বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Limitation Act, 1908

মোট প্রশ্ন১,০৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Limitation Act, 1908

PrepBank · পাতা / ১১ · ৩০১৪০০ / ১,০৫৪

৩০১.
একটি মামলায় প্রতারণামূলক দলিল তৈরির অভিযোগ করা হলে, উক্ত মামলায় তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদীর-
  1. অধিকার সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন থেকে
  2. প্রতারণা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন থেকে
  3. দলিল সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন থেকে
  4. মামলা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
ধারা ১৮- মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতারণার ফলাফল 
 
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একটি মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয়ে বা যে স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত তা জানতে দেয়া হয় নাই অথবা উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে দলির প্রয়োজন তা প্রতারণা করে গােপন রাখা হয়েছে, সেই সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদী যেদিন-

১। সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে সেদিন থেকে, অথবা
২। যেদিন গােপন রাখা দলিল উত্থাপন করতে পারবে, অথবা
৩। অপর পক্ষের কাছে থাকা দলিলটি যেদিন হাজির করতে বাধ্য করতে পারবে।

Section 18: Effect of fraud
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application- 
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,  

shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
৩০২.
Condonation of delay নীতি তামাদি আইনের কোন ধার‍ার-
  1. ৪ ধারায়
  2. ৫ ধারায়
  3. ৬ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫ টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। এটিকে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

♦ Condonation of delay, sufficient cause (বিলম্ব মওকুফ, যথেষ্ট কারণ) এসব শব্দাবলি ৫ ধারার সাথে সংশ্লিষ্ট।


♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal)
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision)
iv) রায়ের পুনরীক্ষণের দরখাস্ত (Review)
v) অন্য কোন দরখাস্তে ( Any other application)

♦ এছাড়া অন্যকোন ক্ষেত্রে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের সুযোগ নেয়া যাবে না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী আপিলকারী বা দরখাস্তকারী হাইকোর্ট বিভাগের কোন আদেশ, প্রথা বা রায় দ্বারা তামাদির মেয়াদ গণনা বা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হলে তা পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে- মারাত্মক অসুস্থতা, কারাবাস, সরল বিশ্বাসে ভুল, আইনজীবী বা উকিলের ভুল ইত্যাদি।
 
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।

♦অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিলো।
৩০৩.
তামাদি আইন অনুযায়ী তামাদি মওকুফ মানে কী?
  1. মামলা বাতিল করা
  2. অভিযোগ পুনরায় করা
  3. সময়সীমা বৃদ্ধির অনুমতি
  4. অভিযোগ প্রত্যাহার করা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি মওকুফ: তামাদি আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা, আপিল বা দরখাস্ত পেশ করতে না পারলে বিলম্বের যথাযথ কারণ দেখিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করা যায়। আদালত যদি সন্তুষ্ট হয় যে, যথেষ্ট কারণবশত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে আসা সম্ভব ছিল না, তাহলে মওকুফের আদেশ দিতে পারে।
- অর্থাৎ তামাদি আইন অনুযায়ী তামাদি মওকুফ মানে সময়সীমা বৃদ্ধির অনুমতি।

⇒ বিলম্ব মওকুফের কারণ: আদালত সাধারণত অসুস্থতা, কারাবাস, সরল বিশ্বাসে ভুল, দারিদ্রতা, কৌসুলীর ভুল, আইনের অজ্ঞতা, বা ভুল আদালতে মামলা দায়ের ইত্যাদিকে যথেষ্ট কারণ হিসেবে গণ্য করে।

-বিলম্ব মওকুফের শর্তসমূহ:
যথেষ্ট কারণের প্রমাণ দিতে হবে।
অবহেলা বা গাফলতির প্রমাণ থাকা যাবে না।
  
⇒ একজন দরখাস্তকারী বা প্রার্থীকে মওকুফের জন্য সাধারণত আদালতকে যা দেখাতে হয়:
(১) তিনি যথেষ্ট এবং যথোপযুক্ত কারণে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপীল বা দরখাস্ত দাখিল করতে পারে নাই।
(২) তার কোনরূপ অবহেলা বা গাফলতি ছিল না
(৩) তার তেমন কোন গুরতর ত্রুটি ছিল না এবং
(৪) অবহেলাবশ:ত উক্ত ত্রুটি করেন নাই।
------------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 5: Extension of period in certain cases:
- Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
- Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.
৩০৪.
দেওয়ানি আদালতের জারি মামলার দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ বর্ণিত আছে কোন আর্টিকেলে?
  1. ১৮০
  2. ১৮২
  3. ১৮৩
  4. ১৮১
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের সিডিউলের ১৮২ নং আর্টিকেলের বিধান অনুসারে দেওয়ানী মামলার ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয় ৩ বছরের মধ্যে এবং ডিক্রি রেজিস্টার্ড হলে ৬ বছরের মধ্যে।
৩০৫.
তামাদি আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ এর মামলা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ-
  1. ২ বছর 
  2. ১ বছর 
  3. ৩ বছর 
  4. ৬ বছর 
ব্যাখ্যা

⇒তামাদি আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ এর মামলা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ- ১ বছর।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১০-এ অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of Pre-emption) বলবৎ করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর নির্ধারিত। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় :
- যখন ক্রেতা বিক্রিত সম্পত্তির প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে; অথবা যদি সম্পত্তির প্রত্যক্ষ দখল স্বীকার না করে, তবে যখন বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হয়।
- অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১০-এ অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ করার জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর নির্ধারিত, যা ক্রেতার দখল গ্রহণ বা বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রির সময় থেকে গণনা করা হয়।
---------------------

⇒ According to Article 10 of The Limitation Act 1908- To enforce a right of pre-emption whether the right is founded on law, or general usage, or on special contract is one year. The period begins:
- When the purchaser takes, under the sale sought to be impeached, physical possession of the whole of the property sold, or, where the subject of the sale does not admit of the physical possession, when the instrument of sale is registered.

৩০৬.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫০ অনুসারে, মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৭ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে সর্বনিম্ন তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে। যা হচ্ছে মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে ৭ দিন মেয়াদ থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ১৫০- দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫০ অনুসারে, দায়রা আদালত কর্তৃক বা হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- আপিলের ধরন: মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল। 
- তামাদি মেয়াদ: ৭ দিন। 
- সময় গণনার শুরু: দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে। 
এটি তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লিখিত সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদগুলোর মধ্যে একটি। মৃত্যুদণ্ড একটি গুরুতর বিষয় হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের জন্য খুব সীমিত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

৩০৭.
আইনানুগ কার্যধারায় যে সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ দিতে হয় - এটি তামাদি আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১১ ধারা
  2. ১২ ধারা
  3. ২৯ ধারা
  4. ২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
আইনানুগ কার্যধারায় যে সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ দিতে হয় - এটি তামাদি আইনের ১২ ধারার বিষয়বস্তু।

 তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে কতিপয় সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে। যথা-
⇒ মামলা, আপিল বা দরখাস্তের মেয়াদ আরম্ভের দিন,
⇒ রায় ঘোষণার দিন,
⇒ রায়ের নকল গ্রহণে ব্যয়িত সময়,
⇒ রোয়েদাদ উত্তোলন করতে যে সময় ব্যয় হয়।

Section 12: Exclusion of time in legal proceedings

(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 

(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৩০৮.
একটি দলিল বাতিল করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার দায়েরের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৪ এবং দলিলের বাতিলের কারণ উদ্ভব হয় ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে। এক্ষেত্রে-
  1. মামলা গ্রহণ করা হবে, কারণ তামাদি মেয়াদ অতিক্রান্ত হয় নি
  2. মামলা খারিজ হবে, কারণ তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হয়েছে
  3. মামলা স্থগিত হবে, কারণ তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হয়েছে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিল বা দলিল রদ এর মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।

অনুচ্ছেদ- ৯১:
কোন দলিল রদ [Set aside] বা বাতিল [Cancel] করার জন্য, যে ক্ষেত্রে অন্য কোন বিধান নেই;
তামাদি- ৩ বছর;
সময় গণনা শুরু- যে সকল ঘটনা বাদীকে উক্ত দলিল বাতিল বা রদ করার অধিকার দান করে, সেগুলি যখন বাদী অবগত হয়।

তামাদি মেয়াদ গণনা:
তামাদি মেয়াদ শুরু হয় দলের বাতিলের কারণ উদ্ভব হওয়ার তারিখ থেকে। এই ক্ষেত্রে, দলিলের বাতিলের কারণ উদ্ভব হয় ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে। মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে। তামাদি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে আদালত মামলাটি খারিজ করবে।
৩০৯.
'ক' উন্মাদ থাকাকালীন অবস্থায় ২০১৬ সালে অগ্রক্রয়ের মামলা করার অধিকার অর্জন করে এবং ৩ বছর পর ২০১৯ সালে 'ক' সুস্থ হয়। 'ক' কখন মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. সুস্থ হওয়ার পর যেকোন সময়
  2. ২০২২ সালের মধ্যে
  3. ২০১৭ সালের মধ্যে
  4. ২০২৫ সালের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ৬, ৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়েছে সে যদি উক্ত সময় মামলা করতে আইনগতভাবে অপারগ থাকে, তাহলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ কিভাবে গণনা করা হবে তা ৬ থেকে ৯ ধারা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। 

তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority]
২. উন্মাদ [Insanity]
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]

• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

• ধারা ৮ হচ্ছে ৬ ও ৭ ধারার আইনগত অপারগতার ব্যতিক্রম। ৮ ধারায় উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬ ও ৭ ধারায় উল্লেখিত আইনগত অপারগতা বিশ্লেষণ করতে হবে। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ৬ এবং ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না-

১. অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার বলবৎকরণের মামলায়, এবং

২. আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের বেশী সময় তামাদির মেয়াদ থাকবে না এবং সর্বোচ্চ এই ৩ বৎসরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অক্ষমতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে অন্যথায় মামলা খারিজ হবে।

যেহেতু উল্লিখিত মামলা অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার সম্পর্কিত, সেক্ষেত্রে 'ক' তামাদির মেয়াদ থেকে অব্যাহতি পাবে না। তামাদি আইন,১৯০৮ এর ১ম শিডিউলের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী, অগ্রক্রয়ের মামলা দায়েরের অধিকার অর্জনের ১ বছরের মধ্যে তা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ 'ক' কে ২০১৭ সালের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৩১০.
তামাদির মেয়াদ গণনায় ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার হবে- তামাদি আইনের কত ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১৩ ধারা
  2. ২৫ ধারা
  3. ২২ ধারা
  4. ২৮ ধারা
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনে ধারা ২৫ উল্লেখ করে,

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর সকল সময় গণনা করা হবে গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জীকা বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে।

Section 25- Computation of time mentioned in instruments

All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar. 
 
Illustrations 
(a) A Hindu makes a promissory note bearing a Native date only, and payable four months after date. The period of limitation applicable to a suit on the note runs from the expiration of four months after date computed according to the Gregorian calendar. 
(b) A Hindu makes a bond, bearing a Native date only, for the repayment of money within one year. The period of limitation applicable to a suit on the bond runs from the expiration of one year after date computed according to the Gregorian Calendar.
৩১১.
একজন বে-সরকারি ব্যক্তি কর্তৃক বর্তস্বত্ব (easement) অধিকার অর্জনের ন্যুনতম সময় কাল হলো-
  1. ১২ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
♦ Easement Right মানে হল সুখাধিকার। সুখাধিকার বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি অন্য ব্যক্তি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

♦ অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।

♦ সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছর বলতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছরকে বুঝায় । তবে সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। ২৬ ধারায় সুখাধিকার বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের সুখাধিকারকে বোঝায়।

♦অর্থাৎ একজন বে-সরকারি ব্যক্তি কর্তৃক বর্তস্বত্ব (easement) অধিকার অর্জনের ন্যুনতম সময় কাল হলো ২০ বছর।
৩১২.
১৪ বছর বয়সী X ২০১৪ সালে চুক্তি বলবতকরণের মামলা করার অধিকার লাভ করে। X এর মামলা করার তামাদি উত্তীর্ণ হবে __________ সালে।
  1. ২০১৯
  2. ২০১৭
  3. ২০১৮
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা
ধারা-৬(১): আইনগত অক্ষমতা চলমান থাকলে- তামাদি আইনের ৬(১) ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যতদিন পর্যন্ত আইনগত অক্ষমতায় ভোগে, ততদিন পর্যন্ত সেই ব্যক্তি আদালতে কোন মামলা বা দরখাস্ত করতে পারে না। তবে উক্ত ব্যক্তির আইনগত অক্ষমতার অবসান হয়ে গেলে অর্থাৎ সুস্থ হলে সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি আইনগত অক্ষমতায় না ভুগলে যে সময়ের মধ্যে মামলা বা দরখাস্ত করতে পারত, ঐরূপ একই সময়ের মধ্যে তিনি মামলা দায়ের বা দরখাস্ত করতে পারবেন।

যেমন- রহিম নাবালক থাকাকালে একটি নৌকার ভাড়া আদায়ের জন্য মামলা করার অধিকার অজর্ন করল। মামলা করার অধিকার অর্জনের ৪ বৎসর পর সে সাবালক হল। এক্ষেত্রে রহিম সাবালক হওয়ার তারিখ থেকে আইনে উল্লেখিত সময়ের (এই ক্ষেত্রে ৩ বছর) মধ্যে যে কোন সময় সে উক্ত মামলা দায়ের করতে পারবে।

♦ তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১ বছর । চুক্তি সম্পাদনে অস্বীকৃতির বিষয় জানতে পারার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে  সুনির্দিষ্ট চুক্তি সম্পাদনের জন্য মামলা  করতে হবে।

সুতরাং, X এর আইনগত অক্ষমতার অবসান হয় ২০১৮ সালে। এবং সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১ বছর হওয়ার কারণে মামলা করার তামাদি উত্তীর্ণ হবে ২০১৯ সালে।
৩১৩.
তামাদি আইন অনুসারে দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধান-দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
৩১৪.
'ক' একটি মামলা রুজু করে 'খ'-এর জমির উপর তার পথ চলার অধিকার ঘোষণার আবেদন করে। 'ক' প্রমাণ করে যে, সে ২৫ বছর পর্যন্ত এই অধিকার ভোগ করেছে। 'খ' দেখায় যে, ঐ ২৫ বছরের ভেতর ১০ বছর ঐ জমির উপর এক হিন্দু বিধবার জীবনস্বত্ব বর্তমান ছিল ও বিধবার মৃত্যুর পর 'খ' ঐ জমিতে স্বত্বলাভ করে এবং বিধবার মৃত্যুর পর ২ বছরের ভেতর 'খ', 'ক'-এর দাবির বিরোধিতা করেছে। এই ক্ষেত্রে মোকদ্দমাটির ফলাফল হতে পারে-
  1. বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাবে
  2. বিবাদী পক্ষে আদালত রায় দিবে
  3. মোকদ্দমাটি খারিজ হবে
  4. মোকদ্দমাটি স্থগিত হবে
ব্যাখ্যা
এই ক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি খারিজ হবে।

ধারা ২৭- পার্শ্ববর্তী এলাকার ভাবী উত্তরাধিকারির পক্ষে বা অনুকূলে সময় বর্জন অব্যাহতি
যেক্ষেত্রে কোন জমি কিংবা পানির সুখাধিকার কোন জীবন স্বত্ব কিংবা তিন বৎসরের বেশি সময়ের জন্য অনুমোদনকৃত স্বত্ববলে প্রাপ্ত হয়েছে, কিংবা ভোগ করা গিয়েছে, সেক্ষেত্রে ঐ স্বত্ব বাতিল হওয়ার পরবর্তী তিন বৎসরের ভেতর যদি স্বত্ব অর্জনের অধিকারি লোক অনুরূপ জমি কিংবা পানি ব্যাপারে উক্তরূপ দাবির বিরোধিতা করে, তবে বিশ বৎসর হিসাব করার সময় উপরোক্ত জীবনস্বত্ব কিংবা মঞ্জুরী বহাল থাকার সময় ব্যবহারস্বত্ব যত দিন ভোগ করা গিয়েছে, বিশ বৎসর থেকে সে সময় বাদ দিয়া হিসাব করতে হবে।

উদাহরণ-
ক একটি মামলা রুজু করে খ-এর জমির উপর তার পথ চলার অধিকার ঘোষণার আবেদন করে। ক প্রমাণ করে যে, সে পঁচিশ বৎসর পর্যন্ত এই অধিকার ভোগ করেছে। খ দেখায় যে, ঐ পঁচিশ বৎসরের ভেতর দশ বৎসর ঐ জমির উপর গ-নামের এক হিন্দু বিধবার জীবনস্বত্ব বর্তমান ছিল ও গ-এর মৃত্যুর পর খ ঐ জমিতে স্বত্বলাভ করে ও গ-এর মৃত্যুর পর দুই বৎসরের ভেতর খ ক-এর দাবির বিরোধিতা করেছে। এইক্ষেত্রে মামলাটি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে ক মাত্র ১৫ বৎসর স্বত্ব ভোগ করেছে বলে প্রমাণ করেছে।

Section 27- Exclusion in favour of reversioner of servient tenement

Where any land or water upon, over or from which any easement has been enjoyed or derived has been held under or by virtue of any interest for life or any term of years exceeding three years from the granting thereof, the time of the enjoyment of such easement during the continuance of such interest or term shall be excluded in the computation of the period of twenty years in case the claim is, within three years next after the determination of such interest or term, resisted by the person entitled, on such determination, to the said land or water. 
 
Illustration 
A sues for a declaration that he is entitled to a right of way over B's land. A proves that he has enjoyed the right for twenty-five years; but B shows that during ten of these years C, a Hindu widow, had a life interest in the land, that on C's death B became entitled to the land, and that within two years after C's death he contested A's claim to the right. The suit must be dismissed, as A, with reference to the provisions of this section, has only proved enjoyment for fifteen years.
৩১৫.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১২০ অনুসারে, যেখানে তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নেই, মামলাটি করার সাধারণ মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১২০ বলছে এই তফসিলে যেখানে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি, অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি এমন সব দেওয়ানি মামলার জন্য
সাধারণ তামাদি সময়সীমা হলো ৬ বছর। এই সময় গণনা শুরু হয় যেদিন থেকে মামলার অধিকার সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ কার্য বা অধিকারের লঙ্ঘন ঘটে সেই দিন থেকে।

- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১২০ "এই তফসিলে যেসব মামলার জন্য বিশেষ তামাদি মেয়াদ নির্ধারিত নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে ৬ বছর মেয়াদ প্রযোজ্য হবে।"
- এই মেয়াদ মামলা করার অধিকার সৃষ্টির তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
৩১৬.
'ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত বিধান'- তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু?
  1. ১৫০ অনুচ্ছেদ
  2. ১৫২ অনুচ্ছেদ
  3. ১৫৫ অনুচ্ছেদ
  4. ১৫৭ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act) এর অনুচ্ছেদ ১৫৭-এ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী,
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে,
খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
৩১৭.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, বিবাদীর বিদেশে অবস্থানকাল তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে?
  1. ১২ ধারা
  2. ১৩ ধারা
  3. ১৫ ধারা
  4. ১৭ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা (Section 13 of the Limitation Act) এ বলা হয়েছে “যদি কোন বিবাদী বাংলাদেশে অবস্থান না করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের অধীন প্রশাসনিক এলাকার বাইরেও থাকেন, তাহলে সেই অনুপস্থিত সময়কাল তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে।”
অর্থাৎ, যদি বিবাদী বিদেশে থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার সময় বাদী তাকে আইনি নোটিশ পাঠাতে না পারেন বা আদালতে হাজির করাতে না পারেন, তাহলে বিবাদীর অনুপস্থিত সময়টুকু বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে তামাদি গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, বাদীর যখন মামলা করার অধিকার জন্মায় তখন যদি বিবাদী উক্ত সময়ে সরকারের কার্যের অংশ হিসাবে দেশের বাইরে থাকে, বিবাদী যতদিন বিদেশে থাকবে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে। তাই বলা যায় যে, বিবাদীর বিদেশে অবস্থানের সময়টুকু তামাদি থেকে বাদ যাবে।

⇒ The Limitation Act:- Section 13: Exclusion of time of defendant’s absence from Bangladesh and certain other territories-
In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the defendant has been absent from Bangladesh and from the territories beyond Bangladesh under the administration of the Government shall be excluded.
৩১৮.
তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিচের কোনটি বৈধ অপারগতা (Legal Disability)?
  1. অলসতা
  2. দারিদ্র্যতা
  3. নাবালকতা
  4. অসাবধানতা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) নাবালকতা। 
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে "বৈধ অপারগতা" (Legal Disability) হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বৈধ অপারগতা থাকলে নির্ধারিত তামাদি সময়সীমা (limitation period) স্থগিত বা সম্প্রসারিত হতে পারে।
- যে অপারগতাগুলো বৈধ বলে বিবেচিত:
১) নাবালকতা (Minority)
২) উন্মাদতা (Insanity)
৩) জড়বুদ্ধিতা বা মানসিক অক্ষমতা (Idiocy or mental infirmity)
এই অবস্থা থাকলে ব্যক্তি যদি সময়মতো মামলা না করতেও পারেন, আইন তাকে সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অতিরিক্ত সময় দেয়।

⇒ নাবালকতা একটি বৈধ অপারগতা, কারণ এটি একটি আইনগতভাবে স্বীকৃত শারীরিক বা মানসিক অবস্থা যা ব্যক্তিকে সময়মতো মামলা করতে বাধা দিতে পারে।
তবে অলসতা, দারিদ্র্যতা বা অসাবধানতা – এগুলো আইনগতভাবে অপারগতা হিসেবে স্বীকৃত নয়, এবং এগুলোর কারণে তামাদির সময় গণনায় অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় না।
৩১৯.
তামাদি আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণের মামলার ক্ষেত্রে কখন থেকে মামলার তামাদির মেয়াদ শুরু হয়?
  1. ক্ষতিকর কাজটি যখন করা হয়
  2. যখন ক্ষতি সাধিত হয়
  3. যখন মামলা করার কারণ উদ্ভব হয়
  4. খ অথবা গ
ব্যাখ্যা

ধারা-২৪: বিশেষ ক্ষতির কারণ না হইলে যেই কাজের জন্য মামলা করা যায় না, তাহার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা: যেই কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোনো মামলার কারণ উদ্ভুত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
-------------
Section 24: Suit for compensation for act not actionable without special damage: In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results there from, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results.

৩২০.
কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে, সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা করার তামাদি গণনা করা হবে:
  1. অধিকার সৃষ্টির তারিখ থেকে
  2. প্রতিনিধি নিযুক্ত হওয়ার তারিখ থেকে
  3. ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ থেকে
  4. প্রতিনিধি মামলা করার যোগ্যতা অর্জন করার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

এই ধারার ব্যতিক্রম হলো- অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা। অর্থাৎ অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে ১৭ প্রযোজ্য নয়।
৩২১.
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to ___________.
  1. the Islamic calendar
  2. the Bangla calendar
  3. the Jewish calendar
  4. the Gregorian calendar
ব্যাখ্যা
⇒ দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments )- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-----------------
-The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.
৩২২.
তামাদি আইনের ধারা ১১ এর আওতায় আসে কোন ধরনের চুক্তি?
  1. বৈদেশিক চুক্তি
  2. নাবালকের চুক্তি
  3. বাতিলযোগ্য চুক্তি
  4. ক্ষতিপূরণমূলক চুক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১-এর শিরোনামই হলো "বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলা" (Suits on foreign contracts)। এই ধারা বিশেষভাবে সেই সকল চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যেগুলো বিদেশে সম্পাদিত হয়েছে কিন্তু সেগুলোর ভিত্তিতে মামলা বাংলাদেশে দায়ের করা হয়েছে।

ধারা ১১-এর মূল বিধানসমূহ:
১. উপ-ধারা (১): বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশে দায়েরকৃত সকল মামলা এই তামাদি আইনে বর্ণিত সীমাবদ্ধতার নিয়মের অধীন হবে।
২. উপ-ধারা (২): সাধারণ নিয়ম হলো, বাংলাদেশে দায়েরকৃত এমন মামলায় কোনো বিদেশী তামাদি বিধি প্রতিরক্ষা (defence) হিসেবে গৃহীত হবে না।
ব্যতিক্রম: কেবলমাত্র তখনই বিদেশী বিধি গ্রহণযোগ্য হবে যদি প্রমাণিত হয় যে: সেই বিদেশী বিধি চুক্তিটিকেই বিলুপ্ত (extinguished) করেছে, এবং চুক্তির উভয় পক্ষই সেই বিদেশী বিধিতে নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত ঐ দেশের স্থায়ী বাসিন্দা (domiciled) ছিল।

অতএব, ধারা ১১ স্পষ্টভাবে বৈদেশিক চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। অন্যান্য বিকল্প যেমন নাবালকের চুক্তি, বাতিলযোগ্য চুক্তি বা ক্ষতিপূরণমূলক চুক্তির জন্য এই ধারা প্রযোজ্য নয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১১ বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলার (Suits on foreign contracts) ক্ষেত্রে তামাদির বিধান উল্লেখ করেছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী,
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেগুলি এ আইনে উল্লিখিত তামাদির বিধিসমূহের অধীন।
- বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো আইনে তামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাব স্বরূপ গ্রহণীয় হবে না।
তবে যদি, সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটে থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে।
----------
⇒The Limitation Act, 1908: Section 11: Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act.
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.

৩২৩.
কত দিনের মধ্যে দখল পুনরূদ্ধারের মামলা দায়ের করা না হলে, উক্ত সম্পত্তিতে মূল মালিকের অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে?
  1. ৩ বছরের মধ্যে
  2. ৬ বছরের মধ্যে
  3. ১২ বছরের মধ্যে
  4. ২০ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২৮ ধারায় সম্পত্তিতে স্বত্বের বিলুপ্তির (Extinguishment of right to property) বিধান আছে।  ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৬ থেকে ২৮ ধারায় দখলবলে মালিকানা স্বত্ব অর্জন সম্পর্কে বলা হয়েছে। যখন কোন ব্যক্তি তার স্বত্ব দখলীয় কোন স্থাবর সম্পত্তি থেকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আইন বহির্ভূতভাবে উচ্ছেদ হন, তখন তাকে বেদখল বা Dispossession বলে। তামাদি আইনের ১৪২ নং অনুচ্ছেদমতে, বেদখল হওয়ার ১২ বছরের মধ্যে দখল ফিরে পাওয়ার মামলা না করলে তামাদি আইনের ২৮ ধারা মোতাবেক উক্ত সম্পত্তিতে মালিকের স্বত্ব বা মালিকানা বিলুপ্ত হবে।

• তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী সম্পত্তির দখল পুনরূদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে তামাদি আইনে যে মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সে সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কোন অবৈধ প্রবেশকারী কোন সম্পত্তিতে ১২ বছরের বেশী সময় ধরে মূল মালিকের বিনা বাধায় এবং জ্ঞাতসারে দখলে থাকলে মূল মালিকের স্বত্বের বিলুপ্তি হবে এবং কেবল জবর দখলের ভিত্তিতে উক্ত সম্পত্তিতে জবর দখলকারীর স্বত্বের সৃষ্টি হবে।

এভাবে কোন অবৈধ দখলকারী কোন সম্পত্তিতে ১২ বছরের বেশী সময় ধরে দখল থাকার কারণে উক্ত সম্পত্তিতে মূল মালিকের স্বত্বের বিলুপ্তি হয়ে জবর দখলকারীর স্বত্ব বা মালিকানা সৃষ্টি হওয়াকে জবর দখল বা বিরূদ্ধ দখল (Adverse possession) বলে।
৩২৪.
অবিরাম চুক্তিভঙ্গের (continuing breach of contract) ক্ষেত্রে, তামাদির মেয়াদ কখন থেকে গণনা শুরু হয়?
  1. চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে
  2. চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে
  3. প্রথমবার চুক্তিভঙ্গের সময় থেকে
  4. চুক্তিভঙ্গ চলাকালীন প্রতি মুহূর্তে নতুন ভাবে
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ধারা ২৩ অনুসারে, অবিরাম চুক্তিভঙ্গ (Continuing breach of contract) বা অবিরাম অন্যায় (Continuing wrong) এর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য। এই ধারা মোতাবেক, চুক্তিভঙ্গটি যতক্ষণ চলমান থাকে, ততক্ষণ প্রতি মুহূর্তেই একটি নতুন তামাদির মেয়াদ শুরু হয়।

- অর্থাৎ, এই ধরনের ভঙ্গ বা অন্যায়ের জন্য তামাদির মেয়াদ গণনা শুধুমাত্র প্রথমবার চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে হয় না, বরং ভঙ্গটি চলমান থাকা অবস্থায় যেকোনো সময় থেকে মামলা দায়েরের জন্য নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হতে থাকে। এটি একটি চলমান অপরাধ বা ভঙ্গের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ:-
যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 23: Continuing breaches and wrongs:
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.

৩২৫.
তামাদি আইনে কোন ধরনের মোকদ্দমাকে তামাদি গণনা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে?
  1. ট্রাস্ট সম্পত্তির লভ্যা়ংশ আদায়
  2. যৌথ সম্পত্তির লভ্যা়ংশ আদায়
  3. অগ্রক্রয় সংক্রান্ত
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

• তামাদি আইনের ১০ ধারায় বলা আছে, ট্রাস্টী ও তাদের এজেন্টবৃন্দের প্রতিকূলে মামলা সম্পর্কে। ট্রাস্টী বা এজেন্টের উপর যে সম্পত্তি অর্পিত হয়েছে সেই সম্পত্তির হিসেব বা লভ্যা়ংশ আদায়ের জন্য এই আইনে কোন প্রকার তামাদি মেয়াদ গণনা করা হবে না।

এই সম্পর্কে 23 DLR (SC) 81 Nayem Vs. Bashir মামলায় উচ্চ আদালত অভিমত দেন – তামাদি আইনের প্রয়োগ সব ক্ষেত্রে নাই। যেসব ক্ষেত্রে এই আইনের প্রয়োগ নাই তার মাঝে ট্রাস্ট সম্পত্তির উপকার উদ্ধার করার মামলা অন্যতম। যাহার উপর ট্রাস্ট সম্পত্তির পরিচালনার ভার ন্যস্ত, তিনি ঐ সম্পত্তি নিজের ব্যবহারে পরিণত করলে তার বিরুদ্ধে যে কোন সময় মামলা দায়ের করা যায়।

ধারা ১০- প্রকাশ্য ট্রাস্টী ও তাদের এজেন্টবৃন্দের প্রতিকূলে মামলা

এই আইনে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত থাকুক না কেন কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যে লোকের উপর সম্পত্তি অছি অর্পিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে কিংবা তার আইনগত এজেন্টের বিরুদ্ধে কিংবা স্বত্বার্পিত লোকের বিরুদ্ধে (মূল্যভিত্তিক দ্রব্যের বিনিময়ে স্বত্বার্পিত না হয়ে থাকলে) তারা কিংবা তাদের হাতের উক্তরূপ সম্পত্তির কিংবা তার আয়ের কিংবা ঐ সম্পত্তির হিসাবের কিংবা এর আয়ের হিসাবের লক্ষ্যে কোন মামলা করতে হলে তারা কখনোও মেয়াদকালের কারণে বারিত হবে না।
এই ধারার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা হিন্দু ধর্মীয় কিংবা দাতব্য লক্ষ্যে উৎসর্গীকৃত কোন সম্পত্তি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ট্রাস্টে ন্যস্ত সম্পত্তি বলে পরিগণিত হবে এবং উক্তরূপ সম্পত্তির ব্যবস্থাপক তার অছি বলে আমলে আসবে।

৩২৬.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে প্রতারণামূলক ডিক্রি রদের জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৮৫
  2. অনুচ্ছেদ ৯১
  3. অনুচ্ছেদ ৯৫
  4. অনুচ্ছেদ ১০২
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) অনুচ্ছেদ ৯৫।
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৯৫ অনুযায়ী, যদি কোনো ডিক্রি প্রতারণামূলকভাবে (fraudulently) নেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ডিক্রিটি বাতিল করার জন্য মামলা করতে পারেন। তবে এই মামলা দায়েরের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৩ বছর, যা গণনা শুরু হবে যে দিন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ প্রতারণার বিষয়ে অবগত হন, সেদিন থেকে।

- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ডিক্রির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়া, তবে এটি অনির্দিষ্টকাল ধরে আদালতের বিচারাধীন না থাকে সেজন্য ৩ বছরের তামাদি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩২৭.
পুনঃনিরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্তের তামাদির বিধান The Limitation Act, 1908 এর কত অনুচ্ছেদে দেওয়া আছে?
  1. ১৭২
  2. ১৭৩
  3. ১৭৫
  4. ১৭৮
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিউ দায়েরের স্থান এবং সময়সীমা: 
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে ডিক্রি বা আদেশ জারির সময় হতে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে। 
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৩২৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারায় বর্ণিত তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি প্রযোজ্য নয়?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. মূল মামলা
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৫ ধারায় বর্ণিত বিলম্ব মওকুফের বিষয়টির আইনগত মূল্য অপরিসীম। এই ধারা মতে কোন আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপিল, রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
- তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবল আপিল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
- মূল মামলার ক্ষেত্রে এ তামাদি আইনের ৫ ধারাটি প্রযোজ্য হবে না। কারণ অধিকাংশ দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর হতে ১২ বৎসর পর্যন্ত সম্প্রসারিত কিন্তু এই ধারার বিধান মতে আপিল এবং আবেদনের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন হতে ৬ মাস। যেহেতু আপিলের সময়সীমা কম সেহেতু যুক্তিসংগত কারণে আপিল দায়ের করতে কিংবা রিভিশন সহ অন্যান্য দরখাস্ত দাখিল করতে বিলম্ব হলে এই ধারামতে উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে সেই বিলম্ব মওকুফ করা যাইতে পারে। তাই মূল মামলায় অনেক সময় পাওয়া যায় বিধায় মূল মামলা ৫ ধারা ব্যবহার যোগ্য নহে।

⇒ তামাদি আইনের ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।
অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকুফ করার জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
৩২৯.
তামাদি আইনের কোন ধারায় জবরদখলের মাধ্যমে স্বত্ব বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে?
  1. ধারা-২৬
  2. ধারা-২৫
  3. ধারা-২৮
  4. ধারা-২৯
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৮ (Section 28 of the Limitation Act, 1908) অনুযায়ী বলা হয়েছে “যে কোন সম্পত্তি সম্পর্কে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করার নির্দিষ্ট সময়সীমা যদি পেরিয়ে যায়, তাহলে সেই দাবির অধিকার সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”
অর্থাৎ, প্রতিপক্ষ যদি কোনো সম্পত্তিতে জবরদখলের মাধ্যমে ১২ বছর (স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে) বা নির্ধারিত সময়কাল দখলে রাখে এবং প্রকৃত মালিক সে সময়ের মধ্যে আদালতে মামলা না করে, তাহলে প্রকৃত মালিকের স্বত্ব বা মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যায়, এবং জবরদখলকারীর আইনগত স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
 
⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৩৩০.
মুসলিম নারীর বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য মামলা দায়েরের সময় গণনা শুরু হয় কখন?
  1. বিবাহের তারিখ থেকে
  2. দেনমোহর নির্ধারণের তারিখ থেকে
  3. স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের দিন থেকে
  4. আদালতে নোটিশ পাঠানোর দিন থেকে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১০৪:
বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য (deferred dower) একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কাল
তামাদি- ৩ বছর;
সময় গণনা শুরু- মৃত্যু অথবা তালাক দ্বারা যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
৩৩১.
একটি মামলায় প্রতারণামূলক দলিল সৃজনের অভিযোগ করা হলে মামলায় তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদীর-
  1. অধিকার সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
  2. প্রতারণা বিষয়ে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
  3. দলিল সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
  4. মামলা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার দিন হতে
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-

(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা

(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

♦ অর্থাৎ যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
৩৩২.
When does the period of limitation begin in the case where a minor (X) dies before attaining majority and is succeeded by another minor (Y)?
  1. From the date of X's death
  2. From the date Y is born
  3. From the date Y attains majority
  4. From the date the right to sue accrued to X
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা:
(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যেত, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।

(৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।

⇒ যখন একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক (X)-এর দায়িত্বে থাকা মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয় এবং সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই মারা যায়, এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয় আরেকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক (Y), তখন মেয়াদ গণনা (limitation period) কখন থেকে শুরু হবে- Y প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার দিন থেকে।

তামাদি আইন অনুসারে,
যদি কোনো ব্যক্তি যখন মামলা করার অধিকার লাভ করে তখন সে অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকে, এবং সে মৃত্যুবরণ করে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই- তাহলে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া যদি সেই ব্যক্তিও অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলে মেয়াদ গণনার সময় শুরু হবে Y-এর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার দিন থেকে।
৩৩৩.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী, গ্রন্থস্বত্ব বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণের মামলা কতদিনের মধ্যে দায়ের করা যাবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒  তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী, গ্রন্থস্বত্ব (Copyright) বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ লঙ্ঘনের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
• গ্রন্থস্বত্ব লঙ্ঘন বলতে কোনো লেখা, সংগীত, শিল্পকর্ম বা অন্যান্য মৌলিক সৃষ্টির স্বত্ব (Copyright) লঙ্ঘনকে বোঝায়।
• বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘন বলতে পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার লঙ্ঘনকে বোঝায়।
- এই মামলা দায়ের করার জন্য লঙ্ঘনের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
- যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
৩৩৪.
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা হলে, তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৪৮ অনুচ্ছেদের অধীন কে ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়েরের অধিকারী?
  1. পুলিশ
  2. আদালত
  3. যেকোনো ব্যক্তি
  4. সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৪৮:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি যা হারিয়ে গিয়েছে বা বা চুরির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে অথবা অসাধুভাবে আত্মসাৎ (dishonest misappropriation) করা হয়েছে বা পরিবর্তন করা হয়েছে বা তা অন্যায়ভাবে নেওয়া বা আটক রাখার ফলে ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদি:
- ৩ বৎসর;
- এমন সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি যখন প্রথম জানতে পারে যে, ওই সম্পত্তি কার নিকট আছে।
৩৩৫.
'দেনা বলতে আদালতের ডিক্রি বা আদেশের অধীন প্রদেয় অর্থও বোঝাবে' - তামাদি আইনের কোন ধারায় এই ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৩ ধারায়
  3. ২০ ধারায়
  4. ২৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২০ ধারামতে কোন দেনা তামাদি হবার পূর্বেই যদি দেনাদার দেনার স্বীকৃতিস্বরূপ কোন অর্থ পাওনাদারকে দিয়ে থাকে তাহলে, সেক্ষেত্রে যে তারিখ উক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছিল সে তারিখ হতেই তামাদির সময়সীমা নতুনভাবে হিসাব করতে হবে।

ধারা ২০- উত্তর দায় বিষয়ক ঋণ পরিশোধের কিংবা সুদ দেয়ার ফলাফল

(১) যেক্ষেত্রে কোন দেনা কিংবা দায়ের সুদ বাবদ নির্ধারিত সময় পার হবার পূর্বে ঐ দেনা কিংবা দায় পরিশোধ করতে দায়ী লোক স্বয়ং কিংবা তার যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কোন অর্থ প্রদান করে, সে ক্ষেত্রে ঐ অর্থ দেয়ার তারিখ থেকে নূতন করে তামাদি সময় হিসাব করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, ১৯২৮ সনের ১লা জানুয়ারির পূর্বে সুদ পরিশোধের ক্ষেত্র ছাড়া অপরাপর সকল ক্ষেত্রে, যে লোক অর্থ প্রদান করবে, স্বীকৃতি তার স্বহস্তে লিখিত এবং স্বাক্ষরিত কিংবা অপরের লিখিত হলেও তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

(২) বন্ধকী জমির ফসল পাবার রসিদের ফলাফল
যেক্ষেত্রে বন্ধক দেয়া জমি বন্ধক গ্রহীতার দখলে থাকে, সেক্ষেত্রে অনুরূপ জমির খাজনা কিংবা ফসল পাবার রসিদ ১ উপধারার লক্ষ্যে অর্থ প্রদান বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা: দেনা অর্থে আদালতের ডিক্রি কিংবা আদেশের অধীন প্রদেয় অর্থও বুঝাবে।
৩৩৬.
কোন মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বাদী সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ছিল। মামলার ডিক্রি হওয়ার পর বাদী উন্মাদ হয়ে যায়। মামলার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করার তামাদির মেয়াদ-
  1. তামাদির মেয়াদ স্থগিত থাকবে।
  2. তামাদির মেয়াদ স্থগিত থাকবে না।
  3. নির্ধারিত সময়ে আপিল না করলে আপিল খারিজ হবে।
  4. খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
♠♠ 
• তামাদি আইনের ৬ ধারা মূল মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিন্তু আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়;
• তাই খ ও গ সঠিক উত্তর হবে।   
৩৩৭.
ধারা ১৫(১) অনুসারে কোন সময় বাদ দিতে হবে?
  1. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিন
  2. নিষেধাজ্ঞা জারির দিন
  3. নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা পুরো সময়
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হইবে-
(১) যেই মামলা বা ডিক্রি জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন উক্ত নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেদিন তা প্রদত্ত হয়েছিল এবং যেদিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।

(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।

৩৩৮.
একটি ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে রায়ের নকল গ্রহণে যে সময় লাগে, তা তামাদি আইনের —
  1. ধারা ১২(১) অনুযায়ী বাদ যাবে।
  2. ধারা ১২(২) অনুযায়ী বাদ যাবে।
  3. ধারা ১২(৩) অনুযায়ী বাদ যাবে।
  4. ধারা ১৩ অনুযায়ী বাদ যাবে।
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ধারা ১২(৩)-এ বলা হয়েছে:
"যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।"
অর্থাৎ, যখন কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করা হয়, তখন সেই ডিক্রী যে রায়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, সে রায়ের কপি সংগ্রহে যে সময় ব্যয় হয়, তা তামাদির সময় গণনায় ধারা ১২(৩) অনুযায়ী বাদ যাবে।

অন্যান্য অপশনের ব্যাখ্যা:
ধারা ১২(১): এটি শুধু বলে যে "যেই দিন থেকে তামাদির সময় গণনা শুরু হয়, সেই দিন বাদ যাবে।" তাই এটি রায়ের কপি সংগ্রহের বিষয়ে নয়।
ধারা ১২(২): এটি বলে রায় ঘোষণার দিন এবং ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডাদেশের কপি সংগ্রহের সময় বাদ যাবে। এটি রায়ের কপি নয়, বরং ডিক্রির কপি সংগ্রহের কথা বলে।
ধারা ১৩: এটি বিবাদীর বিদেশে অবস্থানের কারণে সময় বাদ দেওয়ার কথা বলে, সুতরাং এটি প্রাসঙ্গিক নয়।

তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৩৩৯.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লেখিত সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ নিম্নের কোন অনুচ্ছেদে দেয়া আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৪৮
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৯
  4. উল্লিখিত সবগুলোয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লেখিত সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ হলো ৬০ বছর এবং সর্বনিম্ন তামাদির মেয়াদ হলো ৭ দিন। সর্বোচ্চ তামাদির মেয়াদ ১৪৭ থেকে ১৪৯ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ১৪৭-
রেহেন উদ্ধারের অধিকার নাশ [Foreclosure] বা বিক্রয়ের [Sale] জন্য রেহেন গ্রহীতা কর্তৃক মামলা দায়েরের সময়সীমা, রেহেন ঋণ যখন পরিশোধযোগ্য হয় সেই সময় থেকে- ৬০ বছর।

অনুচ্ছেদ ১৪৮-
বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি খালাস করার জন্য বা দখল পুনরুদ্ধারের [redeem] জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সময়সীমা, যখন সম্পত্তি খালাস করার বা দখল পুনরুদ্ধার করার অধিকার উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে- ৬০ বছর।

অনুচ্ছেদ ১৪৯-
সুপ্রীম কোর্টের মূল এখতিয়ারাধীন মামলা ব্যতীত সরকার কর্তৃক সরকারের পক্ষে দায়েরকৃত কোন মামলার তামাদি- ৬০ বছর।
৩৪০.
মোহরানা বা দেনমোহরের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার বিধান আছে।
- উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
৩৪১.
নিম্নের তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আপিলের বিধান রয়েছে?
  1. ১৫৭ অনুচ্ছেদ
  2. ১৫৫ অনুচ্ছেদ
  3. ১৫৬ অনুচ্ছেদ
  4. ১৫৪ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে আপিল তামাদি আইনের ১৫২ এবং ১৫৬ অনুচ্ছেদের তামাদির বিধান অনুযায়ী করতে হয়।

অনুচ্ছেদ- ১৫২
১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপিল-
তামাদি- ৩০ দিন,
সময় গণনা শুরু- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।

অনুচ্ছেদ- ১৫৬
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন, ১৫১ ও ১৫৩ অনুচ্ছেদে যে সকল মোকদ্দমা সম্পর্কে বিধান আছে সেগুলি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল-
তামাদি- ৯০ দিন,
সময় গণনা শুরু- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে।
৩৪২.
তামাদি আইনের ধারা ২৮ অনুযায়ী, সম্পত্তির দখলের জন্য মামলা করার তামাদি সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে কী হয়?
  1. সম্পত্তির অধিকার স্থায়ী হয়ে যায়
  2. সম্পত্তি আদালত দ্বারা বিক্রি হয়
  3. সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়
  4. সম্পত্তি সরকারের কাছে চলে যায়
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৮ অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের না করেন, তবে তার সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। এটি প্রতিকূল দখল (Adverse Possession) এর ধারণার সাথে সম্পর্কিত, যেখানে কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এবং বিনা বাধায় সম্পত্তি দখল করে থাকলে, মূল মালিকের অধিকার বিলুপ্ত হয়ে দখলকারী ব্যক্তি আইনি মালিকানা অর্জন করতে পারেন।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
-------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.

৩৪৩.
মৃত বাদীর বৈধ প্রতিনিধিকে স্থলাভিষিক্ত করার আবেদন এর ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৭৬:
মৃত বাদী বা আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত;
তামাদি- ৯০ দিন;
সময় গণনা শুরু- মৃত বাদী বা আপীলকারীর মৃত্যুর তারিখ হতে।
৩৪৪.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫২ অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত
  2. জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিলের সাধারণ সময়সীমা সংক্রান্ত
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত
  4. মৃত বাদীর বৈধ প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার সময়সীমা সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৫২

১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপিল - ৩০ দিন - যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।
৩৪৫.
বর্তমানে বলবৎ তামাদি আইন ________ সালের ৯নং আইন।
  1. ১৯০৩
  2. ১৯০৮
  3. ১৯০৯
  4. ১৯১১
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯নং আইন।
⇒ আইনটি ১৯০৮ সালের ৭ ই আগস্ট প্রণীত হয়।
⇒ এটি কার্যকর হয় ১৯০৯ সালের ১ লা জানুয়ারী।
⇒ এটি একটি পদ্ধতিগত আইন।
⇒ তামাদি আইনের মোট ধারা ৩২ টি , ৩ টি ধারা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে বলবৎ রয়েছে ২৯ টি ধারা।
⇒ মোট তফসিল ৩ টি (২য় ও ৩য় তফসিল বাতিল করা হয়েছে)। বর্তমানে বলবৎ আছে ১টি তফসিল।
⇒ তামাদি আইনের ১ম তফসিলে মোট অনুচ্ছেদ রয়েছে ১৮৩ টি।
৩৪৬.
তামাদি আইনের কোন ধার‍ায় 'Condonation of delay' নীতি প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ৩ ধারায়
  2. ৪ ধারায়
  3. ৫ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫ টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। এটিকে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে। 

⇒তামাদি আইনের ৫ ধার‍ায় 'Condonation of delay' নীতি প্রতিফলিত হয়েছে।

- তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal)
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision)
iv) রায়ের পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত (Review)
v) অন্য কোনো দরখাস্তে ( Any other application)

-এছাড়া অন্যকোনো ক্ষেত্রে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের সুযোগ নেয়া যাবে না।

-১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
i. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
ii. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

- ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী আপিলকারী বা দরখাস্তকারী হাইকোর্ট বিভাগের কোন আদেশ, প্রথা বা রায় দ্বারা তামাদির মেয়াদ গণনা বা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হলে তা পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে- মারাত্মক অসুস্থতা, কারাবাস, সরল বিশ্বাসে ভুল, আইনজীবী বা উকিলের ভুল ইত্যাদি।

- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।
অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকুফ করার জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
- ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপিল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
৩৪৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে?
  1. আপিল
  2. ডিক্রি জারি
  3. মোকদ্দমা দায়ের
  4. খ ও গ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হবার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় কলামে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে যা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হবার পর, অপারগতা না থাকলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে তা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে তা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।

(৪) যেক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা শুধু মোকদ্দমা, কার্যক্রম কিংবা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৩৪৮.
তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদের আইনসম্মত পদ্ধতিতে অস্থাবর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে জব্দ [wrongful seizure] করার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ আছে?
  1. ২৭
  2. ২৯
  3. ৩২
  4. ৩৩
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ২৯ অনুচ্ছেদের বিধান আইনসম্মত পদ্ধতিতে অস্থাবর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে জব্দ [wrongful seizure] করার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদি মেয়াদ- ১ বৎসর।
সময় গণনা শুরু- জব্দ করার তারিখ থেকে।
----------
⇒ limitation Act-1908 Schedule-1 Article 29: For compensation for wrongful seizure of moveable property under legal process - One year from the date of Seizure.
৩৪৯.
একজন ব্যক্তির এক অপারগতা শেষ হওয়ার আগেই নতুন অপারগতা তৈরি হলে, মামলার মেয়াদ গণনা কিভাবে হবে?
  1. নতুন অপারগতার শুরুর সময় থেকে
  2. প্রথম অপারগতা শেষ হওয়ার সময় থেকে
  3. উভয় অপারগতার অবসান হওয়ার পর থেকে
  4. মামলার তামাদি মেয়াদ আপনাআপনি ভাবে ১ বছর বৃদ্ধি পাবে
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা-
 
(১) যেক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হবার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় কলামে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে যা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।
 
(২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হবার পর, অপারগতা না থাকলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে তা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।
 
(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে তা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।
 
(৪) যেক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
৩৫০.
'ক' একটি আপিল এখতিয়ারবিহীন আদালতে দায়ের করলো। এখতিয়ার না থাকায় আদালত আপিলটি সঠিক আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দিলো। ইতোমধ্যে আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে নিম্নলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. তামাদি আইনের ১৪ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে
  2. আদালত তামাদির মেয়াদ গণনার সময় ব্যয়িত সময় থেকে বাদ দিবে
  3. তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে।

• সাধারণ নিয়ম হলো, কোন আপিল, রিভিউ এবং রিভিশন তামাদি আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দায়ের করতে হয়। আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি নির্ধারিত সময়ে দাখিল করতে না পারলে আদালত ৩ ধারার বিধান অনুযায়ী উক্ত দরখাস্ত খারিজ করে দিতে পারে। বিলম্বে আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা কোন আবেদন করার কারণে যেন উক্ত আপিল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদনটি খারিজ না হয়, সেই জন্যে উক্ত আবেদনের সাথে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে বা সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে [application for extension of period]।

তামাদি আইনের ৫ ধারা নিম্নলিখিত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায় বা সময় বৃদ্ধির আবেদন দায়ের করা যায়-
১. আপিল [Appeal];
২. আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত [An application for leave to appeal];
৩. রায় রিভিউ এর আবেদন [An application for review of judgment];
৪. রিভিশনের দরখাস্ত [An application for revision];
৫. অন্য কোন আবেদনের ক্ষেত্রে যেখানে ৫ ধারা প্রযোজ্য করা যায় [Any other application to which this section may be made applicable]।

আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপিল দায়ের বা দরখাস্তটি দাখিল না করার যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহলেই আদালত বিলম্ব মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করতে পারে। 

এক্ষেত্রে 'ক' কে এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হলে আপিলের দরখাস্তের সাথে, তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে।

• যেক্ষেত্রে ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য না:
তামাদি আইন,১৯০৮ এর ৫ ধারা স্যুটের [Suit] বা মূল মামলা যেমন স্বত্ব ঘোষণা, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি দায়ের করার মেয়াদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ মূল মামলা বা স্যুট দায়ের করার জন্য নির্ধারিত সময় অতিক্রম হয়ে গেলে উক্ত সময় মওকুফ করার জন্য ৫ ধারায় আবেদন গ্রহণযোগ্য না।
৩৫১.
যে ব্যক্তি প্রতারণার কারণে তার অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তার বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে কবে থেকে?
  1. প্রতারণার বিষয়ে অবগতির দিন থেকে
  2. দলিল উপস্থাপনের দিন থেকে
  3. অপর পক্ষকে দলিল উপস্থাপনে বাধ্য করার দিন থেকে
  4. বর্ণিত যেকোনো দিন থেকে
ব্যাখ্যা
ধারা ১৮- মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতারণার ফলাফল 
 
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একটি মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয়ে বা যে স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত তা জানতে দেয়া হয় নাই অথবা উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে দলির প্রয়োজন তা প্রতারণা করে গােপন রাখা হয়েছে, সেই সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদী যেদিন-

১। সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে সেদিন থেকে, অথবা
২। যেদিন গােপন রাখা দলিল উত্থাপন করতে পারবে, অথবা
৩। অপর পক্ষের কাছে থাকা দলিলটি যেদিন হাজির করতে বাধ্য করতে পারবে।

Section 18: Effect of fraud
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application- 
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,  

shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
৩৫২.
খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হবে ৬ মাসের মধ্যে এটি কোন আর্টিকেলে বলা হয়েছে?
  1. ১৮০
  2. ১৮২
  3. ১৫৫
  4. ১৫৭
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের সিডিউলের ১৫৭ নং আর্টিকেলের বিধান অনুসারে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার জন্য ৬ মাসের তামাদির মেয়াদের বিধান করা হয়েছে।
৩৫৩.
তামাদি আইনের ৫ ধারার সুবিধা কে অধিকার হিসাবে দাবি করতে পারে?
  1. বাদী
  2. সরকার
  3. কেউ না
  4. দরখাস্তকারী
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ৫ ধারা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতার আওতায় পড়ে, কেউ এটিকে আইনগত অধিকার হিসাবে দাবি করতে পারে না।
- তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫ একটি সুযোগ বা discretionary privilege যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে প্রদান করা হয়। এটি অধিকার (Right) নয় — বরং এটি দরখাস্তকারীর একটি অনুরোধ মাত্র, যা আদালত "যথোপযুক্ত কারণ" থাকলে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
- যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন (Application), আপিল (Appeal) বা রিভিশন (Revision) দায়ের করেন, এবং তিনি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে বিলম্বটি "সুযোগ্য কারণবশত" হয়েছে, তাহলে আদালত ধারা ৫-এর আওতায় বিলম্ব মাফ (condone) করতে পারে।

অর্থাৎ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫-এ বিলম্ব মওকুফের (condonation of delay) বিধান থাকলেও এটি কোনো অধিকার (right) নয়, বরং এটি সম্পূর্ণরূপে আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা (discretionary power)-এর উপর নির্ভরশীল।
তাই সঠিক উত্তর: গ) কেউ না।
৩৫৪.
তামাদি আইনের ২০ ধারা প্রযোজ্য -
  1. অগ্রক্রয় মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  2. পারিবারিক মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  3. অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  4. স্বত্ব ঘোষণার মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২০ ধারা (Section 20 of the Limitation Act) এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কোনো দায় (debt) স্বীকার করা হয় বা আংশিক পরিশোধ করা হয়, এবং এর ফলে নতুন করে সময় গণনা শুরু হয়। এটি সাধারণত অর্থ আদায়ের মামলা বা দেনা-পাওনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

তামাদি আইনের ২০ ধারামতে,
ঋণ বা দেনার ক্ষেত্রে তামাদির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আংশিকভাবে কোন ঋণ বা সুদ পরিশোধ করলে, উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। অর্থাৎ কোন দেনা আংশিক পরিশোধ করলে পরিশোধের তারিখ হতে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।তবে এই ক্ষেত্রে দেনা পরিশোধ অবশ্যই লিখিত এবং স্বাক্ষরিত হতে হবে।
৩৫৫.
তামাদি আইনের ৩ ধারা প্রযোজ্য হবে-
  1. আপিলের ক্ষেত্রে
  2. দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে
  3. মূল মামলার ক্ষেত্রে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা-৩: তামাদি মেয়াদ শেষে দায়েরকৃত মামলা ইত্যাদি খারিজ -
এই আইনের ৪ হইতে ২৫ ধারা (উভয় ধারাসহ) সাপেক্ষে- প্রথম তফসিলে বর্ণিত নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ পার হওয়ার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু বা দাখিল করা হলে, বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তবুও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।

ব্যাখ্যা: সাধারণত উপযুক্ত কর্মচারির নিকট আরজি উপস্থিত করলে, নিঃস্ব হলে নিঃস্বভাবে মামলা করার অনুমতির জন্য দরখাস্ত করলে এবং আদালত যেখানে কোম্পানি বন্ধ করে ফেলছে; সেখানে কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবির ক্ষেত্রে দাবিদার সরকারী অবসায়কের নিকট দাবি প্রেরণ করলে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়।

• ধারা ৩ অনুযায়ী,
নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত করা হলে মামলা খারিজ হবে। এক্ষেত্রে বিবাদী পক্ষ কোন আপত্তি উত্থাপন না করলেও আদালত তা খারিজ করে দেবেন। তামাদি আইনের ৩ ধারা ৩টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে-
- মূল মামলা (Original suit);
- আপিল (Appeal);
- দরখাস্ত/আবেদনপত্র (Application)।

• ৩ ধারার বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। তাই পক্ষগণ একমত হয়েও তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবে না। আদালত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার ফলে কোন মোকদ্দমা খারিজ করলে পরবর্তী ঐ মামলার একই পক্ষ একই বিষয়বস্তু নিয়ে কোন মোকদ্দমা করলে উক্ত মোকদ্দমা Res-Judicata দ্বারা বারিত হবে।
৩৫৬.
The Limitation Act, 1908–এর ধারা ৫ অনুযায়ী, কোন কোন ক্ষেত্রে তামাদি অতিক্রান্ত হলেও আবেদন গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
  1. সব ধরনের মামলার ক্ষেত্রে
  2. ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে
  3. আপিল ও নির্দিষ্ট দরখাস্তের ক্ষেত্রে
  4. কেবল মূল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

The Limitation Act, 1908–এর ধারা ৫-
তামাদি আইনে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও কোনো আপিল, রিভিশন বা রিভিউয়ের দরখাস্ত, আপিলের অনুমতির জন্য দরখাস্ত, কিংবা প্রচলিত কোনো আইনের দ্বারা যেসব দরখাস্তের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে—সে সকল আবেদন আদালত গ্রহণ করতে পারে, যদি আপিলকারী বা আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে তার যথার্থ বা পর্যাপ্ত কারণ (sufficient cause) ছিল। অর্থাৎ, যথেষ্ট কারণ প্রমাণিত হলে আদালত দেরি হওয়া সত্ত্বেও আবেদন গ্রহণের ক্ষমতা রাখে।

এছাড়া, এই ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, যদি আপিলকারী বা আবেদনকারী তামাদির নির্ধারিত সময়সীমা নির্ণয় বা গণনা করতে গিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো আদেশ, প্রচলিত রীতি (practice) বা রায়ের দ্বারা বিভ্রান্ত (misled) হন, তবে সেই বিভ্রান্ত হওয়াটিও এই ধারার অর্থে যথার্থ কারণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

৩৫৭.
কোনো সম্পত্তি দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে কার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে?
  1. বাদীর
  2. বিবাদীর
  3. উভয়ের
  4. ৩য় কোনো পক্ষের
ব্যাখ্যা
কোন সম্পত্তিতে দখল লাভের জন্য মামলা করার বিষয়ে এই আইনে যে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে, তা অতিবাহিত হবার পর উক্ত সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

• তামাদি আইনে ২৬-২৮ ধারায় মালিকানা অর্জনের ২টি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে-
১) সুখাধিকার (Easement) 
২) প্রেসক্রিপশন (Law of Prescription)

• তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধানে Adverse possession বা জবর দখলের কথা বলা হয়েছে।

ধারা ২৮ (সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি)-
কোনো সম্পত্তি দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Section 28: Extinguishment of right to property
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৩৫৮.
সমন জারির খরচ না দেওয়ার ফলে খারিজ হওয়া মামলার আদেশ বাতিল করতে কত দিনের মধ্যে দরখাস্ত দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮: অনুচ্ছেদ-১৬৩:
হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বা গরহাজিরার ফলে [default of appearance] বা সমন জারীর খরচ জমা না দেওয়ার জন্য অথবা খরচার জামানত দাখিল না করার জন্য মামলা খারিজ আদেশ বাতিল করার জন্য দরখাস্ত [to set aside an order of dismissal]

তামাদি- ৩০ দিন।
সময় গণনা শুরু -খারিজ হওয়ার তারিখ হতে।
৩৫৯.
ব্যাংকে গ্রাহকের আমানত বা জমাকৃত অর্থ আদায়ের জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ-
  1. ২ বৎসর
  2. ১ বৎসর
  3. ৩ বৎসর
  4. ৬ বৎসর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৫১ থেকে ৬৪ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত, ৯৭ থেকে ১১১ অনুচ্ছেদে বিভিন্ন ধরনের অর্থ আদায়ের জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ আদায়ের জন্য [for money] মামলা দায়েরের জন্য তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।
৩৬০.
তামাদি আইনের কোন ধারাটি 'সংরক্ষণ' (Savings) শিরোনামে পরিচিত?
  1. ধারা ২৭
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ২৯
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ধারা ২৯-এর শিরোনামই হলো "সংরক্ষণ" (Savings)। এই ধারাটি তামাদি আইনের কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ও সুরক্ষা বিধান উল্লেখ করে।

⇒ তামাদি আইনের ২৯ ধারা সংরক্ষণ:
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Limitation Act:- Section- 29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872. 
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law- 
(a) The provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special  law; and 
(b) The remaining provisions of this Act shall not apply. 
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act. 
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.

৩৬১.
আপিল করার অনুমতি (Leave to Appeal) দিতে অস্বীকার করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ২০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ২ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫৩ এর বিধান: অধীনস্ত কোন আদালত আপীল বিভাগে লিভ-টু-আপীল প্রত্যাখ্যানের কোন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপীলের তামাদি মেয়াদ আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিন।

-অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৫৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে আপিল করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল (Leave to Appeal) করার তামাদি মেয়াদ ৩০ দিন।
৩৬২.
মানসিকভাবে অসুস্থ থাকা অবস্থায় হস্তান্তরিত হওয়া সম্পত্তির জন্য মোকদ্দমায় তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি (Limitation) আইন এর ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
মানসিক অসুস্থ অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মোকদ্দমার মেয়াদ থাকে ৩ বছর। এটি ওই ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার পর ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। এই মেয়াদের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি তার মানসিক সুস্থতা ফিরে পায় এবং সে জানে যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে, তখন সে তিন বছরের মধ্যে আদালতে মামলা করতে পারে।

৩৬৩.
তামাদি আইন অনুযায়ী মামলার সময় গণনা কখন শুরু হয়?
  1. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. বিচারকের আদেশের দিন থেকে
  3. মামলার কারণ উদ্ভব হবার দিন থেকে
  4. অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অধীনে, মামলার সময় গণনা সাধারণত মামলার কারণ উদ্ভব (Cause of Action) হওয়ার দিন থেকে শুরু হয়। এটি তামাদি আইনের মূল নীতি, যা নির্ধারণ করে যে কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন দায়েরের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা কখন থেকে গণনা করা হবে। “Cause of Action” বলতে সেই ঘটনা বা পরিস্থিতিকে বোঝায়, যা মামলা দায়েরের অধিকার সৃষ্টি করে।

তামাদি আইনের ধারা ১২(১) অনুযায়ী, মামলার তামাদি মেয়াদ গণনার সময় সেই দিনটি বাদ দেওয়া হয়, যেদিন মামলার কারণ উদ্ভব হয়। অর্থাৎ, মামলার কারণ উদ্ভবের পরের দিন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো চুক্তি ভঙ্গের ঘটনা ১ জানুয়ারি, ২০২৫-এ ঘটে, তবে তামাদি মেয়াদ ২ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে গণনা শুরু হবে।

- তামাদি আইনের ১ম তফসিলে বিভিন্ন ধরনের মামলার জন্য নির্দিষ্ট তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা আছে, এবং এই মেয়াদগুলো সাধারণত কারণ উদ্ভবের সময় থেকে গণনা করা হয়।
- কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ধারা ৬ (বৈধ অপারগতা) বা ধারা ১৮ (প্রতারণা), তামাদি মেয়াদ গণনার শুরু বিলম্বিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতারণার ক্ষেত্রে তামাদি মেয়াদ প্রতারণা জানার দিন থেকে শুরু হবে (ধারা ১৮)।
- ধারা ১৫ অনুযায়ী, যদি আদালতের নির্দেশে কোনো মামলা স্থগিত থাকে বা নোটিশ প্রদানের প্রয়োজন হয়, তবে সেই সময় তামাদি মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যায়।
⇒ অর্থাৎ তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী, মামলার সময় গণনা মামলার কারণ উদ্ভব হওয়ার দিন থেকে শুরু হয়, এবং এটি আইনের মূল নীতি। এই নীতি নিশ্চিত করে যে বিচারপ্রার্থী তার অধিকার দ্রুত আদায়ের জন্য পদক্ষেপ নেয়, যা তামাদি আইনের “শান্তির আইন” হিসেবে পরিচিতির একটি প্রধান কারণ।

৩৬৪.
তামাদি আইনের ২১ ধারা অনুসারে, যৌথ বা অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের ম্যানেজারের দ্বারা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান কী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. অবৈধ স্বীকৃতি হিসেবে
  2. ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হিসেবে
  3. পরবর্তী উত্তরাধিকারীর বিরুদ্ধে অকার্যকর হিসেবে
  4. পুরো পরিবারের পক্ষে স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২১(৩)(b) ধারা অনুযায়ী “যখন একটি হিন্দু অবিভক্ত (Undivided) পরিবারের পক্ষে কোন দায়ভার সৃষ্টি হয়, তখন বর্তমান ম্যানেজার বা তাঁর যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা করা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান পুরো পরিবারের পক্ষে করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।”
অর্থাৎ যৌথ বা অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের ম্যানেজারের স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান পুরো পরিবারের পক্ষে বৈধ ও কার্যকর — এটি তামাদি আইনের ২১ ধারার মূল উদ্দেশ্য। তাই সঠিক উত্তর: ঘ) পুরো পরিবারের পক্ষে স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে।

⇒ তামাদি আইনের ২১ ধারার বিধান: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি:
(১) “তাঁহার পক্ষ থেকে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্ট” শব্দবন্ধটি, ধারাঃ ১৯ ও ২০-এর ক্ষেত্রে, একজন অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তাঁর আইনগত অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপক, অথবা এমন একজন এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করবে যিনি এই অভিভাবক, কমিটি বা ব্যবস্থাপকের দ্বারা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান স্বাক্ষরের জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
(২) উল্লিখিত ধারাগুলোর অধীনে একাধিক যৌথ চুক্তিকারক, অংশীদার, নির্বাহী বা বন্ধকী কর্তাকে শুধুমাত্র অন্য একজন বা তাঁদের এজেন্টের দ্বারা স্বাক্ষরিত লিখিত স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদানের কারণে দায়বদ্ধ করবে না।
(৩) উল্লিখিত ধারাগুলোর উদ্দেশ্যে-
(a) একজন বিধবা বা অন্য সীমিত মালিকের দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি স্বীকৃতি, অথবা কোনো দায়ের জন্য অর্থ প্রদান, অথবা যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা, যিনি হিন্দু আইন দ্বারা পরিচালিত, তা সংশ্লিষ্ট পুনঃসূত্রের বিরুদ্ধে একটি বৈধ স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসেবে গণ্য হবে;
(b) যখন একটি হিন্দু অখণ্ড পরিবারের পক্ষে কোনো দায়ভার সৃষ্টি করা হয়, তখন বর্তমান ব্যবস্থাপক বা তাঁর যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের দ্বারা করা স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান সম্পূর্ণ পরিবারের পক্ষে করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
-------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-21. Agent of persons under disability:
(1) The expression “agent duly authorised in his behalf,” in sections 19 and 20, shall, in the case of a person under disability, include his lawful guardian, committee or manager, or an agent duly authorised by such guardian, committee or manager to sign the acknowledgement or make the payment.
(2) Nothing in the said sections renders one of several joint contractors, partners, executors or mortgagees chargeable by reason only of a written acknowledgment signed or of a payment made by, or by the agent of, any other or others of them.
(3) For the purposes of the said sections-
(a) an acknowledgment signed, or a payment made, in respect of any liability, by, or by the duly authorised agent of, any widow or other limited owner of property who is governed by the Hindu law, shall be a valid acknowledgment or payment, as the case may be, as against a reversioner succeeding to such liability; and
(b) where a liability has been incurred by, or on behalf of, a Hindu undivided family as such, an acknowledgment or payment made by, or by the duly authorised agent of, the manager of the family for the time being shall be deemed to have been made on behalf of the whole family.
৩৬৫.
নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দিয়ে যে সময়ে জন্য মোকদ্দমার কার্যক্রম স্থগিত থাকে তা বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে। তামাদি আইনের কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ১৩
  2. ধারা ১৪
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১৬
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হইবেঃ
(১) যেই মামলা বা ডিক্রী জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হইয়াছে, তাহার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন উহা নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেইদিন উহা প্রদত্ত হইয়াছিল এবং যেইদিন উহা প্রত্যাহার করা হইয়াছিল, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেওয়া হইয়াছে, তাহার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হইবে।
৩৬৬.
তামাদি আইনে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কার্যক্রমের জন্য তামাদির নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই?
  1. দরখাস্ত
  2. আপিল
  3. রিভিউ
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই।

- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

⇒ সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৯০ দিনের মধ্যে।
- জেলা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করতে হবে- ৩০ দিনের মধ্যে।
৩৬৭.
‘‘Continuing breaches and wrongs’’ তামাদি আইনের কত ধারায় রয়েছে?
  1. ২২ ধারায়
  2. ২৩ ধারায়
  3. ২৪ ধারায়
  4. ২৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ২৩ ধারায় অবিরামভাবে চুক্তি ভঙ্গ বা অনিষ্টের ফলাফল (Continuing breaches and wrongs) সম্পর্কে বলা হয়েছে। ২৩ ধারাটি বিশ্লেষণ করলে প্রতিয়মান হয় যে, এমন কিছু চুক্তির অস্তিত্ব রয়েছে যা লংঙ্ঘন করা হলে প্রতি মুহূর্তেই নালিশের কারণ উদ্ভব হয়ে থাকে। এছাড়া চুক্তি বহির্ভূত এমন কিছু ক্ষতি বা লোকসান রয়েছে যা প্রতি মুহূর্তেই নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এ সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ নতুন করে বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ কোন চুক্তি ক্রমাগত ভঙ্গ করা হতে থাকলে বা অবিরত অন্যায় আচরণ অব্যাহত রাখা হলে, সেক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ সংঘটনের প্রতি মুহূর্তেই নতুন ভাবে মামলার কারণ উদ্ভব হবে।
৩৬৮.
প্রতারণামূলক ডিক্রি রদ-রহিতের জন্য আনীত মামলার তামাদি কত?
  1. ১২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ১ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৯৫ এর বিধান প্রতারণামূলক ডিক্রি রদ-রহিতের জন্য আনীত মামলার তামাদি মেয়াদ ৩ বছর।
৩৬৯.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় কোন বিধান না থাকলে বা তফসিলে উল্লেখ না থাকলে দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৮১ এর বিধান দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় কোন বিধান নাই সেই সকল দরখাস্ত বা যে সকল দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ এই তফসিলে উল্লেখ নেই, সেই সকল দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ, যখন থেকে অধিকার উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে- ৩ বছর।
অর্থাৎ তামাদি আইনে যে দরখাস্ত দায়েরের মেয়াদ সুনির্দিষ্টভাবে বলা নেই তা দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।

- অনুচ্ছেদ ১৮১ অনুযায়ী, যেখানে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় কোনও তামাদি বিধান নেই বা তফসিলে উল্লেখ নেই, সেসব ক্ষেত্রে দরখাস্ত করার তামাদি মেয়াদ হলো ৩ বছর, গণনা শুরু হয় দরখাস্ত করার অধিকার উদ্ভব হওয়ার সময় থেকে।
৩৭০.
'ক' কে বেআইনিভাবে জমি থেকে দখলচ্যুত করা হয়। এক্ষেত্রে 'ক' দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কত দিনের মধ্যে আদালতে মামলা করতে পারবেন?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৯ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হয় ছয় মাসের মধ্যে, এবং এই ছয় মাসের সময়সীমা শুরু হয় যেদিন দখলচ্যুতি (dispossession) ঘটে, সেদিন থেকে।

⇒ যে কেউ যদি বেআইনিভাবে কাউকে স্থাবর সম্পত্তি (যেমন: জমি-বাড়ি) থেকে দখলচ্যুত করে, তাহলে দখলচ্যুত ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে আদালতে গিয়ে দখল ফেরত চেয়ে মামলা করতে পারবেন।
৩৭১.
তামাদি আইনে অনুচ্ছেদ ১৬৯ অনুযায়ী একতরফা শুনানীকৃত আপীল পুনরায় শুনানীর জন্য দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৬৯ অনুসারে, যেই ডিক্রির বিরুদ্ধে একতরফা শুনানীকৃত আপীল হয়েছে, সেই ডিক্রির বিরুদ্ধে পুনরায় শুনানীর জন্য দরখাস্ত করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে, গণনা শুরু হয় সংশ্লিষ্ট ডিক্রির তারিখ থেকে।
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৬৯: একতরফা শুনানীকৃত আপীল পুনরায় শুনানীর জন্য দরখাস্তের তামাদি মেয়াদ ৩০ দিন।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় আদেশের তারিখ থেকে।
৩৭২.
‘X’ একটি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য ‘Y’-এর বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়। তামাদি গণনা শুরু হওয়ার পর ‘Y’ হঠাৎ দেশত্যাগ করে। এক্ষেত্রে—
  1. মামলা যেকোনো সময় করা যাবে
  2. তামাদি গণনা চলতে থাকবে
  3. ‘Y’ ফিরে না আসা পর্যন্ত তামাদি গণনা স্থগিত থাকবে
  4. তামাদি মেয়াদ পুনরায় গণনা শুরু হবে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ৯ ধারায় 'সময়ের অবিরাম চলন' নীতির কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, একবার কোন দাবির জন্য তামাদির মেয়াদ (Limitation Period) গণনা শুরু হয়ে গেলে, পরবর্তীতে কোন অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধকতার কারণে মামলা দায়ের করতে না পারলেও সেই মেয়াদ থেমে যাবে না। অর্থাৎ মামলা দায়েরে অক্ষমতা দেখা দিলেও সময় অবিরাম চলতে থাকবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আর মামলা করা যাবে না।
তবে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে- যদি পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদারের উপর ন্যস্ত হয়, তখন ঐ দায়িত্ব পালনের সময়কালে দেনা আদায়ের মামলা দায়েরের সময়সীমা স্থগিত থাকবে।

Section 9: Continuous running of time:
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
৩৭৩.
গৃহকর্মী, কারিগর বা শ্রমিকের বকেয়া মজুরি আদায়ের জন্য তামাদি সময়সীমা কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭:
- গৃহকর্মী, কারিগর অথবা শ্রমিকের মজুরির জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা:
- এক (১) বছর।
- সময়সীমা গণনা শুরু হবে যেদিন মজুরি পাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হয়, সেদিন থেকে।
৩৭৪.
সরকারী সম্পত্তিতে সুখাধিকার (Easements) অর্জিত হয় অব্যাহতভাবে কত বছর ব্যবহার করলে?
  1. ৩০ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৪০ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৬ অনুসারে, সরকারি সম্পত্তিতে সুখাধিকার (Easements) অর্জিত হওয়ার জন্য ৬০ বছর পর্যন্ত অব্যাহতভাবে ব্যবহার করতে হয়।
ধারা ২৬(২) অনুযায়ী, যেখানে কোনো সুখাধিকার সরকারি সম্পত্তির ওপর দাবি করা হচ্ছে, সেখানে ২০ বছরের পরিবর্তে ৬০ বছর ওই সুখাধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও অব্যাহতভাবে ভোগ করতে হবে।
এটি একটি বিশেষ বিধান, যা সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং সাধারণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে এটি ২০ বছর থাকে।

উল্লেখযোগ্য শর্ত:
শান্তিপূর্ণ ও অব্যাহত ব্যবহার: অধিকারটি ভোগ করা হয়েছে অব্যাহতভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে।
সরকারি সম্পত্তি: সরকারি জমিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছরের পরিসর অতিক্রম করতে হবে।
- অর্থাৎ সরকারি সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জিত হয় ৬০ বছর অব্যাহতভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে।

তামাদি আইন, ১৯০৮ ধারা ২৬ এ বলা আছে,
যে ক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে বিশ (২০) বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হয়েছে, এবং কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নেতিবাচক যাই হোক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে তাতে স্বত্ব দাবি করে অব্যাহতভাবে এবং বিশ (২০) বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করেছে, সেক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্ঘনীয় অধিকারে পরিণত হবে।
উল্লেখ্য যে, সরকারি কোন সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত অধিকার একটানা ৬০ বছর ধরে ভোগ করতে হবে। সরকারি কোন সম্পত্তি ছাড়া অন্য কোন সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত জমি টানা ২০ বছর ধরে ভোগ করতে হবে।

Section 26: Acquisition of right to easements-
(1) Where the access and use of light or air to and for any building have been peaceably enjoyed therewith as an easement, and as of right, without interruption, and for twenty years, and where any way or watercourse, or the use of any water, or any other easement (whether affirmative or negative) has been peaceably and openly enjoyed by any person claiming title thereto as an easement and as of right without interruption, and for twenty years, the right to such access and use of light or air, way, water-course, use of water, or other easement shall be absolute and indefeasible.
Each of the said periods of twenty years shall be taken to be a period ending within two years next before the institution of the suit wherein the claim to which such period relates is contested.
(2) Where the property over which a right is claimed under sub-section (1) belongs to the Government, that sub-section shall be read as if for the words “twenty years” the words “sixty years” were substituted.
Explanation - Nothing is an interruption within the meaning of this section, unless where there is an actual discontinuance of the possession or enjoyment by reason of an obstruction by the act of some person other than the claimant, and unless such obstruction is submitted to or acquiesced in for one year after the claimant has notice thereof and of the person making or authorising the same to be made.
৩৭৫.
আপীল দায়েরের তামাদি মেয়াদ কোন আর্টিকেলের মধ্যে উল্লেখ আছে? 
  1. ১–১৪৯
  2. ১৫০–১৫৭
  3. ১৪৮–১৫৮
  4. ১৫৮–১৮৩
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিল মোট ৩টি বিভাগে বিভক্ত। এই তিনটি বিভাগ অনুযায়ী, তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের বিধানগুলি মোকদ্দমা (Suit), আপীল (Appeal), এবং দরখাস্ত (Application/Petition) সংক্রান্ত।
অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের মোট ৩টি বিভাগ রয়েছে, যেগুলি হল: ১) মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি ২) আপীল দায়েরের তামাদি ৩) দরখাস্ত দায়েরের তামাদি।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৩টি বিভাগ:
১) প্রথম বিভাগ (First Division):
→ মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Suits)
- এই বিভাগের অধীনে ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
২) দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division):
→ আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Appeals)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত বিভিন্ন আপীলের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
৩)  তৃতীয় বিভাগ (Third Division):
→ বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ (Limitation for Filing Applications and Petitions)
- এই বিভাগের অধীনে ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত বিভিন্ন দরখাস্ত বা পিটিশনের তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

৩৭৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নষ্ট হয় না
  2. তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয় না, অধিকার নষ্ট হয়
  3. তামাদির দরুন প্রতিকার ও অধিকার উভয়ই নষ্ট হয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নষ্ট হয় না: তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন। তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোন বিধানবলে কোন অধিকার সৃষ্টিও হয় না, নষ্টও হয় না। ২৮ ধারার বিধান ব্যতীত তামাদি আইনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেলে মামলা করে প্রতিকার লাভ করা নিষিদ্ধ হয় বটে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট অধিকার বিদ্যমান থেকেই যায়। মামলা-মোকদ্দমা ব্যতিত অন্য কোন উপায়ে যদি সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারা যায়, তবে তামাদি আইন সেক্ষেত্রে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে না।
৩৭৭.
বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির সময়কাল তামাদি আইনের কত অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০২
  2. অনুচ্ছেদ ১০৩
  3. অনুচ্ছেদ ১০১
  4. অনুচ্ছেদ ১০৪
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৩ এবং ১০৪ অনুযায়ী মুসলিম আইনের অধীন দেনমোহর আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।

অর্থাৎ বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির ৩ বৎসর যা তামাদি আইনের ১০৪ অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৭৮.
তামাদি আইনে বিল অব এক্সচেঞ্জ (Bill of Exchange) হিসেবে কোনটি অর্ন্তভুক্ত হবে?
  1. চেক
  2. হুন্ডি
  3. ক ও খ উভয়
  4. ক বা খ কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ধারা ২(২) অনুযায়ী-
হুন্ডি এবং চেক, বিল অব এক্সচেঞ্জ-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

Section 2(2)
“bill of exchange” includes a hundi and a cheque.
৩৭৯.
তামাদি আইনের কোন ধারার বিধান কোনো পক্ষ অধিকার হিসেবে আদালতে দাবি করতে পারবে না?
  1. ১২ ধারার
  2. ১৪ ধারার
  3. ৫ ধারার
  4. উল্লিখিত সকল বিধান
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। একে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

তামাদি আইনের কঠোরতা লাঘবের জন্য এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে ‘কতিপয় বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়াদ বৃদ্ধিকরণ’ শিরোনামে ৫ ধারা। যেখানে বলা হয়েছে, কোন পক্ষ শুধুমাত্র আপীল, রিভিউ, রিভিশন, লিভ টু আপীল এবং বিভিন্ন প্রকার দরখাস্ত দায়েরে ক্ষেত্রে তামাদির সময় বৃদ্ধি করার আবেদন করতে পারে। এই সকল আবেদন করার সময় উল্লেখ করতে হবে ‘কেন সঠিক সময় আবেদন দায়ের করা যায়নি তার কারণ’। আদালত উক্ত ‘কারণ’ বিবেচনায় নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে ক্ষেত্র বিশেষে সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন। তবে মূল মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা কখনো গ্রহণযোগ্য হয় না।

এই ৫ ধারায় মূলত ’Equity will not suffer a wrong to be without a remedy’- অর্থাৎ ‘ইকুইটিতে ভুলের প্রতিকার বিদ্যমান’ নীতির প্রকাশ পেয়েছে। তামাদি আইনের ৫ ধারার বক্তব্য বুঝার জন্য এই ধারার ব্যাখ্যা অংশে বলা আছে- হাইকোর্ট বিভাগের কোন আদেশ, প্রথা কিংবা সিদ্ধান্তের দ্বারা তামাদির সময়কাল হিসাব কিংবা নির্ধারণে বিভ্রান্ত হলে তা বর্তমান ধারা অনুযায়ী ‘যথার্থ কারণ’ বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে বর্তমান আইনে বা আরও যেসব আইনে ‘যথার্থ কারণ/Sufficient cause’ শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে সে সকল কোন আইনেই শব্দ গুলোর ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত থেকে বলা যায় ১.অসুস্থতা (অবশ্যই গুরুতর বা মারাত্মক) ২.কারাবাস ৩.সরল বিশ্বাসে ভুল ৪.কৌসুলি বা উকিলের ভুল ৫.আদালতের সংঘাতপূর্ণ সিদ্ধান্ত ৬.রায় বা ডিক্রি তুলতে আদালতের কর্মচারীর ভুল ইত্যাদি ‘যথার্থ কারণ/Sufficient cause’ হিসেবে আদালত বিবেচনায় নিতে পারে। তবে কোন ভাবেই এই ৫ ধারার সময় বৃদ্ধির আবেদন কোন পক্ষ অধিকার হিসেবে আদালতে দাবি করতে পারবে না।
৩৮০.
খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৫৭ নং আর্টিকেল অনুসারের খালাসের বিরুদ্ধে আদেশ প্রচারের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করার বিধান আছে।
৩৮১.
খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ, তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১৫১
  2. ১৫৩
  3. ১৫৭
  4. ১৬৩
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- খালাসের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে বা প্রত্যাখ্যাত হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

⇒ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
- The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

অর্থাৎ খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ, তামাদি আইনের ১৫৭ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।
৩৮২.
স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩৫ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬১

[Court of Small Causes] স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতের রায় অথবা স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত হিসাবে বিচার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন আদালত কর্তৃক অনুরূপ এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত

তামাদি- ১৫ দিন
সময় গণনা শুরু- ডিক্রি বা আদেশের তারিখ হতে।
৩৮৩.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর কোন ধারা অনুসারে বিবাদীর বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকালীন সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়?
  1. ধারা ১৫
  2. ধারা ১৪
  3. ধারা ১৩
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৩ অনুযায়ী, বিবাদী যদি বাংলাদেশের বাইরে থাকে, তার অনুপস্থিতির সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ যাবে।
উদাহরণ: বিবাদী ২ বছর বিদেশে থাকলে, সেই ২ বছর তামাদি মেয়াদের হিসাবে গণনা হবে না।
 - এই বিধান শুধু মামলা (Suit)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (আপিল/দরখাস্ত নয়)।
-  সুতরাং, বিবাদীর বিদেশ অবস্থানকালীন সময় বাদ দেওয়ার বিধানটি ধারা ১৩-তে বর্ণিত।

⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, যদি বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে থাকে, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনার সময় তার অনুপস্থিতির সময় বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, বিবাদী যতদিন অনুপস্থিত থাকবে, সেই সময় তামাদি গণনার মধ্যে পড়বে না, বরং সে ফিরে আসার পর তামাদি গণনা চলবে।
- এই বিধান বাদীর স্বার্থ রক্ষার জন্য রাখা হয়েছে, যাতে বিবাদির বিদেশে থাকার কারণে বাদী মামলা দায়েরের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
--------
⇒ The Limitation Act:- Section 13. Exclusion of the time of the defendant’s absence from Bangladesh and certain other territories
In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the defendant has been absent from Bangladesh and from the territories beyond Bangladesh under the administration of the Government shall be excluded.

৩৮৪.
তামাদি আইনের ধারা ১২(১) অনুযায়ী, তামাদির মেয়াদ গণনায় কোন দিন বাদ দিতে হয়?
  1. মামলার নিষ্পত্তির দিন
  2. রায়ের কপি সংগ্রহের দিন
  3. আপীলের শুনানির দিন
  4. যেই দিন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয়
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২(১) বলছে:
“কোন মামলা, আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই দিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।”
অর্থাৎ, যখন তামাদির সময়সীমা গণনা করা হবে, তখন যে দিন থেকে গণনা শুরু হওয়ার কথা—সেই প্রথম দিনটি গণনায় ধরবে না, সেটি বাদ দেওয়া হবে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৩৮৫.
তামাদি আইনে যেসব দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই, সেগুলোর তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
→ তামাদি আইনে যেসব দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই, সেগুলোর তামাদি মেয়াদ ৩ বছর।
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮১ বিধান: তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অন্য কোথাও বা দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় যে সব দরখাস্ত সম্পর্কে কোন বিধান নাই সেইসব দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ দরখাস্ত করার অধিকার উদ্ভব হওয়ার দিন থেকে ৩ বছর।
৩৮৬.
Malicious prosecution এর কারণে ক্ষতিসাধনের মামলার তামাদি কত?
  1. ৬ বছর
  2. ১ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦The Limitation Act, 1908 এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ২৩ এর বিধান বিদ্বেষমূলকভাবে ফৌজদারীতে সোপর্দকরণের জন্য ক্ষতিপূরণ [Compensation for malicious prosecution] এর মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর। যখন বেকসুল খালাস হয় অথবা যখন মামলার অবসান ঘটে তখন থেকে।
৩৮৭.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৬-এ কোন বিষয়ে মামলার তামাদির মেয়াদ ১ বছর নির্ধারিত হয়েছে?
  1. আবাসিক ভাড়া
  2. গৃহ-ভৃত্যের মজুরী
  3. স্থাবর সম্পত্তির উদ্ধার
  4. দণ্ড বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ-৬-এ নিম্নলিখিত বিষয়ে মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে:
সংবিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইন (Bye-law) অনুসারে দণ্ড (Penalty) বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ (Forfeiture)-এর জন্য দায়েরকৃত মামলা।
তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় যখন দণ্ড ভোগ করা হয় বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) আবাসিক ভাড়া: অনুচ্ছেদ-৯-এ উল্লেখিত (১ বছর)।
খ) গৃহ-ভৃত্যের মজুরী: অনুচ্ছেদ-৭-এ উল্লেখিত (১ বছর)।
গ) স্থাবর সম্পত্তির উদ্ধার: অনুচ্ছেদ-৩-এ উল্লেখিত (৬ মাস)।

সুতরাং, অনুচ্ছেদ-৬-এ দণ্ড বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ সংক্রান্ত মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর নির্ধারিত হয়েছে।
৩৮৮.
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ১৭ কোন ধরনের কার্যধারায় প্রযোজ্য?
  1. কেবল মোকদ্দমা
  2. কেবল দরখাস্ত
  3. কেবল আপিল
  4. মোকদ্দমা ও দরখাস্ত উভয় ক্ষেত্রেই
ব্যাখ্যা

The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারার বিধান- অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল:-
কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

এই ধারার ব্যতিক্রম হলো- অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।

৩৮৯.
মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৭ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ ৭ দিনের বিধান আছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধান-দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
৩৯০.
হাইকোর্ট কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায়ের পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত দাখিলের মেয়াদ কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬২

হাইকোর্ট কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায়ের পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত
তামাদি- ২০ দিন
সময় গণনা শুরু- ডিক্রি বা আদেশের তারিখ।
৩৯১.
তামাদি আইনের ১৭ ধারা প্রযোজ্য নয় -
  1. মূল মামলায়
  2. অন্যের মামলায়
  3. অগ্রক্রয়ের মামলায়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♣♣ 
• কোন মামলা দায়ের করার অধিকার জন্মানোর পূর্বে বাদী মারা গেলে তার বৈধ প্রতিনিধিরা মামলা করতে পারবে; 
• এক্ষেত্রে অন্যান্য মামলা বৈধ প্রতিনিধিরা দায়ের করতে পারলেও অগ্রক্রয়ের মামলা কোন ব্যক্তির বৈধ প্রতিনিধিরা দায়ের করতে পারে না।
• তাই বলা হয়েছে অগ্রক্রয়ের মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১৭ ধারা প্রযোজ্য নয়। 
৩৯২.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না-
  1. দেওয়ানি কার্যবিধির ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
  2. চুক্তি আইনের ২৫ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে
  3. দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৪ ধারার ক্ষেত্রে
  4. চুক্তি আইনের ৫৬ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ২৯: সংরক্ষণ (Savings):
(১) এই আইনের কোনো কিছুই ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ২৫-কে প্রভাবিত করবে না।

(২) যদি কোনো বিশেষ আইন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির একটি ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করে, যা প্রথম তফসিলে উল্লিখিত মেয়াদ থেকে আলাদা, তাহলে ধারা ৩-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, যেন সেই মেয়াদ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত হয়েছে। এবং কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য:

(ক) ধারা ৪, ধারা ৯ থেকে ১৮ এবং ধারা ২২-এর বিধানগুলো কেবল সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যতটুকু সেই বিশেষ আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়নি; এবং
(খ) এই আইনের অন্যান্য বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না।

(৩) এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়েরকৃত মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।


(৪) ধারা ২৬ এবং ২৭, এবং ধারা ২-এ উল্লিখিত "সুবিধা" (easement)-এর সংজ্ঞা, ১৮৮২ সালের সুবিধা আইন (Easements Act, 1882) যে অঞ্চলে প্রযোজ্য, সেই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

৩৯৩.
তামাদি আইন অনুযায়ী নতুনভাবে পক্ষভুক্ত বিবাদীর জন্য কোন তারিখে মামলার দায়ের হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে?
  1. যেদিন বিবাদী স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলো
  2. যেদিন মূল মামলাটি দায়ের করা হয়েছিলো
  3. যেদিন স্থলাভিষিক্তের জন্য আবেদন করা হয়েছিলো
  4. যেদিন মামলার সমন প্রেরণ করা হয়েছিলো
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এ নতুন কোন বাদী বা বিবাদীকে স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল সম্পর্কে বলা আছে।

যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোন বাদী বা বিবাদীকে পক্ষভুক্ত করা হয় বা কারও স্থলাভিষিক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির জন্য পক্ষভুক্তির তারিখেই মামলাটি করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে সঠিক উত্তর 'যেদিন বিবাদী স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলো' সেই  তারিখে মামলার দায়ের হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।

তবে, যেক্ষেত্রে মামলা স্থগিত থাকার সময় স্বত্বাপণ কিংবা কোন স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত কিংবা স্থলাভিষিক্ত করা হয় বা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদীতে কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয় সেক্ষেত্রে ১ উপধারার কোন কিছুই প্রয়োগযোগ্য হবে না।
-----------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party. 
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
৩৯৪.
তামাদি আইনের কোন ধারায় তঞ্চকতা বা প্রতারণার কথা বলা আছে?
  1. ১৬ ধারায়
  2. ১৮ ধারায়
  3. ২০ ধারায়
  4. ২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফলঃ যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবার অধিকারী হয়, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাহাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য যেই দলিল প্রয়োজনীয়, তাহা প্রতারণা করিয়া তাহার নিকট হইতে গোপন রাখা হইয়াছে, সেই সকল ক্ষেত্রে-

(ক) প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তাহার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যেই ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্য প্রকারে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্বদাবি করে, তাহার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন প্রতারণার কথা জানিতে পারে, সেইদিন হইতে অথবা দলিল গোপন করা হইয়া থাকিলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন হইতে অথবা দলিল গোপন করা হইয়া থাকিলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন দলিলটি উপস্থাপন করিতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উহা উপস্থাপন করিবার জন্য বাধ্য করিতে পারে, সেইদিন হইতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
৩৯৫.
তামদি আইনের ৯২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত দলিল জাল বলে ঘোষণার জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর 
  3. ২ বছর 
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

তামদি আইনের ৯২ অনুচ্ছেদ  অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত দলিল জাল বলে ঘোষণার জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা-৩ বছর।

⇒ তামদি আইনের ৯২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইস্যুকৃত বা রেজিস্ট্রিকৃত দলিল জাল বলে ঘোষণার জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা-৩ বছর।
এ সময় গণনা শুরু হয় দলিলটির ইস্যুকরণ বা রেজিস্ট্রিকরণ যখন বাদীর গোচরীভূত হয়।

⇒ The Limitation Act 1908, Article 92: The period of limitation to institute a suit to declare the forgery of an instrument issued or registered is- 3 years. The period begins when the issue or registration becomes known to the plaintiff.

৩৯৬.
The Limitation Act 1908- এর কোন ধারা অনুযায়ী জাবেদা নকল ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ গণনা হতে বাদ যাবে?
  1. ১১
  2. ১২
  3. ১৩
  4. ১৪
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১২ ধারা মোতাবেক আইনানুগ কার্যধারায় যে সময় গণনা থেকে বাদ দিতে হয়-
• মামলা করার কারণ যেদিন উদ্ভব হবে সেই দিন, রায় ও ডিক্রি যেদিন প্রদান করা হয় সে দিনটি, রায় ও ডিক্রির জাবেদা নকল সংগ্রহ করার জন্য যতদিন লাগে ততদিন।
• সুতরাং বলা যায় যে, তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী জাবেদা নকল সংগ্রহের সময়টুকু তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
৩৯৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 অনুসারে খালাসের আদেশের বিরূদ্ধে আপীলের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৬ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act,1908 এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- খালাসের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে বা প্রত্যাখ্যাত হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

⇒ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
- The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

অর্থাৎ খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৬ মাস, তামাদি আইনের ১৫৭ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।
৩৯৮.
ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে হাইকোর্ট ভিন্ন যে কোন আদালতে আপিলের তামাদি মেয়াদ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ- ১৫২
  2. অনুচ্ছেদ- ১৫৪
  3. অনুচ্ছেদ- ১৫৫
  4. অনুচ্ছেদ- ১৫৬
ব্যাখ্যা

• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৫৪: ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে হাইকোর্ট ভিন্ন যে কোন আদালতে আপিল -
তামাদি- ৩০ দিন;
সময় গণনা শুরু- যে দণ্ডাদেশ বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।

৩৯৯.
বিলম্বিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হয়-
  1. যখন স্বামীর মৃত্যু হয়
  2. যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়
  3. যখন থেকে অধিকার জন্মায়
  4. ক অথবা খ
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১০৪: বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য (deferred dower) একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ - ৩ বছর
সময় গণনা শুরু- মৃত্যু অথবা তালাক দ্বারা যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

৪০০.
জামাল একটি মামলার তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই তার বিপরীত পক্ষকে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকার দিয়ে দেন। নতুন তামাদির মেয়াদ গণনা কবে থেকে শুরু হবে?
  1. মামলার দায়ের তারিখ থেকে
  2. লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের তারিখ থেকে
  3. প্রাপ্তি স্বীকার দাখিলের পরদিন থেকে
  4. তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয়, সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
⇒ লিখিত হতে হবে,
⇒ উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে,
⇒ অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে,
⇒ উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।