বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫০ / ৬৪ · ৪,৯০১৫,০০০ / ৬,৪০৯

৪,৯০১.
১ ক্যালরির তাপ শক্তির যান্ত্রিক সমতুল্য শক্তি কত?
  1. ১.০ জুল
  2. ৫.০ জুল
  3. ২.৫ জুল
  4. ৪.২ জুল
ব্যাখ্যা

• ১ ক্যালরির তাপ শক্তির যান্ত্রিক সমতুল্য শক্তি হলো ৪.২ জুল। অর্থাৎ, ১ ক্যালরি তাপ শক্তি উৎপন্ন করতে যতো কাজ করা প্রয়োজন, সেটি প্রায় ৪.২ জুলের সমান। ক্যালরি হলো তাপ শক্তির একক, যা সাধারণত খাবারের শক্তি বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির হিসাবের জন্য ব্যবহার করা হয়, আর জুল হলো আন্তর্জাতিক একক ব্যবস্থা (SI) অনুযায়ী যান্ত্রিক কাজ বা শক্তির একক। যান্ত্রিক সমতুল্য শক্তি বলতে বোঝায় যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ শক্তি যদি সম্পূর্ণরূপে যান্ত্রিক কাজে রূপান্তরিত করা হয়, তাহলে তা কত কাজ করতে সক্ষম হবে। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) ৪.২ জুল।

তাপ: 

- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯০২.
নিউক্লিয়াসের সংযোজনকে বলে-
  1. প্রোটন
  2. ফিউশন
  3. মেসন
  4. ফিশন
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসের সংযোজনকে ফিউশন বলে।
- নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলে আর ।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯০৩.
কোনটি বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. মোবাইল ফোন
  2. জেনারেটর
  3. বৈদ্যুতিক মোটর
  4. বৈদ্যুতিক ঘন্টা
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
⇒ মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯০৪.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতুর উদাহরণ? 
  1. লিথিয়াম 
  2. সোডিয়াম 
  3. কপার 
  4. ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌলকে (লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম, সিজিয়াম এবং ফ্রানসিয়াম) ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষারধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত 6 টি (বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম) মৌলকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।  
- এই ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- এরা ক্ষার তৈরি করে, এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর 4 টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম 3 টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম (Rg) ছাড়া অন্য যে 3 টি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯০৫.
পরম শূন্য তাপমাত্রা কোনটি?
  1. ২৭৩° সেন্টিগ্রেড
  2. - ২৭৩° ফারেনহাইট
  3. ০° সেন্টিগ্রেড
  4. ০ কেলভিন
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা:
যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - ২৭৩°C । অর্থাৎ - ২৭৩°C বা ০ কেলভিন তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন তত্ত্বীয়ভাবে শূন্য হয়।

আমরা জানি, - ২৭৩°C = ০ কেলভিন।
 
তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রার স্কেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তাকে তাপমাত্রার পরম স্কেল বা কেলভিন স্কেল বলে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯০৬.
বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে? 
  1. তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
  2. ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
  3. সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
  4. অলৌকিকভাবে
ব্যাখ্যা
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে তার প্রতিধ্বনির মাধ্যমে বাদুড় পথ চলে। 
- কিন্তু বাদুড়ের তৈরি এই প্রতিধ্বনির শব্দ আমরা শুনতে পাই না কারণ, বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করে। 
- আলট্রাসাউন্ড মূলত আমাদের শোনার বাহিরের শব্দ। 
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে। 
- আল্টাসনিক শব্দ ২০,০০০ থেকে বেশি কম্পাংকের হয়ে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৯০৭.
ট্রানজিস্টরে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ১ টি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর:
- দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
- ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
- p-n-p এবং n-p-n দুই ধরনের ট্রানজস্টর হয়ে থাকে।
- ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
- ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
- ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজান তপন।
৪,৯০৮.
​বিদ্যুৎ সরবরাহ আন্তর্জাতিকভাবে কোন এককে পরিমাপ করা হয়?
  1. ভোল্ট 
  2. ওয়াট 
  3. কিলোওয়াট-ঘণ্টা 
  4. অ্যাম্পিয়ার 
ব্যাখ্যা

কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল। 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বুঝায়। 
- বিদ্যুৎ বিল কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯০৯.
কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. কয়লা
  2. বায়োগ্যাস
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা

• 'বায়োগ্যাস' শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। কারণ, এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 

• শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - 

১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 

 
 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯১০.
স্কেলার রাশি কোনটি? 
  1. সরণ 
  2. ত্বরণ 
  3. কাজ 
  4. ওজন 
ব্যাখ্যা

রাশি: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়।
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি।

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি।

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯১১.
পৃথিবীর সাথে যুক্ত সকল বস্তুর বিভব কী ধরা হয়? 
  1. শূন্য 
  2. ধনাত্মক 
  3. ঋণাত্মক 
  4. পরিবর্তনশীল 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর বিভব শূন্য: 
- পৃথিবী তড়িৎ পরিবাহী এবং আকারে বিশাল। ফলে কিছু ইলেকট্রন পৃথিবীর সাথে আদান প্রদান হলে পৃথিবীর বিভবের কোনো পরিবর্তন হয়না। 
যেমন- সমুদ্র থেকে এক বালতি পানি নিলে সমুদ্রের পানি তলের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে আধান গ্রহণ করে আবার সাথে সাথে অন্য বস্তুকে আধান সরবরাহ করে, ফলে পৃথিবীকে আধানহীন মনে করা হয়। 
- কোনো স্থানে উচ্চতা নির্ণয়ের সময় সমুদ্রের উপরিতলে উচ্চতাকে যেমন শূন্য ধরা হয় তেমনি বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়। 
- আধানহীন বস্তুর বিভব শূন্য। 
- পৃথিবীর সাথে যুক্ত সকল বস্তুরই বিভব শূন্য। 
- পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরে যে বস্তুর বিভব পৃথিবীর বিভব থেকে বেশী তার বিভবকে ধনাত্মক বিভব বা উচ্চ বিভব এবং যার বিভব কম তাকে ঋণাত্মক বিভব বা নিম্ন বিভব বলে। 
- মূল কথা হলো বস্তুতে ইলেকট্রনের বাড়তি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ঋণাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি নিম্ন বিভব সম্পন্ন এবং বস্তুতে ইলেকট্রনের ঘাটতি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ধনাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি উচ্চ বিভব সম্পন্ন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯১২.
গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী
  2. স্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
  4. তেজস্ক্রিয়তা
ব্যাখ্যা
• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

• গ্রাফাইট:
- গ্রাফাইট হল কার্বনের একটি রূপ। এটি কার্বনের একটি অ্যালোট্রোপ। 

• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য:
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ ও তাপের সুপরিবাহী।
- এটি অস্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ। 
- গ্রাফাইট খুব নরম এবং পিচ্ছিল।
- গ্রাফাইট রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল।
- গ্রাফাইটের গলনাঙ্ক উচ্চ (প্রায় ৩৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কার্বনের সবচেয়ে স্থিতিশীল রূপ।
- গ্রাফাইটের স্তরযুক্ত গঠন এর ইলেকট্রনগুলোকে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যেতে সাহায্য করে, ফলে বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৪,৯১৩.
কোনো বস্তু t সেকেন্ডে N সংখ্যক স্পন্দন সম্পন্ন করলে বস্তুটির কম্পাঙ্ক কত?
  1. N/t 
  2. 1/t 
  3. t/N
  4. N
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
কোনো বস্তু t সেকেন্ডে N সংখ্যক স্পন্দন সম্পন্ন করে 
⇒ 1  সেকেন্ডে N/t সংখ্যক স্পন্দন সম্পন্ন করে। 

∴ কম্পাঙ্ক, f = N/t 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯১৪.
নিচের কোনটিতে অক্সালিক এসিডের উপস্থিতি রয়েছে? 
  1. ক) আমলকীতে 
  2. খ) আপেলে
  3. গ) টমেটোতে
  4. ঘ) তেঁতুলে
ব্যাখ্যা

অক্সালিক অ্যাসিড একটি জৈব যৌগ। এটি সাদা স্ফটিকাকার শক্ত পদার্থ এবং পানিতে বর্ণহীন দ্রবণ তৈরি করে। 
এটি অনেক খাদ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়, তবে অধিক মাত্রায় অক্সালিক অ্যাসিড গ্রহণ বা দীর্ঘাদিন ত্বকের সংস্পর্শে আসলে তা বিপজ্জনক হতে পারে।
যেমন-
টমেটোতে অক্সালিক এসিড পাওয়া যায়। 
কমলা, আঙ্গুর, লেবু- সাইট্রিক এসিড
তেঁতুল- টারটারিক এসিড
টমেটো- অক্সালিক এসিড
আমলকী - এসকরবিক এসিড
আপেল, আনারস- ম্যালিক এসিড 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি

৪,৯১৫.
আলোক তরঙ্গ একটি -
  1. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  2. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: মাধ্যমের কণাগুলি তরঙ্গের প্রসারণের দিকটিতে স্পন্দিত হলে, তরঙ্গটিকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলা হয়।

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: যদি মাধ্যমের কণাগুলি একটি তরঙ্গের প্রসারণের অভিমুখে লম্ব আকারে সরে যায়, তবে তরঙ্গটিকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। আলোক তরঙ্গ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

যান্ত্রিক তরঙ্গ: জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ: মাধ্যম ছাড়াও বিশেষ ধরণের তরঙ্গ সঞ্চারিত হয় এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ।

পর্যাবৃত্ত গতি: কোনো বস্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। পর্যাবৃত্ত গতি দু' ধরণের। ঘূর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি।

পর্যায়কাল: পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।

স্পন্দন গতি: যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোন বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোন নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে ঐ গতিকে স্পন্দন গতি বা ছন্দিত গতি বলে।

সরল ছন্দিত গতি: যদি পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯১৬.
PVC এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Polymer-V Carbon
  2. খ) Polymer-V Chloride
  3. গ) Polyvinyl Chloride
  4. ঘ) Polyvinyl Carbon
ব্যাখ্যা
PVC এর সংকেত CH2=CHCl
PVC এর পূর্ণ নাম - পলিভিনাইল ক্লোরাইড।
এটি শক্ত, কঠিন ও পলিথিনের তুলনায় কম নমনীয়। 
পানির পাইপ ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
৪,৯১৭.
পরমাণুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে
  2. এটি একটি যৌগ
  3. এটি স্বাধীনভাবে সব সময় থাকে
  4. এটি দুই বা তার অধিক পরমাণুর সংযোগে গঠিত হয়
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯১৮.
একই মৌলের একাধিক পরমাণুর সংযোগে কোন ধরনের অণু গঠিত হয়? 
  1. যৌগের অণু 
  2. মৌলের অণু 
  3. আয়নিক অণু 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

পরমাণু ও অণু (Atoms and Molecules): 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন- O2। 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন-CO2 । 

উৎস:
রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯১৯.
তরঙ্গ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।
  2. খ) যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
  3. গ) তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।
  4. ঘ) তরঙ্গ প্রবাহের কোন দিক নেই।
ব্যাখ্যা
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ ইত্যাদি।

যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—স্প্রিং তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ ইত্যাদি।

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু মাধ্যমের কণা স্থানান্তরিত হয় না।
২. তরঙ্গের বিস্তার, কম্পন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
৩. সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে।
৪. তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।
৫. তরঙ্গ প্রবাহের দিক আছে।
৬. তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ,ব্যতিচার,অপবর্তন ঘটে।
৭. তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।
৮. যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
৯. তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল, ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯২০.
বাংলাদেশের কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর নয়?
  1. কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
  2. মুহুরী প্রজেক্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  3. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  4. কুতুবদিয়া বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ব্যাখ্যা

নবায়নযোগ্য জ্বালানি: 
-
নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস - পারমাণবিক শক্তি, সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস, বায়ো ফুয়েল, জিওথার্মাল, নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য যে, 
- পরমাণুতে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত আছে।
তাই, পরমাণুর সঞ্চিত শক্তি নবায়নযোগ্য শক্তির আধার।

অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভর করে।
- ইউরেনিয়ামের পরিমাণ সীমিত। তাই, এই শক্তি নবায়নযোগ্য নয়। 
- তাই, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শক্তি অনবায়নযোগ্য। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।
- এটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করছে রাশিয়া।
- রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এতে কারিগরি সহায়তা করছে। অপর রাশিয়ান কোম্পানি টিভিএল জয়েন্ট স্টক এতে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
- রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
- চট্রগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। 
- বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু আছে যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

মুহুরী প্রজেক্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র
- বাংলাদেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপিত হয় ফেনীর সমুদ্র উপকূলীয় সোনাগাজীতে অবস্থিত মুহুরী প্রজেক্টে। 
- বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অবস্থিত ৪টি ২২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টারবাইন দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

কুতুবদিয়া বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র
- কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় চালু হয় ১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বায়ু চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
- ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ৫০টি টারবাইন দ্বারা ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র -  প্রথম আলো এবং পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪,৯২১.
প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের গতিবেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. 0.2 ms-1
  2. 1.9 ms-1
  3. 1.6 ms-1
  4. 0.6 ms-1
ব্যাখ্যা

• প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের গতিবেগ প্রায় 0.6 মিটার প্রতি সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) 0.6 ms -1

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 

- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯২২.
চাঁদে কোন শব্দ করলে তা শোনা যাবে না কেন?
  1. চাঁদে কোন জীব নেই তাই
  2. চাঁদে কোন পানি নেই তাই
  3. চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই তাই
  4. চাঁদের মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ অপেক্ষা কম তাই
ব্যাখ্যা
- যেকোনো কম্পনশীল বস্তুই হলো শব্দের উৎস। 
- শব্দ বিস্তারের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন। 
- ভ্যাকুয়াম বা শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলতে পারে না। 
- কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 
- তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য কারণ শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- চাঁদে কোনো বিষ্ফোরণ ঘটলে সেই শব্দ কখনোই পৃথিবী থেকে শোনা যাবে না, কারণ চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, তাই শব্দ সঞ্চালিত হয়ে পৃথিবীতে পৌছাতে পারবে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯২৩.
১ মেগা ওয়াট = কত ওয়াট?
  1. ১০ ওয়াট
  2. ১০ ওয়াট
  3. ১০ ওয়াট
  4. ১০১২ ওয়াট
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ক্ষমতা: 
- কাজ এবং শক্তির একক হচ্ছে জুল। 
- শক্তি প্রয়োগ করে কাজ করা যায় এবং কাজ করার হার অর্থাৎ একক সময়ে সম্পন্নকৃত কাজকে ক্ষমতা বলে। 
- কোনো তড়িৎ যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে কিংবা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ ক্ষমতা বলে। 

কিলোওয়াট: 
- কোনো রোধ বা তড়িৎ যন্ত্রের দুই পাশের বিভব পার্থক্য এক ভোল্ট হলে যদি এর মধ্য দিয়ে এক অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা এক ওয়াট। 
• এক ওয়াট = ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার 
- যখন অনেক বেশি তড়িৎ ক্ষমতা ব্যবহৃত হয় তখন সেটাকে কিলোওয়াট বা মেগাওয়াটে প্রকাশ করা সুবিধাজনক। 
• ১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট বা ১০ ওয়াট এবং 
১ মেগা ওয়াট = ১০ ওয়াট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯২৪.
ফটোইলেকট্রিক কোষের উপর আলো পড়লে কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক) তাপ
  2. খ) কিছুই হয় না
  3. গ) বিদ্যুৎ
  4. ঘ) চুম্বক
ব্যাখ্যা
• ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম প্রভৃতি ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেক্ট্রন নির্গত হতে দেখা যায়।
- ফটোইলেকট্রিক কোষ এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ফটোইলেকট্রিক কোষ হলো বিশেষ এক ধরনের ডায়োড, যার ওপর আলো পড়লে আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৪,৯২৫.
পঁচা ডিমের গন্ধযুক্ত গ্যাস কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম সালফাইড
  2. খ) হাইড্রোজেন সালফাইড
  3. গ) মিথেন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) ইত্যাদি পঁচা ডিমের গন্ধযুক্ত গ্যাস।

হাইড্রোজেন সালফাইড:
- এটি একটি রাসায়নিক যৌগ।
- এর রাসায়নিক সংকেত H2S।
- ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
- এটি বর্ণহীন গ্যাস।
- এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
- সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসের থেকে এই গ্যাস একটু ভারি।
- জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং PubChem

৪,৯২৬.
কোন বিক্রিয়াটিতে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ইস্পাতকে চুম্বকে পরিণত করলে
  2. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হওয়া
  3. পানিতে চুন যোগ করলে
  4. পানিতে খাদ্য লবণ যোগ করলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) পানিতে চুন যোগ করলে

চুনকাম এবং তাপ সৃষ্টি
- বিল্ডিং-এ যখন রং করা হয় তখন সবার আগে চুনকাম করা হয়।
- বড় একটি পাত্রের মধ্যে পানি নিয়ে ধীরে ধীরে চুনের বড় বড় টুকরা ঢেলে দেওয়া হয়।
- পানিতে চুন গলতে থাকে এবং পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
- একসময় পানি ফুটতে থাকে। এক্ষেত্রে চুনের সাথে পানির বিক্রিয়ায় তাপের সৃষ্টি হয়েছে।
- রাসায়নিক সমীকরণ: CaO (s) + H₂O (l) → Ca(OH)₂ + তাপ
- তাই এখানে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change)
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
- অর্থাৎ এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে।
- উদাহরণ ১: একখন্ড ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করাতে থাকলে এটি এক সময় লোহাকে আকর্ষণ করার এক বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। এটি অবশ্যই ভৌত পরিবর্তন, কেননা এটি ইস্পাতের অস্থায়ী পরিবর্তন এবং এর ফলে কোনো নতুন অণুর সৃষ্টি হয় না।
- উদাহরণ ২: কিছু পরিমাণ খাবার লবণকে একটি কাঁচের পাত্রে নিয়ে পানি যোগ করে দ্রবণ তৈরী কর। এ দ্রবণকে বিকারে নিয়ে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়। কঠিন অবশেষ হিসেবে লবণ পাওয়া যায়। কঠিন অবস্থায় বা দ্রবীভূত অবস্থায় উপাদানসমূহের গঠন ও সংযুক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং এটিও ভৌত পরিবর্তন।
- উদাহরণ ৩: পরীক্ষাগারে অল্প পরিমাণ অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডকে তাপ দিলে তা বাষ্পীভূত হয়ে নলের শীতল অংশে জমা হয়। এটিও ভৌত পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে নতুন কোনো উপাদানের সৃষ্টি হয় না, শুধু অবস্থার পরিবর্তন ঘটে মাত্র।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯২৭.
এক্সরে রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত মিটার?
  1. ক) 4 x 10-7 - 7 x 10-7
  2. খ) 7 x 10-7 - 1 x 10-3
  3. গ) 1 x 10-11 - 1 x 10-8
  4. ঘ) 1 x 10-3 - 1 x 10-1
ব্যাখ্যা

Source:gsfc.nasa.gov
৪,৯২৮.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ - 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. নীল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. নীল লিটমাসকে সবুজ করে
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯২৯.
পরিবাহকের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ করার ফলে রোধ R কেমন পরিবর্তিত হবে?
  1. R/2
  2. 3R
  3. R/4
  4. 5R
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 

- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
সুতরাং তাপমাত্রা ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর রোধের দুটি সূত্র প্রযোজ্য। 
যথা- 

১) দৈর্ঘ্যের সূত্র: 
- তাপমাত্রা এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং দৈর্ঘ্য। হলে সূত্রানুসারে R ∝ I, যখন এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর দৈর্ঘ্য যত বড় হবে রোধ তত বৃদ্ধি পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের 1m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 10 m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 100 Ω হবে। 

২) প্রস্থচ্ছেদের সূত্র: 
- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A হলে সূত্রানুসারে R ∝ 1/A, যখন এর দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল যত বড় হবে রোধ তত হ্রাস পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2
প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 2m2
প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 5 Ω হবে।

অনুরূপভাবে, 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2
- প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R Ω হয় তবে 2m2
- প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R/2 Ω হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৩০.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সর্বাধিক?
  1. ইস্পাত
  2. পানি 
  3. বায়ু 
  4. শূন্যস্থান
ব্যাখ্যা

- ইস্পাত একটি কঠিন মাধ্যম যেখানে কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং দৃঢ়ভাবে বিন্যস্ত থাকে, তাই এখানে শব্দের বেগ সর্বাধিক। 

শব্দ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: পানি) শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মত তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৩১.
এভারেস্ট শৃঙ্গে g-এর মান কত?
  1. 9.78 ms-2
  2. 9.81 ms-2
  3. 9.83 ms-2
  4. 9.85 ms-2
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্বনিম্ন প্রায় 9.78 ms-2.
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2.
- এভারেস্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2.
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.
 
তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৩২.
কোন দ্রবণের pH মান 7 এর কম হলে লিটমাস পেপার কোন রং ধারণ করে?
  1. ক) নীল
  2. খ) হলুদ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
pH মান জানার জন্য সাধারণত ইউনিভার্সাল ইন্ডিকেটর, pH পেপার বা pH মিটার ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪,৯৩৩.
হাতে হাত ঘষলে কোন রূপান্তর ঘটে?
  1. যান্ত্রিক → তাপ শক্তি 
  2. তাপ → যান্ত্রিক শক্তি 
  3. আলোক → রাসায়নিক শক্তি 
  4. রাসায়নিক → তড়িৎ শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- এখানে কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হলো-
১। যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

২। তাপ শক্তির রূপান্তর: 
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়। 

৩। আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৪। রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৫। বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৬। শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

৭। চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৮। নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর: 
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়। 
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৩৪.
একজন লোক বই পড়তে গেলে মাথা ব্যথা করে। তাঁর কী ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হবে?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. সমবাতল
  4. সমতালোত্তল
ব্যাখ্যা
• একজন লোক বই পড়তে গেলে মাথা ব্যথা করে। তাঁর কাছের বস্তু দেখতে সমস্যা হচ্ছে। অর্থাৎ, উত্তল লেন্স ব্যবহার করতে হবে। 

চোখের ত্রুটি 
- স্বাভাবিক চোখের দৃষ্টির সীমা চোখের সামনে 25 সেন্টিমিটার থেকে অসীম পর্যন্ত (যদিও দূরের বস্তু ছোট দেখা যায়)। এই দূরত্বকে চোখের পাল্লা বলে।
- যদি কোনো চোখ এই পাল্লার মধ্যে কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে না পায়, তা হলে সেই চোখকে ত্রুটিপূর্ণ বলা হয়।
- চোখে প্রধানত: দু ধরণের ত্রুটি দেখা যায়-
♦ হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি এবং
♦ দীর্ঘ দৃষ্টি বা দূর বদ্ধ দৃষ্টি । 

দীর্ঘ দৃষ্টি বা দূর বদ্ধ দৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া (Long sight or Hypermetropia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে, কিন্তু কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না।
- চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকট দূরত্ব দূরে সরে যায় বা বেড়ে যায়। চক্ষু গোলকের ব্যাসার্ধ কমে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয় । 
- এই ত্রুটি দূর করার জন্যও চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যের বা পাওয়ারের উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয়। উত্তল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো সংকুচিত করে, ফলে ফোকাসটি রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  (edited)
৪,৯৩৫.
কোন তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়? 
  1. ০° C
  2. ৪° C
  3. ৩৩° C
  4. ১০০° C
ব্যাখ্যা
পানির ধর্ম: 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। 
- ০°C তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়। 
- ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩। 
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৪,৯৩৬.
GPS সিস্টেম কোন তরঙ্গ ব্যবহার করে?
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. আল্ট্রাভায়োলেট
  3. এক্স-রে
  4. ইনফ্রারেড
ব্যাখ্যা
◉ GPS (Global Positioning System) স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে সিগন্যাল পাঠায়। এগুলো মূলত L-band microwave frequencies (1–2 GHz) এ কাজ করে, যা রেডিও ওয়েভ স্পেকট্রামের মধ্যে পড়ে।

GPS: 
- GPS এর পূর্ণরূপ Global Positioning System।
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম।
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে।
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।
- এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
খ) আল্ট্রাভায়োলেট (UV): জীবাণুনাশক, পানি বিশুদ্ধকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

গ) এক্স-রে (X-ray): চিকিৎসায় হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ছবি তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ঘ) ইনফ্রারেড (Infrared): রিমোট কন্ট্রোল, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও তাপ সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২। U.S. Government GPS Official Website. [লিংক] 
৪,৯৩৭.
ওহমের সূত্রকে গাণিতিকভাবে কিভাবে প্রকাশ করা হয়?
  1. Q = It
  2. P = VI
  3. F = ma
  4. V = IR
ব্যাখ্যা

• ওহমের সূত্র গাণিতিকভাবে V = IR দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে V হলো বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ, I হলো বৈদ্যুতিক প্রবাহ এবং R হলো প্রতিরোধ। এটি নির্দেশ করে যে কোনো পরিবাহকের দুই প্রান্তের ভোল্টেজ তার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টের সমানুপাতিক এবং সেই পরিবাহকের বৈদ্যুতিক প্রতিরোধের উপর নির্ভরশীল। এই সূত্র বৈদ্যুতিক পরিমাপ ও সার্কিট বিশ্লেষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 
ওহমের সূত্র:
 • সূত্রটির গাণিতিক রূপ হলো-
V = IR

এখানে,
V = ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য (Volt)
I = কারেন্ট বা বিদ্যুৎ প্রবাহ (Ampere)
R = রোধ  (Ohm)
এই সূত্র অনুসারে, কোনো পরিবাহকের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিবাহকের রোধ ও পরিবাহকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টর সাথে সম্পর্কযুক্ত।

অন্যদিকে,
• P = VI – এটি বিদ্যুৎ শক্তি বা Power-এর সূত্র।
• Q = It – এটি আধান (Charge) নির্ণয়ের সূত্র।
• F = ma – এটি নিউটনের দ্বিতীয় গতি সূত্র (বলের সূত্র)। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৩৮.
টেলিফোনে কয়টি উপাংশ থাকে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
টেলিফোনে ৫ টি উপাংশ থাকে । ১) সুইচ : যেটি মুল টেলিফোন নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ করে বা বিচ্ছিন্ন করে ২) রিংগার - শব্দ করে জানিয়ে দেয় কেউ যোগাযোগ করছে। ৩) কি-প্যাড - এর মাধ্যমে একজন আরেকজনকে ডায়াল করতে পারে ৪) মাইক্রোফোন - এটি শব্দশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রুপান্তরিত করে ৫) স্পিকার - এটি তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রুপান্তরিত করে

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
৪,৯৩৯.
কোনটি জৈব যৌগ নয়? 
  1. CH4
  2. Na2CO3
  3. CH3OH
  4. C6H5NH2
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। 
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে। 
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। 
যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি। 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে। 
যেমন- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৪০.
নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় -
  1. আপেক্ষিক
  2. পরিবর্তনশীল
  3. ভেক্টর রাশি
  4. ধ্রুবক
ব্যাখ্যা
নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় ধ্রুব - গতি নির্ভর নয়।
কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে
দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় আপেক্ষিক, যা বস্তু বা প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর নির্ভরশীল।
একে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলে।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৯৪১.
কোনটি স্কেলার রাশি?
  1. বল 
  2. বেগ 
  3. ওজন
  4. দ্রুতি
ব্যাখ্যা

• স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

• ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৪২.
সালফারের যোজনী নয় কোনটি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে অণু গঠন করে। অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।

সাধারণত সব সময় হাইড্রোজেনের যোজনী এক (1) ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো ঐ পরমাণু বা H পরমাণু বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে সেই সংখ্যাই হলো ঐ মৌলের যোজনী বা যোজ্যতা।

কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে। কোনো মৌলের একাধিক যোজনী থাকলে সেই মৌলের যোজনীকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। যেমন: Fe এর পরিবর্তনশীল যোজনী 2 এবং 3।
- সালফারের পরিবর্তনশীল যোজনী ২, ৪, ৬

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি। 
৪,৯৪৩.
এক্সরে এর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।
  2. খ) সরল পথে গমন করে।
  3. গ) আলোর সমবেগে গমন করে।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,৯৪৪.
টাংস্টেনের ল্যাটিন নাম কোনটি?
  1. Aurum
  2. Wolfram
  3. Ferrum
  4. Kalium
ব্যাখ্যা
- টাংস্টেনের ল্যাটিন নাম  হলো  Wolfram.
- এটি একটি মৌলিক পদার্থ যার চিহ্ন (Symbol) W. 
- এই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৭৪ । 

অন্যদিকে, 
- গোল্ডের ল্যাটিন নাম হলো Aurum.
- আয়রনের ল্যাটিন নাম হলো Ferrum. 
- পটাশিয়ামের ল্যাটিন নাম হলো Kalium.

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৪,৯৪৫.
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি কী? 
  1. এক ধরনের রোধক যন্ত্র 
  2. বিদ্যুৎ সরবরাহের উৎস 
  3. একটি পূর্ণ ইলেকট্রনিক বর্তনী যা মাইক্রো প্রযুক্তিতে তৈরি 
  4. শুধুমাত্র ট্রানজিস্টারের সমন্বয় 
ব্যাখ্যা

সমন্বিত বর্তনী বা আই, সি (Integrated Circuits or IC): 
- ইলেকট্রনিক্সের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিক্স।
- মাইক্রোইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিক্স বর্তনী তৈরি করা যায় যেগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক্স সার্কিট (microelecrtonic circuit) বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী বলে। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আই, সি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়।ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- 
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০টি উপাদান থাকে। 
২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০টি উপাদান থাকে। 
৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০টির অধিক উপাদান থাকে। 
- সমন্বিত বর্তনী ব্যবহারে সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনী অপেক্ষা অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। 
যেমন- 
১। সমন্বিত বর্তনী অতি উচ্চ মাত্রার নির্ভরযোগ্য বর্তনী। 
২। সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর তুলনায় অত্যন্ত কম জায়গা দখল করে। 
৩। সমন্বিত বর্তনী ব্যবহার করলে সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর চেয়ে অনেক কম খরচ পড়ে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৪৬.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরীর জন্য জার্মেনিয়াম এর সাথে অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হয়-
  1. আর্সেনিক
  2. বোরন
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
p- টাইপ অর্ধপরিবাহীঃ কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো
হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে। যেমন: বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
n-টাইপ অর্ধপরিবাহী : কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো
হলে তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে। যেমন: ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,৯৪৭.
কোনো সিস্টেমের বিশৃংখলার সূচক পরিমাপক -
  1. ক) কর্মদক্ষতা
  2. খ) এনট্রপি
  3. গ) সিস্টেম লস
  4. ঘ) এনথালপি
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়।
ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়।
অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে।
ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা
স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,৯৪৮.
স্টার্টিং টর্ক বেশি কোন মোটরের?
  1. ক) সিরিজ মোটর
  2. খ) শান্ট মোটর
  3. গ) কম্পাউন্ড মোটর
  4. ঘ) সিনক্রোনাস মোটর
ব্যাখ্যা
মেশিনে টর্ক, T ∝ ΦIa
Φ = ফ্লাক্স
Ia = আর্মেচার কারেন্ট

সিরিজ মোটরে, ফ্লাক্স আর্মেচার কারেন্টের সমানুপাতিক।
Φ ∝ Ia
∴ টর্ক, T ∝ Ia × Ia
⇒ T ∝ Ia2

অর্থাৎ, ডিসি সিরিজ মোটরে টর্ক আর্মেচার কারেন্টের বর্গের সমানুপাতে পরিবর্তিত হয়। ফলে সিরিজ মোটরের স্টার্টিং টর্ক অন্যান্য মোটরের থেকে বেশী হয়।

উৎস: Electric Machinery Fundamentals by Stephen J. Chapman
৪,৯৪৯.
নিচের কোন শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়?
  1. তেল
  2. জলবিদ্যুৎ
  3. কয়লা
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'জলবিদ্যুৎ' শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• সৌর শক্তি, 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হচ্ছে- 
• কয়লা, 
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস, 
• নিউক্লিয় শক্তি বা পারমাণবিক শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৫০.
How many elements are found naturally in nature?
  1. 88
  2. 90
  3. 118
  4. 98
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- যার মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,৯৫১.
মোম-এর মূল উপাদান কী?
  1. হাইড্রোকার্বন
  2. কার্বন
  3. মিথেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
মোমের তিন অবস্থা: 
- মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। 
- হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। 
- মোমের প্রজ্বলনে মোমের কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিনটি অবস্থাই দেখা যায়। 
- মোম বাতিতে মোমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। অর্থাৎ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। 
- ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়। অতপর ঐ বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে। তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে তা কঠিন মোমে পরিণত হয়। 
- অর্থাৎ তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৫২.
কোনো রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে, তার বিক্ষেপণ কেমন হবে? 
  1. কম 
  2. বেশি 
  3. মধ্যম 
  4. অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি হবে, তার বিক্ষেপণ তত কম হবে । উদাহরণস্বরূপ, লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয়, একারণেই দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বা বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়। 

আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম যথাক্রমে বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল। 
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়, আবার আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়। 
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪,৯৫৩.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিকেল
  2. খ) জিংক
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) তুঁতে
ব্যাখ্যা

- লোহার তৈরি জিনিসের ওপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় গ্যালভানাইজিং। গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।
- ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের ক্ষয় রোধের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাহায্যে একটি ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। সাধারণত নিকেল ব ক্রোমিয়াম ধাতু এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,৯৫৪.
অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য নিচের কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) পাতন
  2. খ) কেলাসন
  3. গ) আংশিক পাতন
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়ামের উপাদানসমূহ ও তাদের পৃথকীকরণ:
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়।
- পেট্রোলিয়ামের সাথে অনেক সময় প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে যা পেট্রোলিয়ামের উপরিভাগে চাপ প্রয়োগ করে।
- কূপ খনন করা হলে এই প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়ামকে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসতে সাহায্য করে।
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বা পেট্রোলিয়াম বলে।
- অপরিশোধিত তেল অস্বচ্ছ কখনো কখনো সালফারের কিছু কিছু যৌগ থাকার কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
- পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়।
- অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাঙ্কের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৯৫৫.
ড্রাই আইস তৈরীতে কোন গ্যাসের প্রয়োজন হয়?
  1. ক) NH2
  2. খ) CO2
  3. গ) H2
  4. ঘ) H2O
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ:

- শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস' হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -78.5°C উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৫৬.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবন কে কি বলা হয়?
  1. বেকিং সোডা
  2. কস্টিক পটাশ
  3. গ্রিজ
  4. সাবান
ব্যাখ্যা
সাবান:  সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের  (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড)  সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ময়লা ও তেল অপসারণ করে।


• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন।
- এ প্রক্রিয়া তে জৈব এসিডের সাথে ক্ষারের ক্রিয়ায় সাবান তৈরি হয়। 
বিক্রিয়াটি হলো:
                       জৈব এসিড বা স্টিয়ারিক এসিড (C₁₇H₃₅COOH ) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O
- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সবানের রাসায়নিক নাম। 

অন্যদিকে, 
বেকিং সোডা: এটির রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO₃)।  এটি খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার হয়।

কস্টিক পটাশ: এটির রাসায়নিক নাম হলো পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH)।  এটি সাবান তৈরির জন্য ব্যবহার হয়, কিন্তু এটি সাবান নয়। 

গ্রিজ: এটি একধরনের ঘন পিচ্ছিল পদার্থ। এটি সাধারণত লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ,  নবম-দশম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৪,৯৫৭.
পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য হজমের জন্য কোন এসিড অত্যাবশ্যক?
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. কার্বোলিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৯৫৮.
কোন মাধ্যম দিয়ে শব্দ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে যায়?
  1. শূন্যতায়
  2. পানিতে
  3. বাতাসে
  4. লোহায়
ব্যাখ্যা

- লোহা মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।

শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল  পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৫৯.
তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) পরিবহন
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন হয় তিন প্রক্রিয়ায়।
১) পরিবহন,
২) পরিচলন,
৩) বিকিরণ।
পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে এভাবেই আসে। তাই বলা যায় তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া হচ্ছে বিকিরণ।
৪,৯৬০.
পৃথিবীতে আবিস্কৃত মৌলের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১৮ টি
  2. ২০ টি
  3. ৯৮ টি
  4. ১০৮ টি
ব্যাখ্যা
মৌল বা মৌলিক পদার্থ: 
- পৃথিবীতে অসংখ্য পদার্থগুলোর মধ্যে কতগুলো পদার্থ আছে যেগুলোকে ভেঙে যত ক্ষুদ্র কণাতে পরিনত করা হোক না কেন প্রত্যেক ক্ষুদ্র কণাতেই ঐ পদার্থের ধর্ম ও গুণাগুণ বিদ্যমান থাকে। 
- যে পদার্থগুলোকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ঐ পদার্থ ছাড়া অন্য কোন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ পাওয়া যায় না তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বা সংক্ষেপে মৌল বলা হয়। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে আবিস্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি, এর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় প্রায় ৯৮টি মৌল, বাকি মৌলগুলো কৃত্রিমভাবে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম বা হিলিয়াম এগুলো সব মৌলিক পদার্থ। 
- এই মৌলিক পদার্থগুলোকে প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেনের প্রতীক H, আবার সোডিয়ামের প্রতীক Na। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থের নির্দিষ্ট পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৬১.
স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকা ধাতু কোনটি?
  1. পারদ
  2. সোডিয়াম
  3. কপার
  4. ব্রোমিন
ব্যাখ্যা
পারদ: 
'পারদ' একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০ । 
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস। 
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। 
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৬২.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
পরিচলনঃ যে পদ্ধতিতে তাপ কোন পদার্থের অণুগুলোর চলাচলের দ্বারা উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে সঞ্চালিত হয় তাকে পরিচলন বলে।
১. তাপের পরিচলন এর জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়
২. কঠিন পদার্থে তাপের পরিচলন সম্ভব নয়
৩. তরল ও বায়বীয় পদার্থে মূলত এই পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়
৪. এটি পরিবহন এর চেয়ে অপেক্ষাকৃত দ্রুত পদ্ধতি
উদাহরণঃ একটি পানিভর্তি কাচের পাত্রে তাপ দিলে ক্রমাগত উষ্ণ পানি উপরে উঠে যায় এবং শীতল পানি নিচে নেমে আসে। এভাবে সমস্ত পানি উত্তপ্ত হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৬৩.
অভিকর্ষজ ত্বরণ কোনটির উপর নির্ভর করে?
  1. ক) পৃথিবীর ভর
  2. খ) পৃথিবীর ব্যাসার্ধ
  3. গ) বস্তুর উচ্চতা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = GM/R2

G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, এর মান হচ্ছে 6.673 × 10-11 Nm2kg-2
M = পৃথিবীর ভর
R = পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বস্তুর উচ্চতা (বস্তুটি পৃথিবীর পৃষ্ঠে থাকলে দূরত্ব হবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধের সমান)।

অতএব, অভিকর্ষজ ত্বরণ নির্ভর করে  পৃথিবীর ভর, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ,  বস্তুর উচ্চতা সবগুলোর উপর।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৯৬৪.
আকাশে বিজলী চমকায়-
  1. দুই খণ্ড মেঘ পর পর এলে
  2. মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে
  3. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
  4. মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
ব্যাখ্যা
- আকাশে বিজলী চমকায় মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে। 
- ধনাত্নক ও ঋণাত্মক চার্জযুক্ত দুটি মেঘ কাছাকাছি আসলে আকর্ষণের ফলে চার্জ এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে দ্রুত ছুটে যায়। 
- ফলে ইলেক্ট্রনের চার্জ গতিপথে যে তীব্র আলোক উৎপন্ন হয় তাকে বিজলী চমকানো বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৬৫.
ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ কোনটি ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত হয়?
  1. যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে
  2. যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে
  3. ব্যাটারি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ইলেকট্রোপ্লেটিং বা তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়ায় যে বস্তুর ওপর প্রলেপ দিতে হয়, সেটিকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের বা ক্যাথোডের সাথে যুক্ত করা হয়। যেহেতু দ্রবণে থাকা ধাতব আয়নগুলো ধনাত্মক চার্জযুক্ত থাকে, তাই সেগুলি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ক্যাথোডের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং সেখানে জমা হয়ে স্তরের সৃষ্টি করে। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এই প্রক্রিয়ায় যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- আর যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- ব্যাটারি হলো শক্তির উৎস, এটি নিজে কোনো প্রান্তের সাথে যুক্ত হয় না বরং এর মাধ্যমেই সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৬৬.
মানুষের রক্তে কত ধরনের রক্ত কণিকা আছে?
  1. ৪ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে৷
যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও
৩. অনুচক্রিকা।

- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- শ্বেত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ৷
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৬৭.
আন্তর্জাতিক বা SI এককে সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবকের মান কত?
  1. 22.4 litre
  2. 8.31 JK-1mol-1
  3. 5.43 Nm-2
  4. 8.54 JK-1mol-1
ব্যাখ্যা
• সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক, যাকে সাধারণত R দ্বারা প্রকাশ করা হয়, এটি একটি মৌলিক ভৌত ধ্রুবক যা আদর্শ গ্যাস সূত্রে (Ideal Gas Law) ব্যবহৃত হয়।

• আদর্শ গ্যাস সূত্র হলো:
PV=nRT

যেখানে,

P = চাপ (Pressure)
V = আয়তন (Volume)
n = মৌলের মোল সংখ্যা (Number of moles)
R = সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক
T = তাপমাত্রা (Kelvin এককে)

সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবকের মান বিভিন্ন এককে ভিন্ন হতে পারে ( অর্থাৎ সবগুলোই সঠিক), যেমন:

8.314 J mol-1K-1

0.0821L atm mol-1K-1   

1.987cal mol-1K-1


তথ্যসূত্র: 
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান,  একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী।
- পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ।
৪,৯৬৮.
তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা কোনটি? 
  1. গ্লুঅন
  2. ফোটন
  3. গ্রাভিটন
  4. W এবং Z বোসন
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 

অন্যদিকে, 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
৪,৯৬৯.
উইলিয়াম হার্শেল কত শতাব্দীতে infrared তরঙ্গ আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ১২০০
  2. খ) ১৩০০
  3. গ) ১৪০০
  4. ঘ) ১৭০০
  5. ঙ) ১৮০০
ব্যাখ্যা
১৮০০ শতাব্দীতে infrared তরঙ্গ আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হার্শেল।
উৎসঃতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি- মোঃ মজিবুর রহমান।
৪,৯৭০.
ফুলের সুগন্ধ বাতাসে কোন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে?
  1. অভিস্রবণ
  2. প্রস্বেদন
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপনের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৪,৯৭১.
নিচের কোন ধাতুটি চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয় না? 
  1. নিকেল
  2. তামা
  3. লোহা
  4. কোবাল্ট
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকেই চুম্বক আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং অধিকাংশ ইস্পাতকে আকর্ষণ করে তাই এই পদার্থগুলোকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ, রৌপ্য, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থগুলোকে আকর্ষণ করে না তাই এই পদার্থগুলোকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,৯৭২.
নিম্নের কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উদাহরণ?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ক্রিপ্টন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
ক্রিপ্টন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এছাড়াও হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, জেনন, রেডন এবং ওগানেসন- মোট সাতটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস রয়েছে। 


যে সব গ্যাসীয় মৌল রাসায়নিকভাবে নিস্ক্রিয় অর্থাৎ অন্য কোনো মৌলের সাথে সংযুক্ত হয় না, এমনকি নিজেদের মধ্যেও সংযুক্ত হয় না, সর্বদা এক পরমাণুক অবস্থা বিরাজ করে তাদেরকে নিস্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas) বলে। নিস্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি। এগুলো হলো : হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।

নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ধর্মসমূহ- 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪,৯৭৩.
পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর আকরিক উৎপন্নকারী মৌলসমূহকে কী বলা হয়?
  1. ক) মুদ্রা ধাতু
  2. খ) অবস্থান্তর মৌল
  3. গ) ল্যান্থানাইড
  4. ঘ) চ্যালকোজেন
ব্যাখ্যা
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়।

সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৭৪.
আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. অপবর্তন 
  2. ব্যতিচার 
  3. প্রতিফলন
  4. অপসরণ 
ব্যাখ্যা

প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
অর্থাৎ, আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে। 
- আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতির উপর এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণের উপর। 
- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়। কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাঁচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। 
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

আলোর প্রতিফলনের সূত্র: 
- আলোর প্রতিফলন দু'টি সূত্র মেনে চলে, এদের প্রতিফলনের সূত্র বলে। 
সূত্র দু'টি হলো- 
১. আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অংকিত অভিলম্ব এবং প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে। 
২. আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 
অর্থাৎ, আপতন কোণ i এবং প্রতিফলন কোণ r হলে, ∠i = ∠r. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৭৫.
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = কত জুল?
  1. ৩৬০০ জুল
  2. ১.৬ × ১০ জুল
  3. ৩৬০০০ জুল
  4. ৩.৬ × ১০ জুল
ব্যাখ্যা
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা 
= ১ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩৬০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩৬০০ জুল
∴ ১ ওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬০০ জুল।

- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট-ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট Χ ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩.৬ × ১০ জুল 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা এই এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৭৬.
কার্বনের এক অণু সমান পুরু একটি স্তরকে কী বলা হয়?
  1. গ্রাফিন
  2. কার্বন-১৪ ডেটিং
  3. গ্রাফাইট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গ্রাফিন
- বিজ্ঞানের জগতে সুপারম্যাটেরিয়াল তথা বিস্ময় বস্তু গ্রাফিন।
- মূলত কার্বনের এক অণু সমান পুরু একটি স্তরকেই বলা হয় গ্রাফিন।
- এর গঠন এমন যে, নমনীয় হলেও এটি দুর্দান্ত মজবুত, টেকসই ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- ২০০৪ সালে আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে এর নানামুখী ব্যবহার ও চাহিদা বেড়েই চলেছে।
- আর সেই চাহিদা পূরণে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। চীনের নতুন উৎপাদনশীল শক্তি বিকাশেও ভূমিকা রাখছে গ্রাফিন।
- গ্রাফিন উৎপাদনে বড় অগ্রগতি অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠান হলো পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের নিংবো শহরের ন্যাশনাল গ্রাফিন ইনোভেশন সেন্টার বা এনজিআইসি।

অপরদিকে, 
• কার্বন-১৪ ডেটিং হচ্ছে জৈব উপাদান ধারণকারী বস্তুর বয়স নির্ধারণের একটি পদ্ধতি। 
• গ্রাফাইট হচ্ছে অঙ্গার বা কার্বনের একটি রূপ এর স্ফটিক ষট-কৌনিক আকৃতির। 

সূত্র- ব্রিটানিকা।
৪,৯৭৭.
১০ জন ব্যক্তি একটি কাজ ১৪ দিনে শেষ করে। অতিরিক্ত ৪ জন যুক্ত হলে কাজটি শেষ করতে কতদিন লাগবে?
  1. ৮ দিন
  2. ১২ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১১ দিন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১০ জন ব্যক্তি একটি কাজ ১৪ দিনে শেষ করে। অতিরিক্ত ৪ জন যুক্ত হলে কাজটি শেষ করতে কতদিন লাগবে?

সমাধান:
৪ জন যুক্ত হলে মোট লোকসংখ্যা ১৪ জন।
তাহলে একটি কাজ,
১০ জন করে ১৪ দিনে
১ জনে করে (১৪ × ১০) দিনে
১৪ জন করে ১৪০/১৪ দিনে
= ১০ দিন
৪,৯৭৮.
আপেলে কোন ধরনের এসিড বিদ্যমান?
  1. টারটারিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. স্যালিসাইলিক এসিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন এসিড:

- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইলিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৪,৯৭৯.
তামার সাথে নিচের কোনটি মেশালে পিতল হয়?
  1. নিকেল
  2. টিন
  3. সিসা
  4. দস্তা (জিঙ্ক)
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে, যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৮০.
মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দের কম্পাঙ্ক সীমা কত?
  1. 20 Hz - 20,000 Hz
  2. 10 Hz - 10,000 Hz
  3. 5 Hz - 50,000 Hz
  4. 50 Hz - 50,000 Hz
ব্যাখ্যা
• মানুষের কান সাধারণত ২০ হার্জ (Hz) থেকে ২০,০০০ হার্জ (Hz) পর্যন্ত কম্পাঙ্কযুক্ত শব্দ শুনতে সক্ষম।

• এর নিম্নসীমা হলো ২০ হার্জ (Hz) ও ঊর্ধ্বসীমা হলো ২০,০০০ হার্জ (Hz)।

- শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ Hz-এর কম হলে তাকে বলা হয় ইনফ্রাসাউন্ড বা শব্দেতর তরঙ্গ। — এটি মানুষ শুনতে পায় না।

- শব্দের কম্পাঙ্ক ২০,০০০ Hz-এর বেশি হলে তাকে বলা হয় আল্ট্রাসাউন্ড বা শব্দোত্তর তরঙ্গ। — এটিও মানুষ শুনতে পারে না, তবে ডলফিন, বাদুড়ের মতো প্রাণী শুনতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৪,৯৮১.
ব্লিচিং পাউডার এর সংকেত কী ?
  1. KClO3
  2. NaCl
  3. Ca(OCl)Cl
  4. NaClO2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ব্লিচিং পাউডার এর সংকেত কী ?

সমাধন:
ব্লিচিং পাউডার:
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরাে হাইপােক্লোরাইট, Ca(OCl)Cl.
- বলপেন এর কালি বা অন্য কোনাে রং যেগুলাে সাবান এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে তােলা যায় না সেগুলােকে কাপড় থেকে উঠানাের জন্য তথা বর্ণহীন করার জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়া মেঝে, কমােড, বেসিন ইত্যাদি জায়গা থেকে জীবাণু ধ্বংস করার কাজেও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- 40°C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করলে ব্লিচিং পাউডার, Ca(OCl)Cl উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি।

৪,৯৮২.
ভরবেগ কী ধরনের রাশি?
  1. ভেক্টর
  2. স্কেলার
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ভরবেগ:
- ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর ভর ও তার বেগের গুণফল।

• ভরবেগ,
p = mv 
এখানে,
p = ভরবেগ
m = ভর (স্কেলার রাশি)
v = বেগ (ভেক্টর রাশি)

• যেহেতু বেগ একটি ভেক্টর রাশি, তাই ভরবেগও একটি ভেক্টর রাশি । 
• ভরবেগের মান এবং দিক উভয়ই থাকে।
• এটির দিক বেগের দিকেই নির্দেশ করে।
৪,৯৮৩.
এক্স-রে (X-Ray) সম্পর্কে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. এটি চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ।
  2. এটি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
  3. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি।
  4. এর শক্তি তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে (X-Ray):
- এক্স-রে হলো তড়িৎচৌম্বক (Electromagnetic) তরঙ্গ, যা তড়িৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের দোলন দ্বারা গঠিত।
- এটি কোনো পদার্থগত কণার প্রবাহ নয়, বরং নিরপেক্ষ শক্তি বহনকারী বিকিরণ।
- এক্স-রে পদার্থের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পর্যায়ে শোষিত হয়, যা একে চিকিৎসা ও শিল্পে বহুল ব্যবহৃত করে।
- শিল্প ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয় ধাতু বা যন্ত্রাংশের ত্রুটি নির্ণয়ে।
- এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণত 0.01 nm থেকে 10 nm পর্যন্ত।
- ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে এক্স-রে উচ্চ শক্তিধর এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
- শক্তি নির্ণয়ের সূত্র: E = hν = hc/λ.
- অর্থাৎ, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, শক্তি তত বেশি।
- এক্স-রে কোনো চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ নয়।

• অন্যান্য অপশন:
- এটি চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ: এক্স-রে কণাপুঞ্জ নয়, এটি তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ।
- এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি: এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে অনেক কম।
- এর শক্তি তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়: শক্তি ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিপরীতানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪,৯৮৪.
কোন কারখানার সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মবিল 
  2. খ) হুইল 
  3. গ) ডিটারজেন্ট
  4. ঘ) শব্দোত্তর তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা
শব্দোত্তর তরঙ্গের ব্যবহার 
• সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ডুবো জাহাজ, হিমশৈল ইত্যাদির অবস্থান জানতে। 
• ধাতব পাত বা ধাতব খন্ডের মধ্যের সূক্ষ্ম ফাটল অনুসন্ধানে ।
• সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে।
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজে ৷
• সাধারণভাবে মিশে না এমন (যেমন পানি-পারদ বা পানি-তেল) তরলসমূহের মিশ্রণ তৈরিতে।
৪,৯৮৫.
বরফ কোন প্রক্রিয়ায় তাপ শোষণ করে পানিতে পরিণত হয় আবার সেই পানি থেকে সমপরিমাণ তাপ অপসারণ করে সমআয়তনের বরফে পরিণত হয়?
  1. প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  2. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
  3. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  4. উভমুখী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রত্যাবর্তী ও অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া: 
- কোনো সিস্টেম যখন এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যায় বা পরিবর্তিত হয়, তখন অবস্থার এ পরিবর্তন দু'ভাবে সংঘটিত হতে পারে। 
যথা- 
১। প্রত্যাবর্তী বা উভমুখী প্রক্রিয়া (Reversible Process) এবং 
২। অপ্রত্যাবর্তী বা একমুখী প্রক্রিয়া (Irreversible Process) । 

প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া: 
- যে প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী হয়ে প্রত্যাবর্তন করে এবং সম্মুখবর্তী ও বিপরীতমুখী প্রক্রিয়ার প্রতি স্তরে তাপ ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয়, সে প্রক্রিয়াকে প্রত্যাবর্তী বা প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া বলে। 

উদাহরণ-১: বরফ তাপ শোষণ করে পানিতে পরিণত হয়। এখন যদি সেই পানি থেকে সমপরিমাণ তাপ অপসারণ করে সমআয়তনের বরফ পাওয়া যায়, তবে এটি প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ। 

উদাহরণ-২: স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে খুব ধীরে ধীরে কোনো স্প্রিংকে সম্প্রসারণ করতে প্রতি ধাপে স্প্রিং এর উপর যে পরিমাণ কাজ করা হবে, সংকোচনের সময় স্প্রিংটিও সেই একই পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করবে। 

উদাহরণ-৩: অল্প উপর থেকে একটি স্থিতিস্থাপক বলকে একটি স্থিতিস্থাপক ইস্পাত পাতের উপর ফেলা হলে বলটি যদি | প্রাথমিক উচ্চতা পর্যন্ত উপরে উঠে আসে তবে বোঝা যাবে যে, শক্তির কোনো অপচয় হয়নি। সুতরাং প্রক্রিয়াটি প্রত্যাবর্তী। 

অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া: 
- যে প্রক্রিয়া বিপরীতমুখী হয়ে প্রত্যাবর্তন করতে পারে না অর্থাৎ সম্মুখবর্তী ও বিপরীতমুখী প্রতি স্তরে তাপ ও কাজের ফলাফল সমান ও বিপরীত হয় না তাকে অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া বলে। 
- প্রকৃতিতে যে সমস্ত পরিবর্তন বা রূপান্তর নিজ থেকেই ঘটে সেগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তন বলে। যেমন- তাপ সবসময়ই উচ্চতর তাপমাত্রা থেকে নিম্নতর তাপমাত্রার দিকে প্রবাহিত হবে, বস্তু সবসময়ই উঁচু থেকে নিচুতে পড়তে থাকে। 

উদাহরণ-১: দুটি বস্তুর মধ্যে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। কারণ ঘর্ষণের বিরুদ্ধে যে কাজ হয় তাই তাপে রূপান্তরিত হয় এবং এ উৎপাদিত তাপকে কোনো প্রকারেই কাজে রূপান্তরিত করা যায় না। 

উদাহরণ-২: তাপমাত্রার পার্থক্য আছে এমন দুটি বস্তুকে তাপীয় সংস্পর্শে রাখলে তাপ সবসময়ই অধিক তাপমাত্রার বস্তু হতে কম তাপমাত্রার বস্তুতে প্রবাহিত হবে। কিন্তু কখনোই কম তাপমাত্রার বস্ত্র হতে অধিক তাপমাত্রার বস্তুতে তাপ প্রবাহিত হবে না। সুতরাং এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উদাহরণ-৩: বৈদ্যুতিক রোধের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তাপের সৃষ্টি হয়। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৮৬.
পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. স্বর্ণ
  2. রূপা
  3. হীরা 
  4. তামা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ:
পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ হলো হীরক যা কার্বনের একটি রুপভেদ।
• অসংখ্য কার্বন পরমাণু পরস্পরের সাথে বন্ধনযুক্ত হয়ে এ অণু তৈরি করে।
• একটি হীরক খণ্ডকে টুকরো করতে হলে অনেকগুলো শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন ছিন্ন করতে হয় বলে হীরক অত্যন্ত কঠিন।
• ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো: লোহা (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au), কিংবা রূপা (Ag)।
• অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ।
• আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৮৭.
নিচের কোন অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে?
  1. Na2O
  2. CO2
  3. Al2O3
  4. CaO
ব্যাখ্যা

- 'CO2' অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 

- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) । 

অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে, তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে, তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন-অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না, তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৮৮.
ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার কাজে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিয়ন
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) আর্গন
  4. ঘ) রেডন
ব্যাখ্যা
• আর্গন (Argon):
আর্গন প্রধানত ইলেকট্রিক বাল্বে ব্যবহৃত হয়। বাল্বে আর্গন থাকার কারণে টাংস্টেন ফিলামেন্ট সহজে  বাষ্পীভূত হয় না।
- রেডিও-এর বাল্ব ও রেকটিফায়ার-এ আর্গন ব্যবহৃত হয় ৷
- ঝালাই-এর কাজে নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে আর্গন ব্যবহৃত হয়।
-গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফিতে এর ব্যবহার আছে। 
তেজস্ক্রিয়তা মাপার যন্ত্র আর্গন গ্যাস ব্যবহার হয়।

• ক্রিপটন (Krypton):
- আর্গনের মত ক্রিপটনও টিউব বাতিতে ব্যবহৃত হয়।
- কসমিক রশ্মি পরিমাপে আয়নীকরণ প্রকোষ্ঠে ক্রিপটন ব্যবহৃত হয়।
- খনি-শ্রমিকদের ‘ক্যাপ-ল্যাম্পে' ক্রিপটন ব্যবহার করা হয়৷
- তীব্র আলো সৃষ্টির জন্য ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ বাল্বে ক্রিপটন ব্যবহার করা হয়।
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক পরিমাপক যন্ত্রে ক্রিপটন ব্যবহার করা হয়।

• জেনন (Xenon):
- দ্রুত গতিসম্পন্ন ফ্লাশ-লাইটে জেনন ব্যবহার করা হয়।
- গামা রশ্মি, নিউটন ও ও অন্যান্য নিউক্লিয় কণা শনাক্তকরণের জন্য বুদবুদ প্রকোষ্ঠে জেনন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

• রেডন (Radon):
- রেডিও-থ্যারাপি চিকিৎসায় শরীরে ক্ষতিকর বৃদ্ধি নাশে এটি ব্যবহৃত হয়।
- ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার কাজে রেডন ব্যবহার করা হয়।
- তেজস্ক্রিয় গবেষণার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: LiveMCQ Lecture.
৪,৯৮৯.
শীতকালের তুলনায় বর্ষাকালে বাষ্পায়নের হার -
  1. কম
  2. বেশি
  3. একই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- শীত কালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম তথা শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে।
- এজন্যই শীতকালে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়। ভেজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
- বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা তথা  বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়। সেজন্য কাপড়ও শুকায় দেরীতে।

[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
৪,৯৯০.
এক গ্রাম তৈল বা চর্বি = কত?
  1. ক) 9.0 cal
  2. খ) 9.2 cal
  3. গ) 9.4 cal
  4. ঘ) 9.3 cal
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড (C15H31CO2H), স্টেয়ারিক এসিড (C17H35CO2H) এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড (C17H33CO2H), লিনোলিক এসিড (C17H31CO2H) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন, সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
সয়াবিন তৈল (অসম্পৃক্ত গ্লিসারাইড) + H2 ⇒ মার্জারিন (সম্পৃক্ত গ্লিসারাইড)। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
৪,৯৯১.
দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা কোন মেরুকে আকর্ষণ করে?
  1. দক্ষিণ মেরু
  2. উত্তর মেরু
  3. পূর্ব মেরু 
  4. পশ্চিম মেরু
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। 
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়। 
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান। 
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে; এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। 
- কিন্তু একটি দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে, ফলে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৪,৯৯২.
স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিতে কী থাকে?
  1. নাইট্রিক অ্যাসিড 
  2. ক্লোরিন
  3. সোডা
  4. কার্বনিক অ্যাসিড
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

স্বাভাবিক বৃষ্টির পানি:
- স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিতে কার্বনিক অ্যাসিড থাকে।

• স্বাভাবিক (প্রাকৃতিক, অদূষিত) বৃষ্টির পানিতে সামান্য কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) থাকে।
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বৃষ্টির পানির সাথে মিশে দুর্বল কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে।
- এ কারণে স্বাভাবিক বৃষ্টির pH প্রায় ৫.৬ (সামান্য অম্লীয়), যেখানে বিশুদ্ধ পানির pH ৭ (নিরপেক্ষ)।

উৎস: USGS Publications Warehouse (.gov) ওয়েবসাইট।

৪,৯৯৩.
তাৎক্ষণিক বেগ পেতে হলে-
  1. সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হতে হবে
  2. সময় ব্যবধান শূন্য হতে হবে
  3. সময় ব্যবধান এক হতে হবে
  4. সময় ব্যবধান অসীম হতে হবে
ব্যাখ্যা
বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ: 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- চোখের পাতা বন্ধ বা খুলতে যে সময় ব্যবধান হয় তাকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বা শূন্যের কাছাকাছি ধরা যেতে পারে। গাণিতিকভাবে At→0 দ্বারা সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি বুঝায়। 
অর্থাৎ, সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমবেগ: 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন- শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

মধ্যবেগ: 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

অসম বেগ: 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসমবেগ বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৯৪.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) আর্গন
  4. ঘ) জেনন
ব্যাখ্যা
- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন এবং রেডন হচ্ছে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উদাহরণ। 
- পর্যায় সারণীর গ্রুপ-১৮ তে অবস্থিত হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন, রেডন এই ৬টি গ্যাসকে একত্রে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।
- হিলিয়াম ব্যতীত অন্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলির বহিঃস্থ শক্তিস্তরে অষ্টক পূর্ণ থাকে; অর্থাৎ, ৮টি করে ইলেক্ট্রন থাকে।
- হিলিয়ামের কেবল একটিই শক্তিস্তর রয়েছে এবং সেটাতে দুইটি ইলেক্ট্রন থাকে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলি অন্য কোন মৌলের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।

** রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় মৌলিক গ্যাসকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। অর্থাৎ পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না, তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়।  

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৯৫.
'জিপসাম' কোন খনিজের আকরিক?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৯৬.
নিচের কোন মৌলিক কণিকাটি আধানহীন? 
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. পজিট্রন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৯৭.
তাপ পরিমাপক যন্ত্র-
  1. হাইড্রোমিটার
  2. অ্যালটিমিটার
  3. ক্যালরিমিটার
  4. স্ফিগমেমোমিটার
ব্যাখ্যা
• তাপ:
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক।
- তাপের SI একক জুল (J)।
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো।
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল।
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র ক্যালরিমিটার।
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না।
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

• আরো কিছু পরিমাপক যন্ত্র:
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র - থার্মোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র - অ্যালটিমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম - সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - রিখটার স্কেল।
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্ৰ - ব্যারোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র -ট্যাকোমিটার।
- আটিয়াল ও রক্তের চাপ মাপক যন্ত্র - স্ফিগমেমোমিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৯৮.
বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র কোনটি? 
  1. ল্যাকটোমিটার
  2. স্পিডোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. থার্মোমিটার
ব্যাখ্যা
- বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র হলো 'ব্যারোমিটার'। 

ব্যারোমিটার: 
- টরেসিলি ১৬৪৩ সালে তরল তলের উচ্চতা ও বায়ুচাপের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রথম বায়ুমন্ডলীয় চাপ পরিমাপের যন্ত্র আবিস্কার করেন। এর নাম ব্যারোমিটার। 
- ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতাকে বায়ুমন্ডলীয় চাপের আদর্শ ধরা হয়। 
- আদর্শ বায়ু চাপ 76cm পারদ স্তম্ভের ওজনের সমান। 

থার্মোমিটার: 
- থার্মোমিটার হলো তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র। 

স্পিডোমিটার: 
- স্পিডোমিটার, একটি যন্ত্র যা একটি গাড়ির গতি নির্দেশ করে। 

ল্যাকটোমিটার: 
- ল্যাকটোমিটার হলো দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৪,৯৯৯.
যদি একটি লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হয়, তাহলে লেন্সের ক্ষমতা কত? 
  1. ০.২ ডায়াপ্টর
  2. ২.০ ডায়াপ্টর
  3. ০.৫ ডায়াপ্টর
  4. ৪.০ ডায়াপ্টর
ব্যাখ্যা
লেন্সের ক্ষমতা: 
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল এক গুচ্ছ আলোকরশ্মিকে উত্তল লেন্স কেন্দ্রীভূত বা অভিসারী করে এক বিন্দুতে মিলিত করে। অপরদিকে অবতল লেন্স একগুচ্ছ সমান্তরাল রশ্মিকে অপসারী করে; ফলে ঐ রশ্মিগুচ্ছ কোনো একটি বিন্দু থেকে অপসারিত হচ্ছে বা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। 
- আলোকরশ্মিকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াটি পরিমাপ করার জন্য লেন্সের "ক্ষমতা” ব্যবহার করা হয়। 
• ১-কে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব (মিটারে প্রকাশ করে) দিয়ে ভাগ করা হলে লেন্সের ক্ষমতা পাওয়া যায়, যার একক হল ডায়াপ্টর। 
অর্থাৎ, একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হলে তার ক্ষমতা হবে ১/২ ডায়াপ্টর = ০.৫ ডায়াপ্টর। 
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুই-ই হতে পারে। 
- কোনো লেন্সের ক্ষমতা +1D বলতে বোঝায়, লেন্সটি উত্তল এবং এটি প্রধান অক্ষের ১ মিটার দূরে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে মিলিত করবে। 
- একইভাবে লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলো কোনো লেন্স থেকে ১/২ মিটার বা ৫০ সেমি দূরের কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,০০০.
চাঁদে এক বস্তুর ওজন ৬ কেজি, পৃথিবীতে ঐ বস্তুটির ওজন কত?
  1. ক) ১ কেজি
  2. খ) ৬ কেজি
  3. গ) ২৪ কেজি
  4. ঘ) ৩৬ কেজি
ব্যাখ্যা
• বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভর করে। 
• চাঁদের অভিকর্ষজনিত ত্বরণের মান প্রায় পৃথিবীর ১/৬ ভাগ।
• সুতরাং চাঁদে ৬ নিউটন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে হবে ৩৬ নিউটন (N)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী