বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তৎপুরুষ সমাস

মোট প্রশ্ন৫৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তৎপুরুষ সমাস

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৫৭২

৩০১.
পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় কোন সমাসে?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উভয় সমাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা। 

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়
যেমন - ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন – বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০২.
‘খাঁচাছাড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

• সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন:
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি।
এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৩.
'বিপদাপন্ন' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
- এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ - পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
- বজ্রের সম = বজ্রসম। ( ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩০৪.
অদৃষ্টপূর্ব কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) নঞ তৎপুরুষ
  2. খ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। এরূপ- ভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব, অকালপক্ব, কৃষিপ্রধান, ঘরপোড়া, গালভরা ইত্যাদি। পূর্বপদে বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বুঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে সপ্তমী বিভক্তি লোপ পায়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩০৫.
’রাজপথ’ কোন সমাসের উদাহর‌ণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

• বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি, 
- ধানের খেত = ধানখেত, 
- পথের রাজা = রাজপথ,
- গোলায় ভরা = গোলাভরা, 
- গাছে পাকা = গাছপাকা, 
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৩০৬.
'তপের নিমিত্ত বন = তপোবন' - এটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩০৭.
‘দেশভঙ্গ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
যেমন:
• আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া (৫মী তৎপুরুষ সমাস)।
• আত্মকে নিয়ন্ত্রণ = আত্মনিয়ন্ত্রণ (২য়া তৎপুরুষ সমাস)।
• অগ্নি দ্বারা উৎপাত= অগ্ন্যুৎপাত (৩য়া তৎপুরুষ সমাস)।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের খেত = ধানখেত;
- দেশকে ভঙ্গ = দেশভঙ্গ;
- রথকে চালন = রথচালন;
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

--------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।  

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৮.
‘কুম্ভকার’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। কৃৎ প্রত্যয়ন্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।

- কোনো পদ বিশ্লেষণ করলে যদি প্রথমে একটি পদ, তারপর একটি ধাতু এবং শেষে একটি প্রত্যয় পাওয়া যায়, তাহলে প্রথম পদটিকে বলে উপপদ।
যেমন:
কুম্ভকার = কুম্ভ + √কৃ + অ- এখানে 'কুম্ভ' উপপদ। কুম্ভ করে যে= কুম্ভকর- উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
 
আরোকিছু উদাহরণ হলো:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৯.
'গণপতি' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ,
- গণের পতি = গণপতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১০.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) ঘিয়ে ভাজা
  2. খ) ছাপোষা
  3. গ) অজানা
  4. ঘ) কাপুরুষ
ব্যাখ্যা
ছা পোষে যে = ছাপোষা একটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে - সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - অগ্রগামী, বনবাসী, ধামাধরা, ছেলেধরা, জাদুকর ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১১.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. সামীপ্য
  2. অহিনকুল
  3. পঙ্কজ
  4. সজ্জন
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অহি ও নকুল = অহিনকুল; দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
• সৎ যে জন = সজ্জন; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
• কণ্ঠের সমীপে = সামীপ্য; অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩১২.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. ক) গৃহস্থ
  2. খ) বাজিকর
  3. গ) দম্পতি
  4. ঘ) সর্বহারা
ব্যাখ্যা

দম্পতি = জায়া ও পতি।

একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্যমান পদগুলোর কেবল একটি পদের প্রাধান্য থাকে এবং সেই পদের সাহায্যে অন্য পদের অর্থ প্রকাশ পায় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, সে, তুমি ও আমি = আমরা ইত্যাদি।

অপশনের অন্যান্যগুলো তৎপুরুষ সমাস।

উৎস
: বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।

৩১৩.
'অনাচার' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. অব্যয়ীভাব
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস: 
না-বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পুর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন,
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ,
অনাদর, নাতিদীর্ঘ, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন- ন কাল = অকাল বা আকাল।
এরূপ - অকেজো, অজানা,অচেনা, আলুনি, নামঞ্জুর, আধোয়া ইত্যাদি। নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসবদ্ধ শব্দসমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৩১৪.
'যাদুকর'- কোন সমাস সাধিত শব্দ?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  3. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
• পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
• যাদু করে যে = যাদুকর,
• ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
• ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
• পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

--------------
• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• গাছে পাকা = গাছপাকা,
• অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
• দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
• ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
• পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
• দানে বীর = দানবীর,
• মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৫.
উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলে কোন সমাস হয়?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলে তৃতীয় তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন : স্বর্ণমণ্ডিত, রত্নশোভিত, হীরকখচিত, চন্দনচর্চিত ইত্যাদি।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৬.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. পাঁচকম
  2. লাঠালাঠি
  3. বউভাত
  4. অল্পপ্রাণ
ব্যাখ্যা

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১৭.
'তপোবন' শব্দটি কোন সমাস?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৮.
'গায়েপড়া' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. যষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- গায়ে পড়া = গায়েপড়া,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১৯.
কর্মধারয় সমাসকে কোন সমাসের অন্তভূর্ক্ত বলে মনে করা হয়?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
সমাস প্রধানত ৬ প্রকার।
যথা-দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু, ও অব্যয়ীভাব সমাস।
অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন আবার কেউ কেউ কর্মধারয় সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তভূর্ক্ত বলে মনে করেছেন।
এদিক থেকে বিবেচনা করলে সমাস মূলত ৪টি।
যথা- দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, ও অব্যয়ীভাব সমাস।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৩২০.
'অগ্ন্যুৎপাত' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. পঞ্চমী
  3. তৃতীয়া
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

৩২১.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্তেবাসী
  2. কানেখাটো
  3. গলায়গামছা
  4. হাতেছড়ি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের যতগুলি শ্রেণি আছে, অলুক তৎপুরুষ তার সবরকম শ্রেণিরই হতে পারে।
যেমন -
ঘোড়ার-ডিম = ঘোড়ার ডিম;
খসে পড়া = খসে পড়া;
অন্তেবাসী = অন্তে বাসী যে।

অন্যদিকে,
কানেখাটো, গলায়গামছা, হাতেছড়ি - অলুক বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২২.
‘ভোটাধিকার’ কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
ভোটাধিকার = ভোটের অধিকার। এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৩২৩.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. সবিনয়
  2. নীলকণ্ঠ
  3. ঘোড়াগাড়ি
  4. শূলপাণি
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ঘোড়ার গাড়ি = ঘোড়াগাড়ি:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

অন্যদিকে,
• বিনয়ের সঙ্গে বর্তমান = সবিনয়; সহার্থক বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।
• নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ; সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ। 
• শূল পাণিতে যার = শূলপাণি; ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৪.
তৎপুরুষ সমাসে কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. পরপদের
  2. উভয় পদের
  3. পূর্বপদের
  4. কোনো পদের অর্থ প্রাধান্য পায় না
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।

যেমন
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন। এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৫.
‘বিশেষ্য + ক্রিয়া’ দ্বারা কোন সমাসকে বোঝায়?
  1. নিত্য সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: 
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে। 
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে।
- যেমন:
জলে চরে যা = জলচর,
জল দেয় যা = জলদ,
পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

উপরের উদাহরণগুলোতে দেখা যায়, ব্যাসবাক্যের প্রথমে বিশেষ্য পদ এবং এর সাথে ক্রিয়াপদের সংযোগে সমাস হয়েছে। 
-------------------------
অন্যদিকে। 
নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন : গৃহান্তর, গ্রামান্তর। 

অলুক তৎপুরুষ সমাস :
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অনুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : গায়ে পড়া - গায়েপড়া।
এরূপ-ঘিয়ে ভাজা, কলে ছাঁটা, কলের গান, গরুর গাড়ি ইত্যাদি।

• কর্মধারয় সমাস:
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ, যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৬.
"উত্তরোত্তর" - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ, 
- উত্তর থেকে উত্তর = উত্তরোত্তর
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত, 
- ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২৭.
"পাতাচাটা" শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ
  2. ষষ্ঠী
  3. অলুক
  4. পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ - প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- পাতা চাটে যে = পাতাচাটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৮.
'ভ্রাতৃস্নেহ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৯.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বিয়েপাগলা
  2. খেয়াঘাট
  3. বিলাতফেরত
  4. খাঁচাছাড়া
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
-  পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট
অনুরূপভাবে- ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, দিল্লীশ্বর, বাঁদরনাচ, পাটক্ষেত, ছবিঘর, ঘোড়দৌড়, শ্বশুরবাড়ি, বিড়ালছানা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস - খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস - বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৩০.
'অনুচিত' কোন সমাসের উদাহরণ? 
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। 
'অনুচিত' তৎপুরুষ সমাস এর একটি প্রকার নঞ তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভূক্ত। 

নঞ তৎপুরুষ সমাস:
নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন-
নয় সুখ = অসুখ,
নয় উচিত = অনুচিত,
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস,
নাই হায়া = বেহায়া প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩১.
“খেয়াঘাট” কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমনঃ চায়ের বাগান = চাবাগান, ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
আরও কিছু উদাহরণঃ পুষ্পের সৌরভ = পুষ্পসৌরভ, রাজার পুত্র = রাজপুত্র, খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
এছাড়াও ছাত্রসমাজ, দেশসেবা, দিল্লিশ্বর, বিড়ালছানা ইত্যাদি।
সূত্রঃ উচ্চতর স্বনির্ভর বিশুদ্ধ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৩২.
'অনতিবৃহৎ' কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'অনতিবৃহৎ' তৎপুরুষ সমাস

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা -
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
- নয় অতিবৃহৎ = অনতিবৃহৎ
এরূপ - অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন -
- ন কাল = অকাল বা আকাল।
তদ্রূপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৩.
‘ঋণমুক্ত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
- ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
কোনটি নঞ তৎপুরুষ নয়?
  1. অনেক
  2. অপরাহ্ন
  3. অনিষ্ট
  4. অনৈক্য
ব্যাখ্যা

- নঞ তৎপুরুষ সমাস নয় - অপরাহ্ন।
- অপরাহ্ন = অহ্নের অপর। - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- নয় এক = অনেক,
- অন্ (নঞ্) + ঐক্য = অনৈক্য,
- অন্ (নঞ্) + ইষ্ট = অনিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।

৩৩৫.
'দিবানিদ্রা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিগু সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
'দিবানিদ্রা' তৎপুরুষ সমাস এর উদাহরণ।

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন -
ছাত্রের সমাজ= ছাত্রসমাজ।
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

অন্যান্য অপশন:
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে একটি সংযোজক অব্যয় (কখনো বিয়োজক) দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: তাল ও তমাল= তাল-তমাল, দোয়াত ও কলম= দোয়াত-কলম, জায়া ও পতি= দম্পতি।

দ্বিগু সমাস:
সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। . দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় । যেমন: তিন মাথার সমাহার = তেমাথা। 

কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
নীল যে পদ্ম= নীলপদ্ম।
কাঁচা অথচ মিঠা= কাঁচামিঠা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ২০১৯ সংস্করণ।
৩৩৬.
'সংখ্যালঘু' কোন সমাস? 
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

'সংখ্যালঘু' = সংখ্যায় লঘু - সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
- পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৩৭.
পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় কোন সমাসে?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
 কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

তৎপুরুষ সমাস
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩৮.
নিচের কোনটি ৪র্থী তৎপুরুষ সমাসের সমস্তপদ?
  1. ক) মৃগশিশু
  2. খ) খোশমেজাজ
  3. গ) বিয়েপাগলা
  4. ঘ) আশীবিষ
ব্যাখ্যা
বিয়েপাগলা= বিয়ের জন্য পাগলা;  ৪র্থী তৎপুরুষ সমাসের সমস্তপদ। 

তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি ( কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন: 
বিয়েপাগলা= বিয়ের জন্য পাগলা;
গুরুকে ভক্তি= গুরুভক্তি;
বসতের নিমিত্ত বাড়ি= বসতবাড়ি 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি। (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩৩৯.
'পুষ্পসৌরভ' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী
  2. চতুর্থী
  3. তৃতীয়া
  4. ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- পুষ্পের সৌরভ =পুষ্পসৌরভ,
- ছাগীর দুগ্ধ - ছাগদুগ্ধ,
- গৃহের কর্তা - গৃহকর্তা,
- অশ্বের পদ - অশ্বপদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪০.
‘মেঘশূন্য’ কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা,
- রক্ত দ্বারা অক্ত(মাখানো)=রক্তাক্ত।

• উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা-
- এক দ্বারা উন = একোন,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন,
- মেঘ দ্বারা শূন্য = মেঘশূন্য,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচ কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪১.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. নির্ভুল
  2. গরুরগাড়ি
  3. কাগজ-পত্র
  4. পদ্মআঁখি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা, 
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি' উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- ' কাগজ-পত্র' সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল' নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪২.
তৎপুরুষ সমাসে কোন পদের প্রাধান্য থাকে?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. অন্যপদ
  4. উভয় পদ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ঠ্য:
- তৎপুরুষ সমাস অভ্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত;
- তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান;
- পূর্বপদের বিভক্তি লোপে তৎপুরুষ সমাস হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩৪৩.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. জলদ
  2. রাজপুত্র
  3. বাকপটু
  4. ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- বাকে পটু = বাকপটু

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৪.
‘মেঘমুক্ত’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস: যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা;
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া;
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা;
- মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত;
- ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যােগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযােগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় ‘আ’) = আজানুলম্বিত (বাহু),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

• দ্বন্দ্ব সমাস:  
 যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম;
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৫.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) মামাবাড়ি
  2. খ) হাতঘড়ি
  3. গ) গ্রামছাড়া
  4. ঘ) রাজপথ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি, কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- বাকি অপশনগুলো তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩৪৬.
'হজ্জযাত্রা' কোন সমাসের উদাহরণ?  
  1. ক) ৪র্থী তৎপুরুষ
  2. খ) ৩য়া তৎপুরুষ
  3. গ) ৫মী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ৭মী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
হজের জন্য যাত্রা = হজ্জযাত্রা, ৪র্থী তৎপুরুষ এর উদাহরণ।

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষের দৃষ্টান্ত?
  1. অজ্ঞান
  2. অকাল
  3. অজানা
  4. অবুঝ
ব্যাখ্যা
• নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্চ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।

এরূপ- অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের ক্ষেত্রে খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন:
ন কাল = অকাল বা আকাল।

তদ্রূপ- আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক। 

অন্যদিকে,
• নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস:
নঞর্থক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। অথবা, বিশেষ্য পদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস বলে। নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = অজানা,
- অ (নেই) বুঝ যার = অবুঝ,
- বে (নেই) হায়া যার = বেহায়া।

এ-রকম: অজ্ঞান, অসাড়, অতন্দ্র, অরাজক, অথই, অসীম, অনাচার, অহিংস, অনাদি, অনীহ, অপুত্রক, আনাড়ি, নির্বিঘ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৮.
'পাঁচকম' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. চতুর্থী
  2. পঞ্চমী
  3. তৃতীয়া
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৯.
অনাদর -এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) ন আদর
  2. খ) আদরের অভাব
  3. গ) অনেক আদর
  4. ঘ) নাই আদর
ব্যাখ্যা
‘অনাদর’ এর সঠিক ব্যাসবাক্য ‘ন আদর’। এটি নঞ তৎপুরুষ সমাস।
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫০.
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. অবুঝ
  2. অনন্ত
  3. বেহেড
  4. বেতাল
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা -
ন আচার = অনাচার,
ন কাতর = অকাতর।
এরূপ - অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন -
ন কাল = অকাল বা আকাল।
তদ্রূপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অবুঝ, অনন্ত, বেহেড - নঞ্‌ বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫১.
‘চিনিপাতা’ কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫২.
“অর্ধমৃত” সমাস এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মৃত প্রায় যে
  2. খ) অর্ধ সময় ব্যাপিয়া মৃত
  3. গ) অর্ধ রূপে মৃত
  4. ঘ) অর্ধ মৃত যে
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ বা কর্ম তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণঃ
কলাবেচা = কলাকে বেচা
চিরশত্রু = চির দিন ধরে শত্রু 
চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপীয়া সুখী
অর্ধমৃত = অর্ধ রূপে মৃত

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩৫৩.
‘নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) অব্যয়ীভাব সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ‍ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৪.
'নীলকমল' — কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকবে এবং পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণের মত কাজ করবে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন:
নীল যে কমল = নীলকমল, এখানে পূর্বপদ 'নীল' — পরপদ কমলের বিশেষণ এবং 'নীলকমল' শব্দে কমলের‌ই অর্থ প্রাধান্য। তাই, এটি কর্মধারয় সমাস।

 অন্যদিকে, 
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালতমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩৫৫.
‘রাজনীতি’ সমস্তপদের ব্যাসবাক্য কী?
  1. ক) রাজার নীতি
  2. খ) রাজ ও নীতি
  3. গ) নীতির রাজা
  4. ঘ) নীতি ও রাজা
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা’ শব্দটি শ্রেষ্ঠ অর্থে ব্যবহৃত হলে পূর্বপদে ‘রাজ’ হবে এবং ব্যাসবাক্যের শেষে ‘রাজা’ হবে। 
যেমন -
- রাজপথ = পথের রাজা
- রাজহাঁস = হাঁসের রাজা
- রাজসর্প = সর্পের রাজা
- রাজনীতি = নীতির রাজা
- রাজধর্ম = ধর্মের রাজা
- রাজমিস্ত্রি = মিস্ত্রির রাজা

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩৫৬.
'হজ্জযাত্রা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ৩য়া তৎপুরুষ
  2. খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. গ) ৫মী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ৭মী তৎপরুষ
ব্যাখ্যা
হজের জন্য যাত্রা = হজ্জযাত্রা, ৪র্থী তৎপুরুষ এর উদাহরণ।

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৭.
'সোনার-তরী' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সোনার-তরী' অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - কলের গান, ঘিয়ে ভাজা, সোনার-তরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৮.
'জলচর' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস 
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৫৯.
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. যাদুকর
  2. ছেলেধরা
  3. গাছপাকা
  4. আমরা
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• গাছে পাকা = গাছপাকা,
• অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
• দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
• ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
• পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
• দানে বীর = দানবীর,
• মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
• পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
• যাদু করে যে = যাদুকর,
• ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
• ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
• পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬০.
তৎপুরুষ সমাস নয়-
  1. ক) হাতেখড়ি
  2. খ) ঘিয়েভাজা
  3. গ) গায়েপড়া
  4. ঘ) রাজহাঁস
ব্যাখ্যা
হাতেখড়ি অলুক বহুব্রীহি সমাস। গায়েপড়া, ঘিয়েভাজা অলুক তৎপুরুষ সমাস। রাজহাঁস = হাঁসের রাজা ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন। বনের পতি = বনস্পতি ইত্যাদি। তৎপুরুষ সমাস ছয় প্রকার। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৬১.
"মন দিয়ে গড়া = মনগড়া" কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. চতুর্থ
  4. ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৬২.
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) ভালো মন্দ
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) যথাসাধ্য
  4. ঘ) সত্যনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 
অন্যদিকে, 
ভালোমন্দ- ‘ভালো ও মন্দ’  = দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
সাধ্যকে অতিক্রম না করে - যথাসাধ্য। অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৩.
'বসতবাড়ি' কোন সমাস?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ‘বসতবাড়ি' (বসতের নিমিত্ত বাড়ি) হলো- চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
বিয়েপাগলা - বিয়ের জন্য পাগলা।
গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি।
বসতের নিমিত্ত বাড়ি - বসতবাড়ি।
মুক্তির নিমিত্তে বা জন্য যুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৪.
পূর্বপদের ‘চির’ থাকলে কোন তৎপুরুষ সমাস হয়?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  4. ঘ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে ‘চির’ থাকলে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হবে।
যেমন : 
- চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী
- চিরস্থায়ী = চিরকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী
- চিরস্মরণীয় = চিরকাল ব্যাপিয়া স্মরণীয়
- চিরশত্রু = চিরকাল ব্যাপিয়া শত্রু ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩৬৫.
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস কোনটি?
  1. হতশ্রী
  2. হৃতসর্বস্ব
  3. জবরদস্তি
  4. রাজপুত্র
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা: 
- চায়ের বাগান = চাবাগান, 
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র, 
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

অন্যদিকে, 
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।
এরকম: হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবখ্ত, কমবখ্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৬৬.
সমাস কত প্রকার?
  1. ৪ প্রকার
  2. ৮ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ১০ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
- বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস। 
- সমাস মূলত চার প্রকার।
যথা:
- দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- পথের রাজা = রাজপথ।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬৭.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) বেহুস
  2. খ) মুখে ভাত
  3. গ) খেচর
  4. ঘ) গায়ে হলুদ
ব্যাখ্যা
মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত; অলুক তৎপুরুষ সমাস

অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনাে পরিবর্তন হয় না, তাকে বলা হয় অলুক বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি,
- কানে কলম যার = কানে-কলম,
- গায়ে পড়ে যে = গায়ে-পড়া,
- হাতে বেড়ি যার = হাতে-বেড়ি,
- মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
- কানে খাটো যে = কানে-খাটো ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে হলুদ - মধ্যপদলােপী বহুব্রীহি সমাস
নাই হুশ যার= বেঁহুশ - নঞ্ বহুব্রীহি 
খেচর = উপপদ তৎপুরুষ সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
তৎপুরুষ সমাস সাধিত পদ কোনটি?
  1. সাহিত্যসভা
  2. গরুরগাড়ি
  3. মাতাপিতা
  4. মুখচন্দ্র
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
 কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

অন্যদিকে:
- 'সাহিত্যসভা' - মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- 'মাতাপিতা' - মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'মুখচন্দ্র' - উপমিত কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

৩৬৯.
কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অকৃতজ্ঞ
  2. অনধিক
  3. অগোচর
  4. অনাচার
ব্যাখ্যা

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- অনাচার = নেই আচার
এরূপ – অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস: - অকৃতজ্ঞ = নেই কৃতজ্ঞতা যার, অগোচর = নয় গোচর যা, অনধিক = নয় অধিক যা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৭০.
"চাবাগান" শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. প্রাদি
ব্যাখ্যা

যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৩৭১.
'নীলকর' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. নিত্য
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- ছায়া দ্বারা শীতল - ছায়াশীতল;
- ছাত্রদের জন্য আবাস - ছাত্রাবাস;
- মধু দিয়ে মাখা - মধুমাখা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।
যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে - নীলকর;
- জাদু করে যে - জাদুকর;
- ধামা ধরে যে - ধামাধরা;
- শিরো ধার্য যা - শিরোধার্য;
- পকেট মারে যে - পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে - দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭২.
উপপদ তৎপুরুষ সমাস কোনটি?  
  1. দুগ্ধফেননিভ
  2. উৎকণ্ঠিত
  3. প্রভাকর
  4. যথারীতি
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- উপপদ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে পূর্বপদে কোনো বিশেষ্য (নাম বা বস্তু) থাকে এবং পরপদে কৃদন্ত পদ থাকে।
- কৃদন্ত পদ হলো ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে তৈরি শব্দ, যা কোনো কাজ বা কর্মকাণ্ড বোঝায়;
- যেমন: ধরা, চাটা, মারা।
- যখন এই কৃদন্ত পদের আগে কোনো বিশেষ্য পদ যুক্ত হয়, তখন সেটিকে উপপদ বলা হয়।
- উপপদ ও কৃদন্ত পদের মিলনে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেটিই উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাস সাধারণত কোনো ব্যক্তি, প্রাণী বা উদ্ভিদের কাজ বা কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে।

- উপপদ তৎপুরুষ সমাসের কিছু উদাহরণ:
- ছেলেধরা → ছেলে ধরে যে, 
- জলচর → জলে চরে যে, 
- জলদ → জয় দেয় যে/যা, 
- জাদুকর → জাদু করে যে, 
- প্রভাকর → প্রভা করে যে, 
- পকেটমার → পকেট মারে যে, 
- মাছিমারা → মাছি মারে যে,
- প্রিয়ংবদা → প্রিয় কথা বলে যে। 
-------------------- 
অন্যদিকে,
• দুগ্ধ ফেনার তুল্য = দুগ্ধফেননিভ, নিত্য সমাসের উদাহরণ।
• উৎ (উন্নত) কণ্ঠিত = উৎকণ্ঠিত, প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
• রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৭৩.
‘ছেলেভুলানাে’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

• সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

• কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৪.
কর্মধারয় সমাস‌কে কোন কোন ব্যাকরণবিদ কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) দ্বন্দ্ব সমাস
  3. গ) অব্যয়ীভাব সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাসকে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ কর্মধারয়কেও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন।
এদিক থেকে সমাস মূলত চারটি। যথা- দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৫.
'গোড়ায়গলদ' কোন ধরনের সমাস?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
• গোড়ায় গলদ = গোড়ায়গলদ, 
• ঘানি তেল = ঘানিরতেল,
• ঘি দিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা,
• হাতে কাটা = হাতেকাটা,
• কল দ্বারা ছাঁটা = কলেছাঁটা
• তেলে ভাজা = তেলেভাজা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৬.
'শিরোধার্য' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  2. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য, উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে। 
যেমন -
- পকেট মারে যে = পকেটমার, 
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা, 
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য,
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী,
- জাদু করে যে = জাদুকর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৭.
'দেবদত্ত' কোন সমাস?
  1. ক) চতুর্থী তৎপুরুষ
  2. খ) প্রাদী তৎপুরুষ
  3. গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান/নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হলোঃ দেবদত্ত - দেবকে দত্ত; গুরুভক্তি - গুরুকে ভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩৭৮.
নিচের কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অর্ধচন্দ্রাকার
  2. সতীর্থ
  3. ধর্মবুদ্ধি
  4. মতিচ্ছন্ন
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
 
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
অর্ধচন্দ্রের আকার - অর্ধচন্দ্রকার। 
- চায়ের বাগান - চাবাগান।
- রাজার পুত্র - রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট - খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ - ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা - দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর - দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর - ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা - বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু - মৃগশিশু।

অন্যদিকে,
 ধর্মবুদ্ধি, সতীর্থ ও ছন্নমতি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- ধর্মে বুদ্ধি যার - ধর্মবুদ্ধি।
- সমান তীর্থ যাদের - সতীর্থ।
- ছন্ন মতি যার - ছন্নমতি। 
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৯.
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস কোনটি?
  1. ক) বিয়েপাগলা
  2. খ) দেশসেবা
  3. গ) দৃষ্টিহীন
  4. ঘ) ছাত্রীনিবাস
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত,
স্নেহ দ্বারা অন্ধ = হােন্ধ,
ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা,
অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার,
জরা দ্বারা জীর্ণ = জরাজীর্ণ,
স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য,
ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত,
বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত,
গুণ দ্বারা মুগ্ধ = গুণমুগ্ধ,
তৈল দ্বারা আক্ত = তৈলাক্ত,
শােক দ্বারা আকুল = শােকাকুল,
মধুতে মাখা = মধুমাখা প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
দেশের সেবা = দেশসেবা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা - চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ছাত্রীর জন্য নিবাস = ছাত্রীনিবাস - চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮০.
'বিস্ময়াপন্ন' সমস্ত পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. বিস্ময় দ্বারা আপন্ন
  2. বিস্ময়ে আপন্ন
  3. বিস্ময়কে আপন্ন
  4. বিস্ময়ে যে আপন্ন
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত;
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন;
- বিস্ময়কে আপন্ন = বিস্ময়াপন্ন,
- পরলোকে গত = পরলোকগত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮১.
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চিনিপাতা
  2. খ) তেলেভাজা
  3. গ) অকালমৃত্যু
  4. ঘ) বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা
সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 

বিভক্তিলোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসঃ 
- দুঃখকে প্রাপ্ত= দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত 
- পথের রাজা = রাজপথ 
- গোলায় ভরা =গোলাভরা 
 -গাছে পাকা = গাছপাকা
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২৩]
৩৮২.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ?
  1. ক) প্রতিবাদ
  2. খ) বিলাত ফেরত
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) ছেলেধরা
ব্যাখ্যা
• 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৩.
'বজ্জাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদের পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি। লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। হতে, থেকে, চেয়ে- এসব পঞ্চমী বিভক্তির চিহ্ন।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত ইত্যাদি।

এরকম:
কণ্ঠনিঃসৃত, দুখজাত, বোঁটাখসা, স্বর্গচ্যুত, ঋণমুক্ত, কারামুক্ত, কৃষিজাত, খাঁচাছাড়া, গদিচ্যুত, দলস্থাত, বৃত্তচ্যুত, লক্ষ্যচ্যুত, চাকভাঙা, জেলফেরত, দলছুট, পথভ্রষ্ট, বন্ধনমুক্ত, বিক্রয়লখ, বিদেশাগত, মেঘমুক্ত, শাপমুক্ত, রোগমুক্ত, স্কুলপালানো, স্নেহবঞ্চিত, হাতছাড়া ইত্যাদি।

সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহে, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর', 'চেয়ে' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৪.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মামাবাড়ি
  2. খ) গ্রামছাড়া
  3. গ) গাছপাকা
  4. ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের খেত = ধানখেত
- পথের রাজা = রাজপথ
- গোলায় ভরা = গোলাভরা
- গাছে পাকা = গাছপাকা
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
- রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া। 

গ. কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।  
যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮৫.
'চাবাগান' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সংখ্যালঘু' = সংখ্যায় লঘু - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট,
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
- দেশের সেবা = দেশসেবা,
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর,
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত,
- ছবির ঘর = ছবিঘর,
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৮৬.
'ছায়াশীতল' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- ছায়া দ্বারা শীতল = ছায়াশীতল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৭.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস নয়?
  1. ক) পণ্ডিতমূর্খ
  2. খ) অনাচার
  3. গ) মৃগশিশু
  4. ঘ) গাছপাকা
ব্যাখ্যা
পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমুর্খ হলো নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস। গাছে পাকা = গাছপাকা হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। ন আচার = অনাচার হলো নঞ্ তৎপুরুষ সমাস। মৃগীর শিশু = মৃগশিশু ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৮৮.
‘বিস্ময়াপন্ন’ পদটির সঠিক ব্যাসবাক্য- 
  1. বিস্ময়ে যে আপন্ন
  2. বিস্ময় দ্বারা আপন্ন
  3. বিস্ময়কে আপন্ন
  4. বিস্ময়ে আপন্ন
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,

অনুরূপভাবে,
- বিস্ময়কে আপন্ন = বিস্ময়াপন্ন,
- পরলোকে গত = পরলোকগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮৯.
‘একোন’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
একোন = এক দ্বারা ঊন, এটা তৃতীয়া তৎপুরুষ সমসের উদাহরণ।
ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম- দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
৩৯০.
নিচের কোনটি 'নঞ' তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) নৃতত্ত্ব
  2. খ) আলুনি
  3. গ) নাকে খত
  4. ঘ) দায়ে ঠেকা
ব্যাখ্যা

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসঃ
না-বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পুর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - অনতিদূর = ন অতিদূর, ন আচার = অনাচার, ন কাতর = অকাতর।
এরূপ,
অনাদর, নাতিদীর্ঘ, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমনঃ ন কাল = অকাল বা আকাল।
এরূপ - অকেজো, অজানা, অচেনা, আলুনি, আধোয়া ইত্যাদি। নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসবদ্ধ শব্দসমূহ।

উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩৯১.
“পুষ্পসৌরভ” কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
পুষ্পের সৌরভ =পুষ্পসৌরভ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
আরও কিছু উদাহরণঃ
চায়ের বাগান = চাবাগান
রাজার পুত্র = রাজপুত্র
খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট
এছাড়াও, ছাত্রসমাজ , দেশসেবা, দিল্লিশ্বর, বিড়ালছানা ইত্যাদি।
সুত্রঃ ভাষা শিক্ষা, ডঃ হায়াৎ মামুদ

৩৯২.
“জলে চরে যা = জলচর” কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ সমাস বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন - জলে চরে যা = জলচর; পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ; জল দেয় যে = জলদ ইত্যাদি। এরুপ গৃ্হস্থ, সত্যবাদী, ঘরপোড়া, পাড়াবেড়ানি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৯৩.
"শ্রমলব্ধ" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুয
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বিগু
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুয সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভস্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুয় সমাস বলে।

যথা:
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাথা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২৯)।

৩৯৪.
নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পূর্বাহ্ন
  2. বাকপটু
  3. রাজপুত্র
  4. জলদ
ব্যাখ্যা
⇒ উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।

⇒ সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস :
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- বাকে পটু = বাকপটু।

⇒ কালের কোন অংশ-বোধক শব্দ পরে থাকলে তা পূর্বে বসে।
যথা
- অহ্নের (দিনের) পূর্ব ভাগ = পূর্বাহ্ণ।
এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৫.
'দুঃখকে প্রাপ্ত' এটি কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা :
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৩৯৬.
‘অসময়’ কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে না-বাচক অব্যয় যুক্ত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - ন সময় = অসময়।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
৩৯৭.
‘আঁখিমণি’ কোন সমাস?
  1. ক) মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) মধ্যপদলোপী বহুব্রহী সমাস
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- আঁখির মণি = আঁখিমণি।
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৮.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) গ্রামছাড়া
  2. খ) গাছপাকা
  3. গ) ধানক্ষেত
  4. ঘ) গরুরগাড়ি
ব্যাখ্যা
অলুক তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন :
গায়ে পড়া = গায়ে পড়া।
ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা 
কলে ছাঁটা = কলে ছাঁটা 
কলের গান=  কলের গান
গরুর গাড়ি =গরুর গাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণ, ২০১৯ এবং ২০২১সংস্করণ ]
৩৯৯.
অলৌকিক – কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।যেমনঃ অলৌকিক, অসাধ্য, নাতিশীতোষ্ণ ইত্যদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪০০.
'দেশসেবা' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট,
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
- দেশের সেবা = দেশসেবা,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।