বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫২ / ৬৪ · ৫,১০১৫,২০০ / ৬,৪০৯

৫,১০১.
20 Hz এর নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে কী বলা হয়? 
  1. শব্দেতর তরঙ্গ 
  2. শব্দোত্তর তরঙ্গ 
  3. শ্রাব্য তরঙ্গ 
  4. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- 20 থেকে 20,000 Hz এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। - অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। 
- মানুষ ভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো -


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,১০২.
অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে? 
  1. রাদারর্ফোড
  2. এডিসন
  3. জোসেফ প্রিস্টলে
  4. ভ্যান হেলমন্ট
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন। 
- অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক। 

অন্যদিকে, 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন। 
- জ্যান ভ্যান হেলমন্ট উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে তার অগ্রণী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত, সাধারণত "willow tree experiment" হিসাবে পরিচিত। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে উদ্ভিদ প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র মাটির চেয়ে মূলত পানি থেকে তাদের ভর অর্জন করে, উদ্ভিদের দেহতত্ত্ব এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে পানির ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং ব্রিটানিকা।
৫,১০৩.
নিচের কোন শক্তির উৎসটি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কয়লা
  2. বায়োগ্যাস
  3. বায়ুশক্তি
  4. পানির জোয়ারভাটা
ব্যাখ্যা

• কয়লা অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

• শক্তির উৎস:

- আমরা বিভিন্ন শক্তির উৎস থেকে শক্তি পাই। এই শক্তির উৎস প্রধানত দুই ধরনের—

- নবায়নযোগ্য শক্তি,
- অনবায়নযোগ্য শক্তি।
 
• নবায়নযোগ্য শক্তি:

- নবায়নযোগ্য শব্দ থেকেই বোঝা যায় যে, যে শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় বা নতুন করে উৎপাদন করা যায়, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি বলা হয়।
- অর্থাৎ, কোনো উৎস ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের পর সেই উৎসটি আবার ব্যবহার করে পুনরায় শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হলে, সেই শক্তি উৎসকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলা হয়।

• নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য:

- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বারবার ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তি সাধারণত পরিবেশবান্ধব।
- দীর্ঘমেয়াদে এই শক্তির উৎস নিঃশেষ হয়ে যায় না।
 
• নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ:

- সূর্যশক্তি,
- বায়ুশক্তি,
- পানি,
- বায়োগ্যাস,
- পানির জোয়ারভাটা।

• অনবায়নযোগ্য শক্তি:

- অনবায়নযোগ্য শক্তি বলতে সেই শক্তিকে বোঝায়, যা একবার ব্যবহার করা হলে তার উৎস থেকে পুনরায় শক্তি উৎপাদন করা যায় না।
- এই শক্তির উৎসগুলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন হতে অত্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগে অথবা আদৌ পুনরায় উৎপন্ন হয় না।

- ফলে, মানুষ যেসব হারে এই শক্তি ব্যবহার করছে, তার তুলনায় প্রকৃতিতে এগুলো তৈরি হতে অনেক বেশি সময় প্রয়োজন হয়।
- এই কারণেই অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস একসময় নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 
• অনবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য:

- একবার ব্যবহার করলে পুনরায় উৎপাদন করা যায় না।
- প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হতে দীর্ঘ সময় লাগে।
- অধিক ব্যবহারে শক্তির সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
- পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
 
• অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ:

- কয়লা,
- তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস,
- ইউরেনিয়াম।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

৫,১০৪.
ট্রান্সফরমার কী পরিবর্তন করতে পারে? 
  1. দিক 
  2. শক্তি 
  3. ফ্রিকোয়েন্সি 
  4. বিভব 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,১০৫.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) বিজারক
  2. খ) বিকারক
  3. গ) জারক
  4. ঘ) ক এবং খ
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫,১০৬.
এক অশ্বক্ষমতা (HP) = কত ওয়াট?
  1. 786 ওয়াট
  2. 800 ওয়াট
  3. 746 ওয়াট
  4. 1000 ওয়াট
ব্যাখ্যা

• 1 অশ্বক্ষমতা (HP) = 746 ওয়াট।

• ক্ষমতা:
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ -করা হয়।
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতা, P = সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়।
- কোনো যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা।
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
- এক অশ্বক্ষমতা (HP) = 746 ওয়াট।
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3.

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১০৭.
কয়লার মূল উপাদান কোনটি?
  1. O
  2. C
  3. Ca
  4. Na
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা- ১। অ্যানথ্রাসাইট,  ২। বিটুমিনাস এবং ৩। লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১০৮.
পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কোনটি?
  1. বায়বীয়
  2. কঠিন
  3. গ্যাসীয়
  4. তরল
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১০৯.
আইসি তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয় না? 
  1. রেজিস্টর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাপাসিটর
  4. ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৫,১১০.
বিভবশক্তি কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. ক) বেগ
  2. খ) উচ্চতা
  3. গ) ত্বরণ
  4. ঘ) সরণ
ব্যাখ্যা
m ভরের একটি বস্তুকে ভূ-পৃষ্ঠ হতে অভিকর্ষজ বলের বিরুদ্ধে h উচ্চতায়  উঠানো হলে বিভবশক্তি = mgh
এটি উচ্চতার উপর নির্ভর করে। 

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,১১১.
বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে শক্তির কোন রূপান্তর ঘটে?
  1. রাসায়নিক শক্তি → বিদ্যুৎ শক্তি 
  2. তাপ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি 
  3. যান্ত্রিক শক্তি → তাপ শক্তি 
  4. আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- এখানে কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হলো-
১। যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

২ । রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৩। তাপ শক্তির রূপান্তর: 
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়। 

৪। আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৫। বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৬। শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

৭। চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৮। নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর: 
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়। 
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১১২.
পরমাণুর অস্থায়ী কণিকার উদাহরণ কোনটি?
  1. নিউট্রন
  2. নিউট্রিনো
  3. ইলেকট্রন
  4. প্রোটন
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের। 
যেমন- 
(১) স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

(২) অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

(৩) কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১১৩.
তড়িৎ ধারক আবিষ্কার করেন কে?
  1. ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক
  2. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  3. সি. এফ. ডুফে
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক ১৭৪৬ সালে তড়িৎ ধারক অবিষ্কার করেন।
- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৪৭ সালে আবিষ্কার করেন যে চার্জ দুই প্রকারঃ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক।
- সি. এফ. ডুফে ১৭৩৩ সালে আবিষ্কার করেন যে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন চার্জ বিপরীতধর্মী।
- ম্যাক্সওয়েল বেতার তরঙ্গের উদ্ভাবন করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫,১১৪.
ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম দেখায় কোন মৌলটি?
  1. ক) Zn
  2. খ) Cr
  3. গ) Fe
  4. ঘ) Ca
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম দেখায় Cr মৌলটি। 

• ইলেকট্রনের প্রবেশক্রম অনুসারে Cr এর ইলেকট্রন বিন্যাস হওয়ার কথা ছিলো- Cr(24) = 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2.
-  কিন্তু প্রচলিত নিয়মানুযায়ী অরবিটাল গুলো পূর্ণ বা অর্ধপূর্ণ অবস্থায় অধিক স্থিতিশীল হয়। তাই শেষদিকে শুধু একটি অরবিটাল (4s) পূর্ণ রাখার চেয়ে, দুটি অরবিটাল (3d, 4s) অর্ধপূর্ণ রাখলে ক্রোমিয়াম অধিকতর সুস্থিতি অর্জন করে।
- এই সুস্থিতি অর্জন করতেই ক্রোমিয়াম সাধারণ নিয়ম ভঙ্গ করে 4s থেকে একটি ইলেকট্রন 3d-তে পাঠিয়ে দেয় এবং নিম্নোক্ত বিন্যাস অর্জন করে: Cr(24) = 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d5 4s1.
- ফলে ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে।

উৎস: রসায়ন-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১১৫.
কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব -
  1. ২৫ মি.মি.
  2. ২.৫ সে.মি.
  3. ২৫ সে.মি.
  4. ২৫ মি.
ব্যাখ্যা
দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব:
- যে নিকটতম দূরত্ব পর্যন্ত চোখ বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায় তাকে স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম বা নিকটতম দূরত্ব বলে।
- কোন বস্তু স্পষ্ট দর্শনের জন্য ন্যূনতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- চোখের লেন্স থেকে ২৫ সে.মি. দূরবর্তী বিন্দুতে স্থাপিত বস্তুটিকে সুন্দর সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- এর থেকে কম দূরত্বে স্থাপিত বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১১৬.
চোখের কোন স্তরটি আলোক সংবেদী?
  1. রেটিনা
  2. স্ক্লেরা
  3. কর্নিয়া 
  4. লেন্স
ব্যাখ্যা

- রেটিনা হলো মানুষের চোখের সবচেয়ে ভেতরের আলোক সংবেদী স্তর। এতে রড ও কোণ নামক দুই ধরনের বিশেষ আলোক সংবেদী কোষ থাকে, যা আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং আমাদের দেখতে সাহায্য করে। 

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৫,১১৭.
খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য কোন লবণ ব্যবহৃত হয় যা ‘টেস্টিং সল্ট’ নামে পরিচিত?
  1. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  2. সোডিয়াম স্টিয়ারেট 
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১১৮.
হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোনটি নেই?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H এবং সংকেত H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,১১৯.
ডায়োডের প্রধান কাজ কী?
  1. একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
  2. ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা
  3. সার্কিটে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা
  4. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

◉ ডায়োড (Diode) হলো একটি সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্র, যা কেবল একদিকে তড়িৎ প্রবাহ যেতে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহ বাধা দেয়।

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১২০.
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ক) ১৮ ভাগ
  2. খ) ২২ ভাগ
  3. গ) ২৫ ভাগ
  4. ঘ) ২৭ ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫% গাছপালা-বন থাকা দরকার। [সূত্র: ais.gov.bd]
৫,১২১.
প্রাকৃতিক রাবার কোন জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয় নয়?
  1. এসিটোন
  2. পেট্রোল
  3. বেনজিন 
  4. ইথার
ব্যাখ্যা

- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়। যেমন- এসিটোন (acetone) এবং মিথানলের (methanol) মতো জৈব দ্রাবকে প্রাকৃতিক রাবার অদ্রবণীয়। 

রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার ইরেজার এক ধরনের রাবার। সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি রাবারের তৈরি। পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপলও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১২২.
কোন শক্তির উৎস কখনও ফুরিয়ে যায় না? 
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  2. নিউক্লিয় শক্তি 
  3. অনবায়নযোগ্য শক্তি 
  4. নবায়নযোগ্য শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- শুধু যে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের শক্তির ওপর মানুষ ভরসা করে আছে তা নয়, এই মুহূর্তেও তারা এমন শক্তির ওপর ভরসা করে আছে, যেগুলো ফুরিয়ে যাবে না। 
- সে শক্তিগুলো আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই শক্তিগুলো অফুরন্ত, যেগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy)। 
অর্থাৎ, যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, সে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে, তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাই শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১২৩.
জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান কোনটি?
  1. ১০
  2. ১৪
  3. ২০
ব্যাখ্যা
• জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান 14 এবং pH এর সর্বনিম্ন মান 0.

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয় 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১২৪.
কোন রঙের আলোর বিক্ষেপণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম? 
  1. হলুদ
  2. লাল
  3. সবুজ
  4. নীল
ব্যাখ্যা

লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 × 10-7m থেকে 7 × 10-7m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,১২৫.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে থাকে-
  1. রেজিস্টর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাপাসিটর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- যার ফলে সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১২৬.
সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টরে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়? 
  1. অবতল
  2. অ্যানামর্ফিক লেন্স 
  3. দ্বি-উত্তল
  4. উত্তল ও অবতল
ব্যাখ্যা

• সিনেমাক্সোপ (Cinemascope) প্রজেক্টরে সাধারণত অ্যানামর্ফিক লেন্স (Anamorphic Lens) - (সিলিনড্রিক্যাল লেন্স) ব্যবহার করা হয়।

• Cinemascope কী?
- Cinemascope হলো একটি ওয়াইডস্ক্রিন ফরম্যাট যা ১৯৫০-এর দশকে জনপ্রিয় হয়। এটি 35mm ফিল্ম ব্যবহার করে, কিন্তু চিত্রটিকে হরাইজন্টালি সংকুচিত (squeeze) করে রেকর্ড করা হয়।

- লেন্সের ভূমিকা:
- অ্যানামর্ফিক লেন্স ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয় চিত্রটিকে সংকুচিত করে ধারণ করতে (সাধারণত 2:1 অনুপাতের সংকোচন)।

- প্রজেকশন টাইমে আবার একটি অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করে সংকুচিত চিত্রটিকে পুনরায় প্রসারিত করে সঠিক অনুপাত ও রেশিওতে স্ক্রিনে দেখানো হয়।
- ব্যবহার করা হয়:
- 1.5x বা 2x অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স, যা সংকুচিত চিত্রটিকে 2.35:1 বা 2.39:1 স্ক্রিন রেশিওতে পুনঃপ্রসারিত করে।
- সিনেমাক্সোপ প্রজেক্টরে অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করা হয়, যা সংকুচিত চিত্রকে পুনরায় প্রাকৃতিকভাবে স্ক্রিনে দেখায়।

সূত্র: widescreenmuseum [লিংক]

৫,১২৭.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ
  2. একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ
  3. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণ একটি মহাকর্ষ
  4. উপরের সবকয়টি সত্য
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে এই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল (Gravitational force) বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ (gravitational force) বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।

মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণকে মহাকর্ষ বলে।

• অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
• অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
• অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
• মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
• অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
• সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
• গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
• একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১২৮.
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ নীল দেখানোর কারণ কোনটি?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিক্ষেপণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলোর বিক্ষেপণ:
- আলো কোন মাধ্যমে যাওয়ার পথে মাধ্যমের কণাগুলোর সাথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করে তাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে।
- সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা ,পানিকণা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বেগুনী, নীল, আসমানি প্রভৃতি বর্ণের বিক্ষেপণ বেশি ঘটে।
- আলোর বিক্ষেপণ এর ফলেই আকাশ নীল দেখায়।
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশের খানিকটা অংশ গাড় লাল দেখায়।

অন্যদিকে -
- আলোর প্রতিফলন: আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশকালে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়ে যদি পূর্বের মাধ্যমেই ফিরে আসে তবে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
- আলোর প্রতিসরণ: আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে দিক পরিবর্তন করে। এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,১২৯.
ঘনত্বের S.I একক কী? 
  1. g/mL
  2. kg/m3
  3. kg/L
  4. g/cm3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব (Density): 
- একই আয়তনের সকল পদার্থের ভর সমান নয়, তাই পদার্থের একক আয়তনের ভরকে তার ঘনত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
যেমন- দশ একক আয়তনের বস্তুর ভর বিশ একক হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব দুই একক। 
অর্থাৎ, বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V  । 
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং আয়তনের একক ঘনমিটার (m3), তাই ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)
- ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার (সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা g/cm3) বহুল প্রচলিত, এটি S.I এককের উপগুণিতক। 

- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3  । 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৩০.
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তি কী করে? 
  1. বাড়ে
  2. কমে যায়
  3. শূন্য হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল। এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৩১.
পোস্ট অফিস বক্স নিচের কোন নিয়মটি মেনে চলে?
  1. হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি
  2. ফ্যারাডের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. জুলের সূত্র
ব্যাখ্যা
পোস্ট অফিস বক্স: 
- যে রোধ বাক্সের রোধগুলোকে হুইটস্টোন ব্রিজের তিনটি বাহু হিসেবে বিবেচনা করে এর সাহায্যে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে পোস্ট অফিস বক্স বলে। 
- পোস্ট অফিস বক্স হুইটস্টোন ব্রিজের নীতির আরেকটি রূপ। 
- পূর্বে পোস্ট অফিসের লোকজন টেলিগ্রাম, টেলিফোন লাইনের তারের রোধ নির্ণয়ের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন বলে একে পোস্ট অফিস বক্স বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৫,১৩২.
কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল?
  1. সালফার
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. মার্কারী
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- পারদ (Hg - মার্কারী) একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০।
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস।
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে।
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৩৩.
কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?
  1. ইউরিয়া
  2. কয়লা
  3. জিপসাম
  4. বিটুমিন
ব্যাখ্যা

• জিপসাম (CaSO4.2H2O) হলো সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল।

- সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামালসিমেন্ট শিল্পের সহায়ক উপাদানসমূহ:
- চুনাপাথর, কাদামাটি, জিপসাম প্রভৃতি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- যেসব দেশে এসব উপাদান বেশি পাওয়া যায় সেসব দেশ সিমেন্ট শিল্পে উন্নতি লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে এসব কাঁচামালের অভাব রয়েছে।
- ফলে এদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি।
 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৫,১৩৪.
নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. একবার ব্যবহার করা যায়
  2. পরিবেশের ক্ষতি করে
  3. বারবার ব্যবহার করা যায়
  4. সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

- নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে এমন সব শক্তির উৎসকে বোঝায় যা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় পূরণ বা রিফিল হয়

শক্তি: 

- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না। 
- শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়, তাই জীবনের জন্য প্রয়োজন শক্তির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধান করে চলছে। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy): 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি, বায়োমাস শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable energy): 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- শক্তির চাহিদা মেটাতে আমাদেরকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 
- শক্তির সঠিক ও কার্যকর ব্যবহারে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৩৫.
সুষম খাদ্যের উপাদান-
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য।
- সুষম খাদ্যের উপাদান হচ্ছে ৬টি।
- এগুলো হলোঃ
১. শর্করা বা শ্বেতসার,
২. আমিষ বা প্রোটিন,
৩. ফ্যাট বা চর্বি,
৪. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ,
৫. খনিজ লবণ ও
৬. পানি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৩৬.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. সমচাপ প্রক্রিয়া
  2. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  3. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৫,১৩৭.
Which of the following is not a metal?
  1. Gold
  2. Diamond
  3. Silver
  4. Copper
  5. None of these
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার (Silver), গোল্ড (Gold), কপার (Copper) ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু। 
- আবার কার্বন (গ্রাফাইট ও হীরক-Diamond), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ই্যাদি হচ্ছে অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,১৩৮.
পটাশ অ্যালামের অপর নাম কী? 
  1. ব্লিচিং পাউডার
  2. বেকিং সোডা
  3. চুন
  4. ফিটকিরি
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

অন্য অপশনগুলো-
ক) ব্লিচিং পাউডার - Ca(OCl)2, আলাদা রাসায়নিক পদার্থ।
খ) বেকিং সোডা - NaHCO3, রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
গ) চুন - CaO বা Ca(OH)2, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৩৯.
একটি বস্তুর ভর ২০ কেজি। এর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হওয়ায় এর ত্বরণ হলো ২ মি./সে । প্রযুক্ত বলের মান কত ছিল?
  1. ৬০ নিউটন
  2. ৪০ নিউটন
  3. ৭৫ নিউটন
  4. ৮০ নিউটন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বস্তুর ভর ২০ কেজি। এর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হওয়ায় এর ত্বরণ হলো ২ মি./সে । প্রযুক্ত বলের মান কত ছিল? 

সমাধান: 
এখানে, 
বস্তর ভর, m = ২০ কেজি, 
ত্বরণ, a = ২ মি/সে
বল, F = ? 

আমরা জানি,
F = ma
= ২০ কেজি × ২ মি/সে
= ৪০ নিউটন 

সুতরাং, প্রযুক্ত বলের মান = ৪০ নিউটন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৪০.
ধারকের ব্যবহার নয় কোনটি?
  1. বেতার গ্রাহক যন্ত্রে টিউনিং এর কাজে ব্যবহার
  2. বিবর্ধক যন্ত্রে কাপলিং কাজে
  3. বৈদ্যুতিক পাখাকে জোরে ঘুরাতে
  4. বর্তনীতে এসি ব্লকিং হিসাবে
ব্যাখ্যা

ধারকের ব্যবহারসমূহ হলো নিম্নরূপ -
- টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, বেতার গ্রাহক যন্ত্রে টিউনিং এর কাজে
- বিবর্ধক যন্ত্রে কাপলিং কাজে
- বৈদ্যুতিক পাখাকে জোরে ঘুরাতে
- বৈদ্যুতিক বর্তনীতে ডিসি ব্লকিং হিসাবে
- বর্তনীতে চার্জিং ও ডিসচার্জিং এর কাজে
- ফিলটার সার্কিটে এবং স্পন্দকে ব্যবহার
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫,১৪১.
অম্লীয় মাটির pH কত হলে গাছপালা জীবিত থাকতে পারে না?
  1. 3
  2. 6
  3. 7
  4. 9
ব্যাখ্যা

• গাছপালা সাধারণত মধ্যম বা হালকা অম্লীয় মাটিতেই ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। মাটির pH যদি অত্যন্ত অম্লীয় হয়, যেমন pH ৩, তাহলে মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম গাছের জন্য গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকে না। এছাড়া, অতিরিক্ত অম্লত্ব অনেক ধরনের ক্ষতিকারক ধাতু যেমন অ্যালুমিনিয়ামকে দ্রবীভূত করে, যা গাছের মূলের ক্ষতি করতে পারে। ফলে গাছপালা যথাযথভাবে বৃদ্ধি পায় না বা মৃত্যুবরণ করতে পারে। অন্যদিকে, pH ৬, ৭ বা ৯-এর মাটি সাধারণত গাছপালার জীবনের জন্য সহনীয় এবং পুষ্টি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত। তাই অত্যন্ত অম্লীয় মাটিতে (pH ৩) গাছপালা বাঁচতে পারে না।

- সঠিক উত্তর: ক) 3

pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- অম্লীয় মাটিতে pH 4.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা মারা যায়। pH 5.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৪২.
কম্পাঙ্কের একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. সেকেন্ড
  3. হার্জ
  4. ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
পর্যায়কাল (Time period) :
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s) ।

কম্পাঙ্ক (Frequency) : তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- কম্পাঙ্কের একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয়, Hz।

বিস্তার (Amplitude) : তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা (Phase) : তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে।

অন্যদিকে, লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৪৩.
কোন যন্ত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য আর্গন ব্যবহার করা হয়? 
  1. থার্মোমিটার 
  2. স্পেকট্রোফোটোমিটার 
  3. গাইগার মূলার কাউন্টার 
  4. পিএইচ মিটার 
ব্যাখ্যা

আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৪৪.
ভেক্টর রাশির কোন ধর্মটি সঠিক নয়? 
  1. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
  2. ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
  3. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
  4. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এ জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

 ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশির ধর্ম: 
ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। 
যেমন- 
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে। 
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না। 
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৪৫.
কোন পানির প্লবতা বেশি? 
  1. নদীর
  2. পুকুরের
  3. সমুদ্রের
  4. সুইমিং পুলের
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ: 
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমূখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে। 
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়। 
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়। 
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং কালের কণ্ঠ পত্রিকা।
৫,১৪৬.
নিচের কোনটি টমাস আলভা এডিসনের আবিস্কার নয়?
  1. ক) ফনোগ্রাফ
  2. খ) সিনেমাটোগ্রাফ
  3. গ) বৈদ্যুতিক বাতি
  4. ঘ) টেলিফোন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
১৮৭৭ ও ১৮৭৮ সালে টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ(১৮৭৭), সিনেমাটোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি(১৮৭৮) আবিস্কার করেন।
অন্যদিকে,
আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে টেলিফোন আবিস্কার করেন।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৪৭.
কোনটি তরল ধাতু হিসেবে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. পারদ
  4. ওসমিয়াম
ব্যাখ্যা
কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
• সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।
• সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
• সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
• উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
• লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
• লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
• সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
• সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।
• পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম (Na) ধাতুকে ব্যবহার করা হয়।
• ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি থাকে অ্যালুমিনিয়াম (Al) ধাতু (ভূত্বকের প্রায় ৭%)।
• কাস্ট আয়রন/ ঢালাই লোহা: এটি সবচেয়ে অবিশুদ্ধ লোহা, এতে প্রায় ২-৪.৫% কার্বন থাকে।
• ইস্পাত বা স্টিল: এতে লোহার সাথে ০.১৫- ১.৫% কার্বন থাকে।
• অ্যান্টমনি ধাতুকে আঘাত করলে শব্দ হয় না।
• মুদ্রা ধাতু: তামা বা কপার, সিল্ভার, গোল্ড ইত্যাদি।
• কালো সোনা: জিরকন, ম্যাগনেটাইট, ইলমোনাইট, কোরান্ডাম, মোনানজাইট, রিটাইল প্রভৃতির সমন্বয়ে গঠিত মূল্যবান খলিজ কালো সোনা নামে পরিচিত।
• পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী ধাতু- ওসমিয়াম (প্লাটিনাম জাতীয়)।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই ও ব্রিটানিকা।
৫,১৪৮.
এসিডের ভুল উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ভিনেগার বা বেকিং সোডা এসিড জাতীয়
  2. খ) আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক
  3. গ) টুথপেস্ট এসিড জাতীয়
  4. ঘ) সার তৈরিতে এসিড ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা
১. ভিনেগার বা বেকিং সোডা এসিড জাতীয়।
২. বাজারে মুখ ধােয়ার জন্য যেসব প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়, তাতে লেখা থাকে pH-এর মান ৫.৫। এর কারণ আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক হয় এবং এর pH ৪-৬ এর মধ্যে থাকে। তবে নবজন্ম নেওয়া শিশুদের ত্বকের pH-এর মান ৭ এর কাছাকাছি থাকে। তাই বড়দের জন্য যেসব প্রসাধনী ব্যবহৃত হয়, তা শিশুদের জন্য প্রযােজ্য নয়। এতে শিশুদের ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
৩. টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার আমাদের নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় বস্তু, যা ক্ষারীয়। খাওয়ার পরে সাধারণত আমাদের মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় রােধ হয়।
৪. ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলাে অতি প্রয়ােজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে আমরা যেগুলাে ব্যবহার করি তার অন্যতম হলাে অ্যামােনিয়াম নাইট্রেট, অ্যামােনিয়াম সালফেট ও অ্যামােনিয়াম ফসফেট। আর সার কারখানায় এগুলাে তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড এবং ফসফরিক এসিড দিয়ে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৪৯.
পাইপলাইনের কোথাও ছিদ্র হয়ে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কোন প্রক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. দহন
  2. বিকিরণ
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
১। রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
২। পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
৩। শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
১। কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
২। রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৩। ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫০.
কোনটি কার্বনের কঠিন ক্রিস্টালাইন রূপ?
  1. অরূপ কার্বন
  2. কার্বন ন্যানোটিউব
  3. ডায়ামন্ড
  4. কাচ 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ডায়ামন্ড

Carbon-এর বৈশিষ্ট্য
- পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে ১৯তম সর্বাধিক প্রচুর মৌল।
- মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, নিয়ন ও নাইট্রোজেনের পরেই কার্বন প্রচুর।
- মহাকাশে হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের ফিউশন থেকে কার্বন তৈরি হয়।

কার্বনের রূপ
- Crystalline forms: Diamond, Graphite.
- Fullerenes: Buckyballs, Nanotubes.
- Q-carbon: নতুন ক্রিস্টালাইন ও চৌম্বকীয় রূপ। 
- Amorphous carbon: কোনো নির্দিষ্ট স্ফটিক গঠন নেই। 
- অন্যান্য: Carbon black, Charcoal, Coke.

ব্যবহার
- Coal ও Coke: জ্বালানি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- Charcoal: শোষণকারী পদার্থ, ফিল্টার, জ্বালানি, গানপাউডারে হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  
- Carbon black: কালি, রং, রাবার (টায়ার) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।  
- Bone black (Animal charcoal): গ্যাস ও রং শোষণ এর কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৫,১৫১.
দুইটি আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান কোনটির ওপর নির্ভর করে না?
  1. আধান দুইটির পরিমাণের ওপর
  2. আধান দুইটির ভরের ওপর
  3. আধান দুইটির মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর
  4. আধান দুইটি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির ওপর
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ বল:
- একটি আহিত স্থির বস্তুর নিকট অন্য একটি আহিত বস্তু আনলে বস্তু দু'টির মধ্যে একটি বল কাজ করবে।
- আহিত বস্তু দু'টি যদি সমধর্মী আধান অর্থাৎ দু'টি বস্তুই ধনাত্মক বা দু'টি বস্তুই ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে বিকর্ষণ বল কাজ করবে। আবার আহিত বস্তু দু'টি বিপরীতধর্মী অর্থাৎ, একটি বস্তু ধনাত্মক আধানে এবং অপর বস্তু ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করবে, আর এ বিকর্ষণ বা আকর্ষণ বলকে তড়িৎ বল বলে।
- দু'টি আধানের মধ্যবর্তী এ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে-
১. আধান দু'টির পরিমাণের ওপর,
২. আধান দু'টির মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর এবং
৩. আধান দু'টি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির ওপর।
- দুইটি আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে না আধান দুইটির ভরের ওপর।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫২.
পিনটাইপ ইনসুলেটর সাধারণত ____ ভোল্টেজের উপরে ব্যবহৃত হয়-
  1. 1 KV
  2. 11 KV
  3. 22 KV
  4. 33 KV
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ইনসুলেটর 
- Pin Insulators
- Suspension Insulators
- Post Insulators 
- Strain Insulators
- Shackle Insulators

পিনটাইপ ইনসুলেটর সাধারণত 33 KV ভোল্টেজের উপরে ব্যবহৃত হয়। 
৫,১৫৩.
শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব কত মিটার? 
  1. ১৭.৬ মিটার
  2. ১৬.৬ মিটার
  3. ১৭.৮ মিটার
  4. ১৭.৯ মিটার
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫৪.
শব্দের বেগের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আদ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  2. শীতকালের চেয়ে বর্ষাকালে শব্দের বেগ বেশি হয়।
  3. শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার।
  4. পানিতে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ৪.৫ গুন বেশি।
ব্যাখ্যা
• শব্দের বেগ:
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০।

- কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি যা ৫২২১ মি./সে,
- বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম যা ৩৩২ মি./সে।
- তরল মাধ্যমে শব্দের বেগ ১৪৫০ মি./সে।
- বাতাসের তুলনায় পানিতে শব্দের বেগ প্রায় চারগুন।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। এই কারণে বর্ষাকালে জোরে শব্দ শোনা যায়।
- তাপমাত্রা বাড়লে মাধ্যমের ঘনত্ব কমে, ফলে শব্দের বেগ বাড়ে।
- শীতকালের চেয়ে বর্ষাকালে শব্দের বেগ বেশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি  ও ব্রিটানিকা।
৫,১৫৫.
তেজস্ক্রিয়তা কীভাবে প্রভাবিত হয়?
  1. চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা
  2. চাপ দ্বারা
  3. তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা
  4. কোনোভাবে প্রভাবিত হয় না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫৬.
তড়িৎ প্রবাহের প্রচলিত দিক কোনটি?
  1. ক) ইলেকট্রন প্রবাহের দিক
  2. খ) ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিক
  3. গ) প্রোটন প্রবাহের দিক
  4. ঘ) প্রোটন প্রবাহের বিপরীত দিক 
ব্যাখ্যা
তড়িৎপ্রবাহের আধান বাহকের ধরন নিরপেক্ষ সংজ্ঞা দিতে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের দিককে তড়িৎপ্রবাহের প্রচলিত দিক নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুতরাং,যেসব ধাতুতে আধান বাহক (ইলেকট্রন) ঋণাত্মক হয়, তাতে ইলেকট্রন চলাচলের দিকের বিপরীত দিকটি হয় তড়িৎপ্রবাহের প্রচলিত দিক।

SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫,১৫৭.
ট্রান্সফরমার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. তাড়িতচৌম্বক আবেশ
  2. নিউটনের গতি সূত্র
  3. বৈদ্যুতিক বিভব
  4. হিট ট্রান্সফার নীতি
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৫৮.
প্রমাণ চাপে বরফ কোন তাপমাত্রায় গলে যায়?
  1. ক) ০° সেলসিয়াস
  2. খ) ৪° সেলসিয়াস
  3. গ) ২৫° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্ত শীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 

পানির রাসায়নিক গঠন: 
- পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। 
- পানির আনবিক সংকেত H2O এবং আণবিক ভর ১৮। 

গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
- অর্থাৎ পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- অর্থাৎ পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার অর্থাৎ ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,১৫৯.
যে যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ পরিমাপ করা যায়, তাকে কী বলে?
  1. স্পিডোমিটার
  2. স্ফেরোমিটার
  3. ওডোমিটার
  4. স্লাইড ক্যালিপার্স
ব্যাখ্যা
• স্ফেরোমিটার:
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার।
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়।
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- এটি তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়।

• বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে,
R = {(d2/6h) + (h/2)}
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা।

• ওডোমিটার:
- এটি গাড়ী যতক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার মোট দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে।
অর্থাৎ, এটি গাড়ীর মোট চলাচল পরিমাপ করে।

• স্পিডোমিটার:
- এটি গাড়ীর তাৎক্ষণিক গতি পরিমাপ করে।
যেমন- কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বা মাইল প্রতি ঘণ্টা।

• স্লাইড ক্যালিপার্স:
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫,১৬০.
নিচের কোন রাশিটি শুধু মান দ্বারাই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়?
  1. ক) দ্রুতি
  2. খ) ত্বরণ
  3. গ) ওজন
  4. ঘ) মন্দন
ব্যাখ্যা

- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ন রুপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে। যেমন : সরণ, বেগ, ওজন, ত্বরণ, মন্দন ইত্যাদি।
শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তনে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 
- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে। যেমন : দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর ইত্যাদি।
শুধু মানের পরিবর্তনে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

৫,১৬১.
স্ফেরোমিটারের কেন্দ্রীয় স্ক্রু দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ঘনত্ব 
  2. ব্যাস 
  3. ভর 
  4. উচ্চতা 
ব্যাখ্যা

- স্ফেরোমিটারের কেন্দ্রীয় স্ক্রুটিকে উপরে বা নিচে নামিয়ে একটি সমতল থেকে গোলীয় তলের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন বিন্দুর দূরত্ব মাপা হয়। এই দূরত্বটি মূলত উচ্চতা (height বা Sagitta) নির্দেশ করে

স্ফেরোমিটার: 

- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- স্ফেরোমিটার দ্বারা তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)} 
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৫,১৬২.
কোন ধরণের সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হলেও গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না?
  1. স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
  2. অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
  3. দ্বিমাত্রিক সংঘর্ষ 
  4. সংঘর্ষে কোনো শক্তিই সংরক্ষিত হয় না
ব্যাখ্যা

• সংঘর্ষ:
- অতি অল্প সময়ের জন্য বৃহৎ কোনো বল ক্রিয়া করে বস্তুর গতির হঠাৎ ও ব্যাপক পরিবর্তন করাকে সংঘর্ষ বলে।
- সাধারণত সংঘর্ষের সময় বস্তুর গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় কিনা, তার ওপর ভিত্তি করে সংঘর্ষকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:

• অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:

- যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।
- একটি রাবারের বল দৃঢ় পাটাতনে আঘাত করলে, বলটির আকার বিকৃত হয় এবং এর গতিশক্তি হ্রাস পায়।
- এ কারণেই রাবারের বলের সাথে পাটাতনের যে সংঘর্ষ, হা হলো অস্থিতিস্থাপক।
- সংঘর্ষের পরে সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারী বস্তু দুটি যদি একত্রে যুক্ত হয় এবং একই বেগে চলতে থাকে, তবে সেই সংঘর্ষ হবে পূর্ণভাবে অস্থিতিস্থাপক।
- উদহরণ: যখন একটি গুলি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন গুলি ও লক্ষ্যবস্তুর সংঘর্ষ হলো অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ।

• স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:

- যে সংঘর্ষে ভরবেগ ও গতিশক্তি উভয়ই সংরক্ষিত থাকে, তাকে স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।
- পারমাণবিক, নিউক্লিয় ও মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে যে সংঘর্ষ ঘটে, তা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৬৩.
কাজের শর্ত কোনটি?
  1. ক) বল প্রয়োগ এবং সরণ
  2. খ) ভর এবং বেগ
  3. গ) বেগ এবং শরণ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কাজের শর্ত দুইটি। 
এক -  বল প্রয়োগ করতে হবে এবং 
দুই - বল প্রয়োগ করলে সরণ ঘটতে হবে।  
কাজ = বল × সরণ
বা, W=Fx
কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই । 

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,১৬৪.
হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব প্রথম ধরা পড়ে কত সালে?
  1. ১৯৬৪ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৬৪ সালে পিটার হিগস এবং তাঁর পাঁচজন সহযোগী মিলে সর্বপ্রথম এ কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন।
সুইজারল্যান্ডের সার্ন এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে ২০১৩ সালে প্রথম এ কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে অভিহিত করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫,১৬৫.
বায়ু টারবাইনের সাহায্যে কোন শক্তি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তি
  2. তাপশক্তি
  3. গতিশক্তি
  4. স্থিতিশক্তি
ব্যাখ্যা

◉ বায়ু টার্বাইন (Wind Turbine) বাতাসের গতিশক্তিকে (Kinetic Energy) ঘূর্ণনশক্তিতে রূপান্তর করে, যা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

বায়ু শক্তি:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল (টারবাইন) বলে।
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো।
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৬৬.
কোনটিতে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. ক) বৈদ্যুতিক ঘন্টা
  2. খ) বৈদ্যুতিক মোটর
  3. গ) তাপীয় ইঞ্জিন
  4. ঘ) বৈদ্যুতিক পাখা
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক ঘন্টায় বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বৈদ্যুতিক মোটরে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বৈদ্যুতিক পাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- তাপ ইঞ্জিন তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তরিত করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৬৭.
পরিমাপের মৌলিক রাশি কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা

যে সকল রাশি পরিমাপের জন্য অন্য রাশির সাহায্য দরকার হয় না বা অন্য রাশি পরিমাপের জন্য যে রাশিগুলাে দরকার হয় সেইসব রাশিকে মৌলিক রাশি বলে।
মৌলিক রাশি সাতটি।
যথাঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৫,১৬৮.
নিচের কোন আয়নটি শিখা পরীক্ষায় সোনালী হলুদ বর্ণ দেখায়?
  1. ক) Na
  2. খ) K
  3. গ) Ca
  4. ঘ) Cu
ব্যাখ্যা
- প্রত্যেক মৌলের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রেখা বর্ণালী আছে।
- বর্ণালীর প্রতি রঙিন রেখা নির্দিষ্ট তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যের বা নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলো শক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত।
- তাই বিভিন্ন উদ্বায়ী ধাতব ক্লোরাইডকে বুনসেন বার্নারের শিখায় উত্তপ্ত করলে বিভিন্ন ধাতব আয়ন বিভিন্ন বর্ণযুক্ত শিখা সৃষ্টি করে।
যেমন-
সোডিয়াম আয়ন থেকে সোনালী হলুদ
• পটাশিয়াম আয়ন থেকে হালকা বেগুনি এবং 
• ক্যালসিয়াম আয়ন থেকে ইটের মত লাল শিখা উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
৫,১৬৯.
মানুষের নিঃশ্বাসে কি পরিমাণ শব্দ হয়?
  1. ক) 0 dB
  2. খ) 5 dB
  3. গ) 10 dB
  4. ঘ) 15 dB
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানুষের নিঃশ্বাসে 10 dB এবং কথা-বার্তায় 40-60 dB শব্দ হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৭০.
ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. পানিতে ধৌতকরণ
  3. রং করা
  4. গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
• পানিতে ধৌতকরণ ধাতুর ক্ষয়রোধের কোনো পদ্ধতি নয়। 

• ধাতুর ক্ষয়:

- ধাতু যখন বাতাসের অক্সিজেন, আর্দ্রতা বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন তাকে ধাতুর ক্ষয় বলা হয়।

• এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ধাতু বাতাসের অক্সিজেন, জলীয় বাষ্প, বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইজড (জারিত) হয় এবং ক্ষয়ে যায়। 
- এটিকে মরিচা পড়া বা ক্ষয়ে যাওয়া বলা হয়। 

• ধাতুর ক্ষয় বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন:  
→ রাসায়নিক বিক্রিয়া:
- যখন ধাতু বাতাসের অক্সিজেন বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা ধাতুর ক্ষয় ঘটায়।
→ বায়ু দূষণ:
- বায়ু দূষণের কারণে অ্যাসিড বৃষ্টি বা অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ ধাতুর সংস্পর্শে এলে, তা দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে।

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
(i) রং করা,
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং,
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।

• ধাতু বা সংকর ধাতু যদি বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে তবে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
 • কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না। কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়। যথা-ইলেকট্রোপ্লেটিং ও গ্যালভানাইজিং।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,১৭১.
যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ করে দ্বিগুণ হয়ে যায় কিন্তু এর ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে অভিকর্ষজ ত্বরণ কীভাবে পরিবর্তিত হবে? 
  1. চারগুণ হবে
  2. অর্ধেক হবে
  3. এক চতুর্থাংশ হবে
  4. দ্বিগুণ হবে
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ g তার ভর M এবং ব্যাসার্ধ R-এর উপর নির্ভর করে সূত্র g = GM/R2 দ্বারা, যেখানে G হলো অভিকর্ষ ধ্রুবক। যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যায়, অর্থাৎ R → 2R, কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে নতুন অভিকর্ষজ ত্বরণ হবে gnew = GM/(2R)2 = GM/4R2 = g/4। অর্থাৎ অভিকর্ষজ ত্বরণ চার গুণ কমে যাবে। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) এক চতুর্থাংশ হবে।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ (Gravitational Acceleration):
- পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ g নির্ভর করে পৃথিবীর ভর (M) এবং ব্যাসার্ধ (R) এর উপর। সূত্র হলো: g = GM/R2, যেখানে G হলো মহাজাগতিক অভিকর্ষধ্রুবক।
- যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যায় (R → 2R) কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে (M অপরিবর্তিত), তাহলে g এর মান কিভাবে পরিবর্তিত হবে তা নির্ণয় করতে হবে।
- সূত্র অনুযায়ী নতুন অভিকর্ষজ ত্বরণ g' হবে: g' = GM/(2R)2 = GM/(4R2) = g/4।  
- অর্থাৎ, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ হলে অভিকর্ষজ ত্বরণ চারগুণ কমে যাবে, কারণ এটি ব্যাসার্ধের বর্গের বিপরীত আনুপাতিক।  
- এর ফলে, বস্তু পৃথিবীর পৃষ্ঠে আগের তুলনায় অনেক ধীরে পড়বে।  

সুতরাং, অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন: গ) এক চতুর্থাংশ​।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৫,১৭২.
নিচের কোনটি কার্বনের চৌম্বকীয় রূপ?
  1. হীরা
  2. ফুলারিন
  3. কার্বন ব্ল্যাক
  4. Q-কার্বন
ব্যাখ্যা

Q-কার্বন হচ্ছে কার্বনের একটি চৌম্বকীয় রূপ। 

কার্বনের বিভিন্ন রূপ
কার্বনের বিভিন্ন রূপ রয়েছে এবং প্রতিটি রূপের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিচে কয়েকটি রূপ আলোচনা করা হলো:

হীরা
- এটি কার্বনের একটি রূপ যা খুব কঠিন।
- হীরা সাধারণত অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

গ্রাফাইট
- এটি কার্বনের আরেকটি রূপ যা নরম এবং পিচ্ছিল।
- এটি পেন্সিল এবং পিচ্ছিলকারক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ফুলারিন
- এটি কার্বনের একটি রূপ যা C₆₀ নামক অণু দ্বারা গঠিত।
- এই অণুগুলো দেখতে অনেকটা ফুটবলের মতো।

কার্বন ন্যানোটিউব
- এগুলো হলো কার্বনের নলাকার গঠন।
- ন্যানোপ্রযুক্তি এবং নতুন যৌগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

Q-কার্বন
- এটি কার্বনের একটি কঠিন এবং চৌম্বকীয় রূপ।

অরূপ কার্বন
- এই কার্বনের কোনো নির্দিষ্ট স্ফটিক গঠন নেই।
- উদাহরণ: কার্বন ব্ল্যাক, কাঠকয়লা এবং কোক।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৫,১৭৩.
সালফার-ট্রাই-অক্সাইড এর সংকেত কোনটি?
  1. ক) H2O
  2. খ) SO3
  3. গ) H2SO4
  4. ঘ) O2
ব্যাখ্যা
H2O-পানি, SO3-সালফার-ট্রাই-অক্সাইড, H2SO42-অক্সিজেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৫,১৭৪.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়াতে বা কমাতে কতটুকু তাপের প্রয়োজন হয়? 
  1. ১.৪ জুল
  2. ২.৪ জুল
  3. ৩.২ জুল
  4. ৪.২ জুল
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের S.I একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য, তাই 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 

তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হল বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রার S.I একক কেলভিন। 
- তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট এই দুটি একক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৭৫.
চোখের দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটি দূর করার জন্য কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) টরিক লেন্স
  4. ঘ) বাই-ফোকাল লেন্স
ব্যাখ্যা
চোখের দীর্ঘদৃষ্টির ত্রুটি দূর করার জন্য একটি উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করতে হবে।
ফলে কাছাকাছি বিন্দু থেকে আসা আলােকরশ্মি চশমার লেন্সে এবং চোখের লেন্সে পর পর দুইবার প্রতিসরিত হওয়ার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যাবে এবং প্রয়ােজন মতাে অভিসারী হয়ে প্রতিবিম্বটি রেটিনা এর উপরে পড়বে।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
৫,১৭৬.
বৈদ্যুতিক কলিংবেল তৈরীতে কোন ধরনের চুম্বকের প্রয়োজন হয়?
  1. ক) স্থায়ী চুম্বক
  2. খ) অস্থায়ী চুম্বক
  3. গ) প্যারাচুম্বক
  4. ঘ) ডায়াচুম্বক
ব্যাখ্যা
যে সকল তড়িৎযন্ত্রের ক্ষণস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয় অর্থ্যাৎ ব্যবহারকালে চুম্বকত্বের বারবার পরিবর্তনের দরকার হয়, সে সকল যন্ত্রে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার হয়। যেমন, বৈদ্যুতিক কলিং বেল, ক্রেন, ট্রান্সফর্মারের কোর, টেলিফোনের ডায়াগ্রাম ইত্যাদি। উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
৫,১৭৭.
আল্ট্রাসনিক শব্দ বলতে বুঝায়-
  1. ক) যার গতি শব্দের গতি থেকে কম
  2. খ) যার গতি শব্দের গতি থেকে বেশি
  3. গ) যে শব্দ সাধারণভাবে মানুষ শুনতে পায়
  4. ঘ) যে শব্দ কোনো কোনো জীবজন্তু শুনতে পায়
ব্যাখ্যা

শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আল্ট্রাসনিক শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও বাদুর, কুকুর, মৌমাছির ন্যায় কিছুকিছু প্রাণী উৎপন্ন করতে পারে আবার তা শুনতেও পারে।

আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো 20 Hz থেকে 20,000 Hz।
কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে।
আবার যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তাকে শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আল্ট্রাসনিক শব্দ বলে।
রোগ নির্ণয়ে, কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করা, সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি এবং এইসএসসি।

৫,১৭৮.
কোন মৌল থেকে প্রথম তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয়েছিল? 
  1. থোরিয়াম
  2.  প্লুটোনিয়াম
  3. রেডন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৭৯.
ATP এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Adenosine Triphosphate
  2. খ) Adeenosine Triphosphate
  3. গ) Adeenosine Trephosphate
  4. ঘ) Adinosine Treposphate
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
ATP-Adenosine Triphosphate কে জৈবমুদ্রা বা শক্তিমুদ্রা বলা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৫,১৮০.
ভেক্টর রাশির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক?
  1. ভেক্টর রাশির মান ও দিক নেই।
  2. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
  3. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায় না।
  4. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে।
ব্যাখ্যা
ভেক্টর: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি, 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

 ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশির ধর্ম: 
- ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। 
যেমন- 
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে। 
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না। 
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি। 
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি। 
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না। 
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৮১.
নিচের কোনটিকে মৌলিক কণিকা বলা হয়? 
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন 
  3. নিউট্রন 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৮২.
দ্রবণের pH মান কোন সীমার মধ্যে থাকে?
  1. 0 থেকে 7 এর মধ্যে
  2. 0 থেকে 14 এর মধ্যে
  3. 7 থেকে 14 এর মধ্যে
  4. 6 থেকে 14 এর মধ্যে
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। 
- এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৮৩.
কোন তত্ত্ব প্রয়োগ করে পারমানবিক বোমা উদ্ভাবিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. খ) নিউক্লিয়ার ফিউশন
  3. গ) নিউক্লিয়ার মেসন
  4. ঘ) নিউক্লিয়ার মডিউল
ব্যাখ্যা
পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়।
প্রক্রিয়া দুটি হল :
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন 
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন 

নিউক্লিয়ার ফিশন :
যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি
খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।


- ১৯৩৮ সালে ওটো হান (১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান (১৯০২-১৯৮০) প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য ।
- অর্থাৎ ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং
প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল ।

নিউক্লিয়ার ফিউশন : যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়
এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 

উৎস: এস.এস.সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৮৪.
প্রশমন বিক্রিয়া একটি -
  1. তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া
  2. তাপহারি বিক্রিয়া
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৮৫.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৭ টি
  3. ৮ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণি (Periodic Table):
- পর্যায় সারণি হলো এমন একটি সারণি, যেখানে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো হয়।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য-
- পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি রয়েছে।
- সারণিতে ১৮ টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বাম দিকে গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৫,১৮৬.
কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হলে তার ওজন - 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অর্ধেক হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৮৭.
কোনটি বিদ্যুৎ কুপরিবাহী?
  1. তামা
  2. রাবার
  3. লোহা
  4. রূপা
ব্যাখ্যা
• সুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
- যেমন- লোহা, তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

• কুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
- যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, রাবার, কাঁচ, পাস্টিক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৮৮.
সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা -
  1. ক) হিগস-বোসন
  2. খ) ফোটন
  3. গ) পজিট্রন
  4. ঘ) মেসন
ব্যাখ্যা
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা হলো হিগস-বোসন ।
- ২০১২ সালের ৪ জুলাই LHC (Large Hadron Collider ) এর বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেছিলেন যে তারা একটি আকর্ষণীয় সংকেত সনাক্ত করেছেন যা সম্ভবত হিগস বোসন থেকে।

সূত্র- ব্রিটানিকা
৫,১৮৯.
নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়? 
  1. F = ma
  2. W = mg
  3. E = m2c
  4. E = mc2
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সমীকরণ: 
- আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc2.
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আমরা যে শক্তি পেয়ে থাকি তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৯০.
নিচের কোনটি পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য -
  1. মাটির অনেক গভীরে থাকে
  2. দহন ক্ষমতা কয়লার তুলনায় অধিক
  3. শুষ্ক এবং শক্ত
  4. ভিজা ও নরম
ব্যাখ্যা
পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্নমানের কয়লা।
যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়।
পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে।

উৎসঃ রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,১৯১.
সিনেমা প্রজেক্টরের মৌলিক রং গুলো কি কি?
  1. ক) আসমানী,সবুজ, নীল
  2. খ) নীল, সবুজ, লাল
  3. গ) সাদা, লাল, সবুজ
  4. ঘ) হলুদ, লাল, নীল
ব্যাখ্যা

তিনটি মৌলিক রং হচ্ছে লাল, নীল, সবুজ। এই ৩টি রং এর সমন্বয়ে বাকী রং গুলো তৈরি করা যায়।
উৎসঃ ব্রিটানিকা।

৫,১৯২.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. সোলার প্যানেল
  2. জেনারেটর
  3. ইলেকট্রিক ইস্ত্রি
  4. মাইক্রোফোন
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- সোলার প্যানেল: এটি আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, এখানে যান্ত্রিক শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।
- ইলেকট্রিক ইস্ত্রি: এটি তড়িৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেল: এটি আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, এখানে যান্ত্রিক শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৯৩.
ট্রানজিস্টরে অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. লোহা
  2. জার্মেনিয়াম
  3. ম্যাঙ্গানিজ
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টরে অর্ধপরিবাহী হিসেবে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ব্যবহৃত হয়।

• ট্রানজিস্টর:
- ১৯৪৮ সালে জে. বার্ডিন ও ডব্লিউ. এইচ. ব্রাটেইন ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রিক সার্কিট বা বর্তনীতে ট্রানজিস্টর বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে প্রদত্ত সংকেত বহির্গামীতে বিবর্ধিত করে তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে।
- ট্রানজিস্টর দুই ধরনের। যথা- n-p-n এবং p-n-p ।  

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৯৪.
1 atm = কত প্যাসকেল?
  1. 1.01325 × 102
  2. 1.01325 × 10- 2
  3. 1.01325 × 10- 5
  4. 1.01325 × 105
ব্যাখ্যা
চাপ (Pressure): 
- গ্যাসপাত্রে গ্যাসের অণুসমূহ অবিরত ইতস্তত ছুটাছুটি করার ফলে গ্যাস পাত্রের একক ক্ষেত্রফলের ওপর গ্যাস অণুসমূহ যে বল প্রয়োগ করে, তাকে গ্যাসের চাপ বলে। 
- বহুকাল থেকে গ্যাসের চাপের একক বায়ুচাপ বা বায়ুমণ্ডল বা অ্যাটমসফিয়ার (atmosphere, সংক্ষেপে atm) ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
- ০°C তাপমাত্রায় 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে যে পরিমাণ বায়ুচাপ 760 mm পারদ স্তম্ভের চাপের সমান হয়, তাকে এক বায়ুমণ্ডল চাপ বা এক বায়ুচাপ (atm) বলে।
- মি.মি. পারদ mm (Hg) এককেও চাপ প্রকাশ করা হয়। 
- বিজ্ঞানী টরিসেলির (E.Torricelli) নামানুসারেও নিম্নচাপের ক্ষেত্রে টর (torr) একক ব্যবহৃত হয়। 
∴ 1 torr = 1 mm (Hg)। 
- সাধারণভাবে বিভিন্ন গণনার কাজে চাপের একক atm, mm (Hg) বা torr ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে S.I এককে গ্যাসের চাপ নিম্নরূপে প্রকাশ করা হয়। 
- S.I এককে গ্যাসের চাপকে নিউটন/মিটার2 বা প্যাসকেল (Pa) এককে প্রকাশ করা হয়। 
- প্রতি বর্গমিটারে এক নিউটন বলকে প্যাসকেল (Pascal) বলা হয়।
[1Pa = 1 Nm-2 [Nm-2 = kgms-2.m-2 = kgm-1.s-2]. 

1 বায়ুমণ্ডল চাপ = 1 atm = 0.76 m (Hg) স্তম্ভের ভর। 
= 0.76 m x (13.5951 x 103 kgm-3) x 9.80665 ms-2
1 atm = 101.325 x 103 Nm-2 = 101.325 × 103 Pa = 101.325 kPa. 
1 atm = 101.325 kPa = 1.01325 × 105 Pa = 1.01325 × 105 Nm-2 = 760 mm (Hg). 

চাপের বিভিন্ন এককের সম্পর্ক: 
- গ্যাসের চাপকে নিম্নোক্ত বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 
1 atm = 76.0 cm (Hg) = 760 mm (Hg) = 101.325 kPa = 101.325× 103 Pa = 760 torr = 1 bar. 
উল্লেখ্য,
- S.I এককে যে পরিমাণ বল এক কিলোগ্রাম ভর বিশিষ্ট কোন বস্তুর ওপর প্রযুক্ত হয়ে এক মিটার/(সেকেন্ড)2 ত্বরণ সৃষ্টি করে, তাকে এক নিউটন (N) বলে। 
∴ 1 N বল = 1 kgms-2

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫,১৯৫.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. ক) টিএসপি
  2. খ) পটাশ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) সবুজ সার
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামােনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয় এবং অ্যামােনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন করা হয়।
তাই উদ্ভিদ খাদ্য উপাদান হিসেবে ইউরিয়া সার হতে নাইট্রোজেনই গ্রহণ করে।
ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেন থাকে ৪৬%।

৫,১৯৬.
এক্সরের (x-ray) আবিষ্কারক-
  1. ক) আলফ্রেড নোবেল
  2. খ) মাইকেল ফ্যারাডে
  3. গ) উইলিয়াম রন্টজেন
  4. ঘ) হেনরি বেকেরেল
ব্যাখ্যা

- ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে এক রাশি ইলেকট্রন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন হেনরি বেকেরেল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৯৭.
শীতকালে শরীরের চামড়া ফাটে কেন?
  1. ক) আর্দ্রতার অভাবে
  2. খ) রৌদ্রের অভাবে
  3. গ) ভিটামিনের অভাবে
  4. ঘ) স্নেহ জাতীয় পদার্থের অভাবে
ব্যাখ্যা

বায়ুতে সব সময় একই রকম আদ্রতা থাকে না। স্থান ও ঋতুভেদে বায়ুর আদ্রতা পরিবর্তন ঘটে।
আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে এ সময় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে চায়না এবং অস্বস্তি লাগে।
পক্ষান্তরে শীতকালে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে বায়ু দ্রুত শরীরের অনাবৃত অংশে যেমন- ঠোঁট, গায়ের চামড়া প্রভৃতি হতে জলীয়বাষ্প শোষণ করে নেয়।
এজন্য শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় কিন্তু গায়ের চামড়া ফেটে যায়।
ঠোঁট ও গায়ের চামড়া ফাটা বন্ধ করতে পমেট বা গ্লিসারিন লাগিয়ে চামড়াকে ভিজা রাখা হয়।

৫,১৯৮.
ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের ___।
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার 
ব্যাখ্যা

• ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন পরমাণুগুলোকে বলা হয় আইসোবার। 

আইসোবার:
- এটি হলো সেই পরমাণু বা নিউক্লিয়াস, যেগুলোর ভর সংখ্যা (A) সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা (Z) এবং নিউট্রন সংখ্যা (N) ভিন্ন।
- অর্থাৎ, এগুলোতে মোট নিউক্লিয়ন সংখ্যা একই থাকলেও, মৌলিক পরিচয় বা পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা।
- এই কারণে সমপরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণ:
- 14C (কার্বন-14) এবং 14​N (নাইট্রোজেন-14)।
- উভয়ের ভর সংখ্যা 14 সমান।
- কার্বনের প্রোটন সংখ্যা 6 এবং নিউট্রন সংখ্যা 8।
- নাইট্রোজেনের প্রোটন সংখ্যা 7 এবং নিউট্রন সংখ্যা 7।
- তাই এগুলো আইসোবার।

• অপশন আলোচনা:
আইসোটোপ: প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 12C ও 14C.
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 14C ও 15N.
আইসোমার: একই নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন উত্তেজিত বা স্থিতিশীল অবস্থার পার্থক্য।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৯৯.
নিচের কোনটি কৃত্রিম পলিমার নয়?
  1. টেফলন
  2. নাইলন
  3. স্টার্চ
  4. পলিস্ট্যারিন
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়। 
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা - 

১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল-আলু এ সব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২০০.
বাতাস একটি -
  1. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  2. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ 
  4. অ্যান্টিফেরোচুম্বকীয় পদার্থ 
ব্যাখ্যা
- বায়ু যা প্রাথমিকভাবে নাইট্রোজেন (N2), অক্সিজেন (O2) এবং কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), জলীয় বাষ্প (H2O) এবং গ্যাসের মতো অল্প পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস নিয়ে গঠিত। 
এদের মধ্যে,
- অক্সিজেন একটি প্যারাম্যাগনেটিক উপাদান। 
- নাইট্রোজেন, আর্গন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ডায়াম্যাগনেটিক উপাদান। 
যাইহোক, 
- অক্সিজেনের প্যারাম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্য অন্যান্য গ্যাসগুলোর ডায়াম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্যের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই, সামগ্রিকভাবে বায়ুকে একটি প্যারাম্যাগনেটিক উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 

নিচে Introduction to Electricity, Magnetism, and Circuits by Samuel J. Ling; Jeff Sanny; William Moebs; and Daryl Janzen বইটি থেকে সরাসরি কিছু প্যারাম্যাগনেটিক এবং ডায়াম্যাগনেটিক উপাদানের তালিকা দেয়া হল। 

--------------------
⇒ দুটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে আমরা ডায়াচৌম্বক ও প্যারাচৌম্বক পদার্থ নির্ণয় করতে পারি -
প্রথমত, 
• ডায়াচৌম্বক পদার্থের চৌম্বক গ্রাহীতা (χm) ক্ষুদ্র কিন্তু ঋণাত্মক অর্থাৎ (χm < 0),  
• অপরদিকে প্যারাচৌম্বক পদার্থের চৌম্বক গ্রাহীতা (χm) ক্ষুদ্র কিন্তু ধণাত্মক অর্থাৎ (χm > 0) । 
→ বায়ুর চৌম্বক গ্রাহীতা [Magnetic Susceptibility] (χair) হচ্ছে 3.6 × 10-7 বা 0.00000036, যা ধনাত্মক অর্থাৎ (χm > 0) । 

[উৎস: Introduction to Electricity, Magnetism, and Circuits by Samuel J. Ling; Jeff Sanny; William Moebs; and Daryl Janzen.] 

দ্বিতীয়ত, 
• ডায়াচৌম্বক পদার্থের আপেক্ষিক চৌম্বক প্রবেশ্যতার (μr) মান 1 এর চেয়ে ছোট অর্থাৎ (μr < 1), 
• অপরদিকে প্যারাচৌম্বক পদার্থের আপেক্ষিক চৌম্বক প্রবেশ্যতার (μr) মান 1 এর চেয়ে সামান্য বড় অর্থাৎ (μr > 1)। 
→ বায়ুর আপেক্ষিক চৌম্বক প্রবেশ্যতার [Relative Magnetic Permeability] (μair) মান 1.00000036, যা 1 এর চেয়ে সামান্য বড় অর্থাৎ (μr > 1)। 

[উৎস: Introduction to Magnetic Materials (2nd edition), B. D. Cullity and C. D. Graham (2008)] 

আবার, 
• অক্সিজেন একটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ যার চৌম্বক গ্রাহীতা (χ) হচ্ছে 1.8 × 10-6 [ধনাত্মক মান দ্বারা প্যারাচৌম্বক পদার্থ বোঝায়]। 
• নাইট্রোজেন একটি ডায়াচৌম্বক পদার্থ যার চৌম্বক গ্রাহীতা (χn) হচ্ছে - 6.7 × 10-9 [ঋণাত্মক মান দ্বারা ডায়াচৌম্বক পদার্থ বোঝায়]। 

→ বায়ুমণ্ডলের বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ 78.02% এবং অক্সিজেনের পরিমাণ 20.71% । 
→ বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট পরিমাণ বাতাসে অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের চৌম্বক গ্রাহীতা (1.8 × 10-6) × 20.71%  > (6.7 × 10-9) × 78.02% [অর্থাৎ,  χ > χn
→ তাই বাতাসে অক্সিজেনের প্যারাম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্য নাইট্রোজনের ডায়াম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্যের তুলনায় অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী। 

[উৎস: Introduction to Electricity, Magnetism, and Circuits by Samuel J. Ling; Jeff Sanny; William Moebs; and Daryl Janzen.] 

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বায়ুতে প্যারাচৌম্বক পদার্থের সকল বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। 
তাই, সামগ্রিকভাবে বায়ুকে একটি প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
=========================
ডায়া চৌম্বক পদার্থ: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
- অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

প্যারা চৌম্বক পদার্থ: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। 
- এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরো চৌম্বক পদার্থ: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। 
- এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।