটর গাড়ির গতি নির্ণয়ে
  4. ঘ) সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপে
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র হলো - স্ফিগমোম্যানোমিটার;
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার;
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র ওডোমিটার;
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।

সূত্র: ব্রিটানিকা
১৫৬.
জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র আবিষ্কার করেন? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. ব্যারোমিটার
  4. স্পেকট্রোমিটার
ব্যাখ্যা
জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৭.
কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে?
  1. ক) এডামেন্টিয়াম
  2. খ) মার্কারি
  3. গ) ড্রাই হিলিয়াম
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
পারদ(Mercury) একমাত্র মৌলিক ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় (Room temperature) তরল থাকে।
পানি একটি তরল পদার্থ যা দুটি অধাতুর (অক্সিজেন এবং হাইড্রোজন) সমন্বয়ে তৈরি।
কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে উচ্চচাপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে রাখা হলে তা তরল অবস্থায় থাকে৷
হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস৷
উৎসঃ ব্রিটানিকা এবং বিভিন্ন শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই৷
১৫৮.
Among the following, which substance is not radioactive?
  1. Na
  2. Rn
  3. Ra
  4. Th
  5. U
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 

- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। 
- এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

অন্যদিকে, 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয় - সোডিয়াম (Na)। 
- সোডিয়াম হলো একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Na এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১১। 
- এটি পর্যায় সারণীর তৃতীয় পর্যায়ে এবং প্রথম শ্রেণীতে অবস্থিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৯.
যে তিনটি মুখ্য বর্ণের সমন্বয়ে অন্যান্য বর্ণ সৃষ্টি করা যায় সেগুলো হলো-
  1. লাল, হলুদ, নীল
  2. লাল, কমলা, বেগুনী
  3. হলুদ, সবুজ, নীল
  4. লাল, নীল, সবুজ
ব্যাখ্যা
- কেবল তিনটি রঙের মাধ্যমেই সাদাসহ যেকোনো রঙের সৃষ্টি সম্ভব। 
- এই তিনটি রঙকে বলা হয় মৌলিক রং (Primary color)। 
যেমন- লাল, সবুজ আর নীল। 
যেমন: লাল ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে হলুদ রং সৃষ্টি হয়। 
- রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ যথা- লাল, সবুজ এবং আসমানী বা নীল রং ব্যবহার করে সকল ধরনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। 
- রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ প্রদর্শনের জন্য তিন ধরনের ইলেকট্রন গান থাকে। 
- রঙ তিনটি হলো- লাল, নীল ও সবুজ। 

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।
১৬০.
কোন বস্তুর বেগ দ্বিগুণ করা হলে গতিশক্তির কীরূপ পরিবর্তন হয়?
  1. দ্বিগুণ হয়
  2. অর্ধেক হয়
  3. চারগুন হয়
  4. অপরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
• গতিশক্তি: কোনো গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার জন্য কাজ করার যে সামর্থ্য অর্থাৎ শক্তি অর্জন করে তাকে গতিশক্তি বলে।

• বেগ: সময়ের সাথে সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলা হয়।

• গতিশক্তি ও বেগের মধ্যকার সম্পর্ক- 
Ek= (1/2) mv2
এখানে,
Ek=গতিশক্তি
v= বেগ
এই সূত্রানুযায়ী নির্দিষ্ট ভরের কোনো বস্তুর গতিশক্তি তার বেগের বর্গের সমানুপাতিক।

অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভরের কোন বস্তুর বেগ দ্বিগুণ করা হলে তার গতিশক্তি চারগুন হবে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১.
চোখের নিকট বিন্দুর জন্য বয়স্ক মানুষের দূরত্ব সাধারণত কত?
  1. অসীম
  2. ৫ সেমি
  3. ১০ সেমি
  4. ২৫ সেমি
ব্যাখ্যা

স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু: 
- মানুষ তার চোখের লেন্সে ফোকাস দূরত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে একটা বস্তুকে সবসময় স্পষ্ট দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু লক্ষ্যবস্তু চোখের কাছাকাছি একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে বেশি কাছে এলে আর স্পষ্ট দেখা যায় না। 
- চোখের সবচেয়ে কাছের যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে ঐ বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়।
- এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। 
- একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫.০ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫.০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। 
- দূর বিন্দু চোখ থেকে অসীম দূরত্বে অবস্থান করে। এ কারণে বহুদূরের নক্ষত্রও খালি চোখে দেখা যায়। 
- সুস্থ ও স্বাভাবিক চোখ “নিকট বিন্দু” (near point) থেকে শুরু করে অসীম দূরত্বের দূর বিন্দুর মাঝখানে যে স্থানেই কোন বস্তু থাকুক না কেন সেটা স্পষ্ট দেখতে পারে। আর এটাই হচ্ছে চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬২.
নিচের কোন রশ্মিটি আসলে ইলেকট্রন-
  1. ক) আলফা
  2. খ) বিটা
  3. গ) গামা
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় যা আসলে ইলেকট্রন, কিন্তু আমরা জানি নিউক্লিয়াসে ইলেকট্রন থাকে না। সেজন্য নিউক্লিয়াসের ভেতরের একটি নিউট্রনকে প্রোটনে পরিবর্তিত হতে হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৬৩.
বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় কীভাবে দিক নির্ণয় করে?
  1. আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
  2. ঘ্রাণ শক্তির মাধ্যমে
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করে।

- আলট্রাসাউন্ড মূলত আমাদের শোনার বাহিরের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- আল্টাসনিক শব্দ ২০,০০০ থেকে বেশি কম্পাংকের হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৪.
ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণে কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
  2. হাইড্রোজেন ও ক্রিপ্টন
  3. হিলিয়াম ও ক্রিপ্টন
  4. হিলিয়াম ও বেরিয়াম
ব্যাখ্যা

• ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটে যখন ভারী ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস একটি নিউট্রন শোষণ করে অস্থিতিশীল হয়ে ভেঙে যায়। এই ভাঙনের ফলে দুটি মাঝারি ভরের মৌল উৎপন্ন হয়, সঙ্গে বের হয় অতিরিক্ত নিউট্রন ও বিপুল পরিমাণ শক্তি। সাধারণত উৎপন্ন মৌল দুটি হলো ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম। এই অতিরিক্ত নিউট্রন আবার অন্য ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা পারমাণবিক বিস্ফোরণের মূল কারণ। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো ক) ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম।
 
• পারমাণবিক শক্তি:
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস।
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে E = উৎপন্ন শক্তি, m = শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c = আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)।
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

উৎস:
১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।

১৬৫.
অতিবেগুনি রশ্মির প্রধান উৎস কোনটি? 
  1. সূর্য 
  2. তেজস্ক্রিয় মৌল 
  3. চাঁদ 
  4. এক্স-রে টিউব 
ব্যাখ্যা

অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray): 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য অতিবেগুনি রশ্মি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৬.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা সম্ভব?
  1. স্বর্ণ
  2. পিতল
  3. তামা
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
যেমন- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি অচৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৭.
অপটিক্যাল ফাইবার কী?
  1. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল
  2. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  3. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
  4. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়।
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৬৮.
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে কোন পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে?
  1. ক) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) সিলভার হ্যালাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

ক্যামেরা বা আলোকচিত্রগ্রাহী যন্ত্র হল আলোকচিত্র গ্রহণ ও ধারণের যন্ত্র। দৃশ্যমান স্থির বা গতিশীল ঘটনা ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার হয়। ক্যামেরা চিত্র রেকর্ড করতে ব্যবহৃত একটি অপটিক্যাল যন্ত্র।
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে সিলভার হ্যালাইড এর প্রলেপের উপস্থিতি রয়েছে।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান। 

১৬৯.
আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে?
  1. ডায়নামো
  2. ট্রান্সফরমার
  3. সৌরকোষ
  4. জেনারেটর
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর:
- সৌরকোষ (Solar Cell) সূর্যের আলো শোষণ করে তা তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এটি ফটোভোলটাইক প্রক্রিয়া দ্বারা কাজ করে।
- এটি সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor) পদার্থ দ্বারা তৈরি এবং সরাসরি সূর্যের আলো বা অন্য কোনো আলোর ফোটন কণা শোষণ করে ইলেকট্রনকে মুক্ত করে। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলির প্রবাহের ফলেই তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন হয়।

অন্যদিকে,
- ডায়নামো/জেনারেটর: এই দুটি যন্ত্রই যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- ট্রান্সফরমার (Transformer): এটি শক্তির রূপান্তর করে না। এটি কেবল পরিবর্তী বিদ্যুৎ প্রবাহের (AC) ভোল্টেজ কমায় বা বাড়ায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৭০.
In optics, the power of a lens is measured in:
  1. Candela
  2. Mole
  3. Kelvin
  4. Meter
  5. Dioptre
ব্যাখ্যা
লেন্স: 
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়। 
- লেন্স সাধারণত কাঁচের তৈরি হয়, এছাড়াও কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারা লেন্স তেরি করা হয়। 

- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। উত্তল লেন্স: 
- এই ধরনের লেন্সের মধ্য ভাগ মোটা ও প্রান্তদ্বয় সরু। 
- আলোক রশ্মি উত্তল লেন্সে আপতিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়। 

২। অবতল লেন্স: 
- এই ধরনের লেন্সের মধ্যভাগ সরু ও প্রান্তদ্বয় মোটা। 
- আলোক রশ্মি অবতল লেন্সে আপতিত হলে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- লেন্সের একক হচ্ছে ডায়াপ্টার (Dioptre). 
- একগুচ্ছ আলোক রশ্মিকে কোনো লেন্সের অভিসারী বা অপসারী গুচ্ছে পরিণত করার প্রবণতাকে লেন্সের ক্ষমতা বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে ১ মাস জ্বললে কত তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে?
  1. ক) ৬ ইউনিট
  2. খ) ৯ ইউনিট
  3. গ) ১২ ইউনিট
  4. ঘ) ১৫ ইউনিট
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে ১ মাস জ্বললে কত তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
P = ৬০ ওয়াট
t = ৩০ × ৫ = ১৫০ ঘণ্টা

আমরা জানি,
ব্যয়িত শক্তি = (P × t)/১০০০ ইউনিট
= (৬০ × ১৫০)/১০০০ ইউনিট
= ৯০০০/১০০০ ইউনিট
= ৯ ইউনিট
১৭২.
অবতল লেন্সের ব্যবহার হয়-
  1. ক্যামেরায়
  2. আতশী কাঁচ হিসেবে
  3. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে
  4. অণুবীক্ষণ ও দূরবীক্ষণ যন্ত্রে
ব্যাখ্যা
উত্তল লেন্সের ব্যবহারঃ
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

অবতল লেন্সের ব্যবহারঃ
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়।
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৩.
আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন কত সালে?
  1. ১৯০২ সালে
  2. ১৯০৩ সালে
  3. ১৯০৪ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন, যথা-
• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব।
• সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৪.
বৃষ্টির ফোঁটা গোলাকার হয় নিচের কোন ধর্মের জন্য?
  1. ক) পৃষ্ঠটান
  2. খ) প্লবতা
  3. গ) সান্দ্রতা
  4. ঘ) স্থিতিস্থাপকতা
ব্যাখ্যা
• তলটান বা পৃষ্ঠটান:
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
- পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

• পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারনে। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৫.
পরিবাহী পদার্থে বিদ্যুতের প্রবাহ কোন কণার মাধ্যমে ঘটে? 
  1. প্রোটন 
  2. ফোটন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন 
ব্যাখ্যা

পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৬.
বিভবশক্তি কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. বল
  2. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  3. বস্তুর বেগ
  4. উচ্চতা
ব্যাখ্যা
• বিভবশক্তি নির্ভর করে উচ্চতার উপর।

• বিভবশক্তি:

- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
- যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- বস্তু কর্তৃক সম্পন্ন কাজ বা বিভবশক্তি,
Ep = বল × সরণ (উচ্চতা)
⇒ Ep = mgh

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
মহাকাশে মানুষ নিয়ে যাওয়া প্রথম মহাকাশযান কোনটি?
  1. ক) ভস্টক-১
  2. খ) ভস্টক-৬
  3. গ) স্পুটনিক-১
  4. ঘ) স্পুটনিক-২
ব্যাখ্যা
Vostok, any of a series of manned Soviet spacecraft, the initial flight of which carried the first human being into space. Launched on April 12, 1961, Vostok 1, carrying cosmonaut Yury A. Gagarin, made a single orbit of Earth before reentry. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১৭৮.
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার বর্তনীতে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়? 
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার: 
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। 
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়। 
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়। 
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা কেমন? 
  1. α-কণিকার চেয়ে বেশি 
  2. β-কণিকার চেয়ে কম 
  3. β-কণিকার চেয়ে বেশি 
  4. আয়নিত করার ক্ষমতা নেই 
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
২। গামা রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল। 
৩। গামা রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
৪। গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 
৫। গামা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৬। গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 

অন্যদিকে,
- আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
সূর্যের সাদা আলো কাঁচের প্রিজমে বিচ্ছুরিত হয়ে কয়টি বর্ণে বিভক্ত হয়?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশিষ্ট হয়।
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে।
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৮১.
তেজস্ক্রিয়তার আন্তর্জাতিক একক কী?
  1. ক) রন্টজেন
  2. খ) কুরি
  3. গ) জুল
  4. ঘ) বেকেরেল
ব্যাখ্যা

Radioactivity refers to the amount of ionizing radiation released by a material. Whether it emits alpha or beta particles, gamma rays, x-rays, or neutrons, a quantity of radioactive material is expressed in terms of its radioactivity (or simply its activity).
This represents how many atoms in the material decay in a given time period. The units of measurement for radioactivity are the becquerel (Bq, international unit) and the curie (Ci, U.S. unit).
সূত্র: Encyclopedia Britannica

১৮২.
শব্দের বেগ নিচের কোন মাধ্যমে বেশি?
  1. হীরা
  2. বাতাস
  3. লোহা
  4. পানি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে হীরা'র মাধ্যমে শব্দের বেগ বেশি হয়। 

শব্দের বেগের পার্থক্য: 

- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ √T  
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়, কেলভিন স্কেইলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ নামক যান্ত্রিক তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাসে বেগের থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তার থেকেও বেশি। 
যেমন- বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ দেখানো হয়েছে- 
মাধ্যম ⇒ শব্দের বেগ (m/s) 
• বাতাস ⇒ 330, 
• হাইড্রোজেন ⇒ 1284, 
• পারদ ⇒ 1450, 
• পানি ⇒ 1493, 
• লোহা ⇒ 5130 এবং 
• হীরা ⇒ 12000 ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৩.
তড়িচ্চালক শক্তির একক কোনটি?
  1. ক) জুল
  2. খ) ওহম
  3. গ) এম্পিয়ার
  4. ঘ) ভোল্ট
ব্যাখ্যা

তড়িচ্চালক শক্তিঃ কোষ বা উৎসকে এক কুলম্ব পরিমান আধানকে তার নিম্ন বিভব প্রান্ত থেকে উচ্চ বিভব প্রান্তে আনতে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে হয় তাকে কোষ বা উৎসের তড়িচ্চালক শক্তি বলে।
একে E দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
এর একক ভোল্ট (V)। 

খোলা বর্তনীতে কোষের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্যই কোষের তড়িচ্চালক শক্তি।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৮৪.
যে পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মধ্যে মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অপরিবাহী পদার্থ
  2. পরিবাহী পদার্থ
  3. সুপরিবাহী পদার্থ
  4. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা
অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

পরিবাহী পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থে তার অণু-পরমাণু শক্ত করে নিজের জায়গায় বসে থাকে ফলে তাপমাত্রা বাড়লে তারা নিজের জায়গায় কাঁপাকাঁপি করতে পারে কিন্তু সেখান থেকে সরে অন্য জায়গায় চলে যায় না। 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৫.
এনার্জি সেভিং বাল্বে কি পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় ?
  1. ক) ২০-৮০ %
  2. খ) ২০-৫০%
  3. গ) ৭০-৯০ %
  4. ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা
দুই ধরণের  এনার্জি সেভিং বাল্ব রয়েছে - সি এফ এল ( Compact fluroscent lamp) এবং এল ই ডি (Light emitting diode) । এনার্জি সেভিং বাল্বে ২০-৮০ % পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় । সাধারণ বাল্বের তুলনায় এটি ৩-২৫ গুণ সময় বেশী  টিকে থাকতে পারে। 


উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
১৮৬.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) একজন মাঝির নৌকা চালানো।
  2. খ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
  3. গ) থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।
  4. ঘ) বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।
- উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
- উদাহরণঃ কোনো বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়োগ করে।
- উদাহরণঃ বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৭.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) ওপেনহাইমার
  3. গ) অটোহ্যান
  4. ঘ) রোজেনবার্গ
ব্যাখ্যা
- যুক্তরাজ্যের বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন।
- আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট;
- ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; এবং
- তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করে হেনরি বেকেরেল।

সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
১৮৮.
আকাশ মেঘলা থাকলে গরম বেশি লাগে কেন?
  1. মেঘ উত্তম তাপ পরিবাহক
  2. সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মেঘ তাপ উৎপন্ন করে
  3. বজ্রপাতের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় বলে
  4. মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
ব্যাখ্যা
- দিনের বেলায় সূর্য থেকে যে আলোকরশ্মি (তাপ ও আলো) বিকিরণ আকারে আসে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় বেশ ছোট, এ কারণে তা খুব সহজেই বর্ষার মেঘ ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসতে পারে। 
- এই বিকিরণ ভূপৃষ্ঠে সহজে আসতে পারলেও প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে চলে যেতে পারে না, কারণ প্রতিফলন হবার সময়ে এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশ বড় হয়ে যায় ফলে তখন আর সহজে মেঘ ভেদ করতে পারে না। 
- সেগুলি মেঘের গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটির দিকে ফিরে আসে, এ কারণে মেঘলা দিনে/রাতে ভূপৃষ্ট থেকে বির্কীর্ণ তাপের একটা অংশ মেঘ ও মাটির মধ্যেকার বায়ুমন্ডলে আটকে পড়ার ফলে মাটি এবং তার লাগোয়া বাতাসের স্তর ঠান্ডা তো হয়ই না, বরং বেশ গরম হয়েই থাকে। এতে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যায় বলেই গরমটা বেশি লাগে। 
- ফলে আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এর অর্থ বাতাসে পানির পরিমাণ বেশি। 
- বাতাস আর্দ্র থাকার কারণে আমাদের গরম লাগে যেটাকে সাধারণ ভ্যাপসা গরম বলা হয়ে থাকে। 
১৮৯.
কোনটি নবায়নযোগ্য সম্পদ?
  1. ভূ-তাপীয় শক্তি
  2. খনিজ তেল
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. নিউক্লিয় শক্তি
ব্যাখ্যা
• শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। যথা:

১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
তড়িৎ তীব্রতার একক কোনটি?
  1. ক) N
  2. খ) Nm
  3. গ) Nm-1
  4. ঘ) NC-1
ব্যাখ্যা
কোনো স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণ জানা থাকলে যেমন ঐ স্থানের যে কোনো বস্তুর ওজন (অভিকর্ষ জনিত বল) বের করা সুবিধা হয়, তেমনি তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা জানা থাকলে ঐ বিন্দুতে অবস্থিত যে কোনো আধানের উপর ক্রিয়াশীল বলের মান নির্ণয় করা সম্ভব। তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে কোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধান রাখলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ ক্ষেত্রের ঐ বিন্দুতে তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা বলে। একে E দিয়ে প্রকাশ করা হয়। তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে +q আধান রাখলে যদি আধানটি F বল অনুভব করে তাহলে ঐ বিন্দুর তড়িৎ তীব্রতা,

E = F/q

তড়িৎ তীব্রতা একটি দিক রাশি এবং এর দিক হলো ঐ আধানের উপর বল যে দিকে ক্রিয়া করে সেই দিক বরাবর। তড়িৎ তীব্রতার একক হলো NC-1

সূত্র - SSC, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ড বই
১৯১.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ায় আগুনের পাশে দাঁড়ালে আমরা উত্তাপ অনুভব করি?
  1. ক) পরিবহণ
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
আমরা জানি তিন উপায়ে তাপ সঞ্চালন ঘটে। আগুনের পাশে দাঁড়ালে আমরা উত্তাপ অনুভব করি। অথবা গ্যাসের চুলা বা উত্তপ্ত বস্তুর খানিকটা নিচে হাত রাখলে গরম অনুভব করি। এ ক্ষেত্রে পরিচলন বা পরিবহন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয় না। কারণ এখানে কোনো কঠিন মাধ্যম নেই তাই পরিবহন হচ্ছে না। বায়ু মাধ্যমে তাপের পরিচলন হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উত্তপ্ত বায়ু হালকা হবে এবং উপরে উঠবে, নিচে নামবে না। অথচ নিচে আমরা গরম অনুভব করি। এভাবে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়াটি বিকিরণ। সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
১৯২.
এক্স-রে হচ্ছে মূলত - 
  1. উচ্চ শক্তির নিউট্রন
  2. উচ্চ শক্তির প্রোটন
  3. উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন
  4. উচ্চ শক্তির পজিট্রন
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন কোন ধাতুতে আঘাত করলে তা থেকে উচ্চভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন যে বিকিরণ উৎপন্ন হয়, তাকে X-Ray বলে। 
- সুতরাং এক্স-রে হচ্ছে মুলত উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন প্রবাহ। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 

- এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• এক্স-রশ্মির সাহায্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটে হাত, পা বা দেহের হাড়ের ছবি পাওয়া যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় এক্স-রশ্মি অপরিহার্য। 
• এক্স-রশ্মির জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার, টিউমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এই রশ্মি ব্যবহৃত হয়। একে এক্স-রে থেরাপি বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৩.
যৌগিক রাশি নয় কোনটি?
  1. তড়িৎপ্রবাহ
  2. তাপ
  3. বিভব
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎপ্রবাহ যৌগিক রাশি নয়।

ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
পৃথিবীতে বিদ্যমান শক্তির প্রধান উৎস কোনটি?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. সূর্য কিরণ
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ভূ-তাপীয় শক্তি
ব্যাখ্যা

সৌরশক্তি: 
- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলে সৌরশক্তি।
- সূর্য হচ্ছে সকল শক্তির উৎস। 
- পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রকৃত পক্ষে বহু দিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি। 
- প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সূর্য কিরণকে সরাসরি ব্যবহার করছে কোনো কিছু শুকানোর কাজে। 

- বর্তমানে সূর্যের শক্তিকে সবসময় ব্যবহারের জন্য মানুষ নানান রকম উপায় অবলম্বন করছে। 
- লেন্স বা দর্পণের সাহায্যে সূর্য রশ্মিকে অভিসারী করে আগুন জ্বালানো যায়। 
- সৌরচুল্লির সাহায্যে সূর্য কিরণকে প্রতিফলিত করে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- শীত প্রধান দেশে ঘরবাড়ি গরম করার কাজে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করা হয়। 
- সৌর শক্তি ব্যবহার করে হিটার ও কুকার ব্যবহার করা যায়। 
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সৌরকোষ। 
- সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে এ থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। সৌরকোষের নানা রকম ব্যবহার রয়েছে। 
- সৌরশক্তি পরিবেশ বান্ধব, এটির ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়না। 
- সৌরশক্তির শেষ হবার কোন সম্ভাবনা নেই, এ শক্তির তাই প্রচলিত শক্তির উৎস জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫.
তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলা হয়?
  1. পর্যায়কাল
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

• কম্পাঙ্ক হলো তরঙ্গ সঞ্চারকারী কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তার সংখ্যা, যার একক হার্টজ (Hz)।

• তরঙ্গ সম্পর্কিত রাশি:
- পূর্ণ স্পন্দন: কোনো কণা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় সেই বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণ স্পন্দন বলে।
- পর্যায়কাল (T): একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে, একক সেকেন্ড (s)।
- কম্পাঙ্ক (f): এক সেকেন্ডে সম্পন্ন পূর্ণ স্পন্দনের সংখ্যা, একক হার্টজ (Hz)।
- বিস্তার (Amplitude): সাম্যাবস্থা থেকে কণার সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলে।
- দশা (Phase): কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে কণার সরণ, বেগ, ত্বরণ ইত্যাদিসহ গতির অবস্থা হলো তার দশা।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ): পরপর দুটি সমদশা সম্পন্ন বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে।
- তরঙ্গ বেগ (v): তরঙ্গ একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।

• কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কালের সম্পর্ক:
- কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কাল পরস্পরের ব্যস্তানুপাতিক।
- গাণিতিকভাবে, f = 1/T.

• কম্পাঙ্ক, তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক:
- তরঙ্গ বেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গুণফল।
- গাণিতিকভাবে, v = fλ.

• অন্যান্য অপশন:
- পর্যায়কাল → একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে সময়, একক সেকেন্ড।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য → পরপর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা দুটি তরঙ্গ তলের মধ্যবর্তী দূরত্ব।
- বিস্তার → সাম্যাবস্থা থেকে সর্বাধিক সরণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬.
নিচের কোনটি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়? 
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর 
  3. সময় 
  4. তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

- তাপমাত্রা একটি থার্মোডাইনামিক রাশি এবং এটি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়।

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 

- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা -
প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

১৯৭.
ফোটন কণার মাধ্যমে কোন বল পরিবাহিত হয়?
  1. Electromagnetic force
  2. Strong nuclear force
  3. Weak nuclear force
  4. Gravitational force
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল - (Electromagnetic force) বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ-
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে।
- কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।

- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক।
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়।
- ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না।
- ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
নিচের কোনটির সাহায্যে একটি তড়িৎ মোটরের গতি এবং শক্তি বৃদ্ধি করা যায?
  1. তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে
  2. কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে
  3. কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি. সি মোটর ও এ. সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- একটি ডি.সি. মোটরের বিভিন্ন অংশের নাম নীচে দেয়া হলো- 
১। ক্ষেত্র চুম্বক, 
২। আর্মেচার, 
৩। কম্যুটেটর, 
৪। ব্রাশ এবং 
৫। বহিঃবর্তনী। 

- কুণ্ডলীতে বলরেখার পরিবর্তন হবার কারণে কিছু আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির উদ্ভব হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে বৃদ্ধি করা যায়। 
যথা- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
কার আবিষ্কৃত তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিলো?
  1. ক) অরস্টেড
  2. খ) কাউন্ট রামফোর্ড
  3. গ) ম্যাক্স প্লাংক
  4. ঘ) মাইকেলসন
ব্যাখ্যা
১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, এই তত্ত্ব ব্যবহার করে পরবর্তীতে পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিলো।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২০০.
তাপমাত্রার এস.আই একক কী? 
  1. ক্যালরি 
  2. কেলভিন 
  3. সেলসিয়াস 
  4. ফারেনহাইট 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা এস.আই একক কেলভিন। 
- এ ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক হল সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।