বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

মোট প্রশ্ন৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৬৪৬

৩০১.
কোন মতবাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ সুখ ও আনন্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা?
  1. আত্মস্বার্থবাদ
  2. উপযোগবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ :
- উপযোগবাদ নীতিশাস্ত্রে একটি প্রভাবশালী মতবাদ।
- উপযোগবাদ মতে, কোনো কাজ সঠিক যদি তা সুখ বা আনন্দ বৃদ্ধি করে, এবং ভুল যদি তা দুঃখ বা যন্ত্রণা সৃষ্টি করে।
- এই মূল্যায়ন শুধু কাজ সম্পাদনকারীর জন্য নয়, বরং সেই কাজ দ্বারা প্রভাবিত সকলের জন্য প্রযোজ্য।
- এই মতবাদের উৎস ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ জেরেমি বেনথাম এবং জন স্টুয়ার্ট মিল।
- উপযোগবাদ এর লক্ষ্য সর্বোচ্চ সুখ ও আনন্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং দুঃখ ও যন্ত্রণা হ্রাস করা।
- উপযোগবাদ নীতিশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা মানুষের কাজের নৈতিকতা পরিণামের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করে।

উৎস: Britannica.
৩০২.
কত সালে প্রথম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI ( Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
- ১৯৯০ সালে প্রথম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে মানব কল্যাণকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি নতুন পদ্ধতির সূচনা করা হয়।
- মানব উন্নয়ন সূচক ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৩০৩.
UNCAC জাতিসংঘের কী বিষয়ক কনভেনশন?
  1. শিশুশ্রম রোধ
  2. দুর্নীতি রোধ
  3. কূটনৈতিক শিষ্টাচার
  4. অবৈধ অভিবাসন
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েরবসাইট।

৩০৪.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার -
  1. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  2. দায়মুক্তি
  3. সরকারি চাকুরি
  4. আইনের চোখে সমতা লাভ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
→ সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে। যেমন:  জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার। সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৫.
'ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি'- এই সংজ্ঞা প্রদান করেন -
  1. জাতিসংঘ
  2. ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি। 
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
 - দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। 
- স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।

⇒ 'ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল' মনে করে "সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি।
⇒ জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
⇒ বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণতার জন্যে প্রয়োজন?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. আইনগত স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনগত, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আবশ্যক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩০৭.
শূন্যবাদ যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভূত তার অর্থ -
  1. সব
  2. কিছুই না
  3. সর্বজনীন
  4. কিছু
ব্যাখ্যা
শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।
- শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।

উৎস: Britannica.
৩০৮.
অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র কীসের জন্য হুমকিস্বরূপ?
  1. সমাজতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র
  3. সামন্তবাদ
  4. পুঁজিবাদ
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩০৯.
বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি-
  1. মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  2. মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা
  3. প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা ও প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অর্থাৎ উপরের সবকটি।

→ বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে৷

⇒ মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা: 
- এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানুষের সম্মান ও অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
-  এটি বাংলাদেশের প্রজাতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

⇒ মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
-  এর মধ্যে রয়েছে বাকস্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা, এবং আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষা।
-  সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণের জন্য মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।

⇒ প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ এবং ১১-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। 
- এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূলনীতি, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
-  স্থানীয় সরকার, সংসদীয় নির্বাচন, এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অংশগ্রহণ বাস্তবায়িত হয়।

∴ সুতরাং সঠিক ‍উত্তর উপরের সবগুলো।


উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩১০.
‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক কে?
  1. অ্যালান বল
  2. ম্যাকাইভার
  3. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  4. আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা
• অ্যালান বল:
→ রাজনৈতিক পদ্ধতির ঐক্যবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
→ অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) তাঁর Comparative Politics and Government নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilising the political process” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১১.
'জিরোসাম গেম' (Zero-Sum Game) কোন তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত?
  1. বাস্তববাদ (Realism)
  2. মার্ক্সবাদ (Marxism)
  3. গঠনবাদ (Constructivism)
  4. উদারতাবাদ (Liberalism)
ব্যাখ্যা

জিরোসাম গেম:
- জিরো সাম গেম (Zero Sum Game) হচ্ছে বিখ্যাত ‘গেম থিওরি’র একটা অংশ।
- এটা দিয়ে বোঝায় যেকোনো ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক পক্ষ কোনো নির্দিষ্ট জিনিস পেতে চাইলে, এক পক্ষ যে পরিমাণ সম্পদ অর্জন করবে, অন্য পক্ষ ঠিক সে পরিমাণ সম্পদ হারাবে।
- এতে নিট ফলাফল শূন্য হবে।

⇒ জিরো সাম গেমের বৈশিষ্ট্য:
১। এ ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় যোগান সব সময়ই কম থাকবে।
২। সম্পদের পরিমাণ একই থাকবে। কোনো কিছুর সংযোজন বা বিয়োজন ঘটবে না।
৩। সব পক্ষের জন্যই সম্পদের নেট পরিবর্তন হবে শূন্য।

উল্লেখ্য, 
⇒ বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।
- মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩১২.
"The Spirit of Laws" গ্রন্থটি কার? 
  1. দার্শনিক মন্টেস্কু
  2. টি এইচ গ্রীন
  3. এরিস্টটল
  4. মেকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি: 
- ১৭৪৮ সালে ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কু তার "The Spirit of Laws" গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপুর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রতিকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।

এছাড়াও,
- টি এইচ গ্রীন এর মতে, শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি। 
- রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক, এরিস্টটল।
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক, নিকোলা মেকিয়াভেলী।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৩.
নিচের কোনটি মানবাধিকারের উৎস?
  1. রাষ্ট্রীয় সংবিধান
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. জাতিসংঘ
  4. সামাজিক প্রথা
ব্যাখ্যা
• মানবাধিকার:
- ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সর্বজনীন ঘোষণা গৃহীত হয়। যা বিশ্ব মানবাধিকারের সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
- বিশ্ব মানবাধিকারের এ বৈশ্বিক ঘোষণাটি ৩০ টি ধারা বিশিষ্ট।
- বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ১০ ডিসেম্বর।
- মানবাধিকারের উৎস ও সংরক্ষক হলো জাতিসংঘ।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই মানবাধিকার প্রযোজ্য।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১৪.
জাতীয় স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
  1. সকল নাগরিকের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
  2. নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার
  3. সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি
  4. বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে একটি জাতির পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১৫.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, আইন মান্য করার কারণ- 
  1. শ্রদ্ধা
  2. শাস্তির ভয়
  3. নির্লিপ্ততা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ: 
• লর্ড ব্রাইস এর মতে,
১. নির্লিপ্ততা;
২. শ্রদ্ধা;
৩. সহানুভূতি;
৪. শাস্তির ভয়;
৫. যৌক্তিকতার উপলব্ধি।

উল্লেখ্য, 
- হবস, বেনহাম ও অস্টিন মতে, মানুষ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৬.
'জীবনের নিরাপত্তা লাভ' ব্যক্তির কোন অধিকার?
  1. ব্যক্তিক অধিকার
  2. সামাজিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. ধর্মীয় অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।
 
⇒ ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

⇒ ধর্মীয় অধিকার:
- স্বাধীনভাবে ধর্মগ্রহণ, পালন, ধর্ম পরিবর্তন ও নিজ ধর্মের বিকাশে কর্তব্য পালন, অন্য ধর্মের জন্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা দিতে বাধ থাকার স্বাধীনতাকে ধর্মীয় অধিকার বলে। ধর্মকে কেন্দ্র করে এক জাতির চাল-চলন ও আচরণ, বিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থা পৃথক হতে পারে। ধর্মীয় অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৭.
নিম্নের কোন দার্শনিক রাষ্ট্র সম্পর্কিত 'সামাজিক চুক্তি মতবাদ'-এর প্রবক্তা নন?
  1. জ্যাঁ জ্যাক রুশো
  2. ডেভিড হিউম
  3. জন লক
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
ডেভিড হিউম রাষ্ট্র সম্পর্কিত 'সামাজিক চুক্তি মতবাদ'-এর প্রবক্তা নন। তিনি বল প্রয়োগ মতবাদ-এর প্রবক্তা। 

সামাজিক চুক্তি মতবাদ:

- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এ মতবাদের মূলকথা হলো- রাষ্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি জনগনের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে।
- এ মতবাদে বলা হয়, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে “প্রকৃতির রাজ্যে" প্রকৃতির আইন অনুযায়ী মানুষ জীবন-যাপন করত।
- কেউ প্রকৃতির রাজ্যের নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তি দেয়ার কোন কর্তৃপক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মানুষ পরস্পর স্বেচ্ছায় চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে।
- কিন্তু কালক্রমে সমাজে সম্মত্তির ধারণা বিস্তার লাভ করায় প্রাকৃতিক আইন নিয়ে মতভেদের কারণে সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা দেখা দেয়।
- এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মানুষ সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও শাসক কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করে।

⇒ সামাজিক চুক্তির বিষয়টি টমাস হবস, জন লক ও জাঁ জ্যাক রুশো ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
• টমাস হবস (Thomas Hobbes): হবস সপ্তদশ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক। ইংল্যান্ডের সপ্তদশ শতকের গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে 'লেভিয়াথান' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থে তিনি রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করে।

• জন লক (John Locke): লক ছিলেন একজন ইংরেজ দার্শনিক এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের সমর্থক। তিনি 'টু ট্রিটিস অন সিভিল গভর্নমেন্ট' নামক গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করেন।

• জাঁ জ্যাক রুশো (Jean Jacques Rousseau): রুশো ফরাসি দার্শনিক। তিনি 'দি সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট' নামক গ্রন্থে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনায় সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করেন। 

অন্যদিকে,
⇒ রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত কয়েকটি মতবাদ ও প্রবক্তা:
১. ঐশ্বরিক মতবাদ:
- প্রবক্তা: সেন্ট অগাস্টিন।

২. বল প্রয়োগ মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।

৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ;
- তাত্ত্বিক: থমাস হবস, জন লক, জ্যাঁ জ্যাক রুশো।

৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ;
- আধুনিক, যক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
'পছন্দমত পেশা নির্বাচন' কোন প্রকার সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
ব্যাখ্যা
'পছন্দমত পেশা নির্বাচন' অর্থনৈতিক সাম্য।

সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১৯.
নিম্নের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতি নয়?
  1. যন্ত্রপাতি
  2. সাহিত্য
  3. তৈজসপত্র
  4. পোষাক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি: 
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম। 

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২০.
'দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. নৈতিক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।

যেমন:-
দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার।
→ প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া।
→ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩২১.
কার মতে সাম্যের ৩টি বিশেষ দিক রয়েছে?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. জন অস্টিন
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ৩টি বিশেষ দিক রয়েছে।
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি, 
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি, 
৩. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩২২.
“প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি কার?
  1. ল্যান্ডেল মিল
  2. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  3. রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. মারটিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। উক্তিটি করেন - ল্যান্ডেল মিল।
→ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ - উক্তিটি করেছেন - রিচার্ড ক্রসম্যান।
→ “প্রত্যেক সরকার ব্যবস্থাই তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করে, একটির পরিবর্তন হলে অন্যটিরও পরিবর্তন সাধিত হয়”− উক্তিটি করে - অধ্যাপক ম্যাকাইভার।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩২৩.
আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Administration
  2. Bureaucracy 
  3. Governance
  4. Secretariat
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

অন্যদিকে,
- Administration মানে প্রশাসন বা কোনো সংস্থা/সরকারের কাজ পরিচালনা।
- Governance মানে শাসন বা পরিচালনা।
- Secretariat মানে সচিবালয় বা প্রশাসনিক দপ্তর।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩২৪.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা কে?
  1. এরিস্টটল
  2. চার্লস মন্টেস্কু
  3. জন লক
  4. রুশো
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৫.
সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন- 
  1. টমাস হবস
  2. জন লক
  3. জ্যা জ্যাক রুশো
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

সামাজিক চুক্তি মতবাদ: 
- সামাজিক চুক্তির মূলকথা হলো- সমাজে বসবাসকারী জনগণেরপারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।
- ব্রিটিশ রাষ্ট্র দার্শনিক টমাস হবস্ ও জন লক এবং ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
- এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত।
- তারা প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত।
- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না।
- ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩২৬.
আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস কোনটি? 
  1. ধর্ম
  2. ন্যায়বিচার
  3. আইনসভা
  4. প্রথা 
ব্যাখ্যা

আইনসভা:
- আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই হচ্ছে আইনের প্রধানতম উৎস।
- আইনসভা সমাজের প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে নতুন নতুন আইন তৈরি করে, আইনের রদবদল ও সংশোধন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ।
- তাই আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
- সুতরাং আইনসভাই হচ্ছে আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এই ছয়টি উৎস ছাড়াও কেউ কেউ জনমতকে আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপেনহেম (Openheim) বলেন, 'জনমত আইনের অন্যতম উৎস'। জনমতের প্রভাবে সরকার অনেক আইন তৈরি করে।

• আইনের উৎসসমূহ:
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আইনের উৎসসমূহ নিম্নরূপ-
১। প্রথা বা রীতিনীতি;
২। ধর্ম;
৩। বিচারকের রায়;
৪। ন্যায়বিচার;
৫। বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬। আইনসভা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২৭.
রাষ্ট্রে সামরিক শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কোনটি?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. জনমত
  3. সুশীল সমাজ
  4. নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• জনমত:
→ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য জনমত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
→ আধুনিককালে জনমতের উপর ভিত্তি করেই সরকার গঠিত হয় এবং টিকে থাকে।
→ জনমত হচ্ছে সরকার বা একটি রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
→ জনমত উপেক্ষা করে আজকের দিনে কোন সরকারের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রে সামরিক শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
"মানুষ হও এবং মরে বাঁচো।" - এটি কার উক্তি?
  1. প্লেটো 
  2. সক্রেটিস
  3. জি. ই. ম্যূর
  4. হেগেল
ব্যাখ্যা

 "মানুষ হও এবং মরে বাঁচ (Be a person, Die to live)" - এটি জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের উক্তি।

জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের (১৭৭০-১৮৩১):
- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- তিনি মনে করেন যে, পরমাত্মা বা পরমসত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা এবং জীবাত্মাও। জড়বস্তু পরমাত্মারই খণ্ড প্রকাশ মাত্র।

হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল। তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়। তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯
১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আত্ম-সচেতনতার (self-consciousness) সৃষ্টি যা পরম সত্তার গুণ। জগতে এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে মানুষের মধ্যে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। এ সমন্বয় মত আবার সময়মত একটি মত হিসেবে অপর একটি প্রতি-মতের সষ্টি করে এবং এভাবে চিন্তা পর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে।
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে ⎯
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিবিদ্যা বই (SSHL), নীতিবিজ্ঞান ও ভারতীয় দর্শন [সংস্করণ-৭] এবং ব্রিটানিকা।

৩২৯.
কোন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত?
  1. সচেতনতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা
  2. সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা
  3. আইন, শাসন ও বিচার
  4. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

​⇒ সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার গুরুত্ব:
​- 'সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা'-এ তিনটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। গণতন্ত্রে সকলেই সমান; সমঅধিকারের নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান। গণতন্ত্রে সবাই আইন দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পায় বলে প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। অন্যভাবে আমরা বলতে পারি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

​উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩০.
"Law is the passionless reason" এই বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেনা 
  2. এরিস্টটল 
  3. সক্রেটিস 
  4. ম্যূর
ব্যাখ্যা

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন জ উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।
 - "Law is the passionless reason" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩৩১.
ফিফথ কলাম বলতে বোঝানো হয় - 
  1. দালানের পঞ্চম স্তম্ভ 
  2. যারা সংবাদপত্রে কাজ করে
  3. বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি
  4. যারা দেশের শত্রুর সাথে কাজ করে
ব্যাখ্যা
ফিফথ কলাম:
- একদল লোক যারা তাদের দেশের শত্রুর সাথে গোপন সহানুভূতি থেকে বিশ্বাসঘাতকতামূলক এবং ধ্বংসাত্মকভাবে কাজ করে।
- স্পেনের একজন জাতীয়তাবাদী জেনারেল, এমিলিও মোলা, ১৯৩৬ সালে এক রেডিও ভাষনে এই ‘Fifth Column’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

প্রেক্ষাপট:
- স্পেনে তখন রিপাবলিক ও জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ(১৯৩৬-৩৯) চলছিল।১৯৩৬ সালে যখন এমিলিও মোলার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী সৈনিকরা মাদ্রিদ অভিমুখে অগ্রসর হয় তখন তিনি এক রেডিও ভাষণে ঘোষণা করেন, তাঁদের চারটি সৈন্য বাহিনী মাদ্রিদের দিকে এগুচ্ছে এবং 'পঞ্চম বাহিনী' মাদ্রিদের অভ্যন্তরে থেকেই রিপাবলিকান সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

উৎস: Britannica
৩৩২.
কোন অধিকার নীতি এবং বিবেক দ্বারা জাগ্রত?
  1. অর্থনৈতিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার:
- সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব হিসেবে পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য মানুষের কিছু সুযোগ-সুবিধা আবশ্যক।
- নাগরিকদের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এ রকম সুযোগ-সুবিধাই হল অধিকার।
- এ বিষয়ে টি, এইচ, গ্রীন বলেন ”অধিকার হচ্ছে সেসব বাহ্যিক অবস্থা যা মানসিক পরিপুষ্টি সাধন করে।” 

• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেক দ্বারা জাগ্রত। ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার। ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- তবে নৈতিক অধিকার সমাজ স্বীকৃত। নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৩.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের মুখপাত্র?
  1. স্পিকার
  2. সরকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
সরকার: 
- রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সরকার।
- রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, বিধি-নিষেধসমূহ সরকারের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এজন্যই বলেছেন যে, সরকার হলো রাষ্ট্রের মুখপাত্র'। 
- সংকীর্ণ অর্থে সরকার বলতে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বোঝায়।
- কিন্তু ব্যাপক অর্থে সরকার গঠিত হয় সকল নাগরিকের সম্মতিক্রমে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন ও পরিবর্তন করে থাকে।
- রাষ্ট্রভেদে সরকারের রূপ, কাঠামো ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সরকার ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩৪.
প্লেটোর মতে কোন সদ্গুণ রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয়?
  1. প্রজ্ঞা
  2. সাহস
  3. মিতাচার
  4. ন্যায়
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- প্লেটোর মতে, ন্যায় হলো রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণ যা প্রতিটি অংশকে তার সঠিক ভূমিকা পালন করতে এবং সামগ্রিক সামঞ্জস্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি ব্যক্তি-আত্মায় যুক্তি (Reason) ও সাহস (Spirit) এবং ভোগপ্রবৃত্তি (Appetite)-এর সঠিক বিন্যাস এবং রাষ্ট্রে শাসক, সৈনিক ও উৎপাদক শ্রেণির নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অর্জিত হয়। 
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) নৈতিক আলোচনায় এরিস্টটলের সদগুণ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা, মানববিদ্যা গবেষণাপত্র।

৩৩৫.
’গণতন্ত্রে হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ আছে’ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. স্যার জন সীলি
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. সি এফ স্ট্রং
  4. অধ্যাপক ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে। 
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- স্যার জন সীলির মতে, ’গণতন্ত্রে হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ আছে’।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩৬.
নেতৃত্বের কোন গুণটি সুশাসনের জন্য অপরিহার্য নয়?
  1. দায়িত্ববোধ
  2. ন্যায়নীতি
  3. দূরদৃষ্টি
  4. স্বার্থপরতা
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- নেতৃত্বের বৈধতা বলতে বোঝায় নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আস্থা।
- সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বৈধতা অর্জন করে।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৩৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৮
  2. অনুচ্ছেদ ১১
  3. অনুচ্ছেদ ১৭
  4. অনুচ্ছেদ ২১
ব্যাখ্যা

সুশাসন সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার,
- অনুচ্ছেদ ১৭: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ,
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা,
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,
- অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা,
- অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতা,
- অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩৩৮.
প্লেটোর মতে, শাসক ন্যায়বান হলে কোনটি নিস্প্রয়োজন?
  1. সংবিধান
  2. প্রশাসন
  3. আইন
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৯.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয় কত তারিখে?
  1. ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫
  2. ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ 
  3. ১ জানুয়ারি, ২০০৪
  4. ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৩
ব্যাখ্যা

⇒ জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৪০ | পক্ষ: ১৯২ (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের হিসাব অনুযায়ী)
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েরবসাইট।

৩৪০.
'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয় - 
  1. নারীদের ক্ষেত্রে
  2. সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
  3. প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে
  4. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
বিপরীত বৈষম্য:
- সমতার প্রশ্নে "বিপরীত-বৈষম্যের" (reverse discrimination) ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।
- অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।
- অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়।
- বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন।
- আর একেই বলে 'বিপরীত-বৈষম্যের' নীতি।

⇒ তাই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে 'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪১.
জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকারের ধারা কতটি?
  1. ৩০টি
  2. ৩২টি
  3. ৪৮টি
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ  মানবাধিকার:
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মৌলিক মানবিক অধিকার সমূহ গৃহীত ও ঘোষিত হয়।
- তারপর থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর এই দিনটিকে মানবাধিকার দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকে।
- জাতিসংঘের মানবাধিকার ধারা ৩০ টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের সাথে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরের পর ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের (এইচআরসি) চালু হয়েছে।
- মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের এই দপ্তর চালু হলে এখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তা সহায়ক হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বিবিসি বাংলা।

৩৪২.
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. দায়বদ্ধতা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. সহানুভূতি
ব্যাখ্যা

- লর্ড ব্রাইসের মত অনুসারে, দায়বদ্ধতা আইন মান্য করার কারণ নয়। 

• আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৩.
একটি দেশের মানব উন্নয়ন সূচক কীসের উপর নির্ভর করে?
  1. মাথপিছু আয়
  2. গড় আয়ু
  3. শিক্ষার মান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
- মানব উন্নয়ন সূচক (Human development index) হলো এমন একটি সূচক, যার দ্বারা কোনো একটি দেশের নাগরিক কতটা ভালো জীবনযাপন করে এবং সেই দেশ কতটা উন্নত তা বোঝা যায়।
- কোনো একটি দেশ মানব উন্নয়ন সূচকে কতটা ভালো স্কোর করবে তা নির্ভর করে কয়েকটি নির্দেশকের উপর।
- এগুলো হলো:
i) মানুষের গড় আয়ু,
ii) মানুষের শিক্ষার মান,
iii) দেশের মানুষের মাথপিছু আয়।

⇒ যে দেশের মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষার হার ও মাথাপিছু আয় বেশি হয়, সেই দেশের মানব উন্নয়ন সূচক স্কোর বেশি হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) human Development Report 2021-2022 প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান: ১২৯তম।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৩৪৪.
'মানুষ সবকিছুর পরিমাপক'- উক্তিটি কোন মতবাদের ধারণাকে প্রকাশ করে?
  1. অভিজ্ঞতাবাদ
  2. অস্তিত্ববাদ
  3. স্বজ্ঞাবাদ
  4. ভাববাদ
ব্যাখ্যা
অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- প্রোটাগোরাস-এর মতে, ‘মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক।’

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ: স্বজ্ঞাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কীয় এমন একটি মতবাদ, যা স্বজ্ঞাকে জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে। স্বজ্ঞাবাদ অনুসারে অভিজ্ঞতা বা বুদ্ধি জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে না। একমাত্র সজ্ঞাই জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে।

- ভাববাদ: ভাববাদ এমন একটি দার্শনিক মতবাদ, যা ভাব বা ধারণা বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে। ভাববাদকে অধ্যাত্মবাদও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ মতবাদ অনুসারে মন বা আত্মাই প্রাথমিক ও মৌলিক সত্তা। জড়বাদ যেমন জড় থেকে সব বস্তুর উৎপত্তির কথা বলে, তেমনি ভাববাদ যাবতীয় বস্তুর সৃষ্টির মূলে মন, ধারণা, চিন্তা বা আত্মার কথা বলে। জড়, গতি, শক্তি ইত্যাদি বস্তুতান্ত্রিক কথার পরিবর্তে ভাববাদ আত্মা, চেতনা, চিন্তা, বুদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে। 

- অস্তিত্ববাদ: অস্তিত্ববাদ স্বাধীনতার ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে। কোন অর্থে মানুষ স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন ইত্যাদির ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করাই অস্তিত্ববাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। অস্তিত্ববাদের মতে, মানুষ স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই মূল্যের মাপকাঠি তৈরি করে এবং নিজেই নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে। 

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩৪৫.
'সেই ব্যক্তিই নাগরিক যে নগর-রাষ্ট্রের আইন, শাসন ও বিচার বিষয়ক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষমতা রাখে'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. এরিস্টটল
  2. কেলসন
  3. গেটেল
  4. লাস্কি
ব্যাখ্যা
নাগরিকতা:
- সাধারণভাবে নগরের অধিবাসীকে নাগরিক বলে।   
- নাগরিকতা বলতে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক।

⇒ আধুনিক নাগরিকতার ধারণায় নাগরিকের সংজ্ঞা থেকে নাগরিকতার চারটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
(ক) রাষ্ট্রের সদস্য হতে হয়,
(খ) রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হয়,
(গ) রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হয়,
(ঘ) সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে হয়।

⇒ নাগরিকতা দুই ভাবে অর্জন করা যায়- জন্মসূত্রে ও অনুমোদন সূত্রে।
- জন্মসূত্রে নাগরিকতা আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়- জন্মনীতি ও জন্মস্থান নীতি।
- অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জন করতে হলে কতগুলো শর্ত পালনের মধ্যদিয়ে নাগরিকতা অর্জন করতে হয়।

• অধ্যাপক লাস্কির ভাষায়, "সর্বজনীন সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণের জন্য ব্যক্তির বিচার-বুদ্ধি যথাযথ প্রয়োগই হলো নাগরিকতা।"
• কেলসনের ভাষায়, "রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে কোন ব্যক্তির পদমর্যাদাই নাগরিকতা।"
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গেটেল (Gattell) বলেন যে, "নাগরিক হচ্ছে সেই ব্যক্তিবর্গ যারা কতিপয় দায়িত্ব ও কর্তব্যের বন্ধনে আবদ্ধ এবং আনুগত্যের মাধ্যমে তার সুযোগ-সুবিধায় সমভাবে অংশীদার।”
• যুক্তরাষ্ট্রে মিন্নিসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'জন অধ্যাপক কোগান (Kogan) ও কুবোও (Kubow) তাঁদের এক আন্তঃজাতীয় এবং আন্তঃকৃষ্টিক গবেষণা কর্মে নাগরিক ও নাগরিকতার সাধারণ সংজ্ঞা ও কার্যকর সংজ্ঞা দিয়েছেন। তাঁদের সাধারণ সংজ্ঞানুসারে "নাগরিক হচ্ছে সমাজের একজন প্রয়োজনীয় সদস্য"। আর পক্ষান্তরে "নাগরিকতা হচ্ছে নাগরিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কতিপয় বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি।"
• নাগরিকতা সম্পর্কে এরিস্টটলের মতে, সেই ব্যক্তিই নাগরিক যে বিচার সংক্রান্ত কাজে এবং শাসন সংস্থার সদস্য হিসেবে আইন সংক্রান্ত কাজে এবং রাষ্ট্রীয় সভার আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।'। 

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৬.
'গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ' ব্যক্তির কোন ধরণের সাম্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা

সাম্য:
- সাম্য এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Liberty. এর অর্থ সমান।
- সমান বলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বুঝায়। কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে সুযোগ-সুবিধা না দেয়া।
-  অর্থাৎ সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেন সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে হয়।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, সকলের সম্মুখে যথার্থ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ হল সাম্য।

• সামাজিক সাম্য
- সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

• রাজনৈতিক সাম্য 
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

• আইনগত সাম্য 
- কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত। যেমন- চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাম্যের বিষয়টি বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত। 

• ব্যক্তিগত সাম্য
 - মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সামা, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে নিজের করা বয়নের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। অর্থাৎ সাম্য বিভিন্ন ধরনের দর্শ নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্য সব ধরনের সাম্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। ব্যক্তি পর্যায়ে যেন একজন অন্যজনের নষ্ট না করে তা খেয়াল রাখা নাগরিকের কর্তব্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৭.
কোনটি সর্বজনীন?
  1. আইন
  2. প্রথা
  3. মূল্যবোধ
  4. সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

⇒ সার্বজনীনতা:
- আইন সার্বজনীন।
- সকল মানুষই আইনের দৃষ্টিতে সমান।
- জাতি-ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা নির্বিশেষে সকল মানুষের উপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য।

অন্যদিকে,
- প্রথা, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি সার্বজনীন নয়। এটি সমাজ ও অবস্থাভেদে পরিবর্তিত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৮.
অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক শর্ত কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
​- অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো: 
​ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, 
​খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা, 
​গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

​- এই শর্ত তিনী মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে।
​- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৪৯.
‘আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা’- উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. আইনবিদ স্যামন্ড
ব্যাখ্যা

• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। 
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। 
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন:

• এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।”
• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
• আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫০.
"গণতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে”- কার উক্তি?
  1. লর্ড ব্রাইস
  2. সি. এফ. স্ট্রং
  3. প্রফেসর সিলী
  4. কার্ল জি ফ্রেডরিখ 
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

প্রফেসর সিলী বলেন, "এটি এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- সি. এফ. স্ট্রং সুন্দরভাবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, "শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত তাকে গণতন্ত্র বলে।" 
- অধ্যাপক লিন্ডসে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র সরকারের ন্যায় সমাজেরও একটি তত্ত্ব বটে.
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।" 
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"
- স্যার ক্রিপসের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকল বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।"
- ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫১.
বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে যে বিধানে -
  1. ১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধিতে
  2. ২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে
  3. ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে
  4. উপরের সবগুলােতে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ আইনটি বাংলাদেশে ফৌজদারী অপরাধ সংক্রান্তীয় দণ্ড দান করার জন্য প্রধান আইন।

⇒ ২০০৪ সালে দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরােধের লক্ষ্যে এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান ও পরিচালনার জন্য স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠাকরণ এবং এর আইন মােতাবেক দুর্নীতিকে সর্বস্তরে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

⇒ ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ‘গুরুদণ্ড’ ও ‘লঘুদণ্ড’ নামক দুই ধরনের দণ্ড আরােপের বিধান রয়েছে।

তাই আমরা বলতে পারি,
- উক্ত তিনটি বিধিমালাই দুর্নীতিকে সর্বস্তরে প্রতিরােধকল্পে গঠিত।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।
৩৫২.
রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা হলো -
  1. সার্বভৌমত্ব
  2. জনসমষ্টি
  3. সরকার
  4. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী এবং বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
- সভ্যতার বিকাশে মানুষ যত রকম সংঘ গঠন করছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং শক্তিশালী সংঘ হচ্ছে রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান।

⇒ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে- (১) জনসমষ্টি (২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

⇒ সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্রের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাই হলো সার্বভৌমত্ব।
- সার্বভৌমত্বের কারণেই একটি জনসমাজ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- সার্বভৌম ক্ষমতার বলে রাষ্ট্র এর অধীনস্ত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আদেশ নির্দেশ প্রদান করতে পারে।
- সার্বভৌম ক্ষমতার দুটি দিক আছে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক।
- অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের বলে রাষ্ট্র সমস্ত জনগোষ্ঠী ও সংঘের আনুগত্য লাভ করে।
- বাহ্যিক সার্ভভৌমত্বের বলে রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ঘোষণা ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত।
- সার্বভৌম ক্ষমতার অভাবে রাষ্ট্র জনপদ, উপনিবেশ বা অধীন রাষ্ট্র বলে গণ্য হবে।
- ১৯৪৭ সালের পুর্বে ভারতবর্ষের অবস্থা এরকমই ছিল।
- ১৯৭১ সালে সার্বভৌম ক্ষমতা অর্জন করে বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্র, পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৩.
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ কোন ধরনের সাম্য রক্ষা করে?
  1. স্বাভাবিক
  2. সামাজিক
  3. আইনগত
  4. ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ আইনগত সাম্য রক্ষা করে।

• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
কোন স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন?
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. জাতীয় স্বাধীনতা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৫৫.
কোনটি নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
  2. সম্পত্তির অধিকার
  3. বিশ্রাম বা অবকাশ লাভের অধিকার
  4. ভরণপোষণের অধিকার
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক অধিকার (Economic Rights):
→ যে অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করে তাকেই অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 
অর্থনৈতিক অধিকারসমূহ:
কর্মের অধিকার,
→ ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
বিশ্রাম বা অবকাশ লাভের অধিকার,
→ শ্রমিক সংঘ বা ইউনিয়ন করার অধিকার।
----------------
অপরদিকে. 
- ভরণপোষণের অধিকার হচ্ছে - নৈতিক অধিকার।
- সম্পত্তির অধিকার হচ্ছে - সামাজিক অধিকার।
- সরকারি চাকরি লাভের অধিকার - রাজনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৫৬.
যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে কী বলে?
  1. প্রথা
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ বিষায়ক কয়েকটি সংজ্ঞা:

- রীতিনীতি: সমাজবদ্ধ মানুষের ব্যবহার ও অনুশীলনের উপর যে অলিখিত সাধারণ ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে রীতিনীতি বলে। 
- প্রথা: যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে প্রথা বা Custom বলে। 
- সংস্কৃতি: একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি জাতিগোষ্ঠীর মুল্যবোধ, আদর্শ, রীতিনীতি, প্রথা, শিল্প, নৈপুন্য ইত্যাদিকে এক কথায় সংস্কৃতি বলা হয়।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- সমাজবিজ্ঞানী আর টি শেফার মতে, "ভালো বা মন্দ, ঠিক বা বেঠিক এবং কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের বিদ্যমান ধারণার নাম হলো মূল্যবোধ।"
- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"
- মেরিল এর মতে, ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''
- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৫৭.
নিচের কোন দার্শনিক আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন?
  1. জ্যাক রুশো
  2. সক্রেটিস
  3. ওপেনহাইম
  4. টি এইচ গ্রিন
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

অন্যদিকে -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৫৮.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফলাফল”— উক্তিটি কার?
  1. জাঁ জ্যাক রুশো 
  2. টি এইচ গ্রিন
  3. স্টুয়ার্ট মিল
  4. এইচ. জে. লাস্কি
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ:
- রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অস্তিত্ব বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতা থেকেই প্রকাশ পায়।
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
- স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফলাফল"।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন
করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৯.
মানব উন্নয়ন সূচকের (HDI) মৌলিক নির্দেশক নয় কোনটি?
  1. গড় আয়ু
  2. মাথাপিছু জাতীয় আয়
  3. শিক্ষা
  4. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার
ব্যাখ্যা

মানব উন্নয়ন সূচকের (HDI) মৌলিক নির্দেশক নয় - জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার।

মানব উন্নয়ন সূচকের (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচকের (Human Development Intex) মূলত তিনটি প্রধান উপাদানের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এগুলো হলো:
• আয়: এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
• শিক্ষা: মানুষের শিক্ষা গ্রহণের হার, যার মধ্যে গড় বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের বছর এবং শিক্ষার প্রসারের হার অন্তর্ভুক্ত।
• আয়ু: গড় আয়ু, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু পরিস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কোনো দেশের মানব উন্নয়ন সূচক বা HDI টি যদি ০.৫৫০ এর নিচে হয় সে দেশটিকে অনুন্নত দেশ বলা হয়।
- কোন দেশে HDI যদি ০.৫৫০ - ০.৭৯৯ হয় সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়।
- যদি ০.৮০ থেকে বেশি হয় সেসব দেশকে আমরা উন্নত দেশ বলি।

⇒ ২০২৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৩৬০.
‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. স্থানীয় প্রশাসন
  3. সমাজতন্ত্র
  4. কেন্দ্রীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
লাল ফিতার দৌরাত্ম্য:
- ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ (Red Tape) শব্দটি আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এটি এমন একটি পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অতি মাত্রায় জটিল, ধীরগতির এবং আনুষ্ঠানিক নিয়ম-কানুনে জড়িত।
- লাল ফিতার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কাজ সম্পন্ন করতে অযথা বিলম্ব ঘটে।
- এটি আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
- আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে।
- যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
- আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক।
৩৬১.
নিচের কোনটি বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক সমস্যা?
  1. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  2. লালফিতার দৌরাত্ম
  3. শাসন বিভাগের দুর্বলতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- লালফিতার দৌরাত্ম বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক সমস্যা।

• বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক সমস্যা:

- বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা রয়েছে।

• পদসোপান নীতি-
- আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাংলাদেশে পদসোপান নীতিতে বিন্যস্ত।
- তবে উচ্চ পর্যায়ের আদেশ ছাড়া নিম্ন পর্যায়ে কেউ কাজ করতে চায় না।
- এই নীতির কারণে পুরণো সনাতন নিয়ম-কানুনের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়ে উঠে যা আধুনিক প্রশাসনের কাম্য নয়।

• ক্ষমতা লিপ্সা-
- বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের ক্ষমতালিপ্সা একটি মস্ত বড় সমস্যা।
- আমলারা ক্ষমতা হাতছাড়া করতে চায় না বরং ক্রমাগতভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সচেষ্ট হয়।
- ফলে তাদের অধীনস্থ অধিদপ্তর ও দপ্তরগুলো ক্ষমতাশূন্য হয়ে পড়ে।
- রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুনের কোন ধরনের পরিবর্তনকে এরা সহজে মেনে নিতে চায় না।

• লালফিতার দৌরাত্ম্য-
- বাংলাদেশে প্রচলিত সনাতন রীতি-নীতির উপর অধিক জোর দেওয়া হয়।
- এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। ফলে সমস্যা সমাধানে জটিলতা দেখা দেয়।
- নানা ধরনের আইন-কানুনের অজুহাতে অযথা বিলম্ব ঘটায় সমস্যার পরিধি বৃদ্ধি পায়।
- ফাইল বা নথি এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে গড়াতে থাকে।
- এতে করে এত বেশী সময়ের অপচয় ঘটে যে, রোগী মারা যাবার পর ডাক্তার আসার মত ঘটনা ঘটে।

উদাসীনতা-
- আমলাদের হাতে প্রচুর ক্ষমতা থাকে। তাই তারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক মনে না করে প্রভু মনে করে।
- জনগণের দাবীকে তারা মেনে নিতে পারে না।

• নীতি নির্ধারণে অতি আগ্রহ-
- আমলাগণ রাষ্ট্রের অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ করে। আইনসভার কাজের পরিধি বৃদ্ধি, জটিল প্রকৃতি এবং সদস্যদের সময়ের অভাবের সুযোগে আমলারাই নীতি নির্ধারণে এবং আইন প্রণয়নে প্রভুত্ব বিস্তার করে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬২.
নাগরিকের আত্মপরিচয়ের বাহন- 
  1.  জনসেবা
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা 
  4. উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা

- সংস্কৃতি হলো নাগরিকের আত্মপরিচয়ের বাহন।
- এটি চর্চার মাধ্যমে নাগরিক তার ইচ্ছা ও অভিব্যক্তি অপরের নিকট প্রকাশ করতে পারে।
- সাংস্কৃতিক অধিকার- নিজ ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও ধর্মীয় প্রথা-প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী জীবন গঠন ও পরিচালনার অধিকারকে সাংস্কৃতিক অধিকার বলে।
- অবশ্য বর্তমান যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসনের ফলে কোন কোন জনগোষ্ঠীর সনাতন সংস্কৃতির পরিবর্তন ও সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে।

উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

৩৬৩.
সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনের ধারণা কীসের মাধ্যমে বাস্তবরূপ লাভ করে?
  1. দেশপ্রেম
  2. দক্ষ নেতৃত্ব
  3. জনসচেতনতা
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংরক্ষণে রাজনৈতিক দল সক্রিয় এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনের ধারণাকে বাস্তবে পরিণত করে।
- রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক নেতা এবং জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা, মতৈক্য ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি এবং সামাজিক বিরোধ দূরীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
- গণতন্ত্র কেবল সংখ্যার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না, তার জন্য প্রয়োজন নাগরিকের উন্নতমানের চেতনাবোধ ও উৎকর্ষতা।
- রাজনৈতিক দল আইনসভার অভ্যন্তরে ও বাইরে প্রচারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের উৎকর্ষতা বৃদ্ধির সহায়তা করে।
- রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও স্থায়িত্ব রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৪.
‘সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড’ উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. এইচ এম জনসন
  3. পল সাত্রে
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেমন -

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬৫.
আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকে কী বলা হয়?
  1. ধর্মীয় রাষ্ট্র
  2. একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র 
  3. জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র
  4. সামরিক রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।

- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
- সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬৬.
জন অস্টিন এর মতে আইনের উৎস কয়টি? 
  1. ৪টি
  2. ১টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

- জন অস্টিন ১টি ,সার্বভৌম আদেশ। 

• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, ৬ টি
১. প্রথা;
২. ধর্ম;
৩. বিচারকের রায়;
৪. ন্যায়বিচার;
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬. আইনসভা।

• ওপেনহাইম এর মতে, ৭ টি।
১. প্রথা;
২. ধর্ম;
৩. বিচারকের রায়;
৪. ন্যায়বিচার;
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬. আইনসভা;
৭. জনমত;

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৭.
নিম্নের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব নয়?
  1. নিয়মিত কর প্রদান
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ নাগরিকের দায়িত্ব নয়, এটি সরকারের দায়িত্ব।

নাগরিকের দায়িত্ব:

- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
- নিয়মিত কর প্রদান
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৬৮.
সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত' (conflict of interest)- এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে -
  1. সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
  2. প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে
  3. সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে
  4. উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে
ব্যাখ্যা
Conflict of Interest
- A conflict of interest occurs when an individual’s personal interests – family, friendships, financial, or social factors – could compromise his or her judgment, decisions, or actions in the workplace.
⇒ ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest)- একটি পরিস্থিতি যেখানে দুটি ভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ বা লক্ষ্য ভিন্ন।
⇒ নির্বাচিত কর্মকর্তা বা কর্পোরেট লবিস্টদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন ব্যক্তি তাদের অফিসিয়াল ক্ষমতায় গৃহীত কর্ম বা সিদ্ধান্ত থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের অবস্থানে থাকে।

তাই,
- সঠিক উত্তর হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।

উৎস: লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩৬৯.
ই-গভর্নেন্সকে ’স্মার্ট সরকার’ ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন কে? 
  1. ই. এম. হোয়াইট
  2. ম্যাকাইভার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা

- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।

• E-Governance:
 
- তাঁর মতে "SMART" শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent.
- অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

•E-Governance-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। -
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৭০.
’সরকারি চাকরি লাভ’ কোন ধরনের অধিকার? 
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।যেমন-
- ভোটদান,
- নির্বাচনে অংশগ্রহণ,
- সরকারি চাকরি লাভ,
- সরকারি কাজের সমালোচনা,
- আবেদন করা রাজনৈতিক অধিকার।

সামাজিক অধিকার:
- জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া,সংঘবদ্ধ হওয়া,
- সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
- পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।

অর্থনৈতিক অধিকার:

- কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, অবকাশ যাপন প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার। 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭১.
'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. টি. এইচ. গ্রিন
  2. জন লক
  3. জাঁ জ্যাক রুশো
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা

ইংরেজ দার্শনিক টি. এইচ. গ্রিন বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি'।

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭২.
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে-
  1. World Bank
  2. International Monetary Fund
  3. Islamic Development Bank
  4. European Economic Community
ব্যাখ্যা

শ্বেতপত্র (White paper):
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

​সুশাসন ও শ্বেতপত্র:
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community.

৩৭৩.
অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
আইন কত প্রকার তা নির্দিষ্ট নয়। এ সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
-অধ্যাপক হল্যান্ড আইনকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করেছেন-
১. ব্যক্তিগত আইন ২. সরকারি আইন ।
-মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন দুই প্রকার।
১. জাতীয় আইন ২. আন্তর্জাতিক আইন।

-জাতীয় আইনকে তিনি আবার দুইভাগে ভাগ করেছেন- ক. সাংবিধানিক আইন খ. সাধারণ আইন।

উল্লেখ্য, 
আইন সাধারণত তিন প্রকার-
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন (Public Law)
২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন (Private Law)
৩. আন্তর্জাতিক আইন (International Law)

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৪.
'ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি'- কোন সংস্থা নিম্নোক্ত সংজ্ঞা প্রদান করেন?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি:
- দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি।
-  সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।

- দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল "Corruption" এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Corruptus" থেকে। এর অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন।
- দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।

উল্লেখ্য,
- ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল' মনে করে "সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি"। 
- জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
- বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।
- এক কথায় স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. বেসরকারি সংগঠন
  2. সমজাতীয় মনোভাব
  3. দলীয় সংগঠনবিহীন
  4. নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
ব্যাখ্যা
নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

⇒ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৬.
G2C প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. সরকার ও সরকারের মধ্যে
  2. নাগরিক ও নাগরিকের মধ্যে
  3. ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে
  4. সরকার ও নাগরিকের মধ্যে
ব্যাখ্যা
- জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন-G2C) হচ্ছে সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। 
- এই মডেলের সাহায্যে নাগরিকগণ সরকারের বিভিন্ন সুবিধাদি পেয়ে থাকে। 
 
অন্যদিকে, 
- জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট-G2G) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া। 
- জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি-G2E) হলো সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে। 
- জিটুবি (গভর্নমেন্ট টু ব্যবসায়ী-G2B)  হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক। 
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৭৭.
রাষ্ট্র কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. ভৌগোলিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্রের মাধ্যমে মানুষ নাগরিক জীবন শুরু করে।
- কারণ মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব।
- প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন রাষ্ট্রের সদস্য।
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।
- সভ্যতার বিকাশে মানুষ যত রকম সংঘ গঠন করছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং শক্তিশালী সংঘ হচ্ছে রাষ্ট্র।

এছাড়াও,
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান।

⇒ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে- (১) জনসমষ্টি (২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্র, পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৮.
স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ হচ্ছে -
  1. গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা
  2. আইন
  3. সংবিধান
  4. মৌলিক অধিকার
ব্যাখ্যা
আইন:
- স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ হচ্ছে আইন।
- আইনের মাধ্যমেই মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষিত হয়ে থাকে।
- কোন নাগরিকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ বা বিপন্ন হলে আইন তা রক্ষা করতে অগ্রসর হয়।
- স্বাধীনতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি আইন দ্বারা আরোপিত শান্তির প্রকৃতি ও অনুপাতের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করে।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনকে স্বাধীনতার পূর্বশর্ত বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
• গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা: গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতা রক্ষিত হয়ে থাকে।
• সংবিধান: প্রায় সকল দেশের সংবিধান সে দেশের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত সংবিধান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 
• মৌলিক অধিকার: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো স্বীকৃতি লাভ করে। সাধারণত সংবিধানে এসব মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ থাকে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৯.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড কী?
  1. আইনের শাসন
  2. গণতন্ত্র
  3. সংবিধান
  4. বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

৩৮০.
'Critique of Judgement'- গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. এরিস্টটল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. প্লেটো
  4. হেগেল
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:-
​ ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
​- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
​- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
​- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

​নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
​- Groundwork for Metaphysics of Morals.
​- Critique of Pure Reason.
​- Critique of Practical Reason.
​- Critique of Judgement.

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮১.
ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কোন ধরনের আইন প্রয়োগ করা হয়?
  1. সাংবিধানিক আইন
  2. প্রশাসনিক আইন
  3. ফৌজদারি আইন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়:
(১) সরকারি আইন,
(২) বেসরকারি আইন,
(৩) আন্তর্জাতিক আইন।

সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- পার্লামেন্টে আইন প্রণীত হবার কয়েকটি পর্যায় থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।

ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

⇒ প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

⇒ সাংবিধানিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮২.
আমলাতন্ত্রের ‘Legal and Rational Model’ সর্বপ্রথম কে উপস্থাপন করেন?
  1. কার্ল মার্কস
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. ফ্রেডরিক টেলর
  4. উড্রো উইলসন
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'। 
- ইংরেজি 'Bureaucracy' শব্দটি এসেছে ফরাসি থেকে। ফরাসি 'Bureau' এবং গ্রিক 'Kratos' শব্দের সমন্বয়ে। 
- 'Bureau' শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস এবং 'Kratos' শব্দের অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'। 
- আক্ষরিক অর্থে আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন। 
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন। 
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। 
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক। 
- পরিশেষে বলা যায়, আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৩.
নিচের কোনটি কর্তব্যের পরিপূরক?
  1. আইন
  2. অধিকার
  3. স্বাধীনতা
  4. দেশসেবা
ব্যাখ্যা
অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক:
- অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- অধিকার ও কর্তব্যের প্রকৃতি, স্বরূপ এবং পরিধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এগুলো একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
- কর্তব্যহীন অধিকার বা অধিকারবিহীন কর্তব্যের কথা কল্পনা করা যায় না।
- অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক।
- এরা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

⇒ নাগরিকের যা অধিকার রাষ্ট্রের নিকট তাই কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের যা অধিকার নাগরিকের নিকট তাই কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার আছে এবং রাষ্ট্র যখন সে অধিকার দাবি করে তখন নাগরিকের চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
- যেমন- রাষ্ট্র যখন বিপদগ্রস্ত হয় তখন নাগরিকদের জীবনের বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে হয়।
- রাজনৈতিক সচেতনতার ফলে নাগরিক কখনও অধিকার ও কর্তব্যকে পৃথক করে দেখতে পারে না।
- অধিকারের মধ্যে কর্তব্য নিহিত থাকে। 

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৪.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  2. জনগণের মধ্যে ক্ষমতাবণ্টন করা
  3. জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা
  4. জনগণের কাজের স্বাধীনতা খর্ব করা
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

⇒ বিভিন্ন সময়ে বহু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। 
• ফরাসি চিন্তাবিদ জ্যাঁ বডিন বলেন, "আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে তাঁরা কঠোর আইন প্রণয়ন করে তা নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করবেন।" তাঁর কথায় একই সাথে বিচারক এবং আইন প্রণেতা হওয়ার অর্থ হচ্ছে ন্যায়বিচারের সাথে ক্ষমতার অধিকার এবং আইনের প্রতি আনুগত্যের সাথে স্বেচ্ছাচারিতার সংমিশ্রণ।"

• ইংল্যান্ডের বিখ্যাত চিন্তাবিদ জন লক এ প্রসঙ্গে বলেন, "একই ব্যক্তি আইন রচনা এবং তা প্রয়োগ করলে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই তিনি অধিকার রক্ষার স্বার্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ অপরিহার্য বলে মনে করেন।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা। তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৫.
অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে, সুনাগরিকের গুণাবলী হলো ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও _____________।
  1. জ্ঞান
  2. বিবেক
  3. আচরণ
  4. নিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ সুনাগরিকের গুণাবলি:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- তবে, লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৬.
জাতীয় স্বাধীনতাকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. সামাজিক স্বাধীনতার বিকল্প
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতার অংশ
  3. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তি
  4. সকল স্বাধীনতার মূলভিত্তি
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

এছাড়া,
• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা: ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।
• আইনগত স্বাধীনতা: স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
• সামাজিক স্বাধীনতা: যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
• রাজনৈতিক স্বাধীনতা: ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: এ ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে পেশা বাছাই ও জীবিকার স্বাধীনতা অন্যতম।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৮৭.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য কী?
  1. রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি
  2. কর হ্রাস নীতি
  3. কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিনিয়োগে নির্ভরতা
  4. সম্পদের সুষম বণ্টন
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৮৮.
রাষ্ট্র গঠনের কোন উপাদানকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়?
  1. জনসমষ্টি
  2. ভূখন্ড
  3. সরকার
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

- সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়।

সার্বভৌমত্ব:

- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।
- যেমন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে বাংলাদেশের অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে নি।
- সার্বভৌমত্বের দু’টো দিক রয়েছে। যথা-
- (ক) অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব, যার দ্বারা রাষ্ট্র তার সীমানার মধ্যে যেকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর অবাধ ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
- (খ) বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব - এ ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।

 উল্লেখ্য,
- যে সামাজিক সংগঠনের জনসমষ্টি, ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে তাকে রাষ্ট্র বলে।
- রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা-
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূখন্ড,
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এ চারটি উপাদানের মধ্যে সার্বভৌমত্ব অন্যতম।
- সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের প্রাণ বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৩৮৯.
'আত্মসুখবাদ' এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন-
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল
  4. এরিস্টিপাস
ব্যাখ্যা
আত্ম-সুখবাদ:
- সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল সবাইকে এক অর্থে সুখবাদী বলা যায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী।
- এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইরিনের অধিবাসী এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য।
- বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন।
- অপর আরেকদিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৩৯০.
ই.বি টেইলর (Tylor) সংস্কৃতিকে কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
  1. অর্জিত অভ্যাস ও দক্ষতার সমষ্টি
  2. মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি
  3. ধর্মীয় অনুশাসন
  4. রাজনৈতিক কাঠামো
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।

• ই.বি টেইলর (Tylor) তাঁর 'Primitive Culture' গ্রন্থে বলেছেন, "সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানবিশ্বাস, শিল্পকলানীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য দক্ষতা যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে।"
• সংস্কৃতির সংজ্ঞায় Jones বলেন, "মানুষ তার চলার পথে জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই সংস্কৃতি।"
• ম্যালিনোস্কি তাঁর 'A Scientific Theory of Culture' গ্রন্থে বলেন, "সংস্কৃতি হলো মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য সাধন করে।"

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯১.
’Demos’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী?
  1. ক্ষমতা
  2. আইন
  3. জনগণ 
  4. শাসক
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল (democracy)।
- এই শব্দটি Demos ও Kratos শব্দদ্বয় থেকে উদ্ভুত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনগণ এবং Kratos শব্দের অর্থ ক্ষমতা।
- গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে আব্রাহাম লিংকন বলেন, “গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য সরকার"। অর্থাৎ গণতন্ত্র হল জনগণের কল্যাণের জন্য জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার।
- গণতান্ত্রিক সরকার দু'ধরনের- (ক) প্রজাতন্ত্র এবং (খ) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।

⇒ প্রজাতন্ত্র (Republic):
- প্রজাতন্ত্র বলতে গণতান্ত্রিক সরকারকে বুঝায়।
- এটি এমন এক ধরনের সরকার যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়।
- রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যায় না। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত। কাজেই এটি প্রজাতন্ত্র। কিন্তু বৃটেন প্রজাতন্ত্র নয়। কেননা সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করা যায়।
- বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯২.
সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল বক্তব্য কী?
  1. রাষ্ট্র ঈশ্বর প্রদত্ত
  2. রাষ্ট্র বলপ্রয়োগের ফল
  3. জনগণের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সৃষ্টি
  4. রাষ্ট্র পারিবারিক প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভূত
ব্যাখ্যা

সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি বিষয়ক আলোচনাতে, সামাজিক চুক্তি মতবাদটি সম্ভবত সর্বাধিক আলোচিত। 
- এ মতবাদের মূল বক্তব্য হল, রাষ্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি জনগনের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। 
- সামাজিক চুক্তির বিষয়টি টমাস হবস, জন লক ও জাঁ জ্যাক রুশো ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

উল্লেখ্য
- টমাস হবস তার 'লেভিয়াথান' নামক গ্রন্থে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করে।
- হবসের মতে, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত। 
- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন, সরকার ও বিচার ছিল না। যার কারণে প্রকৃতির রাজ্যের মানুষের জীবন ছিল ভয়াবহ ও বিশৃঙ্খলাপূর্ন। 
- সে সময়ে মানুষ স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, অসহায় ও কলহপ্রিয় ছিল। সবল দুর্বলকে অত্যচার করত।
- এ অবস্থা থেকে মুক্তির লক্ষে মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে রাষ্ট্রের সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৩.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়?
  1. নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়া
  2. প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা
  3. জামিন পাওয়ার অধিকার
  4. মতামত প্রকাশ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশ গ্রহণের অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়ার, নির্বাচিত হওয়ার, মতামত প্রকাশ, প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- অধ্যাপক লাস্কির মতে, “রাষ্টীয় ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- অধ্যাপক লাস্কি রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য যথোপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা ও খোলাখুলি সংবাদ সরবরাহ করার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে,
- গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৩৯৪.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও জাতিসংঘ (UN) অনুযায়ী সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1.  ৮ ও ৫টি
  2.  ৪ ও ৫টি
  3.  ৭  ও ৮টি
  4.  ৪ ও ৮টি
ব্যাখ্যা


সুশাসনের উপাদান:
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- সংস্থাটি ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ইউএনডিপির মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উপাদান ৮টি।
- আইডিএ এর মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি।
- এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি।
- ইউএনএইচসিআর এর মতে সুশাসনের উপাদান ৫টি।

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৩৯৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অপর নাম কী?
  1. সমতা রক্ষাকারী গোষ্ঠী
  2. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  3. সতর্ক গোষ্ঠী
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৬.
‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’-এ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক সিলি
  2. হার্বার্ট স্পেনসার
  3. বার্কার
  4. অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা

‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’-এ উক্তিটি করেছেন বার্কার।

আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক:
- স্বাধীনতা হল এমন ধরনের সুযোগ-সুবিধা যা দ্বারা কোন ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের চরম বিকাশ সাধন করতে সক্ষম হয়। ব্যক্তি তার স্বাভাবিক সুকুমার বৃত্তিগুলোর বিকাশ সাধনে অন্যের দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হয়।

• সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেনসার বলেন, "স্বাধীনতা বলতে খুশিমত কাজ করাকে বোঝায় যদি উক্ত কাজের দ্বারা অন্যের অনুরূপ কাজে বাধা সৃষ্টি করা না হয়।"
• টি.এইচ. গ্রিন বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য, তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে।"
• জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অর্থ মানুষ কর্তৃক নিজস্ব উপায়ে কল্যাণ অনুধাবন করা।"
• অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "স্বাধীনতা বলতে সেই সব সামাজিক বিধিনিষেধের অপসারণকে বোঝায় যা সভ্য জগতে মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অপরিহার্য।" 
• জন লকের মতে, "যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।
• উইলোবি বলেন, "নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।"
• রিচি বলেন, "আত্মবিকাশের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা স্বাধীনতার স্বরূপে প্রকাশিত হয়, সেগুলো আইনের দ্বারা সৃষ্ট।"
• রুশো বলেন, "সুনির্দিষ্ট আইনের প্রতি আনুগত্যই স্বাধীনতা।" 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৯৭.
নগররাষ্ট্রের স্থলে আধুনিক যুগে কীরূপ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছে?
  1. রাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্য
  2. প্রকৃতির রাজ্য
  3. জাতিরাষ্ট্র
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
নগররাষ্ট্রের স্থলে আধুনিক যুগে জাতিরাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা:

- প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নগররাষ্ট্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।
- ওই সময় গ্রিসে ছোট ছোট অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠে নগর-রাষ্ট্র।
- যারা নগর রাষ্ট্রীয় কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করতো, তাদের নাগরিক বলা হতো।
- শুধু পুরুষশ্রেণি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত বিধায় তাদের নাগরিক বলা হতো।

⇒ বর্তমানে নাগরিকের ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে।
- আধুনিক রাষ্ট্রগুলো হলো 'জাতিরাষ্ট্র' এবং আয়তনে বিশাল।
- যেমন- বাংলাদেশের ক্ষেত্রফল ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি।
- আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।
- নাগরিক অধিকার ভোগের পাশাপাশি আমরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৯৮.
আইন ছাড়া সমাজে কোনটি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. সাম্য
  2. কর্তৃত্ব
  3. নৈতিকতা
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা
আইন ও সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে একটি সমাজে বৈষম্য, শোষণ ও অন্যায়ের আধিপত্য বিস্তার করে।
- অন্যদিকে, আইন হল একটি সমাজে শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।
- আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।

যেমন:
• আইনই নির্ধারণ করে যে, কেউ অন্যকে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে বৈষম্যের শিকার করতে পারবে না।
উদাহরণস্বরূপ, সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়, যা আইনের মাধ্যমেই কার্যকর হয়।

• আইন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করে।
উদাহরণস্বরূপ, শ্রম আইনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় এবং ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়, যা না থাকলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী শোষিত হতে পারে।

• আইনবিহীন সমাজে শক্তিশালী ও ক্ষমতাবানরা দুর্বলদের শোষণ করবে। কিন্তু আইনের শাসন থাকলে সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে,
- কর্তৃত্ব বলতে বোঝায় ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে শাসন করা। আইন ছাড়াও কর্তৃত্ব টিকে থাকতে পারে। তবে এটি সাম্যের নিশ্চয়তা দেয় না।

- নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দের বোধ, যা ব্যক্তিগত বা সামাজিক চর্চার ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র নৈতিকতা দিয়ে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

- মানবিকতা হলো মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্যের মানসিকতা, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। মানবিকতা দ্বারা সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না, যদি না আইনগত কাঠামো এটি নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৯৯.
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ২০০৩ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৫ সালে
  4. ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক):
- ২১ শে নভেম্বর ২০০৪ বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ১৭ ধারা অনুসারে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিরোধ, গবেষণা এবং গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- রুপকল্প: সমাজের সর্বস্তরে প্রবাহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা এবং এর প্রসার সুনিশ্চিত করা। 
-  লক্ষ্য: অব্যাহতভাবে দুর্নীতির দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং উত্তম চর্চার বিকাশ সাধন করা।

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৬(১) ধারার বিধানমতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ হলেন -
(১) জনাব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন;
(২) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী; এবং
(৩) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। 
- দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।

৪০০.
গণতন্ত্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস কী?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সরকার
  3. আইন
  4. জনগণ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র (Democracy):
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। 
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

সংজ্ঞাসমূহ-
"গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার।"- বার্কার।
"গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা" ("Democracy is a government of the people,by the people and for the people)"- আব্রাহাম লিংকন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।