বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৮ / ৩৮ · ১,৭০১১,৮০০ / ৩,৭৪৭

১,৭০১.
কোনটি ধনাত্মক আধানযুক্ত?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা

প্রোটন একটি মৌলিক কণিকা। এটি স্থিতিশীল। প্রোটনের আধান ধনাত্মক।
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।
নিউট্রন হল একটি অতিপারমাণবিক কণা, এর কোনও বৈদ্যুতিক আধান নেই এবং এর ভর প্রোটন কণার ভরের চেয়ে সামান্য বেশি।
প্রোটন এবং নিউট্রন মিলে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

১,৭০২.
রিমোট সেন্সিং বা দূর অনুধাবন বলতে কী বুঝায়?
  1. রাডারের সাহায্যে চারদিকের পরিবেশের অবলোকন
  2. রেডিও ট্রান্সমিটার সহযোগে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ
  3. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন
  4. কোয়াসার প্রভৃতি মহাজাতিক উৎস থেকে সংকেত অনুধাবন
ব্যাখ্যা
Remote sensing হলো একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে পৃথিবীর পৃষ্ঠ বা অন্য কোনো বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয় দূরবর্তী অবস্থান থেকে, সাধারণত কোনো সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়াই।
- এটি প্রধানত সাটেলাইট(উপগ্রহ) বা বিমানের মাধ্যমে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ (যেমন: আলোক, তাপ, বা রেডিও তরঙ্গ) ব্যবহার করে কাজ করে।

• দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে তিনটি পর্বে বিভক্ত করা যায়:
- কোনো প্লাটফর্মে বসানো সেন্সর থেকে উপাত্ত সংগ্রহ, যেমন: একটি উপগ্রহ,
-  উপাত্ত ব্যবহার এবং
-  উপাত্তের ব্যাখ্যা যা পরীক্ষাকৃত পৃষ্ঠের বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র প্রণয়ণে কাজে লাগে।

• তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ ব্যবহারকারী দূর অনুধাবন ব্যবস্থার চারটি উপাদান আছে-
- সূত্র বা উৎস;
- ভূ-পৃষ্ঠের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া;
- বায়ুমন্ডলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া
- এবং একটি সেন্সর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও নাসা।
১,৭০৩.
মানুষের শ্রাব্যতার সীমা কোন কম্পাঙ্কের মধ্যে? 
  1. 10 Hz – 10,000 Hz 
  2. 100 Hz – 30,000 Hz
  3. 50 Hz – 15,000 Hz 
  4. 20 Hz – 20,000 Hz
ব্যাখ্যা

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে, তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 
- অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। 
- মানুষ ভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো- 


উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০৪.
ঘর্ষণের কারণে কোন শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. শব্দ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. বিদ্যুৎ শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তি: 
- জেনারেটরে যখন বিদ্যুৎ তৈরি হয় তখন আসলে যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করে তারের কুণ্ডলীকে চৌম্বক ক্ষেত্রে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- ঘর্ষণের কারণে সব সময়ই তাপশক্তি তৈরি হচ্ছে, সেখানে আসলে যান্ত্রিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- বৈদ্যুতিক ঘন্টায় বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক মটরে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭০৫.
রেডিও কার্বনের অর্ধায়ু কত বছর?
  1. ক) ৫৫৬৮ বছর
  2. খ) ৪৫৮৬ বছর
  3. গ) ৫৫৭৮ বছর
  4. ঘ) ৫৬৭৮ বছর
ব্যাখ্যা

রেডিও কার্বনের ((carbon-14) অর্ধায়ু 5700 ± 30 বছর।। 

কোনো কোনো পদার্থের স্বাভাবিক পরমাণু তেজষ্ক্রিয় না হলে এদের আইসোটোপসমূহ তেজষ্ক্রিয় পদার্থরূপে আচরণ করতে পারে। এ সকল আইসোটোপকে রেডিও আইসোটোপ বলে।
যে সময়ে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ভেঙ্গে যায় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে।
অর্থাৎ, যে সময় কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের 'N' সংখ্যক অণু ভেঙ্গে N/2 সংখ্যক হয়, সেই সময় হলো অর্ধায়ু।

The half-life of radiocarbon (14C) is 5700 ± 30 yr, which makes it particularly useful for dating in archaeology.

আবার,
ব্রিটানিকা অনুসারে, অর্ধায়ু 5,730 ± 40 বছর।

উৎস: U.S. Department of Health & Human Services Website and Cambridge ডিকশনারি। 

১,৭০৬.
শব্দের তীব্রতার একক কী?
  1. Hz
  2. N
  3. Wm−2
  4. s−1
ব্যাখ্যা
শব্দের তীব্রতা:
- একটি সুরেলা শব্দ কত জোরে শোনা যাচ্ছে তার পরিমাপ হচ্ছে তীব্রতা । একক ক্ষেত্রফল দিয়ে যে পরিমাণ শব্দ শক্তি যায় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে।
-  শব্দের তীব্রতার একক  Wm-2.
- ১ বর্গমিটার ক্ষেত্রফল দিয়ে ১ W পরিমাণ শব্দ শক্তি গেলে তখন শব্দের তীব্রতা ১ Wm-2 হয়।
- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নামানুসারে ওয়েবার (W) বা (Wb) এককের নামকরণ হয়েছে।

অন্যদিকে,
- শব্দের কম্পাঙ্কের একক Hz বা s-1.
- বলের একক N.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি ।
১,৭০৭.
রঙিন টেলিভিশনের পর্দায় কোন রঙের ফসফর থাকে?
  1. সবুজ, হলুদ ও সাদা
  2. লাল, হলুদ ও নীল
  3. লাল, কালো ও সাদা
  4. লাল, নীল ও সবুজ
ব্যাখ্যা

• রঙিন টেলিভিশনের পর্দায় লাল, নীল ও সবুজ রঙের ফসফর দানা থাকে।

- রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষুদ্র পরিমাণে রঞ্জন রশ্মি (Radiation) বের হয়।
- পরিমাণ এত ক্ষুদ্র যে উপেক্ষা করা যায়, তবে সচেতন হওয়া ভালো।
- রঙিন টেলিভিশনের মৌলিক যন্ত্রপাতি সাদাকালো টেলিভিশনের সাথে একই, যেমন: ক্যাথোড রে টিউব, ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।
- অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি রঙ প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা হয়
- রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ তিনটি পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- প্রতিটি টিউব শুধুমাত্র তার নির্দিষ্ট রঙের তথ্য ধারণ করে।
- তিনটি রঙের জন্য তিনটি ইলেকট্রন গান (Electron Guns) ব্যবহার করা হয়।
- এগুলি লাল, নীল ও সবুজ ফসফরকে আলোকিত করে।
- টিভির পর্দা তৈরি করা হয় তিন রঙের ফসফর দানা (Red, Green, Blue Phosphor Dots) দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান যখন ফসফরকে আঘাত করে, তখন শুধু নির্দিষ্ট রঙের দানা আলোকিত হয়।
- ইলেকট্রন যখন ফসফরের সাথে আঘাত করে, তখন মৃদু রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয়।
- তবে এর পরিমাণ অতি ক্ষুদ্র, তাই সাধারণভাবে নিরাপদ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৭০৮.
ধনাত্মক কাজ কখন ঘটে? 
  1. যখন বল কাজ করে না
  2. যখন বলের লম্বে সরণ হয়
  3. যখন বল ও সরণ একই দিক নির্দেশ করে
  4. যখন বল ও সরণ বিপরীতমুখী হয়
ব্যাখ্যা
বলের দ্বারা কাজ বা ধনাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের দিকে সরে যায় বা বলের দিকে সরণের উপাংশ থাকে, তাহলে সেই বল এবং বলের দিকে সরণের উপাংশের গুণফলকে ধনাত্মক কাজ বা বলের দ্বারা কাজ বলে। 
উদাহরণ: 
- একটি বস্তু উপর থেকে মাটিতে ফেলে দিলে বস্তুটি অভিকর্ষ বলের দিকে পড়বে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত বল তথা বস্তুর ওজন mg এবং সরণ s একই দিকে তথা নিচের দিকে হয়; ফলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল দ্বারা কাজ হয়েছে বা অভিকর্ষ বলের জন্য ধনাত্মক কাজ হয়েছে বোঝায়। 

বলের বিরুদ্ধে কাজ বা ঋণাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের বিপরীত দিকে সরে যায় বা বলের বিপরীত দিকে সরণের উপাংশ থাকে তাহলে সেই বল এবং বলের বিপরীত দিকে সরণের উপাংশের গুণফলকে ঋণাত্মক কাজ বা বলের বিরুদ্ধে কাজ বলে। 
উদাহরণ: 
- একখানি বই যদি মেঝে থেকে টেবিলের উপর ওঠানো হয়, তাহলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল তথা বস্তুর ওজন mg খাড়া নিচের দিকে এবং সরণ s খাড়া উপরের দিকে ক্রিয়া করে। এক্ষেত্রে অভিকর্ষ বল ও সরণ বিপরীতমুখী হওয়ায় অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ করা হবে বা অভিকর্ষ বলের জন্য ঋণাত্মক কাজ হবে। 

শূন্য কাজ: 
- বল প্রয়োগে যদি কোনো বস্তুর সরণ বলের লম্ব বরাবর হয়, তবে ঐ বলের দ্বারা কোনো কাজ হয় না। 
- কেননা, এই ক্ষেত্রে θ = 90° হওয়ায় W = FS cos90° = 0 । 
উদাহরণ: 
- কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে ঘোরায় যে কেন্দ্রমুখী বল, তার দ্বারা কোনো কাজ হয় না। কেননা, প্রতি মুহূর্তে বল ব্যাসার্ধ বরাবর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়া করে আর সরণ হয় বৃত্তের স্পর্শক বরাবর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১,৭০৯.
পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয়-
  1. ডায়োডে
  2. ট্রানজিস্টারে
  3. অ্যামপ্লিফায়ারে
  4. ট্রান্সফরমারে
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার পারস্পরিক আবেশ নীতিতে কাজ করে। 

পারস্পারিক আবেশ:
- পাশাপাশি স্থাপিত দুটি কুণ্ডলীর মধ্যে একটিতে তড়িৎ প্রবাহ মাত্রার পরিবর্তনের ফলে অপর কুণ্ডলীতে যে তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয় তাকে পারস্পারিক আবেশ বলে।

• পারস্পরিক আবেশের ব্যবহার: 
• রূপান্তরক বা ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফরমার বলে।
- তড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা-
১। আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফরমার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফরমার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৭১০.
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত?
  1. ক) ৩,৮৪,০০০ কিমি
  2. খ) ৩,৯৫,০০০ কিমি
  3. গ) ৪,০৫,০০০ কিমি
  4. ঘ) ৪,২০,০০০ কিমি
ব্যাখ্যা

পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আর্বতন করে।
চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৫ কিলোমিটার।
১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (উন্মুক্ত)।

১,৭১১.
ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. সিসমোগ্রাফ
  3. রিখটার স্কেল
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।

বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ও তার ব্যবহার:
- বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র- ব্যারোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ক যন্ত্র -ফ্যাদোমিটার
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণায়ক যন্ত্র- ল্যাকটোমিটার।
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র- থার্মোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- রিখটার স্কেল।
- সূক্ষ্ম সময় ও সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় যন্ত্র- ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৭১২.
ন্যানো উপসর্গ (Prefix)- এর মান কোনটি? 
  1. 10-6
  2. 10-9
  3. 10-12
  4. 10-15
ব্যাখ্যা

- ন্যানো উপসর্গ (Prefix)- এর মান হচ্ছে 10-9 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু SI উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারা যায়। 
- কিছু উপসর্গ নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭১৩.
p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে-
  1. সম্মুখী ঝোঁকে
  2. মধ্যবর্তী ঝোঁকে
  3. বিপরীতমুখী ঝোঁকে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
p-n জাংশন বা ডায়োড: 
- p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে সম্মুখী ঝোঁকে। 
- একটি p- টাইপ এবং একটি n- টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করলে সংযোগ পৃষ্ঠকে p-n জাংশন বলে। 
- একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অংশ p- বা n- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য এবং অপর অংশে যথাক্রমে n- বা p- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- p-n জাংশন মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একধরনের আধান বাহক অনায়েসে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু বিপরীতধর্মী বাহক প্রবাহিত হতে পারেনা। 
- p-n জাংশনকে জাংশন ডায়োড বলে। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ একমুখীকরণে এবং অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৪.
বিভব বৃদ্ধি করলে ট্রান্সফরমারে কী হয়? 
  1. শক্তি হ্রাস পায় 
  2. শক্তি বৃদ্ধি পায় 
  3.  তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় 
  4. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এই ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৫.
এক্সরে রশ্মির কোন ধর্মটি সঠিক নয়? 
  1. এক্সরে রশ্মি একটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ
  2. এক্সরে রশ্মি সরল পথে গমন করে
  3. এক্সরে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কম
  4. এক্সরে  রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা

• এক্সরে (X-ray) হলো উচ্চ শক্তিসম্পন্ন এবং ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অত্যন্ত কম হওয়ায় এর শক্তি ও ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) অনেক বেশি থাকে।
- এটি কাঠ, মাংসপেশি বা কাগজের মতো অস্বচ্ছ বস্তু খুব সহজেই ভেদ করে চলে যেতে পারে।

• এক্সরে রশ্মির ধর্ম: 
১। এক্সরে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪ । এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৬.
চাঁদ কত সময়ে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে?
  1. ক) ২৭ দিনে ৪ ঘন্টায়
  2. খ) ২৭ দিন ৮ ঘন্টায়
  3. গ) ২৮ দিন ২ ঘন্টায়
  4. ঘ) ২৯ দিন ৬ ঘন্টায়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘন্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এটি পৃথিবীর আয়তনের ৫০ ভাগের একভাগ। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
১,৭১৭.
400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?
  1. 450 ms- 1
  2. 580 ms- 1
  3. 600 ms- 1
  4. 700 ms- 1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?

সমাধান:
এখানে,
কম্পাঙ্ক, f = 400 Hz = 400s- 1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ = 1.5m
তরঙ্গ বেগ, V = ?

আমরা জানি,
V = fλ
= 400s- 1 × 1.5m
= 600 ms- 1
১,৭১৮.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৫ N এবং ৪ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ৩ N
  2. √১১ N
  3. √৪১ N
  4. ১ N
ব্যাখ্যা
দেওয়া আছে,
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৫ N এবং ৪ N
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৫ + ৪)
= √(২৫ + ১৬)
= √৪১ N
১,৭১৯.
আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে:
  1. ১,৮৬,০০০ মাইল
  2. ১,৮৬,০০০ কি.মি
  3. ২,৮৬,০০০ মাইল
  4. ৩,৮৬,০০০ কি.মি
ব্যাখ্যা
আলো: 
- আলো একপ্রকার শক্তি। 
- আলো একধরনের তড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি যোগায়। 
- আলোর কণাকে ফোটন বলে। 
- আলোর বেগ 3×108 ms-1 অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায়  ১,৮৬,০০০ মাইল বা ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়। 
- দৃশ্যমান আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭২০.
যদি R1 = 4Ω এবং R2 = 2Ω হয়, তাহলে মোট রোধ কত?
  1. 0.75Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি R1 = 4Ω এবং R2 = 2Ω হয়, তাহলে মোট রোধ কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
R1 = 4Ω
R2 = 2Ω

প্রশ্নে উল্লিখিত সার্কিটটি একটি সিরিজ সার্কিট।
তাই, মোট রোধ হবে,

R = R1 + R2
⇒ R = 4Ω + 2Ω
∴ R = 6Ω

সুতরাং, যদি R1 = 4Ω এবং R2 = 6Ω হয়, তাহলে মোট রোধ 6Ω হবে।
১,৭২১.
ভৌগোলিক অক্ষের সাথে ভূ-চৌম্বক অক্ষ কত ডিগ্রি কোণ করে অবস্থান করে?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ২০
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
মুক্তভাবে ঝুলন্ত চৌম্বক শলাকা বা সাধারণ চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু যথাক্রমে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ এবং উত্তর মেরুর দিকে অবস্থান করে । এজন্য আমরা সাধারণভাবে বলে থাকি যে, ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মের−র দিকে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরুর দিকে থাকে।

তেমনি ভূ-চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুর সংযোজক রেখাকে ভূ-চৌম্বক অক্ষ বলে। ভৌগোলিক অক্ষের সাথে এই ভূ-চৌম্বক অক্ষ প্রায় ১৮ ডিগ্রি কোণ করে আছে।

যেহেতু মুক্তভাবে ঝুলন্ত সাধারণ চুম্বকের উত্তর ও দক্ষিণ মেরু যথাক্রমে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে সেজন্য সাধারণ চুম্বকের উত্তর মেরু−কে উত্তর সন্ধানী (North-seeking) মেরু এবং দক্ষিণ মেরু—কে দক্ষিণ সন্ধানী (South-seeking) মেরু বলে। সংক্ষেপে তাদেরকে যথাক্রমে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু বলে । অনেকে ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরুকে নীল মেরু (Blue pole) এবং দক্ষিণ মেরুকে লাল মেরু (Red pole) বলে ।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম 
১,৭২২.
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলতে কী বোঝায়?
  1. পদার্থ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমন
  2. পরমাণু বিভাজনের কৃত্রিম প্রক্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংযোজনের প্রক্রিয়া
  4. ইলেকট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তনের ঘটনা
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণই প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- আগে ধারণা করা হতো পরমাণু অবিভাজ্য।
- স্যার জে. জে. থমসন (Sir J. J. Thomson) ইলেকট্রন আবিষ্কার করার ফলে বিজ্ঞানীরা পরমাণু সম্পর্কে নতুনভাবে চিন্তা শুরু করেন।
- সর্বপ্রথম স্যার জে. জে. থমসন পরমাণুর একটি মডেল প্রদান করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড (Rutherford) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন একটি পরমাণু মডেল প্রদান করেন, যা রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।
- তাঁর মতে, পরমাণুর ধনাত্মক আধানগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে না থেকে কেন্দ্রে অতিক্ষুদ্র অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- এই কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে নিউক্লিয়াস বলে।
- ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে বৃত্তাকার পথে আবর্তিত হয়।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক (Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- নিউট্রনও নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।

• তেজস্ক্রিয় রশ্মি:
- প্রকৃতিতে কিছু পরমাণু স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম এ ধরনের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এ রশ্মির নাম দেওয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- পরবর্তীতে মাদাম মেরি কুরী (Madame Marie Curie) ও পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেন।
- বর্তমানে এ রশ্মি তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত।

• তেজস্ক্রিয়তার প্রকারভেদ:
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার—প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা, কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।

• প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• অন্যান্য অপশন:
- পরমাণু বিভাজনের কৃত্রিম প্রক্রিয়া → এটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
- নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংযোজন → এটি কৃত্রিম রূপান্তরের একটি পদ্ধতি হতে পারে।
- ইলেকট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তন → এটি তেজস্ক্রিয়তার সংজ্ঞা নয়, বরং শক্তিস্তর পরিবর্তনের ঘটনা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২৩.
আলোর কণা তত্ত্ব নিচের কোনটির ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়? 
  1. প্রতিসরণ
  2. প্রতিফলন
  3. বিচ্ছুরণ
  4. সরলরেখায় গমন
ব্যাখ্যা
- আলোর কণা তত্ত্ব প্রতিফলন ও সরলরেখায় গমন সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারলেও, এটি আলোর প্রতিসরণের ভুল ব্যাখ্যা দেয় এবং বিচ্ছুরণ ও বর্ণালী গঠনের ব্যাখ্যা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়

আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিভিন্ন তত্ত্ব: 

- ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিজ্ঞানভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে। 
- আলো কিভাবে উৎপত্তি হয়, আলো কিভাবে সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে আলো কিভাবে চোখে আসে এ সম্পর্কে এই পর্যন্ত চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। 
যথা- ১) কণা তত্ত্ব, ২) তরঙ্গ তত্ত্ব, ৩) তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব এবং ৪) কোয়ান্টাম তত্ত্ব । 

কণা তত্ত্ব: 
- পিয়ের গ্যাসেণ্ডি (Pierre Gassendi) ১৬৬০ সালে আলোর কণা তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- গ্যাসেণ্ডি এবং দেকার্তের গবেষণাসমূহ পর্যালোচনা করে আইজাক নিউটন ১৬৭৫ সালে আলোর কণা তত্ত্ব প্রদান করেন। 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো কণা বা Corpuscle (বস্তু কণা) দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয়। 
- আলো কেবল সরল রেখায় গমন করে। 
- নিউটনের তত্ত্ব আলোর প্রতিফলনের ব্যাখ্যা দিতে পারে, কিন্তু প্রতিসরণের ভুল ব্যাখ্যা দেয়। 
- আলোর বিচ্ছুরণ ও বর্ণালী গঠনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 
- অনুমান করা হয় ঘন মাধ্যমে মহাকর্ষ বল বেশি হওয়ায় তার প্রভাবে আলোর কণার ত্বরণ কমে যায়, ফলে গতি পথ বেঁকে যায়। 
- এটি আলোর তরঙ্গ প্রকৃতি প্রদর্শন করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৪.
অধাতু কোনটি-
  1. ক) মার্কারী
  2. খ) কার্বন
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
• ধাতু ও অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। যথা :ধাতু ও অধাতু।
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।
- যেসব মৌলিক পদার্থ সাধারণত নরম, অ-চকচকে, স্বচ্ছ এবং ভঙ্গুর হয়, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে।
- কার্বন, সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৫.
একটি বায়ুশূণ্য স্থানে একটি পালক ও একটি লোহার বল একত্রে ছেড়ে দিলে-
  1. ক) উভয় একত্রে পড়বে
  2. খ) লোহার বলটি আগে পড়বে
  3. গ) পালকটি আগে পড়বে
  4. ঘ) আদৌ পড়বে না
ব্যাখ্যা
মুক্তভাবে এবং বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে।
সুতরাং, একসাথে মাটিতে পড়বে।
১,৭২৬.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি? 
  1. রেটিনা
  2. আইরিশ 
  3. পিউপিল 
  4. অন্ধবিন্দু 
ব্যাখ্যা

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

১,৭২৭.
দূরত্বের এস.আই (S.I) একক কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1. নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দিয়ে
  2. নির্দিষ্ট পদার্থের প্রসারণ দিয়ে
  3. আলো বাতাসশূন্য স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রা করা দূরত্ব দিয়ে
  4. সিজিয়াম পরমাণুর কম্পনের উপর ভিত্তি করে
ব্যাখ্যা
এস.আই (S.I) এর মৌলিক একক সমূহ: 
- মৌলিক রাশির একক সমূহ অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাই মৌলিক একক ইচ্ছামত নির্বাচন করা যায়। 
- তবে নির্বাচিত এককগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং এই এককগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। 
- এটি হবে অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কোন কিছুর উপর নির্ভর করবে না। কালের বিবর্তনে বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এর কোন পরিবর্তন হবে না। 
- ১৯৬০ সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর সময় মৌলিক এককগুলোর যে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের লক্ষ্যে এদের মধ্যে অনেক এককের আদর্শ বদল করা হয়েছে কিন্তু তাতে এককগুলোর মানের কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। 
যেমন- ১৯০০ সালে ট্রপিক্যাল বৎসরের উপর ভিত্তি করে সময়ের একক সেকেন্ড এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিজিয়াম পরমাণুর পারমাণবিক পরিবৃত্তির উপর ভিত্তি করে সেকেন্ডের সংজ্ঞা প্রণয়ন করা হয়েছে। 

- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলোর জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ নিম্নে বর্ণনা করা হল- 
১। দৈর্ঘ্যের একক: মিটার 
- বায়ুশূন্য স্থানে আলো ১/২৯৯,৭৯২,৪৫৮ সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সে দূরত্ব কে ১ মিটার (m) বলা হয়। 
২।  ভরের একক: কিলোগ্রাম 
- ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস্ এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে ১ কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়েই ৩.৯cm  । 
৩। সময়ের একক: সেকেন্ড 
- একটি সিজিয়াম পরমানুর (১৩৩Cs) ৯,১৯২,৬৩১,৭৭০ টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তাকে ১ সেকেন্ড (s) বলে। 
৪। তাপমাত্রার একক: কেলভিন 
- ১ পানির ত্রৈধ বিন্দুর (triple point) তাপমাত্রার ১/২৭৩.১৬ ভাগকে ১ কেলভিন (K) বলে। 
৫। তড়িৎ প্রবাহের একক: অ্যাম্পিয়ার 
- শূন্য মাধ্যমে ১মিটার দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎপ্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে ২×১০-৭ N নিউটন বল উৎপন্ন হয় তাকে ১ অ্যাম্পিয়ার (ampere) বলে। 
৬। দীপন তীব্রতার একক: ক্যান্ডেলা 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে ৫৪০×১০১২ হার্জ কম্পাঙ্কের এক ১ বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে ১/৮৬৩ ওয়াট। 
৭। পদার্থের পরিমাণের একক: মোল 
- যে পরিমাণ পদার্থে ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন-১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে তাকে ১ মোল বলে। 



উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৮.
কোন প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন হিলিয়ামে রুপান্তরিত হয়?
  1. নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  3. সংযোজন বিক্রিয়া
  4. আয়নিক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ফিউশন বিক্রিয়া: 
- দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়াকে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- যেমন: হাইড্রোজেন → হিলিয়াম 
1H2 + 1H3 →  2He4 + বিপুল শক্তি। 
- নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ভিত্তি। 

• ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭২৯.
স্থির তড়িৎ ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ক্যামেরায়
  2. খ) ফটোকপি মেশিনে
  3. গ) স্প্রের সাহায্যে কোনো বস্তু রঙ করতে
  4. ঘ) সবগুলোতে
ব্যাখ্যা
স্থির তড়িৎ
- আধান যখন চলাচল করে না, বরং কন বস্তুতে আবদ্ধ থাকে, তখন তাকে স্থির তড়িৎ (Static Electricity) বলে। যেমন: বজ্রপাত। 
- কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোয়ার কারণে বায়ুদূষণ মুক্ত করা, ছোট বা অসম আকৃতির বস্তুকে স্প্রের সাহায্যে রঙ করা, উচ্চ বিভব সৃষ্টি করা ইত্যাদির জন্য স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে যেসব মুভি ক্যামেরা এবং স্থির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয় সেগুলোতেও স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়। 
- ফটোকপি মেশিন, লেজার প্রিন্টার, ইংকজেট প্রিন্টারে স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৭৩০.
পেরিস্কোপ তৈরিতে কোন নীতির উপর নির্ভর করা হয়?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর বিচ্ছুরণ
  3. আলোর প্রতিফলন
  4. আলোর বিভাজন
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ:
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১,৭৩১.
তরঙ্গ দ্বারা নিচের কোনটি স্থানান্তরিত হয়?
  1. ক্ষমতা
  2. শক্তি
  3. গতিবেগ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ হচ্ছে একটা মাধ্যমের ভিতর দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় শক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়া, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলো তার নিজ অবস্থানে স্পন্দিত হতে পারে কিন্তু সেখান থেকে সম্পূর্ণ সরে যাবেনা। 
যান্ত্রিক তরঙ্গের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
তরঙ্গের ভিতর দিয়ে শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
শক্তি যত বেশি হয় তরঙ্গের বিস্তার তত বেশি হয়।

সূত্র - মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
১,৭৩২.
ডায়া চুম্বক পদার্থের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
পানি হচ্ছে ডায়া চুম্বক পদার্থ।

- অপরদিকে, অক্সিজেন, সোডিয়াম এবং অ্যালুমিনিয়াম হচ্ছে প্যারা চুম্বক পদার্থ। 
- যেসব চৌম্বক পদার্থ চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে।  যেমন- তামা, দস্তা, এন্টিমনি ইত্যাদি। 
- ব্যবহারসমূহ- 
১. মাইক্রোফোন ও লাউডস্পিকারে ব্যবহৃত হয়। 
২. দিক নির্ণায়ক কম্পাস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

- যেসব চৌম্বক পদার্থ চুম্বক দ্বারা কম আকর্ষিত হয় বা পদার্থের উপর চুম্বকের আকর্ষণ প্রভাব দুর্বল, তাদেরকে প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- সোডিয়াম , অক্সিজেন, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি।
ব্যবহারসমূহ- 
১. রাডারে ব্যবহৃত হয়। 
২. ট্রানসফর্মারে ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র- ১৬৬ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৩.
পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা কোনটি?
  1. ক) ২৭০.২৬ কেলভিন
  2. খ) ২৭২.১৬ কেলভিন
  3. গ) ২৭৩.১৬ কেলভিন
  4. ঘ) ২৭৩.০০ কেলভিন
ব্যাখ্যা
- ৪.৫ মি.মি পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে। 
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা ২৭৩.১৬ কেলভিন। 
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে:- 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা ০ কেলভিন,
- বরফ বিন্দু ২৭৩.১৫ কেলভিন এবং
-  স্টিম বিন্দু ৩৭৩.১৫ কেলভিন ধরা হয়।
-তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে ২৭৩.১৫ কেলভিন এবং স্টিম বিন্দুকে ৩৭৩.১৫ কেলভিন ধরে মৌলিক ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়। এক একটি ভাগকে এক কেলভিন (১ কেলভিন) বলা হয়।  

উৎস- এইচ.এস. সি পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র (বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
১,৭৩৪.
নিচের কোন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. লোহা
  4. কাঠ
ব্যাখ্যা

• 'লোহা'র মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়। 
- তরল  পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উল্লেখ্য:
- কাঠ: কাঠ একটি কঠিন পদার্থ হলেও এটি লোহার মতো সুসংহত বা স্থিতিস্থাপক নয়, তাই এতে শব্দের বেগ লোহার চেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩৫.
দুইটি আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে- 
  1. আধান দুইটির পরিমাণের উপর
  2. আধান দুইটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর
  3. আধান দুইটি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বল: 
- একটি আহিত স্থির বস্তুর নিকট অন্য একটি আহিত বস্তু আনলে বস্তু দু'টির মধ্যে একটি বল কাজ করবে। 
- আহিত বস্তু দু'টি যদি সমধর্মী আধান অর্থাৎ দু'টি বস্তুই ধনাত্মক বা দু'টি বস্তুই ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে বিকর্ষণ বল কাজ করবে। 
আবার, আহিত বস্তু দু'টি বিপরীতধর্মী অর্থাৎ একটি বস্তু ধনাত্মক আধানে এবং অপর বস্তু ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করবে, আর এ বিকর্ষণ বা আকর্ষণ বলকে তড়িৎ বল বলে। 
- দু'টি আধানের মধ্যবর্তী এ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে - 
১. আধান দু'টির পরিমাণের উপর
২. আধান দু'টির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর এবং 
৩. আধান দু'টি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৬.
একটি চুম্বকের কোন মেরুদ্বয় পরস্পরকে আকর্ষণ করে?
  1. দক্ষিণ-দক্ষিণ
  2. উত্তর-উত্তর
  3. উত্তর-দক্ষিণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• একটি চুম্বকের বিপরীত মেরুদ্বয় অর্থাৎ উত্তর-দক্ষিণ মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। 

• চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

• চুম্বকত্ব (Magnetism):
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে।

• চুম্বকের (Magnet) বিপরীত মেরুগুলো পরস্পরকে আকর্ষণ করে, অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু একে অপরকে আকর্ষণ করে।
- এটি চুম্বকত্বের একটি মৌলিক নীতি।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৩৭.
কোন মাধ্যমের তাপ পরিবহন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) বায়বীয়
  4. ঘ) শূন্য মাধ্যম
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন হয় তিন প্রক্রিয়ায়-
১) পরিবহন
২) পরিচলন
৩) বিকিরণ

- পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
- কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।
- সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ পৃথিবীতে আসে।
- তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া হচ্ছে বিকিরণ।

- তাপ সঞ্চালনের তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্যে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালন সবচেয়ে বেশি ঘটে কঠিন মাধ্যমে।
- পরিচলন ঘটে তরল পদার্থে/মাধ্যমে ও বিকিরণ ঘটে বায়বীয় বা শূন্য মাধ্যমে।
১,৭৩৮.
কোনটির সাহায্যে আলট্রাসনোগ্রাম কাজ করে?
  1. ক) শ্রুতিপূর্ব শব্দ
  2. খ) শ্রুতি-উত্তর শব্দ
  3. গ) নয়েজ
  4. ঘ) সুশ্রাব্য শব্দ
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৭৩৯.
আয়নাতে তৈরি হওয়া প্রতিরূপের প্রকৃতি কেমন?
  1. বিবর্ধিত, বাস্তব ও সোজা
  2. খর্বিত, অবাস্তব ও উল্টা
  3. সম-আকারের, অবাস্তব ও সোজা
  4. সম-আকারের, বাস্তব ও সোজা
ব্যাখ্যা

আয়না হলো সমতল দর্পণ।
- সমতল দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব সমআকারের, অবাস্তব ও সোজা হয়ে থাকে।
- আয়নাতে তৈরি হওয়া প্রতিবিম্ব আলোকরশ্মির প্রকৃত মিলনের ফলে তৈরি হয় না এবং বিবর্ধনের মান হলো ১।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭৪০.
স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে কোন সম্পর্কটি সঠিক?
  1. বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
  2. বস্তুর বেগ সময়ের ব্যস্তানুপাতিক
  3. বস্তুর চূড়ান্ত বেগ তার ভরের সমানুপাতিক
  4. বস্তুর ভর বেশি হলে তার পড়তে বেশি সময় লাগবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক

• পড়ন্ত বস্তুর সূত্র:
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
• সূত্রগুলো হচ্ছে-

• প্রথম সূত্র:

- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

• দ্বিতীয় সূত্র:

- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, v ∝ t.

• তৃতীয় সূত্র:

- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, h ∝ t2.

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪১.
অভিকর্ষ কী? 
  1. কোনো মহাজাগতিক আকর্ষণ 
  2. পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার আকর্ষণ 
  3. পৃথিবী পৃষ্ঠের বস্তু ও পৃথিবীর মধ্যকার আকর্ষণ 
  4. পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার আকর্ষণ 
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 
 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪২.
মানবদেহে মস্তিষ্কে শব্দের স্থায়িত্বকাল-
  1. ০.১ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ৫ সেকেন্ড
  4. ১০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল:

- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- অর্থাৎ এই 0.1 সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না।
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৩.
হারিকেনের চিমনিতে আলোকশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. তাপ শক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তিতে
  3. যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তির রূপান্তর: 
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়। 
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়। 
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৪.
লোহার কুরী তাপমাত্রা-
  1. ৩৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ৬৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ৭২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
 কুরি বিন্দু বা কুরি তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় কোন একটি চুম্বকের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়, তাকে উক্ত চুম্বকের উপাদানের কুরি বিন্দু বলে।
- এই তাপমাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ফরাসি পদার্থবিদদের জন্যপিয়েরে কুরি , যিনি ১৮৯৫ সালে এমন সূত্রগুলি আবিষ্কার করেছিলেন যা তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
- লোহার কুরি বিন্দু বা কুরি তাপমাত্রা ৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এছাড়াও, কোবাল্টের জন্য কুরি তাপমাত্রা হলো ১১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যাসর্বোচ্চ কুরি বিন্দুগুলির মধ্যে একটি।

উৎস: একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ও ব্রিটানিকা।
১,৭৪৫.
বলের মাত্রা কোনটি?
  1. MLT- 1
  2. MLT- 2
  3. ML2T- 2
  4. ML2T- 3
ব্যাখ্যা

• বলের মাত্রা MLT- 2.

• মাত্রা:
-ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
-কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ = m × a। আর ত্বরণের মাত্রা = [LT- 2]
- সুতরাং, বলের মাত্রা [MLT- 2].

- কাজের মাত্রা [ML2T- 2].
- শক্তির মাত্রা [ML2T- 2].
- টর্কের মাত্রা [ML2T- 2].
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T- 3].

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৬.
নিচের কোনটি গাড়ীর গতি পরিমাপক যন্ত্র?
  1. ব্যারোমিটার
  2. ওডোমিটার
  3. অ্যলটিমিটার
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

• ব্যারোমিটার (Barometer):
- ব্যারোমিটার বায়ুচাপ পরিমাপের যন্ত্র।  
- এটি আবহাওয়া পূর্বাভাসে ব্যবহৃত হয়।  

• অ্যলটিমিটার (Altimeter):
- অ্যলটিমিটার উচ্চতা পরিমাপের যন্ত্র।  
- এটি সাধারণত বিমান বা পাহাড়ে আরোহনের সময় ব্যবহৃত হয়।   

• ম্যানোমিটার (Manometer):
- ম্যানোমিটার কোনো তরলের চাপ (pressure) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।  
- এটি সাধারণত গ্যাস বা তরলের চাপ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।  

• ওডোমিটার (Odometer):
- ওডোমিটার হলো সেই যন্ত্র যা গাড়ি কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে তা পরিমাপ করে।  
- এটি মোট মাইল বা কিলোমিটার হিসাব রাখে।    

• পরিমাপক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার। 
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার। 
- বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয় - ল্যাক্টোমিটার। 
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ। 
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় - ওডোমিটার। 

তথ্যসূত্র:
১) ভূগোল প্রথম পত্র, এইস.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) ব্রিটানিকা।

১,৭৪৭.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র তৈরি করা হয়?
  1. জেনারেটর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ট্রায়োড
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি।

ট্রান্সফরমার (Transformer):
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।

• ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৮.
Which would hit the ground first if dropped from the same height in a vacuum?
  1. stone
  2. wood
  3. feather
  4. All of above
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে, একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু একই সময়ে মাটিতে এসে পড়ে।

• প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে ।
• দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
• তৃতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h∝ t.

- তাই শূন্য মাধ্যমে ৩টি বস্তুকে একসাথে ছেড়ে দিলে সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৯.
লোকভর্তি হল ঘরে শূন্য ঘরের চেয়ে শব্দ ক্ষীণ হয়, কারণ-
  1. লোকভর্তি ঘরে মানুষের সোরগোল হয়
  2. শূন্য ঘর নীরব থাকে
  3. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
  4. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ বেশি হয়
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- যখন একটি ঘরে মানুষ বা আসবাব পত্র দিয়ে ভর্তি থাকে, তখন অনেক শব্দ সেগুলোর মাধ্যমে শোষিত হয়ে যায়। 
অর্থাৎ, লোকভর্তি হল ঘরে মানুষ বেশি থাকায় শব্দের শোষণ বেশি হয় তাই সেখানে শব্দের আওয়াজ ক্ষীণ হয়।
- আর, শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয় লোকভর্তি হল ঘরের তুলনায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫০.
ভেজা কাপড় রোদে শুকায় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) বাষ্পীভবন
  2. খ) স্ফুটন
  3. গ) উর্ধ্বপাতন
  4. ঘ) ঘনীভবন
ব্যাখ্যা
• রোদের তাপে কাপড়ের পানি বাস্পে পরিণত হয়। ফলশ্রুতিতে কাপড় শুকিয়ে যায়।
- কোনো তরল পদার্থকে তাপ প্রদান করলে ঐ তরলের বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।

যেমন: চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়। এটি বাষ্পীভবনের উদাহরণ।

• বর্ষাকাল অপেক্ষা শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায়। 
বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে।
ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়। 
অন্যদিকে, শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে। 
অর্থাৎ, বাতাস শুকনো থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৭৫১.
প্রকৃতিতে মৌলিক বল কয়টি?
  1. 2 টি
  2. 3 টি
  3. 4 টি
  4. 5 টি
ব্যাখ্যা
বল:
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে।
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে।
যথা: মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-18 m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-15 m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৫২.
বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. ক) Js-1
  2. খ) JC-1
  3. গ) NC-1
  4. ঘ) kWh
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক ওয়াট। একে W দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এক সেকেন্ডে এক জুল কাজ করার ক্ষমতা হলো এক
ওয়াট।
∴1W = 1J/1s = 1Js-1


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৭৫৩.
নিচের কোন স্থানে g-এর মান সর্বনিম্ন?
  1. এভারেষ্ট শৃঙ্গে
  2. মেরু বিন্দুতে
  3. সমুদ্র সমতলে
  4. বিষুব রেখায়
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্বনিম্ন প্রায় 9.78 ms-2.
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2.
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2
- সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.80665 ms-2.
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৪.
ধারকের (Capacitor) ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. 1 μF = 10- 10 F
  2. 1 μF = 10- 19 F
  3. 1 μF = 10- 6 F
  4. 1 μF = 10- 3 F
ব্যাখ্যা

• ধারকের ক্ষেত্রে  সঠিক 1 μF = 10- 6 F
- ধারক বা ক্যাপাসিটার হল এমন একটি বৈদ্যুতিক উপাদান যা চার্জ সঞ্চয় করতে পারে। “μF” মানে মাইক্রোফারাড, যেখানে “মাইক্রো” মানে 10-6 

• ধারক:
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে বস্তু তাপ ধারণ করে রাখে, তাই বস্তুকে তাপ ধারক বলা যায়।
- তেমনি যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- পাত্রে পানি ঢাললে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো বস্তুতে আধান প্রদান করলে বস্তুর বিভব বৃদ্ধি পায়।
- যে পরিমাণ আধান প্রদান করলে একটি বস্তুর বিভব 1V বৃদ্ধি পায় তাকে তার ধারকত্ব বলে।
- সহজ কথায় বলতে গেলে যে ধারণ করে সেই ধারক। যেমন গ্লাস, বালতি বা কলসী পানি ধারণ করে। সুতরাং তাদেরকে পানি ধারক বলা যায়।
- ধারকত্বকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ধারকের একক ফ্যারাড (F)।
- ধারকের একক ফ্যারাডে একটি বেশ বড় একক। এজন্য এর কতগুলো ছোট একক ব্যবহার করা হয়।

১. 1 μF (মাইক্রো ফ্যারাড) = 10- 6 F
২. 1 nF (ন্যানো ফ্যারাড) = 10- 9 F
৩. 1 pF (পিকো ফ্যারাড) = 10- 12 F

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৫৫.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি? 
  1. লোহা 
  2. পানি 
  3. বাতাস 
  4. শূন্য মাধ্যম
ব্যাখ্যা

• লোহাতে (কঠিন মাধ্যম) শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দ:
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি জাগায়। শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দ থেকে অন্য স্থানে বা বিন্দুতে সঞ্চালিত হয়। 

• শব্দ একপ্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- এটি তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি।
- কোনো মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে সংপ্রসারিত শব্দের প্রাবল্য মাধ্যমের ঘনত্বের সমানুপাতিক। অর্থাৎ মাধ্যমের ঘনত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে শব্দের গতি ও বৃদ্ধি পায়।
বায়ু ও তরল মাধ্যমের ঘনত্বের থেকে লোহা অর্থাৎ কঠিন মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় লোহাতে শব্দের বেগ বেশি।
- শূন্য মাধ্যমে কোন কণা না থাকায় শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলাচল করতে পারে না। কারণ শব্দ চলাচল করতে মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৫৬.
বায়ুমণ্ডলে সব সময় থাকে -
  1. আর্দ্রতা
  2. বাতাস
  3. জীবাণু
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলে সব সময় থাকে -

সমাধান: 
বায়ুমণ্ডল: ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশে যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমণ্ডল।

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ,
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ,
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ০.০৩ শতাংশ,
- অন্যান্য গ্যাস ০..০২ শতাংশ,
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ শতাংশ।

বায়ুমণ্ডলের উপাদান হিসেবে আর্দ্রতা, জীবাণু, অক্সিজেন থাকতে পারে কিন্তু বাতাস ছাড়া বায়ুমণ্ডল অস্তিত্বহীন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৫৭.
কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে 8kmh-1 বেগে কোথাও গিয়ে যদি আবার 7kmh-1 বেগে আগের যায়গায় ফিরে আসেন তবে তাঁর গড় বেগ হবে -
  1. ক) 7.5 kmh-1
  2. খ) 7 kmh-1
  3. গ) 7.47 kmh-1
  4. ঘ) 15 kmh-1
ব্যাখ্যা
ধরি, 
t1 = d/8
t2 = d/7

মোট সময় = t+ t2
= d/8 + d/7
= 15d/56

∴ মোট দূরত্ব = 2d

আমরা জানি, 
গড় বেগ = 2d/(t1 + t2)
= 2d × 56/15d
= 112/15
= 7.47 kmh-1
১,৭৫৮.
ট্রান্সফরমার সাধারণত কত প্রকারের হয়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৯.
What is the temperature of the triple point of water on an absolute scale?
  1. 270.52 K
  2. 271.26 K
  3. 272.72 K
  4. 273.16 K
  5. 274.37 K
ব্যাখ্যা
পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এর উপর ভিত্তি করে পরম শূন্য তাপমাত্রা 0 K, বরফ বিন্দু 273.15 K এবং স্টিম বিন্দু 373.15 K ধরা হয়।
- তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে 273.15 K এবং স্টিম বিন্দুকে 373.15 K ধরে মৌলিক ব্যবধানকে 100 ভাগে ভাগ করা হয়।
- এক একটি ভাগকে এক কেলভিন (1 K) বলা হয়।
- সেলসিয়াস এবং কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে -
K = C+273.15

তথ্যসূত্র - পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬০.
নিউটনের গতিসূত্র মূলত কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
• নিউটোনের গতিসূত্র মূলত ৩ টি।

নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।
- উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
- উদাহরণ: কোনো বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়োগ করে।
- উদাহরণ: বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬১.
পোস্ট অফিস বক্সের সাহায্যে কী পরিমাপ করা যায়? 
  1. আধান
  2. প্রবাহ
  3. রোধ
  4. বিভব পার্থক্য
ব্যাখ্যা
পোস্ট অফিস বক্স: 
- যে রোধ বাক্সের রোধগুলোকে হুইটস্টোন ব্রিজের তিনটি বাহু হিসেবে বিবেচনা করে এর সাহায্যে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে পোস্ট অফিস বক্স বলে। 
- পোস্ট অফিস বক্স হুইটস্টোন ব্রিজের আরেকটি রূপ। 
- পূর্বে পোস্ট অফিসের লোকজন টেলিগ্রাম, টেলিফোন লাইনের তারের রোধ নির্ণয়ের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন বলে একে পোস্ট অফিস বক্স বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১,৭৬২.
সরু চোঙের ব্যাসার্ধ নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. স্ক্রু গজ
  2. মিটার স্কেল
  3. পাইরোমিটার
  4. তুলা যন্ত্র
ব্যাখ্যা

সরু চোঙ, সরু তার বা চিকন নলের ব্যাস ও ব্যাসার্ধ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করার জন্য স্ক্রু গজ (Screw Gauge) ব্যবহৃত হয়।
- এই যন্ত্রের লঘিষ্ঠ গণন (Least Count) সাধারণত ০.০১ মি.মি. বা তারও কম হয়ে থাকে, যা স্লাইড ক্যালিপার্সের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল।

• স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 


উল্লেখ্য:
- মিটার স্কেল: এটি দিয়ে বড় দৈর্ঘ্য মাপা গেলেও ১ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট পরিমাপ নিখুঁতভাবে নেওয়া সম্ভব নয়।
- পাইরোমিটার: এটি মূলত স্পর্শ না করে দূর থেকে কোনো বস্তুর অতি উচ্চ তাপমাত্রা (যেমন: চুল্লির তাপমাত্রা) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- তুলা যন্ত্র: এটি কোনো দৈর্ঘ্য বা ব্যাসার্ধ পরিমাপের যন্ত্র নয়; এটি দিয়ে বস্তুর ভর (Mass) মাপা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৭৬৩.
স্থির তাপমাত্রায় একই উপাদানের রোধ কোন বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে? 
  1. শুধুমাত্র দৈর্ঘ্য 
  2. শুধুমাত্র তাপমাত্রা 
  3. উপাদান এবং তাপমাত্রা 
  4. দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল 
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়।
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬৪.
P- type অর্ধপরিবাহীতে অপদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় -
  1. গ্রুপ-১৩
  2. গ্রুপ-১১
  3. গ্রুপ-১৫
  4. গ্রুপ-১৮
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে। 
- অর্থাৎ, পরিবাহিতা বৃদ্ধির জন্য সেমিকন্ডাক্টরে অপদ্রব্য মেশানোকে ডোপিং বা ডোপায়ন বলে। 
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা - 

১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

ডোপায়নের ফলে ২ ধরনের অবিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টর পাও্যা যায়। যথা -
১. P-type - বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহির সাথে অপদ্রয় হিসেবে তৃযোজী বা গ্রুপ ১৩ এর মৌল যুক্ত করা হয়।
২. N-type - বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহির সাথে অপদ্রয় হিসেবে পঞ্চযোজী বা গ্রুপ ১৫ এর মৌল যুক্ত করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৫.
পৃথিবীর বয়স বা প্রাচীন জীবাশ্মের বয়স নির্ধারণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপটি ব্যবহৃত হয়?
  1. অক্সিজেন-১৮
  2. কোবাল্ট-৬০
  3. নাইট্রোজেন-১৫
  4. কার্বন-১৪
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) কার্বন-১৪
- এটি কার্বনের একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। জীবন্ত উদ্ভিদ বা প্রাণী বায়ুুমণ্ডল থেকে কার্বন গ্রহণ করে, কিন্তু মৃত্যুর পর এই কার্বন-১৪ এর গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি নির্দিষ্ট হারে ক্ষয় হতে শুরু করে। কোনো প্রাচীন জীবাশ্মে অবশিষ্ট কার্বন-১৪ এর পরিমাণ মেপে সেটির বয়স নিখুঁতভাবে বের করা যায়। এই পদ্ধতিকে 'কার্বন ডেটিং' (Carbon Dating) বলা হয়।

• তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন-
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leukemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে: 
- বিভিন্ন কৃষিজাত ও অন্যান্য পচনশীল খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- খাদ্যদ্রব্য বেশি দিন ঘরে বা গুদামে রাখলে তা বিভিন্ন পোকামাকড় বা জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করলে এ সকল আক্রমণ থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা যায়। 
- কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

এছাড়াও,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- অক্সিজেন-১৮: এটি একটি স্থিতিশীল আইসোটোপ যা মূলত প্রাচীন জলবায়ু এবং তাপমাত্রা গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
- নাইট্রোজেন-১৫: এটি সাধারণত কৃষি গবেষণায় উদ্ভিদের প্রোটিন বা নাইট্রোজেন শোষণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬৬.
নিকোলাস কোপার্নিকাস ছিলেন মূলত একজন -
  1. ক) জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
  2. খ) রসায়নবিদ
  3. গ) দার্শনিক
  4. ঘ) গণিতবিদ
ব্যাখ্যা
নিকোলাস কোপার্নিকাস:
- তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে।
- তিনি ২৪ মে, ১৫৪৩ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১,৭৬৭.
ট্রান্সফরমার যন্ত্রের সাহায্যে নিম্নের কোনটি পরিবর্তন ঘটে?
  1. কারেন্ট
  2. ভোল্টেজ
  3. ফ্রিকোয়েন্সি
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার:
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার।
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়।
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার হলো এক ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিকল্প কারেন্ট (AC) ব্যবহারের মাধ্যমে ভোল্টেজ ও কারেন্ট পরিবর্তন করে, কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সি অপরিবর্তিত রাখে।

⇒ এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়।
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়।
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৬৮.
কৃষ্ণবিবরের আবিষ্কারক কে? 
  1. কার্ল সাগান
  2. জন হুইলার
  3. স্টিফেন হকিং
  4. অ্যালবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। 
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর বা Black hole । 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, এমনটি ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৯.
কোন তড়িৎ কোষ রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে?
  1. নিকেল অক্সাইড কোষ
  2. ড্যানিয়েল কোষ
  3. লেড-এসিড কোষ
  4. লেড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

অন্যদিকে, 
- দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে গ্যালভানিক কোষ। 
- এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল এবং সরল ভোল্টায়িক কোষ। 

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭৭০.
মাটির পাত্রে পানি ঠাণ্ডা থাকে কেন?
  1. ক) মাটির পাত্র পানি থেকে তাপ শোষণ করে
  2. খ) মাটির পাত্র ভালো তাপ পরিবাহী
  3. গ) মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  4. ঘ) মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
- মাটির পাত্রে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে।
- এসব ছিদ্র দিয়ে পানি কলসির উপরিতলে এসে পৌছে এবং বাষ্পীভূত হয়।
- বাষ্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুপ্ততাপ কলসির পানি থেকে গ্রহন করে।
- ফলে পানি ঠান্ডা থাকে।
১,৭৭১.
আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, বিক্ষেপণ তত - 
  1. কম
  2. বেশি
  3. মাঝামাঝি
  4. অপরিবর্তিত
ব্যাখ্যা
বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপন বলে। 
- এ আলোর বিক্ষেপন নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়। 
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭৭২.
কৃষ্ণগহ্বর আবিস্কার করেন কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. জন হুইলার
  3. জি লেমেটার
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর (Black hole):
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অবস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না।
- তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণগহ্বর (Black hole)।
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কার করেন।

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৭৭৩.
কোন দুই রঙের মিশ্রণে কমলা রঙ তৈরি হয়? 
  1. লাল ও নীল
  2. সাদা ও নীল
  3. হলুদ ও লাল
  4. হলুদ ও নীল
ব্যাখ্যা
রং সম্পর্কিত জ্ঞান: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
• লাল ও নীল রং মিশালে বেগুনী, 
• নীল ও হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৪.
নিচের কোনটি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ? 
  1. রেডিও
  2. পেণ্ডুলাম 
  3. ডিজিটাল ঘড়ি
  4. অ্যানালগ ঘড়ি
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়। এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
- ইলেকট্রনিকসের ডিজিটাল পদ্ধতির এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে ০ এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিম্বা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) শক্তি বিস্তার তরঙ্গের সমানুপাতিক।
  2. খ) শক্তি বিস্তার তরঙ্গের ব্যস্তানুপাতিক।
  3. গ) শক্তি হলো বিস্তার তরঙ্গ এর সমান।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা

তরঙ্গের ভেতর দিয়ে শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।
- শক্তি যত বেশি হয়, তরঙ্গের বিস্তার তত বেশি হয়ে থাকে।
- তাই শক্তি তরঙ্গ বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।

১,৭৭৬.
কোনটি পদার্থ নয়?
  1. ক) আলো
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
- আলো কোন পদার্থ নয়, ইহা হলো এক প্রকার শক্তি। 
অপরদিকে,
- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন হলো মৌলিক পদার্থ। 
- পানি হলো যৌগিক পদার্থ। 
১,৭৭৭.
গ্যালিলিওর দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে, পড়ন্ত বস্তুর প্রাপ্ত বেগ (v) কোনটির সাথে সমানুপাতিক? 
  1. উচ্চতার
  2. ভরের
  3. সময়ের
  4. বেগের বর্গ
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- সূত্রগুলাে হচ্ছে- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৮.
পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক) Si
  2. খ) U
  3. গ) Ca
  4. ঘ) Mg
ব্যাখ্যা
পরমানু অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম (U) ব্যবহৃত হয়।
ইউরেনিয়াম (U) – প্রকৃতিতে  প্রাপ্ত সবচেয়ে বেশি ভারী মৌল, তেজস্ক্রিয় গবেষণা এবং নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় এটি।
১,৭৭৯.
বিস্ফোরক বা নিষিদ্ধ বস্তু খুঁজে বের করার জন্য কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়? 
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. মৃদু রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার: 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 

১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহার করা হয়
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৩। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮০.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলে?
  1. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  2. তরঙ্গ বেগ
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

কম্পাঙ্ক (Frequency):
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

তরঙ্গ বেগ (Wave velocity):
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে।

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (Wave length):
- একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।

বিস্তার (Amplitude):
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যেকোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে।

উৎস:  পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮১.
তড়িৎ কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ঋণাত্নক পাত থেকে ধনাত্নক পাতে
  2. নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবে
  3. উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বভবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
-অর্থাৎ ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয় কিন্তু তড়িৎ প্রবাহিত হয় উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৭৮২.
একজন কিশোরী পার্কের দোলনায় দুলছে - এটি কোন ধরনের গতির উদাহরণ?
  1. ক) রৈখিক গতি
  2. খ) পর্যাবৃত্ত গতি
  3. গ) ঘূর্ণন গতি
  4. ঘ) অর্ধবৃত্তাকার গতি
ব্যাখ্যা
দোলন গতি
- একটি সরু সুতার এক প্রান্তের সাথে একটি ছোট পাথরের টুকরো বেঁধে সুতার অন্য প্রান্ত একটি টেবিলের প্রান্তের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে পাথরটির এক প্রান্ত সামান্য পরিমাণ টেনে ছেড়ে দিলে পাথরটি দুলতে থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর পাথরটির গতির দিক পরিবর্তিত হবে। 
- পাথরটির এ ধরনের গতি দোলন গতি। 
যেমন- ঘড়ির দোলকের গতি, দোলনার গতি ইত্যাদি দোলন গতি। 
- অর্থাৎ কোন গতিশীল বস্তু গতির অর্ধেক সময় এক দিকে এবং বাকী অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে যায় এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তার গতি পথের কোন বিন্দুকে একই দিক দিয়ে অতিক্রম করলে যে গতি হয় তাকে দোলন গতি বলে। 

- দোলন গতি বিশেষ ধরনের পর্যাবৃত্ত গতি। 
- দোলন গতিকে স্পন্দন গতিও বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৩.
বৈদ্যুতিক মোটর কী রূপান্তর ঘটায়? 
  1. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে
  3. শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে
  4. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
⇒ মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৪.
দুর্ঘটনা রোধের জন্য রাস্তার বাঁকে কোন ধরনের দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
  1. সমতল দর্পণ
  2. উত্তল দর্পণ
  3. অবতল দর্পণ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
পাহাড়ী রাস্তায় বাঁক থাকলে গাড়ীর চালক বাঁক পর্যন্ত না এলে তা দেখতে বা বুঝতে পারেন না ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। এধরনের রাস্তার বাঁকে বিশাল আকার একটি সমতল দর্পণ ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে বসিয়ে রাখা হয় এতে দর্পণের মধ্যে উল্টো দিক থেকে আসা যানবাহন দৃষ্টি গোচর হয়। ফলে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

অনেক যায়গায় রাস্তার বাঁকে বিশাল সাইজের ধাতব উত্তল দর্পণ বসান হয়। এতে বাকের কারণে দূর থেকে থেকে আগত যেসব গাড়ি, যা বরাবর তাকিয়ে দৃষ্টি গোচর হওয়া সম্ভব নয় তা দেখা যায়। ফলে মারাত্মক সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৫.
কোন যন্ত্রটি তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে?
  1. জেনারেটর
  2. মাইক্রোফোন
  3. বৈদ্যুতিক মোটর
  4. লাউডস্পিকার
ব্যাখ্যা

বৈদ্যুতিক মোটর (Electric Motor) তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- মোটরের কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে এটি ঘুরতে শুরু করে, যার ফলে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন হয়।
- এই যান্ত্রিক শক্তি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন পাখা ঘোরানো, পাম্প চালানো বা গাড়ি চালানো।

শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৬.
মহাকাশে মানুষ বহনকারী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির নাম কি?
  1. ক) স্পুটনিক-১
  2. খ) ভস্টক-১
  3. গ) ইনটেলসেট-১
  4. ঘ) ল্যান্ডসেট-১
ব্যাখ্যা

Vostok, any of a series of manned Soviet spacecraft, the initial flight of which carried the first human being into space. Launched on April 12, 1961, Vostok 1, carrying cosmonaut Yury A. Gagarin, made a single orbit of Earth before reentry.
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৭৮৭.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর কণিকার নাম কী? 
  1. প্রোটন
  2. ফোটন
  3. নিউট্রন
  4. কোয়ার্ক
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৮.
আইনস্টইনের ভর-শক্তির সমীকরণ কোনটি? 
  1. F = ma 
  2. E = m2c
  3. E = mc2
  4. W = mg
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সমীকরণ: 
- আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc2
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আমরা যে শক্তি পেয়ে থাকি তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৯.
নিচের কোনটি অন্তরক পদার্থ?
  1. ক্যাডমিয়াম সালফাইড
  2. কাঁচ
  3. পানি
  4. লোহা
ব্যাখ্যা

- যে সব বস্তুর মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধান চলাচল করতে বা পরিবাহিত হতে পারে না, তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহক বলা হয়।
কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতু, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, চীনামাটি, রেশম ইত্যাদি হলো অন্তরক পদার্থ।
- সকল ধাতু, মাটি, পানি প্রভৃতি হলো তড়িৎ পরিবাহক।
- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড প্রভৃতি হলো অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
সূত্র: মাধমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭৯০.
কোন পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে শক্তিশালী চুম্বকায়ন ঘটে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে অভিমুখী হয়?
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  3. অর্ধচৌম্বক পদার্থ
  4. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে, কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। 
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। 
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯১.
নিচের কোন প্রক্রিয়াটির জন্য তাপ বর্জন বা সরিয়ে নিতে হয়?
  1. স্ফুটন
  2. ঘনীভবন
  3. বাষ্পীভবন 
  4. গলন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) ঘনীভবন

• স্ফুটনাঙ্ক:

- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়

• ঘনীভবন: 
- তাপমাত্রা কমিয়ে কোনো বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থকে তার তরল অবস্থায় রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঘনীভবন।
- কোনো বায়বীয় পদার্থের তাপ হ্রাস করে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এলে ঐ পদার্থের ঘনীভবন শুরু হয়। ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রাটি মূলত ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
- তাপ হ্রাস করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে অপরিবর্তিত থেকে ঘনীভবন চলতে থাকে। ঘনীভবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তরলের বা বায়বীয় পদার্থের তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে।

• গলন ও গলনাঙ্ক: 
- কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
- এক বায়ু মন্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C। সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে।

• বাস্পীভবন: 
- কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।
- বাষ্পীভবন দু ভাবে সংঘটিত হয়। (১) স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন এবং (২) স্ফুটন।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯২.
কিসের সমন্বয়ে আইসি (IC) তৈরি হয়?
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) ক্যাপাসিটর
  3. গ) ডায়োড
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, ডায়োড বা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৭৯৩.
পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে মাধ্যাকর্ষণ বল-
  1. ক) অপরিবর্তিত থাকে
  2. খ) কমে যায়
  3. গ) বেশি হয়
  4. ঘ) প্রথমে কমে, পরে বাড়ে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বল।
= পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে মাধ্যাকর্ষণ বল কমে যায়। 

উৎসঃ ব্রিটানিকা, নাসা, স্পেস ওয়েবসাইট 
১,৭৯৪.
তেজস্ক্রিয়তা সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
  1. ১৮৯৬ সালে
  2. ১৯৯৬ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত স্বীয় বিচ্ছিন্নকারী প্রক্রিয়া। ১৮৯৬ খিস্টাব্দে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, ইউরেনিয়াম এবং তাদের যৌগ হতে আপনা আপনি এক প্রকার রহস্যজনক কণা এবং রশ্মি নির্গত হতে থাকে। এর পরে পিয়েরে কুরী এবং তাঁর স্ত্রী মাদাম কুরী থোরিয়ামের মধ্যে একই গুণ আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৭৯৫.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে কোনটি বেশি থাকে?
  1. ধনাত্মক আয়ন 
  2. ঋণাত্মক আয়ন 
  3. হোল 
  4. মুক্ত ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে। দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে; একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯৬.
তরল ও বায়বীয় পদার্থে কোন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়?
  1. ক) তাপ পরিবহণ
  2. খ) তাপ পরিচলন
  3. গ) তাপ বিকিরণ 
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

তরল ও বায়বীয় পদার্থে তাপ পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়ে থাকে।
যে প্রণালীতে পদার্থের উত্তপ্ত অণুগুলি নিজেরাই উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে গিয়ে তাপ সঞ্চালন করে তাকে পরিচলন বলা হয়।
যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলো তাদের নিজস্ব স্থান পরিবর্তন না করে শুধু স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু তার পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত করে সেই পদ্ধতিকে পরিবহন বলে।
তাপ পরিবহনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন।
যে পদ্ধতিতে তাপ কোন জড় মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই অথবা জড় মাধ্যম থাকলেও সেই মাধ্যমকে উত্তপ্ত না করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়, তাকে বিকিরণ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

১,৭৯৭.
“তাপ এক ধরনের শক্তি” - এই ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. ক) জেমস ওয়াটসন
  2. খ) কাউন্ট রামফোর্ড
  3. গ) লর্ড কেলভিন
  4. ঘ) অ্যান্ডার্স সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে তাপকে ভরহীন এক ধরনের তরল বলে বিবেচনা করা হতো৷
১৭৯৮ সালে কাউন্ট রামফোর্ড দেখান, তাপ এক ধরনের শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭৯৮.
দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে কোন রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. বেগুনী
  2. লাল
  3. নীল
  4. সাদা
ব্যাখ্যা
• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৯.
মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকার কারণ কী?
  1. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  2. মাটির কলসি তাপ বিকিরণ করে
  3. মাটির পাত্র ভাল তাপ পরিবাহী
  4. মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
• বাষ্পীভবন:
- বাষ্পীভবন এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা নদী, হ্রদ, জলাশয় বা সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং তা বায়ুমন্ডলের মিশে যায়।
- বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে।
- গরমের দিনে মাটির কলসীতে পানি রেখে পানি ঠান্ডা করা হয়।
- মাটির কলসীর গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে সর্বদা পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে।
- ফলে কলসীর বাইরের গাটি সবসময়ই ভেজা থাকে।
- এই পানির কণা কলসীর গা এবং সংলগ্ন বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় সুপ্ত তাপ সংগ্ৰহ করে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।
- কলসীর গা ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে, ফলে কলসীর ভেতরের পানিও ঠান্ডা হয়।
- এছাড়া বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণের নীতিকে কাজে লাগিয়ে রিফ্রিজারেটর তৈরি করা হয়।

উৎস : পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০০.
স্থায়ী চুম্বক বলতে কী বোঝায়?
  1. যে চুম্বক কেবল লোহার উপর কাজ করে
  2. যে চুম্বক তড়িৎ প্রবাহে তৈরি হয়
  3. যে চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয়
  4. যে চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না 
ব্যাখ্যা

- স্থায়ী চুম্বক এমন পদার্থ দিয়ে তৈরি যা একবার চুম্বকিত হলে তার চৌম্বক ধর্ম দীর্ঘকাল ধরে রাখে এবং বাইরের কোনো শক্তি (যেমন- তাপ, আঘাত) প্রয়োগ না করলে সহজে চুম্বকত্ব হারায় না। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির হয়। তাই চৌম্বক পদার্থের সাথে অন্য পদার্থের মিশ্রণে অথবা বিশেষ প্রক্রিয়ায় (স্পর্শ-ঘর্ষণ পদ্ধতি) স্থায়ী শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা হয়। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

তড়িৎ চুম্বক: 
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।