বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

মোট প্রশ্ন৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬৪৬

২০১.
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী, কতদিনের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করতে হয়?
  1. ৬০ দিন
  2. ৭০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার আইন: 
- তথ্য প্রাপ্তি নাগরিকের অধিকার।
- বাংলাদেশে ২০০৯ সালের  এপ্রিল মাসে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সে জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনিবার্য। জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
- এ লক্ষ্যেই তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে।
- এ আইনে আটটি অধ্যায়, ১টি তফসিল ও ৩৭টি ধারা রয়েছে।

- এ আইন প্রণয়নের ৯০ দিনের মধ্যে একটি তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়।
- এটি একটি সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা।
- এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
- কমিশন গঠন বিষয়ে আইনটির ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে যে একজন প্রধান তথ্য কমিশনার এবং ২ জন তথ্য কমিশনার নিয়ে এটি গঠিত হবে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
'সত্যের সন্ধান' গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  2. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• আরজ আলী মাতুব্বর:
- আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ। 
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি তার দর্শনে আত্মপ্রতিষ্ঠার নামে একটি দার্শনিক ধারার কথা বলেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টির রহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২০৩.
কে সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন?
  1. ফিফনার
  2. ম্যাক্সওয়েবার
  3. ফাইনার
  4. মিল
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"

⇒ আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২০৪.
জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার আইন কোনটি?
  1. বেসরকারী আইন
  2. সরকারী আইন
  3. দেওয়ানী আইন
  4. ফৌজদারী আইন
ব্যাখ্যা

আইনের প্রকারভেদ:
- ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভিত্তিতে আইনকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। যথা− (১) বেসরকারী আইন, (২) সরকারী আইন এবং (৩) আন্তর্জাতিক আইন।
• (১) বেসরকারী আইন− ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন মেনে চলা হয় তাকে বেসরকারী আইন বলে। বেসরকারী আইনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

• (২) সরকারী আইন− ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রয়োগ করা হয় তাকে সরকারী আইন বলে। এই আইন আবার নিুলিখিতভাবে বিভক্ত হয় :
- (ক) শাসনতান্ত্রিক আইন− এগুলো মৌলিক আইন যার দ্বারা রাষ্ট্রের ধরন, সরকারের ধরন, সরকারের বিভাগগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ ও জনগণের সাথে সম্পর্ক নিরূপণ করা হয়।
- (খ) প্রশাসনিক আইন− প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্ক নিরূপণের জন্য যে আইন প্রণীত হয় তাকে প্রশাসনিক আইন বলে।
- (গ) ফৌজদারী আইন− চুরি, ডাকাতি ও মারামারি সংক্রান্ত বিষয়গুলো যে আইনের দ্বারা মীমাংসা করা হয় তাকে ফৌজদারী আইন বলে।
- (ঘ) দেওয়ানী আইন− টাকা-পয়সা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদের মীমাংসা যে আইনের দ্বারা করা হয় তাকে দেওয়ানী আইন বলে।

• (৩) আন্তর্জাতিক আইন: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে সমস্ত নিয়মগুলো সভ্য রাষ্ট্রসমূহ তাদের পারস্পরিক চলার ক্ষেত্রে মেনে চলে তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২০৫.
UNDP অনুযায়ী, সুশাসন মানে কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল
  2. অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি
  3. আইনি কাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ
  4. রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

UNDP অনুযায়ী, সুশাসন হলো সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা।
----------------------------------------------
• সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটি মূলত বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় প্রথমবারের মতো 'Good Governance' বা সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই গভর্নেন্স।
- ২০০০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল—
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।
-----------------------
• সুশাসন ও UNDP:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসন অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত প্রশাসন নিশ্চিত করে, যা টেকসই মানব উন্নয়নে সহায়ক।

- UNDP সুশাসনের ৯ টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে- 
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহি, 
- কৌশলগত লক্ষ্য। 

উৎস:
UNDP Website; 
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২০৬.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো-
  1. রাষ্ট্র
  2. সমাজ
  3. নৈতিকতা
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

সভ্যতা ও সমাজ:
- সভ্যতা (Civilization) বলতে বোঝায় মানুষের জীবনযাপনের উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রূপ।
- এখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শিল্প, সাহিত্য, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও মানদণ্ডে গড়ে ওঠে।
- আর এই সভ্যতার বিকাশ ও বিকাশমান রূপের অন্যতম প্রধান প্রতিফলন হয় সমাজে।
- সমাজ হল মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো।
- মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি, নৈতিকতা, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা সভ্যতার গঠন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- তাই সমাজকে সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি বলা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৭.
কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থায় জনগণ বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে?
  1. সমাজতন্ত্র
  2. একনায়কতন্ত্র
  3. গণতান্ত্রিক
  4. পুঁজিবাদী
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় জনগণ বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে।

সরকার ব্যবস্থা:
- অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে মালিকানার উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা: পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রধানত দুই প্রকার। যথা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- এ ব্যবস্থা ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগসহ রাজনীতি চর্চার সুযোগ থাকে।
- গণতন্ত্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে।
- গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ মতামত প্রকাশের অধিকার ভোগ করে।
- ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিকাশ ঘটে।
- সকলে মিলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। এতে নাগরিকের অধিকার রক্ষা হয়।

অন্যদিকে,
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র:
- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে পুঁজি সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জনের উপর রাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না। এক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতা থাকে এবং অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ বিদ্যমান। সাধারণত পুঁজিবাদী রাষ্ট্র মুক্ত বাজার অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করবে না বরং চাহিদা ও যোগান দ্বারা বাজার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পুঁজিপতিরা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে জনকল্যাণমূলক ব্যয় কম হয় এবং সরকার পুঁজি বিনিয়োগের যাবতীয় কাঠামোগত ও নীতিগত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করে। ফলে ধনী-দরিদ্র্যের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়।

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় উৎপাদনের সকল উপাদান যেমন-ভূমি, শ্রম, মূলধন এবং ব্যবস্থাপনা সবকিছুর মালিকানা থাকে রাষ্ট্রের হাতে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোতে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যতা নেই। বরং ব্যক্তির জীবনে প্রত্যেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বীয় হস্তক্ষেপ বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থা রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির আয়ের উপর করারোপ করে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্য রাষ্ট্র সর্বদা সচেষ্ট থাকে। রাষ্ট্র শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করে দেয় এবং রাষ্ট্র তার রাজস্ব আয় জনকল্যাণে ব্যয় করে। বিলুপ্ত হওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর অন্তর্ভূক্ত ছিল।

একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এক ব্যক্তির শাসন বহাল থাকে। ফলে সেই একনায়কের আদেশ-নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজস্ব মত প্রকাশের মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। জনগণ স্বাধীনভাবে রাজনীতি চর্চা করতে পাওে না, তাছাড়া এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার কোন অবকাশও নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৮.
নিম্নের কোন মতবাদ অনুসারে, সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি?
  1. Realism
  2. Idealism
  3. Nihilism
  4. Liberalism
ব্যাখ্যা
শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

⇒ শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
- পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে,
• বাস্তববাদ (Realism):
- যে মতবাদে বস্তুর জ্ঞান-নিরপেক্ষ বা মন-নিরপেক্ষ অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় তাকে বস্তুবাদ বলে।

• ভাববাদ (Idealism):
- যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
- এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।

• উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।

উৎস: Britannica.
২০৯.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি কী?
  1. রাষ্ট্র
  2. সুশাসন
  3. সমাজ
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা ও সমাজ:
- সভ্যতা (Civilization) বলতে বোঝায় মানুষের জীবনযাপনের উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রূপ।
- এখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শিল্প, সাহিত্য, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও মানদণ্ডে গড়ে ওঠে।
- আর এই সভ্যতার বিকাশ ও বিকাশমান রূপের অন্যতম প্রধান প্রতিফলন হয় সমাজে।
- সমাজ হল মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো।
- মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি, নৈতিকতা, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা সভ্যতার গঠন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- তাই সমাজকে সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি বলা হয়।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১০.
'মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. প্রোটাগোরাস
  2. প্লেটো
  3. হিউম
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- প্রোটাগোরাস-এর মতে, ‘মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক।’

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২১১.
'গোল্ডেন মিন' ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. হবস
  3. প্লেটো
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
২১২.
আইনের শাসনের মূলকথা কোনটি?
  1. বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা
  2. অনাচার রোধ করা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষা করা
  4. সবাইকে সমান চোখে দেখা
ব্যাখ্যা
আইন:
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তি বিরাজ করে।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) কালের কন্ঠ।
২১৩.
“আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. ওপেন হাইম
  3. এরিস্টটল
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
আইন:
• “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করে - এরিস্টটল।
• আইনের অনুশাসন কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করে - অধ্যাপক ডাইসি।
• “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করে - জন অস্টিন।
• “জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি কারে - ওপেন হাইম।
• “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন - অধ্যাপক ডাইসি।
• “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা”- উক্তিটি করে - জন লক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২১৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য-এর বিষয়টি আলোচিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৮
  3. অনুচ্ছেদ ২১
  4. অনুচ্ছেদ ২৫
ব্যাখ্যা

নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২১(১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয় "সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।”
- ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।”

অন্যদিকে,
- ১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- ১৮ নং অনুচ্ছেদ: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা:
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২১৫.
"Red-tapism" বা লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি মূলত কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি
  3. রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম
  4. আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

লালফিতার দৌরাত্ম্য (Red tapism):
- "Red-tapism" বা লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি মূলত আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।

• লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উল্লেখ্য,
- যে কোন সমস্যা বিধি-মোতাবেক সমাধান করতে গিয়ে প্রায়শ সময় নষ্ট হয়ে যায়। যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা পূর্ববর্তী নজিরের উপর বেশি গুরুত্বরোপ করেন। অফিসের দৈনন্দিন কর্ম পরিকল্পনা করেন সনাতন রীতি ও কর্মপদ্ধতির উপর ভিত্তি করে। এর ফলে আমলাতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ জনগণের সেবা প্রদান ব্যাহত হয়।
- অতিবেশি নিয়ম কানুনের কারণে জনগণ সরকারি অফিসে এসে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ছোটাছুটিতে বাধ্য হন। আবার আইন কানুনের জটিলতার জন্য আমলারা সময়মত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।
- লালফিতার সুযোগে অনেক সময় আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠতে পারেন। পদসোপান নীতির কারণেও আমলাতন্ত্রে কাজের বিলম্ব হয়ে থাকে। লালফিতার দৌরাত্ম্যে আমলাতন্ত্র জনবিচ্ছিন্ন ও অপ্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আমলাতন্ত্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হলে, তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, এমনকি এ কারণে সরকারের পতন পর্যন্ত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২১৬.
নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ -
  1. রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার
  2. জনমত গঠন
  3. পরিকল্পনা প্রণয়ন
  4. নীতি নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়। সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম।

- নীতি নির্ধারক: নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা।
- জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. স্থানীয় সরকার
  3. সরকারি কর্ম কমিশন
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দিয়ে প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- ১৮ অক্টোবর ২০১২ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৌশলপত্রটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

• শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

• অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬. গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২১৮.
জেরেমি বেন্থাম কোন তত্ত্বের প্রকৃত প্রবক্তা?
  1. Virtue Ethics
  2. Deontology
  3. Utilitarianism
  4. Existentialism
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'। 
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন। যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ Greatest Happiness Principle:
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা। এই নীতিকে Utilitarianism (উপযোগবাদ) নামেও পরিচিত।
- পরবর্তীতে John Stuart Mill এই ধারণাকে বিকশিত করেন।
- মূল কথা: মানুষের নৈতিকতা ও আইন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ (Happiness) নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে,
- Deontology-এর প্রবক্তা ইমানুয়েল কান্ট।
- Virtue Ethics-এর প্রধান প্রবক্তা অ্যারিস্টটল।
- Existentialism-এর প্রধান প্রবক্তা সোরেন কিয়ের্কেগার্ড।

উৎস: i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) Britannica.

২১৯.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে -
  1. শক্তিশালী সরকারের ওপর
  2. সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর
  3. রাজনৈতিক দলের ওপর
  4. বিচার বিভাগের ওপর
ব্যাখ্যা

জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।

⇒ জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। 

⇒ লর্ড ব্রাইস বলেন, "জনমত হল সম্প্রদায়ের স্বার্থ-সংশিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।"
- জিনস্ বার্গ বলেন, "জনমত হল সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।"
- ই.এম. সেইট বলেন, "জনমত বলতে আমরা এই বুঝি যে, এটি হল জনসমষ্টির মত, জনগণেরই মত।"
- এল. ডবিউ, ডুব বলেন, "একই সামাজিক সংগঠনের সভ্য হিসেবে জনগণের মতামতই জনমত।"
- জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার উপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২০.
‘Know Thyself' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1. সক্রেটিস
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. এরিস্টটল
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা
• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা। 
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।
- সক্রেটিস এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের নিজের সীমা, জ্ঞান ও নিজস্বতা উপলব্ধির ওপর জোর দেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
নিচের কোনটি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে?
  1. গণমাধ্যম
  2. সংবিধান প্রতিপালন
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধান মান্যতা:
- স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে - সংবিধান প্রতিপালন।
- সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের অধিকারের দলিল।
- সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা হলে জনগণের স্বাধীনতা সহজেই নিশ্চিত হয়।
- যেমন, বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ে জনগণের অনেক অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২২.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কীরূপ?
  1. সাংঘর্ষিক
  2. নেতিবাচক
  3. ইতিবাচক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন মানে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য প্রশাসন যা নীতি, ন্যায়বিচার, এবং জনকল্যাণের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নীতি ও আদর্শ যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ মেনে চলে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ পরস্পরকে শক্তিশালী করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকাশ ঘটায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
২২৩.
“আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”- উক্তিটি কার?
  1. টমাস হব্স
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক গেটেল
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা:
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২২৪.
কোনটি ‘সার্বভৌম ও সর্বোচ্চ’ ক্ষমতার অধিকারী?
  1. রাষ্ট্র 
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সরকার
  4. আমলাতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন রাষ্ট্রের সদস্য।
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।
- সভ্যতার বিকাশে মানুষ যত রকম সংঘ গঠন করছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং শক্তিশালী সংঘ হচ্ছে রাষ্ট্র।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্র সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- এটি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী এবং একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

⇒ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে- (১) জনসমষ্টি (২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৫.
”আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি” উক্তিটি করেন- 
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. এরিস্টটল
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. জন অস্টিন
ব্যাখ্যা

- "আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

সুশাসন: 

- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).

এছাড়াও,
- "আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ" উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- "আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- "আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- "আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান" বলেছেন অধ্যাপক ডাইসি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৬.
“যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতাও নেই” উক্তিটি কার?
  1. হার্বাট
  2. আর্নেস্ট বার্কার
  3. ডাইসি
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতা:
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- এরিস্টটল, মন্টেস্কু, উইলোবি, বার্কার, লক প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- হার্বাট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।
- জন লকের মতে, “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতাও নেই।”
- আর্নেস্ট বার্কারের মতে, “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল” উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি 
  2. রুশো 
  3. জন লক
  4. লক ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা

• স্বাধীনতা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা।
- সাধারণত স্বাধীনতার আন্দোলন বা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের মাধ্যমে একটি জাতি স্বাধীনতা লাভ করে। 
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি,  বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৮.
অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত কোন স্বাধীনতা অর্থহীন?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা

সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা: (ক) সামাজিক সাম্য, (খ) রাজনৈতিক সাম্য, (গ) অর্থনৈতিক সাম্য, (ঘ) আইনগত সাম্য। 

⇒ সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

⇒ রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

⇒ অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
-  যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।
- কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'

⇒ স্বাভাবিক সাম্য:
- স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক সাম্যের অর্থ হলো জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান'।
- জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে কোন পার্থ্যক্য নেই।
- আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণায় স্বাভাবিক সাম্যের তত্ত্ব প্রচারিত হয়।
- কিন্তু জংতভাবে সব মানুষ দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে সমান হতে পারেনা।
- এজন্য স্বাভাবিক সাম্যের ধারণা বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

⇒ আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২২৯.
যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের পেশা গ্রহণ ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে কী বলে?
  1. সামাজিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. আইনগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

⇒ আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৩০.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে নিচের কোনটি অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. গণমাধ্যম
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল
- স্লোগান : সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- গ্রহণ : ২০১২।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী)।
- রূপকল্প (Vision): সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ (Mission): রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ:
(ক) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও (খ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান

(অ) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন;
২. জাতীয় সংসদ;
৩. বিচার বিভাগ;
৪. নির্বাচন কমিশন;
৫. অ্যাটর্নি জেনারেল;
৬. সরকারি কর্ম কমিশন;
৭. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়;
৮. ন্যায়পাল;
৯. দুর্নীতি দমন কমিশন;
১০. স্থানীয় সরকার;

(আ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
১. রাজনৈতিক দল;
২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান;
৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ;
৪. পরিবার;
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান;
৬. গণমাধ্যম;

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৩১.
UNCAC-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. United Nations Convention Against Crime
  2. United Nations Council Against Corruption
  3. United Nations Convention Against Corruption
  4. United Nations Committee Against Crime
ব্যাখ্যা
⇒ জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েরবসাইট।
২৩২.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস নয় কোনটি? 
  1. প্রথা
  2. ন্যায়বিচার
  3. জনমত
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: সার্বভৌমের আদেশ। 
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা।
- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা, জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ - মোজাম্মেল হক।

২৩৩.
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিম্নের কোনটি গুরুদণ্ড?
  1. নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ
  2. চাকরি হতে অপসারণ
  3. তিরস্কার
  4. ক্ষতিপূরণ আদায়
ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮:
- সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দশম অধ্যায়ের ৩২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কেবলমাত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে লঘু ও গুরু দন্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষের বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর বিভাগীয় মামলায় এই ধারায় উল্লিখিত গুরু বা লঘু দন্ড আরোপের এখতিয়ার বা ক্ষমতা নাই। এই ধারায় এই ক্ষমতা অর্পণেরও কোনো বিধান রাখা হয় নাই। যদিও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর লঘু দন্ড আরোপের ক্ষমতা রয়েছে, যা এই আইনের পরিপন্থী হওয়ায় এই আইনের আওতাধীন কর্মচারীদের জন্য শৃংখলা ও আপীল বিধিমালার আইনটি অকার্যকর।

দণ্ড:
- নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করতে পারবে, যথা:

• লঘু দণ্ডসমূহ:
- তিরস্কার;
- নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;
- বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ;
- কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

• গুরু দণ্ডসমূহ:
- নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ;
- বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;
- চাকরি হতে অপসারণ;
- চাকরি হতে বরখাস্ত।

উৎস: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮।
২৩৪.
'অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি'- মার্কিন কোন প্রেসিডেন্ট উক্ত উক্তিটি করেছেন?
  1. উড্রো উইলসন
  2. রুজভেল্ট
  3. জন এফ কেনেডি
  4. জিমি কার্টার
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও,
⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৩৫.
'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' কোন নীতির সাথে সম্পৃক্ত?
  1. নয়া উদারতাবাদী অর্থনীতি
  2. কেইনসীয় অর্থনীতি
  3. মার্কসবাদী অর্থনীতি
  4. সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি
ব্যাখ্যা
ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।
- ধারণাটি সর্বপ্রথম ১৯৮৯ জনসম্মুখে নিয়ে আসেন জন উইলিয়ামসন নামের একজন অর্থনীতিবিদ যিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক একজন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ছিলেন। 

⇒ নীতিগুলো হচ্ছে:
- বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.
২৩৬.
একজনকে বিনা বিচারে আটক রাখা কোন অধিকারের পরিপন্থী?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. ব্যক্তিগত অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
একজনকে বিনা বিচারে আটক রাখা ব্যক্তিগত অধিকারের পরিপন্থী।

অধিকার:

- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।

⇒ ব্যক্তিগত অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৩৭.
সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1.  অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
  2. জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা
  3. পররাষ্ট্রনীতি
  4. মালিকানার নীতি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• ১৮ (১) নং দফায় বলা হয়েছে,
- জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
• ১৮ (২) নং দফায় বলা হয়েছে,
- গনিকাবৃত্তি এবং জুয়াখেলা নিরোধের জন্যে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে,
- মালিকানার নীতি সম্পর্কে বলা আছে ১৩ নং অনুচ্ছেদে।
- অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম সম্পর্কে উল্লেখ আছে ২০ নং অনুচ্ছেদে।
- ২৫ নং অনুচ্ছেদে পররাষ্ট্রনীতির কথা সম্পর্কে উল্লেখ। উক্ত অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

২৩৮.
রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে কী বলে?
  1. সাধারণ অধিকার
  2. ব্যক্তিগত অধিকার 
  3. নৈতিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
• আইনগত অধিকার:
যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
→ আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
ক. সামাজিক
খ. রাজনৈতিক ও
গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৯.
মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ১২০ তম
  2. ১৩০ তম
  3. ১৩২ তম
  4. ১৩৬ তম
ব্যাখ্যা

মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ৬ মে ২০২৫ "Human Development Report 2025: A matter of choice: People and possibilities in the age of A I^ prime prime শিরোনামে "মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন" প্রকাশ করে।
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI (Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
- শীর্ষ দেশ- আইসল্যান্ড।

⇒ মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২৪০.
আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে-
  1. সরকার
  2. নৈতিকতা
  3. গণতন্ত্র
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে।

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা: 

- স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয়ের অবস্থান সমান্তরাল। স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন। আবার গণতন্ত্রই স্বাধীনতার পথ সুগম করে।
- স্বাধীনতার অর্থ অপরের দ্বারা বাধাগ্রস্থ না হয়ে নিজের অধিকার ভোগ করা।
- তদ্রূপ অপরের সমঅধিকারে হস্তক্ষেপ না করাই স্বাধীনতার মূল কথা।
- এজন্য স্বাধীনতা বলতে এমন এক পরিবেশের সংরক্ষণ বুঝায় যেখানে ব্যক্তি তার সর্বোত্তম সত্তা বিকাশের সুযোগ পায়।
-  কারণ গণতন্ত্র এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থনে সরকার গঠিত হয়।
- এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় আইনসিদ্ধভাবে নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এছাড়াও,
- গণতন্ত্র হল নিয়মতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যেখানে সাংবিধানিকভাবে জনগণের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয় এবং সাংবিধানিক নিশ্চয়তার মাধ্যমে স্বাধীনতা বলবৎকরণের ব্যবস্থা করা হয়।
- গণতন্ত্র আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে।
- তাই হারানো স্বাধীনতা আদালতের নিরপেক্ষ রায়ে পুনর্বহাল হয়।
- তাছাড়া গণতন্ত্র জনগণের সম্মতিতে রচিত আইনের মাধ্যমে সাম্যভিত্তিক আদর্শ গণতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টি করে স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করতে পারে।
- একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষ জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারে।
- সুতরাং স্বাধীনতা যেমন গণতন্ত্রের শর্ত তেমনি গণতন্ত্রই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪১.
“জনগণ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।” - এ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন কে?
  1. জন অস্টিন
  2. টমাস হবস
  3. রুশো
  4. জেরমী বেন্থাম
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ
- রাষ্ট্রের আইন জনগণ কেন মান্য করে এ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টমাস হবস, জেরমী বেন্থাম ও জিন অস্টিন মনে করেন, “জনগণ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।”
- অস্টিনের মতে, “আইন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ বিধায় জনগণ আইন মান্য করে চলে। কেননা জনগণের মধ্যে এ চেতনা জাগে যে, রাষ্ট্র শুধুমাত্র আইন ভঙ্গকারীকে অভিযুক্ত করে না বরং শাস্তি প্রদান করে থাকে।

অপরদিকে
- এরিস্টটল, লক, রুশো, গ্রিণ এ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন।
- তাঁদের মতে, আইনের উপযোগিতার উপলব্ধি হল আইন মান্য করার অপরিহার্য কারণ।
- তাঁদের ধারণা আইন অধিকার রক্ষা করে।
- দুর্বলকে সবলের হাত থেকে রক্ষার জন্য আইনের প্রয়োজন।
- আইনের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি স্বাভাবিকভাবেই জনসাধারণকে আইন মান্য করতে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য,
- আইন মান্য করা সম্পর্কিত উপরোক্ত দু’টি মতাবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন জন হেনরি মেইন।
- তিনি বলেন, শাস্তির ভয়ে এবং আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে উভয়বিধ কারণে জনসাধারণ আইন মান্য করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪২.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত কোনটি?
  1. প্রশাসন
  2. গণমাধ্যম
  3. বিচার বিভাগ
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৩.
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, উপযোগবাদ কোন নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. সর্বোচ্চ আনন্দের নীতি
  2. স্বাধীনতার নীতি
  3. সমতার নীতি
  4. ন্যায়বিচারের নীতি
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, উপযোগবাদ সর্বোচ্চ আনন্দের নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত।

​উপযোগবাদ:

- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৪৪.
'যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিকে' আইন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন কে?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. টি এইচ গ্রিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও - 
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৪৫.
'রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশন একান্ত প্রয়োজন'- উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. ম্যাকিয়াভ্যালি
  3. রুশো
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ সংবাদপত্র জনমত গঠনের অন্যতম বাহন।
- সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে জনগণ স্থানীয়, দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যাবতীয় তথ্য ও সংবাদ জানতে পারে।
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণ বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ, দাবি-দাওয়া সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে।
- সংবাদপত্রের গঠনমূলক সমালোচনার ভয়ে সরকার সংযত থাকে।
- এজন্য বলা হয়ে থাকে যে, সংবাদ মাধ্যম যেভাবে বলে, জনমত সেভাবে গড়ে ওঠে।
- তবে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন সুষ্ঠু জনমত গঠনে সহায়ক নয়।
- অধ্যাপক লাস্কি তাই বলেন, "রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য সৎ ও অবিকৃত সংবাদ পরিবেশন একান্ত প্রয়োজন।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৬.
'সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য দক্ষতা যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে'-উক্তিটি কার?
  1. স্যামুয়েল কোনিগ
  2. স্পেনসার
  3. ম্যালিনোস্কি
  4. ই.বি টেইলর
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে, যাকে এক কথায় কর্ষণ বা চাষ করা বোঝায়।
- অর্থাৎ মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক এবং দৈহিক চাহিদা পূরণের জন্য চর্চার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিষয়বস্তুর নির্যাসই হলো সংস্কৃতি।
- মানুষের আচার-আচরণ, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মেধা, নীতিবোধ ইত্যাদির সমষ্টিই সংস্কৃতি।

• ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী ই.বি টেইলর তাঁর 'Primitive Culture' গ্রন্থে বলেছেন, "সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের সমগ্র জীবন প্রণালী।" তাঁর মতে, সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নৈতিকতা, আইন, রীতিনীতি এবং অন্য যেকোনো দক্ষতা ও অভ্যাসের জটিল সমষ্টি।

• Jones বলেন, "Culture is the sum total of man's creation." অর্থাৎ মানুষ তার চলার পথে জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই সংস্কৃতি।

• ম্যালিনোস্কি তাঁর 'A Scientific Theory of Culture' গ্রন্থে বলেন, "সংস্কৃতি হলো মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য সাধন করে"।

• সমাজবিজ্ঞানী স্পেনসার সংস্কৃতিকে একটি অধি-জৈবিক পরিবেশের সাথে তুলনা করেছেন, এই জৈবিক পরিবেশ বৃক্ষরাজি এবং পশুপাখি দ্বারা গঠিত এবং এটি জৈবিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ভিন্ন। 

• Samuel Koenig তাঁর Sociology গ্রন্থে বলেন: মানুষ তার চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে প্রচেষ্টা চালায় এবং তার জীবনমান বৃদ্ধিতে যত কাজ করে তার সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৭.
'জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান'-এটি কোন সাম্যকে নির্দেশ করে?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. ব্যক্তিগত সাম্য
  3. স্বাভাবিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিক সাম্য:
- স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক সাম্যের অর্থ হলো জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান'।
- জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে কোন পার্থ্যক্য নেই।
- আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণায় স্বাভাবিক সাম্যের তত্ত্ব প্রচারিত হয়।
- কিন্তু জংতভাবে সব মানুষ দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে সমান হতে পারেনা।
- এজন্য স্বাভাবিক সাম্যের ধারণা বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৮.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. জনমত স্তম্ভ
  2. নিয়ন্ত্রক স্তম্ভ
  3. তৃতীয় স্তম্ভ
  4. চতুর্থ স্তম্ভ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
- রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক।

অন্যদিকে -
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
২৪৯.
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
  1. ১৭টি
  2. ২০টি
  3. ২৫টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ:
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (২১৭-এ রেজ্যুলেশন) কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকল রয়েছে।
প্রথম আর্টিকেলে বলা হয়েছে সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সম মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন।
- ১০ ডিসেম্বর প্রতিবছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২৫০.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন কে?
  1. থমাস জেফারসন
  2. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  3. অমর্ত্য সেন
  4. এডমন্ড বার্ক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

⇒ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক।
- তিনি ১৭৮৭ সালে হাইজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে ঋড়ঁৎঃয ঊংঃধঃব প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- থমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি এই বিকল্পটি দেওয়া হয় যে তুমি কি সংবাদপত্রবিহীন সরকার চাও, না সরকারবিহীন সংবাদপত্র চাও? তখন আমি পরেরটা বেছে নেব।’
- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সংবাদপত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, চারটি আক্রমণাত্মক সংবাদপত্র হাজারটা বেয়নেটের চেয়েও ক্ষতিকর।’
- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।

এছাড়াও,
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বাকি ৩টি স্তম্ভগু হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
২৫১.
আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. ভূখণ্ড সম্প্রসারণ
  4. সামরিক শক্তি অর্জন
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়। যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- বর্তমান বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কম-বেশী কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
 
⇒ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
 - মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই রাষ্ট্র অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- মূলত সামজতন্ত্রকে প্রতিরোধ করার জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্ম পন্থা গ্রহণ করে। এই ভাবে চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মাঝামাঝি একটি মধ্যম ব্যবস্থা হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। 
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে মানুষের দুঃখ কষ্টের লাঘব করে থাকে। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে সুফল লাভের ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নাগরিকদের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। সমাজের ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
iii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫২.
’শিক্ষার অধিকার’ নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. নৈতিক
  4. ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকারসমূহ:
- জীবনের অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার, সভা-সমিতির অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, চুক্তি সম্পাদনের অধিকার, আইনের চোখে সমানাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্মের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার, খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৫৩.
নিম্নের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. আইন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. প্রতীক
ব্যাখ্যা
আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

সংস্কৃতি:

- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতির উপাদান হলো:
- ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৪.
তথ্য অধিকার আইন প্রথম চালু হয় কোন দেশে?
  1. জার্মানি
  2. ফ্রান্স
  3. স্কটল্যান্ড
  4. সুইডেন
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার:
- খ্রিস্টপূর্ব ৬০-২৭ সময়কালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের আমলে তথ্য অধিকার-এর ধারণার উদ্ভব ঘটে।
- ১৭৬৫-৬৬ সালে ফিনিশীয় রজনীতিবিদ ও দার্শনিক এল্ডর্স সাইডিনিয়াস তথ্য অধিকারের ধরণা সম্পর্কে আলোক পাত করেন।
- তবে তথ্য অধিকার বিষয়টি আইনে পরিণত হয় সর্বপ্রথম সুইডিশ পার্লামেন্টে।
- ১৭৬৬ সালে সুইডিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম ‘Ordinance on Freedom of Writing and of the Press’ নামে আইনটি পাস করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
২৫৫.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

অন্যদিকে -
⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫৬.
কাদের ক্ষেত্রে ‘বিপরীত বৈষম্য’ নীতি প্রয়োগ করা হয়?
  1. নারী
  2. সংখ্যালঘু
  3. প্রতিবন্ধী
  4. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে 'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়।

'বিপরীত বৈষম্য' (Reverse Discrimination):
- সমতার প্রশ্নে "বিপরীত-বৈষম্যের" (reverse discrimination) ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।
- অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।
- অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়।
- বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন।
- বিপরীত বৈষম্য নীতি অনুসারে, সমাজে যেসব জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ সুবিধা বা কোটা প্রদান করা হয়।
- এটি সংরক্ষণ নীতি বা Affirmative Action হিসেবেও পরিচিত, যা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক অধিকারভুক্ত?
  1. মত প্রকাশ
  2. সম্পত্তি ভোগ
  3. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  4. সরকারি চাকরি লাভ
ব্যাখ্যা
আইনগত অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- যেমন-জীবন ধারণের অধিকার, ভোটদানের অধিকার, শিক্ষার অধিকার।
- আইনগত অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

(ক) সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন- জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।

(খ) রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- ভোটদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সরকারি চাকরি লাভ, সরকারি কাজের সমালোচনা, আবেদন করা রাজনৈতিক অধিকার।

(গ) অর্থনৈতিক অধিকার:
- ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করেন, সেগুলোকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, অবকাশ যাপন প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৮.
ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৬টি
  3. ৪টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
আইন ও আইনের উৎস:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্রথা
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫৯.
'জেরেমি বেন্থাম' নিম্নের কোন মতবাদের প্রবক্তা?
  1. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ
  2. সামাজিক চুক্তি
  3. উপযোগবাদ
  4. সাম্যবাদ নীতি
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।
- তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

উল্লেখ্য:
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
আইনগত কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
  2. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
→ সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
২৬১.
এইচ জিগলার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেছেন?
  1. Organised Group
  2. Influence Group
  3. Pressure Group
  4. Interest Group
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬২.
জনমত বলতে নিম্নের কোনটিকে বোঝায়?
  1. সংগঠিত মতামতকে
  2. কল্যাণকামী ও যুক্তিসিদ্ধ মতামতকে
  3. প্রভাবশালী ব্যক্তির মতামতকে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।

⇒ লর্ড ব্রাইস বলেন, "জনমত হল সম্প্রদায়ের স্বার্থ-সংশিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।"
- জিনস্ বার্গ বলেন, "জনমত হল সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।"
- ই.এম. সেইট বলেন, "জনমত বলতে আমরা এই বুঝি যে, এটি হল জনসমষ্টির মত, জনগণেরই মত।"
- এল. ডবিউ, ডুব বলেন, "একই সামাজিক সংগঠনের সভ্য হিসেবে জনগণের মতামতই জনমত।"
- কিম্বল ইয়াং বলেন, "একটি নির্দিষ্ট সময়ে জনগণ যে মতামত পোষণ করে, তাই জনমত।"
- লোয়েল বলেন, "জনমত বলে অভিহিত হওয়ার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত হওয়াই যথেষ্ট নয়, আবার সকলের ঐকমত্যেরও প্রয়োজন নেই।"
- জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার উপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"
- অস্টিন রেনি বলেন, "জনমত হল সে সকল মতের সমষ্টি যার প্রতি সরকারি কর্মচারীবৃন্দ বা আমলারা খানিকটা সজাগ এবং সরকারি কার্যাবলি নির্ধারণের সময় তারা এর গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে।"

⇒ জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি ‘Know Thyself' এর অর্থ কী?
  1. অপরকে জানো
  2. সকলকে জানো
  3. নিজেকে জানো
  4. সমাজকে জানো
ব্যাখ্যা
• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা। 

- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
জাতীয় স্বাধীনতা কোনটির মূলভিত্তি?
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতার
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতার
  3. সামাজিক স্বাধীনতার
  4. উল্লিখিত সব ধরনের স্বাধীনতার 
ব্যাখ্যা

জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।


উল্লেখ্য,
⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৬৫.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সফলতার জন্য কয়টি শর্ত উল্লেখ করেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ণতন্ত্র (Democracy):
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। 
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৬৬.
অধিকার প্রধানত কয়টি ভাগে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
অধিকার:
অধিকার হলো জনগণের ব্যক্তিত্ব এবং জীবন কে পূর্ণ বিকাশিত করার জন্য সমাজ তাদেরকে যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে তার সমষ্টি। অধিকার প্রধানত ২ ভাগে বিভক্ত-
১। নৈতিক অধিকার
২। আইনগত অধিকার

১) নৈতিক অধিকার:
যে অধিকার সমাজের ন্যায়বোধ হতে উদ্ভব হয়, তাকে নৈতিক অধিকার বলে। এগুলোর উৎস সমাজ। এগুলো না মানলে শাস্তি ভোগ করতে হয় না, তবে সমালোচিত হয়। যেমন-
- দরিদ্রকে সাহায্য।
- ভিক্ষুককে ভিক্ষাদান।
- বড়দের শ্রদ্ধা করা।

২)আইনগত অধিকার:
যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। এগুলোর উৎস রাষ্ট্র।এগুলো না মানলে শাস্তি ভোগ করতে হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৭.
“Law is the passionless reason" উক্তিটি কার?
  1. হল্যান্ড
  2. এরিস্টটল
  3. স্যামন্ড
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা
আইনের সংজ্ঞা:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason.)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও -
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৬৮.
দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থার নাম?
  1. গোল্ডেন মিন
  2. সুবর্ণ মধ্যক
  3. ক+খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন মিন (Golden Mean) বা সুবর্ণ মধ্যক:
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- 'সুবর্ণ মধ্যক' হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৬৯.
কোন উপাদান ছাড়া রাষ্ট্রের স্বীকৃতি সম্ভব নয়?
  1. জনসমষ্টি
  2. ভূখন্ড
  3. সরকার
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রের উপাদান :
- রাষ্ট্র গঠনের চারটি প্রধান উপাদান রয়েছে।
 
⇔ প্রথম উপাদান হলো জনসমষ্টি, যা রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। 
- জনসমষ্টি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
- তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রয়োজন নেই; এটি স্বাধীনভাবে নির্ধারিত হতে পারে।

⇔ দ্বিতীয় উপাদান হলো ভূখন্ড। 
- যা জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ প্রদান করে।
- ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়, পর্বত এবং সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়।

⇔ তৃতীয় উপাদান হলো সরকার, যা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান প্রতিষ্ঠান।
- সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং এটি তিন ধরনের কাজ সম্পন্ন করে :
- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত এবং বিচার সংক্রান্ত।

⇔ চতুর্থ এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- সার্বভৌমত্ব ছাড়া কোনো দেশকে রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা যায় না।
- উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশের সব অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত ছিল না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, দ্বাদশ শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৭০.
রাষ্ট্র সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান
  2. পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান
  3. সামাজিক প্রতিষ্ঠান
  4. স্থায়ী প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- ইংরেজ দার্শনিক টি, এইচ, গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

এছাড়াও,
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান।
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
        ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭১.
জাতীয় স্বাধীনতা ছাড়া অর্থহীন -
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা:
- বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তথন তাকে জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্ববুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতয়ি স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন। জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।             
২৭২.
ক্ষমতায় না গিয়েও নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে -
  1. রাজনৈতিক দল
  2. আমলাতন্ত্র
  3. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতায় না গিয়েও নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

উল্লেখ্য,
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৩.
সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে -
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. সরকার
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৭৪.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার নয়?
  1. ধর্মের অধিকার
  2. কর্মের অধিকার
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
  4. সম্পত্তির অধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. সভা-সমিতির অধিকার।
৫. চলাফেরার অধিকার।
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার।
৯. সম্পত্তির অধিকার।
১০. ধর্মের অধিকার।

- অপরদিকে,
- কর্মের অধিকার হচ্ছে নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৭৫.
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ইমানূয়েল কান্ট
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

• জন স্টুয়ার্ট মিল :
- মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill] এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
- জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা।
- আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Utilitarianism,
- A System of Logic,
- On Liberty,
- Three Essays on Religion: Nature, the Utility of Religion, and Theism
- The Subjection of Women,

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৭৬.
নিম্নের কে সামাজিক চুক্তি মতবাদের তাত্ত্বিক নয়?
  1. জন লক
  2. টমাস হবস
  3. ডেভিড হিউম
  4. জ্যাঁ জ্যাক রুশো
ব্যাখ্যা
সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- সামাজিক চুক্তি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তির ক্ষেত্রে একটি কাল্পনিক মতবাদ।
- এই মতবাদের মূল কথা হলো সৃষ্টির শুরুতে বা আদিম সমাজে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত।
- প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ প্রাকৃতিক আইন মেনে চলতো এবং তারা কিছু প্রাকৃতিক অধিকার ভোগ করত।
- কিন্তু প্রাকৃতিক আইন ও অধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যার ফলে প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের বসবাস দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
- এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য প্রকৃতির রাজ্যের অধিবাসীরা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে রাষ্ট্র গঠন করে।
- একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি অথবা একটি কর্তৃপক্ষকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করে।
- যেহেতু রাষ্ট্র চুক্তির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে সেহেতু এ মতবাদকে সামাজিক চুক্তি মতবাদ (Social contract theory) বলে।

উল্লেখ্য,
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত 'লেভিয়াথান' গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
- পরবর্তীতে আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক 'টু ট্রিটিজেস অন সিভিল গভর্নমেন্ট' গ্রন্থে এবং অস্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো 'সোসাল কন্ট্রাক্ট' গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- মূলত এ তিনজনকেই সামাজিক চুক্তি মতবাদের তাত্ত্বিক বলা হয়।

অন্যদিকে,
- বল প্রয়োগ মতবাদের তাত্ত্বিক হচ্ছেন ডেভিড হিউম, জেংকস, জেলীনক।
- বল প্রয়োগ মতবাদের মূল কথা হলো, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
'পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা' কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা ব্যক্তিগত অধিকার।

অধিকার:

- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।

⇒ ব্যক্তিগত অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭৮.
অ্যারিস্টটলের 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' অনুযায়ী, সদ্গুণ অর্জনের জন্য কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ন্যায়বান হওয়া
  2. সাহসী হওয়া
  3. মধ্যপন্থা অবলম্বন করা
  4. মিতাচারী হওয়া
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। 
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৯.
“Sociology is the science of society or of social phenomena.” – এই সংজ্ঞাটি sociology-র কে প্রদান করেছে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. এল এফ ওয়ার্ড
  3. লর্ড ব্রাইস
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে নাগরিকের আচার-আচরণ, রীতি- নীতি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্রের শাসন প্রণালীসহ নাগরিকের সামগ্রিক বিষয়াবলি সম্বন্ধে আলোচনা করে।
- সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে এল এফ ওয়ার্ড (L.F. Ward) বলেন, "Sociology is the science of society or of social phenomena.”

অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা  এসএসসি প্রোগ্রাম, ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮০.
'লালফিতার দৌরাত্ম্য' খুব বেশি কোথায় দেখা যায়?
  1. আমলাতন্ত্রে
  2. রাজতন্ত্রে
  3. একনায়কতন্ত্রে
  4. গণতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tape) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮১.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে কী বোঝায়?
  1. প্রশাসনের সকল সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীভূত করা
  2. শুধুমাত্র বিচার বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. শুধুমাত্র আইন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  4. আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক পৃথক বিভাগে অর্পণ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮২.
মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. সহমর্মিতা
  2. শৃঙ্খলা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. নীতিবোধ
ব্যাখ্যা
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান।

• মূল্যবোধের উপাদান:

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়।
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-

→ নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল।
- কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না।
- তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান।
- শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

• সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত।
- সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে
পারে না।

• সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৩.
নিম্নের কে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. এরিস্টটল
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন।

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:

- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ১৪৫৯ সালের ৩ মে ইতালির ফ্লোরেন্সে এক অ্যাটর্নির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৮৪.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎসের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. প্রথা
  2. ধর্ম
  3. জনমত
  4. বিচারকের রায়
ব্যাখ্যা
• আইনের উৎস (Sources of Law):
→ জন অস্টিনের মতে, আইনের উৎস একটি এবং তা হচ্ছে 'সার্বভৌমের আদেশ'।
→ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস হলো ৬টি; যথা : (১) প্রথা, (২) ধর্ম, (৩) বিচারকের রায়, (৪) ন্যায়বিচার, (৫) বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, (৬) আইনসভা।
→ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, 'জনমত'- আইনের উৎসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
→ তবে, ওপেনহাইম জনমতকেও আইনের উৎস বলে মনে করেছেন। কেননা জনমতের প্রভাবে অনেক সময় সরকার আইন প্রণয়ন বা প্রচলিত আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮৫.
সুনাগরিকের গুণাবলী সম্পর্কে লর্ড ব্রাইস এর মতে কী কী গুণ থাকা উচিত?
  1. প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা, সহনশীলতা
  2. বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক
  3. বুদ্ধি, আত্মবিশ্বাস, কর্মদক্ষতা
  4. প্রজ্ঞা, আত্মবিশ্বাস, ভালোবাসা
ব্যাখ্যা
• সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- লর্ড ব্রাইস এর মতে, সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হতে হলে তিনটি গুণ থাকা জরুরি:
১. বুদ্ধি - সুনাগরিকদের মধ্যে ভালো চিন্তা-ভাবনা এবং যুক্তির দক্ষতা থাকতে হবে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করেন।
২. আত্মসংযম - সুনাগরিকদের আত্মসংযম থাকতে হবে, অর্থাৎ তাদের ব্যক্তিগত আবেগ বা তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এতে তারা সমাজে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. বিবেক - সুনাগরিকের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ এবং সঠিক-ভুলের বুঝ থাকার প্রয়োজন, যাতে তারা সমাজের কল্যাণের জন্য কাজ করে এবং অন্যদের ক্ষতি না করে।

- এই তিনটি গুণ—বুদ্ধি, আত্মসংযম, এবং বিবেক—একজন নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে এবং তাকে তার দায়িত্ব পালন করতে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৬.
কোন ধরনের সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রের নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে?
  1. রাজনৈতিক সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. আইনগত সাম্য
  4. অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথাঃ
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

• সামাজিক সাম্য: 
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

• রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৭.
জন লকের মতে, মানুষের প্রাকৃতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. শিক্ষা ও নিরাপত্তা
  2. বিচার ও সুরক্ষা
  3. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  4. জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

জন লক (John Locke):
- জন লক একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক চিন্তাধারার ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে জন লককেই 'আধুনিক গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়। 
- তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আধুনিক গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তোলে। 

⇒ প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্ব:
- জন লক মানুষের জন্মগত অধিকারকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
- জন লকের মতে, প্রতিটি মানুষের তিনটি মৌলিক প্রাকৃতিক অধিকার রয়েছে। এগুলো হলো: জীবন, স্বাধীনতা, সম্পত্তি।
- এই অধিকার রাষ্ট্র দেয় না; বরং রাষ্ট্রের কাজ হলো এসব অধিকার রক্ষা করা।
- আধুনিক গণতন্ত্রে মানবাধিকার ধারণার মূল উৎস এই তত্ত্ব।

উল্লেখ্য,
- তিনি প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার ধারণা তুলে ধরেছেন।
- লকের মতে, প্রকৃতির রাজ্য হল এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ রাষ্ট্রের বাইরে বাস করে। এই রাজ্যে মানুষ স্বাধীন ও সমান, এবং তারা প্রাকৃতিক আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। প্রাকৃতিক আইন হল এমন কিছু নীতি যা সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, এবং এগুলি ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত বলে ধরে নেওয়া হয়।
- লকের প্রকৃতির রাজ্য ধারণাটি তার সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ভিত্তি। এই তত্ত্বে তিনি যুক্তি দেন যে, মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে স্বাধীন ও সমান, কিন্তু তাদের স্বাধীনতা ও সমতার অধিকার রক্ষার জন্য তারা সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে। লকের প্রকৃতির রাজ্য ধারণাটি আধুনিক রাজনৈতিক চিন্তার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এটি আমেরিকান বিপ্লবের সময় বিশেষভাবে প্রভাবশালী ছিল।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৮৮.
রাজনৈতিক অধিকার কোনটি?
  1. নির্বাচনের অধিকার
  2. শিক্ষা লাভের অধিকার
  3. চলাফেরার স্বাধীনতা
  4. মত প্রকাশের অধিকার
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক অধিকার (Political Rights):
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে থাকে তাকেই রাজনৈতিক অধিকার বলে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃত।

রাজনৈতিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
→ স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার,
নির্বাচনের অধিকার,
→ আবেদন করার অধিকার,
→ সরকারি চাকরি লাভের অধিকার,
→ বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার,
→ সরকারের সমালোচনা করার অধিকার,
→ ভোট প্রধানের অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮৯.
'খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার' নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. সাংস্কৃতিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে।  
- কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে। 
- সামাজিক অধিকার সমূহ নিম্নরূপ:
১। জীবনের অধিকার,
২। ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
৩। চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
৪। সভা-সমিতির অধিকার, 
৫। খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি । 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।
২৯০.
আইনের শাসন সূচক কে প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ওয়ার্ল্ড ব্যাংক
  3. ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন সূচক:
- আইনের শাসন সূচক (Rule of Law Index) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজ সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (World Justice Project - WJP)।
- এই সূচকটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনের শাসনের বাস্তব প্রতিফলন, দুর্নীতি, স্বচ্ছতা এবং মৌলিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়

এছাড়াও বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।

২৯১.
জার্মান নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয় কোনটি?
  1. Being and Time
  2. Critique of Practical Reason
  3. Groundwork of the Metaphysics of Morals
  4. Critique of Pure Reason
ব্যাখ্যা

Being and Time জার্মান নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয়।  Being and Time-এর লেখক মার্টিন হাইডেগার।

​ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব সম্পর্কে রচিত ‘Perpetual Peace’ গ্রন্থটি ইমানুয়েল কান্ট-এর লেখা।
- ‘আ পাপেচুয়াল পিস (১৭৯৫)’ রাজনৈতিক দর্শনের ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
- এই বইয়ে কান্ট যুদ্ধ এড়ানোর ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও নৈতিক নির্দেশনা উপস্থাপন করেছেন।

​⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৯২.
সুনাগরিকতা সংক্রান্ত বিশেষ তিনটি গুণের কথা বলেছেন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী?
  1. লাস্কি
  2. এরিস্টটল
  3. লর্ড একটন
  4. লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা
সুনাগরিকতা বিষয়ে তিনটি গুণের কথা বলেছেন -  লর্ড ব্রাইস।

• সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
নিম্নের কোনটি আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য?
  1. স্থায়িত্ব
  2. নিরপেক্ষতা
  3. লালফিতার দৌরাত্ম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
⇒ আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি অপরিহার্য সংগঠন। নিম্নে আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হল।
- পদ সোপাননীতি: আমলাতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পদসোপাননীতি। পদ সোপাননীতি অনুসারে বিভিন্ন পদের শ্রেণিবিন্যাস ও সংগঠন করা হয়। এ নীতি অনুসারে প্রত্যেক কর্মকর্তার উপর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অধস্তন কর্মকর্তা পালন করে থাকেন।
- স্থায়িত্ব: আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের কর্মচারীগণ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে কর্মে বহাল থাকেন। সরকার পরিবর্তন বা পতন হলেও আমলাদের পতন হয় না। এ জন্য আমলারা প্রশাসনের স্থায়ী অংশ।
- সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র: আমলাদের কর্মক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। তারা তাদের কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
নিকট জবাবদিহি করে থাকেন।
- পেশাদারি ও বেতনভুক্ত: আমলাতান্ত্রিক সংগঠনের কর্মকর্তারা পেশাদারি হয়ে থাকেন এবং যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুসারে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।
- নিয়োগ ও পদোন্নতি: মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মে যোগদানের ভিত্তিতে, বয়স কিংবা একাডেমিক সাফল্যের ভিত্তিতে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়।
- নিরপেক্ষতা: আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি নিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা। দলীয় মনোভাব পরিত্যাগ করে জনগনের সেবা করাই তাদের দায়িত্ব। আমলারা দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আনুষ্ঠানিকতা: আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে আমলারা আনুষ্ঠানিকতা এবং দৈনন্দিন কাজের উপর গুরুত্বারোপ করে। তারা বিধি মোতাবেক যথাযথ নিয়মে সবকিছু করে থাকে। আমলাতন্ত্রে সকল কাজই হয় রুটিন মাফিক।
- দক্ষতা: আমলারা সাধারণত দক্ষ। একই ধরনের কাজ বার বার করার কারণে তাঁরা দক্ষতা অর্জন করে। এছাড়া
তাঁদের জন্য সময়োপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়।
- নিরবিচ্ছিন্নতা: আমলাগণ প্রশাসনিক কাজে নিরবিচ্ছিন্নতা বজায় রাখেন। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কোন আমলার পদ শূন্য হলে সেই পদে নতুন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে কাজে গতিশীলতা রক্ষা করা হয়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য: লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়। এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেস উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৪.
ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য-
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. দারিদ্র বিমোচন
  3. উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স বলতে বোঝায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)—যেমন ইন্টারনেট, কম্পিউটার ও মোবাইল নেটওয়ার্ক—ব্যবহার করে সরকারি সেবা ও তথ্যকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজভাবে জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার একটি আধুনিক শাসনব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে—
- সরকারের কার্যক্রমকে দক্ষ ও জনগণমুখী করা হয়,
- প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমানো হয় এবং
- নাগরিকরা সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়।

- ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য হলো- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এর সঙ্গে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
- এটি সাধারণত চারটি ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। 
- এটি সর্বত্র বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ে।
- ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্স বা অনলাইন গভর্নেন্স নামেও অভিহিত করা হয়।

- জাতিসংঘের মতে,
- ই-গভর্নেন্স হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করে সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া হয়।

- বিশ্বব্যাংক ই-গভর্নেন্সকে ব্যাখ্যা করেছে- 
- সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি—যেমন নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ও সেবা বিনিময়ের সক্ষমতা হিসেবে।

- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. পি. জে. আবদুল কালাম ই-গভর্নেন্সকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের উন্নত ও পরিষ্কার সেবা প্রদানের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।

- ই-গভর্নেন্স একদিকে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদার করে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলে।
- ই-গভর্নেন্সের আক্ষরিক অর্থ হলো প্রযুক্তিনির্ভর বা ডিজিটাল সরকার, যার প্রধান কাজ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদান করা।
- জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট উন্নয়ন সূচক (EGDI) ২০২৪ অনুযায়ী ডেনমার্ক শীর্ষে এবং সুদান সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল, আর বাংলাদেশ ছিল ১০০তম স্থানে।
- সর্বোপরি, ই-গভর্নেন্সের একমাত্র ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৯৫.
'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ -
  1. উপযোগবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. অস্তিত্ববাদ
  4. শূন্যবাদ
ব্যাখ্যা

শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

⇒ শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
- পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: Britannica.

২৯৬.
সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই হচ্ছে -
  1. আইনের শাসন
  2. সংবেদনশীলতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
• সংবেদনশীলতা:
→ সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই সংবেদনশীলতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৭.
"যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না" - কে বলেছেন?
  1. জন লক
  2. ডাইসি
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন অস্টিন
ব্যাখ্যা
আইন: 
- মূল্যবোধ থেকে আসে আইন।
- আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতার রক্ষক।
- জন লক বলেছেন, "যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না"। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৯৮.
”যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন“- কার উক্তি?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. জন লক
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

 আইন: 
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। 
- যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা" জন লক।
- যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন " এরিস্টটল।
- আইন সার্বভৌম শক্তির আদেশ-  জন অস্টিন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৯.
এইচ. জে. লাস্কি স্বাধীনতাকে কী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. মানবিক শক্তি
  2. নৈতিক কর্তব্য
  3. সামাজিক মর্যাদা
  4. অধিকারের ফল
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
- বাস্তবে স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।
যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার বিভিন্ন সংজ্ঞা:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল"।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০০.
একজন যােগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশকীয় মৌলিক গুণাবলীর শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. দক্ষতা
  2. সরলতা
  3. নৈতিকতা
  4. মানবতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন এবং নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণটি হলো নৈতিকতা।
- নৈতিকতা হলো সততা, ন্যায়বিচার, এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা।
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপককে তার কর্মক্ষেত্রে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। 

কারণ:
- নৈতিকতা একজন প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের প্রতি জনগণের এবং সহকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- উচ্চ নৈতিকতা দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা প্রদান করে।
- নৈতিকতা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং সুনাম নিশ্চিত করে।
- নৈতিক প্রশাসক ও ব্যবস্থাপক তার দলের মধ্যে সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়।

যদিও মানবতা, দক্ষতা, এবং সরলতা সবই গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী, নৈতিকতা একটি ভিত্তি প্রদান করে যার উপর এই গুণাবলী গড়ে উঠতে পারে। তাই, নৈতিকতা একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ বলে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।