বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বচন

মোট প্রশ্ন৩১১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বচন

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩১১

২০১.
'সুধী' শব্দের শুদ্ধ বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. সুধীমণ্ডল
  2. সুধীমালা
  3. সুধীবৃন্দ
  4. সুধীদাম
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-
• গণ: দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
• বৃন্দ: সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
• মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
• বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
২০২.
কোনটি বহুবচনের ভুল প্রয়োগ?
  1. কবিকুল
  2. গ্রন্থাবলি
  3. তারকাবলি
  4. পাখিসব
ব্যাখ্যা

• বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগ ঘটেনি - তারকাবলি।
• এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - তারকারাজি।
 
অপশন পর্যালোচনা:
ক) কবিকুল → সঠিক বহুবচন রূপ।
খ) গ্রন্থাবলি → সঠিক বহুবচন রূপ।
ঘ) পাখিসব → সঠিক বহুবচন রূপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৩.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. গ্রন্থবলি
  2. বৃক্ষসমূহ
  3. পাখিসব
  4. ভাইসব
ব্যাখ্যা
• প্রাণি বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা, গ্রন্থমালা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৪.
শুধু প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. চয়
  2. মণ্ডল
  3. দল
  4. সঙ্ঘ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বাৎসঙ্ঘ।
- যূথ: গজযূথ, মৃগযূথ।
- ব্রাত: মধূকরব্রাত।
- বৃন্দ: বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ।
- পাল: মৃগপাল।
- গণ: বন্ধুগণ।
- কুল: জীবকুল, অলিকুল।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো: -
- চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
- সমূহ: বিহগসমূহ, জনসমূহ।
- দল: শ্রমিকদল, ফুলদল।
- নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
- পুঞ্জ: প্রাজ্ঞপুঞ্জ, মেঘপুঞ্জ।
- মণ্ডল: বুধমণ্ডল, সারস্বতমণ্ডল।
- মণ্ডলী: নক্ষত্রমণ্ডলী, বিদ্বন্মণ্ডলী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৫.
বচনের মাধ্যমে কোন দুটি পদের শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়?
  1. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. সর্বনাম ও বিশেষণ
  4. ক্রিয়া ও বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। 
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।
 
• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- সে এলো।
- মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।

২০৬.
'পুষ্প' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. ক) পুষ্পপাল
  2. খ) পুষ্পদাম
  3. গ) পুষ্পবৃন্দ
  4. ঘ) পুষ্পবর্গ
ব্যাখ্যা
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২০৭.
কোনটি ক্রমবাচক শব্দ?
  1. অর্ধ
  2. তৃতীয়
  3. তেসরা
  4. দুই
ব্যাখ্যা

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন: এক, দুই, তিন ইত্যাদি।

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। 
- যেমন 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ' প্রথম', 'পহেলা', 'প্রথমা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ ধরনের হয়, 
সাধারণ পূরণবাচক: যেমন- তৃতীয়, একাদশ;
তারিখ পূরণবাচক: যেমন- তেসরা;
ভগ্নাংশ পূরণবাচক: যেমন- অর্ধ, আধ, সাড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।

২০৮.
'মানী' লোকের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয় না?
  1. ক) গণ
  2. খ) সব
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) বৃন্দ
ব্যাখ্যা
'মানী' লোকের বহুবচনে- 'গণ', 'বৃন্দ', 'মন্ডলী', 'বর্গ'  ইত্যাদি লগ্নক যোহ করা হয়।
যেমন: 
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৯.
বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লোকটি
  2. খ) বইগুলো
  3. গ) তখনই
  4. ঘ) কৃষকের
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ হচ্ছে তখনই।

 • লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

লগ্নক চার ধরনের:
• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- যেমন: ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো' পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২১০.
প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. ব্রজ
  2. গুচ্ছ
  3. সঙ্ঘ
  4. রাশি
ব্যাখ্যা
• ‘শ্রেণি’ বহুবচন লগ্নকটি প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

• উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়,
- সমূহ,
- দল,
- নিচয়,
- পুঞ্জ,
- মণ্ডল,
- মণ্ডলী।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
-জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১১.
অপ্রাণিবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কবিকুল
  2. পাখিকুল
  3. কমলনিকর
  4. বুজুর্গান
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো: 
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
২১২.
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. সঙ্ঘ
  2. ব্রাত
  3. গুচ্ছ
  4. মহল
ব্যাখ্যা
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক- গুচ্ছ।
- গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ। 

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক হচ্ছে-
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বৎসঙ্ঘ।
- মহল: গুণিমহল, মহিলামহল।
- ব্রাত: মধুকরব্রাত।

---------------------
বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা:
১. একবচন এবং
২. বহুবচন।

• বহুবচন:
যখন কোনো শব্দ দ্রারা একাধিক ব্যাক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে নির্দেশ করে তখন তাকে বহুবচন বলে। সাধারণত কিছু মব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব।
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মেঘপুঞ্জ
  2. মেঘকুঞ্জ
  3. মেঘগুচ্ছ
  4. মেঘরাশি
ব্যাখ্যা
• 'পুঞ্জ' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- স্তূপ; রাশি; জমিয়ে তোলা দ্রব্যের সমাবেশ; সমূহ।

• 'পুঞ্জ' দিয়ে গঠিত শব্দ:
- মেঘপুঞ্জ, প্রাজ্ঞপুঞ্জ।

• মেঘপুঞ্জ বলতে - মেঘ ঘনানো বা মেঘ জমা অর্থ প্রকাশ করে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত আরো কয়েকটি বহুবচন বোধক শব্দ:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২১৪.
'রাশি' শব্দযোগে গঠিত সঠিক বহুবচন শব্দ কোনটি?
  1. বৃক্ষরাশি
  2. কদমরাশি
  3. বালিরাশি
  4. কুসুমরাশি
ব্যাখ্যা

• 'বালি' এর সাথে 'রাশি' বহুবচন বাচক শব্দ বেশি মানানসই এবং শুদ্ধ।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
- যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, জলরাশি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- বাকি অপশনের সঠিক বহুবচন হলো:
- কুসুমনিচয় বা কুসুমদাম, 
- বৃক্ষরাজি বা বৃক্ষসমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২১৫.
পদের যে রূপ দ্বারা সংখ্যার ধারণা জন্মে তাকে কী বলে?
  1. কারক
  2. পুরুষ
  3. বচন
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
 • 'বচন': 
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
------------------
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বচন'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'বচন' (বিশেষ্য): 
প্রকৃত- প্রত্যয়: বচ্‌ + অন'।
অর্থ: বাক্য, কথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৬.
বচনের নিয়মের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়মে সাধিত হয়নি কোন বাক্যটিতে?
  1. ক) মেয়েরা কানাকানি করছে।
  2. খ) সকলে সব জানে না।
  3. গ) রবীন্দ্রনাথরা প্রতিদিন জন্মায় না।
  4. ঘ) মাছ পানিতে বড় হয়।
ব্যাখ্যা
মাছ পানিতে বড় হয় - এ বাক্যে একবচন দিয়ে বহুবচন বুঝানো হয়েছে।
আর বাকি তিনটি বাক্যে কোনো নিয়ম ছাড়াই অর্থাৎ বিশেষ নিয়মে বহুবচন হয়েছে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২১৭.
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. চয়
  2. রাজি
  3. গুচ্ছ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৮.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. পণ্ডিতবৃন্দ
  2. শিক্ষকবৃন্দ
  3. সুধীবৃন্দ
  4. মন্ত্রিবর্গ
ব্যাখ্যা
• পণ্ডিতবৃন্দ অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ পণ্ডিতবর্গ। 

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, সুধীবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ/ মন্ত্রিবর্গ। 
 
তাছাড়া, 
- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৯.
'মন্ত্রী' শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. মন্ত্রীদেব
  2. মন্ত্রীবর্গ
  3. মন্ত্রীমণ্ডলী
  4. মন্ত্রীপক্ষ
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২২০.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে নিচের কোনটি যুক্ত হয়?
  1. ক) বর্গ
  2. খ) সব
  3. গ) নিকর
  4. ঘ) কুল
ব্যাখ্যা
- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'নিকর' যুক্ত হয়ে থাকে। যেমন- কমলনিকর।

অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ
»আবলি
»গুচ্ছ
»দাম
»নিকর
»পুঞ্জ
»মালা
»রাজি
»রাশি।
যেমন- গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

দ্রষ্টব্য :
পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন - রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করছে।

এছাড়াও

প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় প্রকার শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-

কুল — কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি। 
সকল — পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব — ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি ।
সমূহ— বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
২২১.
‘হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ‘ এখানে কোন কোন পদযোগে বহুবচন হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  3. গ) বিশেষ্য ও বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণ ও বিশেষণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিশেষ্য ও বিশেষ্য।
‘হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ’—এখানে ‘হাঁড়ি হাঁড়ি’ দ্বারা পরিমাণ বোঝানো হয়েছে এবং এটি পুনরুক্ত বিশেষ্য পদ; অর্থাৎ বিশেষ্য শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বহুবচন বা অধিকতার ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে ‘হাঁড়ি’ (বিশেষ্য) + ‘হাঁড়ি’ (বিশেষ্য) — পদযোগে বহুবচন বোঝানো হয়েছে।
-------------
• বিশেষ্যপদকে পর পর দুইবার বসিয়ে বহুবচন প্রকাশ করা হয়।
যেমন-
- অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার,
- ডালে ডালে আম ঝুলছে,
- বনে বনে পাখি গান গাইছে,
- দলে দলে লােক মাঠে জমায়েত হচ্ছে।
- অনুরূপভাবে, 'হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ' ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২২.
'মানী' পক্ষের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. যূথ
  2. সমূহ
  3. পাল
  4. বর্গ
ব্যাখ্যা
• বচন: 
'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 
যেমন:
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

অন্যদিকে,
• কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক ‘পাল’ ও ‘যূথ’: হস্তিযূথ, মৃগপাল।
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক ‘সমূহ’: বৃক্ষসমূহ, জনসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৩.
গণকবর শব্দে ‘গণ’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বহুবচন
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বিশেষ
  4. ঘ) সাধারণ
ব্যাখ্যা

গণ (বিশেষ্য)
১ সমূহ; সমষ্টি।
২ বহুবচনবাচক শব্দ (কৃষকগণ, লোকগণ, গণকবর)।
৩ বর্গ; শ্রেণি।
৪ দল। 
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

২২৪.
বহুবচনবোধক বাক্য কোনটি?
  1. শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
  2. বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
  3. কলমগুলোর দাম অনেক।
  4. পাখিটি আকাশে উড়ে গেল।
ব্যাখ্যা
একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?
- পাখিটি আকাশে উড়ে গেল।

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৫.
কোন বাক্যে বহুবচন ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে?
  1. ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
  2. বাজারে লােক কম।
  3. এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।
  4. হাজার হাজার কৃষক ফুলের চাষ করেন।
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যদিকে,
- ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
- এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।
- হাজার হাজার কৃষক ফুলের চাষ করেন।
- উপরের বাক্যগুলোতে ছাত্ররা, আমাদের, হাজার হাজার শব্দগুলো বহুবচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২২৬.
'রচনা' শব্দটির বহুবচন কোনটি?
  1. রচনাবৃন্দ
  2. রচনারাজি
  3. রচনাসকল
  4. রচনাবলি
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'রচনা' শব্দটির বহুবচন - রচনাবলি। 

বচন:

- একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে।
- যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব।
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৭.
“ডাক্তারকে রোগীর কথা শুনতে হবে।” - এখানে ‘ডাক্তার’ শব্দটি কী বোঝায়?
  1. শুধু একবচন
  2. শুধু বহুবচন
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই।

ব্যাখ্যা
বাক্য: “ডাক্তারকে রোগীর কথা শুনতে হবে।”

এখানে—

• ‘ডাক্তার’ বলতে একজন ডাক্তার বোঝাতেও পারে।
• আবার সব ডাক্তারদের প্রতিও সাধারণ নির্দেশ হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।

কারণ:
• এখানে, কোনো সংখ্যাবাচক শব্দ নেই (যেমন: একজন, অনেক, সব)। তাই শব্দটি বচন-নিরপেক্ষ।
• প্রেক্ষাপটভেদে একবচন ও বহুবচন—দুই অর্থেই গ্রহণযোগ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২৮.
একবচন ও বহুবচন ভেদে বিভক্তিগুলোর কী ধরনের পার্থক্য দেখা যায়?
  1. উচ্চারণগত
  2. অবস্থানগত
  3. আকৃতিগত
  4. অর্থগত
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
- বাংলা শব্দ-বিভক্তি সাত প্রকার: প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং সপ্তমী।
- একবচন এবং বহুবচন ভেদে বিভক্তিগুলোর আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়।

বিভক্তির আকৃতি:
একবচন:
- প্রথমা: ০, অ, এ, (য়), তে, এতে।
- দ্বিতীয়া: ০, অ, কে, রে (এরে), এ, য়, তে।

বহুবচন:
- প্রথমা: রা, এরা, গুলি (গুলো), গণ।
- দ্বিতীয়া: দিগে, দিগকে, দিগেরে, *দের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৯.
অপ্রাণিবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পক্ষিকুল
  2. কুসুমনিচয়
  3. কবিকুল
  4. বুজুর্গান
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীএক্বসচর্গ ইত্যাদি।

• কুল প্রাণিবাচক শব্দে বহুবচন লগ্নক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি। 

কতিপয় বিদেশী শব্দে সে ভাষার অনুসরণে বহুবচন হয়।
যেমন: 
আন যোগে-
বুজুর্গ - বুজুর্গান, 
সাহেব - সাহেবান। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩০.
উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের শেষে কোনটি যুক্ত হয়?
  1. আবলি
  2. গুচ্ছ
  3. রাজি
  4. গণ
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো-
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৩১.
প্রাণি বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে কোন লগ্নক ব্যবহার করা হয়?
  1. বর্গ
  2. মালা
  3. বৃন্দ
  4. গণ
ব্যাখ্যা
• প্রাণি বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’, ‘বৃন্দ’, ‘মণ্ডলী’, ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩২.
‘মণ্ডলী’ লগ্নক যোগে সঠিক বহুবচন শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. জনমণ্ডলী
  2. মন্ত্রীমণ্ডলী
  3. সুধীমণ্ডলী
  4. কবিমণ্ডলী
ব্যাখ্যা
- 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
• গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ, জনগণ, কবিগণ।
• বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
• মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
• বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২৩৩.
প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক নয় কোনটি?
  1. সঙ্ঘ
  2. ব্রজ
  3. ব্রাত
  4. গণ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক নয়- ব্রজ। 

-------------
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বাৎসঙ্ঘ।
- যূথ: গজযূথ, মৃগযূথ।
- ব্রাত: মধূকরব্রাত।
- বৃন্দ: বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ।
- পাল: মৃগপাল।
- গণ: বন্ধুগণ।
- কুল: জীবকুল, অলিকুল।

অন্যদিকে,
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৪.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ -
  1. বৃক্ষকুল
  2. পক্ষিকুল
  3. পণ্ডিতবর্গ
  4. বৃক্ষসমূহ
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৩৫.
নিচের কোন লগ্নকটি মানী লোকের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. বর্গ
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• 'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে 'মালা' লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

তাছাড়া, 
- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি(২০২২ সংস্করণ)।
২৩৬.
'বচন' শব্দের অর্থ কী?
  1. পরিমাপের ধারণা
  2. ক্রমের ধারণা
  3. গণনার ধারণা
  4. সংখ্যার ধারণা
ব্যাখ্যা
• 'বচন' শব্দের অর্থ — সংখ্যার ধারণা।

• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা- একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• একবচন শব্দের উদাহরণ:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

• বহুবচন শব্দের উদাহরণ:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
২৩৭.
'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে কী ব্যবহৃত হয়?
  1. গণ
  2. মণ্ডলী
  3. বৃন্দ
  4. সবগুলি
ব্যাখ্যা
 • মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন
• গণ  = সদস্যগণ, সচিবগণ
• বৃন্দ  = দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
• মণ্ডলী =  সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
• বর্গ =  পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
২৩৮.
'কবিতা' - শব্দটির বহুবচন কী হবে?
  1. কবিতামালা
  2. কবিতাগুচ্ছ
  3. কবিতাপুঞ্জ
  4. কবিতারাজি
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:
যেমন:
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৯.
'হস্তী' শব্দটির বহুবচন কোনটি?
  1. হস্তীবর্গ
  2. হস্তীসকল
  3. হস্তীগণ
  4. হস্তীযূথ
ব্যাখ্যা

• 'হস্তী' শব্দটির বহুবচন - হস্তীযূথ।
- যূথ- বহুবচন বোধক শব্দটি 'হস্তী' শব্দটির পর বসবে।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪০.
সকল নির্বাচককে সমষ্টিগতভাবে কী বলা হয়?
  1. ভোটারগণ
  2. নির্বাচক
  3. ভোটারমণ্ডলী
  4. নির্বাচকমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো - গ) নির্বাচকমণ্ডলী।

অর্থ্যাৎ,
সকল নির্বাচককে একত্রে "নির্বাচকমণ্ডলী" বলা হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪১.
'বুজুর্গ' শব্দের সঠিক বহুবচন কোনটি হবে?
  1. বুজুর্গগণ
  2. বুজুর্গবৃন্দ
  3. বুজুর্গান
  4. বুজুর্গণ
ব্যাখ্যা
• 'বুজুর্গ' শব্দের সঠিক বহুবচন বুজুর্গান।

• সূত্র:
- কতিপয় বিদেশি শব্দে, সে ভাষার অনুসরণে বহুবচন হয়।
যেমন-
- আন যোগে: বুজুর্গ - বুজুর্গান, সাহেব - সাহেবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৪২.
কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. অব্যয়
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের বচনভেদ হয়।

• 'বচন':
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৩.
কোনটি বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করে?
  1. গুলি
  2. দিগ
  3. দের
  4. রা
  5. টা
ব্যাখ্যা
• 'টা'- বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করে।
যেমন- গরুটা। 
------------- 
• বচন:
- বচন হলো সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। মানুষ মরণশীল। লোকে বলে। রচনাবলি দিও।   

• কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
যেমন-
গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

• বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
২৪৪.
কোন বহুবচন বাচিক প্রত্যয়টি কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মালা
  2. খ) দাম
  3. গ) বৃন্দ
  4. ঘ) গুচ্ছ
ব্যাখ্যা
বহুবচন:
- যে বচন বা পারিভাষিক শব্দের সাহায্যে একের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে বলা হয় বহুবচন।
- বহুবচনের উদহারণ- মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে , আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে। ইত্যাদি। 
- বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলি, গুলা, গুলো, দিগ, দের, প্রভৃতি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
- সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর অধিকাংশই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত। 
- উন্নত প্রাণিবাচক মানুষ প্রকাশক বহুবচনে নিম্নলিখিত বদ্ধরূপমূল ব্যবহৃত হয়-
গণ: জনগণ, শিক্ষকগণ, দেবগণ, নরগণ ইত্যাদি। 
বৃন্দ: শিক্ষকবৃন্দ, সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলি: সম্পাদকমণ্ডলি, শিক্ষকমণ্ডলি ইত্যাদি।
বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
বাংলা ব্যাকরণে 'বচন' হলো-
  1. গণনার ধারণা
  2. পরিমাপের ধারণা
  3. পদের ধারণা
  4. সংখ্যার ধারণা
ব্যাখ্যা

• 'বচন': 
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।

ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
• একবচন। যেমন - একটি বই, একজন খেলোয়াড়।
• বহুবচন। যেমন-  মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছ, আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে ইত্যাদি।

------------------
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বচন'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'বচন' (বিশেষ্য): 
প্রকৃত- প্রত্যয়: বচ্‌ + অন'।
অর্থ: বাক্য, কথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৬.
নিচের কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. একাকী
  2. সাত
  3. তেসরা
  4. সতেরো
ব্যাখ্যা

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
 যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), 

 • পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
যেমন - ‘এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম', ‘প্রথমা’, ‘পহেলা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক: একাদশ ও এগারোতম, দ্বাদশ ও বারোতম, ত্রয়োদশ ও তেরোতম ইত্যাদি।
২. তারিখ পূরণবাচক: এগারোই, বারোই, তেরোই ইত্যাদি।
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সাত, সতেরো হলো ক্রমবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫,২০২২ সালের সংস্করণ)

২৪৭.
“শিক্ষার্থীকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।” - এখানে ‘শিক্ষার্থী’ শব্দটি—
  1. একজন শিক্ষার্থী
  2. সকল শিক্ষার্থী
  3. উভয় অর্থে
  4. কেবল পুরুষ শিক্ষার্থী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) সকল শিক্ষার্থী।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি: “শিক্ষার্থীকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।”
- এখানে ‘শিক্ষার্থী’ শব্দটি সাধারণীকরণ (generalization) বোঝাচ্ছে।
- বাংলা ভাষায় এ ধরনের বাক্যে বিশেষ্য যখন একবচন রূপে ব্যবহৃত হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংখ্যা নির্দেশ করা হয় না, তখন তা সকল/সাধারণভাবে সবাই বোঝায়।
- এটি একটি নৈতিক/নিয়ম-বিধানমূলক বাক্য, যা সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য।

"শিক্ষার্থীকে নিয়ম মেনে চলতে হবে" – এখানে 'শিক্ষার্থী' শব্দটি দ্বারা সকল শিক্ষার্থীকে (ছাত্র ও ছাত্রী উভয়) নির্দেশ করা হয়েছে।
এখানে, একটি সাধারণ নির্দেশ বা নিয়ম প্রকাশ করছে। এখানে "শিক্ষার্থী" শব্দটি দ্বারা যে কোনো ও প্রত্যেক শিক্ষার্থী (অর্থাৎ, শিক্ষার্থী শ্রেণি) উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এটি একজনের জন্য নয়, বরং একটি সার্বিক বিধান।

নিয়মের বাক্যে এই রীতি প্রচলিত, যেমন:
"নাগরিককে আইন মানতে হবে।" (সকল নাগরিক)
"চালককে সাবধান হতে হবে।" (সকল চালক)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪৮.
বচন এর প্রকারভেদ কোনটি?
  1. ক) একবচন ও দ্বিবচন
  2. খ) একবচন ও বহুবচন
  3. গ) একবচন ও একাধিকবচন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বচন হলাে সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দ্বিবিধ: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪৯.
‘হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ‘ এখানে কোন কোন পদযোগে বহুবচন হয়েছে?
  1. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. বিশেষ্য ও বিশেষ্য
  3. বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. বিশেষণ ও বিশেষণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিশেষ্য ও বিশেষ্য।

‘হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ’—এখানে ‘হাঁড়ি হাঁড়ি’ দ্বারা পরিমাণ বোঝানো হয়েছে এবং এটি পুনরুক্ত বিশেষ্য পদ; অর্থাৎ বিশেষ্য শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বহুবচন বা অধিকতার ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে ‘হাঁড়ি’ (বিশেষ্য) + ‘হাঁড়ি’ (বিশেষ্য) — পদযোগে বহুবচন বোঝানো হয়েছে।
-------------
• বিশেষ্যপদকে পর পর দুইবার বসিয়ে বহুবচন প্রকাশ করা হয়।
যেমন-
- অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার,
- ডালে ডালে আম ঝুলছে,
- বনে বনে পাখি গান গাইছে,
- দলে দলে লােক মাঠে জমায়েত হচ্ছে।
- অনুরূপভাবে, 'হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ' ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫০.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বলে। 
  1. সংখ্যাবাচক শব্দ 
  2. বলক
  3. নির্দেশক
  4. বচন 
ব্যাখ্যা

• বচন:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• সংখ্যাবাচক শব্দ: 
যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে। আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে। দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৫১.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. কুল
  2. আবলি
  3. নিকর
  4. দাম
ব্যাখ্যা

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

যেমন:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
→ সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
→ সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
→ সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২সংস্করণ)।

২৫২.
’পহেলা’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. সংখ্যাবাচক
  2. তারিখবাচক
  3. গণনাবাচক
  4. পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• তারিখবাচক শব্দ:
বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে তারিখবাচক শব্দ বলে।
যেমন-
- পহেলা বৈশাখ,
- বাইশে শ্রাবণ ইত্যাদি।

- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি শব্দ বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৫৩.
উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. দাম
  2. বৃন্দ
  3. আবলি
  4. নিকর
ব্যাখ্যা

উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-
গণ: দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ: সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫৪.
কোন শব্দগুলো কেবল অপ্রাণিবাচক বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. কূল, সমূহ, বৃন্দ
  2. বর্গ, রাজি, মালা
  3. দাম, নিকর, মালা
  4. গণ, নিচয়, সকল
ব্যাখ্যা

কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।

যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
- কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
- গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
- রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৫৫.
'সম্পাদক' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) গুলো
  2. খ) খানা
  3. গ) মণ্ডলী
  4. ঘ) আবলি
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’, ‘বৃন্দ’, ‘মণ্ডলী’, ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৬.
'পুষ্প' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. পুষ্পচয়
  2. পুষ্পরাশি
  3. পুষ্পরাজি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৭.
'সাহেব' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. সাহেববৃন্দ
  2. সাহেবসমূহ
  3. সাহেবান
  4. সাহেবকূল
ব্যাখ্যা
বহুবচনের প্রয়োগ বৈশিষ্ট্য:
- বিশেষ্য শব্দের একবচনের ব্যবহারেও অনেক সময় বহুবচন বোঝানো হয়।

যেমন:
- সিংহ বনে থাকে (একবচন ও বহুবচন দু-ই বোঝায়)।
- পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয় (বহুবচন)।
- বাজারে লোক জমেছে (বহুবচন)।
- বাগানে ফুল ফুটেছে (বহুবচন)।

কতিপয় বিদেশি শব্দে, সে ভাষার অনুসরণে বহুবচন হয়।
যেমন:
- আন যোগে: বুজুর্গ - বুজুর্গান, সাহেব - সাহেবান

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৮.
‘পুষ্প’ - শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক নয় কোনটি?
  1. -চয়
  2. -রাশি
  3. -রাজি
  4. -বর্গ
ব্যাখ্যা
• ‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক নয়- -বর্গ।
- ‘-বর্গ’ শব্দটি প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৯.
কোনটি বহুবচনজ্ঞাপক শব্দ নয়?
  1. ক) গ্রাম
  2. খ) মহল
  3. গ) ক্ষেত্র
  4. ঘ) দাম
ব্যাখ্যা
 ‘ক্ষেত্র’ বহুবচনজ্ঞাপক শব্দ নয়। 
 
‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
একবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।
 
বহুবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে। যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
দৈনন্দিন ভাষার বহুবচন-প্রত্যয়
ক. ব্যক্তিবাচক কর্তৃপদ : -রা, -এরা, সকল
ব্যক্তিবাচক তির্যক : -দের (কে)/-এদের (কে)
খ. অ-মানবিক সজীব
মানবিক ক্ষেত্রে অবজ্ঞাবাচক এবং অজীব : -গুলো, (-গুলি)
 
সাহিত্যে ও বিশেষ নিরুক্তিতে (register) ব্যবহৃত বহুবচন-প্রত্যয়
ক. ব্যক্তিবাচক : --গণ, --বৃন্দ, -মণ্ডলী, -কুল, -দল, -মহল, সঙ্ঘ, সমূহ, -দিগর, -পুঞ্জ, -নিচয়, -উচ্চয়, -চয়, -ব্রজ
খ. অজীব : -আবলি, -উচ্চয়, -গুচ্ছ, -গ্রাম, -চয়, -জাল, -দল, -দাম, নিকর, -নিচয়, পাল, পুঞ্জ, ব্রজ, ব্রাত, মণ্ডল, -মণ্ডলী, মালা, রাজি, রাশি, -শ্রেণি, -সমূহ ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
২৬০.
'গ্রন্থ' শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সব
  2. সমূহ
  3. বর্গ
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• বচন:
বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। 
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে। 

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘-সব’ , ‘-সমূহ’ , ‘-আবলি’ , ‘-মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়। 
যেমন -
সব - ভাইসব, পাখিসব।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমুহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬১.
কোন বাক্যটি বহুবচন প্রদর্শন করে?
  1. ক) বাজারে লােক কম
  2. খ) বাজারে লােকটি কম
  3. গ) বাজারে লােকটা কম
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬২.
নিচের কোনটিতে বহুবচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে?
  1. তারকারাজি
  2. কমলনিকর
  3. পুষ্পদাম
  4. পর্বতকুল
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'পর্বত' শব্দের বহুবচন- 'পর্বতমালা'। 

• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন,
পর্বতমালা, পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়। 

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।  (২০২২ সংস্করণ)
২৬৩.
একবচন নির্দেশে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. রাজি
  2. দিগ
  3. এরা
  4. খানা
ব্যাখ্যা
• 'বচন':
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

• একবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।

যেমন: গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

• বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য "রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের" প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কুল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর বেশিরভাগই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২৬৪.
'নদী' শব্দের বহুবচন কী?
  1. নদীগুলি
  2. নদীসমূহ
  3. নদীরা
  4. নদীগণ
ব্যাখ্যা

• 'নদী' শব্দের প্রধান বহুবচন হলো- নদীসমূহ বা নদীগুলি। প্রসঙ্গ ও বাক্যের ধরন অনুযায়ী নদীবৃন্দ বা নদীমালা শব্দগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে 'নদীসমূহ' সবচেয়ে প্রচলিত। সে হিসেবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর- অপশন (খ)। 

------------------ 
অন্যদিকে,
• নদীরা:
- 'রা' লগ্নক বা প্রত্যয়টি কেবল উন্নত প্রাণিবাচক (মানুষ্য) শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: ছেলেরা, ছাত্ররা, মানুষেরা।
- এটি মূলত উন্নত প্রাণিবাচক শব্দ বা মানুষের ক্ষেত্রে বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

• নদীগণ:
- ‘গণ’ লগ্নক বা প্রত্যয়টি কেবল উন্নত প্রাণিবাচক (মানুষ বা বিশেষ সম্মানিত) শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: বন্ধুগণ, ভদ্রমহোদয়গণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬৫.
কোন পদের সঙ্গে -টা ,-টি নির্দেশক যুক্ত হয় না?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষণে
ব্যাখ্যা
• যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন, -টা, -টি, -খানা, -খানি,-জন, -টুকু।

বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা ,-টি নির্দেশক যুক্ত হয়।
বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয় -খানা, -খানি নির্দেশক।
শুধু মানুষের ক্ষেত্রে -জন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমান বোঝায় সেক্ষেত্রে -টুকু নির্দেশক যুক্ত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৬.
'পর্বত' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. পর্বতবর্গ 
  2. পর্বতসকল
  3. পর্বতকূল
  4. পর্বতসব
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকূল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬৭.
'সারাটি বিকেল তোমার অপেক্ষায় বসে আছি ।' এখানে 'টি' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সমার্থকভাবে
  2. নিরর্থকভাবে
  3. দ্বর্থহীনভাবে
  4. অর্থপূর্ণভাবে
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:
- টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি।

• নিরর্থকভাবেও টা টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।

• 'গোটা' বচনবাচক শব্দটির আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
- এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
- গোটা শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৮.
নিচের কোন বাক্যে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে?
  1. অনুগ্রহ করে নিয়মাবলি পড়ে দেখুন।
  2. বাগানে ফুল ফুটেছে।
  3. মাঝিরা নৌকা চালায়।
  4. সভায় সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়। 
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
- বাগানে ফুল ফুটেছে

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৬৯.
নিচের কোনটি বহুবচন?
  1. তিনি
  2. শিক্ষক
  3. ভাইয়েরা
  4. বইটা
ব্যাখ্যা
ভাইয়েরা - বহুবচনের উদাহরণ।
- 'বচন' অর্থ হচ্ছে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
 
• বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
- একবচন ও
- বহুবচন।

একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল?

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- মাঝিরা নৌকা চালায়।
- কলমগুলোর দাম অনেক।

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়। যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো।
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

- কিছু একবচন শব্দ বহুবচন হওয়ার সময়ে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটায়।
যেমন -
একবচন – আমি, বহুবচন – আমরা
একবচন – তুমি, বহুবচন – তোমরা
একবচন- সে, বহুবচন - তারা
একবচন - তিনি, বহুবচন – তাঁরা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭০.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মেঘকুঞ্জ
  2. মেঘসমূহ
  3. মেঘগুচ্ছ
  4. মেঘমালা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে
’মেঘমালা ’ অর্থ: মেঘরাশি, পুঞ্জীভূত মেঘ।
--------------------------------------------------
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:

আবলি,
গুচ্ছ,
দাম,
নিকর,
পুঞ্জ,
মালা,
রাজি,
রাশি।
যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘমালা, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ।
২৭১.
নিচের কোন বহুবচনবাচক শব্দ কেবল প্রাণিবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হতে পারে?
  1. গণ
  2. গুচ্ছ
  3. নিকর
  4. আবলি
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ - দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।

- বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মন্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি। 

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:

- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৭২.
"বাগানের প্রতিটি ডালে ডালে কুসুমভার ফুটে উঠেছে।" এখানে ‘ভার’ কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. গুরুত্ব
  2. চাপ
  3. সমূহ
  4. বোঝা
ব্যাখ্যা
• "বাগানের প্রতিটি ডালে ডালে কুসুমভার ফুটে উঠেছে।" এখানে ‘ভার’ - সমূহ' অর্থ প্রকাশ করেছে।
--------------
• ভার (বিশেষ্য):

- দায়িত্ব (গুরুভার)।
- বোঝা (ভারবাহী পশু)।
- চাপ (ঋণের ভার)
- সমূহ; রাশি (কুসুমভার, কেশভার)
- বাঁক (ভারযষ্টি)।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৭৩.
'পাখি' শব্দের বহুবচন শব্দ কোনটি?
  1. পাখিমালা
  2. পাখিসব
  3. পাখিদাম
  4. পাখিবৃন্দ
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• কুল- কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
• সকল- পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ- বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দাম- অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়। 
বৃন্দ-  মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৭৪.
নিচের কোন বাক্যটিতে বহুবচনজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. আমাদের কলেজের সকল ছাত্ররাই আজ উপস্থিত।
  2. প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
  3. ভাইগণ, আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
  4. গরুগুলো মাঠে চরে বেড়াচ্ছে।
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'গরুগুলো মাঠে চরে বেড়াচ্ছে।'-  বাক্যটিতে বহুবচনজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেনি। 

অপশনের অন্যান্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো: 
• আমাদের কলেজের সব ছাত্রই আজ উপস্থিত।
• প্রতিটি গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
• ভাইসব, আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৫.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক নয় কোনটি?
  1.  মালা
  2. আবলি
  3. গুচ্ছ
  4. সঙ্ঘ
ব্যাখ্যা

• ‘সঙ্ঘ’ বহুবচন লগ্নকটি প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭৬.
কোনটি অপ্রাণিবাচক বহুবচনবোধক লগ্নক নয়?
  1. পুঞ্জ
  2. গুচ্ছ
  3. গণ
  4. রাজি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।

যেমন:
- গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ
গণ - দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২৭৭.
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে-
  1. একবচন বোঝাতে
  2. বহুবচন বোঝাতে
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
  4. প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এবং বচন-নিরপেক্ষ (singular and plural neutral) শব্দ, যা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একবচন (singular) বা বহুবচন (plural) উভয়ই বোঝাতে পারে।

বাক্যটি বিশ্লেষণ করা যাক:
বাক্য: “শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়। ”এখানে ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির সঙ্গে কোনো বচন নির্দেশক শব্দ (যেমন: ‘একজন’, ‘সকল’, ‘অনেক’) যুক্ত নেই। ফলে এগুলো প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষক বা একাধিক শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী বা একাধিক শিক্ষার্থী উভয়কেই বোঝাতে পারে।

‘শিক্ষককে’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দের বিভক্তি (‘-কে’ এবং বিভক্তিহীন রূপ) কোনো নির্দিষ্ট বচন নির্দেশ করে না। বাংলায় এই ধরনের শব্দ সাধারণত একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই বালা যায়, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির প্রয়োগ একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭৮.
বাংলা ভাষায় বচন কত প্রকার?
  1. ক) এক
  2. খ) দুই
  3. গ) তিন
  4. ঘ) চার
ব্যাখ্যা
বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।
প্রকারভেদ:
বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৯.
প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. ব্রাত
  2. মালা
  3. উচ্চয়
  4. দাম
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বাৎসঙ্ঘ।
- যূথ: গজযূথ, মৃগযূথ।
- ব্রাত: মধূকরব্রাত।
- বৃন্দ: বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ।
- পাল: মৃগপাল।
- গণ: বন্ধুগণ।
- কুল: জীবকুল, অলিকুল।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮০.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. মণ্ডলী
  4. সবকয়টি
ব্যাখ্যা

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:

যেমন:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

২৮১.
কোনটি ‘কবিতা’ শব্দের বহুবচন?
  1. কবিতাসমূহ
  2. কবিতাগুচ্ছ
  3. কবিতারাজি
  4. কবিতামালা
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৮২.
কোনটি ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়?
  1. ক) পদ
  2. খ) লিঙ্গ
  3. গ) বচন
  4. ঘ) শব্দ
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। 
- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়। 
- বচন ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৩.
'হস্তি' শব্দটির পর কোন বহুবচন বোধক শব্দটি বসবে?
  1. রাজি
  2. গণ
  3. যূথ
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• যূথ- বহুবচন বোধক শব্দটি 'হস্তি' শব্দটির পর বসবে।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।  

মালা, রাজি- অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।
যেমন: পর্বতমালা, তারকারাজি।

- 'গণ' উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
যেমন: জনগণ, নরগণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৪.
উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. রাশি
  2. শ্রেণি
  3. গুচ্ছ
  4. সঙ্ঘ
ব্যাখ্যা
• ‘শ্রেণি’ বহুবচন লগ্নকটি প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

• উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- চয়,
- সমূহ,
- দল,
- নিচয়,
- পুঞ্জ,
- মণ্ডল,
- মণ্ডলী।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
-জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত,
- বৃন্দ,
- পাল,
- গণ,
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৫.
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন-
- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।
- এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়।
যেমন-
- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন -
- প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি। 

তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন:
- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৬.
শুধু অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. সমূহ
  2. নিকর
  3. মণ্ডল
  4. পুঞ্জ
ব্যাখ্যা

অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
রাশি, রাজি, মালা, ব্রজ, নিকর, দাম, জাল, গ্রাম, গুচ্ছ, উচ্চয়, আবলি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
চয়,
সমূহ,
দল,
নিচয়,
পুঞ্জ,
মণ্ডল,
মণ্ডলী।

• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
সঙ্ঘ,
যূথ,
ব্রাত,
বৃন্দ,
পাল,
গণ,
কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮৭.
কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের বচনভেদ হয়।

• 'বচন':
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার।
যথা: একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৮.
নিচের কোনটি একবচনের উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ বাস করে।
  2. লোকে বলে।
  3. মানুষ মরণশীল।
  4. ডাক্তার রুগী দেখছেন।
ব্যাখ্যা
বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

বহুবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৯.
বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগ ঘটেনি -
  1. তারকাবলি
  2. পর্বতমালা
  3. পুস্তকাবলি
  4. মেঘপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• বহুবচনের যথার্থ প্রয়োগ ঘটেনি - তারকাবলি
এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - তারকারাজি।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ
- মালা - পর্বতমালা
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯০.
নিম্নের কোনটি ভুল প্রয়োগ?
  1. ক) সব মানুষই মরণশীল।
  2. খ) মানুষ মরণশীল।
  3. গ) মানুষেরা মরণশীল।
  4. ঘ) সকল মানুষেরাই মরণশীল।
ব্যাখ্যা
একই সঙ্গে দুইবার বহুবচনবাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না। 
যেমন: সব মানুষই অথবা মানুষ অথবা মানুষেরা মরণশীল। (শুদ্ধ)
কিন্তু, সকল মানুষেরাই মরণশীল। (ভুল)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯১.
'পর্বত' শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. পুঞ্জ
  2. মালা
  3. রাজি
  4. রাশি
ব্যাখ্যা
বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
• আবলি- পুস্তকাবলি।
• গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
• দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
• নিকর- কমলনিকর।
• পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ।
• মালা- পর্বতমালা।
• রাজি- তারকারাজি।
• রাশি- বালিরাশি।
• নিচয়- কুসুমনিচয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯২.
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুল
  2. নিকর
  3. সকল
  4. সব
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ নয় - নিকর।
- এটি অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।

বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
→ সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২৯৩.
বচন লগ্নকের ব্যবহার ছাড়া বহুবচনের উদাহরণ রয়েছে কোন বাক্যে?
  1. মাঝিরা নৌকা চালায়।
  2. কলমগুলোর দাম অনেক।
  3. পাখিসব করে রব।
  4. সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যদিকে,
- মাঝিরা নৌকা চালায়।- বাক্যে একবচন ‘মাঝি’ শব্দের সঙ্গে ‘রা’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘মাঝিরা’ হয়েছে।
- কলমগুলোর দাম অনেক।- ‘গুলো’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘কলমগুলো’ হয়েছে।
- পাখিসব করে রব।- বাক্যে ‘সব’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘পাখিসব’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

২৯৪.
‘পাখীসব করে রব রাতি পোহাইল।’ চরণটিতে পাখীর সঙ্গে যুক্ত ‘সব’ হলো:
  1. বিশেষণ
  2. প্রত্যয়
  3. বহুবচনবাচক শব্দ
  4. পদাশ্রিত নির্দেশক
ব্যাখ্যা
-প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
• কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি। 
• সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
• সব  - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
• সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৫.
'মনুষ্য' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. মনুষ্যসমূহ
  2. মনুষ্যদাম
  3. মনুষ্যসকল
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

যেমন:
কুল - কবিকূল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৯৬.
কোনটি উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না?
  1. বৃন্দ
  2. দাম
  3. বর্গ
  4. মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ - দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৯৭.
'বিদ্যালয়ের সকল ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।' - বাক্যটিতে যে ত্রুটি রয়েছে -
  1. ক) সাধু - চলিতের মিশ্রণ
  2. খ) বহুবচনের দ্বিত্ব
  3. গ) কর্তা ও ক্রিয়ার মধ্যে অসংগতি
  4. ঘ) দূরান্বয় দোষ
ব্যাখ্যা

- বাক্যটিতে 'সকল ছেলেরা' বহুবচনে দ্বিত্ব হয়েছে।
- বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ
- বিদ্যালয়ের সকল ছেলে মাঠে ফুটবল খেলছে / বিদ্যালয়ের ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯৮.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-
  1. দাম
  2. গুচ্ছ
  3. আবলি
  4. বৃন্দ
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ: দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- বৃন্দ: সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আবলি,  গুচ্ছ ও দাম অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।
২৯৯.
"মাতৃ" শব্দের বহুবচন শব্দ কোনটি?
  1. মাতৃসকল
  2. মাতৃকুল
  3. মাতৃসমূহ
  4. মাতৃগণ
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৩০০.
"মৃগ" শব্দটির বহুবচনে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. পাল
  2. আবলি
  3. মালা
  4. রাশি
ব্যাখ্যা
• 'মৃগ' শব্দের অর্থ- হরিণ।

• 'মৃগ' এর সাথে 'পাল' বহুবচনবোধক শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
তখন - এর বহবচন- 'মৃগপাল'।

উল্লেখ্য,
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব।
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ্), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।