বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৪ / ৩৮ · ১,৩০১১,৪০০ / ৩,৭৪৭

১,৩০১.
তাড়িতচৌম্বক বিকিরণের কণাকে কী বলা হয়?
  1. ফোটন
  2. প্রোটন 
  3. ইলেকট্রন
  4. নিউট্রন 
ব্যাখ্যা

ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০২.
আকাশ নীল দেখায় কেন?
  1. নীল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে
  2. নীল সমুদ্রের প্রতিফলনের ফলে
  3. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
  4. নীল আলোর প্রতিফলন বেশি বলে
ব্যাখ্যা
• বিক্ষেপণ:
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে।
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপন বলে।
- এ আলোর বিক্ষেপন নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর।
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি।
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়।
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়।
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩০৩.
মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, কারণ সেখানে- 
  1. তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ।
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৪.
কোন বিজ্ঞানী আলোর প্রতিসরণ সম্পর্কিত 'অপটিকস' নামক গ্রন্থটি লিখেছিলেন?
  1. এরিস্টটল
  2. টলেমি
  3. ইউক্লিড
  4. লুক্রেটিয়াস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রীক ও হেলেনিক তত্ত্ব: 
- খ্রিষ্ট পূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীকরা বিশ্বাস করতেন সব বস্তু আগুন, বায়ু, মাটি ও পানি এই ৪টি মূল উপাদানে তৈরি হয়। 
- দেবী আফ্রেদিতি এই চার উপাদান দিয়ে মানুষের চোখ সৃষ্টি করেছেন। তিনি চোখের মধ্যে আগুন জ্বালান। এটি চোখ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বস্তুর উপর পড়লে বস্তু দেখা যায়, এটি সত্য হলে রাতের বেলা দেখতে না পাওয়ার কারণ নাই। 

- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে পিথাগোরাস মনে করতেন দৃশ্যমান বস্তু থেকে আলো উৎপন্ন হয়। 
- আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে ইউক্লিড অপটিকা নামে একটি বই লিখেন। তিনি সিদ্ধান্ত দেন আলো সরলরেখায় চলে। তিনি আলোর প্রতিফলনের সূত্র দেন, গাণিতিক ভাবে সূত্রটি প্রমাণ করেন। চোখ থেকে রশ্মি বেরিয়ে দেখতে সাহায্য করে এটি তিনি মেনে নিতে পারেন নাই। তিনি প্রশ্ন তোলেন তাহলে বন্ধ চোখ খুললেই আকাশের অসীম দূরের তারা দেখা যায় কিভাবে? 

- খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে এরিস্টটল বৃষ্টি কণার মধ্যে আলোর প্রতিসরণের ফলে রঙধনু সৃষ্টি হয় উল্লেখ করেন। ইউক্লিড আলোর প্রতিফলনের সূত্র এবং দর্পণের ধর্ম বর্ণনা করেন। আলোর প্রতিসরণ প্রক্রিয়া পরিমাপ করেন, কিন্তু তিনি এর গাণিতিক সূত্র জানতেন না। 

- টলেমি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে অপটিকস নামে একটি বই লিখেন, তাতে তিনি আলোর প্রতিসরণ সম্পর্কে বর্ণনা দেন। প্রথম আলোক সম্পর্কীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তথ্যাদি সংগ্রহ করেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন চোখ থেকে আলো এসে বস্তুর উপর পড়ে বলে দেখা যায়। 

- খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫ অব্দে রোমান দার্শনিক লুক্রেটিয়াস উল্লেখ করেন সূর্যের আলো এবং তাপ অতি ক্ষুদ্র পরমাণু দ্বারা গঠিত। এগুলো যখন নির্গত হয় তৎক্ষণাৎ নিমেষে মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ছুটে যায়। এটি কণা তত্ত্বের সদৃশ হলেও এই ধারণা গৃহীত হয় নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৫.
তেজস্ক্রিয়তার এস. আই. লব্ধ একক কোনটি? 
  1. ওহম 
  2. বেকেরেল
  3. কুরী
  4. রন্টজেন
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৬.
রংধনুতে কয়টি রং আছে?
  1. ক) সাতটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) নয়টি
  4. ঘ) ছয়টি
ব্যাখ্যা

- রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।
রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৭.
একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়-
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ডায়োড
  3. ক্যাপাসিটর
  4. সেমিকন্ডাক্টর
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৮.
নিচের কোনটি আলফা কণিকার বৈশিষ্ট্য?
  1. আয়নিত করার ক্ষমতা খুব কম
  2. ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
  3. ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি
  4. সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয় না
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- এর ভর 6.6×10-27 kg.
- ইহা ধণাত্বক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 C.
- এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44×10-12J পর্যন্ত হয়।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৯.
শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব কত?
  1. ৩৩ মিটার
  2. ১৭.৬ মিটার
  3. ১৬.৫ মিটার
  4. ১৫.৬ মিটার
ব্যাখ্যা
- মানুষের মস্তিষ্কে কোন শব্দের শোনার পর ০.১ সেকেন্ড এটার রেশ থাকে।
- এই সময়ের আগে প্রতিধ্বনি শুনলে মস্তিষ্ক সেটাকে মূল শব্দ থেকে আলাদা করতে পারে না।
- শব্দের বেগ ৩৩০ মি./ সেকেন্ড, সুতরাং, ০.১ সেকেন্ড এর ব্যবধান তৈরি করার জন্য শব্দকে কমপক্ষে ৩৩ মি. দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।
সুতরাং, ১৬.৫ মি. বা ১৬৫০ সে.মি. দূরত্বের কোন প্রতিফলকে শব্দ উৎস থেকে গিয়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড সময় পার হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান বই।
১,৩১০.
হিগস বোসন কণা সম্পর্কিত ভুল তথ্য কোনটি?
  1. হিগস ক্ষেত্রের কাজ মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করে।
  2. বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
  3. হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা।
  4. হিগস বোসন এর স্পিন ঋণাত্মক।
ব্যাখ্যা
বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। 
- এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। 
১। গেজ বোসন (Gauge Boson) এবং ২। হিগস বোসন (Higgs Boson) । 

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১১.
কোন বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. সোনা
  2. তামা
  3. রাবার
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১,৩১২.
কোন বাহ্যিক কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়? 
  1. চাপ 
  2. তড়িৎক্ষেত্র
  3. চৌম্বকক্ষেত্র 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৩.
দুটি রেললাইনের মিলিত স্থানে ফাঁকা রাখা হয় কেন?
  1. চলন্ত রেলগাড়ির শব্দ বাড়াতে
  2. লােহা সাশ্রয় করার জন্য
  3. চলন্ত রেলগাড়ির শব্দ কমাতে
  4. তাপীয় প্রসারণে রেল লাইনের বিকৃত রোধে
ব্যাখ্যা
রেললাইনে দুটি রেলের সংযােগস্থলে ফাঁকা থাকা: 
- সূর্যের তাপে কিংবা যখন ট্রেন চলে তখন চাকার ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে রেল লাইন প্রসারিত হয়। 
- রেললাইনের দুটি রেলের সংযােগস্থলে ফাঁকা রাখা হয়, যাতে রেললাইন প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায়। 
- এরূপ ফাঁক না রাখলে প্রসারণের ফলে লাইন বেঁকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৪.
কোন বিজ্ঞানী সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলির ঘূর্ণনগতির সূত্রাবলি নির্ধারণ করেন?
  1. ক) কেপলার
  2. খ) নিউটন
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহানস কেপলার (Johannes Kepler) সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্ৰ করে অবিরাম ঘুরছে।
এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন। তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে নামকরণ করা হয়েছে কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্র

কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্রসমূহ:
১. প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২. সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩. একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।

গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলার এর সূত্রাবলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউটন বল সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৩১৫.
তাপ প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয় কোনটি?
  1. বায়বীয় পদার্থ
  2. তরল পদার্থ
  3. কঠিন পদার্থ
  4. মিশ্র পদার্থ
ব্যাখ্যা
পদার্থ:

- তাপ প্রয়োগে করলে সব ধরনের পদার্থই প্রসারিত হয়। 
- তবে যে পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ যতো কম সে পদার্থ ততো বেশি প্রসারিত হয়। 
- কঠিন বা তরল পদার্থের তুলনায় বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম। 
- তাই তাপ প্রয়োগে বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৬.
অপটিক্যাল ফাইবারে দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করা হয় না কেন?
  1. এটি রঙ পরিবর্তন করে
  2. এটি খুব শক্তিশালী
  3. এটি সরলরেখায় যায় না
  4. এটি শোষণ বেশি করে 
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবারে দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করা হয় না, কারণ দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ফাইবারের জন্য উপযুক্ত নয় এবং অতিরিক্ত শোষণ (absorption) ও বিক্ষেপণের (scattering) কারণে এতে অনেক বেশি সংকেত ক্ষয় বা শোষণ (signal loss) হয়, যা দীর্ঘ দূরত্বে ডেটা প্রেরণে বাধা দেয়; তাই ইনফ্রারেড আলো ব্যবহৃত হয় যা কম শোষিত হয়, ফলে ডেটা অনেক দূরে পাঠানো যায়।

অপটিক্যাল ফাইবার: 

- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটি একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১৭.
একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে ঘড়িটি—
  1. ক) স্লো হবে
  2. খ) ফাস্ট হবে
  3. গ) ঠিক সময় দেবে
  4. ঘ) কোনো রকম প্রভাবিত হবে না
ব্যাখ্যা
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি
১,৩১৮.
কিসের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন?
  1. আলোর
  2. শব্দের
  3. তাপের
  4. বেতারের
ব্যাখ্যা
- অন্যান্য অপশনগুলোর তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে 'শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়' কে নেওয়া হয়েছে। 

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি। বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে আমাদের কানে প্রবেশ করে। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- যেহেতু, শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চারিত হতে পারে না, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

অন্যদিকে, 
- তাপ পরিবহন ও তাপ পরিচলনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বিকিরণের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। 
- শূন্য মাধ্যমেই আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। আলোক রশ্মি শূন্য মাধ্যম থেকে কোনো মাধ্যমে প্রবেশ করলে আলোর বেগ কমে যায়। 
- বেতার হলো তার ব্যতীত যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়। 

উৎস: সপ্তম, বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৯.
'ফেমটো' উপসর্গের মান কোনটি?
  1. 10-9
  2. 10-12
  3. 10-15
  4. 10-18
ব্যাখ্যা

• 'ফেমটো' (f) উপসর্গের মান হচ্ছে 10-15  ।  

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২০.
ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক কোনটি? 
  1. 1 H.P. = 746 W
  2. 1 H.P. = 550 W
  3. 1 H.P. = 3.6 × 106 W
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ওয়াট: 
- 1 সেকেন্ডে 1 জুল (J) কাজ করার ক্ষমতাকে 1 ওয়াট (W) বলে। 
∴ 1 W = 1 J s -1
1 কিলোওয়াট (kW) = 1000 ওয়াট (W) 
1 মেগাওয়াট (MW) = 1000 কিলোওয়াট (kW) = 106 W = 106 Hs-1

অশ্বক্ষমতা: 
- এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর পূর্বে ক্ষমতার একটি ব্যবহারিক একক ছিল অশ্বক্ষমতা। 
- ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক হলো - 
1 H.P. = 746 Watt

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১,৩২১.
"পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক" এটি সর্বপ্রথম কে বলেন?
  1. প্লেটো
  2. ওয়েবার
  3. নরম্যান
  4. গিলবার্ট
ব্যাখ্যা
চুম্বকত্ব: 
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্ম বিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং যাকে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্যাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দিকে (উত্তর -দক্ষিণে) মুখ করে থাকে, তাকেই সাধারণ ভাবে চুম্বক বলা হয়।
- যে ধর্মের জন্য একটি চুম্বক অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে সেই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌত ধর্ম। 
- কোন পদার্থকে কৃত্রিম উপায়ে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা ইত্যাদির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।
- আর যেসব বস্তু চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত (বা বিকর্ষিত) হয় অর্থাৎ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের কে চৌম্বক পদার্থ (Magnetic substance) বলা হয়। যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ।
- একটি চুম্বক শলাকাকে এর ভারকেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি সর্বদাই উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে।
- চুম্বকের এই অবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রানী এলিজাবেথের গৃহ চিকিৎসক ডঃ গিলবার্ট সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি চুম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক। 
- পৃথিবীর এ চুম্বকত্বকে ভূ-চুম্বকত্ব বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২২.
তাপমাত্রার বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. এটি অনুভব করা যায়
  2. এটি পরিমাপযোগ্য
  3. এটি এক ধরনের শক্তি
  4. এটি বল প্রয়োগে বাঁধা দেয়
ব্যাখ্যা

তাপ হলো এক প্রকার শক্তি, যার কারণে কোনো কিছুকে ঠান্ডা বা গরম হিসাবে অনুভব করা যায়। এটি এক ধরনের শক্তি- কোনো পদার্থ নয়। তাই এটি বল প্রয়োগে কোন বাঁধা প্রদান করে না।
তাপমাত্রা কোনো কিছুর তাপীয় অবস্থাকে প্রকাশ করে৷ তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।
তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য সেলসিয়াস স্কেল, ফারেনহাইট স্কেল, কেলভিন স্কেল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের স্কেল রয়েছে।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

১,৩২৩.
বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার - 
  1. সমানুপাতিক
  2. ব্যস্তানুপাতিক
  3. বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∞ √T 
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। 
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩২৪.
কোন রঙের বস্তু সকল আলো শোষণ করে নেয়?
  1. ক) সাদা রঙের
  2. খ) কালো রঙের
  3. গ) সবুজ রঙের 
  4. ঘ) লাল রঙের
ব্যাখ্যা

কালো রঙের বস্তু সকল আলো শোষণ করে নেয়। 

- কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে। তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়।
- সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়।
- যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়। যেমন - আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়। আবার, দিনের বেলা সূর্যালোকে গাছের পাতা সবুজ দেখায় কিন্তু লাল আলোতে গাছের পাতা কালো বলে মনে হয়।
- দিনে গাছের সবুজ পাতা সূর্যালোকের সবুজ বাদে সাতটি বর্ণের সবকটিই শোষণ করে ফলে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলোকে শোষণ করে নেয় বলে কোনো আলোই প্রতিফলিত হয় না তাই লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 

১,৩২৫.
কোনটি শক্তি পরিমাপের একক নয়?
  1. ক) Nm
  2. খ) Joule
  3. গ) Unit
  4. ঘ) Watt
ব্যাখ্যা
শক্তি: 
- কাজ করার সামর্থকে শক্তি বলে।
- শক্তি থাকলেই কাজ হয়। তাই কাজ  শক্তি একই জিনিস।

কাজ: কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে যদি বলের দিকে বস্তুর সরণ হয় তাহলে বল ও সরণের গুণফলকে কাজ বলে।

W = F.s

একক: 
Nm, Joule, Unit( বিদ্যুৎ শক্তি পরিমাপের একক)।

১ unit = ৩.৬ × ১০ joule

উৎস: মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।
১,৩২৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সুপ্ততাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না করে শুধু অবস্থার পরিবর্তন করে
  2. খ) সুপ্ততাপ পদার্থের আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে
  3. গ) পদার্থের অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা

আমরা জেনেছি তাপ প্রয়োগ করলে পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ে একথা সব সময় সত্য নয়। তাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলেও বরফ গলা শুরু হয়ে সম্পূর্ণ বরফ পানি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ে না, গলনাঙ্কে (0°C) স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ বরফের অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

আবার একইভাবে পানির তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে (১০০°C) পৌঁছার পর সম্পূর্ণ পানি বাষ্পে রূপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ পানির অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

যে তাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেবল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় তাকে ঐ পদার্থের অবস্থা পরিবর্তনের সুপ্ত তাপ বলে। এই সুপ্ত তাপ দুই পর্যায়ের : গলনের সুপ্ত তাপ এবং বাষ্পীভবনে সুপ্ত তাপ।

এই তাপ শক্তি পদার্থের তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না, কিন্তু আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে। এ কারণে কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বা বন্ধন শিথিল হয়ে তরলে রূপান্তরিত হয়। আবার তরল অণুগুলোর আন্তঃআণবিক বন্ধন ছিন্ন করে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। আসলে এই তাপ শক্তি বস্তুর অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয়।
এখানে কঠিন থেকে তরলে এবং তরল থেকে বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তর হয়।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৩২৭.
১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° C বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপ কত ক্যালরি?
  1. ১.০ ক্যালরি
  2. ২.৪ ক্যালরি
  3. ০.১ ক্যালরি
  4. ১০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩২৮.
ভোল্টমিটার কোন যন্ত্রের সাহায্যে বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে?
  1. অ্যামিটার
  2. থার্মোমিটার
  3. ইলেকট্রোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা
ভোল্টমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হবে, ভোল্টমিটারকে সেই দুই বিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- ভোল্টমিটারে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে যার সাহায্যে বিভব পার্থক্য পরিমাপ করা যায়। 
- এর বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি ভোল্ট এককে দাগাঙ্কিত একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হয় ভোল্টমিটারটিকে সেই দুই কিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- তড়িৎ কোষ বা অ্যামিটারের মতো ভোল্টমিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩২৯.
গতির বেগ বৃদ্ধি হলে, ঘর্ষণ বল-
  1. ক) হ্রাস পায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) শূন্য হয়
  4. ঘ) একই থাকে
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গতির বেগ কমলে ঘর্ষণ বল বাড়ে। গতির বেগ বৃদ্ধি হলে ঘর্ষণ বল কমে।
১,৩৩০.
পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯৮ নিউটন, বৃহস্পতি গ্রহে ঐ বস্তুর ভর কত হবে?
  1. ক) ৯৮ কেজি
  2. খ) ৬০৮ কেজি
  3. গ) ১০ কেজি
  4. ঘ) অনির্ণেয়
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, কোন বস্তুর ওজন = বস্তুর ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
ভর = ওজন / অভিকর্ষজ ত্বরণ
= ৯৮ / ৯.৮
= ১০ কেজি

সুতরাং, পৃথিবীতে বস্তুর ভর ১০ কেজি। 

যেহেতু বস্তুর ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাই বৃহস্পতি গ্রহেও বস্তুর ভর ১০ কেজি হবে।
১,৩৩১.
কোন যন্ত্র বা উপকরণ তাড়িতচৌম্বক আবেশের সাহায্যে কাজ করে?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ট্রানজিস্টর
  3. অ্যামপ্লিফায়ার
  4. ডায়োড
ব্যাখ্যা

• যন্ত্র বা উপকরণগুলোর মধ্যে তাড়িতচৌম্বক (ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক) আবেশের সাহায্যে কাজ করে ট্রান্সফরমার। ট্রান্সফরমার মূলত একটি যন্ত্র যা এক ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক প্রবাহকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে। এটি কাজ করে চৌম্বকীয় আবেশের উপর ভিত্তি করে। যখন প্রাথমিক কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক ধারা প্রবাহিত হয়, তখন এটি একটি পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে সেকেন্ডারি কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। ট্রান্সফরমার সাধারণত বিদ্যুৎ বিতরণ, যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ সংকোচনে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ট্রানজিস্টর, অ্যামপ্লিফায়ার এবং ডায়োড প্রধানত সেমিকন্ডাক্টর তত্ত্বের ওপর কাজ করে, তারা সরাসরি চৌম্বক আবেশের মাধ্যমে কার্যকর হয় না।

- উত্তর: ক) ট্রান্সফরমার।
 
• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

• ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।

- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে প্রদত্ত সংকেত বহির্গামীতে বিবর্ধিত করে তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে।
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩২.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি? 
  1. রেটিনা
  2. অন্ধবিন্দু
  3. আইরিশ
  4. পিউপিল
ব্যাখ্যা
রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,৩৩৩.
জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহসমূহের গতি সম্পর্কে কয়টি সূত্র প্রদান করেন?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।
যেমন-
প্রথম সূত্র:
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র:
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: 
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩৪.
আইনস্টাইন কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. জার্মানি
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• আলবার্ট আইনস্টাইন:
- আলবার্ট আইনস্টাইন ১৪ মার্চ ১৮৭৯ সালে জার্মানির উলম শহরে জন্মগ্রহন করেন।
- আপেক্ষিকতার সূত্র বা Theory of Relativity আবিষ্কার করেন।
- ভর শক্তি সম্পর্ক (E=mc2) স্থাপন করেন তিনি।
- তিনি ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৩৩৫.
4 kg ভরবিশিষ্ট একটি বস্তুর উপর 40N বল 10 sec ক্রিয়া করে । বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হলো-
  1. ক) 40kg ms-1
  2. খ) 100kg ms-1
  3. গ) 4kg ms-1
  4. ঘ) 400kg ms-1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 4 kg ভরবিশিষ্ট একটি বস্তুর উপর 40N বল 10 sec ক্রিয়া করে । বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হলো-

সমাধান:
আমরা জানি,
ত্বরণ = (শেষ বেগ - আদি বেগ)/অতিক্রান্ত সময়
⇒ a = (v - u)/t
বস্তুর ভর m হলে,
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন = mv - mu

আবার,
বল F = ma
⇒ F = m (v - u)/t
⇒ Ft = m(v - u)
⇒ m(v - u) = Ft
⇒ mv - mu = 40 × 10
= 400 Kgms-1

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩৩৬.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলোক সংকেত পরিবহনের মূলনীতি কোনটি? 
  1. অপবর্তন
  2. বিচ্ছুরণ 
  3. প্রতিসরণ
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবারে আলোক সংকেত পরিবহনের মূলনীতি হচ্ছে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন। 

 অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন-পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়, এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৩৩৭.
কোথায় সাঁতারকাটা কম আয়াসসাধ্য?
  1. সুইমিংপুল
  2. পুকুর
  3. নদী
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা
- নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে প্লবতা বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- প্লবতা প্রবাহীর ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে (সমানুপাতিক)।
- নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কিছু বেশি।
- তাই সাঁতার কাটার সময় নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানিতে বেশি উর্ধ্বমুখী বল পাওয়া যায়।
- এ কারণে নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও কালের কণ্ঠ।
১,৩৩৮.
শব্দের তীব্রতা কত উন্নীত হলে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে?
  1. ক) ১২০ ডিবি
  2. খ) ৮৫ ডিবি
  3. গ) ৭৫ ডিবি
  4. ঘ) ৪৫ ডিবি
ব্যাখ্যা
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (ডিবি)।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডিবি হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং
- মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৯.
'গোধুলীর' কারণ কী?
  1. বিক্ষেপণ
  2. প্রতিসরণ
  3. প্রতিফলন
  4. অনুরনন
ব্যাখ্যা
আলোর বিক্ষেপণ: 
- গোধূলির প্রধান কারণ হলো আলোর বিক্ষেপণ। 
- আলো কোন মাধ্যমে যাওয়ার পথে মাধ্যমের কণাগুলোর সাথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করে তাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা, পানিকণা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বেগুনী, নীল, আসমানি প্রভৃতি বর্ণের বিক্ষেপণ বেশি ঘটে। 
- আলোর বিক্ষেপণ এর ফলেই আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশের খানিকটা অংশ গাড় লাল দেখায়। 

অন্যদিকে, 
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশকালে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়ে যদি পূর্বের মাধ্যমেই ফিরে আসে তবে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে দিক পরিবর্তন করে। এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৪০.
ব্যতিচার হওয়ার শর্ত কোনটি?
  1. উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে
  2. একই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক উৎস হতে হবে
  3. তরঙ্গ দুটির বিস্তার সমান হতে হবে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ব্যতিচার (Interference):
- দুটি আলোক উৎস থেকে একই বিড়ারের এবং একই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো নির্গত হয়ে কোনো বিন্দুতে আপতিত হলে উপরিপাতনের ফলে কোথাও উজ্জ্বল এবং কোথাও অন্ধকার সৃষ্টি হয়। আলোর এই উজ্জ্বলতার হ্রাস-বৃদ্ধির ঘটনাকে ব্যতিচার বলে।
- সমদশা সম্পন্ন আলো রশ্মির উপরিপাতনের ফলে উজ্জ্বল বা চরম এবং বিপরীত দশা সম্পন্ন আলো রশ্মির উপরিপাতনের ফলে অন্ধকার বা অবম-এর সৃষ্টি হয়। এটি একটি অবস্থানিক ঘটনা।

ব্যতিচারের শর্তঃ-
১। উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে।
২। একই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক উৎস হতে হবে।
৩। তরঙ্গ দুটির বিস্তার সমান হতে হবে।
৪। তরঙ্গ উৎস দুটি খুব কাছাকাছি হতে হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪১.
উপসর্গ “ন্যানো (Nano)” দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1.  10-6
  2.  10-9
  3.  10-12
  4.  10-15
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “ন্যানো (Nano)” দ্বারা বোঝানো হয়- 10-9 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪২.
মহাকর্ষসূত্র ও ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) জোহান কেপলার
  2. খ) গ্যালিলিও গ্যালিলি
  3. গ) আইজ্যাক নিউটন
  4. ঘ) নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
আইজ্যাক নিউটন
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

নিকোলাস কোপার্নিকাস
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহানস কেপলার (১৫৭১-১৬৩০) গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি
- গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৩.
ট্রানজিস্টরে টার্মিনাল হিসেবে থাকে -
  1. ক) ইমিটার
  2. খ) বেস
  3. গ) কালেক্টর
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। যথা:
i) ইমিটার (Emitter),
ii) বেস (Base) এবং
iii) কালেক্টর (Collector)।

- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৪.
সরল ছন্দিত গতির ক্ষেত্রে ত্বরণের দিক সর্বদা কোন অভিমুখে থাকে?
  1. সরণ অভিমুখী
  2. বেগ অভিমুখী
  3. সাম্য অবস্থান অভিমুখী
  4. বাহ্যিক বলের অভিমুখী
ব্যাখ্যা

• সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থান অভিমুখী এবং এটি সরণের সমানুপাতিক।

• পর্যাবৃত্ত গতি:
- কোনো বস্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
- পর্যাবৃত্ত গতি দুই ধরনের, ঘূর্ণন গতি, স্পন্দন গতি।

• পর্যায়কাল:
- পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।

• স্পন্দন গতি:
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় এক নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে ঐ গতিকে স্পন্দন গতি বা ছন্দিত গতি বলে।

• সরল ছন্দিত গতি:
- পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি যদি সরল রৈখিক হয় তবে তাকে সরল ছন্দিত গতি বলে।
- এ গতিতে ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক।
- ত্বরণের দিক সর্বদা সাম্য অবস্থান অভিমুখী।

• তরঙ্গ:
- জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না তাকে তরঙ্গ বলে।

• যান্ত্রিক তরঙ্গ ও তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ:
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে।
- মাধ্যম ছাড়াও যে বিশেষ ধরনের তরঙ্গ সঞ্চারিত হয় তাকে তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪৫.
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে- 
  1. ট্রানজিস্টর
  2. রেকটিফায়ার
  3. অ্যামপ্লিফায়ার
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে। 
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে। 
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না। 
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৬.
নিচের কোনটির উপর ভিত্তি করে থার্মোকাপল তৈরি হয়েছে?
  1. Seebeck effect
  2. Faraday’s law
  3. Lenz law
  4. Gauss law
ব্যাখ্যা
- থার্মোকাপলে দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- যদিও অধিকাংশক্ষেত্রে তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি করা হয়।
- থার্মোকাপল Seebeck effect এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি, sciencedirect.com।
১,৩৪৭.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. বেগ
  2. ত্বরণ
  3. মন্দন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
• দিকের বিবেচনায় রাশিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: সদিক রাশি বা ভেক্টর রাশি এবং নির্দিক রাশি বা স্কেলার রাশি।

ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
- যেমন: সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।
- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।

স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
- যেমন: দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি।
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৮.
তরঙ্গের উপরে অবস্থিত পর পর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার দূরত্বকে কী বলে? 
  1. তরঙ্গমুখ
  2. কম্পাঙ্ক
  3. বিস্তার
  4. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
তরঙ্গমুখ: 
- পানির মধ্যে আন্দোলন সৃষ্টি করে তরঙ্গ উৎপন্ন হলে তরঙ্গ বৃত্তের আকারে পানির উপর বিস্তৃত হয়। 
- একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বৃত্তের উপরস্থ পানি কণাগুলাে একবার উপরে উঠছে ও একবার নিচে নামছে বা তরঙ্গচূড়া (crest) ও তরঙ্গখাজ (trough) উৎপন্ন হচ্ছে। 
- তরঙ্গচূড়ায় অবস্থিত সকল কণার দশা একই আবার তেমনি তরঙ্গখাজে অবস্থিত সকল কণার দশা সমান। 
অর্থাৎ, কোনাে তরঙ্গের উপর অবস্থিত সমদশা সম্পন্ন কণাগুলাের গতিপথ (locus)-কে তরঙ্গমুখ বলে। 

তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কোনো কম্পনশীল কণার বা তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার একটি কম্পন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে
তাকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। 
তরঙ্গের উপরে অবস্থিত পর পর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার দূরত্বই তরঙ্গদৈর্ঘ্য। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা একক সময়ে যতগুলো পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে তাকে ঐ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f বলে। 
- কোনো কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক f = N/t . 
- কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা স্থির বা সাম্যাবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
১,৩৪৯.
সাধারণ বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চাপে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কত সে.মি? 
  1. ৭.৬ সে.মি.
  2. ৭৬.০ সে.মি.
  3. ০.৭৬ সে.মি.
  4. ০.০৭৬ সে.মি.
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের চাপের পরিবর্তন ও আবহাওয়া: 
- নলের মধ্যে এই পারদ স্তম্ভের দাঁড়িয়ে থাকার কারণ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টত বুঝা যায়, বাটির উন্মুক্ত পারদ তলের উপর সম্পূর্ণ বায়ুমণ্ডল যে চাপ প্রয়োগ করছে সেই চাপ পারদের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে নলের ভিতরে ঊর্ধমুখে ক্রিয়া করে। এই ঊর্ধমুখী চাপ না থাকলে অভিকর্ষজ ত্বরণের জন্য বা পারদের ওজনের জন্য নলের ভিতরের পারদ নিচে নেমে আসতো। 
- সুতরাং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নলের মধ্যকার পারদ স্তম্ভের চাপের সমান। 
- সাধারণ বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চাপের ক্ষেত্রে পারদ স্তম্ভের এই উচ্চতা ৭৬ সে.মি.। 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। 
- এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 

- বায়ু চাপ পরিমাপের এই যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। 
- এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫০.
এক্সরে রশ্মির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এক্সরে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
  2. এক্সরে আলোর সমবেগে গমন করে।
  3. এক্সরে আলোর তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শন করে।
  4. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
ব্যাখ্যা
এক্সরে রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
১. এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২. এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। 
৩. এক্সরে তড়িৎচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪. এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫. এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬. আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন ঘটে ।
৭. এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শন করে।
৮. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
৯. এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১০. এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১১. এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫১.
p-n জাংশন এর অপর নাম কী?
  1. অর্ধপরিবাহী
  2. অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. ট্রায়োড
ব্যাখ্যা
• p-n জাংশন এর অপর নাম হলো অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার। 

• অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার:

- অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার হলো এমন একটি p-n জাংশন ভিত্তিক ডিভাইস, যা AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current)-তে রূপান্তর করে। এটি মূলত একটি অর্ধপরিবাহী ডায়োড।

• p-n জাংশন হলো একটি অর্ধপরিবাহী উপাদান যেখানে p-টাইপ এবং n-টাইপ উপাদান একসাথে যুক্ত থাকে।
- এটি একমুখী বৈদ্যুতিক প্রবাহে সহায়তা করে, অর্থাৎ এটি একদিকে বিদ্যুৎ যেতে দেয়, আরেকদিকে দেয় না।
- এই বৈশিষ্ট্যটির জন্য p-n জাংশনকে রেকটিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে ডায়োড আকারে। তাই এর অপর নাম অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার।

• বৈশিষ্ট্য:
→ একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ:
- বিদ্যুৎ কেবল একদিকে প্রবাহিত হতে পারে (Forward Bias)। 
- বিপরীত দিকে বাধা দেয় (Reverse Bias)। 
→ গঠন:
- একটি p-টাইপ ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহী পদার্থ
→ কাজের ধরন:
- এসি → ডিসি রূপান্তর 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,৩৫২.
ডায়োড কোন ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়? 
  1. দুটি ধাতু 
  2. দুটি ইনসুলেটর 
  3. শুধুমাত্র n টাইপ অর্ধপরিবাহী 
  4. একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৫৩.
গ্রীষ্মকালে কোন রঙের জামা আরামদায়ক?
  1. ক) নীল
  2. খ) লাল
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) কালো
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১,৩৫৪.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ মানবদেহে কোন রোগের কারণ হতে পারে?
  1. ক্যান্সার
  2. অ্যানিমিয়া
  3. যক্ষ্মা 
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন- রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৩৫৫.
সালোকসংশ্লেষণে শক্তির কোন ধরনের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) আলোক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. গ) আলোক শক্তি বিপাকীয় শক্তিতে
  4. ঘ) আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা

সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে যে এরা সূর্যালােকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলােকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৩৫৬.
বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরানোর ক্ষেত্রে কীরূপে শক্তির রূপান্তর হয়?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে
  3. বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৭.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের গতিবেগ কত মিটার/সেকেন্ড?
  1. ক) ৩৩২
  2. খ) ০
  3. গ) ২৮০
  4. ঘ) ১১২০
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল।
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব।

শব্দের বেগ: 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 m/s।
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 m/s পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। যেমন বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 m/s, পানি মাধ্যমে 1450m/s এবং লোহার মধ্যে 5220 m/s।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

উল্লেখ্য, মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৮.
পৃথিবী ও অন্য যেকোনো বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে কী বলে?
  1. অভিকর্ষ 
  2. মধ্যাকর্ষণ
  3. গতি
  4. ক +খ
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ (Gravitation & Gravity):
- এই মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- মহাবিশ্বের যে কোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে তাকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।
- অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
- অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
- মাধ্যাকর্ষণ বল বা অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না।
- পৃথিবীর কেন্দ্রীয় আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৫৯.
পরমশূন্য তাপমাত্রার মান কোনটি?
  1. -২৭৩° সেলসিয়াস
  2. -৪৯৫.৪° ফারেনহাইট
  3. ০ কেলভিন
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
স্থির চাপে একটি নির্দিষ্ট ভরের আদর্শ গ্যাসের তাপমাত্রা ক্রমাগত কমাতে থাকলে যে তাপমাত্রায় পৌছালে তার আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলা হয়।
পরমশূন্য তাপমাত্রার মান -২৭৩° সেলসিয়াস, -৪৯৫.৪° ফারেনহাইট বা ০ কেলভিন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৬০.
ফোটন কণার শক্তি কোন সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. E = mc2
  2. P = mv 
  3. F = ma
  4. E = hf
ব্যাখ্যা

- ফোটন কণার শক্তি E = hf সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। 

ফোটন কণা: 

- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬১.
কোনো পরিবাহীর রোধ নির্ভর করে তার-
  1. উপাদানের উপর
  2. তাপমাত্রার উপর
  3. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. P ∝ T
  2. V ∝ T
  3. PV = K
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) উপরের সবগুলো

• চার্লসের সূত্র:

- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
গাণিতিকভাবে, V ∝ T.

• বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, PV = K.

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

১,৩৬৩.
টিয়ার শেলে প্রাথমিকভাবে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. CS
  2. CO2
  3. O2
  4. NO2
ব্যাখ্যা
• টিয়ারশেল:
- টিয়ারশেলে ব্যবহৃত গ্যাস হলো টিয়ার গ্যাস, যা সাধারণত মানবিক চোখ, নাক, এবং গলার উপর প্রভাব ফেলে।
- এটি সাধারণত ব্যবহৃত হয় প্রতিবাদ বা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
- টিয়ার শেলে প্রাথমিকভাবে CS গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

• টিয়ার গ্যাসের প্রধান উপাদানগুলো হলো:
- ক্রোমোয়েকটিক এসিড (CS গ্যাস): এটি সবচেয়ে সাধারণভাবে ব্যবহৃত টিয়ার গ্যাস। এটি চোখে জ্বালাপোড়া, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে।
- রাইসিন (CN গ্যাস): এটি পুরনো ধরনের টিয়ার গ্যাস এবং আধুনিক ব্যবহার কম।
- ব্রোমো আ্যাসেটিক এসিড (CA গ্যাস): এটি কম ব্যবহৃত, কিন্তু এর প্রভাবও তীব্র।

- এগুলোর প্রতিটি গ্যাসের প্রভাব আলাদা হতে পারে, তবে সাধারণভাবে, টিয়ার গ্যাসের উপসর্গগুলো হলো চোখে অস্বস্তি, কাশি, এবং শ্বাসকষ্ট।
- যদিও এটি একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, টিয়ার গ্যাসের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সূত্র: National Library of Medicine [লিংক]
১,৩৬৪.
সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সিদা
  4. ব্রোঞ্জ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে তামা

পরিবাহী: 

- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের। 
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত
১,৩৬৫.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না? 
  1. খনিজ তেল 
  2. সৌর শক্তি 
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়োগ্যাস 
ব্যাখ্যা

- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না, কারণ এটি অনবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৬৬.
সিলিকনের সাথে কোন পদার্থ যোগ করলে তা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়?
  1. গ্যালিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. বোরন
  4. এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
ডোপিং:
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

• P- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম

• n-টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৬৭.
নিচের কোনটি দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়?
  1. তাপ
  2. তড়িৎ ক্ষেত্র
  3. চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

◉ তেজস্ক্রিয়তা মূলত একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া, যা মৌলিক কণার অবক্ষয়ের মাধ্যমে ঘটে এবং এটি বাইরের পরিবেশগত পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

তেজস্ক্রিয়তা:
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা-
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়-
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪ । তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬৮.
কোন প্রক্রিয়াতে ভারী পরমাণুর বিভাজন ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করা যায়?
  1. তাপ বিক্রিয়া
  2. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  3.  নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4.  নিউক্লিয়ার ফিশন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুইটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। 
যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খণ্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। 
- প্রকৃতি এই শক্তি ব্যবহার করছে। 
- সূর্যে এই বিক্রিয়াটি স্বচ্ছন্দে ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬৯.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে তাকে কী বলে?
  1. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  2. স্টিম বিন্দু
  3. পানির ত্রৈধ বিন্দু
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭০.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. ইরিডিয়াম
  2. আয়োডিন
  3. ফসফরাস
  4. বেকেরেল
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১,৩৭১.
যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, ভরবেগের পরিবর্তনের মান কত হবে?
  1. অসীম
  2. ধ্রুব
  3. শূন্য
  4. উপরের যে কোনোটি হতে পারে 
ব্যাখ্যা

• যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সিস্টেমটি নিউটনের দ্বিতীয় আইন অনুসারে অভ্যন্তরীণ বলের মাধ্যমে ভরবেগের পরিবর্তন করতে পারে না। ভরবেগের পরিবর্তন একটি বস্তুতে বাহ্যিক বলের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে, এবং বাহ্যিক বল শূন্য হলে ভরবেগের মান অপরিবর্তিত থাকে। তাই কোনো বাহ্যিক বল না থাকলে ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) শূন্য। এটি লিনিয়ার মোমেন্টাম সংরক্ষণ নীতির সরাসরি ফল।

• ভরবেগের পরিবর্তন (Change in Momentum):
- ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর ভরের সাথে তার গতিবেগের গুণফল।
- ভরবেগের পরিবর্তন ঘটে তখন, যখন কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হয়।
- যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, বস্তুর ভরবেগ অপরিবর্তিত থাকে।
- এর মানে হলো ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হলে ভরবেগ বাড়তে বা কমতে পারে, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে কোন বাহ্যিক বল প্রয়োগ নেই।  

• ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর অমর গ্রন্থ "ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা" তে বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতি সূত্র নামে পরিচিত। 

নিউটনের সূত্র তিনটি। যথা:

প্রথম সূত্র:
- বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।

দ্বিতীয় সূত্র:
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।

তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।  

১,৩৭২.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত?
  1. ক) 0 km/s
  2. খ) 3 × 108 km/s
  3. গ) 3 × 105 km/s
  4. ঘ) 332 km/s
ব্যাখ্যা
আলোক:  
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায়  3 × 108 m/s বা 3 × 105 km/s.
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৭৩.
যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার-
  1. প্রতিসরণ তত কম
  2. বিচ্যুতি তত কম
  3. বিক্ষেপণ তত কম
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৪.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন?
  1. ক) রোমার
  2. খ) গ্যালিলীও
  3. গ) কেপলার
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা
১৬৭৫ সালে ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ রোমার সর্বপ্রথম পরীক্ষার সাহায্যে আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন এবং প্রমাণ করেন যে, আলোর দ্রুতি অসীম নয়। আলোর নির্দিষ্ট দ্রুতি আছে।
পরবর্তীকালে আরো অনেক বিজ্ঞানী আলোর দ্রুতি নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
রোমার নভো পদ্ধতিতে আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন। 

উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৫.
ক্যালরিমিতির মূলনীতি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. ভরের সংরক্ষণ
  2. শক্তির সংরক্ষণ
  3. তাপমাত্রার সংরক্ষণ
  4. আয়তনের সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি শক্তির সংরক্ষণ নীতির উপর ভিত্তি করে, যেখানে তাপ আদান–প্রদানের সময় শক্তি নষ্ট হয় না, কেবল এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয়।

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি (Fundamental Principles of Calorimetry):
- শীতকালে গোসলের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গরম পানির সঙ্গে ঠান্ডা পানি মেশালে কিছু সময় পর উভয় পানি একই তাপমাত্রায় পৌঁছে যায়।
- গরম পানি ঠান্ডা পানিকে তাপ প্রদান করে, ফলে গরম পানির তাপমাত্রা কমে এবং ঠান্ডা পানির তাপমাত্রা বাড়ে।
- এই তাপ আদান–প্রদানের ফলে একটি সমতাবস্থার তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
- এই ঘটনাই ক্যালোরিমিতির মূল ধারণার ভিত্তি।
 
• ক্যালরিমিতির মূলনীতি:
- তাপ আদান–প্রদানের সময় একটি বন্ধ সিস্টেমে—
- উষ্ণ বস্তুর ত্যাগকৃত তাপ = শীতল বস্তুর গৃহীত তাপ।
 
• মূল শর্তসমূহ:
- বেশি তাপমাত্রার বস্তু কম তাপমাত্রার বস্তুকে তাপ দিতে পারে, কিন্তু উল্টোটি সম্ভব নয়।
- উষ্ণ বস্তু যতটুকু তাপ ত্যাগ করে, শীতল বস্তু ঠিক ততটুকু তাপ গ্রহণ করে।
- এই প্রক্রিয়ায় সিস্টেমের বাইরে কোনো তাপ ক্ষয় বা গ্রহণ হয় না বলে ধরা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

• Other Options:
ক) ভরের সংরক্ষণ
→ এটি ভরের পরিবর্তন সম্পর্কিত।

গ) তাপমাত্রার সংরক্ষণ
→ তাপমাত্রা সংরক্ষিত থাকে না; বরং পরিবর্তিত হয়ে সমতাবস্থায় পৌঁছে।

ঘ) আয়তনের সংরক্ষণ
→ এটি জ্যামিতিক ধারণা।

১,৩৭৬.
কোনটির সাহায্যে কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়? 
  1. কাজ 
  2. চাপ 
  3. ক্ষমতা 
  4. কর্মদক্ষতা 
ব্যাখ্যা

কর্মদক্ষতা: 
- কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়।
সুতরাং, কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা
= {(E1 - E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৭৭.
১ মেগাওয়াট সমান কত ওয়াট? 
  1. ১০ ওয়াট
  2. ১০ ওয়াট
  3. ১০ ওয়াট
  4. ১০ ওয়াট
ব্যাখ্যা

কিলোওয়াট: 
- কোনো রোধ বা তড়িৎ যন্ত্রের দুই পাশের বিভব পার্থক্য এক ভোল্ট হলে যদি এর মধ্য দিয়ে এক অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা এক ওয়াট। 
• এক ওয়াট = ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার 
- যখন অনেক বেশি তড়িৎ ক্ষমতা ব্যবহৃত হয় তখন সেটাকে কিলোওয়াট বা মেগাওয়াটে প্রকাশ করা সুবিধাজনক। 
• ১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট বা ১০ ওয়াট। 
১ মেগা ওয়াট = ১০ ওয়াট। 

কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন- বাতি জ্বললে আলোক শক্তি বা পাখা ঘোরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
• ১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষপে ইউনিট বলে। 
- বিদ্যুৎ বিল কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককেই হিসাব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭৮.
নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় কোনটি মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  3. গ) ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  4. ঘ) ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
মডারেটর (Moderator)
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হল:
(ক) ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং
(খ) গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৯.
১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘণ্টা চললে কত শক্তি ব্যয় হয়?
  1. ১০০ জুল
  2. ৬০ জুল
  3. ৬০০০ জুল
  4. ৩৬০০০০ জুল
ব্যাখ্যা
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনাে তড়িৎ যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন বাতি জ্বললে আলােক শক্তি বা পাখা ঘুরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ ঘণ্টা
অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলােওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়।

এক কিলােওয়াট ঘণ্টা কতটুকু শক্তি সেটাও বের করা যায়।
১ কিলােওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ জুল
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল।

অর্থাৎ,
১০০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘণ্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = ৩,৬০,০০০০ জুল
∴ ১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘণ্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = (৩,৬০,০০০০ × ১০০)/১০০০ জুল
= ৩৬০,০০০ জুল 

আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলােওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বাের্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলে। আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশােধ করি তা এই এককেই হিসাব করা হয়।

উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই।
১,৩৮০.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ডায়নামো
  4. ভোল্ট মিটার
ব্যাখ্যা

• ডায়নামো যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
- যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্রকে ডায়নামো বলা হয়। ডায়নামো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা চৌম্বকীয় প্রভাবে কাজ করে। এর মূল অংশ হলো একটি রোটর বা ঘূর্ণনশীল কুণ্ডলী, যা হাত, ইঞ্জিন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক উৎস দ্বারা ঘূর্ণিত করা হয়। যখন কুণ্ডলী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘোরে, তখন চৌম্বকীয় প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এইভাবে যান্ত্রিক শক্তি সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক মোটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফর্মার এবং ভোল্টমিটার শক্তি রূপান্তরের জন্য নয়, বরং বিদ্যুৎ প্রয়োগ ও পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) ডায়নামো।

• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় তাকে জেনারেটর বা ডায়নামো বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।
- ডায়নামো দু-প্রকার। যথা:
১. পরিবর্তী প্রবাহ ডায়নামো বা এ.সি. ডায়নামো এবং
২. একমূখী প্রবাহ ডায়নামো বা ডি. সি. ডায়নামো।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

• ভোল্ট মিটার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয় তাকে ভোল্টমিটার বলে।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৩৮১.
নিম্নের কোন মৌলটি ডোপিং এর জন্য ব্যবহৃত হয় ?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) লিথিয়াম
  3. গ) আর্সেনিক
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮২.
বৈদ্যুতিক শক্তি কোন যন্ত্রে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. এলইডি
  2. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  3. টিউবলাইট 
  4. বৈদ্যুতিক পাখা 
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে তার ভেতরে থাকা মোটরের সাহায্যে ঘোরে। এই ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মূলত বৈদ্যুতিক মোটরই হলো সেই যন্ত্র যা এই রূপান্তরটি ঘটায়। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। (যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮৩.
নিচের কোন গ্যাসের Breakdown strength (at atmospheric pressure) সবচেয়ে বেশি?
  1. Air
  2. SF6
  3. Nitrogen
  4. Oxygen
ব্যাখ্যা
SF6 গ্যাসের Breakdown strength (at atmospheric pressure) সবচেয়ে বেশি

এর বৈশিষ্ট্য: 
- Insulation
- Arc Quenching
- Dielectric Properties
- Chemical Stability
১,৩৮৪.
পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথর বা ইটের যে আকর্ষণ তাকে বলা হয় -
  1. মহাকর্ষ বল
  2. স্থিতিস্থাপকতা
  3. পীড়ন
  4. অভিকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা এক টুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৮৫.
একটি 6- pole ল্যাপ- উন্ড জেনারেটর -এ 300 কন্ডাক্টর আছে। প্রতি কন্ডাক্টরে 5V emf Induced হয়। জেনারেটরে জেনারেটেড ভোল্টেজ হবে- 
  1. 60 v
  2. 1500 v
  3. 360 v
  4. 250 v
ব্যাখ্যা
দেয়া আছে, 
number of poles (P) = 6
Number of conductors (Z) = 300
Emf induced per conductor = 5 V
Number of conductors per parallel path = Z/A = Z/P = 300/6 = 50

∴ Total emf = 50 × 5 = 250 V
১,৩৮৬.
কোনটির সাহায্যে কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়?
  1. চাপ
  2. ক্ষমতা
  3. কাজ
  4. কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 

∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1-E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৭.
Hook's law holds good up to-
  1. ক) Elastic limit
  2. খ) Breaking point
  3. গ) Plastic limit
  4. ঘ) Yeild Point
ব্যাখ্যা
হুকের সূত্র: স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে কোনো বস্তুর পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক। 

অর্থাৎ
পীড়ন ∝ বিকৃতি

স্থিতিস্থাপক সীমা: সর্বোচ্চ যে পরিমান বল প্রয়োগ করে অপসারণ করলে বস্তুটি পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে তাকেই স্থিতিস্থাপক সীমা বলে। স্থিতিস্থাপক সীমার বেশি বল প্রয়োগ করলে বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায় বা বস্তুটি ছিড়ে বা ভেঙ্গে যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই, ড. শাহজাহান তপন।
১,৩৮৮.
পোটেনশিওমিটার দিয়ে নিচের কোনটি পরিমাপ করা যায়? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. উচ্চ মানের রোধ
  3. উচ্চ তড়িৎ প্রবাহ
  4. বিভব পার্থক্য
ব্যাখ্যা
মিটার ব্রীজ (Meter Bridge): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের তারের অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে মিটার ব্রীজ বলা হয়। 
- হুইটস্টোন ব্রীজ নীতি প্রয়োগ করে মিটার ব্রীজ তৈরী করা হয়। 
- পরীক্ষাগারে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ নির্ণয় করার জন্য মিটার ব্রীজ ব্যবহার করা হয়। 

পোস্ট অফিস বক্স (Post Office Box): 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে পোষ্ট অফিসে টেলিগ্রাফের তারের রোধ নির্ণয় করা হতো বলে এটি পোষ্ট অফিস বক্স নামে পরিচিত। 

পোটেনশিওমিটার (Potentiometer): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বিভবপতন পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্য ও বিদ্যুৎচালক শক্তি সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায়, তাকে পোটেনশিওমিটার বলা হয়। 
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে স্বল্প মানের তড়িৎপ্রবাহ ও নিম্নমানের রোধ মাপা সম্ভব হয়। 

অ্যামমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে অ্যামমিটার বলা হয়। 
- অ্যামমিটারের সাথে অতিরিক্ত শান্ট ব্যবহার করে এর পাল্লা বৃদ্ধি করা যায়। 

ভোল্টমিটার: 
- যেকোনো দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৯.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কোন তত্ত্বের মধ্য দিয়ে?
  1. ক) প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. খ) আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  3. গ) আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. ঘ) হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে দুটি তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানের জগৎকে কাপিয়ে দেয়। এগুলাে হলাে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক প্রদত্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ১৯০৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রদত্ত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
দুটি ধারণাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। কয়েক দশকের সাধনায় এই তত্ত্বগুলাে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থের পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন, বিকাশ ও তত্ত্বকে প্রেরণা জোগায়।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা তাই ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালাে বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে আরেকটি বিপ্লব আনেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব ও আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন
১,৩৯০.
স্টপ ওয়াচের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সময়ে খরচ কমানো
  2. সময়ের গতি বৃদ্ধি করা
  3. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা
  4. একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থেকে সময় পরিমাপ করা
ব্যাখ্যা
থামা ঘড়ি (Stop Watch): 
- সময়কাল মাপার জন্য স্টপ ওয়াচ ব্যবহার করা হয়। 
- একসময় নিখুঁত স্টপ ওয়াচ অনেক মূল্যবান সামগ্রীথাকলেও ইলেকট্রনিকসের অগ্রগতির কারণে খুব অল্প দামের মোবাইল টেলিফোনেও আজকাল অনেক সূক্ষ্ম স্টপ ওয়াচ পাওয়া যায়। 
- স্টপ ওয়াচে যেকোনো একটি মুহূর্ত থেকে সময় মাপা শুরু করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সময় মাপা বন্ধ করে কতখানি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সেটি বের করে ফেলা যায়। 
- স্টপ ওয়াচ যত সূক্ষ্মভাবে সময় মাপতে পারে, হাত দিয়ে কখনোই তত সূক্ষ্ম সময়ে বের করতে পারা যায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯১.
মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল কত?
  1. ০.১ মিলি সেকেন্ড
  2. ১০ সেকেন্ড
  3. ১০০ মিলি সেকেন্ড
  4. ০.০০১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল ০.১ সেকেন্ড। 

• শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল:
- মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of Hearing) হল সেই সময়কাল যখন শব্দের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও সেই শব্দের রেশ মস্তিষ্কে থেকে যায়।
- এই সময়সীমা প্রায় ০.১ সেকেন্ড (100 মিলিসেকেন্ড)।

• যদি দুটি শব্দ ০.১ সেকেন্ডের মধ্যে আসে, তবে আমরা সেটিকে একটি শব্দ হিসেবেই শুনি। 
• দুইটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুইটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান দরকার। 
• কোনো শব্দ যদি প্রতিফলিত হয়ে ০.১ সেকেন্ডের পরে আমাদের কানে ফিরে আসে, তবেই আমরা আলাদা প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।
•  প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক পৃষ্ঠ কমপক্ষে ১৬.৫ মিটার দূরে থাকা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৩৯২.
যে কোনো আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেডের তীব্রতা সাধারণত কত ডেসিবেল হয়ে থাকে?
  1. 210 dB
  2. 250 dB
  3. 170 dB
  4. 100 dB
ব্যাখ্যা
• শব্দদূষণ (Sound Pollution):
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে - ডেসিবল (dB)।

- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল (dB) হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল (dB) শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং মাত্রা ১২০ডেসিবল (dB) হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।

- শব্দ দূষণের কারণ হলো - বাস, ট্রাক, ট্রেন ও লঞ্চের হর্ণ, রেডিও, ক্যাসেট, টেলিভিশন ও মাইক উচ্চ শব্দে বাজানো।
- এছাড়া সাইরেন ও যুদ্ধসামগ্রীর শব্দ, বোমার বিস্ফোরণ, মেঘের গর্জন প্রভৃতি শব্দ দূষণের উৎস।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) - এর মতে সাধারণত ৬০ ডেসিবেল (dB) শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল (dB) শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
- সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

• শব্দের তীব্রতা:
- শব্দের তীব্রতা বলতে শব্দতরঙ্গ যে দিকে সঞ্চারিত হচ্ছে, তার সাথে লম্বভাবে প্রতি একক সময়ে প্রতি একক ক্ষেত্রফল এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শক্তির পরিমাণকে বোঝায়।

- যে কোনো আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেডের তীব্রতা সাধারণত ১৭০ ডেসিবেল হয়ে থাকে।
- কারখানার কোলাহলের শব্দের তীব্রতা : ৮০ ডেসিবেল।
- স্বাভাবিক কথাবার্তার শব্দের তীব্রতা: ৬০ ডেসিবেল।
- হাটবাজারের শব্দের তীব্রতা: ৭০ ডেসিবেল।
- মাইকে ব্যান্ড সংগীতের শব্দের তীব্রতা: ১২০ ডেসিবেল।

উৎস:
১) পদার্থ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) La Salle University [লিংক]
১,৩৯৩.
তড়িৎ ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
  2. মোট ব্যবহৃত তড়িৎ শক্তির পরিমাণ
  3. তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ
  4. তড়িৎ বিভবের পরিমাণ
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ ক্ষমতা দ্বারা বোঝায় কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র একক সময়ে কত তড়িৎ শক্তি ব্যবহার বা রূপান্তর করে।

• তড়িৎ ক্ষমতা (Electric Power):
- তড়িৎ ক্ষমতা বলতে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত বা রূপান্তরিত তড়িৎ শক্তির পরিমাণকে বোঝায়।
- কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র যত বেশি তড়িৎ শক্তি অল্প সময়ে ব্যবহার করে, তার তড়িৎ ক্ষমতা তত বেশি হয়।
- তড়িৎ ক্ষমতা দ্বারা বোঝা যায় কোনো যন্ত্র কত দ্রুত তড়িৎ শক্তিকে আলো, তাপ বা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
- বৈদ্যুতিক বাতি, হিটার, ফ্যান, মোটর ইত্যাদি যন্ত্রের গায়ে তাদের তড়িৎ ক্ষমতার মান লেখা থাকে।
- বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারের প্রচলিত একক হলো কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)।
- কিলোওয়াট-ঘণ্টা একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলা হয়।
- বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ বিল গণনায় এই kWh (ইউনিট) এককই ব্যবহার করা হয়।
- বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণে সরাসরি তড়িৎ ক্ষমতা নয়, বরং যন্ত্র কত সময় ধরে কত ক্ষমতায় ব্যবহৃত হয়েছে—তা বিবেচনা করা হয়।
- তড়িৎ ক্ষমতা যত বেশি হবে, নির্দিষ্ট সময়ে তড়িৎ শক্তি ব্যবহারের পরিমাণও তত বেশি হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৩৯৪.
কোনো বর্তনীর দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব-প্রভেদ মাপা হয় কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
  1. ক) ভোল্টমিটার
  2. খ) গ্যালভানোমিটার
  3. গ) অ্যামিটার
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অ্যামিটারের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎপ্রবাহের মান নির্ণয় করা হয়। ভোল্টমিটারের সাহায্যে কোনো বর্তনীর দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব-প্রভেদ মাপা হয়। অ্যামিটারের স্কেল অ্যাম্পিয়ারে এবং ভোল্টমিটারের স্কেল ভোল্টে অংশাঙ্কিত করা থাকে।
(উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান আলোকে)
১,৩৯৫.
নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের-
  1. বর্গের সমানুপাতিক
  2. সমানুপাতিক
  3. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
  4. ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
• কুলম্বের সূত্র:
- দুটি বিন্দু আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল সম্পর্কে বিজ্ঞানী কুলম্ব একটি সূত্র বিবৃত করেন। একে কুলম্বের সূত্র বলে।
সূত্র :
- নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান আধানদ্বয়ের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল আধানদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

- দুটি আধানের পরিমাণ যথাক্রমে q1 ও q2 ও এবং মধ্যবর্তী দূরত্ব d। 
- এদের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলকে স্থির তড়িৎ বল বা কুলম্ব বল বলে এবং এ বলের মান F হলে, কুলম্বের সূত্রানুসারে,

∴ F α q1q2/d2

∴ F = C q1q2/d2
এখানে C একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক যার মান রাশিগুলোর একক এবং বিন্দু আধানদ্বয়ের মধ্যবর্তী মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এ ধ্রুবককে অনেক সময় কুলম্ব ধ্রুবক বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৯৬.
অপসারী লেন্স এর অপর নাম-
  1. উত্তল লেন্স
  2. অভিসারী লেন্স
  3. অবতল লেন্স
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দিয়ে সীমাবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
- অধিকাংশ লেন্স কাচের তৈরি হয়।
- তবে কোয়ার্টজ এবং প্লাস্টিক দিয়েও আজকাল লেন্স তৈরি হয় এবং এদের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
- লেন্স সাধারণত দুই ধরনের,
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex lens)
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave lens)

উত্তল বা অভিসারী লেন্স : 
উত্তল লেন্সে আলোক রশ্মিসমূহ অভিসারী বা এক বিন্দুতে মিলিত হয়। 

অবতল বা অপসারী লেন্স:
অবতল লেন্সে আলোক রশ্মিসমূহ অপসারী অর্থাৎ পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
১,৩৯৭.
ট্রানজিস্টরের উপযোগিতা নয় কোনটি?
  1. আকার খুব ছোট
  2. যান্ত্রিক কম্পন সহ্য করতে পারে
  3. খুব সামান্য বিভবে কাজ করে
  4. বিশাল পরিমাণে উৎপাদন শক্তি দেয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ট্রানজিস্টরের উপযোগিতা হলো- আকার খুব ছোট, খুব সামান্য বিভবে কাজ করে, এর ক্রিয়া তাৎক্ষণিক, এটি দীর্ঘস্থায়ী ও সস্তা এবং যান্ত্রিক কম্পন সহ্য করতে পারে।
ট্রানজিস্টরের অসুবিধা হলো- এটি উষ্ণতার খুব সুগ্রাহী এবং এটি খুব কম উৎপাদন শক্তি দেয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৯৮.
পানির অণু কী ধরনের চুম্বকীয় প্রকৃতি প্রদর্শন করে?
  1. ডায়াচুম্বক
  2. অ্যান্টিফেরােচুম্বক
  3. ফেরােচুম্বক
  4. প্যারাচুম্বক
ব্যাখ্যা

• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
- অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯৯.
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. ফটোতড়িৎ ক্রিয়া
  2. সমবর্তন
  3. ব্যতিচার
  4. অপবর্তন
ব্যাখ্যা
• প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করা যায়। ফটোতড়িৎ ক্রিয়ায় যখন আলো কোনও ধাতুর উপর পড়ে, তখন ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। প্লাঙ্ক বলেছিলেন, আলো শক্তি কণার আকারে প্রকাশ পায়, যাকে ফোটন বলা হয় এবং প্রতিটি ফোটনের নির্দিষ্ট একটি শক্তি থাকে যা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে। যদি ফোটনের শক্তি ধাতুর ইলেকট্রনকে মুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত হয়, তখন ইলেকট্রন নির্গত হয়। এই তত্ত্ব আলোকে তরঙ্গ নয়, কণার মতো আচরণ করার ব্যাখ্যা দেয় এবং ফটোতড়িৎ ক্রিয়ার অবস্থা বোঝাতে সাহায্য করে। তাই, প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব ফটোতড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়।
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০০.
চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলে যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অস্থায়ী চুম্বক
  2. খ) স্থায়ী চুম্বক
  3. গ) সংকর চুম্বক
  4. ঘ) সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা
অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।