বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫৬ / ৬৪ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ৬,৪০৯

৫,৫০১.
দূরত্ব বাড়লে বৈদ্যুতিক তারে শক্তি অপচয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ কী?
  1. তারের রোধ বৃদ্ধি
  2. চৌম্বক ফ্লাক্স হ্রাস
  3. ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন
  4. ইন্ডাকট্যান্স শূন্য হওয়া
ব্যাখ্যা

• দূরত্ব বাড়লে বৈদ্যুতিক তারে শক্তি অপচয়ের প্রধান কারণ হলো তারের রোধ বৃদ্ধি।

• বিদ্যুৎ পরিবহন:
- বৈদ্যুতিক তারের নিজস্ব রোধ থাকে।
- রোধের কারণে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
- বিদ্যুতের একটি অংশ তাপে অপচয় হয়।
- দূরত্ব যত বেশি, তারের দৈর্ঘ্য তত বেশি।
- দৈর্ঘ্য বাড়লে রোধও বৃদ্ধি পায়।
- ফলে শক্তি অপচয় বৃদ্ধি পায়।

• ভোল্টেজ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন:
- শক্তি অপচয় কমানোর জন্য ভোল্টেজ বাড়ানো হয়।
- ভোল্টেজ বাড়ালে কারেন্ট কমে।
- কারেন্ট কম হলে I²R লস কম হয়।
- তাই দূরবর্তী সঞ্চালনে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমারের কাজ:
- ভোল্টেজ বৃদ্ধি করে।
- কারেন্ট হ্রাস করে।
- লাইন লস কমায়।
- দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহন সহজ করে।

• অন্যান্য অপশন:
- চৌম্বক ফ্লাক্স হ্রাস → এটি সঞ্চালন লাইনের প্রধান অপচয়ের কারণ নয়।
- ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন → বিদ্যুৎ পরিবহনে সাধারণত ফ্রিকোয়েন্সি অপরিবর্তিত থাকে।
- ইন্ডাকট্যান্স শূন্য হওয়া → বাস্তবে সঞ্চালন লাইনে ইন্ডাকট্যান্স শূন্য হয় না।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই ও ব্রিটানিকা।

৫,৫০২.
বিশুদ্ধ সোনা কত ক্যারেটের হয়?
  1. ক) ২৪
  2. খ) ২২
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
24k স্বর্ণকে বিশুদ্ধ স্বর্ণ বা 100 শতাংশ স্বর্ণ বলা হয়। এটি স্বতন্ত্র উজ্জ্বল হলুদ রঙ ধারণ করে।
৫,৫০৩.
শব্দ বিস্তারের জন্য-
  1. ক) কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না
  2. খ) স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের প্রয়োজন হয়
  3. গ) বায়বীয় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক।
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে, বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে।
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি (বোর্ড বই)। 
৫,৫০৪.
সৌর জগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত সূত্র কে প্রদান করেন? 
  1. নিউটন
  2. কেপলার
  3. গ্যালিলিও
  4. কোপারনিকাস
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র: 
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। 
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। 
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে। 
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে। 
- জন কেপলার সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। 
দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। 
তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫০৫.
এসিড বৃষ্টিতে কোনটির পরিমাণ বেশি থাকে?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) কার্বনিক এসিড
  3. গ) ইথানয়িক এসিড
  4. ঘ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- এসিড বৃষ্টি বা অম্ল বৃষ্টি হলো একধরণের বৃষ্টিপাত যেক্ষেত্রে পানি অম্লীয় প্রকৃতির হয়। এক্ষেত্রে পানির pH 7 এর চেয়ে কম হয়ে থাকে। এটি এমন এক ধরনের বৃষ্টি যাতে এসিড উপস্থিত থাকে।
- এসিড বৃষ্টিতে সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে।
- অপরদিকে, হাইড্রোক্লোরিক এসিড অল্প পরিমাণে থাকে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান

৫,৫০৬.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. স্ট্রনসিয়াম
  3. বেরিয়াম
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে।
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫০৭.
কোন পানির প্লবতা বেশি হয়?  
  1. সমুদ্রের
  2. পুকুরের
  3. নদীর
  4. সুইমিং পুলের
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ: 
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমূখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে। 
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়। ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম। 
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়। 
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং কালের কণ্ঠ পত্রিকা।
৫,৫০৮.
গ্যাসের পরমশূন্য তাপমাত্রা নির্ভর করে- 
  1. বাহ্যিক বলের উপর
  2. গ্যাসের ভর ও ঘনত্বের উপর
  3. গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৫,৫০৯.
একটি জাহাজ সমুদ্র থেকে নদীতে প্রবেশ করলে জাহাজের তল-
  1. ক) আরও ডুববে
  2. খ) ভাসবে
  3. গ) একই থাকবে
  4. ঘ) ভাসা ডোবা নির্ভর করবে জাহাজটির তৈরীর সরঞ্জামের উপর
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানির ঘনত্ব নদীর পানির তুলনায় বেশি। অর্থাৎ সমুদ্রের পানির ওজন নদীর পানির তুলনায় বেশি। 
আর্কিমিডিসের নীতি অনুসারে আমরা জানি, জাহাজ পানিতে ভেসে থাকার জন্য তার ওজনের সমপরিমাণ পানি অপসারিত হয়। 
সুতরাং, জাহাজ সমুদ্র থেকে নদীতে প্রবেশ করলে বেশি পরিমাণ পানি অপসারণ করবে। 
অর্থাৎ, নদীতে প্রবেশ করলে জাহাজের তল বেশি ডুববে। 
৫,৫১০.
তড়িৎ কোষে কোনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে?
  1. প্রতিরোধ
  2. ইলেকট্রোলাইট
  3. ক্যাপাসিটার
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ কোষ (Electric Cell): এটি এমন একটি ডিভাইস যা রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

- ইলেকট্রোলাইট (Electrolyte): তড়িৎ কোষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান হলো ইলেকট্রোলাইট।
- এটি এমন একটি পদার্থ যা আয়ন উৎপন্ন করে।
- ইলেকট্রোলাইট বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য মাধ্যম সরবরাহ করে।
- উদাহরণ: সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) অম্লীয় তড়িৎ কোষে।

অন্যান্য উপাদানসমূহ:
- প্রতিরোধ (Resistor): এটি বিদ্যুৎ প্রবাহকে সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না।
- ক্যাপাসিটার (Capacitor): এটি বিদ্যুতকে সংরক্ষণ করে, কিন্তু উৎপাদন করে না।
- ট্রান্সফরমার (Transformer): এটি বিদ্যুতের ভোল্টেজ পরিবর্তন করে, কিন্তু উৎপাদন নয়।

সুতরাং, তড়িৎ কোষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান হলো ইলেকট্রোলাইট।


তথ্যসূত্র: NCTB মাধ্যমিক রসায়ন।  

৫,৫১১.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে?
  1. কাঁচ
  2. সিলিকন
  3. প্লাস্টিক
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫১২.
শব্দের প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হওয়ার কারণ কী?
  1. প্রতিসরণ
  2. প্রতিফলন
  3. অপবর্তন
  4. শোষণ
ব্যাখ্যা
- কোনো উৎস থেকে সৃষ্ট শব্দ যখন দূরবর্তী কোনো মাধ্যমে বাধা পেয়ে উৎসের কাছে ফিরে আসে তখন মূল ধ্বনির যে পুনরাবৃত্তি হয় তাকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- অর্থাৎ, প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয় প্রতিধ্বনি।
- শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব ন্যূনতম ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন।
[- বায়ুতে শব্দের গতিবেগ সেকেন্ডে 1120 ফুট বা 332 মিটার হলে 1/10 সেকেন্ডে শব্দ 112 ফুট বা 33.2 মিটার পথ অতিক্রম করে।
- উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দটি প্রতিফলিত হয়ে উৎসের কাছে ফিরে আসে, সুতরাং কোন শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্ট করে শুনতে হলে প্রতিফলক এবং উৎসের দূরত্ব কমপক্ষে 112/2 = 56 ফুট বা 33.2/2 = 16.6 মিটার হওয়া দরকার।]
- শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্র ও কুয়ার গভীরতা নির্ণয় করা যায়।
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে।
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫১৩.
ক্রোমিয়ামের সর্বশেষ শক্তিস্তরে কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
- ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন হলো- ২, ৮, ১৩ এবং ১ । 
অতএব, ক্রোমিয়ামের সর্বশেষ শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন থাকতে পারবে। 

ইলেকট্রন বিন্যাস: 

- বোরের মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
- নিম্নে কতগুলো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস দেখানো হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫১৪.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  2. খ) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ হ্রাস পায়।
  3. গ) মাধ্যমের ঘনত্ব হ্রাস পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

পরীক্ষা করে দেখা গেছে আলাের দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3x108 ms-1 নির্দিষ্ট। কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1

তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি 1°C বা 1K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।

বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
 
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়।
যেমন- বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লােহার মধ্যে 5220 ms-1 |

বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৫,৫১৫.
ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে
  2. খ) কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগরের কিরিবাতি দ্বীপে
  4. ঘ) দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপে
ব্যাখ্যা

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গিলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে পৃথিবী একটি চুম্বক।
এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে এবং উত্তর মেরু এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫,৫১৬.
পারমাণবিক বোমার তুলনায় হাইড্রোজেন বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা কত গুণ?
  1. 1000
  2. 100
  3. 10
  4. 5
ব্যাখ্যা

• পারমাণবিক বোমা (অ্যাটম বোমা) ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে, যেখানে হাইড্রোজেন বোমা (থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা) ফিউশন প্রক্রিয়ায় কাজ করে। ফিউশনে হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়, যা ফিশনের তুলনায় অনেক বেশি। ইতিহাসে দেখা যায়, হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার শক্তি ছিল প্রায় ১৫ কিলোটন, আর হাইড্রোজেন বোমার শক্তি কয়েক মেগাটন পর্যন্ত হতে পারে। তাই সাধারণভাবে বলা হয়, হাইড্রোজেন বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ১০০০ গুণ বেশি। সঠিক উত্তর: ক) 1000.

• হাইড্রোজেন বোমা:
- হাইড্রোজেন বোমায় মূলত পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটে।  
- এখানে ফিশন ও ফিউশন উভয় বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমার মূল শক্তি ফিউশন বিক্রিয়া থেকে আসলেও, সেই বিক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রথমে একটি ফিশন বিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- প্রথমে ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- সেই শক্তি দিয়ে হাইড্রোজেন আইসোটোপ (ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম)-এর ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয়।  
- এই ফিউশন বিক্রিয়ায় অতি অল্প সময়ে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমা কে বলা হয় থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা।  
- এটি সাধারণ পারমাণবিক বোমার তুলনায় অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী।  

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে। নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে, এখানে ইলেকট্রনের কোনো ভূমিকা নেই। 
- এ বিক্রিয়ার ফলে নতুন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। 
- যে বিক্রিয়ার ফলে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে বড় মৌলের নিউক্লিয়াস অথবা কোনো বড় মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে একাধিক ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস তৈরি হয় সেই বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- বিভিন্ন রকমের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া আছে; তবে এদের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ও নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া অন্যতম। 
 
• নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ছোট ছোট নিউক্লিয়াসসমূহ একত্রিত হয়ে বড় নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন (Fusion) বিক্রিয়া বলে। 
নিচে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো-

• নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়ার সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- স্বল্পগতির নিউট্রন দিয়ে কে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি প্রায় দুইটি সমান অংশে বিভক্ত হয়ে এর নিউক্লিয়াস ও তিনটি নিউট্রন ও তার সাথে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। এটি একটি নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া। 

- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
 ব্রিটানিকা [link]

৫,৫১৭.
নিচের কোনটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার।
তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। ক্ষারগুলো হলো 
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH),
- পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH),
- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH),
- ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)3] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

[সূত্র: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
৫,৫১৮.
নিচের কোনটি রোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. ক) ইলেকট্রন উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবে প্রবাহিত হয়।
  2. খ) ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়।
  3. গ) ইলেকট্রন উচ্চ বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়।
  4. ঘ) ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে নিন্ম বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়।
ব্যাখ্যা
রোধের ক্ষেত্রে ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়। 

- রোধ হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিবাহীর ধর্ম।
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় তাই হলো রোধ।
- রোধের এসআই (SI) একক ও’ম (Ω)। একে ওমেগাও বলা হয়, এটি একটি গ্রিক চিহ্ন।
- বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয় ইলেকট্রনের প্রবাহের জন্য।
- কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তে বিভব পার্থক্য থাকলে এই প্রবাহ শুরু হয়, এক্ষেত্রে ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই ইলেকট্রন স্রোত পরিবাহীর মধ্য দিয়ে চলার সময় পরিবাহীর অভ্যন্তরস্থ অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে এর গতি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহও বিঘ্নিত হয়।
- পরিবাহীর এই বাধাদানের ধর্ম হলো রোধ।

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৫১৯.
এক্স-রের কোন ধর্মটি সঠিক?
  1. এতে চার্জ থাকে 
  2. এটির ভেদন ক্ষমতা খুবই কম 
  3. এটি গ্যাসকে আয়নিত করতে সক্ষম  
  4. এটি দৃশ্যমান আলো 
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-Rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি থেকে এক্স-রে (X-Rays) আবিষ্কার করেন। 
- প্রফেসর রঞ্জন একে "X-Rays" নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের (Target) সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না, সুতরাং এক্স-রের কোন চার্জ নাই। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫২০.
শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা তার বিস্তারের-
  1. সমানুপাতিক
  2. বর্গের সমানুপাতিক
  3. ঘনের সমানুপাতিক
  4. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, তা প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
যেমন- ইলেকট্রনিক স্পিকারে যে পাতলা ডায়াফ্রাম রয়েছে সেটিকে সুনির্দিষ্টভাবে কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করা হয়। স্কুলের ঘণ্টার মাঝে আঘাত করলে সেটি কাঁপতে শুরু করে শব্দ তৈরি করে, এবং তখন হাত দিয়ে সেটাকে চেপে ধরে কম্পন বন্ধ করে ফেললে সাথে সাথে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়। গিটারের তারে টোকা দিলে সেটি কাঁপতে থাকে এবং শব্দ তৈরি করে। ল্যাবরেটরিতে সুর শলাকা দিয়ে নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করা যায়। 
- শব্দের কম্পাঙ্ক যদি 20 Hz থেকে 20,000 Hz (অর্থাৎ 20 kHz) এর মাঝখানে থাকে তাহলে সেই শব্দ শোনা যায়। 
(তবে কানে হেডফোন লাগিয়ে অবিরত গান শুনে কিংবা প্রচণ্ড শব্দদূষণে থাকলে অনেক সময় শোনার ক্ষমতা কমে যায়।) 
- শব্দের কম্পাঙ্ক 20 Hz থেকে কম হলে সেটাকে শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে এবং 20 kHz থেকে বেশি হলে সেটাকে শব্দোত্তর বা আলট্রাসাউন্ড বলে। 
- 20 Hz থেকে কম কিংবা 20 kHz থেকে বেশি কম্পাঙ্ক তৈরি করা হলে সেটি বাতাসে যে আলোড়ন সৃষ্টি করে তা শুনতে পাওয়া যায় না। এ ধরনের শব্দের অস্তিত্ব বুঝতে হলে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফোন বা রিসিভার ব্যবহার করতে হবে। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫২১.
যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে বলে -
  1. তাপীয় সমতা
  2. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  3. নিম্ন স্থির বিন্দু
  4. মধ্য স্থির বিন্দু
ব্যাখ্যা
নিম্ন স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে 

তাপীয় সমতা:
যে অবস্থায় তাপীয়ভাবে সংযুক্ত বস্তুগুলোর মধ্যে তাপের আদান-প্রদান ঘটে না, তাকে তাপীয় সমতা বলে।

থার্মোমিটার:
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুর তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়, তাকে থার্মোমিটার বা তাপমান যন্ত্র বলে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫২২.
যদি কোন যৌগের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে তাহলে যৌগটি-
  1. অম্ল
  2. ক্ষার
  3. লবণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- উদাহরণ: : সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৫২৩.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো কী অনুসারে সাজানো হয়েছে?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. ঘনত্ব
  3. পারমাণবিক সংখ্যা
  4. ধাতব ধর্ম
ব্যাখ্যা
• আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারে সাজানো হয়েছে। 

• পর্যায় সারণি:
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে।

• আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার ক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছে।
- ১৯১৩ সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।
- এর পূর্বে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজানো ছিলো। 

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
- পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) অনুসারে সাজানো হয়।
- পর্যায় সারণিতে 18টি গ্রুপ এবং 7টি পর্যায় রয়েছে।
- একটি গ্রুপ হল পর্যায় সারণীর উল্লম্ব কলাম, যা মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- একটি পর্যায় হল পর্যায় সারণীর অনুভূমিক সারি।
- প্রতিটি পর্যায় বামদিকের গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌল হিসেবেও দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে ৬ এবং ৭ পর্যায়ের অংশ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,৫২৪.
কোনো মৌলের বিভিন্ন উপকক্ষের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা জানার জন্য নিম্নের কোন নীতি ব্যবহৃত হয় না?
  1. প্ল্যাঙ্কের নীতি
  2. পলির বর্জন নীতি
  3. হুণ্ডের নীতি
  4. আউফবাউ নীতি
ব্যাখ্যা

• কোনো মৌলের বিভিন্ন উপকক্ষের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি নীতি ব্যবহার করা হয়-হুণ্ডের নীতি, পলির বর্জন নীতি, এবং আউফবাউ নীতি। আউফবাউ নীতি বলে যে, ইলেকট্রন সবসময় সবচেয়ে কম শক্তির উপকক্ষে প্রথমে অবস্থান করে। হুণ্ডের নীতি অনুযায়ী সমমানের অরবিটালে ইলেকট্রনগুলো একে একে প্রবেশ করে এবং সম্ভব হলে স্পিন একই রাখে। পলির বর্জন নীতি ইলেকট্রনের স্পিন ও কক্ষপথ সম্পর্কিত বিধিনিষেধ নির্ধারণ করে। তবে, প্ল্যাঙ্কের নীতি মূলত কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত এবং এটি ইলেকট্রনের উপকক্ষে সংখ্যা নির্ধারণে সরাসরি ব্যবহার হয় না। তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, প্ল্যাঙ্কের নীতি এখানে প্রযোজ্য নয়।

• প্ল্যাঙ্কের নীতি (Planck’s Principle):
- প্ল্যাঙ্কের নীতি মূলত ক kvant energy (কোয়ান্টাম শক্তি) সম্পর্কিত।
- এটি আলো বা ফোটনের শক্তি এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে সম্পর্কিত।
- মৌলের উপকক্ষের ইলেকট্রনের সংখ্যা নির্ধারণে এটি সরাসরি ব্যবহার হয় না।
- প্ল্যাঙ্কের নীতি ইলেকট্রনের অবস্থান বা গাণিতিক বন্টনের জন্য প্রযোজ্য নয়।

• পলির বর্জন নীতি (Pauli Exclusion Principle):
- পলির বর্জন নীতি বলে যে, কোনো দুটি ইলেকট্রন একই কোয়ান্টাম অবস্থায় থাকতে পারে না।
- এটি মৌলের বিভিন্ন উপকক্ষের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
- উপকক্ষের প্রতি দুটো ইলেকট্রন একই স্পিনের বিপরীতে থাকতে হবে।

• হুণ্ডের নীতি (Hund’s Rule):
- হুণ্ডের নীতি অনুযায়ী, সমজাতীয় অরবিটালে ইলেকট্রন প্রথমে এককভাবে অবস্থান নেয় যতক্ষণ না তারা জোড়া হয়।
- এটি ইলেকট্রনের বণ্টন প্যাটার্ন নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- তাই উপকক্ষের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা জানার ক্ষেত্রে এটি প্রাসঙ্গিক।

• আউফবাউ নীতি (Aufbau Principle):
- আউফবাউ নীতি বলে যে, ইলেকট্রন সর্বনিম্ন শক্তির স্তর থেকে শুরু করে উপরের স্তরে যায়।
- এটি ইলেকট্রনের ক্রম অনুযায়ী উপকক্ষে বসবাসের নিয়ম দেয়।
- তাই উপকক্ষের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ।  

সুতরাং, মৌলের বিভিন্ন উপকক্ষের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা জানার জন্য প্ল্যাঙ্কের নীতি ব্যবহার করা হয় না।  
সঠিক উত্তর: ক) প্ল্যাঙ্কের নীতি।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

৫,৫২৫.
আইনস্টাইন নােবেল পুরস্কার পান-
  1. ক) আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
  2. খ) মহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
  3. গ) কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
  4. ঘ) আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
ব্যাখ্যা

কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫,৫২৬.
d-ব্লক মৌলের সংখ্যা কত?
  1. ক) ২০
  2. খ) ২৮
  3. গ) ৩২
  4. ঘ) ৪০
ব্যাখ্যা
d-ব্লক মৌল:

- যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি d অরবিটালে প্রবেশ করে তাদের d-ব্লক মৌল বলে।
- পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ের স্ক্যানডিয়াম, Sc ( 21 ) থেকে জিঙ্ক, Zn(30) এবং পঞ্চম পর্যায়ের ইট্রিয়াম, Y (39) থেকে ক্যাডমিয়াম, cd(48) হলো d-ব্লক মৌল।
- এছাড়া ষষ্ঠ পর্যায় ও সপ্তম পর্যায়ে d-ব্লক মৌল আছে।
- পর্যায় সারণির '3' থেকে গ্রুপ 12 এর মৌলসমূহ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
- এ শ্রেণিতে সর্বমোট 40টি মৌল আছে।
- এ ব্লকের মৌলের পরমাণুর d1 থেকে 10 পর্যন্ত ইলেকট্রন থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫২৭.
নিচের কোন জোড়াটি সঠিক? 
  1. দ্রুতি — ভেক্টর রাশি
  2. সরণ — স্কেলার রাশি
  3. সময় — ভেক্টর রাশি
  4. বেগ — ভেক্টর রাশি
ব্যাখ্যা

• বেগ — ভেক্টর রাশি; বেগের মান ও দিক উভয়ই থাকে।

• ভৌত রাশি:

- বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে জানার জন্য বিভিন্ন রাশি পরিমাপ করতে হয়। যেমন—দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, উচ্চতা, সরণ, বেগ ইত্যাদি।
- এই প্রতিটি পরিমেয় বিষয়কে একটি করে রাশি বলা হয় এবং এগুলোকে ভৌত রাশি বলা হয়।

- পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্গত সকল ভৌত রাশিকে একইভাবে প্রকাশ করা যায় না।

- কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশ করতে শুধুমাত্র মান প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশ করতে মান ও দিক উভয়ই প্রয়োজন হয়।

- এই বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- এগুলো হলো—

ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি (Scalar Quantity),
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি (Vector Quantity).
 
• স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি (Scalar Quantity):

- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, সেগুলোকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।

উদাহরণ:

- দৈর্ঘ্য,
- ভর,
- সময়,
- তাপমাত্রা।
 
• ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি (Vector Quantity):

- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, সেগুলোকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।

উদাহরণ:

- সরণ,
- বেগ,
- ত্বরণ,
- বল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫২৮.
পদার্থবিজ্ঞানে সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রথম কে প্রদান করেন?
  1. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. নিকোলাস কোপারনিকাস
  3. জোহানেস কেপলার
  4. আইজ্যাক নিউটন
ব্যাখ্যা

• নিকোলাস কোপারনিকাস সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রদান করে পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন।

• পদার্থবিজ্ঞান:
বিশ্ব প্রকৃতিতে যা স্থান দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে তাকে পদার্থ বলে।
পদার্থ ও শক্তির প্রকৃতি এবং এদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে পদার্থবিজ্ঞান বলে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বস্তু ও শক্তির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং ফলাফল পরিমাপগতভাবে প্রকাশ করাই পদার্থবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য।

• পদার্থবিজ্ঞানের পরিসর:
- বিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি হলো পদার্থবিজ্ঞান।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রকৌশলশাস্ত্র, জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান প্রভৃতি শাখায় পদার্থবিজ্ঞানের নীতি ব্যবহৃত হয়।
- পদার্থবিজ্ঞানকে বলবিজ্ঞান, তাপবিজ্ঞান, শব্দবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, চুম্বকত্ববিজ্ঞান, তড়িৎবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

• পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ:
- থেলিস সূর্যগ্রহণ ও জ্যামিতি বিষয়ে ধারণা প্রদান করেন।
- পিথাগোরাস জ্যামিতিক উপপাদ্য ও সূত্র প্রবর্তন করেন।
- ডেমোক্রিটাস পদার্থের অবিভাজ্য একক পরমাণু ধারণা প্রদান করেন।
- আর্কিমিডিস ভাসমানতার নীতি ও জ্যামিতিতে অবদান রাখেন।
- জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়নে অবদান রাখেন।
- আল-খোয়ারিজমি গণিতে গবেষণা করেন এবং Algebra শব্দটির উৎপত্তি তাঁর গ্রন্থ থেকে।
- ইবনে আল-হাইয়াম আলোকবিজ্ঞানে অবদান রাখেন।
- আল-বিরুনি পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন।
- রজার বেকন পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধারণা প্রদান করেন।
- নিকোলাস কোপারনিকাস সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ প্রদান করেন।
- জোহানেস কেপলার গ্রহের গতিসূত্র আবিষ্কার করেন।
- গ্যালিলিও গ্যালিলি পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র, ক্যালকুলাসের নীতি ও আলোর কণাতত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন করেন।
- ওয়েরস্টেড, ফ্যারাডে, লেঞ্জ তড়িৎচুম্বকত্বে অবদান রাখেন।
- ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বক তত্ত্ব প্রদান করেন।
- মার্কনি বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন।
- রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- বেকেরেল ও মেরি কুরি তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ে অবদান রাখেন।
- জে. জে. থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং ভর-শক্তি সমীকরণ E=mc² প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ড নিউক্লিয় তত্ত্ব প্রদান করেন।
- নীলস বোর পরমাণু মডেল প্রস্তাব করেন।
- অটো হান নিউক্লিয় বিভাজন প্রমাণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব প্রদান করেন।

• অন্যান্য অপশন :
- গ্যালিলিও গ্যালিলি পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক হিসেবে পরিচিত।
- জোহানেস কেপলার গ্রহের গতিসূত্র প্রদান করেন।
- আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ সূত্র ও ক্লাসিক্যাল বলবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন।

৫,৫২৯.
রিখটার স্কেল দ্বারা কি পরিমান করা হয়?
  1. ক) ভূ - আলোড়নের সংখ্যা
  2. খ) কম্পন সংখ্যা
  3. গ) ভূ - কম্পন শক্তি
  4. ঘ) ক্ষয় - ক্ষতির মাত্রা
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫,৫৩০.
সরু চোঙের ব্যাসার্ধ নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. মিটার স্কেল
  2. স্ক্রু গজ
  3. তুলা যন্ত্র
  4. স্লাইড ক্যালিপার্স
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৩১.
হাইড্রোজেন বোমায় ক্রিয়া করে-
  1. ফিশন বিক্রিয়া 
  2. ফিউশন বিক্রিয়া
  3. ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই
  4. সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেন বোমা:
- হাইড্রোজেন বোমায় মূলত পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটে।  
- এখানে ফিশন ও ফিউশন উভয় বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমার মূল শক্তি ফিউশন বিক্রিয়া থেকে আসলেও, সেই বিক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রথমে একটি ফিশন বিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।

- প্রথমে ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- সেই শক্তি দিয়ে হাইড্রোজেন আইসোটোপ (ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম)-এর ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয়।  
- এই ফিউশন বিক্রিয়ায় অতি অল্প সময়ে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমা কে বলা হয় থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা।  
- এটি সাধারণ পারমাণবিক বোমার তুলনায় অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী।  
- সঠিক উত্তর: গ) ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই।  
- উল্লেখ্য, অপশনে, "ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই" - না থাকে - তাহলে, "ফিউশন বিক্রিয়া" - উত্তর হিসেবে গণ্য হবে।  

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে। নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে, এখানে ইলেকট্রনের কোনো ভূমিকা নেই। 
- এ বিক্রিয়ার ফলে নতুন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। 
- যে বিক্রিয়ার ফলে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে বড় মৌলের নিউক্লিয়াস অথবা কোনো বড় মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে একাধিক ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস তৈরি হয় সেই বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- বিভিন্ন রকমের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া আছে; তবে এদের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ও নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া অন্যতম। 
 
• নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ছোট ছোট নিউক্লিয়াসসমূহ একত্রিত হয়ে বড় নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন (Fusion) বিক্রিয়া বলে। 
নিচে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো-

• নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়ার সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- স্বল্পগতির নিউট্রন দিয়ে কে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি প্রায় দুইটি সমান অংশে বিভক্ত হয়ে এর নিউক্লিয়াস ও তিনটি নিউট্রন ও তার সাথে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। এটি একটি নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া। 

- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
 ব্রিটানিকা [link]

৫,৫৩২.
'প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে' - নিউটনের কোন সূত্রকে সমর্থন করে?
  1. ক) ১ম সূত্র
  2. খ) ২য় সূত্র
  3. গ) ৩য় সূত্র
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।
উদাহরণ:
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৩৩.
‘হাইড্রোজেন সালফাইড’ এর ক্ষেত্রে সঠিক নয়-
  1. ক) এটি হালকা হলুদাভ গ্যাস।
  2. খ) এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
  3. গ) এর রাসায়নিক সংকেত H2S।
  4. ঘ) জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেন সালফাইডঃ
এটি একটি রাসায়নিক যৌগ।
এর রাসায়নিক সংকেত H2S।
১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
এটি বর্ণহীন গ্যাস।
এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসের থেকে এই গ্যাস একটু ভারি।
জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।

৫,৫৩৪.
নিচের কোনটি হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা গ্যাস?
  1. লিথিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. সোডিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার:
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা
- হাইড্রোজেন (H2) গ্যাসের তুলনায় হিলিয়াম (He) গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় ৯২%।
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে।
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন।
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়।
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে।

অন্যদিকে,
- লিথিয়াম ও সোডিয়াম ধাতু, আর অক্সিজেন গ্যাস হিলিয়ামের চেয়ে ভারী।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।

৫,৫৩৫.
এক কিলোওয়াট - ঘন্টা সমান কত?
  1. ৬.৩ মেগা জুল
  2. ৩.৬ মেগা জুল
  3. ৩.৫ মেগা জুল
  4. ১ মেগা জুল
ব্যাখ্যা
কিলোওয়াট-ঘন্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
∴ ১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা। 

- আবার, অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট-ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
∴ ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
∴ ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩,৬০,০০০০ জুল = ৩.৬ মেগা জুল। 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা এই এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৩৬.
সিলিকন ডায়োডের ক্ষেত্রে নী (Knee) ভোন্টেজ হলো-
  1. 0.4 V
  2. 0.5 V
  3. 0.6 V
  4. 0.7 V
ব্যাখ্যা
জাংশান ডায়োড:
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশান বা জাংশান ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে।

• সম্মুখী ঝোঁক: যখন p-n জাংশনে বহিঃস্থ ভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয় যার ফলে এটি বিভব প্রাচীরকে হ্রাস করে বা নিষ্ক্রিয় করে তড়িৎপ্রবাহ চালু করে তখন একে সম্মুখী ঝোঁক বলা হয় ।
• বিমুখী ঝোঁক: যখন p-n জাংশনে বহিঃস্থ ভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে বিভব প্রাচীর-এর উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তখন একে বিমুখী ঝোঁক বলা হয়।

নী ভোল্টেজ:
- প্রযুক্ত ভোল্টেজের মান একটি নির্দিষ্ট মান অতিক্রম করার পর তড়িৎ প্রবাহ দ্র“ত সূচকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ডায়োডের এই নির্দিষ্ট ভোল্টেজকে প্রারম্ভিক বা সূচন ভোল্টেজ (Threshold Voltage) বা নী ভোল্টেজ বলে।
- সিলিকন ডায়োডের জন্য এই ভোল্টেজের মান 0.7V.
- জার্মেনিয়াম এর ক্ষেত্রে এই মান 0.3V.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৩৭.
সংকর ধাতু ব্রোঞ্জে কপারের পরিমাণ কত?
  1. ১০%
  2. ৯০%
  3. ৩৫%
  4. ৬৫%
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু ব্রোঞ্জে কপারের পরিমাণ ৯০% এবং টিনের পরিমাণ ১০%।

• সংকর ধাতু:

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে।
- যেমন বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 

• কয়েকটি সংকর ধাতুর উপাদান ও সংযুক্তি:

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৩৮.
থার্মোসেটিং প্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সবসময় ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়
  2. তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়।
  3. শক্ত ও কম নমনীয় হয়
  4. বারবার গলিয়ে নতুন আকৃতি দেওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• বারবার গলিয়ে নতুন আকৃতি দেওয়া যায় থার্মোপ্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য।

• গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যেমন-
১। থার্মোপ্লাস্টিক ও
২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক।

• থার্মোসেটিং প্লাস্টিক:
- এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়।
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়।
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে।
- যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৫,৫৩৯.
টেলিভিশন কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জন লজি বেয়ার্ড
  2. জি. মার্কনী
  3. জেমস হ্যারিসন
  4. আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল
ব্যাখ্যা
রঙিন টেলিভিশন: 
- টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র, যেখানে দূরবর্তী কোনো টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন থেকে শব্দের সাথে সাথে ভিডিও বা চলমান ছবিও দেখা যায়। 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রং এ ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 
- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। এই ধরনের সম্প্রচার ক্যাবল টিভি নামে পরিচিত। 
- এ ছাড়াও স্যাটেলাইট টিভি নামে এক ধরনের টিভি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার করা হয়, এটি মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৪০.
লোহার গ্যালভানাইজিং বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) লোহার উপর সীসার প্রলেপ দেয়া
  2. খ) লোহার ওপর কপারের প্রলেপ দেয়া
  3. গ) লোহাকে ইস্পাতে পরিণত করে তার ওপর কালো রঙের প্রলেপ দেয়া
  4. ঘ) লোহার ওপর দস্তার প্রলেপ দেয়া
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানাইজিং:
- লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়।
- ঘরের টিনে সহজে মরিচা পড়তে পারে না। গুড়া দুধের টিন বা টিনজাত খাবারের টিনগুলো মূলত লোহা ও ইস্পাতের তৈরি। এর উপর টিনে ধাতুর পাতলা প্রলেপ দেয়া থাকে ফলে এতে মরিচা ধরে না এবং ভিতরকার খাবার নষ্ট হয় না।
- এক ধাতুর উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেয়াকেই গ্যালভানাইজিং বলে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪১.
আদর্শ তড়িৎ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ কত?
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. তুল্যরোধের সমান
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের (Ideal Current Source) প্রতিরোধ অসীম (infinite) হয়।

একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্স সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করে, যেটি লোড বা ভোল্টেজের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হতে হবে, যাতে কোনো ভোল্টেজ পরিবর্তন হলেও কারেন্ট অপরিবর্তিত থাকে।
যদি রোধ শূন্য (zero) হতো, তাহলে ওহমের সূত্র (V = IR) অনুযায়ী, সামান্য ভোল্টেজ পরিবর্তনেও বিশাল কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারত, যা বাস্তবে সম্ভব নয়।
তাই, একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের রোধ অসীম হতে হয়, যাতে এটি যেকোনো লোডের জন্য নির্দিষ্ট কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে।

Source:
"Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
2. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.
৫,৫৪২.
সুপ্ত তাপের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? 
  1. পদার্থের আকার পরিবর্তনের সময় তাপ উৎপন্ন হয়
  2. পদার্থের ভরের কারণে তাপ বৃদ্ধি পায়
  3. পদার্থের আণবিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত
  4. পদার্থের কঠোরতা বৃদ্ধির কারণে তাপ থাকে
ব্যাখ্যা

- সুপ্ত তাপ হলো সেই তাপ যা কোনো পদার্থকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় (যেমন গলন, বাষ্পীভবন) রূপান্তর করতে লাগে, কিন্তু পদার্থের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয় না।
- সুপ্ত তাপ সরাসরি আণবিক শক্তি এবং অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত, তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য নয়।
- এটি আণবিক স্তরে শক্তি সংরক্ষণ করে।

উদাহরণ: 
- বরফ গলে পানি হতে গেলে বা পানি বাষ্পে রূপান্তর হলে। 
- বরফের তাপমাত্রা ০°C এ স্থির থাকলেও, বরফ গলতে তাপ শোষিত হয়।
- এই তাপকে বলা হয় গলন সুপ্ত তাপ। 

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica 

৫,৫৪৩.
কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কোন প্রক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে?
  1. অন্তঅভিস্রবণ
  2. বহিঅভিস্রবণ
  3. প্রস্বেদন
  4. শ্বসন
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ দু'ধরনের।
যথা -
১. অন্তঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঅভিস্রবণ ঘটে।
- অন্তঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরােমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শােষণ করতে পারে।
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।

২. বহিঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঅভিস্রবণ ঘটে।
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিম্বা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।

- অন্তঅভিস্রবণ এবং বহিঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত কার্যক্রমের ফলে উদ্ভিদের কোষ থেকে কোষান্তরে পানির চলাচল ঘটে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪৪.
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪৫.
ভরবেগ কোন ধরনের রাশি?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. মাত্রাহীন রাশি
  4. ধ্রুব রাশি
ব্যাখ্যা

• ভেক্টর রাশি — ভরবেগের মানের পাশাপাশি দিকও থাকে, তাই এটি ভেক্টর রাশি।

• ভরবেগ:
- ভরবেগ = বস্তুর ভর × বেগ।
- গাণিতিকভাবে, p = mv.
- এখানে p → ভরবেগ, m → ভর, v → বেগ।
- SI একক → kg·m/s.

• ভরবেগের প্রকৃতি:
- ভরবেগের মান ও দিক উভয়ই আছে।
- বেগের দিক পরিবর্তিত হলে ভরবেগের দিকও পরিবর্তিত হয়।
- তাই ভরবেগ একটি ভেক্টর রাশি।

• অন্যান্য অপশন:
- স্কেলার রাশি → যার শুধু মান আছে, দিক নেই।
- মাত্রাহীন রাশি → যার কোনো একক বা মাত্রা নেই।
- ধ্রুব রাশি → যার মান অপরিবর্তিত থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৫,৫৪৬.
গ্যালভানাইজিং পদ্ধতিতে কী ব্যবহৃত হয়? 
  1. দস্তা
  2. প্লাস্টিক
  3. টিন
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫,৫৪৭.
নিচের কোনটি কৃত্রিম পলিমার?
  1. নাইলন
  2. টেরিলিন
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার ও 
খ) কৃত্রিম পলিমার। 

ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪৮.
জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান কোনটি?
  1. ১০
  2. ১৪
  3. ২০
ব্যাখ্যা
• জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান 14 এবং pH এর সর্বনিম্ন মান 0.

pH স্কেল:
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
অর্থাৎ, pH = - log[H+]
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪৯.
মাটির pH কত হলে তাকে অ্যালকালিন(Alkaline) মাটি বলা হয়?
  1. 7
  2. 8
  3. 6
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মাটির pH মান নির্ধারণ করে সেটি অম্লীয় (Acidic), নিরপেক্ষ (Neutral), অথবা ক্ষারীয়/অ্যালকালিন (Alkaline) কিনা।
• সাধারণত, pH 7-এর বেশি হলে মাটিকে ক্ষারীয় (Alkaline) মাটি বলা হয়।

• pH মান অনুযায়ী মাটির ধরন:

• pH < 7 = অম্লীয় (Acidic) মাটি; 
• pH = 7 = নিরপেক্ষ (Neutral) মাটি; 
• pH > 7 = ক্ষারীয় বা অ্যালকালিন (Alkaline) মাটি; 

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৫৫০.
ডায়োড সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
  2. এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
  3. একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- ডায়োড হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা একটি নির্দিষ্ট সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করতে সক্ষম, তবে উল্টো সংযোগে প্রবাহিত হয় না।
- ডায়োডের বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। সাধারণ ডায়োডের পাশাপাশি, বিভিন্ন রঙের ছোট আলো যেমন Light Emitting Diode (LED) ব্যবহার করা হয়।
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী এবং একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহী মিলিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- 'ডায়োড' মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে, যা এসি (Alternating Current) প্রবাহকে ডিসি (Direct Current) প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৫১.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় -
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোটোপ
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা

• যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫৫২.
কোন কারণে শরীরের কিছু টিস্যু এক্স-রে ইমেজিং-এ অন্ধকার দেখায়?
  1. এক্স-রের বেশিরভাগ অংশ শোষণের জন্য।
  2. এক্স-রে প্রতিফলনের জন্য।
  3. এক্স-রে সহজে অতিক্রমণ করতে দেয়ার জন্য।
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• এক্স-রের তীব্রতা হ্রাসের বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে টিস্যুর উজ্জ্বলতা ও অন্ধকার অবস্থা নির্ধারিত হয়।
- X-ray attenuation হচ্ছে এক্স-রের তীব্রতা হ্রাস। 
- X-ray attenuation হচ্ছে কোন বস্তুর মধ্য দিয়ে এক্স-রে নির্গত হওয়ার সময় এক্স-রের তীব্রতা হ্রাস হওয়াকে বুঝায়।
- শরীরের নরম টিস্যু (যেমন রক্ত, ত্বক, চর্বি এবং পেশী) বেশিরভাগ এক্স-রেকে অতিক্রম করতে দেয় এবং ফিল্ম বা ডিজিটাল মিডিয়াতে গাঢ় ধূসর দেখায়।
- একটি হাড় বা একটি টিউমার, যা নরম টিস্যুর চেয়ে বেশি ঘন, কিছু এক্স-রে হাড় বা টিউমারের মধ্য দিয়ে যেতে দেয় এবং এক্স-রেতে সাদা দেখায়।

এক্স-রে:
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন।
- এক্স-রে এক ধরনের তড়িতচৌম্বক তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।

এক্স-রের ব্যবহার :
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায় ।
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

এক্স-রে সাধারণত ২ ধরনের হয়।
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে।

উৎস:
১) Title: "Bushberg's Physics of Medical Imaging"
Authors: Stewart C. Bushberg, John M. Boone, Edwin M. Leidholdt Jr., and J. Anthony Seibert
Publisher: Wolters Kluwer
Edition: 4th Edition (2018)
২) একাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই, শাহজাহান তপন স্যার।
৫,৫৫৩.
রান্নার কাজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর?
  1. খোলা পাত্রে রান্না
  2. বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার
  3. দীর্ঘ সময় রান্না করা
  4. প্রেসার কুকার ব্যবহার
ব্যাখ্যা

• রান্নার কাজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর।

• বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার ও অপচয় রোধের ধারণা:
- বিদ্যুৎ একটি সীমিত সম্পদ, তাই এর কার্যকর ব্যবহার ও অপচয় রোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ করে রান্নার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হলে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব।

• রান্নার কাজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়:
- প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে রান্নার সময় কম লাগে।
- কম সময়ে রান্না সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যুৎ খরচ হ্রাস পায়।
- তাপ অপচয় কম হয়, ফলে শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

• বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব:
- বিদ্যুৎ বিল কমে।
- জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংকট কমাতে সহায়তা করে।
- পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- খোলা পাত্রে রান্না: এতে তাপ অপচয় বেশি হয় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় না।
- বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার: এতে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়।
- দীর্ঘ সময় রান্না করা: এতে বিদ্যুৎ অপচয় বৃদ্ধি পায়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

৫,৫৫৪.
10 kg ভরের একটি স্থির বস্তুর ওপর 10s ব্যাপী 10 N বল প্রয়োগ করা হয়েছে। বস্তুটির গতিশক্তি কত?
  1. 50 J
  2. 500 J
  3. 1000 J
  4. 1500 J
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 10 kg ভরের একটি স্থির বস্তুর ওপর 10s ব্যাপী 10 N বল প্রয়োগ করা হয়েছে। বস্তুটির গতিশক্তি কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে, ভর, m = 10 kg
বল, F = 10 N সময়, t = 10 s
প্রাথমিক বেগ, u = 0 (বস্তুটি স্থির)

আমরা জানি,
F = ma
⇒ a = F/m = 10/10
= 1 m/s2

এখন, v = u + at সূত্র ব্যবহার করে,
v = 0 + 1 × 10 = 10 m/s

গতিশক্তি, Ek = (1/2)mv2
⇒ Ek = (1/2) × 10 × (10)2
⇒ Ek = 5 × 100
⇒ Ek = 500 J

∴ বস্তুটির গতিশক্তি = 500 J

৫,৫৫৫.
নিচের দৃশ্যমান আলোর মধ্যে কোনটির আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম?
  1. লাল
  2. নীল
  3. হলুদ
  4. কমলা
ব্যাখ্যা
• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৫৬.
P-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়?
  1. Aluminum
  2. Phosphorus
  3. Bromine
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• P-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য ডোপিং উপাদান হিসেবে Aluminum ব্যবহার করা হয়। জার্মেনিয়াম একটি অর্ধপরিবাহী উপাদান, যা ডোপিংয়ের মাধ্যমে তার পরিবাহিতা বাড়ানো যায়। P-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে এমন উপাদান প্রয়োজন যা জার্মেনিয়ামের চেয়ে একটি কম শক্তিবাহু ইলেকট্রন সরবরাহ করে। Aluminum একটি ট্রাইভ্যালেন্ট উপাদান, অর্থাৎ এর বাইরের স্তরে তিনটি ইলেকট্রন থাকে। এটি জার্মেনিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে ইলেকট্রনের ঘাটতি বা ‘হোল’ সৃষ্টি করে, যা পজিটিভ চার্জ বহনকারী হিসাবে কাজ করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) Aluminum.

• ডোপিং (Doping):

- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি।

• P- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়।
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে।

- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে।
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে।
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন।
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৫৭.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি হতে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে কত তাপের প্রয়োজন?
  1. ১০ ক্যালরি
  2. ২ ক্যালরি
  3. ৩ ক্যালরি
  4. ৪ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে 1 ক্যালরি (Cal) বলে। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
∴ এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়াতে ৪.২ জুল তাপের প্রয়োজন হয়। 
আবার, এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ (২০ ডিগ্রি হতে ৩০ ডিগ্রি) ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে ১০ ক্যালরি তাপের প্রয়োজন

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৫৮.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্র অনুযায়ী কোন তথ্যটি সঠিক নয়? 
  1. শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় 
  2. শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস আছে 
  3. শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
  4. শক্তির রূপান্তরে মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হয় না 
ব্যাখ্যা

শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র: 
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র। 
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না। 
- প্রকৃতপক্ষে নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তি ধ্বংসও করা যায় না। 
- এ বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে। 
- এই শক্তি একটু বাড়েওনি বা কমেওনি, এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৫৯.
সাধারণ খাওয়ার স্যালাইনে কী থাকে?
  1. 9% NaCl
  2. 0.9% NaCl
  3. 0.7% NaCl
  4. 7% NaCl
ব্যাখ্যা
• সাধারণ খাওয়ার স্যালাইনে  0.9% NaCl আছে।

• খাওয়ার স্যালাইন:
- খাওয়ার স্যালাইন (Oral Rehydration Saline/Orsaline) শরীরের পানি ও লবণের (Electrolytes) ঘাটতিপূরণ করার জন্য মুখে গ্রহনযোগ্য লবণ ও গ্‌লুকোজ মিশ্রিত পানি।
- ডায়রিয়া/কলেরায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারণে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- বিশেষ করে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়।
- তখন খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়।
- নরমাল স্যালাইনে পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজ বা শর্করা থাকে।
- প্রতি লিটার নরমাল স্যালাইনে ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড, গ্লুকোজের পরিমাণ ২০ গ্রামের বেশি নয় এবং এর প্রায় পুরোটাই অন্ত্রে লবণ শোষণে ব্যবহৃত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬০.
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস নিচের কোনটি? 
  1. ডায়নামো
  2. সৌরকোষ
  3. ব্যাটারি 
  4. ডিসি জেনারেটর
ব্যাখ্যা

- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস হচ্ছে 'জেনারেটর বা ডায়নামো'

তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
১. পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

২. অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৫৬১.
কোনটি মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়?
  1. আলোক তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. পানির তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: যেসব তরঙ্গে কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ চলার দিকের সঙ্গে লম্বভাবে (সমকোণে) ঘটে, সেগুলোকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলা হয়।

এর বৈশিষ্ট্য হলো:
→কণাগুলো তরঙ্গ চলার দিকে উপর-নিচে বা ডান-বামে দুলে।
→তরঙ্গে শীর্ষ (crest) ও পাদ (trough) দেখা যায়। 
→এই তরঙ্গগুলো শূন্যস্থানেও চলতে পারে। 

উদাহারনঃ আলোর তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: যেসব তরঙ্গে কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ চলার দিকের সাথে সমান্তরাল, সেগুলোকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।কণাগুলো একই সরলরেখা বরাবর সামনের দিকে-পেছনের দিকে দুলে।
- তরঙ্গে সংকোচন (compression) ও প্রসারণ (rarefaction) হয়।
- এগুলো পরিবহনের জন্য সাধারণত মাধ্যম (বায়ু, জল, কঠিন পদার্থ) প্রয়োজন হয়।

উদাহারন: শব্দ তরঙ্গ, স্প্রিংয়ে সৃষ্ট কম্পন, ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ 

• শব্দ তরঙ্গ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা সংকোচন ও প্রসারণ এর মাধ্যমে মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে ছড়ায়। এই তরঙ্গ অগ্রসর হতে কোনো না কোনো মাধ্যম (যেমন: বায়ু, জল, কঠিন পদার্থ) প্রয়োজন হয়।

শব্দ যেভাবে ছড়ায়:
-  যখন কোনো উৎস (যেমন: ঘণ্টা, স্পিকার) শব্দ সৃষ্টি করে, তখন তার চারপাশের বায়ুর কণাগুলো কম্পিত হয়।
-  কণাগুলো একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে সংকোচন (কণাগুলো কাছাকাছি আসে) এবং প্রসারণ (কণাগুলো দূরে সরে যায়) সৃষ্টি করে।
-  এইভাবে একের পর এক সংকোচন-প্রসারণ তরঙ্গাকারে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে আমরা শব্দ হিসেবে শুনি।

অন্যদিকে,
আলোক তরঙ্গ: এটি একটি তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ — এটি মাধ্যম ছাড়াই শূন্যে (vacuum) চলতে পারে।

বেতার তরঙ্গ (Radio wave): এটিও তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ, মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।

পানির তরঙ্গ: এটি পৃষ্ঠতরঙ্গ (surface wave) — এটি কণার ওঠানামার মাধ্যমে ছড়ায়, সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে নয়।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
৫,৫৬২.
pH পেপারে তীব্র এসিড কী বর্ণ ধারণ করে?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) বেগুনী
ব্যাখ্যা
pH পেপারে তীব্র এসিড লাল এবং তীব্র ক্ষার বেগুনী বর্ণ ধারণ করে।আর নিরপেক্ষ হলে সবুজ বর্ণের হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৫,৫৬৩.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি? 
  1. জল বিদ্যুৎ
  2. জিও থার্মাল
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 
যেমন: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম। 
- ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত ''পেট্রো + অলিয়াম''। 
- পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। 
অর্থাৎ, পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে। 
- আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়। 
- ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ, তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি। 

অন্যদিকে, 
- পারমাণবিক শক্তি, জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল বা ভূ-তাপীয় শক্তি হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৬৪.
E = mc2  সমীকরণটি কোনটির সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. Law of inertia
  2. Quantum field theory
  3. Theory of general relativity
  4. Theory of special relativity
ব্যাখ্যা
E = mc² হল আলবার্ট আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্বে বর্ণিত সূত্র যা  প্রকাশ করে যে ভর ও  শক্তি একই ভৌত সত্তা এবং একে অপরকে পরিবর্তন করা সম্ভব।
 
E = mc² is Albert Einstein's theory of special relativity that expresses the fact that mass and energy are the same physical entity and can be changed into each other. 
In the equation, the increased relativistic mass (m) of body times the speed of light squared (c²) is equal to the kinetic energy (E) of that body.
 
উৎস: ব্রিটানিকা 
৫,৫৬৫.
চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে কোনটি তৈরি হয়?
  1. শব্দতরঙ্গ
  2. বিদ্যুৎপ্রবাহ
  3. আলোকতরঙ্গ
  4. তাপশক্তি
ব্যাখ্যা
• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার মাধ্যমে কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলা হয়। 

যখন চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবর্তন হয় শুধু তখন বিদ্যুৎপ্রবাহ সৃষ্টি হয়।
- একটা কয়েলের মাঝখানে প্রচণ্ড শক্তিশালী একটা চুম্বক রেখে দিলে কিন্তু নড়াচড়া না করলে কয়েল দিয়ে কোনো বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে না।
- শুধু যখন চুম্বকটি নাড়িয়ে চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবর্তন করা হবে তখনই এর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৫,৫৬৬.
সান্দ্রবল কী ধরনের বল?
  1. সংরক্ষণশীল বল
  2. অসংরক্ষণশীল বল
  3. অভিকর্ষজ বল
  4. চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা

• সংরক্ষণশীল বল:
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় তাকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়।
- বস্তু বা কণার উপর সংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে।
- উদাহরণ: অভিকর্ষজ বল, বৈদ্যুতিক বল, চৌম্বক বল, আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল ইত্যাদি।

• অসংরক্ষণশীল বল:
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় না তাকে অসংরক্ষণশীল বল বলা
হয়।
- বস্তু বা কণার উপর অসংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনলেও মোট কাজ শূন্য হয় না ।
- উদাহরণ: ঘর্ষণ বল, সান্দ্র বল ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৬৭.
এসবেসটস কি?
  1. তেজস্ক্রিয় বালি
  2. লোহার আকরিক
  3. এক ধরনের সার
  4. অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ
ব্যাখ্যা
এসবেসটস অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ।

• এসবেসটস:
- এসবেসটস একটি প্রাকৃতিক খনিজ যা ফাইবার বা তন্তুর মতো গঠনযুক্ত এবং বিভিন্ন নির্মাণ ও শিল্প কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এটি প্রধানত তাপ, আগুন, রাসায়নিক ক্ষয়, এবং বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রতিরোধে কার্যকর।

• এসবেসটসের  বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ তাপ প্রতিরোধ ক্ষমতা: তাপ নিরোধক এবং অগ্নি প্রতিরোধক।
- টেকসই এবং নমনীয়: ফাইবার আকৃতির হওয়ায় এটি শক্তিশালী এবং সহজে গঠিত হয়।

ব্যবহার:
ছাদ, তাপ নিরোধক, পাইপ লাইন এবং ব্রেক প্যাড তৈরিতে।

উৎস: WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫,৫৬৮.
বিদ্যুচ্চমক সৃষ্টি হয় - 
  1. দুটি আহিত মেঘের ঘর্ষণের ফলে
  2. দুটি মেঘের ঘর্ষণের ফলে
  3. পৃথিবীর সাথে আহিত মেঘের আধান বিনিময়ের ফলে
  4. বিপরীত আধানে আহিত দুটি মেঘের মধ্যে তড়িৎক্ষরণের ফলে
ব্যাখ্যা
বজ্রপাত: 
- সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। 
- এই জলীয় বাষ্পগুলো বাতাসের আহিত আয়নগুলোর উপর ঘনীভূত হয়ে জলকণা সৃষ্টি করে এবং আহিত আয়নগুলোর আধানে আহিত হয়। 
- বাতাসে ভাসমান এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণাগুলো তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ুপ্রবাহের সাথে সাথে উপরে উঠে যায় এবং শীতল হয়। 
- তাছাড়া উপরে বায়ুর চাপ কম থাকায় বাতাস প্রসারিত হয় এবং আরো শীতল হয়। 
- শীতল ভাসমান এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণাগুলো একত্রিত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে। 
- বাতাসের আহিত আয়নগুলোর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণা সৃষ্টি করে, সেহেতু মেঘ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক যেকোনো আধানে আহিত হতে পারে। 
- মেঘের আকারের উপর তাদের আধানের পরিমান নির্ভর করে। 
- দুই ধরণের আহিত মেঘ কাছাকাছি আসলে তাদের মধ্যে তড়িৎক্ষরণ ঘটে এবং বিরাট অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিদ্যুচ্চমক সৃষ্টি হয়। 
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের তাপমাত্রা সূর্য পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশী হয়। 
- সৃষ্ট অগ্নিস্ফুলিঙ্গের পথে বাতাসগুলো তাপ পেয়ে হঠাৎ প্রসারিত হয় এবং পার্শ্ববর্তী বাতাসকে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা বা চাপ দেয়। এর ফলে প্রচন্ড শব্দ হয়। 
- এই চাপ বাতাস বাহিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আসে। 
- চাপের কিছু অংশ দুই মেঘের মধ্যে বার বার প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আসে। 
- এই জন্য আমরা গড় গড় শব্দ শুনি। একেই মেঘের গর্জন বলে। 
- প্রচুর আধানযুক্ত কোনো মেঘ যদি ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসে তাহলে আবেশ প্রক্রিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠের সেই অংশ বিপরীতধর্মী আধানে আহিত হয়। 
- সেই স্থাানের গাছপালা বা বাড়ীঘর তুলনামুলক মেঘের কাছে থাকায় এবং এর ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় এদের শীর্ষ বিন্দুগুলোর আধানের তলমাত্রিক ঘনত্ব অনেক বেশী হয়। 
- এদের আকর্ষণে তড়িৎক্ষরণের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠে চলে আসে। একে আমরা বজ্রপাত বলি। 
- এই বজ্রপাতের ফলে প্রচন্ড উত্তাপের সৃষ্টি হয় এবং আগুন ধরে যায়। 
- এই বজ্রপাতের ফলে যে শব্দের সৃষ্টি হয় তাকে আমরা বজ্রনাদ বলি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৬৯.
একটি অবতল দর্পণ ব্যবহার করে বাস্তব, উল্টানো ও বস্তুর সমান আকারের চিত্র পাওয়া গেল। বস্তুটির অবস্থান হবে-
  1. ফোকাসের ভিতরে
  2. ফোকাস ও বক্রতার কেন্দ্রের মাঝামাঝি
  3. বক্রতার কেন্দ্রে
  4. বক্রতার কেন্দ্রের বাইরে
ব্যাখ্যা

অবতল দর্পণ (Concave Mirror):
- অবতল দর্পণ এমন এক ধরনের দর্পণ যার প্রতিফলক পৃষ্ঠ ভিতরের দিকে বাঁকানো থাকে।
- এটি আলোর রশ্মিকে অভ্যন্তরের দিকে প্রতিফলিত করে, ফলে বিভিন্ন অবস্থানে বস্তু রাখলে চিত্রের অবস্থান, আকার ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়।

• অবতল দর্পণের মূল বিন্দুসমূহ:
- P (Pole): দর্পণের কেন্দ্রবিন্দু।
- F (Focus): যেখানে সমান্তরাল আলোকরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে মিলিত হয়।
- C (Center of Curvature): বক্রতার কেন্দ্র; এর ব্যাসার্ধ R = 2f

• যখন বস্তুটি বক্রতার কেন্দ্রে (C) রাখা হয়:
- প্রতিফলিত রশ্মি এমনভাবে ফিরে আসে যে চিত্রটি একই বিন্দুতে তৈরি হয়।
- চিত্রটি হয় বাস্তব, উল্টানো ও বস্তুর সমান আকারের।
 
 
 

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৫৭০.
একক সময়ে শব্দ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে কী বলে?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. কম্পাঙ্ক
  3. শব্দের গতি
  4. শব্দ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের গতি (Speed of Sound):
- শব্দের গতি (Speed of Sound) বলতে বোঝায় “এক সেকেন্ডে শব্দ যত দূরত্ব অতিক্রম করে।”
- এটি একটি ভৌত রাশি, যা সময় ও দূরত্বের উপর নির্ভর করে।
- সাধারণত শুষ্ক বায়ুতে শব্দের গতি ≈ 343 m/s (২০°C তাপমাত্রায়)।

অন্যদিকে,
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য: এক কম্পাঙ্কের মধ্যে তরঙ্গ যতটা দূরত্ব অতিক্রম করে। এটি শব্দের "একটা অংশ"।
- কম্পাঙ্ক (Frequency): প্রতি সেকেন্ডে কতবার কণার দোলন হয়। এককে হার্টজ (Hz)।
- শব্দ তরঙ্গ: শব্দের একটি সামগ্রিক রূপ বা আকার; এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৫৭১.
পৃথিবী উত্তর দক্ষিণে কিঞ্চিত চাপা ও নিরক্ষীয় অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত স্ফীত আকার ধারণ করার কারণ-
  1. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  2. মহাকর্ষ শক্তি
  3. প্রচণ্ড উত্তাপ
  4. অবিরাম আবর্তন
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকৃতি: কোনো নমনীয় বস্তু যদি নিজের অক্ষের উপর লাটিমের মতো ঘুরতে থাকে তবে তার মধ্যে একই সঙ্গে কেন্দ্রমুখী (Centripetal) এবং কেন্দ্রবিমূখী (Centrifugal) বলের উদ্ভব হয়, যার প্রভাবে গোলাকৃতি বস্তুর প্রান্তদেশ কিছুটা চাপা ও মধ্যভাগ কিছুটা স্ফীত হয়। আবর্তন গতির প্রভাবেই জন্মকাপে নমনীয় পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু একটু চাপা এবং মধ্যভাগ সামান্য স্ফীত হয়ে যায়। বিজ্ঞানী নিউটন বলেন যে, পৃথিবীর আবর্তনের ফলেই এর আকৃতি এমন হয়েছে।

• আবর্তন বা আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীতে যেসব পরিবর্তন হয়:
- দিন-রাত্রি হয়, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়, সময় নির্ধারণ করা যায়, নিয়ত বায়ুপ্রবাহের ও সমুদ্রস্রোতের গতিবিক্ষেপ হয়, জোয়ার ভাটা হয়, পৃথিবী উত্তর দক্ষিণে কিঞ্চিত চাপা ও নিরক্ষীয় অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত স্ফীত আকার ধারণ করে।

অন্যদিকে,
• বার্ষিক গতির ফলে ভূ-পৃষ্ঠে যেসব পরিবর্তন হয়:
- বছর বা সময়কাল নির্ধারণ করা যায়, দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি হয়, ঋতু পরিবর্তন হয়।

[উক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বা মহাকর্ষ শক্তির সাথে পৃথিবী উত্তর দক্ষিণে কিঞ্চিত চাপা ও নিরক্ষীয় অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত স্ফীত হওয়ার সাথে কোন সর্ম্পক নেই। যেহেতু অবিরাম আবর্তনের সাথে আহ্নিক গতির সর্ম্পক রয়েছে তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে অবিরাম আবর্তন উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং INSIDE SCIENCE.ORG।[LINK]
৫,৫৭২.
মেঘাচ্ছন্ন আকাশে রাত অপেক্ষাকৃত গরম হয়, কারণ-
  1. বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কম থাকায়
  2. বায়ুমণ্ডলীয় ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায়
  3. বায়ুমণ্ডলে বেশি পরিমাণ ধূলিকণা থাকায়
  4. মেঘ মাটি থেকে বায়ুতে তাপ বিকিরণে বাধা দেয়
ব্যাখ্যা
- আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- এই মেঘলা থাকার কারণে দিনের যে তাপ থাকে তা উপরে যেতে মেঘ বাধা দেয়।
- তাই এ তাপ ভূ - পৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- এ তাপের জন্য মেঘলা রাতে শিশির জমে না এবং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৭৩.
আইসোটোপ বলতে কী বোঝায়?
  1. একই প্রোটন সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যা
  2. একই নিউট্রন সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন প্রোটন সংখ্যা
  3. একই ভর সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন পারমাণবিক সংখ্যা
  4. একই ইলেকট্রন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়।
- আইসোটোপ গুলো একই মৌলের পরমাণু হয়ে থাকে।
যেমন- হাইড্রোজেন পরমাণুর ৭ টি আইসোটোপ আছে। যার মধ্যে ৩ টি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

অপরদিকে,
• আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা একই ও পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলা হয়

• আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ও প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৭৪.
সমুদ্রকে নীল দেখানোর কারণ হলো আপতিত সূর্য রশ্মির -
  1. বিক্ষেপণ
  2. প্রতিফলন
  3. প্রতিসরণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের আলোর মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- যখন এক আলোক তরঙ্গ অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার ওপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। একে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- এ বিক্ষেপণ নির্ভর করে আলোক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ওপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি।
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়।  
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়। 
- যখন এই আলোকরশ্মি সাগরের পানিতে এসে প্রবেশ করে তখন লাল, কমলা, হলুদ এইসব দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো পানির মধ্যে দৃঢ়ভাবে শোষিত হয়ে যায়। 
- কিন্তু ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলো তেমনটা শোষিত না হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়। তখন আমরা সাগরের পানি নীল রঙের দেখতে পাই। 

উৎস:
১. [NASA]
২. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৫৭৫.
পানির অণু একটি-
  1. প্যারাচুম্বক
  2. ডায়াচুম্বক
  3. ফেরােচুম্বক
  4. অ্যান্টিফেরােচুম্বক
ব্যাখ্যা
• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
- অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৭৬.
নিম্নের কোন বাক্যটি সত্য নয়?
  1. পদার্থের নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে
  2. প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত
  3. ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত
  4. ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একটি ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটন একটি ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 

অন্যদিকে, 
- ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৭৭.
অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে কোন যৌগগুলো উৎপন্ন করে? 
  1. পানি ও ক্ষার
  2. অক্সিজেন ও লবণ
  3. লবণ ও ক্ষারক
  4. লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা
লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 
যেমন- 
• HCl + NaOH → NaCl + H2
• এসিড + ক্ষার → লবণ + পানি 
- এছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। এই লবণগুলোর মধ্যে কোনটি অম্লীয়, আবার কোনো কোনটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
১) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3
২) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3
৩) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৫৭৮.
হ্যালোজেন শব্দের অর্থ -
  1. ক) সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক 
  2. খ) উদ্ভিদ 
  3. গ) সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন শব্দের অর্থ 'সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক'।
হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন (F2), ক্লোরিন (Cl2), ব্রোমিন (Br) এবং আয়োডিন (I) এ চারটি মৌলকেই বোঝায়।
হ্যালোজেন এসিডসমূহের শক্তির ক্রম:  
HI > HBr > HCl > HF
৫,৫৭৯.
এক্স-রের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. কম ভেদন ক্ষমতা
  2. অদৃশ্য রশ্মি 
  3. চার্জযুক্ত কণা 
  4. দৃশ্যমান রশ্মি 
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (x-rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি থেকে এক্স-রে (x-rays) আবিষ্কার করেন।
- প্রফেসর রঞ্জন একে 'x-rays' নামে অভিহিত করেন, পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না, সুতরাং এক্স-রের কোন চার্জ নাই। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৮০.
স্ফেরোমিটার কোন ধরনের বস্তুর পরিমাপের জন্য ব্যবহার করা হয়? 
  1. বাতাসের চাপ 
  2. তরল পদার্থের ঘনত্ব 
  3. ভারী ধাতব পদার্থের ওজন 
  4. গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ
ব্যাখ্যা

স্ফেরোমিটার: 
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- এটি তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)} 
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৫,৫৮১.
পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে কত ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে?
  1. ক) ০.৭৪
  2. খ) ০.৮৬
  3. গ) ০.৯৮
  4. ঘ) ১.০০
  5. ঙ) ২.০০
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৫৮২.
শব্দ সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
  1. বস্তুর কম্পন
  2. বস্তুর প্রসারণ
  3. মাধ্যমের প্রসারণ
  4. মাধ্যমের সংকোচন
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে।
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে কানে প্রবেশ করে।
- কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
যেমন- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৮৩.
নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান কত?
  1. -১
  2. +১
  3. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিউট্রন: 

- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য। 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n.
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g.

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৮৪.
প্রতি সেকেন্ডে ১ জুল কাজ করলে কত ওয়াট কাজ করা হয়েছে বুঝায়? 
  1.  ০.১ ওয়াট 
  2.  ১.০ ওয়াট
  3. ১০ ওয়াট
  4. ১০০ ওয়াট
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W পরিমাণ কাজ করা হলে ক্ষমতা P হবে, P = W/t. 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। তাই বলা যায়, ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। 
- কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে- ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে, [P] = ML2T -3
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে বলা হয় 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে বুঝায়। 
- 100 W এর একটা বাতি জ্বালানোর অর্থ হচ্ছে বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 
- আবার যখন শুনা যায়, দেশে 1000 MW নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হবে তার অর্থ সেই নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে প্রতি সেকেন্ডে 1000×106 ওয়াট বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫৮৫.
যে ট্রান্সফরমারে সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা প্রাইমারির তুলনায় কম হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. প্রাইমারি ট্রান্সফরমার
  2. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
  3. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
  4. সিকোয়েন্স ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

- যে ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা প্রাইমারি তুলনায় কম হয়, তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলা হয়, কারণ এটি ভোল্টেজ কমিয়ে দেয়, যা কম প্যাঁচের কারণে ঘটে। 

ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 

- প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু বৈদ্যুতিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেটা পরিমাপ করা হয় VI (ভোল্টেজ × কারেন্ট) দিয়ে, একটা ট্রান্সফরমারে প্রাইমারিতে যে পরিমাণ VI প্রয়োগ করা হয়, সেকেন্ডারি কয়েল থেকে ঠিক সেই পরিমাণ VI ফেরত পাওয়া যায়। কাজেই সেকেন্ডারিতে যদি ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়িয়ে নেয়া যায় তাহলে সেখানে বিদ্যুৎও দশ গুণ কমে যাবে। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫৮৬.
দুটি লম্বালম্বি বলের পরিমাণ 15N এবং 8N, তাদের লব্ধি বলের পরিমাণ কত?
  1. 14 N
  2. 15 N
  3. 16 N
  4. 17 N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি বলের পরিমাণ 15N এবং 8N, তাদের লব্ধি বলের পরিমাণ কত?

সমাধান:
দুটি লম্বালম্বি বলের পরিমাণ 15N এবং 8N
∴ তাদের লব্ধি বলের পরিমাণ = √(152 + 82)
= √(225 + 64)
= √289
= 17 N
৫,৫৮৭.
জিংক এর খনিজ উৎস কোনটি?
  1. ক্যাসিটেরাইট
  2. ক্যালামাইন
  3. হেমাটাইট
  4. গ্যালেনা
ব্যাখ্যা

• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।

• খনিজ সম্পদ:
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ক্যাসিটেরাইট (SnO2): এটি মূলত টিন (Tin)-এর প্রধান খনিজ আকরিক।
- হেমাটাইট (Fe2O3): এটি আয়রন বা লোহার সবচেয়ে পরিচিত অক্সাইড আকরিক।
- গ্যালেনা (PbS): এটি লেড বা সীসার প্রধান খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫৮৮.
পানির pH এর মান কমে গেলে পানির অম্লত্ব -
  1. বেড়ে যায়
  2. কমে যায়
  3. শূন্য হয়
  4. স্থির থাকে
ব্যাখ্যা
পানির অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- পানির অম্লত্ব এবং ক্ষারকত্বের পরিমাপক হলো pH । 
- সাধারণত লিটমাস পেপারের রঙের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করা হয়। 
- পানির অম্লত্ব এবং ক্ষারকত্বের পরিবর্তনের সাথে সাথে লিটমাস পেপারের রঙের পরিবর্তন ঘটে। 
- জলাধারের pH পরিবর্তন হয় মূলত উদ্ভিদের সালোক সংশ্লেষণের কারণে। 
- pH হলো H+ এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 
অর্থাৎ pH = - log[H+] । 
- পানির pH নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত জরুরী। 
- পানির pH এর মান কমে গেলে পানির অম্লত্ব বেড়ে যায়। এতে জলজ প্রাণি ও উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যায়। 
- জলজ জীব ও পান যোগ্য পানির pH এর মান 6.5 থেকে 8.5 হওয়া উচিত। এটি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক নির্ধারিত মান। 
- বাংলাদেশের আদর্শমান হলো 6.5 থেকে 9.2। 
- মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণির বসবাসের উপযোগী পানির pH এর মান 6.5 থেকে 8.5 এর চেয়ে সামান্য কম বা বেশি। 
অর্থাৎ পানির pH এর মান 4.5 থেকে কম এবং 9.5 থেকে বেশি হলে তা জীবের জন্য প্রাণঘাতী হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৫৮৯.
কোনো একটি বস্তুর দৈর্ঘ্য 4.0 ± 0.5 cm হলে, নিচের কোনটি বস্তুটির দৈর্ঘ্য হতে পারে না? 
  1. 3.1 cm
  2. 3.8 cm
  3. 4.0 cm
  4. 4.4 cm
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোনো একটি বস্তুর দৈর্ঘ্য 4.0 ± 0.5 cm হলে, নিচের কোনটি বস্তুটির দৈর্ঘ্য হতে পারে না? 

সমাধান: 
বস্তুটির দৈর্ঘ্য 4 - 0.5 cm বা, 3.5 cm থেকে 4 + 0.5 cm বা 4.5 cm এর ভেতর যেকোন মান হতে পারে।
৫,৫৯০.
দুধ দাঁতের সংখ্যা-
  1. ২০টি
  2. ২৪টি
  3. ২৮টি
  4. ১৬টি
ব্যাখ্যা
- মানুষের চোয়ালে চার ধরনের দাঁত উপস্থিত থাকে।
- পরিণত মানুষের চোয়ালে মোট দাঁতের সংখ্যা ৩২টি।
- মানুষের দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৫,৫৯১.
What is a gas pressure gauge called?
  1. Barometer
  2. Manometer
  3. Hygrometer
  4. Pyrometer
  5. Fadometer
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:
- দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম ল্যাকটোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫,৫৯২.
কৃত্রিম পলিমার নয় কোনটি?
  1. সেলুলোজ
  2. পলিস্ট্যারিন
  3. পলিইথিলিন
  4. পলিভিনাইল ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার ও 
খ) কৃত্রিম পলিমার। 

ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৯৩.
MRI যন্ত্রে কোন ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয়?
  1. আলোক বিকিরণ
  2. এক্স-রে
  3. গামা বিকিরণ
  4. রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

এমআরআই (MRI): 
- এমআরআই এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্রটি কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই এমআরআই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৯৪.
গামা রশ্মি বিকিরণে কোনটি পরিবর্তিত হয়?
  1. ইলেকট্রন সংখ্যা
  2. প্রোটন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (β)
- গামা রশ্মি, স্বল্পতম তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং সর্বোচ্চ শক্তির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- এটি নির্গমনের ফলে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এই রশ্মির কোনো ভর নেই।
- আয়নিত করার ক্ষমতা সর্বনিম্ন ও ভেদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ।


- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- তবে গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- কিন্ত মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর এই গামা রশ্মি।

তথ্যসূত্র:  পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৯৫.
আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করার জন্য আইনস্টাইন কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ক) ১৯০১
  2. খ) ১৯০৫
  3. গ) ১৯২১
  4. ঘ) ১৯২৫
ব্যাখ্যা
কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া বলে। আলোর তরঙ্গ ধর্মের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। সেজন্য তাকে ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৯৬.
Which of the following is a semiconductor?
  1. Germanium
  2. Silicon
  3. Aluminium
  4. Both A and B
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
- যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৯৭.
একমুখীকরণের কাজ নিচের কোন যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয়?
  1. অ্যামপ্লিফায়ার 
  2. রেফটিফায়ার 
  3. ট্রানজিস্টর 
  4.  ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে। 
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে। 
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না। 
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 
 
উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৯৮.
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর আদর্শ মান কত?
  1. 9.75 ms²
  2. 9.81 ms²
  3. 11.75 ms²
  4. 9.63 ms²
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষ:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms², মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms²।
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms² ও সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 ms²।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে ৪-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 ms²।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms²।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৯৯.
'ডিনামাইট' আবিষ্কার করেন কে? 
  1. টমাস আলভা এডিসন
  2. আলফ্রেড নোবেল
  3. টি এইচ মাইম্যান
  4. ওপেনহেমার
ব্যাখ্যা
- ডিনামাইট আবিষ্কার করেন - আলফ্রেড নোবেল। 

অন্যদিকে, 
- ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা, 
- থিওডর মাইম্যান আবিষ্কার করেন লেজার রশ্মি, 
- টমাস আলভা এডিসন আবিষ্কার করেন গ্রামোফোন, ফনোগ্রাফ, সিনেমা প্রজেক্টর, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) ইত্যাদি। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৬০০.
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎপ্রবাহমাত্রা সরাসরি পরিমাপ করা হয় তাকে কী বলে? 
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. তড়িৎ প্রবাহ মিটার 
  4. ব্যারোমিটার 
ব্যাখ্যা

অ্যামিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।