বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Limitation Act, 1908

মোট প্রশ্ন১,০৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Limitation Act, 1908

PrepBank · পাতা / ১১ · ৬০১৭০০ / ১,০৫৪

৬০১.
অভিরাম চুক্তিভঙ্গের ফলাফল কি?
  1. তামাদির মেয়াদ অপরিবর্তীত থাকে
  2. চুক্তিভঙ্গের পর তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকে
  3. চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করাঃ
♦যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
♦এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
৬০২.
তামাদি আইনের ২৩ ধারার আওতায় অবিরাম চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে কি ঘটে?
  1. তামাদির মেয়াদ একবার শুরু হয়
  2. তামাদির মেয়াদ প্রভাবিত হয় না
  3. প্রতি মুহূর্তে তামাদির মেয়াদ নতুন করে শুরু হয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারা: অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-
যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

Section 23: Continuing breaches and wrongs-
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.

২৩ ধারাটি বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে,
এমন কিছু চুক্তির অস্তিত্ব রয়েছে যা লংঙ্ঘন করা হলে প্রতি মুহূর্তেই নালিশের কারণ উদ্ভব হয়ে থাকে। এছাড়া চুক্তি বহির্ভূত এমন কিছু ক্ষতি বা লোকসান রয়েছে যা প্রতি মুহূর্তেই নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এ সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ নতুন করে বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ, কোন চুক্তি ক্রমাগত ভঙ্গ করা হতে থাকলে বা অবিরত অন্যায় আচরণ অব্যাহত রাখা হলে, সেক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ সংঘটনের প্রতি মুহূর্তেই নতুন ভাবে মামলার কারণ উদ্ভব হবে।
৬০৩.
বিশেষ আইনের অধীন কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে তামাদি আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ধারা ৪
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ৯-১৮
  4. উল্লিখিত সকল ধারা
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ এ বলা আছে-

(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন

বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।

(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
৬০৪.
The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা কোন অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. উন্মাদনা
  2. নাবালকতা
  3. জড়বুদ্ধিতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা অনুসারে, তামাদির মেয়াদ গণনার সময় যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক (অপ্রাপ্তবয়স্ক), উন্মাদ (মানসিকভাবে অসুস্থ), বা জড়বুদ্ধি (মন্দবুদ্ধি বা মানসিক অক্ষমতা) অবস্থায় থাকে, তাহলে এই অপারগতার কারণে তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকে। অপারগতা অবসানের পর (যেমন নাবালক প্রাপ্তবয়স্ক হলে, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি ব্যক্তি সুস্থ হলে), সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার আইনানুগ প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের বা ডিক্রি জারির জন্য আবেদন করতে পারবে।

- এই ধারাটি নাবালকতা, উন্মাদনা এবং জড়বুদ্ধিতা—এই তিনটি অবস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ) উপরের সবগুলো।
৬০৫.
যদি তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধ থাকার সময় শেষ হয়, তবে মামলাটি কবে দায়ের করা যাবে?
  1. যেকোনো তারিখে
  2. আদালত পুনরায় খোলার দিন
  3. তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৭ দিনের মধ্যে
  4. তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ৪ ধারা: আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়:
যেইক্ষেত্রে কোন মামলা, আপিল দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধ থাকার দিন উত্তীর্ণ হয় সেক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খুলিবার দিন উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু দায়ের বা রুজু করা যাইবে।
৬০৬.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৬ অনুযায়ী মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি পক্ষভুক্ত করার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৯০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. যে কোন সময়ে
ব্যাখ্যা
♠ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৬ অনুযায়ী মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি পক্ষভুক্ত করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন
৬০৭.
তামাদি আইনের বিধান অনুযায়ী, 'ক' তার বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে?
  1. ৬ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৪৮ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৮:
বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি খালাস করার জন্য বা দখল পুনরুদ্ধারের [redeem] জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা;
তামাদি- ৬০ বৎসর;
তামাদি শুরু - যখন সম্পত্তি খালাস করার বা দখল পুনরুদ্ধার করার অধিকার উদ্ভব হয়।

৬০৮.
বিলম্বিত মোহর পরিশোধের জন্য মামলা করতে হবে -
  1. ১ বছরের মধ্যে
  2. ২ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. যে কোন সময়
ব্যাখ্যা
♠ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৪ অনুযায়ী মৃত্যু/তালাক কার্যকরের পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে দেন মোহর আদায়ের মামলা করতে হবে।
৬০৯.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী, মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া যায় কতদিনের মধ্যে?
  1. কারাদণ্ড আরম্ভের তারিখ থেকে ১ বছর
  2. মামলা নিষ্পত্তির তারিখ থেকে ৬ মাস
  3. অভিযোগ দায়েরের তারিখ থেকে ১ বছর
  4. কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৯ অনুসারে: মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড (False Imprisonment) ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হলো ১ বছর।
- কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদি গণনা শুরু হয়।

- অর্থাৎ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী যদি কেউ অন্যায়ভাবে বা মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকে এবং সে ঐ কারাদণ্ডের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী করতে চায়, তবে তাকে কারাদণ্ড শেষ হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলাটি দায়ের করতে হবে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর ঘ) কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ১ বছর।
৬১০.
"তামাদির মেয়াদ গণনায় ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার হবে" এটি তামাদি আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ২৩ ধারা
  2. ২৪ ধারা
  3. ২৫ ধারা
  4. ২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনে ধারা ২৫ উল্লেখ করে: তামাদি আইন, ১৯০৮ এর সকল সময় গণনা করা হবে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জীকা বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে।

⇒ The Limitation Act, 1908: Section 25:- Computation of time mentioned in instruments:
- All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.

Illustrations
(a) A Hindu makes a promissory note bearing a Native date only, and payable four months after date. The period of limitation applicable to a suit on the note runs from the expiration of four months after date computed according to the Gregorian calendar.
(b) A Hindu makes a bond, bearing a Native date only, for the repayment of money within one year. The period of limitation applicable to a suit on the bond runs from the expiration of one year after date computed according to the Gregorian Calendar.
৬১১.
অক্ষম ব্যক্তির ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ হিসেবে বোঝাবে-
  1. আইন সম্মত অভিভাবক
  2. কমিটি
  3. ম্যানেজার
  4. উল্লিখিত সবাইকে
ব্যাখ্যা
ধারা ২১: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of person under disability)

যথাবিহিতরূপে ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলিতে অপারগতাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে-
আইন সম্মত অভিভাবক;
কমিটি বা ম্যানেজারকে; অথবা
অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
৬১২.
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন মৃত আপিলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার দরখাস্ত কত দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৭৬ এর বিধান: মৃত বাদী অথবা আপিলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত মৃত বাদী বা আপিলকারীর মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
- অন্যদিকে, তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৭ অনুযায়ী-মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
৬১৩.
দেওয়ানি মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করতে হবে রায়ের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে?
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ৬০
  4. ৯০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেকোন দেওয়ানী আদালতের নিকট দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৬১৪.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ কত দিন?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ হলো ৭ দিন, যা অনুচ্ছেদ ১৫০-এ উল্লেখিত। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল দায়েরের জন্য তামাদি মেয়াদ ৭ দিন, যা রায় ঘোষণার তারিখ থেকে গণনা করা হয়। এটি প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় বিভাগে (আপিল) অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ হলো ৭ দিন, যা অনুচ্ছেদ ১৫০-এ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৬১৫.
জনাব 'ক' এবং জনাব 'খ' -এর মধ্যে একটি জমি বিক্রির লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তি হয় ১ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে। এই লিখিত চুক্তিভঙ্গের জন্য জনাব 'খ' যদি ক্ষতিপূরণের মামলা করতে চান, তাহলে তাকে কয় বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে?
  1. ৬ মাসের মধ্যে
  2. ১ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. ৬ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিল- অনুচ্ছেদ ১১৬:
লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
তামাদি সময়সীমা: ৬ বছর।
তামাদি সময়সীমা গণনা শুরু হবে: যখন চুক্তি নিবন্ধিত না হয় এবং মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

এক্ষেত্রে, জনাব খ যদি ক্ষতিপূরণের মামলা করতে চান, তাহলে তাকে ৬ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৬১৬.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে সরকারের বকেয়া রাজস্বের জন্য জমির বিক্রয়ের মামলায় তামাদি মেয়াদ ১২ বছর উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৫
  2. অনুচ্ছেদ ১১৬
  3. অনুচ্ছেদ ১২০
  4. অনুচ্ছেদ ১২১
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে অনুচ্ছেদ ১২১ তে বলছে যখন কোনো সম্পূর্ণ জমিদারী (entire estate), পত্নি তালুক (patni taluq) বা অন্য কোনো বিক্রয়যোগ্য অধিকার সরকারি রাজস্ব বা খাজনার বকেয়ার জন্য বিক্রি করা হয়, এবং কেউ এই বিক্রয় বাতিল করতে চায় কারণ এতে জটিলতা বা অধীন ভোগদারির (incumbrances/under-tenures) সমস্যা আছে তখন বিক্রয় চূড়ান্ত ও চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার দিন থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।

⇒ অর্থাৎ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২১-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: সরকারি বকেয়া রাজস্বের জন্য বিক্রীত জমিদারি/পত্তনী সম্পর্কিত মামলার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর, এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় বিক্রয় চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক হওয়ার তারিখ থেকে।
৬১৭.
কোন পরিস্থিতিতে স্বীকৃতির ফলে নতুন তামাদির মেয়াদ গণনা করা হবে?
  1. যখন আদালত আদেশ দেয়
  2. যখন সম্পত্তির মালিক চুক্তি ভঙ্গ করে
  3. যখন লিখিতভাবে দায় স্বীকার করা হয়
  4. যখন অন্য কোন ব্যক্তি মামলা দায়ের করে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৯ ধারার বিধান লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল:
(১) যেহেতু, কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সংক্রান্ত মামলা বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে, যেই পক্ষের বিরুদ্ধে উক্ত সম্পত্তি বা অধিকার দাবি করা হচ্ছে, সেই পক্ষের দ্বারা লিখিতভাবে দায় স্বীকার করা হয়েছে, অথবা যার মাধ্যমে তিনি অধিকার বা দায় প্রাপ্ত হয়েছেন, সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি স্বীকৃতি হলে, তাহলে স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হবে।

(২) যদি স্বীকৃতির লিখিত নথিতে তারিখ উল্লেখ না থাকে, তবে এটি স্বাক্ষর করার সময় সম্পর্কিত মৌখিক সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে; কিন্তু, ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের বিধানের সাপেক্ষে, এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।

ব্যাখ্যা I - এই ধারার উদ্দেশ্যে, একটি স্বীকৃতি যথেষ্ট হতে পারে যদিও এটি সম্পত্তি বা অধিকারটির সঠিক প্রকৃতি উল্লেখ না করে, অথবা দাবি করে যে অর্থ প্রদান, বিতরণ, সম্পাদন বা উপভোগের সময় এখনও আসেনি, অথবা এটি অর্থ প্রদান, বিতরণ, সম্পাদন বা উপভোগ করতে অস্বীকৃতি জানায়, অথবা এটি শোধবাদের দাবি সহিত জড়িত থাকে, অথবা এটি ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লেখা হয় যে সম্পত্তি বা অধিকার পাওয়ার অধিকারী নয়।

ব্যাখ্যা II - এই ধারার উদ্দেশ্যে, "স্বাক্ষরিত" শব্দের অর্থ হলো ব্যক্তিগতভাবে অথবা এই ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্ট দ্বারা স্বাক্ষরিত।

ব্যাখ্যা III - এই ধারার উদ্দেশ্যে, ডিক্রী বা আদেশ কার্যকর করার জন্য আবেদন করা একটি অধিকার সম্পর্কিত আবেদন হিসেবে গণ্য হবে।
----------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-19.Effect of acknowledgement in writing: 
 (1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed. 
 
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received. 
 
Explanation I - For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time 
 
for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right. 
 
Explanation II - For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf. 
 
Explanation III - For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৬১৮.
স্থাবর সম্পত্তি দখল উদ্ধারের মোকদ্দমার তামাদির সময়সীমা কিসের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়?
  1. সম্পত্তি কেনার তারিখ
  2. সম্পত্তি বিক্রির তারিখ
  3. সম্পত্তি থেকে বেদখলের তারিখ
  4. আদালতের রায়ের তারিখ
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন,১৯০৮ ১ম তফসিল: অনুচ্ছেদ-৩:

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মোকদ্দমা।
[under the specific relief Act, 1877, section 9, to recovery of Possession of Immovable Property]

তামাদি- ৬ মাস।
সময় গণনা শুরু- সম্পত্তি হতে বেদখলের সময়।
৬১৯.
'ক' কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবী করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি খ-কে অর্পণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে 'ক' কখন ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ বছরের মধ্যে
  2. ১২ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. ২ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মোকদ্দমা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বা 'Declaratory Sui't বা 'Suit for Declaration' বলে।

তামাদি আইনে ঘোষণামূলক মোকদ্দমার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এই আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 
যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়। ঘোষণামূলক মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় হতে ৬ বছরের মধ্যে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে হবে।
৬২০.
The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী চুক্তি প্রবলের মামলায় Period of Limitation হলো-
  1. ১ বৎসর
  2. ২ বৎসর
  3. ৩ বৎসর
  4. ৪ বৎসর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী,

চুক্তি প্রবলের মামলা করার তামাদির মেয়াদ হচ্ছে এক বছর, অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ১২ ধারার অধীন চুক্তি প্রবলের মামলা করতে হবে এক বছরের মধ্যে।
৬২১.
বর্তমানে তামাদি আইনে কয়টি ধারা বলবৎ আছে?
  1. ২৯
  2. ৩১
  3. ৩২
  4. ২৭
ব্যাখ্যা
⇒ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
- তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।
-বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফশিল বলবৎ আছে। তামাদি আইনের ৩০ থেকে ৩২ (মোট ৩টি) ধারা বাতিল (repeal ) করা হয়েছে।
- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
i. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
ii. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
iii. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
৬২২.
তামাদি আইনের কোন ধারা অনুযায়ী জাবেদা নকল ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ গণনা হতে বাদ যাবে?
  1. ১২ ধারা
  2. ১৩ ধারা
  3. ১৫ ধারা
  4. ১৬ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা মোতাবেক আইনানুগ কার্যধারায় যে সময় গণনা থেকে বাদ দিতে হয়-
- মামলা করার কারণ যেদিন উদ্ভব হবে সেই দিন, রায় ও ডিক্রি যেদিন প্রদান করা হয় সে দিনটি, রায় ও ডিক্রির জাবেদা নকল সংগ্রহ করার জন্য যতদিন লাগে ততদিন।
- সুতরাং বলা যায় যে, তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী জাবেদা নকল সংগ্রহের সময়টুকু তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারার বিধান আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায়। পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
-----------------------
⇒ The Limitation Act, 1908: Section-12: Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded.
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded.
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded.
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৬২৩.
নিচের কোনটি তামাদি আইনের ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয় না, অধিকার নষ্ট হয়
  2. তামাদির দরুন প্রতিকার ও অধিকার উভয়ই নষ্ট হয়
  3. তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নষ্ট হয় না
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নষ্ট হয় না:
- তামাদির কারণে প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নয়। তামাদি আইন কেবলমাত্র অধিকার ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে।
- তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোন বিধান বলে কোন অধিকার সৃষ্টিও হয় না, নষ্টও হয় না। ২৮ ধারার বিধান ব্যতীত তামাদি আইনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেলে মামলা করে আইনগত প্রতিকার লাভ করা নিষিদ্ধ হয় থাকে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট অধিকার বিদ্যমান থেকেই যায়।
-মামলা-মোকদ্দমা ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে যদি সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারা যায়, তবে তামাদি আইন সেক্ষেত্রে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে না।
 তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোন বিধান বলে কোন অধিকার সৃষ্টিও হয় না, নষ্টও হয় না।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে তামাদি আইনের ক্ষেত্রে "তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নষ্ট হয় না" কথাটি সঠিক। 
৬২৪.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে রোয়েদাদ নাকচের জন্য দরখাস্তের তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় কখন থেকে?
  1. রোয়েদাদ ঘোষণার দিন থেকে
  2. দরখাস্ত দাখিলের দিন থেকে
  3. রোয়েদাদের নকল প্রাপ্তির দিন থেকে
  4. আদালতের অনুমতি নেওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) রোয়েদাদের নকল প্রাপ্তির দিন থেকে।
⇒ তামাদি আইন অনুযায়ী, যখন কোন পক্ষ রোয়েদাদ (আদালতের আদেশ বা আদেশ সদৃশ আদবকায়দা) বাতিল বা নাকচ করতে চায়, তখন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দরখাস্ত করতে হলে সংশ্লিষ্ট রোয়েদাদের সার্টিফায়েড কপি (নকল) সংগ্রহ করতে হয়। “রায় বা ডিক্রী বা রোয়েদাদের বিরুদ্ধে আপীল, পুনঃনিরীক্ষণ বা দরখাস্ত করতে হলে, তামাদি গণনার শুরু হবে যখন সেই রায় বা রোয়েদাদের নকল তোলা হবে।”
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ১২(৪) উপধারা অনুসারে, যদি কেউ রোয়েদাদ (Award) বাতিল করার জন্য দরখাস্ত করে, তাহলে রোয়েদাদের নকল (certified copy) সংগ্রহ করতে যে সময় লাগে, তা তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। অর্থাৎ, তামাদি গণনা শুরু হবে নকল প্রাপ্তির দিন থেকে, ঘোষণার দিন থেকে নয়।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদি মেয়াদ গণনা করার সময় তামাদি শুরু হওয়ার দিনটি বাদ দেওয়া হয়।
- তামাদি আইনের ১২(১) উপধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদি গণনার ক্ষেত্রে সেই দিনটি বাদ যাবে, যেদিন থেকে তামাদি গণনা শুরু হওয়ার কথা।
- ১২(২) উপধারা অনুযায়ী, আপিল বা পুনঃবিবেচনার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার দিন এবং আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশের নকল সংগ্রহে লেগে যাওয়া সময় বাদ দেওয়া হবে।
- ১২(৩) উপধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ডিক্রি বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়, তাহলে সেই রায়ের অনুলিপি সংগ্রহে যতদিন লাগে তাও বাদ যাবে।
- ১২(৪) উপধারা অনুসারে, রোয়েদাদ (Award) বাতিল করার আবেদন করলে, রোয়েদাদের নকল সংগ্রহের সময়টুকু বাদ যাবে।

⇒ The Limitation Act: Section 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.

৬২৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ-
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

• তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ হবে ৬ বছর।
৬২৬.
কোনো দরখাস্ত দায়েরের মেয়াদ তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা না থাকলে কোন অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে?
  1. ১৮০
  2. ১৮১
  3. ১৮২
  4. ১৮৩
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮১ বিধান: তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অন্য কোথাও বা দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় যে সব দরখাস্ত সম্পর্কে কোন বিধান নাই সেইসব দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ দরখাস্ত করার অধিকার উদ্ভব হওয়ার দিন থেকে ৩ বছর।
৬২৭.
তামাদি আইন শুধু প্রতিকারে বাধা প্রদান করে এবং এটা কোন অধিকার বিলুপ্ত করে না। এই নিয়মের ব্যতিক্রম বলা আছে তামাদি আইনের কত ধারায়?
  1. ২৬ ধারা 
  2. ২৭ ধারা 
  3. ২৮ ধারা 
  4. ২৯ ধারা 
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন শুধু প্রতিকারে বাধা প্রদান করে এবং এটা কোন অধিকার বিলুপ্ত করে না। এই নিয়মের ব্যতিক্রম বলা আছে তামাদি আইনের ২৮ ধারায়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৮ অনুসারে, যখন কোনো মামলা বা দরখাস্ত দায়েরের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা (তামাদি মেয়াদ) অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তখন শুধুমাত্র মামলা দায়েরের সুযোগই হারায় না, বরং বাদীর সেই সম্পত্তির উপর আইনগত অধিকারও (right itself) বিলুপ্ত হয়ে যায়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলপ্ত হয়ে যাবে।
-------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.

৬২৮.
নিচের কোনটি The Limitation Act, 1908-এর ২৮ ধারার মূল বিধান?
  1. আদালত তামাদির সময়সীমা যেকোনো সময় বাড়াতে পারে
  2. তামাদির সময় পার হলেও মালিকানার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে
  3. তামাদির মেয়াদ পার হয়ে গেলে সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়
  4. আদালত ব্যক্তির অধিকারের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করতে পারে
ব্যাখ্যা
উত্তর: (গ) তামাদির মেয়াদ পার হয়ে গেলে সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়।
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৮ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি তামাদি আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তার সম্পত্তির অধিকার প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তবে তার ঐ সম্পত্তির উপর কোনো অধিকার থাকবে না এবং সেটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

 উদাহরণ:
যদি একজন ব্যক্তি তার জমির মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ বছর এর মধ্যে মামলা না করেন, তাহলে তামাদি মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি আইনি অধিকার হারাবেন এবং জমির বর্তমান দখলদার মালিক হয়ে যাবে।

→ এ কারণেই বলা হয়, "Limitation does not only bar the remedy but also extinguishes the right." অর্থাৎ, তামাদির সময়সীমা পার হয়ে গেলে শুধু মামলা করার অধিকারই হারায় না, বরং সম্পত্তির অধিকারই বিলুপ্ত হয়ে যায়।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 28. Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৬২৯.
একজন ব্যক্তি নাবালক অবস্থায় উন্মাদে পরিণত হলে, তামাদি আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের মেয়াদ কখন থেকে গণনা শুরু হবে?
  1. অধিকার সৃষ্টির সময় থেকেই
  2. যখন সে উন্মাদ অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে
  3. যখন সে নাবালক অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে
  4. যখন সে উভয় অবস্থা (নাবালক ও উন্মাদ) থেকেই মুক্তি পাবে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬(২) অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি তামাদির মেয়াদ গণনা শুরুর সময় একাধিক বৈধ অপারগতা (যেমন: নাবালকত্ব ও উন্মাদত্ব) এর অধীন থাকে, বা এক অপারগতা চলাকালে আরেক অপারগতায় পতিত হয়, তবে সমস্ত অপারগতা শেষ হওয়ার পর থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
- সুতরাং, উভয় অপারগতা (নাবালকত্ব ও উন্মাদত্ব) শেষ হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৬ ধারা বিধান- বৈধ অপারগতা:
(১) যেক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় কলামে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে যা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।
(২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হওয়ার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে তা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।
(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে তা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।
(৪) যেক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

৬৩০.
একটি আপিল দায়েরে তামাদির মেয়াদ গণনায় সংশ্লিষ্ট রায়ের নকল তুলতে ব্যয়িত সময় -
  1. যুক্ত হবে
  2. সম্পূর্ণ বাদ যাবে
  3. অর্ধেক বাদ যাবে
  4. বাদ যাবে নাকি যুক্ত হবে তা আদালতের বিবেচনাধীন বিষয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে-

(১) কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন হতে উক্ত মেয়াদ গণনা করতে হবে সেই দিন বাদ দিতে হবে।

(২) কোনো আপিল, আপিলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যে রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হবে, তা যেদিন ঘোষণা করা হয়েছে, সেইদিন এবং যে ডিক্রি, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপিল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যেই সময় আবশ্যক, তা বাদ দিতে হবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি সম্পর্কে আপিল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি যেই রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই রায়ের নকল পেতে যে সময় লাগে, তাও বাদ দিতে হবে।

(৪) কোনো রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, রোয়েদাদের নকল পেতে যে সময় লাগে, তা বাদ দিতে হবে।

⇒ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে কতিপয় সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে। যথা-
১) মামলা, আপিল বা দরখাস্তের মেয়াদ আরম্ভের দিন;
২) রায় ঘোষণার দিন;
৩) রায়ের নকল গ্রহণে ব্যয়িত সময়;
৪) রোয়েদাদ উত্তোলন করতে যে সময় ব্যয় হয়।
৬৩১.
লিখিতভাবে দায় স্বীকার করলে তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে নতুন করে শুরু হবে?
  1. ঋণ নেওয়ার দিন থেকে
  2. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  3. লিখিত দায় স্বীকারের দিন থেকে
  4. ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় অতিক্রমের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী, যদি তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে দায় স্বীকার করে (যেমন—ঋণ বা পাওনা স্বীকার করে), তাহলে সেই দায় স্বীকারের দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

- তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
- লিখিত হতে হবে
- উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
- অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
- উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 19: Effect of acknowledgement in writing-
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed.
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received.
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right.
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf.
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৬৩২.
তামাদি আইনের ২৩ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মামলা দায়েরের সময়সীমা
  2. অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায়
  3. রায় পুনরীক্ষণের সময়সীমা
  4. ডিক্রীর নকল সংগ্রহের সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারা বলে, অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদি শুরু হয়। অর্থাৎ, চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় যতক্ষণ চলবে, ততক্ষণ মামলা করার সময়ও বাড়তে থাকবে। এটা যাতে কেউ দীর্ঘ সময়ের অন্যায়ের জন্য মামলা করতে না পারে বলে নয়।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:
- যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
- এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908: Section-23: Continuing breaches and wrongs:
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
৬৩৩.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর কোন ধারা Trust-related মামলার সময়সীমা নিয়ে বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ১০
  3. ধারা ১৯
  4. ধারা ২৬
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১০ এ Trust related মামলার সময়সীমা নিয়ে বলা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, Trustee (বিশ্বাসপালনকারী) বা তার legal representative (আইনি প্রতিনিধি) এর বিরুদ্ধে Trust সম্পত্তি বা তহবিলের conversion (অন্যের কাজে ব্যবহার) বা diversion (অন্য খাতে প্রবাহিত করা) এর জন্য, বা তার হিসাব দাখিলের জন্য মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, এমন মামলা যেকোনো সময় দায়ের করা যায়।

অন্য Options গুলো সম্পর্কে:
ধারা ৬: আইনি অক্ষমতা (minority, insanity ইত্যাদি) সম্পর্কিত।
ধারা ১৯: দায় স্বীকার (acknowledgment) এর মাধ্যমে সময়সীমা পুনরায় শুরু হওয়া সম্পর্কিত।
ধারা ২৬: Easement (সুখ) অধিকার অর্জন সম্পর্কিত।

সুতরাং, Trust-related মামলার সময়সীমা সম্পর্কিত ধারা হলো ধারা ১০। তামাদি আইন, ১৯০৮, ধারা ১০ এর অধীনে ট্রাস্ট-সম্পর্কিত মামলার জন্য বিশেষ বিধান প্রদান করে।

⇒ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে থাকা সম্পত্তির মালিক বা ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে থাকা সম্পত্তির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা কোনো সময়সীমার জন্য বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, তামাদি আইনের অন্যান্য বিধানের মতো এখানে নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই।
- বিশেষত, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই সম্পত্তি ট্রাস্টি কর্তৃক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বলে বিবেচিত হয়।
-  অর্থাৎ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুসারে, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section- 10. Suits against express trustees and their representatives:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, no suit against a person in whom property has become vested in trust for any specific purpose, or against his legal representatives or assigns (not being assigns for valuable consideration), for the purpose of following in his or their hands such property or the proceeds thereof, or for an account of such property or proceeds, shall be barred by any length of time. 
For the purposes of this section any property comprised in a Hindu, Muslim or Buddhist religious or charitable endowment shall be deemed to be property vested in trust for a specific purpose, and the manager of any such property shall be deemed to be the trustee thereof.

৬৩৪.
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ৮ কোন ধরনের মামলায় প্রযোজ্য নয়?
  1. ঋণ আদায়ের মামলা
  2. ঘোষণামূলক মামলা
  3. অগ্রক্রয়ের মামলা
  4. বংশগত পদলাভ সম্পর্কিত মামলা
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম:
৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, 
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

উদাহরণ:

(ক) ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।

৬৩৫.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর কত ধারার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. ৫ ধারার ক্ষেত্রে
  2. ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
  3. ৫২ ধারার ক্ষেত্রে
  4. ৩৫ ধারার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-

⇒ বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
⇒ বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে
⇒ সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভূক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
৬৩৬.
বর্তমানে তামাদি আইনের কয়টি ধারা বলবৎ আছে?
  1. ৩২ টি
  2. ২৯ টি
  3. ২৮ টি
  4. ২৫ টি
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন পাশ করা হয়। এই আইনটি ১৮৬২ সালে কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ ১৯০৮ সালে পুনরায় তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয় যা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এটা ১৯০৮ সালের ৯নং আইন। আইনটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী হতে কার্যকর হয়।

বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল বলবৎ আছে। ধারাসমূহে তামাদির মেয়াদ গণনার পদ্ধতি যেমন কোন সময় বাদ দিয়ে এবং কোন সময় যোগ করে তামাদি গণনা করতে হবে, তামাদির জন্য নির্ধারিত সময়ের পর মোকদ্দমা দায়ের করলে তার ফলাফল, তামাদির বিলম্ব মওকুফ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং ২৬ থেকে ২৮ ধারা প্রেসক্রিপশন [prescription] ও অর্জন [acquisition] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৬৩৭.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুসারে কাদের আইনগত অক্ষম হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. নাবালক
  2. উন্মাদ ব্যক্তি
  3. জড়বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত সকল
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ থেকে ৯-এ আইনগত অপারগতা সংক্রান্ত বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যখন মামলা করার অধিকার অর্জন করেন কিন্তু কোনো কারণে সে সময় আইনগতভাবে মামলা করতে অক্ষম (Legally Disabled) থাকেন, তখন তামাদি মেয়াদ (Limitation Period) গণনার নিয়ম কিছুটা ভিন্ন হয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908) এর ধারা ৬ এর বিধান অনুসারে, যেসব ব্যক্তি তাদের বয়স, মানসিক অবস্থা বা বিচারবোধের অভাবের কারণে আইনি কার্যক্রম শুরু করতে স্বাভাবিকভাবে সক্ষম নন, তাদের "আইনগত অক্ষম" (legally disabled) ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইন অনুযায়ী তিন শ্রেণির মানুষকে আইনগত অক্ষম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে:
১) নাবালক (Minor) – যার বয়স ১৮ বছরের নিচে।
২) উন্মাদ ব্যক্তি (Person of Unsound Mind) – মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি।
৩) জড়বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি (Intellectually Disabled) – বিচারবোধ বা সিদ্ধান্তগ্রহণে অক্ষম ব্যক্তি।
- এইসব ব্যক্তিদের জন্য তামাদি মেয়াদ (Limitation Period) স্থগিত থাকে যতদিন না তারা সম্পূর্ণভাবে সক্ষম হন (অর্থাৎ সাবালক বা মানসিকভাবে সুস্থ)। তারা যখন সম্পূর্ণ সক্ষম হবেন, তখন থেকেই তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
- তিনটি অপশন সঠিক এবং তামাদি আইন অনুযায়ী "উল্লিখিত সকল" ব্যক্তিকে আইনগত অক্ষম ধরা হয়। তাই সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সকল।

- যদি কোনো ব্যক্তি যখন মামলা করার অধিকারী হন, তখন তিনি এই তিনটি অবস্থার যেকোনো একটিতে থাকেন, তাহলে তার তামাদি মেয়াদ শুরু হবে না।
- মেয়াদ গণনা শুরু হবে তখনই, যখন ওই অপারগতার অবসান ঘটবে (যেমন: সাবালক হওয়া, সুস্থ হওয়া ইত্যাদি)।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৭: যৌথ স্বার্থে আইনগত অপারগতা: 
যদি একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো অধিকার অর্জন করেন এবং তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক ব্যক্তি আইনগতভাবে অক্ষম হন, তবে:
- যদি তারা পৃথকভাবে মামলা করতে না পারেন (যেমন—অবিচ্ছেদ্য স্বার্থ), তবে সকলের ক্ষেত্রেই তামাদি মেয়াদ স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ না অক্ষম ব্যক্তির অক্ষমতা দূর হয়।
- তবে যদি অন্য ব্যক্তিরা আলাদাভাবে মামলা করতে সক্ষম হন, তাহলে তাদের জন্য তামাদি মেয়াদ চলবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৮: ব্যতিক্রম (Exception to Sections 6 & 7)
এই ধারা অনুসারে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ধারা ৬ ও ৭-এ দেওয়া সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। যেমন:
১. অগ্রক্রয়ের (Pre-emption) মামলায় – এই ধরনের মামলায় আইনগত অপারগতার কোনো সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
২. সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ – যখন আইনগত অপারগতা দূর হয় বা অক্ষম ব্যক্তি মারা যান, তখন থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
- যদি ৩ বছরের মধ্যে মামলা না করা হয়, তাহলে তামাদি মেয়াদ পেরিয়ে যাবে এবং মামলা খারিজ হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৯: অপারগতার পরবর্তী অক্ষমতা:
- যখন একজন ব্যক্তি মামলা করার অধিকার অর্জনের সময় সক্ষম (legally capable) থাকেন এবং তামাদি মেয়াদ শুরু হয়ে যায়,
- এরপর যদি তিনি পরবর্তীতে অক্ষম হয়ে পড়েন (যেমন উন্মাদ হন), তাহলে এর প্রভাব তামাদি মেয়াদে পড়বে না।
- অর্থাৎ, একবার শুরু হওয়া তামাদি মেয়াদ আর স্থগিত হবে না।
৬৩৮.
Under Section 25 of the Limitation Act, 1908, all instruments shall be deemed to be made with reference to which calendar?
  1. Hindu calendar
  2. Islamic calendar
  3. Julian calendar
  4. Gregorian calendar
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908, Section-25: Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.

তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
৬৩৯.
তামাদি আইন অনুসারে, "Bill of Exchange" এর মধ্যে কী অন্তর্ভুক্ত থাকে?
  1. চেক ও হুন্ডি
  2. কেবল নগদ অর্থ
  3. শুধুমাত্র ব্যাংক ড্রাফট
  4. স্ট্যাম্পড রসিদ
ব্যাখ্যা
The Limitation Act, 1908: ধারা ২ – সংজ্ঞা (Definitions):
এই আইনে, যদি প্রসঙ্গ বা বিষয়বস্তুতে ভিন্ন কিছু না বোঝায়, তবে:

(২) "বিল অব এক্সচেঞ্জ (Bill of Exchange)" বলতে হুন্ডি এবং চেককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
[“bill of exchange” includes a hundi and a cheque]
৬৪০.
The Limitation Act, 1908 এর কোন ধারা অনুযায়ী জাবেদা নকল গ্রহণে ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ গণনা হতে বাদ যাবে?
  1. ১১
  2. ১২
  3. ১৩
  4. ১৪
ব্যাখ্যা
- তামাদি আইনের ১২ ধারায় বলা আছে তামাদির মেয়াদ হিসাব করার সময় কোন কোন সময় বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে।
- তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে কতিপয় সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে। যথা-
১) মামলা, আপিল বা দরখাস্তের মেয়াদ আরম্ভের দিন।
২) রায় ঘোষণার দিন।
৩) রায়ের নকল গ্রহণে ব্যয়িত সময়।
৪) রোয়েদাদ উত্তোলন করতে যে সময় ব্যয় হয়।

তামাদি আইনের ১২ ধারার বিধান আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে- 
(১) কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন হতে উক্ত মেয়াদ গণনা করতে হবে সেই দিন বাদ দিতে হবে।

(২) কোনো আপিল, আপিলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যে রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হবে, তা যেদিন ঘোষণা করা হয়েছে, সেইদিন এবং যে ডিক্রি, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপিল করা হবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হবে, তার নকল গ্রহণ করতে যেই সময় আবশ্যক, তা বাদ দিতে হবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি সম্পর্কে আপিল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি যেই রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই রায়ের নকল পেতে যে সময় লাগে, তাও বাদ দিতে হবে।
(৪) কোনো রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, রোয়েদাদের নকল পেতে যে সময় লাগে, তা বাদ দিতে হবে।
--------
- Section 12: Exclusion of time in legal proceedings-
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৬৪১.
মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করতে হবে কত দিনের মধ্যে-
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে।

তামাদি আইন,১৯০৮ সালের ১ম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৭৭ অনুসারে, কোনো মোকদ্দমার বিবাদী বা আপিলের ক্ষেত্রে প্রতিবাদী মৃত্যুবরণ করলে মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর বৈধ প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে দরখাস্ত দায়ের করতে হবে।

অপরদিকে, অনুচ্ছেদ ১৭৬ অনুসারে-
কোনো মোকদ্দমার বাদী বা আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী মৃত্যুবরণ করলে মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে মৃত ব্যক্তির বৈধ প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে দরখাস্ত দায়ের করতে হবে।
৬৪২.
চুক্তি আইনের কোন ধারার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. ১৫
  2. ২৫
  3. ৩৫
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-

⇒ বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা
⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
⇒ বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে
⇒ সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভুক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
-------------
The Limitation Act, 1908 Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৬৪৩.
তামাদি আইনের ১২ ধারার কোন উপধারায় তামাদির মেয়াদ গণনার শুরুর দিনটি বাদ দেওয়ার বিধান উল্লিখিত হয়েছে?
  1. উপধারা (১)
  2. উপধারা (২)
  3. উপধারা (৩)
  4. উপধারা (৪)
ব্যাখ্যা

⇒তামাদি আইনের ১২(১) ধারায় বলা হয়েছে যে -  কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, যেদিন হতে উক্ত মেয়াদ গণনা করতে হবে সেদিনটি বাদ দিতে হবে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
------------------
The Limitation Act 1908, Section-12-Computaion of the period of limitation:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded.

(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded.
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded.
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.

৬৪৪.
বারবার চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ গণনা কিভাবে হয়?
  1. প্রথম চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
  2. বাদীর ইচ্ছামত দিনের থেকে
  3. সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে
  4. আদালতের আদেশের দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুসারে, যদি একটি চুক্তি পুনরাবৃত্তভাবে ভঙ্গ করা হয় (recurring breach of contract), তাহলে প্রতিবার চুক্তি ভঙ্গ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি নতুন cause of action সৃষ্টি হয়।
- সেক্ষেত্রে প্রতিবার চুক্তি ভঙ্গের জন্য পৃথক পৃথক তামাদি মেয়াদ শুরু হয়। তবে যদি আপনি সবশেষ ভঙ্গের জন্য মামলা করতে চান, তাহলে সর্বশেষ চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকেই তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:
-যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
- এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-23.Continuing breaches and wrongs:
-In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
৬৪৫.
নিলাম গ্রহীতার সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করার প্রয়োজন হলে, নিলাম রদ করার মামলায় যে সময় ব্যয় হয়েছে তা তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে- তামাদি আইনের কত ধারায় এই বিধান দেয়া আছে?
  1. ১৭ ধারায়
  2. ১৮ ধারায়
  3. ১৬ ধারায়
  4. ১৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১৬ ধারায় নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে বলা আছে-

’ডিক্রি জারির জন্য কোন সম্পত্তি বিক্রয়’ অর্থাৎ নিলাম বিক্রয় রদ করার জন্য মামলা দায়ের করা হলে, মামলা যতদিন চলবে সেই সময় নিলাম গ্রহিতার বা যিনি নিলাম কিনেছেন তার উক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করার প্রয়োজন হলে নিলাম রদ করার মামলায় যে সময় ব্যয় হয়েছে তা তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

Section 16: Exclusion of time during which proceedings to set aside execution-sale are pending
In computing the period of limitation prescribed for a suit for possession by a purchaser at a sale in execution of a decree, the time during which a proceeding to set aside the sale has been prosecuted shall be excluded.
৬৪৬.
"বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলায়, বিদেশের তামাদি আইনের কোন বিধি তামাদি হতে অব্যাহতির কারণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না"- এর ব্যতিক্রম কোনটি?
  1. যদি সেই বিধিটি জনগুরুত্বপূর্ণ হয়
  2. যদি সেই বিধিটি আন্তর্জাতিক আইনের অংশ হয়
  3. যদি সেই বিধি অনুসারে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে বা পক্ষগণ নির্দিষ্ট সময় সংশ্লিষ্ট দেশে বসবাস করে
  4. বিধিটি ব্যবহার পক্ষগণের সম্মতি থাকে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,

⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লেখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।

⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।

Section 11: Suits on foreign contracts-
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act. 
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.
৬৪৭.
তামাদি আইনের কত ধারায় নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত সময়কে তামাদির হিসেব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে?
  1. ১৬ ধারায়
  2. ১৫ ধারায়
  3. ১৮ ধারায়
  4. ২১ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ১৫- কার্যধারা স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ যাবে 

কোন মামলা বা ডিক্রি জারির দরখাস্ত কোন নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত বা মূলতবী করলে, তামাদির মেয়াদ গণনা কালে যে সময়ের জন্য স্থগিত বা মুলতবী ছিল সে সময়টি বাদ যাবে।

যে সকল মামলার ক্ষেত্রে পূর্ব নোটিশ দিতে হয়, সে সকল ক্ষেত্রে নিদৃষ্ট তামাদি মেয়াদ থেকে নােটিশের সময়টি বাদ যাবে।

Section 15- Exclusion of time during which proceedings are suspended
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded. 
 
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.
৬৪৮.
Legal Disability (আইনগত অপারগতা)-এর অর্ন্তভুক্ত হবে না কোনটি?
  1. জড়বুদ্ধি
  2. নাবালকত্ব
  3. উন্মাদ
  4. আইন না জানা
ব্যাখ্যা
♠♠
• তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি কারণ ( জড়বুদ্ধি, নাবালকত্ব, উন্মাদ) আইনগত অপারগতার অন্তর্ভুক্ত।
• "আইন না জানা" -এ কারণ গুলোর মধ্যে পড়ে নাই তাই ঘ-ই সঠিক উত্তর।  
৬৪৯.
ফৌজদারী মামলা শুরুর ক্ষেত্রে তামাদি প্রযোজ্য নয়, এই বক্তব্যের ব্যতিক্রম কোনটি?
  1. এজাহার দায়ের
  2. চার্জশীট
  3. চার্জ গঠন
  4. ফৌজদারী আপীল দায়ের
ব্যাখ্যা
♦যেহেতু তামাদি আইন ফৌজদারী মূল মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না এবং যেহেতু এজাহার দায়ের বা অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে ফৌজদারী মূল মামলা দায়ের করা হয়, তাই এজাহার, এফআইআর বা অভিযোগ (সিআর)এর ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়। চার্জ গঠন বা চার্জশীট দায়েরে কোন নির্ধারিত সময় নেই।
♦কিন্তু ফৌজদারী মামলার আপীল বা রিভিশন এর ক্ষেত্রে তামাদির বিধান প্রযোজ্য। যেমন কোন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে তামাদি আইনএর ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সে ৭ দিনের মধ্যে আপীল করতে হবে।
৬৫০.
'ক' উন্মাদ থাকা অবস্থায় তার বাড়ি অপর একজনের কাছে হস্তান্তর করে। সুস্থ হওয়ার পর 'ক' এই বিষয়ে বুঝতে পেরে নিজের বাড়ি ফেরত পেতে মোকদ্দমা দায়ের করতে চায়। 'ক' কয়দিনের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ১২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ- ৯৪

- উন্মাদ থাকাকালে বাদী যে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছে তার জন্য মামলা;
- ৩ বছর;
- যখন বাদী সুস্থ হয় এবং হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে পারে তখন থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
৬৫১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না?
  1. চুক্তিভঙ্গের মামলা
  2. ঋণ আদায়ের মামলা
  3. জবরদখলের মামলা
  4. বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন ১৯০৮-এর ধারা ২৯(৩)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act)-এর অধীনে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
- অর্থাৎ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য নয়।


⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ২৯: সংরক্ষণ (Savings):
(১) এই আইনের কোনো কিছুই ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ২৫-কে প্রভাবিত করবে না।
(২) যদি কোনো বিশেষ আইন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির একটি ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করে, যা প্রথম তফসিলে উল্লিখিত মেয়াদ থেকে আলাদা, তাহলে ধারা ৩-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, যেন সেই মেয়াদ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত হয়েছে। এবং কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য:
(ক) ধারা ৪, ধারা ৯ থেকে ১৮ এবং ধারা ২২-এর বিধানগুলো কেবল সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যতটুকু সেই বিশেষ আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়নি; এবং
(খ) এই আইনের অন্যান্য বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়েরকৃত মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) ধারা ২৬ এবং ২৭, এবং ধারা ২-এ উল্লিখিত "সুবিধা" (easement)-এর সংজ্ঞা, ১৮৮২ সালের সুবিধা আইন (Easements Act, 1882) যে অঞ্চলে প্রযোজ্য, সেই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
-------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) The provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) The remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৬৫২.
তামাদি আইনের কোনো বিধান কোন আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না?
  1. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
  2. চুক্তি আইন, ১৮৭২
  3. দণ্ডবিধি, ১৮৬০
  4. দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৯ এ বলা আছে-
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।

(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

৬৫৩.
মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি মামলা দায়ের করার যোগ্যতা অর্জন করলে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় কখন থেকে?
  1. মৃত্যুর দিন থেকে
  2. মামলার কারণ উদ্ভবের দিন থেকে
  3. প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে
  4. আদালতের অনুমতি পাওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে।
⇒ মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি মামলার তামাদি (সময়সীমা) গণনা শুরু হয় তখন থেকে যখন তিনি মামলা দায়ের করার যোগ্যতা অর্জন করেন, অর্থাৎ যখন তিনি আইনি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির অধিকার নিয়ে মামলা করতে সক্ষম হন।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী: যদি কোনো ব্যক্তি, যিনি জীবিত থাকলে মামলা দায়ের করার অধিকার পেতেন, কিন্তু মৃত্যু হয়ে যান মামলার অধিকার সৃষ্টির আগেই, তাহলে তামাদি শুরু হবে সেই সময় থেকে যখন মৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি মামলা দায়েরের যোগ্যতা অর্জন করে।
সুতরাং, তামাদি গণনা শুরু হয় প্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জনের দিন থেকে।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারা (অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল) অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।
এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।

⇒ The Limitation Act:- Section 17- Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application.
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application.
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
৬৫৪.
তামাদি আইন অনুসারে নিঃসম্বল হিসাবে আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ১০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নিঃসম্বল হিসাবে আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত (for leave to appeal as pauper) দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন।
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭০ এর বিধান নি:স্ব হিসাবে আপীল করার অনুমতি দরখাস্ত [for leave to appeal as pauper], যে ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল হবে, তার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
৬৫৫.
বাংলাদেশে বিদেশে সম্পাদিত কোনো চুক্তির ভিত্তিতে মামলা হলে, সাধারণত কোন তামাদি আইন প্রযোজ্য হয়?
  1. শুধুমাত্র বিদেশি তামাদি আইন
  2. শুধুমাত্র বাংলাদেশের তামাদি আইন
  3. দুই দেশের তামাদি আইন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ (Suits on foreign contracts) অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশে কোনো বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে মামলা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের তামাদি আইনের বিধানাবলীই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, বিদেশি তামাদি আইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।

ধারা ১১(১) বলছে:
- “Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.”
এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দায়ের করা মামলা যদি বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ওপর ভিত্তি করে হয়, তবুও তা বাংলাদেশের তামাদি আইনের অধীনেই বিচার হবে।

তবে, একটি ব্যতিক্রম রয়েছে:
ধারা ১১(২) অনুযায়ী, বিদেশি তামাদি আইন তখনই defence হিসেবে গণ্য হতে পারে, যদি—
- বিদেশি তামাদি আইনের অধীনে চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত (extinguished) হয়ে যায়, এবং
- চুক্তির পক্ষদ্বয় উক্ত বিদেশি দেশে তামাদি সময়সীমার পুরো সময়জুড়ে বসবাস (domiciled) করছিল।
৬৫৬.
তামাদি আইনের কত ধারায় বিদেশে অনুষ্ঠিত চুক্তির উপর তামাদি আইনের প্রভাবের বিধান রয়েছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১৩
  4. ১৭
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে।
উক্ত ধারা অনুযায়ী,
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লিখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।
--------------- 
⇒The Limitation Act, 1908: Section 11: Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.
৬৫৭.
শ্রমিকের মজুরির জন্য মামলা করতে হয় কত সময়ের মধ্যে?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. যে কোন সময়
ব্যাখ্যা
♣ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী ১ বছরের মধ্যে বকেয়া মজুরি আদায়ের মামলা করতে হয়।
৬৫৮.
The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের মোট অনুচ্ছেদ কয়টি?
  1. ১১৩ টি অনুচ্ছেদ
  2. ১৭৩ টি অনুচ্ছেদ
  3. ১৮৩ টি অনুচ্ছেদ
  4. ১৩৮ টি অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের মোট ধারা-৩২টি; মোট ভাগ/খন্ড-৫টি এবং মোট তফসিল-৩টি তবে বর্তমানে শুধুমাত্র ১ম তফসিলটি বলবৎ আছে, কেননা ২য় ও ৩য় তফসিল বাতিল করা হয়েছে। তামাদি আইনের এই ১টি তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

♦ তামাদি আইনের ১ম তফসিলে তামাদির মেয়াদ বর্ণিত রয়েছে। তামাদি আইনের ৩০ থেকে ৩২ (মোট ৩টি) ধারা বাতিল (repeal ) করা হয়েছে।

♦ ১৭৯৩ সালে সর্ব প্রথম তামাদি আইন ইংরেজীতে প্রবর্তিত হলেও ১৮৫৯ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তামাদি আইন প্রণীত হয়। অর্থাৎ ১৮৫৯ সালে তামাদি আইন সর্বপ্রথম আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৮৫৯ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭১ সালে নতুন করে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, ১৮৭১ সালের তামাদি আইনে সরকার কর্তৃক যে কোন মোকদ্দমা দায়েরের সময় ছিল ৬০ বৎসর। পরবর্তীতে ১৮৭১ সালের তামাদি আইনের পরিবর্তে ১৮৭৭ সালে তামাদি আইন প্রবর্তন করা হয়।

♦ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত। এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।

♦ সর্বশেষ ২০০৪ সালে তামাদি আইন সংশোধন করা হয়। ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ দুইটি সংশোধন করা হয়।

♦ তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পদ্ধতিগত আইন উল্লেখ না থাকলে বিধিবদ্ধ আইন হবে।
৬৫৯.
তামাদি আইনের কত ধারায় 'সময়ের অবিরাম চলন' এর বিধান আছে?
  1. ২৩
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৯ ধারার বিধান হল একবার তামাদির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া শুরু করলে মোকদ্দমা দায়েরে পরবর্তী কোন অপারগতা (Disability) বা অক্ষমতা (Inability) দ্বারা তা বন্ধ হবে না। তবে যেক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদের উপর অর্পিত হয়েছে সেক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেনার টাকা আদায়ে মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
-অর্থাৎ 'সময়ের অবিরাম চলন' হল তামাদি আইনের ৯ ধারার বিধান।
----------------
⇒ The Limitation Act, 1908- Section 9:- Continuous running of time:
-Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
৬৬০.
তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত দায় স্বীকারের ফলাফল কি?
  1. তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে
  3. তামাদির মেয়াদ থেকে লিখিত দায় স্বীকারের মেয়াদ বাদ যাবে
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
⇒ লিখিত হতে হবে
⇒ উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
⇒ অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
⇒ উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

Section 19: Effect of acknowledgement in writing
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed. 
 
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received. 
 
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right. 
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf. 
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৬৬১.
তামাদি আইনের ২৩ ধারায় বিষয় হচ্ছে-
  1. অবিরাম চুক্তি ভঙ্গের ফল
  2. দায় স্বীকারের ফল
  3. অবিরাম অন্যায়ের ফল
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী অবিরামভাবে চুক্তিভঙ্গের প্রতি মুহুর্তে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। এছাড়াও অবিরাম ভাবে অন্যায় করা হলে অন্যায়ের প্রতি মুহুর্তে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে
৬৬২.
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ১৪ অনুযায়ী কোন আদালতে পরিচালিত কার্যক্রমের সময় বাদ হতে পারে?
  1. কেবল নিম্ন আদালত
  2. কেবল উচ্চ আদালত
  3. এখতিয়ারবিহীন আদালত
  4. এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৪: এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে কার্যক্রমের সময় বাদ দেওয়া:
(১) যেকোনো মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, বাদী যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে অন্য একজন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি একই কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এবং সৎ উদ্দেশ্যে সেই আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

(২) কোনো আবেদনটির জন্য নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ গণনা করতে গেলে, আবেদনকারী যদি একই পক্ষের বিরুদ্ধে একই ক্ষতিপূরণের জন্য অন্য একটি দেওয়ানি কার্যক্রমে যথাযথ যত্নসহকারে মামলা চালিয়ে থাকেন—এটি প্রথম আদালতে হোক বা আপিল আদালতে—তাহলে সেই সময় বাদ দেওয়া হবে, যদি উক্ত কার্যক্রমটি সৎ উদ্দেশ্যে এমন একটি আদালতে পরিচালিত হয়ে থাকে, যা এখতিয়ারের অভাবে বা অনুরূপ অন্য কারণে মামলা গ্রহণ করতে অক্ষম।

৬৬৩.
নিচের কোনটি পদ্ধতিগত আইন?
  1. চুক্তি আইন
  2. তামাদি আইন
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
  4. দণ্ডবিধি
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮ হচ্ছে পদ্ধতিগত আইন।

⇒ পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law):
তত্ত্বগত আইনগুলোতে যে অধিকার, কর্তব্য ও শাস্তিসমূহ উল্লেখ থাকে সেগুলো যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যে আইনসমূহে উল্লেখ থাকে তাই পদ্ধতিগত আইন। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, তামাদি আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি ইত্যাদি।

⇒তত্ত্বগত আইন (Substantive Law):
যে আইনসমূহ অধিকার ও কর্তব্যকে সজ্ঞায়িত বা সন্নিবেশিত করে বা কোন অপরাধ কে সজ্ঞায়িত করে ও তার শাস্তির পরিমান উল্লেখ করে, তাই তত্ত্বগত আইন বা মূল আইন। যেমন: চুক্তি আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।

৬৬৪.
তামাদি আইনের ২১ ধারায় বর্ণিত ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলতে কাকে বোঝাবে?
  1. আইনসম্মত অভিভাবক
  2. কমিটি বা ম্যানেজার
  3. কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
ধারা ২১: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of person under disability)

যথাবিহিতরূপে ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলিতে অপারগতাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে-
আইন সম্মত অভিভাবক;
কমিটি বা ম্যানেজারকে; অথবা
অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
৬৬৫.
A suit for possession of immovable property on the basis of previous possession and not on the basis of title can be filed u/S. 9 of S.R. Act-
  1. Within 3 months of dispossession
  2. Within 6 months of dispossession
  3. Within 1 year of dispossession
  4. Within 6 years of dispossession
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮- অনুচ্ছেদ- ৩: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মোকদ্দমা:
[under the specific relief Act, 1877, section 9, to recovery of Possession of Immovable Property]
তামাদি- ৬ মাস।
সময় গণনা শুরু- সম্পত্তি হতে বেদখলের সময়।
৬৬৬.
কোন দেওয়ানি মামলায় তামাদির বিষয়টি-
  1. অধিকারের প্রশ্ন
  2. আইনের প্রশ্ন
  3. ঘটনার প্রশ্ন
  4. আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় তামাদির বিষয়টি আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন। আইনে উল্লিখিত কোনো বিষয় দ্বারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয় বা নির্দিষ্ট হয় তখন তা আইনের প্রশ্ন। আর, আইনে উল্লেখ থাকা বিষয়ের সাথে যখন কোনো প্রাসঙ্গিক ঘটনা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত বা নির্দিষ্ট হয় তখন তাকে ঘটনার প্রশ্ন বলে।

যেমন, তামাদি আইনের ৩ ধারায় উল্লেখ আছে যে, নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পর মোকদ্দমা, আপিল, দরখাস্ত ইত্যাদি দায়ের করা হলে তা খারিজ হয়ে যাবে। এই খারিজ হয়ে যাবার বিষয়টি সরাসরি আইনের প্রশ্ন। কিন্তু অন্যদিকে ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা অন্য কোনো দরখাস্ত নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরেও আদালতে তা গৃহীত হতে পারে, যদি আপিলকারী বা দরখাস্তকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত আপিল বা দরখাস্ত দাখিল না করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ ছিল।

অর্থাৎ, আপিলকারী বা দরখাস্তকারী অসুস্থতা, ভ্রান্তি, আইনজীবীর ভুল ইত্যাদি ঘটনাগত কারণে নির্ধারিত সময়ের ভেতরে আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করতে না পারলে তা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদের পরেও গৃহীত হতে পারে। ফলে, এই ৫ ধারায় একটি ঘটনার প্রশ্ন।
তাই বলা হয়- তামাদির বিষয়টি আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন।
৬৬৭.
তামাদি আইন অনুযায়ী রোয়েদাদ বাতিলের আবেদনের ক্ষেত্রে কী বাদ দেওয়া হবে?
  1. আদালতের ছুটির দিন
  2. রায় ঘোষণার তারিখ
  3. আবেদন দাখিলের তারিখ
  4. রোয়েদাদের নকল পাওয়ার সময়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২(৪) বলছে:
"In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded."
অর্থাৎ — রোয়েদাদ বাতিলের আবেদনের তামাদি সময় গণনায়, রোয়েদাদের কপি সংগ্রহে যে সময় প্রয়োজন হয়, তা বাদ যাবে।

৬৬৮.
বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের বিধান মোতাবেক নোটিশ দেয়া হলে, নোটিশে উল্লিখিত সময় _________।
  1. তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দিতে হবে
  2. তামাদি মেয়াদ গণনায় হিসেব করতে হবে
  3. আদালত চাইলে তামাদি মেয়াদ গণনায় বাদ বা যোগ করতে পারেন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ১৫ ধারায় বলা আছে, আদালতের নির্দেশে যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ থাকে তবে সেই সময় তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে। এবং যে সকল মামলার ক্ষেত্রে অপর পক্ষ বা কোন অথোরিটি কে নোটিশ প্রদানের বিধান থাকে তবে নোটিশে উল্লেখ করা সময় তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দিতে হবে।

ধারা ১৫- কার্যধারা স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হবে

(১) যে মামলা কিংবা ডিক্রিজারীর আবেদন দায়ের কিংবা জারী, কোন নিষেধাজ্ঞা কিংবা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন তা নিষেধাজ্ঞা কিংবা আদেশ বলবৎ ছিল, যে দিন তা প্রদত্ত হইয়াছিল ও সে দিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।

(২) যে মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অপর কোন আইনের বিধান মোতাবেক নোটিশ দেয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত সময় হিসাব নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।

Section 15- Exclusion of time during which proceedings are suspended
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded. 
 
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.
৬৬৯.
বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে মামলা করলে কোন তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে?
  1. বিদেশী দেশের তামাদি আইন
  2. আন্তর্জাতিক আইন
  3. বাংলাদেশে প্রচলিত তামাদি আইন
  4. আদালতের বিবেচনা অনুযায়ী যেকোনো আইন
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,
⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লেখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।
⇒ বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।

তবে যদি সেই বিধি অনুসারে ,
চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।

৬৭০.
তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান কী?
  1. প্রতারণার ফলাফল
  2. আইনগত অপারগতা
  3. বিলম্ব মওকুফ
  4. সুখাধিকার
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-

(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা

(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

♦ যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
♦  অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান  প্রতারণার ফলাফল।
৬৭১.
তামাদি আইন, ১৯০৮ কবে প্রণীত হয়েছিল?
  1. ৭ আগস্ট ১৯০৮
  2. ১৫ জুলাই ১৯০৮
  3. ১০ সেপ্টেম্বর ১৯০৮
  4. ২৫ নভেম্বর ১৯০৮
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) হল একটি প্রক্রিয়াগত (procedural) আইন, যা মূলত দেওয়ানি মামলা, আপিল, দরখাস্ত ইত্যাদির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
- এই আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের অধীনে প্রণীত হয়।
- এটি ৯ নং আইন (Act No. IX of 1908) হিসেবে পরিচিত।
- আইনটি কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ১৯০৯ থেকে।
এই আইন প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যাতে কোনো ব্যক্তি অনন্তকাল পর্যন্ত মামলা করে বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে এবং বিরোধ নিরসনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
→ অর্থাৎ তামাদি আইন ৭ আগস্ট ১৯০৮ তারিখে প্রণীত হয়েছিল।
৬৭২.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা-
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী,
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর অধীনে খালাস (Acquittal) আদেশের বিরুদ্ধে আপীল  করার জন্য সময়সীমা ৬ মাস।

- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় যে আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হচ্ছে তার তারিখ থেকে।

৬৭৩.
ক এর অনুকূলে মোকদ্দমা করার অধিকার সৃষ্টি হওয়ার কিছুদিন পর ক পাগল হয়ে যায় এবং ২ বছর যাবত পাগল থাকে এবং ইতোমধ্যে মোকদ্দমা দায়েরের মেয়াদকাল অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এই ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক যতদিন পাগল থাকবে ততোদিন তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ থাকবে।
  2. তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ থাকবে না
  3. ক সর্বোচ্চ ৩ বছর তামাদির সুযোগ পাবে
  4. বিলম্ব মওকুফের দরখাস্ত দিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে।
ব্যাখ্যা
♦ ৯ ধারার বিধান মোতাবেক তামাদির মেয়াদ গণনা একবার শুরু হুলে তা পরবর্তী অপারগতার কারণে তামাদির গণনা বন্ধ থাকবে না। আইনগত অপারগতা প্রযোজ্য হবে যদি তা শুরু হওয়ার কালে মামলার অধিকার সৃষ্টি হয়।
৬৭৪.
লিমিটেশন এ্যাক্ট-১৯০৮ এর ধারা ১৪ প্রযোজ্য হয়-
  1. স্যুটের ক্ষেত্রে
  2. রেফারেন্সের ক্ষেত্রে
  3. রিভিশনের ক্ষেত্রে
  4. রিভিউ-র ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৪ ধারার বিধান  এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় যেই সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে-

(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, বাদী মূল বা আপিল আদালতে বিবাদীর বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানি কার্যক্রম যথাবিহিত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি একই হয় এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যে আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমের বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয়, সেই আদালতে যদি সৎবিশ্বাসে তা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে কার্যক্রমে যে সময় ব্যয়িত হয়, মামলার মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।

(২) কোন দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে দরখাস্তকারী মূল বা আপিল আদালতে একই পক্ষের বিরুদ্ধে যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যধারা যথোপযুক্ত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে এবং তাতে একই প্রতিকার দাবি করা হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে এখতিয়ার নিয়ে ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে যে আদালতে শেষোক্ত কার্যধারার বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয় সেই আদালতে সৎবিশ্বাসে উপরোক্ত কার্যধারা দায়ের করা হয়ে থাকলে শেষোক্ত কার্যধারায় যে সময় ব্যয়িত হয়, উপরোক্ত দরখাস্তের মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।

ব্যাখ্যা ১- যে সময়ের জন্য পূর্ববর্তী মামলা বা দরখাস্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল তা বাদ দিতে, যে ঐ মামলা বা দরখাস্ত রুজু বা দাখিল করা হয়েছিল এবং যে দিন তাদের কার্যধারা শেষ হয়েছিল, উভয় দিনই গণনা করতে হবে।

ব্যাখ্যা ২- এ ধারার উদ্দেশ্যে যে বাদী বা দরখাস্তকারী আপিলে বিরোধিতা করছে, সে কার্যধারা চালাচ্ছে বলে গণ্য হবে ।

ব্যাখ্যা ৩- এ ধারার উদ্দেশ্যে ভুল পক্ষভুক্তি বা মামলার কারণভুক্তি, এখতিয়ারগত ত্রুটির ন্যায় একই প্রকৃতির কারণ বলে পরিগণিত হবে।

♦অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় ব্যয়িত সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ দিতে হবে। ১৪ ধারা শুধুমাত্র মূল মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আপীল বা রিভিশ বা রিভিউ এর ক্ষেত্রে ১৪ ধারা প্রযোজ্য না। 
৬৭৫.
কোন বিষয় সংক্রান্ত মোকদ্দমায় বৈধ অপারগ ব্যক্তির ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ গণনা বন্ধ হয় না?
  1. অগ্রক্রয়
  2. চুক্তি প্রবল
  3. স্বত্ব ঘোষণা
  4. দখল পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৬-৭ ধারায় মামলা করার অধিকার সৃষ্টির সময় বাদী legal disability তে আক্রান্ত থাকলে তখন তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ রাখার বিধান আছে। কিন্তু তামাদি আইনে ৮ ধারায় বলা আছে এই বিধান অগ্রক্রয়ের আবেদন বা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম:
৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

উদাহরণ:
(ক) ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।

Section 8: Special exceptions:
Nothing in section 6 or in section 7 applies to suits to enforce rights of pre-emption, or shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period within which any suit must be instituted or application made.
৬৭৬.
তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ বর্ণিত আছে?
  1. ১০৩
  2. ১১৩
  3. ১১৫
  4. ১২৩
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।

অর্থাৎ চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
৬৭৭.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপীলের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ২০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুযায়ী,  ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপীল করার তামাদির মেয়াদ হলো ৩০ দিন, গণনা করা হয় যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫২ জেলা জজ আদালতের দেওয়ানি ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৩০ দিন।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় ডিক্রি বা আদেশের তারিখ থেকে।
৬৭৮.
এক ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে কারাদণ্ড ভোগ করেন। তিনি এই অন্যায় কারাদণ্ডের কারণে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে চান। তামাদি আইন অনুযায়ী, তিনি কতদিনের মধ্যে মামলা করতে পারবেন?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৯- মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড [False Imprisonment] ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা।
তামাদি- ১ বৎসর।
সময় গণনা শুরু- কারাদণ্ড যখন সমাপ্ত হয়।
৬৭৯.
আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদির মেয়াদ শেষ হলে, মামলার আবেদন কখন জমা দেওয়া যাবে?
  1. আদালত খোলার এক সপ্তাহ পর
  2. আদালত পুনরায় খোলার দিন
  3. তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন
  4. আদালত খোলার এক মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৪ ধারা: আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়:
যেইক্ষেত্রে কোন মামলা, আপিল দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধ থাকার দিন উত্তীর্ণ হয় সেক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খুলিবার দিন উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু দায়ের বা রুজু করা যাইবে।

Section 4- Where Court is closed when period expires:
Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.
৬৮০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৬ অনুসারে, মিতাক্ষরা আইনের আওতাধীন কোন হিন্দু কর্তৃক পিতার বিক্রিত পৈতৃক সম্পত্তি হস্তান্তর রদ করার মামলার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১২৬ অনুযায়ী: "মিতাক্ষরা আইনের আওতাধীন কোনো হিন্দু যদি তাঁর পিতার বিক্রিত পৈতৃক সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং হস্তান্তর রদ করার মামলা করতে চায়, তাহলে তিনি করতে পারবেন ১২ বছরের মধ্যে এবং এই সময় গণনা শুরু হবে যেদিন হস্তান্তর গ্রহীতা সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৬ মিতাক্ষরা আইনের অধীন পৈতৃক সম্পত্তির অবৈধ হস্তান্তর রদ করার মামলার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় হস্তান্তর গ্রহীতা যখন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে সেই তারিখ থেকে।
৬৮১.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৮ অনুযায়ী, দাবীকৃত কোনো পোষ্য বা দত্তক গ্রহণ অবৈধ ঘোষণা মামলা করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১২ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৮ অনুযায়ী: "দাবীকৃত কোনো পোষ্য বা দত্তক গ্রহণ (alleged adoption) অবৈধ অথবা অনুরূপ কোন পোষ্য কখনও গ্রহণ করা হয়নি—এই মর্মে ঘোষণার দাবীতে মামলা করতে হবে ৬ বছরের মধ্যে, এবং এই সময় গণনা শুরু হবে যখন বাদী কথিত দত্তক গ্রহণ সম্পর্কে জানতে পারে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৮ অনুসারে, কোনো দাবীকৃত দত্তক গ্রহণ অবৈধ বা কখনও হয়নি এমন ঘোষণার মামলা করার তামাদি মেয়াদ ৬ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় যখন বাদী দত্তক গ্রহণের বিষয়ে জানতে পারে।
৬৮২.
The Limitation Act, 1908-এর ২২(১) ধারা অনুসারে, নতুন বাদী বা বিবাদী সংযোজনের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের তারিখ কখন গণ্য হবে?
  1. নতুন পক্ষের সম্মতি অনুযায়ী
  2. আদালত যে তারিখ নির্ধারণ করে
  3. মূল মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  4. যখন নতুন পক্ষ সংযোজিত বা প্রতিস্থাপিত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২২(১) ধারা অনুসারে, যদি কোনো মামলায় নতুন বাদী বা বিবাদী সংযোজিত বা প্রতিস্থাপিত হয়, তবে সেই নতুন পক্ষের জন্য মামলাটি ঠিক তখনই দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে, যখন তাকে মামলার অংশ করা হয়।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তামাদি আইনের মেয়াদ নির্ধারণে এটি প্রভাব ফেলে। যদি নতুন পক্ষ সংযোজিত হওয়ার আগেই তামাদি মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে সেই পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে।

উদাহরণ:
→  মূল মামলা দায়ের: ১ জানুয়ারি ২০১৫।
→ নতুন বিবাদী সংযোজন: ১ মার্চ ২০১৭।
- নতুন বিবাদীর জন্য মামলা দায়েরের তারিখ গণ্য হবে ১ মার্চ ২০১৭, মূল মামলা দায়েরের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৫ নয়।

অর্থাৎ The Limitation Act, 1908-এর ২২(১) ধারা অনুযায়ী, নতুন বাদী বা বিবাদী সংযোজনের ক্ষেত্রে তার জন্য মামলাটি সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের দিন থেকে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে।
৬৮৩.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩-এ স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলার তামাদির মেয়াদ কখন থেকে গণনা করা হয়?
  1. মামলা দায়েরের সময় থেকে
  2. সম্পত্তি বিক্রয়ের সময় থেকে
  3. সম্পত্তি বেদখলের সময় থেকে
  4. দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ-৩ অনুসারে: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯-এর অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের (Recovery of Possession of Immovable Property) মামলার তামাদি মেয়াদ ৬ মাস।
- এই সময়সীমা গণনা শুরু হয় সম্পত্তি বেদখল হওয়ার তারিখ থেকে (When the dispossession occurs)।
- সুতরাং, স্থাবর সম্পত্তির দখল উদ্ধারের মামলার তামাদি মেয়াদ বেদখলের তারিখ থেকে গণনা করা হয়।
৬৮৪.
তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুসারে, নিচের কোনটি "বৈধ অপারগতা" (Legal Disability) হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. নির্বুদ্ধিতা
  2. নাবালকত্ব
  3. অপ্রকৃতিস্থতা
  4. দেউলিয়া অবস্থা
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ৬ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যত দিন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে। নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা হবে।
- অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে অপ্রকৃতিস্থতা, নাবালকত্ব, নির্বুদ্ধিতা বৈধ অপারগতা। কিন্তু দেউলিয়া অবস্থা বৈধ অপারগতা নয়।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা:
উপধারা:(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা: (২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা: (৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যেত, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা: (৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
-------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-6.Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908.
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed.
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply.

Illustrations:
(a) The right to sue for the hire of a boat accrues to A during his minority. He attains majority four years after such accruer. He may institute his suit at any time within the years from the date of his attaining majority.
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease.
(c) A right to sue accrues to X during his minority. X dies before attaining majority, and is succeeded by Y, his minor son. Time runs against Y from the date of his attaining majority.

৬৮৫.
'Adverse Possession' শব্দদ্বয় তামাদি আইনের কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. তামাদি আইনের ২৮ ধারায়
  2. তামাদি আইনের ১৪২ অনুচ্ছেদে
  3. ক এবং খ
  4. কোথাও ব্যবহার করা হয় নি
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কিভাবে বা কি কারণে একজনের মালিকানায় থাকা সম্পত্তিতে তার অধিকার বা মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যাকে ‘সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি’ শিরোনামে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইনে মামলা দায়ের করার যে মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে ঐ সময়সীমার মাঝে মামলা দায়ের না করলে তার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

যেমন ১ম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৪২-এ উল্লেখ করা হয়েছে বাদীর দখলে থাকাকালে সে যদি বেদখল বা নিজের দখল বজায় না রাখে তাহলে বেদখল হবার বা যেদিন থেকে দখল বজায় না রাখে সে তারিখ হতে ১২ বছরের মাঝে তার মামলা দায়ের করতে হবে। যদি সে মামলা দায়ের না করে তাহলে ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী তার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তি দখলে আছে সে যদি ১২ বছরের বেশী সময় তার নিরবিচ্ছিন্ন দখলে থাকা প্রমাণ করতে পারে তাহলে ঐ সম্পত্তিতে তার বিরুদ্ধ দখলজনিত স্বত সৃষ্টি হবে যাকে আদালতের ভাষায় Title by adverse possession বলা হয়।

তামাদি আইনের ২৮ ধারা বা ১৪২ অনুচ্ছেদে Adverse Possession শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু বহু বছর ধরে আদালতে এরুপ দখলকে Adverse দখল হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। Adverse Possession সম্পর্কে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট মতামত দেন যে- ‘Adverse possession implies that it commenced in wrong and is maintained against right’। ২৮ ধারার সাথে সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ হচ্ছে ১৪২,১৪৪ এবং ১৪৯।
৬৮৬.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের কত অনুচ্ছেদ ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১০
  2. অনুচ্ছেদ ১১২
  3. অনুচ্ছেদ ১২০
  4. অনুচ্ছেদ ১৩১
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারার মোকদ্দমাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বলা হয়। শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

• তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ হবে ৬ বছর।
৬৮৭.
“All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.” – এই বিধান কোন ধারার?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৫ 
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৫-এর পুরো বিধানই হলো: “All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.”
- অর্থাৎ তামাদি আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সব দলিল (যে ক্যালেন্ডারেই লেখা থাকুক না কেন – বঙ্গাব্দ, হিজরি, শকাব্দ ইত্যাদি) গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সম্পাদিত বলে গণ্য হবে। এর ফলে তামাদির মেয়াদ গণনায় একক ও নির্ভুল নিয়ম প্রয়োগ হয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী, দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments)- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-------
-The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.

৬৮৮.
দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য বিষয়টি অবগত হওয়ার কত বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে মামলা দায়ের করতে হয়?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য বিষয়টি অবগত হওয়ার তিন বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে মামলা দায়ের করতে হয়।
৬৮৯.
The Limitation Act, 1908 কবে বলবৎ হয়?
  1. ৭ই আগস্ট, ১৯০৯
  2. ৭ই আগস্ট, ১৯০৮
  3. ১লা জানুয়ারী, ১৯০৯
  4. ১লা জানুয়ারী, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908-এর ধারা 1(3) অনুসারে, ধারা 1 (প্রারম্ভিক) এবং ধারা 31 অবিলম্বে বলবৎ হয়, অর্থাৎ আইনটি পাস হওয়ার তারিখ ৭ই আগস্ট, ১৯০৮-এ। তবে আইনের বাকি অংশ বলবৎ হয় ১লা জানুয়ারী, ১৯০৯ থেকে।
সুতরাং, আইনটি পাস হয় ৭ই আগস্ট, ১৯০৮-এ কিন্তু সম্পূর্ণরূপে বলবৎ হয় ১লা জানুয়ারী, ১৯০৯-এ।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908) হল একটি প্রক্রিয়াগত (procedural) আইন, যা মূলত দেওয়ানি মামলা, আপিল, দরখাস্ত ইত্যাদির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
- এই আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের অধীনে প্রণীত হয়।
- এটি ৯ নং আইন (Act No. IX of 1908) হিসেবে পরিচিত।
এই আইন প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যাতে কোনো ব্যক্তি অনন্তকাল পর্যন্ত মামলা করে বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে এবং বিরোধ নিরসনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
তামাদি আইনের (Limitation Act, 1908) ধারা ১(৩) অনুযায়ী, ধারা ১ ও ধারা ৩১ অবিলম্বে কার্যকর হয় এবং বাকি অংশ ১ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখ থেকে কার্যকর হয়।
→ অর্থাৎ তামাদি আইন ৭ আগস্ট ১৯০৮ তারিখে প্রণীত হয় এবং ১ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখ থেকে কার্যকর হয়।

- বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফশিল বলবৎ আছে।
- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে।
- তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
i. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
ii. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
iii. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

৬৯০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট চুক্তি বলবৎ করণের মামলা দায়ের করতে হবে -
  1. ৬ মাসের মধ্যে
  2. ১ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. যে কোন সময়ে
ব্যাখ্যা
♣♣ 
চুক্তি পালনের জন্য নির্ধারিত তারিখ/ যখন অনুরূপ কোন তারিখ নির্দিষ্ট না থাকে,
• তখন বাদী যখন অবগত হয় যে বিবাদী চুক্তি পালনের জন্য অস্বীকৃতি করেছে;
• তখন ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে। 
৬৯১.
সাভারে অবস্থিত একটি পোশাক কারখানার একজন শ্রমিককে তার পাওনা মজুরি থেকে বঞ্চিত করলে, উক্ত শ্রমিক তামাদির বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতদিনের ভেতরে মজুরি আদায়ের জন্য মোকদ্দমা করতে পারবেন?
  1. সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে
  2. সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে
  3. সর্বোচ্চ ২ বছরের মধ্যে
  4. সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭

গৃহ-ভৃত্য কারিগর বা শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে যখন থেকে মজুরী বকেয়া হয় তার সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে করতে হয়।
৬৯২.
'এই আইনের কোনো বিধান চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করিবে না' এটি তামাদি আইনের কত ধারার বলা আছে?
  1. ১৮ ধারার
  2. ৩ ধারার
  3. ২৯ ধারার
  4. ২৮ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ২৯ ধারার বিধান সংরক্ষণ:

(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের (১৮৭২ সালের ৯নং আইনে) ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করিবে না।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের বিধান অনুসারে কোনো মামলা, আপিলে বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-

(ক) এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হইতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হইবে, যেই পরিমাণ উহা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নহে, এবং
(খ) এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) এই আইনের কোনো বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন (১৮৬৯ সালের ৪ নং আইন) অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) যেই সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতা আপাতত সম্প্রসারিত করা হইবে, সেই সকল এলাকা হইতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত ‘সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হইবে না।
৬৯৩.
তামাদি আইন অনুযায়ী আমানত গ্রহীতা বা বন্ধক গ্রহীতার নিকট থেকে অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করার সময়সীমা কত?
  1. ৬ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি তার অস্থাবর সম্পত্তি অন্য কারো কাছে আমানত হিসেবে রাখে বা বন্ধক হিসেবে দেয়, তবে সেই সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করার নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। এই সময়সীমা হল ৩০ বছর।

⇒ মামলা করার এই সময়সীমা শুরু হয় যখন আমানত রাখা হয় বা সম্পত্তি বন্ধক দেওয়া হয়। অর্থাৎ, যখন কেউ তার সম্পত্তি অন্য কারো কাছে নির্দিষ্ট শর্তে জমা দেয় বা বন্ধক রাখে, তখন থেকেই এই ৩০ বছরের গণনা শুরু হয়।

⇒ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৪৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আমানত রাখা বা বন্ধক দেওয়ার তারিখ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে হবে।
৬৯৪.
সারোয়ারের বাগানে ১৫ মার্চ, ২০২২ তারিখে প্রতিবেশী আমজাদ অনধিকার প্রবেশ (trespass) করে। সারোয়ার সর্বোচ্চ কত তারিখের মধ্যে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারবেন?
  1. ১৫ মার্চ, ২০২৩
  2. ১৫ মার্চ, ২০২৪
  3. ১৫ মার্চ, ২০২৫
  4. ১৫ মার্চ, ২০২৬
ব্যাখ্যা
Article 39 of the Limitation Act, 1908:
স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ (trespass) এর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি-
তামাদি মেয়াদ: তিন (৩) বছর।
সময়সীমা গণনা শুরু হবে: যেদিন অনধিকার প্রবেশ (trespass) সংঘটিত হয়, সেদিন থেকে।

⇒ এই ক্ষেত্রে:
অনধিকার প্রবেশ (trespass) ঘটেছে: ১৫ মার্চ ২০২২।
সেদিন থেকেই ৩ বছরের তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
তাই, সারোয়ারের ক্ষতিপূরণ মামলা করার শেষ সময় হবে: ১৫ মার্চ ২০২৫।
৬৯৫.
তামাদি আইনের কত ধারায় 'সময়ের অবিরাম চলন' নীতির কথা বলা হয়েছে?
  1. ৫ ধারায়
  2. ৬ ধারায়
  3. ৮ ধারায়
  4. ৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ৯ ধারায় 'সময়ের অবিরাম চলন' নীতির কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, একবার কোন দাবির জন্য তামাদির মেয়াদ (Limitation Period) গণনা শুরু হয়ে গেলে, পরবর্তীতে কোন অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধকতার কারণে মামলা দায়ের করতে না পারলেও সেই মেয়াদ থেমে যাবে না। অর্থাৎ মামলা দায়েরে অক্ষমতা দেখা দিলেও সময় অবিরাম চলতে থাকবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আর মামলা করা যাবে না।
তবে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে- যদি পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদারের উপর ন্যস্ত হয়, তখন ঐ দায়িত্ব পালনের সময়কালে দেনা আদায়ের মামলা দায়েরের সময়সীমা স্থগিত থাকবে।

Section 9: Continuous running of time:
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
৬৯৬.
ডিক্রি জারির প্রথম দরখাস্ত কত দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর ১৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ডিক্রি জারির প্রথম দরখাস্ত বা আবেদন করার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর। তবে উক্ত ডিক্রি বা আদেশের সইমোহুরি নকল (Certified Copy) যদি রেজিস্টার্ড হয় সেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ ৬ বছর।
৬৯৭.
"Exclusion of time during which proceedings are suspended"- এটি তামাদি আইনের নিম্নের কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১৩ ধারা
  2. ১৫ ধারা
  3. ১৭ ধারা
  4. ১৯ ধারা
ব্যাখ্যা
• Section 15: Exclusion of time during which proceedings are suspended-
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.

তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হইবে-
(১) যেই মামলা বা ডিক্রি জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন উক্ত নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেদিন তা প্রদত্ত হয়েছিল এবং যেদিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।
(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।
৬৯৮.
The Limitation Act, 1908 এর তফসিলে কোনো মামলা দায়েরের সময়সীমা বিষয়ে তামাদি আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকলে তার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর;
  2. ৩ বছর;
  3. ৬ বছর;
  4. ১২ বছর;
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর  অনুচ্ছেদ ১২০ অনুযায়ী তফসিলে তামাদির মেয়াদ উল্লেখ না থাকলে উক্ত মামলার তামাদির মেয়াদ ঘটনার তারিখ থেকে ৬ বছর
৬৯৯.
কোন দেওয়ানী মামলা চলাকালীন উহার বাদী বা বিবাদী মারা গেলে তার মৃত্যুর কত দিনের মধ্যে তার ওয়ারিশদের স্থলাভিষিক্ত না করলে মামলা (Abate) বাতিল হবে?
  1. ত্রিশ দিন
  2. ষাট দিন
  3. নব্বই দিন
  4. একশত বিশ দিন
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৭ অনুযায়ী-

মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
৭০০.
আলম ও হাসানের মধ্যে একটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তি হয় ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে। চুক্তি ভঙ্গ হয় ১ মার্চ, ২০২১ তারিখে। চুক্তি ভঙ্গের জন্য সর্বোচ্চ কোন তারিখ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা যাবে?
  1. ১ জানুয়ারি, ২০২১
  2. ১ মার্চ, ২০২২
  3. ১ মার্চ, ২০২৭
  4. ১ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১ম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১১৬ অনুযায়ী-
চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হলে, উক্ত চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ ৬ বছর হবে।

সময়সীমার হিসাব:
চুক্তি ভঙ্গের তারিখ: ১ মার্চ ২০২১।
তামাদি সময়সীমা: ৬ বছর।
গণনা শুরু হবে: চুক্তি ভঙ্গের দিন থেকে।
শেষ সময়: ১ মার্চ ২০২১ + ৬ বছর = ১ মার্চ, ২০২৭।