বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আধুনিক বিজ্ঞানসংক্রান্ত অন্যান্য

মোট প্রশ্ন১৯৪এই পাতা৯৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আধুনিক বিজ্ঞানসংক্রান্ত অন্যান্য

PrepBank · পাতা / · ১০১১৯৪ / ১৯৪

১০১.
ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করার যন্ত্র কোনটি?
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. ব্যারোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

- ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট তরঙ্গ বা ভূ-অভ্যন্তরের কম্পন শনাক্ত এবং রেকর্ড করার জন্য সিসমোগ্রাফ (Seismograph) যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ভূমিকম্পের উৎপত্তি, স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। যদিও ভূমিকম্পের গাণিতিক পরিমাপ বা মাত্রা প্রকাশে রিখটার স্কেল বহুল পরিচিত, তবে মূল তথ্যটি সিসমোগ্রাফ যন্ত্র থেকেই পাওয়া যায়। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১০২.
বৈদ্যুতিক শক্তি ও চৌম্বকত্বকে একত্রিত করে বিজ্ঞানীরা যে বল আবিষ্কার করেন, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. নিউক্লিয়ার বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল 
  4. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা

প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে একটুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত, এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৩.
আলবার্ট আইনস্টাইনের প্রধান অবদান হলো-
  1. কম্পিউটার টেকনোলজি
  2. ল'জ অব মোশন
  3. থিওরি অব রিলেটিভিটি
  4. এরোপ্লেন আবিষ্কার
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব। 
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে। 
- পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 
- এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে। 
- অইিনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে আলাের বেগ যে স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান তা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। 
- স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E=mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানাে হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৪.
গামা রশ্মির প্রকৃতি কী?
  1. ধনাত্মক চার্জযুক্ত
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
  4. নিউট্রন কণা
ব্যাখ্যা

• গামা রশ্মি (Gamma rays) হলো উচ্চ-শক্তির তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয়।

- এগুলো চিহ্নিত কণার মতো নয়, তাই এগুলোর কোনো ভর বা চার্জ থাকে না।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট এবং ফ্রিকোয়েন্সি খুব বেশি।

• প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ শক্তি এবং প্রখর বিকিরণ।
- বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়।
- পারমাণবিক বিক্রিয়া, নিউক্লিয়ার ফিশন বা ফিউশন ইত্যাদি থেকে নির্গত।
- মানবদেহে প্রবেশ করলে আণবিক ক্ষতি করতে পারে, তাই সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

অপর দিকে,
- ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণাগুলো আলফা বা বিটা কণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- নিউট্রন কণা চার্জহীন কণার উদাহরণ, গামা রশ্মি নয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

১০৫.
পাটের জিনোম আবিষ্কারকের নাম কী?
  1. ড. রফিকুল ইসলাম
  2. ড. গোলাম মোস্তফা
  3. ড. মাকসুদুল আলম
  4. ড. এম আর খান
ব্যাখ্যা
• পাটের জীবন রহস্য:
- ২০১০ সালে পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একটি গবেষণাদল।
- প্রথমে তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কৃত হয়।
- ২০১৩ সালে মাকসুদুল আলম দ্বিতীয় ধাপে দেশি পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেন।
- যার মাধ্যমে প্রাণী বা উদ্ভিদের জেনেটিক (জন্মগত) বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা জানা যায়।
- ২০১২ সালে পাটের জন্য ক্ষতিকর ম্যাক্রোফমিনা ফাসিওলিনা নামের এক ধরনের ছত্রাকের জিনোম সিকোয়েন্স জীবনরহস্য উন্মোচন করা।
- যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন মাকসুদুল আলম।
- ২০০৮ সালে এই গবেষণার সূত্রপাত হয়। স্বপ্নযাত্রা নামে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১১ জন গবেষক ও ২০ জন তথ্য-প্রযুক্তিবিদ।

উৎস: বিবিসি নিউজ রিপোর্ট এবং কালের কণ্ঠ নিউজ রিপোর্ট, ১৯ জানুয়ারি ২০১১।
১০৬.
অনিশ্চয়তা নীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. আর্থার কম্পটন
  2. লুই দ্য ব্রগলি
  3. নিলস বোর
  4. ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ
ব্যাখ্যা

• অনিশ্চয়তা নীতি (Uncertainty Principle):
- প্রবর্তন করেন Werner Heisenberg.
- এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার (যেমন ইলেকট্রন) অবস্থান ও ভরবেগ একই সাথে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায় না।
- কোনো কণার অবস্থান যত বেশি নির্ভুলভাবে জানা যাবে, তার ভরবেগ তত কম নির্ভুলভাবে জানা যাবে—এবং বিপরীতটিও সত্য।

• গুরুত্ব:
- এটি প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র জগতে (Quantum world) নির্ধারিত (deterministic) ধারণা প্রযোজ্য নয়।
- কণার আচরণ সম্ভাবনাভিত্তিক।
- শাস্ত্রীয় পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানেই স্পষ্ট হয়।

• সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশে অবদান):
- Max Planck — কোয়ান্টাম তত্ত্ব,
- Albert Einstein — আপেক্ষিকতা তত্ত্ব,
- Niels Bohr — পরমাণু মডেল,
- Louis de Broglie — বস্তু তরঙ্গ তত্ত্ব,
- Arthur Compton — কম্পটন প্রভাব।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৭.
হিগস বোসন (Higgs Boson) কণা সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. হিগস ক্ষেত্র মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করে।
  2. বোসন কণা সবসময় পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে।
  3. হিগস বোসনের স্পিন ঋণাত্মক।
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

◉ বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। 
- এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। 
১। গেজ বোসন (Gauge Boson) এবং ২। হিগস বোসন (Higgs Boson) । 

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৮.
হিগস বোসন কণার নামের সাথে কোন বাঙালীর নাম সম্পৃক্ত?
  1. ক) জগদীশ্চন্দ্র বসু
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. গ) জামাল নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা
পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে শক্তি হিসেবে এমন একটি কণার ধারণা দেন যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং যার ফলে এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে এ কণাটিই হলো হিগের কণা। হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'। বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা। হিগস বোসন কণার অপর নাম- ঈশ্বর কণা। হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে।
১০৯.
তড়িৎ চৌম্বক আবেশ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ওয়ারস্টেড
  2. মাইকেল ফ্যারাডে
  3. টমাস আল্ভা এডিসন
  4. মার্কনি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ চৌম্বক আবেশ:
- ওয়েরস্টেড (১৮২০) তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথায় চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির কথা চিন্তা করেন।
- তখন তিন দেশের তিন জন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেনজ পৃথক পৃথক ভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩১ সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুণ্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুণ্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র নিচের কোনটি? 
  1. অডিওমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ক্রনোমিটার 
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে- অডিওমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১১১.
ক্যালকুলাসের জনক কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) কোপার্নিকাস
  4. ঘ) আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা

নিউটন ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক।
নিউটন প্রথমে ফ্লাক্সিওন নামে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন বটে, কিন্তু তিনি তার আবিষ্কার ঠিকমত প্রকাশও করেননি।
তবে ক্যালকুলাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব নিউটন আর লিবনিজ দুজনকেই দেওয়া হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

১১২.
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার কবে দেওয়া হয়?
  1. ১৯২২ সালে 
  2. ১৯৩৬ সালে 
  3. ১৯৪৫ সালে 
  4. ১৯৫০ সালে 
ব্যাখ্যা
Cosmic rays (মহাজাগতিক রশ্মি): 
- Cosmic rays এর বাংলা হলো মহাজগতিক রশ্মি। 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১১৩.
পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) কেপলার
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। এ ধরনের পড়ন্ত বস্তু দেখে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র বের করেন। সূত্রগুলাে স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বস্তুর বেলায় ব্যবহার করা যায়। সূত্রগুলাে হচ্ছে:
প্রথম সূত্রঃ স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
দ্বিতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∞ t
তৃতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, h ∞ t2
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৪.
‘মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েব বিকিরণ’ (Cosmic Microwave Background Radiation- CMB) - এর অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) এডউইন হাবল
  2. খ) অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক
  3. গ) রবার্ট উইলসন
  4. ঘ) জর্জ গ্যামো
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক- মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ (Cosmic Microwave Background Radiation- CMB):

যেহেতু গ্যালাক্সিগুলো পরষ্পর হতে দূরে সরে যাচ্ছে, সুতরাং অতীতে কোনো একসময় সেগুলো অবশ্যই একসাথে ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় মহাবিশ্ব অকল্পনীয় ঘনত্বের বস্তু ও বিকিরণ দ্বারা গঠিত ছিল। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ফলে, এই বস্তু ও বিকিরণ ততোই শীতল হতে থাকল। এর প্রেক্ষিতে বিকিরণের কণা বা ফোটনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকল।
মহাবিশ্বের বিকিরিত শক্তির একটি নির্দিষ্টমাত্রা বা পরিমাণ আছে এবং সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বে ঐ নির্দিষ্ট শক্তিও সম্প্রসারিত অংশে বিকিরিত হচ্ছে। এখনো, ঐ বিকিরিত অবশিষ্ট শক্তির অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। এই বিকিরণকে মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ বলে।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি ১৯৬৫ সালে এই জাতীয় বিকিরণের প্রথম সন্ধান পান আর্নো অ্যালান পেনজিয়াস (Arno Allan Penzians) এবং রবার্ট উইলসন (Robert Wilson) নামের দুইজন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)

১১৫.
GSM এর পূর্ণরূপ হলো-
  1. General System  for Mobile Communications
  2. Global Standard for Mobile Technology
  3. Global System for Mobile Communications
  4. General Standard for Mobile Technology
ব্যাখ্যা

• মোবাইল যোগাযোগ (Mobile Communications):
- একাধিক চলনশীল ডিভাইস অথবা একটি চলনশীল ও অন্যটি স্থির ডিভাইসের মধ্যে ডেটা/তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত কমিউনিকেশন সিস্টেমকে মোবাইল কমিউনিকেশন বলা হয়।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ক্যাবল ছাড়া যোগাযোগের প্রযুক্তি ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের উৎকর্ষতার ফসল হলো মোবাইল কমিউনিকেশন।
- এটি একটি ডুপ্লেক্স বা দ্বিমুখী কমিউনিকেশন সিস্টেম, যার সাহায্যে সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক এরিয়ার মধ্যে স্থির বা চলমান উভয় অবস্থায় যে কোনো ধরনের ডেটা কমিউনিকেশন সম্ভব হয়ে থাকে। তবে চলমান অবস্থাতে ডেটা কমিউনিকেশনের বিশেষ সুবিধাটির জন্য এটি মোবাইল কমিউনিকেশন হিসেবেই ব্যাপকভাবে সুপরিচিত।
- বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মোবাইল কমিউনিকেশন একটি অতি প্রয়োজনীয় এবং জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এর জন্য অসংখ্য দেশীয় বা আন্তর্জাতিক মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে।
- কোনো মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার যে ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে তার স্থানীয় সেবাকে বিস্তৃত রাখে, তাকে ঐ মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের নেটওয়ার্ক কাভারেজ এরিয়া বলা হয় অর্থাৎ মোবাইল কোম্পানিগুলোর স্থানীয় সার্ভিস প্রধানত দেশীয় সীমা দ্বারা নির্ধারিত।

• জিএসএম (GSM):
- GSM এর পূর্ণরূপ Global System for Mobile Communications হলো মোবাইল টেলিফোনি সিস্টেমের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ট্যান্ডার্ড।
- একে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের মধ্যে রোমিং চুক্তি থাকার ফলে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো ব্যক্তি জিএসএম-এর আওতায় থাকা অবস্থায় নিজের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে পারেন।
- স্বল্প মূল্যের শর্ট মেসেজ সার্ভিস (SMS)-এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জিএসএম পথিকৃৎ।
- সেলুলার নেটওয়ার্ক বিধায় নির্দিষ্ট এলাকাতে মোবাইল ফোনগুলো GSM-এর সাথে সংযুক্ত হয়। এর সর্বোচ্চ দূরত্ব হলো ৩৫ কিলোমিটার।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (একাদশ-দ্বাদশ)- মাহবুবুর রহমান।

১১৬.
টেলিফোনের আবিষ্কারকের নাম কী?
  1. ক) লজি বেয়ার্ড
  2. খ) গ্রাহাম বেল
  3. গ) ওপেন হেইমার
  4. ঘ) মাদাম কুরী
ব্যাখ্যা
১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। 

- টেলিফোনে পাঁচটি উপাংশ পাঁচটি। যথা- সুইচ, রিংগার, কী প্যাড, মাইক্রোফোন এবং স্পিকার। 
- টেলিফোন মানুষের মুখের কথা তাত্ক্ষণিক প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- টেলিফোন একটি ইংরেজি শব্দ। টেলি অর্থ দূর এবং ফোন অর্থ ধ্বনি।

সূত্র- ৩৭৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১৭.
লেজার রশ্মি কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
  1. বোর, ১৯৬৩
  2. রাদারফোর্ড, ১৯১৯
  3. হাইগ্যান, ১৯৬১
  4. মাইম্যান, ১৯৬০
ব্যাখ্যা
- LASER এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. 
অর্থাৎ, উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধক। 
- ১৯৬০ সালে আমেরিকান পদার্থবিদ থিওডর মাইম্যান প্রথম লেজার রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- লেজারের বিবিধ ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে মৃদু শল্যচিকিৎসা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করা। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ডট কম ওয়েবসাইট।
১১৮.
আলফা কণায় থাকে ___। 
  1. ১ প্রোটন + ১ নিউট্রন 
  2. ২ ইলেকট্রন
  3. ১ প্রোটন + ২ নিউট্রন 
  4. ২ প্রোটন + ২ নিউট্রন
ব্যাখ্যা

• আলফা কণার সঠিক গঠন হলো ২ প্রোটন + ২ নিউট্রন।

আলফা কণা:
- আলফা কণা হলো একটি পারমাণবিক বিকিরণ (radioactive decay) কণার ধরণ।
- এটি মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (Helium nucleus)।

গঠন:
- প্রতিটি আলফা কণায় থাকে: ২টি প্রোটন (Proton), ২টি নিউট্রন (Neutron)
- এতে কোনো ইলেকট্রন নেই।

বৈশিষ্ট্য:
- ধনাত্মক চার্জযুক্ত (+2e)।
- ভারী এবং ধীরে চলমান, তাই কাগজ বা মানুষের ত্বক সহজেই আটকাতে পারে।
- পারমাণবিক বিকিরণ ও নিউক্লিয়ার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১১৯.
MRI তে ব্যবহৃত হয় ____। 
  1. এক্স-রে
  2. ম্যাগনেটিক ফিল্ড
  3. গামা রশ্মি
  4. আলফা কণা
ব্যাখ্যা

• MRI প্রযুক্তিতে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন দেখা হয়, কোনো বিকিরণ নয়।

MRI কী?
- MRI (Magnetic Resonance Imaging) হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা ইমেজিং পদ্ধতি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও টিস্যুর বিস্তারিত ছবি তৈরি করে।
- এটি আয়নাইজিং বিকিরণ (যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মি) ব্যবহার করে না, তাই নিরাপদ।
 
কাজের মূলনীতি:
- MRI কাজ করে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) এবং রেডিও তরঙ্গ (Radio Waves) এর সাহায্যে।
- মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (প্রোটন) এই চৌম্বক ক্ষেত্রে সারিবদ্ধ হয়।
- রেডিও তরঙ্গ প্রয়োগ করলে এই প্রোটনগুলো শক্তি শোষণ করে এবং ফিরে আসার সময় সংকেত দেয়।
- কম্পিউটার এই সংকেত বিশ্লেষণ করে ছবিতে রূপান্তরিত করে।

ব্যবহার:
- মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেশী, ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নির্ভুল ইমেজ তৈরি করতে।
- টিউমার, স্নায়ু সমস্যা ও ইনজুরি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

১২০.
জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ কোন ধরনের রেডিয়েশন ব্যবহার করে?
  1. Ultra-violet
  2. Infrared
  3. Visible
  4. X-ray
ব্যাখ্যা
• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ Infrared রেডিয়েশন ব্যবহার করে।

• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ:
- বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচাইতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের একটি হচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
- নাসার দূরবীক্ষণ যন্ত্র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি বা জুপিটারের কিছু বিস্ময়কর ছবি তুলেছে।
- এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতি গ্রহের অরোরা বা বর্ণচ্ছটা, দানবীয় ঝড়, বৃহস্পতির চাঁদ এবং গ্রহটিকে ঘিরে থাকা বলয়।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযান প্রকল্প।
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার নেতৃত্বে এটির অন্যান্য অংশীদার হচ্ছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি।
- এটা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি এখন পৃথিবী থেকে ১৬ লাখ (ষোল লাখ) কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবি প্রকাশ করা হয় ২০২২ সালের ১২ই জুলাই।
- বলা হয় এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত "অবলোহিত (ইনফ্রারেড)" চিত্র এটি যাতে এমন সব ছায়াপথ দেখা যাচ্ছে, যেখান থেকে পৃথিবী পর্যন্ত আলো পৌঁছাতে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- তখন থেকেই মহাবিশ্বের নিত্যনতুন দৃশ্য দেখে আসছে হাবল টেলিস্কোপের এই উত্তরসূরী।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ক্যারিনা নেবুলা নিহারীকার নক্ষত্রপুঞ্জ এবং কিছু তারকা।
- ক্যারিনা নেবুলা মহাকাশের বৃহত্তম এবং উজ্জ্বলতম নিহারীকাগুলোর একটি।
- এটির অবস্থান পৃথিবী থেকে কম বেশি ৭ হাজার ৬শ আলোকবর্ষ দূরে।

উৎস: NASA,  BBC NEWS বাংলা, ২৪ আগস্ট, ২০২২ এবং ব্রিটানিকা।
১২১.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ম্যানোমিটার 
  2. ক্রনোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
ব্যাখ্যা

শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১২২.
মাইটোকনড্রিয়া কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) বেনডা
  2. খ) রবার্ট হুক
  3. গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ঘ) থ্রিওফাস্টাস
ব্যাখ্যা
শ্বসনে অংশগ্রহণকারী মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা। ১৮৯৮ সালে বেনডা (Benda) এ অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস।
আবিষ্কার নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। তবে, প্রচলিত উত্তর হিসেবে বেনডা ঠিক আছে।
রেফারেন্সঃ জীববিজ্ঞান বই, এসএসসি লেভেল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রে কয়টি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়? 
  1. ১টি 
  2. ২টি 
  3. ৩টি 
  4. ৭টি 
ব্যাখ্যা

◉ রঙিন টেলিভিশনের (CRT) গ্রাহক যন্ত্রে সাধারণত ৩টি ইলেকট্রন গান ব্যবহার করা হয়। 
প্রতিটি প্রাথমিক রং (লাল, সবুজ, নীল - RGB) এর জন্য আলাদা ইলেকট্রন গান ব্যবহৃত হয়। এই তিনটি রঙের সমন্বয়ে সমস্ত রং তৈরি করা হয়।

রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

তথ্যসূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৪.
পারমাণবিক চুল্লিতে সাধারণত কোন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়?
  1. নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. জারণ বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4. বিস্ফোরণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

• পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়‍্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৫.
পদার্থের এটম নামক অবিভাজ্য একক রয়েছে- উক্তিটি কার?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) পিথাগোরাস
  3. গ) থেলিস
  4. ঘ) লোডস্টোন
ব্যাখ্যা

- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 

১২৬.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. ফসফরাস-32
  3. কার্বন-14 
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-32 (P-32) ব্যবহার করে উদ্ভিদের মূল থেকে বিভিন্ন অংশে খাদ্যবস্তু পৌঁছানোর কৌশল এবং উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ ও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 

- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম কোন ক্ষেত্রে গবেষণা করেছিলেন এবং সফল হন?
  1. কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ
  2. নিউট্রন আবিষ্কার
  3. দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে সংকেত প্রেরণ
  4. প্ল্যানেটের কক্ষপথ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫ মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৮.
জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেত শনাক্তকরণের কাজে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন? 
  1. ট্রানজিস্টর 
  2. অর্ধপরিবাহী জাংশন 
  3. ভ্যাকুয়াম টিউব 
  4. ক্যাপাসিটার 
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। 
- তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। 
- এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 

- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। 
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। 
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৯.
টেলিভিশনে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কোন মৌলিক রঙ ব্যবহার করা হয়?
  1. লাল, সবুজ, হলুদ
  2. লাল, নীল, সবুজ
  3. নীল, হলুদ, কালো
  4. সবুজ, হলুদ, সাদা
ব্যাখ্যা

টেলিভিশনে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহার করা হয়।

• রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩০.
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রং নয় কোনটি?
  1. লাল
  2. হলুদ
  3. নীল
  4. সবুজ
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন: 
- টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র, যেখানে দূরবর্তী কোনো টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন থেকে শব্দের সাথে সাথে ভিডিও বা চলমান ছবিও দেখা যায়। 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রং এ ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 
- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। এই ধরনের সম্প্রচার ক্যাবল টিভি নামে পরিচিত। 
- এ ছাড়াও স্যাটেলাইট টিভি নামে এক ধরনের টিভি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার করা হয়, এটি মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩১.
ব্যাকটেরিওলজির জনক কে?
  1. লুই পাস্তুর
  2. এহরেনবার্গ
  3. রবার্ট কচ
  4. লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড।
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়।
- ব্যাক্টেরিওলজির জনক হলেন রবার্ট কচ (Robert Koch)।
- রবার্ট কচ (১৮৪৩–১৯১০) ছিলেন একজন জার্মান চিকিৎসক এবং ব্যাক্টেরিওলজির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন যে নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দায়ী।
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব।
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়।

উৎস:
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

১৩২.
২০১৩ সালে হিগস বোসন তত্ত্বের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে লাভ করেন-
  1. পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ার
  2. পিটার হিগস ও স্টিফেন হকিং
  3. মারে গেল-ম্যান ও রিচার্ড ফাইনম্যান
  4. স্টিফেন হকিং ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ার
ব্যাখ্যা

• ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে প্রদান করা হয় পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ারকে, মৌলিক কণার ভর উৎপত্তি ব্যাখ্যাকারী হিগস বোসন তত্ত্বের জন্য, যা ২০১২ সালে CERN–এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত হয়।

• হিগস বোসন তত্ত্ব:

- হিগস বোসন তত্ত্ব স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি ব্যাখ্যা করে কীভাবে মৌলিক কণাসমূহ ভর অর্জন করে।
- তত্ত্বটি হিগস ক্ষেত্রের ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
- কণাসমূহ হিগস ক্ষেত্রের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ভর লাভ করে।
- হিগস বোসন হলো সেই ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম কণা।

• ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ১৯৬৪ সালে পিটার হিগসসহ একাধিক বিজ্ঞানী ভর উৎপত্তি সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।
- ২০১২ সালে সুইজারল্যান্ডের সার্ন (CERN) গবেষণাগারে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের মাধ্যমে হিগস বোসনের অস্তিত্ব পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত হয়।
- ২০১৩ সালে পিটার হিগস এবং ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ার পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব:
- হিগস বোসনের আবিষ্কার স্ট্যান্ডার্ড মডেলকে পূর্ণতা প্রদান করে।
- এটি মৌলিক কণাতত্ত্বের দীর্ঘদিনের একটি তাত্ত্বিক সমস্যার সমাধান করে।
- একে কখনও কখনও জনপ্রিয়ভাবে “গড পার্টিকল” বলা হয়, যদিও এটি বৈজ্ঞানিক নাম নয়।

• অন্যান্য অপশন:
- স্টিফেন হকিং → ব্ল্যাক হোল বিকিরণ ও মহাকাশতত্ত্বে অবদানের জন্য পরিচিত।
- মারে গেল-ম্যান → কোয়ার্ক তত্ত্ব প্রবর্তনের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- রিচার্ড ফাইনম্যান → কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্সে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: Nobel Prize in Physics 2013 – Official Summary.

১৩৩.
সেমিকন্ডাক্টর চিপের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারি দেশ কোনটি?
  1. দ. কোরিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. জার্মানি
  4. তাইওয়ান
  5. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর চিপের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ হলো তাইওয়ান।
- তাইওয়ানের TSMC (Taiwan Semiconductor Manufacturing Company) বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর ফাউন্ড্রি, যা বিশ্বের প্রায় 60% উন্নত চিপ উৎপাদন করে।
- Apple, AMD, NVIDIA সহ বড় টেক কোম্পানিগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে থাকে TSMC.
- 3nm থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের চিপ উৎপাদনে সক্ষম TSMC।

অন্যদিকে,
- দ. কোরিয়া, Samsung এর মাধ্যমে একটি বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ।
- যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Intel প্রধানত নিজেদের চিপ উৎপাদন করে।
- জার্মানি ও ফিনল্যান্ড তুলনামূলকভাবে ছোট স্কেলে উৎপাদন করে।

উৎস: 
১. TSMC-এর বার্ষিক রিপোর্ট।
২. Semiconductor Industry Association-এর রিপোর্ট।
৩. INDEPENDENT নিউজ রিপোর্ট। [লিঙ্ক]
১৩৪.
বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম বড় সাফল্য কোনটি?
  1. ডিএনএ ক্লোনিং
  2. ক্যান্সার নিরাময়
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ 
  4. মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং
ব্যাখ্যা

- মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট (HGP) ছিল একটি বিশাল আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা, যা জীববিজ্ঞানের বিশাল পরিমাণ ডেটা তৈরি করেছিল, এবং এই ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, এবং সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার জন্যই বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তির প্রয়োজন বিশেষভাবে অনুভূত হয় এবং এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় 

বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics): 

- বায়োইনফরমেটিক্স একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শাখা, যা জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত। এটির উদ্দেশ্য হলো বিশাল পরিমাণ জীববৈজ্ঞানিক ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করা।
- বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম বড় সাফল্য ছিলো মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং, যা ১৩ বছর পর অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের জন্য সহজলভ্য হয়। এই শাখাটি ক্যান্সার গবেষণা এবং প্রোটিন গঠন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজেও অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে, বায়োইনফরমেটিক্স ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও ওষুধের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- সাধারণত নিচের চারটি ভিন্ন ভিন্ন শাখার উপাদান ও কৌশলের সমন্বয়ে বায়োইনফরমেটিক্স পদ্ধতি কাজ করে থাকে। 
যেমন- 
১. আণবিক জীববিদ্যা ও মেডিসিন: ডেটা উৎস বিশ্লেষণের কাজ করে। 
২. ডেটাবেজ: নিরাপদ ডেটা সংরক্ষণ ও ডেটা রিট্রিভ (Retrive) করা। 
৩. প্রোগ্রাম: উপাত্ত বিশ্লেষণ অ্যালগরিদম যার মাধ্যমে বায়োইনফরমেটিক্স কঠোরভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয়। 
৪. গণিত ও পরিসংখ্যান: এর সাহায্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। 

বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহার: 
- মূলত জৈবিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ সম্পর্কে সম্যক এবং সঠিক ধারণা অর্জন করার ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। আর এই জৈবিক তথ্য হিসাব-নিকাশ এবং এ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য। 
- তবে জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন সিকোয়েন্স ইত্যাদি গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ গঠনে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, ওষুধ তৈরিতে, বর্জ্য পরিষ্কারকরণে, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণায়, বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১৩৫.
পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্রের নাম কী?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ব্যারোমিটার
  3. গ্রাভিমিটার
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
- বাতাসের আদ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার।
- বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র হলো গ্রাভিমিটার।
- চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো ম্যানোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৩৬.
সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন কে? 
  1. মোসলে 
  2. রাদারফোর্ড 
  3. থমসন
  4. চ্যাডউইক 
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের অবস্থান। 
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। 
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী মোসলে সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। 
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = ৮। 
সুতরাং, অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। 
- পারমাণবিক সংখ্যা প্রোটন সংখ্যার সমান।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৭.
ই-মেইল আবিষ্কারের পেছনে কাকে পাইওনিয়ার বা পুরোধা ব্যক্তি বলে ধারণা করা হয়?
  1. বিল গেটস
  2. স্টিভ জবস
  3. রে টমলিনসন
  4. ইলন মাস্ক
ব্যাখ্যা
- রে টমলিনসনকে ই-মেইল আবিষ্কারের পেছনে যে অ্যামেরিকানকে পাইওনিয়ার বা পুরোধা ব্যক্তি বলে ধারণা করা হয়। 
- তিনি ইলেকট্রনিক মেসেজ পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রথম চালু করেন ১৯৭১ সালে ।
- সেসময় তিনি কাজ করতেন বোস্টনে, একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে।
- ইমেইলের ঠিকানায় আমরা যে অ্যাট (@) চিহ্নটা ব্যবহার করি তারও প্রচলন করেছিলেন এই রে টমলিনসন।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
১৩৮.
নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে সর্বপ্রথম ধারণা দেন-
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৯.
স্টিফেন হকিং একজন-
  1. দার্শনিক
  2. পদার্থবিদ
  3. রসায়নবিদ
  4. কবি
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং:
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- A Brief History of Time.

উল্লেখ্য, 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – 'A Brief History of Time'.

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৪০.
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কী বলে?
  1. ফিশন
  2. ফিউশন
  3. মেসন
  4. সেপারেশন
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলা হয়।

পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন।
• নিউক্লিয়ার ফিশন:
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

• নিউক্লিয়ার ফিউশন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
ফোটন কণায় কোন ধরনের বল বিদ্যমান?
  1. সবল নিউক্লিয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪২.
ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. সিসমোগ্রাফ
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. হাইগ্রোমিটার
  4. পাইরোমিটার 
ব্যাখ্যা

- সিসমোগ্রাফ (Seismograph) হলো সেই যন্ত্র যা ভূমিকম্প ও ভূমিকম্পের কম্পনের মাত্রা ও প্রকৃতি পরিমাপ করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৪৩.
পাথফাইন্ডার-এর মঙ্গলে অবতরণ সাল-
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৯৫
  3. ১৯৯৭
  4. ২০০০
ব্যাখ্যা
- মার্স পাথফাইন্ডার ১৯৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মঙ্গল গ্রহের এরেস ভ্যালিস-এ অবতরণ করে।
- এটি সফলভাবে একটি যন্ত্রযুক্ত ল্যান্ডার এবং সোজার্নার রোভার সরবরাহ করে, যা ছিল মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করা এবং পরিচালিত প্রথম রোবোটিক রোভার।
- পাথফাইন্ডার তখন পর্যন্ত অভূতপূর্ব পরিমাণ তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করে এবং তার প্রাথমিক নকশা জীবনের চেয়েও বেশি সময় ধরে সক্রিয় ছিল।

• Key facts:

উৎস: নাসা। [Link]
১৪৪.
দিক নির্ধারণের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. কম্পাস
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. অ্যামিটার
  4. ভোল্টমিটার
ব্যাখ্যা

◉ কম্পাস (Compass) হলো একটি যন্ত্র, যা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
-
এতে একটি চুম্বকীয় সূঁচ (Magnetic Needle) থাকে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সর্বদা চৌম্বকীয় উত্তর (Magnetic North) ও দক্ষিণ (Magnetic South) নির্দেশ করে।

স্থায়ী চুম্বকের ব্যবহার:
- সমুদ্রে জাহাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য চৌম্বক কম্পাস বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- এটি Navigation-এর অন্তর্ভুক্ত একটি যন্ত্র।
- পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠে মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চুম্বক শলাকা সর্বদা উত্তর দক্ষিণ দিক বরাবর অবস্থান করে।
- চুম্বকের এ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে চৌম্বক কম্পাস তৈরি করা হয়েছে।
- চৌম্বক কম্পাস একটি মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চৌম্বক শলাকা দিয়ে গঠিত। চুম্বক শলাকার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করা হয়।
- এছাড়াও মাইক্রোফোন ও স্পিকার, বৈদ্যুতিক মোটরে ইত্যাদিতে স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৫.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-
  1. ট্যাকোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. গ্রাডিমিটার
ব্যাখ্যা

◉ উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- ট্যাকোমিটার। 

ট্যাকোমিটার (Tachometer) ঘূর্ণনশীল যন্ত্রের গতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং একক হিসেবে RPM (Revolutions Per Minute) ব্যবহার করা হয়। এটি গাড়ি, ইঞ্জিন, মোটর, টারবাইন এবং উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও,
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৪৬.
ডিনামাইট আবিষ্কার করেন কে?
  1. মাদাম কুরি
  2. আলফ্রেড নোবেল
  3. ওপেনহাইমার
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা

• আলফ্রেড নোবেল:
- জন্ম: ২১ অক্টোবর, ১৮৩৩ (স্টকহোম, সুইডেন)
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৮৯৬ (সান রেমো, ইতালি)
- তিনি ছিলেন একজন সুইডিশ রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও শিল্পপতি।
- তিনি ডিনামাইট ও আরও শক্তিশালী বিস্ফোরক আবিষ্কার করেন।
- তার বিপ্লবী আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী নির্মাণ ও খনিশিল্পে প্রভাব ফেলে।
- আলফ্রেড নোবেল তার উপার্জিত অর্থের বড় অংশ একটি তহবিলে রেখে যান, যার ভিত্তিতে শুরু হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান।
- এই পুরস্কার বিশ্বব্যাপী শান্তি, সাহিত্য, বিজ্ঞান ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।

উৎস: Britannica.

১৪৭.
কোনো পদার্থ কতটুকু অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝতে কোন বিজ্ঞানী pH স্কেল ব্যবহার করেন?
  1. জে. জে. থমসন
  2. জেমস চ্যাডউইক
  3. আইনস্টাইন
  4. সোরেনসেন
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়।
- কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. অ্যালটিমিটার 
  3. ম্যানোমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের নাম হলো ট্যাকোমিটার (Tachometer)। আধুনিক বিমানে বায়ুর গতির সাপেক্ষে গতি মাপতে 'এয়ার স্পিড ইন্ডিকেটর' ব্যবহৃত হয়। 

অন্যদিকে, 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৪৯.
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র হতে বিদ্যুত উৎপাদন পদ্ধতি কোনটি?
  1. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  2. নিউক্লিয়ার ফিশন
  3. সৌরবিদ্যুত
  4. জলবিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয়ার ফিশন: নিউক্লিয়ার ফিশনে ভারী পারমাণবিক যেমন ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম ভেঙে ছোট পারমাণবিকে বিভক্ত করা হয়। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা বাষ্প তৈরি করে এবং টারবাইন ঘূর্ণন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশে স্থাপিত একটি ফিশন ভিত্তিক নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট।
- এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear fission) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

অপরদিকে,
- নিউক্লিয়ার ফিউশন: হালকা পরমাণুর মিলনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়, এখনও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়নি।
- সৌরবিদ্যুত: সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে।
- জলবিদ্যুৎ: জলপ্রবাহ বা জলাধার থেকে টারবাইন ঘূর্ণন করে বিদ্যুৎ তৈরি করে।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান, World Nuclear Association: [লিংক] 

১৫০.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ওডোমিটার
  2. স্পিডোমিটার
  3. অ্যালটিমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

- উড়োজাহাজ বা বিমানের গতি নির্ণয় করার জন্য ট্যাকোমিটার (Tachometer) নামক যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রটি মূলত বিমানের ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতি (RPM - Revolutions Per Minute) পরিমাপ করে যা গতি নির্ধারণে সহায়তা করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র- ক্যালরিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েসাইট।

১৫১.
রেলওয়ে ইঞ্জিন কে আবিষ্কার করেন?
  1. জেমস ওয়াট
  2. নিকলাস অটো
  3. জেমস হ্যারিসন
  4. স্টিফেনসন
ব্যাখ্যা
• স্টিফেনসন (George Stephenson):
- তিনি  প্রথম কার্যকর বাষ্পচালিত রেল ইঞ্জিন তৈরি করেন। 
- এরপর ১৮২৫ সালে "Locomotion No.1" এবং ১৮২৯ সালে "The Rocket"  যা ছিল তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে উন্নত রেল ইঞ্জিন।
- তাঁকে “রেলওয়ের জনক (Father of Railways)” বলা হয়।

অন্যদিকে,
- নিকলাস অটো: তিনি অটো ইঞ্জিন বা আভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (Internal Combustion Engine) উদ্ভাবন করেন।
- জেমস ওয়াট: তিনি বাষ্প ইঞ্জিন (Steam Engine) উন্নত করেন।
- জেমস হ্যারিসন: তিনি ফ্রিজিং সিস্টেম বা রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তিতে কাজ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৫২.
পেট্রোল ইঞ্জিন সফলতার সাথে কে চালু করেন? 
  1. জেমস ওয়াট 
  2. ড. অটো
  3. কার্নো
  4. কেলভিন 
ব্যাখ্যা

- ড. নিকোলাস অটো প্রথম পেট্রোল ইঞ্জিন তৈরি করেন। 

অন্যদিকে,
- জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কার করেন। 
- তাপ গতিবিদ্যার জনক লর্ড কেলভিন, তিনি ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 
- তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে। 
- কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৫৩.
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে ব্যবহৃত হয়-
  1. নাইক্রোম তার
  2. টাংস্টেন তার
  3. কপার তার
  4. এন্টিমনি তার
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে নাইক্রোম তার ব্যবহৃত হয়।
- নাইক্রোম তার হচ্ছে নিকেল ও ক্রোমিয়াম ঘটিত সংকর ধাতু নির্মিত এক ধরনের তার।
- এর আপেক্ষিক রোধ বেশি এবং উষ্ণতার হ্রাস বৃদ্ধিতে রোধের পরিবর্তন কম।
- টাংস্টেন তার বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম- দশম শ্রেণী।
১৫৪.
রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইম ব্যবহার করা হয় -
  1. স্মল পক্স এর ভ্যাকসিন তৈরিতে
  2. DNA অণুকে কাঁটতে
  3. DNA অণু জোড়াদানে
  4. সব ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেট ডিএনএ টেকনলজি
-জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ - প্রত্যাশিত DNA অনুকে ছেদন।
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে কেটে আলাদা করা হয়।
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। যথা- Eco RI, Hind III, Bam HI ইত্যাদি।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজান অংশকে অসমভাবে কেঁটে দেয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১৫৫.
সোলার প্যানেলে ব্যবহৃত ফটোভোল্টাইক এফেক্টের আবিষ্কারক কে?
  1. আইনস্টাইন
  2. বেকেরেল
  3. টেসলা
  4. এডিসন
ব্যাখ্যা

◉ ফটোভোল্টাইক এফেক্ট (Photovoltaic Effect) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আলোর প্রভাবে কোনো পদার্থে বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। ফরাসি পদার্থবিদ Alexandre Edmond Becquerel ১৮৩৯ সালে প্রথম এই প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন।
- পরে আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে এর তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন এবং এজন্য তিনি ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান (photoelectric effect নিয়ে কাজের জন্য)।

ফটোভোল্টাইক এফেক্ট ও সোলার প্যানেল: 
- ফটোভোল্টাইক এফেক্ট হলো এমন প্রক্রিয়া, যেখানে আলোর শক্তি সেমিকন্ডাক্টর পদার্থে পড়ে ইলেকট্রন মুক্ত করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
- এই প্রভাব ব্যবহার করে তৈরি যন্ত্রকেই সোলার সেল বলে।
- সোলার সেলগুলো একত্রে সাজিয়ে সোলার প্যানেল তৈরি করা হয়, যা সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এগুলো বাড়ি, শিল্প, মহাকাশযান ও বিভিন্ন ডিভাইসে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও EBSCO ওয়েবসাইট। 

১৫৬.
হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. আইনস্টাইন
  3. ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট
  4. জি. লেমেটার
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা (God particle) নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
- হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান 'পিটার ডব্লিউ হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট'।
- হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'।
- বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. দার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. CERN ওয়েবসাইট।
১৫৭.
চাঁদে প্রথম অবতরণ করে কোন মিশন?
  1. ভোস্টক-১
  2. অ্যাপোলো-১১
  3. লুনা-২
  4. চন্দ্রযান
ব্যাখ্যা

• অ্যাপোলো-১১ (Apollo-11) ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা NASA পরিচালিত একটি ঐতিহাসিক মিশন, যার মাধ্যমে মানবজাতি প্রথমবার চাঁদে অবতরণ করে।

সময় ও উদ্দেশ্য:
- প্রেরণ তারিখ: ১৬ জুলাই, ১৯৬৯।
- চাঁদে অবতরণ: ২০ জুলাই, ১৯৬৯। 
- ফেরত আসে: ২৪ জুলাই, ১৯৬৯। 
- উদ্দেশ্য: মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করানো এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা।
 
প্রধান নভোচারী:
- নিল আর্মস্ট্রং (Neil Armstrong)- প্রথম ব্যক্তি যিনি চাঁদে পদার্পণ করেন।
- বাজ অলড্রিন (Buzz Aldrin)- দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি চাঁদের মাটিতে হাঁটেন।
- মাইকেল কলিন্স (Michael Collins)- চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউল পরিচালনা করেন।

ঐতিহাসিক উক্তি:
- চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখে নিল আর্মস্ট্রং বলেন “That's one small step for man, one giant leap for mankind.”
- (বাংলা অনুবাদ: “মানুষের জন্য এটি এক ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রগতি।”)
 
মিশনের মূল সাফল্য:
- প্রথমবার চাঁদের মাটিতে মানুষের পদচিহ্ন।
- প্রায় ২১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট চাঁদের পৃষ্ঠে অবস্থান।
- প্রায় ২১.৫ কেজি চাঁদের শিলা ও ধুলা সংগ্রহ।
- পৃথিবীতে ফিরে এসে নিরাপদ অবতরণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]
- নাসা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

১৫৮.
কোন মৌল থেকে প্রথম তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয়েছিল? 
  1. থোরিয়াম
  2.  প্লুটোনিয়াম
  3. রেডন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৯.
কোনটির মাধ্যমে বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা যায়? 
  1. পাইরোমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ব্যারোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার 
ব্যাখ্যা

বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): 
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। 
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। 
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। 
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। 
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে। 
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। 
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। পরম আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা। 

২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার। 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৬০.
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গতত্ত্ব কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়?
  1. রন্টজেন এক্স-রের মাধ্যমে 
  2. হেনরিখ হার্জের পরীক্ষার মাধ্যমে 
  3. জে. জে. থমসনের ইলেকট্রন আবিষ্কারের মাধ্যমে 
  4. মার্কনীর বেতার পরীক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গতত্ত্ব হেনরিখ হার্জের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ১৮৮০-এর দশকের শেষের দিকে হার্জ পরীক্ষামূলকভাবে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ উৎপাদন ও শনাক্তকরণ করেন, যা আলোর গতি ও প্রকৃতির সাথে ম্যাক্সওয়েলের ভবিষ্যদ্বাণীকে সঠিক বলে প্রমাণ করে। 

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান, পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে এবং বেকেরেল আবিষ্কার করেন যে, কিছু কিছু পদার্থ থেকে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে রশ্মি নির্গমনের মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- মেরী কুরী (১৮৬৭-১৯৩৪) এবং পিয়েরে কুরী (১৮৫৯-১৯০৬) এ ঘটনার নাম দেন তেজস্ক্রিয়তা। 
- ১৮৯৭ সালে জে.জে. থমসন ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন যা থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬১.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. জর্জ গ্যামো
  2. এডুইন হাবল
  3. স্টিফেন হকিং 
  4. জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১৬২.
পারমাণবিক চুল্লিতে 'মডারেটরের' প্রাথমিক কাজ হলো:
  1. অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ এবং চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
  2. চুল্লির কেন্দ্রে উৎপন্ন তাপ স্থানান্তর করে শীতল করা
  3. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
  4. ক্ষতিকারক গামা বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন প্রক্রিয়ার সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন বা উচ্চ শক্তির নিউট্রন উৎপন্ন হয়। কিন্তু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে নতুন ফিশন শুরু করার জন্য ধীরগতি সম্পন্ন বা তাপীয় নিউট্রন অনেক বেশি কার্যকর। মডারেটরের প্রধান কাজ হলো ইলাস্টিক কলিশন বা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের মাধ্যমে নিউট্রনের গতি কমিয়ে সেগুলোকে ফিশন উপযোগী করা, যাতে চেইন রিঅ্যাকশন বজায় থাকে। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- শৃঙ্খল বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায় এবং এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে।  

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরের মডারেটর (Moderator) সম্বন্ধে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো- 
মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181 MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং গ্রাফাইট। মডারেটর হিসেবে সাধারণত ভারী পানি ব্যবহার করা হয়।
- নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিশক্তিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে মডারেটর এবং মন্দীভূত নিউট্রনগুলি আবার নিউক্লীয় বিক্রিয়া ঘটায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৩.
আলোর গতি নির্ধারণ করেন কে?
  1. নিউটন
  2. আইনস্টাইন
  3. রোমার
  4. ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

• ইতিহাসে প্রথমবার আলোর গতি নির্ধারণ করেছিলেন জ্যোতির্বিদ ওলে রোমার (Ole Rømer), ১৬৭৬ সালে।

- গতি হলো প্রকৃতির একটি মৌলিক ধ্রুবক, যা শূন্যস্থানে প্রায় 3 × 108 m/s। 

রোমারের পর্যবেক্ষণ:
- রোমার ড্যানিশ জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
- তিনি বৃহস্পতি (Jupiter) ও তার উপগ্রহ আইও (Io)-এর কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, আইও-র গ্রহন (eclipse) সময় সবসময় একই থাকে না।
- পৃথিবী যখন সূর্যের অপর পাশে থাকে, তখন গ্রহনের সময় কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।
- তিনি এই সময়ের পার্থক্য থেকে অনুমান করেন যে, আলোর পৃথিবী পর্যন্ত আসতে সময় লাগে, অর্থাৎ আলোর গতি সীমিত।

আলোর গতি নির্ণয়:
- রোমার অনুমান করেন, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে বিপরীত পাশে গেলে (প্রায় ৩০ কোটি কিমি দূরত্ব বাড়ে), আলোর পৌঁছাতে প্রায় ২২ মিনিট বেশি সময় লাগে।
- এই তথ্য থেকে তিনি আলোর গতি আনুমানিক নির্ণয় করেন 2.14 × 108 m/s, যা আধুনিক মানের কাছাকাছি।

পরবর্তীতে:
- ফিজো (Fizeau, 1849) এবং মাইকেলসন (Michelson, 1879) পরীক্ষাগারে আলোর গতি আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন।
- আইনস্টাইন (Einstein) পরে আলোর ধ্রুব গতিকে ভিত্তি করে আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) তৈরি করেন, তবে তিনি প্রথম মাপেননি।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৬৪.
ফিউশন প্রক্রিয়ায় তৈরীকৃত বোমার নাম কী?
  1. হাইড্রোজেন বোমা
  2. পারমানবিক বোমা
  3. এটম বোমা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফিউশন প্রক্রিয়ায় তৈরীকৃত বোমার নাম হলো হাইড্রোজেন বোমা বা থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা ।

• ফিউশন:

- ফিউশন হলো এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া, যেখানে দুইটি হালকা পরমাণু (যেমন ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম) একত্রিত হয়ে একটি ভারী পরমাণু (যেমন হেলিয়াম) তৈরি করে।
- এই একত্রিত হওয়ার সময় প্রচুর শক্তি মুক্তি পায়।
- এই নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয় যা পারমাণবিক (fission) বোমার থেকেও অনেক গুণ বেশি।

অন্যদিকে,
- 'পারমানবিক বোমা' তৈরী হয় নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৬৫.
হিগস্‌ বোসন কণা কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

 • হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে।
কণাটি ২০১২ সালের ৪ জুলাই আবিষ্কৃত হয়।
- সুইজারল্যান্ডের ইউরোপীয় কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার CERN-এ অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার' (LHC)-এর গবেষকদের দ্বারা।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

• হিগস বোসন কণার বৈশিষ্ট্য:
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Space.com website.

১৬৬.
আইসি'তে কোনটি থাকেনা?
  1. ক্যাপাসিটর
  2. রেজিস্টর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৬৭.
টিস্যু কালচারের উদ্দেশ্যে উদ্ভিদের যে অংশ পৃথক করে নিয়ে ব্যবহার করা হয় তাকে কী বলে?
  1. In plant
  2. Explant
  3. Piece plant
  4. Slice plant
ব্যাখ্যা
• টিস্যু কালচারের উদ্দেশ্যে উদ্ভিদের যে অংশ পৃথক করে নিয়ে ব্যবহার করা হয় তাকে 'এক্সপ্ল্যান্ট (Explant)' বলে।
- টিস্যু কালচারে উন্নত গুণসম্পন্ন স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত উদ্ভিদকে এক্সপ্ল্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়।

• টিস্যু কালচার:
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে টোটিপোটেন্ট (totipotent) স্টেম কোষ থাকায় এর প্রায় যেকোনো অংশ থেকে হুবহু আরেকটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব, এটিই টিস্যু কালচারের মূলনীতি।
- সাধারণত এক বা একাধিক ধরনের এক গুচ্ছ কোষসমষ্টিকে টিস্যু (Tissue) বা কলা বলা হয়।
- এই এক গুচ্ছ কোষ উৎপত্তিগতভাবে অভিন্ন এবং সম্মিলিতভাবে একই কাজ করে।
- একটি টিস্যুকে জীবাণুমুক্ত পুষ্টিবর্ধক কোনো মিডিয়ামে (Nutrient medium) বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়াই হলো টিস্যু কালচার।
- টিস্যু কালচার উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি অপেক্ষাকৃত নতুন শাখা।
- উদ্ভিদ টিস্যু কালচারে উদ্ভিদের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ বা অঙ্গবিশেষ (যেমন পরাগরেণু, শীর্ষ বা পার্শ্বমুকুল, পর্ব, মূলাংশ ইত্যাদি) কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টিবর্ধক মিডিয়ামে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় কালচার করা হয়।
- মিডিয়ামগুলোতে পুষ্টি এবং বর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সরবরাহ করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ শ্রেণি।
১৬৮.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরোও কিছু গূরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৬৯.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের জনক কে? 
  1. জর্জ লেমাইটার 
  2. জর্জ গ্যামো 
  3. এডউইন হাবল 
  4. স্টিফেন হকিং 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হওয়া যাবে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়, অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে, একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। 
- বিগ ব্যাংগ এর ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে মহাকর্ষের প্রভাবে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের পরমাণু সমূহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আলাদাভাবে একত্রিত হতে শুর করে এবং নিজস্ব মহাকর্ষের প্রভাবে জমাট বাঁধতে থাকে এবং সংকোচিত হয়। 
- ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে নিউক্লিয় বিক্রিয়া শুর হয় এবং কালক্রমে নক্ষত্র ও গ্যালাক্সিগুলোর সৃষ্টি হয়। 
- স্টিফেন হকিং তত্ত্বটির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
যদি বাতাসের চাপ বেড়ে যায় তাহলে ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 
  1. 76 cm থেকে কমে যায় 
  2. 76 cm থেকে বেশি হয়
  3. সর্বদা 76 cm থাকে
  4. প্রথমে 76 cm থেকে কম হয়, পরে বাড়ে 
ব্যাখ্যা

টরিসেলির পরীক্ষা: 
- বিজ্ঞানী টরিসেলি ১৬৪৩ সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন। 
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন।

- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল। 
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়। 
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। 
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়। 
- বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭১.
পেনিসিলিন এন্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Penicillium sp
  2. খ) Bacillus polymyxa
  3. গ) Streptomyces griseus
  4. ঘ) Streptomyces rimosus
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অণুজীবদ্বারা উৎপন্ন এন্টিবায়োটিক -

Penicillium sp - পেনিসিলিন
Bacillus polymyxa - পলিমিক্সন। 
Streptomyces griseus - স্ট্রেপটোমাইসিন। 
Streptomyces rimosus - টেট্রাসাইক্লিন।
১৭২.
What is the name of the device used to measure the strength or wave of an earthquake?
  1. Lactometer
  2. Seismograph
  3. Barometer
  4. Odometer
ব্যাখ্যা
⇒ ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।

অপশন আলোচনা:
ক) Lactometer – দুধে জল মেশানো হয়েছে কি না তা পরিমাপের যন্ত্র।
গ) Barometer – বায়ুচাপ পরিমাপের যন্ত্র।
ঘ) Odometer – গাড়ি কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে তা পরিমাপের যন্ত্র।

• বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ও তার ব্যবহার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ক যন্ত্র -ফ্যাদোমিটার
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র- থার্মোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- রিখটার স্কেল।
- সূক্ষ্ম সময় ও সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় যন্ত্র- ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৭৩.
থিওরি অব রিলেটিভিটি দেন কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইন থিওরি অব রিলেটিভিটির প্রবক্তা৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
১৭৪.
আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) দূরবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তু তড়িৎগ্রস্থ কিনা তা যাচাই করা যায় এবং তড়িৎগ্রস্থ বস্তুর চার্জের প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
অ্যামিটার হলো একটি যন্ত্র যার সহায়তায় বিদ্যুতের প্রবাহ সরাসরি বৈদ্যুতিক একক অ্যাম্পিয়ারে পরিমাপ করা যায়।

যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায় তাকে ভোল্টমিটার বলে।

দূরবীক্ষণ যন্ত্র তথা দূরবীন (টেলিস্কোপ) এমন একটি যন্ত্র যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু দর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি দূরবর্তী বস্তু থেকে নির্গত বিকিরণ সংগ্রহ, পরিমাপ এবং বিশ্লেষণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

১৭৫.
পেট্রোল ইঞ্জিন সফলতার সাথে কে চালু করেন? 
  1. কার্নো
  2. কেলভিন
  3. ড. অটো
  4. জেমস ওয়াট
ব্যাখ্যা
- নিকোলাস অটো প্রথম পেট্রোল ইঞ্জিন তৈরি করেন। 

অন্যদিকে, 
- জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কার করেন। 
- তাপ গতিবিদ্যার জনক লর্ড কেলভিন, তিনি ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 
- তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে। 
- কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৭৬.
১৮২০ সালে কে দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়? 
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. ফ্যারাডে
  3. অরস্টেড
  4. হেনরি
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের অবদান ও আবিষ্কার: 
- বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ওপরে এক সময় ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। 
- 1778 সালে কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জের ভেতরকার বলের জন্য সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- 1800 সালে ভোল্টা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করার পর বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা শুরু হয়। 
- 1820 সালে অরস্টেড দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়। 
- 1831 সালে ফ্যারাডে এবং হেনরি ঠিক তার বিপরীত প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। তারা দেখান চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। 
- 1864 সালে ম্যাক্সওয়েল তার বিখ্যাত ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ দিয়ে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে একই সূত্রের মাঝে নিয়ে এসে দেখান যে, আলো আসলে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। বিদ্যুৎ ও চুম্বক আলাদা কিছু নয়, আসলে এ দুটি একই শক্তির দুটি ভিন্ন রূপ। এটি সময়োপযোগী একটি আবিষ্কার ছিল কারণ, 1801 সালে ইয়ং পরীক্ষার মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ ধর্মের প্রমাণ করে রেখেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৭.
মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরণ করেন -
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) হেনরি মোসলে
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number)
১৮৯৫ সনে বিজ্ঞানী রন্টজেন একটি ধাতব মৌলকে ক্যাথোড রশ্মির লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করে অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে এক ধরনের বিকিরণ আবিষ্কার করেন। এই বিকিরণের যথার্থ পরিচয় না দিতে পারায় একে X-Ray (এক্সরে) নাম দেয়া হয়।
১৯১৪ সনে পদার্থ বিজ্ঞানী মোসলে দেখান যে, ক্যাথোড রশ্মির বিক্ষেপণে প্রতিটি মৌল থেকে একটি সুনির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে রশ্নি (X-Ray) নির্গত হয়। তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, X-Ray এর
কম্পন সংখ্যা মৌলের পরমাণুর ধনাত্মক চার্জ অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। তিনি মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরন করেন এবং একে z দ্বারা চিহ্নিত করেন। একটি নিরপেক্ষ পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান।
সুত্রঃ রসায়ন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৮.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জে.সি. বসু
  2. মার্কনী
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. হেনরিখ হার্জ
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. গ্রাডিমিটার
  2. ম্যানোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৮০.
বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল ও দুর্বল নিউক্লিয় বলকে একত্রিত করলে যে বল পাওয়া যায়, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. চৌম্বকত্ব
  3. নিউক্লিয়ার বল 
  4. ইলেকট্রো উইক ফোর্স
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের আবিষ্কার:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে এক টুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত। এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮১.
অপটিক্যাল ফাইবারের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. CaO
  2. MgO
  3. CuO
  4. SiO2
ব্যাখ্যা

SiO2
অপটিক্যাল ফাইবার:
অপটিক্যাল ফাইবার হলো স্বচ্ছ, নমনীয় এবং খুব সূক্ষ্ম কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু, যা আলোক সঙ্কেত পরিবহন করে।
- আলো চলাচলের জন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের প্রয়োজন।
- কাঁচের সংকেত সিলিকন-ডাই-অক্সাইড (SiO2)।
- এটি অত্যন্ত স্বচ্ছ, রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল, ও আলোক সংকেতকে খুব কম ক্ষয় সহ পরিবহন করতে পারে  এজন্য এটি অপটিক্যাল ফাইবারের মূল উপাদান।

অপটিক্যাল ফাইবার তিনটি অংশে গঠিত: 
১. Core (কোর): SiO₂ দ্বারা তৈরি, যেখানে আলো সঞ্চালিত হয়।
২. Cladding (ক্ল্যাডিং): কোরের চারপাশে থাকে, যার প্রতিসরণাঙ্ক কিছুটা কম থাকে, ফলে আলো সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে কোরে সীমাবদ্ধ থাকে।
৩. Jacket (জ্যাকেট): বাহ্যিক সুরক্ষামূলক স্তর।

অপরদিকে,
- CaO হল কুইক লাইম, যা চুনাপাথর থেকে পাওয়া যায়। এটি একধরনের ক্ষারীয় পদার্থ, আলোক পরিবাহিতা নেই, এবং স্বচ্ছ নয়
- MgO তাপ সহনশীল যা গাড়ীর ইঞ্জিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- CuO একটি ধাতব অক্সাইড যা বিদ্যুত পরিবহণে সক্ষম। 

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

১৮২.
Endoscope যন্ত্রে আলোক পরিবহনের জন্য ভৌত বিজ্ঞানের কোন নীতি প্রয়োগ করা হয়?
  1. Echo
  2. Refraction
  3. Reflection
  4. Total internal reflection
ব্যাখ্যা

◉ এন্ডোস্কোপ হলো একটি চিকিৎসা-যন্ত্র, যা শরীরের ভেতরের অংশ যেমন পাকস্থলী, অন্ত্র বা অন্যান্য অঙ্গ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total internal reflection) ব্যবহৃত হয়। 

এন্ডোসকোপি: 
- এন্ডোসকোপি বলতে সাধারণভাবে কোনো কিছুর ভিতরে দেখাকে বুঝানো হয়। 
- আবার এন্ডোসকোপি বলতে চিকিৎসাজনিত কারণে বা প্রয়োজনে দেহের অভ্যন্তরস্থ কোনো অঙ্গ বা গহ্বরকে বাহির থেকে পর্যবেক্ষণ। 
- এন্ডোসকোপ যন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের ফাঁকা অঙ্গসমূহের অভ্যন্তরভাগ পরীক্ষা করা হয়। 
- এন্ডোসকোপি যন্ত্রে দুটি নল থাকে। 
- এদের একটির মধ্য দিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়। আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহ্বরে প্রবেশ করে, এই আলো রোগাক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। 
- দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষনীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে তা দেখতে পারেন। 

- এন্ডোসকোপির মাধ্যমে চিকিৎসকগণ শরীরের অভ্যন্তরে যে কোনো ধরণের অস্বস্তিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন। 
- বিভিন্ন অঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য এন্ডোসকোপি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
ক. ফুসফুস, বুকের কেন্দ্রীয় বিভাজন অংশ; 
খ. পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র বা কোলন; 
গ. স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ; 
ঘ. উদর এবং পেলভিস; 
ঙ. মূত্রথলির অভ্যন্তরভাগ; 
চ. নাসাগহ্বর এবং নাকের চারপাশের সাইনাসসমূহ; 
ছ. কান ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৩.
কোন যন্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যারােমিটার
  2. ম্যানােমিটার
  3. পাইরোমিটার 
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

- ব্যারোমিটার হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৮৪.
আপেক্ষিক তত্ত্বের (Theory of Relativity) প্রবক্তা কে?
  1. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  4. নিলস বোর
ব্যাখ্যা
◉ আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) এবং ১৯১৫ সালে সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব (General Theory of Relativity) প্রবর্তন করেন।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব Einstein's Theory of Relativity:
- চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব।
- আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
ক. আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
খ. আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)।

- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। যথা-
১. প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
২. দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 
- তার ভর শক্তির সম্পর্ক সূত্রটি হলো
E = mc2
যেখানে,
E = শক্তি,
m = ভর,
c = আলাের বেগ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)। 
১৮৫.
'ওয়ার্ম হোল' নামটির প্রচলন করেন কে?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জন আর্চিবল্ড হুইলার
  3. গ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. ঘ) জন নিউটন
ব্যাখ্যা
জন আর্চিবল্ড হুইলার প্রখ্যাত মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে আইনস্টাইনের সাথে কাজ করেছিলেন । তিনি ব্ল্যাক হোল, ওয়ার্ম হোল এবং It from Bit নামগুলোর প্রণেতা হিসেবে পরিচিত।

ওয়ার্মহোল হল তাত্ত্বিকভাবে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি স্থানের বা স্থান-কালের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য তৈরি একটি টানেল স্বরূপ। এটির মাধ্যমে মহাবিশ্বের একটি স্থান থেকে অন্য একটি স্থানে কম সময়ের মাঝেই ভ্রমণ করা যায়। কেননা এটি প্রায় কয়েক বিলিয়ন আলোকবর্ষের পার্থক্যে থাকা মহাবিশ্বের দুটি বিন্দুকে মাত্র কয়েক মিটারের একটি টানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত করে দিতে পারে!
১৮৬.
প্লেগ রোগের জীবাণু কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) Susumu Hotta
  2. খ) Erwin Popper
  3. গ) Alexandre Yersin
  4. ঘ) Hippocrates
ব্যাখ্যা
প্লেগ রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন Alexandre Yersin. 

- প্লেগ (Plague) Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয় তাই ব্যাপক প্রাণসংহারকারী বা অনিস্টকর কোন পরিস্তিতি বর্ণনায় ‘প্লেগ’ শব্দের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- প্লেগ অতি প্রাচীনকালীন এক ব্যাধি, প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
- ইতিহাস সূত্রে জানা যায় মধ্য যুগে বহু রাজ্য এ রোগ দ্বারা ধ্বংসাত্মক পরিণতির শিকার হয়েছে।
- Y. pestis একটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া যা ইঁদুরের ফ্লি Xenopsylla chaeopis নামক পতঙ্গের অন্ত্রে বাস করে।
- ফ্লি ইঁদুর ও ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর বহিঃপরজীবী এবং পোষকের ত্বকে দংশনের মাধ্যমে এর অন্ত্র থেকে ব্যাকটেরিয়াকে পোষকের দেহে চালান করে।
- ফ্লি ইঁদুর থেকে ইঁদুরে, কখনও কখনও ইঁদুর থেকে মানুষে প্লেগ জীবাণু স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং রোগের উপসর্গ সৃষ্টি করে। একজন নিউমোনিক প্লেগে সংক্রমিত মানুষ অন্য মানুষে রোগ ছড়ায় এবং এভাবে প্লেগ মহামারীর আকার পায়।

সূত্র: National Library of Medicine [লিঙ্ক]
১৮৭.
কোনটি পারমানবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. রেডিয়াম
  2. গ্রাফাইট
  3. সোডিয়াম
  4. সীসা
ব্যাখ্যা
• মডারেটর:
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো:
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D₂O) এবং
২। গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১৮৮.
গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে?
  1. মাইক্রোওয়েভ দ্বারা
  2. স্যাটেলাইট দ্বারা
  3. ফাইবার দ্বারা
  4. লেজার দ্বারা
ব্যাখ্যা

• GPS (Global Positioning System) হলো এমন একটি উপগ্রহভিত্তিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ব্যবহারকারীর অবস্থান (Location), বেগ (Velocity) ও সময় (Time) নির্ণয় করে।

- এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (U.S. Department of Defense) দ্বারা তৈরি ও নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা।

GPS কীভাবে কাজ করে:
- পৃথিবীর চারপাশে ২৪টি উপগ্রহ (Satellite) নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে।
- প্রতিটি স্যাটেলাইট থেকে নির্দিষ্ট সময় ও অবস্থানের রেডিও সিগন্যাল (Radio Signal) পাঠানো হয়।
- পৃথিবীতে থাকা GPS রিসিভার (যেমন মোবাইল, গাড়ির ন্যাভিগেশন ডিভাইস ইত্যাদি) অন্তত চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল গ্রহণ করে।
- এই সিগন্যালের সময়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করে রিসিভার তার অবস্থান, উচ্চতা ও সময় নির্ণয় করে। এ প্রক্রিয়াকে বলে Trilateration।

GPS-এর মূল উপাদান:
- Space Segment: কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো (২৪ বা তার বেশি)।
- Control Segment: পৃথিবীতে থাকা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যা স্যাটেলাইটগুলোর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে।
- User Segment: ব্যবহারকারীর ডিভাইস বা GPS রিসিভার।
 
ব্যবহার:
- মোবাইল ও গাড়ির ন্যাভিগেশন সিস্টেমে অবস্থান নির্ধারণে।
- জাহাজ, বিমান ও সামরিক বাহিনীতে দিকনির্দেশে।
- ভূগোল, কৃষি, সার্ভে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার অভিযানে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৮৯.
মহাজাগতিক রশ্মির অন্য নাম কী?
  1. ইউনিভার্সাল রে
  2. কসমিক রে
  3. এটারনাল রে
  4. কসমপলিটন রে
ব্যাখ্যা
• মহাজগতিক রশ্মি:
- মহাজগতিক রশ্মির অন্যনাম কসমিক রে (Cosmic rays)।
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- এগুলো মূলত প্রোটন, হেলিয়াম নিউক্লিয়াস এবং অন্যান্য ভারী উপাদানের আয়নযুক্ত কণা নিয়ে গঠিত।
- অস্ট্রিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস (Victor Hess) প্রথম মহাজাগতিক রশ্মির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।
- ১৯১২ সালে, তিনি বেলুনে বসে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরিবর্তন হয় কি না তা পরীক্ষা করছিলেন।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১৯০.
জীববিজ্ঞানে কী ধরনের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?
  1. বায়োইনফরমেটিক্স
  2. বায়োমেট্রিক্স
  3. বায়োকেমিস্ট্রি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
◉ জীববিজ্ঞানে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ হলো 'বায়োইনফরমেটিক্স'।
 
বায়োইনফরমেটিক্স: 
 - বায়োইনফরমেটিক্স জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত ও পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয়। 
 - জীববিজ্ঞানের বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করে সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য মূলত এই বিষয়টির জন্ম হয়েছে। 
 অর্থাৎ, জীববিজ্ঞানে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ হলো বায়োইনফরমেটিক্স। 
 - জীববিজ্ঞানের সমস্যাগুলো যখন কম্পিউটার প্রযুক্তি কৌশল ব্যবহার করে সমাধান করা হয়, তখন সেটাকে বলা হয় বায়োইনফরমেটিক্স। 
- জিন ফাইন্ডিং গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। 
 
 উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (মাহবুবুর রহমান)।
১৯১.
সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম-
  1. ক্রোনোমিটার
  2. কম্পাস
  3. সিসমোগ্রাফ
  4. সেক্সট্যান্ট
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র: 
• অ্যানিমোমিটার - বায়ু প্রবাহের গতিবেগ নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার - বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• সেক্সট্যান্ট - সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ - ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ম্যানােমিটার - গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার - সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• জাইরাে কম্পাস - জাহাজের দিক নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ক্রোনােমিটার - সমুদ্রের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের যন্ত্র বা সূক্ষ্মভাবে সময় পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং উচ্চ-মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।
১৯২.
কৃত্রিম সূর্য হিসেবে পরিচিত 'ইএএসটি’ চুল্লি কোন দেশ তৈরি করেছে?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম সূর্য:
- এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক (ইএএসটি) নামের চুল্লি তৈরি করেছে চীন, যা কৃত্রিম সূর্য নামে পরিচিত।
- এ ধরনের গবেষণাগারকে কৃত্রিম সূর্য বলার কারণ সেখানে মূল সূর্যের নিউক্লীয় ফিউশনের প্রক্রিয়া অনুকরণ করা হয়।
- অর্থাৎ সূর্যের শক্তি উৎপন্নের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এমন বিক্রিয়ায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় হাইড্রোজেন ও ডিউটেরিয়াম গ্যাস।
- এই চুল্লিতে সম্প্রতি ১ হাজার ৬৬ সেকেন্ডের জন্য প্লাজমার একটি অবিচ্ছিন্ন লুপ তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
- নতুন এই রেকর্ডকে পারমাণবিক ফিউশন তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এতে নিউক্লিয়ার ফিউশন বা কেন্দ্রকীয় সংযোজন প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিপুল শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
১৯৩.
বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ব্যারােমিটার 
  2. হাইগ্রোমিটার 
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
ব্যাখ্যা

ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৯৪.
পারস্পরিক আবেশের নীতি ব্যবহৃত হয় -
  1. ট্রানজিস্টরে
  2. অ্যামপ্লিফায়ারে
  3. ট্রায়্ডে
  4. ট্রান্সফর্মারে
ব্যাখ্যা

পারস্পারিক আবেশ: 
- পাশাপাশি স্থাপিত দুটি কুন্ডলীর মধ্যে একটিতে তড়িৎ প্রবাহ মাত্রার পরিবর্তনের ফলে অপর কুন্ডলীতে যে তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয় তাকে পারস্পারিক আবেশ বলে।
- জেনারেট, মোটর ও ট্রান্সফরমারে পারস্পারিক আবেশ ব্যবহৃত হয়। 

ট্রান্সফরমার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। 
- ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার।

যথা- 
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়। 
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়। 

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।