বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

মোট প্রশ্ন৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৬৪৬

৪০১.
SAP (1986)-এ SAP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Structural Adjustment Program
  2. Social Assistance Project
  3. Sectoral Advancement Plan
  4. Sustainable Agriculture Policy
ব্যাখ্যা
Structural Adjustment Programs (SAP):
- Structural Adjustment Programs (SAP) ছিল IMF ও বিশ্বব্যাংক প্রণোদিত একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কাঠামো, যার মূল লক্ষ্য ছিল ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে বাজার-ভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা।

⇒ ১৯৮৬ সালে  নাইজেরিয়া এসএপি গ্রহণ করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সংস্কার করা।
- বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন করা।
- ব্যবসায়িক এবং কৃষি খাতের নিয়ন্ত্রণ পুনর্বিন্যাস করা।
- অর্থনীতির উৎপাদনশীল ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্য আনা।
- তেল খাতের উপর নির্ভরতা কমানো।
- সরকারের বাজেট ঘাটতি কমানো।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
৪০২.
প্রজাতন্ত্র কোন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করে?
  1. আমলাতান্ত্রিক শাসন
  2. জনগণের সার্বভৌমত্ব
  3. ব্যক্তির একক ক্ষমতা
  4. রাজপরিবারের কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্র (Republic):
- গনতান্ত্রিক সরকারেরই একটা রূপ প্রজাতান্ত্রিক সরকার।
- যে শাসনব্যবস্থা বা সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ নির্বাচিত হন, তাকে "প্রজাতন্ত্র" বলে।
- প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে জনগণ বা জনগণের একাংশ।
- প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি সাধারণত সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকে।
- প্রজাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে। রোমান সাম্রাজ্য ছিল প্রথম প্রজাতন্ত্র।
- প্রজাতন্ত্রের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান হবেন নির্বাচিত ও তাদের নিকট দায়বদ্ধ।

গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মূল পার্থক্য-
- গণতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে সরাসরি জনগণের হাতে। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে পৃথক নাগরিকদের হাতে।
- একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হতেও পারেন আবার না-ও পারেন। কিন্তু একটি প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধানকে নির্বাচিত হতে হবে।
- গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে। প্রজাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা।
- গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা বা জনমত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রে তা সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- অর্থাৎ, গণতন্ত্রে জনমত চাইলে কোনো বিষয়ে তাদের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রে সংবিধানের দেয়া অধিকারকে জনমত ছাড়িয়ে যেতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৪০৩.
উপযোগবাদের মূল ভিত্তি কী হিসেবে বিবেচিত হয়? 
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস
  2. সুখ
  3. কর্তব্য
  4. সততা 
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৪০৪.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো -
  1. সাম্য ,স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
  2. সাম্য ,স্বাধীনতা ও অধিকার
  3. সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
  4. সাম্য ,স্বাধীনতা ও আইন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'

⇒ গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৫.
‘জ্ঞান হয় পুণ্য'-এই উক্তিটি কার?
  1. থেলিস
  2. সক্রেটিস
  3. এ্যারিস্টটল
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা
জ্ঞান:
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে নৈতিক ক্রিয়া বা ন্যায়ের ভিত্তি হলো জ্ঞান।
- তার মতে যার মধ্যে ন্যায়বোধ সম্পর্কে জ্ঞান নেই তার পক্ষে ন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়।
- এজন্যই সক্রেটিস সদগুণ ও জ্ঞানকে একত্রে করে বলেছেন, ''জ্ঞানই পূণ্য''।
- তার মতে ন্যায়ের ভিত্তি হলো প্রকৃত জ্ঞান এবং অন্যায়ের ভিত্তি হলো অজ্ঞতা।

⇒ মূলত: বাক্যটি ছিল এরকম, “Virtue is knowledge’’ বা পূণ্যই জ্ঞান।
- এই বাক্যটিকেই কিছুটা ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, “জ্ঞান হয় পূন্য”।
- এই উক্তিটি পাওয়া যায় প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক Socrates এবং Meno নামক একজন গ্রীক উদীয়মান অভিজাত তরুণের একটি কথোপকথন থেকে।
- এই কথোপকথনটি পাওয়া যায় সক্রেটিস - এর শিষ্য প্লেটোর রচিত গ্রন্থ - Dialogues -এ।

- যেহেতু সক্রেটিসের লিখিত কোন বই এর সন্ধান পাওয়া যায় না; তাই সক্রেটিসকে জানার জন্য তারই ছাত্র প্লেটোর উপর নির্ভর করতে হয়।
- প্লেটো তার রচিত জগদ্বিখ্যাত ‘Dialogues’ গ্রন্থে সক্রেটিসের সাথে অন্যান্যদের জ্ঞানমূলক কথোপকথনগুলোকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছেন। অর্থ্যাৎ, Plato এর Dialogue বইয়ের উক্তিগুলো মূলত সক্রেটিসের; প্লেটোর নিজের উক্তি নয়।
- Dialogue বইটি প্লেটোর রচিত বলে সক্রেটিসের উক্তিগুলো অনেকে প্লেটোর উক্তি বলে মনে করেন। এজন্যই অনেক ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে আলোচ্য প্রশ্নের ক্ষেত্রেও কনফিউশন তৈরী হয়েছে।
সুতরাং, আলোচ্য উক্তিটি নি:সন্দেহে সক্রেটিসের এবং তার ছাত্র, প্লেটো গুরু সক্রেটিসের কথোপথনগুলো সংরক্ষণ করেন এবং তার মাধ্যমেই পরবর্তীতে এটা প্রকাশিত হয়।

উৎস: i) The Dialogues of Plato.
ii) https://psychology.okstate.edu/faculty/jgrice/psyc3120/Meno.pdf
iii) https://www.britannica.com/topic/Meno-by-Plato
iv) নীতিবিদ্যা, মুহাম্মদ আবদুল বারী।
৪০৬.
কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. ভাষা 
  2. প্রতীক 
  3. আইন 
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃতি:
- সাধারণত সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি মার্জিত রুচি বা অভ্যাসগত উৎকর্ষ।
- মানুষের বিশ্বাস ,আচার-আচরন এবং জ্ঞানের একটি সমন্বিত কাঠামোকে সংস্কৃতি বলা যায় ।

- সংস্কৃতির কিছু সাধারন কিছু উপাদান আছে যা হচ্ছে:
ভাষা,
প্রতীক,
→ আচরণবিধি,
নৈতিকতা,
→ মূল্যবোধ,
→ পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস,
→ আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

অন্যদিকে -
- আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৭.
স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. আইন
  2. সরকার
  3. পুলিশ
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
আইন সম্পর্কিত গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
• আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। 
• প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
• গুরুত্বপূর্ণ উৎস- ধর্ম।
• আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
• আইনের মৌলিক উৎস- সংবিধান।
• স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক- আইন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই কাঠামো তৈরি করে আইন।
- আইন বলে দেয়, একজন ব্যক্তি কখন নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে এবং কখন তা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
- যদি কারও স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় (যেমন: অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মত প্রকাশে বাধা), আইন তাকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রতিকার নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪০৮.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কীসের উপর নির্ভরশীল?
  1. রাজনৈতিক দলের উপর
  2. জনমতের উপর
  3. প্রশাসনের উপর
  4. সংসদের উপর
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনমতের গুরুত্ব:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল।  

উল্লেখ্য,
- ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল উভয়ই জনমতকে ভয় করে চলে। সরকার জনকল্যাণ স্থাপনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে তা সাধারণত জনমতের দিকে লক্ষ রেখেই করা হয়ে থাকে। জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ।
- গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা জনগণের শাসন।'
- জনসম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- তাই সরকারের উত্থান, পতন, সাফল্য বহুলাংশে জনমতের উপর নির্ভরশীল।

⇒ জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও স্বার্থের অতন্ত্র প্রহরী হয়ে কাজ করে জনমত।
- আধুনিক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা মূলত জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখেই করা হয়।
- জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে।
- জনমত যতক্ষণ পর্যন্ত কোন সরকারের অনুকূলে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নও পরিবর্তনে জনমতের প্রভাব অপরিসীম।
- সুতরাং জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৯.
“Die to live”-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. কার্ল মার্কস
  3. জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল
  4. ফ্রিডরিখ নিটশে
ব্যাখ্যা

“Die to live”-উক্তিটি করেছেন জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল।

হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৪১০.
অ্যারিস্টটলের মতে সদ্গুণ কীভাবে অর্জিত হয়?
  1. আইনের মাধ্যমে
  2. ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে
  3. অভ্যাসের মাধ্যমে
  4. জন্মগতভাবে
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১১.
অধ্যাপক লাস্কির মতে সাম্যের তিনটি বিশেষ দিক রয়েছে- নিচের কোনটি এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি
  2. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
  3. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন
  4. বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
- বিশেষ সুযোগ সুবিধার উপস্থিতি সাম্যের তিনটি বিশেষ দিক এর অন্তর্ভুক্ত নয়।  

সাম্য: 

- অর্থনীতিতে সাম্যের অর্থ হচ্ছে সুযোগ-সুবিধার সমতা।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "সাম্যের অর্থ হলো প্রথমত সব ধরনের বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত সকলের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত রাখা।"

অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ৩ টি বিশেষ দিক রয়েছে।
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
৩. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১২.
'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক' মতবাদে কে বিশ্বাসী?
  1. লর্ড এ্যাকটন
  2. জি. ডি. এইচ. কোল
  3. জাঁ জ্যাক রুশো
  4. কেউই নয়
ব্যাখ্যা

সাম্য ও স্বাধীনতা:
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটো পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। 
ক. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী'.
খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক'.

⇒ স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন।
- একটির উপস্থিতি অপরটির মৃত্যু ঘটায়। লর্ড এ্যাকটন (Lord Acton) এ মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাম্য ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
বলা বাহুল্য, লর্ড এ্যাকটেনের এ মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তাঁর মতানুসারে স্বাধীনতার অর্থ দাঁড়ায় নিয়ন্ত্রণবিহীন স্বাধীনতা যা প্রকৃত প্রস্তাবে স্বেচ্ছারিতারই নামান্তর। আর সাম্য বলতে বোঝায় সুযোগের সমতা: সকল মানুষ সমান তা নয়।

⇒ 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক। অর্থাৎ সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা। কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য। জি, ডি, এইচ, কোল (G. D. H. Cole) এবং আর, এইচ টনী (R. H. Tawny) উভয়ে এ মতবাদে বিশ্বাসী। তাঁরা সাম্যের উপস্থিতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রকান্ত অপরিহার্য বলে মনে করেন। হার্বার্ট এ, ডীন (Herbert A. Deane) যথার্থই বলেন, "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।" আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটি এক অনন্য সত্য।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৩.
নিচের কোনটি সমাজকর্মের মূল্যবোধ?
  1. আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ
  2. আচার-আচরণ পরিচালনা
  3. সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার
  4. সমান সেবাদান
ব্যাখ্যা
সমাজকর্ম মূল্যবোধ:
- সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা (helping profession), যা সাহায্যার্থীর সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতা সমৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে প্রাপ্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদের সদ্ব্যবহার করে থাকে।
- অন্যান্য পেশার ন্যায় সমাজকর্মেরও কতিপয় পেশাগত মূল্যবোধ রয়েছে, যা সমাজকর্ম মূল্যবোধ নামে পরিচিত।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে পেশাগত মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে সমাজকর্মীর জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ কিছু মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে, যা পেশাগত আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সাধারণত যেসব আদর্শ, বিশ্বাস, ধারণা, মৌলিক নীতিমালা ও স্বীকার্য সত্যের উপর পেশাদার সমাজকর্মের সামগ্রিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোর সমষ্টিই হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।

⇒ সমাজকর্ম মূল্যবোধ সম্পর্কে জুডিথ সেভেন ও অন্যান্যরা তাঁদের "Social Work Skill: Demonstrated Begining Direct Practice" গ্রন্থে বলেন, "সমাজকর্ম একটি অনুশীলনধর্মী পেশা, যা কিছু মৌলিক মূল্যবোধ যেমন- আত্মনিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতায়ন, গোপণীয়তা এবং সকল মানুষের মূল্য ও মর্যাদার বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।"
- সমাজবিজ্ঞানী চালর্স এ. লেভী (Charles S. Levy) তাঁর "The Value Base of Social Work" গ্রন্থে বলেন, "জনগণের পছন্দ, ফলাফল, তাদের অধিকতর পছন্দের ধারণা ও জনগণের সাথে কাজ করার রীতিগত সমষ্টি হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।"

⇒ সমাজকর্ম একটি মানবকল্যাণমুখী পেশাগত কর্মকাণ্ড।
- সমাজকর্ম অনুশীলন ও সমাজকর্মীর কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশনা প্রদান ও পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সমাজকর্ম মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ।
- যেমন- ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অধিকার, সকলের সমান সুযোগ দান, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ইত্যাদি।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৪.
‘প্রজাতন্ত্র’ এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Democracy
  2. Republic
  3. Presidential
  4. Parliamentary
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল (democracy)।
- এই শব্দটি Demos ও Kratos শব্দদ্বয় থেকে উদ্ভুত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনগণ এবং Kratos শব্দের অর্থ ক্ষমতা।
- গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে আব্রাহাম লিংকন বলেন, “গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য সরকার"। অর্থাৎ গণতন্ত্র হল জনগণের কল্যাণের জন্য জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার।
- গণতান্ত্রিক সরকার দু'ধরনের- (ক) প্রজাতন্ত্র এবং (খ) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।

⇒ প্রজাতন্ত্র (Republic):
- প্রজাতন্ত্র বলতে গণতান্ত্রিক সরকারকে বুঝায়।
- এটি এমন এক ধরনের সরকার যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়।
- রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যায় না। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত। কাজেই এটি প্রজাতন্ত্র। কিন্তু বৃটেন প্রজাতন্ত্র নয়। কেননা সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করা যায়।
- বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৫.
’Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হেগেল
  2. এইচ. ডি. স্টেইন
  3. কার্ল মার্কস
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

⇒ Political Ideals গ্রন্থে তিনি বলেছেন:
- রাজনৈতিক আদর্শ ব্যক্তিজীবনের আদর্শের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।
- বাট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
• The Elements of Ethics,
• Human Society in Ethics and Politics,
• Moral and others,
• Power: A New Social Analysis,
• Political Ideals,
• Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com

৪১৬.
'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. হেরোডোটাস
  2. আব্রাহাম লিঙ্কন
  3. বার্কার
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে। 
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- বার্কারের মতে, 'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৭.
ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে, আমরা যা তা হলো ___ এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো _________'
  1. সংস্কৃতি, সভ্যতা
  2. সভ্যতা, সংস্কৃতি
  3. সভ্যতা, সমাজ
  4. সমাজ, সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, 
• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে 'আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা'।

এছাড়াও, 
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৮.
আইন মূলত কী নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. মানুষের চিন্তা
  2. মানুষের কল্পনা
  3. মানুষের বাহ্যিক আচরণ
  4. মানুষের আবেগ
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।

- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" 
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।" 
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়। আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪১৯.
মানব উন্নয়ন সূচকের মৌলিক নির্দেশক কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

HDI:
- HDI-এর পূর্ণরূপ: Human Development Intex বা মানব উন্নয়ন সূচক।
- UNDP কর্তৃক মানব উন্নয়ন সূচক তথা HDI ধারণাটির উদ্ভাবন হয়।
- HDI মূলত তিনটি প্রধান উপাদানের উপর ভিত্তি করে:
• আয়: এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
• শিক্ষা: মানুষের শিক্ষা গ্রহণের হার, যার মধ্যে গড় বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের বছর এবং শিক্ষার প্রসারের হার অন্তর্ভুক্ত।
• আয়ু: গড় আয়ু, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু পরিস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কোনো দেশের মানব উন্নয়ন সূচক বা HDI টি যদি ০.৫৫০ এর নিচে হয় সে দেশটিকে অনুন্নত দেশ বলা হয়।
- কোন দেশে HDI যদি ০.৫৫০ - ০.৭৯৯ হয় সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়।
- যদি ০.৮০ থেকে বেশি হয় সেসব দেশকে আমরা উন্নত দেশ বলি।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৪২০.
"আদিম মানুষের জীবন ছিল শান্তি, সদিচ্ছা আর সুখে পরিপূর্ণ"- উক্তিটি করেছেন-
  1. রাসেল
  2. ভল্টেয়ার
  3. হবস
  4. রুশো
ব্যাখ্যা
প্রবৃত্তি বা প্রবণতার স্তর:
 - প্রবণতা বেঁচে থাকার ব্যাপারে বেশ সহায়তা করে। আদিম মানুষেরও মূল সমস্যা ছিল বেঁচে থাকা।
- নৈতিকতার বিকাশের প্রবৃত্তির স্তরটিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দার্শনিক রুশো মনে করতেন যে, "আদিম মানুষের জীবন ছিল শান্তি, সদিচ্ছা আর সুখে পরিপূর্ণ।"
- কিন্তু জীবনের জন্য এসব গুণ উত্তম বলে বিবেচিত হলেও জীবন রক্ষার জন্য আক্রমণাত্মক মনোভাবও অপরিহার্য।
- এ কারণে তাদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই পশু-প্রবণতাগুলোর প্রাধান্য কল্পনা করা যায়।
-অর্থাৎ জ্যঁ জাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) এই মতবাদ প্রচার করেছিলেন যে আদিম মানুষের জীবন ছিল শান্তি, সদিচ্ছা এবং সুখে পরিপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৪২১.
লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে কয় ভাগে ভাগ করেন?
  1. ২ ভাগে 
  2. ৩ ভাগে 
  3. ৫ ভাগে 
  4. ৬ ভাগে 
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরােধী কনভেনশনের নাম-
  1. UNCLOS
  2. UNCTAD
  3. UNCAC
  4. CEDAW
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন:
- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) বা জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন (ইউএনএসি)) হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

⇒ প্রধান পাঁচ কার্যক্রম:
i) অপরাধ প্রতিরোধ,
ii) আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষে্‌
iii) আন্তর্জাতিক সহযোগিতা,
iv) সম্পত্তি উদ্ধা্‌
v) কারিগরি সহায়তা ও তথ্য বিনিময়।

উল্লেখ্য,
- দুর্নীতি বিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ৩১ অক্টোবর ২০০৩ তারিখে জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন পাস হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
৪২৩.
আধুনিক রাষ্ট্রে কারা আইন প্রণয়ন করেন?
  1. মন্ত্রীবর্গ
  2. বিচারপতিগণ
  3. সংসদ সদস্যগণ
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
আইন:
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা। 

⇒ আইন সভা:
- আইন সভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। আধুনিক রাষ্ট্র সাধারণত জন কল্যাণে নিয়োজিত থাকে। ফলে সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। তাই আইন সভার সদস্যগণ জন কল্যাণে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে নতুন নতুন অনেক বিষয়কে আইনে রুপান্তর করার জন্য তা বিল (আইনের খসড়া) আকারে আইনসভায় উত্থাপন করে থাকে। বিষয়টি যদি সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামত প্রাপ্ত হয় তবে তা আইনে পরিণত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪২৪.
নিম্নের কোনটি বিকৃত সরকারের উদাহরণ?
  1. ন্যায়তন্ত্র
  2. অভিজাততন্ত্র
  3. রাজতন্ত্র
  4. স্বৈরতন্ত্র
ব্যাখ্যা
উদ্দেশ্য নীতি (Principle of Purpose):
- উদ্দেশ্য নীতির অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা শাসক বা শাসক-শ্রেণির স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে নাকি জনসাধারণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং শাসক বা শাসকশ্রেণি কী উদ্দেশ্যে কাজ সম্পাদন করতে চায়।
- এরিস্টটল উদ্দেশ্য নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকটি সরকারকে আবার দু'ভাগে বিভক্ত করেছেন।
(i) স্বাভাবিক সরকার (Normal Government) এবং
(ii) বিকৃত সরকার (Perverted Government) | 

⇒ স্বাভাবিক সরকার:
- যে শাসনব্যবস্থা জনকল্যাণে নিয়োজিত এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সে সরকারকে এরিস্টটল স্বাভাবিক শাসনব্যবস্থা বা সরকার বলেছেন।
- এখানে শাসক ব্যক্তি স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করেন।
- রাজতন্ত্র (Monarchy), অভিজাততন্ত্র (Aristocracy) এবং ন্যায়তন্ত্র (Polity) হচ্ছে স্বাভাবিক সরকার।

⇒ বিকৃত সরকার:
- জনকল্যাণের পরিবর্তে যখন শাসক বা শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই সরকার পরিচালিত হয়, এরিস্টটল তাকে বিকৃত শাসনব্যবস্থা বা সরকার নামে অভিহিত করেছেন।
- স্বৈরতন্ত্র (Tyranny), কতিপয়তন্ত্র (Oligarcly) এবং গণতন্ত্র হচ্ছে (Democracy) বিকৃত সরকার। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৫.
নেতৃত্ব একটি _____ গুণ।
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আদর্শিক
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জনগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে, জাতিকে উন্নতির দিকে অগ্রসর করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক।
- জনপ্রিয় নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বই গণতন্ত্রের বাহন। 

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪২৬.
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কোনটি?
  1. ফৌজদারি আইন
  2. প্রশাসনিক আইন
  3. সাংবিধানিক আইন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়:
(১) সরকারি আইন,
(২) বেসরকারি আইন,
(৩) আন্তর্জাতিক আইন।

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।
- সরকারি আইন আবার কয়েক প্রকার।
- যেমন:
• ফৌজদারি আইন,
• প্রশাসনিক আইন,
• সাংবিধানিক আইন।

• ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

সাংবিধানিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৭.
হল্যান্ড ও ওপেনহাইমের আইনের উৎসসমূহের মধ্যে মূল পার্থক্য কোনটি?
  1. প্রথা
  2. ধর্ম
  3. জনমত
  4. আইনসভা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) জনমত।

আইন ও আইনের উৎস:

- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি, তা হলো সার্বভৌমের আদেশ।

উল্লেখ্য,
⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে, আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্রথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪২৮.
পূর্ণতাবাদ অনুসারে নৈতিকতার মানদণ্ড কী?
  1. সুখ লাভ
  2. অর্থ সম্পদ 
  3. আত্মোপলব্ধি
  4. ক্ষমতা অর্জন
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৯.
লর্ড ব্রাইসের মতে, আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. সহানুভূতি
  3. নির্লিপ্ততা
  4. আনুগত্য 
ব্যাখ্যা

- লর্ড ব্রাইস মানুষের আইন মানার পেছনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন: নির্লিপ্ততা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, শাস্তির ভয় এবং যৌক্তিকতার উপলব্ধি। এর মধ্যে 'অনুগত্য ' অন্তর্ভুক্ত নয়।

আইন মান্য করার কারণ:

- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩০.
'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত _______ স্বাধীনতা অর্থহীন'।
  1. নৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩১.
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কততম লক্ষ্যে 'শান্তি ও ন্যায়বিচার'-এর কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৪তম
  2. ১৫তম
  3. ১৬তম
  4. ১৭তম
ব্যাখ্যা
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আদলে ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টস গোল (এসডিজি) গ্রহণ করে।
- এসডিজিতে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ১৬৯টি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্যে লক্ষ্যস্থির করা হয়।
- মেয়াদকাল: ২০১৬-২০৩০ সাল।
- বাস্তবায়ন শুরু: ১ জানুয়ারি, ২০১৬ সাল।
- মেয়াদ শেষ: ৩১ ডিসেম্বর, ২০৩০ সাল।

⇒ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা হলো:
১. দারিদ্র্য বিলোপ;
২. ক্ষুধা মুক্তি;
৩. সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ;
৪. মানসম্মত শিক্ষা;
৫. লিঙ্গ সমতা;
৬. নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন;
৭. সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি;
৮. শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
১০.অসমতার হ্রাস;
১১. টেকসই নগর ও জনপদ;
১২. পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন;
১৩. জলবায়ু কার্যক্রম;
১৪. জলজ জীবন;
১৫. স্থলজ জীবন;
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান;
১৭. অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব৷

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৩২.
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) রিপোর্ট কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. বিশ্ব ব্যাংক
  2. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
- মানব উন্নয়ন সূচক হল (Human Development Index, HDI) একটি পরিমাপের সূচক, যা একটি দেশের মানব উন্নয়নের বিভিন্ন মাত্রার মূল্যায়ন করে।
- মানব উন্নয়ন সূচক রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)।
- এটি মূলত তিনটি প্রধান দিক নিয়ে গঠিত:
১) এটি একটি দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু মূল্যায়ন করে।
২) এটি সাক্ষরতার হার এবং শিক্ষার স্তর বিবেচনা করে।
৩) এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

- HDI-র মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মিলিত চিত্র পাওয়া যায়, যা উন্নয়ন নীতি ও প্রোগ্রাম প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।
৪৩৩.
"Society is the whole system of social relationship"-এ উক্তিটি কার?
  1. রুশো
  2. গার্নার
  3. এরিস্টটল
  4. ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা

সমাজ:
- রাষ্ট্র ও সমাজ দুটি ভিন্নধর্মী সংগঠন। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে সংস্থার সৃষ্টি হয় তাই সমাজ।
- ম্যাকাইভার বলেন "Society is the whole system of social relationship."
- সমাজ হচ্ছে গোটা সামাজিক সম্পর্কের ব্যবস্থা।
- যেখানেই মানুষ পরস্পর স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়েছে সেখানেই সমাজ গড়ে উঠেছে।
- এডমন্ড তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, Reflection of the Revolution in France-এ উল্লেখ করেছেন যে সমাজ একটি সংঘবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- গিডিংসের মতে, "সমাজ বলতে এমন এক সংঘবদ্ধ জনসমষ্টিকে বুঝায় যারা কোন সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মিলিত হয়েছে।"
- সমাজ সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
- রাষ্ট্র সমাজের এক প্রধান সংগঠন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একজন নাগরিকের অন্যতম প্রধান কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রের সেবা দান
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. কর প্রদান
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

 সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন।
- নিয়মিত কর প্রদান। 
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৩৫.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি সদগুণ নয়?
  1. প্রজ্ঞা
  2. সাহস
  3. বিনয়
  4. উদারতা
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলা হয়, সেটাকে বাংলায় বলে - সদগুণ।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা। 
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদগুণ বলা হয়।

- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।  
এগুলো হচ্ছে : 
- প্রজ্ঞা,
- সাহস, 
- বিনয় ও 
- ন্যায়। 

উল্লিখিত প্রশ্নে 'উদারতা' প্লেটোর মতে সদগুণ নয়। 

- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য কোনটি?
  1. প্রশাসন
  2. সমিতি
  3. প্রথা
  4. আইন
ব্যাখ্যা
আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য।
- সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
Johannesburg Plan of Implementation মূলত কোন বিষয়ের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক স্থাপন করে?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. সামাজিক উন্নয়ন
  3. পেশাগত উন্নয়ন
  4. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• Johannesburg Plan of Implementation:
- Johannesburg Plan of Implementation জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত। 
- ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ  শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementation গৃহীত হয়। 
- Johannesburg Plan of Implementation সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়। 
- এখানে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
 
তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
৪৩৮.
অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী নামে অভিহিত করেছেন?
  1. Interest Group
  2. Pressure Group
  3. Political Group
  4. Lobby
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।

উল্লেখ্য,
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন: ১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী, সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী, অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী, প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৩৯.
ব্যক্তির, নাগরিকের রাজনৈতিক সামাজিকিকরণের সূতিকাগার কোনটি?
  1. পরিবার
  2. আইনসভা
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. সংবাদ মাধ্যম
ব্যাখ্যা
জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।
- জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

⇒ আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। 

• পরিবার:
- ব্যক্তির, নাগরিকের রাজনৈতিক সামাজিকিকরণের সূতিকাগার হল পরিবার।
- শৃঙ্খলা, নিয়ম-নীতি, নির্দেশনা, আনুগত্য, মতপ্রকাশ, শিষ্ঠাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, চিন্তা ও আদর্শ- এ সবই শিশুকাল থেকে শুরু করে সারাজীবন ধরে শেখে এবং অর্জন করে নিজ পরিবার থেকে।
- রাষ্ট্রে জনমত গঠনে পরিবার তাই প্রাথমিক ও স্থায়ী বাহন।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪০.
কার মতে সার্বভৌম শাসকের আদেশই আইন?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. ওপেনহাইম
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হল ফার্সি শব্দ যার অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম। 
- আইন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Law"। Law শব্দের অর্থ স্থির বা অপরিবর্তনীয় এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। 
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন"।
- The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, "আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম"।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।"
- জন অস্টিন বলেন, "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"।
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন হল মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪১.
সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ যে মতবাদ তাকে কী বলা হয়?
  1. ভাববাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. কর্তব্যবাদ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৪৪২.
দুর্নীতি প্রতিরোধে জরুরি- 
  1. মূল্যবোধ জাগ্রত না করা
  2. আইনের সংশোধন না করা 
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  4. জনগণের মধ্যে অসচেতনতা
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়: 
- দুর্নীতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- দুর্নীতি সরকারি নীতিসমূহকে কলুষিত করে ও সম্পদের বে-আইনী বন্টন ঘটায়।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা,
- আইনের সংশোধন ও যথাযথ বাস্তবায়ন,
- মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ জরুরি।
- দুর্নীতিকে বর্জন করার জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক নেতৃবন্দের সৎ ও নির্দেশনামূলক পরামর্শ,
- সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
- তাহলেই সমাজ থেকে 'দুর্নীতি' নামক বিষয়টি দূরীভূত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৩.
‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই।’—উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. আর্নেস্ট বার্কার
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. টি এইচ গ্রিন
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৪.
সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
  2. কর্মের অধিকার
  3. চলাফেরার অধিকার
  4. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. সভা-সমিতির অধিকার।
৫. চলাফেরার অধিকার।
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার।
৯. সম্পত্তির অধিকার।
১০. ধর্মের অধিকার।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৪৫.
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কোনটি অধিকতর প্রয়োজন?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  3. দায়িত্ববোধ
  4. ধর্মীয় সহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা:
- ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বলতে বোঝায় একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্য ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য "ধর্মীয় সহিষ্ণুতা" সবচেয়ে প্রয়োজন।
- ধর্মীয় সহিষ্ণুতা মানুষের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে, যা বিভিন্ন ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।ঃ

উল্লেখ্য,
- সামাজিক সেতুবন্ধন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সহনশীলতা ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে সহায়তা করে।
- শৃঙ্খলাবোধ সমাজে নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
জাতিসংঘ (UN) সুশাসন বাস্তবায়নে কয়টি মূল নীতি অনুসরণ করে?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি 
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন দ্বারা সরকারি সম্পদ ও ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন করা হয়।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

- ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ "Human Development Report" প্রকাশ করে সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
- জাতিসংঘ সুশাসন বাস্তবায়নে মোট ৮টি মূল নীতি অনুসরণ করে—
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনের শাসন (Rule of Law),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- প্রতিক্রিয়াশীলতা (Responsiveness),
- ঐক্যমত্য (Consensus Oriented),
- সাম্য ও অন্তর্ভুক্তিকরণ (Equity and Inclusiveness),
- কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency),
- জবাবদিহিতা (Accountability)।
- প্রতিটি নীতি সুশাসনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৪৪৭.
'মেরিডা কনভেনশন' নিম্নের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. জেন্ডার বৈষম্য
  3. দুর্নীতি
  4. সমস্যা সমাধানে সুশীল সমাজের উদ্যোগ
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন:
- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) বা জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন (ইউএনএসি)) হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

⇒ প্রধান পাঁচ কার্যক্রম:
i) অপরাধ প্রতিরোধ,
ii) আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষে্‌
iii) আন্তর্জাতিক সহযোগিতা,
iv) সম্পত্তি উদ্ধা্‌
v) কারিগরি সহায়তা ও তথ্য বিনিময়।

উল্লেখ্য,
- দুর্নীতি বিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ৩১ অক্টোবর ২০০৩ তারিখে জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন পাস হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
৪৪৮.
আইনগত কর্তব্য কোনটি?
  1. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
  2. সততার সাথে ভোট প্রদান করা
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  4. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক

৪৪৯.
যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামতকে কী বলা হয়?
  1. প্রচারণা
  2. জনমত
  3. সিদ্ধান্ত
  4. আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমত: 
- যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে সাথে জনমতের ধারণাও বিকশিত হতে থাকে।
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল।
- গণতন্ত্র ও জনমত প্রায় সমার্থক শব্দ।
- গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন।
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনমত ও সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৫০.
Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে বিভক্ত করেছেন- 
  1. ৩ ভাগে
  2. ৪ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৬ ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
”যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না” - কার অভিমত?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. জন লক
  4. মার্টিন লুথার কিং
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের অভিমত, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৫২.
নিম্নের কোনটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য নয়?
  1. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান
  2. শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত। যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান, রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
"আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল”- উক্তিটি বলেছেন কে?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. স্যার হেনরি মেইন
  3. জন অস্টিন
  4. এ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা

- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৪.
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো— বুদ্ধি, আত্মসংযম এবং আর কোন গুণ?
  1. বিবেক 
  2. প্রজ্ঞা
  3. নিষ্ঠা
  4. জ্ঞান
ব্যাখ্যা

সুনাগরিক:
- সুনাগরিক ছাড়া সমাজ সুন্দর ও সার্থক হতে পারে না।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।
-  অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইটের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো− জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১ এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৫.
আইন কী?
  1. প্রথা ও নিয়ম
  2. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বিধিবিধান
  3. প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাস
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বিধিবিধান।

আইন:

- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা।

⇒ আইন সভা:
- আইন সভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। আধুনিক রাষ্ট্র সাধারণত জন কল্যাণে নিয়োজিত থাকে। ফলে সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। তাই আইন সভার সদস্যগণ জন কল্যাণে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে নতুন নতুন অনেক বিষয়কে আইনে রুপান্তর করার জন্য তা বিল (আইনের খসড়া) আকারে আইনসভায় উত্থাপন করে থাকে। বিষয়টি যদি সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামত প্রাপ্ত হয় তবে তা আইনে পরিণত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৫৬.
প্লেটো সদগুণ বলতে নিচের কোনটিকে বোঝান নি?
  1. প্রজ্ঞা
  2. সুখ
  3. সাহস
  4. ন্যায়
ব্যাখ্যা
সদগুণ:
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার বা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৭.
ভদ্রবেশী অপরাধ কোনটি? 
  1. ছিনতাই
  2. দুর্নীতি
  3. মাদকাসক্তি
  4. নারী নির্যাতন
ব্যাখ্যা

• অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৫৮.
রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক, যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য মতবাদ -
  1. বিবর্তনমূলক মতবাদ
  2. সামাজিক চুক্তি মতবাদ
  3. ঐশ্বরিক মতবাদ
  4. বল প্রয়োগ মতবাদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উৎপত্তি:
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- সমাজ জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র গঠন করে।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান।

⇒ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদ ও প্রবক্তা:
১. ঐশ্বরিক মতবাদ:
- প্রবক্তা: সেন্ট অগাস্টিন।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বা পুরনো মতবাদ হলো ঐশ্বরিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূল কথা হলো- বিধাতাই রাষ্ট্রের সৃষ্টিকর্তা।
- রাজা বা শাসক, সৃষ্টি কর্তার প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
- শাসক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়।
- শাসকের মনোনয়ন কিংবা বিনাশ জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়।
- তবে শাসক ঈশ্বরের কাছে দায়বদ্ধ।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
- বল প্রয়োগ মতবাদের মূল কথা হলো, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।
- অধিক শক্তিশালী গোত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল গোত্রকে পরাজিত করে।
- পরবর্তীতে পরাজিত গোত্রের ওপর আইন কানুন চাপিয়ে আনুগত্য আদায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করা হয়।
- এই মতবাদ অনুযায়ী শক্তিই হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ পরম শান্তিতে বসবাস করত।
- তারা প্রাকৃতিক আইন মেনে চলত।
- কিন্তু কালক্রমে সমাজে সম্মত্তির ধারণা বিস্তার লাভ করায় প্রাকৃতিক আইন নিয়ে মতভেদের কারণে সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয়।
- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসক কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে।

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ;
- আধুনিক, যক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি কোন আকস্মিক ঘটনা নয়।
- ঐতিহাসিক বিবর্তনের পথে নানা উপাদানের প্রভাবে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
- বিবর্তনবাদকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, যুক্তিযুক্ত ও সর্বজন গ্রাহ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
- সুতরাং রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদই বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক মতবাদ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৯.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল” উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকিয়াভ্যালি
  2. জন লক
  3. লাস্কি
  4. রুশো
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- জাঁ জ্যাক রুশো (Rousseau) বলেছেন যে, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, “যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে”।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬০.
কোন গ্রিক দার্শনিক 'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণার প্রবক্তা?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. ডেমোক্রিটাস
  4. হেরাক্লিটাস
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):

- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবক্তা।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব। এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো গোল্ডেন মিন।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪৬১.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের কয়টি গুণ থাকা উচিত?
  1. ২টি 
  2. ৩টি 
  3. ৪টি 
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিক:
- সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

» সুনাগরিকের গুণাবলি:
- লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের গুণ ৩টি।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও পত্রিকা রিপোর্ট।

৪৬২.
বাংলাদেশ কত সালে প্রথম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়?
  1. ২০০৭
  2. ২০১৭
  3. ২০০৩
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস:
- ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর মেক্সিকোর মেরিডা শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন।
- খসড়াকৃত দুর্নীতি বিরোধী চুক্তিতে সকল দেশ একই বছরের ৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষর করে।
- দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস ঘোষণা করে।
- দিবসটি ২০০৩ সালে প্রথম পালিত হয়।
- বাংলাদেশ ২০১৭ সালে প্রথম পালন করে।

উল্লেখ্য,
- দুদক ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে।
 - তবে সরকারিভাবে ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ ঘোষণা করে।
- বাংলাদেশে সরকারিভাবে ২০১৭ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
৪৬৩.
প্লেটোর মতে, মৌলিক সদগুণের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. জ্ঞান
  2. সাহসিকতা
  3. ক্ষমা
  4. ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

৪৬৪.
'Hedonism' বলতে নিম্নের কোনটি বোঝায়?
  1. সুখবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. আকারবাদ
  4. স্বজ্ঞাবাদ 
ব্যাখ্যা

Hedonism বা সুখবাদ:
- গ্রীক 'hedone' শব্দের অর্থ 'সুখ' (pleasure)।
- কাজেই, যে মতবাদ অনুসারে সুখই জীবনের পরমার্থ, তাকে বলা হয় 'Hedonism' বা 'সুখবাদ'
- সাধারণত সেইসব প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিক (empiricists) সুখবাদের সমর্থক যারা মনে করেন যে, মানুষ মূলত ইন্দ্রিয়াসক্ত এবং ইন্দ্রিয়সেবার মাধ্যমে সুখলাভই তার একমাত্র লক্ষ্য।
 মানুষের জীবনে সুখই কেবল স্বতঃমূল্যবান, আর সবই পরতঃমূল্যবান।
- আমরা অর্থ, বিত্ত, স্বাস্থ্য ইত্যাদি কামনা করি ঐ সবের জন্য নয়, কামনা করি সুখের আশায়।
- সুখকে কামনা করি কেবল সুখের জনাই।
- সুখবাদীরা সুখের বিচারে কর্মের নৈতিক বিচার করেন যে কাজ দুঃখের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুখ দেয় তা 'ভাল', আর যে কাজ সুখের তুলনায় অধিক পরিমাণে দুঃখ দেয় তা 'মন্দ'।

অন্যদিকে,
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে। একে বুঝতে হলে পূর্ণতা শব্দটির অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism): স্বজ্ঞা এমন একটি বৃত্তি যার সাহায্যে আমরা প্রত্যক্ষভাবে বুদ্ধি বা সংবেদনের সাহায্য ছাড়াই কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানলাভ করতে পারি।
- আকারবাদ (IFormalism): নৈতিকতা সামাজিক ব্যাপার হলেও এর মর্যাদার কারণেই এর ভিত্তিটি মানবিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে প্রোথিত। ঐ উৎস থেকে নিয়ম বা আইনের আকারে এ উৎসারিত হয়।

উৎস: i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৫.
আমলাতন্ত্রে কোন ধরনের মূল্যবোধের ভারসাম্য থাকে?
  1. সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক ও পেশাগত মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

⇒ আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।

উল্লেখ্য,
- 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়। এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৬৬.
উদারতাবাদ মূলত কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেয়?
  1. ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশ
  2. রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  3. ঐতিহ্য ও প্রথা বজায় রাখা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

উদারতাবাদ:
- উদারতাবাদ বা Liberalism শব্দটি ল্যাটিন Liber শব্দ হতে উদ্ধৃত।
- Liber শব্দের অর্থ স্বাধীন।
- শব্দগত অর্থে তাই উদারতাবাদ হচ্ছে স্বাধীনতার মতবাদ।
- সাধারণভাবে উদারতাবাদ বলতে সেই মতবাদকে বুঝায়, যা' ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায় বলে মনে করে এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে সীমিত করতে চায়। 

⇒ আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে উদারতাবাদ গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নামেও সমধিক প্রচলিত।
- চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংঘ বা সমিতি গঠনের স্বাধীনতার সমন্বয়ে ব্যক্তি নাগরিকের অধিকারের যে সৌধ বা ইমারত গড়ে ওঠে, উদারতাবাদ তারই ফল।

⇒ উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।
- সে হিসেবে অধ্যাপক হ্যালোয়েলের (Hallowell) ভাষায়, "উদারতাবাদ শুধুমাত্র একটি চিন্তাধারা নয়, এটি একটি জীবনদর্শনও বটে। জীবনদর্শন হিসেবে এটি মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষাগুলোকে প্রতিফলিত করে থাকে।"
- অনেকে একে অবাধ পুঁজি ও ধনতান্ত্রিক বিকাশের মতাদর্শিক আন্দোলন বলেও মনে করে থাকেন।

উৎস: i)রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৪৬৭.
ওয়াশিংটন কনসেনসাস নামক ধারণার প্রথম প্রবর্তক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. জন উইলিয়ামসন
  3. অ্যাডাম স্মিথ
  4. জেফ্রি স্যাকস
ব্যাখ্যা

ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নামক ধারণার প্রথম প্রবর্তক হলেন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন উইলিয়ামসন (John Williamson)।
- তিনি ১৯৮৯ সালে এই ধারণাটি ব্যবহার করেন।
- তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিকস এর একজন অর্থনীতিবিদ।
- প্রেক্ষাপট: ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য এই নীতির সুপারিশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল রাজস্ব শৃঙ্খলা, বাণিজ্য উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ, এবং সরকারি ব্যয় পুনর্বিন্যাস। 

উল্লেখ্য,
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- এটি মুক্ত-বাজার অর্থনৈতিক নীতির একটি গুচ্ছ বোঝায়।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।

⇒ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই ধারণাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
- নীতিগুলো হচ্ছে: বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.

৪৬৮.
"গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার" উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. স্যার জন সীলি
  4. কার্ল জি ফ্রেডরিখ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন।
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।"
- (Democracy is a government of the people, for the people and by the people) জনগণের সরকার বলতে জনগণের প্রতি অনুগত সরকারকে বুঝায়।


উল্লেখ্য,
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।
- ১৮৬১ সালে আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন।
- তিনি আমেরিকার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.
৪৬৯.
'আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা' কে বলেছেন?
  1. হল্যান্ড
  2. স্যামন্ড
  3. এরিস্টটল
  4. লাস্কি
ব্যাখ্যা
আইন:
আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।”
আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

উল্লেখ্য,
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
-আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
-আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
-সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।
-আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭০.
আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNDP
  2. Institute of Economic and Peace
  3. The Economist Intelligence Unit
  4. World Justice Project
ব্যাখ্যা

World Justice Project (WJP):
- আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে World Justice Project (WJP)।
- ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক তৈরি করা হয়।
- এগুলো হলো: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ, জননিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, দুর্নীতি, সরকারি তথ্য প্রকাশ, দেওয়ানি বিচার ও ফৌজদারি বিচার।
- ‘WJP Rule of Law Index' শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে বাষির্ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

উল্লেখ্য,
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে থাকে।

এছাড়াও, বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।

৪৭১.
সোফিস্টদের মতে জ্ঞান লাভের প্রধান মাধ্যম কী?
  1. ধর্মীয় গ্রন্থ
  2. ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণ
  3. জন্মগত জ্ঞান
  4. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নীতি বিদ্যা ও অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- সোফিস্টরা নীতি বিদ্যাকে সর্বপ্রথম জনসম্মুখে আনেন। সোফিস্টদের মূলমন্ত্র: মানুষ সব কিছুর পরিমাপক।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৪৭২.
"ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার" কোন শ্রেণির অধিকার?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

• আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৩.
ইমানুয়েল কান্ট কোন নৈতিক মানদণ্ডের প্রবক্তা?
  1. উপযোগবাদ
  2. প্রকৃতিবাদ
  3. কর্তব্যবাদ
  4. অস্তিত্ববাদ
ব্যাখ্যা

কর্তব্যমুখী নৈতিকতা:
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

অন্যদিকে -
- উপযোগবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা ইংরেজ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম। 
- অস্তিত্ববাদ তত্ত্বের প্রবক্তা ডেনিশ দার্শনিক সোরেন কিয়ের্কেগার্ড। 
- প্রকৃতিবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।

উৎস: Britannica.

৪৭৪.
রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের কোন শ্রেণির অধিকার?
  1. নৈতিক
  2. আইনগত 
  3. রাষ্ট্রীয়
  4. সর্বজনীন
ব্যাখ্যা

অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়। এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়। যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

⇒ অধিকারকে প্রথমে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।  যথা:
১. নৈতিক অধিকার ও
২. আইনগত অধিকার।

• আইনগত অধিকার:
- আইনগত অধিকার বলতে ব্যক্তির সে অধিকারকে বোঝায় যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং অনুমোদিত। আইনগত অধিকারের উৎস হচ্ছে রাষ্ট্র। আইনগত অধিকারকে আবার কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন:

রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার। 

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার। 

⇒ সাংস্কৃতিক অধিকার:
- নিজ ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও ধর্মীয় প্রথা-প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী জীবন গঠন ও পরিচালনার অধিকারকে সাংস্কৃতিক অধিকার বলে। অবশ্য বর্তমান যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসনের ফলে কোন কোন জনগোষ্ঠীর সনাতন সংস্কৃতির পরিবর্তন সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এভাবে অপসংস্কৃতির জন্য হতে পারে আবার সংস্কৃতি সমৃদ্ধও হতে

⇒ ধর্মীয় অধিকার:
- স্বাধীনভাবে ধর্মগ্রহণ, পালন, ধর্ম পরিবর্তন ও নিজ ধর্মের বিকাশে কর্তব্য পালন, অন্য ধর্মের জন্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা দিতে বাধ থাকার স্বাধীনতাকে ধর্মীয় অধিকার বলে। ধর্মকে কেন্দ্র করে এক জাতির চাল-চলন ও আচরণ, বিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থা পৃথক হতে পারে। ধর্মীয় অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অধিকার।

⇒ ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৫.
'জাতিসংঘ মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এর বাংলাদেশের অবস্থান কত? [ সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৩৫ তম
  2. ১৩০ তম
  3. ১২৫ তম
  4. ১২৮ তম
ব্যাখ্যা

'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫':
- ইউএনডিপি (UNDP) 'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এ বাংলাদেশের
অবস্থান ১৩০ তম।

অন্যদিকে,
- মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান:
- শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৮৯ তম।
- ভারতের অবস্থান ১৩০ তম।
-পাকিস্তানের অবস্থান ১৬৮ তম।
- নেপালের অবস্থান ১৪৫ তম।
- ভূটানের অবস্থান ১২৫ তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৪৭৬.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান প্রবক্তা কে ?
  1. ডাইসি 
  2. এরিস্টটল
  3. হবস
  4. মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা: 
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য মন্টেস্কুকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে− আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে। 

অন্যদিকে,
- মহামতি এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন।
- তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন।
- এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।
- মার্সিলিও অব পাদুয়া ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির জোরালো সমর্থক ছিলেন।
- তিনি রোমান সম্রাটদের যুগে এবং সামন্তবাদী মধ্যযুগে লুপ্ত হওয়া ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণকে পুনর্জীবিত করেন।
- তিনি সরকারের আইন প্রণয়ন ও শাসন কার্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রচনা করেন।
- ষোড়শ শতাব্দীতে জীন বদিন সম্রাট কর্তৃক বিচার ক্ষমতা প্রয়োগের বিপদ সম্পর্কে ইঙ্গিত দান করেন এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখার পক্ষে রায় দান করেন।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৪৭৭.
উপযোগবাদের মূল নীতি কোনটি?
  1. ব্যক্তিসুখই সর্বোচ্চ
  2. কর্তব্য পালনই নৈতিকতা
  3. নৈতিকতা আপেক্ষিক
  4. সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ সুখ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে। 
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৪৭৮.
জীবন ধারণের অধিকার কোন ধরনের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. ধর্মীয় অধিকার
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকার:
- যে সকল অধিকার সভ্য সমাজে বাস করার জন্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক অধিকার বলে।
- যেমন-জীবন ধারণের অধিকার, সম্পত্তি রক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি।
- এ অধিকার ছাড়া নাগরিকের সমাজ জীবন চিন্তা করা যায় না।

অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকার বলতে সেই সকল সুযোগ-সুবিধা বোঝায় যা নাগরিকের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে জীবন ধারণের নিশ্চয়তা দেয়।
- অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া নাগরিক জীবন চিন্তা করা যায় না।
- যেমন-কর্মের অধিকার, ন্যায্য মুজুরি পাবার অধিকার, পেশা পছন্দের অধিকার।
- অর্থনৈতিক অধিকার অন্যান্য অধিকারের পূর্বশর্ত।

রাজনৈতিক অধিকার:
- প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার কে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- তাছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করা যায়।
- যেমন-ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার। 
- রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করলে নাগরিকদের মাঝে সচেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৯.
ব্যক্তি স্বাধীনতার উদাহরণ কোনটি?
  1. সম্পত্তি ভোগ করা
  2. পেশা গ্রহণ করা
  3. ভোটদান করা 
  4. ধর্মচর্চা করা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- স্বাধীনতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
- যেমন- ১। ব্যক্তি স্বাধীনতা, ২। সামাজিক স্বাধীনতা, ৩। রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ৪। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ৫। জাতীয় স্বাধীনতা।

• ব্যক্তি স্বাধীনতা:
- ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে এমন স্বাধীনতাকে বোঝার, যে স্বাধীনতা ভোগ করলে অন্যের কোনো ক্ষতি হয় না।
- যেমন- ধর্মচর্চা করা ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা। এ ধরনের স্বাধীনতা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব বিষয়। 

• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- জীবন রক্ষা, সম্পত্তি ভোগ ও বৈধ পেশা গ্রহণ করা সামাজিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।
- এ ধরনের স্বাধীনতা ভোগের মাধ্যমে নাগরিক জীবন বিকশিত হয়।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই সামাজিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।
- এই স্বাধীনতা এমনভাবে ভোগ করতে হয় যেন অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না হয়।

 • রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটদান, নির্বাচিত হওয়া, বিদেশে অবস্থানকালীন নিরাপত্তা লাভ ইত্যাদি নাগরিকের রাজনৈতিক স্বাধীনতা।
- এসব স্বাধীনতার মাধ্যমে ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ করাকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়।
- মূলত আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য নাগরিকরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে।
- এই স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না।
- সমাজের অন্য শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।

জাতীয় স্বাধীনতা:
- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত।
- বাংলাদেশের এই অবস্থানকে জাতীয় স্বাধীনতা বা রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা বলে।
- এই স্বাধীনতার ফলে একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের কর্তৃত্বমুক্ত থাকে। প্রত্যেক স্বাধীন রাষ্ট্র জাতীয় স্বাধীনতা ভোগ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৮০.
'চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা' কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ব্যক্তিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।

⇒ ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮১.
‘আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ‘ - উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. স্যাভিলি
  3. জন অস্টিন
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা
• আইনের ধারণা ও সংজ্ঞা:

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা:
 → এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason.)।
 → টমাস হবস, জ্যাঁ বোঁদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।
 → টমাস হব্‌স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
 → অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 
 → জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।” 
 → অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, “ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।”
 → অধ্যাপক গেটেল (Prof. Gettel) বলেন, "রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।"

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৮২.
প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের নির্বাচনে ভোট দেবার ক্ষমতা কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. আইনগত সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. ব্যক্তিগত সাম্য
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- অর্থাৎ নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৩.
সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে- 
  1. দর্শন
  2. প্রথা 
  3. আইন
  4. নৈতিকতা 
ব্যাখ্যা

- "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"

আইন: 
- আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিতনিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারাব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৮৪.
কোন ধরনের গণতন্ত্রে জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে?
  1. পরোক্ষ গণতন্ত্র
  2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
  3. প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

• নাগরিকগণ যখন সরাসরিভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগ করে, নীতি নির্ধারণ করে এবং আইন প্রণয়ন করে তখন তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে। এই শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ একটি সভায় সম্মিলিত হয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করে থাকে। প্রাচীন গ্রীসের নগররাষ্ট্রগুলোতে এই ধরনের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। আধুনিককালে সুইজারল্যান্ডের চারটি ক্যান্টন প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের ভিত্তিতে শাসিত হয়। বর্তমান যুগে প্রত্যেক গণতন্ত্র কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কেবলমাত্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোতে কার্যকর করা যেতে পারে। আধুনিক রাষ্ট্র বহু জনসংখ্যা অধ্যুষিত জাতি-রাষ্ট্র। এসব রাষ্ট্রে জনসংখ্যা খুব বেশী এবং বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সেহেতু প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের পরিবর্তে পরোক্ষ গণতন্ত্র চালু করা হয়েছে।

• পরোক্ষ গণতন্ত্র হল জনগণের প্রতিনিধির শাসন। জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন যে, পরোক্ষ গণতন্ত্র হল সেই শাসন ব্যবস্থা যেখানে জনগণ পর্যায়ক্রমিক নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনসাধারণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণের কল্যাণে জনগণের শাসন কার্য পরিচালনা করেন। আধুনিক যুগ মূলত পরোক্ষ গণতন্ত্রের যুগ।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৫.
২০২৫ সালে প্রকাশিত আইনের শাসন সূচকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী দেশ কোনটি?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. সুইডেন
  3. ডেনমার্ক
  4. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
• ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট প্রকাশিত আইনের শাসন সূচক-২০২৫ অনুসারে:
- শীর্ষদেশ : ডেনমার্ক
- দ্বিতীয় : নরওয়ে
- তৃতীয় : ফিনল্যান্ড
- সর্বনিম্ন (১৪৩তম) দেশ : ভেনেজুয়েলা
- বাংলাদেশের অবস্থান : ১২৫তম।

উৎস: আইনের শাসন সূচক-২০২৫, ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট ওয়েবসাইট।

৪৮৬.
'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' উক্তিটি করেছেন -
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. অধ্যাপক বার্জেস
  3. টি. এইচ. গ্রিন
  4. সেন্ট অগাস্টিন
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- ইংরেজ দার্শনিক টি. এইচ. গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

এছাড়াও,
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৭.
দুর্নীতি ও আয়কর ফাঁকি কোন ধরনের অপরাধ?
  1. ফৌজদারি অপরাধ
  2. সংগঠিত অপরাধ
  3. ভদ্রবেশী অপরাধ
  4. আত্মবিনাশ অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ।

অপরাধের ধরনসমূহ:
- সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে:
ক) কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency),
খ) আত্মবিনাশ অপরাধ (Self-destroyed crime),
গ) ভদ্রবেশী অপরাধ (White-collar crime),
ঘ) সংগঠিত অপরাধ (Organized crime),
ঙ) ফৌজদারি অপরাধ (Criminal crime)।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৮৮.
সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র কেন সৃষ্টি হয়?
  1. শাসকের ব্যক্তিগত ইচ্ছায়
  2. প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য
  4. অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির জন্য
ব্যাখ্যা

⇒ সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী, প্রকৃতির বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে।

রাষ্ট্রের উৎপত্তি:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
-  রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা অতীত ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে কতগুলো মতবাদ প্রদান করেছেন।
- তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১। ঐশী মতবাদ,
২। বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদ,
৩। সামাজিক চুক্তি মতবাদ ও
৪। ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ।

সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- সমাজে বসবাসকারী জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্য হয়েছে।
- ব্রিটিশ রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবস্ ও জন লক এবং ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
- এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত। তারা প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত।
- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না।
- ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
- এ অরাজকতাপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে নিজেদের উপর শাসন করার জন্য স্থায়ীভাবে শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৮৯.
নৈতিক অধিকার কী দ্বারা জাগ্রত হয়?
  1. আইন
  2. রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত
  3. নীতি ও বিবেক
  4. রাষ্ট্রের সংবিধান
ব্যাখ্যা
• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

• আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে কী হিসেবে কাজ করে?
  1. নিরপেক্ষ দর্শক
  2. মাধ্যম
  3. শত্রু
  4. প্রতিযোগী
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

উল্লেখ্য,
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৪৯১.
লর্ড ব্রাইসের মতে, জনমত কী?
  1. রাজনৈতিক দলের নীতি
  2. শুধুমাত্র শিক্ষিত শ্রেণীর মত
  3. সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল
  4. সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি
ব্যাখ্যা
জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।

⇒ লর্ড ব্রাইস বলেন, "জনমত হল সম্প্রদায়ের স্বার্থ-সংশিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।"

উল্লেখ্য,
- জিনস্ বার্গ বলেন, "জনমত হল সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।"
- ই.এম. সেইট বলেন, "জনমত বলতে আমরা এই বুঝি যে, এটি হল জনসমষ্টির মত, জনগণেরই মত।"
- এল. ডবিউ, ডুব বলেন, "একই সামাজিক সংগঠনের সভ্য হিসেবে জনগণের মতামতই জনমত।"
- কিম্বল ইয়াং বলেন, "একটি নির্দিষ্ট সময়ে জনগণ যে মতামত পোষণ করে, তাই জনমত।"
- লোয়েল বলেন, "জনমত বলে অভিহিত হওয়ার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত হওয়াই যথেষ্ট নয়, আবার সকলের ঐকমত্যেরও প্রয়োজন নেই।"
- জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার উপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"
- অস্টিন রেনি বলেন, "জনমত হল সে সকল মতের সমষ্টি যার প্রতি সরকারি কর্মচারীবৃন্দ বা আমলারা খানিকটা সজাগ এবং সরকারি কার্যাবলি নির্ধারণের সময় তারা এর গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯২.
পূর্ণতাবাদে নৈতিকতার মানদণ্ড কী দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. সম্পদ ও ক্ষমতা
  2. আত্মোপলব্ধি
  3. সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে।
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে শুদ্ধচার হচ্ছে -
  1. শুদ্ধভাবে কার্য সম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তিপর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল দলিলটিতেও শুদ্ধাচারের এই অর্থকেই গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:

স্লোগান : সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়। 
গ্রহণ : ২০১২ সাল।
গ্রহণকারী : মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী)। 

রূপকল্প (Vision) :
সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। 

অভিলক্ষ (Mission) :
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। 

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ:
(ক) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও
(খ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৯৪.
অধিকার ব্যবস্থার অবাধ বাস্তবায়ন কী নিশ্চিত করে?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. নৈতিকতা বৃদ্ধি
  3. স্বেচ্ছাচার
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

• অধিকার:
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৯৫.
আইনের মৌলিক উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. সংবিধান
  3. আইন পরিষদ
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:
- আইনের প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
- গ্রেট ব্রিটেনে প্রথাভিত্তিক আইন রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উৎস.. ধর্ম।
- পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন- ধর্ম থেকে নেয়া হয়।
- আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
- আইনের মৌলিক উৎস সংবিধান।
- স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক.. আইন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৬.
কোন ধরনের কর্তব্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে?
  1. রাজনৈতিক কর্তব্য
  2. আইনগত কর্তব্য
  3. নৈতিক কর্তব্য
  4. সামাজিক কর্তব্য
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
যেমন-
→ বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
→ ভিক্ষুকে ভিক্ষা দেয়া,
→ দরিদ্রকে সাহায্য করা,
→ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
→ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৯৭.
সুশীল সমাজের মূল কাজ কী?
  1. সরকার গঠন করা
  2. সরকার ও জনগণের মধ্যে মধ্যস্থতা করা
  3. রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা
  4. ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করা
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উল্লেখ্য,
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica. 

৪৯৮.
নিচের কোনটি সাম্যের পরিপন্থী?
  1. সমতার সুযোগ সৃষ্টি
  2. আইনের সুশাসন
  3. বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য মানে হলো সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
- এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
ক) সমতার সুযোগ সৃষ্টি
- এটি সাম্যের অনুকূলে, কারণ এটি সবাইকে সমানভাবে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেয়।

খ) আইনের সুশাসন
- আইনের শাসন নিশ্চিত করলে সবাই আইনের চোখে সমান হয়, তাই এটি সাম্যের পক্ষে।

গ) বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
- এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার সুযোগ, মান বা উপকরণ শ্রেণি, অঞ্চল বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন হয়।
- ফলে সমাজে অসমতা তৈরি হয়, যা সরাসরি সাম্যের পরিপন্থী।


ঘ) সামাজিক ন্যায়বিচার
- সমাজে সমান অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ এটি সাম্যের সহায়ক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৯.
কোনটি মানবীয় গুণ?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. আত্মসংযম
  3. সহমর্মিতা
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সহমর্মিতা:
- সহমর্মিতা একটি মানবীয় গুণ।
- সহমর্মিতার অনুভূতি একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে আপন করে এবং মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করে।
- ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'—সহমর্মিতার এই অনুভূতিই গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৫০০.
‘সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা‘ নাগরিকের কোন ধরণের কর্তব্য?
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক  
ব্যাখ্যা
• সামাজিক কর্তব্য (Social Duties):
- মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজেই জন্মগ্রহণ করে, সমাজেই লালিত- পালিত হয় এবং সমাজেই মৃত্যুবরণ করে।
- এজন্যই এরিস্টটল বলেছেন যে, 'মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব এবং যে সমাজে বাস করে না সে হয় পশু না হয় দেবতা।'
- সমাজ জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মানুষের তাই কর্তব্যও রয়েছে।

সামাজিক কর্তব্য:
সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা,
→ সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং পরিচালনা করা,
→ সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং অংশগ্রহণ করা,
→ সন্তান-সন্ততিকে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা,
→ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা ইত্যাদি হলো একজন নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।