- আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব মহাকর্ষের একটি জ্যামিতিক তত্ত্ব, যা স্থান-কালের বক্রতাকে কাজে লাগিয়ে মহাকর্ষ বলকে ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বের ভিত্তিতে মহাবিশ্বের নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি এবং সম্প্রসারণশীলতার ধারণা ব্যাখ্যা করা যায়।
অন্যদিকে,
- শব্দের বিস্তারের জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয়; শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলাচল করতে পারে না। এটি আপেক্ষিক তত্ত্বের বিষয় নয়।
- শক্তির সংরক্ষণশীলতা পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি, যা আপেক্ষিক তত্ত্বের আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই পরিচিত ছিল। আপেক্ষিক তত্ত্ব এই নীতিকে সমর্থন করে, কিন্তু এটি আপেক্ষিক তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার মতো কোনো নতুন বিষয় নয়। বরং, ভর-শক্তি সমতা (E = mc2) এই দুটি ধারণাকে একত্রিত করে।
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
যথা-
• প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
• দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।