বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা [Old Syllabus] ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান

মোট প্রশ্ন৪০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা [Old Syllabus] ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৪০৩

১০১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী কে ছিলেন?
  1. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। 
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০২.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. মতিউর রহমান
  3. ড. শামসুজ্জোহা
  4. সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ -এর আন্দোলন বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
- সেজন্য এ আন্দোলন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নামে অভিহিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্ব বাংলা/পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হল।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৩.
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়-
  1. ক) ২০ জানুয়ারি
  2. খ) ২২ জানুয়ারি
  3. গ) ২৪ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় ২৪ জানুয়ারি। ১৯৬৯ সালের এই দিনে নিহত ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর, রুস্তম ও খুলনায় আরও ৩ জন। এই দিনটি কে স্মরণ করে রাখার জন্য ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
১০৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি সংখ্যা-
  1. ৩৪ জন
  2. ৩৫ জন
  3. ৩৬ জন
  4. ৩৩ জন
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামি ছিল ৩৫ জন এবং প্রধান আসামি ছিল শেখ মুজিবুর রহমান।

• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সামরিক সরকার পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং আরও ৩৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে একটি ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’।
- পাকিস্তান সরকার দাবি করে, শেখ মুজিবুর রহমানসহ অভিযুক্তরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে বসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জনের পরিকল্পনা করেছেন।
- মামলাটি পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভ এবং উত্তেজনার জন্ম দেয়।
- জনগণের ব্যাপক আন্দোলনের ফলে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১০৫.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পদত্যাগের পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন কে?
  1. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. টিক্কা খান
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: 
- ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন।
- ইয়াহিয়া খান উক্ত পদে আসীন হন।
- তিনি ২৮শে মার্চ এক ঘোষণায় পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
-  অবশেষে ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর সর্বপ্রথম 'এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে' সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (ওয়ালী), মুসলিম লীগ (কাইয়ুম), মুসলিম লীগ (কনভেনশন), পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামী প্রভৃতি দল অংশগ্রহণ করে।
- আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে ৬ দফার পক্ষে গণভোট হিসেবে অভিহিত করে।
- নির্বাচনে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ভোটারের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ৩ কোটি ২২ লাখ।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে পূর্ববাংলার জন্য নির্ধারিত ১৬২টি আসনের ১৬০টি আসন লাভ করে।
- সংরক্ষিত মহিলা আসন ৭টিসহ আওয়ামী লীগ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম, শ্রেণি।

১০৬.
কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. '৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
  3. ছয় দফা
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলি: 
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ফলে এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে। 
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- ড. জোহার মৃত্যুসংবাদে সারাদেশে এমন ব্যাপক গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয় যে, সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭.
ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের শহীদ নন-
  1. শহীদ রুস্তম
  2. মতিউর রহমান
  3. রফিক উদ্দিন
  4. আসাদুজ্জামান
ব্যাখ্যা

- রফিক উদ্দিন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- মতিউর রহমান মল্লিক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মুহম্মদ শামসুদ্দোহা, শহীদ আনোয়ারা বেগম, শহীদ রুস্তম উনারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।

১০৮.
১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. রফিক
  2. তোফায়েল
  3. আসাদ
  4. সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান

- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এ সময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা গণঅভ্যুত্থানে নিহতের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৯.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক শহীদ হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী
  3. আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
  4. ড. শামসুজ্জোহা
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ গণ অভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার,
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও আয়ুবখানের পদত্যাগ কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতা ও সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয় যা ১৯৬৯ গণ অভ্যুত্থান নামে পরিচিত।
- ১৯৬৯ সালের ৪ ঠা জানুয়ারি সর্বদলীয় রাষ্ঠভাষা গঠন করা হয়।
- ঐ সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করে।
- ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা ও ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ শহিদ হন।
- ফলাফল - আয়ুব সরকার পদত্যাগ করেন ও ৭০ এর নির্বাচন দিতে সরকার বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১০.
আগরতলা মামলার সরকারি নাম কী ছিল?
  1. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  2. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  3. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  4. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. ক) ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  2. খ) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  3. গ) আগারগাঁও
  4. ঘ) পিলখানা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১২.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খান কার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন?
  1. ক) ইস্কান্দার মির্জা
  2. খ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. গ) জেনারেল টিক্কা খান
  4. ঘ) জুলফিকার আলী ভু্ট্টো
ব্যাখ্যা
• উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগে বাধ্য হন।
• এর আগে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে জোরপূর্বক সরিয়ে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৩.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কতজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়?
  1. ৩৪ জন
  2. ৩৫ জন
  3. ৩৬ জন
  4. ৩৭ জন
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৪.
শহিদ আসাদ কোন আন্দোলনে শহিদ হন? 
  1.  ভাষা আন্দোলন 
  2. ছয় দফা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: 
-  ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ  হয়। 

-  আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- ড. জোহার মৃত্যসংবাদে সারাদেশে এমন ব্যাপক গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয় যে, সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়।

উল্লেখ্য,
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- আইয়ুববিরোধী মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ নিত্যদিনকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আন্দোলন কেবলমাত্র ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তা পল্লীগ্রামসহ সকল মফস্বল শহরেও বিস্তৃত হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সার্জেন্ট জহুরুল
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

১১৬.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে কবে?
  1. ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ১৫ জানুয়ারি 
  3. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি 
  4. ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী 
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
-  ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’।  
-  এর লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন।
- ও প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যা করা হয় ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 

১১৭.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. ড: শামসুজ্জোহা
  3. জহুরুল হক
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
- এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন। 
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হোন। 
- তিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- আসাদ দিবস: ২০ জানুয়ারি।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর নামানুসারে আইয়ুব গেইটের নামকরণ করা হয় আসাদ গেইট । 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৮.
মৌলিক গণতন্ত্র কী ধরনের শাসনব্যবস্থা?
  1. সরাসরি গণতন্ত্র
  2. সামরিক শাসন
  3. সীমিত গণতন্ত্র
  4. একদলীয় শাসন
ব্যাখ্যা
• আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র: 
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতাকুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোরআমুল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
- তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
- ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।

• প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
- নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত স্তরগুলো ছিল:
- ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে),
- থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে),
- জেলা পরিষদ,
- বিভাগীয় পরিষদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১৯.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী ছিলেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। 
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২০.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘এগারো দফা’ প্রণীত হয়?
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
  4. একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ এর প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে ‘এগারো দফা’ দাবী ঘোষণা করা হয়।
এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
যার কারণে ‘এগারো দফা’ পূর্ব বাংলার সকল স্তরের জনসাধারণের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

১২১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে বঙ্গবন্ধু কী নামকরণ করেছিলেন?
  1. শেখ মুজিব ও রাষ্ট্র দ্রোহীতা
  2. পাকিস্তান বনাম শেখ মুজিব
  3. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  4. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগরতলা মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদঘাটিত হয়েছে।
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়।
- এই মামলার বিচারের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠিত হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়-
  1. ২৯ মার্চ, ১৯৭০
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু' উপাধি:
- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি লাভে ঢাকায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়।
- পাঁচ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে উক্ত সমাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- উক্ত সভাতেই ‘জয় বাংলা' স্লোগানের উদ্ভব ঘটে।
- সভায় ‘বঙ্গবন্ধু’ ছয়দফা ও এগার দফা দাবি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন কোন শিক্ষক?
  1. ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা
  3. ড. শামসুজ্জোহা
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

◉ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ ঠেকাতে তিনি সামনে এগিয়ে যান এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন।

অন্যদিকে,
- ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং মুনীর চৌধুরী—তিনজনই ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহিদ হন। তাঁদের মৃত্যু বাঙালি জাতির জন্য গভীর শোকের বিষয় হলেও, তা গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নয়। তাই প্রশ্নের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ড. শামসুজ্জোহাই সঠিক উত্তর

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- শহিদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ  সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।

১২৪.
পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে ১৯৬৮ সালের কত তারিখে?
  1. ১ জানুয়ারি
  2. ৩ জানুয়ারি
  3. ৮ জানুয়ারি
  4. ১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামী ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
- যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১২৫.
বঙ্গবন্ধু ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে' কি নামে নামকরণ করেছিলেন?
  1. পশ্চিম-পাকিস্তান ষড়যন্ত্র মামলা
  2. করাচি ষড়যন্ত্র মামলা
  3. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  4. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:  
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগরতলা মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে।
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

♣ ১৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- আসামী মোট ৩৫ জন। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন 'ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।   

- ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে বাধ্য হয়ে আইয়ুব-মোনায়েম সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে। শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করা হয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৬.
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল কী ছিল?
  1. ৭০ এর নির্বাচন স্থগিত
  2. ছয় দফা বাতিল
  3. আইয়ুব খানের পতন
  4. ৬২ এর শিক্ষানীতি বাতিল
ব্যাখ্যা

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
→ আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়। 
→ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন। 
→ ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
→ আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন। 
→ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
→ আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
→ এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. জিল্লুর রহমান
  2. আব্দুর রাজ্জাক
  3. তোফায়েল আহমেদ
  4. আমির হোসেন আমু
ব্যাখ্যা
'বঙ্গবন্ধু' উপাধি:

- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি লাভে ঢাকায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি (১৯৬৯) ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
- পাঁচ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে উক্ত সমাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবনায় শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- উক্ত সভাতেই ‘জয় বাংলা' স্লোগানের উদ্ভব ঘটে।
- সভায় ‘বঙ্গবন্ধু’ ছয়দফা ও এগার দফা দাবি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
১১ দফা কর্মসূচি কারা ঘোষনা করে?
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
  4. ছাত্র ফেডারেশন
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:

- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৯.
ঊনসত্তরের গণঅভুত্থানের সময় “সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয়েছিলো কত তারিখে?
  1. ক) ১৯৬৯ সালে ২ জানুয়ারি
  2. খ) ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
  3. গ) ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি
  5. ঙ) ১৯৬৯ সালের ৩১ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১দফা দাবি পেশ করে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ’ (ডাক) নামক একটি মোর্চা গঠন করে ৮ দফা দাবি পেশ করে।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)
১৩০.
আসাদুজ্জামান আসাদ কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শহীদ হন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদের স্মরণে শেরে বাংলা নগরের ‘আইয়ুব গেট’ ও ‘আইয়ুব এভিনিউ’ এর নাম পাল্টে যথাক্রমে ‘আসাদ গেট’ এবং ‘আসাদ এভিনিউ’ করা হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৩১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) ক্যাপ্টেন শওকত আলীকে
  2. খ) ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজুল্লাহকে
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
  4. ঘ) ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে করে গণআন্দোলন আরো প্রবল হয় এবং ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া]
১৩২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. লাহোর সুপ্রিম কোর্ট
  2. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  3. ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  4. ইসলামাবাদ হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”।
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৩৩.
আসাদগেট নামের পটভূমির সাথে জড়িত কোন সন?
  1. ১৯৪৭ সন
  2. ১৯৫২ সন
  3. ১৯৬৯ সন
  4. ১৯৭১ সন
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ১১ দফা দাবি আদায়ের প্রেক্ষিতে গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
• গণ-আন্দোলনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে হওয়ায় ঢাকাবাসী আসাদের স্মৃতি রক্ষার্থে আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আসাদগেট।
• প্রতিবছর ২০ জানুয়ারি আসাদ দিবস পালিত হয়।
১৩৪.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে যুক্ত হতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র শহিদ হয়েছিলেন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. শামসুজ্জোহা
  3. জহরুল হক
  4. জব্বার
ব্যাখ্যা
শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- তাই ২০ জানুয়ারি 'শহীদ আসাদ দিবস' পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- আসাদ গেট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের লালমাটিয়ায় অবস্থিত একটি তোরণ।
- এর আগের নাম আইয়ুব গেট। 
- পুলিশের গুলিতে আসাদ শহীদ হলে বিক্ষুদ্ধ জনতা সেই সময়ই ছুটে যান মোহাম্মদপুর তৎকালীন আইয়ুব গেটের সামনে এবং প্রতিবাদের ক্ষুদ্ধ প্রতীক হিসাবে আইয়ুব গেটের নামফলক গুড়িয়ে দিয়ে রক্ত দিয়েই লেখেন আসাদ গেট।
- আসাদের স্মৃতি রক্ষার জন্য ঢাকাবাসী আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেট রাখেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. ঘ) আতাউল গণি উসমানী
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

১৩৬.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কোন শাসকের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
⇒ ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 

- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩৭.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. ড: শামসুজ্জোহা
  2. জহুরুল হক
  3. আসাদুজ্জামান
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ -এর আন্দোলন বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেজন্য এ আন্দোলন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নামে অভিহিত হয়েছে।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হল।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় কোন সংগঠন?
  1. সর্বদলীয় ছাত্র আন্দোলন পরিষদ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
  4. ছাত্র সংগ্রাম কমিটি
ব্যাখ্যা
১১ দফা আন্দোলন: 
- ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যালয়ে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। 
- 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয়।
- এ কর্মসূচি শুধু ছাত্রদের নয়, আপামর জনগণের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
- ১১ দফা দাবির মধ্যে ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে ছিল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ শিক্ষার সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধি, বাক্ স্বাধীনতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, জরুরি আইন, নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য নির্যাতনমূলক আইন প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ, অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩৯.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল?
  1. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  2. সার্জেন্ট আমিনুল ইসলাম
  3. সার্জেন্ট মহিদুল ইসলাম
  4. সার্জেন্ট শামসুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪০.
নিচের কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি’ গঠিত হয়?
  1. ক) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. গ) ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারি
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর সমন্বয়ে ‘ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক)’ গঠিত হয়।
- এই জোটে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিলো।
- পাকিস্তানে ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খান আবদুল ওয়ালী খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবিতে এই জোট গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

১৪১.
আগরতলা মামলার বিচারকার্য ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. এস.এ.রহমান
  2. এম.আর.খান
  3. মকসুমুল হাকিম
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয় কবে?
  1. ১৪ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  2. ১৬ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  3. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪৩.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য কোথায় শুরু হয়?
  1. লাহোর সুপ্রিম কোর্ট
  2. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
  3. করাচি দায়রা জজ আদালত
  4. ঢাকা দায়রা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ কে জারি করেন?
  1. ইয়াহিয়া খান 
  2. ইস্কান্দার মীর্জা
  3. আইয়ুব খান
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র :
- মৌলিক গণতন্ত্র ১৯৬০-এর দশকে জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রবর্তিত একটি স্থানীয় সরকার পদ্ধতি।
-মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ জারি হয় - ২৭ অক্টোবর ১৯৫৯ সাল।
-এ সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসনিক কাঠামো ৪ স্তর বিশিষ্ট ছিল-
১. ইউনিয়ন পরিষদ।
২. থানা পরিষদ।
৩. জেলা পরিষদ।
৪. বিভাগীয় পরিষদ।
তাছাড়াও,
- একজন চেয়ারম্যান এবং প্রায়শ ১৫ জন সদস্য নিয়ে একেকটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হতো।
- সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিনিধি নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের থানা পরিষদ গঠিত হতো।
- তৃতীয় স্তরে ছিল জেলা পরিষদ। একজন চেয়ারম্যান এবং সরকারি ও বেসরকারি সদস্যদের নিয়ে এ পরিষদ গঠিত হতো।
- চতুর্থ ও শীর্ষ স্তর ছিল বিভাগীয় পরিষদ। বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকারবলে এ পরিষদের চেয়ারম্যান থাকতেন।

উল্লেখ্য যে,
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৪৫.
How many accused persons were there in the Agartala conspiracy case?
  1. ক) 34
  2. খ) 35
  3. গ) 36
  4. ঘ) 37
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৬.
ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে ১১দফা ঘোষণা করেন কোন সংগঠন?
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. আওয়ামী লীগ
  4. সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
•১১ দফা:
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল মূলতঃ আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্র- জনতার তীব্র আন্দোলন।
- আসাদ, মতিয়র, সার্জেন্ট জহুরুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ শামসুজ্জোহার মৃত্যু এই আন্দোলনকে প্রাণ দিয়েছিল।
- আর ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি বা দাবী এ আন্দোলনকে করে তুলেছিল তীব্র।
- যার ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন আর পরবর্তী শাসক ইয়াহিয়া খানও ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
কে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ নন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. রফিক উদ্দিন
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
রফিক উদ্দিন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ। আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। মতিউর রহমান মল্লিক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মুহম্মদ শামসুদ্দোহা, শহীদ আনোয়ারা বেগম, শহীদ রুস্তম উনারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৮.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ কয় দফা দাবি ঘোষণা করেন?
  1. চার
  2. ছয়
  3. এগারো
  4. একুশ
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। 
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। 
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়। 
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হন কত তারিখে?
  1. ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  3. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ২৩ জানুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন।
- ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
- আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
কোন শাসকের সময়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. টিক্কা খান
  3. জুলফিকার আলী
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’। তবে এটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  2. লাহোর সুপ্রিম কোর্ট
  3. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  4. ইসলামাবাদ হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”।
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের হয়-
  1. ক) আগরতলা
  2. খ) লাহোর
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) করাচি
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

আওয়ামী লীগ এবং সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫০ জন সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। সেই যুদ্ধে ভারতের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন। 

এ কারণে ১২-১৫ জুলাই, ১৯৬৭ আগরতলায় আওয়ামী লীগ নেতা আলী রেজা এবং মুজিবুর রহমান বৈঠক করেন ভারতের ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে। ভারতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পূর্বেই অক্টোবর, ১৯৬৭ পরিকল্পনাকারীদের একজন আমির হোসেন ৬৮ পৃষ্ঠায় গোপন তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে গোয়েন্দা বিভাগে ফাঁস করে দেয়। শুরু হয় গ্রেফতার।

৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ - আইয়ুব খান সরকার ঢাকায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।

- শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা দায়ের করা হয়।
- এ মামলার মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন।
- মামলাটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' যা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে বেশি পরিচিত।
- ১নং আসামি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৭নং আসামি ছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক (বিমানবাহিনী)।

১৯ জুন, ১৯৬৮ - ঢাকা সেনানিবাসে এ-মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৩.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে কোন জোটটি গঠিত হয়েছিলো?
  1. কম্বাইন্ড অপজিশন কমিটি
  2. ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি
  3. ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স
  4. অল পাকিস্তান ফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর সমন্বয়ে ‘ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক)’ গঠিত হয়।
- এই জোটে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিলো।
- পাকিস্তানে ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খান আবদুল ওয়ালী খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবিতে এই জোট গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৫৪.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কত দফা প্রণয়ন করা হয়েছিল?
  1. ক) ৭ দফা
  2. খ) ৯ দফা
  3. গ) ১১ দফা
  4. ঘ) ১৩ দফা
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৫.
আগরতলা মামলার বিচারকার্যে ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন -
  1. এম.আর.খান
  2. মকসুমুল হাকিম
  3. এস.এ.রহমান
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
'আসাদ গেট' কোন আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে?
  1. ছয় দফা আন্দোলন
  2. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- তাই ২০ জানুয়ারি 'শহীদ আসাদ দিবস' পালিত হয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে কোনটি প্রণীত হয়?
  1. এক দফা
  2. ছয় দফা
  3. এগারো দফা
  4. একুশ দফা
ব্যাখ্যা

→ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১১ দফা প্রণীত হয়।

১১ দফা কর্মসূচি:
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৮.
আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন? 
  1. আব্দুস সাত্তার
  2. এস.এ. রহমান
  3. ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড 
  4. টমাস উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী:

• যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী প্রেরণ করেন।
• প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন। 
• তিনি ৫ আগস্ট, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।
• তিনি ব্রিটেনের বাসিন্দা ছিলেন। 
• তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। 
• পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান আইনজীবী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান। 
• ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ. রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম। 
• প্রথম শুনানি শুরু হয় ১৯ জুন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের পর ২৯ জুলাই পুনরায় শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৯.
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) জেনারেল আইয়ুব খানের পতন
  2. খ) বাংলার স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা

- ১৯৬৬ সালে ছয় দফা উত্থাপিত হওয়ার পর দ্রুত তা বাংলার গ্রামগঞ্জে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি ছয়দফা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।
- এরই প্রেক্ষাপটে দায়ের করা হয় ষড়যন্ত্রমূলক আগরতলা মামলা।
- আগরতলা মামলা ছিল সামরিক একনায়ক আইয়ুব খানের শাসনামলের এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।
- বাঙ্গালির অধিকার আদায়ের লড়াই নস্যাৎ করতে এবং আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির ময়দান হতে নির্মূল করতে পাকিস্তানী শাসক চক্র এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে।

- আগরতলা মামলার প্রথমদিকে শেখ মুজিবুর রহমানকে যুক্ত করা হয়নি।
- কিন্তু ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে প্রধান আসামী করে পূর্বের ২৮ জনসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা ও পরিচালনা'র অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।
- এক্ষেত্রে অভিযোগনামায় বলা হয়, শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ও ভারতের সহযোগিতায় অভিযুক্ত সামরিক সদস্যরা পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬০.
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচী কোন ঘটনার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন
  3. ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন
  4. ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান :
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন দানা বাঁধে, তা একসময় ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দুর্বার আন্দোলন, যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
- ৮ই ডিসেম্বর প্রধান বিরোধী দলগুলোর ডাকে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আওয়ামী লীগের ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৬১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কতজন রাজসাক্ষী ছিলেন?
  1. ৭ জন
  2. ৯ জন
  3. ১১ জন
  4. ১৩ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬২.
শহীদ আসাদ কে ছিলেন?
  1. ভাষা আন্দোলন এর শহীদ
  2. শাসনতন্ত্র আন্দোলন এর শহীদ
  3. গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ
  4. মুক্তিযুদ্ধের এর শহীদ
ব্যাখ্যা
শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।

- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক।
- আসাদের মৃত্যুতে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬৩.
শেখ মুজিবুর রহমানকে কত তারিখ 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে
  3. ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে
  4. ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গবন্ধু' উপাধি:

- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি লাভে ঢাকায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়।
- পাঁচ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে উক্ত সমাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবনায় শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- উক্ত সভাতেই ‘জয় বাংলা' স্লোগানের উদ্ভব ঘটে।
- সভায় ‘বঙ্গবন্ধু’ ছয়দফা ও এগার দফা দাবি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
আগরতলা মামলার বিচারকার্য ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. এস.এ.রহমান
  2. টি.এইচ.খান
  3. এম.আর.খান
  4. মকসুমুল হাকিম
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৫.
আগরতলা মামলায় রাজসাক্ষী সহ মোট সাক্ষীর সংখ্যা কতজন ছিল?
  1. ২২২ জন
  2. ২২৪ জন
  3. ২২৭ জন
  4. ২২৯ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
নিচের কোনটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে রচিত নয়?
  1. ক) মন না মতি
  2. খ) ঘর মন জানালা
  3. গ) আর্তনাদ
  4. ঘ) চিলে কোটার সেপাই
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলন নিয়েই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক এবং প্রবন্ধ রচিত হয়েছে।
এর মধ্যে জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন,
দিলারা হাশেমের ঘর মন জানালা,
আনিস সিদ্দিকীর মন না মতি,
শওকত ওসমানের আর্তনাদ উপন্যাস উল্লেখযোগ্য। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত সৃষ্টি চিলে কোটার সেপাই ’৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত।
সূত্র : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করা হয় কবে?
  1. ক) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
  2. খ) ০৩ জানুয়ারি ১৯৬৮
  3. গ) ১৯ জুন ১৯৬৮
  4. ঘ) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। বিচারের জন্যে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি এস এ রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন এম আর খান এবং মুকসুমুল হাকিম।
বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৌশুলী ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম, আব্দুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। সরকার পক্ষে প্রধান কৌশুলী ছিলেন মঞ্জুর কাদের এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল টি এইচ খান।
এই মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে প্রবল আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৬৮.
আসাদুজ্জামান আসাদ কবে পুলিশের গুলিতে নিহত হন?
  1. ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ১৮ জানুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি
  4. ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ৮ই জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে 'গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' (ডাক) নামক মোর্চা গঠন করে এবং ৮ দফা দাবি পেশ করে।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ডাকসুর আহ্বানে ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৮ই জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট পালন করে।
- ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন।
- হরতাল পালনকালে (১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১৬৯.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ কত সালে গঠন করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৫২ সালে
  3. গ) ১৯৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দু কারারুদ্ধ হলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে তখন ছাত্ররা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ডাকসু কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। 
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি ছিল-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি,
বাক-স্বাধীনতা,
ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ,
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান,
ট্রেড ইউনিয়ন গঠন,
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার,
জরুরি আইন,
নিরাপত্তা আইন ও
অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৭০.
ড. শামসুজ্জোহা কে ছিলেন?
  1. সার্জেন্ট
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
  4. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থান এর ঘটনাবলি: 
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- জহুরুল হকের হত্যার প্রতিবাদে ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করে।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে আন্দোলন আরও বেগবান হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।
- আইয়ুব খান বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আহ্বান করলে নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
- আইয়ুব খান বুঝতে পারেন, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও অভিযুক্তদের মুক্তি না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
- অবশেষে গণঅভ্যুত্থানের চাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান ঘোষণা দেন, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হবেন না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৭১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়?
  1. ২৯ জন
  2. ৩৪ জন
  3. ৩৫ জন
  4. ৪৪ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র' মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কী নামকরণ করেছিলেন?
  1. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  2. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  3. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  4. পশ্চিম পাকিস্তান ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭৩.
কে ৬৯-গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ হন?
  1. আবুল হাসনাত
  2. মোহাম্মদ রফিক
  3. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. রাফাতুল রাহাত
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান :
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন দানা বাঁধে, তা একসময় ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দুর্বার আন্দোলন, যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
-  ৮ই ডিসেম্বর প্রধান বিরোধী দলগুলোর ডাকে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আওয়ামী লীগের ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ডাকসুর আহ্বানে ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৮ই জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট পালন করে।
- ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন। হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।   
 - আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়।
- ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- জহুরুল হকের হত্যার প্রতিবাদে ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে আন্দোলন আরও বেগবান হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।
- পশ্চিম পাকিস্তানেও আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।
- ২২শে মার্চ আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে অপসারণ করেন।
- তাতেও গণআন্দোলন থামানো যায়নি।
- ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৭৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী কে ছিলেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) আ. স. ম. আবদুর রব
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৭৫.
১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি কে ছিলেন? 
  1. ক) আব্দুর রউফ
  2. খ) তোফায়েল আহমেদ
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ

- ১৯৬৬ সালের ছয় দফার জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সমাজ আইয়ুব খান বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

- এরই প্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্রুপ) ও ডাকসুর উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে 'এগার দফা কর্মসূচি' বা দাবি ঘোষণা করে।
- ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
-  ১১ দফা আন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৭৬.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে কতজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিহত হোন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন 
  3. ৩ জন 
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:

• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
• এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন।   
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলিতে ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
• তিনি ছিলেন দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। 
• তাঁর স্মরনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে “স্ফুলিঙ্গ” নামে একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয়।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৭৭.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি প্রদান করেন -
  1. ক) শামসুল হক
  2. খ) আ স ম আব্দুর রব
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
• মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা (১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯) নিহত হলে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৮.
বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কী নামকরণ করেছিলেন?
  1. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  2. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  3. রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র মামলা
  4. পশ্চিম পাকিস্তান ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭৯.
শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্যটির নাম কী?
  1. সংশপ্তক
  2. সাবাস বাংলাদেশ
  3. স্ফুলিঙ্গ
  4. তর্জনী
ব্যাখ্যা
• ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:
- ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ শামসুজ্জোহা দিবস।
- ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন ড. শামসুজ্জোহা।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী হটাও আন্দোলন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিসহ আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে ফুঁসে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনিই পাক-হানাদারদের হাতে নিহত প্রথম বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে নির্মিত হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য ‘স্ফুলিঙ্গ’।

উৎস: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।
১৮০.
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় কীভাবে?
  1. ৬ দফা দাবির মাধ্যমে
  2. ৮ দফা দাবির মাধ্যমে
  3. ১১ দফা দাবির মাধ্যমে
  4. ২১ দফা দাবির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগ্রাম পরিষদ।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা। 
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই উনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৮১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ফাঁস করেন কে?
  1. ক) আমির আবদুল্লাহ খান
  2. খ) আমির হোসেন
  3. গ) মোহাম্মদ আমির আহমেদ
  4. ঘ) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• আগরতলা মামলা:
- আওয়ামী লীগ এবং সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫০ জন সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করে।
- পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। সেই যুদ্ধে ভারতের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন।
- ১২-১৫ জুলাই, ১৯৬৭ আগরতলায় আওয়ামী লীগ নেতা আলী রেজা এবং মুজিবুর রহমান বৈঠক করেন ভারতের ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে।
- ভারতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পূর্বেই অক্টোবর, ১৯৬৭ পরিকল্পনাকারীদের একজন আমির হোসেন ৬৮ পৃষ্ঠায় গোপন তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে গোয়েন্দা   বিভাগে ফাঁস করে দেয়।
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দানে বাধ্য হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক ও বাংলাপিডিয়া।
১৮২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবী ছিলেন কে?
  1. থমাস ডগলাস
  2. অ্যাডওয়ার্ড এনরবি
  3. টমাস উইলিয়াম
  4. মার্শাল ফিল্ড
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৮৩.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য কোথায় শুরু হয়?
  1. ঢাকা হাইকোর্ট
  2. লাহোর
  3. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  4. ইসলামাবাদ
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. ক) এস.এ.রহমান
  2. খ) এস.আর.খান
  3. গ) মকসুদুল হাকিম
  4. ঘ) টি.এইচ.খান
ব্যাখ্যা
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- অন্যদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়। এ সময় স্যার টমাস উইলিয়াম ট্রাইবুনালে উপস্থিত ছিলেন ।
- তিনি ৫ জুলাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইবুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের কোন আইনজীবীকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন?
  1. রবার্ট হেনরি কেইন
  2. টমাস উইলিয়াম এমপি
  3. উইলয়াম গোল্ডিং লেসিং
  4. ফিলিপ পল অ্যান্ডারসন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কোন স্বৈরশাসকের পতন ঘটে? 
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জেনারেল নওয়াজ শরীফ
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন:
- ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন
- এর পূর্বে তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন।
- জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে।
- গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ববাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৫৮ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন ও পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. সার্জেন্ট শামসুল হককে
  2. সার্জেন্ট জহুরুল হককে
  3. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরীকে
  4. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনকে
ব্যাখ্যা
⇒ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণ অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
 
তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি কে ছিলেন?
  1. ক) এম. এ. জি. ওসমানী
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) এ.কে ফজলুুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারী। এতে বঙ্গবন্ধু সহ ৩৫ জনকে আসামী করা হয়। কিন্তু প্রবল গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী এ মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং আসামীদের মুক্তি দিতে পাক সরকার বাধ্য হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী বোর্ড বই
১৮৯.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  2. ইসলামাবাদে
  3. লাহোরে
  4. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯০.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় কবে?
  1. ১৬ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
  3. ২১ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
  4. ২৪ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ.রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. স্যার টমাস উইলিয়াম
  3. উইলিয়াম হান্টার
  4. উইলিয়াম জোন্স
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হয়েছিলেন কে?
  1. জেহাদ হোসেন
  2. নূর হোসেন
  3. ডা. মিলন
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান।
- জনতার রুদ্ররোষ এবং গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। 
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন। 

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ও প্রথম আলো।
১৯৩.
১৯৬৯ সালে নিম্নের কোন সংঘঠন ১১দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ক) সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ
  2. খ) সম্মিলিত রাজনৈতিক দল
  3. গ) ছাত্র সংগ্রাম কমিটি
  4. ঘ) সম্মিলিত বিরোধী জোট
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ)-এর নেতৃবৃন্দ ‘ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে এবং তাদের ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
-  ১১ দফার মধ্যে ১৯৬৬ সালে  শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত ৬ দফার সাথে ছাত্র সমস্যাকেন্দ্রিক দাবি দাওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ সংক্রান্ত দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 
- বস্ত্তত ১১ দফা কর্মসূচীর মাধ্যমে ছাত্র নেতৃবৃন্দ যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি আন্দোলনগত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- তাছাড়া এসময় থেকেই শেখ মুজিবের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে শুরু করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-সহ ছাত্র সংগ্রাম কমিটির পূর্ব বাংলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঊনসত্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
১৯৪.
শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. খন্দকার মোস্তফা হারুন
  4. মাওলানা ভাষানী
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
- ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল বন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে তোফায়েল আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৫.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সূত্রপাত হয় কী বিষয়কে কেন্দ্র করে? 
  1. ছাত্রসমাজের অসন্তোষকে
  2. সামরিক বাহিনীর অসন্তোষকে
  3. রাজনৈতিক নেতাদের অসন্তোষকে
  4. সরকারি কর্মকর্তাদের অসন্তোষকে
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৬.
নূর হোসেন কোন আন্দোলনে শহিদ হন?
  1. ১৯৬৯ এর আন্দোলনে
  2. ১৯৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনে
  3. মুক্তিযুদ্ধে
  4. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে
ব্যাখ্যা
নূর হোসেন:
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরের একটি মিছিলে বুকে- ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এবং পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।
- মিছিল রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালালে শহিদ হন নূর হোসেন।
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য আত্মাহুতি দেয়া ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’ ১০ নভেম্বর।

উল্লেখ্য,
⇒ নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
১৯৭.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ২০ জানুয়ারি
  2. ২৪ জানুয়ারি
  3. ১৬ জানুয়ারি
  4. ১৮ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান।
- জনতার রুদ্ররোষ এবং গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। 

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক। 
১৯৮.
আগরতলা পরিকল্পনা ফাঁসকারী কে?
  1. ক) শামসুল আলম
  2. খ) টি. এইচ. খান
  3. গ) মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. ঘ) আমীর হোসেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে।
স্বাধীনতার পরিকল্পনা ফাঁস করেন- পাকিস্তান ইন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদস্য আমির হোসেন। এই মামলার দ্বিতীয় প্রধান আসামি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (তিনি আগরতলা পরিকল্পনার প্রধান নেতা)।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামি ছিল ৩৫ জন। এই মামলা প্রত্যাহার করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
১৯৯.
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে কোথায়?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) লাহোরে
  3. গ) করাচিতে
  4. ঘ) পাঞ্জাবে
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তান গণপরিষদ পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে গঠিত হয়।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে ১৯৪৭ সালের ১০ আগস্ট করাচিতে।
- ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট ১৯৪৭-এর শর্তানুযায়ী দুটি গণপরিষদের একটি স্থাপিত হয় ভারতে এবং অপরটি পাকিস্তানে।
- ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
-ভারতের স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী গণপরিষদের দুটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল: দেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত একটি ফেডারেল আইনসভা (সংসদ) হিসেবে কাজ করা।

সোর্স: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রফেসর মোঃ মজাম্মেল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।

২০০.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘এগারো দফা’ প্রণীত হয়?
  1. ক) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ এর প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে ‘এগারো দফা’ দাবী ঘোষণা করা হয়।
এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
যার কারণে ‘এগারো দফা’ পূর্ব বাংলার সকল স্তরের জনসাধারণের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)