বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৯ / ৩৮ · ১,৮০১১,৯০০ / ৩,৭৪৭

১,৮০১.
উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র কোনটি? 
  1. পাইরোমিটার 
  2. ট্যাকোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
ব্যাখ্যা

- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র- পাইরোমিটার। 

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
- সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৮০২.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ভর
  2. সময়
  3. দূরত্ব
  4. ওজন
ব্যাখ্যা
- আলো একবছর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে।
- এটি দূরত্বের একক।
- এক আলোকবর্ষ সমান 9.4607 × 1015
উল্লেখ্য, আলোর গতি 3 x 108 ms-1.

অন্যদিকে,
- ভরের একক গ্রাম। 
- ওজনের একক নিউটন। 
- সময় এর একক সেকেন্ড। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮০৩.
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয় কোন তাপমাত্রায়?
  1. 0° C
  2. 0° K
  3. 4° C
  4. 100° C
ব্যাখ্যা

- সাধারণত তাপমাত্রা কমলে যেকোনো তরলের ঘনত্ব বাড়ে, কিন্তু পানির ক্ষেত্রে 4° C (সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়। এই তাপমাত্রায় পানির অণুগুলো সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে, যে কারণে আয়তন সর্বনিম্ন হয় এবং ঘনত্ব সর্বাধিক হয় 

ঘনত্ব: 

- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3 .
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1 gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৪.
উইন্ডমিলের সাহায্যে কি উৎপাদান করা হয়?
  1. ক) বায়ু
  2. খ) বিদ্যুৎ
  3. গ) তেল
  4. ঘ) প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা

উইন্ডমিল বা বায়ুকল হলো চক্রাকার একধরনের যন্ত্র।
এর সাহায্যে প্রবাহিত বায়ুকে কাজে লাগিয়ে অতি সহজেই পাখাযুক্ত চাকা ঘুরিয়ে জেনারেটরের দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। সাধারণত সেচকাজে উইন্ডমিল ব্যবহার করা হয়।
ইসলামের স্বর্ণালী যুগে যখন আধুনিক নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হল তখন পানিহীন আরব দেশে কিভাবে বায়ু শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তার চিন্তাভাবনা শুরু হয়।
তারই প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর প্রথম বায়ুকলটি ঘুরেছিল নবম শতাব্দীতে পূর্ব পার্সিয়ায়, হরিজোন্টাল প্লেনের উপর ভারর্টিকেল এক্সিসের চারদিকে।
পরবর্তীতে ১৩শ শতাব্দীর দিকে আস্তে আস্তে এই উইন্ডমিল সমস্ত ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।
উৎসঃ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

১,৮০৫.
আয়নাতে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব কিরূপ?
  1. বাস্তব ও সোজা
  2. বাস্তব‌ ও উল্টো
  3. অবাস্তব‌ ও সোজা
  4. অবাস্তব ও উল্টো
ব্যাখ্যা
আলোর প্রকৃত মিলনের ফলে যে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয় তাকে বাস্তব প্রতিবিম্ব বলা হয়। কিন্তু আয়নাতে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব আলোর প্রকৃত মিলনের ফলে সৃষ্টি হয়না সুতরাং এখানে অবাস্তব প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়েছে।
১,৮০৬.
তাপ প্রদানে কোনটির প্রসারণ সবচেয়ে বেশি হয়?
  1. ক) তরল পদার্থ
  2. খ) কঠিন পদার্থ
  3. গ) বায়বীয় পদার্থ
  4. ঘ) কঠিন ও বায়বীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থ কঠিন পদার্থের চেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় বায়বীয় পদার্থের প্রসারণ অনেক বেশি হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৭.
রেডিও সংকেত শনাক্তকরণে সর্বপ্রথম কে অর্ধপরিবাহী জাংশন ব্যবহার করেন?
  1. হাইনরিখ হার্টজ
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. টমাস আলভা এডিসন
ব্যাখ্যা

• ১৮৯৪ সালে স্যার জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম গ্যালেনা (Galena) কেলাস ব্যবহার করে রেডিও সংকেত শনাক্ত করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এটিই ছিল ইতিহাসের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী জাংশন যা বেতার তরঙ্গ গ্রহণে ব্যবহৃত হয়েছিল।

• জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। 
- তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহী জাংশন ব্যবহার করেন। 
- এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- তিনি উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। 
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। 
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয়. বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৮.
নিচের কোনটি যান্ত্রিক শক্তি?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. চুলার আগুন
  3. জ্বালানি তেল
  4. তাপ
ব্যাখ্যা
কোনো চলমান বস্তুর শক্তি হলো এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি।
যেমন- বায়ুপ্রবাহ একটি যান্ত্রিক শক্তি। কারণ, এটি বায়ুকল চালাতে পারে।
চলমান গাড়ির শক্তিও যান্ত্রিক শক্তি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি
১,৮০৯.
দৃশ্যমান আলোর কোন বর্ণের বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম? 
  1. সবুজ 
  2. বেগুনি 
  3. নীল 
  4. লাল 
ব্যাখ্যা

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় যা দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র, এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম তাই বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- আবার, লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১০.
অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি হয় কী দিয়ে?
  1. ক) কাচ
  2. খ) তামা
  3. গ) হীরা
  4. ঘ) রাবার
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার ও তার ব্যবহার ঃ
অপটিক্যাল ফাইবার বা আলোক তন্তু এক ধরণের সরু (প্রায় চুলের মতো) স্বচ্ছ তন্তু বিশেষ।
এটি তৈরি হয় সাধারণত কাচ দিয়ে। কাচের তৈরি হলেও এটি অত্যন্ত নমনীয় এবং বলা বাহুল্য নিরেট।
সাধারণ কাচের থেকে এর প্রতিসরণাঙ্ক বেশ বেশি প্রায় ১.৭।
এক প্রান্তে আলো আপতিত হলে এর দেয়ালে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন প্রক্রিয়ায় আলো ক্রমশ এগিয়ে যায় এবং তন্তুর অন্য প্রান্ত দিয়ে নির্গত হয়। বাইরের বায়ু মাধ্যম থেকে ভেতরের তন্তু-মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক বেশ বেশি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সহজ হয়। এর বাইরে এক ধরণের আলোক প্রতিফলক পদার্থের আবরণ দেয়া থাকে যাকে বলে ক্লাডিং।
ফলে আলোর কোন রশ্মি প্রতিসরিত হলেও পুনরায় তন্তুর মধ্যে ফিরে আসে। ফলে এক প্রান্ত দিয়ে আলোক শক্তি ঢুকিয়ে দিলে অন্য প্রান্ত দিয়ে সম্পূর্ণ আলো বেরিয়ে আসে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৮১১.
RADAR এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Radio Detection and Routing
  2. Radio Detector and Ranging
  3. Radio Detection And Ranging
  4. Radio Detector And Routing
ব্যাখ্যা
- 'RADAR' এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Detection And Ranging
- এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়। 
- রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়। 
- যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- ১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১২.
ইউরেনিয়ামে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে কোন শক্তির রূপান্তর ঘটে? 
  1. শব্দ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি
  2. তাপ শক্তি → চৌম্বক শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি → পারমাণবিক শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি → তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 
- শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ: 
বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: 
- বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: 
- কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: 
- বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: 
- কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি: 
- কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি: 
- ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৩.
এক অশ্বক্ষমতা (HP) = কত ওয়াট? 
  1. ৭৬৪ ওয়াট
  2. ৭৪৬ ওয়াট
  3. ৭৩৬ ওয়াট
  4. ৭৭৬ ওয়াট
ব্যাখ্যা
- এক অশ্বক্ষমতা (HP) = ৭৪৬ ওয়াট। 

ক্ষমতা: 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ক্ষমতা, P = সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়। 
- কোনো যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক অশ্বক্ষমতা (HP) = ৭৪৬ ওয়াট। 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮১৪.
একটি দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা কোন মেরুকে আকর্ষণ করে? 
  1. পশ্চিম মেরু 
  2. পূর্ব মেরু 
  3. উত্তর মেরু 
  4. দক্ষিণ মেরু 
ব্যাখ্যা

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকেই চুম্বক আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং অধিকাংশ ইস্পাতকে আকর্ষণ করে তাই এই পদার্থগুলোকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ, রৌপ্য, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থগুলোকে আকর্ষণ করে না তাই এই পদার্থগুলোকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দন্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে।
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়।
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান।
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে।
এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে। ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,৮১৫.
সুউচ্চ পর্বত‌ এ রান্না করা কঠিন কেন?
  1. ক) বায়ুর চাপ বেশি ও পানির স্ফুটনাঙ্ক কম
  2. খ) বায়ুর চাপ কম ও পানির স্ফুটনাঙ্ক কম
  3. গ) বায়ুর চাপ কম ও পানির স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  4. ঘ) বায়ুর চাপ বেশি ও পানির স্ফুটনাঙ্ক বেশি
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর পৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি। তাই পৃথিবীর পৃষ্ঠে পানির স্ফুটনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১০০° সেলসিয়াস।
কিন্তু পৃথিবী হতে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুর চাপ কমে যায়, ফলে স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পায়।
সুউচ্চ পর্বতে বায়ুর চাপ পৃথিবীর বায়ুর চাপ অপেক্ষা কম বিধায় পর্বতের উপর পানির স্ফুটনাঙ্ক কম। তাই পর্বতের উপর পানি কম তামপাত্রায় ফুটতে থাকে।
হিসাব করে দেখা গেছে এভারেস্ট পর্বত শৃঙ্গে মাত্র ৭০° সেলসিয়াতাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে, কিন্তু মাছ, মাংস, ডিম প্রভৃতি দ্রুত সিদ্ধ হয় না।

১,৮১৬.
IC এর পূর্ণরূপ কি?
  1. ক) Integrated Circuit
  2. খ) Integrated Circle
  3. গ) Integrated Cycle
  4. ঘ) Internal Coil
ব্যাখ্যা

- IC এর পূর্ণরূপ - Integrated Circuit
- আইসি হল একটি সংকর সমন্বিত বর্তনী যার উপরে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন অর্ধপরিবাহী বস্তু ও নিষ্ক্রিয় (প্যাসিভ) উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্র ইলেক্ট্রনিক বর্তনী।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটকে মাইক্রোইলেক্ট্রনিক সার্কিট, মাইক্রোচিপ বা চিপও বলা হয়।

উৎস: Britannica

১,৮১৭.
তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা -
  1. ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. ম্যাক্সওয়েল
  3. হাইগেন
  4. নিউটন
  5. রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন তত্ত্বের প্রবক্তা:
- আলোর কণা তত্ত্বের প্রবক্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন।
- তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা হাইগেন।
- তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সপ্লাঙ্ক।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১৮.
অচৌম্বক পদার্থ নিচের কোনটি? 
  1. লোহা 
  2. কোবাল্ট
  3. ইস্পাত 
  4. তামা 
ব্যাখ্যা

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
যেমন- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি অচৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮১৯.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ৩৪৮ মিটার/সেকেন্ড
  2. ৩২৮ মিটার/সেকেন্ড
  3. ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড
  4. ০ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল  পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮২০.
মৌলিক রাশির একক কোনটি? 
  1. কেলভিন 
  2. কিলোগ্রাম 
  3. ক্যান্ডেলা 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে। 
- মৌলিক রাশি সাতটি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা ও পদার্থের পরিমাণ। 

মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। 
যেমন: 
• দৈর্ঘ্যের একক- মিটার, 
• ভরের একক- কিলোগ্রাম
• সময়ের একক- সেকেন্ড, 
• তাপমাত্রা/উষ্ণতার একক- কেলভিন
• তড়িৎ প্রবাহের একক- অ্যাম্পিয়ার, 
• দীপন তীব্রতার একক- ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক- মোল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২১.
কোনটি অনবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. সূর্যের আলাে
  2. সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা
  3. সমুদ্রের ঢেউ
  4. গ্যাস
ব্যাখ্যা

নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে জ্বালানি পুন: পুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
- অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২২.
নিচের কোনটি এককবিহীন?
  1. ক) চৌম্বক প্রাবল্য
  2. খ) চৌম্বক প্রবেশ্যতা
  3. গ) চৌম্বক গ্রাহিতা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
♦ চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা (Magnetic susceptibiliby):
- কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকায়ন তীব্রতা (I) এবং চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুপাতকে চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা বলে । 
- এটি একটি এককবিহীন রাশি।

♦ চৌম্বক প্রাবল্য (Magnetic Intensity):

- চৌম্বকক্ষেত্রের কোনো চৌম্বক আবেশ এবং চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতকে চৌম্বক প্রাবল্য বা তীব্রতা বলে । একে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এর একক Am-1

♦ চৌম্বক প্রবেশ্যতা (Magnetic permeability):
- চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ (B) ও চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুাতকে ঐ পদার্থের চৌম্বক প্রবশ্যেতা বলে । একে μ (মিউ) দ্বারা প্রকাশ করা হয় 
এর একক TmA-1

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৩.
অতিবেগুনি রশ্মি কোথা হতে আসে?
  1. ক) চন্দ্র
  2. খ) সূর্য
  3. গ) বৃহস্পতি
  4. ঘ) পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
 -জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি।
 -গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা, অন্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি।
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে।
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে, যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর।
১,৮২৪.
সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ তৈরি হয় কোন প্রভাবে?
  1. ফটোভোলটাইক
  2. ইলেক্ট্রোলাইটিক
  3. নিউক্লিয়ার
  4. মেকানিক্যাল
ব্যাখ্যা

• সোলার প্যানেলে সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে ফটোভোলটাইক প্রভাব বলা হয়।

- সোলার প্যানেল হলো একটি ডিভাইস যা সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি সোলার সেল বা photovoltaic cell দ্বারা গঠিত।

ফটোভোলটাইক (Photovoltaic):
- Photovoltaic effect হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কিছু উপাদান (যেমন সেমিকন্ডাক্টর) আলো শোষণ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বৈদ্যুতিক কারেন্ট তৈরি হয়।
- সাধারণত সোলার সেলে সিলিকন (Silicon) ব্যবহার করা হয়।
- সূর্যের আলো পড়লে সিলিকনের ইলেকট্রন উত্তেজিত হয়ে চলাচল শুরু করে, যা DC কারেন্ট উৎপন্ন করে।

ব্যবহার ও সুবিধা:
- বাড়ি ও অফিসে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ।
- দূরবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
- পরিবেশবান্ধব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি।

তথ্যসূত্র: 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১,৮২৫.
অপটিক্যাল ফাইবার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিচ্ছুরণ
ব্যাখ্যা
• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- যখন আলো ঘন মাধ্যম (যেমন: কাচ) থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যায় এবং আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বেশি হয়, তখন সমস্ত আলো প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ঘন মাধ্যমে ফিরে আসে। এটিই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।

• অপটিক্যাল ফাইবার:
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে।
- অপটিক্যাল ফাইবারের ভিতরের দেয়ালে আলো এভাবেই বারবার প্রতিফলিত হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে।
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core), বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)।
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়।
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম।
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১,৮২৬.
কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধের ক্রম কত?
  1. 10-4 Ωm
  2. 10-8 Ωm
  3. 1012 Ωm
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা

• পরিবাহী:
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন-রুপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10-8 Ωm ক্রমের।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• অপরিবাহী:
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 1012 Ωm ক্রমের।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। তাই অপরিবাহীর দুই প্রান্তে অনেক বিভব পার্থক্য ঘটালেও তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয় না। অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

• অর্ধপরিবাহী:
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যার তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।

উৎস:
পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২৭.
কোন লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. উত্তল 
  2. অবতল 
  3. অপসারী 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 

উত্তল লেন্সের ব্যবহার: 
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। 
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 

অবতল লেন্সের ব্যবহার: 
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়। 
৩. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২৮.
ডুবোজাহাজ থেকে সমুদ্র পৃষ্টে কোনো বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ক্যালাইডোস্কোপ
  2. খ) টেলিস্কোপ
  3. গ) পেরিস্কোপ
  4. ঘ) মাইক্রোস্কোপ
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- দর্পণের প্রতিফলন ‘তল’ এমনভাবে স্থাপিত যাতে নলটির অঙের সঙ্গে তা ৪৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করতে পারে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
[সুত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি]
১,৮২৯.
গামা রশ্মি সম্পর্কিত কোন তথ্যটি ভুল? 
  1. গামা রশ্মির বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান 
  2. গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন একটি কণা 
  3. গামা রশ্মিকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না 
  4. গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব বেশি 
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি হচ্ছে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন কণা, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৩০.
সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীতে আলো আসে কোন তরঙ্গের মাধ্যমে?
  1. ক) যান্ত্রিক তরঙ্গ
  2. খ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. গ) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  4. ঘ) তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

আমরা সূর্য থেকে আলো এবং তাপ পাই। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মি, গামারশ্মি, তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ।
আলো একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। ১৮৬২ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ধ্রুব দ্রুতিতে গমন করতে পারে। ১৮৬৪ সালে তিনি আলোর তাড়িতচৌম্বক তত্ত্বের অবতারণা করেন।
সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি।

১,৮৩১.
স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল কত? 
  1. ৮০ ডেসিবল
  2. ৬০ ডেসিবল
  3. ৭০ ডেসিবল
  4. ৯০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
- স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল- ৬০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ।
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়।
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্ব নিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়।
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। এর মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে।
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩২.
শব্দের তীব্রতার SI একক কোনটি?
  1. নিউটন
  2. জুল
  3. হার্টজ
  4. ওয়াট প্রতি বর্গমিটার
ব্যাখ্যা

• শব্দের তীব্রতার SI একক হলো ওয়াট প্রতি বর্গমিটার।

• শব্দের তীব্রতা (Intensity):
- শব্দের তীব্রতা হলো একক ক্ষেত্রফল দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দশক্তির পরিমাণ।
- এটি নির্দেশ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলে কত দ্রুত শক্তি সঞ্চালিত হচ্ছে।
- শব্দের তীব্রতা শক্তির সাথে সম্পর্কিত একটি ভৌত রাশি।
- তীব্রতা যত বেশি, শব্দ তত বেশি জোরালো অনুভূত হয়।
- শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তীব্রতা ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিকভাবে পরিবর্তিত হয়।

• শব্দের তীব্রতার একক:
- শব্দের তীব্রতার SI একক ওয়াট প্রতি বর্গমিটার (Wm-2)।
- এখানে ওয়াট শক্তির একক এবং বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের একক।
- একক ক্ষেত্রফলে প্রতি সেকেন্ডে যত ওয়াট শক্তি প্রবাহিত হয় সেটিই তীব্রতা।
- তীব্রতার মান পরিমাপ করে শব্দের শক্তির বিস্তার নির্ণয় করা হয়।

• অন্যান্য একক:
- নিউটন → বলের একক,
- জুল → শক্তির একক,
- হার্টজ → কম্পাঙ্কের একক,
- শব্দের তীব্রতা স্তর (Intensity Level): ডেসিবেল (dB).

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

১,৮৩৩.
গেজ বোসন কণার স্পিন সংখ্যা কত?
  1. -1
  2. 0
  3. 1
  4. 2
ব্যাখ্যা
বোসন (Boson):
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই । এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের।
(i) গেজ বোসন (Gauge Boson).
(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson ).

• গেজ বোসন:
- এদের স্পিন হলো 1। এই কণাগুলো হলো- গণ্ডুওন (g), ফোটন (y) এবং w ও Z বোসন।
- গণ্ডুওন: কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
- ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
- W ও Z বোসন : w+, w- এবং z° এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৪.
স্থির তাপমাত্রায় কোন বিষয়গুলো রোধের ওপর নির্ভর করে? 
  1. দৈর্ঘ্য এবং তাপমাত্রা
  2. উপাদান এবং তাপমাত্রা
  3. দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
  4. উপাদান এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৫.
কোন মাধ্যমে আলোর গতি সর্বাধিক থাকে?
  1. পানি
  2. কাচ
  3. বায়ু
  4. শূন্যস্থান
ব্যাখ্যা
◉ আলো সবচেয়ে দ্রুত চলে শূন্যস্থানে (Vacuum)। শূন্যস্থানে আলোর গতি প্রায় 3×108 মিটার/সেকেন্ড (299,792 কিমি/সেকেন্ড)।

আলো: 
- আলো একপ্রকার শক্তি। 
- আলো একধরনের তড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি যোগায়। 
- আলোর কণাকে ফোটন বলে। 
- আলোর বেগ 3×108 ms-1 অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়।
- দৃশ্যমান আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।

উৎস: 
১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। Evident Scientific ওয়েবসাইট। [লিংক] 
১,৮৩৬.
নিচের কোন প্রাণীটি পরস্পরের সাথে যোগাযোগের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে থাকে?
  1. মানুষ
  2. তিমি
  3. ইঁদুর
  4. কুকুর
ব্যাখ্যা

- মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে।
- বাদুর পথ চলতে এবং খাদ্য বস্তুর অনুসন্ধানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে।
- তিমি পরস্পরের সাথে যোগাযোগ এবং মনোভাব আদান-প্রদানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে
- বলা হয়, শব্দোত্তর তরঙ্গই তিমির ভাষা।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৩৭.
চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হলে ঐ বিষ্ফোরণের শব্দ কতক্ষণ পর পৃথিবীতে শোনা যাবে?
  1. ১.৩০ মিনিট
  2. ২.০০ মিনিট
  3. ২.৩০ মিনিট
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শব্দ সঞ্চার [Propagation of Sound]:
- শব্দ বিস্তারের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের উৎস এবং আমাদের কানের মধ্যবর্তী স্থানে যদি কোনো স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম না থাকে, তাহলে শব্দ আমাদের কানে পৌঁছাতে পারে না।
- চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটলে তা পৃথিবীতে শোনা যাবে না।
- কারণ শব্দ সঞ্চারনের জন্য মাধ্যম নেই এবং ভ্যাকুয়াম বা শূন্যের মধ্য দিয়ে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৮৩৮.
স্বরগ্রামের যেকোন একটি সুরের দ্বিগুণ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট সুরটিকে কী বলে?
  1. ক) টোনিক
  2. খ) উপসুর
  3. গ) সম সুর
  4. ঘ) অষ্টক
ব্যাখ্যা
একটি সুরের কম্পাঙ্ক অন্য একটি সুরের কম্পাঙ্কের দ্বিগুণ হলে প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির অষ্টক বলে। 
যেমন-   100 কম্পাঙ্কের সুরটি 50 কম্পাঙ্কের সুরের অষ্টক।

যে সুরের কম্পাঙ্ক মূল সুরের চেয়ে বেশি সেগুলিকে উপসুর বলে।

সুর : একটিমাত্র কম্পাঙ্কবিশিষ্ট শব্দকে সুর বলে। কোন সুর শলাকা থেকে উৎপন্ন শব্দকে সুর বলা হয়।

স্বর : একাধিক কম্পাঙ্কবিশিষ্ট শব্দকে স্বর বলা হয়। বাদ্যযন্ত্র থেকে যে শব্দ নিঃসৃত হয় তা স্বর। অর্থাৎ স্বর হলো একাধিক সুরের সমষ্টি । যে কথা বলি তা হচ্ছে স্বর।

শব্দ স্বরের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
যথা :
১. প্রাবল্য বা তীব্রতা
২. তীক্ষ্মতা
৩. গুণ বা জাতি।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৯.
দুইটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব দ্বিগুন করা হলে তাদের মহাকর্ষ বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. ক) ৪ গুণ
  2. খ) ৮ গুণ
  3. গ) ১/৪ গুণ
  4. ঘ) ১/৮ গুণ
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।

অতএব, দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল ১/৪ গুণ হবে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪০.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল কত সেকেন্ড? 
  1. ০.৫ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ২ সেকেন্ড
  4. ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 

সেকেন্ড দোলক: 
যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে। 

সরল দোলন গতি: 
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
১,৮৪১.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. তামা
  2. ইস্পাত
  3. পিতল
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়। 
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪২.
তড়িৎ চুম্বক তৈরিতে নিচের কোন পদার্থ সবচেয়ে বেশি উপযোগী? 
  1. ইস্পাত
  2. নিকেল
  3. কাঁচা লোহা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম 
ব্যাখ্যা

স্থায়ী চুম্বক: 
- যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির হয়। তাই চৌম্বক পদার্থের সাথে অন্য পদার্থের মিশ্রণে অথবা বিশেষ প্রক্রিয়ায় (স্পর্শ-ঘর্ষণ পদ্ধতি) স্থায়ী শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা হয়। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।  

তড়িৎ চুম্বক: 
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বকের জন্য ইস্পাত এবং বৈদ্যুতিক চুম্বকের জন্য কাঁচা লোহা উপযোগী হওয়ার কারণ:
• ইস্পাতের তুলনায় কাঁচা লোহার রিমেনেন্স বা ধারণশীলতা কিছু বেশি কিন্তু নিগ্রাহিতা অনেক কম। স্থায়ী চুম্বকের জন্য ধারণশীলতা ও নিগ্রাহিতা উচ্চমানের হওয়া প্রয়োজন। এজন্য স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ইস্পাত ব্যবহার করা হয়। 
বৈদ্যুতিক চুম্বকের জন্য ক্ষণস্থায়ী ও শক্তিশালী চুম্বকের প্রয়োজন। কাঁচা লোহার রিমেনেন্স বা ধারণশীলতা বেশি এবং নিগ্রাহিতা কম বলে এর চুম্বকত্ব শক্তিশালী ও ক্ষণস্থায়ী হয়। এজন্য বৈদ্যুতিক চুম্বকের ক্ষেত্রে কাঁচা লোহা ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৩.
পেরিস্কোপের প্রধান কার্যপদ্ধতি কোন নীতির উপর ভিত্তি করে?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর বিচ্ছুরণ
  3. আলোর ব্যতিচার
  4. আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

• পেরিস্কোপ আলোর প্রতিফলন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে।

• পেরিস্কোপ (Periscope):
- পেরিস্কোপ একটি অপটিক্যাল যন্ত্র।
- এটি সরাসরি দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- সাধারণত সাবমেরিনে পানির নিচ থেকে উপরের বস্তু পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

• কার্যপদ্ধতি:
- পেরিস্কোপে সাধারণত দুটি আয়না বা প্রিজম ব্যবহৃত হয়।
- আয়নাগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয় যাতে আলো প্রথম আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় আয়নায় পৌঁছায়।
- দ্বিতীয় আয়না থেকে প্রতিফলিত হয়ে আলো পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছে।
- এই পুরো প্রক্রিয়া আলোর প্রতিফলন নীতির উপর নির্ভরশীল।

• ব্যবহার:
- সাবমেরিনে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ কাজে।
- ট্যাঙ্ক ও নজরদারি টাওয়ারে।

• অন্যান্য অপশন:
- আলোর প্রতিসরণ → প্রিজমে আলো বেঁকে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
- আলোর বিচ্ছুরণ → মাধ্যমের মধ্যে আলো ছড়িয়ে পড়া।
- আলোর ব্যতিচার → তরঙ্গের উপর তরঙ্গের প্রভাবজনিত প্যাটার্ন।

উৎস: ব্রিটানিকা [লিংক]।

১,৮৪৪.
pH স্কেলের বিস্তৃতি কত?
  1. ক) ০-১৪
  2. খ) ১-১৪
  3. গ) ১-৭
  4. ঘ) ৭-১৪
ব্যাখ্যা
- pH এর মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়।
- নিরপেক্ষ কোনো দ্রবণের pH এর মান ৭।
- এসিড দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে কম হয় এবং ক্ষারের দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে বেশি হয়।
- pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান ০ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH এর মান ১৪।

সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
১,৮৪৫.
চোখের হ্রস্ব দৃষ্টি ত্রুটি দূর করতে ব্যবহার হয় কোনটি?
  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. দ্বি-উত্তল লেন্স
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

চোখের হ্রস্ব দৃষ্টি ত্রুটি দূর করতে অবতল লেন্স ব্যবহার হয়।

হ্রস্ব দৃষ্টি/মায়োপিয়া:
১. দূরের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পায় না কিন্তু কাছের জিনিস দেখতে পায়।
২. এই চোখের নিকট বিন্দু ২৫ সেন্টিমিটার এরও কম হতে পারে।
৩. চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতায় বেড়ে যাওয়ার জন্য এই ত্রুটি দেখা দেয়।
৪. অভিসারী ক্ষমতা কমানোর জন্য সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৪৬.
বাতাসের চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক- 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তীত থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চাপ ও স্ফুটনাঙ্কের সম্পর্ক:
- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়।
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়।
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে।
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে।
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি। -

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪৭.
প্রতি 1K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি বাড়ে প্রায় - 
  1. 1.0 ms-1
  2. 0.9 ms-1
  3. 0.6 ms-1
  4. 1.2 ms-1
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 

- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৮.
আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ব্যতিচার
  2. প্রতিফলন
  3. অপবর্তন
  4. অপসরণ
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
অর্থাৎ, আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে। 
- আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতির উপর এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণের উপর। 
- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়। কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাঁচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। 
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

আলোর প্রতিফলনের সূত্র: 
- আলোর প্রতিফলন দু'টি সূত্র মেনে চলে, এদের প্রতিফলনের সূত্র বলে। 
- সূত্র দু'টি হলো - 
১. আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অংকিত অভিলম্ব এবং প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে। 
২. আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 
অর্থাৎ, আপতন কোণ i এবং প্রতিফলন কোণ r হলে, ∠i = ∠r. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৯.
তাপ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? 
  1. উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে কম হয়
  2. উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়
  3. সবটুকু তাপ কাজে রূপান্তরিত হয়
  4. কোনো তাপ বর্জিত হয় না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়

• তাপীয় ইঞ্জিন:

- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে।
- বাসাবাড়ির রেফ্রিজারেটর তাপীয় পাম্পের একটি উদাহরণ যা আসলে একটি তাপ ইঞ্জিনের ঠিক বিপরীত।
- তাপ ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা হলো ইঞ্জিন দ্বারা কৃত কার্যকর কাজ এবং উৎস থেকে শোষিত তাপশক্তির অনুপাত। এটি শতাংশে প্রকাশ করা হয় এবং নির্দেশ করে যে ইনপুট তাপের কত অংশ কাজের রূপান্তর হয়েছে।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫০.
কোন রশ্মি আধান নিরপেক্ষ?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (β)
- গামা রশ্মি, স্বল্পতম তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং সর্বোচ্চ শক্তির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- তবে গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- কিন্ত মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর এই গামা রশ্মি।

- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- এটি নির্গমনের সাথে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এই রশ্মির কোনো ভর নেই।
- আয়নিত করার ক্ষমতা সর্বনিম্ন ও ভেদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ।

তথ্যসূত্র:  পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫১.
নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) গ্যাস
  3. গ) সূর্যালোক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল এনার্জি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদাহরণ হলো- পরমানু শক্তি, সৌর শক্তি, বাহুপ্রবাহ ,সূর্যালোক ইত্যাদি। পেট্রোল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি জীবাশ্ম জালানী।

তথ্যসূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫২.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর মান কত ?
  1. 6.673× 109 Nm2kg-2
  2. 6.663× 10-9 Nm2kg2
  3. 6.773× 10-11 Nm-2kg-2
  4. 6.673× 10-11 Nm2kg-2
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষীয় ধ্রুবক:

- যে বল মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণাকে পরস্পরের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- একক ভরের দুটি বস্তু পরস্পর থেকে একক দূরত্বে থেকে যে পরিমাণ বল দ্বারা পরস্পরকে আকর্ষণ করে তার মানকে মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G- এর গৃহীত মান 6.673× 10-11 Nm2kg-2.
- G-এর মাত্রা L3M-1T-2.
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর একক Nm2kg-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৩.
একটি চার্জিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটিকে আধানের পরিমাণ—
  1. বৃদ্ধি পাবে
  2. শূন্য হবে
  3. হ্রাস পাবে
  4. অপরিবর্তিত হবে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বিভব শূন্য (Earth is at Zero Potential):
- পৃথিবী তড়িৎ পরিবাহী এবং আকারে বিশাল।
- ফলে কিছু ইলেকট্রন পৃথিবীর সাথে আদান প্রদান হলে পৃথিবীর বিভবের কোনো পরিবর্তন হয়না।
- যেমন সমুদ্র থেকে এক বালতি পানি নিলে সমুদ্রের পানিতলের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে আধান গ্রহণ করে আবার সাথে সাথে অন্য বস্তুকে আধান সরবরাহ করে, ফলে পৃথিবীকে আধানহীন মনে করা হয়।

- কোনো স্থানে উচ্চতা নির্ণয়ের সময় সমুদ্রের উপরিতলে উচ্চতাকে যেমন শূন্য ধরা হয় তেমনি বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়।
- আধানহীন বস্তুর বিভব শূন্য।
- পৃথিবীর সাথে যুক্ত সকল বস্তুরই বিভব শূন্য।
- পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরে যে বস্তুর বিভব পৃথিবীর বিভব থেকে বেশী তার বিভবকে ধনাত্মক বিভব বা উচ্চ বিভব এবং যার বিভব কম তাকে ঋণাত্মক বিভব বা নিম্ন বিভব বলে।
- মূল কথা হলো বস্তুতে ইলেকট্রনের বাড়তি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ঋণাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি নিম্ন বিভব সম্পন্ন এবং বস্তুতে ইলেকট্রনের ঘাটতি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ধনাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি উচ্চ বিভব সম্পন্ন।

- চার্জিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে এটি পর্যাপ্ত পরিমাণ বিপরীত চার্জ গ্রহণ করে।
- ধনাত্মক ও ঋনাত্মক চার্জ সমান হয়ে গেলে বস্তুটির চার্জ শূন্য হবে।
- অর্থাৎ একটি চার্জিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটিকে আধানের পরিমাণ— শূন্য হবে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৪.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. এটি স্বতঃস্ফুর্ত
  2. এটি অবিরাম
  3. এটি প্রত্যাবর্তী
  4. এটি অপ্রত্যাবর্তী
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয়তা হলো একটি নিউক্লীয় বিক্রিয়া যা তেজস্ক্রিয় মৌলের কেন্দ্রীন বা নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং অবিরাম ঘটে। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া; অর্থাৎ একবার তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে কোনো পরমাণু নতুন কোনো মৌলে রূপান্তরিত হয়ে গেলে তাকে স্বাভাবিক উপায়ে আর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং, এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

সুতরাং, তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য নয় - এটি প্রত্যাবর্তী। 
----------------------

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় 'বেকেরেল রশ্মি'। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 

- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫৫.
দুটি চার্জিত সংযুক্ত বস্তুর মধ্যে চার্জ প্রবাহিত হতে থাকে যতক্ষণ না তাদের -
  1. ক) বিভব সমান হয়।
  2. খ) চার্জ সমান হয়।
  3. গ) সঞ্চিত শক্তি সমান হয়।
  4. ঘ) ধারকত্ব সমান হয়।
ব্যাখ্যা
- আমরা জানি যে, কোনো নির্দিষ্ট বস্তুতে যত আধান দেয়া হবে তার বিভব তত বৃদ্ধি পাবে।
- সুতরাং একই আকারের দুটি বস্তুতে একই জাতীয় (ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক) সমমানের আধান প্রদান করলে বস্তু দুিটতে সমান বিভব সৃষ্টি হবে।
- কিন্তু ভিন্ন মানের আধান প্রদান করলে বস্তু দুিটতে ভিন্ন মানের বিভব সৃষ্টি হবে।
- এই অবস্থায় বস্তু দুটিকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে আধান প্রবাহিত হতে থাকবে ।
- যতক্ষণ বিভব পার্থক্য থাকবে ততক্ষণ আধান প্রবাহিত হবে। বস্তু দুটির বিভব সমান হলে আধান প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। 
উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৬.
ফোটন কণা সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. নিশ্চল ভর শূন্য।
  2. কণা ও তরঙ্গ দ্বৈত রূপ আছে।
  3. ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট।
  4. উপরের সবকটি সত্য
ব্যাখ্যা
 • ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।

• ফোটন:

- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রূপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৭.
সেমিকন্ডাক্টরে ডোপিং এর জন্য পর্যায় সারণির কোন সারির মৌল অপদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) পঞ্চম
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) সপ্তম
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৮.
স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতার লেভেল কত? 
  1. 10 dB
  2. 25 dB
  3. 40 dB
  4. 50 dB
ব্যাখ্যা

• স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতার লেভেল হচ্ছে 10 dB. 

• শব্দের তীব্রতার লেভেল: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- এর মূল একক W/m2.
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। 
- এর মান 10-12 Wm-2 বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা হিসাবেও ধরা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫৯.
Solar energy is due to -
  1. Fusion reactions
  2. Fission reactions
  3. Chemical reactions
  4. Combustion reactions
ব্যাখ্যা
ফিউশন বিক্রিয়া:
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বা নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া।
- নিউক্লিয় ফিউশন নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন:
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে।
- প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬০.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?  
  1. 0°C
  2. - 1000°C
  3. 273°K
  4. - 273°C
ব্যাখ্যা

• পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

১,৮৬১.
গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের
  1. ক) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির তুলনায় অনেক বেশি হয়।
  2. খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির তুলনায় অনেক কম হয়।
  3. গ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির সমান হয়।
  4. ঘ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির সমানুপাতিক হয়।
ব্যাখ্যা
পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতিশক্তির তুলনায় বেশি হলে কঠিন অবস্থা, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল এবং গতিশক্তি সমান হলে তখন তরল অবস্থা। আর যদি উপাদান কণার গতিশক্তি, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের তুলনায় অনেক বেশি হয় তবে পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় অবস্থান করবে।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬২.
একটি গ্রহের ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ কিন্তু ভর অর্ধেক। ঐ গ্রহের পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ g হলো—
  1. ক) g
  2. খ) 1/8 g
  3. গ) 1/2 g
  4. ঘ) 1/4 g
ব্যাখ্যা
আমরা জানি,
পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = GM/R2
যেখানে, G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
M = পৃথিবীর ভর
R = পৃথিবীর ব্যাসার্ধ

একটি গ্রহের ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ কিন্তু ভর অর্ধেক।
গ্রহের ব্যাসার্ধ  R1 = 2R
গ্রহের ভর M1 = M/2
গ্রহটির অভিকর্ষজ ত্বরণ, g1 = GM1/R12
= G(M/2)/(2R)2
= GM/8R2
= (1/8)g

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬৩.
মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল কোন রাশিটি?
  1. তাপমাত্রা
  2. বেগ
  3. সময়
  4. দীপন তীব্রতা
ব্যাখ্যা
• বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়, তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।

• রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
- উদাহরণসমূহ: একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, এখানে ভর একটি রাশি।

• মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
- উদাহরণসমূহ: সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
-  সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যথা:
-  দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।

• যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়, তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৪.
কোমল এক্স-রে (Soft X-ray)-এর সঠিক বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট, ভেদন ক্ষমতা বেশি
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়, ভেদন ক্ষমতা কম
  3. উচ্চ বিভব প্রয়োগে উৎপন্ন
  4. শুধুমাত্র ধাতব পদার্থ অতিক্রম করতে পারে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় আকস্মিকভাবে এক্স-রে (X-rays) আবিষ্কার করেন। 
- তিনি 10-3 mmHg চাপে একটি ক্ষরণ নল (Crookes tube) ব্যবহার করছিলেন। পরীক্ষার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে নলের কাছে রাখা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড আবৃত পাতের ওপর একটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হচ্ছে। 
- আরও বিশদ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ক্যাথোড রশ্মি যেখানে আপতিত হয়, সেখান থেকে সবুজাভ-হলুদ আলো বিকিরিত হওয়ার পাশাপাশি এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে। যেহেতু সে সময় এই রশ্মির প্রকৃতি জানা ছিল না, তাই প্রফেসর রঞ্জন একে "X-rays" নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হন যে, উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের (Target) সাথে সংঘর্ষে বাঁধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার। 
যথা- কোমল এক্সরে (Soft X-ray) এবং কঠিন এক্সরে (Hard X-ray)। 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 
২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৫.
দোলকের দোলন গতি কোন ধরনের গতির উদাহরণ?
  1. ক) সরল রৈখিক গতি
  2. খ) বক্র রৈখিক গতি
  3. গ) পর্যায় গতি
  4. ঘ) ঘূর্ণন গতি
ব্যাখ্যা
পর্যায় গতি:

- দোলকের দোলন গতি পর্যায় গতির উদাহরণ।
- কোন গতিশীল বস্তু গতি পথের কোন নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তা হলে সেই গতিকে পর্যায় গতি বলে।
- বৈদ্যুতিক পাখার গতি, ঘড়ির কাঁটার গতি, গ্রামফোন রেকর্ডের গতি, ঘড়ির পেন্ডুলামের গতি, দোলকের দোলন গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের সামনে পেছনের গতি পর্যায় গতির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- যখন কোন বস্তু সরল রেখা বরাবর চলে তখন বস্তুর ঐ গতিকে সরল রৈখিক গতি বলে।যেমন - মসৃণ মেঝের উপর গড়িয়ে দেওয়া মার্বেলের গতি।
- কোন গতিশীল বস্তুর গতিপথ যদি বাঁকা হয়, বক্র রেখা বরাবর হয় তখন বস্তুটির গতিকে বক্র রৈখিক গতি বলে।যেমন - সাইকেলের গতি, রিক্সার গতি, মোটর গাড়ির গতি।
- কোন বিন্দু বা অক্ষকে কেন্দ্র করে যখন কোন বস্তু ঘুরতে থাকে তাতে বস্তুটির যে গতি হয় তাকে ঘূর্ণন গতি বলে।যেমন - চলন্ত সাইকেল বা রিক্সার চাকার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৬.
দর্পণ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
দর্পণ: 
- যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে। 
- দর্পণ প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। সমতল দর্পণ ও 
২। গোলীয় দর্পণ। 

- আবার গোলীয় দর্পণ ২ প্রকার। 
যথা- 
১। উত্তল দর্পণ ও 
২। অবতল দর্পণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৬৭.
জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনের ফলে কোন ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়? 
  1. তাপ তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. আলোক তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- তরঙ্গ সৃষ্টির জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- কিন্তু জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়, এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্স-রশ্মি, গামা রশ্মি ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৮.
কোন বস্তু পরিমাপের জন্য ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স ব্যবহার করা হয়?
  1. বিদ্যুৎ প্রবাহ
  2. তাপমাত্রা
  3. দৈর্ঘ্য
  4. ভর
ব্যাখ্যা

• ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স একটি সুনির্দিষ্ট যন্ত্র যা মূলত দৈর্ঘ্য, ব্যাসার্ধ, গভীরতা বা ভিতরের এবং বাইরের আকার পরিমাপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি খুব ক্ষুদ্র পরিবর্তনও ঠিকভাবে মাপতে সক্ষম, কারণ এতে একটি ভার্নিয়ার স্কেল থাকে যা মূল স্কেলের সঙ্গে মিলিয়ে পরিমাপের ফলাফলকে আরও নিখুঁত করে। ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স ব্যবহার করে আমরা কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা বা ব্যাসার্ধ সহজে এবং সঠিকভাবে মাপতে পারি। এটি সাধারণত বিদ্যুৎ প্রবাহ বা তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নয় এবং ভর পরিমাপের জন্যও ব্যবহার হয় না। তাই, ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স মূলত দৈর্ঘ্য পরিমাপের যন্ত্র।

- সঠিক উত্তর: গ) দৈর্ঘ্য।

• ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স:
- ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স (Vernier Calipers) হলো একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপক যন্ত্র যা খুব ছোট দৈর্ঘ্য বা ব্যাস, গভীরতা ইত্যাদি 0.01 সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- ভার্নিয়ার স্কেল বিশিষ্ট ক্যালিপার্স দিয়ে ছোট দৈর্ঘ্য খুব সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়, যা সাধারণ স্কেলের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ।

• এটি প্রধানত দুটি স্কেল নিয়ে গঠিত। যথা:
– প্রধান স্কেল ও
– ভার্নিয়ার স্কেল।

• এটি দিয়ে পরিমাপ করা হয়- 
- ছোট বস্তু বা নলাকার জিনিসের দৈর্ঘ্য, বাহ্যিক ব্যাস বা প্রস্থ। 
- ফাঁপা বস্তুর অভ্যন্তরীণ ব্যাস। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১,৮৬৯.
সেলুলয়েডকে পশমী কাপড় দিয়ে ঘর্ষণ করলে সেলুলয়েডে কোন ধরণের আধানের সৃষ্টি হবে?
  1. ক) ধনাত্মক আধান
  2. খ) ঋণাত্মক আধান
  3. গ) নিরপেক্ষ আধান
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- আধান দুই প্রকার: ধনাত্মক আধান ও ঋণাত্মক আধান। 
- দুটি ভিন্ন বস্তুকে পরস্পরের সাথে ঘর্ষণ করলে বস্তু দুটি তড়িতগ্রস্থ হয়। একটিতে ধনাত্মক আধান ও অপরটিতে ঋণাত্মক আধানের সৃষ্টি হয়। 
- কাচ দন্ডকে রেশমী কাপড় দিয়ে ঘষলে কাচে যে ধরণের আধান পাওয়া যায় তা ধনাত্মক আধান।
- অ্যাম্বার দন্ডকে পশমী কাপড় দিয়ে ঘষলে অ্যাম্বার যে ধরণের আধান পাওয়া যায় তা ঋণাত্মক আধান।
- সেলুলয়েডকে পশমী কাপড় দিয়ে ঘর্ষণ করলে সেলুলয়েডে ঋণাত্মক আধানের সৃষ্টি হবে এবং পশমী কাপড়ে ধনাত্মক আধানের সৃষ্ট হবে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৮৭০.
নিচের কোন স্কেলটি সূক্ষ্মতম?
  1. ক) স্লাইড ক্যালিপার্স
  2. খ) স্ক্রুগজ
  3. গ) মিটার স্কেল
  4. ঘ) স্ফেরোমিটার
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়।
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়।

স্লাইড ক্যালিপার্স
যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে।

[অপশনগুলোর মধ্যে স্ক্রুগজ স্কেলটি সূক্ষ্মতম।]
১,৮৭১.
ডায়োডের প্রধান ব্যবহার কী? 
  1. তাপ উৎপাদন করা 
  2. শব্দ সংকেত বৃদ্ধি করা 
  3. এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা 
  4. বিদ্যুৎ উৎপাদন করা 
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- 'ডায়োড' মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭২.
Which of the following is a source of solar energy?
  1. ক) Nuclear fusion
  2. খ) Chemical combustion
  3. গ) Ionization
  4. ঘ) Nuclear Fission
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশের সূর্যের শক্তির সবটুকু ব্যবহারের ব্যবস্থা নেই।
আমেরিকা, জাপান প্রভৃতি দেশ সৌরশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে থাকে। পৃথিবীতে আগত মোট সৌরশক্তির ব্যবহার করা হয় না।
৩২ মিনিটে যে পরিমাণ সৌরশক্তি পতিত হয় তার সবটুকু যদি ব্যবহার করা যেত তাহলে তা দিয়ে যে কোনো দেশের শক্তি চাহিদা মেটানো যেত।
সৌরশক্তি ব্যবহারে পরিবেশের কোনো দুষণ হয়না এবং বিপদের সম্ভাবনা কম।
প্রকৃতপক্ষে সূর্যের শক্তির উৎস পারমাণবিক শক্তি, কারণ সূর্যে ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়।
এ শক্তি পৃথিবীতে বিকিরিত হয়।
সৌরশক্তির সকল উৎস ফিউশন বিক্রিয়া।

উৎস : সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৭৩.
নিচের কোনটি মৌলিক রং নয়?
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. হলুদ
ব্যাখ্যা
তিনটি মৌলিক রং হচ্ছে লাল, নীল, সবুজ। 

এই ৩টি রং এর সমন্বয়ে বাকী রং গুলো তৈরি করা যায়।
লাল ও সবুজ মিলে হলুদ রং তৈরি হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা 
১,৮৭৪.
জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ছিলেন একজন নোবেলজয়ী -
  1. অর্থনীতিবিদ
  2. চিকিৎসক
  3. পদার্থবিজ্ঞানী
  4. রসায়নবিজ্ঞানী
ব্যাখ্যা
- বাংলায় পদকের নাম ‘জুলিও কুরি’ বলা হলেও এর ফরাসি উচ্চারণ ‘জোলিও ক্যুরি’।
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি’।
- ফ্রেডেরিকের মূল নাম ছিল জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও। ফ্রেডেরিকের স্ত্রী ইরেন ক্যুরি। তিনিও বিজ্ঞানী।
- বিয়ের পর ফ্রেডেরিক ও ইরেন উভয়ে উভয়ের পদবি গ্রহণ করেন এবং একজনের নাম হয় জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি এবং অন্যজনের নাম ইরেন জোলিও ক্যুরি।
- পরে যৌথভাবে তাঁরা নোবেল পুরস্কারও লাভ করেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি শুধু বিজ্ঞানী হিসেবেই কাজ করেননি, তিনি গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়ে এবং তাদের জন্য হাতিয়ার তৈরি করেও অবদান রাখেন।
- তাঁর অবদানের কারণেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরিসমাপ্তি সহজতর হয়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই যুদ্ধ পরিসমাপ্তি ছিল খুবই জরুরি।
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো
১,৮৭৫.
উত্তল লেন্সের অপর নাম কী?
  1. অপসারী লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. ক্ষীণ মধ্য লেন্স
  4. অভিসারী লেন্স
ব্যাখ্যা
লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা-  
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স এবং 
২। অপসারী বা অবতল লেন্স। 

অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 

অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৬.
বাদুড় কত কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করতে সক্ষম?
  1. ক) 80 kHz
  2. খ) 90 kHz
  3. গ) 100 kHz
  4. ঘ) 120 kHz
ব্যাখ্যা

বাদুড় ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শােনার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- বাদুড় এই শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মাধ্যমে অন্ধকারে চলাফেরা করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান - ৮ম শ্রেণি

১,৮৭৭.
বিদ্যুৎ একটি চৌম্বকীয় তরঙ্গ- কে প্রমাণ করেন?
  1. ক) মাইকেল ফ্যারাডে
  2. খ) চার্লস-অগাস্টিন ডি কুলম্ব
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) আইনস্টাইন 
ব্যাখ্যা

১৮৬৪ সালে ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন যে, বিদ্যুৎ একটি চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
কোন তড়িৎক্ষেত্রে চুম্বক বলরেখার মধ্যে ইলেকট্রন আধানের দ্রুত আন্দোলন বা হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলে ইলেকট্রনগুলো অতিরিক্ত শক্তি অর্জন করে বলরেখার সমান্তরালে শক্তি বিকিরণ যা তরঙ্গাকারে চারদিকে দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। একে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বলে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

১,৮৭৮.
ইউরিয়া সার তৈরিতে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা



সূত্র: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৯.
তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক কে?
  1. পিয়েরে কুরি
  2. মাদাম কুরি
  3. হেনরী বেকেরেল
  4. উইলিয়াম রঞ্জন
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় রশ্মি: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পরমাণু। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি"। 
- পরবর্তিতে মাদাম কুরী (Madame Marie Curie) এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত। 

তেজস্ক্রিয়তার প্রকারভেদ: 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা- প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা। 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: 
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: 
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮০.
সদ বিম্ব গঠিত হয় কোনটিতে?
  1. অবতল ল্যান্স
  2. অবতল দর্পণ
  3. উত্তল দর্পণ
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
সদ বিম্বঃ কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে তবে তাকে সদ বা বাস্তব প্রতিবিম্ব বলে।
অবতল দর্পণ ও উত্তল লেন্সে সদ বিম্ব গঠিত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮১.
আলট্রাসোনিক তরঙ্গ কি?
  1. শ্রাব্য শব্দের তরঙ্গ থেকে কম কম্পাঙ্কের তরঙ্গ
  2. শূন্য মাধ্যমে গঠিত তরঙ্গ
  3. শ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক থেকে বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলট্রাসোনিক তরঙ্গ: 
- শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আলট্রাসোনিক শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও বাদুর, কুকুর, মৌমাছির ন্যায় কিছু কিছু প্রাণী উৎপন্ন করতে পারে আবার তা শুনতেও পারে। 
- আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো 20 Hz থেকে 20,000 Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। 
- আবার যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তাকে শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আলট্রাসোনিক শব্দ বা আলট্রাসোনিক তরঙ্গ বলে
- রোগ নির্ণয়ে, কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করা, সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে শব্দোত্তর বা আলট্রাসোনিক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮২.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তখনই ঘটে যখন- 
  1. প্রতিসরণ কোণ সংকট কোণের চেয়ে কম হয় 
  2. আলো শূন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে 
  3. আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
  4. আলো হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে যায়
ব্যাখ্যা

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন: 
- এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১। আলোক রশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যেতে হবে। 
২। এক জোড়া নির্দিষ্ট সচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মিকে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হতে হবে। 

আলোর প্রতিফলন: 
- আপতিত রশ্মির কিছু অংশ বিভেদতল থেকে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
• প্রতিফলনের প্রথম সূত্র: আপতিত আলোক রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপাতর বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই তলে অবস্থান করে। 
• প্রতিফলনের দ্বিতীয় সূত্র: আপতিত কোণ একং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 

আলোর প্রতিসরণ: 
- প্রথম স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে আলোকরশ্মি দ্বিতীয় স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যমে বিভেদতলে তীর্যকভাবে আপতিত হলে রশ্মিগুচ্ছ বিভেদতল থেকে দিক পরিবর্তন করে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
• প্রতিসরণের প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং বিভেদ তলের আপাতন বিন্দুতে অংকিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে। 
• প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্র: এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম এবং তীর্যকভাবে আপতিত নির্দিষ্ট বর্ণের একটি আলোকরশ্মির জন্য আপাতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। একে স্নেলের সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮৩.
নিচের কোনটি লব্ধ রাশি? 
  1. ত্বরণ
  2. দীপন তীব্রতা
  3. তড়িৎপ্রবাহ
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে। 
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না। 

যৌগিক বা লব্ধ রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 
- যে গুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮৪.
Transformer এ কী কমানোর জন্য laminated core ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) Cu loss
  2. খ) Hysteresis loss
  3. গ) Eddy current loss
  4. ঘ) core loss
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Cupper loss হচ্ছে রেজিস্টারজনিত লস। Eddy current কমানোর জন্য lamineted করা হয়। Hysteresis loss হচ্ছে positive এবং negative জনিত কারণে যে loss হয় সেটা। Core loss হচ্ছে Hysteresis loss এবং Eddy current loss এর যোগফল।
১,৮৮৫.
শব্দের প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয় কোন যন্ত্রে?
  1. ইসিজি
  2. এক্স-রে
  3. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  4. সিটিস্ক্যান
ব্যাখ্যা
আল্ট্রাসনোগ্রাফি:

- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮৬.
নিচের কোনটিতে সম পরিমাণ পানি রেখে দিলে বাষ্পায়ন দ্রুত হবে?
  1. ক) গ্লাসে
  2. খ) চায়ের কাপে
  3. গ) বড় থালায়
  4. ঘ) একই থাকবে
ব্যাখ্যা
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।
- এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান।
১,৮৮৭.
P-N ডায়োডকে ফরোয়ার্ড বায়াস করলে রোধ-
  1.  কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত  থাকে
  4. মাঝামাঝি থাকে
ব্যাখ্যা

• P–N ডায়োডকে ফরোয়ার্ড বায়াস:
- P–N ডায়োডকে ফরোয়ার্ড বায়াস করলে P-টাইপ অংশকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে এবং N-টাইপ অংশকে ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- এর ফলে ডায়োডের মাঝখানে থাকা ডিপ্লিশন স্তর পাতলা হয়ে যায়।

- ডিপ্লিশন স্তর পাতলা হলে ইলেকট্রন ও হোল সহজে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারে।
- তাই বিদ্যুৎ প্রবাহ বাড়ে এবং ডায়োডের রোধ কমে যায়।

উৎস:পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮৮.
এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হবে-
  1. ক) উত্তর মেরুতে
  2. খ) দক্ষিণ মেরুতে
  3. গ) বিষুবীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর পৃষ্টেও বস্তুর ওজনের অতি সামান্য তারতম্য ঘটে। এর কারণ হচ্ছে পৃথিবী সুষম গোলক নয় এবং ভূপৃষ্টে সর্বত্র অভিকর্ষজ ত্বরণের মানও এক নয়। এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হবে পৃথিবীর দুই মেরুতে অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে। যেখানে এর ওজন হবে ৯.৮৩ নিউটন। বিষুবীয় অঞ্চলে এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম ৯.৭৮ নিউটন। ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর ওজন হবে ৯.৭৯ নিউটন।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
১,৮৮৯.
নিচের কোনটি ট্রানজিস্টরের অংশ নয়?
  1. ক) নিঃসারক
  2. খ) অন্তর্মুখ
  3. গ) পীঠ
  4. ঘ) সংগ্রাহক
ব্যাখ্যা
p-n-p or n-p-n ট্রানজিস্টরে সজ্জিত কেলাসের প্রথমটিকে নিঃসারক, মাঝেরটিকে পীঠ এবং অন্য পাশেরটিকে সংগ্রাহক বলা হয়।
ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক সার্কিট বা বর্তনীতে বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
১,৮৯০.
ঘর্মাক্ত দেহে ফ্যানের বাতাস আরাম দেয় কেন?
  1. ক) পাখার বাতাসের বেগ অনেক বেশি
  2. খ) পাখার বাতাস শরীরের ভেতর প্রবেশ করে
  3. গ) বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
  4. ঘ) গায়ের ঘাম শরীর থেকে বের হতে পারে না
ব্যাখ্যা
পাখার বাতাসে দেহের ঘর্ম (পানি) বাষ্পে পরিণত হতে যে পরিমাণ তাপ প্রয়ােজন তা শরীর থেকে গ্রহণ করে। ফলে শরীর ঠান্ডা হয় এবং আরাম বােধ হয়।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে
১,৮৯১.
অবতল লেন্সের অপর নাম কী?
  1. উত্তল লেন্স
  2. অভিসারী লেন্স
  3. অপসারী লেন্স
  4. স্থূল মধ্য লেন্স
ব্যাখ্যা
লেন্স (Lens): 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- সাধারণত লেন্স কাচের তৈরি হয়। 
- তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, কোয়ার্টজ এমন কী তরল পদার্থ বা অর্ধতরল পদার্থ দিয়েও লেন্স তৈরি হতে পারে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- অভিসারী লেন্স বা উত্তল লেন্স এবং অপসারী লেন্স বা অবতল লেন্স। 

১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স (Convex Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্য ভাগ উঁচু বা মোটা এবং প্রান্ত ভাগ সরু, তাই একে স্থূল মধ্য বা উত্তল লেন্সও বলে। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স (Concave Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী বা অবতল লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্যভাগ সরু বা পাতলা এবং প্রান্ত ভাগ মোটা তাই একে ক্ষীণ মধ্য বা অবতল লেন্সও বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯২.
SI পদ্ধতিতে চাপের একক কোনটি?
  1. Nm2
  2. Nm
  3. Nm-1
  4. Nm-2
ব্যাখ্যা
• চাপ:
- একক ক্ষেত্রফলের কোনো বস্তুর উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকেই চাপ বলে।
- চাপের একক হল প্যাসকেল এবং সংকেত Pa.
- চাপের মাত্রা হল- ML-1T-2
• SI পদ্ধতিতে চাপের একক  Nm-2.

উল্লেখ্য,
- বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের একক চালু থাকার ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়।
- এসকল অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বিজ্ঞানীগণ বিশ্বব্যাপী একই ধরনের একক চালুর সিদ্ধান্ত নেন, একে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এস আই (SI) একক বলে।

 SI(International System of Units) পদ্ধতিতে,
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S);
- আধানের একক কুলম্ব(C); 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার;
- বিভব পার্থক্যের একক ভোল্ট;
- রোধের একক ওহম ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৯৩.
শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম কত সময় ব্যবধান প্রয়োজন?
  1. ০.০১ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড সময় ব্যবধান প্রয়োজন।

• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলক পৃষ্ঠে আঘাত করে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে ফিরে এলে তাকে প্রতিধ্বনি বলে।
- প্রতিধ্বনি মূল শব্দের পুনরাবৃত্ত রূপ হিসেবে শোনা যায়।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে অন্তত ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হয়।
- যদি সময় ব্যবধান ০.১ সেকেন্ডের কম হয়, তবে প্রতিফলিত শব্দ মূল শব্দের সাথে মিশে যায়।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক পৃষ্ঠ যথেষ্ট দূরে থাকতে হয়।
- প্রতিধ্বনি শব্দের প্রতিফলনের ফল।

• প্রতিধ্বনি সৃষ্টির শর্ত:
- শব্দের উৎস ও প্রতিফলক পৃষ্ঠের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকতে হবে।
- মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হবে।
- প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ ও কঠিন হলে প্রতিফলন স্পষ্ট হয়।
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে প্রবেশ করলে প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১,৮৯৪.
শব্দের তীক্ষ্মতার মাত্রা নির্ণয়ের একক কোনটি?
  1. ক) ডেসিবেল
  2. খ) ওহম
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) ডাইন
ব্যাখ্যা
ডেসিবেল এককে শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। এর উদ্ভাবক স্কটিশ বুজ্ঞানি আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, তার নামানুসারে ডেসিবেল নামকরণ করা হয়েছে। মানুষের চিৎকার ও বজ্রপাতের শব্দ ১১০ ডেসিবেল। পারমাণবিক বোমা সবচেয়ে বেশি ২১০ ডেসিবেল তীব্রতার শব্দ উৎপাদন করে।
১,৮৯৫.
পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ভর ৫০ কেজি হলে ভূ-কেন্দ্ৰে বস্তুটির ভর কত?
  1. ক) ০কেজি
  2. খ) ১০কেজি
  3. গ) ৫০কেজি
  4. ঘ) ৫কেজি
ব্যাখ্যা
ভর: প্রত্যেক বস্তু পদার্থ দ্বারা গঠিত। ভর হলো কোনো বস্তুতে পদার্থের পরিমাণ। বস্তুর ধর্ম এর অবস্থান, আকৃতি ও গতি পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তিত হয় না। যে পরমাণু ও অণু দিয়ে বস্তুটি গঠিত তার সংখ্যা ও সংযুক্তির উপর বস্তুটির ভর নির্ভর করে।

- ভরের আন্তর্জাতিক একক হলো কিলোগ্রাম বা কেজি (kg)।
- বেশি ভরকে (যেমন এক ট্রাক চাউল) মেট্রিক টনে মাপা হয়।
- এক টন ১০০০ কিলোগ্রামের সমান।
- অল্প ভরকে মাপা হয় গ্রামে।
- যেমন কোনো পেনসিলের ভর ৫ গ্রাম (g)।
- ১ কেজি সমান ১০০০ গ্রাম।
- ভর সব সময় একই থাকে।
১,৮৯৬.
ডায়োডের কোন সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না? 
  1. সঠিক মেরুকরণে
  2. ফরোয়ার্ড বায়াস সংযোগে 
  3. উল্টো সংযোগে
  4. ব্যাটারির ধনাত্মক টার্মিনালে
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৭.
ইলেকট্রন ভোল্ট কোন ফিজিক্যাল কোয়ান্টিটির জন্য ব্যবহার হয়?
  1. ধারকত্ব
  2. বিভব
  3. শক্তি
  4. আধান
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রন ভোল্ট (eV) মূলত শক্তি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত একটি একক। এটি একটি ছোট মানের শক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা পারমাণবিক এবং উপ-পরমাণবিক কণার ক্ষেত্রে সহজে বোঝা যায়। একটি ইলেকট্রন ভোল্ট হলো সেই শক্তি যা একটি একক ইলেকট্রন একটি ভোল্টের বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য অতিক্রম করলে অর্জন করে। বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র এবং কণার শক্তি সংক্রান্ত সমস্যায় এই এককটি খুবই সুবিধাজনক, কারণ জুলের তুলনায় এটি খুব ছোট এবং কণার দিক থেকে প্রাকৃতিক। তাই ইলেকট্রন ভোল্ট শক্তি (Energy) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়, ধারকত্ব, বিভব বা আধানের জন্য নয়।

- সঠিক উত্তর: গ) শক্তি।
 
• ইলেকট্রন ভোল্ট (Electron Volt):
- ইলেকট্রন ভোল্ট হলো একটি শক্তির একক, যা মূলত পরমাণুর ইলেকট্রন বা চার্জযুক্ত কণার শক্তি পরিমাপের জন্য ব্যবহার হয়।
- ১ ইলেকট্রন ভোল্ট (1 eV) হলো সেই শক্তি যা একটি ইলেকট্রন একটি ভোল্ট বিভব পার্থক্য অতিক্রম করার সময় অর্জন করে।
- এটি মূলত শক্তি সম্পর্কিত সমস্যা, যেমন- পরমাণুর আভ্যন্তরীণ শক্তি, আলোর ফোটন শক্তি, এবং ইলেকট্রনের কাইনেটিক শক্তি নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।
- ইলেকট্রন ভোল্ট ধারকত্ব, বিভব বা আধানের একক নয়।
- বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলী এটি ক্ষুদ্র শক্তি মান পরিমাপের জন্য ব্যবহার করে থাকেন, বিশেষ করে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে।  

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১,৮৯৮.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) পর্যাবৃত্ত গতি
  2. খ) স্পন্দন গতি
  3. গ) ঘূর্ণন গতি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ।

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য:
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৯.
কোন রঙের তলে আলোর প্রতিফলন সবচেয়ে বেশি হয়? 
  1. সাদা
  2. কালো
  3. নীল
  4. লাল
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। 
- পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তা হলো- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয় এবং কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম, এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। 
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং 
২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০০.
অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে- 
  1. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল 
  2. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল 
  3. খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল
  4. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত।
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।