বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৬৪ · ৪০১৫০০ / ৬,৪০৯

৪০১.
বারুদ এবং দেয়াশলাই উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) কপার
  2. খ) সালফার
  3. গ) জিঙ্ক
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
সালফার: প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়
একে খনি থেকে উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাত না করেই ব্যবহার করা যায়।
সাধারণত মাটির গভীরে সালফারের খনি অবস্থান করে। 
সালফারের ব্যবহারঃ
সালফারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।
রসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান সালফিউরিক এসিড উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে সালফার ব্যবহার করা হয়।
তাছাড়া বারুদ, দেয়াশলাই, রাবার ভলকানাইজিং, সালফাড্রাগসহ বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ উৎপাদনে সালফার ব্যবহার করা হয়।


উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪০২.
বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা -
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বাড়ে পরে কমে
ব্যাখ্যা
আর্দ্রতা: 
- বাতাসে ভাসমান জলীয় বাষ্পই হচ্ছে আর্দ্রতা। 
- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলা হয়। 
- জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্প চাপ নামে পরিচিত। 
- বায়ুতে উপস্থিত এই জলীয়বাষ্প নানা কারণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। 
যেমন- 
১। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পায়। 
২। চাপবৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প হ্রাস পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 

- ঠাণ্ডা বাতাসের তুলনায় গরম বাতাস বেশি পানির কণা ধরে রাখতে পারে। 
- গবেষকেরা বলেন, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (শূন্য দশমিক ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ে ৪ শতাংশ। 
- এ কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ একই থাকলেও শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে আমাদের অনেক বেশি অস্বস্তি লাগে। 
- শীতকালে আর্দ্রতা কম থাকে বলেই ভেজা কাপড় বর্ষাকালের চেয়ে তাড়াতাড়ি শুকায়। 
- আর বায়ুর উষ্ণতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে এবং বায়ুর উষ্ণতা কমলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়ে। 
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা একটি অনুপাত। 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ঐ একই তাপমাত্রায় ঐ আয়তনের বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন তার অনুপাতকে ঐ স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৩.
কোন ধরনের কয়লাকে সর্বোচ্চ মানের কয়লা হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. পিট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা

অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite) হলো সবচেয়ে উচ্চমানের কয়লা, যাতে কার্বনের পরিমাণ সর্বাধিক এবং আর্দ্রতা ও অমিশ্রণ খুব কম থাকে। এটি ধোঁয়াবিহীন ও অধিক তাপ উৎপাদনকারী।

কয়লা:
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা।
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)।
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে।
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।

কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে।
যথা -
১। অ্যানথ্রাসাইট,
২। বিটুমিনাস এবং
৩। লিগনাইট।

- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে।
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০৪.
বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কিসের একক পাওয়া যায়? 
  1. ক্ষমতার
  2. ত্বরণের
  3. দৈর্ঘ্যের
  4. কাজের
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৫.
দুর্বল এসিড কোনটি? 
  1. সালফিউরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সাইট্রিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

দুর্বল এসিড: 
- সাধারণত জৈব এসিড গুলো দুর্বল হয়ে থাকে।
- বিভিন্ন শাকসবজি ফল-মূলে এ এসিডগুলো বিদ্যমান থাকে।
- তাই জৈব এসিড খাওয়ার উপযোগী।
যেমন: ইথানয়িক এসিড, টারটারিক এসিড, এসিটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, এসকরবিক এসিড, ম্যালিক এসিড ইত্যাদি।

শক্তিশালী এসিড: 
- অজৈব এসিড গুলো সাধারণত শক্তিশালী এসিড হয়ে থাকে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।
- তাই অজৈব এসিডগুলো খাওয়া যায় না।
যেমন: হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৬.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ নয়? 
  1. লিথিয়াম 
  2. অক্সিজেন
  3. ম্যাগনেসিয়াম 
  4. পটাশিয়াম 
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সবই ইলেকট্রন দান করে, তাই এ পদার্থগুলো বিজারক। কিন্তু অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এটি জারক। 

বিজারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- অক্সিজেন (O2), ক্লোরিন (Cl2), ফ্লোরিন (F2), H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৭.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়-
  1. ক) জেনারেটর
  2. খ) বৈদ্যুতিক মোটর
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ একটি তারের কুণ্ডিলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুন্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০৮.
কোন মৌলের ভরসংখ্যা ৬৫ এবং ইলেকট্রনের সংখ্যা ৩০ হলে, ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা যথাক্রমে-
  1. ক) ৯৫ ও ৩৫
  2. খ) ৩৫ ও ৯৫
  3. গ) ৩০ ও ৩৫
  4. ঘ) ৩৫ ও ৩০
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা।
আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।
তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান।
অর্থাৎ, উপরিউক্ত মৌলের প্রোটন সংখ্যা ৩০টি।

• কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা।
অর্থাৎ,
ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
বা, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা।
সুতরাং, উপরোক্ত মৌলের নিউট্রন সংখ্যা হবে ৩৫টি।

সূত্র: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি
৪০৯.
'হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়' এখানে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটেছে?
  1. আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. চুম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তির রূপান্তর: 
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়। 
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়। 
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১০.
১ ওয়াট-ঘন্টা = কত? 
  1. ৩৬ জুল
  2. ৩৬০০ জুল
  3. ৩৬০ জুল
  4. ৩৬০০০ জুল
ব্যাখ্যা
ওয়াট-ঘন্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক ঘণ্টা ব্যাপী কাজ করলে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক ওয়াট-ঘণ্টা বলে। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = এক ওয়াট × এক ঘন্টা 
= এক ওয়াট × 3600 সেকেন্ড 
= 3600 (এক ওয়াট × এক সেকেন্ড) 
= 3600 জুল। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = 3600 জুল। 

তড়িৎ ক্ষমতা হতে তড়িৎ শক্তি: 
- এক সেকেন্ডে এক জুল কাজ করার ক্ষমতাকে এক ওয়াট বলে। 
অর্থাৎ, এক ওয়াট = এক জুল/এক সেকেন্ড 
বা, এক জুল = এক ওয়াট × এক সেকেন্ড 
সুতরাং, শক্তি = ক্ষমতা x সময়। 
- যদি এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক সেকেন্ড ব্যাপী কাজ করে তবে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক জুল বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১১.
ট্রান্সফরমার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. তড়িৎ বিভব
  2. তাড়িতচৌম্বক আবেশ
  3. জারণ-বিজারণ
  4. তড়িৎ প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) তাড়িতচৌম্বক আবেশ।

• ট্রান্সফরমার (Transformer):
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১২.
অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর আকরিক কোনটি? 
  1. জিপসাম
  2. লিমোনাইট
  3. রকসল্ট
  4. ক্রায়োলাইট
ব্যাখ্যা
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
• বক্সাইট, 
• কোরান্ডাম, 
ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
• রকসল্ট, 
• চিলি সল্টপিটার, 
• ন্যাট্রোন, 
• বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
• চুনাপাথর, 
• জিপসাম, 
• ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
• ম্যাগনেটাইট, 
• হেমাটাইট, 
• আয়রন পাইরাইটস, 
• লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৩.
রঙিন কাঁচকে বর্ণহীন করার জন্য বিরঞ্জক হিসেবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. Cu2O
  2. NiO
  3. FeO
  4. MnO2
ব্যাখ্যা
কাঁচ: 
- কাঁচ বা গ্লাস হলো রাসায়নিক গঠনগতভাবে সোডিয়াম-ক্যালসিয়াম-দ্বি সিলিকেট মিশ্রণ, যা দেখতে স্বচ্ছ, শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর, অনিয়তাকার (non-crystalline) কঠিন পদার্থ। 
- কাঁচের কোনো নির্দিষ্ট সংকেত বা সংযুক্তি নেই। 
- কেলাসাকার কঠিন পদার্থ যেমন NaCl এর নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক (801°C) থাকলেও কাঁচের কোনো সুনির্দিষ্ট গলনাঙ্ক নেই। 
- কাঁচকে তাপ দিলে ধীরে ধীরে নরম হয় অর্থাৎ গলন শুরু হয় (প্রাথমিক গলনাঙ্ক) এবং তাপমাত্রার একটি বিস্তৃত সীমার (যেমন প্রায় 500°C) মধ্যে সম্পূর্ণ গলে গিয়ে (সর্বোচ্চ গলনাঙ্কে) সর্ব নিম্ন সান্দ্রতা (101 poise) যুক্ত তরলে পরিণত হয়। 

কাঁচের উপাদান: 
- অনেক ধরনের কাঁচ বাজারে পাওয়া যায়, এদের সংযুক্তি বিভিন্ন। 
- তবে কাঁচ তৈরির প্রধান উপাদান হলো সিলিকা বালি (SiO2), চুন (CaO) বা চুনাপাথর (CaCO3) ও সোডা অ্যাস (Na2CO3). 
- এ তিনটি মূল উপাদান থেকে উৎপাদিত সাধারণ কাঁচের মোটামুটি সংযুক্তি হলো Na2O.CaO.6SiO2

কাঁচের গৌণ উপাদান: 
- গৌণ উপাদানরূপে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কাঁচ তৈরির জন্য নিচের দুই বা ততোধিক উপাদান উপরের মূল উপাদানের সাথে মিশিয়ে চুল্লিতে উত্তপ্ত করা হয়। 
- গৌণ উপাদানগুলো হলো পটাশ (K2CO3), BaSO4, BaCO3, বোরিক এসিড (H3BO3), বোরাক্স (Na2B4O7), জিংক কার্বনেট (ZnCO3), কেওলিন বা চীনা মাটি (Al2O3.2SiO2.2H2O). 
- রঙিন কাঁচ তৈরিতে অবস্থান্তর ধাতুর অক্সাইড যেমন Cu2O, FeO, Fe2O3, Cr2O3, NiO মূল উপাদানের সাথে যোগ করা হয়। 
- অস্বচ্ছ কাঁচ তৈরির জন্য অ্যান্টিমনি, টিন ও আর্সেনিক অক্সাইড বা সালফাইড যোগ করা হয়। 
- সিলিকা বালিতে FeO থাকলে উৎপন্ন কাঁচ সবুজ বর্ণের এবং Fe2O3 থাকলে হলুদাভ হয়। তখন কাঁচকে বর্ণহীন করার জন্য বিরঞ্জকরূপে MnO2 যোগ করা হয়। 
- গলিত কাঁচে আবদ্ধ গ্যাস-বুদবুদ যেমন CO2 ও SO2 দূর করার জন্য স্বচ্ছকারকরূপে NaNO3, Al2O3, NH4Cl ইত্যাদি যোগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারো ও নাগ)।
৪১৪.
বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর জন্য কোন বৈজ্ঞানিকের অবদান সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  2. খ) আইজ্যাক নিউটন
  3. গ) টমাস এডিসন
  4. ঘ) ভোল্টা
ব্যাখ্যা
Thomas Edison was an American inventor who is considered one of America's leading businessmen and innovators. Edison rose from humble beginnings to work as an inventor of major technology, including the first commercially viable incandescent light bulb,he had played a critical role in introducing the modern age of electricity.He is credited today for helping to build America's economy during the Industrial Revolution.

Source: biography.com
৪১৫.
সিমেন্টের সেটিং প্রক্রিয়াকে মন্থর করতে কোন উপাদান ব্যবহার করা হয়? 
  1. ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট 
  2. জিপসাম 
  3. সিলিকা 
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
ব্যাখ্যা

সিমেন্ট সেটিং-এ জিপসামের ভূমিকা: 
- সিমেন্টের উপাদান ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট (3CaO.Al2O3) সিমেন্ট জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কিন্তু জিপসাম (CaSO4.2H2O) ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেটের সাথে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফো অ্যালুমিনেট তৈরি করে।
- ফলে সিমেন্টের দ্রুত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াটি ধীরে চলে এবং উৎপন্ন কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা শক্তি বেড়ে যায়। 
- সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা জিপসামের কাজ। 
• 3CaO.Al2O3 + 3(CaSO4.2H2O) + 2H2O → 3CaO.Al2O3.3CaSO4.2H2O + 6H2O

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

৪১৬.
কুলম্ব কোন পরিমাপের একক?
  1. আধান
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কুলম্ব (Coulomb) হল বৈদ্যুতিক চার্জের একক। এটি আধানের পরিমাপ নির্দেশ করে। এক কুলম্ব হল এমন একটি চার্জ যা এক অ্যাম্পিয়ারের ধারা এক সেকেন্ড ধরে প্রবাহিত হলে তৈরি হয়। সুতরাং, কুলম্ব ভোল্ট, সিমেন্স বা ওহম নয়; এটি সরাসরি বৈদ্যুতিক চার্জের পরিমাণকে প্রকাশ করে।

সঠিক উত্তর: ক) আধান।

- SI এককে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S)।

• এছাড়াও,
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৭.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস ৭টি।

• মৌলগুলো হলো:
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne),
- আর্গন (Ar),
- ক্রিপ্টন (Kr),
- জেনন (Xe),
- রেডন (Rn) এবং
- ওগানেসন (Og)।

- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪১৮.
বায়োগ্যাসে সবচেয়ে বেশি থাকে -
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) বিউটেন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা
- গোবর ও অন্যান্য পঁচনশীল পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে (অবায়বীয় অবস্থায়) পঁচানোর ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে।
- বায়োগ্যাসে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ মিথেন থাকে, তাই একে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- মিথেন ছাড়া বায়োগ্যাসে থাকে মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)।
- সাধারণত অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতায় গোবর ও অন্যান্য আবর্জনা পঁচে বায়োগ্যাস সৃষ্টি হয়।
- এ গ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট অংশ উন্নত মানের সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বায়োগ্যাসের ব্যবহার- 
১. এ গ্যাস দিয়ে রান্না-বান্না করা যায়।
২. ম্যান্টল জ্বেলে হ্যাজাক লাইটের মত আলো পাওয়া যায় ।
৩. জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে লাইট, ফ্যান, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি চালানো যায় এবং বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো যায় ।
৪. পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি সেচ করা যায়।
৫. এ গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালানো যায়।
৬. এ গ্যাস দিয়ে ফ্রিজ ও ইনকিউবেটর চালানো যায় ।

বায়োগ্যাস তৈরির সময় রেসিডিউ (অবশিষ্টাংশ) নিম্নলিখিত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে
১ . উন্নতমানের জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যায়।
২. মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় ৷
৩. মাশরুম চাষ করা যায়।
৪. মুক্তা চাষে ব্যবহার করা যায়।

সূত্র: ৩৯৫ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৯.
কোন স্থানে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ২ গুণ কমবে
  2. ২ গুণ বাড়বে
  3. ৪ গুণ কমবে
  4. ৪ গুণ বাড়বে
ব্যাখ্যা
• সরল দোলক:
- সরল দোলক: একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে - সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল (T) মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ (g)  এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
• T = 2π√(L/g)

- সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ২ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৪২০.
নিচের কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
  1. মোবাইল
  2. টেলিফোন
  3. ই-মেইল 
  4. রেডিও 
ব্যাখ্যা

রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 

অন্যদিকে, 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 
- ইমেইল এর মাধ্যমে প্রেরক ও গ্রহণকারী উভয়ে বার্তা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৪২১.
‘জীবাশ্ম’ বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৃত প্রাণীর হাড়ের গুঁড়া
  2. প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের চিহ্ন
  3. মাটি থেকে তোলা যেকোনো বস্তু
  4. কেবলমাত্র প্রাগৈতিহাসিক গাছ
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil): 
- ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- প্রাগৈতিহাসিক জীবের সাক্ষ্য বা চিহ্ন হিসেবে মোল্ড (mold), কাস্ট (cast), হাত বা পায়ের ছাপ, গমন পথ (track), ট্রেইল (trail), গর্ত (boring), মলাশ্ম বা কপ্রোলাইট (coprolite) কে জীবাশ্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- বিবর্তনের সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য এবং প্রামাণিক সাক্ষ্য (উপাদান) হচ্ছে জীবাশ্ম। 
- জীবাশ্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সংগ্রহ করতে হলে ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তর সম্বন্ধেও জ্ঞান লাভ করতে হয় বলে বিবর্তনের এই প্রমাণকে ভূতত্ত্বীয় প্রমাণও (geological evidence) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
কোন গ্রুপের মৌলগুলোকে নোবেল গ্যাস বলা হয়?
  1. গ্রুপ ১৭
  2. গ্রুপ ১৮
  3. গ্রুপ ২
  4. গ্রুপ ১
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

• পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
• এ গ্রুপের মৌল গুলো হল -
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৪২৩.
পারমাণবিক চুল্লিতে “কন্ট্রোল রড” এর কাজ কী?
  1. তাপ শোষণ
  2. নিউট্রন শোষণ করে বিভাজন নিয়ন্ত্রন
  3. তড়িৎ উৎপাদন
  4. জ্বালানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লিতে কন্ট্রোল রড নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। 
 
• কন্ট্রোল রড:
- পারমাণবিক চুল্লির কন্ট্রোল রড হল এমন একটি উপাদান যা পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন (ফিশন) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি চুল্লির মধ্যে শৃঙ্খল বিক্রিয়ার হার (চেইন রিয়াকশন) কমাতে বা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।

• পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন (nuclear fission) অর্থাৎ নিউট্রনের সাহায্যে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে।
- এ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে “কন্ট্রোল রড” ব্যবহার করা হয়।

• কন্ট্রোল রড সাধারণত বোরন (Boron), ক্যাডমিয়াম (Cadmium) বা হ্যাফনিয়াম (Hafnium)-এর মতো উপাদানে তৈরি, যা অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে।
- এর ফলে, ফিশন প্রতিক্রিয়ার হার কমানো বা বাড়ানো যায় — অর্থাৎ এটি চুল্লির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
- এই উপাদানগুলি নিউট্রন শোষণ করতে খুব কার্যকর।
- যখন রডগুলি চুল্লির মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, তখন তারা নিউট্রন শোষণ করে এবং চেইন রিঅ্যাকশনকে ধীর করে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
- অন্যদিকে, রডগুলি বের করে নিলে চেইন রিঅ্যাকশন আরও দ্রুত হতে শুরু করে।
- এই রডগুলি পারমাণবিক চুল্লির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চুল্লিটিকে নিরাপদ রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- International Atomic Energy Agency (IAEA) – Reactor Safety Guidelines.
৪২৪.
তৈলকে চর্বিতে পরিণত করার হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ায় কোন ধাতু ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করে? 
  1. তামা 
  2. লোহা 
  3. অ্যালুমিনিয়াম 
  4. নিকেল 
ব্যাখ্যা

তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড (C15H31CO2H), স্টেয়ারিক এসিড (C17H35CO2H) এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড (C17H33CO2H), লিনোলিক এসিড (C17H31CO2H) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে শক্তি পাওয়া যায়। 1 g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
• সয়াবিন তৈল (অসম্পৃক্ত গ্লিসারাইড) + H2 ⇒ মার্জারিন (সম্পৃক্ত গ্লিসারাইড)। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।

৪২৫.
অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারে থাকে?
  1. ক) তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) তরল অ্যামোনিয়া
  3. গ) তরল নাইট্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন তরল আকারে
ব্যাখ্যা
অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র একটি মজবুত মেটাল সিলিন্ডার যার ভেতর পানি বা অদাহ্য অন্য কোন পদার্থ (তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড উদাহরন স্বরূপ) উচ্চ চাপে সংরক্ষিত থাকে। যখন লিভার চেপে সিলিন্ডারের ভালব খোলা হয় তখন ভিতরে রক্ষিত তরল সজোড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে যেমনটা হয় এ্যারোসলের ক্ষেত্রে।
Source: National Emergency Service
৪২৬.
ডিমের খোসার প্রধান উপাদান কী?
  1. ক) সালফেট
  2. খ) অক্সালেট
  3. গ) কার্বনেট
  4. ঘ) ফসফেট
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaCO3। এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক, ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

৪২৭.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. ক) ট্রান্সফরমার
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) বৈদ্যুতিক মটর
  4. ঘ) হুইল
ব্যাখ্যা
• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে

• ট্রান্সফর্মার:
-যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪২৮.
ট্রানজিস্টর প্রথম আবিষ্কৃত হয় কোন প্রতিষ্ঠানে? 
  1. এমআইটি
  2. নাসা 
  3. আইবিএম 
  4. বেল ল্যাবরেটরি 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। 
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর। 
- এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে। 
- আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৯.
কোন মাধ্যমে শব্দ দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়?
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. তরল মাধ্যমে
  3. কঠিন মাধ্যমে
  4. বায়বীয় মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৩০.
পানির ঘনত্ব কত?
  1. 1 kgm-3
  2. 1000 gm-3
  3. 1000 kgm-3
  4. 100 kgcm-3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
কোন পরমাণুতে নিউট্রন নেই? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. হিলিয়াম
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম 
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H।
-  সংকেত- H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৩২.
একটি পরিবাহী তারের পরিবাহিতা 0.5 সিমেন্স হলে পরিবাহীর রোধ কত? 
  1. 2 Ω
  2. 3 Ω
  3. 4 Ω
  4. 6 Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি পরিবাহী তারের পরিবাহিতা 0.5 সিমেন্স হলে পরিবাহীর রোধ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
পরিবাহিতা, G = 0.5 সিমেন্স
রোধ, R =? 

আমরা জানি,
R = 1/G 
বা, R = 1/0.5
∴ R = 2 Ω 
উত্তর: 2 Ω ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৩.
সরল পেরিস্কোপ তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উত্তল দর্পণ
  2. খ) অবতল দর্পণ
  3. গ) সমতল দর্পণ
  4. ঘ) উত্তল লেন্স
ব্যাখ্যা

বস্তু থেকে আগত রশ্মির পরপর দুবার সমতল দর্পণে প্রতিফলনের ফলে গঠিত প্রতিবিম্ব দেখার একটি সহজ যন্ত্র পেরিস্কোপ।
এটি একটি লম্বা আয়তাকার কাঠের বা ধাতুর তৈরি লম্বা নল। এই যন্ত্রের নলের মধ্যে দুটি সমতল দর্পণকে পস্পরের মুখোমুখি এবং সমান্তরাল করে নলের অক্ষের সাথে ৪৫º কোণে বসানো হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৩৪.
তড়িৎ মুদ্রণ কী? 
  1. ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  2. ফটোগ্রাফির প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  3. কাগজে হাতের লেখা মুদ্রণের পদ্ধতি
  4. তড়িৎ প্রলেপের মাধ্যমে হরফ বা ব্লক তৈরি করার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মুদ্রণ (Electrotyping): 
- তড়িৎ প্রলেপের একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে হরফ, ব্লক মডেল ইত্যাদি তৈরি করাকে তড়িৎ মুদ্রণ বলে
- তড়িৎ মুদ্রণের জন্য প্রথমে লেখাটি সাধারণ টাইপে মোমের ওপর ছাপ নেওয়া হয়। 
- এর উপরে কিছু গ্রাফাইট গুঁড়ো ছড়িয়ে একে তড়িৎ পরিবাহী করা হয়। 
- তারপর কপার সালফেট দ্রবণে এটি ক্যাথোড পাত হিসেবে ডুবানো হয় এবং একটি তামার পাতকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তারপর দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালালে মোমের ছাঁচের ওপর তামার প্রলেপ পড়বে। 
- প্রলেপ খানিকটা পুরু হলে ছাঁচ থেকে ছাড়িয়ে ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৫.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. রৈখিক গতি
  2. অপর্যাবৃত্ত গতি
  3. পর্যাবৃত্ত গতি
  4. স্পন্দন গতি
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ।

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে কী বলে?
  1. ক) মধ্যবেগ
  2. খ) সমবেগ
  3. গ) অসমবেগ
  4. ঘ) তাৎক্ষণিক বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity)
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ (Average Velocily)
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity)
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

মধ্যবেগ (Mean Velocity)
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

সমবেগ (Uniform velocity)
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসম বেগ (Non-uniform Velocity)
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার উপর কাগজ রেখে উল্টিয়ে দিলে কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ কী?
  1. পানির চৌম্বকীয় শক্তি
  2. বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্য
  3. পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  4. কাগজের আঠালো ধর্ম
ব্যাখ্যা

◉ যখন একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার মুখে কাগজ রেখে উল্টানো হয়, তখন কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Atmospheric Pressure)।

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 

যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

Science Museum Group-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
গ্লাস উল্টানোর পর কাগজের নিচে বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পানি ও কাগজকে উপরের দিকে ঠেলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়, যার ফলে পানি বের হয় না। 

উৎস:
১। পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। The Science Museum Group.

৪৩৮.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহার করা হয়?
  1. পটাশিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. লিথিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

• পারমাণবিক চুল্লি:

- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস:
ক) রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
খ) IAEA ওয়েবসাইট।
৪৩৯.
প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কোন ধাতু?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. তামা
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়াম (Al):
- অ্যালুমিনিয়াম (Al) হল পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধাতু।
- এটি মূলত বক্সাইট আকরিক (Bauxite ore) আকারে পাওয়া যায়।
- যদিও এটি কখনোই মুক্ত ধাতু হিসেবে পাওয়া যায় না, কারণ এটি অত্যন্ত সক্রিয়। তাই এটি সর্বদা যৌগ আকারে থাকে।

• অ্যালুমিনিয়ামের ধর্ম:
১. অ্যালুমিনিয়াম তাপ এবং বৈদ্যুতিক সুপরিবাহী।
২. হালকা কিন্তু টেকসই।

উৎস:  ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪৪০.
বর্তনীতে কত ধরনের রোধ ব্যবহার করা হয়? 
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪১.
কোন অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন থাকে?
  1. ব্রোমিন
  2. আয়োডিন
  3. ক্লোরিন
  4. পারদ
ব্যাখ্যা
• আয়োডিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- পারদ একটি ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- ক্লোরিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস।
- ব্রোমিন হলো একমাত্র অধাতু, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপ এ তরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪২.
50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)
  1. 14.7 kJ
  2. 1.47 kJ
  3. 15.8 KJ
  4. 1470 KJ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)

সমাধান:
দেওয়া আছে, ভর, m = 50 kg প্রতি তলার উচ্চতা = 3 m
মোট তলা = 10
∴ মোট উচ্চতা, h = 10 × 3 = 30 m
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2

ব্যক্তিটির দ্বারা সম্পাদিত কাজ (W) হলো মূলত অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কৃতকাজ, যা তার অর্জিত বিভবশক্তির (Ep) সমান।
আমরা জানি,
কাজ (W) = mgh
⇒ W = 50 × 9.8 × 30
⇒ W = 14700 J
⇒ W = 14700/1000 kJ
⇒ W = 14.7 kJ

∴ সম্পন্ন কাজের পরিমাণ = 14.7 kJ

৪৪৩.
SI পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য এর একক -
  1. ক) কিলোগ্রাম
  2. খ) ওয়াট
  3. গ) জুল
  4. ঘ) মিটার
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য এর একক হচ্ছে মিটার। 

- বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের একক চালু থাকার ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়।
- এসকল অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বিজ্ঞানীগণ বিশ্বব্যাপী একই ধরনের একক চালুর সিদ্ধান্ত নেন, একে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এস আই (SI) একক বলে।
- কয়েকটি হলো- কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), মিটার (m), অ্যাম্পিয়ার (A), অ্যাম্পিয়ার (A), মোল (mol)।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক হলো কিলোগ্রাম।
- মৌলিক ভৌত এককগুলো হলো—কিলোগ্রাম (kg, ভরের একক), সেকেন্ড (s, সময়ের একক), মিটার (m, দূরত্বের একক), অ্যাম্পিয়ার (A, বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক), কেলভিন (K, তাপমাত্রার একক), মোল (mol, পদার্থের পরিমাণের একক) এবং ক্যান্ডেলা (cd, দীপন তীব্রতার একক)।

সূত্র:  ৬ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৪.
টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের মূল উপাদান কোনটি?
  1. Hydrochloric acid (HCl)
  2. Sodium chloride (NaCl)
  3. Sodium hydroxide (NaOH)
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনারগুলোর প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)।
- এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড, যা ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং লেমস্কেল (পানি থেকে জমে থাকা কঠিন পদার্থ) দ্রবীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।

• টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের ব্যবহার:
- দাগ দূর করার জন্য: টয়লেটের উপর জমে থাকা শক্ত দাগ এবং পাথরের স্তর (scale) অপসারণে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খুব কার্যকর।
- জীবাণু ধ্বংস করতে: এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে, ফলে টয়লেট আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

অপশন আলোচনা:
- Sodium hydroxide (NaOH): এটি একটি শক্তিশালী বেস, যা সাধারণত পাইপ পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- Sodium chloride (NaCl): এটি সাধারণ লবণ, যা টয়লেট ক্লিনারে ব্যবহার হয় না।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৪৫.
নিচের কোনটি তাপীয় ইঞ্জিন?
  1. পেট্রোল ইঞ্জিন
  2. ডিজেল ইঞ্জিন
  3. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। 
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। 
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 
- বাসাবাড়ির রেফ্রিজারেটর তাপীয় পাম্পের একটি উদাহরণ যা আসলে একটি তাপ ইঞ্জিনের ঠিক বিপরীত।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৬.
নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
  2. সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
  3. হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
  4. কার্বনের রূপভেদ আছে, কিন্তু সিলিকনের নাই
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও সিলিকন উভয়েই অধাতু।
- উভয় মৌলের বহুরূপতা আছে।
- সিলিকনের দানাদার ও অদানাদার দুটি রূপভেদ আছে।
-  কার্বনের অনেক রূপভেদের মধ্যে হীরক, গ্রাফাইট প্রধান রূপভেদ।

অন্যদিকে,
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
- হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
উপরের সবগুলো তথ্যই সঠিক।
 
উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৪৭.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের আনুমানিক পরিমাণ কত?
  1. ৫০-৬০%
  2. ৬০-৭০%
  3. ৭০-৮০%
  4. ৯৫-৯৯%
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৮.
দৃশ্যমান আলোর ক্ষুদ্রতম দৈর্ঘ্য কোন রঙের?
  1. লাল
  2. কালো
  3. সাদা
  4. বেগুনী
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৯.
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র অনুসারে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায়
  2. শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
  3. শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায়
  4. শক্তির রূপান্তরে মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা
শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র: 
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তি ধ্বংসও করা যায় না।
- এ বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এই শক্তি একটু বাড়েওনি বা কমেওনি, এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 

- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে।
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না
- এক রূপের শক্তিকে রুপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫০.
টেলিফোন লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়-
  1. তড়িৎ শক্তি
  2. চৌম্বক শক্তি
  3. শব্দ শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎশক্তি (বা বিদ্যুৎ শক্তি) মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- মোবাইল টেলিফোন সিস্টেমে, আমাদের কথাবার্তা (শব্দ সিগন্যাল) প্রথমে বিদ্যুৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত হয় এবং তারপর এই বিদ্যুৎ সিগন্যাল ওয়্যারলেস মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
- টেলিফোনের লাইনের মধ্যে (যেমন ল্যান্ডলাইন) সরাসরি বিদ্যুৎ সিগন্যাল প্রবাহিত হয়।

মোবাইল টেলিফোনের সিস্টেমে যে তড়িৎশক্তি প্রবাহিত হয়, তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

১. ভয়েস টু ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল রূপান্তর:
- যখন আপনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন, তখন আপনার কণ্ঠস্বর (শব্দ তরঙ্গ) মোবাইলের মাইক্রোফোনে পড়ে। মাইক্রোফোন এই শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।

২. অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর:
- এই তড়িৎ সিগন্যাল প্রথমে অ্যানালগ ফরম্যাটে থাকে। ফোনের ভেতরে ADC (Analog-to-Digital Converter) এই অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে (বাইনারি কোড - 0 এবং 1 এর সিরিজ) রূপান্তরিত করে।

৩. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং:
- এই ডিজিটাল সিগন্যাল এরপর প্রসেস হয় - এর মধ্যে কম্প্রেশন (ডাটা সাইজ কমানো), এনক্রিপশন (সুরক্ষার জন্য), এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট (শব্দের মান উন্নত করা) অন্তর্ভুক্ত।

৪. রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর:
- এই প্রক্রিয়াকৃত ডিজিটাল সিগন্যাল পরে মোবাইলের ট্রান্সমিটার দ্বারা রেডিও তরঙ্গে (বিদ্যুতচুম্বকীয় তরঙ্গ) রূপান্তরিত হয়, যা মোবাইল টাওয়ারে প্রেরিত হয়।

৫. সিগন্যাল ট্রান্সমিশন:
- মোবাইল টাওয়ার এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং তারপর তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- এই তড়িৎ সিগন্যাল টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় - যা ফাইবার অপটিক কেবল, কপার কেবল বা মাইক্রোওয়েভ লিংকের মাধ্যমে হতে পারে।
- নেটওয়ার্কের মধ্যে, সিগন্যাল মোবাইল স্যুইচিং সেন্টার (MSC) দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত হয়, যেখানে সিগন্যাল রাউটিং ও প্রসেসিং হয়।

৬. প্রাপকের দিকে:
- প্রাপকের নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ার থেকে আবার রেডিও তরঙ্গ হিসেবে সিগন্যাল প্রেরিত হয়।
- প্রাপকের মোবাইল ফোন এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং আবার তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- ডিজিটাল থেকে অ্যানালগ রূপান্তরের পর, স্পিকারের মাধ্যমে এই তড়িৎ সিগন্যাল আবার শব্দে পরিণত হয়।
- তাই, সমগ্র প্রক্রিয়াটিতে শব্দ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→শব্দ এই রূপান্তর চক্র চলে।
- যদিও রেডিও তরঙ্গ ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তবুও নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে সিগন্যাল তড়িৎশক্তি হিসেবেই প্রবাহিত হয়।
৪৫১.
এক পরমাণু পুরুত্ববিশিষ্ট গ্রাফাইটের স্তরকে বলে -
  1. ক) গ্রাফিন
  2. খ) হীরক 
  3. গ) চারকোল 
  4. ঘ) ফুলারিন
ব্যাখ্যা
এক পরমাণু পুরুত্ববিশিষ্ট গ্রাফাইটের স্তরকে গ্রাফিন বলে।
এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা অত্যন্ত বেশি। বিভিন্ন গ্রেডের উড পেন্সিলের “সীস” হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে গ্রাফাইট এনোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪৫২.
গ্যালভানিক কোষের অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. ক) জারন
  2. খ) বিজারণ
  3. গ) প্রশমন
  4. ঘ) বিয়োজন
ব্যাখ্যা

• গ্যালভানিক কোষ (Galvanic Cell)

সংজ্ঞা: এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত বৈদ্যুতিক উৎস। অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াটি নিজে থেকেই সংঘটিত হয় এবং বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করে।

অ্যানোড:
এটি ঋণাত্মক হয়।
এখানে জারণ (Oxidation) বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
ক্যাথোড:
এটি ধনাত্মক হয়।
এখানে বিজারণ (Reduction) বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

• ইলেকট্রোলাইটিক কোষ (Electrolytic Cell)

সংজ্ঞা: এটি একটি অ-স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।

অ্যানোড:
- এখানে বিজারণ (Reduction) নয়, বরং জারণ (Oxidation) প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

ক্যাথোড:
- এখানে বিজারণ (Reduction) ঘটে।

৪৫৩.
প্রোটন এর আধান-
  1. ক) ঋণাত্মক
  2. খ) ধণাত্মক
  3. গ) নিরপেক্ষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা ।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11 × 10-28 গ্রাম ও 1.60 × 10-19 কুলম্ব।
- ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট।

প্রোটন
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা।
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়।
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান।
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67 × 10-24 গ্রাম ও 1.60× 10-19 কুলম্ব।
- ধণাত্মক আধান বিশিষ্ট।

নিউট্রন
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 গ্রাম।

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৫৪.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে গ্রুপের সংখ্যা-
  1. ক) ৭
  2. খ) ৯
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামে পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- পর্যায়গুলোকে ১ম পর্যায়, ২য় পর্যায়, ৩য় পর্যায়, ৪র্থ পর্যায়, ৫ম পর্যায়, ৬ষ্ঠ পর্যায়, ৭ম পর্যায় এভাবে ভাগ করা হয়েছে।
- আর গ্রুপগুলোকে যথাক্রমে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯,১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ গ্রুপ এভাবে সাজানো হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৫.
মুক্তার প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. ক) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  2. খ) ক্যালসিয়াম বাই কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

মুক্তা বা মতি এক ধরনের রত্ন বিশেষ, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়। তবে সব ঝিনুকে মুক্তা থাকে না।
মাসল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা হয়। এর রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন ক্যালসাইট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
খাওয়ার সময় ঝিনুক যখন তার খোলস ফাঁক করে তখন যদি বালুর কণা বা অন্য কোনো কঠিন পদার্থের চূর্ণ তার দেহের মধ্যে ঢুকে যায় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও সেটি বের করতে না পারে, তখন এই কণাটির জন্য ঝিনুকের দেহে প্রদাহ বা জ্বলনের সৃষ্টি হয়। তখন ঝিনুকের অঙ্গ থেকে সাদা ঘন আঠালো রস ক্ষরিত হয়ে বহিরাগত কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধতে থাকে। এই কঠিন জমাট বস্তুটিই ধীরে ধীরে মুক্তায় রূপান্তরিত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03।
এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই ও USGS and others।

৪৫৬.
আলোকরশ্মি গমন পথে কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) আলোর প্রতিফলন
  2. খ) আলোর প্রতিসরণ
  3. গ) আলোর ব্যাতিচার
  4. ঘ) আলোর অপবর্তন
ব্যাখ্যা
কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে।
আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে।
যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৭.
মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ে সৃষ্ট জ্বালাপোড়া নিষ্ক্রিয় করতে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যাপামিন
  2. মেলিটিন
  3. ক্যালামিন
  4. ফরমিক এসিড
ব্যাখ্যা
ক্ষারকের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: 
- নির্দেশকের সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমে রং পরিবর্তন করে। 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক আছে যেগুলো নিয়মিতভাবে পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- মিথাইল অরেঞ্জ, মিথাইল রেড, ফেনলফথেলিন ইত্যাদি রং পরিবর্তন করে। 
যেমন- 

- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH
• KOH → K+ + OH
• NH4OH → NH4+ + OH
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
-  মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড় দিলে জ্বলে কারণ পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। 
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন (Melittin) এবং অ্যাপামিন (Apamin) নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়াও হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়। 
- যেহেতু এসব ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, তাই এসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে মলম, লোশন (যেমন-চুন) ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এরকম একটি লোশন হলো ক্যালামিন (Calamine), যা মূলত জিংক কার্বোনেট (ZnCO3)। 
- বেকিং সোডা ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বাড়লে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। তখন ক্ষারক ব্যবহার করে এসিডিটিকে প্রশমিত করা যায় এবং উর্বরতা ফিরিয়ে আনা যায়। 
- এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ক্ষারক হলো চুন (CaO) এবং মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2)। 
- অবশ্য এ কাজে চুনাপাথরও (CaCO3) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু, যা ক্ষারীয়। খাওয়ার পরে সাধারণত মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়। 
- আবার থালা-বাসন পরিষ্কার করার জন্য যে শক্ত সাবান বা তরল সাবান ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতেও ক্ষারক থাকে। 
- এমনকি যে কাপড় কাচার সাবান ব্যবহার করা হয়, তাও তৈরি করা হয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- একইভাবে শেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরি করা হয় পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে যে এন্টাসিড খাওয়া হয় তা হলো ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) নামের ক্ষার। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৮.
কর্মদক্ষতা কী? 
  1. বল ও কাজের অনুপাত
  2. মোট প্রদত্ত শক্তি ও সময়ের গুণফল
  3. কার্যকর ক্ষমতা ও অপচয়কৃত ক্ষমতার অনুপাত
  4. কার্যকর শক্তি এবং প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
ব্যাখ্যা

• কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির অনুপাত থেকে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 80% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 80 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 20 একক শক্তি অপচয় হয়। 
∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1 - E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৯.
ট্রানজিস্টর প্রথম কবে আবিষ্কার করা হয়? 
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর (Transistor) হচ্ছে একটি ইংরেজি শব্দ। 
- Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপ্লব সংঘটিত করেছে। 
- ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন (J.Bardeen), ডবিউ ব্রাটেন (W. Brattain) ও ডবিউ সক্লে (W. Shockley) ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। 
- এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিন জনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
- দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে। 
- একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে। 
- গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার। 
যথা- 
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং 
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬০.
তেজস্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. তাপ, চাপ, দ্বারা প্রভাবিত হয় না
  2. আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল
  3. উৎপত্তি স্থল নিউক্লিয়াস
  4. প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয়তা:
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তার নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মিনামে পরিচিত।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- 
১. প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।

২. কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬১.
কৃষিজমিতে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়? 
  1. NaCl
  2. KNO3
  3. Na2CO3
  4. CuSO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা এক প্রকারের লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- আবার বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়, ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬২.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH-এর মান কত?
ব্যাখ্যা
pH:
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।

উল্লেখ্য,
- মাটির pH সাধারণত ৪-৮ হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH: ৭.৪৫।
- বিশুদ্ধ পানির pH: ৭।
- মূত্রে pH-এর মান ৭-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH ৬.৬ এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH: ২।
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান ৫৫।
- ক্ষুদ্রান্তরের উপযোগী pH হল ৮।


উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৩.
কাচ ও সিরিজ কাগজ তৈরিতে কোন খনিজটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. মাইকা
  2. ম্যাগনেটাইট
  3. চুনাপাথর 
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৪.
বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক কোনটি?
  1. ভোল্ট
  2. ওয়াট
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. ওহম
ব্যাখ্যা

• বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক হলো অ্যাম্পিয়ার (Ampere), যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

• ভৌত রাশি এবং তাদের পরিমাপ (Physical Quantities and Their Measurement):
- পানি ঠান্ডা করলে তা বরফে পরিণত হয়, আবার গরম করলে তা বাষ্পে রূপান্তরিত হয়—এটি একটি পরিচিত ভৌত পরিবর্তন।
- মানুষ দৈনন্দিন জীবনে এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলেও, কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়।
- প্রকৃত বিজ্ঞান বুঝতে হলে পরিমাপের মাধ্যমে বিষয়গুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- কোন তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়,
- কোন তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়,
- এগুলো পরিমাপের মাধ্যমেই নির্দিষ্টভাবে জানা যায়।
- বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পরিমাপের মাধ্যমে ভৌত রাশিগুলোকে নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা।
 
• ভৌত রাশি (Physical Quantity):
- যে সকল রাশির পরিমাপ করা যায় এবং যেগুলোকে সংখ্যা ও এককের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেগুলোকে ভৌত রাশি বলা হয়।
 
• SI পদ্ধতি ও মৌলিক ভৌত রাশি:
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI System) অনুযায়ী মোট সাতটি মৌলিক ভৌত রাশি নির্ধারিত আছে।
 
• SI একক পদ্ধতির মৌলিক ভৌত রাশি, একক ও প্রতীক:
• দৈর্ঘ্য:
- একক: মিটার (meter),
- প্রতীক: m

• ভর:
- একক: কিলোগ্রাম (kilogram),
- প্রতীক: kg

• সময়:
- একক: সেকেন্ড (second),
- প্রতীক: s

• বৈদ্যুতিক প্রবাহ:
- একক: অ্যাম্পিয়ার (ampere),
- প্রতীক: A

• তাপমাত্রা:
- একক: কেলভিন (kelvin),
- প্রতীক: K

• পদার্থের পরিমাণ:
- একক: মোল (mole),
- প্রতীক: mol

• দীপন তীব্রতা:
- একক: ক্যান্ডেলা (candela),
- প্রতীক: cd

• Other Options:
ক) ভোল্ট হলো বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্যের একক।
খ) ওয়াট হলো ক্ষমতার একক।
ঘ) ওহম হলো বৈদ্যুতিক রোধের একক।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪৬৫.
বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ী করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষা রাখার জন্য আপনি কোন উপায়টি গ্রহণ করবেন?
  1. ক) গাড়ির মধ্যে বসে থাকবেন
  2. খ) কোন গাছের তলায় আশ্রয় নিবেন
  3. গ) বাইরে এসে মাটির উপর শুয়ে থাকবেন
  4. ঘ) বাইরে এসে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন
ব্যাখ্যা
• বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ী করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষা রাখার জন্য আপনি গাড়ির মধ্যে বসে থাকবেন।
- আমাদের দেশে সরকারি নির্দেশনায় গাড়ির ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে।
- বজ্রপাতের সময়ে গাড়ির ভেতরে কোন ধাতব অংশের সাথে যেন স্পর্শ না লাগে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
- বাইরে খোলা জায়গাতে যেতে সরাসরিভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
- যদি কোন বিল্ডিং বা ছাদ বিশিষ্ট গাড়ি আশেপাশে না থাকে তাহলেই কেবল বাইরে শুয়ে পরতে হবে, যেন আশেপাশের সবকিছুর চেয়ে নিজের উচ্চতাটা কম থাকে।
৪৬৬.
যদি ওভারহেড লাইনের স্যাগ বাড়ানো হয় তবে টেনশন-
  1. ক) বাড়বে
  2. খ) কমবে
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকবে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

Sag:
- এর অর্থ ঝুলে থাকা।
- ট্রান্সমিশন লাইন কতটুকু ঝুলে থাকে তাই হলো স্যাগ।

S = WL2/8T
এখানে,
S = স্যাগ
W = তারের ওজন
L = তারের দৈর্ঘ্য
T = তারের টান

সূত্রানুযায়ী, স্যাগ টান বা টেনশনের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ যদি স্যাগ বাড়ে তাহলে টেনশন কমবে আর স্যাগ কমলে টেনশন বাড়বে।
৪৬৭.
শব্দ একপ্রকার-
  1. ক) সাউন্ড
  2. খ) কাজ
  3. গ) ক্ষমতা
  4. ঘ) শক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দ একপ্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৬৮.
অভিকর্ষজ ত্বরণের আদর্শমান কোনটি?
  1. 9.81 ms-1
  2. 9.82 ms-1
  3. 9.81 ms-2
  4. 9.82 ms-2
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g-এর মান তত বাড়তে থাকে।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৯.
নিম্নের কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ?
  1. কোয়ার্টজ
  2. লোহা
  3. মাইকা
  4. জিপসাম
ব্যাখ্যা

- লোহা একটি ধাতব খনিজ পদার্থ। ধাতব খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত শক্ত হয়, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে এবং একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঔজ্জ্বল্য বা দ্যুতি থাকে। 

খনিজ পদার্থ: 

- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুই রকম হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au), 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৭০.
ব্যাটারীর ক্যাপাসিটি পরিমাপ করা হয়____ দ্বারা।
  1. ক) Ampere-Hour
  2. খ) Volt
  3. গ) Ampere
  4. ঘ) Weight
ব্যাখ্যা
ব্যাটারী ক্যাপাসিটি: 
- ব্যাটারী ক্যাপাসিটি হলো একটি ব্যাটারীর ধারণক্ষমতা অর্থাৎ একটি ব্যাটারী চার্জিত অবস্থায় সর্বোচ্চ কি পরিমান চার্জ ধারণ করে এবং ডিসচার্জড অবস্থায় কি পরিমান চার্জ ত্যাগ করে।
- এটি ডিসচার্জড অবস্থার সর্বোচ্চ ভোল্টেজ এবং সর্বনিন্ম ভোল্টেজ এর মধ্যবর্তী সময়ে তড়িৎ প্রবাহ থেকে পরিমাপ করা হয়।
- ব্যাটারীর ক্যাপাসিটি পরিমাপ করা হয় mAH বা, AH এককে। AH হলো অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। mAH হলো মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার।
- একটি ব্যাটারীর ক্যাপাসিটি 200mAH বলতে বুঝায় ঐ ব্যাটারী 200mA এর প্রবাহ 1H ধরে চালনা করতে পারবে।

উৎস: sciencedirect.
৪৭১.
ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. ক্যালরি
  2. ওয়াট 
  3. জুল
  4. নিউটন 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W কাজ করা হয়ে থাকলে ক্ষমতা P হচ্ছে, 
• P = W/t
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। 
- শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। 
- তাই ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট (W) । 
- ক্ষমতার মাত্রা: [P] = [ML2T -3]। 
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে বুঝায়। 
- আবার 100 W এর একটা বাতি জ্বালানর অর্থ এই বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 

অন্যদিকে, 
- ক্যালরি তাপ বা শক্তির একটি পুরোনো একক। 
- জুল কাজ (work) বা শক্তির (energy) আন্তর্জাতিক একক। 
- নিউটন বলের (force) আন্তর্জাতিক একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭২.
আয়নাতে কাচের পেছনে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. লোহা
  2. রুপা
  3. তামা
  4. পারদ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- আয়নার পশ্চাতে পূর্বে মার্কারি বা পারদ এর প্রলেপ দেওয়া হতো, তবে বর্তমানে সিলভারের প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- অ্যালুমিনিয়ামও কিছুটা কম আলো প্রতিফলিত করতে পারে বিধায় পূর্বে তা ব্যবহার করা হতো। 

আয়না অথবা দর্পণ (Mirror): 
- আয়নায় নিয়মিত প্রতিফলনের কারণে স্পষ্ট প্রতিবিম্বের তৈরি হয়। 
- আয়না তৈরি করার জন্য কাচের পেছনে প্রতিফলনের উপযোগী রূপার প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- কাচের সামনের পৃষ্ঠ থেকে 4% আলো প্রতিফলিত হলেও পেছনের পৃষ্ঠ থেকে পুরো আলো প্রতিফলিত হয় বলে সেটি মূল প্রতিবিম্বটি তৈরি করে। 
- টেলিস্কোপ বা অন্য অপটিক্যাল (Optical) যন্ত্রে যখন মূল প্রতিবিম্বটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয় তখন কাচের উপরেই রূপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া হয় যেন একটি 4% হালকা আরেকটি 96% স্পষ্ট, এ রকম দুটি প্রতিবিম্ব তৈরি না হয়ে একটা 100% স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৩.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে - 
  1. ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৪.
এক্স-রে এক ধরনের-
  1. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
  2. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
-  যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
-  ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বা তড়িৎচৌম্বকীয় ( যেমন, রেডিও , এক্স রে আলো) তরঙ্গ হল অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ। 

এক্স-রে 

- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন। 
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- এক্স-রে এক ধরনের চার্জহীন বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

এক্স-রের ব্যবহার :
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়।
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

-  তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়: 
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে।
-  এক্স-রে যন্ত্রে প্রযুক্ত বিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্স-রে উৎপাদিত হয় তাকে কঠিন এক্স-রে বলে। 
- কম বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে যে এক্স-রে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্স-রে বলে। 

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
৪৭৫.
গ্যালভানিক কোষে কোন ভিত্তিতে অ্যানোড ও ক্যাথোড নির্ধারিত হয়?
  1. ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে
  2. তড়িৎ প্রবাহের শক্তির উপর ভিত্তি করে
  3. ধাতুর লবণের দ্রবণের তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে
  4. তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করে
ব্যাখ্যা
গ্যালভানিক কোষ: 
- গ্যালভানিক কোষের ক্ষেত্রে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠনের পদ্ধতি তড়িৎবিশ্লেষ্য কোষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- একটি ধাতব দন্ডকে ঐ ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করা হয়। 
- এভাবে ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর দন্ডকে ঐ স্ব স্ব ধাতুর লবণের দ্রবণের মধ্যে স্থাপন করে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার গঠন করা হয়। তবে অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বার নির্ধারিত হয় ধাতুর সক্রিয়তার উপর ভিত্তি করে। 
- তড়িৎদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত ধাতব দন্ড দুটোর মধ্যে অধিক সক্রিয় ধাতব দন্ডটি অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতব দন্ডটি ক্যাথোড তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- গ্যালভানিক কোষের অ্যানোড তড়িৎদ্বার ও ক্যাথোড তড়িৎদ্বারকে ব্যাটারির সাহায্যে সংযুক্ত না করে শুধু পরিবাহি তারের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। তবে নির্দেশক বাল্ব যুক্ত করে তড়িৎ প্রবাহকে নিশ্চিত করা হয়। 
- দুটো তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণকে লবণ সেতু দ্বারা সংযোগ করা হয়। 
- লবণ সেতুর মধ্যস্থ তড়িৎ বিশ্লেষ্য উভয় তড়িৎদ্বারের সাথে যুক্ত ধাতব লবণের দ্রবণের সাথে কোন বিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৬.
সোডিয়ামের ভরসংখ্যা কত?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১২
  3. গ) ২৩
  4. ঘ) ৩২
ব্যাখ্যা

সোডিয়ামের একটি পরমাণুতে ১১টি প্রোটন এবং ১২টি নিউট্রন আছে।

তাই, সোডিয়ামের ভরসংখ্যা ১১+১২=২৩।
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ওই মৌলের ভরসংখ্যা বলে। অর্থাৎ, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৪৭৭.
লোহাকে গ্যালভানাইজিং করা হয় কোনটি ব্যবহার করে?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) দস্তা
  3. গ) নিকেল
  4. ঘ) টিন
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের উপর অন্য একটি কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেয়াকে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং বলে।
কোনাে ধাতুর উপর জিংক বা দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের উপর টিনের প্রলেপ দেওয়া কে টিনপ্লেটিং বলা হয়।
রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানােকে ভলকানাইজিং বলে।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]

৪৭৮.
৪র্থ শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. 2
  2. 8
  3. 32
  4. 18
ব্যাখ্যা
বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
• ২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (2)2 = 8 টি, 
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (3)2 = 18 টি এবং 
৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (4)2 = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৯.
নিচের কোনটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীতমুখী হয়ে কাজ করে?
  1. জেনারেটর
  2. সৌর প্যানেল
  3. তাপীয় পাম্প
  4. থার্মোস্ট্যাট
ব্যাখ্যা

একটি তাপ ইঞ্জিন উচ্চ তাপমাত্রা থেকে তাপ গ্রহণ করে কাজ সম্পাদন করে, কিন্তু তাপীয় পাম্প তার বিপরীত কাজ করে। এটি বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো শক্তির সাহায্যে কাজ সম্পাদন করে তাপকে নিম্ন তাপমাত্রা থেকে উচ্চ তাপমাত্রার দিকে স্থানান্তর করে।
-
রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারও একই মূলনীতিতে কাজ করে।

তাপীয় ইঞ্জিন:
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে।
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে।
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে।

অন্যদিকে,
• তাপীয় পাম্প:
- তাপীয় পাম্প (Heat Pump) হলো এমন একটি যন্ত্র যা তাপগতিবিদ্যার নীতির ওপর ভিত্তি করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে। এটি রেফ্রিজারেটর বা এয়ার কন্ডিশনারের মতোই কাজ করে।
- একটি তাপীয় পাম্প যান্ত্রিক কাজ (বিদ্যুৎ) ব্যবহার করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে, যা তাপ ইঞ্জিনের কাজের সম্পূর্ণ বিপরীত।
- অর্থাৎ, তাপ ইঞ্জিন তাপকে কাজে পরিণত করে, আর তাপীয় পাম্প কাজকে তাপ স্থানান্তরে পরিণত করে।

উল্লেখ্য,
- জেনারেটর কোনো তাপীয় যন্ত্র নয়, বরং এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সৌর প্যানেল আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীত নয়।
- থার্মোস্ট্যাট হলো একটি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু নিজে তাপ স্থানান্তর করে না।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮০.
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি মিথ্যা? 
  1. Ni-Cd ব্যাটারির তুলনায় এদের শক্তির ঘনত্ব বেশি 
  2. এতে লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড ক্যাথোড ব্যবহার করা হয় 
  3. 'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয় 
  4. এখানে অতিরিক্ত চার্জিং-এর ফলে আগুন লাগতে পারে
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সম্পর্কে 'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয়- এই বিবৃতিটি মিথ্যা, কারণ মেমরি এফেক্ট (স্মৃতি প্রভাব) মূলত Ni-Cd ব্যাটারির একটি সমস্যা, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির নয়, বরং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অতিরিক্ত চার্জিং বা সম্পূর্ণ ডিসচার্জ না করলে তাদের পারফরম্যান্স কিছুটা কমতে পারে কিন্তু মেমরি এফেক্ট হয় না। 

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি (Lithium ion Battary): 
- বিজ্ঞানী উইটিংহাম (Whittinghum) সর্বপ্রথম 1970 সালে লিথিয়াম ব্যাটারির প্রস্তাব করেন। 
- এটি একটি সেকেন্ডারী সেল। 

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির গঠন: 
- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির তিনটি মূল কার্যকরী উপাদান হচ্ছে ঋণাত্মক ইলেকট্রোড, ধনাত্মক ইলেকট্রোড এবং ইলেকট্রোলাইট। 
- ধনাত্মক তড়িৎদ্বার সাধারণত কার্বন হতে তৈরী করা হয়। ধনাত্মক তড়িৎদ্বার ধাতব অক্সাইডের তৈরী এবং ইলেকট্রোলাইট হচ্ছে জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত লিথিয়াম লবণ। 
- বানিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ঋণাত্মক ইলেকট্রোড হয় গ্রাফইট এবং ধনাত্মক ইলেকট্রোড হিসাবে নিম্নলিখিত তিনটি পদার্থের যে কোন একটি ব্যবহৃত হয়-
(i) লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড স্তর (Li-CoO2), 
(ii) লিথিয়াম আয়রন ফসফেট এবং 
(iii) লিথিয়াম ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (Li-Mn2O4)। 
ইলেকট্রোলাইট হিসাবে ব্যবহৃত হয় জৈব কার্বনেটের মিশ্রণ। যেমন- লিথিয়ামের জটিল ইথিলিন কার্বনেট (EC) ডাইইথাইল কার্বনেট ইত্যাদি। 
- নিম্নে একটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি গঠনচিত্র দেয়া হলো- 

- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সুবিধা ও অসুবিধা দেওয়া হলো- 
সুবিধা: 
১। বিভিন্ন আকার আকৃতির পাওয়া যায় যা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে সাইজেই ফিট হয়। 
২। অন্যান্য ব্যাটারি হতে হালকা। 
৩। অন্যান্য জলীয় ব্যাটারি হতে এদের বিভব পার্থক্য অধিক (উন্মুক্ত সার্কিটে)। 
৪। কোন মেমোরী প্রভাব নেই। 
৫। অব্যবহৃত অবস্থায় চার্জ হারানোর হার কম (5-10%) অন্যান্য কার্যকারী ক্ষেত্রে হার 30% । 
৬। ব্যাটারির উপাদান পরিবেশগতভাবে বন্ধুভাবাপন্য। 

অসুবিধা: 
১। চার্জের ফলে ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্যে জমাট বাধে যা আয়নের পরিবহনে বাধা দেয়। 
২। উচ্চ মাত্রায় চার্জ করা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাটারির ধারকতা হারায়। 
৩। ২৫° C তাপমাত্রায় পূর্ণ চার্জের ফলে উভমূখীতা হারায়। 
৪। আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি। 
৫। উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যাটারি ব্যবহার অসুবিধা বরং একাধিক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। 
৬। উচ্চ তাপমাত্রায় এ ব্যাটারি ব্যবহার বিপদজনক। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র (তড়িৎ রসায়ন), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮১.
দ্রবণ শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক্ষরণ
  2. জলপ্রপাত
  3. অনুধ্যান
  4. নিমজ্জন
ব্যাখ্যা
দ্রবণ: দ্রাব গলন; ক্ষরণ; তরলীভবন; solution।
বিগলন : গলে যাওয়া; দ্রবণ।

দ্রবণ (Solution):
কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়।
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়।
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয় ।
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয় ।

উৎস: Accessible Dictionary.
৪৮২.
ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়-
  1. লবণ
  2. পানি
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
◉ ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিডের অণুতে প্রতিস্থাপন যোগ্য হাইড্রোজেন বর্তমান থাকে।
- এ হাইড্রোজেন ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

ধাতব কার্বোনেট ও হাইড্রোজেন কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিড ধাতব কার্বোনেট বা ধাতব হাইড্রোজেন কার্বোনেট এর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে থাকে। যেমন-
• Na2CO3(s) + 2HCl(aq) → 2NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g).
• NaHCO3(s) + HCl(aq) → NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g).

ধাতুর অক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিড ধাতুর অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ধাতুর অক্সাইড সমূহ ক্ষার ধর্মী এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে।

ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- এসিড ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড ক্ষার বিধায় এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে।
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়।
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৩.
পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকারে কী পরিবর্তন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পায় পরে হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 

• পর্যায় সারণি:

- যে সারণির মাধ্যমে মৌলিক পদার্থগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (atomic number) এবং ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ভিত্তিতে কতকগুলো ছকে সাজানো হয় তাকে পর্যায় সারণি বলা হয়। 

• পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় ও ১৮ টি গ্রুপ রয়েছে। 
- পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে মৌলের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বহিঃস্থ স্তর সংখ্যা একই থাকে।
- এর ফলে যেসব পরিবর্তন হয় তা নিম্নরূপ:
→ পারমাণবিক ব্যাসার্ধ:
- পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউক্লিয়াসের চার্জ বাড়ে, যা ইলেকট্রন ঘনত্বকে নিউক্লিয়াসের দিকে আকর্ষণ করে এবং এর ফলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ হ্রাস পায়।  
- ফলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। 
→ ধাতব ধর্ম:
- একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন ত্যাগ করার প্রবণতা হ্রাস পায়।  
→ অধাতব ধর্ম:
- অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।  
→ তড়িৎ ঋণাত্মকতা:
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা বৃদ্ধি পায়, কারণ পরমাণুগুলোর ইলেকট্রনকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার প্রবণতা বাড়ে।  
→ ইলেকট্রন আসক্তি:
- ইলেকট্রন আসক্তি বাড়ে, কারণ পরমাণুগুলো সহজে একটি অতিরিক্ত ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪৮৪.
কোন সাল থেকে পৃথিবীতে এস.আই পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
  1. ১৯৪৫
  2. ১৯৫৬
  3. ১৯৬০
  4. ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি: 
- পূর্বে কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয়ের বিভিন্ন একক পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। 
- একই পরিমাপের জন্য প্রচলিত বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এমকেএস (মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড), এফপিএস (ফুট, পাউন্ড, সেকেন্ড) ও সিজিএস (সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড) পদ্ধতি নামে প্রচলিত। 
- দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
অথাৎ, একই রাশি পরিমাপের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন একক ব্যবহার করা হতো। এককের এই বিভিন্নতার কারণে নানা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯৬০ সাল থেকে পৃথিবীর সমগ্র দেশে একটি সাধারণ পরিমাপের পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যাকে এস.আই বা ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিট বলা হয়। 
- এই আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে সকল ভৌত রাশির জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট একক নির্ধারণ করা হয়েছে। 
যেমন: 
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার, 
• ভরের একক কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক সেকেন্ড, 
• তাপমাত্রার একক কেলভিন, 
• বৈদ্যুতিক আধানের একক কুলম্ব, 
• আলোক ঔজ্জ্বল্যের একক ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক মোল। 
- এই এককগুলো বর্তমানে এস. আই পদ্ধতির মৌলিক একক। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৮৫.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি গ্রুপ আছে? 
  1. ৭ 
  2. ৮ 
  3. ১৮
  4. ২০ 
ব্যাখ্যা

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- আধুনিক পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র আধুনিক পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৬.
পটাশ অ্যালামকে কী বলা হয়?
  1. ক) কস্টিক সোডা
  2. খ) ফিটকিরি
  3. গ) চুন
  4. ঘ) সাবান
ব্যাখ্যা
• পটাশ অ্যালামকে ফিটকিরি বলা হয়।

পটাশ অ্যালাম:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ। 
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- এর রাসায়নিক সংকেত K2SO4.Al2(SO4)3 24H2O.

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
স্বর্ণপাতের উপর আলফা কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন কে?
  1. রাদারফোর্ড
  2. জন ডাল্টন
  3. নিলস বোর
  4. ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। 
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।  
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। 
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। 
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৮.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ এক ধরনের -
  1. জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ বিক্রিয়া
  3. জারণ বিক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে ATP এবং NADPH+H' নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।
- এ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় শর্করা (গ্লুকোজ)। এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়।
- সূর্যালোকের দরকার হয় মূল শক্তির জন্য এবং ক্লোরোফিল দরকার হয় সূর্য শক্তিকে শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কান্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত হয়।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৮৯.
নিচের কোনটি নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  3. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) 400 nm থেকে 700 nm
  2. খ) 500 nm থেকে 700 nm
  3. গ) 600 nm থেকে 900 nm
  4. ঘ) 400 nm থেকে 900 nm
ব্যাখ্যা

কোনো তরঙ্গের পরপর দুটি, একই দশা সম্পন্ন কণার মধ্যকার দূরত্বকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (Wave length) বলা হয়।
আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
সব ধরনের আলো আমরা দেখতে পাই না। 
যে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত সেই আলো আমরা দেখতে পাই। 
ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর আলো বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকলে রং পরিবর্তন হতে থাকে।
আই আলোই হচ্ছে দৃশ্যমান আলো। 

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা - ২১৩ - ২১৪, বোর্ড বই। 

৪৯১.
Which train does not touch the rail tracks?
  1. Electric train
  2. Coal powered train
  3. Magnetic train
  4. Diesel train
ব্যাখ্যা
• ম্যাগনেটিক ট্রেন (Magnetic levitation train বা Maglev train) হলো এমন একটি ট্রেন যা চুম্বকের সাহায্যে রেললাইন থেকে একটু উপরে ভেসে চলে। এতে চাকা থাকে না এবং এটি রেললাইন স্পর্শ করে না।

- এটি ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (Magnetic Levitation) প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলে, যেখানে চুম্বকের বিপরীত মেরু একে অপরকে ঠেলে দেয়, ফলে ট্রেনটি রেললাইন থেকে সামান্য উপরে উঠে ভেসে চলে।

• অপশন আলোচনা:
ক) Electric train – এটি বিদ্যুৎচালিত হলেও রেললাইন স্পর্শ করে চাকার মাধ্যমে চলে।

খ) Coal powered train – এটি কয়লা ব্যবহার করে এবং রেললাইন স্পর্শ করে চলে।

ঘ) Diesel train – এটি ডিজেল ব্যবহার করে এবং রেললাইন স্পর্শ করে চলে।

সঠিক উত্তর: গ) Magnetic train

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৯২.
একটি ব্যাটারিতে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে? 
  1. দুইটি
  2. চারটি
  3. তিনটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
ব্যাটারি: 
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। 
যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 

- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ V, সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০ V । 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি, আবার ২২০ V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৩.
সবচেয়ে ছোট অণু কোনটি?
  1. ক) CO2
  2. খ) H2O
  3. গ) H2
  4. ঘ) O2
ব্যাখ্যা
অণু:
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে।
আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।

অণুর বৈশিষ্ট্য: 
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
- বস্তুর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে।
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু। 
- খালি চোখে দেখা যায় না।
- কোন চার্জ নাই।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
৪৯৪.
জড়তার ধারণা পাওয়া যায় নিউটনের কোন সূত্র থেকে?
  1. ক) ১ম সূত্র
  2. খ) ২য় সূত্র
  3. গ) ৩য় সূত্র
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
- সূত্রটি জড়তার ধারণা দেয়। 
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।
উদাহরণ:
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৫.
জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. Physiology
  2. Ecology
  3. Palaeontology
  4. Morphology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil): 
- ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- প্রাগৈতিহাসিক জীবের সাক্ষ্য বা চিহ্ন হিসেবে মোল্ড (mold), কাস্ট (cast), হাত বা পায়ের ছাপ, গমন পথ (track), ট্রেইল (trail), গর্ত (boring), মলাশ্ম বা কপ্রোলাইট (coprolite) কে জীবাশ্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- বিবর্তনের সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য এবং প্রামাণিক সাক্ষ্য (উপাদান) হচ্ছে জীবাশ্ম। 
- জীবাশ্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সংগ্রহ করতে হলে ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তর সম্বন্ধেও জ্ঞান লাভ করতে হয় বলে বিবর্তনের এই প্রমাণকে ভূতত্ত্বীয় প্রমাণও (geological evidence) বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- Physiology হচ্ছে জীবদেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে (যেমন—শ্বসন, রক্তসঞ্চালন)। 
- Ecology হলো জীব ও তাদের পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। 
- Morphology হচ্ছে জীবের গঠন ও আকৃতি নিয়ে আলোচনা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৬.
কোন বর্ণের আলোর প্রতিসরণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. নীল
  2. লাল
  3. সবুজ
  4. বেগুনী
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনী আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনী আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
আলো কী ধরণের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে?
  1. ক) তরঙ্গ
  2. খ) কণা
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- তরঙ্গতত্ত্ব অনুসারে আলো তরঙ্গ এবং কণাতত্ত্ব অনুসারে আলো কণা দিয়ে গঠিত৷
- আসলে আলো তরঙ্গ এবং কণা দুই ধরণের বৈশিষ্ট্যই প্রদর্শন করে৷

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
৪৯৮.
মানব দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
  2. খ) ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  3. গ) ৩৯.৯° ফারেনহাইট
  4. ঘ) ৯৪.৯° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৬.৯° সেলসিয়াস অর্থাৎ ৯৮.৪° ফারেনহাইট।
মানবদেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪৯৯.
শব্দ রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হল-
  1. ক) Barometer
  2. খ) Lactometer
  3. গ) Phonograph
  4. ঘ) Odometer
ব্যাখ্যা
শব্দ রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো - Phonograph.

- ফনোগ্রাফ আবিষ্কার করেন এডিসন। 
- এডিসনের সবচেয়ে মৌলিক উদ্ভাবন ছিল ফোনোগ্রাফ, এটি তার নিজেরও সবচেয়ে পছন্দের প্রযুক্তি ছিলো।
- এটিই ছিল সর্বপ্রথম প্রযুক্তি, যা শব্দ রেকর্ড করে তা পুনরায় শোনাতে সক্ষম হয়।
- ১৮৭৭ সালে এডিসন মেনলো পার্ক ল্যাবে ফনোগ্রাফ আবিষ্কার করেন। 
- পরবর্তীকালে আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেলসহ বেশ ক’জন বিজ্ঞানী ফোনোগ্রাফকে আরো উন্নত করে তোলেন। 

সূত্র: National Park Service [লিঙ্ক]
৫০০.
"ন্যানো" (n) উপসর্গের মান কত?
  1. 10 -9
  2. 10 -6
  3. 10 -12
  4. 10 -15
ব্যাখ্যা
- "ন্যানো" (n) উপসর্গের মান হলো 10-9  । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারবে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।