ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
⇒ বিভিন্ন সময়ে বহু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।
• ফরাসি চিন্তাবিদ জ্যাঁ বডিন বলেন, "আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে তাঁরা কঠোর আইন প্রণয়ন করে তা নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করবেন।" তাঁর কথায় একই সাথে বিচারক এবং আইন প্রণেতা হওয়ার অর্থ হচ্ছে ন্যায়বিচারের সাথে ক্ষমতার অধিকার এবং আইনের প্রতি আনুগত্যের সাথে স্বেচ্ছাচারিতার সংমিশ্রণ।"
• ইংল্যান্ডের বিখ্যাত চিন্তাবিদ জন লক এ প্রসঙ্গে বলেন, "একই ব্যক্তি আইন রচনা এবং তা প্রয়োগ করলে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই তিনি অধিকার রক্ষার স্বার্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ অপরিহার্য বলে মনে করেন।
• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা। তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।