বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৬২ / ৬৪ · ৬,১০১৬,২০০ / ৬,৪০৯

৬,১০১.
কোন মাধ্যমে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত সঞ্চালিত হয়?
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. শূন্য
  4. বায়ু 
ব্যাখ্যা

শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়; আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৬,১০২.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়? 
  1. ক্যালসিয়াম 
  2. ফসফরাস 
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম 
ব্যাখ্যা

• বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন নামক খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়।
- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ। 
- বায়ুমণ্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
 - বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট।
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে। 
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। 
- গাছপালা তখন মাটি থেকে 'নাইট্রোজেন' শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে। 
- যেহেতু এটি ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; cals.arizona.edu। 

৬,১০৩.
চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক্স-রের ভেদন ক্ষমতা ব্যবহার করে কী করা হয়?
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন
  2. রঙিন ছবি তোলা 
  3. রেডিওগ্রাফি গ্রহণ
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। 
- এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। 
- বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। 
- এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১০৪.
কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা কম? 
  1. কালো
  2. সাদা
  3. হলুদ
  4. বেগুনি
ব্যাখ্যা
- সাদা রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম, কারণ সাদা রঙের বস্তু তার উপর আপতিত প্রায় সমস্ত আলো বা তাপ বিকিরণ করে। 
- ফলে গরমের সময় সাদা কাপড় পরলে আরাম পাওয়া যায়। 
- অপরদিকে কালো রঙের বস্তু বা কাপড়ের তাপ শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। 
- কালো রঙের বস্তু বা কাপড় তাপ বিকিরণ করতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১০৫.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe),রেডন (Rn) ও  ওগানেসন (Og) এ সাতটি মৌল পর্যায় সারণিতে 18তম গ্রুপের মৌল।
- সাধারণত এরা যৌগ গঠন করে না বলে এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবেল গ্যাস হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। 
- এ মৌলগুলো প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়।
- মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণ পরে আবিষ্কৃত হয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারের জন্য লর্ড রেলি (Lord Rayleigh) ও স্যার উইলিয়াম রামসে (Sir William Ramsay) কে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১০৬.
ক্ষার ধাতু বলতে কোন মৌলগুলোকে বোঝানো হয়?
  1. Fe, Cu, Zn, Pb
  2. Cu, Ag ও Au
  3. Be, Mg, Ca, Sr
  4. Li, Na, K, Rb
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রুপা (Ag) ও সোনা (Au)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১০৭.
খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে কোন রাসায়নিক পদার্থটির ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) সালফার
  3. গ) সোডিয়াম ট্রাইঅক্সাইড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম এপারনেট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম এপারনেট দ্রব্যটি খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।

- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া যাতে খাদ্য পচন রোধ করা ছাড়াও অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।
- এতে খাদ্যের গুণাগুণ, গ্রহণযোগ্যতা, সহজলভ্যতা ও খাদ্যমান অটুট থাকে।
- এ সকল খাদ্য সংরক্ষণে সাধারণতঃ পঁচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণ এবং খাদ্যের চর্বি জাতীয় অংশের জারণ রোধ হয়।
- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে সাধারণতঃ সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণ (NaCl), ক্যালসিয়াম এপারনেট, সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), সোডিয়াম বাই সালফেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- BHA ও BHT খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে অনুমোদিতভাবে ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ৬৭ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১০৮.
'এটম' অর্থ হচ্ছে -
  1. ক) অবিভাজ্য
  2. খ) বিভাজ্য
  3. গ) দ্বিবিভাজ্য
  4. ঘ) ত্রিবিভাজ্য
ব্যাখ্যা
খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমেক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘এটম'।
গ্রীক শব্দ ‘এটম’ অর্থ হচ্ছে অবিভাজ্য।
৬,১০৯.
নিচের কোন পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না?
  1. লোহা 
  2. নিকেল
  3. রূপা 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট প্রভৃতি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১১০.
বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কোন ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়?
  1. চল ঘর্ষণ
  2. স্থিতি ঘর্ষণ
  3. প্রবাহী ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা - 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ: 
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাঁধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 

- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১১১.
ধনুক থেকে তীর ছুড়লে শক্তির কী ধরণের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) স্থিতি শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
  2. খ) স্থিতি শক্তি থেকে গতি শক্তি
  3. গ) গতি শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
  4. ঘ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে গতি শক্তি
ব্যাখ্যা
ধনুক থেকে তীর ছুড়লে স্থিতি শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার।
১. গতি শক্তি এবং
২. বিভবশক্তি বা স্থিতিশক্তি।

বিভবশক্তি বা স্থিতিশক্তি:
বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক। আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। 

গতিশক্তি:
গতিশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ। গতিশীল অবস্থায় বস্তু যে শক্তি লাভ করে তাই হচ্ছে গতিশীল বস্তুটির গতিশক্তি। স্থির বস্তুতে বল প্রয়োগ করলে বস্তু গতি প্রাপ্ত হয়।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নমব-দশম শ্রেণি।
৬,১১২.
ঘর্ষণ বল ও টান বল কোন ধরনের বলের উদাহরণ?
  1. চৌম্বক বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. স্পর্শ বল
  4. অস্পর্শ বল
ব্যাখ্যা
বল: 
- যে বাহ্যিক কারণ বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটাতে চায় তাকে বল বলে। 
- যে বল বস্তুকে গতিশীল করে বা গতি বাড়িয়ে দেয় তাকে ত্বরণ সৃষ্টিকারী বল বলে। 
- যে বল গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দেয় বা বেগ কমিয়ে দেয় তাকে মন্দন সৃষ্টিকারী বল বলে। 
- কোনো বস্তুকে ঠেলতে বা টানতে হলে প্রত্যক্ষ স্পর্শ প্রয়োজন তাই এই বলকে বলা হয় স্পর্শ বল। 
যেমন- ঘর্ষণ বল, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বল, টান বল ইত্যাদি স্পর্শ বলের উদাহরণ। 
- দুটি চুম্বকের বিপরীতমেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে এবং সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বা বিকর্ষণ হচ্ছে অস্পর্শ বল। 
- পৃথিবী তার পৃষ্ঠস্থ ও নিকটস্থ সকল বস্তুকে এর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বল হচ্ছে অভিকর্ষ বা মহাকর্ষ বল। 

বলের কিছু বৈশিষ্ট: 
১। বল প্রয়োগে কোনো বস্তুর জড়তার পরিবর্তন হয় বা হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। 
২। বল সর্বদা জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল থাকে। অর্থাৎ, বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে আরেকটি বল ক্রিয়া করে। একারণে বলের ক্রিয়াকে মিথস্ক্রিয়াও বলে। 
যেমন- যখন কোনো বস্তুকে দড়িতে বেঁধে টানা হয় তখন প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে দড়িতে যে একটা বল ক্রিয়া করে তাকে টান বল বলে। 
৩। বল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়। অর্থাৎ, বল প্রয়োগে বস্তু ত্বরণ বা মন্দন হয়। একটি গতিশীল বস্তুকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এতে এর বেগ বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ ত্বরণ হবে। গতিশীল গাড়ীকে পিছন থেকে টেনে ধরলে এর বেগ হ্রাস পাবে বা মন্দন হবে। 
৪। বল বস্তুকে বিকৃত করতে পারে বা ভৌত ধর্মের পরিবর্তন করতে পারে। 
৫। বল একটি ভেক্টর রাশি কারণ এর মান ও দিক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১১৩.
পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে যে জ্বালানী তৈরি হয় তাকে বলে- 
  1. বায়ো গ্যাস
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. পাওয়ার অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১১৪.
বিকৃতির একক কী?
  1. m
  2. Nm-2
  3. kgm-3
  4. একক নেই
ব্যাখ্যা
বিকৃতি:
- কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে বস্তুর দৈহিক পরিবর্তন ঘটে।
- এই পরিবর্তন দৈর্ঘ্যে, আকারে বা আয়তনে হতে পারে। কোন বস্তুর একক মাত্রায় যে পরিবর্তন ঘটে তাকে বিকৃতি বলে ।
- যদি কোনো বস্তুর আদি মাত্রা = x এবং বল প্রযুক্ত হবার পর মাত্রা =y, মাত্রার পরিবর্তন = x ~ y 
তাহলে একক মাত্রার পরিবর্তন বা বিকৃতি = x~y / x

বিকৃতি যেহেতু একই রাশির অনুপাত সেহেতু এর কোনো একক নাই ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১১৫.
প্রোটিন মূলত কোন মনোমারের পলিমার? 
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. ফ্যাটি অ্যাসিড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়। 
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়। 
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার।
যথা: 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল ও পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব ও গোল আলু এসব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস ও ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন ও নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১১৬.
শুষ্ক কোষে ক্যাথোড হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. লৌহ দণ্ড
  2. দস্তার কৌটা
  3. কার্বন দণ্ড
  4. তামার দণ্ড
ব্যাখ্যা
• শুষ্ক কোষে ক্যাথোড হিসেবে কার্বনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

• ড্রাই সেল:
- ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ হলো এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। 

• ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করা হয়।
 
• ড্রাই সেলের গঠন:
- ড্রাই সেল অ্যানোড এবং ক্যাথোড দ্বারা গঠিত।
- ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট কৌটা ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH4Cl জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) ও পাতিত পানি মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত কাই (paste) দ্বারা জিংকের তৈরি ছোট কৌটা পূর্ণ করা হয়।
- এরপর জিংকের কৌটাটির মাঝখানে একটি কার্বন (গ্রাফাইট) দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।
- ড্রাই সেলে কার্বন দণ্ড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ড্রাই সেলের অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রান্তকে যদি বাল্ব বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয় তখন ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
• ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে জিঙ্ক এবং ক্যাথোড হিসেবে কার্বন দণ্ড ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬,১১৭.
কুরি তাপমাত্রা বলতে কী বোঝায়? 
  1. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থ তাপ পরিবাহনের ক্ষমতা হারায় 
  2. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থ সর্বাধিক চুম্বকায়িত হয় 
  3. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় 
  4. যে তাপমাত্রায় চৌম্বক পদার্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গলতে শুরু করে 
ব্যাখ্যা

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১১৮.
MRI কোন্ নীতিতে কাজ করে?
  1. শরীরের ত্রি-মাত্রিক চিত্র তৈরি করতে এক্স-রে ব্যবহার করে
  2. তেজস্ক্রিয় ট্রেসার দ্বারা নির্গত গামা-রে সনাক্তের মাধ্যমে 
  3. শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
  4. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- MRI (Magnetic Resonance Imaging) মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনকে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে সারিবদ্ধ করে এবং তাদের শক্তি নির্গমনের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে, যা এক্স-রে বা শব্দ তরঙ্গের চেয়ে ভিন্ন। 

এমআরআই (MRI): 
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়। 

- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- শরীরের যে অংশের এমআরআই স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১১৯.
বিটা রশ্মি কোন ধরনের বিকিরণ হিসেবে পরিচিত?
  1. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  2. প্রোটনের প্রবাহ
  3. নিউট্রনের প্রবাহ
  4. মেসনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত একটি ধরনের ইলেকট্রন বিকিরণ হিসেবে পরিচিত। এটি পরমাণুর অস্থির নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয় যখন একটি নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হয় বা প্রোটন নিউট্রনে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ-শক্তির ইলেকট্রন বা পজিট্রন নির্গত হয়, যাকে আমরা বিটা কণা বলি। বিটা রশ্মি অতিসূক্ষ্ম কণার মাধ্যমে অণু এবং অণুর সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া করতে পারে, ফলে এটি বিভিন্ন পদার্থে প্রবেশ করতে সক্ষম। বিকিরণের ধরনের দিক থেকে, এটি কেবল ইলেকট্রনের প্রবাহ এবং প্রোটন, নিউট্রন বা মেসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,১২০.
মুক্তার প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- ঝিনুকের খোলসের ভিতরে কোনো শক্ত বস্তু প্রবেশ করলে ঐ স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং
- ঐ বস্তুকে জড়িয়ে ঝিনুকের শরীর থেকে এক ধরনের পদার্থ নির্গত হয়।
- যা পরে মুক্তায় রূপ নেয়।
- তাই বলা যায় মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03
- এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ
১. প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬,১২১.
Which substance does not allow charge to flow through it?
  1. Silver
  2. Aluminum
  3. Copper
  4. Glass
  5. Gold
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- মূলত: সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১২২.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে কোন ধরনের রশ্মি নির্গত হয় না?
  1. বিটা রশ্মি
  2. এক্স-রে রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয়তা:
- বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড এবং ভিলার্ড পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন প্রকার রশ্মি নির্গত হয়। যথা-
১. আলফা রশ্মি,
২. বিটা রশ্মি এবং
৩. গামা রশ্মি।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- যে সকল মৌলের পারমাণবিক ওজন ২০৬ এর অধিক, সে সকল পদার্থ তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অবিরাম প্রক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা কণা ধনাত্মক চার্জ যুক্ত, ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত এবং চার্জ নিরপেক্ষ হতে পারে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি নিউক্লিয়ার ঘটনা ।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় যেমন- রেডিয়াম হতে হিলিয়াম ও র‍্যাডন সৃষ্টি হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১২৩.
50 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ কত হবে?
  1. ক) 356 ms-1
  2. খ) 362 ms-1
  3. গ) 332 ms-1
  4. ঘ) 273 ms-1
ব্যাখ্যা
0°C বা 273K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
বাতাসের তাপমাত্রা অথবা আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শব্দের দ্রুতির বৃদ্ধি ০.৬ ms-1.
∴ 50°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ = 332+(50×0.6) ms-1 = (332 + 30)ms-1 = 362 ms-1
৬,১২৪.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করেন?
  1. জুল
  2. ফ্যারাডে
  3. নিউটন
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H. 
বা, W = JH 
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন। 
- এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১২৫.
সবুজ কাঁচের মধ্যদিয়ে একটি হলুদ ফুলের রং দেখা যাবে -
  1. ক) সবুজ
  2. খ) হলুদ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) কালো
ব্যাখ্যা
একটা বস্তু সব রং শোষন করে যেটা প্রতিফলিত করে, সেটাকেই তার রং বলে মনে হয়। 
হলুদ রঙের ফুল হলুদ রং ছাড়া বাকি সব রং শোষণ করে নেবে এবং হলুদ রঙ প্রতিফলিত করবে।
হলুদ রং সবুজ কাঁচের মধ্যদিয়ে আসার সময় কাঁচ দ্বারা শোষিত হয়ে যাবে।
ফলে সব রং শোষিত হয়ে যাবে এবং ফুলটি কালো দেখাবে।
৬,১২৬.
p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে গরিষ্ঠ আধান বাহক কোনটি ?
  1. ক) ধনাত্মক আধান
  2. খ) ঋণাত্মক আধান
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে গরিষ্ঠ আধান বাহক ধনাত্মক আধান । p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে চতুর্যোজী মৌলের সাথে ত্রিযোজী মৌলের ডোপিং করা হয় । ফলে সহযোজী বন্ধনের সময় একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে, হোলের সৃষ্টি হয় । এই হোল পূরণ করতে ইলেকট্রনের প্রয়োজন হয় । এই ইলেকট্রন যেখান থেকে আসে সেখানে আবার হলের সৃষ্টি হয় । এতে মনে হয় ধনাত্মক হল পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেক্ট্রনের বিপরীত দিকে চলমান । তাই গরিষ্ঠ বাহক হল ধনাত্মক হোল। p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে লঘিষ্ঠ বাহক ইলেকট্রন বা ঋণাত্মক আধান।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই
৬,১২৭.
আলোর প্রতিসরণের সূত্র কে আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. হাইগেন
  2. স্নেল
  3. রবার্ট হুক
  4. গিলবার্ট
ব্যাখ্যা

• আলোর প্রতিসরণের সূত্র বা Refraction of Light এর সূত্র প্রথম আবিষ্কার করেন হল্যান্ডের বিজ্ঞানী স্নেল, যিনি এটি স্নেলস সূত্র (Snell’s Law) হিসেবে পরিচিতি পান। এই সূত্রটি আলোর প্রবাহ একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় তার দিক পরিবর্তনের পরিমাণ নির্ধারণ করে। সূত্র অনুযায়ী, আলোর পতনের কোণ এবং প্রতিসরণের কোণের sine এর অনুপাত সমান হয় দুই মাধ্যমের মধ্যে আলোর বেগের অনুপাতের। স্নেল এই সম্পর্কটি গণিতগতভাবে স্থাপন করে আলোর প্রতিসরণের বিজ্ঞানকে আরও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করেন।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) স্নেল।


• প্রতিসরণ:
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction):
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রগুলোকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।
- সূত্র দু'টি হলো-
১. দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
২. এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।

• অপশন আলোচনা:
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১২৮.
কোন পরিস্থিতিতে একটি বাস্তব গ্যাস সবচেয়ে বেশি আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে?
  1. উচ্চ চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রা
  2. উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপ 
  3. নিম্ন চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রা
  4. উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

- বয়েল, চার্লস ও অ্যাভোগেড্রোর সূত্রের সমন্বয়ে আদর্শ গ্যাসের অবস্থার সমীকরণ PV = nRT পাওয়া যায়।
- এখানে, R = মোলার গ্যাস ধ্রুবক।
- প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে S.I এককে R এর মান 8.314 JK- 1mol- 1 .

- যেসকল গ্যাস যেকোনো তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের সূত্রসমূহ মেনে চলে তাদের আদর্শ গ্যাস বলে।
- কিন্তু বাস্তবে কোনো গ্যাসই সকল তাপমাত্রা ও চাপে এসব সূত্র মেনে চলে না।
- কেবলমাত্র “অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে” বাস্তব গ্যাস সমূহ আদর্শ আচরণ করে অর্থাৎ, গ্যাসের সূত্রগুলো মেনে চলে।

- প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ (STP = Standard Temperature & Pressure) ⇒ 0° C বা 273k ও 1atm বা 76cm(Hg)

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬,১২৯.
দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ -
  1. এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
  2. এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
  3. অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
  4. প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে, যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়। 
- ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়। 
- ফলে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর জন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৩০.
পানি বরফে পরিণত হলে-
  1. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
  2. ঘনত্ব কমে যাবে
  3. আয়তন কমে যাবে
  4. ভর কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• বরফ:
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
- কারণ, বরফে পানির অণুগুলো একটি ক্রিস্টাল গঠন তৈরি করে, যেখানে তারা একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করে ফলে ঘনত্ব কমে যায়।

- বরফ পানিতে পরিণত হলে আয়তন কমে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,১৩১.
অক্সি - এসিটিলিন শিখার প্রমাণ তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮০০ - ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২০০০ - ২৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২৫০০ - ৩০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা:
- অক্সিজেন ও অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাসের মিশ্রণকে অক্সি অ্যাসিটিলিন বলা হয়। 
- এই মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করলে, যে অগ্নিশিখার সৃষ্টি হয় তাকেই অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা বলে। 
- এই শিখার তাপমাত্রা ৩০০০-৩৫০০° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে। 
• ব্যবহার:
- ঝালাই: স্টিল এবং লোহা সহ বিভিন্ন ধাতুর ঝালাইয়ের জন্য।
- কাটিং: ধাতু কেটে আলাদা করার জন্য।
- গরম করা: ধাতুর আকৃতি বদলানোর আগে গরম করার জন্য।

উৎস: britannica.com
৬,১৩২.
সক্রিয়তা সিরিজে কোন ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়?
  1. লিথিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
- সক্রিয়তা সিরিজে 'লিথিয়াম' ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 

- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৩৩.
নিম্নের কোনটি বিজারক পদার্থের উদাহরণ?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) ক্লোরিন
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4 প্রভৃতি জারক পদার্থ। 

- বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- পর্যায় তালিকার গ্রুপ এ অবস্থিত মৌলসমূহ যেমন: H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৩৪.
পরমাণুর কেন্দ্রে কোনটি অবস্থান করে?
  1. ইলেকট্রন
  2. শুধুমাত্র প্রোটন
  3. প্রোটন এবং নিউট্রন
  4. ইলেকট্রন এবং প্রোটন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়াস, এই নিউক্লিয়াস পরমাণুর একটি ক্ষুদ্র ও ঘনত্বপূর্ণ অঞ্চল যেখানে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন (নিরপেক্ষ) নিউট্রন অবস্থান করে। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এই নিউক্লিয়াসেই পুঞ্জীভূত থাকে। 

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকতে পারে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৩৫.
পদার্থের ভৌত অবস্থা মূলত নির্ভর করে -
  1. ক) অণুগুলোর গতিশক্তির উপর
  2. খ) আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  3. গ) চৌম্বক শক্তির উপর
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন আছে
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই ।
- আন্ত:আণবিক আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে।  এ দুটি শক্তি পরস্পর বিপরীতমুখী। তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

কঠিন পদার্থ (Solid)- 
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ত্রি মাত্রিক গঠন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে আন্ত:আণবিক বলের মান খুব বেশি হওয়ায় অণুগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হতে পারে না। অণুগুলোর শুধুমাত্র দোলন বা কম্পনের স্বাধীনতা থাকে। 

তরল পদার্থ (Liquid)- 
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিস্ট আকৃতি নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে অণুগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকলেও এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল তুলনামূলকভাবে কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। ফলে এদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এ জন্য অণুগুলির চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকে। তাই কঠিন পদার্থকে তরল পদার্থে রূপান্তরিত করলে আয়তন বেড়ে যায় ।

পানি ব্যতিক্রম ধর্মী তরল পদার্থ। কারণ বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করলে আয়তন কমে যায়। এর কারণ হলো বরফের গঠণ কাঠামোতে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে যা তরল পানির ক্ষেত্রে পূরণ হয়। এ ছাড়া তরল পানিতে হাইড্রোজেন বন্ধনের উপস্থিতি পানির আয়তন হ্রাসের অন্যতম কারণ ।

গ্যাস (Gas)- 
বাষ্পীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে পারষ্পরিক আকর্ষণ খুবই কম। ফলে এরা যথেষ্ট দূরে দূরে অবস্থান করে এবং বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে। ফলে পাত্রের পুরো জায়গা এরা দখল করে। তবে চাপ প্রয়োগে অণুসমূহ কাছাকাছি আসে এবং গ্যাসের আয়তন কমে যায়। তাপ বাড়ালে উল্টো ঘটনা ঘটে। আন্ত:আণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস অণুসমূহ আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।

সূত্র: ৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৩৬.
আলো যে সাতটি বর্ণের সমষ্টি, এটা কে প্রমাণ করেন?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. ম্যাক্সওয়েল
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
• আইজ্যাক নিউটন প্রথম প্রমাণ করেন যে সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের সমন্বয়ে গঠিত।

• 1672 সালে নিউটনের প্রিজম পরীক্ষা:
- তিনি একটি প্রিজমের মাধ্যমে সূর্যের আলো পাঠিয়ে দেখেন যে এটি সাতটি আলাদা রঙে বিভক্ত হয়।
- এই সাতটি রঙ হলো: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল (VIBGYOR)
- নিউটন দ্বিতীয় একটি প্রিজম ব্যবহার করে আলাদা রঙগুলো আবার মিলিয়ে সাদা আলো তৈরি করেন।
- এটি প্রমাণ করে যে সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের সমষ্টি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,১৩৭.
রাবার নিম্নের কোনটিতে অদ্রবণীয়?
  1. ক) ইথার
  2. খ) মিথানল
  3. গ) টারপিন
  4. ঘ) পেট্রোল
ব্যাখ্যা
রাবার:
- বর্তমান দুনিয়ায় রাবার একটি অতি প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্য। পেন্সিলের লেখা মোছার ইরেজার থেকে শুরু করে সাইকেল, রিক্সা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবার।
- এছাড়াও রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্পে, পানির পাইপ, সার্জিকেল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল ইত্যাদি প্রস্তুতিতে বিপুল পরিমাণ রাবার ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক রাবার একটি অদানাদার, পানিতে অদ্রবণীয় কঠিন কিন্তু প্লাস্টিকের চেয়ে নরম পদার্থ। 
- রাবার জৈব দ্রাবক এসিটোন, মিথানল ইত্যাদিতে অদ্রবণীয় হলেও ইথার, টারপিন, পেট্রোল ইত্যাদিতে দ্রবণীয়
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি তাপ সংবেদনশীল ও স্থিতিস্থাপক পদার্থ। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপ কুপরিবাহী। তবে বিশেষভাবে তৈরি রাবার বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে।
- অন্যান্য পদার্থে তাপ দিলে আয়তন বাড়ে কিন্তু রাবারে তাপ দিলে আয়তন কমে। 
- রাবার পানি, এসিড, দুর্বল ক্ষার ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। তাই প্রলেপ দেয়ার কাজে রাবারকে ব্যবহার করা হয়। 
- রাবার এসিড, ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া না করলেও বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয়। অনুরূপভাবে প্রাকৃতিক রাবার ওজোনের (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে, ফলে রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও একসময় নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,১৩৮.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র মাপের বিদ্যুৎ প্রবাহের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়?
  1. ওহমমিটার
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. ভোল্টমিটার
  4. অডিওমিটার
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র মাপের বিদ্যুৎ প্রবাহের অস্তিত্ব নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - গ্যালভানোমিটার।

অন্যদিকে,
- রোধ পরিমাপ করার যন্ত্র - ওহমমিটার।
- কোন তড়িৎ বর্তনীর দুটি বিন্দুর বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজের পরিমাণ মাপক যন্ত্র - ভোল্টমিটার।
- শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অডিওমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬,১৩৯.
গ্যালভানাইজিং করতে কোনো ধাতুর উপর কিসের প্রলেপ দেয়া হয়? 
  1. কপার
  2. নিকেল
  3. জিংক
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
-  সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৪০.
প্রাণিজ আমিষের উদাহরণ না কোনটি?
  1. ক) মাছ
  2. খ) পনির
  3. গ) ছানা
  4. ঘ) বাদাম
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ।
প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির- এগুলাে প্রাণিজ আমিষ।
উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬,১৪১.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল নয়?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) ব্রোমিন
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) রেডন
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি।
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl₂, I₂ ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৪২.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি? 
  1. ডিগ্রী  
  2. কেলভিন 
  3. সেলসিয়াস 
  4. ফারেনহাইট 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা (Temperature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের এস. আই (S.I) বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৪৩.
নিচের কোনটির সাহায্যে পানি বিশুদ্ধ করা যায়?
  1. ক) ইপসম লবণ
  2. খ) সাদা ভিট্রিওল
  3. গ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশ এলাম
ব্যাখ্যা

পটাশ এলাম বা ফিটকিরি পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফিটকিরি হলো আর্দ্র এলুমিনিয়াম পটাশিয়াম সালফেট [K2SO4.Al2(SO4)3.24H20]।
পটাশ এলাম ছাড়াও ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন ট্যাবলেট প্রভৃতিও পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬,১৪৪.
কোন তাপমাত্রায় বরফ গলে পানি হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ১০° সেলসিয়াস
  3. ৪° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- বিশুদ্ধ বরফ স্বাভাবিক চাপে ০° সেলসিয়াস (0°C) তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং পানিতে পরিণত হয়, এই তাপমাত্রাকে পানির গলনাঙ্ক বলা হয়। একইভাবে, পানি যখন শীতল হয়ে ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পৌঁছায়, তখন তা জমে বরফে পরিণত হতে শুরু করে। 

পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

গলনাঙ্ক: 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক। 
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফুটনাংক: 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৪৫.
"আলো চিড় অতিক্রম করার সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনাটি" - নিচের কোন তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করে? 
  1. তরঙ্গ তত্ত্ব
  2. কণা তত্ত্ব
  3. দ্বৈতনীতি
  4. কোয়ান্টাম তত্ব
ব্যাখ্যা

• "আলো চিড় অতিক্রম করার সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনা" বা প্রকাশিত আলো যখন একটি সরু ছিদ্র বা ধারকের পাশ দিয়ে যায় এবং তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়, এটিকে প্রকাশের বিচ্যুতি বা diffraction বলা হয়। এটি মূলত তরঙ্গের আচরণের ফলাফল, কারণ কণা হিসেবে আলো এমনভাবে বেঁকে যেতে পারে না। তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো তরঙ্গ কোনো বাধা বা ছিদ্রের সংস্পর্শে আসে, তখন তরঙ্গের অংশ সীমানার চারপাশ দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি  বিচ্যুত ধারা তৈরি করে। সুতরাং আলো চিড় অতিক্রমের সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory) দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

- সঠিক উত্তর: ক) তরঙ্গ তত্ত্ব। 

• আলো চিড় অতিক্রমের সময় বেঁকে যাওয়া (Light Diffraction):
- আলো চিড় অতিক্রম করার সময় যখন বাঁকানো বা বিকৃত হয়, সেটিকে আলো তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
- এই ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্বের মাধ্যমে বোঝানো যায়, কারণ আলোকে তরঙ্গ হিসেবে ধরা হলে তা চিড় বা বাধার পাশ দিয়ে বেঁকে যেতে পারে।
- কণা তত্ত্বের মাধ্যমে এই ধরনের বেঁকানো ঘটনার ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, কারণ কণার মতো আচরণ করলে আলো সরলরেখায় চলার প্রবণতা দেখায়।
- দ্বৈতনীতি বা কোয়ান্টাম তত্ত্ব আলোকে কণার ও তরঙ্গের দুই রূপে ব্যাখ্যা করে, তবে শুধুমাত্র চিড়ের প্রান্ত দিয়ে বেঁকে যাওয়া ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্ব দ্বারা সবচেয়ে সরলভাবে বোঝা যায়।
- এটি ফ্রিঞ্জ প্যাটার্ন বা হালকা ও গাঢ় রেখার উদাহরণ তৈরি করতে পারে, যা তরঙ্গের হস্তক্ষেপ (interference) প্রমাণ করে।

আলােকের প্রকৃতি সম্মন্ধে যেসব তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে সেগুলি হলাে
(i) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

(ii) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

(iii) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।

(iv) আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৬,১৪৬.
চাপের একক কোনটি?
  1. ক) N
  2. খ) Kg
  3. গ) Pa
  4. ঘ) m/s
ব্যাখ্যা
কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত মোট বলের মানকে চাপ বলে।
চাপের একক নিউটন/বর্গমিটার (Nm −2), একে প্যাসকেল (pa) ও বলা হয়।
৬,১৪৭.
ডিজিটাল ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে উঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. এলইডি
  2. আইসি
  3. এলসিডি
  4. সিলিকন চিপ
ব্যাখ্যা
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। 
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে। 
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়। 
- সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়। 
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই। 
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে
৬,১৪৮.
সামান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন তাপমাত্রায় ও চাপে ইথিনকে উত্তপ্ত করে পলিথিন তৈরি করা হয়?
  1. 100 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  2. 100 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
  3. 1000 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  4. 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অনেকগুলো ক্ষুদ্র অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে বৃহৎ অণু গঠন করে সেই বিক্রিয়াকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া (Polymerization Reaction) বলে।
- পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় যে ছোট অণুগুলো অংশগ্রহণ করে তাদের প্রত্যেকটিকে এক একটি মনোমার (monomer) বলে এবং বিক্রিয়ার ফলে যে বৃহৎ অণু গঠিত হয় তাকে পলিমার অণু বলে।
- দুইটি মনোমার একসাথে যুক্ত হলে তাকে বলে ডাইমার (dimer), তিনটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে তৈরি হয় ট্রাইমার (trimer)।
- এভাবে অনেকগুলো মনোমার এক সাথে যুক্ত হয়ে পলিমারের সৃষ্টি হয়।
- খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান প্রোটিন, এই প্রোটিনও অ্যামাইনো এসিডের একটি পলিমার। 
- পলিমারকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিভাগ করা যেতে পারে।
- তবে গঠন প্রকৃতি অনুযায়ী পলিমার দুই প্রকার।
যথা- সংযোজন বা যুত পলিমার এবং ঘনীভবন পলিমার। 

সংযোজন বা যুত পলিমার (Addition Polymer): 
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় মনোমার অণুগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকলবিশিষ্ট পলিমার গঠন করে তাকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলা হয়।
- সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় গঠিত পলিমারকে সংযোজন পলিমার বলে।

সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া: 
- সামান্য পরিমাণ অক্সিজেনের উপস্থিতিতে 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায় ইথিনকে উত্তপ্ত করলে পলিথিন উৎপন্ন হয়
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়ায় ইথিনকে মনোমার বলা হয়।


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৪৯.
কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশনের জন্য কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়?
  1. স্টেপ-ডাউন ট্রানফরমার
  2. তাড়িত চৌম্বক ট্রান্সফরমার
  3. আধুনিক ট্রান্সফরমার
  4. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ পরিবহন সাধারণত উচ্চ ভোল্টেজে করা হয় যাতে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় শক্তির ক্ষতি কমানো যায়। এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে লোড সেন্টারের দিকে বিদ্যুৎ পাঠানোর আগে ভোল্টেজকে বৃদ্ধি করতে হয়। এই ক্ষেত্রে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ইনপুট ভোল্টেজকে আউটপুটে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে, যার ফলে লম্বা দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় লাইন রোধজনিত শক্তি ক্ষতি অনেক কম হয়। এরপর গন্তব্যে পৌঁছালে ভোল্টেজকে ব্যবহার উপযোগী মাত্রায় নামানোর জন্য স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। সুতরাং কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য প্রধানত স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহৃত হয়।
 
ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।

ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারনে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই।

৬,১৫০.
সারিন কী?
  1. ক) এক ধরনের ফ্লু ভাইরাস
  2. খ) সিরিয় বিদ্রোহী গ্রুপ
  3. গ) এক প্রকার রাসায়নিক অস্ত্র
  4. ঘ) এক ধরনের ভাইরাস
ব্যাখ্যা
সারিন অত্যন্ত বিষাক্ত এক ধরনের বর্ণ ও গন্ধহীন তরল গ্যাসীয় পদার্থ যা রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এটি স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে অকার্যকর করে দেয়।
৬,১৫১.
লেন্সের ক্ষমতা -2D বলতে কোনটি নির্দেশ করে?
  1. ক) লেন্সটি অবতল
  2. খ) এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলােকরশ্নিকে অপসারিত করে
  3. গ) আলোকরশ্মি লেন্স থেকে ৫০ সেমি দূরের কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলােকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলাে কোনাে লেন্স থেকে ৫০ সেমি দূরের কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়।
উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান

৬,১৫২.
একটি ঘড়ির কাঁটা নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে। এ ধরনের গতি কোন শ্রেণিভুক্ত?
  1. সরল রৈখিক গতি
  2. বক্র রৈখিক গতি
  3. ঘূর্ণন গতি
  4. পর্যায় গতি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় গতি — নির্দিষ্ট সময় পরপর কোনো গতি যদি একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে, তাকে পর্যায় গতি বলা হয়।

• স্থিতি ও গতি:
- সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তন হলে গতি।
- অবস্থানের পরিবর্তন না হলে স্থিতি।
- সকল গতি ও স্থিতি আপেক্ষিক।

• গতির প্রকারভেদ:
- সরল রৈখিক গতি → বস্তু সরলরেখা বরাবর চললে।
- বক্র রৈখিক গতি → বস্তু বক্রপথে চললে।
- ঘূর্ণন গতি → নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণন।
- পর্যায় গতি → নির্দিষ্ট সময় পরপর একই অবস্থান ও দিক পুনরাবৃত্তি।
- দোলন গতি → পর্যায় গতির বিশেষ রূপ, যেখানে বস্তু সামনে–পিছনে গমন করে।
- যৌগিক গতি → একই সাথে একাধিক প্রকার গতি উপস্থিত থাকলে।

• অন্যান্য অপশন:
- সরল রৈখিক গতি → সোজা পথে চলাচল।
- বক্র রৈখিক গতি → বাঁকা পথে চলাচল।
- ঘূর্ণন গতি → অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘোরা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৬,১৫৩.
একমুখী প্রবাহের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?
  1. A.C
  2. D.C
  3. V.C
  4. R.C
ব্যাখ্যা
দিক পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ ও তড়িচ্চালক শক্তি:  
- তড়িৎ কোষ থেকে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ প্রেরণ করলে তড়িৎ প্রবাহ বর্তনীর মধ্য দিয়ে সমমাত্রায় একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ (direct current) বলা হয়। 
- একমুখী প্রবাহকে সংক্ষেপে ডি.সি (D.C) বলা হয়। 
- ডি.সি ভোল্টেজের তরঙ্গরূপ সরলরেখা হয়। 

দিক পরিবর্তী প্রবাহ: 
- কোনো বর্তনীতে প্রবাহমাত্রা যদি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার বিপরীত মুখী হয় এবং প্রবাহমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ (alternating current) বলা হয়। 
- একে সংক্ষেপে এ.সি. (A.C) বলা হয়। 

দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি: 
- যে তড়িচ্চালক শক্তির ক্রিয়ায় কোন বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, সেই তড়িচ্চালক শক্তিকে দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৫৪.
কোন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?
  1. তামা 
  2. রূপা 
  3. সিলিকন
  4. কাচ
ব্যাখ্যা

- সিলিকন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলত সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে (যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি) যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৫৫.
কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ নয়?
  1. Fe
  2. Cu
  3. Au
  4. Quartz
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
লোহা (Fe)
তামা  (Cu)
সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬,১৫৬.
সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ কোনটি? 
  1. ইনফ্রারেড রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা, অন্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। 
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। 
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে, যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
৬,১৫৭.
The average salinity of sea water is ______. 
  1. 1%
  2. 2.5%
  3. 3.5%
  4. 5%
  5. None
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানি:
- সমুদ্রের পানিতে প্রায় ৩.৫% দ্রবীভূত লবণ থাকে, যা লবণাক্ততা হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
- সমুদ্রের পানি মূলত সোডিয়াম ও ক্লোরিন লবণাক্ত।
- ফলে এই দুটো মৌল একত্রিত হয়ে তৈরি করে সোডিয়াম ক্লোরাইড, যাকে আমরা বলি লবণ।
- আর সমুদ্রের পানিতে সোডিয়াম ও ক্লোরিন আয়ন মিলে তৈরি হয় লবণ।
- এই দুটোর পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতেও লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
- লবণের উপস্থিতির জন্যে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব অনেক বেশি।

তথ্যসূত্র -
১. নাসা। [লিঙ্ক]
২. National Oceanic and Atmospheric Administration. [Link]
৩. ব্রিটানিকা। [Link]
৬,১৫৮.
মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় -
  1. ক) শব্দশক্তি
  2. খ) তড়িৎশক্তি
  3. গ) আলোকশক্তি
  4. ঘ) চৌম্বকশক্তি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎশক্তি (বা বিদ্যুৎ শক্তি) মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- মোবাইল টেলিফোন সিস্টেমে, আমাদের কথাবার্তা (শব্দ সিগন্যাল) প্রথমে বিদ্যুৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত হয় এবং তারপর এই বিদ্যুৎ সিগন্যাল ওয়্যারলেস মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
- টেলিফোনের লাইনের মধ্যে (যেমন ল্যান্ডলাইন) সরাসরি বিদ্যুৎ সিগন্যাল প্রবাহিত হয়।

মোবাইল টেলিফোনের সিস্টেমে যে তড়িৎশক্তি প্রবাহিত হয়, তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

১. ভয়েস টু ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল রূপান্তর:
- যখন আপনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন, তখন আপনার কণ্ঠস্বর (শব্দ তরঙ্গ) মোবাইলের মাইক্রোফোনে পড়ে। মাইক্রোফোন এই শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।

২. অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর:
- এই তড়িৎ সিগন্যাল প্রথমে অ্যানালগ ফরম্যাটে থাকে। ফোনের ভেতরে ADC (Analog-to-Digital Converter) এই অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে (বাইনারি কোড - 0 এবং 1 এর সিরিজ) রূপান্তরিত করে।

৩. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং:
- এই ডিজিটাল সিগন্যাল এরপর প্রসেস হয় - এর মধ্যে কম্প্রেশন (ডাটা সাইজ কমানো), এনক্রিপশন (সুরক্ষার জন্য), এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট (শব্দের মান উন্নত করা) অন্তর্ভুক্ত।

৪. রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর:
- এই প্রক্রিয়াকৃত ডিজিটাল সিগন্যাল পরে মোবাইলের ট্রান্সমিটার দ্বারা রেডিও তরঙ্গে (বিদ্যুতচুম্বকীয় তরঙ্গ) রূপান্তরিত হয়, যা মোবাইল টাওয়ারে প্রেরিত হয়।

৫. সিগন্যাল ট্রান্সমিশন:
- মোবাইল টাওয়ার এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং তারপর তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- এই তড়িৎ সিগন্যাল টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় - যা ফাইবার অপটিক কেবল, কপার কেবল বা মাইক্রোওয়েভ লিংকের মাধ্যমে হতে পারে।
- নেটওয়ার্কের মধ্যে, সিগন্যাল মোবাইল স্যুইচিং সেন্টার (MSC) দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত হয়, যেখানে সিগন্যাল রাউটিং ও প্রসেসিং হয়।

৬. প্রাপকের দিকে:
- প্রাপকের নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ার থেকে আবার রেডিও তরঙ্গ হিসেবে সিগন্যাল প্রেরিত হয়।
- প্রাপকের মোবাইল ফোন এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং আবার তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- ডিজিটাল থেকে অ্যানালগ রূপান্তরের পর, স্পিকারের মাধ্যমে এই তড়িৎ সিগন্যাল আবার শব্দে পরিণত হয়।
- তাই, সমগ্র প্রক্রিয়াটিতে শব্দ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→শব্দ এই রূপান্তর চক্র চলে।
- যদিও রেডিও তরঙ্গ ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তবুও নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে সিগন্যাল তড়িৎশক্তি হিসেবেই প্রবাহিত হয়।
৬,১৫৯.
Which has a higher diffusion rate?
  1. ক) CO2
  2. খ) H2
  3. গ) N2
  4. ঘ) O2
ব্যাখ্যা
ব্যাপন:

- হাইড্রোজেনের (H2) ব্যাপন হার বেশি।
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম ।
- H2, He, N2, O2 এবং CO2 গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H2 এর আণবিক ভর কম। তাই H2 এর ব্যাপন হার বেশি হবে এবং CO2 এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার কম হবে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৬০.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে কী ঘটে? 
  1. কোষের পানি কমে না 
  2. দ্রাবক স্থির থাকে 
  3. দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
  4.  দ্রাবকের ঘনত্ব বাড়ে না 
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৬১.
প্রাকৃতিক গ্যাসের কত শতাংশ ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১৮.৭৫%
  2. খ) ২১.৭৫%
  3. গ) ২৫.৫০%
  4. ঘ) ৩৩.২৫%
ব্যাখ্যা
-ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ২১.৭৫% ব্যবহৃত হয়।  
প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত কম সংখ্যক কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ।  এর মূল উপাদান হচ্ছে মিথেন (৯০%)।
- প্রাকৃতিক  গ্যাস ব্যবহারের দুটি ক্ষেত্র হল :- (ক) জ্বালানি ও (খ) শিল্পের কাঁচামাল। 
- ক্ষেত্রভেদে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নিন্মরুপ- 
ক) বিদ্যুৎ উৎপাদন =৪৬.৫১%
খ) ইউরিয়া সার উৎপাদন = ২১.৭৫%
গ) অন্যান্য শিল্প কারখানা = ১৮.৯৪%
ঘ) গৃহস্থলী কাজে = ১১.৬৫%
ঙ) পরিবহন খাতে = ১.১৫% 

উৎস- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম- বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি
৬,১৬২.
মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ সবচেয়ে বেশি কোথায়?
  1. ক) ভূ - পৃষ্ঠে
  2. খ) ভূ - কেন্দ্রে
  3. গ) ভূ - পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার উপরে
  4. ঘ) ভূ - পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার নিচে
ব্যাখ্যা
• কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg এখানে, g = অভিকর্ষজ ত্বরণ। যার মান 9.8.
- এই g এর মান ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় g এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম। মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৬,১৬৩.
মানব চোখের লেন্স কোন ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. উত্তল
  2. সমতল
  3. অবতল
  4. দ্বি-উত্তল
ব্যাখ্যা
- মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যাবলী অনেকটা ক্যামেরার মতো।
- মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল
- চোখের আলোকসংবেদী অংশের নাম রেটিনা।
- কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিম্ব গঠন করে।
- রেটিনায় গঠিত বিম্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত।
- রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে।
- মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,১৬৪.
নিচের কোনটি লব্ধ রাশির উদাহরণ?
  1. দৈর্ঘ্য 
  2. ভর 
  3. তাপমাত্রা
  4. বল 
ব্যাখ্যা

রাশি এবং তাদের পরিমাপ: 
- প্রকৃত বিজ্ঞানে সবকিছুরই পরিমাপ করতে হয়; বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিমাপ করে সব কিছুকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা। 
- এই জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে, এই ভৌতজগতে অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা পরিমাপ করা সম্ভব। 
যেমন- কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়তন, ওজন, তাপমাত্রা, রং, কাঠিন্য, তার অবস্থান, বেগ, তার ভেতরকার উপাদান, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, ঘনত্ব, আপেক্ষিক তাপ, চাপ গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ভৌতজগতে রাশিমালার কোনো শেষ নেই। 
- এই অসংখ্য রাশিমালা পরিমাপ করার জন্য অসংখ্য রাশির সংজ্ঞা আর অসংখ্য একক তৈরি করে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়; শুধুমাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায়। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায় সে সব রাশিকে বলে মৌলিক রাশি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা। 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এই সাতটি একককে বলে এস.আই (S.I) একক। 

লব্ধ রাশি: 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যখন অন্য কোনো রাশি প্রকাশ করা হয়, তখন তালে বলে লব্ধ রাশি। 
যেমন- কাজ, ক্ষমতা, বল, বেগ, ত্বরণ, ঘনত্ব ইত্যাদি হচ্ছে লব্ধ রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৬৫.
ধাতুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. ধাতু তাপ সুপরিবাহী কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. ধাতুর গলনাঙ্ক কম ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  3. ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
  4. ধাতু আঘাতে টুন টুন শব্দ তৈরি করে না
ব্যাখ্যা
ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৬৬.
কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল সমান?
  1. -32°
  2. -40°
  3. 273°
  4. 373°
ব্যাখ্যা

• - 40° তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়। 

• তাপমাত্রা পরিমাপের স্কেলের মধ্যে অন্যতম হলো সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল।

আমরা জানি, সেলসিয়াস (C) ও ফারেনহাইট (F) এর মধ্যে সম্পর্ক:
C/5 = (F - 32)/9

ধরি,
সেলসিয়াস স্কেলের পাঠ C = ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ F

এখন,
C/5 = (C - 32)/9
⇒ 5(C - 32) = 9C
⇒ 5C - 160 = 9C
⇒ 9C - 5C = - 160
⇒ 4C = - 160
⇒ C = - 160/4 = - 40 

∴ C = F = - 40°

অর্থাৎ - 40° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান সমান হবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৬৭.
আলোর মরীচিকা মূলত কোন কারণে ঘটে?
  1. বাতাসের ঘনত্বের পরিবর্তন
  2. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  3. ধূলিকণা দ্বারা আলো ছড়ানো
  4. আলো বাতাসে প্রতিফলিত হওয়া
ব্যাখ্যা

• মরীচিকা: 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা অতি পরিচিত উদাহরণ।
- উত্তপ্ত মরুভূমিতে মরুচারী পথিক প্রায়শ মরীচিকা দেখতে পান এবং বিভ্রান্ত হন। মরীচিকা হল এক ধরণের দৃষ্টি ভ্রম।
- প্রচন্ড সূর্য তাপে মরুভূমির বালু খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়। ফলে বালু সংলগ্ন বাতাসও খুব গরম হয়। এতে বালু সংলগ্ন স্তরের বায়ু খুব হালকা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ু স্তরের তাপমাত্রা তত কম হয়। তাই ভূ সংলগ্ন বায়ু স্তর থেকে যতই ওপরে ওঠা যায় বায়ু স্তর তত ঘন হয়।
- এ অবস্থায় মরুভূমিতে দূরে কোন খেজুর গাছ থেকে পথিকের চোখে আসা আলোক রশ্মি ধাপে ধাপে ঘনতর মাধ্যম থেকে লঘুতর মাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে, ফলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে।
- এভাবে বাঁকতে বাঁকতে এমন কোন স্তরে পৌঁছায় যেখানে আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হয়।
- ফলে আপতিত আলোক রশ্মির প্রতিসরণ না হয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়।

» পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সংঘটিত হতে প্রধানত দুটি শর্ত রয়েছে।
(১) আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও তুলনামূলক হালকা মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।
(২) আপতন কোণ ক্রান্তি বা সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।

তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৬৮.
প্রতিধ্বনি তৈরি হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন দূরত্ব কত হওয়া উচিত?
  1. 3.32 মি.
  2. 1.165 মি.
  3. 1.68 মি.
  4. 16.5 মি.
ব্যাখ্যা

• প্রতিধ্বনি বা ইকো শুনতে হলে শব্দকে উৎস থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভিন্নতার প্রয়োজন। সাধারণত মানুষের কানে দুটি আলাদা শব্দ আলাদা হিসেবে চিনতে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ডের সময়ের পার্থক্য থাকা উচিত। 
- সঠিক উত্তর হলো ঘ) 16.5 মি.

• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।

- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
-  সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
-  তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৬,১৬৯.
কোন যন্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যারােমিটার
  2. ম্যানােমিটার
  3. পাইরোমিটার 
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

- ব্যারোমিটার হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬,১৭০.
ডুবোজাহাজ কোন যন্ত্রের সাহায্যে পানির নিচ থেকে ওপরের দৃশ্য দেখে?
  1. পেরিস্কোপ
  2. টেলিস্কোপ
  3. মাইক্রোস্কোপ
  4. স্টেথোস্কোপ
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণকে কাজে লাগানো হয় সরল পেরিস্কোপে।
- প্রিজম ও আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে অনেক বেশি কার্যকর পেরিস্কোপ তৈরি করা যায়।
- কোনো দূরের জিনিস সোজাসুজি দেখতে বাধা থাকলে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
- ডুবোজাহাজ (Submrine) এর নাবিকেরা পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির নিচ থেকে উপরের দৃশ্য দেখেন
- ভীড় এড়িয়ে খেলা দেখা, শত্রু সৈন্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬,১৭১.
নিচের কোনটি লুইস এসিড নয়? 
  1. H2O
  2. BF3
  3. SO2
  4. CO2
ব্যাখ্যা
এসিড-ক্ষারকের লুইস তত্ত্ব: 
- 1923 খ্রিস্টাব্দে ব্রনস্টেড-লাউরি প্রোটন দান- গ্রহণভিত্তিক এসিড ও ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- একই বছর আমেরিকান রসায়নবিদ জি. এন. লুইস ইলেকট্রন জোড় দান- গ্রহণভিত্তিক সর্বশেষ এসিড-ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- লুইস এসিড হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় গ্রহণ করে। 
- ক্ষারক হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় দান করে। 
- লুইসের ক্ষারকের সংজ্ঞা ও ব্রনস্টেড-লাউরির ক্ষারকের সংজ্ঞা একই; প্রতিক্ষেত্রে ক্ষারকের একটি ইলেকট্রন- জোড় থাকে, যা বন্ধন গঠনে দান করে। 
- তাই লুইসের সংজ্ঞায় ক্ষারকের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেনি; কিন্তু এসিডের সংখ্যার অনেক বৃদ্ধি ঘটেছে। 
যেমন- CO2, SO2, SO3, BF3, AICI3, Cu2+ আয়ন ইত্যাদিতে H-পরমাণু না থাকা সত্ত্বেও এরা লুইস এসিড; কারণ বিক্রিয়ায় এরা ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে। 
- সব ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড হলো লুইস এসিড; কিন্তু সব লুইস এসিড ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড নয়। 
- H+ আয়নসহ সব ক্যাটায়ন ও প্রশম অণু যাদের খালি যোজ্যতা স্তরে ক্ষারক প্রদত্ত ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে বন্ধন গঠনে সক্ষম, তাদের সবই লুইস এসিড।  সুতরাং লুইস তত্ত্বে এসিডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
- লুইস ক্ষারক হলো NH3, H2O, OH-, CN-, CI- ইত্যাদি, এরা বিক্রিয়াকালে ইলেকট্রন যুগল যোগান দেয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারো ও নাগ)।
৬,১৭২.
অপটিক্যাল ফাইবারের অভ্যন্তরীণ অংশকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ল্যাড
  2. শেল
  3. কোর
  4. রিফ্লেক্টর
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। 

- অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৭৩.
নিচের কোনটি আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য?
  1. ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়
  2. ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
  3. শুধুই ধাতু দ্বারা গঠিত যৌগ হয়
  4. বন্ধন গঠন ব্যবহৃত হয় শুধু শক্তিশালী ধাতুতে
ব্যাখ্যা

- আয়নিক বন্ধন হলো ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তৈরি একটি রাসায়নিক বন্ধন।
- এই ধরনের রাসায়নিক বন্ধনে একটি ধাতু ইলেকট্রন হারায় এবং একটি অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এর ফলে ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই বিপরীত আয়নের মধ্যে ইলেকট্রস্ট্যাটিক আকর্ষণ দ্বারা যৌগ স্থিতিশীল হয়।
 
এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক বন্ধন ও তাদের বৈশিষ্ট:
- সমযোজী: ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়।
- ধাতব: ধাতুগুলোর মধ্যে তৈরি হয়।
- হাইড্রোজেন: হাইড্রোজেন পরমাণুর বন্ধন। 
 
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica 

৬,১৭৪.
জারণ-বিজারণ একটি -
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. যুগপৎ বিক্রিয়া
  3. নিরপেক্ষকরণ বিক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

এভাবে মনে রাখতে হবে,
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস- নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই

৬,১৭৫.
আলোর ক্ষুদ্র অংশ কী নামে পরিচিত?
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. বোসন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
ফোটন কণা:

- আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
- পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
- ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
- ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৭৬.
যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুর দিকে নেওয়া হয়, তখন তার ওজনের কী হয়? 
  1. শূন্য হয়
  2. কমে 
  3. বাড়ে 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৭৭.
কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
  2. খ) ইথিলিন
  3. গ) ফরমালিন
  4. ঘ) কালটার
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম কার্বাইট  কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বাইট : ফল বিশেষত কলা পাকানোর জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি একটি যৌগ যা জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাস উৎপন্ন হয়- যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 

ফরমালিন : ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়। ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ। দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন। এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের গর্ভপাত এমনকি সন্তান বিকলাঙ্গ পর্যন্তহতে পারে । যার পরিণতিতে যন্ত্রণাদায়ক অকাল মৃত্যু হতে পারে। ফরমালিন ব্যবহার খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অসততা ও অসচেতনতার কারণে ফরমালিনের ব্যবহার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইথিলিন (Ethylene) : ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে। ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়। কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়। আমাদের দেশে অপরিপক্ক ফল পাকাতে ইথিলিন গ্যাস তৈরি করে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে। তাতে ফল সুমিষ্ট হয়। অতি অপরিপক্ক ফলে ইথিলিন ব্যবহার করা উচিত নয়। আম, কলা, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি পাকানোর জন্য ব্যবহার করলে অন্তত ৭-৮ দিন পর তা বাজারজাত করা উচিত। 

কালটার (Culter) : এটি একটি হরমোন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। গাছে থাকা অবস্থায় এটি আমে প্রয়োগ করা হয়। এতে ফল দ্রুত পরিপক্ক হয় অথচ না পেকেই দীর্ঘদিন গাছে থাকে। ফলে, ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে বিক্রি করার সুযোগ পায়। কালটার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

সূত্র: ২৭ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৭৮.
অটোমোবাইল ব্যাটারিতে যে এসিড ব্যবহার করা হয়, তা হলো -
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. নাইট্রিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৬,১৭৯.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্রেসকোগ্রাফ
  2. ক্রোনোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ওডোমিটার
ব্যাখ্যা

• উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে গ) ট্যাকোমিটার সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর। ট্যাকোমিটার মূলত কোনো যন্ত্র বা ইঞ্জিনের ঘূর্ণনগতির হার (RPM) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন কত দ্রুত ঘুরছে, তা জানার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উড়োজাহাজের গতি ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপতে, ক্রোনোমিটার সময় নির্ণয়ে এবং ওডোমিটার দূরত্ব পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। তাই উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে ট্যাকোমিটারই প্রাসঙ্গিক যন্ত্র।
 
• বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অলটিমিটার।
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র - অডিওমিটার।
মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার।
দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র - ল্যাকটোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৬,১৮০.
পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) নিউটন
  3. গ) আইন্সটাইন
  4. ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা
এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ যা দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন দ্বারা কোনো ধাতব পাতকে আঘাত করে উৎপন্ন করা যায়।
এক্স-রে আবিষ্কার করেন উইলিয়াম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এবং এক্স-রে আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৬,১৮১.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি কোন বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়? 
  1. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  2. তাপ এবং চাপ
  3. বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। (যদিও প্রোটন সংখ্যা 43-Technetium এবং 61-Promethium মৌলের কোনো স্থায়ীরূপ পাওয়া যায় না)। 
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। কাজেই কোনো একটি মৌলের পরমাণুতে তার ইলেকট্রন এবং প্রোটনের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট হলেও নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত একই প্রোটন সংখা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসের পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ। কাজেই কোনো একটি মৌলের একটি আইসোটোপ স্থিতিশীল হতে পারে আবার সেই মৌলের অন্য একটি আইসোটোপ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
উদাহরণ- কার্বন মৌলটির নিউক্লিয়াসে ছয়টি প্রোটন এবং এর প্রধাণত তিনটি আইসোটোপ: 
• C12: 6টি প্রোটন এবং এটি নিউট্রন, 
• C13: 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন, 
• C14: 6টি প্রোটন এবং ৪টি নিউট্রন । 
- কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 আইসোটোপটি অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford), পিয়ারে কুরি (Pierre Curie), মেরি কুরি (Marie Curie) এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৮২.
আনারসের সুগন্ধি তৈরিতে কোন এস্টার ব্যবহৃত হয়? 
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  3. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  4. মিথাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R. 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি।
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- কৃত্রিম মনোরম স্বাদ ও সুগন্ধি তৈরিতে।
যেমন:
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট এবং 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৮৩.
নিচের কোনটি ভরের মাত্রা?
  1. ক) L
  2. খ) M
  3. গ) T
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মাত্রা (Dimension):

- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৮৪.
যে কোনো ভরযুক্ত বস্তু অন্য বস্তুকে কোন বল দ্বারা আকর্ষণ করে? 
  1. মহাকর্ষ বল 
  2. বৈদ্যুতিক বল 
  3. ঘর্ষণ বল 
  4. চুম্বকীয় বল 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৮৫.
গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর কত? 
  1. 0.0005–0.15 nm
  2. 0.01-10 nm
  3. 10–400 nm
  4. 10–400 m
ব্যাখ্যা

◉ গামা রশ্মি হলো Electromagnetic Spectrum-এর সবচেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005–0.15 nm, যা এক্স-রে থেকেও ছোট।

তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। যথা- 

১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৮৬.
গাছের একটি আপেল পৃথিবীকে f বলে আকর্ষণ করছে। পৃথিবী আপেলকে F বলে আকর্ষণ করছে। সুতরাং-
  1. ক) F >> f
  2. খ) f >> F
  3. গ) F < f
  4. ঘ) F = f
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
’মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজ দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু কণাদ্বয়ের ভরের গুনফলের সমানুপাতিক এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তু কণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

আপেলের আকর্ষণ বল f, পৃথিবীর আকর্ষণ বল F হলে,
F = f = GMm/R2
এখানে,
M = পৃথিবীর ভর,
m = আপেলের ভর,
R = মধ্যবর্তী দূরত্ব

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।
৬,১৮৭.
কোনটি তরল-গ্যাস দ্রবণ?
  1. ক) কোমল পানীয়
  2. খ) খাবার স্যালাইন
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) লেবুর শরবত
ব্যাখ্যা

তরল-গ্যাস দ্রবণ:
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে। 
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)। 
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল। 
- অর্থাৎ কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না।
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ।

অপরদিকে,
- লেবুর শরবত ও ভিনেগার হলো তরল-তরল দ্রবণ।
- খাবার স্যালাইন হলো - তরল-কঠিন দ্রবণ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬,১৮৮.
হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেনে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
  1. শতকরা ৯৫ ভাগ
  2. শতকরা ৯৩ ভাগ
  3. শতকরা ৮৮ ভাগ
  4. শতকরা ৯০ ভাগ
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে, হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেনে অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা ৯৩% বিশুদ্ধ। 
- এটি যে কোনও দূষণ থেকে মুক্ত এবং তেল-মুক্ত কম্প্রেসার দ্বারা উৎপন্ন হওয়া উচিত। 
- অক্সিজেন একটি ড্রাগ এবং একটি লক্ষ্য স্যাচুরেশন পরিসীমার সঙ্গে এটি নির্ধারিত করা উচিত।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।
৬,১৮৯.
কোন বিজ্ঞানী 'মহাকর্ষ বলের সূত্র' আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. নিকোলাস কপারনিকাস
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ:
- ১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল।
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। অর্থাৎ যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন। এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত।
সূত্রটি হলো:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৯০.
'গ্রাভিটন' কোন বলের বাহক কণা?
  1. ক) দুর্বল নিউক্লিয় বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) মহাকর্ষ বল 
  4. ঘ) সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল:
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
৬,১৯১.
নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে উৎপন্ন করা যায় -
  1. বিদ্যুৎ
  2. পারমাণবিক বোমা
  3. হাইড্রোজেন বোমা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক শক্তি
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস। 
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়, যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে  E=উৎপন্ন শক্তি, m=শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c=আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)। 
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া। 
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
- এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
৬,১৯২.
ভোল্টেজ ও কারেন্ট-এর মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে-
  1. আইনস্টাইনের সূত্র
  2. নিউটনের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. ফ্যারাডের সূত্র
ব্যাখ্যা
• ভোল্টেজ (V) ও কারেন্ট (I) এর মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে ওহমের সূত্র।

• ওহমের সূত্র:
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
- বিভব পার্থক্য v এবং প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান I হলে V ∝ I 

• ফ্যারাডের সূত্র:
- প্রথম সূত্র: তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় যেকোন তড়িৎদ্বারে সংঘটিত রাসায়নিক পরিবর্তনের পরিমাণর অথবা কোন তড়িৎদ্বারে উৎপন্ন পদার্থের পরিমাণ তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত মোট তড়িতের সমানুপাতিক।
-দ্বিতীয় সূত্র:
গলিত বা দ্রবীভূত বিভিন্ন তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে একই পরিমান তড়িৎ প্রবাহ বা একই পরিমান বিদ্যুৎ আধান সমান সময়ের জন্যে প্রবাহিত করলে তবে তড়িৎ দ্বারে জমাকৃত বা দ্রবীভূত পদার্থের ভর ওই পদার্থ সমূহের তড়িৎ রাসায়নিক তুল্যাংকের সমানুপাতিক হবে।

• নিউটনের সূত্র:
- প্রথম সূত্র: বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।
- দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।
- তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

• আইনস্টাইনের সূত্র:
- পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র E = mc2 যেখানে আইনস্টাইন ভর ও শক্তিকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন।
- E = mc2 হলো থিউরি অফ রিলেটিভিটি থেকে আগত একটি সূত্র।

উৎস:
১. রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. হাজারী ও নাগ।
৬,১৯৩.
তেজস্ক্রিয়তার এস.আই লব্ধ একক কোনটি?
  1. রন্টজেন 
  2. ওহম 
  3. বেকেরেল 
  4. কুরী 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার এস.আই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৯৪.
কোন অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি? 
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. প্লাজমা
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা (States of Matter): 
- যার ভর আছে, স্থান দখল করে, স্থিতিশীল ও গতিশীল অবস্থার পরিবর্তনে বাঁধা সৃষ্টি করে, তাকে পদার্থ বলা হয়।
- সাধারণভাবে ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। কঠিন অবস্থা (Solid state): 
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য। গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে। 

২। তরল অবস্থা (Liquid state): 
- এ অবস্থায় পদার্থের ভর ও আয়তন নির্দিষ্ট থাকে কিন্তু আকার নির্দিষ্ট থাকে না। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় ভর ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে সে পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- এ অবস্থায় অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন অবস্থার তুলনায় কম বলে অণুগুলো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে না। অণুগুলোর গতিশক্তি কঠিন অবস্থার তুলনায় যথেষ্ট বেশি বলে অতি সহজে চলাচল করতে পারে। এ কারণে তরল অবস্থায় পদার্থের প্রবাহ গুণ থাকে এবং আকৃতি সহজে পরিবর্তনশীল হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতিশক্তি প্রায় সমান হয়। 

৩। গ্যাসীয় অবস্থা (Gasious state): 
- এ অবস্থায় পদার্থ ওর ভর নির্দিষ্ট রাখে কিন্তু কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি বজায় রাখতে পারে না। এ অবস্থায় যতো কম পরিমাণের পদার্থ হোক না কেন তা পাত্রকে পূর্ণ করে অবস্থান করবে। এর মূল কারণ এ অবস্থায় উপাদান অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কার্যকর হয় না বললেই চলে। 
- অণুগুলোর গতিশক্তিও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বিক্ষিপ্তভাবে স্বাধীন স্বত্ত্বায় এদিক ওদিক চলাচল করতে থাকে। 
- গ্যাসীয় অবস্থায় একদিকে ঘনত্ব যেমন মারাত্মকভাবে কমে যায় অন্যদিকে সংকোচনশীলতা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। এজন্য আকার ও আয়তন স্থির থাকে না। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর গতিশক্তি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের তুলনায় অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৯৫.
প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে কোন পদার্থ উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও অক্সিজেন
  3. গ্যাস ও লবণ
  4. পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া (Nutralisation Reaction): 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। 
- এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
• H+(aq) + OH-(aq) → H2O (l) 
- এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) ও ক্ষার, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) কে কোনো কাঁচের জারের মধ্যে এক সাথে মিশালে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ ও পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। 
• HCl (aq) + NaOH (aq)→ H+(aq) + Cl- (aq) + Na+ (aq) + OH- (aq)→ NaCl(aq) + H2O (l) 
- এক্ষেত্রে, হাইড্রোক্লোরিক এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি (H2O) উৎপন্ন করে। এটিই মূলত প্রশমন বিক্রিয়া। 

- এসিড মাত্রই জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তথা হাইড্রোনিয়াম আয়ন (H3O+) দান করবে, এটি এসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করবে। 
- এসিড দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হয় এবং ক্ষার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয়। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, এসিড তত তীব্র হয় এবং দ্রবনের pH মান তত কম হয়। 
- ক্ষার দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, ক্ষার তত তীব্র হয় এবং দ্রবণের pH মান তত বেশি হয়। 
- জলীয় দ্রবণে এসিড-ক্ষার প্রশমন বিক্রিয়ার সময় যখন দ্রবণ পূর্ণ প্রশমিত হয় তখন দ্রবণের pH মান 7 এর কাছাকাছি হয়। 
- পূর্ণ প্রশমনের ক্ষেত্রে দ্রবণে কোনো অতিরিক্ত এসিড অথবা অতিরিক্ত ক্ষার এর কোনটিই থাকে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৯৬.
প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কণাগুলি আয়নিত হয়
  2. কণাগুলি নির্জীব থাকে
  3. কণাগুলি গতি হারায়
  4. কণাগুলি কঠিন হয়
ব্যাখ্যা
• প্লাজমা হল একটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী মাধ্যম যেখানে প্রায় সমান সংখ্যক ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা থাকে , যা গ্যাসের পরমাণুগুলি আয়নিত হয়ে গেলে উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ এটি একটি আয়নিত অবস্থা। 
- এটিকে কখনও কখনও পদার্থের চতুর্থ অবস্থা হিসাবে উল্লেখ করা হয়, যা কঠিন , তরল এবং বায়বীয় অবস্থা থেকে পৃথক ।
- এটি এমন একটি বিশেষ অবস্থা, যা খুব উচ্চ তাপমাত্রায় বা উচ্চ  শক্তির সাহায্যে  উৎপন্ন হয়। এই আয়নিত গ্যাসীয় অবস্থার  কারনে এরা  বিশেষ অবস্থায়  বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

⇒ প্লাজমার কণাগুলি পদার্থের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিশক্তি প্রাপ্ত হয়  এবং তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করতে থাকে, ফলে এটি একটি বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এটি সূর্যের কেন্দ্র এবং আয়নোস্ফিয়ারে পাওয়া যায়, এবং এটি প্লাজমা টিভি, প্লাজমা কাটিং, এবং আণবিক গবেষণার মতো প্রযুক্তিতে ব্যবহার হয়।

অন্যদিকে,
কণাগুলি নির্জীব:  প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির গতি থাকে, সুতরাং এটি  সঠিক নয়। এটি গতিশীল এবং শক্তিসম্পন্ন। 

কণাগুলি গতি হারায়:  প্লাজমা কণাগুলি সবসময় গতিশীল থাকে, তাই তারা গতি হারায় না। বরং উচ্চ গতিতে চলে। 

কণাগুলি কঠিন হয়:   প্লাজমা গ্যাসের একটি অবস্থা, এবং এটি কঠিন অবস্থায় পরিণত হয় না। এটি তরল বা কঠিন নয়, বরং একটি আয়নিত গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
- ব্রিটানিকা
৬,১৯৭.
অন্ধ ব্যক্তিগণ সাদা রঙের একটি লাঠি বা ছড়ি ব্যবহার করেন কেন?
  1. সে যে অন্ধ তা অন্যদের বোঝানোর জন্য
  2. সাদা রঙ এক ধরণের আলো প্রদান করে
  3. সাদা রঙের লাঠি শক্ত হয়
  4. সাদা রঙ পবিত্রতার প্রতীক
ব্যাখ্যা

অন্ধ ব্যক্তিরা সাদা রঙের লাঠি ব্যবহার করেন প্রধানত অন্যদের সতর্ক করার জন্য যে তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
- এটি এক ধরনের পরিচয় সংকেত (identification symbol) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অন্ধ ব্যক্তিগণ সাদা ছড়ি ব্যবহার করার প্রধান কারণ হলো এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক যা অন্যদের স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ছড়ি বহনকারী ব্যক্তিটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
- এর ফলে পথচারী এবং বিশেষত যানবাহন চালকরা সতর্ক হতে পারে এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রাস্তা পারাপার বা চলাচলের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
- সাদা রঙ সাধারণত উজ্জ্বল এবং সহজে চোখে পড়ে (Highly Visible), বিশেষ করে ট্র্যাফিকের ভিড়ে, যা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- লাঠিটি সামনের বাধা শনাক্ত করতেও সাহায্য করে।
- সাদা ছড়ির ডগায় বা মাঝে লাল রঙের একটি স্ট্রাইপও ব্যবহার করা হয়, যা এটিকে আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণকারী করে তোলে।
- এই ছড়িকে "ক্যান (Cane)" বা "লং ক্যান (Long Cane)" বলা হয় এবং এটি অন্ধ ব্যক্তিদের পথ চলাচলের জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম।
- তাই সাদা রঙের মূল উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমানতা এবং পরিচয় প্রকাশ করা, যাতে সমাজের অন্যরা সহায়তা ও সহযোগিতা করতে পারেন।

উৎস: National Federation of the Blind (link)

৬,১৯৮.
পিতলকে প্রধানত কোন ধাতুর সংকর ধাতু বলা হয়? 
  1. জিঙ্কের সংকর ধাতু 
  2. লোহার সংকর ধাতু 
  3. কপারের সংকর ধাতু 
  4. টিনের সংকর ধাতু 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু একে অপরের সঙ্গে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্বযুক্ত কঠিন ধাতব পদার্থ গঠন করে, তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
উদাহরণস্বরূপ-
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কাঁসার ক্ষেত্রে প্রধান ধাতু কপার (৯০%) এবং টিন (১০%)। 
- পিতল: পিতলের মধ্যে কপার ৬৫% এবং জিংক ৩৫% থাকায় এটি কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিল: প্রধান ধাতু লোহা (৯৯%) এবং অপ্রধান পদার্থ কার্বন (১%), তাই স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৯৯.
কোন লবণটি কাপড় কাচার সোডা নামে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম কার্বোনেট 
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  3. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা
লবণের ব্যবহার: 
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), এই লবণ সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। 
- তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে এই খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য আরেকটি লবণ সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে যে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় তাও একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে যে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় সেগুলোও লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর নামক একটি লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করে থাকি, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4, পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২০০.
কোনো পরিবাহকের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ করলে এর রোধ R কী হবে?
  1. 2R
  2. R/2
  3. R/4
  4. 4R
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
সুতরাং তাপমাত্রা ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর রোধের দুটি সূত্র প্রযোজ্য। 
যথা- 

১) দৈর্ঘ্যের সূত্র: 
- তাপমাত্রা এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং দৈর্ঘ্য। হলে সূত্রানুসারে R ∝ I, যখন এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর দৈর্ঘ্য যত বড় হবে রোধ তত বৃদ্ধি পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের 1m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 10 m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 100 Ω হবে। 

২) প্রস্থচ্ছেদের সূত্র: 
- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A হলে সূত্রানুসারে R ∝ 1/A, যখন এর দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল যত বড় হবে রোধ তত হ্রাস পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 2m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 5 Ω হবে।

অনুরূপভাবে, 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R Ω হয় তবে 2m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R/2 Ω হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।