বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৬০ / ৬৪ · ৫,৯০১৬,০০০ / ৬,৪০৯

৫,৯০১.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. মাইক্রোফোন 
  2. বৈদ্যুতিক মোটর 
  3.  জেনারেটর 
  4. লাউড স্পিকার 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯০২.
যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার-
  1. প্রতিসরণ তত কম
  2. বিচ্যুতি তত কম
  3. বিক্ষেপণ তত কম
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালি:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 × 10 - 7 মিটার থেকে 7 × 10- 7 মিটার।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯০৩.
মৌলিক রাশির সংখ্যা কত?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:

- মৌলিক রাশির সংখ্যা ৭টি।
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।
- যেসকল রাশি পরিমাপের জন্যে অন্য রাশির প্রয়োজন হয় না তাকে মৌলিক রাশি বলে।
- ৭টি মৌলিক রাশি হলো দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
- যেসকল রাশি পরিমাপের জন্যে অন্য রাশির প্রয়োজন হয় তাকে লব্ধ রাশি বলে।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৪.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো কোন নীতি অনুসরণ করে? 
  1. পরোক্ষ প্রতিফলন 
  2. আলো বিভাজন 
  3. আলো শোষণ 
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
ব্যাখ্যা

• অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু যা আলোর সংকেত বহন করে।
- ফাইবারের মূল ধারণা হলো লাইট সিগন্যালকে কোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, যাতে সঙ্কেত দূরত্বে কম ক্ষয় হয়।
- এটি সম্ভব হয় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের (Total Internal Reflection) মাধ্যমে।
- কোরের প্রতিসরণাঙ্ক (n₁) ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরণাঙ্ক (n₂) এর চেয়ে বেশি।
- আলো কোর-ক্ল্যাডিং সীমান্তে একটি নির্দিষ্ট কোণ (> critical angle) দিয়ে প্রতিফলিত হয় এবং ক্ল্যাডিংয়ে যায় না।

অপরদিকে, 
পরোক্ষ প্রতিফলন: সত্যি নয়, এটি আংশিক প্রতিফলনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আলো বিভাজন: ফাইবারে সিগন্যাল বিভক্ত হয় না, বরং সঙ্কুচিত হয়।
আলো শোষণ: ক্ষয় বা হ্রাসের কারণ, আলো পরিবহন নীতি নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৫,৯০৫.
প্রতি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতির কী রকম পরিবর্তন হয়?
  1. 1.0 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  2. 0.8 মিটার/ সেকেন্ড কমে
  3. 0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  4. একই থাকে
ব্যাখ্যা
শব্দ:
• শব্দ এক প্রকার শক্তি যা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গরূপে কানে পৌঁছে শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
• বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়, বস্তুর কম্পন থেমে গেলে শব্দ তরঙ্গ থেমে যায়।

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 ( মিটার/ সেকেন্ড)। 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 

যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 

- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৬.
অপরিবাহী পদার্থ কোনটি? 
  1. তামা 
  2. প্লাস্টিক 
  3. সিলিকন 
  4. জার্মেনিয়াম 
ব্যাখ্যা

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।

পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
- মূলত সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।

অর্ধ-পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯০৭.
 পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা হলে কোনটি ঘটে?
  1. রোধ বৃদ্ধি পায় 
  2. অন্তরকের ন্যায় আচরণ করে 
  3. রোধ হ্রাস পায় 
  4. রোধ একই থাকে 
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯০৮.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক-
  1. টমাস আলভা এডিসন
  2. মাইকেল ফ্যারাডে
  3. আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

• তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক 'মাইকেল ফ্যারাডে'।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- ওয়েরস্টেড 1820 সালে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথা চিন্তা আসে যদি তড়িৎ প্রবাহের ফলে চুম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হতে পারে তবে কেন চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হবে না?
- তিন দেশের তিনজন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেন্‌জ পৃথক পৃথকভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে 1831 সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুন্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুন্ডলীতে একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।
- আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন ও মাইক্রোফোন আবিষ্কার করেন।
- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯০৯.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নয় কোনটি?
  1. ক) লেকল্যান্স কোষ
  2. খ) শুষ্ক কোষ
  3. গ) ড্যানিয়েল কোষ
  4. ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

৫,৯১০.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জে.সি. বসু
  2. মার্কনী
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. হেনরিখ হার্জ
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯১১.
কাচকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কিন্তু ধাতু ফাটে না কারণ কাঁচ তাপ-
  1. ক) অন্তরক
  2. খ) সুপরিবাহী
  3. গ) কুপরিবাহী
  4. ঘ) অর্ধ-পরিবাহী
ব্যাখ্যা
কাচকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কিন্তু ধাতু ফাটে না কারণ কাঁচ তাপ কুপরিবাহী। 

- যে সব পদার্থ তাপ ভালো পরিবহন করতে পারে না তাদের কুপরিবাহী বলা হয়। 
যেমন- কাঠ, কাচ, পশম কাপড় ইত্যাদি তাপ কুপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৯১২.
কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান -
  1. ক) লিগনিন
  2. খ) সেলুলোজ
  3. গ) রেজিন
  4. ঘ) হেমি সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
সেলুলোজের ব্যবহার:
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান,
- একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়,
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়,
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ,
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে ।

উৎস : উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯১৩.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৪০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কী?
  1. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়
  2. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার উঠানামা করে
  3. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার বন্ধ হয়
  4. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
ব্যাখ্যা
• যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)। বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৪০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না।
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা- অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ, পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৯১৪.
বায়ু শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. হাইড্রো টারবাইন
  2. বায়ুকল
  3. ইলেকট্রিক মোটর
  4. সোলার সেল 
ব্যাখ্যা

- বায়ুকল (Windmill বা আধুনিক বায়ু টারবাইন) হলো এমন একটি যন্ত্র যা বায়ুর গতিশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে এবং পরবর্তীতে জেনারেটরের (বিদ্যুৎ জেনারেটর) মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটিই বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপাদান। 

বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতি শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- হাইড্রো টারবাইন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে পানির প্রবাহ বা উচ্চতা থেকে প্রাপ্ত শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- সোলার সেল সৌরশক্তি বা সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে (ফোটোভোলটাইক প্রভাব ব্যবহার করে)। 
- ইলেকট্রিক মোটর সাধারণত বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে (যেমন পাখা ঘোরানো)। বায়ু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জেনারেটর ব্যবহার করা হয়, মোটর নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯১৫.
পরিবাহিতার একক কোনটি?
  1. ওহম
  2. কুলম্ব
  3. সিমেন্স
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
- রোধের একক ওহম।
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স।
- আধানের একক কুলম্ব।
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯১৬.
সোডিয়াম ক্লোরাইড এর গলনাঙ্ক কত?
  1. ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  2. খ) 802 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  3. গ) 800 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  4. ঘ) 803 ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সেই তাপমাত্রা কে গলনাংক বলে। 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সোডিয়াম ক্লোরাইড গলতে শুরু করে।
৫,৯১৭.
ট্রান্সফর্মার কোন নীতিতে কাজ করে?
  1. তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
  2. ওহমের সূত্র
  3. জুলের তাপীয় প্রভাব
  4. ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বকীয় আবেশ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চবিভবকে নিম্নবিভবে এবং নিম্নবিভবকে উচ্চবিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলা হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বা তাড়িতচৌম্বক আবেশের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। 

• ট্রান্সফর্মার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।যথা-
- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫,৯১৮.
তড়িৎ প্রবাহ যদি এক দিকেই প্রবাহিত হয়, তবে সেটাকে কী বলা হয়? 
  1. এসি প্রবাহ
  2. ডিসি প্রবাহ
  3. পরিবর্তী প্রবাহ
  4. পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য। 
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না। 

- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা-
(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৯১৯.
কোন দ্রবণের pH মান 5 হলে তার প্রকৃতি কী হবে?
  1. দ্রবণটি নিরপেক্ষ এবং লিটমাসে কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না
  2. দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং লাল লিটমাসকে নীল করবে
  3. দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
  4. দ্রবণটি তীব্র ক্ষারীয় এবং ত্বকে ক্ষতি করবে
ব্যাখ্যা

• দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে — কারণ pH মান ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় হয় এবং অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে।

• pH ও এর ধারণা:
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল প্রবর্তন করেন।
- pH শব্দের p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে, যার অর্থ ক্ষমতা, এবং H দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝায়।
- pH = - log[H+].
- অর্থাৎ, কোনো দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমই হলো pH.

• pH স্কেল:
- pH মান ০ থেকে ১৪-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- pH < ৭ হলে দ্রবণ অম্লীয়।
- pH = ৭ হলে দ্রবণ নিরপেক্ষ।
- pH > ৭ হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।

• বিশুদ্ধ পানির pH:
- ২০°-২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH প্রায় ৭।
- বিশুদ্ধ পানিতে অম্ল যোগ করলে pH কমে যায়।
- বিশুদ্ধ পানিতে ক্ষার যোগ করলে pH বৃদ্ধি পায়।

• pH মিটার:
- দ্রবণের pH নির্ণয়ের জন্য pH মিটার ব্যবহার করা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।

• মানবদেহে pH এর গুরুত্ব:
- স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের pH প্রায় ৭.৪৫।
- রক্তের pH বেশি পরিবর্তিত হলে মারাত্মক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের উপযোগী pH প্রায় ২।
- ক্ষুদ্রান্ত্রে উপযোগী pH প্রায় ৮।
- প্রস্রাব মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।

• প্রসাধনী ও ত্বকে pH:
- ত্বকের আদর্শ pH প্রায় ৫.৫।
- ত্বকের pH ৫.৫–৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জি প্রতিরোধে সক্ষম হয়।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH প্রায় ৭-এর কাছাকাছি।
- শ্যাম্পুর pH প্রায় ৫.০–৫.৫ হওয়া উচিত।

• কৃষিক্ষেত্রে pH:
- মাটির pH সাধারণত ৪–৮ এর মধ্যে থাকে।
- pH ৩-এর নিচে হলে গাছ মারা যেতে পারে।
- pH ৯.৫-এর উপরে হলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- দ্রবণটি নিরপেক্ষ → pH = ৭ হলে নিরপেক্ষ দ্রবণ হয়।
- দ্রবণটি ক্ষারীয় → pH ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয় প্রকৃতি প্রকাশ করে এবং লাল লিটমাসকে নীল করে।
- তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ → উচ্চ pH মানবিশিষ্ট দ্রবণ ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯২০.
pH হলো-
  1. এসিড নির্দেশক
  2. ক্ষারীয় নির্দেশক
  3. নিরপেক্ষ নির্দেশক
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• pH ও এর ব্যবহার:
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন (Sorensen) pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- pH এর p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে যার অর্থ হলো ক্ষমতা এবং H দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ pH হলো Potenz of hydrogen। pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ pH = -log[H+]
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয় এবং দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অ্যাসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ হয়।
pH মান:

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯২১.
দুটি আহিত কণা একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:
 ১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
 
২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে
 
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 
 
৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯২২.
পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে বলা হয় -
  1. ক) মেসন
  2. খ) ইলেক্ট্রোলাইট
  3. গ) যোজনী
  4. ঘ) যোজন ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে যোজন ইলেকট্রন বলে।
যোজন ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ড কে যোজন ব্যান্ড বলে। পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত যোজন ইলেকট্রন গুলো পরিবহনে অংশ নিলে তাদের পরিবাহী ইলেকট্রন বলে। পরিবাহী ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে পরিবাহী ব্যান্ড বলে।

পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান থাকেই না , বরং উপরিলেপন ঘটে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্যে তড়িৎ প্রবাহের সূচনা হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই
৫,৯২৩.
আলোক রশ্মির এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য এক স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে দিক পরিবর্তন করাকে কি বলে?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ
  4. সংকট কোণ
ব্যাখ্যা
• প্রতিসরণ (Refraction): 
- কোনো সমসত্ব ও স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরলরেখায় চলে। এর গতির কোন পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন এর গমন পথ বেঁকে যায় (আলো লম্বভাবে মাধ্যম পরিবর্তন করলে দিক পরিবর্তন হয় না তবে বেগের পরিবর্তন হয়)। 
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- অর্থাৎ দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে। 
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে। 

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction): 
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে। 
- সূত্র দু'টি হলো:
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে। 
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব। 
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)। 
- প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্রটি জার্মান বিজ্ঞানী স্নেলের নামানুসারে স্নেলের সূত্র নামে অভিহিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯২৪.
তড়িৎ বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহ কয়ভাবে সংযুক্ত করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
সাধারণত তড়িৎ বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহ ২ ভাবে সংযুক্ত করা যায়। ১. শ্রেণিসংযোগ বর্তনী ও ২. সমান্তরাল সংযোগ বর্তনী। [সূত্র: অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই]
৫,৯২৫.
ডায়াচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চুম্বক ক্ষেত্রের দিকে মুখ করে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
  2. শক্তিশালী চুম্বকায়ন দেখায় এবং ডোমেইন গঠন করে
  3. চুম্বকায়ন সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত 
  4. চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা

- ডায়াচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে। 

প্যারাচৌম্বক পদার্থ:  
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারাচৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়, এদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরোচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরোচৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না, এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরোচৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৯২৬.
লোহায় মরিচা পড়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) জারণ
  2. খ) জারণ-বিজারণ
  3. গ) বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. ঘ) সংযোজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
পদার্থের পরিবর্তন:

- পদার্থের পরিবর্তন  দুই ধরনের। 

১. ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন:
যে পরিবর্তনের ফলে শুধু পদার্থের বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় কিন্তু তা কোনো নতুন পদার্থে পরিণত হয় না, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। উদাহরণ : পানিকে বরফ ও বাষ্পে পরিণত করা, লোহাকে চুম্বকে পরিণত করা, চিনিকে পানিতে দ্রবীভূত করা।

২. রাসায়নিক পরিবর্তন:
যে পরিবর্তনের জন্য এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। উদাহরণ : পানি এবং অক্সিজেনের সংযোগে লোহায় মরিচা ধরা, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে পানি তৈরি হওয়া, দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো এগুলো রাসায়নিক পরিবর্তন।

- আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ। এই যৌগই মরিচা।
- জারণ-বিজারণের ফলে লোহায় মরিচা পড়ে।
- মরিচা সৃষ্টিকে নিম্নরূপ সমীকরণের আকারে দেখানো সম্ভব -
লোহার সামগ্রী + আর্দ্র বাতাস = আয়রন অক্সাইড বা মরিচা

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯২৭.
কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন থাকে না?
  1. লিথিয়াম 
  2. হাইড্রোজেন
  3. হিলিয়াম 
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
-  নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯২৮.
কোনটি ওহমের সূত্র
  1. ক) I ∝ V
  2. খ) V ∝ C
  3. গ) V ∝ F
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। বিভব পার্থক্য v এবং প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান I হলে I ∝ V
৫,৯২৯.
নিচের কোনটি পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. শুষ্ক অবস্থায় অবাধে জ্বলে
  2. কম তাপ উৎপন্ন করে
  3. ভিজা ও নরম
  4. উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে
ব্যাখ্যা
• পীট কয়লা উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে না।

• পীট কয়লা:

- পীট কয়লা হলো জৈব পদার্থের আংশিক পচন দ্বারা গঠিত স্পঞ্জি উপাদান যা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিদ উপাদান।
- পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্ন মানের কয়লা যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়।
- পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে।
- শুষ্ক অবস্থায় এটি অবাধে জ্বলে।
- এতে শনাক্তযোগ্য উদ্ভিজ্জ কণিকা বিদ্যমান থাকলেও মণিক নেই বললেই চলে।

উৎস:
১. রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
৫,৯৩০.
আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ কোনটি? 
  1. E = m2c
  2. W = Fd
  3. E = mc2
  4. F = ma
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

সুতরাং, E = mc2, এটিই আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩১.
পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
  1. ক্রিয়ার বদলে প্রতিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়
  2. সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
  3. পালের দাড়িতে টানের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দিকে বাতাসকে কার্যকর করে
  4. পালের আকৃতিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
- যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে বিপরীতমূখী বলকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে নৌকা অন্যদিকের বাতাসকে সম্মুখ অভিমূখে বলের উপাংশটিকে কাজে লাগিয়ে তা নৌকার সম্মুখগতিতে ব্যাবহার করতে পারে।

- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে।
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো।
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- পালতোলা নৌকাতে বাতাস দুইভাবে কাজ করে।
- একটি বলের অভিমূখে অন্যটি বলের বিপরীত।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩২.
কোনটি স্কেলার রাশির উদাহরণ? 
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ত্বরণ
  3. বেগ 
  4. বল 
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং  খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৩৩.
রাদারফোর্ড মডেল অনুযায়ী নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কোন বল ভারসাম্য রাখে? 
  1. বিকর্ষণ বল 
  2. গ্রাভিটেশনাল বল 
  3. চুম্বকীয় বল 
  4. কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলর প্রস্তাবগুলো হলো- 
• পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ভারী ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কেন্দ্র থাকে, যাকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এটি পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। 
• নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে। 
• মডেলটিকে পরমাণুর সৌর মডেল বলা হয়, কারণ এটি সৌরমণ্ডলের মতো সাজানো। 
• নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ ইলেকট্রনের কেন্দ্রমুখী বলের সাথে ভারসাম্য রাখে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
• ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হওয়ায় একে অপরকে বিকর্ষণ করে, যা মডেল ব্যাখ্যা করতে পারে না। 
• ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করলে শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়া উচিত কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। 
• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি নির্ধারণ করা যায় না। 
• একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নেই। 
• পরমাণুর বর্ণালী (spectrum) ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৩৪.
প্লাটিনাম মৌলটির প্রতীক কোনটি?
  1. P
  2. Pb
  3. Pt
  4. Pa
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলের প্রতীক:
- গোল্ডের প্রতীক Au.
- লেড এর প্রতীক Pb.
- প্লাটিনামের প্রতীক Pt.
- প্রোটো একটিনিয়ামের প্রতীক Pa.
- পোলোনিয়ামের প্রতীক Po.
- পটাশিয়ামের প্রতীক K .
- কপারের প্রতীক - Cu.
- সিলভারের প্রতীক- Ag.
- আর্সেনিকের প্রতীক - As .
- আয়রনের প্রতীক - Fe.

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫,৯৩৫.
সৌর সেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন পদার্থ ব্যবহৃত হয়?
  1. সোনা
  2. তামা
  3. সিলিকন
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
• সৌর কোষে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সিলিকন ব্যবহৃত হয়। 
 
• সৌর কোষ: 
- সৌর কোষ বা সৌর সেল হলো এক ধরনের ডিভাইস যা সূর্যের আলো (ফোটন) শোষণ করে এবং এটিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- সৌর সেল বা ফটোভোলটাইক কোষে সিলিকন (Si) ব্যবহৃত হয়, যা একটি অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) পদার্থ।
- এটি সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• সৌর সেলের কাজের পদ্ধতি:
- সূর্যের ফোটন সিলিকন পরমাণুতে আঘাত করে।
- ইলেকট্রন-হোল জোড় সৃষ্টি হয়।
- p-n জাংশনের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৫,৯৩৬.
লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হলে প্রতিবিম্বটি হবে-
  1. বিবর্ধিত
  2. খর্বিত
  3. সমান
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩৭.
প্রাথমিক কোষের উদাহরণ কোনটি? 
  1. লেড সঞ্চয়ী কোষ 
  2. ড্যানিয়েল কোষ 
  3. নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ 
  4. লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৯৩৮.
স্টার্চ থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অ্যালকোহলের নাম কী?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. আইসোপ্রোপানল
  4. মিথাইল অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩৯.
"ওজন" এর এসআই একক হচ্ছে:
  1. আউন্স
  2. নিউটন
  3. পাউন্ড
  4. কেজি
ব্যাখ্যা

• ওজন হলো একটি পদার্থের উপর গুরুত্বাকর্ষীয় শক্তির কারণে কার্যকর হওয়া বল। যেহেতু এটি একটি বল, তাই ওজনের পরিমাপও বলের এককে হয়। এস আই একক ব্যবস্থায় বলের একক হলো নিউটন (N)। একটি নিউটন হলো এমন বল যা ১ কেজি ভরের একটি পদার্থকে প্রতি সেকেন্ড² তে ১ মিটার ত্বরণ প্রদান করে। অন্য একক যেমন কেজি হলো ভরের একক, আউন্স এবং পাউন্ড হলো অন্য একক ব্যবস্থার ভর বা ওজন পরিমাপের একক। সুতরাং, ওজনের সঠিক এস আই একক হলো নিউটন, যা গুরুত্বাকর্ষীয় বলকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে।

- সঠিক উত্তর: খ) নিউটন।

• নিউটন (Newton) হলো বলের এসআই একক, এবং যেহেতু ওজন হলো ভরের ওপর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রয়োগ, তাই ওজনের এককও নিউটন।

• সূত্র: ওজন = ভর × মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ (W = m × g)
• যেখানে ভরের (m) একক কেজি (kg) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) একক m/s2, তাই ওজনের (W) একক হয়  Kg·m/s2 = নিউটন।

• ভৌত রাশি ও তাদের SI একক:
- দৈর্ঘ্য - মিটার (m), 
- ভর - কিলোগ্রাম (kg), 
- সময় - সেকেন্ড (s), 
- তাপমাত্রা - কেলভিন (K), 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ - অ্যাম্পিয়ার (A), 
- পদার্থের পরিমাণ - মোল (mol), 
- আলোক তীব্রতা - ক্যান্ডেলা (cd), 
- বল - নিউটন (N)।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫,৯৪০.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক ত্রিমাত্রিক পলিমার?
  1. লিগনিন
  2. টেরিলিন
  3. নাইলন
  4. টেফলন
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক পলিমার:
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি।
• লিগনিন হলো প্রাকৃতিক ত্রিমাত্রিক পলিমার।

কৃত্রিম পলিমার:
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্টারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি।
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যেমন-
• থার্মোপ্লাস্টিক।
• থার্মোসেটিং প্লাস্টিক।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৪১.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৫N এবং ৪N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ক) ৩N
  2. খ) √১১N
  3. গ) √৪১N
  4. ঘ) ১N
ব্যাখ্যা
লব্ধি = √(p2-q2)
= √[(5n)2+(4n)2]
= √(41n2)
=√41n
৫,৯৪২.
ইউরেনিয়ামের আইসোটোপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিতবস্থায় থাকে-
  1. ক) U (233)
  2. খ) U (234)
  3. গ) U (235)
  4. ঘ) U (238)
ব্যাখ্যা
ইউরেনিয়ামের বিভিন্ন আইসোটোপের অর্ধায়ু:
233U = 1.592×105 years
234U = 2.454×105 years
235U = 7.037×108 years
236U = 2.342×107 years
238U = 4.468×109 years

উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী 233U এর অর্ধায়ু সবচেয়ে কম তাই এটি বেশি অস্থিতিশীল। কারন অর্ধায়ু কম হওয়ার কারনে এটি অন্য আইসোটোপগুলো থেকে তারাতারি ভেঙ্গে যায়।

উৎস: আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সি[Link]
৫,৯৪৩.
1 মোল ইলেকট্রনের চার্জ হলো -
  1. 1 F
  2. 1 C
  3. 1.62 C
  4. 1.60245 × 10-19 C
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

ফ্যারাডের সূত্রের সাহয্যে ইলেকট্রনের চার্জ গণনা: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সমীকরণ মতে, একযোজী এক মোল ক্যাটায়নকে চার্জ মুক্ত করতে 1 F বিদ্যুৎতের প্রয়োজন হয়। 
- এক মোল ক্যাটায়নের সংখ্যা হলো অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা NA
- একটি ইলেকট্রনের চার্জ = e -
∴ NA × e¯ = 1 ফ্যারাডে = 96500 কুলম্ব (C). 
∴ e - = 96500 C/NA = 96500 C/6.022 x 1023 = 1.60245 × 10-19 C. 
- এভাবে হিসাবকৃত ইলেকট্রনের চার্জের পরিমাণ বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ইলেকট্রনের চার্জের সমান। 
- এ থেকে ফ্যারাডের সূত্রের তাৎপর্য বোঝা যায় এবং প্রমাণিত হয় যে, 1 মোল ইলেকট্রন = 1 ফ্যারাডে (F). 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫,৯৪৪.
একটি সরলদোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল কত হবে?
  1. ক) অসীম
  2. খ) স্লো হবে
  3. গ) ভূপৃষ্ঠের সমান
  4. ঘ) ভূপৃষ্ঠ থেকে কম
ব্যাখ্যা
⇒ একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।

কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t = দোলনকাল,
L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ),
g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি
৫,৯৪৫.
নিচের কোনটির মধ্যে চার্জ নেই?
  1. প্রোটন
  2. এক্স-রে
  3. আলফা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৪৬.
'নিঃসরণ'-এর জন্য কোন শর্ত প্রয়োজন?
  1. আলো 
  2. স্বতঃস্ফূর্ত ছড়িয়ে পড়া
  3. উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চল 
  4. কোনো নির্দিষ্ট ছিদ্রপথ এবং চাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা

ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
• কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
• ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
• রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
• পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
• শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৪৭.
রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের একক কোনটি? 
  1. লিটার
  2. মোল
  3. গ্রাম
  4. কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা
মোল: 
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023 । 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023 । 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৪৮.
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায় না?
  1. ব্যতিচার
  2. অপবর্তন
  3. সমবর্তন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৪৯.
কোনটি অস্থায়ী মূল কণিকা?
  1. পজিট্রন
  2. নিউট্রিনো
  3. ম্যাসন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অস্থায়ী মূল কণিকা: কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে।
এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫০.
সৌরকেন্দ্রিক পরমাণু মডেল প্রস্তাব করেন -
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) স্যার আইজ্যাক নিউটন
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন এটি রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।
তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন। তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়।

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫১.
টিউমার নির্ণয় ও চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. 192Ir
  2. 131Zn
  3. 60Co
  4. 32P
ব্যাখ্যা

টিউমার নির্ণয় ও চিকিৎসায় 60Co তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

রোগ নিরাময়ে
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়।
- এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছে বিটা রশ্মি নির্গত করে, যা থাইরয়েডের ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করে।
- এছাড়া ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যানসারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32P এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৫,৯৫২.
যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কী বলে?
  1. ক) বহুমৌলিক পদার্থ
  2. খ) যৌগিক পদার্থ
  3. গ) মৌলিক পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ছাড়া ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়ার যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- মৌলিক পদার্থের উদাহরণ : হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, কার্বন, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রূপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

• যৌগিক পদার্থ:
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে। অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।   
৫,৯৫৩.
SATP তে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0°C
  2. 4°C
  3. 25°C
  4. 100°C
ব্যাখ্যা
SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫৪.
Which temperature is equal on both Fahrenheit and Celsius scales?
  1. -40
  2. 0
  3. 32
  4. 212
  5. -22
ব্যাখ্যা
• সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল:
- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো:
C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা] 

এখন, 
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে, 
x/৫ = (x - ৩২)/৯ 
Or, ৯x = ৫x - ১৬০ 
Or, ৪x = - ১৬০ 
Or, x = - ৪০ 
অর্থাৎ, - ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৫৫.
  1. ক)
  2. খ)
  3. গ)
  4. ঘ)
ব্যাখ্যা


৫,৯৫৬.
দানাদার সালফারের রূপভেদ নিচের কোনটি? 
  1. ল্যামডা সালফার
  2. গামা সালফার
  3. ডেল্টা সালফার
  4. রম্বিক সালফার
ব্যাখ্যা
বহুরূপতা: 
- যদি কোন মৌল ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকৃতিতে থাকতে পারে তার এ ধর্মকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 

সালফারের বহুরূপতা: 
- প্রকৃতিতে সালফারের অনেকগুলো রূপভেদ আছে। 
যেমন: দানাদার, অদানাদার এবং তরল সালফার। 
- দানাদার সালফারের দুটি রূপভেদ হচ্ছে রম্বিক বা আলফা সালফার এবং মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার। 
- অদানাদার সালফারের দুটি বহুরূপতা হচ্ছে প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার এবং দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার। 
- তরল সালফারের রূপভেদ হচ্ছে ল্যামডা সালফার এবং মিউ সালফার। 
এছাড়াও সালফারের আরেকটি বহুরূপতা হচ্ছে কোলয়ডাল সালফার। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৯৫৭.
প্রিজম ব্যবহার করে কোন ঘটনা বোঝানো যায় যা প্রকৃতিতে রংধনুর মাধ্যমে দেখা যায়? 
  1. আলোর প্রতিচ্ছায়া সৃষ্টি
  2. সাদা আলোতে রঙিন রশ্মির বিক্ষেপণ
  3. তাপ বিকিরণ
  4. আলোর ছায়া সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির কণায় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফলে। 
- প্রিজমের সাহায্যে সাদা আলোকে বিভিন্ন রঙে বিভক্ত করে দেখা সম্ভব, তবে প্রকৃতিতেও এই ঘটনা রংধনুর মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। 
- বৃষ্টির পর রোদ উঠলে বাতাসে থাকা পানির কণায় সূর্যের আলো প্রতিসরণ, প্রতিফলন এবং পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়, ফলে রংধনুর রঙিন ব্যান্ড তৈরি হয়। 
- রংধনু সর্বদা সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৫৮.
গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. গ্রাডিমিটার
  2. ম্যানোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৫,৯৫৯.
Hygrometer is used to measure-
  1. relative humidity
  2. purity of milk
  3. specific gravity
  4. none of these
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:

- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫,৯৬০.
নিচের কোনটি উর্ধ্বপাতিত হয়?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) তুঁতে
  3. গ) কস্টিক সোডা
  4. ঘ) সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
নিশাদল, কর্পূর, আয়োডিন, ন্যাপথলিন, অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইডের বেলায় এরকম হয়।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৫,৯৬১.
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি-
  1. যুক্ত অবস্থার চাইতে কম
  2. যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
  3. যুক্ত অবস্থার সমান
  4. কোনোটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর কেন্দ্র হচ্ছে শক্তির ভাণ্ডার। 
- যুক্ত অবস্থা বা ঐক্যবদ্ধ অবস্থা হলো একটি স্থিতিশীল অবস্থা যেখানে পরমাণুর নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনগুলো শক্তভাবে আবদ্ধ থাকে। 
- অন্যদিকে, বিচ্ছিন্ন অবস্থা বা অযৌগিক অবস্থায় পরমাণু বা পরমাণুর কণিকাগুলো পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। 
- বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পরমাণুর কণিকাগুলোর (নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রন এবং ইলেকট্রনগুলোর) মধ্যে কোন আকর্ষণ শক্তি কাজ করে না। ফলে এই অবস্থায় পরমাণুর শক্তি বা শক্তির পরিমাণ বেশি হয়। কারণ, যুক্ত অবস্থায় আকর্ষণ শক্তিগুলো পরমাণুকে একত্রিত ও স্থিতিশীল রাখে, যা শক্তির একটি অংশ গ্রাস করে ফেলে। 
সুতরাং, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থার চাইতে বেশি থাকে। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫,৯৬২.
আমরা যে চক দিয়ে লিখি তা হচ্ছে-
  1. ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  2. ক্যালসিয়াম ফসফেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
- চক বা চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং সংকেত- CaCO3

অন্যদিকে, 
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH.
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3.
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O.
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO.
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2.
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3.

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৬৩.
d-ব্লক সর্বমোট মৌলের সংখ্যা কয়টি? 
  1. ৮টি
  2. ১৮টি
  3. ৩২টি
  4. ৪০টি
ব্যাখ্যা
d-ব্লক মৌল: 
- যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি d অরবিটালে প্রবেশ করে তাদের d-ব্লক মৌল বলে। 
- পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ের স্ক্যানডিয়াম (Sc, 21) থেকে জিঙ্ক (Zn, 30) এবং পঞ্চম পর্যায়ের ইট্রিয়াম (Y, 39) থেকে ক্যাডমিয়াম (Cd, 48) হলো d-ব্লক মৌল। 
- এছাড়া ষষ্ঠ পর্যায় ও সপ্তম পর্যায়েও d-ব্লক মৌল আছে। 
- পর্যায় সারণির 3 থেকে গ্রুপ 12 এর মৌলসমূহ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। 
- এ শ্রেণিতে সর্বমোট 40টি মৌল আছে। 
- এ ব্লকের মৌলের পরমাণুর d1 থেকে d10 পর্যন্ত ইলেকট্রন থাকতে পারে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৬৪.
২০ Ω মানের দুটি রোধ সমান্তরাল সন্নিবেশে যুক্ত করা হলে তুল্য রোধ কত হবে?
  1. ৪০ Ω
  2. ১/১০ Ω
  3. ১০ Ω
  4. ২০ Ω
ব্যাখ্যা

রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশঃ- কতগুলো রোধ যদি এমন ভাবে যুক্ত থাকে যেন সবগুলো রোধের এক প্রান্তগুলো এক
বিন্দুতে এবং অপর প্রান্তগুলো অপর এক বিন্দুতে একত্রে যুক্ত থাকে তাহলে এই সন্নিবেশকে রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশ
বলে। সমান্তরাল সন্নিবেশে প্রতিটি রোধ ভিন্ন ভিন্ন তড়িৎ প্রবাহের পথ তৈরি করায় প্রতিটি রোধের মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন
তড়িৎ প্রবাহ চলবে।

যদি n সংখ্যক রোধ সমান্তরাল সন্নিবেশে যুক্ত থাকে, তাহলে তুল্যরোধ



সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৫,৯৬৫.
ডায়োড মূলত কোন ধরনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. রেকটিফায়ার
  2. ট্রান্সফরমার
  3. রেজিস্টর
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

• ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে ব্যবহার হয়, অর্থাৎ এটি AC সিগনালকে DC-তে রূপান্তর করে।
সঠিক উত্তর: ক) রেকটিফায়ার। 

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৬৬.
সবচেয়ে নরম খনিজ কোনটি?
  1. ট্যালক
  2. চুনাপাথর
  3. পাইরাইটস
  4. সিলিকা
ব্যাখ্যা
• খনিজ পদার্থের কাঠিন্য:
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত কঠিন হয় এবং একেকটি খনিজের কাঠিন্য একেক রকম।
- বেশি কঠিন খনিজ খুব সহজেই কম কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে; কিন্তু কম কঠিন খনিজ বেশি কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে না। কাঠিন্য অনুযায়ী সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (Talc), যা দিয়ে ট্যালকাম পাউডার তৈরি হয়।
- সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা বা ডায়মন্ড। খনিজ পদার্থের নির্দিষ্ট দ্যুতি থাকে।
- ধাতব খনিজ যেমন: পাইরাইটস ধাতুর মতোই দ্যুতি প্রদর্শন করে অর্থাৎ অনেকটা ধাতুর মতোই চকচক করে।
- খনিজ হীরা অধাতু এবং এটিকে দেখে সাধারণ কাচের মতো মনে হতে পারে কিন্তু এটি কাটার পর এর দ্যুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

উৎস:বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৫,৯৬৭.
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে কোন পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?
  1. পরিবাহী
  2. অপরিবাহী
  3. অন্তরক
  4. অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা

- অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor) পদার্থের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এর বিদ্যুৎ পরিবাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

 পরিবাহী পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থে তার অণু-পরমাণু শক্ত করে নিজের জায়গায় বসে থাকে ফলে তাপমাত্রা বাড়লে তারা নিজের জায়গায় কাঁপাকাঁপি করতে পারে কিন্তু সেখান থেকে সরে অন্য জায়গায় চলে যায় না। ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন।

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৬৮.
শব্দ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
  1. চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে
  2. বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে
  3. তাপ উৎপাদনের মাধ্যমে
  4. আলো নির্গমনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- শব্দ হলো এক প্রকার শক্তি যা কোনো বস্তুর দ্রুত কম্পনের ফলে সৃষ্টি হয়। যখন কোনো বস্তু কম্পিত হয়, তখন তা তার চারপাশের মাধ্যমের (যেমন- বাতাস, পানি বা কঠিন পদার্থ) কণাগুলোকে আন্দোলিত করে। এই আন্দোলন তরঙ্গ আকারে আমাদের কানে পৌঁছালে আমরা শব্দ শুনতে পাই। কম্পন যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, শব্দও ততক্ষণ শোনা যায়। 

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়।
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে।
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে কানে প্রবেশ করে।
- কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
যেমন- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৬৯.
ওজন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. CO2
  2. SO2
  3. CO
  4. CFC
ব্যাখ্যা
- ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের মধ্যে CFC হলো প্রধান।
- সিএফসি হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরে পৌঁছে ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সিজেনে পরিণত করে। 
- এর ফলে ওজোনস্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়।
- এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।
- এছাড়াও N2O, NO, CH4, BCF, CH3Br, CCl4 ইত্যাদি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের অন্তর্ভূক্ত।

উৎস : উচ্চ-মাধ্যমিক রসায়ন ২য় পত্র।
৫,৯৭০.
রেলওয়ে স্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক- 
  1. আসলের সমান হবে
  2. আসলের চেয়ে বেশি হবে
  3. আসলের চেয়ে কম হবে
  4. আসল গতির সাথে সম্পর্কযুক্তভাবে কমে যাবে
ব্যাখ্যা
- রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি হবে। 
- শব্দের উৎস থেকে কম্পাঙ্ক যেদিকে যায়, শব্দের উৎস তথা ট্রেন সেদিকেই এগোতে থাকলে কম্পাঙ্কের ঘনত্ব বাড়ে, এতে শব্দের তীব্রতা বাড়ে। 
- এই ঘটনা ডপলার অ্যাফেক্ট দ্বারা বর্ণনা করা যায়। 
- শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতির ফলে শ্রুত শব্দের কম্পাঙ্কের যে আপাত পরিবর্তন হয় তাকে ডপলার ক্রিয়া বলে। 
- ডপলার ক্রিয়া শব্দ বিজ্ঞানের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়। 
- ১৮৪২ সালে অস্ট্রিয়ার পদার্থবিদ ডপলার এ সূত্র প্রদান করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৯৭১.
নিচের কোনটি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ?
  1. লোহা
  2. হাইড্রোজেন
  3. সোডিয়াম
  4. নিকেল 
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারাচৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোলগুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

অন্যদিকে,
- হাইড্রোজেন হচ্ছে ডায়াচৌম্বক পদার্থ। 
- লোহা, নিকেল হচ্ছে ফেরোচৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৭২.
ময়লা জামা-কাপড় পরিষ্কার করার জন্য কোন তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়? 
  1. শব্দেতর তরঙ্গ
  2. ভূ-কম্পীয় তরঙ্গ
  3. শব্দোত্তর তরঙ্গ
  4. তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য 'শব্দোত্তর তরঙ্গ' ব্যবহার করা হয়। 
- এ ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৭৩.
বাফার দ্রবণ সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. এটি উচ্চ অম্লীয় বা ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে
  2. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না
  3. সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
  4. বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলে এর pH পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা

◉ বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) হলো এমন একটি দ্রবণ, যা সামান্য পরিমাণ অম্ল (Acid) বা ক্ষার (Base) যোগ করার পরেও এর pH মানকে প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম।

বাফার দ্রবণ:
- যে দ্রবণে সামান্য পরিমাণে এসিড বা ক্ষারক যোগ করার পরও তার pH অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
- pH পরিবর্তন প্রতিরোধ করার এই ক্ষমতাকে দ্রবণটির বাফার ক্ষমতা (buffer capacity) বলে।

বাফার দ্রবণগুলো সাধারণত
(i) মৃদু এসিড ও ঐ এসিডের সঙ্গে তীব্র ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট) বা
(ii) মৃদু ক্ষার ও এর সঙ্গে তীব্র এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন NH4OH-NH4CI)-এর মিশ্রণ দ্বারা প্রস্তুত করা হয়।
উল্লেখ্য যে এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট দ্বারা প্রস্তুত বাফার দ্রবণের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

বাফার দ্রবণের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
(i) এই দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট pH থাকে।
(ii) এই দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও এর pH এর পরিবর্তন হয় না।
(iii) বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলেও এর pH অপরিবর্তিত থাকে।
এই দ্রবণ তার বাফার ক্রিয়া (buffer action) দ্বারা pH পরিবর্তনে বাধা দান করে।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৯৭৪.
'পিকো' উপসর্গের মান কত?
  1. 10- 9
  2. 10- 12
  3. 10- 15
  4. 10- 18
ব্যাখ্যা
- 'পিকো' উপসর্গের মান হচ্ছে- 10-12  । 

এককের গুণিতক ও উপগুণিতক: 

- মৌলিক এককগুলোর গুণিতক ও উপগুণিতক ব্যবহৃত হয়। 
- বিজ্ঞানীরা এমন অনেক রাশি ব্যবহার করে থাকেন যেগুলোর মান খুব ছোট বা বড় হয়ে থাকে। 
যেমন- আলোর দ্রুতি প্রায় 30,00,00,000 ms-1 । 
- এই জাতীয় রাশির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই পড়া, লেখা, বুঝা এবং মনে রাখা খুবই অসুবিধাজনক। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য 10 সংখ্যাটির ঘাত (power) ব্যবহার করা। তাহলে আলোর দ্রুতিকে লেখা যায় 3×108 ms- 1 । 


- কোনো সংখ্যাকে 10 এর যে কোন ঘাত এবং 1 থেকে 10 এর মধ্যে অবস্থিত অপর সংখ্যার গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হলে তাকে বৈজ্ঞানিক প্রতীক বলে।
যেমন 5800000 হল 5.8×106 এবং 0.0000000956 হল 9.56×10- 8
তাহলে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এ প্রতীকে প্রকাশিত সংখ্যাটির 10 এর ধনাত্মক সূচক যত, দশমিক বিন্দুকে ডান দিকে তত ঘর সরালে মূল সংখ্যাটি পাওয়া যাবে। অনুরূপভঅবে 10 এর ঋণাত্মক সূচক যত, দশমিক বিন্দুকে বাম দিকে তত ঘর সরালে মূল সংখ্যাটি পাওয়া যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৭৫.
কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. ক) লোহা
  2. খ) লবণ
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা

- যে সকল বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোনো বস্তুতে রূপান্তরিত করা যায় না তাকে বলে মৌলিক পদার্থ।
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, লোহা, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।
- যে সকল বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তাকে বলে যৌগিক পদার্থ।
যেমন- পানি, লবণ, ইস্পাত, চিনি, ইউরিয়া ইত্যাদি।

৫,৯৭৬.
Battery ও Cell এর মধ্যে পার্থক্য কি?
  1. দুটি বা ততোধিক Battery একসাথে যুক্ত হয়ে Cell তৈরি হয়।
  2. দুই বা ততোধিক Cell একত্রে যুক্ত হয়ে Battery তৈরি হয়।
  3. Battery কে রিচার্জ করা গেলেও Cell কে রিচার্জ করা যায় না।
  4. Cell কে রিচার্জ করা গেলেও Battery কে রিচার্জ করা যায় না।
ব্যাখ্যা
- দুই বা ততোধিক Cell কে একত্রিত করে একটি ব্যাটারি তৈরি করা হয়। 
- Cell এবং Battery উভয়কে রিচার্জ করে আবার ব্যবহার করা যায়।
- Cell হল ডিভাইসের একটি ইউনিট যা রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- Battery হল Cell এর একটি কালেকশন যা রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
৫,৯৭৭.
ঘনত্বের SI একক কী?
  1. kg/m
  2. kg/m3
  3. N/m2
  4. m2/kg
ব্যাখ্যা

- ঘনত্ব বলতে কোনো বস্তুর একক আয়তনের মধ্যে কতটুকু ভর আছে তা বোঝায়।
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, ঘনত্ব (ρ) = ভর (m) ÷ আয়তন (V) অর্থাৎ, ρ = m / V.

SI পদ্ধতিতে:
- ভরের একক = কিলোগ্রাম (kg), আয়তনের একক = ঘনমিটার (m3). সুতরাং, ঘনত্বের একক = kg ÷ m³ = kg/m³ (কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার)।

- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়।
- ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3.
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৭৮.
সমান্তরাল সংযোগের কোন বর্তনীর রোধ 10, 10, 10 Ohm হলে তুল্যরোধ কত?
  1. ক) 30
  2. খ) 3.33
  3. গ) 10.55
  4. ঘ) 20
ব্যাখ্যা
1/Rp= (1/R1)+(1/R2)+(1/R3)

সাধারণ ভাবে n সংখ্যক রোধের জন্য

              
সূত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৫,৯৭৯.
কোন যৌগটিতে কেবলমাত্র সিগমা বন্ধন রয়েছে?
  1. ক) CH4
  2. খ) C2H4
  3. গ) C2H2
  4. ঘ) C6H6
ব্যাখ্যা
সিগমা (G) বন্ধন: 
- দুটি একই বা ভিন্ন পরমাণুর দুটি পারমাণবিক অরবিটাল একই অক্ষ বরাবর মুখোমুখি অধিক্রমণের ফলে আণবিক অরবিটাল সৃষ্টির মাধ্যমে যে সমযোজী বন্ধন গঠিত হয় তাকে সিগমা (০) বন্ধন বলে।

- কার্বন পরমানুর প্রতিটি sp3 সংকর অরবিটালে একটি করে বিজোড় ইলেকট্রন থাকে, যা 4 টি C - H সিগমা বন্ধন সৃষ্টি হয়। ফলে মিথেন (CH4) অণু গঠিত হয়।

- অর্থাৎ CH4 যৌগটিতে কেবলমাত্র সিগমা বন্ধন রয়েছে।
৫,৯৮০.
আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব কে ব্যাখ্যা করেন?
  1. ক) আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. গ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
দীপ্তিমান বস্তু থেকে কিভাবে আলো আমাদের চোখে আসে সে বিষয়ে চারটি তত্ত্ব রয়েছে:

১) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব :
এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

২) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

৩) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।

৪) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৫,৯৮১.
বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তরের নাম কি?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) এক্সোস্ফিয়ার
  3. গ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) আয়নস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বশিষ্ট ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তরের নাম এক্সোমণ্ডল বা এক্সোস্ফিয়ার। 
যথাঃ
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমণ্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৮২.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. টিএসপি
  2. সবুজ সার
  3. পটাশ
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

◉ নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।

• ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।

উৎস: রসায়ন-১ম পত্র, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৮৩.
একটি NPN ট্রানজিস্টরে, প্রধান চার্জ বাহক হলো- 
  1. হোল 
  2. ইলেকট্রন 
  3. প্রোটন
  4. আয়ন
ব্যাখ্যা

- একটি NPN ট্রানজিস্টরে প্রধান চার্জ বাহক হলো ইলেকট্রন। NPN ট্রানজিস্টরে দুটি N-type সেমিকন্ডাক্টর স্তরের মাঝে একটি পাতলা P-type স্তর থাকে। যেহেতু N-type পদার্থে ইলেকট্রনের আধিক্য থাকে, তাই এই ট্রানজিস্টরে তড়িৎ প্রবাহের মূল দায়িত্ব পালন করে ইলেকট্রন। অপরদিকে, হোল হলো P-type এর প্রধান বাহক। 

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর একটি ইংরেজি শব্দ। Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপণ্ড সংঘটিত করেছে। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন, ডব্লিউ ব্রাটেন ও ডব্লিউ সক্লে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
- দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার।
যথা- ১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং ২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

n-p-n ট্রানজিস্টরের কার্যক্রম: 
- n-p-n ট্রানজিস্টরকে কার্যকর করার জন্য এর দুটি জাংশনকে দু'ভাবে বায়াস করা হয়। নিচের চিত্রে ট্রানজিস্টরের এমিটার-বেস জাংশনে সম্মুখী বায়াস এবং কালেক্টর বেস জাংশনে বিমুখী বায়াস প্রয়োগ করা হয়েছে।


- এমিটার বেস জাংশনে সম্মুখী ঝোঁকে থাকায় এমিটার হতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন ব্যাপন ক্রিয়ার মাধ্যমে জাংশন ভেদ করে বেসের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে এমিটার প্রবাহ তৈরি করে। 
- ইলেকট্রনগুলো যখন p টাইপ বেসে প্রবেশ করে, তখন এগুলো সেখানকার হোলের সাথে মিলিত হতে চায়। কিন্তু বেস খুব পাতলা হওয়ার কারণে এবং হালকাভাবে ডোপিং এর ফলে খুব সামান্য পরিমাণ (5% এর কম) ইলেকট্রন হোলের সাথে মিলিত হয়। এরূপ মিলনের ফলে খুব সামান্য বেস প্রবাহ সৃষ্টি হয়, বাকী প্রায় 95% ইলেকট্রন বেস অঞ্চল ভেদ করে ধনাত্মক কালেক্টর ভোল্টেজের আর্কষণে কালেক্টর অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং কালেক্টর প্রবাহ সৃষ্টি করে। এভাবে প্রায় সম্পূর্ণ এমিটার প্রবাহ কালেক্টর বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। 
- কালেক্টর জাংশনে আগত ইলেকট্রন কালেক্টর প্রান্তে প্রযুক্ত ধনাত্মক বিভবেব আকর্ষণে কালেক্টর প্রবাহ বৃদ্ধি করে। প্রায় 5% ইলেকট্রন বেসে হোলের সাথে মিলিত হওয়ায় ফলে সামান্য পরিমান বেস প্রবাহ সৃষ্টি হয়, যার প্রেক্ষিতে কালেক্টর প্রবাহ এমিটার প্রবাহ অপেক্ষা সামান্য কম হয়। 
- এমিটার প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে অধিক পরিমাণ ইলেকট্রন বেসে প্রবেশ করে, যা কালেক্টরের ধনাত্মক বিভব দ্বারা আকর্ষিত হয়। ফলে কালেক্টর প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, এ প্রক্রিয়ার এমিটার প্রবাহ দ্বারা কালেক্টর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের ভেতরে তড়িৎপ্রবাহ হয় ইলেকট্রনের প্রবাহের জন্য এবং বর্তনীর সংযোগ তারের মধ্যেও তড়িৎ প্রবাহ ইলেকট্রনের জন্য হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৮৪.
তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কী স্থানান্তর করে?
  1. শক্তি
  2. ক্ষমতা
  3. বেগ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা, স্থানান্তর করে।
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোনো জড় মাধ্যমের একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ বলে।
- তরঙ্গ দুই প্রকার। যথা- অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

• তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যবলী:
- তরঙ্গ সৃষ্টি ও সঞ্চালনের জন্য অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের বা, স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
- মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা, সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। 
- তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা, স্থানান্তর করে। 
- তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। 
- তরঙ্গে প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং অপবর্তন ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৮৫.
রংধনু কখন দেখা যায়? 
  1. রাতের আকাশে 
  2. বৃষ্টি হওয়ার পর রোদ ওঠার সময় 
  3. মেঘমুক্ত আকাশে 
  4. সকালবেলার কুয়াশায় 
ব্যাখ্যা

রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয়, যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারেনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখেছে। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ ওঠে, তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। 
- এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৮৬.
কোন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।   

- Reduction (বিজারণ) শব্দের প্রথমাংশ Red এবং Oxidation (জারণ) শব্দের প্রথমাংশ Ox এর সমন্বয়ে গঠিত শব্দ হলো Redox. 

• রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া:  
- জারণ এবং বিজারণ উভয় প্রক্রিয়া একই সাথে ঘটে।
- একটি পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করার সাথে সাথেই অন্য একটি পদার্থ সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এই কারণে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াগুলিকে একত্রে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়।
- জারণ-বিজারণ একটি যুগপৎ বিক্রিয়া। 

• কিছু বিক্রিয়াতে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে।
→ উদাহরণ-
- সংযোজন বিক্রিয়া, 
- বিয়োজন বিক্রিয়া, 
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া,
- দহন বিক্রিয়া। 

• নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- এ ধরণের বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ তথা ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।

→ উদাহরণ-
- প্রশমন বিক্রিয়া,
- অধ:ক্ষেপণ বিক্রিয়া ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,৯৮৭.
ফিউশন প্রক্রিয়ায় -
  1. একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচণ্ড শক্তি সৃষ্টি করে
  2. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
  4. একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
- ফিউশন প্রক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে এবং প্রচন্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা-
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন:
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।
- সূর্যে এ বিক্রিয়া স্বচ্ছন্দে ঘটে।

উৎস:
১. উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৮৮.
নিচের কোনটি তরলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন আছে
  2. নির্দিষ্ট আকার নেই
  3. প্রবাহিত হতে পারে
  4. নির্দিষ্ট আকার রয়েছে
ব্যাখ্যা
• তরল পদার্থ:
- পদার্থের ৩ টি প্রধান অবস্থার মধ্যে একটি হলো তরল।

• তরলের বৈশিষ্ট্য:
- তরলের আয়তন নির্দিষ্ট (চাপ ও তাপমাত্রা স্থির থাকলে)।
- তরলের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই; এটি যে পাত্রে রাখা হয়, সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল প্রবাহিত হতে পারে (যেমন: পানি, তেল)। 
- তরলের অণুগুলোর মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম কিন্তু গ্যাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,৯৮৯.
দিয়াশলাইয়ের কাঠির শীর্ষে কোন প্রকারের ফসফরাস ব্যবহৃত হয়?
  1. বেগুনি ফসফরাস
  2. শ্বেত ফসফরাস
  3. লোহিত ফসফরাস
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

• দিয়াশলাইয়ের কাঠির শীর্ষে সাধারণত লোহিত ফসফরাস (Red Phosphorus) ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক লোহিত ফসফরাস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল, যা ঘর্ষণের মাধ্যমে জ্বলে ওঠে। অন্যদিকে, শ্বেত ফসফরাস খুবই জ্বলনশীল ও বিষাক্ত, তাই এটি ব্যবহার করা হয় না। বেগুনি ফসফরাসও সাধারণত এই কাজে ব্যবহার করা হয় না। কাঠির শীর্ষে লোহিত ফসফরাস থাকায় ঘষলে তা সহজেই আগুন ধরে, যা আমাদের আলো জ্বালানোর জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর।
- তাই প্রশ্নে সঠিক উত্তর হলো গ) লোহিত ফসফরাস।


ফসফরাস: রূপভেদ ২ টি।
• শ্বেত ফসফরাস ও
• লোহিত ফসফরাস।

- শ্বেত ফসফরাস বেশি সক্রিয় এবং বিষাক্ত।
- দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়।
- লোহিত ফসফরাস একটু উষ্ণ অবস্থায় বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তাই লোহিত ফসফরাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ম্যাচের কাঠি। ম্যাচের কাঠি বারুদে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ তৈরি হয়, তাতে লোহিত ফসফরাস অক্সিজেনর সঙ্গে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে।

 উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।

৫,৯৯০.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.১৫ - ১.৫%
  2. খ) ৫.৫ - ৬.২৫%
  3. গ) ০.৫ - ১.৭৫%
  4. ঘ) ১১.০১%
ব্যাখ্যা
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ ০.১৫ - ১.৫%। [সূত্র: ৯ম - ১০ম শ্রেণীর রসায়ন বই]
৫,৯৯১.
নিচের কোনটিকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর অপবর্তন
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫,৯৯২.
2311Na মৌলের প্রোটন সংখ্যা কত?
  1. ক) 11
  2. খ) 12
  3. গ) 23
  4. ঘ) 35
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন+নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে। এখানে, Na- এর ভরসংখ্যা ২৩ এবং প্রোটন সংখ্যা ১১। তাই নিউট্রন সংখ্যা = ২৩-১১ = ১২। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৫,৯৯৩.
চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কৌণিক ব্যবধানকে কী বলে?
  1. চৌম্বক অক্ষ
  2. চৌম্বক মেরু
  3. বিচ্যুতি
  4. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। 
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মের° N ও S দেখানো হয়েছে। 

N = North Pole (উত্তর মেরু), 
S = South Pole (দক্ষিণ মেরু)। 

ভৌগোলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। চিত্রে NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। চিত্রে AB দন্ডচুম্বকের অক্ষ। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯৪.
মৌলিক বল কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

মৌলিক বল হল সেই চারটি বল যা প্রাকৃতিক ঘটনার সব ধরনের বলকে বর্ণনা করতে সক্ষম। এগুলোই মহাবিশ্বে থাকা সকল কণার মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন শক্তি ও ক্রিয়ার মূল কারণ। 

উত্তর: ঘ) ৪টি।
 
মৌলিক বল: 

- মৌলিক বল মাত্র চারটি। 
- সেগুলো হচ্ছে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।

তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetic Force): 
- যদিও তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এবং চুম্বকের বলকে আলাদা ধরনের বল মনে হয়, আসলে দুটি একই বল শুধু দুভাবে দেখা যায়। 
- মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল অনেক বেশি শক্তিশালী (১০৩৬ গুণ বা ট্রিলিওন ট্রিলিওন ট্রিলিওন গুণ শক্তিশালী)। 

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- এটাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়।

সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এটি হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

৫,৯৯৫.
বায়োগ্যাসে মিথেনের পরিমাণ কত?
  1. ৩৩%
  2. ৬৫%
  3. ৮৫%
  4. ৪০%
ব্যাখ্যা
বায়োগ্যাস:
প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুরূপ গ্যাস নানা রকম প্রাণী ও উদ্ভিদের বর্জ্য থেকে তৈরি করার ব্যবস্থা করা যায়। এ ধরনের গ্যাসকে বলে বায়োগ্যাস।

- বায়ো অর্থ জীবন। প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবনের অধিকারী বিধায় এদের দেহ এবং দেহ নিঃসৃত পদার্থ পচনশীল।
- গোবর, মলমূত্র, পাতা, খড়কুটো প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতি রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। ফলে এক ধরনের বর্ণহীন দাহ্য গ্যাস উৎপন্ন হয়। এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস। ইহাই বায়োগ্যাস নামে পরিচিত।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।

অপশনে ৬৫% থাকায় উত্তর হিসেবে এটাই বেছে নেওয়া হচ্ছে।
আরো অনেক উৎসে বায়োগ্যাসে মিথেনের বিভিন্ন মাপ বা রেঞ্জ দেওয়া আছে। সবগুলোতেই উত্তর ৭০% এর কাছাকাছি।
৫,৯৯৬.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়? 
  1. ফ্যাক্স
  2. রেডিও
  3. মোবাইল
  4. টেলিফোন
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯৭.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফ্যাদোমিটার 
  2. ব্যারোমিটার 
  3. টেলিস্কোপ 
  4. সিসমোমিটার
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৫,৯৯৮.
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ কেমন থাকে? 
  1. তীব্র
  2. দুর্বল
  3. মাঝারি
  4. আকর্ষণ নেই
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এ সকলই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯৯.
‘সরিষার তেলে' কোন উপাদানটি পাওয়া যায়?
  1. ক) এসকরবিক এসিড
  2. খ) লিনোলিক এসিড
  3. গ) ইরোসিক এসিড
  4. ঘ) ডেটুবিন
ব্যাখ্যা
- সর্দি-কাশি হলে অনেকে সরিষার তৈল নাকে-মুখে ব্যবহার করেন।
- কিন্তু এই তৈলের একটি বড় অসুবিধা হলো এতে প্রায় ৪০-৪৫% ইরোসিক এসিড নামক একটি ক্ষতিকারক ফ্যাটি এসিড আছে যা হৃৎপিন্ডের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- বর্তমানে আমরা যে পরিমান সরিষার তৈল দৈনিক আহার করি তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
 
উৎস: School of Agriculture & Rural Development, Bangladesh Open University
৬,০০০.
একটি 20 μF ক্যাপাসিটারে 10V বৈদ্যুতিক পটেনশিয়াল দেয়া হয় তাহলে সেখানে কী পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকবে?
  1. 1mJ
  2. 2mJ
  3. 3mJ
  4. 4mJ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি 20 μF ক্যাপাসিটারে 10V বৈদ্যুতিক পটেনশিয়াল দেয়া হয় তাহলে সেখানে কী পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকবে?

সমাধান:
শক্তি সঞ্চিত নির্ণয়ের সূত্র,
E = (1/2) × 20 × 10- 6 × 102J
= 10- 3J
= 1mJ