বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Limitation Act, 1908

মোট প্রশ্ন১,০৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Limitation Act, 1908

PrepBank · পাতা / ১১ · ৭০১৮০০ / ১,০৫৪

৭০১.
তামাদি আইনে বিভিন্ন দরখাস্ত দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৫১ থেকে ১৮৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩
  3. অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৮৩
  4. অনুচ্ছেদ ১৫৫ থেকে ১৮৩
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits] 
অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]
অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]
অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
৭০২.
তামাদি আইন অনুযায়ী, লিখিত কুৎসা (Libel) দ্বারা মানহানির মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৬ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২৪ অনুযায়ী, লিখিত কুৎসা (Libel) দ্বারা মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে হলে, কুৎসামূলক বিষয় প্রকাশিত হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
- এর অর্থ, যখন কুৎসামূলক লিখিত বিষয়টি প্রকাশিত হবে, তখন সেই তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৭০৩.
তামাদি আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী কী ঘটে যদি বাদী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হয়?
  1. মামলা স্বীকৃত হয়
  2. মামলা স্থগিত থাকে
  3. মামলা রিভিউ করা হয়
  4. মামলা বাধ্যতামূলক খারিজ হয়
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, যদি কোনো বাদী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা, আপিল বা আবেদন দায়ের করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই মামলা, আপিল বা আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে খারিজ হয়ে যাবে, এমনকি যদি বিবাদী তামাদি প্রশ্নটি প্রতিরক্ষা হিসেবে উত্থাপন না করে। এই ধারা স্পষ্টভাবে বলে যে, প্রথম তফসিলে উল্লিখিত তামাদি মেয়াদের পরে দায়েরকৃত কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না ধারা ৪ থেকে ২৫-এর বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হয়।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
ধারা ৩-এর বিধান: এই ধারা তামাদি আইনের মূল নীতির প্রতিফলন ঘটায়, যা নিশ্চিত করে যে বিচারপ্রার্থীকে তার অধিকার আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি বাদী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালতের কাছে মামলাটি খারিজ করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। এটি আইনের “Equity aids the vigilant, not the indolent” নীতির প্রকাশ, যার অর্থ যিনি সতর্ক থাকেন, তিনিই ইকুইটি পান; উদাসীন ব্যক্তি পান না।
উদাহরণ: ২০ ডিএলআর (West Pakistan) ১৩৩ মামলায় আদালত বলেছেন, যদি তামাদি মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে মামলা খারিজ হয়ে যাবে, এমনকি আরজি প্রত্যাহারের আদেশও মামলা খারিজ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, পরবর্তীতে একই বিষয়ে মামলা দায়ের করলে তা দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১-এর রেস জুডিকাটা নীতির দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হবে।
ব্যতিক্রম: ধারা ৪ থেকে ২৫-এর বিধান (যেমন, আদালত বন্ধ থাকা, বৈধ অপারগতা, প্রতারণা, ভুল আদালতে মামলা ইত্যাদি) প্রযোজ্য হলে তামাদি মেয়াদ বাড়ানো বা বাদ দেওয়া যেতে পারে।
- অর্থাৎ তামাদি আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী, বাদী যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের করতে ব্যর্থ হয়, তবে মামলাটি বাধ্যতামূলকভাবে খারিজ হয়ে যায়। এটি তামাদি আইনের কঠোর বিধান, যা নিশ্চিত করে যে বিচার প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা বজায় থাকে।

৭০৪.
জমির স্বত্ব ঘোষণা ছাড়াই শুধু দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়েরে তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৯ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা বেদখল হওয়ার দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে করতে হবে।
♦আইন বহির্ভূতভাবে ও সম্মতি ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত করা হলে, উক্ত স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারামতে মামলা করা যাবে। বাদীকে যে যথাযথ আইনের মাধ্যম ছাড়াই বেদখল করেছে, সে যদি মূল মালিকও হয় কিংবা তার দ্বারা কোন দাবিদারও হয় তবু বাদী তার দখলচ্যুতির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে তার স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় মামলা করতে পারবে। ৯ ধারামতে যিনি স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিলেন, তিনিই মামলা করতে পারেন। কেননা এই ধরনের মামলায় শুধু বাদীর দখল এবং বেদখল প্রমাণ করতে হয় এবং ৯ ধারার অধীনে দখল উদ্ধারের মামলায় স্বত্বের প্রশ্ন অবান্তর।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য উক্ত সম্পত্তিতে দখল এবং বিগত ৬ মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া প্রমাণ করতে হবে, তবে স্বত্ব প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য যে, ৮ ধারায় দখল প্রমাণের প্রয়োজন নেই তবে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে।
৭০৫.
তামাদি আইনের ১৪(১) ধারা অনুযায়ী, কোন সময় তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়?
  1. আদালতের ছুটির সময়
  2. বাদী মামলা দায়েরের দিন
  3. বিবাদীর অনুপস্থিতির সময়
  4. বাদী সৎ উদ্দেশ্যে এখতিয়ারবিহীন আদালতে কার্যক্রম চালানোর সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৪(১) (Section 14(1), Limitation Act, 1908) অনুসারে, যখন বাদী সৎ উদ্দেশ্যে (in good faith) ও যথাযথ যত্নসহকারে (with due diligence) একটি মামলা পরিচালনা করে এমন একটি আদালতে, যার এখতিয়ার (jurisdiction) নেই বা যে কোনো অনুরূপ কারণে মামলা গ্রহণে অক্ষম, তখন সেই কার্যক্রম পরিচালনার সময়কাল তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪: এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে কার্যক্রমের সময় বাদ দেওয়া:
(১) যেকোনো মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, বাদী যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে অন্য একজন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এবং সৎ উদ্দেশ্যে সেই আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।
(২) কোনো আবেদনটির জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, আবেদনকারী যদি একই পক্ষের বিরুদ্ধে একই ক্ষতিপূরণের জন্য অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি সৎ উদ্দেশ্যে এমন একটি আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section-14: Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
Explanation I - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted.
Explanation II - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.
Explanation III - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
৭০৬.
তামাদি আইনের অনুসারে অবিলম্বে পরিশোধযোগ্য মুজ্জ্বল দেনমোহরের (Deferred Dower) জন্য মুসলিম মহিলার মামলার তামাদি শুরু হয় কখন?
  1. যখন পরিশোধ করতে অস্বীকার করা হয় 
  2. স্বামীর মৃত্যুর তারিখ থেকে
  3. তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদের তারিখ থেকে
  4. উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন অনুসারে অবিলম্বে পরিশোধযোগ্য মুজ্জ্বল দেনমোহরের (Deferred Dower) জন্য মুসলিম মহিলার মামলার তামাদি শুরু হয়:
- যখন পরিশোধ করতে  অস্বীকার করা হয়

- অথবা স্বামীর মৃত্যু বা তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদের তারিখ থেকে।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৩ ধারা অনুযায়ী, অবিলম্বে পরিশোধযোগ্য মুজ্জ্বল দেনমোহরের (Exigible Dower) জন্য একজন  মুসলিম মহিলার মামলা করার তামাদি কাল ৩ বছর। এই সময়সীমা গণনা শুরু হয় মোহর তলব করা হলে যখন পরিশোধ করতে 
 অস্বীকার করা হয় অথবা স্বামীর মৃত্যু বা তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদের তারিখ থেকে।
- সুতরাং সঠিক উত্তর সবকটি।
--------------------
⇒ According to Article 103 of the Limitation act,1908: The period of limitation for exigible dower (mu'ajjal) By a Muslim is
3 years. The period begins from the time when the dower is demanded and refused or (where, during the continuance of the marriage no such demand has been made) when the marriage is dissolved by death or divorce.

৭০৭.
বিবাদী কর্তৃক একতরফা ডিক্রি রদের দরখাস্ত দাখিল করার তামাদি-
  1. ৩০ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬৪

বিবাদী কর্তৃক একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ লাভের জন্য দরখাস্ত [to set aside an order of exparte decree] দাখিল করার তামাদি ডিক্রির তারিখ অথবা যে ক্ষেত্রে সমন যথারীতি জারী হয়নি, সেক্ষেত্রে দরখাস্তকারী যখন ডিক্রির বিষয় অবগত হয় তার ৩০ দিনের মধ্যে।
৭০৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না?
  1. এজাহার দাখিলের ক্ষেত্রে
  2. FIR এর মাধ্যমে থানায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
  3. Complaint এর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
  4. উপরের উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ ফৌজদারি মূল মামলা অর্থাৎ এজাহার, এফ আই আর বা অভিযোগ/নালিশ (complaint) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- তামাদি আইন দ্বারা ফৌজদারী মামলা বাধাপ্রাপ্ত হয় না।
- তবে ফৌজদারি আপিল, রিভিশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন।

অর্থাৎ তামাদি আইন ফৌজদারি মূল মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োগ হয় না। তবে ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

৭০৯.
নিষেধাজ্ঞা বা আদেশের কারণে মামলা স্থগিত থাকলে তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে কী করতে হবে?
  1. নিষেধাজ্ঞার সময় বাদ দিতে হবে
  2. নিষেধাজ্ঞার সময় গণনা করতে হবে
  3. নিষেধাজ্ঞার শেষে মামলা করতে হবে
  4. কোনো পরিবর্তন করতে হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হবে:
(১) যেই মামলা বা ডিক্রী জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন তা নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেই দিন তা প্রদত্ত হয়েছিল এবং যেই দিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।

(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।
--------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-15: Exclusion of time during which proceedings are suspended:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded. 
 
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.
৭১০.
‘ক’ একটি রাস্তার পাশের জমির মালিক। ‘খ’ তার জমির নিচে টানেল তৈরি করে, যা তাৎক্ষণিকভাবে ‘ক’-এর জমির কোনো ক্ষতি করেনি। কয়েক বছর পর টানেলের কারণে ‘ক’-এর জমির একটি অংশ ধসে পড়ে। ‘ক’ যদি ক্ষতিপূরণ মোকদ্দমা দায়ের করতে চায়, তবে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে-
  1. যখন ‘খ’ টানেল তৈরি শুরু করে
  2. যখন টানেল তৈরি শেষ হয়
  3. যখন ‘ক’-এর জমি ধসে পড়ে
  4. 'ক' যে দিন মামলা দায়ের করে সে দিন থেকে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান মতে,
যে কাজের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত নাহলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, সে কাজের দরুন ক্ষতিপূরণ মামলার জন্য যখন ক্ষতি সাধিত হয় তখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।

⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান:
যে কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।

উদাহরণ:
'ক' একটি জমির উপরিভাগের মালিক। 'খ' ঐ জমির ভূগর্ভের মালিক। উপরিভাগের তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোন ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু অবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এইক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তামাদির মেয়াদ ধসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।
৭১১.
তামাদি আইনের ধারা ২৮ অনুসারে, যদি কেউ নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে দখল প্রাপ্তির মামলা না করে, তবে-
  1. জরিমানা দিতে হয়
  2. সে আপিল করতে পারে
  3. নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়
  4. সম্পত্তিতে তার অধিকার বিলুপ্ত হয়
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৮ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না করলে সম্পত্তির ওপর আইনি অধিকার চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৮ বলছে, "যে কোন ব্যক্তি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা দায়ের না করে, তাহলে নির্ধারিত সময় উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই তার সে সম্পত্তিতে অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।"
- অর্থাৎ এই ধারা একটি দমনাত্মক বিধান (extinguishing provision)। এটি শুধু মামলা গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন নয়, বরং আইনি অধিকারই বাতিল করে দেয়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.

৭১২.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে কয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে?
  1. ১৪৩ টি
  2. ১৭৩ টি
  3. ১৯৩ টি
  4. ১৮৩ টি
ব্যাখ্যা
⇒ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
- তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।
-বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফশিল বলবৎ আছে। তামাদি আইনের ৩০ থেকে ৩২ (মোট ৩টি) ধারা বাতিল (repeal ) করা হয়েছে।
- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
i. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
ii. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
iii. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
৭১৩.
'ক','খ' ও 'গ' একটি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং 'ঘ' উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিকট ঋণগ্রস্থ হয়। 'খ' উন্মাদ এবং 'গ' জড়বুদ্ধিসম্পন্ন। 'খ' এবং 'গ'-এর সম্মতি ব্যতীত 'ক', দেনাদার 'ঘ'-কে ঋণমুক্ত করতে পারে না। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক','খ' ও 'গ' সকলের বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে
  2. শুধুমাত্র 'ক' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে
  3. 'খ' এবং 'গ' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না
  4. 'ক','খ' ও 'গ' সকলে তামাদির মেয়াদ হতে অব্যাহতি পাবে
ব্যাখ্যা
এক্ষেত্রে 'ক','খ' ও 'গ' সকলে তামাদি আইন,১৯০৮ এর ৭ ধারার অধীন তামাদির মেয়াদ হতে অব্যাহতি পাবে।

• তামাদি আইনের ৬, ৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়েছে সে যদি উক্ত সময় মামলা করতে আইনগতভাবে অপারগ থাকে, তাহলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ কিভাবে গণনা করা হবে তা ৬ থেকে ৯ ধারা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। 

তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority];
২. উন্মাদ [Insanity];
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]।

আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

ধারা ৭: (একাধিক বাদী অথবা দরখাস্তকারীর মধ্যে একজনের অপারগতা)-
যে ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার অধিকারী হয় বা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয় এবং তাদের সকলেই আইনগত অক্ষম হলে তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদি অতিবাহিত হবে না। কিন্তু যদি এমন হয় যে, তাদের মধ্যে এক বা একাধিক ব্যক্তি আইনগতভাবে অক্ষম কিন্তু বাকিরা আইনগতভাবে সক্ষম বা সুস্থ, সেই ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ সকলের বিরুদ্ধে অতিবাহিত হবে। কি হবে না তা নিম্নলিখিত ভাবে নির্ধারণ করতে হবে-

⇒ যে সকল ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ তাদের সম্মতি ছাড়া যে ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ না সে যদি দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে পারে, তাহলে সকলের বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে।

⇒ কিন্তু আইনগতভাবে সক্ষম ব্যক্তি আইনগত অপারগ ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়া দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে, তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না।

যেহেতু 'খ' এবং 'গ'-এর সম্মতি ব্যতীত 'ক', দেনাদার 'ঘ'-কে ঋণমুক্ত করতে পারে না, সেহেতু 'ক','খ' ও 'গ' কারো বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না।

Section 7: Disability of one of several plaintiffs or applicants
Where one of several persons jointly entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is under any such disability, and discharge can be given without the concurrence of such person, time will run against them all: but, where no such discharge can be given, time will not run as against any of them until one of them becomes capable of giving such discharge without the concurrence of the others or until the disability has ceased.
৭১৪.
'A' নাবালক থাকাবস্থায় তার একটি দেওয়ানি মামলা করার অধিকার অর্জন করে, তামাদির সময় গণনা শুরু হবে যখন-
  1. 'A' মামলা করার আগ্রহী হবে
  2. 'A' এর সাবালকত্বের অবসান হবে
  3. 'A' এর নাবালকত্বের অবসান হবে
  4. 'A' মামলা করার অধিকার অর্জন করে তখন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৬ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যত দিন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে।
-নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা হবে।
⇒ অর্থাৎ 'A' এর নাবালকত্বের অবসান হওয়ার পর তামাদির সময় গণনা শুরু হবে।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা:
উপধারা:(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা: (২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা: (৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যেত, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারা: (৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
---------------------------------
⇒ The Limitation Act- Section-6: Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
৭১৫.
'ক', 'খ' এর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে তা হতে লাভ পেলো। এক্ষেত্রে 'খ', 'ক' এর বিরুদ্ধে কখন মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. মুনাফা গ্রহণের ১ বছরের মধ্যে
  2. দখল নেয়ার ১ বছরের মধ্যে
  3. দখল নেয়ার ৩ বছরের মধ্যে
  4. মুনাফা গ্রহণের ৩ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) অনুসারে,

বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো,সুদসহ উক্ত মুনাফাকে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৯ এ বাদীর স্থাবর সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত যে মুনাফা (Mesne Profits) বিবাদী অন্যায়ভাবে গ্রহণ করেছে তার জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে। মুনাফা গ্রহণের ৩ বছরের মধ্যে এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে হবে।
৭১৬.
১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস [Acquittal] আদেশের বিরুদ্ধে কত সময়ের মধ্যে আপিল করতে হবে?
  1. ৩ মাস
  2. ৯০ দিন
  3. ৬ মাস
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচেছদ- ১৫৭

 ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি এর অধীন খালাস [Acquittal] আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে- যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে- ৬ মাস।
৭১৭.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৬(১) অনুসারে, কোন ধরনের সুখাধিকার অর্জনের জন্য ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগ করতে হবে?
  1. ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুখাধিকার
  2. মালিকবিহীন সম্পত্তির অধিকার
  3. বেসরকারি সম্পত্তির অধিকার
  4. সরকারি সম্পত্তির সুখাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ সুখাধিকার হলাে এমন কোন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যকোনো ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
সুখাধিকার দুইভাবে অর্জন হতে পারে যথা:
১) প্রেসক্রিপশন এর মাধ্যমে (by prescription);
২) সুখাধিকার অর্জন এর মাধ্যমে (by easement) যখন সুখাধিকারসমূহ অর্জন হয়।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী-
যে ক্ষেত্রে কোন দালানে আলাে বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে ২০ বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভােগ করা হয়েছে এবং যে ক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নেতিবাচক যাই হােক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে তাতে স্বত্ব দাবি করে অব্যাহতভাবে এবং বিশ (২০) বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভােগ করেছে; সেক্ষেত্রে অনুরূপ আলাে বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার পথ জলস্রোত পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকারর নিরঙ্কুশ ও অলঙ্ঘনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

সরকারি কোনো সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত অধিকার একনাগাড়ে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন ভােগ করতে হবে। সরকারি কোন সম্পত্তি ছাড়া অন্যকোনো সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত জমিতে একনাগাড়ে ২০ বছর পরে ভােগ করতে হবে।
৭১৮.
তামাদি আইনের ৯ ধারা কোন বিষয়ে আলোচনা করে?
  1. তামাদির বিলম্ব মওকুফ
  2. তামাদির গণনার পদ্ধতি
  3. পাওনা আদায়ের নিয়ম
  4. সময়ের অবিরাম চলন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৯ ধারা "সময়সীমার অবিরাম চলন" (Continuous running of time) এর বিষয়টি আলোচনা করে।
এটি নির্ধারণ করে যে একবার তামাদির সময় গণনা শুরু হলে তা কোনো পরবর্তী অপারগতা বা অক্ষমতায় বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, যতদিন না মেয়াদ শেষ হয়, ততদিন সময়ের চলন অব্যাহত থাকবে, তা কোনো ধরনের অসুবিধা বা অক্ষমতা দ্বারা থামানো যাবে না।
তবে একটি ব্যতিক্রম আছে— যদি পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়, তখন তার দায়িত্ব পালনের সময় মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ স্থগিত থাকবে, অর্থাৎ তামাদির সময় স্থগিত হবে যতক্ষণ না দেনাদারের দায়িত্ব শেষ হয়।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৯ ধারার বিধান হল একবার তামাদির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া শুরু করলে মোকদ্দমা দায়েরে পরবর্তী কোন অপারগতা (Disability) বা অক্ষমতা (Inability) দ্বারা তা বন্ধ হবে না। তবে যেক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়েছে সেক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেনার টাকা আদায়ে মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
----------------
⇒ The Limitation Act, 1908- Section 9:- Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
৭১৯.
স্বত্ব ঘোষনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের নিমিত্ত তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

♦ স্বত্ব ঘোষনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের নিমিত্ত তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের ১ম তফসিলে সরাসরি উল্লেখ নাই এজন্য এই ক্ষেত্রে ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ, স্বত্ব ঘোষনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের নিমিত্ত তামাদির মেয়াদ ৬ বছর।
৭২০.
তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুসারে "বৈধ অপারগতা"-র বিধান প্রযোজ্য কার জন্য?
  1. কেবল বাদীর জন্য
  2. কেবল বিবাদীর জন্য
  3. উভয় পক্ষের জন্য
  4. আদালতের জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ মূলত যেসব ব্যক্তি আইনগত কারণে (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদতা বা চরম বুদ্ধিহীনতা) অপারগ— তাদের পক্ষে মামলা দায়ের বা কার্যক্রম গ্রহণ বিলম্বিত হলেও, সেই বিলম্ব তামাদি হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এই সুবিধাটি শুধুমাত্র বাদীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অর্থাৎ:
- যিনি মামলা দায়ের, ডিক্রি জারি, বা আবেদন করার অধিকার রাখেন—
যদি তিনি তামাদি সময় শুরু হওয়ার সময় নাবালক, উন্মাদ বা বুদ্ধিহীন হন, তাহলে তার জন্য তামাদি সময় অপারগতা অবসানের পর থেকে গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে।
যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।
- তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section 6. Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(a) The right to sue for the hire of a boat accrues to A during his minority. He attains majority four years after such accruer. He may institute his suit at any time within the years from the date of his attaining majority.
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
(c) A right to sue accrues to X during his minority. X dies before attaining majority, and is succeeded by Y, his minor son. Time runs against Y from the date of his attaining majority.
৭২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুসারে ‘দখল উদ্ধারের’ মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৯ এর অধীনে স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলার জন্য দাখিলের সময়সীমা বা তামাদির মেয়াদ ৬ মাস নির্ধারিত।
অর্থাৎ, দখল হারানোর দিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে না করলে মামলা তামাদি হবে।

৭২২.
মোকদ্দমা দায়েরের পর আরজি ফেরত দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মোকদ্দমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তখন আপনি কি করবেন?
  1. আরজির সাথে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করবেন
  2. আরজির সাথে ৯ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করবেন
  3. আরজির সাথে ১৪ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করবেন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦আমাদি আইনের ১৪ ধারা মোকদ্দমার | Suit) মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মোকদ্দমা দায়েরের পর আরজি ফেনাত দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মোকদ্দমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পূর্ববর্তী আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনার জন্য ১৪ ধারায় আবেদন করতে হবে।
৭২৩.
তামাদি আইনের বিধান অনুসারে অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলার তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৪৮ এর বিধান অনুযায়ী, অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হলো ৩ (তিন) বছর।

গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- তামাদি মেয়াদ: ৩ বছর
- সময় গণনার সূচনা: সম্পত্তির আসল মালিক যেদিন প্রথমবার জানতে পারেন যে সম্পত্তিটি বর্তমানে কার কাছে রয়েছে সেদিন থেকে।

⇒ প্রযোজ্য ক্ষেত্র: এই বিধানটি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
- হারানো সম্পত্তি। 
- চুরি হওয়া সম্পত্তি। 
- অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত (Dishonest Misappropriation) সম্পত্তি। 
- অন্যায়ভাবে আটককৃত সম্পত্তি। 
সুতরাং, অসাধুভাবে আত্মসাৎকৃত অস্থাবর সম্পত্তি ফেরত পেতে বা তার ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।


৭২৪.
ট্রাষ্ট সম্পত্তির হিসাবের জন্য মামলা দায়ের করা হলে তা -
  1. তামাদির মেয়াদ হবে ১ বছর
  2. তামাদির মেয়াদ হবে ২ বছর
  3. তামাদির মেয়াদ হবে ৩ বছর
  4. তামাদি দ্বারা বারিত হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী,
যদি কোনো সম্পত্তি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে কারও কাছে ন্যস্ত (vested) থাকে, তাহলে সেই সম্পত্তির মালিক বা তার আইনি প্রতিনিধি বা অধিকারী (assigns) – যদি তারা বিনিময়ে কোনো মূল্য পরিশোধ না করে থাকেন – তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে তামাদি সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়।

এর অর্থ হলো,
সুনির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি উদ্ধার বা তার হিসাব চাওয়ার জন্য মামলা দায়েরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, যেকোনো সময় মামলা করা সম্ভব। তবে, এই বিধান সাধারণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি ও ধর্মীয় বা দাতব্য ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি-এর জন্য প্রযোজ্য।
৭২৫.
তামাদি আইনের ৩ এবং ৫ ধারার মূল পার্থক্য কী?
  1. ৩ ধারা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দেয়, ৫ ধারা তা দেয় না
  2. ৫ ধারা মামলা খারিজের নিয়ম এবং ৩ ধারা আপিলের নিয়ম উল্লেখ করে
  3. ৩ ধারা সময়মতো মামলা দায়েরের নিয়ম উল্লেখ করে, ৫ ধারা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দেয়
  4. ৩ ধারা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দেয়, ৫ ধারা মামলা খারিজের নিয়ম উল্লেখ করে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন ৩ ধারা: মামলা খারিজ:
বাদীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিবে, এমনকি যদি বিবাদী তামাদির প্রশ্ন না তোলে।

তামাদি আইন ৫ ধারা:মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ:
কিছু ক্ষেত্রে আদালত মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দিতে পারে। আপিল, রায় পুনর্বিচার, পুনরীক্ষণ বা দরখাস্ত দাখিলের সময় উত্তীর্ণ হলেও যদি আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে যথেষ্ট কারণ ছিল দেরির জন্য, তবে তা গ্রহণ করা হতে পারে। বাদীকে প্রমাণ করতে হবে বা আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে, মামলাটি তামাদিতে বারিত নয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়ের করা হয়েছে।
৭২৬.
তামাদি আইনে বিভিন্ন দরখাস্ত দায়েরের তামাদির মেয়াদ প্রথম তফশিলের কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৫১ থেকে ১৮৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩
  3. অনুচ্ছেদ ১৫৫ থেকে ১৮৩
  4. অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৮৩
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]
- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]
- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]
- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
৭২৭.
তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুসারে, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে কী হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ট্রাস্টি
  2. মালিক
  3. ঋণগ্রহীতা
  4. প্রশাসক
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে থাকা সম্পত্তির মালিক বা ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে থাকা সম্পত্তির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা কোনো সময়সীমার জন্য বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, তামাদি আইনের অন্যান্য বিধানের মতো এখানে নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই।
- বিশেষত, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই সম্পত্তি ট্রাস্টি কর্তৃক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বলে বিবেচিত হয়।

→ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুসারে, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section- 10. Suits against express trustees and their representatives:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, no suit against a person in whom property has become vested in trust for any specific purpose, or against his legal representatives or assigns (not being assigns for valuable consideration), for the purpose of following in his or their hands such property or the proceeds thereof, or for an account of such property or proceeds, shall be barred by any length of time. 
For the purposes of this section any property comprised in a Hindu, Muslim or Buddhist religious or charitable endowment shall be deemed to be property vested in trust for a specific purpose, and the manager of any such property shall be deemed to be the trustee thereof.
৭২৮.
তামাদি আইনের 'বৈধ অপারগতা' সংক্রান্ত বিধান কোন মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. স্বত্ব ঘোষণা
  2. বাটোয়ারা
  3. দখল পুনরুদ্ধার
  4. অগ্রক্রয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৬-৭ ধারায় মামলা করার অধিকার সৃষ্টির সময় বাদী legal disability তে আক্রান্ত থাকলে তখন তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ রাখার বিধান আছে। কিন্তু তামাদি আইনে ৮ ধারায় বলা আছে এই বিধান অগ্রক্রয়ের আবেদন বা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

⇒ তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম: ৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
উদাহরণ:
(ক) ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।

⇒ The Limitation Act:- Section 8: Special exceptions:
- Nothing in section 6 or in section 7 applies to suits to enforce rights of pre-emption, or shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period within which any suit must be instituted or application made.
৭২৯.
In which section of the Limitation Act is the 'Suit for compensation for act not actionable without special damage' mentioned?
  1. 22
  2. 24
  3. 25
  4. 26
ব্যাখ্যা
⇒ Section 24 of the Limitation Act, 1908: Suit for compensation for act not actionable without special damage:-
In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results.

Illustration 
A owns the surface of a field. B owns the subsoil. B digs coal thereout without causing any immediate apparent injury to the surface, but at last the surface subsides. The period of limitation in the case of a suit by A against B runs from the time of the subsidence.
-------------
⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারায় বলা আছে- কোন ক্ষতি সাধিত না হলে বা কোন মামলা করার কারণ উদ্ভব হবার আগ পর্যন্ত তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে না।

- তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান মতে, যে কাজের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, সে কাজের দরুণ ক্ষতিপূরণ মামলার জন্য যখন ক্ষতি সাধিত হয় তখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
৭৩০.
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কত?
  1.  ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ বছর 
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ৬ বছর।

Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৫৪–এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে আদালত কবে এবং কোন অবস্থায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Injunction) দিতে পারে।

Limitation Act, 1908 – First Schedule, Article 120:
“Suit for which no period of limitation is provided elsewhere in this Schedule— Limitation: 6 years— Time from when the right to sue accrues.”

যেসব মামলা কোনো নির্দিষ্ট তামাদি বিধানের অধীনে পড়ে না, সেক্ষেত্রে Article 120 প্রযোজ্য হয়। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা (Permanent Injunction Suit)–এর জন্য আলাদা কোনো Article নেই। সুতরাং এর তামাদি মেয়াদ Article 120 অনুযায়ী ৬ বছর।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে “right to sue” তখনই সৃষ্টি হয় যখন- কোনো ব্যক্তি তার অধিকারে স্থায়ীভাবে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বা প্রকৃত হস্তক্ষেপ অনুভব করে।

৭৩১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মোকদ্দমার তামাদি মেয়াদ গণনা কবে থেকে শুরু হয়?
  1. দায়ের করা মামলার দিন থেকে
  2. প্রাথমিক শুনানির দিন থেকে
  3. সম্পত্তি হতে বেদখলের সময় থেকে
  4. মামলার রায় কার্যকর হওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১ম তফসিল: অনুচ্ছেদ-৩:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মোকদ্দমা;
তামাদি- ৬ মাস;
সময় গণনা শুরু- সম্পত্তি হতে বেদখলের সময়।
৭৩২.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে সালিশের রোয়েদাদ রদের বিষয়ে বর্ণনা আছে?
  1. ১৪৩
  2. ১৪৭
  3. ১৪৮
  4. ১৫৮
ব্যাখ্যা
♠♠
• তামাদি আইনের ১৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদে সালিশের রোয়েদাদ রদের বিষয়ে বর্ণনা আছে।
• তামাদি আইনে সালিশের রোয়েদাদ রদ করার জন্য বা তা পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করার জন্য ১৯৪০ সালের সালিশী আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে দরখাস্ত করতে হয়। 
৭৩৩.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬ অনুযায়ী, লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা _______ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬:
- লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে: চুক্তি নিবন্ধিত না হলে যখন মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে তখন থেকে।
৭৩৪.
তামাদি আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না করলে-
  1. দখলদার ক্ষতিপূরণ পাবে
  2. আদালত মামলা স্থগিত করবে
  3. বাদীর সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হবে
  4. বিবাদীর সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হবে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধানে Adverse possession বা জবর দখলের কথা বলা হয়েছে।

ধারা ২৮ (সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি)-
কোনো সম্পত্তি দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Section 28: Extinguishment of right to property-
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৭৩৫.
চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ-
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।
৭৩৬.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, তামাদি মেয়াদ কখন থেকে নতুন করে গণনা করা হয়?
  1. মামলা দায়েরের সময় থেকে
  2. সুদ পরিশোধের সময় থেকে
  3. ঋণের চুক্তি স্বাক্ষরের সময় থেকে
  4. আদালতের আদেশের সময় থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) সুদ পরিশোধের সময় থেকে।
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ধারা ২০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করে এবং তা একটি স্বাক্ষরিত বা হস্তলিখিত স্বীকৃতিতে প্রতিফলিত হয়, তাহলে:
- তামাদির নতুন সময় গণনা শুরু হবে যেদিন এই পরিশোধ করা হয় সেই দিন থেকে।
এই ধারা মূলত ঋণগ্রহীতার তরফ থেকে সুদ বা আংশিক অর্থ ফেরতের মাধ্যমে দায় স্বীকারকে নির্দেশ করে, যা তামাদি মেয়াদ পুনরারম্ভ করার জন্য যথেষ্ট, যদি তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ঘটে এবং তা লিখিতভাবে স্বীকৃত হয়।

উদাহরণ:
একজন ব্যক্তি যদি ঋণের কিছু সুদ ১ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে পরিশোধ করেন এবং তা লিখিত স্বীকৃতিতে থাকে, তাহলে তামাদির নতুন সময়সীমা শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে — পূর্বের মেয়াদ গণনা স্থগিত হয়ে যাবে।

⇒ তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, যদি ঋণ বা লিগ্যাসির সুদ পরিশোধ করা হয়, তাহলে নতুন তামাদির মেয়াদ পরিশোধের তারিখ থেকে গণনা শুরু হবে।
অর্থাৎ, যখন ঋণগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি সুদ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন, তখন তামাদির মেয়াদ নবায়ন হবে এবং নতুন মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে।
তবে, এটা শর্তসাপেক্ষ যে, পরিশোধের জন্য কোনো স্বীকৃতি বা লিখিত স্বাক্ষর থাকা উচিত।
- এটি ঋণদাতা বা লিগ্যাসির অধিকারী ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সময় শুরু করতে পারে।

⇒ The Limitation Act:- Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৭৩৭.
দেশের প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোনো কাজ করা বা না করা হলে ক্ষতিপূরণের জন্য মামলার সর্বোচ্চ তামাদি মেয়াদ কতদিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ-২ অনুসারে: প্রচলিত কোনো আইন অনুযায়ী কোনো কাজ করা বা না করার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৯০ দিন।
- এই সময়সীমা গণনা শুরু হয় যখন সেই কাজ (Act) বা বর্জন (Omission) সংঘটিত হয়।
- সুতরাং, অনুচ্ছেদ-২-এ উল্লিখিত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তামাদি মেয়াদ ৯০ দিন।
৭৩৮.
সাধারণভাবে Limitation period গণনার মূলনীতি তামাদি আইনের কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৪
  4. ধারা ৫
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ এ সাধারণভাবে Limitation period (সময়সীমা) গণনার মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, যদি কোন মামলা, আপিল বা আবেদন এই আইনের তফসিল ১ এ নির্ধারিত সময়সীমার পরে দায়ের করা হয়, তবে তা তামাদির কারণে বাতিল হয়ে যাবে (barred by limitation) এবং আদালত এটিকে খারিজ করে দিবে।
- সুতরাং, সময়সীমা গণনার সাধারণ মূলনীতি ধারা ৩ এ বর্ণিত হয়েছে।
 
⇒ তামাদি আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, বাদীর করা কোন মামলায় বিবাদী যদি আদালতে তামাদির প্রশ্ন নাও তুলে তারপরেও মামলা খারিজ হবে যদি বাদী এই আইনের ধারা ৪-২৫ এবং ১ম তফসিলের নির্ধারিত সময়ের মাঝে আদালতে মামলা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়।
-তামাদি আইন, ১৯০৮ ফৌজদারি মূল মামলা অর্থাৎ এজাহার, এফ আই আর বা অভিযোগ/নালিশ (complaint) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
-তামাদি আইন দ্বারা ফৌজদারি মামলা বাধাপ্রাপ্ত হয় না।
- তবে ফৌজদারি আপিল, রিভিশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন।
তামাদি আইন ফৌজদারি মূল মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়ােগ হয় না। তবে ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হয়।
-------------
⇒The Limitation Act Section-3: Dismissal of suits, etc., instituted, etc., after period of limitation:
-Subject to the provisions contained in sections 4 to 25 (inclusive), every suit instituted, appeal preferred, and application made, after the period of limitation prescribed therefor by the first schedule shall be dismissed, although limitation has not been set up as a defence.

Explanation.-A suit is instituted, in ordinary cases, when the plaint is presented to the proper officer; in the case of a pauper, when his application for leave to sue as a pauper is made; and, in the case of a claim against a company which is being wound up by the Court, when the claimant first sends in his claim to the official liquidator.

৭৩৯.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৫ কী বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. দণ্ডবিধি
  2. বিলম্ব মওকুফ
  3. সম্পত্তির মালিকানা
  4. আদালতের এখতিয়ার
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) বিলম্ব মওকুফ।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908) হলো একটি প্রক্রিয়াগত আইন, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা, আপিল, বা দরখাস্ত দায়ের করার নিয়ম নির্ধারণ করে।
⇒ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী যদি নির্ধারিত সময়সীমার পর একটি আপিল, রিভিউ, রিভিশন, বা অন্য কোনো আবেদন দায়ের করা হয়, তবে সেই বিলম্বের জন্য আবেদনকারী যদি পর্যাপ্ত কারণ (Sufficient Cause) দেখাতে পারে এবং আদালত যদি তাতে সন্তুষ্ট হয়, তবে আদালত বিলম্ব মওকুফ করে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য করতে পারে।
- ধারা ৫ এই আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা “বিলম্ব মওকুফ” বা Condonation of Delay এর বিধান প্রদান করে।

 ধারা ৫ যে ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
১) আপিল (Appeal)।
২) আপিলের অনুমতির দরখাস্ত (Leave to appeal)।
৩) রায় পুনর্বিবেচনার দরখাস্ত (Revision)।
৪) রায় পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত (Review)।
৫) অন্য কোনো দরখাস্ত (Any other application)।

যেসব ক্ষেত্রে ধারা ৫ প্রযোজ্য নয়:
- মূল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে (যেমন: স্বত্ব ঘোষণা, নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয় মামলা)।
- কোনো বিশেষ আইনের অধীন মামলা, যেখানে নিজস্ব সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
৭৪০.
তামাদি আইন অনুসারে মোহরানা বা দেনমোহরের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদি মেয়াদের বিধান আছে।

- উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
৭৪১.
‘A’ কর্তৃক ‘B’ তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করা হয়েছে। ‘B’ কত দিনের মধ্যে ‘A’-এর বিরুদ্ধে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ মাস
  2. ৬ বছর
  3. ১ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ A’ কর্তৃক ‘B’-কে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে (dispossession) ‘B’ স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা (suit for possession of immovable property with title) করতে পারবে বেদখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

- তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিল এবং বেদখল হয়েছে বা দখল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে, তখন সেই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বেদখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। বাদীকে স্বত্ব (title) প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর একটাই: ঘ) ১২ বছর।

-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে। 

এক্ষেত্রে,
⇒ বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে;
⇒ বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে;
⇒ সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে। (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮: অনুচ্ছেদ ১৪২-
যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে, সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।

৭৪২.
কোনো আইনের আওতায় জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি সম্পর্কিত মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ অনুসারে,
যখন কোনো বিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইনের আওতায় কোনো জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হয়, তখন সেই জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।

৭৪৩.
শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭ বিধান গৃহ-ভৃত্য কারিগর বা শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ, যখন মজুরী বকেয়া হয় তখন থেকে ১ বছর।

- অর্থাৎ শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
৭৪৪.
মৃত বাদী বা আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার দরখাস্ত কত দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়?
  1. মৃত্যুর তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে
  2. পক্ষ সংক্রান্ত অভিযোগের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে
  3. মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে
  4. পক্ষ সংক্রান্ত অভিযোগের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৭৬
 
মৃত বাদী বা আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত;
তামাদি- ৯০ দিন;
সময় গণনা শুরু- মৃত বাদী বা আপীলকারীর মৃত্যুর তারিখ হতে।
৭৪৫.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৪ ধারা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. মূল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  2. আবেদনের ক্ষেত্রে
  3. ক এবং খ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী-
এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে।

শর্তসমূহ-
১. পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উভয় মোকদ্দমার কার্যক্রম একই পক্ষগণ কর্তৃক দায়েরকৃত দেওয়ানী কার্যক্রম [Civil Proceedings] হতে হবে।
২. বাদী পূর্ববর্তী মামলার কার্যক্রমটি যথাবিহিত যত্নের সাথে (With due diligence) এবং সরল বিশ্বাসে (good faith) পরিচালনা করেছে।
৩. আদালতের এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরুপ কারণে আদালত পূর্ববর্তী কার্যক্রমটি পরিচালনা করতে ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল না, তখন এখতিয়ারবিহীন আদালতে উক্ত ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বাদ দিতে হবে।

১৪ ধারা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে-
১. মূল মোকদ্দমার (Suit) মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে;
২. যেকোন আবেদনের (Any application) মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে।
৭৪৬.
তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুসারে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে দেনা আংশিক পরিশোধ অথবা সুদ প্রদানের ফলাফল কী?
  1. উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে
  2. উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  3. পূর্ব নির্ধারিত তারিখ থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে 
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

ধারা-২০। উত্তর দায় সংক্রান্ত ঋণ পরিশোধের অথবা সুদ প্রদানের ফলাফল 
(১) যেইক্ষেত্রে কোনো দেনা অথবা দায়ের সুদ বাবদ নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে উক্ত দেনা বা দায় পরিশোধ করিতে দায়ী ব্যক্তি স্বয়ং বা তাহার যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কোনো অর্থ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ হইতে নূতন করিয়া তামাদি মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, ১৯২৮ সালের ১লা জানুয়ারির পূর্বে সুদ পরিশোধের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে, যেই ব্যক্তি অর্থ প্রদান করিবে, স্বীকৃতি তাহার স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরিত অথবা অপরের লিখিত হইলেও তদকর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবে।
------------
Section 20: Effect of payment on account of debt as of interest on legacy
1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.

৭৪৭.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-৩২ অনুসারে সম্পত্তি অপব্যবহারের জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার রাখে, কিন্তু সে ব্যক্তি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে সেই সম্পত্তি ব্যবহার করে এবং তাতে কারো ক্ষতি হয় তখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারেন।
- তামাদির সময়সীমা: ২ বছর।
- শুরু হবে যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রথমবার ক্ষতির বিষয়টি জানতে পারেন।
৭৪৮.
অবিরাম চুক্তির ফলাফল কি?
  1. তামাদির মেয়াদ অপরিবর্তিত থাকে
  2. চুক্তিভঙ্গের পর তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকে
  3. চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হতে থাকে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-

যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

Section 23: Continuing breaches and wrongs
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
৭৪৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারার মোকদ্দমাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বলা হয়।
- শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়নি।
- তাই শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

- তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ হবে ৬ বছর।
৭৫০.
চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের কত অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
  1. ১৩
  2. ৯৫
  3. ১১৩
  4. ১১৪
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।
♦অর্থাৎ চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
৭৫১.
তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী নিম্ন লিখিত কোন সময়টি বাদ যাবে?
  1. ডিক্রি প্রস্তুতের সময়
  2. ডিক্রি জারির সময়
  3. ডিক্রি জারি কার্যক্রম স্থগিতের সময়
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হইবে-

(১) যেই মামলা বা ডিক্রি জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন উক্ত নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেদিন তা প্রদত্ত হয়েছিল এবং যেদিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।

(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।

Section 15: Exclusion of time during which proceedings are suspended

(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded. 
 
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.
৭৫২.
যদি কোনো আইনের আওতায় জরিমানা আরোপিত হয়, এর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ অনুসারে,
যখন কোনো বিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইনের আওতায় কোনো জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হয়, তখন সেই জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।

৭৫৩.
সৎ উদ্দেশ্যে এখতিয়ার বিহীন আদালতে মামলা দায়ের করার ব্যয়িত সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ দিতে হবে তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা আছে?
  1. ১৪
  2. ১২
  3. ১৩
ব্যাখ্যা
♣ তামাদি আইনের ১৪ ধারা মতে ভুলক্রমে এখতিয়ার বিহীন আদালতে মামলা দায়ের করলে ব্যয়িত সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ দিতে হবে।
৭৫৪.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর অধীনে হাইকোর্ট ব্যতীত অন্য আদালতে আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৫০
  2. অনুচ্ছেদ ১৫৩
  3. অনুচ্ছেদ ১৫৪
  4. অনুচ্ছেদ ১৫৬
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ১ম তফসিলের দ্বিতীয় বিভাগে (আপিল) অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত ফৌজদারি এবং দেওয়ানি আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। 
- অনুচ্ছেদ ১৫৪-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর অধীনে হাইকোর্ট ব্যতীত অন্য আদালতে আপিলের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন, যা দণ্ডাদেশ বা আদেশের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
সুতরাং, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর অধীনে হাইকোর্ট ব্যতীত অন্য আদালতে আপিলের তামাদির মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান অনুচ্ছেদ ১৫৪-এ উল্লেখ আছে।

৭৫৫.
তামাদি আইনের তফসিলে মোট কতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে?
  1. ১৫০টি
  2. ১৮৩টি
  3. ১৯৩টি
  4. ২০৩টি
ব্যাখ্যা
• তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
৭৫৬.
চুক্তি প্রবলের মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদকাল কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী,

চুক্তি প্রবলের মামলা করার তামাদির মেয়াদ হচ্ছে এক বছর, অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ১২ ধারার অধীন চুক্তি প্রবলের মামলা করতে হবে এক বছরের মধ্যে।
৭৫৭.
স্থাবর সম্পত্তির দখল লাভের জন্য আনীত মামলার তামাদির মেয়াদ ১২ বছর। কোন অনুচ্ছেদে এটি উল্লেখ রয়েছে?
  1. ১৪৬
  2. ১৪১
  3. ১৪৫
  4. ১৪৪
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮–এর অনুচ্ছেদ ১৪৪–এ বলা হয়েছে: “For possession of immovable property or any interest therein not hereby otherwise specially provided for.”
অর্থাৎ: যদি কারো স্থাবর সম্পত্তি বা তার স্বার্থ দখল করে অন্য কেউ রাখে এবং এ সম্পর্কিত কোনো নির্দিষ্ট বিধান এই আইনে না থাকে, অনুচ্ছেদ এই ধারা প্রযোজ্য হয়।
- তামাদির মেয়াদ: ১২ বছর
-  তামাদি গণনার শুরু: যেদিন থেকে বিবাদীর দখল বাদীর মালিকানার বিরুদ্ধে প্রতিকূল (adverse) হয়।

→ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলে (First Schedule): স্থাবর সম্পত্তির দখল লাভের জন্য আনীত মামলার তামাদির মেয়াদ ১২ বছর। ১৪৪ অনুচ্ছেদে এটি উল্লেখ রয়েছে। 

অন্য অপশন গুলো:
ক) অনুচ্ছেদ-১৪৬ – বন্ধক গ্রহীতার দ্বারা হাইকোর্টে দায়েরকৃত বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলা (তামাদির মেয়াদ: ৩০ বছর)
খ) অনুচ্ছেদ-১৪১ – হিন্দু বা মুসলিম নারীর মৃত্যুর পর তার দখলে থাকা স্থাবর সম্পত্তির দখল পেতে উত্তরাধিকারীর মামলা (তামাদির মেয়াদ: ১২ বছর)
গ) অনুচ্ছেদ-১৪৫ – অস্থাবর আমানত বা বন্ধক পুনরুদ্ধারের মামলা (তামাদির মেয়াদ: ৩০ বছর)


৭৫৮.
কোন সংবিধি, আইন, প্রবিধান অথবা উপ-আইন মোতাবেক দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির (forfeiture) জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ অনুসারে বলা হয়েছে:
- “Upon a Statute, Act, Regulation or Bye-law, for a penalty or forfeiture — One year.
- Time starts from: When the penalty or forfeiture is incurred.”

- অর্থাৎ, কোনো সংবিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইন অনুসারে কেউ যদি দণ্ডিত হয় বা তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়, তাহলে সেই দণ্ড কার্যকর হওয়া বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। এরপর তা তামাদি হয়ে যাবে।
৭৫৯.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদি মেয়াদ গণনা করা হয় কখন থেকে?
  1. দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে
  2. মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  3. আপিল দায়েরের তারিখ থেকে
  4. আপিল আদালতের রায় ঘোষণার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার জন্য তামাদির মেয়াদ গণনা করা হয় দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে। এই বিধানটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার জন্য ৭ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
- এই সময়সীমা দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে গণনা করা হয়, যা আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার তারিখকে নির্দেশ করে।
এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে কারণ মৃত্যুদণ্ড একটি গুরুতর শাস্তি এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রতিকার পাওয়া জরুরি।

উদাহরণ:
যদি কোনো ব্যক্তিকে দায়রা আদালত বা হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করে, তাহলে সেই ব্যক্তি বা তার আইনগত প্রতিনিধি দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
৭৬০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী, দেওয়ানী আদালতের কোনো আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করার মামলা কতদিনের মধ্যে করতে হয়?
  1. দাখিলের তারিখ থেকে ৯০ দিন
  2. আদেশের তারিখ থেকে ৬ মাস
  3. আদেশের তারিখ থেকে ১ বছর
  4. আপিলের তারিখ থেকে ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী, মামলা ছাড়া অন্য কোনো কার্যধারায় (যেমন: আপিল বা রিভিশন নয়) দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্ত বা আদেশ পরিবর্তন (Alter) বা বাতিল (Set Aside) করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হলো ১ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই আদেশ বা সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে যেদিন সংশ্লিষ্ট আদালত চূড়ান্ত রায় দিয়েছে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী— যদি কেউ দেওয়ানী আদালতের কোনো ডিক্রি বা আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে চায়, তবে তাকে আদেশ বা ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
- এখানে তামাদি মেয়াদ হলো: ১ বছর।
- গণনা শুরু হয়: আদেশ বা ডিক্রি জারির দিন থেকে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) আদেশের তারিখ থেকে ১ বছর।
৭৬১.
প্রতারণামূলকভাবে যে ডিক্রি নেওয়া হয়েছে, তা রদ করার জন্য কত দিনের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ- ৯৫

প্রতারণামূলকভাবে যে ডিক্রি নেওয়া হয়েছে (A decree obtained by fraud), তা রদ করার জন্য মামলা

তামাদি- ৩ বছর
সময় গণনা শুরু- ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ যখন প্রতারণার বিষয় অবগত হয়।
৭৬২.
'A' উন্মাদ থাকা অবস্থায় সত্ত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়েরের অধিকার অর্জন করে। কিন্তু এই অধিকার অর্জনের ১০ বৎসর পর 'A' সুস্থ হলো। এইক্ষেত্রে 'A' সর্বোচ্চ কত বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

- ধারা ৮ হচ্ছে ৬ ও ৭ ধারার আইনগত অপারগতার ব্যতিক্রম। ৮ ধারায় উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬ ও ৭ ধারায় উল্লেখিত আইনগত অপারগতা বিশ্লেষণ করতে হবে। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ৬ এবং ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না-
১. অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার বলবৎকরণের মামলায়, এবং
২. আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের বেশী সময় তামাদির মেয়াদ থাকবে না এবং সর্বোচ্চ এই ৩ বৎসরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
অর্থাৎ যেক্ষেত্রে ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অক্ষমতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে অন্যথায় মামলা খারিজ হবে।

-তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সত্ত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে হয় বেদল হওয়ার ১২ বছরের মধ্যে। কিন্তু যেহেতু 'ক' উন্মাদ ব্যক্তি অর্থাৎ আইনগত অপারগতায় পতিত তাই তার সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে না।

প্রশ্নমতে, 'A' বেদখল হওয়ার ১০ বছর পর সুস্থ হয়েছে। তাই হিসাব অনুযায়ী তার মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ যদিও অবশিষ্ট আছে ২ বছর, কিন্তু ৬ ও ৮ ধারার বিধান অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ আরো ১ বছর বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ বছর করা যাবে।
অর্থাৎ 'A' সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে।
--------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-8. Special exceptions:
-Nothing in section 6 or in section 7 applies to suits to enforce rights of pre-emption, or shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period within which any suit must be instituted or application made. 
 
Illustrations 
(a) A, to whom a right to sue for a legacy has accrued during his minority, attains majority eleven years after such accruer. A has, under the ordinary law, only one year remaining within which to sue. But under section 6 and this section an extension of two years will be allowed him, making in all a period of three years from the date of his attaining majority, within which he may bring his suit. 
 
(b) A right to sue for an hereditary office accrues to A who at the time is insane. Six years after the accruer A recovers his reason. A has six years, under the ordinary law, from the date when his insanity ceased within which to institute a suit. No extension of time will be given him under section 6 read with this section. 
 
(c) A right to sue as landlord to recover possession from a tenant accrues to A, who is an idiot. A dies three years after the accruer, his idiocy continuing up to the date of his death. A's representative in interest has, under the ordinary law, nine years from the date of A's death within which to bring a suit. Section 6 read with this section does not extend that time, except where the representative is himself under disability when the representation devolves upon him.
৭৬৩.
ঘোষণামূলক মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের কোন অনুচ্ছেদের অধীনে নির্ধারিত?
  1. ১০ অনুচ্ছেদ
  2. ১২ অনুচ্ছেদ
  3. ১০০ অনুচ্ছেদ
  4. ১২০ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে, তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে। শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

• তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ হবে ৬ বছর।
৭৬৪.
তামাদি আইন,১৯০৮ একটি-
  1. মূল আইন
  2. পদ্ধতিগত আইন
  3. তত্ত্বগত আইন
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন হলো একটি পদ্ধতিগত আইন।

পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law):
তত্ত্বগত আইনগুলোতে যে অধিকার, কর্তব্য ও শাস্তিসমূহ উল্লেখ থাকে সেগুলো যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যে আইনসমূহে উল্লেখ থাকে তাই পদ্ধতিগত আইন। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, তামাদি আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি ইত্যাদি।

তত্ত্বগত আইন (Substantive Law):
যে আইনসমূহ অধিকার ও কর্তব্যকে সংজ্ঞায়িত বা সন্নিবেশিত করে বা কোন অপরাধ কে সংজ্ঞায়িত করে ও তার শাস্তির পরিমাণ উল্লেখ করে, তাই তত্ত্বগত আইন বা মূল আইন। যেমন: চুক্তি আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।
৭৬৫.
নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের মামলার তামাদি মেয়াদ থেকে কোন সময় বাদ দেওয়া হয়?
  1. ঋণ পরিশোধের সময়
  2. সম্পত্তি রেজিস্ট্রির দিন থেকে সময়
  3. নিলাম রদের মামলা চলাকালীন সময়
  4. নিলামের দিন থেকে দখল পাওয়া পর্যন্ত সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৬ ধারায় নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে বলা আছে। নিলামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে, যদি নিলাম বাতিল করার মামলা চলতে থাকে, তাহলে তামাদি সময়ের হিসাব থেকে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে। এটাই ধারা ১৬ অনুসারে স্পষ্ট আইনি বিধান।
- সঠিক উত্তর: গ) নিলাম রদের মামলা চলাকালীন সময়।
-  অর্থাৎ নিলাম বিক্রয় রদ করার জন্য মামলা দায়ের করা হলে, মামলা যতদিন চলবে সেই সময় নিলাম গ্রহিতার বা যিনি নিলাম কিনেছেন তার উক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করার প্রয়োজন হলে নিলাম রদ করার মামলায় যে সময় ব্যয় হয়েছে তা তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ১৬- ডিক্রি জারিকৃত বিক্রয় বাতিলের কার্যক্রম চলাকালে সময় বাদ দেওয়া:
যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ডিক্রি জারির ভিত্তিতে নিলাম বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতা হয়ে দখল পাওয়ার জন্য মামলা দায়ের করে, সেই ক্ষেত্রে তামাদি সময় গণনার সময় বিক্রয় বাতিল করার জন্য যে সময়কাল মামলা বা কার্যক্রম চালানো হয়েছে, তা তামাদি সময় থেকে বাদ দেওয়া হবে।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 16: Exclusion of time during which proceedings to set aside execution-sale are pending:
In computing the period of limitation prescribed for a suit for possession by a purchaser at a sale in execution of a decree, the time during which a proceeding to set aside the sale has been prosecuted shall be excluded.
৭৬৬.
তামাদি আইনের ২(১) ধারায় মোকদ্দমা [Suit] বলতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
  1. আপীল
  2. আবেদন
  3. জারির আবেদন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ২(১০) ধারা অনুযায়ী মামলা বলতে আপীল বা আবেদন অন্তর্ভুক্ত হবে না ( “suit” does not include an appeal or application).  এই আইনে মামলা বলতে মূল মামলাকে বোঝানো হয়েছে যা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করা হয়। 
♦এখানে আপীল; আবেদন; জারির আবেদন কোনটাই আরজি দাখিলের মাধ্যমে শুরু হয় না বা মূল মোকদ্দমা না।
৭৬৭.
হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগে প্রচারিত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৭ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৫১ অনুচ্ছেদের বিধান:
হাইকোর্ট কর্তৃক মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদি মেয়াদ ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের দিন থেকে ২০ দিন।

অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগে প্রচারিত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ ২০ দিন।
৭৬৮.
'ক' একটি আপিল এখতিয়ারবিহীন আদালতে দায়ের করলো। এখতিয়ার না থাকায় আদালত আপিলটি সঠিক আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দিলো। ইতোমধ্যে আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. তামাদি আইনের ১৪ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে
  2. আদালত তামাদির মেয়াদ গণনার সময় ব্যয়িত সময় থেকে বাদ দিবে
  3. ক এবং খ উভয়
  4. তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে।

• সাধারণ নিয়ম হলো, কোন আপিল, রিভিউ এবং রিভিশন তামাদি আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দায়ের করতে হয়। আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি নির্ধারিত সময়ে দাখিল করতে না পারলে আদালত ৩ ধারার বিধান অনুযায়ী উক্ত দরখাস্ত খারিজ করে দিতে পারে। বিলম্বে আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা কোন আবেদন করার কারণে যেন উক্ত আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদনটি খারিজ না হয়, সেই জন্যে উক্ত আবেদনের সাথে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে বা সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে [application for extension of period]।
আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপিল দায়ের বা দরখাস্তটি দাখিল না করার যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহলে আদালত বিলম্ব মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করতে পারে।

তামাদি আইনের ৫ ধারা নিম্নলিখিত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায় বা সময় বৃদ্ধির আবেদন দায়ের করা যায়-
১. আপিল [Appeal]
২. আপীল করার অনুমতির দরখাস্ত [An application for leave to appeal]
৩. রায় রিভিউ এর আবেদন [An application for review of judgment]
৪. রিভিশনের দরখাস্ত; [An application for revision]
৫. অন্য কোন আবেদনের ক্ষেত্রে যেখানে ৫ ধারা প্রযোজ্য করা যায় [Any other application to which this section may be made applicable]

• যেক্ষেত্রে ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য না:

তামাদি আইন,১৯০৮ এর ৫ ধারা স্যুটের [Suit] বা মূল মামলা যেমন স্বত্ব ঘোষণা, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি দায়ের করার মেয়াদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ মূল মামলা বা স্যুট দায়ের করার জন্য নির্ধারিত সময় অতিক্রম হয়ে গেলে উক্ত সময় মওকুফ করার জন্য ৫ ধারায় আবেদন গ্রহণযোগ্য না।
৭৬৯.
কোন ধারায় The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারার বিধান প্রযোজ্য?
  1. কার্যক্রম
  2. আপীল
  3. রিভিশন
  4. রিভিশন,
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা
উপধারাঃ(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারাঃ (২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারাঃ (৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যাইতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারাঃ (৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
♦অর্থাৎ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা শুধু মোকদ্দমা, কার্যক্রম কিংবা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৭৭০.
তামাদি আইনের কত ধারার বিধান অনুসারে "এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় গণনা থেকে বাদ দিতে হবে"?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ১২
  3. ধারা ১৪
  4. ধারা ১৭
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ১৪ ধারার বিধান এখতিয়ারবিহীন আদালতে সমুদ্দেশ্যমূলক কার্যধারায় যেই সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হবে:
(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, বাদী কোনো আদিম বা আপিল আদালতে বিবাদির বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানী কার্যক্রম যথাবিহিত যত্ন সহকারে চালাইতে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি একই হয় এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যেই আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমের বিচার করিবার ক্ষমতা সম্পন্ন নহে, সেই আদালতে যদি সদবিশ্বাসে উহা দায়ের করা হইয়া থাকে, তবে শেষোক্ত কার্যক্রমে যেই সময় ব্যয়িত হয়, প্রথমোক্ত মামলার মেয়াদ গণনা হইতে তাহা বাদ দিতে হইবে।
যথাযথ সতর্কতা ও সচেষ্ট প্রয়োগ সত্ত্বেও একজন যুক্তিবান ও পরিণামদর্শী মানুষের পক্ষে যেইধরনের ভুল হওয়া স্বাভাবিক, শুধুমাত্র ঐ ধরনের ভুলের ব্যাপারে জড়িত মামলার ক্ষেত্রেই এইধারার বিধান অনুসারে সুবিধাদান করা যাইতে পারে। নিম্নতর আপিল আদালত যেইক্ষেত্রে যথাযথভাবে অত্র ধারার আওতায় উহার স্ববিচার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট উহাতে হস্তক্ষেপ করিয়া থাকে না।
আপিলের জন্য সময় গণনাকালে অত্র ধারাটি প্রয়োগ ঘটে না। তবে ইহার যুক্তিযুক্ত মূলনীতি এবং এই ধারায় ভাবিত পরিস্থিতি যথাসময়ে আপিল উপস্থাপন করিবার জন্য ৫ ধারার অর্থ অনুসারে পর্যাপ্ত কারণ হিসাবে সাধারণত গ্রাহ্য হইতে পারে।
-----------------
⇒ The Limitation Act, 1908: Section-14: Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it.

Explanation I - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted.
Explanation II - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.
Explanation III - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction. 
৭৭১.
তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে নিম্নে উল্লেখিত কোন সময় বাদ যাবে না?
  1. রায় বা ডিক্রির নকল পেতে ব্যয়িত সময়
  2. রায় ঘোষণার দিন
  3. আইনজীবী নিয়োগ করতে ব্যয়িত সময়
  4. রোয়েদাদের নকল পেতে ব্যয় হওয়া সময়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১২ ধারামতে, তামাদির মেয়াদ গণনার সময় নিম্নলিখিত দিনগুলো বাদ দিয়ে তামাদি গণনা করতে হবে। যথা-

i) তামাদির মেয়াদ আরম্ভের দিন বা যে তারিখ হতে তামাদি গণনা শুরু হবে (the day from which such period is to be reckoned shall be excluded);

ii) রায় ঘোষণার দিন (the day on which the judgment complained of was pronounced);

iii) রায় বা ডিক্রির নকল (certified copy) পেতে ব্যয়িত সময় (the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded);

iv) রোয়েদাদ নামঞ্জুর করার দরখাস্তের জন্য রোয়েদাদের নকল পেতে ব্যয় হওয়া সময় (for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded)।
৭৭২.
The Limitation Act-1908 অনুযায়ী দায়রা আদালত কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করলে এর বিরুদ্ধে আাপিল করার সময়সীমা কত?
  1. ১ মাস
  2. ১৪ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনে ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃত্যুদন্ডাদেশ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে বা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে দণ্ডাদেশের দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে।
৭৭৩.
তামাদি আইনের কোন তফসিলে মামলার তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. তৃতীয় তফসিল
  4. চতুর্থ তফসিল
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: ক) প্রথম তফসিল।
তামাদি আইন:

১৮৫৯ সালে সর্বপ্রথম তামাদি আইন পাশ করা হয়।
১৮৬২ সালে এই আইনটি কার্যকর করা হয়।
১৯০৮ সালে সর্বশেষ তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযোজ্য।
এটি ১৯০৮ সালের ৯নং আইন নামে পরিচিত।
এই আইনটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

তামাদি আইনের বর্তমান কাঠামো:
বর্তমানে তামাদি আইনে ২৯টি ধারা এবং ১টি তফশিল বলবৎ আছে। 

ধারাসমূহ:
তামাদির মেয়াদ গণনার পদ্ধতি: কোন সময় বাদ দিয়ে বা যোগ করে তামাদি গণনা করতে হবে।
তামাদির ফলাফল: নির্ধারিত সময়ের পর মোকদ্দমা দায়ের করলে তার ফলাফল।
তামাদির বিলম্ব মওকুফ: তামাদির বিলম্ব মওকুফের বিধান।
প্রেসক্রিপশন ও অর্জন: ২৬ থেকে ২৮ ধারায় প্রেসক্রিপশন [prescription] ও অর্জন [acquisition] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রথম তফশিলের বিষয়বস্তু:
প্রথম তফশিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফশিলে ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে:
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits] → অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals] → অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions] → অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
৭৭৪.
তামাদি আইন,১৯০৮ এর ১ম তফসিলে মোট কয়টি অনুচ্ছেদ আছে?
  1. ১৩৮ টি
  2. ১১৩ টি
  3. ১৮৩ টি
  4. ১৯৩ টি
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন পাশ করা হয়। এই আইনটি ১৮৬২ সালে কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ ১৯০৮ সালে পুনরায় তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয় যা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এটা ১৯০৮ সালের ৯নং আইন। আইনটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী হতে কার্যকর হয়। বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল বলবৎ আছে। 

• তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
৭৭৫.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৬০ অনুযায়ী, রিভিউ দরখাস্ত শুনানিকালে দরখাস্তকারীর অনুপস্থিতির কারণে তা প্রত্যাখ্যাত হলে, তা পুনর্বহালের আবেদনের তামাদি মেয়াদ কতদিন?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের তৃতীয় বিভাগ, অনুচ্ছেদ ১৬০-এ বলা হয়েছে—
- “When an application for review is rejected due to non-appearance of the applicant at the time of hearing, the time limit to restore that application is 15 days from the date of such rejection.”

- অর্থাৎ, আবেদনকারীর গরহাজিরায় রিভিউ দরখাস্ত যদি অগ্রাহ্য (rejected) হয়, তাহলে তা পুনরায় কার্যতালিকাভুক্ত (restore) করার জন্য আবেদন করা যাবে ১৫ দিনের মধ্যে, এবং গণনা শুরু হবে রিজেকশনের তারিখ থেকে।
৭৭৬.
বিলম্বিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হয়-
  1. যখন স্বামীর মৃত্যু হয়
  2. যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়
  3. যখন থেকে অধিকার জন্মায়
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১০৪

বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য (deferred dower) একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কাল
তামাদি- ৩ বছর
সময় গণনা শুরু- মৃত্যু অথবা তালাক দ্বারা যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
৭৭৭.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় বিভাগে কী সংক্রান্ত তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. আপীল দায়ের
  2. মামলা দায়ের
  3. দরখাস্ত দায়ের
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিল (First Schedule) তিনটি বিভাগে বিভক্ত:
→ প্রথম বিভাগ (First Division): অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
বিষয়: মামলা (Suit) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।
→ দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division): অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
বিষয়: আপীল (Appeal) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।
→ তৃতীয় বিভাগ (Third Division): অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
বিষয়: দরখাস্ত (Applications) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।

অর্থাৎ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় বিভাগে (Second Division) আপীল দায়েরের (Limitation for filing appeals) তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই বিভাগটি ১৫০ থেকে ১৫৭ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এতে বিভিন্ন ধরনের আপীলের জন্য তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
৭৭৮.
আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে বুঝায়?
  1. উন্মাদ (insane)
  2. জড়বুদ্ধ/নির্বোধ (idiot)
  3. নাবালকত্ব (minor)
  4. সবগুলাই
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ৬ ধারামতে আইনগত অপারগতা বা Legal Disability বলতে ৩টি বিষয়কে বুঝায়। যথা- ১) নাবালকত্ব (minor); ২) উন্মাদ (insane); এবং ৩) জড়বুদ্ধ/নির্বোধ (idiot).

♦ আইনগত অক্ষমতা/বৈধ অপারগতা (Legal Disability)- নাবালকত্ব, পাগল বা উম্মাদ অবস্থা অথবা নিবুদ্ধিতার কারণে মামলা দায়ের করতে অসমর্থ হওয়াকে আইনগত অক্ষমতা বা বৈধ অপারগতা (legal disability) বলে। কোন মামলা বা প্রসিডিংস দায়ের করার অধিকারী ব্যক্তি অথবা ডিক্রিজারির দরখাস্ত পেশ করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত পেশ করার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ যেদিন হতে গণনা শুরু হবে সেদিন নাবালক, পাগল বা উম্মাদ থাকেন তাহলে তিনি তার নাবালকত্ব, পাগলামি বা উম্মত্ততা শেষ হওয়ার পর ঐ একই মেয়াদের মধ্যে উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত দায়ের বা পেশ করতে পারবেন।

♦ মামলা করার কারণ সৃষ্টির সময় (cause of action) মামলা করার অধিকারী ব্যক্তি আইনগতভাবে মামলা করতে অপারগ হলে উক্ত ব্যক্তির তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬-৯ ধারা কার্যকর হবে। কোন ব্যক্তি যতদিন নাবালক, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধ/নির্বোধ থাকে ততদিন তার তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। নাবালকত্ব, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ শুরু হবে। অন্যভাবে বলা যায়, আইনগত সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত তামাদি সময়সীমা গণনা করা হয় না অর্থাৎ কোন ব্যক্তি আইনগতভবে সক্ষম হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা করতে পারবে।

♦ তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপরাগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হবে।

♦ আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয়। 
♦ কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয়।
৭৭৯.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, একবার মেয়াদ গণনা শুরু হলে তা পরে কোনো অপারগতার কারণে বন্ধ হবে না?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৫
  3. ধারা ৮
  4. ধারা ৯
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯ স্পষ্টভাবে বলে যে: “যেই মুহূর্তে কোনো মামলা দায়েরের অধিকার সৃষ্টি হয়, সেই মুহূর্ত থেকে তামাদির সময় গণনা শুরু হবে; এবং একবার সেই সময় গণনা শুরু হলে, পরবর্তীকালে যদি কোনো অপারগতা (disability) বা অক্ষমতা (incapacity) দেখা দেয়, তাও তামাদির সময় গণনাকে বন্ধ করবে না।”

উদাহরণ:
- একজন ব্যক্তি ১৫ বছর বয়সে একটি সম্পত্তির অধিকার লাভ করে এবং ১৮ বছর বয়সে সাবালক হয়। তখন থেকেই তার তামাদির সময় গণনা শুরু হয়। যদি সে ২০ বছর বয়সে মানসিক ভারসাম্য হারায়, তবুও তার তামাদির সময় থেমে যাবে না। কারণ ধারা ৯ অনুসারে “একবার শুরু হলে তা আর বন্ধ হয় না।”

অর্থাৎ ধারা ৯-এ উল্লেখ আছে, তামাদির মেয়াদ একবার শুরু হয়ে গেলে, পরবর্তীকালের কোনো বৈধ অপারগতা (যেমন উন্মাদতা, জড়বুদ্ধিতা) তার গতি থামাতে পারে না।
সুতরাং, উত্তর ঘ) ধারা ৯ সঠিক।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮–এর ধারা ৯ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মামলা করার অধিকার লাভের সময় আইনগতভাবে সক্ষম থাকে, এবং তামাদি মেয়াদ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যায়, তাহলে পরে সে ব্যক্তি আইনগত অক্ষম হলেও — তামাদি মেয়াদ চলতে থাকবে, অর্থাৎ স্থগিত হবে না।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 9: Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.

- অর্থাৎ একবার তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হলে, পরবর্তীতে যদি কোনো আইনগত অক্ষমতা (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদ অবস্থা ইত্যাদি) তৈরি হয়, তবুও সময় গণনা বন্ধ হবে না।
৭৮০.
'Effect of fraud’ - এটি তামাদি আইনের কত ধারার শিরোনাম?
  1. ১৭ ধারা
  2. ১৮ ধারা
  3. ১৯ ধারা
  4. ২০ ধারা
ব্যাখ্যা
Section 18: Effect of fraud
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application- 
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,  

shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.

• ধারা ১৮- মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতারণার ফলাফল:
 যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একটি মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয়ে বা যে স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত তা জানতে দেয়া হয় নাই অথবা উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে দলির প্রয়োজন তা প্রতারণা করে গােপন রাখা হয়েছে, সেই সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদী যেদিন-
১। সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে সেদিন থেকে, অথবা
২। যেদিন গােপন রাখা দলিল উত্থাপন করতে পারবে, অথবা
৩। অপর পক্ষের কাছে থাকা দলিলটি যেদিন হাজির করতে বাধ্য করতে পারবে।
৭৮১.
তামাদি আইনের ১১৪ ধারা অনুসারে চুক্তি রদের মামলা দায়েরের তামাদি কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর 
  3. ২ বছর 
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৪: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তি রদের মামলা (For recession of a contract) দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১১৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি প্রত্যাহার করার মামলা যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি বাতিল করার অধিকার প্রদান করে, সেগুলি সম্পর্কে বাদী যখন প্রথম অবগত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে করতে হবে।

৭৮২.
নিঃসম্বল হিসাবে আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত দাখিলের তামাদি________ দিন।
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নিঃসম্বল হিসাবে আপীল করার অনুমতির দরখাস্ত (for leave to appeal as pauper) দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন
৭৮৩.
তামাদি আইনের কোন ধারায় জবরদখলের মাধ্যমে মালিকানা বিলুপ্তি বিষয়ের উল্লেখ আছে?
  1. ২০ ধারায়
  2. ২৩ ধারায়
  3. ২৮ ধারায়
  4. ২৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজের স্থাবর সম্পত্তি (যেমন—ভূমি, ঘর) থেকে জবরদখলকারীকে উচ্ছেদ করার জন্য আদালতে মামলা না করে, তবে তার মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
অন্যভাবে বললে, যিনি দীর্ঘ সময় (যেমন ১২ বছর) ধরে কোনো প্রতিবাদ বা মামলা ছাড়া ভূমির উপর শান্তিপূর্ণ, উন্মুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন দখল বজায় রাখেন, তিনি "দখলের ভিত্তিতে অধিকার" (adverse possession) লাভ করেন। তখন প্রকৃত মালিকের আইনগত অধিকার তামাদি হয়ে যায় এবং জবরদখলকারী মালিক হিসেবে স্বীকৃত হন।

⇒ ধারা ২৮-এর মূল পয়েন্ট: এই ধারায় দাবি তামাদি হয়ে গেলে কেবল মামলা করার অধিকারই হারায় না, বরং সম্পত্তির উপর মালিকানার স্বত্বও বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ ধারা মূলত Adverse Possession বা প্রতিকূল দখলের মাধ্যমে অধিকার লাভ সম্পর্কিত।
অর্থাৎ, তামাদি আইন অনুযায়ী জবরদখলের মাধ্যমে মালিকানা বিলুপ্তির বিধান ২৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৭৮৪.
তামাদির মেয়াদ শেষে দায়ের কৃত দেওয়ানী মােকদ্দমা _____ হবে।
  1. স্থগিত
  2. খারিজ
  3. অবৈধ
  4. প্রশ্ন উত্থাপন সাপেক্ষে খারিজ হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩- তামাদি মেয়াদ শেষে দায়েরকৃত মামলা ইত্যাদি খারিজ 

তামাদির মেয়াদ শেষে দায়ের কৃত দেওয়ানী মােকদ্দমা খারিজ হবে। বিবাদী পক্ষ প্রশ্ন উত্থাপন না করলেও খারিজ হবে।
এই ধারা অনুযায়ী তামাদির বিষয়বস্তু ৩ টি। যথা-
১) মামলা;
২) আপিল; ও
৩) আবেদনপত্র।

[নােট- এই ধারার বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক]।

Section 3- Dismissal of suits, etc., instituted, etc., after period of limitation

Subject to the provisions contained in sections 4 to 25 (inclusive), every suit instituted, appeal preferred, and application made, after the period of limitation prescribed therefor by the first schedule shall be dismissed, although limitation has not been set up as a defence. 
 
Explanation.-A suit is instituted, in ordinary cases, when the plaint is presented to the proper officer; in the case of a pauper, when his application for leave to sue as a pauper is made; and, in the case of a claim against a company which is being wound up by the Court, when the claimant first sends in his claim to the official liquidator.
৭৮৫.
অবিরাম চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কিভাবে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে?
  1. প্রথম বার চুক্তি ভঙ্গের পর থেকে গণনা শুরু হবে
  2. যতবার চুক্তি ভঙ্গ করা হবে ততবার নতুন করে গণনা শুরু হবে
  3. বাদী যখন থেকে মামলা দায়ের করবে তখন থেকে গণনা শুরু হবে
  4. শেষ বার চুক্তি ভঙ্গের পর থেকে গণনা শুরু হবে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২৩ ধারায় অবিরাম চুক্তি ভঙ্গের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে। যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় বা অন্যায় করা হয় সেক্ষেত্রে যতবার চুক্তি ভঙ্গ করা হবে বা অন্যায় করা হবে ততবার নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

Section: 23- Continuing breaches and wrongs
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
৭৮৬.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লেখিত তামাদির মেয়াদগুলোর মধ্যে নিম্নলিখিত কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ৯০ দিন
  2. ৬ মাস
  3. ১৫ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলে বিভিন্ন ধরণের মামলা, আপীল ও দরখাস্ত দায়েরের জন্য বিভিন্ন মেয়াদের তামাদি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণত উল্লেখিত মেয়াদগুলো হলো: ৯০ দিন, ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর, ৬ বছর, ১২ বছর, ৩০ বছর, ৬০ বছর (যেমন: বন্ধক সম্পত্তি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলা)
- তবে, “১৫ বছর” মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। এটি কোনো suit, appeal বা application এর নির্ধারিত তামাদির সময়সীমা নয়।

অন্যান্য অপশন কেন সঠিক নয়:
ক) ৯০ দিন: সাধারণত আপীলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হয়, যেমন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে।
খ) ৬ মাস: নির্দিষ্ট কিছু আবেদন বা আবেদন সাপেক্ষ কাজের জন্য এই মেয়াদ ব্যবহৃত হয়।
ঘ) ৩০ বছর: জমি বা অন্যান্য সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা প্রভৃতিতে এ মেয়াদ প্রযোজ্য।

অর্থাৎ ১৫ বছর তামাদি মেয়াদ হিসেবে তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লেখ নেই, তাই এটি অন্তর্ভুক্ত নয়।
সঠিক উত্তর: গ) ১৫ বছর।
৭৮৭.
কোনো ক্ষতি যদি সাথে সাথে না ঘটে বরং পরে ঘটে, তবে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে—
  1. কাজ করার দিন থেকে
  2. সমন ইস্যুর দিন থেকে
  3. ক্ষতি হওয়ার দিন থেকে
  4. আদালতের আদেশের দিন থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৪ অনুসারে, যে ক্ষতিপূরণ মামলাগুলো বিশেষ ক্ষতি প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত কার্যকর হয় না, সেগুলোর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয় যখন ক্ষতি প্রকাশ পায় বা ক্ষতি হয়। এই ধারার দৃষ্টান্তে উল্লেখ আছে: যদি ভূ-পৃষ্ঠের নিচে কয়লা খননের ফলে তাৎক্ষণিক ক্ষতি না হয় কিন্তু পরে ভূ-পৃষ্ঠ ধসে পড়ে, তবে তামাদির মেয়াদ ধসের তারিখ (অর্থাৎ ক্ষতি হওয়ার দিন) থেকে শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান: বিশেষ ক্ষতির কারণ না হইলে যে কাজের জন্য মামলা করা যায় না তাহার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
যে কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।

উদাহরণ:
'ক' একটি জমির উপরিভাগের মালিক। 'খ' ঐ জমির ভূগর্ভের মালিক। উপরিভাগের তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোন ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু অবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এইক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তামাদির মেয়াদ ধসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।
---------
⇒ The limitation Act-1908, Section 24: Suit for compensation for act not actionable without special damage:-
In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results.

Illustration:
A owns the surface of a field. B owns the subsoil. B digs coal thereout without causing any immediate apparent injury to the surface, but at last the surface subsides. The period of limitation in the case of a suit by A against B runs from the time of the subsidence.

৭৮৮.
দন্ডবিধি অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১বছর
  2. ৬বছর
  3. ৬মাস
  4. ৩বছর
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৭০ ধারামতে সাধারনত অর্থদন্ড প্রদানের ৬ বছরের মধ্যে অর্থদন্ড আদায় করতে হবে, কিন্তু যদি অপরাধী ৬ বৎসরের বেশি সময়ের জন্য দণ্ডিত হয়, তাহলে উক্ত দন্ডের মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে যে কোন সময়ে অর্থদন্ড আদায়যোগ্য হবে। অপরাধীর মৃত্যু হলে তার সম্পত্তি থেকে অর্থদন্ড আদায় করা যাবে।

♦ কারাদন্ডের আদেশ হওয়ার ৬ বছরের মধ্যে জরিমানার টাকা আদায় করা না হলে, উক্ত টাকা আর কখনও আদায় করা যাবে না। উহা তামাদি দোষে বারিত হবে।
৭৮৯.
তামাদি আইনে বিভিন্ন দরখাস্ত দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৫১ থেকে ১৮৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩
  3. অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৮৩
  4. অনুচ্ছেদ ১৫৫ থেকে ১৮৩
ব্যাখ্যা
⇒তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]
অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]
অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]
অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
৭৯০.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানহানির দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদি মেয়াদ কত দিন?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ২৪:

লিখিত কুৎসা (Libel) দ্বারা মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা;
তামাদি মেয়াদ - ১ বছর;
গণনা শুরু - মানহানিকর বিষয় যখন প্রকাশিত হয় তখন থেকে। 
৭৯১.
তামাদি আইনের কোন ধারায় Adverse Possession বা জবর দখলের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ২৬
  2. ধারা ২৭
  3. ধারা ২৮
  4. ধারা ২৯
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধানে Adverse possession বা জবর দখলের কথা বলা হয়েছে।

ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৭৯২.
যদি একজন ব্যক্তি তামাদি মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই উন্মাদ হন, তবে সময় গণনা কবে থেকে শুরু হবে?
  1. আদালত আদেশ দিলে
  2. উন্মাদ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. যখন উন্মাদতা অবসান হবে
  4. যখন সেই ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করবেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যখন উন্মাদতা অবসান হবে।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী:
- যদি তামাদি মেয়াদ শুরু হওয়ার সময় (Cause of Action সৃষ্টির সময়) কোনো ব্যক্তি উন্মাদ, নাবালক বা চরম বুদ্ধিহীন অবস্থায় থাকেন, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- তার অপারগতা অবসানের তারিখ (উন্মাদতা কাটলে/নাবালক প্রাপ্তবয়স্ক হলে) থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে।
যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।
- তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section 6. Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(a) The right to sue for the hire of a boat accrues to A during his minority. He attains majority four years after such accruer. He may institute his suit at any time within the years from the date of his attaining majority.
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
(c) A right to sue accrues to X during his minority. X dies before attaining majority, and is succeeded by Y, his minor son. Time runs against Y from the date of his attaining majority.
৭৯৩.
তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কার্যক্রমের জন্য তামাদির নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ নেই?
  1. দরখাস্ত
  2. আপিল
  3. রিভিউ
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের কোথাও রিভিশনের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নেই।

- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

⇒ সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৯০ দিনের মধ্যে।
- জেলা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৩০ দিনের মধ্যে।
৭৯৪.
'ক' মামলার বাদী এবং 'গ' মামলার বিবাদী। 'ক' 'গ' এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলা করতে চায়। চুক্তিভঙ্গের তারিখ হতে বিবাদী 'গ' উন্মাদ হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. 'ক' কে তামাদিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করতে হবে
  3. 'গ' সুস্থ হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা মতে যেহেতু 'গ' মামলায় বিবাদী তাই তামাদির আইনের ৬ ধারা 'গ' এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এবং এই ক্ষেত্রে 'ক'-কে অবশ্যই ১ বৎসরের মধ্যে মামলা করতে হবে। কারণ ৬ ধারায় শুধুমাত্র বাদী সুবিধা পেতে পারে বা বাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

• ধারা ৬- আইনগত অপারগতা (Legal Disability)

আইনগত অপারগতা হচ্ছে-
১। নাবালকত্ব (Minor),
২। উন্মাদ (Insane),
৩। জড়বুদ্ধি বা হতবুদ্ধি (Idiot)।

> মােকদ্দমা করার অধিকারী ব্যক্তি যে সময়ে মামলা করার অধিকারী হয়, তখন সে নাবালক বা উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকলে, তার মামলা দায়ের করার ও তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, যে সময় থেকে তার আইনগত অপারগতার অবসান ঘটবে।

> যদি উক্ত ব্যক্তির একটি আইনগত অপারগতা থাকাকালীন সময়ে আরাে একটি অপারগতায় আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে দুটি আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

> যদি উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তার আইনানুগ প্রতিনিধি, যদি তার আবার কোন অপারগতা না থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
৭৯৫.
একজন শ্রমিক ১লা জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে তার মজুরী পায়নি। বকেয়া মজুরীর জন্য তাকে কত দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে,
গৃহ-ভৃত্য, কারিগর বা শ্রমিকের মজুরী বকেয়া হলে তার মামলা করার সময়সীমা হলো ১ বছর। অর্থাৎ শ্রমিকের মজুরী যে তারিখে বকেয়া হবে সে তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে তাকে মামলা করতে হবে।

এক্ষেত্রে তাহলে, তার মজুরীর জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ শুরু হবে ১লা জানুয়ারি, ২০২৩ থেকে। অর্থাৎ তাকে ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখের মধ্যে মামলা করতে হবে। যদি সে ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত মামলা না করে, তাহলে তার মামলা করার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে।
৭৯৬.
তামাদি আইন নিম্নের কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়?
  1. ফৌজদারি মূল মামলার ক্ষেত্রে
  2. এজাহার দায়েরের ক্ষেত্রে
  3. ফৌজদারি আপিল এবং রিভিশনের ক্ষেত্রে
  4. কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলায় নয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ ফৌজদারি মূল মামলা অর্থাৎ এজাহার, এফ আই আর বা অভিযোগ/নালিশ (complaint) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- তামাদি আইন দ্বারা ফৌজদারী মামলা বাধাপ্রাপ্ত হয় না।
- তবে ফৌজদারি আপিল, রিভিশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন।

অর্থাৎ, তামাদি আইন ফৌজদারি মূল মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়ােগ হয় না। তবে ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হয়।
৭৯৭.
মৃতের ওয়ারিশ কায়েম সংক্রান্ত তামাদির বিধান The Limitation Act এর কোন Article- এ বর্ণিত আছে?
  1. 175
  2. 176
  3. 177
  4. 178
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৭৬

মৃত বাদী বা আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত;
তামাদি- ৯০ দিন;
সময় গণনা শুরু- মৃত বাদী বা আপীলকারীর মৃত্যুর তারিখ হতে।
৭৯৮.
তামাদি আইনের কত ধারায় সুখাধিকার (Easement) সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ২৫
  2. ২৬
  3. ২৭
  4. ২৮
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জন [ Acquisition of right to easements) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- মালিক না হয়েও অন্যের জমি ব্যবহার করার অধিকার হলো সুখাধিকার। সুখাধিকার [Easement] এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে যেমন আলো বাতাসের অধিকার, চলাচলের অধিকার ইত্যাদি।

⇒ তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান: সুখাধিকার সমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):
(১) যেইক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে,
এবং যেইক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নৈতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোন মামলায় উক্তরূপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।
(২) যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ষাট বৎসর কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার অর্থানুসারে কোন কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোন লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগে প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভূত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) পথ চলার অধিকারে বাধা প্রদানের জন্য ১৯১১ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিবাদী বাধা প্রদানের কথা স্বীকার করে কিন্তু পথ চলার অধিকারের প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। বাদী প্রমাণ করে যে, সে এই অধিকার ১৮৯০ সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহতভাবে উহাতে সুখাধিকার হিসাবে স্বত্ব দাবি করিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে। বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাইবার অধিকারী।

(খ) অনুরূপ এক মামলায় বাদী দাবি করে যে, সে এই অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে বিশ বৎসর যাবত ভোগ করিয়াছে, বিবাদী প্রমাণ করে যে, ঐ বিশ বৎসরের মধ্যে বাদী একবার এই অধিকার ভোগের জন্য তাহার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিল। মামলাটি খারিজ হইয়া যাইবে।
৭৯৯.
রফিক নাবালক থাকা অবস্থায় বন্ধক উদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা করার অধিকার অর্জন করে এবং এর ১২ বছর পর তার নাবালকত্বের অবসান হয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তার মোকদ্দমা দায়েরের অবশিষ্ট সময় আছে ৪৮ বছর। এই ক্ষেত্রে রফিক কত বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৩ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৪৮ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

• ধারা ৮ হচ্ছে ৬ ও ৭ ধারার আইনগত অপারগতার ব্যতিক্রম। ৮ ধারায় উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬ ও ৭ ধারায় উল্লেখিত আইনগত অপারগতা বিশ্লেষণ করতে হবে। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ৬ এবং ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না-

১. অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার বলবৎকরণের মামলায়, এবং

২. আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের বেশী সময় তামাদির মেয়াদ থাকবে না এবং সর্বোচ্চ এই ৩ বৎসরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অক্ষমতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে অন্যথায় মামলা খারিজ হবে।

তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বন্ধক উদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করতে হয় বেদল হওয়ার ৬০ বছরের মধ্যে। কিন্তু রফিক মোকদ্দমা দায়ের করার অধিকার লাভের ১২ বছর পর নাবালকত্বের অবসান। এখানে হিসাব অনুযায়ী তার মোকদ্দমা দায়েরের আরো অবশিষ্ট সময় আছে ৪৮ বছর। যেক্ষেত্রে ৩ বছরের বেশি সময় থাকে সেক্ষেত্রে আদালত আর সময় বাড়াবে না। তাই রফিককে অবশিষ্ট ৪৮ বছরের মধ্যেই মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
৮০০.
কোন কারণে ব্যয়িত সময়কালে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদের সাথে যোগ হবে?
  1. আইনজীবী নিয়োগ
  2. হাজতবাস
  3. অসুস্থতা
  4. রায়ের নকল সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১২ ধারায় বলা আছে তামাদির মেয়াদ হিসাব করার সময় কোন কোন সময় বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে।
♦তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে কতিপয় সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে। যথা-
১) মামলা, আপিল বা দরখাস্তের মেয়াদ আরম্ভের দিন।
২) রায় ঘোষণার দিন ।
৩) রায়ের নকল গ্রহণে ব্যয়িত সময়।
৪) রোয়েদাদ উত্তোলন করতে যে সময় ব্যয় হয়।