বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

মোট প্রশ্ন৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন - বিবিধ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৬৪৬

১০১.
পরোক্ষ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে নাগরিকেরা কীভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করেন?
  1. শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল গঠন করে
  2. শুধুমাত্র কর প্রদানের মাধ্যমে
  3. নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে
  4. সরাসরি আইন প্রণয়ন ও বিচারকার্য পরিচালনা করে
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের প্রকারভেদ:
• প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy):
- যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকেরা প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন, তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রিসে এই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল।
- তখন নগররাষ্ট্রের সব নাগরিক কোনো বিশেষ স্থানে জমায়েত হয়ে আইন প্রণয়ন, কর ধার্য, কর্মচারী নিয়োগ, বিচারকার্য পরিচালনা ইত্যাদি কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।

• পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র (Indirect or Representative Democracy):
- পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়।
- পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে পরোক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০২.
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. সামাজিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
- সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার।
- সম্পত্তি লাভের অধিকার।
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার।
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী।
১০৩.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ কোনটি?
  1. নির্বাচনী সভা
  2. জনমত
  3. আমলাতন্ত্র
  4. লালফিতার দৌরাত্ম্য
ব্যাখ্যা
জনমতের ধারণা ও সংজ্ঞা: 
- সাধারণ অর্থে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে জনমত' বলা হয়।
- এ অর্থে যে কোনো বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের সমষ্টিকে জনমত বলা যেতে পারে।
- কিন্তু পৌরনীতিতে সকল মতামতই জনমত নয়।
- পৌরনীতিতে কেবল প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত বলা হয়।
- 'জনমত' শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় রুশোর লেখনীতে।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণাও বিকশিত হতে থাকে।
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০৪.
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা কী?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  2. দুর্নীতি 
  3. শিক্ষার অভাব
  4. প্রযুক্তির ঘাটতি
ব্যাখ্যা

• সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

• দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি;
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি;
- সুশাসনের অবক্ষয়;
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব;
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

• দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা;
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা;
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা;
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো;
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১০৫.
'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ডাইসি
  2. লেকি
  3. বার্কার
  4. আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন বা কর্তৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- বার্কারের মতে, 'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'।

এছাড়াও,
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১০৬.
গণতন্ত্র বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার জন্যে একান্ত অপরিহার্য-
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. কর্তব্যবোধ
  3. ঔচিত্যবোধ
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূ্ল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্যে সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে ‍সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১০৭.
মানুষের সভা-সমিতি করার অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

আইনগত অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- যেমন-জীবন ধারণের অধিকার, ভোটদানের অধিকার, শিক্ষার অধিকার।
- আইনগত অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

(ক) সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন- জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।

(খ) রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- ভোটদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সরকারি চাকরি লাভ, সরকারি কাজের সমালোচনা, আবেদন করা রাজনৈতিক অধিকার।

(গ) অর্থনৈতিক অধিকার:
- ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করেন, সেগুলোকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, অবকাশ যাপন প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৮.
সভ্য সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
  2. আইনের শাসন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে "আইনের শাসন" সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০৯.
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল-এর মতে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর শ্রেণী নয় কোনটি?
  1. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী
  2. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  3. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  4. সমদৃষ্টিসম্পন্ন গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল-এর মতে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর শ্রেণী নয় - সমদৃষ্টিসম্পন্ন (গোষ্ঠী। 

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:

- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব বিস্তার করে।
- ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য।
- সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:

১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী: স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী গোষ্ঠী কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাবাবেগ দ্বারা চালিত হয়ে হঠাৎ করে হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। আবেগ এদেরকে সংঘবদ্ধ করে। দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন এ ধরণের চাপগোষ্ঠীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী: যে চাপগোষ্ঠী নিজস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তাকে সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে। এই গোষ্ঠী গোষ্ঠীস্বার্থ সংরক্ষণের এক বিশেষ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। এ গোষ্ঠী কোন হঠকারী আচরণ করেনা। বরং সুপরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন চ্যানেলে নিজেদের স্বার্থের কথা, আইনসভা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমে পেশ করে। শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন এ ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উদাহরণ।

৩. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী: অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী তেমন কোন সুসংহত বা সুসংগঠিত গোষ্ঠী নয়। এদের সাংগঠনিক দুর্বলতা সুস্পষ্ঠ। গোষ্ঠী বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মনেতা, অঞ্চল প্রধান প্রভৃতির মাধ্যমে দাবি পেশ ও আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী, ধর্মগুরুর অনুসারী গোষ্ঠী এরূপ স্বার্থকামী গোষ্ঠী প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সরকারী ব্যবস্থায় এদের চাপ প্রয়োগ তেমন জোরদার হয় না। ফলে দাবী আদায়ের ব্যর্থতা ফুটে উঠে। বংশ, বর্ণ, অঞ্চল প্রভৃতি শ্রেণীর ক্ষুদ্রতর বিন্যাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলা হয়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী: উন্নয়নশীল দেশ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত গোষ্ঠী যখন তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট স্বার্থ আদায়ের জন্য সংঘবদ্ধ হয় তখন প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এদের উদ্ভব ঘটে। আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, প্রভৃতি এধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সম্মিলিত সংস্থা হিসাবে এ গোষ্ঠী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ সম্পাদন করে।

• অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ২ ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
(১) স্বার্থকারী গোষ্ঠী,
(২) সমদৃষ্টিসম্পন্ন (গোষ্ঠী।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হচ্ছে- 
  1. ধর্ম
  2. সংস্কৃতি
  3. আইন
  4. গনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:
- আইনের প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
- গ্রেট ব্রিটেনে প্রথাভিত্তিক আইন রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উৎস.. ধর্ম।
- পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন- ধর্ম থেকে নেয়া হয়।
- আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
- আইনের মৌলিক উৎস.. সংবিধান।
- স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক.. আইন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১১.
"সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন"- উক্তিটি করেছেন -
  1. জন অস্টিন
  2. এ্যারিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. ম্যাককররনি
ব্যাখ্যা

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
সুশাসন সম্পর্কিত ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. UNHCR
  2. UNDP 
  3. European Economic Community 
  4. International Development Agency
ব্যাখ্যা

European Economic Community (EEC) সুশাসন উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করে।
------------------------------- 
• White Paper ও সুশাসন:
- White Paper বা শ্বেতপত্র- হলো কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা, নীতি বা প্রকল্পের ওপর বিস্তারিত তথ্য, বিশ্লেষণ এবং সমাধানের প্রস্তাবনা সম্বলিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন।
- এটি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, জনগণ বা পার্লামেন্টকে তথ্য প্রদান করতে এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। 
- শ্বেতপত্র প্রকাশ সাধারণত পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক করা হয়।
- এবং কখনও কখনও নতুন আইন বা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে জারি করা হয়।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এই প্রথা প্রচলিত।

- শ্বেতপত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—
- তথ্যবহুল বিশ্লেষণ, নীতি নির্ধারণী প্রস্তাব, স্বচ্ছতা প্রদর্শন, এবং জনগণকে প্রচারের মাধ্যমে সচেতন করা। সহজ কথায়, শ্বেতপত্র হলো।
- ইংল্যান্ডে এটিকে Parliamentary Papers বলা হয়।

- সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ, এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য।
- দুর্নীতি হলো সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।

- European Economic Community (EEC) সুশাসনের উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করে থাকে
- এই পত্রে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।

১১৩.
পূর্ণতাবাদ কোন দুটি দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে?
  1. সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদ
  2. স্বজ্ঞাবাদ ও ভাববাদ
  3. উপযোগবাদ ও উদারতাবাদ
  4. সমাজবাদ ও পুঁজিবাদ
ব্যাখ্যা
পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
কোনটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস?
  1. সরকার গঠন
  2. বিরোধী বিকল্প পক্ষ
  3. জনমত
  4. জনগণ ও সরকার মধ্যে সেতুবন্ধন
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো - জনগণ।
- গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয়, সচেতন ও সদাজাগ্রত জনমত।
- রাজনৈতিক দল বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে সেরূপ জনমত সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
১১৫.
দুটি চরম পন্থার ___________ পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
  1. কঠোর
  2. শিথিল
  3. মধ্যবর্তী
  4. সর্বোত্তম
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
১১৬.
নিম্নের কোনটি নাগরিকের সামাজিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত?
  1. সরকারি চাকুরি
  2. দায়মুক্তি
  3. সম্পত্তি ভোগ
  4. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
যেমন -
 → জীবন রক্ষা,
 → মত প্রকাশ,
 → চলাফেরা,
 → বিনা বিচারে আটক না হওয়া,
 → সংঘবদ্ধ হওয়া,
 → সভা-সমিতি,
 → চুক্তি স্থাপন,
 → সম্পত্তি ভোগ,
 → আইনের চোখে সমতা লাভ,
 → শিক্ষা লাভ,
 → সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
 → পরিবার গঠন,
 → নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
কে প্রথম সংবাদপত্রকে Fourth Estate হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. এডমন্ড বার্ক
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. উইনস্টোন চার্চিল
  4. কফি আনান
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক (Edmund Burke) প্রথম সংবাদপত্রকে "ফোর্থ এস্টেট" বা চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- তিনি ১৭৮৭ সালে হাউস অফ কমন্সে বিতর্ক করার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
১১৮.
সংস্কৃতির উপাদান নয় কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. পরিবার
  4. প্রথা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে। পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা। সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই। তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম।
- এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
• বস্তুগত সংস্কৃতি: 
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম। 

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

অন্যদিকে -
- পরিবার সংস্কৃতির উপাদান নয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৯.
এরিস্টটলের সংখ্যা নীতি অনুসারে, মুষ্টিমেয় কয়েক ব্যক্তির বিকৃত শাসন হলো -
  1. স্বৈরতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র
  3. কতিপয়তন্ত্র
  4. অভিজাততন্ত্র
ব্যাখ্যা
সরকারের শ্রেণিবিভাগ:
- এরিস্টটল দু'টি মূল সূত্র বা নীতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেছেন।
- সরকার ও শাসনব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তিনি এ দুটি মূল সূত্র উপস্থাপন করেন -
(ক) উদ্দেশ্য নীতি (Principle of Purpose)
(খ) সংখ্যা নীতি (Principle of Number)

• সংখ্যা নীতি (Principle of Number):
- সরকারের শ্রেণি বিভক্তিকরণের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় নীতিটি হল সংখ্যা নীতি।
- সংখ্যা নীতি অনুসারে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা কতজন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত আছে তার ভিত্তিতে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
- সংখ্যা নীতির ভিত্তিতে এরিস্টটল তিন শ্রেণির সরকারের কথা বলেছেন।

(i) একজনের শাসন (Rule by one):
- রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা একজনের হাতে ন্যস্ত থাকলে এবং জনকল্যাণসাধনই শাসনব্যবস্থা বা সরকারের উদ্দেশ্য হলে তাকে রাজতন্ত্র বলে। অর্থাৎ এক ব্যক্তির স্বাভাবিক শাসনই হল রাজতন্ত্র। কিন্তু এক ব্যক্তির দ্বারা শাসিত শাসন ক্ষমতা যদি কেবল শাসক বা রাজার স্বার্থেই ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে স্বৈরতন্ত্র বলে। অতএব এক ব্যক্তি শাসিত রাষ্ট্রের বিকৃত শাসনকেই স্বৈরতন্ত্র বলা হয়।

(ii) কয়েকজনের শাসন (Rule by few):
- রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা পরিচালনার দায়িত্ব একজনের পরিবর্তে কয়েকজন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত থাকলে এবং তা জনসাধারণের মঙ্গল বিধানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলে তাকে অভিজাততন্ত্র বলে। অর্থাৎ মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যক্তির স্বাভাবিক শাসনই হল অভিজাততন্ত্র। কিন্তু এ শাসনব্যবস্থা শুধুমাত্র শাসকশ্রেণির মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থ সাধনে পরিচালিত হলে তা কতিপয়তন্ত্র (Oligarchy) হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ মুষ্টিমেয় কয়েক ব্যক্তির বিকৃত শাসনই হল কতিপয়তন্ত্র।

(iii) বহুজনের শাসন (Rule by many):
- রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা বহুজনের হাতে ন্যস্ত থাকলে এবং সর্বসাধারণের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলে, এরিস্টটলের মতে তা হল ন্যায়তন্ত্র। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ থাকলে ন্যায়তন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরিস্টটলের মতে এর বিকৃতিরূপ হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রে ক্ষমতা বহুজনের হাতে ন্যস্ত থাকে। কিন্তু এ ব্যবস্থাতে ক্ষমতা সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে পরিচালিত না হয়ে শুধুমাত্র শাসক সম্প্রদায়ের স্বার্থে পরিচালিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২০.
'Red Tapism' কোনটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত?
  1. মূল্যবোধ
  2. সুনাগরিক
  3. সহনশীলতা
  4. আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। 

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১২১.
দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যর্থ হয় কারন -
  1. সম্পদের অভাব
  2. নাগরিকের বিরোধিতা 
  3. সিদ্ধান্ত গ্রহনে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব
  4. প্রযুক্তির অভাব
ব্যাখ্যা

● দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যর্থ হয় কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব।

দুর্বল শাসন ব্যবস্থা:
- দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যর্থ হয় কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব।
- সুশাসনের অভাবে প্রকল্পের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। 
- সাধারণত শাসন হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।

• স্বচ্ছতার অভাব: স্বচ্ছতার অভাব বলতে প্রশাসনিক, ব্যবসায়িক বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীতে উন্মুক্ততা, জবাবদিহিতা ও তথ্যের সঠিক আদান-প্রদানের ঘাটতিকে বোঝায়, যা দুর্নীতি ও প্রকল্প ব্যর্থতার অন্যতম মূল কারণ। এটি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়, যার ফলে আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

• সততার অভাব: সততা হলো সৎ হওয়া এবং দৃঢ় নৈতিক নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি সুসংগত ও আপসহীন আনুগত্য দেখানোর গুণ। সততাকে একজনের কর্মের সততা এবং সত্যবাদিতা বা আন্তরিকতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সততার ওভাবে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রকল্পের গুণমান নষ্ট হয়।

উল্লেখ্য,
- এসব কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে সম্পদ সঠিকভাবে বরাদ্দ ও ব্যবহার হয় না। প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং অকার্যকর হয়। জনগণের অংশগ্রহণ ও বিশ্বাসের অভাবে প্রকল্পের স্থায়িত্ব কমে যায়।

অন্যদিকে,
- দুর্বল শাসনে সম্পদ থাকলেও দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়।
- প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পএ সাহায্য করে, কিন্তু সঠিক শাসন ছাড়া প্রযুক্তিও অকার্যকর। 
- তাই সর্বোত্তম গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহনে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব নেওয়া হয়েছে। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ওয়েবসাইট। 
iii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১২২.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে নিম্নলিখিত কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. বিশ্বস্ততা
  2. নিরপেক্ষতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে মূল্যবোধগুলির মধ্যে 'সৃজনশীলতা' গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কারণ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট নীতিমালা, আইন এবং প্রোটোকলের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হয় এবং এগুলি সৃজনশীলতার চেয়ে নিয়মিত এবং প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিগুলির উপর নির্ভরশীল।
- সৃজনশীল সিদ্ধান্ত প্রণয়ন কিছু ক্ষেত্রে সরকারের অবিশ্বাস বা পক্ষপাতিত্বের সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
- তাই, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সৃজনশীলতার পরিবর্তে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে বিশ্বস্ততা অপরিহার্য, কারণ এটি জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়তা করে।
- সরকারি সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতিত্বহীন এবং সবার জন্য সমান সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে যে সরকারি কর্মকর্তারা ও নীতিনির্ধারকরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
উদারনৈতিক গণতন্ত্রে সাম্য বলতে কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্ট জাতির অগ্রাধিকার
  2. ধর্মভিত্তিক অধিকার
  3. কেবল অর্থনৈতিক সাম্য
  4. জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান অধিকার
ব্যাখ্যা

সাম্যের ধারণা:
- সাম্য শব্দটি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- প্রাচীন গ্রীসের নগররাষ্ট্র প্রসঙ্গে প্লেটোর লেখনীতেও সাম্যবাদের কথা পাওয়া যায়।
- আধুনিকযুগে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলোপ করে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন কার্ল মার্কস।
- ফরাসি বিপ্লবের মূল কথাই ছিল সাম্য। সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ব এই তিনটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করা ছিল ফরাসি বিপ্লবের মূল্য লক্ষ্য।
- বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে সাম্য বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের উপযোগী সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে পাওয়াকে বুঝায়।
- উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বুঝায়।
- অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কির মতে, সকলের সম্মুখে যথার্থ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ হল সাম্য।
- অর্থাৎ, সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেখানে সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৪.
"যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না" - উক্তিটি কার? 
  1. জন লক 
  2. ডাইসি 
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন অস্টিন
ব্যাখ্যা

• আইন: 
- মূল্যবোধ থেকে আসে আইন।
- আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতার রক্ষক।
- জন লক বলেছেন, "যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না"। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।

১২৫.
জন স্টুয়ার্ট মিল কোন দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন?
  1. সমাজতন্ত্র
  2. মার্ক্সবাদ
  3. অস্তিত্ববাদ
  4. উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'On Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- A System of Logic,
- Autobiography,
- Considerations on Representative Government,
- Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy,
- Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

উৎস: Britannica.

১২৬.
উৎপত্তিগত অর্থে আমলাতন্ত্রকে বলা হয় -
  1. Desk Government
  2. Bureau Government
  3. Co-Government
  4. Shadow Government
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১২৭.
সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড কী?
  1. গণতন্ত্র
  2. সংস্কৃতি
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে "আইনের শাসন" সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে,
গণতন্ত্র (ক) – গণতন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ শাসনব্যবস্থা যা নাগরিকদের মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়, তবে এটি আইনের শাসন ছাড়া কার্যকর হতে পারে না।
সংস্কৃতি (খ) – সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে, তবে এটি সভ্য সমাজের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না।
সংবিধান (গ) – সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামো নির্ধারণ করে, তবে এটি কার্যকর করার জন্যও আইনের শাসন অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৮.
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মত অনুসারে, আইন এর উৎস নয় কোনটি?
  1. প্রথা
  2. ধর্ম
  3. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
  4. জনমত
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মত অনুসারে , আইন এর উৎস নয় জনমত।

আইন এর উৎস:

অস্টিন এর মতে, আইন এর উৎস ১ টি: সার্বভৌম আদেশ

অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন এর উৎস ৬ টি
১. প্রথা,
২. ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা। 

ওপেনহাইম এর মতে, আইন এর উৎস ৭ টি
১. প্রথা, 
২.ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা, 
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২৯.
আত্মসুখবাদের প্রতিষ্ঠাতা গ্রিক দার্শনিক এরিস্টিপাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. থ্যালেস
ব্যাখ্যা
আত্ম-সুখবাদ:
- সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল সবাইকে এক অর্থে সুখবাদী বলা যায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী।
- এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইরিনের অধিবাসী এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য।
- বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন।
- অপর আরেকদিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।

উল্লেখ্য, 
-থ্যালেস ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক।
-তিনিই প্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক] এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা [৯ম-১০ম শ্রেণি(উন্মুক্ত)]
১৩০.
'সৃষ্টিরহস্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আরজ আলী মাতুব্বর
  2. আহমদ ছফা
  3. আব্দুশ শুকর আলী
  4. আব্দুল মতিন
ব্যাখ্যা

• আরজ আলী মাতুববর:
→ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক ছিলেন আরজ আলী মাতুববর (১৯০০-১৯৮৫)।
→ তিনি লড়াই করেছেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এবং সহজ-সরল ভাষায় প্রকাশ করেছেন জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর অভিমত।
→ তিনি মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
→ মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
→ তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
→ তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

◉ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩১.
নিচের কোনটি গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. স্বাধীন বিচারব্যবস্থা
  2. প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার
  3. এক দলীয় ব্যবস্থা
  4. নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
এক দলীয় ব্যবস্থা গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়।

গণতন্ত্র:

- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন।
- আব্রাহাম লিংকন-এর ভাষ্য মতে, ‘Government of the people, by the people, for the people’ অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’

⇒ গণতন্ত্রকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
i) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
ii) পরোক্ষ গণতন্ত্র।

⇒ গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
• জনগণের সম্মতি,
• বহু দল ব্যবস্থা,
• স্বাধীন বিচারব্যবস্থা,
• নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা,
• আইনের শাসন,
• সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
• প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার,
• দায়িত্বশীল সরকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৩২.
গণতন্ত্র ব্যবস্থায় সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস- 
  1. সরকার
  2. জনগণ 
  3. রাষ্ট্র
  4. আইন
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy,
- যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

সংজ্ঞাসমূহ-
- বার্কার: -"গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার।"।
- আব্রাহাম লিংকন: "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা" ("Democracy is a government of the people,by the people and for the people)"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৩৩.
'The Spirit of Laws' গ্রন্থে কে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন?
  1. জন লক 
  2. অ্যারিস্টটল
  3. চার্লস মন্টেস্কু
  4. রুশো
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে। কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।

উল্লেখ্য,
• ১৭৪৮ সালে ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে ‘শোষণমুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা বর্ণিত রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৮
  2. অনুচ্ছেদ ৯
  3. অনুচ্ছেদ ১০
  4. অনুচ্ছেদ ১১
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদে ‘মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা বর্ণিত রয়েছে।

ধারার মূল বক্তব্য:
মানুষকে মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত করে ন্যায়নিষ্ঠ ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠন নিশ্চিত করার জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই ধারার লক্ষ্য হলো:
- প্রতিটি মানুষ যাতে অন্য কোনো মানুষের শোষণের শিকার না হয়
- সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
- ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানো।
- সমাজে ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা।
- সবাইকে তার অধিকার ও সুযোগের সমান ভাগ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৩৫.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী -
  1. আইনের প্রয়ােগের অভাব
  2. নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব
  3. দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা
  4. অসৎ নেতৃত্ব
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি হলো 'নীতি' বহির্ভূত কাজ।
- যেসব কাজ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন এবং সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সমাজের সংহতি ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে তাকে দুর্নীতি বলে।
- দুর্নীতি রাষ্টীয় তথা জাতীয় জীবনের জন্য অভিশাপ।

⇒ দুর্নীতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বেশ জটিল।
- কারণ সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- সুতরাং, "নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব" রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩৬.
'জাতিসংঘ মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এর বাংলাদেশের অবস্থান কত? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৩১ তম
  2. ১২৯তম
  3. ১৩০ তম
  4. ১২৮ তম
ব্যাখ্যা

'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫':
- ইউএনডিপি (UNDP) 'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০ তম।

এছাড়াও,
- মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান:
- শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৮৯ তম।
- ভারতের অবস্থান ১৩০ তম। (বাংলাদেশের এবং ভারতের অবস্থান সমান।)
-পাকিস্তানের অবস্থান ১৬৮ তম।
- নেপালের অবস্থান ১৪৫ তম।
- ভূটানের অবস্থান ১২৫ তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

১৩৭.
‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’—উক্তিটি কার?
  1. মন্টেস্কু
  2. উইলোবি
  3. বার্কার
  4. লক
ব্যাখ্যা
• আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক:
- আইন  ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত পরস্পর বিরোধী দুটি মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- প্রথম দল মনে করেন, আইন ও স্বাধীনতা গভীর ভাবে সম্পর্কযুক্ত সুতরাং স্বাধীনতা আইনের উপর নির্ভশীল।
- বার্কারের ভাষায়- ‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’।

-  অন্যদিকে, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী। জন স্টুয়ার্ট মিল, হার্বাট স্পেনসার, এ.ভি ডাইসি, গডউইন প্রমুখ মনীষী এই দলের সমর্থক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৩৮.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকারের উদাহরণ?
  1. ভোটাধিকার
  2. ন্যায্য মজুরি
  3. জীবন রক্ষার অধিকার
  4. শ্রমিকসংঘ গঠন
ব্যাখ্যা

- জীবন রক্ষার অধিকার সামাজিক অধিকার। 

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

১. নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

২. আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

ক. সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

খ. রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

গ. অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৩৯.
কোনটি অভিজ্ঞতাবাদের মূল বৈশিষ্ট্য?
  1. ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা জ্ঞান লাভের মাধ্যম
  2. জ্ঞান অনুভূতি দ্বারা নির্ধারিত
  3. জ্ঞান শুধুই স্বজ্ঞা থেকে আসে
  4. চিন্তা জ্ঞান উৎপাদনের একমাত্র উৎস
ব্যাখ্যা

অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- প্রোটাগোরাস-এর মতে, ‘মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক।’

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ: স্বজ্ঞাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কীয় এমন একটি মতবাদ, যা স্বজ্ঞাকে জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে। স্বজ্ঞাবাদ অনুসারে অভিজ্ঞতা বা বুদ্ধি জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে না। একমাত্র সজ্ঞাই জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে।

- ভাববাদ: ভাববাদ এমন একটি দার্শনিক মতবাদ, যা ভাব বা ধারণা বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে। ভাববাদকে অধ্যাত্মবাদও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ মতবাদ অনুসারে মন বা আত্মাই প্রাথমিক ও মৌলিক সত্তা। জড়বাদ যেমন জড় থেকে সব বস্তুর উৎপত্তির কথা বলে, তেমনি ভাববাদ যাবতীয় বস্তুর সৃষ্টির মূলে মন, ধারণা, চিন্তা বা আত্মার কথা বলে। জড়, গতি, শক্তি ইত্যাদি বস্তুতান্ত্রিক কথার পরিবর্তে ভাববাদ আত্মা, চেতনা, চিন্তা, বুদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে। 

- অস্তিত্ববাদ: অস্তিত্ববাদ স্বাধীনতার ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে। কোন অর্থে মানুষ স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন ইত্যাদির ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করাই অস্তিত্ববাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। অস্তিত্ববাদের মতে, মানুষ স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই মূল্যের মাপকাঠি তৈরি করে এবং নিজেই নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১৪০.
'চলাফেরার স্বাধীনতা' ব্যক্তির কোন ধরনের স্বাধীনতা?
  1. সামাজিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'চলাফেরার স্বাধীনতা' ব্যক্তির সামাজিক স্বাধীনতা।

জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪১.
নিচের কোনটি আইনের উৎস নয়?
  1. রীতিনীতি
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. বিচারকের রায়
  4. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
ব্যাখ্যা
আইন ও আইনের উৎস:
- ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

আইনের উৎস:
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
- আইনের উৎসসমূহ নিম্নরূপ:
১। প্রথা বা রীতিনীতি,
২। ধর্ম,
৩। বিচারকের রায়,
৪ । ন্যায়বিচার,
৫। বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬ । আইনসভা।

উল্লেখ্য,
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির স্বতন্ত্র মূল্যবোধ।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ আইনের উৎস নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
“বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় এ বিভাগের নিরপেক্ষতা ও অন্য বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকা।”- কথাটি কে বলেছেন?
  1. আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন
  2. হেনরি সিজউইক
  3. জেমন কেন্ট
  4. লর্ড ব্রাইস 
ব্যাখ্যা
→ জেমস কেন্ট বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় এ বিভাগের নিরপেক্ষতা ও অন্য বিভাগের প্রভাব মুক্ত থাকা।”
→ বিচারপতি আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হল সরকারের অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারের রায় ঘোষণা করা।”
→ হেনরি সিজউইক এর মতে, “সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন থেকে ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক বাস্তবতা অনুসারে নিরপেক্ষতার নীতি অনুযায়ী বিচার কাজ সম্পন্ন করাকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলে।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
নিম্নের কোনটি মানুষের গোপন চিন্তা বা উদ্দেশ্যকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. মানবিক গুণাবলী
  4. আইন
ব্যাখ্যা
• আইন :
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানুষের মনের অনুভূতির সাথে আইনের কোন মিল নাই।
- আইন মানুষের গোপন চিন্তা বা উদ্দেশ্যকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না।
- আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি, যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যাণের জন্যে অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৪৪.
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশীল সমাজ
  2. বিচার বিভাগ
  3. আইনসভা
  4. সংবাদ মাধ্যম
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

⇒ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক। তিনি ১৭৮৭ সালে হাইজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে ঋড়ঁৎঃয ঊংঃধঃব প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

অন্যদিকে -
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
- এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে।
- স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
১৪৫.
কে ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ বলে বর্ণনা করেছেন?
  1. দার্শনিক মন্টেস্কু
  2. দার্শনিক ম্যাকিয়াভেলি
  3. দার্শনিক অ্যারিস্টটল
  4. দার্শনিক রেনে ডেকার্ত
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি (separation of Power): 
- কোনো একক কর্তৃপক্ষের ওপর আইন প্রণয়ন, শাসন পরিচালনা ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা অর্পিত হলে ব্যক্তিস্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে।
- এ কারণে ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণের এবং শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের তিনটি বিভাগের দায়িত্ব পৃথক ও স্বতন্ত্রভাবে অর্পিত হওয়া উচিত।
- এভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর হলে সরকারের কোনো বিভাগের পক্ষে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা সম্ভব হয় না।
- প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ বলে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৪৬.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো-
  1. সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
  2. দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
  3. ত্রিভুজের দুটি বাহন ভূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
  4. একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
১৪৭.
কোনটি ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নয়?
  1. তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি
  2. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা
  4. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
•  ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:

- ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা ।
- প্রশাসনকে গতিশীল করা।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
- দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌঁছে দেওয়া ।
- দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌঁছানো ।
- সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া ।
- ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা ।
- দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
- নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
- জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া ।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
- তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ।
- গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা ৷
-. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা ।
- শাসন ব্যবস্থাকে সহজ ও উন্নত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৪৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের ভূমিকা হচ্ছে -
  1. দলীয় নীতি নির্ধারণ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়করণ
  3. জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ়করণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের ভূমিকা নিম্নরুপ:
→ দলীয় নীতি নির্ধারণ,
→ সুষ্ঠু জনমত গঠন,
→ রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি,
→ সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন,
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ়করণ,
→ সমন্বয় সাধন,
→ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়করণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
কোনটি ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না?
  1. ধনসম্পত্তি
  2. নৈতিক জ্ঞান
  3. আইন
  4. স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

সাম্য ও স্বাধীনতা:

- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- প্রকৃতপক্ষে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সাম্য পাশাপাশি অবস্থান গ্রহণ করে।

⇒ 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক।
- সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না।
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
'শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ'-উক্তিটি কোন দার্শনিক দিয়েছেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষাবিদের মতামত:
- শিক্ষা শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও জটিল।
- বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকরা আপন আপন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

সক্রেটিসের মতে,
- "শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।"

দার্শনিক প্লেটোর (Plato) মতে,
- শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়।
- এটি শিক্ষার্থীর দেহে-মনে সকল সুন্দর ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তোলে।

দার্শনিক এরিস্টটলের (Aristotle) মতে,
- সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা।
- শিক্ষা দেহ-মনের সুষম এবং পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের প্রকৃত মাধুর্য ও পরম সত্য উপলব্ধিতে সহায়তা করে।

মহাত্মা গান্ধী বলেন,
- "শিক্ষা হলো শিশু ও মানুষের দেহ, মন ও আত্মার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গুণগুলোর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ।

রুশো মন্তব্য করেন,
- "আমরা অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করি।
- শিক্ষা দ্বারা আমাদের অভাব পূরণ হয়।
- প্রকৃতি, বস্তু ও মানুষের নিকট হতে আমরা শিক্ষা লাভ করি।"

উৎস: মাধ্যমিক শিক্ষা, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫১.
অ্যারিস্টটলের মতে, সদগুণ অর্জনের প্রধান উপায় কোনটি?
  1. জন্মগতভাবে
  2. অভ্যাস ও অনুশীলন
  3. জ্ঞানার্জন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলের (৩৮৪-৩২২ খ্রি.পূ.) মতে আমাদের প্রবৃত্তিসমূহ বিচার-বুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হয়।
- তিনি অভ্যাসের মাধ্যমে প্রবৃত্তিসমূহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কার্য সম্পাদন করার মধ্যক নির্ণয়ের উপায়কে সদগুণ বলেছেন।
- তাঁর মতে, সদগুণ মানুষের মধ্যে সহজাতভাবে থাকে না, এটি অর্জনের বিষয়। মানুষ শিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সদগুণ অর্জন করে। অর্জিত সদগুণকে অধিকতর চর্চার মাধ্যমে মানুষ তার আচরণের উৎকর্ষ ঘটায়। এরিস্টটল সদগুণকে ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে অভিহিত করেছেন; যে বৈশিষ্ট্য অর্জনে ব্যক্তির যুক্তি-বুদ্ধির ভূমিকা রয়েছে।
- বর্তমান সময়ে মানুষ যেভাবে আত্মকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী হয়ে পড়ছে, তাতে এরিস্টটলের সদগুণ সম্পর্কিত নৈতিক মতাদর্শ আমাদের এই আত্মকেন্দ্রিক হবার প্রবণতা থেকে ফিরিয়ে আসার জন্যে সহায়ক হতে পারে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) নৈতিক আলোচনায় এরিস্টটলের সদগুণ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা, মানববিদ্যা গবেষণাপত্র।

১৫২.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার -
  1. সম্পত্তি ভোগ
  2. দায়মুক্তি
  3. সরকারি চাকুরি
  4. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
→ সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে। যেমন:  জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার। সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৩.
নিচের কোনটি ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা? 
  1. রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা
  2. ভোটার হবার স্বাধীনতা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. সম্পত্তি ভোগ করার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 

- একটি রাষ্ট্রে নাগরিকগণ বিভিন্ন ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে।স্থান, কাল, পাত্রভেদে এটি আবার ভিন্ন হয়ে থাকে।
- যেমন-(১) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (২) সামাজিক স্বাধীনতা (৩) রাজনৈতিক স্বাধীনতা (৪) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (৫) জাতীয় স্বাধীনতা ও (৬) পৌর স্বাধীনতা

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: 
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- যেমন, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

অন্যদিকে,

• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত। 

•  পৌর স্বাধীনতা: 
- জীবনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্ম সংক্রান্ত অধিকারগুলো পৌর স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ব্যক্তিজীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ও সমাজে সখ-শান্তি নিশ্চিতকরণে এই সব স্বাধীনতা অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৪.
'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা'- জন স্টুয়ার্ট মিল তাঁর কোন গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেন?
  1. Moral and others
  2. Utilitarianism
  3. Political Ideals
  4. On Liberty
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'On Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- যে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলে।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- এ স্বাধীনতা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যক্তির বাহ্যিক কিছু আচরণের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণবিহীনতা।
- যেমন ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।

• প্রাকৃতিক স্বাধীনতা:
- সামাজিক চুক্তিবাদী দার্শনিক হবস, সক এবং রুশো বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র পূর্বাবস্থায় প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা বা স্বাধীনতা ভোগ করত।
- কিন্তু স্বাধীনতার এরকম ধারণা অলীক, অসার ও অবাস্তব বলেই প্রতিপন্ন হয়।
- দার্শনিক রুশো তাঁর বক্তব্যে তাই স্বাধীনতাকে চমৎকারভাবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্রই যে শৃঙ্খলাবদ্ধ” (“Man is born free but everywhere he is in chain.”)

• আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
- সামাজিক স্বাধীনতা মানুষকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়।
- তার মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- এ ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে পেশা বাছাই ও জীবিকার স্বাধীনতা অন্যতম।
- মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকল্প নেই।
- তাছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে শ্রেণি-বৈষম্য বেড়ে গিয়ে যেকোন শ্রেণি শোষণ-বঞ্চনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার আইনগত ভিত্তি রয়েছে।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতাও খর্ব হয়।

• জাতীয় স্বাধীনতা:
- বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৫৫.
কোন আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করা হয়?
  1. আন্তর্জাতিক আইন
  2. ফৌজদারি আইন
  3. প্রশাসনিক আইন
  4. শাসনতান্ত্রিক আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইন সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে বিভিন্ন ভাগেভাগ করা যায়:

⇒ জাতীয় আইন:
- জাতীয় আইন হচ্ছে সেসব আইন যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ ও কার্যকর হয়।
- জাতীয় আইন সরকারই কিংবা বেসরকারি দুই রকমের হতে পারে।

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- পার্লামেন্টে আইন প্রণীত হবার কয়েকটি পর্যায় থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।

⇒ বেসরকারি আইন:
- এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।
- যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।

⇒ আন্তর্জাতিক আইন:
- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
- আন্তর্জাতিক আইনকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- শান্তিকালীন আইন, যুদ্ধসংক্রান্ত আইন এবং নিরপেক্ষতার আইন।
- এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক, রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত।

⇒ সাংবিধানিক বা শাসনতান্ত্রিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।
- শাসনতান্ত্রিক আইন লিখিত এবং অলিখিত এই দুই রকমের হতে পারে।

⇒ প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরূপ।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

⇒ ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শান্তি বজায় রাখা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
কিসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. ব্যক্তির নীতিবোধের মাধ্যমে  
  2. ব্যক্তির আচার-আচরণ
  3. ব্যক্তির সহমর্মিতার মাধ্যমে  
  4. ব্যক্তির সাম্যর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৫৭.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কীরূপ?
  1. নেতিবাচক
  2. সাংঘর্ষিক
  3. ইতিবাচক
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন মানে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য প্রশাসন যা নীতি, ন্যায়বিচার, এবং জনকল্যাণের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নীতি ও আদর্শ যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ মেনে চলে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ পরস্পরকে শক্তিশালী করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকাশ ঘটায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

সূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১৫৮.
‘অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ ১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৮
  3. অনুচ্ছেদ ২১
  4. অনুচ্ছেদ ১১
ব্যাখ্যা

সুশাসন সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১১: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার,
- অনুচ্ছেদ ১৭: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ,
- অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা,
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ,
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,
- অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা,
- অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতা,
- অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৫৯.
সাম্য বলতে নিম্নের কোনটি বোঝায়?
  1. যোগ্যতা অনুসারে সমান সুযোগ প্রদান
  2. বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান
  3. অবাধ স্বাধীনতা প্রদান
  4. পিছিয়ে পরা গোষ্ঠীকে সুযোগ-সুবিধা প্রদান
ব্যাখ্যা

সাম্য:
- সাম্য এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Liberty. এর অর্থ সমান।
- সমান বলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বুঝায়। কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে সুযোগ-সুবিধা না দেয়া।
-  অর্থাৎ সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেন সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে হয়।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, সকলের সম্মুখে যথার্থ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ হল সাম্য।

⇒ সাম্যের প্রকারভেদ:
ক) সামাজিক সাম্য
- সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।
(খ) রাজনৈতিক সাম্য 
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি লাজের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্য। অর্থনৈতিক সামা না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
(ঘ) আইনগত সাম্য 
- কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত। যেমন- চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাম্যের বিষয়টি বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত। 
(ঙ) ব্যক্তিগত সাম্য
 - মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সামা, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে নিজের করা বয়নের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। অর্থাৎ সাম্য বিভিন্ন ধরনের দর্শ নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্য সব ধরনের সাম্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। ব্যক্তি পর্যায়ে যেন একজন অন্যজনের নষ্ট না করে তা খেয়াল রাখা নাগরিকের কর্তব্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন কে?
  1. চার্লস মন্টেস্কু
  2. এরিস্টটল
  3. জন লক
  4. জ্যাঁ বডিন
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১.
কোন স্থানকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়?
  1. স্পার্টা
  2. রোম
  3. বার্লিন
  4. এথেন্স
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের সূচনা:
- ‘গণতন্ত্র’ পরিভাষাটি ইংরেজি ‘Democracy’ থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুত্পত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন (Solon) গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।

⇒ প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
১৬২.
'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'- উক্তিটি কার?
  1. লর্ড ডিপটন
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. লর্ড এ্যাকটন
ব্যাখ্যা

নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত:
 'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'-উক্তিটি করেন লর্ড অ্যাকটন।
- নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও নিরঙ্কুশ দুর্নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড অ্যাকটনের (১৮৮৭) এই উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক।
- তার মতে, ‘পাওয়ার টেন্ড্স টু করাপ্ট, অ্যান্ড অ্যাবসলিউট পাওয়ার করাপ্ট অ্যাবসলিউটলি।’
- বর্তমানকালে বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে এ উক্তির যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- দেশে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর শ্রেণি-চরিত্র সবসময় প্রায় একই রকমের হয়ে থাকে।
- সেটা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হোক কিংবা অগণতান্ত্রিক সরকার হোক, তাতে শ্রেণিচরিত্রের খুব একটা পার্থক্য থাকে না।
- এর প্রধান কারণ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা।

⇒ অনেক সময় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা শাসকশ্রেণিকে নিরঙ্কুশভাবে স্বৈরাচারী করে তোলে।
- একইভাবে তারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বলয়ে থেকে নিরঙ্কুশ দুর্নীতিগ্রস্তও হয়ে ওঠে।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।

১৬৩.
“অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।” এটি কার উক্তি?
  1. অধ্যাপক ডাইসি 
  2. অধ্যাপক বার্কার
  3. অধ্যাপক গেটেল
  4. অধ্যাপক গার্নার
ব্যাখ্যা
অধিকারের ধারণা:
-সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, "অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।"
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন- পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।
- অধিকার ভোগের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। সেই সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রে কল্যাণকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
- এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি বলেন 'অধিকার বলতে আমরা সামাজিক জীবনের সেসব শর্তকে বুঝি, যা ব্যতীত সাধারণভাবে ব্যক্তির সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন অসম্ভব।"
- এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ব্যক্তির কল্যাণের জন্য অধিকার অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক এবং- 
  1. পরস্পর অপরিহার্য
  2. পরস্পর বিরোধী
  3. পরস্পর নির্ভরশীল
  4. পরস্পর অসম্পর্কিত
ব্যাখ্যা

সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক: 
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দু'টি ধারণা রয়েছে।
- যথা- ১। সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক এবং ২। সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।

পরস্পর নির্ভরশীল:
- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর নির্ভরশীল।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার কথা যেমন কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যের কথা ভাবা যায় না।
- সুতরাং বলা যায়, একটি রাষ্ট্র যত সাম্যভিত্তিক হবে সেখানে স্বাধীনতা তত নিশ্চিত হবে।

গণতন্ত্রের ভিত্তি:
- সাম্য ও স্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তি রূপে কাজ করে।
- জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যেমন সাম্যের দরকার হয়, তেমনি স্বাধীনতার প্রয়োজন হয়।
- সাম্য ও স্বাধীনতা একই সঙ্গে বিরাজ না করলে গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করা সম্ভব হতো না।
- সাম্য উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ দূর করে আর স্বাধীনতা সকলের সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করার অধিকার দান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৫.
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
  1. অভাব হতে মুক্তি
  2. অধিক অর্থের মালিকানা
  3. খেয়াল খুশিমত খরচ করার সামর্থ্য
  4. বিপুল সম্পদের মালিকানা
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিকজী বিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।
- " অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
'মত প্রকাশের অধিকার'- নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. ব্যক্তিক
  4. ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

• অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।
• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
- তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

২.আইনগত অধিকার 
- আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

সামাজিক অধিকার:
- সামাজিক অধিকার সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার: 

- রাজনৈতিক অধিকার নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি বোর্ড বই। 

১৬৭.
“আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” উক্তিটি কে করেন?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. অধ্যাপক গেটেল
ব্যাখ্যা
আইন:
•    ‘আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ‘ - উক্তিটি করে → জন অস্টিন।
•    “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন” উক্তিটি করে → এরিস্টটল।
•    “Law is the passionless reason” উক্তিটি করে → এরিস্টটল।
•    “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” উক্তিটি করে? → অধ্যাপক হল্যান্ড। 
•    “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।” উক্তিটি করে? → অধ্যাপক গেটেল। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
আমলাতন্ত্রে 'Red Tapism' কী বোঝায়?
  1. সরকারের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া
  2. কঠোর নিয়মকানুনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব
  3. জনগণকে সর্বাধিক সেবা প্রদানের পদ্ধতি
  4. রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসন
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়। 

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৬৯.
"অতি শাসনের বিপরীত ব্যবস্থাই হলো স্বাধীনতা।"- কে বলেছেন?
  1. লাস্কি
  2. সিলি
  3. ব্রাইস
  4. স্পেনসার
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা (Liberty :
- স্বাধীনতা শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Liber", যার অর্থ "Free" বা "স্বাধীন"।
- এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মানুষ নিজের ইচ্ছামতো চিন্তা, বক্তব্য, চলাফেরা ও জীবনযাপন করতে পারে, তবে তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত ও সমাজের কল্যাণের পরিপন্থী হওয়া উচিত নয়।

• সিলির মতে:
"অতি শাসনের বিপরীত ব্যবস্থাই হলো স্বাধীনতা।"
অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি বা জাতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনাচার থেকে মুক্ত হয়ে নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে পারে, তখনই প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

• স্বাধীনতা সাধারণত চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়:
১. ব্যক্তি স্বাধীনতা (Personal Liberty);
২. রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty);
৩. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty);
৪. জাতীয় স্বাধীনতা (National Liberty)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া_______  স্বাধীনতা মূল্যহীন।
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 

- অধ্যাপক লাস্কি স্বাধীনতার তিনটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এগুলো হচ্ছে- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বুঝায়।
- ধর্মপালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার একটি উত্তম উদাহরণ।
- তাছাড়া গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা-
- রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশ গ্রহণের অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়ার, নির্বাচিত হওয়ার, মতামত প্রকাশ, প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- অধ্যাপক লাস্কির মতে, "রাষ্টীয় ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- " অধ্যাপক লাস্কি রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য যথোপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা ও খোলাখুলি সংবাদ সরবরাহ করার কথা বলেছেন।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা-
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে অধ্যাপক লাস্কি অভাব ও বেকারত্ব থেকে মুক্তির কথা বলেছেন।
- বস্তুত অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসগৃহ ও চিকিৎসার সুযোগকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে "অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭১.
'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি লাভের সমতা' কোন ধরনের সাম্য?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সাম্য
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি লাভের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক
সাম্য।
- সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য অত্যন্ত জরুরি।
- অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
- ফলে মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়। অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে রাষ্ট্র ও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। 

অন্যদিকে,
• রাজনৈতিক সাম্য: প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য। সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছ।

• ব্যক্তিগত সাম্য: মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সাম্য, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে
নিজের মতো কাজ করা এক ধরনের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

• সামাজিক সাম্য:  মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন
বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭২.
আমলাতন্ত্রের মধ্যে কোন ধরনের মূল্যবোধের ভারসাম্য লক্ষ্য করা যায়?
  1. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক ও পেশাগত মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ব্যক্তিগত ও নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৭৩.
কার মতে "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. জন লক
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হল ফার্সি শব্দ যার অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- আইন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Law"। Law শব্দের অর্থ স্থির বা অপরিবর্তনীয় এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- অ্যারিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন"।
- The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, "আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম"।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।"
- জন অস্টিন বলেন, "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"।
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন হল মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৪.
"Law is the passionless reason" উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. হবস
  3. রুশো
  4. লক
ব্যাখ্যা

• আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল। -
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।
- "Law is the passionless reason" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১৭৫.
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. UNCTAD
  2. Reporters without Borders
  3. Institute of Economic and Peace
  4. The World Justice Project
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সূচক প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান:
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করে: The World Justice Project (USA).
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।
১৭৬.
'The Social Contract' বইটির লেখক কে?
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. জ্যা জাক রুঁশো
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
→ ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জ্যা জাক রুঁশো তার বিখ্যাত গ্রন্থ, The Social Contract গ্রন্থে জনমত শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার করেন।
→ একে তিনি সাধারণ ইচ্ছা হিসেবে অভিহিত করেন।
→ এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কল্যাণের ইচ্ছা বা মতামতের প্রকাশ।
→ রুশোর আগে ইংরেজ দার্শনিক জন লক, পরবর্তীতে জন স্টুয়ার্ট মিল, লর্ড ব্রাইস, আর জে গেটেল, ইয়ুর্গেন হেবারমাসের মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা জনমত শব্দটির রাজনৈতিক উৎপত্তি ও প্রয়োগ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। জনমত সৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশ পরিস্থিতি প্রয়োজন হয়।
→ জনমত প্রকাশের ধরণও রাষ্ট্র ও সমাজভেদে ভিন্ন হতে পারে। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
ম্যাক্স ওয়েবারকে কোন বিষয়ের জনক বলা হয়?
  1. গণতন্ত্র
  2. আমলাতন্ত্র
  3. সমাজতন্ত্র
  4. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক বা জনক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

অন্যদিকে,
- ’গণতন্ত্র’-এর জনক- জনলক।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা হলেন মন্টেস্কু ।
- রবার্ট আওয়েনকে ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয় তবে কার্ল মার্কসকে আধুনিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) ব্রিটানিকা।

১৭৮.
স্বাধীনতা কীসের —  ফলাফল?
  1. কর্তব্যর 
  2. অধিকারের
  3. আইনের 
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা

 স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ:
- রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অস্তিত্ব বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতা থেকেই প্রকাশ পায়।
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
- স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফলাফল"।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন
করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সংগঠন করার স্বাধীনতা
  2. নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুবিধা
  3. বৈধ জীবিকার অর্জনের সুবিধা
  4. ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচিত হওয়ার সুবিধা, ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।
- উল্লিখিত প্রশ্নে 'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুবিধা' রাজনৈতিক সাম্য নয়। 
-'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুবিধা' অর্থনৈতিক সাম্য। 

উল্লেখ্য,
অর্থনৈতিক সাম্য: যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
-বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ জীবিকার অর্জনের সুবিধা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
তথ্য অধিকার আইনের কত নম্বর ধারা অনুযায়ী, নগরিকের তথ্য লাভের অধিকার রয়েছে?
  1. ধারা-১
  2. ধারা-২
  3. ধারা-৩
  4. ধারা-৪
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইনের প্রাধান্য:
→ তথ্য অধিাকার আইনের ৪র্থ ধারায় বলা হয়েছে যে, এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে এবং কোনো নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কতৃৃপক্ষ তাকে তথ্য সরবরাহ রতে বাধ্য থাকবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
১৮১.
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”-প্লেটো তাঁর কোন গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছেন?
  1. Symposium
  2. Apologia Socrates
  3. The Republic
  4. Allegory of the Cave
ব্যাখ্যা

দার্শনিক প্লেটো:
​→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
​→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
​→ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
​→ তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

​তাঁর লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
​- Symposium
​- Apologia Socrates
​- Allegory of the Cave
​- The Laws (348 BCE)
​- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

​উল্লেখ্য,- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

​উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

১৮২.
নিচের কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্ম
  2. সাহিত্য
  3. হাতিয়ার
  4. রীতিনীতি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে।
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
'নারী ও মানব পাচার' কোন ধরনের অপরাধ?
  1. ফৌজদারি অপরাধ
  2. সংগঠিত অপরাধ
  3. ভদ্রবেশী অপরাধ
  4. আত্মবিনাশ অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

• অপরাধের ধরনসমূহ:
- সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে:
ক) কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency),
খ) আত্মবিনাশ অপরাধ (Self-destroyed crime),
গ) ভদ্রবেশী অপরাধ (White-collar crime),
ঘ) সংগঠিত অপরাধ (Organized crime),
ঙ) ফৌজদারি অপরাধ (Criminal crime)।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ আত্মবিনাশ অপরাধ:
- কিছু অপরাধ আছে যা অন্যের নয়, অপরাধীরই ক্ষতিসাধন করে।
- অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে ব্যক্তি নিজেই নিজের বিনাশ ত্বরান্বিত করে।
- মাদকাসক্তি, ধূমপান, জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি, ইত্যাদি আত্মবিনাশ অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৮৪.
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNESCO
  2. USAID
  3. UNDP
  4. UNEP
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI ( Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১৮৫.
অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কোন আইনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ফৌজদারি আইন
  2. দেওয়ানি আইন 
  3. আন্তর্জাতিক আইন 
  4. সাংবিধানিক আইন 
ব্যাখ্যা
• আইন:
- ফৌজদারি আইন: সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং অপরাধীকে দণ্ড দেয়ার জন্য প্রণীত আইনকে ফৌজদারি আইন বলে।
এছাড়াও - 
- প্রশাসনিক আইন: ব্যক্তি এবং শাসন কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক নির্ধারণকারী আইনই হচ্ছে শাসন সংক্রান্ত আইন। এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরুপ। শাসন সংক্রান্ত আইন শাসন বিভাগের গঠন ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করে এবং ব্যক্তিগত অধিকার ভঙ্গের বেলায় প্রতিকার নির্দেশ করে।
- আন্তর্জাতিক আইন: যে আইনের দ্বারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারিত হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮৬.
কোন চিন্তাবিদ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ‘Interest Group’ বলেছেন?
  1. এলান পটার
  2. এলান আর বল
  3. অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
  4. এইচ. জিগলার
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৭.
কোনটি সামাজিক অধিকার নয়?
  1. জীবনের অধিকার
  2. সরকারি পদাধিকার
  3. চলাফেরার অধিকার
  4. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
​- যে সকল অধিকার সভ্য সমাজে বাস করার জন্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক অধিকার বলে।  সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
​১. জীবনের অধিকার, 
​২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, 
​৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার, 
​৪. সভা- সমিতির অধিকার, 
​৫. চলাফেরার অধিকার, 
​৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, 
​৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার, 
​৮. আইনের চোখে সমানাধিকার, 
​৯. সম্পত্তির অধিকার, 
​১০. ধর্মের অধিকার, 
​১১. পরিবার গঠনের অধিকার, 
​১২. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার, 
​১৩. শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮৮.
নিম্নের কার মতে আইনের একমাত্র উৎস হলো 'সার্বভৌমের আদেশ'?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. হ্যারল্ড জে লাস্কি
  4. জে এস মিল
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮৯.
'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র'-এ উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. সি.এফ. স্ট্রং
  3. অধ্যাপক লিন্ডসে
  4. অধ্যাপক সিলি
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

⇒ ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"
- প্রফেসর সিলী বলেন, "এটি এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- সি. এফ. স্ট্রং সুন্দরভাবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, "শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত তাকে গণতন্ত্র বলে।" 
- অধ্যাপক লিন্ডসে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র সরকারের ন্যায় সমাজেরও একটি তত্ত্ব বটে.
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।" 
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"
- স্যার ক্রিপসের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকল বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯০.
সবুজপত্রে সাধারণত কী উল্লেখ করা হয়?
  1. সমস্যা ও তার সমাধানের দিকনির্দেশনা
  2. সরকারি বাজেটের বিস্তারিত
  3. নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তি
ব্যাখ্যা
সবুজপত্রে সাধারণত সমস্যা ও তার সমাধানের দিকনির্দেশনা উল্লেখ করা হয়।

সবুজপত্র:
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।
- এর উপর জনসাধারণের মতামত আহবান করে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ইউরোপীয় কমিশনে এ প্রথা অনুসূত হয়।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশ সবুজপত্র প্রকাশ করার যে প্রথা অনুসরণ করে, সে প্রথা বাংলাদেশে নেই।
- তবে নীতি সংক্রা্ন্ত বিষয় অথবা অন্য কোন জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ওয়ার্কশপ বা সেমিনারের মাধ্যমে এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করার রেওয়াজ রয়েছে।
- এ প্রক্রিয়ায় দাতাগোষ্ঠীদেরও মতামত গ্রহণ করা হয়।
- উদাহরণ হিসেবে দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করা যায়।
- এছাড়া, চিন্তাবিদদের নিয়ে গঠিত বেসরকারি সংস্থাও সংস্কারমূলক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯১.
অধিকার অবাধ হলে -
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে
  2. নৈতিকতা বৃদ্ধি পাবে
  3. স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে
  4. সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে
ব্যাখ্যা
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

অধিকার:

- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৯২.
'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণাটির প্রবর্তক -
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. রবার্টসন
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক:
- গোল্ডেন মিন (সুবর্ণ মধ্যক) ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা। যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত।

তথ্যসূত্র: 
১৯৩.
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি কার?
  1. আর্নেস্ট বার্কার
  2. উইড্রো উইলসন
  3. লর্ড অ্যাকটন
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার।

• সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে। স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
'ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি' যে ধরনের অপরাধ -
  1. ফৌজদারি অপরাধ
  2. ভদ্রবেশী অপরাধ
  3. সংগঠিত অপরাধ
  4. কিশোর অপরাধ
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়।
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

⇔ অপরাধের ধরনসমূহ:
- সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে:
ক) কিশোর অপরাধ (Juvenile delinquency),
খ) আত্মবিনাশ অপরাধ (Self-destroyed crime),
গ) ভদ্রবেশী অপরাধ (White-collar crime),
ঘ) সংগঠিত অপরাধ (Organized crime),
ঙ) ফৌজদারি অপরাধ (Criminal crime)।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ আত্মবিনাশ অপরাধ:
- কিছু অপরাধ আছে যা অন্যের নয়, অপরাধীরই ক্ষতিসাধন করে।
- অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে ব্যক্তি নিজেই নিজের বিনাশ ত্বরান্বিত করে।
- মাদকাসক্তি, ধূমপান, জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি, ইত্যাদি আত্মবিনাশ অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯৫.
'Hedonism' বলতে নিচের কোনটি বোঝায়?
  1. পূর্ণতাবাদ
  2. স্বজ্ঞাবাদ
  3. সুখবাদ
  4. আকারবাদ
ব্যাখ্যা

সুখবাদ:
- গ্রীক 'hedone' শব্দের অর্থ 'সুখ' (pleasure)।
- কাজেই, যে মতবাদ অনুসারে সুখই জীবনের পরমার্থ, তাকে বলা হয় 'Hedonism' বা 'সুখবাদ'।
- সাধারণত সেইসব প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিক (empiricists) সুখবাদের সমর্থক যারা মনে করেন যে, মানুষ মূলত ইন্দ্রিয়াসক্ত এবং ইন্দ্রিয়সেবার মাধ্যমে সুখলাভই তার একমাত্র লক্ষ্য।
- সুখবাদীরা সুখের বিচারে কর্মের নৈতিক বিচার করেন যে কাজ দুঃখের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুখ দেয় তা 'ভাল', আর যে কাজ সুখের তুলনায় অধিক পরিমাণে দুঃখ দেয় তা 'মন্দ'।

⇒ আত্মসুখবাদ ও সর্বজনীন সুখবাদ, স্থুল সুখবাদ ও সুক্ষ্ম সুখবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সুখবাদ রয়েছে।

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism): স্বজ্ঞা এমন একটি বৃত্তি যার সাহায্যে আমরা প্রত্যক্ষভাবে বুদ্ধি বা সংবেদনের সাহায্য ছাড়াই কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানলাভ করতে পারি।
- আকারবাদ (Formalism): নৈতিকতা সামাজিক ব্যাপার হলেও এর মর্যাদার কারণেই এর ভিত্তিটি মানবিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে প্রোথিত। ঐ উৎস থেকে নিয়ম বা আইনের আকারে এ উৎসারিত হয়।
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে। একে বুঝতে হলে পূর্ণতা শব্দটির অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।

উৎস:
i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬.
সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো -
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. ন্যায়বিচার
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়। তাই পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন। শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৯৭.
গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য মিলের তিনটি শর্তের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষণের জন্য সদাসতর্ক
  2. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা
  3. আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ
  4. জনগণের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য মিলের তিনটি শর্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়-  আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ।

গণতন্ত্রের সাফল্য:

- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

• জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হল:
(ক) গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
(খ) ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
(গ) নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৯৮.
আমলাতন্ত্রের জনক কাকে বলা হয়?
  1. উড্রো উইলসন
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. হেনরি ফেয়ল
  4. ফ্রেডরিক টেইলর
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

১৯৯.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. শিশু অধিকার
  2. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  3. আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  4. নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
ব্যাখ্যা
CEDAW:
CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট।
২০০.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ?
  1. পছন্দমত পেশা নির্বাচন
  2. চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার
  3. ভোটাধিকার
  4. সমাবেশ করার অধিকার
ব্যাখ্যা
সাম্যের ধারণা:
- সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেখানে সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়।

সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথা:
ক. সামাজিক সাম্য: যেমন- বাক স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ, নাগরিক অধিকার চর্চা।
খ. রাজনৈতিক সাম্য: যেমন- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার। 
গ. অর্থনৈতিক সাম্য: যেমন- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ। 
ঘ. আইনগত সাম্য: যেমন- চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সমাবেশ করার অধিকার। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।