বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Limitation Act, 1908

মোট প্রশ্ন১,০৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Limitation Act, 1908

PrepBank · পাতা ১০ / ১১ · ৯০১১,০০০ / ১,০৫৪

৯০১.
নিচে বর্ণিত কোন ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তেই বাড়তে পারে?
  1. নাবালকের ক্ষেত্রে
  2. উন্মাদ ব্যক্তির ক্ষেত্রে
  3. প্রতারণা করার ক্ষেত্রে
  4. অবিরাম চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-

যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

Section 23: Continuing breaches and wrongs
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
৯০২.
রোয়েদাদ (award) নাকচ করার দরখাস্তের তামাদি সময় গণনায় কোন সময় বাদ দিতে হবে?
  1. রায় ঘোষণার দিন
  2. নকল নিতে যে সময় লাগে
  3. মামলার নোটিশের সময়
  4. তামাদি সময় গণনার শুরুর দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।

(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।


(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।


(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।

৯০৩.
বর্তমানে তামাদি আইনের কয়টি ধারা বলবৎ আছে?
  1. ৩২ টি
  2. ২৯ টি
  3. ৩১ টি
  4. ২৮ টি
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।
⇒ আইনটি ১৯০৮ সালের ৭ ই আগস্ট প্রণীত হয়।
⇒ এটি কার্যকর হয় ১৯০৯ সালের ১ লা জানুয়ারী।
⇒ এটি একটি পদ্ধতিগত আইন।
তামাদি আইনের মোট ধারা ৩২ টি , ৩ টি ধারা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে বলবৎ রয়েছে ২৯ টি ধারা।
⇒মোট তফসিল ৩ টি ( ২য় ও ৩য় তফসিল বাতিল করা হয়েছে)। বর্তমানে বলবৎ আছে ১টি তফসিল। 
⇒ তামাদি আইনের ১ম তফসিলে মোট অনুচ্ছেদ রয়েছে ১৮৩ টি।
৯০৪.
তামাদি আইনের ২৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো বিশেষ আইনে তামাদির মেয়াদ নির্ধারণ করা থাকে, তাহলে তামাদি আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৪
  3. ধারা ৯
  4. ধারা ২২
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো বিশেষ আইনে তামাদির মেয়াদ নির্ধারণ করা থাকে, তাহলে তামাদি আইনের ধারা ৩ প্রযোজ্য হবে। ধারা ৩ বলে, যদি কোনো বিশেষ আইন অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ নির্ধারণ করা থাকে, তাহলে সেই বিশেষ আইনটি তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযোজ্য হবে এবং তামাদি আইনের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধান, যেমন ধারা ৪, ৯, ১৮, প্রযোজ্য হবে না যদি সেগুলি বিশেষ আইনে এক্সক্লুড করা না থাকে।

⇒ তামাদি আইনের ২৯ ধারা সংরক্ষণ:
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Limitation Act:- Section- 29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872. 
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law- 
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special  law; and 
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply. 
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act. 
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৯০৫.
তামাদি আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি কত?
  1. ১ মাস
  2. ২ বছর 
  3. ৩ বছর 
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি- ৬ মাস।

⇒ তামাদি আইনের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৯ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হয় ছয় মাসের মধ্যে, এবং এই ছয় মাসের সময়সীমা শুরু হয় যেদিন দখলচ্যুতি (dispossession) ঘটে, সেদিন থেকে। 
- যে কেউ যদি বেআইনিভাবে কাউকে স্থাবর সম্পত্তি (যেমন: জমি-বাড়ি) থেকে দখলচ্যুত করে, তাহলে দখলচ্যুত ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে আদালতে গিয়ে দখল ফেরত চেয়ে মামলা করতে পারবেন।
-------------------
 ⇒ According to Section 3 of the Limitation Act: Under the Specific Relief Act, 1877, section 9, the period of limitation to institute a suit to recover possession of immoveable property is six months. The period of limitation begins from the when the dispossession occurs.

৯০৬.
The Limitation Act, 1908 এ 'Bill of Exchange'-এর সংজ্ঞায় কোনগুলো অন্তর্ভুক্ত?
  1. কেবল হুন্ডি
  2. কেবল প্রমিসরি নোট
  3. কেবল চেক
  4. হুন্ডি ও চেক উভয়ই
ব্যাখ্যা

The Limitation Act, 1908 এর সংজ্ঞাসমূহ (ধারা ২):
এই আইনে, যদি প্রেক্ষাপট বা বিষয়বস্তুর সাথে অসামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে—

১. “আবেদনকারী” (Applicant): আবেদনকারীর মধ্যে সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার কাছ থেকে আবেদনকারী তার আবেদন করার অধিকার লাভ করেছে।

২. “বিল অব এক্সচেঞ্জ” (Bill of Exchange): এর মধ্যে হুন্ডি ও চেক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৩. “বন্ড” (Bond): এমন কোনো দলিল, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যজনকে টাকা পরিশোধ করার অঙ্গীকার করে, এই শর্তে যে, নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদিত হলে বা না হলে (যথাযথ ক্ষেত্রে), সেই অঙ্গীকার অকার্যকর হবে।

৪. “বিবাদী” (Defendant): এর মধ্যে সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার কাছ থেকে কোনো বিবাদী তার দায়-দায়িত্ব অর্জন করেছে, অর্থাৎ যার কারণে তাকে মামলা করা যেতে পারে।

৫. “সুখাধিকার” (Easement): এমন একটি অধিকার যা চুক্তি থেকে উদ্ভূত নয়, কিন্তু যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যের জমি থেকে নিজের স্বার্থে মাটি, গাছপালা বা অন্য কোনো জিনিস অপসারণ করে ব্যবহার করতে পারেন।

৬. “বিদেশি দেশ” (Foreign Country): বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য যেকোনো দেশ।

৭. “সদ্ভাব” (Good Faith): কোনো কাজ যদি যথাযথ যত্ন ও মনোযোগ ছাড়া সম্পাদিত হয়, তবে সেটি সদ্ভাবে (good faith) সম্পাদিত বলে গণ্য হবে না।

৮. “বাদী” (Plaintiff): এর মধ্যে সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার কাছ থেকে মামলাকারী তার মামলা করার অধিকার অর্জন করেছে।

৯. “প্রমিসরি নোট” (Promissory Note): এমন একটি দলিল, যার মাধ্যমে নির্মাতা (maker) নিঃশর্তভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে, অথবা দাবির ভিত্তিতে, অথবা দর্শনের ভিত্তিতে অপর পক্ষকে পরিশোধ করবেন।

১০. “মোকদ্দমা” (Suit): এর মধ্যে আপিল বা আবেদন অন্তর্ভুক্ত নয়।

১১. “ট্রাস্টি” (Trustee): এর মধ্যে বেনামি মালিক (benamider), ঋণ পরিশোধের পরও দখলে থাকা বন্ধকগ্রহীতা (mortgagee), বা অবৈধভাবে দখলকারী (wrong-doer) অন্তর্ভুক্ত নয়।

৯০৭.
হারানো বা আত্মসাৎ করা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮- অনুচ্ছেদ ৪৮- হারানো, চুরি বা অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা ক্ষতিপূরণের মামলা:

প্রযোজ্য ক্ষেত্র: এমন অস্থাবর সম্পত্তি যেটি-
▸ হারিয়ে গেছে,
▸ চুরি হয়েছে,
▸ অসাধুভাবে আত্মসাৎ (dishonest misappropriation) করা হয়েছে,
▸ অন্যায়ভাবে নেওয়া বা আটক রাখা হয়েছে।

মামলার ধরন: উক্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়া বা ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা।
তামাদির মেয়াদ: ৩ বছর;
সময় গণনার শুরু: যেদিন সম্পত্তির অধিকারী প্রথমবার জানতে পারেন যে, ওই সম্পত্তি বর্তমানে কার নিকট আছে।
৯০৮.
তামাদি আইনের ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ২১ ধারায় পক্ষভুক্ত করার ফলাফল দেয়া আছে।
  2. ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল আলোচনা করা হয়েছে।
  3. ১৮ ধারায় প্রতারণার ফলাফল দেয়া আছে।
  4. ১৭ ধারায় মামলা করার অধিকার লাভের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল দেয়া আছে।
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন তৃতীয় অধ্যায় - তামাদির সময় /মেয়াদ গণনা-
ধারা ১২- আইনানুগ কার্যধারায় যে পরিমাণ সময় হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে
ধারা ১৩ - বাংলাদেশ ও অনান্য কয়েকটি এলাকা থেকে বিবাদীর অনুপস্থিতকালীন সময় হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।
ধারা ১৪ - এখতিয়ারবিহীন আদালতের সুউদ্দেশ্যমূলক কার্যক্রমে যে সময় গণনা হতে বাদ দিতে হয়।
ধারা ১৫ - কার্যধারা স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হবে।

ধারা ১৬ - ডিক্রি জারীর বিক্রয় রদ করার কার্যধারা মূলতবী থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হবে।
ধারা-১৭ - মামলা করার অধিকার লাভের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল।
ধারা-১৮ - প্রতারণার ফলাফল।
ধারা-১৯ - লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল।
ধারা ২০ - উত্তর দায় বিষয়ক ঋণ পরিশোধের কিংবা সুদ দেয়ার ফলাফল।

ধারা ২১ - অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি।
ধারা-২২ - নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারো স্থলাভিষিক্ত কিংবা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল।
ধারা-২৩ - অবিরাম চুক্তিভঙ্গ অথবা অন্যায় করা।
ধারা-২৪ - বিশেষ ক্ষতির কারণ না হলে যে কাজের জন্য মামলা করা যায় না তার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা।
ধারা-২৫ - দলিলের উল্লিখিত সময়ের হিসাব।
৯০৯.
তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত তামাদির বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১৪০
  2. ১৪৫
  3. ১৫০
  4. ১৮৩
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধান-দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
৯১০.
একজন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, কিন্তু রায়ের তারিখ থেকে ১০ দিন পার হয়ে গেছে। তামাদি আইনের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অবস্থায় কী হবে?
  1. তিনি স্বাভাবিকভাবে আপিল করতে পারবেন
  2. আপিলের সময়কাল বাড়ানো হবে
  3. তিনি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন
  4. তার আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধান-
দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে,
মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মেয়াদ দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিন। তাই আপিলের সময়সীমা অতিক্রম করেছে, তাই আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
৯১১.
তামাদি আইনের প্রথম তফশিলের কত নং অনুচ্ছেদে অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ দেওয়া আছে?
  1. ৭ অনুচ্ছেদে
  2. ১০ অনুচ্ছেদে
  3. ১৩ অনুচ্ছেদে
  4. ১৭ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফশিলের ১০ অনুচ্ছেদে অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ দেওয়া আছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অগ্রক্রয়ের অধিকার কার্যকর করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১ বছর।
এই মেয়াদ গণনা শুরু হয়:
→ ক্রেতা যদি সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে, তাহলে দখল গ্রহণের তারিখ থেকে।
→ যদি ক্রেতা প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে।

⇒ সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) ১০ অনুচ্ছেদে।
৯১২.
তামাদি আইনে কোনটির সুনির্দিষ্টভাবে তামাদির মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান নেই?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। 

• তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
৯১৩.
মামলার অধিকারী ব্যক্তি অপারগতার মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে, তাহলে তার পক্ষে কে মামলা করতে পারবে?
  1. আদালত
  2. তার আইনজীবী
  3. তার আইনানুগ প্রতিনিধি
  4. মামলা বাতিল হবে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান- বৈধ অপারগতা:
(১) যেক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় কলামে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে যা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হওয়ার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে তা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে তা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।

(৪) যেক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
৯১৪.
তামাদি আইনের কোন ধারায় দলিলে বর্ণিত সময়ের হিসাব করার বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ২১
  2. ২৩
  3. ২৫
  4. ২৭
ব্যাখ্যা
⇒ দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments )- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-----------------
-The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.
৯১৫.
তামাদির মেয়াদ গণনার বিষয়ে বলা হয়েছে কত ধারায়?
  1. ৬ থেকে ১২ ধারা
  2. ১২ থেকে ২৫ ধারা
  3. ৫ থেকে ১২ ধারা
  4. ১২ থেকে ২২ ধারা
ব্যাখ্যা
♠ তামাদি আইনের ১২ থেকে ২৫ ধারা পর্যন্ত তামাদির মেয়াদ/ সময় গণনার বিষয়ে বলা হয়েছে। 
৯১৬.
কোনো জলপথে সুখাধিকার [Easement] অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র ২০ বছর ব্যবহার
  2. নিরবিচ্ছিন্নভাবে ২০ বছর ব্যবহার
  3. নিরবিচ্ছিন্নভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে ২০ বছর ব্যবহার
  4. নিরবিচ্ছিন্নভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে ও অধিকার হিসাবে ২০ বছর ব্যবহার
ব্যাখ্যা
• সুখাধিকার হলাে এমন কোন এক ধরণের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যকোন ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
সুখাধিকার দুইভাবে অর্জন হতে পারে যথা:
১) প্রেসক্রিপশন এর মাধ্যমে (by prescription);
২) সুখাধিকার অর্জন এর মাধ্যমে (by easement) যখন সুখাধিকারসমূহ অর্জন হয়।

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী-

যে ক্ষেত্রে কোন দালানে আলাে বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহত ভাবে ২০ বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভােগ করা হয়েছে এবং  যে ক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নেতিবাচক যাই হােক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে তাতে স্বত্ব দাবী করে অব্যাহতভাবে এবং বিশ (২০) বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভােগ করেছে; সেক্ষেত্রে অনুরূপ আলাে বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার পথ জলস্রোত পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্ঘনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

কিভাবে সুখাধিকার অর্জন করা হয়-
১। কোন দালানে আলাে বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসেবে এবং অধিকার হিসেবে নিরবিচ্ছিন্ন ২০ বছর যাবত শান্তিপূর্ণ ভােগ করার মাধ্যমে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।
২। কোন পথ বা জলস্রোত বা কোন পানির ব্যবহার বা ইতিবাচক-নেতিবাচক সুখাধিকার, যদি সুখাধিকার এবং অধিকার হিসেবে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ২০ বছর যাবত শান্তিপূর্ণ ভােগ করার মাধ্যমে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।

সরকারি কোন সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত অধিকার একনাগাড়ে ৬০ বছর ধরে ভােগ করতে হবে। সরকারি কোন সম্পত্তি ছাড়া অন্যকোন সম্পত্তিতে সুখাধিকার অর্জন করতে হলে উক্ত জমিতে একনাগারে ২০ বছর পরে ভােগ করতে হবে।
৯১৭.
তামাদি আইনের কত ধারার বিধান মতে তামাদির মেয়াদ গণনায় ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার হবে?
  1. ১৫ ধারা
  2. ২২ ধারা
  3. ২৫ ধারা
  4. ২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒তামাদি আইনে ধারা ২৫ উল্লেখ করে,
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর সকল সময় গণনা করা হবে গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জীকা বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে।
------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 25- Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar. 
 
Illustrations 
(a) A Hindu makes a promissory note bearing a Native date only, and payable four months after date. The period of limitation applicable to a suit on the note runs from the expiration of four months after date computed according to the Gregorian calendar. 
(b) A Hindu makes a bond, bearing a Native date only, for the repayment of money within one year. The period of limitation applicable to a suit on the bond runs from the expiration of one year after date computed according to the Gregorian Calendar.
৯১৮.
মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড (False Imprisonment) ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী, মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
৯১৯.
হাইকোর্ট ভিন্ন অন্য যেকোনো ফৌজদারি আপিল আদালতে আপিল করার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ২০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৫৪: ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে হাইকোর্ট ভিন্ন যে কোন আদালতে আপিল -
তামাদি- ৩০ দিন;
সময় গণনা শুরু- যে দণ্ডাদেশ বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।
৯২০.
চুক্তি প্রবলের মোকদ্দমা দায়ের করতে হয় কত বছরের মধ্যে
  1. ১২
ব্যাখ্যা
♦সিডিউল ১, আর্টিকেল ১১৩ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ১২ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে  চুক্তির মেয়াদ হতে বা চুক্তির মেয়াদ না থাকলে চুক্তির সম্পাদন অস্বীকার করার বিষয়ে জানার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে। পূর্বে এই মেয়াদ ৩ বছর ছিলো যা ২০০৪ সালে সংশোধন করা হয়।
৯২১.
ক্ষতিপূরণ মামলার ক্ষেত্রে কখন থেকে মামলার তামাদির মেয়াদ শুরু হয়?
  1. যখন ক্ষতি সাধিত হয়
  2. যখন মামলা করার কারণ উদ্ভব হয়
  3. ক্ষতিকর কাজটি যখন করা হয়
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারায় বলা আছে- কোন ক্ষতি সাধিত না হলে বা কোন মামলা করার কারণ উদ্ভব হবার আগ পর্যন্ত তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে না।
- তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান মতে, যে কাজের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, সে কাজের দরুণ ক্ষতিপূরণ মামলার জন্য যখন ক্ষতি সাধিত হয় তখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
--------------------------
Section 24: Suit for compensation for act not actionable without special damage-
In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results.
৯২২.
তামাদি আইনের কত ধারায় 'Extinguishment of right to property' এর বিধান আছে?
  1. ২৬ ধারার
  2. ২৭ ধারার
  3. ২৮ ধারার
  4. ২৯ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনে ২৬-২৮ ধারায় মালিকানা অর্জনের ২টি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে-
১) সুখাধিকার (Easement)
২) প্রেসক্রিপশন (Law of Prescription)

- তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধানে Adverse possession বা জবর দখলের কথা বলা হয়েছে।
ধারা ২৮ (সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি)-
কোনো সম্পত্তি দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
--------------------
Section 28: Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
৯২৩.
জমি থেকে বেদখল হওয়ার পর কত দিনের মধ্যে স্বত্ব দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে হবে?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুচ্ছেদ ১৪২-

যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।
৯২৪.
Continuing breaches and wrong তামাদি আইনের কত ধারায় আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ২৩
  4. ধারা ২৪
ব্যাখ্যা

Continuing breaches and wrong তামাদি আইনের ২৩ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

তামাদি আইন ১৯০৮,ধারা ২৩,অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় করা: যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতিমুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।

The Limitation Act 1908,Section 23, Continuing breaches and wrongs:
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.

৯২৫.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর কত ধারার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. ৫ ধারা
  2. ২৫ ধারা
  3. ৩৫ ধারা
  4. ৪৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-
- বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা
- চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
- বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে
- সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভূক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
৯২৬.
তামাদি আইনের কোন ধারার বিধান অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের মামলার ক্ষেত্রে 'বৈধ অপারগতা' সংক্রান্ত বিধান প্রযোজ্য নয়?
  1. ৬ ধারার
  2. ৭ ধারার
  3. ৮ ধারার
  4. ৫ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান অনুযায়ী, অগ্রক্রয়ের মামলার ক্ষেত্রে 'বৈধ অপারগতা' সংক্রান্ত বিধান প্রযোজ্য নয়।
- এই ধারা অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলায় তামাদির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বৈধ অপারগতা বা অক্ষমতা (যেমন কোনো কারণে মামলা দায়ের করা সম্ভব না হওয়া) গণনা করা হবে না। অর্থাৎ, তামাদি আইনের ৬ অথবা ৭ ধারার বিধান এই ধরনের মামলায় প্রযোজ্য নয়, এবং অপারগতার সময় পরবর্তী ৩ বছর ছাড়া মেয়াদ বাড়ানো যাবে না।

⇒ তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম: ৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

উদাহরণ:
(ক) ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।
----------------
⇒ The Limitation Act:- Section 8: Special exceptions:
- Nothing in section 6 or in section 7 applies to suits to enforce rights of pre-emption, or shall be deemed to extend, for more than three years from the cessation of the disability or the death of the person affected thereby, the period within which any suit must be instituted or application made.
৯২৭.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী, যদি দায় স্বীকার করে লিখিত স্বীকারোক্তি করা হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে—
  1. পূর্ববর্তী সময়সীমা কার্যকর থাকে
  2. মামলার গ্রহণযোগ্যতা বাতিল হয়
  3. মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়
  4. নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী, যদি তামাদি সময়সীমার মধ্যে দায় স্বীকার করে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত স্বীকারোক্তি প্রদান করা হয়, তাহলে উক্ত স্বীকারোক্তির তারিখ থেকেই নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ ধারা-১৯: লিখিত স্বীকারোক্তির প্রভাব:
(১) কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত মামলার বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পূর্বে, যদি সেই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে কোনো স্বীকারোক্তি করা হয় এবং তা সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে, বা এমন কারো দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার মাধ্যমে সে ব্যক্তি ঐ অধিকার বা দায়িত্ব অর্জন করেছে—তাহলে, ঐ স্বীকারোক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় থেকে নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
(২) যদি স্বীকারোক্তিপত্রে তারিখ উল্লেখ না থাকে, তবে তা কখন স্বাক্ষরিত হয়েছে সে বিষয়ে মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করা যাবে; তবে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর বিধান সাপেক্ষে, সেই স্বীকারোক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
ব্যাখ্যা-১: এই ধারার উদ্দেশ্যে, একটি স্বীকারোক্তি যথেষ্ট বলেই বিবেচিত হবে, যদিও তাতে সম্পত্তি বা অধিকারটির প্রকৃত প্রকৃতি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না থাকে, বা তাতে বলা হয়ে থাকে যে অর্থ প্রদান, প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের সময় এখনো আসেনি, কিংবা অর্থ প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের অনুমতি দেওয়ার অস্বীকৃতির সাথে যুক্ত থাকে, অথবা তা যদি সেট-অফ দাবির সাথে যুক্ত থাকে, এমনকি যদি তা সম্পত্তি বা অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করেও লেখা হয়।
ব্যাখ্যা-২: এই ধারার উদ্দেশ্যে "স্বাক্ষর" বলতে নিজ হাতে স্বাক্ষর বা যথাযথভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্বাক্ষর বোঝানো হয়।
ব্যাখ্যা-৩: এই ধারার উদ্দেশ্যে, ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার দরখাস্তকে একটি অধিকার সংক্রান্ত দরখাস্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-19. Effect of acknowledgement in writing:
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed.
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received.
Explanation I - For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right.
Explanation II - For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf.
Explanation III - For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৯২৮.
তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে তামাদি আইনের তফসিলে কোন বিধান না থাকলে তখন মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ২ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়। ঘোষণামূলক মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় হতে ৬ বছরের মধ্যে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে হবে।
৯২৯.
তামাদি আইন অনুযায়ী চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবৎ করণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি চুক্তি বলবৎ করানোর উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা করতে চান, তবে তাকে উক্ত চুক্তির লঙ্ঘন বা ভঙ্গের পরবর্তী ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে মামলা অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে।
৯৩০.
'খ' কর্তৃক দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমায় পরবর্তীতে 'গ' কে পক্ষভুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে 'গ' এর তামাদির মেয়াদ কখন শুরু হবে?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণের পর থেকে
  2. বিচার্য বিষয় গঠনের সময় থেকে
  3. 'খ' যখন আরজি দাখিল করেছিল তখন থেকে
  4. 'গ' কে যখন পক্ষভুক্ত করা হয়েছে তখন থেকে
ব্যাখ্যা
• ধারা ২২: নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।

(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবী থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

Section 22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.

(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
৯৩১.
আপিল করার অনুমতি (Leave to Appeal) দিতে অস্বীকার করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার তামাদি মেয়াদ তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১৫৭
  2. ১৫২
  3. ১৫৩
  4. ১৫৪
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫৩ এর বিধান: অধীনস্ত কোন আদালত আপীল বিভাগে লিভ-টু-আপীল প্রত্যাখ্যানের কোন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপীলের তামাদি মেয়াদ আদেশের তারিখ হতে ৩০ দিন।
তামাদি আইনের ১৫৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে আপিল করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল (Leave to Appeal) করার তামাদি মেয়াদ ৩০ দিন।

-অর্থাৎ আপিল করার অনুমতি (Leave to Appeal) দিতে অস্বীকার করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার তামাদি মেয়াদ তামাদি আইনের ১৫৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।
৯৩২.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদ কোন অনুচ্ছেদ থেকে শুরু?
  1. ১৪৯
  2. ১৫০
  3. ১৫৮
  4. ১৬০
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে তিনটি বিভাগ রয়েছে:
১. প্রথম বিভাগ – মামলা (Suit) – অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. দ্বিতীয় বিভাগ – আপীল (Appeal) – অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. তৃতীয় বিভাগ – দরখাস্ত (Application) – অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

- অর্থাৎ দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদ  থাকে অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ তে।
- তাই দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদের শুরু হয় অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে।

- সুতরাং, সঠিক উত্তর: অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে।
৯৩৩.
সুনির্দিষ্টভাবে তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই কোন বিষয়ে?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♣♣  
• তামাদি আইনে দেওয়ানি মামলা, আপিল, রিভিউ করার বিষয়ে সময়ের উল্লেখ থাকলেও;
• রিভিশনের ব্যপারে সুনির্দিষ্টভাবে তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই।
৯৩৪.
হোটেল, সরাইখানা (tavern) বা অতিথিশালার রক্ষক কর্তৃক বিক্রিত খাদ্য বা পানীয় দ্রব্যের মূল্য আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৮ অনুসারে বলা হয়েছে:
- "For the price of food or drink sold by the keeper of a hotel, tavern or lodging-house – One year.
- Time starts from: When the food or drink is delivered."

- অর্থাৎ, কোনো হোটেল, সরাইখানা বা অতিথিশালার রক্ষক যখন খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য সরবরাহ করেন, তখন সরবরাহের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মূল্য আদায়ের জন্য মামলা করতে হবে। অন্যথায় মামলা তামাদি হয়ে যাবে।
৯৩৫.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ কোন অনুচ্ছেদ থেকে শুরু?
  1. ১ অনুচ্ছেদ
  2. ১৪৯ অনুচ্ছেদ
  3. ১৫০ অনুচ্ছেদ
  4. ১৫৮ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ শুরু হয় অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে তিনটি বিভাগ রয়েছে:

১. প্রথম বিভাগ – অনুচ্ছেদ (১-১৪৯)
বিষয়: মামলা (Suit) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।

২. দ্বিতীয় বিভাগ – অনুচ্ছেদ (১৫০-১৫৭)
বিষয়: আপীল (Appeal) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।

৩. তৃতীয় বিভাগ  অনুচ্ছেদ (১৫৮-১৮৩)
বিষয়: দরখাস্ত (Applications) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।

অর্থাৎ আপীল দায়েরের তামাদি মেয়াদ থাকে অনুচ্ছেদ (১৫০-১৫৭) তে।
তাই আপীল দায়েরের  তামাদি মেয়াদের শুরু হয় অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর: অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে।

৯৩৬.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬ ধারার বিধান অপ্রযোজ্য?
  1. মোকদ্দমা দায়ের
  2. ডিক্রি জারি
  3. আপিল
  4. ক ও খ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতা-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার কিংবা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় কলামে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে যা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হওয়ার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হওয়ার পর, অপারগতা না থাকলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে তা করতে পারতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করতে পারবে।

(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে তা করা যেতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করতে পারবে।

(৪) যেক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা শুধু মোকদ্দমা, কার্যক্রম কিংবা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৯৩৭.
যদি কোনো ব্যক্তি গরহাজিরার কারণে মামলার খারিজ আদেশ বাতিল করতে চান, তবে সময় গণনা শুরু হবে-
  1. আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে
  2. খারিজ আদেশের তারিখ থেকে
  3. সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ থেকে
  4. খারিজ আদেশ সম্পর্কে অবগত হওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ-১৬৩
হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বা গরহাজিরার ফলে [default of appearance] বা সমন জারীর খরচ জমা না দেওয়ার জন্য অথবা খরচার জামানত দাখিল না করার জন্য মামলা খারিজ আদেশ বাতিল করার জন্য দরখাস্ত [to set aside an order of dismissal]

তামাদি- ৩০ দিন।
সময় গণনা শুরু -খারিজ হওয়ার তারিখ হতে।
৯৩৮.
সুখাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি কারো বেসরকারি সম্পত্তিতে ২০ বছর বা সরকারি সম্পত্তিতে ৬০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ ও প্রকাশ্যভাবে কোনো সুখাধিকার ভোগ করে থাকেন (যেমন আলো, বাতাস, রাস্তা, পানি ইত্যাদি), এবং অধিকার বলে ভোগ করে থাকেন, তবে তিনি ঐ সুখাধিকারের উপর আইনি অধিকার দাবি করতে পারবেন।
তবে, এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০ বা ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।
 অর্থাৎ, বেসরকারি জমির ক্ষেত্রে: ২০ বছর ভোগ + ২ বছর সময়সীমা (তামাদি মেয়াদ)।
- সরকারি জমির ক্ষেত্রে: ৬০ বছর ভোগ + ২ বছর সময়সীমা।
- যদি এই ২ বছরের মধ্যে মামলা না করা হয়, তাহলে আর সুখাধিকার প্রতিষ্ঠার আইনি সুযোগ থাকবে না।

⇒ তামাদি আইনের ২৬ ধারার বিধান: সুখাধিকার সমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements):
(১) যেইক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবে এবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছে,
এবং যেইক্ষেত্রে কোন পথ বা জলস্রোত অথবা কোন পানির ব্যবহার অথবা অন্য যে কোন সুখাধিকার (ইতিবাচক, নৈতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোন ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকার হিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য কোন সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোন মামলায় উক্তরূপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্ত উভয় ক্ষেত্রেই বিশ বৎসর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত বিশ বৎসর বুঝাইবে।
(২) যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ষাট বৎসর কথাগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

ব্যাখ্যা: এই ধারার অর্থানুসারে কোন কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোন লোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগে প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া না লওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভূত হইবার পর এক বৎসর অতিবাহিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) পথ চলার অধিকারে বাধা প্রদানের জন্য ১৯১১ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিবাদী বাধা প্রদানের কথা স্বীকার করে কিন্তু পথ চলার অধিকারের প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। বাদী প্রমাণ করে যে, সে এই অধিকার ১৮৯০ সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহতভাবে উহাতে সুখাধিকার হিসাবে স্বত্ব দাবি করিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে। বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাইবার অধিকারী।
(খ) অনুরূপ এক মামলায় বাদী দাবি করে যে, সে এই অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে বিশ বৎসর যাবত ভোগ করিয়াছে, বিবাদী প্রমাণ করে যে, ঐ বিশ বৎসরের মধ্যে বাদী একবার এই অধিকার ভোগের জন্য তাহার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছিল। মামলাটি খারিজ হইয়া যাইবে।
৯৩৯.
তামাদি আইনের কত ধারায় নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ধারা ১৩
  2. ধারা ১৭
  3. ধারা ১৬
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১৬ ধারা নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে বলা আছে-

’ডিক্রি জারির জন্য কোন সম্পত্তি বিক্রয়’ অর্থাৎ নিলাম বিক্রয় রদ করার জন্য মামলা দায়ের করা হলে, মামলা যতদিন চলবে সেই সময় নিলাম গ্রহিতার বা যিনি নিলাম কিনেছেন তার উক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করার প্রয়োজন হলে নিলাম রদ করার মামলায় যে সময় ব্যয় হয়েছে, তা তামদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

Section 16: Exclusion of time during which proceedings to set aside execution-sale are pending
In computing the period of limitation prescribed for a suit for possession by a purchaser at a sale in execution of a decree, the time during which a proceeding to set aside the sale has been prosecuted shall be excluded.
৯৪০.
তামাদি আইনের কোন ধারায় দলিলে বর্ণিত সময়ের হিসাব করার বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ২১
  2. ২৫
  3. ২৭
  4. ২২
ব্যাখ্যা
⇒ দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments )- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-----------------
-The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
-All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.
৯৪১.
বংশগত পদ (hereditary office) দখল করার জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
- এই মেয়াদ বিবাদী যখন বাদীর প্রতিকূলে পদটি দখল করে সেই তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
- পদ দখল করার তারিখ বলতে সেই তারিখকে বোঝায় যখন বিবাদী বাদীর অধিকার লঙ্ঘন করে বংশগত পদটি দখল করে।
- এই তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।


৯৪২.
'ক' নাবালক থাকাবস্থায় স্বত্বের মামলা করার অধিকারী হয়। এর ১১ বছর পর 'ক' সাবালক হয়। এই ক্ষেত্রে 'ক' অতিরিক্ত কত বছর সময় পাবে?
  1. ২ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৮ অনুসারে- যে মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তা কোনো কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করেছে বলে গণ্য হবে না।
♦ সাধারণত স্বত্বের মামলার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর,  যেহেতু ক ১১ বছর পর সাবালক হয়েছে ও মামলা করার অধিকারী হয়েছে। আইনগত ভাবে মামলা করার শুধু মাত্র এক বছর সময় বাকি থাকে।
♦ কিন্তু তামাদি আইনের ৮ ধারার বিশেষ ব্যতিক্রম অনুযায়ী আইনগত অপারগতা অবসান হওয়ার পর মামলা করার জন্য তিন বছর সময় পাবে । অর্থাৎ সাবালক হওয়ার পরে ক মামলা করার জন্য মোট  তিন বছর সময় পাবে। এক্ষেত্রে ক তার স্বত্বের অধিকারের মামলার এক বছর মেয়াদের সাথে অতিরিক্ত  দুই বছর সময় বেশি পাবে ।

বি:দ্র: ৮ ধারার উদাহরণ: (ক)
⇒ 'ক' নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১ বৎসর পর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্ৰ অবশিষ্ট এক বৎসর সময় পায়। কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বৎসর অতিরিক্ত সময় পাইবে। অর্থাৎ সাবালক হইবার পর তিন বৎসরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে৷
৯৪৩.
পাওনা অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দাখিলের তামাদি কত?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
 ♦ তামাদি আইনের ৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  পাওনা অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দাখিলের তামাদি হল ৩ বছর।
৯৪৪.
কোন মামলার ক্ষেত্রে তামাদি মওকুফ হবে না?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. স্বত্ব ঘোষণা
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনে ক্ষেত্র বিশেষে সময় বৃদ্ধিকরণ শিরোনামে ৫ ধারায় ৫টি ক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে। শুধু এ ৫ ক্ষেত্রেই এ ধারার বিধান প্রয়োগযোগ্য। ৫ ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রেই এ ধারা প্রয়োগ হবে না।  ৫ ধারার মূল বিধান হচ্ছে- যথেষ্ট কারণ প্রমাণ  সাপেক্ষে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত নিজের ইচ্ছাধীন ক্ষমতায় ৫ ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফ করতে পারে।
♦৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য হয়
১. আপিল [ Appeal ]
২. আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত [Leave to Appeal]
৩. রিভিউ [Review]
৪. রিভিশন [ Revision ]
৫. অন্য যেকোনো দরখাস্তে;
♦৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য হয় না: যেমন-স্বত্ব ঘোষণা, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অধিকার ঘোষণা (সম্পত্তিতে)।
♦অর্থাৎ ধারা ৫ অনুযায়ী ৫ টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। এটিকে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে। ৫ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও আদালত বিলম্ব মওকুফের আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তাই কোন পক্ষ অধিকার হিসেবে ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফ করে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবে না।
৯৪৫.
তামাদি আইনের ১৫২ এবং ১৫৬ অনুচ্ছেদে কোন আইন সংশ্লিষ্ট আপিলের বিধান রয়েছে?
  1. দণ্ডবিধি
  2. দেওয়ানী কার্যবিধি
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি
  4. বিশেষ ক্ষমতা আইন
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে আপিল তামাদি আইনের ১৫২ এবং ১৫৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী করতে হয়।

অনুচ্ছেদ- ১৫২:
১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসারে জেলা জজের আদালতে আপিল:
তামাদি- ৩০ দিন;
সময় গণনা শুরু- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।

অনুচ্ছেদ- ১৫৬:
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন, ১৫১ ও ১৫৩ অনুচ্ছেদে যে সকল মোকদ্দমা সম্পর্কে বিধান আছে সেগুলি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল:
তামাদি- ৯০ দিন;
সময় গণনা শুরু- যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে।
৯৪৬.
Limitation under Article 120 of First Schedule begins-
  1. From the date of filing
  2. From the date of notice
  3. From the date of decree
  4. When the right to sue accrues
ব্যাখ্যা

Article 120 – First Schedule (Limitation Act, 1908)
Suit for which no period of limitation is provided elsewhere in this schedule- Six years from when the right to sue accrues. 

তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ এই তফসিলে উল্লেখ নেই, সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

৯৪৭.
তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুসারে কোন ধরনের সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে?
  1. সরকারী কার্যের অংশ হিসেবে বিবাদী যে সময় দেশের বাইরে থাকে 
  2. এখতিয়ারবিহীন আদালতে ব্যয়িত সময় 
  3. আইনগত কার্যধারায় ব্যয়িত সময়
  4. যথেষ্ট কারণে ব্যয়িত সময়
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
---------
Exclusion of time in legal proceedings:
12. (1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded.
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded.
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded.
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.

৯৪৮.
'ক' ১৫ বছর বয়সে মোকদ্দমা দায়েরের অধিকারী হয় কিন্তু এক বছরের মধ্যে সে উন্মাদ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে 'ক' এর বিরুদ্ধে কখন তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে?
  1. নাবালকত্ব শেষ হওয়ার পর
  2. আইনগত প্রতিনিধি থাকলে তৎক্ষণাৎ
  3. মানসিক ভাবে সুস্থ হওয়ার পর
  4. উভয় অপারগতা শেষ হবার পর
ব্যাখ্যা

• তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে। যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।

যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।

তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।

৯৪৯.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৭ কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?
  1. মোকদ্দমার অধিকার সৃষ্টির পরে মৃত্যু ঘটলে
  2. অধিকার জন্মের পরে মামলা দায়েরে বিলম্ব হলে
  3. মোকদ্দমার অধিকার সৃষ্টির আগেই মৃত্যু ঘটলে
  4. উল্লিখিত কোন ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারার বিধান- অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল:-
কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

এই ধারার ব্যতিক্রম হলো- অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।
৯৫০.
বিশেষ আইনের অধীন কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে তামাদি আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ৪ ধারা
  2. ২২ ধারা
  3. ৯-১৮ ধারা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ এ বলা আছে-
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন
-বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
----------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৯৫১.
কোন ক্ষেত্রে তামাদির বিধান প্রযোজ্য নয়-
  1. দেওয়ানি মোকদ্দমায়
  2. যেকোনো ফৌজদারি মামলায়
  3. ফৌজদারি মূল মামলায়
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী মূল মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য না কিন্তু কিছু বিশেষ ফৌজদারী কার্যক্রম যেমন ফৌজদারী আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ মূল ফৌজদারী মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সময় নেই।
৯৫২.
তামাদি আইন অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি কখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনার সুবিধা পাবে?
  1. মামলার ফাইল করার দিন থেকে
  2. প্রতারণার বিষয় জানার দিন থেকে
  3. প্রতারণা সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে
  4. আদালতে অভিযোগ করার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে তার অধিকার সম্পর্কে জানতে না পারেন অথবা যদি তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় দলিল প্রতারণার মাধ্যমে গোপন রাখা হয়, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে সেদিন থেকে, যেদিন তিনি প্রথম প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন, অথবা যেদিন তিনি গোপন দলিল উপস্থাপন করতে পারেন বা অন্য পক্ষকে বাধ্য করতে পারেন উপস্থাপন করার জন্য।

⇒ তামাদি আইনের ১৮ ধারার বিধান প্রতারণার ফলাফল- যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয়। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত সেই বিষয় জানতে দেওয়া হয়নি অথবা যেক্ষেত্রে উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে দলিল প্রয়োজনীয়, তা প্রতারণা করে তার নিকট হতে গোপন রাখা হয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে-
(ক)প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্যভাবে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমে স্বত্ব দাবি করে তার বিরুদ্ধে-
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন হতে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেদিন দলিলটি উপস্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে তা উপস্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন হতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
- যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে, সেদিন থেকে অথবা দলিল গোপন করা হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম যেদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দলিলটি উত্থাপন করতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উত্থাপন করার জন্য বাধ্য করতে পারে, সেদিন থেকে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 18: Effect of fraud:
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
৯৫৩.
চুক্তি রদের মামলা করতে হবে ১ বছরের মধ্যে - তামাদি আইনের কোথায় বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৪
  2. অনুচ্ছেদ ১১৩
  3. অনুচ্ছেদ ১৫
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৪ অনুযায়ী যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি রদ করার অধিকার প্রদান করে সেই বিষয়ে বাদী যে দিন থেকে অবগত হয় সে দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা কতে হবে।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তি প্রত্যাহার করার মামলা করা হয়।
৯৫৪.
যদি চলমান মামলায় নতুন বাদী বা বিবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে তাদের জন্য মামলাটি কবে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে?
  1. সাক্ষ্যগ্রহণের দিন
  2. পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন
  3. মামলার মূল দায়েরের তারিখ
  4. আদালতের রায় ঘোষণার দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২(১) অনুযায়ী: "Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party."
অর্থাৎ, যদি চলমান মামলায় নতুন করে বাদী বা বিবাদী যুক্ত করা হয়, তাহলে সেই নতুন ব্যক্তির জন্য মামলাটি যেদিন তাকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে ধরা হবে।
- তবে একটি ব্যতিক্রম: ধারা ২২(২) বলছে, যদি কাউকে স্বত্ব হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারসূত্রে পক্ষভুক্ত করা হয়, তাহলে তার জন্য মামলার মূল দায়েরের তারিখই প্রযোজ্য হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২ অনুযায়ী, যখন একটি চলমান মামলায় নতুন কোনো পক্ষ—বাদী বা বিবাদী—স্থলাভিষিক্ত বা অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন সেই নতুন পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে মামলাটি দায়ের হয়েছে বলে ধরা হবে যেদিন তাকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে, অর্থাৎ: "পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন" থেকে মামলার তামাদি গণনা শুরু হবে নতুন পক্ষের জন্য।

উদাহরণ:
ধরুন, মামলাটি মূলত ১ জানুয়ারি ২০২০ সালে দায়ের হয়েছে। কিন্তু ১ জুন ২০২৩-এ মামলায় নতুন একজন বিবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
 তখন নতুন বিবাদীর দৃষ্টিকোণ থেকে মামলাটি ১ জুন ২০২৩ থেকে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে।

ব্যতিক্রম (ধারা ২২ অনুসারে):
যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্ব হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ পক্ষভুক্ত হয় (যেমন সম্পত্তি ট্রান্সফার হয়েছে), তখন সেই নতুন ব্যক্তির জন্য মামলাটি মূল দায়েরের তারিখ থেকেই ধরে নেওয়া হবে। কিন্তু এটি সাধারণ পক্ষভুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অর্থাৎ,  সাধারণ পক্ষভুক্তির ক্ষেত্রে → পক্ষভুক্তির দিন থেকে তামাদি গণনা। স্বত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে → মূল দায়েরের দিন থেকে গণনা।
- সঠিক উত্তর: খ) পক্ষভুক্ত হওয়ার দিন।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.
৯৫৫.
তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত তামাদির বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১৪৫
  2. ১৫০
  3. ১৫৫
  4. ১৭৫
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধান-দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৫০ অনুচ্ছেদে দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত তামাদির বিধান বর্ণিত আছে।
৯৫৬.
বকেয়া সরকারী রাজস্ব আদায়ের জন্য স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ইজারা বা হস্তান্তর রদ করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী, বকেয়া সরকারী রাজস্ব আদায়ের জন্য স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ইজারা বা হস্তান্তর রদ করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর। এই মেয়াদ ক্রোক, ইজারা বা হস্তান্তর করার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
৯৫৭.
তামাদি আইনের ১৭ ধারা অনুসারে, নিচের কোন মোকদ্দমা এই ধারার আওতায় পড়ে না?
  1. অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা
  2. স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা
  3. বংশগত পদের মোকদ্দমা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবকটি।
⇒ তামাদি আইনের ১৭ ধারা অনুসারে, সাধারণত যদি কোনো ব্যক্তি মোকদ্দমা দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকার সৃষ্টির আগেই মারা যায়, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হবে মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি যোগ্য হওয়ার দিন থেকে। একইভাবে, যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়েরের অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হবে মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি যোগ্য হওয়ার দিন থেকে।
তবে এই ধারার কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। নিম্নলিখিত মোকদ্দমাগুলো এই ধারার আওতায় পড়ে না:
ক) অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা
খ) স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা
গ) বংশগত পদের মোকদ্দমা
এই মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনার জন্য ১৭ ধারা প্রযোজ্য হবে না।

→ ১৭ ধারা সাধারণ মোকদ্দমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখল এবং বংশগত পদের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
এই ব্যতিক্রমগুলো তামাদি আইনের ১৭ ধারার উপধারা (৩) এ উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) উপরের সবকটি।
৯৫৮.
তামাদি আইনের ১৪ ধারা প্রযোজ্য হয়-
  1. মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  2. রিভিশনের ক্ষেত্রে
  3. রেফারেন্সের ক্ষেত্রে
  4. উল্লিখিত সব ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন ১৪ ধারার বিধান: এখতিয়ারবিহীন আদালতে সদুদ্দেশ্যমূলক কার্যধারায় যেই সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে’ 
১৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, এখতিয়ারবিহীন কোনো আদালতে যদি মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, তবে সেই আদালতে মোকদ্দমাটি করার জন্য যে সময় ব্যয় করা হয় তা মূল গণনা থেকে বাদ যাবে। তবে এক্ষেত্রে ৩টি বিষয় প্রমাণ করতে হবে যেমন,
১. বাদীর সদবিশ্বাস,
২. মোকদ্দমার কারণের অভিন্নতা, মানে, এখতিয়ারবিহীন আদালতে যে কারণে মোকদ্দমা করা হয়েছিলো পরবর্তীতে ঠিক একই কারণে এখতিয়ারাধীন আদালতে মোকদ্দমা করা হয়েছে বা হচ্ছে; এবং
৩. প্রথমে যেই আদালতে মোকদ্দমা করা হয়েছিলো, সেই আদালতের সেই মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ারের অপর্যাপ্ততা বা অনুপস্থিতি।

১৪ ধারার বিধান শুধু উপধারা ১ অনুসারে স্যুট বা মোকদ্দমা এবং উপধারা ২ অনুসারে দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। মোকদ্দমা দায়েরের পর যদি আরজি ফেরত দেওয়া হয় এবং ইতিমধ্যে তামাদির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তাহলে এখতিয়ারবান আদালতে পুনরায় আরজি দাখিলের ক্ষেত্রে আরজির সাথে তামাদি আইনের ১৪ ধারায় বিলম্ব মওকুফের আবেদন করতে হবে।
৯৫৯.
নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে তামাদি আইনের কত ধারায় বলা আছে?
  1. ধারা ১৩
  2. ধারা ১৬
  3. ধারা ১৭
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৬ ধারা নিলাম বিক্রয় সম্পর্কে বলা আছে-
’ডিক্রি জারির জন্য কোন সম্পত্তি বিক্রয়’ অর্থাৎ নিলাম বিক্রয় রদ করার জন্য মামলা দায়ের করা হলে, মামলা যতদিন চলবে সেই সময় নিলাম গ্রহীতার বা যিনি নিলাম কিনেছেন তার উক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করার প্রয়োজন হলে নিলাম রদ করার মামলায় যে সময় ব্যয় হয়েছে, তা তামাদি মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
-----------------------------
⇒ Section 16: Exclusion of time during which proceedings to set aside execution-sale are pending:
In computing the period of limitation prescribed for a suit for possession by a purchaser at a sale in execution of a decree, the time during which a proceeding to set aside the sale has been prosecuted shall be excluded.
৯৬০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর ধরা হয়। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে। অর্থাৎ, যখন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার বা দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দরখাস্ত আদালতে দাখিল করতে হবে।

→ উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির জমি দখল বা সম্পত্তি সম্পর্কিত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দরখাস্ত আদালতে দাখিল করতে হবে। যদি এই সময়সীমা অতিক্রম করে যায়, তাহলে দরখাস্তটি তামাদির কারণে বাতিল হয়ে যেতে পারে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) ৩ বছর।
৯৬১.
হাসান তার বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়। তামাদি আইনের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাসানের মামলা কত বছরের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. ১২ বছর
  2. ২৪ বছর
  3. ৪৮ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৮:
বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি খালাস করার জন্য বা দখল পুনরুদ্ধারের [redeem] জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা;
তামাদি- ৬০ বৎসর;
তামাদি শুরু - যখন সম্পত্তি খালাস করার বা দখল পুনরুদ্ধার করার অধিকার উদ্ভব হয়।
৯৬২.
কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য নয়?
  1. দেওয়ানি মোকদ্দমা
  2. যে কোন ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমে
  3. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ক্ষেত্রে
  4. মূল ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমে
ব্যাখ্যা
- তামাদি আইনের বিধান: 
⇒ দেওয়ানি সকল মোকদ্দমায় এবং ফৌজদারি আপিল, রিভিশনে তামাদির বিধান প্রযোজ্য।
⇒ তবে ফৌজদারি মোকদ্দমা যে কোন সময় দায়ের করা যায়, তাই তামাদির বিধান ফৌজদারি মূল মোকদ্দমায় প্রযোজ্য নয়।
⇒ তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে পাঁচটি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে; সেগুলো হলো: আপিল, আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত, রিভিউ, রিভিশন, অন্য কোন আবেদন।  
⇒ এখানে মূল মামলার মেয়াদ বৃদ্ধি করার সুযোগ নাই, তাই বলা যায় যে মূল ফৌজদারি মোকদ্দমায় তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য নয়।

অর্থাৎ মূল ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমে ক্ষেত্রে তামাদি আইনের বিধান প্রযোজ্য নয়, তবে ফৌজদারি আপিল, রিভিশনে তামাদির বিধান প্রযোজ্য।
৯৬৩.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর কোন অনুচ্ছেদে রিভিউ দায়েরের সময়সীমা নির্ধারিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৭৬
  2. অনুচ্ছেদ ১৭৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৭৩
  4. অনুচ্ছেদ ১২৩
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩ (Article 173)-এ রিভিউ (Review) আবেদন দায়েরের সময়সীমা নির্ধারিত আছে। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছে, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশ জারির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন দায়ের করতে হয়।
- অর্থাৎ যে আদালত ডিগ্রি প্রদান করে সেই আদালতে তামাদি আইনের ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউর আবেদন দায়ের করতে হবে। 

৯৬৪.
একটি ডিক্রি কার্যকর করতে গিয়ে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা হয়। বিক্রয়টি রদের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ কতদিনের মধ্যে দরখাস্ত করতে পারবেন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬৬:
ডিক্রি জারিতে বিক্রয় রদ করার জন্য দরখাস্ত [to set aside a sale in exceution of a decree]:
তামাদি- ৩০ দিন।
সময় গণনা শুরু-নিলাম বিক্রয়ের তারিখ হতে।
৯৬৫.
যে সকল দরখাস্তের জন্য তামাদি আইনে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই, সেগুলোর তামাদি মেয়াদ তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮০
  2. অনুচ্ছেদ ১৮১
  3. অনুচ্ছেদ ১৮২
  4. অনুচ্ছেদ ১৮৩
ব্যাখ্যা
→ তামাদি আইনে যেসব দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই, সেগুলোর তামাদি মেয়াদ তামাদি আইনের ১৮১ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৮১ বিধান:
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অন্য কোথাও বা দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৮ ধারায় যে সব দরখাস্ত সম্পর্কে কোন বিধান নাই সেইসব দরখাস্ত দায়েরের তামাদি মেয়াদ দরখাস্ত করার অধিকার উদ্ভব হওয়ার দিন থেকে ৩ বছর।
৯৬৬.
মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হওয়ার পর অপারগতা দেখা দিলে-
  1. তামাদি মেয়াদ চলতে থাকবে
  2. তামাদি মেয়াদ বন্ধ থাকবে
  3. অপারাগতা থাকাকালীন সময় মামলা করা যাবে
  4. তার পক্ষে অন্য কেউ মামলা চালাবে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৯ ধারায় 'সময়ের অবিরাম চলন বা Continuous running of time-এর বিধান রয়েছে। ৯ ধারামতে তামাদির সময় একবার চলতে শুরু করলে পরবর্তীকালীন কোন আইনগত অক্ষমতা বা অপরাগতা একে থামাতে পারে না।
৯৬৭.
মামলা করার অধিকার সৃষ্টির পূর্বেই সংশ্লিষ্টব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার আইনানুগ উত্তরাধিকারী মামলা করার যোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে তামাদি গণনা শুরু হবে। এই বিধানের ব্যতিক্রম হলো ________ মামলা।
  1. টাকার দাবীর
  2. পথাধিকারের দাবীর
  3. অগ্রক্রয়ের
  4. স্বত্ব ঘোষনার দাবীর
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৮ ধারায় বিশেষ ব্যতিক্রমঃ ৬ অথবা ৭ ধারার কোনো কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোনো কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।
♦ তামাদি আইনের ৮ ধারামতে আইনগত অক্ষমতা শেষ হওয়ার পর তিন (৩) বছর অতিবাহিত হলে তামাদি মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আইনগত অক্ষমতা শেষ হওয়ার তিন বছর পর মামলা করলে উক্ত মামলা খারিজ হবে।
৯৬৮.
তামাদি আইনের ৬ ধারার বিধান কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. বাদীর
  2. বিবাদীর
  3. সাক্ষীর
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে। যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।

যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।

তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।
৯৬৯.
চুক্তি আইনের কোন ধারার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. ৫ ধারার ক্ষেত্রে
  2. ১৫ ধারার ক্ষেত্রে
  3. ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
  4. ৩৫ ধারার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
 ⇒ তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-

⇒ বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা
⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
⇒ বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে
⇒ সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভূক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
-------------
The Limitation Act, 1908 Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872. 
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law- 
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and 
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply. 
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act. 
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৯৭০.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৬৬ অনুচ্ছেদে কোন বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে?
  1. ডিক্রি জারীতে বিক্রয় রদ করার দরখাস্ত দাখিলের
  2. বিবাদী কর্তৃক একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ লাভের দরখাস্ত দাখিলের
  3. ডিক্রি জারীতে কোন স্থাবর সম্পত্তির দখল অর্পণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ দায়েরের
  4. দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর অধীন বেদখল হওয়া সম্পত্তি থেকে দখলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দরখাস্ত দাখিলের
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৬৬:

বিষয়: ডিক্রি জারীতে বিক্রয় রদ করার জন্য দরখাস্ত [to set aside a sale in exceution of a decree]
মেয়াদ- ৩০ দিন;
গণনা শুরু - নিলাম বিক্রয়ের তারিখ হতে।

অপরদিকে,

অনুচ্ছেদ-১৬৪
- বিবাদী কর্তৃক একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ লাভের জন্য দরখাস্ত [to set aside an order of exparte decree];
- ৩০ দিন;
- ডিক্রির তারিখ অথবা যে ক্ষেত্রে সমন যথারীতি জারী হয়নি, সেক্ষেত্রে দরখাস্তকারী যখন ডিক্রির বিষয় অবগত হয়।

অনুচ্ছেদ-১৬৫
- দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর অধীন বেদখল হওয়া সম্পত্তি থেকে দখলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দরখাস্ত;
- ৩০ দিন;
- বেদখল হওয়ার তারিখ থেকে।

অনুচ্ছেদ-১৬৭
- ডিক্রিমূলে প্রাপ্ত অথবা ডিক্রি জারীতে কোন স্থাবর সম্পত্তির দখল অর্পণে বাধাদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ;
-৩০ দিন;
-বাধাদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির তারিখ হতে।
৯৭১.
মৃত বিবাদীর উত্তরাধিকারীকে পক্ষভুক্ত করার তামাদি সময় গণনা শুরু হয় কখন?
  1. ডিক্রি ঘোষণার দিন থেকে
  2. মৃত বিবাদীর মৃত্যুদিন থেকে
  3. নতুন পক্ষের আবেদনের দিন থেকে
  4. আদালতের নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৭:
দেওয়ানি কার্যবিধির (Code of Civil Procedure) অধীনে মৃত বিবাদী (defendant) বা উত্তরদায়ক (respondent)-এর আইনগত প্রতিনিধিকে (legal representative) পক্ষভুক্ত (made a party) করার আবেদন:
তামাদি মেয়াদ: ৯০ দিন;
সময় গণনার শুরু: যেদিন বিবাদী বা আপিলকারী মারা যান, সেদিন থেকে।
৯৭২.
হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মূল এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের জন্য দরখাস্ত দাখিলের সময়_________ দিন।
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ মতে স্বল্প এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ বা পুনরীক্ষণ করার তামাদির মেয়াদ ১৫ দিন [১৬১ অনুচ্ছেদ] এবং হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মূল এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের জন্য দরখাস্ত দাখিলের সময় ২০ দিন [১৬২ অনুচ্ছেদ] এবং দেওয়ানী আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন [১৭৩ অনুচ্ছেদ]।
৯৭৩.
তামাদি আইনে কোন কার্যক্রমের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে তামাদির মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান নেই?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। 

• তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
৯৭৪.
চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ বর্ণিত আছে তামাদি আইনের কত অনুচ্ছেদে?
  1. ৩ অনুচ্ছেদে
  2. ১১৩ অনুচ্ছেদে
  3. ১১৪ অনুচ্ছেদে
  4. ১১৬ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।

♦অর্থাৎ চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
৯৭৫.
নিম্নলিখিত কোন সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ যাবে যদি মামলার দায়ের বা ডিক্রি কার্যকরকরণে আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ (injunction) থাকে?
  1. নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিন
  2. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিন
  3. নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার পুরো সময়
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৫(১) অনুযায়ী:
"In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order,
- the time of the continuance of the injunction or order,
- the day on which it was issued or made, and
- the day on which it was withdrawn, shall be excluded."

 অর্থাৎ, যেসব ক্ষেত্রে কোনো মামলার দায়ের বা ডিক্রির কার্যকরকরণে আদালতের আদেশ বা injunction এর কারণে প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে, সে ক্ষেত্রে—
 ১. নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিন,
 ২. নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার সময়কাল,
৩. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিন —
এই সবগুলোই তামাদির সময় গণনা থেকে বাদ যাবে।

অর্থাৎ ধারা ১৫(১) অনুযায়ী, injunction বা আদেশের প্রারম্ভিক দিন, বলবৎ থাকার সময়কাল, এবং প্রত্যাহারের দিন — সবই বাদ যাবে।


⇒ তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হবে:
(১) যেই মামলা বা ডিক্রী জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন তা নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেই দিন তা প্রদত্ত হয়েছিল এবং যেই দিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।
(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।
--------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-15: Exclusion of time during which proceedings are suspended:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.

৯৭৬.
তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুসারে আইনি অক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত নয়- 
  1. উন্মাদ
  2. নির্বোধ
  3. অপ্রাপ্তবয়স্কতা
  4. শারীরিক অক্ষমতা
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ৬,৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৬ অনুসারে, আইনি অক্ষমতা (Legal Disability) বলতে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত তিনটি অবস্থা কে বোঝায়:
১. অপ্রাপ্তবয়স্কতা (Minority)
২. উন্মাদতা (Insanity)
৩. নির্বোধিতা (Idiocy)
এই ধারায় শারীরিক অক্ষমতা (Physical Disability) যেমন- অন্ধত্ব, বধিরতা, পক্ষাঘাত ইত্যাদিকে আইনি অক্ষমতা হিসেবে গণ্য করা হয়নি। অর্থাৎ, শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও তা তামাদি সময়সীমা বর্ধিত করার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ তামাদি আইনের ৬ ধারায় বৈধ অপারগতা (Legal disability) নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে।
যেখানে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে মামলা কিংবা কার্যব্যবস্থা কিংবা ডিক্রি জারির জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেই সময় উক্ত ব্যক্তি যদি নাবালক, উন্মাদ বা চরম বুদ্ধিহীনতার রোগে ভুগে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে।
- যখন উক্ত ব্যক্তির জীবন হতে অপারগতা অবসান হবে তখন তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। যদি একটি অপারগতা অবসান হবার আগেই আরেকটি অপারগতায় উক্ত ব্যক্তি আক্রান্ত হন তবে দুটি শেষ হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। এর মাঝে যদি উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তার আইনগত প্রতিনিধি যদি বৈধ অপারগতায় আক্রান্ত থাকেন তবে প্রতিনিধির আইনগত অপারগতা অবসান হবার পর তামাদি মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।
- তামাদি আইনের ৬ ধারার এই বিধান আপীল, রিভিউ, রিভিশন বা আবেদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। বৈধ অপারগতার বিধান শুধুমাত্র বাদী’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিবাদী’র জন্য তামাদি আইনে বৈধ অপারগতার বিধান গ্রহণযোগ্য না।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section 6. Legal disability:
(1) Where a person entitled to institute a suit or proceeding or make an application for the execution of a decree is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, a minor, or insane, or an idiot, he may institute the suit or proceeding or make the application within the same period after the disability has ceased, as would otherwise have been allowed from the time prescribed therefore in the third column of the first schedule or in section 48 of the Code of Civil Procedure, 1908. 
(2) Where such person is, at the time from which the period of limitation is to be reckoned, affected by two such disabilities, or where, before his disability has ceased, he is affected by another disability, he may institute the suit or make the application within the same period, after both disabilities have ceased, as would otherwise have been allowed from the time so prescribed. 
(3) Where the disability continues up to the death of such person, his legal representative may institute the suit or make the application within the same period after the death as would otherwise have been allowed from the time so prescribed. 
(4) Where such representative is at the date of the death affected by any such disability, the rules contained in sub-sections (1) and (2) shall apply. 
 
Illustrations:
(a) The right to sue for the hire of a boat accrues to A during his minority. He attains majority four years after such accruer. He may institute his suit at any time within the years from the date of his attaining majority. 
(b) A right to sue accrues to Z during his minority. After the accruer, but while Z is still a minor, he becomes insane. Time runs against Z from the date when his insainity and minority cease. 
(c) A right to sue accrues to X during his minority. X dies before attaining majority, and is succeeded by Y, his minor son. Time runs against Y from the date of his attaining majority.

৯৭৭.
ধারা ২৪ অনুযায়ী, তামাদি সময় গণনা কখন শুরু হবে?
  1. কার্যের দিন থেকে
  2. ক্ষতির দিন থেকে
  3. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  4. নোটিশ দেওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান: বিশেষ ক্ষতির কারণ না হইলে যে কাজের জন্য মামলা করা যায় না তাহার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
যে কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।

উদাহরণ:
'ক' একটি জমির উপরিভাগের মালিক। 'খ' ঐ জমির ভূগর্ভের মালিক। উপরিভাগের তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোন ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু অবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এইক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তামাদির মেয়াদ ধসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।

৯৭৮.
মৃত্যুদণ্ড ও খালাস আদেশ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিলের তামাদির মেয়াদ কত দিনের?
  1. ৩০ দিনের
  2. ৬০ দিনের
  3. ৯০ দিনের
  4. ১২০ দিনের
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৫৫: অনুচ্ছেদ ১৫০ (মৃত্যুদণ্ড) এবং অনুচ্ছেদ ১৫৭ (খালাস) আদেশ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিলের তামাদির মেয়াদ-৬০ দিন।
তামাদি শুরু হবে- যে দণ্ডাদেশ বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তার তারিখ হতে।

৯৭৯.
তামাদি আইন সর্বশেষ সংশোধিত হয়-
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন সর্বশেষ ২০০৪ সালে সংশোধিত হয়।

⇒ এই সংশোধনী দ্বারা ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হয়।
⇒ চুক্তি প্রবলের মামলার তামাদি কাল ছিলো ৩ বছর, এখন ১ বছর করা হয়েছে। (১১৩ অনুচ্ছেদ)
⇒ চুক্তি প্রত্যাহারের তামাদি কাল আগে ছিলো ৩ বছর, এখন ১ বছর করা হয়েছে। (১১৪ অনুচ্ছেদ)
৯৮০.
১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ১৭(১) ও ১৭(২) ধারা কোন ধরনের মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. চুক্তি ভঙ্গের মামলা।
  2. বংশগত পদের মামলা।
  3. চলমান সম্পত্তির মামলা।
  4. অবহেলার কারণে ক্ষতিপূরণের মামলা।
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ১৭ ধারার বিধান অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল:-
কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে। একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে।

এই ধারার ব্যতিক্রম হলো- অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা।
---------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 17- Effect of death before right to sue accrues:
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application. 
 
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application. 
 
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
৯৮১.
তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী নাবালকের জন্য তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে কখন থেকে?
  1. অভিভাবকের আবেদনের তারিখ থেকে
  2. নাবালকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. মামলার কারণ সৃষ্টির তারিখ থেকে
  4. আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) নাবালকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ থেকে।
⇒ তামাদি আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী, যদি মামলার জন্য অধিকারী ব্যক্তি নাবালক, অপ্রকৃতিস্থ বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হন, তবে তামাদির সময় গণনা স্থগিত থাকে। এর মানে হলো, এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে তামাদি গণনা তার অক্ষমতা বা অযোগ্যতা দূর হওয়ার পর শুরু হবে। অতএব, নাবালকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ থেকেই তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
৯৮২.
যে মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে কোনো বিধান নেই সে মোকদ্দমা দাখিল করা যাবে _______ বছরের মধ্যে।
  1. ১২
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে কোনো বিধান নেই সে মোকদ্দমা দাখিল করা যাবে ৬ বছরের মধ্যে। 
৯৮৩.
শ্রমিকের মজুরীর আদায়ের জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭ বিধান গৃহ-ভৃত্য কারিগর বা শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ, যখন মজুরী বকেয়া হয় তখন থেকে ১ বছর।
- অর্থাৎ শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
৯৮৪.
আইনসম্মত পদ্ধতিতে অস্থাবর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে জব্দ [wrongful seizure] করার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ আছে-
  1. ২৯ অনুচ্ছেদে
  2. ২৭ অনুচ্ছেদে
  3. ২২ অনুচ্ছেদে
  4. ২৮ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৯

আইনসম্মত পদ্ধতিতে অস্থাবর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে জব্দ [wrongful seizure] করার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা
তামাদি- ১ বৎসর।
সময় গণনা শুরু- জব্দ করার তারিখ।
৯৮৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন সহকারী জজ আদালতে পুনঃনিরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্তের তামাদি মেয়াদ-
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিউ দায়েরের স্থান এবং সময়সীমা: 
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদের বিধান মতে ডিক্রি বা আদেশ জারির সময় হতে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে। 
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।

- অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন যে আদালতেই রিভিউ আবেদন করা হোক না কেন, রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৯৮৬.
নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দেওয়ার কারণে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকলে সেই সময় তামাদির মেয়াদ থেকে……….
  1. যোগ হবে
  2. বাদ যাবে
  3. কিছুই হবে না
  4. মামলা খারিজ হবে
ব্যাখ্যা
♦ তামাদির আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞার কারণে কোন মামলা বা ডিক্রি জারির  জন্য আবেদন করা না গেলে, সেই ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কালীন সময় মামলা বা ডিক্রি জারির আবেদনের তামাদি সময় বাদ যাবে
৯৮৭.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. চুক্তি আইন,১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
  2. বিবাহ বিচ্ছেদ আইন,১৯৬৯ এর ক্ষেত্রে
  3. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-

⇒ বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা;
⇒ চুক্তি আইন,১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে;
⇒ বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে;
⇒ সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভূক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

ধারা ২৯-

(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।

(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
৯৮৮.
বিশেষ আইনের অধীন কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে তামাদি আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ৪ ধারা
  2. ৯-১৮ ধারা
  3. ২২ ধারা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ এ বলা আছে-
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন
-বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।

(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
----------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৯৮৯.
তামাদি আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আদালত নির্ধারিত সময়ের পরেও আপিল বা আবেদন গ্রহণ করতে পারেন?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৪
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৬
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ নম্বর ধারা (Section 5) অনুযায়ী—
যদি কোন আপিল, রিভিশন, রিভিউ বা অন্যান্য প্রযোজ্য আবেদন নির্ধারিত সময়সীমার পরে দায়ের করা হয়, এবং আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে বিলম্বের জন্য যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল, তাহলে আদালত সেই বিলম্ব মওকুফ করতে পারে এবং আবেদনটি গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করতে পারে।

- তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫ এর বিধান, “যদি কোনো আপীল বা আবেদন তামাদির মেয়াদ শেষে দাখিল করা হয়, তবে আদালত সেই দাখিল গ্রহণ করতে পারে যদি আপীলকারী বা আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, দেরি হওয়ার জন্য যুক্তিসংগত কারণ ছিল।”

- এই ধারা প্রযোজ্য হয়:
১. Appeal (আপিল)
২. Application for leave to appeal (আপিলের অনুমতির আবেদন)
৩. Review of judgment (রায়ের পুনর্বিবেচনা/রিভিউ)
৪. Revision (রিভিশন আবেদন)
৫. Any other application to which this section may apply

এই ধারা প্রযোজ্য নয়:
এই ধারা মৌলিক স্যুট বা মূল মামলা (Suit)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যেমন:
- ঘোষণামূলক মামলা
- সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা
- স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা
 এই ধরনের মামলার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করলে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফ চাওয়া যায় না।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 5. Extension of period in certain cases:
 Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.

৯৯০.
'X' মামলার বাদী এবং 'Y' মামলার বিবাদী। 'X' 'Y' এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলা করতে চায়। চুক্তিভঙ্গের তারিখ হতে বিবাদী 'Y' উন্মাদ হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. 'X' কে তামাদিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করতে হবে
  3. মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত
  4. খ এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা মতে যেহেতু 'Y' মামলায় বিবাদী তাই তামাদির আইনের ৬ ধারা 'Y' এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এবং এই ক্ষেত্রে 'X'-কে অবশ্যই ১ বৎসরের মধ্যে মামলা করতে হবে। কারণ ৬ ধারায় শুধুমাত্র বাদী সুবিধা পেতে পারে বা বাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

♦ তামাদি আইনের ৬-৮ ধারা শুধুমাত্র বাদী ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; বিবাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হবে - খ) 'X' কে তামাদিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করতে হবে।
৯৯১.
তামাদি শব্দটি কোন ভাষা থেকে উৎপত্তি?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি শব্দটি আরবি ভাষা হতে উৎপত্তি। তামাদির আভিধানিক অর্থ বিলুপ্ত বা অচল।
৯৯২.
'ক','খ' ও 'গ' একটি ফার্মের অংশীদার এবং 'ঘ' উক্ত ফার্মের নিকট ঋণগ্রস্থ হয়। 'খ' উন্মাদ এবং 'গ' নাবালক। 'খ' এবং 'গ'-এর সম্মতি ব্যতীত 'ক', দেনাদার 'ঘ'-কে ঋণমুক্ত করতে পারে না। এক্ষেত্রে-
  1. সকলে তামাদির মেয়াদ হতে অব্যাহতি পাবে
  2. শুধুমাত্র 'ক' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে থাকবে
  3. 'খ', এবং 'গ' এর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• এক্ষেত্রে 'ক','খ' ও 'গ' সকলে তামাদি আইন,১৯০৮ এর ৭ ধারার অধীন তামাদির মেয়াদ হতে অব্যাহতি পাবে।

• তামাদি আইনের ৬, ৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়েছে সে যদি উক্ত সময় মামলা করতে আইনগতভাবে অপারগ থাকে, তাহলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ কিভাবে গণনা করা হবে তা ৬ থেকে ৯ ধারা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। 

• ধারা ৭ (একাধিক বাদী অথবা দরখাস্তকারীর মধ্যে একজনের অপারগতা)-
যে ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি মামলা বা কার্যধারা দায়ের করার অধিকারী হয় বা ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিল করার অধিকারী হয় এবং তাদের সকলেই আইনগত অক্ষম হলে তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদি অতিবাহিত হবে না। কিন্তু যদি এমন হয় যে, তাদের মধ্যে এক বা একাধিক ব্যক্তি আইনগতভাবে অক্ষম কিন্তু বাকিরা আইনগতভাবে সক্ষম বা সুস্থ, সেই ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ সকলের বিরুদ্ধে অতিবাহিত হবে। কি হবে না তা নিম্নলিখিত ভাবে নির্ধারণ করতে হবে-

⇒ যে সকল ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ তাদের সম্মতি ছাড়া যে ব্যক্তি আইনগতভাবে অপারগ না সে যদি দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে পারে তাহলে সকলের বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে।
⇒ কিন্তু আইনগতভাবে সক্ষম ব্যক্তি আইনগত অপারগ ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়া দায়মুক্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে, তাদের কারোর বিরুদ্ধে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হবে না।
৯৯৩.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৯৬-এর অধীনে, ভুলের কারণে প্রতিকার লাভের মামলার সময়সীমা কখন থেকে শুরু হয়?
  1. ভুলের তারিখ থেকে
  2. প্রতিকার দাবির তারিখ থেকে
  3. ভুল জানতে পারার তারিখ থেকে
  4. ক্ষতি সাধিত হওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৯৬ অনুযায়ী, ভুলের কারণে প্রতিকার (Relief for mistake) লাভের মামলা করার তামাদি কাল ৩ বছর।
- এই সময়সীমা গণনা শুরু হয় যখন বাদী ভুলের বিষয়টি জানতে পারে (বা অবগত হয়)।
- অর্থাৎ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৯৬ অনুযায়ী, ভুলের (mistake) কারণে প্রতিকার (relief) লাভের জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা ৩ বছর।
- এই সময়সীমা শুরু হয় যেদিন বাদী সেই ভুলের বিষয়ে জানতে পারে, অর্থাৎ ভুল আবিষ্কারের তারিখ থেকেই তামাদি গণনা শুরু হয়।
৯৯৪.
হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগে প্রচারিত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৭ দিন
  2. ৬ মাস
  3. ২০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৫১ অনুচ্ছেদের বিধান:
হাইকোর্ট কর্তৃক মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদি মেয়াদ ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের দিন থেকে ২০ দিন।

অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আদি এখতিয়ার প্রয়োগে প্রচারিত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ ২০ দিন।
৯৯৫.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২১ ধারায় কার প্রতিনিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. আদালতের
  2. ৩য় পক্ষের
  3. অক্ষম ব্যক্তির
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ২১: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of person under disability)-

যথাবিহিতরূপে ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলিতে অপারগতাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে-
আইন সম্মত অভিভাবক;
কমিটি বা ম্যানেজারকে; অথবা
অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
৯৯৬.
মোহরানা বা দেনমোহরের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার বিধান আছে।
- উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
৯৯৭.
কোন ধরনের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১৭ ধারা প্রযোজ্য নয়?
  1. অস্থাবর সম্পত্তি লাভের
  2. স্থাবর সম্পত্তির দখলের
  3. বংশগত পদ লাভের
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
• The Limitation Act, 1908 এর  ১৭ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি জীবিত থাকলে মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের অধিকারী হত কিন্তু অধিকারটি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে সেই ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ঐ মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়ের করার যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সময় থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা হবে।

একইভাবে কারো বিরুদ্ধে অধিকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলে তার আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত যোগ্যতা সাপেক্ষে উক্ত মোকদ্দমা বা দরখাস্ত দায়েরের তামাদি গণনা হবে। এই ধারার ব্যতিক্রম হলো অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমা। অর্থাৎ অগ্রক্রয়, স্থাবর সম্পত্তির দখলের মোকদ্দমা এবং বংশগত পদের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে ১৭ প্রযোজ্য নয়।

Section 17: Effect of death before right to sue accrues
(1) Where a person, who would, if he were living, have a right to institute a suit or make an application, dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased capable of instituting or making such suit or application. 
 
(2) Where person against whom, if he were living, a right to institute a suit or make an application would have accrued dies before the right accrues, the period of limitation shall be computed from the time when there is a legal representative of the deceased against whom the plaintiff may institute or make such suit or application. 
 
(3) Nothing in sub-sections (1) and (2) applied to suits to enforce rights of pre-emption or to suits for the possession of immoveable property or of an hereditary office.
৯৯৮.
লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬ এর বিধান: লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা ৬ বছর বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

- তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে- চুক্তি নিবন্ধিত না হলে যখন মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে তখন থেকে।
৯৯৯.
ক” দখল পুনরুদ্ধারের একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়ের সময় ছিল ৬মাস। ক” ১২ মাস পর মামলা দায়ের করেছে।বিবাদী পক্ষ তামাদির মেয়াদ নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। এই ক্ষেত্রে আদালত নিম্মলিখিত কোন ধরনের সিদ্ধান্ত দিতে পারে?
  1. বিবাদী আপত্তি না করায় মামলা গ্রহণ করে বিচার শুরু করবে
  2. বিবাদী শর্তসাপেক্ষে মামলা বিচারে নিবে
  3. মামলা খারিজ করবে
  4. বিবাদী আপত্তি না করায় তামাদি মওকুফ করে আদালত মামলা আমলে নিবে
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর মামলা, আপীল বা দরখাস্ত দায়ের বা দাখিল করা হলে বিবাদী পক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে তবুও উক্ত মামলা, আপীল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।
১,০০০.
বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কখন থেকে গণনা শুরু হয়?
  1. মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  2. পদটি দখল করার তারিখ থেকে
  3. ক্ষতিপূরণের দাবি জানানোর তারিখ থেকে
  4. পদটি বংশগতভাবে পাওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৪ অনুযায়ী, বংশগত পদ দখল করার জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর।
- এই মেয়াদ বিবাদী যখন বাদীর প্রতিকূলে পদটি দখল করে সেই তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
- পদ দখল করার তারিখ বলতে সেই তারিখকে বোঝায় যখন বিবাদী বাদীর অধিকার লঙ্ঘন করে বংশগত পদটি দখল করে।
- এই তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) পদটি দখল করার তারিখ থেকে।