বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪৫ / ৬৪ · ৪,৪০১৪,৫০০ / ৬,৪০৯

৪,৪০১.
টেলিস্কোপে কাচের সামনের পৃষ্ঠে ধাতুর প্রলেপ দিলে কী সুবিধা হয়? 
  1. আলোর প্রতিসরণ ঘটে 
  2. ধাতুর রং ভালো দেখা যায় 
  3. কাচ স্বচ্ছ থাকে 
  4. একটি মাত্র স্পষ্ট প্রতিবিম্ব পাওয়া যায় 
ব্যাখ্যা

আয়না বা দর্পণ (Mirror): 
- আয়নায় নিয়মিত প্রতিফলনের কারণে স্পষ্ট প্রতিবিম্বের তৈরি হয়। 
- আয়না তৈরি করার জন্য কাচের পেছনে প্রতিফলনের উপযোগী ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- কাচের সামনের পৃষ্ঠ থেকে ৪% আলো প্রতিফলিত হলেও পেছনের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় পুরো আলোই প্রতিফলিত হয় বলে সেটি মূল প্রতিবিম্বটি তৈরি করে। 
- টেলিস্কোপ বা অন্য অপটিক্যাল (Optical) যন্ত্রে যখন মূল প্রতিবিম্বটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয় তখন কাচের উপরেই রূপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া হয় যেন একটি ৪% হালকা আরেকটি ৯৬% স্পষ্ট, এ রকম দুটি প্রতিবিম্ব তৈরি না হয়ে একটা ১০০% স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 
- কেউ যখন আয়নার সামনে দাঁড়ায় তখন সে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই, সে আয়নার যতটুকু সামনে আছ, তার মনে হবে প্রতিবিম্বটি বুঝি ঠিক ততটুকু পেছনে আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৪০২.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104° F হলে, ঐ রোগীর দেহের তাপমাত্রা সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?
  1. 38° C
  2. 39° C
  3. - 40° C
  4. 40° C
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 104° F হলে, ঐ রোগীর দেহের তাপমাত্রা সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা, F = 104°F
সেলসিয়াস তাপমাত্রা, C = ?

আমরা জানি,
C/5 = (F - 32)/9
বা, C/5 = (104 - 32)/9
বা, C/5= 72/9
বা, C = (72 × 5)/9
বা, C = 8 × 5
∴ C = 40

সুতরাং, সেলসিয়াস স্কেলে রোগীর দেহের তাপমাত্রা = 40° C ।

৪,৪০৩.
বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম বড় সাফল্য কোনটি?
  1. ডিএনএ ক্লোনিং
  2. ক্যান্সার নিরাময়
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ 
  4. মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং
ব্যাখ্যা

- মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট (HGP) ছিল একটি বিশাল আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা, যা জীববিজ্ঞানের বিশাল পরিমাণ ডেটা তৈরি করেছিল, এবং এই ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, এবং সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার জন্যই বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তির প্রয়োজন বিশেষভাবে অনুভূত হয় এবং এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় 

বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics): 

- বায়োইনফরমেটিক্স একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শাখা, যা জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত। এটির উদ্দেশ্য হলো বিশাল পরিমাণ জীববৈজ্ঞানিক ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করা।
- বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম বড় সাফল্য ছিলো মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং, যা ১৩ বছর পর অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের জন্য সহজলভ্য হয়। এই শাখাটি ক্যান্সার গবেষণা এবং প্রোটিন গঠন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজেও অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে, বায়োইনফরমেটিক্স ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও ওষুধের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- সাধারণত নিচের চারটি ভিন্ন ভিন্ন শাখার উপাদান ও কৌশলের সমন্বয়ে বায়োইনফরমেটিক্স পদ্ধতি কাজ করে থাকে। 
যেমন- 
১. আণবিক জীববিদ্যা ও মেডিসিন: ডেটা উৎস বিশ্লেষণের কাজ করে। 
২. ডেটাবেজ: নিরাপদ ডেটা সংরক্ষণ ও ডেটা রিট্রিভ (Retrive) করা। 
৩. প্রোগ্রাম: উপাত্ত বিশ্লেষণ অ্যালগরিদম যার মাধ্যমে বায়োইনফরমেটিক্স কঠোরভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয়। 
৪. গণিত ও পরিসংখ্যান: এর সাহায্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। 

বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহার: 
- মূলত জৈবিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ সম্পর্কে সম্যক এবং সঠিক ধারণা অর্জন করার ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। আর এই জৈবিক তথ্য হিসাব-নিকাশ এবং এ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য। 
- তবে জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন সিকোয়েন্স ইত্যাদি গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ গঠনে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, ওষুধ তৈরিতে, বর্জ্য পরিষ্কারকরণে, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণায়, বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৪,৪০৪.
কোন রঙের আলোর সবচেয়ে কম বিচ্যুতি দেখা যায়?
  1. বেগুনি
  2. নীল
  3. কমলা
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• লাল রঙের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৪০৫.
পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ______ ।
  1. বরফ গলা
  2. পানি ফোটানো
  3. কাঠ পোড়ানো
  4. গ্লাস গলানো 
ব্যাখ্যা

পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ হল কাঠ পোড়ানো। 

রাসায়নিক পরিবর্তন:
- যে পরিবর্তনে নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয় এবং পদার্থের আণবিক গঠন বা রাসায়নিক ধর্ম পরিবর্তিত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।
- এই পরিবর্তন সাধারণত অপরিবর্তনযোগ্য (Irreversible)। অর্থাৎ একবার ঘটলে আগের অবস্থায় ফেরানো যায় না।
- যেমন: কাঠ পুড়ে ছাই হওয়া। 
ভৌত পরিবর্তন:
- যে পরিবর্তনে কোনো নতুন পদার্থ সৃষ্টি হয় না এবং পদার্থের কেবল আকার, অবস্থা বা রূপ পরিবর্তিত হয়, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে।
- এই পরিবর্তন সাধারণত পরিবর্তনযোগ্য (Reversible)। অর্থাৎ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। 
- যেমন: বরফ গলে পানি হওয়া। 

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৪০৬.
নিচের কোনটি উর্ধ্বপাতিত বস্তু নয়?
  1. বেনজয়িক এসিড
  2. বেনজিন
  3. নিশাদল
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা

বেনজিন উর্ধ্বপাতিত বস্তু নয় ।
- উর্ধ্বপাতন হ'ল তরল অবস্থায় প্রবেশ না করেই পদার্থের কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে রূপান্তর।
- যেমন কর্পূর, গন্ধক, আয়োডিন, ন্যাপথলিন, নিশাদল, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্সেনিক ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি

৪,৪০৭.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো পড়লে কোন শক্তি রূপান্তর ঘটে?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপ শক্তি
  3. আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি
  4. তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
  5. বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি : কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪০৮.
ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য কোন তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়? 
  1. শব্দেতর তরঙ্গ
  2. শব্দোত্তর তরঙ্গ
  3. ভূকম্পীয় তরঙ্গ
  4. তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- এ ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪০৯.
৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা করে ১ মাস জ্বললে কত তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে?
  1. ১০ ইউনিট
  2. ১২.৬ ইউনিট
  3. ৮ ইউনিট
  4. ৬.২ ইউনিট
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা করে ১ মাস জ্বললে কত তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
P = ৬০ ওয়াট
t = (৩০ × ৭) = ২১০ ঘণ্টা

আমরা জানি,
ব্যয়িত শক্তি = (P × t)/১০০০ ইউনিট
= (৬০ × ২১০)/১০০০ ইউনিট
= ৯০০০/১০০০ ইউনিট
= ১২.৬ ইউনিট
৪,৪১০.
নিচের কোনটির বিপরীত রাশি হলো পরিবাহকত্ব?
  1. ক) পরিবর্তনশীল রোধ
  2. খ) আপেক্ষিক রোধ
  3. গ) স্থির রোধ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক রোধ: স্থির তাপমাত্রায় একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল এবং একক দৈর্ঘ্যরে কোনো পরিবাহীর বিপরীত দুই পৃষ্ঠের
রোধকে ঐ পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ বলে।
পরিবাহকত্ব: স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের একক দৈর্ঘ্যরে এবং একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহিতাকে
পরিবাহকত্ব বলে।
আপেক্ষিক রোধের বিপরীত রাশিকে পরিবাহকত্ব বলে। 
উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৪১১.
তড়িৎ মোটরে সংঘটিত শক্তির রূপান্তর কোনটি? 
  1. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  3. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  4. তড়িৎ শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি.সি মোটর ও এ.সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে ভাবে বৃদ্ধি করা যায়- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪১২.
300 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?
  1. 390 ms- 1
  2. 450 ms- 1
  3. 520 ms- 1
  4. 600 ms- 1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 300 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?

সমাধান:
এখানে,
কম্পাঙ্ক, f = 300 Hz
= 300s- 1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ = 1.5m
তরঙ্গ বেগ, V = ?

আমরা জানি,
V = fλ
= 300s- 1 × 1.5m
= 450 ms- 1
৪,৪১৩.
ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ার জন্য শক্তির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটো- ইলেকট্রিক কোষে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,৪১৪.
ইলেকট্রনের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. এটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা
  2. এটি পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা
  3. এটির আপেক্ষিক আধান -1
  4. এটি একক ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রন:
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন।
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা
- ইলেকট্রনের সংকেত e-.
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60 ×10-19 C.
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান (-1)।

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪১৫.
গ্লাস ক্লিনারে কোন ক্ষার থাকে?
  1. NH4OH
  2. Fe(OH)2
  3. CaO
  4. KOH
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে- 
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক। 
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৪১৬.
রংধনুর মধ্যে কোন রঙের বিচ্যুতি কোণ সর্বাধিক?
  1. বেগুনি
  2. নীল
  3. সবুজ
  4.  লাল
ব্যাখ্যা

• রংধনু গঠনের প্রক্রিয়া:
- সূর্যের সাদা আলো যখন বৃষ্টির ক্ষুদ্র জলের ফোঁটার মধ্যে প্রবেশ করে, তখন আলোর প্রতিসরণ (Refraction) ঘটে।
- প্রতিসরণের ফলে আলোটি বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রঙে বিভক্ত হয়।
- এই বিভাজন প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিচ্ছুরণ (Dispersion)।
- ফলে সাদা আলোটি সাতটি পৃথক রঙে বিভক্ত হয় — বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।
- প্রতিটি রঙের প্রতিসরণের কোণ ভিন্ন হওয়ায় তারা আলাদা আলাদা পথে ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে অর্ধবৃত্তাকার রঙিন ধনু বা রংধনু দেখা যায়।



উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৪,৪১৭.
ডায়োড সাধারণত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. রেজিস্টর
  3. রেকটিফায়ার
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
• ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 

- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪১৮.
চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে রাখলে কোন দিকে স্থির হয়?
  1. পূর্ব–পশ্চিম
  2. উত্তর–দক্ষিণ
  3. উত্তর–পূর্ব
  4. দক্ষিণ–পশ্চিম
ব্যাখ্যা

• চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে স্থির অবস্থায় রাখলে এটি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে উত্তর–দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।

• চুম্বক (Magnet):
- চুম্বক হলো এমন একটি বস্তু যা লোহা, নিকেল, কোবাল্ট প্রভৃতি চৌম্বকীয় পদার্থকে আকর্ষণ করতে পারে।
- চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা মূলত তার চারপাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সৃষ্টি হয়।
- একটি চুম্বকের দুটি প্রান্ত থাকে, যেগুলোকে চৌম্বক মেরু বলা হয়।
- চুম্বকের এক প্রান্তকে উত্তর মেরু (North Pole) এবং অন্য প্রান্তকে দক্ষিণ মেরু (South Pole) বলা হয়।
- সমধর্মী মেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
- চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে স্থির অবস্থায় রাখলে এটি সর্বদা উত্তর–দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।
- চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা তার মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি এবং মাঝখানে তুলনামূলকভাবে কম হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪,৪১৯.
দুটি প্রায় সমান ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ যদি একে অপরের সাথে মিলিত হয়, তখন যেটি ঘটে তাকে বলা হয়:
  1. রেজোন্যান্স
  2. প্রতিধ্বনি
  3. ইকো
  4. বিটস
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - ঘ) বিটস। 
 
দুটি প্রায় সমান ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ যখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়, তখন যে ঘটনাটি ঘটে তাকে বিটস (ঘ) বলা হয়। এই ক্ষেত্রে দুটি তরঙ্গ কখনো একে অপরকে শক্তিশালী করে (গঠনমূলক ব্যতিচার) এবং কখনো দুর্বল করে (বিনাশমূলক ব্যতিচার)। ফলে শব্দের তীব্রতা পর্যায়ক্রমে বাড়ে ও কমে, যা আমরা কানে “ধকধক” বা ওঠানামা করা শব্দ হিসেবে শুনি। বিটসের সংখ্যা নির্ভর করে দুই তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সির পার্থক্যের উপর। এই ঘটনা সঙ্গীত যন্ত্র টিউন করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকারের শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪২০.
পানিতে উপস্থিত জৈব বর্জ্য পদার্থসমূহের বিয়োজনের জন্য কোনটি সর্বাধিক প্রয়োজন?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological Oxygen Demand, BOD):
- পানিতে উপস্থিত জৈব বর্জ্য পদার্থসমূহের বিয়োজনের জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়
- পানিতে যতো বেশি পারিমাণে বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থ উপস্থিত থাকে তার জন্য অক্সিজেন চাহিদাও ততো বেশি।
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা BOD বলে।
- ভালো মান সম্পন্ন পানির BOD মান 6 ppm এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
- অর্থাৎ প্রতি 1000 mL পানিতে বর্তমান জৈব বর্জ্য দূষকের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন 6 mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি ঐ পানির দূষকের মাত্রা ততো বেশি।
- পানিতে BOD এর মান যতো বেশি হবে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর পরিমাণ ততো হ্রাস পায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪২১.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন 
  2. গ্লুঅন 
  3. Z বোসন 
  4. ফোটন 
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
 
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বল ৪ টি। এই বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
 
অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

৪,৪২২.
সাধারণত বৈদ্যুতিক বাল্বে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• পূর্বে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে নাইট্রোজেন এবং টিউবলাইটে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হতো।
- বর্তমানে উভয়ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে আর্গন ব্যবহৃত হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ক্রিয়া প্রয়োগে বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বৈদ্যুতিক বাতিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. কার্বন ফিলামেন্ট,
২. ধাতব ফিলামেন্ট ও
৩. গ্যাসপূর্ণ বাতি।

* উল্লেখ্য, প্রশ্নের অপশনে আর্গন না থাকায় নাইট্রোজেন উত্তর হবে।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪২৩.
নিচের কোনটি মৌল নয়, আবার যৌগও নয়?
  1. ক) গোল্ড
  2. খ) নিকেল
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা

যে সকল পদার্থ একটি মাত্র উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, তামা, সোনা (গোল্ড), নিকেল, রূপা, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ইত্যাদি।
যে সব পদার্থ একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান দিয়ে তৈরি, তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলা হয়।
যেমন- পানি, লবণ, চিনি, ইস্পাত, শর্করা ইত্যাদি।
বায়ু এক ধরণের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরণের পদার্থ রয়েছে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা

৪,৪২৪.
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড কোন রঙের হয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) বর্ণহীন তরল
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনী
ব্যাখ্যা
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল পদার্থ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪,৪২৫.
তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাপ নির্ণয়কারী যন্ত্রটির নাম কী?
  1. ক) ভোল্টমিটার 
  2. খ) গ্যালভানোমিটার
  3. গ) ম্যাগনেটোমিটার
  4. ঘ) স্পেট্রমিটার
ব্যাখ্যা

তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাপ নির্ণয়কারী যন্ত্রটির নাম গ্যালভানোমিটার।

- গ্যালভানোমিটার ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক প্রবাহ সনাক্তকরণ এবং পরিমাপের জন্য।
- সবচেয়ে সাধারণ গ্যালভানোমিটার ব্যবহার অ্যানালগ পরিমাপ যন্ত্র হিসাবে ছিল, যাকে অ্যামিটার বলা হয়, ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সার্কিটের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ কারেন্ট (ইলেকট্রিক চার্জের প্রবাহ) পরিমাপ করা।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 

৪,৪২৬.
ইঞ্জিনের কোন অংশ জালানীকে বাষ্পে পরিণত করে?
  1. কার্বুরেটর
  2. প্রেশার পাম্প
  3. স্পার্ক প্লাগ
  4. ইনজেক্টর
ব্যাখ্যা
- মোটর গাড়ির যে প্রকোষ্ঠে বায়ু ও পেট্রোল মিশ্রিত করা হয় তাই হলো কার্বুরেটর। 
- বায়ু ও পেট্রোলের মিশ্রণ তৈরি হওয়ার পরে এটিকে দহন প্রকোষ্ঠে পাঠিয়ে দেয়া হয়। 
- সব ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না, শুধু পেট্রোল ইঞ্জিনে ৩টি কার্বুরেটর থাকে। 

- Carburetor prepares a mixture of air and fuel (which is suitable for combustion) for a spark ignition engine.
- Carburetor is also used to control the speed of the vehicle.
- It converts petrol into fine droplets and mixes it in air in such a way that it burns smoothly in engine, without any problem.

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিক।
৪,৪২৭.
নিচের কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম ফসফেট
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. গ) পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. ঘ) অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
লবণ:

- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (COHINO Na) লবণ।
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ।
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি।
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪২৮.
ক্ষমতার এস.আই একক কী? 
  1. ও'ম
  2. জুল
  3. ওয়াট
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 

এছাড়া, 
- অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহের একক। 
- ও'ম রোধের একক। 
- জুল শক্তি বা কাজের একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪২৯.
১ ওয়াট-ঘণ্টা সমান কত জুল? 
  1. ৩৬ জুল
  2. ৩৬০ জুল
  3. ৩৬০০ জুল
  4. ৩৬০০০ জুল
ব্যাখ্যা

ওয়াট-ঘন্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক ঘণ্টা ব্যাপী কাজ করলে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক ওয়াট-ঘণ্টা বলে। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = এক ওয়াট × এক ঘন্টা 
= এক ওয়াট × 3600 সেকেন্ড 
= 3600 (এক ওয়াট × এক সেকেন্ড) 
= 3600 জুল। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = 3600 জুল। 

তড়িৎ ক্ষমতা হতে তড়িৎ শক্তি: 
- এক সেকেন্ডে এক জুল কাজ করার ক্ষমতাকে এক ওয়াট বলে। 
অর্থাৎ, এক ওয়াট = এক জুল/এক সেকেন্ড 
বা, এক জুল = এক ওয়াট × এক সেকেন্ড 
সুতরাং, শক্তি = ক্ষমতা × সময়। 
- যদি এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক সেকেন্ড ব্যাপী কাজ করে তবে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক জুল বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৪৩০.
‘আয়োডিন’ পাওয়া যায়?
  1. ক) লাইকেনে
  2. খ) মিউকরে
  3. গ) এগারিকাসে
  4. ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা
- সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
- হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
- তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
৪,৪৩১.
ইলেকট্রন কী? 
  1. পরমাণুর কেন্দ্রস্থ কণা
  2. একক ধনাত্মক কণা
  3. নিরপেক্ষ বস্তুকণা
  4. একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e-
- ইলেকট্রনের আসল ভর ৯.১১×১০-২৮ গ্রাম ও প্রকৃত আধান - ১.৬০×১০-১৯ কুলম্ব. 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান - ১ । 

উৎস: রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৩২.
AC কারেন্টকে DC কারেন্টে পরিণত করার কাজটি কোন যন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. রেকটিফায়ার
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার (Rectifier) হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) বা পরিবর্তী প্রবাহকে ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) বা একমুখী প্রবাহে রূপান্তরিত করে।

রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে। 
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে। 
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না। 
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৩৩.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ওডোমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ক্রনোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরোও কিছু গূরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪,৪৩৪.
চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কোন ধাপে ক্রোমিয়াম ধাতু তরল বর্জ্যে যুক্ত হয়?
  1. ট্যানিং
  2. লাইমিং
  3. সিক্তকরণ
  4. কিউরিং
ব্যাখ্যা
চামড়া শিল্পের দূষকসমূহ: 
- সবচেয়ে বেশি পরিবেশ দূষণকারী শিল্প কারখানার মধ্যে চামড়া শিল্প অন্যতম। 
- চামড়া শিল্পের বিভিন্ন ধাপে উৎপন্ন দূষক পদার্থ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো - 

১। সিক্তকরণ (Soaking): 
- এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তরল বর্জ্যে প্রচুর পরিমাণ NaCl দ্রবীভূত প্রোটিন, জৈব পদার্থ, ধূলা-বালি, ময়লা, গোবর ইত্যাদি মিশ্রিত থাকে। 
- এগুলো পঁচে দূর্গন্ধ সৃষ্টি করে ফলে বায়ু দূষণ ঘটে। 
- অধিকন্তু বর্জ্যে বিদ্যমান NaCl ও রাসায়নিক দ্রব্য পানি ও মাটির দূষণ ঘটায়। 

২। লাইমিং (Liming): 
- এ ধাপে বর্জ্যে ক্ষার, সালফাইড, CaCO3 প্রোটিন, কতিপয় ধাতব আয়ন উপস্থিত থাকে এবং পানিকে দূষিত করে। 

৩। ডিলাইমিং (Deliming): 
- এ ধাপে বর্জ্যে অ্যামোনিয়াম দ্রবণের আধিক্যের ফলে পানি দূষণ ঘটে। 

৪। ট্যানিং (Tanning): 
- এ ধাপে বর্জ্য অম্লীয় প্রকৃতির হয় এবং Cr এর পরিমান বৃদ্ধি পায় ফলে পানি দূষণ ঘটে। 

৫। রংকরণ (Colouring): 
- এ ধাপে বর্জ্যে বিভিন্ন প্রকার রঞ্জক পদার্থ, তৈল, গ্রিজ ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে ফলে মাটি দূষণ ও পানি দূষণ ঘটে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৩৫.
নিচের কোনটি আবেশের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) দূর প্রান্তে বিপরীতধর্মী আধানের সৃষ্টি হয়।
  2. খ) আবিষ্ট বস্তুতে সমমানের দুই ধরণের আধানের সৃষ্টি হয়।
  3. গ) নিকট প্রান্তে আবিষ্ট বস্তুতে আবেশী বস্তুর সমধর্মী।
  4. ঘ) কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
আবেশের বৈশিষ্ট্য:

- স্পর্শ ছাড়া আহিত বস্তুর (আবেশী বস্তু) প্রভাবে আধানহীন বস্তু (আবিষ্ট বস্তু) আহিত হবার ঘটনাকে আবেশ বলে।
- আবেশ প্রক্রিয়ায় আবিষ্ট বস্তুতে সমমানের দুই ধরণের আধানের সৃষ্টি হয়।
- আবেশী বস্তুর নিকট প্রান্তে আবিষ্ট বস্তুতে আবেশী বস্তুর বিপরীতধর্মী এবং দূর প্রান্তে সমধর্মী আধানের সৃষ্টি হয়।
- আবেশী বস্তু সরিয়ে নিলে আবিষ্ট বস্তু আধানহীন হয়ে পড়ে।
- আগে আবেশ হয় পরে আকর্ষণ হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৩৬.
ভূপৃষ্ঠে কোন বস্তুর ভর X হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে তার ভর কত হবে?
  1. X
  2. X/6
  3. 6X
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা
• ভর (Mass) এবং ওজন (Weight) -এ দুটি আলাদা জিনিস।

• ভর:
- কোনো বস্তুর মধ্যে মোট পদার্থের পরিমাণকে ভর বলে।
- ভর সর্বদা ধ্রুব (constant) থাকে।
- অর্থাৎ, একটি বস্তুর ভর পৃথিবী, চাঁদ বা মহাকাশ যেখানেই যান না কেন পরিবর্তিত হয় না।
-তাই, যদি ভূপৃষ্ঠে ভর হয় X, তবে চন্দ্রপৃষ্ঠেও ভর হবে ঠিক X।

- ওজন হলো কোনো বস্তুর উপর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে প্রয়োগকৃত বল।
- ওজন পরিবর্তিত হয়।

- চাঁদে মহাকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর প্রায় 1/6 অংশ।
- তাই  চাঁদে বস্তুটির ওজন হবে-  X/6।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৪৩৭.
নিচের কোন ধাতুটি সবচেয়ে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হবে?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) দস্তা
  3. গ) রূপা
  4. ঘ) সোনা
ব্যাখ্যা

ধাতু ক্ষয় হওয়ার সাধারণ পদ্ধতি হলো মরিচা পড়া।
কোন ধাতু বা ধাতু সংকর পরিবেশের উপাদান, যেমন অক্সিজেন ও পানির সাথে রাসায়নিক ক্রিয়ায় ক্ষয় হয়।
এই ক্ষয় হওয়ার হার নির্ভর করে ধাতুর সক্রিয়তার উপর।
সাধারণত সক্রিয় ধাতুসমূহ দ্রুত ক্ষয় হয়।

অপশনগুলোতে বিদ্যমান ধাতুগুলোর সক্রিয়তার ক্রম-
অ্যালুমিনিয়াম (Al) >দস্তা (Zn) > লোহা (Fe) > তামা (Cu) >সিলভার (Ag) > সোনা (Au).

• এখানে অ্যালুমিনিয়াম (Al) এর সক্রিয়তা বেশি হওয়া সত্বেও দস্তা বা জিঙ্কের ক্ষয় বেশি হয়। 
কারণ, আলুমিনিয়াম বাতাসের সংস্পর্শে আসলে বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে এর উপর অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের একটি আস্তরণ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বাতাসের অক্সিজেন উক্ত আস্তরন ভেদ করে আর অ্যালুমিনিয়াম এর সংস্পর্শে আসতে পারে না। কপারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
ফলে, বাতাসের সংস্পর্শে অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে দস্তার ক্ষয় বেশি হয়।

তবে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে অ্যালুমিনিয়াম বিভিন্ন পরিবেশে দস্তার চেয়ে দ্রুত ক্ষয় হয়।
উদাহরণস্বরূপ,
> ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নোনা জলের পরিবেশে অ্যালুমিনিয়াম দস্তার চেয়ে বেশি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
> আমেরিকান ওয়াটার ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে পানীয় জলের সিস্টেমে অ্যালুমিনিয়াম জিঙ্কের চেয়ে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

[যেহেতু প্রশ্নে কোন পরিবেশে ক্ষয়প্রাপ্ত হবে সেটা উল্লেখ নেই, তাই স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সংস্পর্শে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
সে অনুসারে সঠিক উত্তর হবে দস্তা বা জিঙ্ক।]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। (২০১৫ শিক্ষাবর্ষ)

৪,৪৩৮.
পানিতে কোনটি কলয়েড তৈরি করবে?
  1. ক) চিনি
  2. খ) অ্যালকোহল
  3. গ) সাবান
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
কলয়েড:
- যে ধরনের মিশ্রণে অতি ক্ষুদ্র কোনো বন্তকণা অপর বস্তকণার মাঝে সাসপেন্ডেড বা ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং রেখে দিলে কখনই কোনো তলানি পড়ে না তাকে বলা হয় কলয়েড।
- কলয়েডে বিদ্যমান উপাদানগ্তলো একটি আরেকটিতে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু ছড়িয়ে থাকে।
- কলয়েডে যেটি প্রধান উপদান বা পরিমাণে বেশি থাকে, তাকে বলে অবিচ্ছিন ফেজ বা দশা।
- আর যেটি কম পরিমাণে থাকে বা ছড়িয়ে থাকে, তাকে বলে ডিসপারসড ফেজ বা দশা।
- উদাহরণ: ধোঁয়া, কুয়াশা, মেঘ, দুধ, সাবানের ফেনা, চা, কফি, রক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৪,৪৩৯.
ফরমালিনের জলীয় দ্রবণে মিথান্যালের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ৪০ ভাগ
  2. ৬০ ভাগ
  3. ৭৫ ভাগ
  4. ৯০ ভাগ
ব্যাখ্যা
ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে ফরমালিনে ৪০% মিথান্যাল, ৫২% পানি ও ৪% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে ৩০% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহন বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৪০.
নাইট ভিশন ক্যামেরায় রাতে অন্ধকারে দেখার জন্য কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. রেডিও তরঙ্গ
  2. অবলোহিত রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
• নাইট ভিশন ক্যামেরা:
- নাইট ভিশন ক্যামেরাগুলি প্রধানত অবলোহিত রশ্মি (Infrared Radiation) ব্যবহার করে অল্প আলো বা সম্পূর্ণ অন্ধকারের মধ্যে ছবি ধারণ করতে পারে।
- এই ক্যামেরাগুলি বিভিন্ন বস্তুর দ্বারা নির্গত তাপ (Heat) সনাক্ত করে এবং সেটিকে দৃশ্যমান চিত্রে রূপান্তরিত করে।
- এগুলো সাধারণত সামরিক, নিরাপত্তা (Security), এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ (Wildlife Observation) কাজে ব্যবহৃত হয়।
নাইট ভিশন প্রযুক্তি মূলত দুটি উপায়ে কাজ করে—
- আলো বৃদ্ধি (Image Intensification): বিদ্যমান আলো (যেমন চাঁদের আলো বা তারার আলো) বাড়িয়ে একটি পরিষ্কার চিত্র তৈরি করে।
- তাপীয় ইমেজিং (Thermal Imaging): বস্তুগুলোর দ্বারা নির্গত অবলোহিত রশ্মি শনাক্ত করে এবং সম্পূর্ণ অন্ধকারেও দৃশ্যমান ছবি তৈরি করে।
- এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ অন্ধকারেও বস্তু বা প্রাণীকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
-  এছাড়াও টিভি রিমোটে অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: NASA - Infrared Light & Its Uses.লিংক
৪,৪৪১.
ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হল-
  1. hλ/c
  2. hc/λ
  3. cλ/h
  4. chλ
ব্যাখ্যা
◉ ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হলো- E = hc/λ 
 
ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ, আলো তড়িৎ ক্রিয়া, কম্পটন ক্রিয়াগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিকিরণ শক্তিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেটের গুচ্ছ প্রবাহ আকারে বিবেচনা করা হয়। এই শক্তিকে আলোর কোয়ান্টা (quanta) বা ফোটন (photon) বলে। 

• প্রতিটি ফোটনের শক্তি মান E = hf, যেখানে কম্পাংক, f = c/λ. 
বা, E = hf 
বা, E = h × c/λ 
E = hc/λ 

এখানে, λ হলো বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৪২.
আলোর প্রতিসরণ কী? 
  1. আলো প্রতিফলিত হয়
  2. আলো সবসময় সরলরেখায় চলে
  3. আলো শুধুমাত্র ঘন মাধ্যমের ভেতর দিক পরিবর্তন করে
  4. আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে দিক পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে, আলোক রশ্মির এই দিক পরিবর্তনকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরল রেখায় চলে, কিন্তু অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সাথে সাথেই এটি মাধ্যমের অলোকীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে দিক পরিবর্তন করে। 
উল্লেখ্য যে, 
- লম্বভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় এর গতিপথের কোনো দিক পরিবর্তন হয় না। 

আলোর প্রতিসরণের নিয়ম: 
- আলোক রশ্মি যখন হালকা মাধ্যমে থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্বের দিকে সরে আসে। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ আপেক্ষা বড় হয়। 
- আলোকরশ্মি প্রথমে একটি মাধ্যম থেকে (যেমন বায়ু) অন্য মাধ্যমে (কাঁচ) প্রতিসরিত হওয়ার পর পুনরায় একই মাধ্যমে (বায়ু) নির্গত হলে আপতন কোণ ও নির্গমন কোণ সমান হয়। 
- আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। 
- এছাড়াও আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ অপেক্ষা ছোট হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয় তখন আপতন কোণ, প্রতিসরণ কোণ ও নির্গত কোণের মান শূন্য হয়। এক্ষেত্রে আপতিত রশ্মির দিক পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৪৪৩.
গ্যাসীয় পদার্থ নয় কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অ্যামোনিয়া
  3. অক্সিজেন
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৪৪.
নিচের কোন পরিবেশে লোহার ক্ষয় সবচেয়ে দ্রুত হয়?
  1. শুষ্ক বায়ু
  2. আর্দ্র বায়ু
  3. তেলের আবরণ
  4. নিষ্ক্রিয় গ্যাসে
ব্যাখ্যা
• লোহার মরিচা ধরা একটি ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল করোশন প্রক্রিয়া। 
- লোহা (iron) যখন আর্দ্র বায়ু বা আর্দ্র পরিবেশে থাকে, তখন তার ক্ষয় (corrosion) সবচেয়ে দ্রুত হয়। এই প্রক্রিয়াকে মরিচা বা জং ধরা বলা হয়।
- আর্দ্র বায়ুতে পানি ও অক্সিজেন উপস্থিত থাকে, যা লোহার সাথে প্রতিক্রিয়া করে লোহা অক্সাইড (Fe₂O₃·xH₂O) বা জং তৈরি করে।
- আর্দ্রতা বা পানি উপস্থিত থাকলে, লোহা দ্রুত অক্সিডাইজড হয়, যার ফলে ক্ষয় আরও দ্রুত হয়।


ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি: 
- অ্যানোডিক সুরক্ষা: জিংক প্রলেপ (গ্যালভানাইজিং)।
- ক্যাথোডিক সুরক্ষা: বিদ্যুৎপ্রবাহ প্রয়োগ। 
- অ্যালয় গঠন: স্টেইনলেস স্টিল (Cr + Ni মিশ্রণ)। 

অন্যদিকে, 
শুষ্ক বায়ু: এখানে আর্দ্রতা নেই, তাই ক্ষয় কম হয়।

তেলের আবরণ: তেল লোহার উপর একটি আবরণ সৃষ্টি করে, যা লোহাকে বাতাস এবং আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করে।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসে: এখানে কোনো প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় লোহা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন,  নবম-দশম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
৪,৪৪৫.
শব্দের উৎপত্তির মূল কারণ কী?
  1. বস্তুর প্রসারণ
  2. বস্তুর কম্পন
  3. মাধ্যমের সংকোচন
  4. মাধ্যমের প্রসারণ
ব্যাখ্যা

• শব্দের উৎপত্তির মূল কারণ হলো বস্তুর কম্পন।

• শব্দ (Sound):
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- শব্দ আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দু থেকে অন্য স্থান বা বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

• শব্দের উৎপত্তি:
- কোনো বস্তুকে আঘাত করলে তা কম্পিত হয়।
- এই কম্পনের ফলেই শব্দ উৎপন্ন হয়।
- একটি ধাতব পাত্রে আঘাত করলে “ঝন্-ঝন্” শব্দ শোনা যায়।
- কিছুক্ষণ পরে কম্পন বন্ধ হলে শব্দও থেমে যায়।
- পাতলা কাগজের সামনে জোরে ফুঁ দিলে কাগজ কাঁপে এবং শব্দ হয়।
- ফুঁ দেওয়া বন্ধ করলে কাগজের কম্পন ও শব্দ উভয়ই বন্ধ হয়।
- পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বস্তুর কম্পন থেকেই শব্দের সৃষ্টি হয়।

• শব্দের সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- কোনো মাধ্যমে কোনো বিন্দুতে কম্পন সৃষ্টি হলে মাধ্যমের কণাগুলি আন্দোলিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়।
- তরঙ্গ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়।
- পার্শ্ববর্তী কণাগুলিও পর্যায়ক্রমে আন্দোলিত হয়।
- এভাবে শব্দ তরঙ্গ আমাদের কানে পৌঁছে।
- কানের ভেতরে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
- আমরা তখন শব্দ শুনতে পাই।

• শব্দ সঞ্চালনের শর্ত:
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন।
- মাধ্যম না থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৪৬.
নিচের কোন শক্তি তৈরি করতে বেশি সময় লাগে কিন্তু তার চেয়ে কম সময়ে ব্যয়িত হয়?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. বায়োগ্যাস
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'প্রাকৃতিক গ্যাস' শক্তি তৈরি করতে বেশি সময় লাগে কিন্তু তার চেয়ে কম সময়ে ব্যয়িত হয়। 

শক্তির উৎস: 

- বিভিন্ন শক্তির উৎস থেকে শক্তি পাওয়া যায়। 
- এসব শক্তির উৎস দুই ধরনের। 
যথা- নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য। 

নবায়নযোগ্য শক্তি: 
- নবায়নযোগ্য নাম থেকে বুঝা যাচ্ছে যা কিছু নবায়ন করা যায়। এক্ষেত্রে কোনো জিনিস ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে পুনরায় ঐ জিনিসটি দ্বারা আবার শক্তি উৎপাদন করা যায়। 
অর্থাৎ, যে শক্তির উৎসকে বারবার ব্যবহার করা যায় সেই শক্তিকে বলা হয় নবায়নযোগ্য শক্তি। 
যেমন- সূর্যরশ্মি, বায়োগ্যাস, পানি, বায়ুপ্রবাহ, পানির জোয়ারভাটা ইত্যাদি। 
- বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শক্তির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই শক্তি এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। 
- এই শক্তি দূষণমুক্ত পরিবেশের সহায়ক হয়। 
- মূলত নবায়নযোগ্য শক্তির প্রধান সুবিধা হলো এটি নবায়নযোগ্য, এটি কখনো শেষ হয়ে যাবে না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি সাধারণত পরিবেশবান্ধব, কারণ এরা সাধারনত বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ায় না। 

অনবায়নযোগ্য শক্তি: 
- অনবায়নযোগ্য মানেই হলো যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তার উৎস থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। 
- এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে এদের তৈরি করতে যত সময় লাগে, তার চেয়ে কম সময়ে ব্যয়িত হয়। 
যেমন- কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি। 
- বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বা যানবাহন অনবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চলে, এদের নবায়নযোগ্য শক্তির সাহায্যে চালাতে অনেক বেশি খরচ লাগে। 
যেমন: সাধারণ বা প্রাকৃতিক গ্যাস বা তেলে কম খরচে যানবাহন বা যন্ত্রপাতি চলে। অপরপক্ষে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যেমন- সৌরশক্তি দ্বারা কোনো যানবাহন চালানো কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। 
- অনবায়নযোগ্য জ্বালানি সস্তা, এদের অল্প পরিমাণ থেকে বেশি শক্তি পাওয়া যায় যেমন- পারমানবিক চুল্লিতে অল্প ইউরেনিয়াম থেকে অনেক বিদ্যুৎশক্তি পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,৪৪৭.
ইথার সম্বন্ধে কোনটি মিথ্যা?
  1. এটি একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ
  2. এটি একটি কাল্পনিক মাধ্যম যা মহাবিশ্বে সর্বত্র বিরাজমান ছিল
  3. এ মাধ্যম ছাড়া তাড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়
  4. এ কাল্পনিক মাধ্যমটির স্থিতিস্থাপক ধর্ম ছিলো
ব্যাখ্যা

• অপশন বিশ্লেষণ: 
ক) সত্য: ইথার একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ। (Chemistry).
- ডাই-ইথাইল ইথার (C4H10O) একটি বাস্তব রাসায়নিক যৌগ।
- এটি অতীতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যানেস্থেটিক (চেতনানাশক) হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- এটি একটি উড়নশীল (volatile), দাহ্য (flammable) তরল দ্রাবক।
 
খ) সত্য: ইথার ছিল একটি কাল্পনিক মাধ্যম যা মহাবিশ্বে সর্বত্র বিদ্যমান বলে ধরা হতো। (Physics).
- ১৯ শতকে বিজ্ঞানীরা "লুমিনিফেরাস ইথার" নামক ধারণা দেন।
- তারা বিশ্বাস করতেন এটি সমগ্র মহাবিশ্বে বিরাজমান।
- ধারণা করা হতো আলো ও তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য এটি অপরিহার্য।
 
ঘ) সত্য: কাল্পনিক মাধ্যমে স্থিতিস্থাপক ধর্ম ছিল বলে মনে করা হতো। (Physics).
- বিজ্ঞানীরা তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে ইথারের স্থিতিস্থাপক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- এর ফলে তরঙ্গ সঞ্চালিত হতে পারত।
- যেমন শব্দ তরঙ্গ চলাচলের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যম (বায়ু) প্রয়োজন হয়।
 
গ) মিথ্যা: এ মাধ্যম ছাড়া তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়। (Physics).

• কেন মিথ্যা?

• ঐতিহাসিক প্রমাণ:
- মাইকেলসন–মর্লে পরীক্ষা (১৮৮৭) ইথারের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
- এতে প্রমাণিত হয় যে ইথার বাস্তবে নেই।
- এই পরীক্ষাই পরবর্তীকালে বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পথ তৈরি করে।

• আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণা:
- ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ প্রমাণ করে যে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্যতায়ও চলতে পারে।
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতাবাদ (১৯০৫) ইথারের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করে দেয়।
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ হলো বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের স্ব-প্রসারিত বিচ্যুতি।

• পরীক্ষামূলক প্রমাণ:
- নক্ষত্র থেকে আলো শূন্য মহাশূন্য পেরিয়ে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
- মহাকাশযানের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ শূন্য মহাশূন্যে সম্ভব।
- সব ধরনের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (রেডিও, মাইক্রোওয়েভ, ইনফ্রারেড, দৃশ্যমান, আল্ট্রাভায়োলেট, এক্স-রে, গামা) শূন্যতায় ভ্রমণ করতে সক্ষম।

• বিস্তারিত আলোচনা: 
- তড়িৎচৌম্বক (EM) তরঙ্গ, যেমন দৃশ্যমান আলো, শূন্য মহাশূন্যের মধ্য দিয়েই চলতে পারে এবং এদের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই।

• ইথার ধারণা:
- ১৯শ শতকে পদার্থবিদরা মনে করতেন যে সব তরঙ্গের জন্য একটি মাধ্যম দরকার। যেমন শব্দ তরঙ্গের জন্য বায়ু ও জলতরঙ্গের জন্য পানি লাগে, তেমনি তারা ধারণা করেন যে আলোও শূন্যতায় ছড়াতে হলে কোনো এক বিশেষ মাধ্যম লাগবে। এই কাল্পনিক, অদৃশ্য ও সর্বব্যাপী মাধ্যমকে বলা হয় লুমিনিফেরাস ইথার।

• ইথার তত্ত্বের পতন:
- মাইকেলসন–মর্লে পরীক্ষা (১৮৮৭): তাঁরা পৃথিবীর গতির কারণে "ইথার বায়ু" (aether wind) শনাক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
- ফল: কোনো দিকেই আলোর গতির পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এটি ছিল ইথারের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে প্রথম শক্ত প্রমাণ।
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা (১৯০৫): এ তত্ত্ব প্রমাণ করে যে শূন্যতায় আলোর গতি সব পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং কোনো মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে ইথার ধারণা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়।

সূত্র:
- NASA. [link]
- Britannica. [link]
- European Journal of Applied Physics. [link]

৪,৪৪৮.
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে কত পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে?
  1. ক) ৮০° - ১১০°
  2. খ) ৯০° - ৯৫°
  3. গ) ৬৫° - ৮৫°
  4. ঘ) ৯৫° - ১১০°
ব্যাখ্যা
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫° - ১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৪৪৯.
সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন কে? 
  1. মোসলে 
  2. রাদারফোর্ড 
  3. থমসন
  4. চ্যাডউইক 
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের অবস্থান। 
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। 
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী মোসলে সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। 
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = ৮। 
সুতরাং, অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। 
- পারমাণবিক সংখ্যা প্রোটন সংখ্যার সমান।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৫০.
নিউটনের তৃতীয় সূত্র কোন বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করে? 
  1. শক্তির রূপান্তর 
  2. সময়ের সাথে বেগ পরিবর্তন 
  3. একটি বস্তুর ভর 
  4. দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
ব্যাখ্যা

নিউটনের তৃতীয় সূত্র ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল: 
- নিউটনের প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্র একটি বস্তুর গতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা প্রদান করে। 
- নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে- " প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে"। 
যেমন- 
১। মাটির উপর দাঁড়ানো: 
- মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষটি স্থির থাকে। কারণ, মানুষটির ওজনের সমান একটি বল নীচের দিকে মাটির উপর ক্রিয়া করে। নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, মাটিও নীচ হতে মানুষটির উপর বল প্রয়োগ করে। এখানে, মানুষটির ওজন ও মাটি দ্বারা প্রযুক্ত প্রতিক্রিয়া বল পরস্পর সমান ও বিপরীত হওয়ায় সাম্যের সৃষ্টি করে। মানুষ দ্বারা মাটির উপর প্রযুক্ত বল ক্রিয়া বল এবং মাটি মানুষটির উপর যে বল প্রয়োগ করে তা প্রতিক্রিয়া বল। 

২। আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে যা হয়: 
- আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে, নৌকাটি পেছনে চলে যায়। কারণ আরোহী লাফ দেবার সময় নৌকার উপর বল প্রয়োগ করে ফলে নৌকাটি পিছনে সরে যায়। 
- নৌকাটি নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, আরোহীর উপর একটি সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে যা আরোহীকে সামনের তীরের দিকে লাফিয়ে পড়তে সাহায্য করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৫১.
বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি হলো-
  1. ক) ৫০ হার্জ
  2. খ) ২২০ হার্জ
  3. গ) ২০০ হার্জ
  4. ঘ) ১০০ হার্জ
ব্যাখ্যা
বাসা বাড়ির বিদ্যুৎ ফ্রিকোয়েন্সিঃ ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।
Source: desco.org.bd
৪,৪৫২.
নিচের কোনটি কাপড় কাচার সোডা হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট হলো খাবার সোডা বা বেকিং সোডা।
- সোডিয়াম কার্বনেট হলো কাপড় কাচার সোডা
- সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ হলো বেকিং পাউডার।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,৪৫৩.
আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ-
  1. কমে যায়
  2. বেড়ে যায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- দিনের বেলায় সূর্য থেকে যে আলোকরশ্মি (তাপ ও আলো) বিকিরণ আকারে আসে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় বেশ ছোট, এ কারণে তা খুব সহজেই বর্ষার মেঘ ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসতে পারে।
- এই বিকিরণ ভূপৃষ্ঠে সহজে আসতে পারলেও প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে চলে যেতে পারে না, কারণ প্রতিফলন হবার সময়ে এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশ বড় হয়ে যায় ফলে তখন আর সহজে মেঘ ভেদ করতে পারে না।
- সেগুলি মেঘের গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটির দিকে ফিরে আসে, এ কারণে মেঘলা দিনে/রাতে ভূপৃষ্ট থেকে বির্কীর্ণ তাপের একটা অংশ মেঘ ও মাটির মধ্যেকার বায়ুমন্ডলে আটকে পড়ার ফলে মাটি এবং তার লাগোয়া বাতাসের স্তর ঠান্ডা তো হয়ই না, বরং বেশ গরম হয়েই থাকে। এতে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যায় বলেই গরমটা বেশি লাগে।
- ফলে আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এর অর্থ বাতাসে পানির পরিমাণ বেশি।
- বাতাস আর্দ্র থাকার কারণে আমাদের গরম লাগে যেটাকে সাধারণ ভ্যাপসা গরম বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৫৪.
What is the primary method by which the sun transmits heat to the earth?
  1. Radiation
  2. Conduction
  3. Convection
  4. Absorption
  5. Refraction
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে আমরা তাপ পাই। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ (Radiation) পদ্ধতিতে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। 
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৫৫.
নিউটনের প্রথম সূত্রের প্রচলিত নাম কী?
  1. মহাকর্ষ সূত্র
  2. বলের সূত্র
  3. কর্ম-প্রতিক্রিয়া সূত্র
  4. জড়তার সূত্র
ব্যাখ্যা

• নিউটনের প্রথম সূত্রকে সাধারণভাবে জড়তার সূত্র (Law of Inertia) বলা হয়। এই সূত্র অনুযায়ী, একটি বস্তু যদি বিশ্রামে থাকে, তাহলে তা বিশ্রামে থাকবে এবং যদি কোনো গতিতে চলে, তাহলে তা সমমিত গতিতে চলতে থাকবে যতক্ষণ না বাহ্যিক কোনো বল তার উপর প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ, বাহ্যিক বল ছাড়া কোনো বস্তু তার গতির অবস্থা পরিবর্তন করতে পারে না। এই ধারণা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সহজে দেখা যায়, যেমন গাড়ি হঠাৎ থামালে যাত্রী সামনে ঝোঁকানো। নিউটনের এই প্রথম সূত্র বস্তু এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার জন্য মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে।

• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"

• এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• জড়তা:
- জড়তা হলো বস্তুর একটি ধর্ম, যা দ্বারা বস্তু তার বর্তমান গতি বা স্থির অবস্থা বজায় রাখতে চায়। 

অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বলের সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র। 
• মহাকর্ষ সূত্র হলো মহাবিশ্বের ভর যুক্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল সম্পর্কিত সূত্র। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 

৪,৪৫৬.
রেডিওঅ্যাকটিভ মৌল অনুসন্ধান করার যন্ত্র-
  1. গাইগার মুলার কাউন্টার
  2. ম্যানোমিটার
  3. ক্রনোমিটার
  4. ওডোমিটার
ব্যাখ্যা
- Geiger কাউন্টার, যা  Geiger-Muller কাউন্টার নামেও পরিচিত, একটি  বহনযোগ্য ডিভাইস যা আয়নাইজিং বিকিরণ সনাক্ত এবং পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি বিশ শতকের গোড়ার দিকে হ্যান্স গেইগার এবং ওয়ালথার মুলার দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল।
- গিগার কাউন্টারগুলি পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা, ওষুধ, রেডিওলজি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

Geiger কাউন্টারগুলি বিকিরণ সনাক্তকরণে কার্যকর হলেও, তারা বিকিরণের ধরণ বা এর শক্তি স্তর সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে না। আরো বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য, অন্যান্য যন্ত্র যেমন সিন্টিলেশন ডিটেক্টর বা স্পেকট্রোমিটার ব্যবহার করা যেতে পারে গিগার কাউন্টারের সাথে।

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার।
- মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার।
- ম্যানোমিটার হল গ্যাস বা তরল পদার্থের চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,৪৫৭.
কলের পানিতে সাধারণত কোন রাসায়নিক উপাদান থাকে?
  1. ক) ব্রোমিন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

সাধারণত কলের পানিতে বিভিন্ন ধাতুর লবণ আয়নিত অবস্থায় থাকে।
যেমন- সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, কোবাল্ট, ক্লোরাইড ইত্যাদি।
যেহেতু ক্লোরাইড আয়ন ক্লোরিন থেকে সৃষ্টি, তাই বলা যায় কলের পানিতে ক্লোরিন থাকে।

৪,৪৫৮.
তরল অবস্থায় সোডিয়ামের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কম সক্রিয়
  2. কঠিন অবস্থার তুলনায় বেশি সক্রিয়
  3. সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়
  4. পানি শোষণ করে না
ব্যাখ্যা

তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫°C (২৫৭°F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে।

সোডিয়াম:
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু।
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে।
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে।
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
 - সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়।
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না।
 - তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫° C (২৫৭° F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪,৪৫৯.
কোনটি অদিক রাশির উদাহরণ? 
  1. ওজন
  2. ত্বরণ
  3. সরণ
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
ভেক্টর: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি, 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৬০.
নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে সর্বপ্রথম ধারণা দেন-
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৬১.
"Octet rule" অনুসরণ করে না কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস?
  1. জেনন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og)।
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।
- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে।
- হিলিয়াম "Octet rule" অনুসরণ করে না।

- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ধর্মসমূহ- 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪,৪৬২.
মরিচা প্রতিরোধের উপায় কোনটি?
  1. তৈল বা গ্রীজ ব্যবহার
  2. সাবান ব্যবহার
  3. ভলকানাইজিং
  4. আয়োনাইজিং
ব্যাখ্যা

লোহা ও ইস্পাতের মরিচা: 
- লোহা ও ইস্পাতের জিনিস অনেকদিন খোলা বাতাসে রেখে দিলে এর গায়ে কালচে বাদামী রংয়ের আবরণ পড়ে। একেই মরিচা বলে।
- স্থানীয় ভাষায় এর নাম জং।
- এই মরিচার ফলে লোহা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং পরিশেষে লোহা নষ্ট হয়ে যায়।

মরিচা প্রতিরোধের উপায়: 
বিভিন্ন উপায়ে মরিচা প্রতিরোধ করা যায়-
১. রং-এর প্রলেপ দিয়ে: লোহা বা ইস্পাতের উপরে রং, বার্ণিশ ইত্যাদির প্রলেপ দিয়ে মরিচা রোধ করা যায়।

২. তৈল বা গ্রীজ ব্যবহার করে: মেশিনের ঘূর্ণনশীল অংশে তৈল বা গ্রীজ লাগিয়ে মরিচা রোধ করা যায়।

৩. গ্যালভানাইজিং করে: লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়। ঘরের টিনে সহজে মরিচা পড়তে পারে না। গুড়া দুধের টিন বা টিনজাত খাবারের টিনগুলো মূলত লোহা ও ইস্পাতের তৈরি। এর উপর টিনে ধাতুর পাতলা প্রলেপ দেয়া থাকে ফলে এতে মরিচা ধরে না এবং ভিতরকার খাবার নষ্ট হয় না। এক ধাতুর উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেয়াকেই গ্যালভানাইজিং বলে।

৪. ইলেক্ট্রোপ্লেটিং করা: লোহা বা ইস্পাত সামগ্রীর উপর তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এক ধরনের প্রলেপ দেয়া হয়। একে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং বলে। ইলেক্ট্রোপ্লেটিং পদ্ধতিতে লোহার উপর নিকেল, ক্রোমিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম এমনকি সোনা এবং প্লাটিনামের প্রলেপও দেয়া দেয়া হয়। এতে লোহা বা ইস্পাতের উপর মরিচা পড়ে না।

৫. ইস্পাতের সঙ্গে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মিশিয়ে যে বিশেষ ইস্পাত তৈরি হয় তাকে স্টেইনলেস স্টিল বলে। এতে মরিচা পড়ে না।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৪৬৩.
মানবদেহের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে, সেলসিয়াস স্কেলে কত ডিগ্রী?
  1. ৩৭
  2. ৩৭.৬৭
  3. ৩৬.৬৭
  4. ৩৮.৬৭
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের সম্পর্কঃ
C/5 = (F - 32)/9
বা, C/5 = (98 - 32)/9
বা, C/5= 66/9
বা, C = (66 × 5)/9
বা, C = 330/9
∴ C = 36.67

∴ মানবদেহের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ৩৬.৬৭ ডিগ্রী হবে। 
৪,৪৬৪.
STP-তে গ্যাসের মোলার আয়তন কত লিটার?
  1. 22.414 Lmol- 1
  2. 19.210 Lmol- 1
  3. 27.502 Lmol- 1
  4. 24.112 Lmol- 1
ব্যাখ্যা
• মোলার আয়তন:
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে। যথা:
১. STP পদ্ধতি:
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure.
- এ পদ্ধতিতে আদর্শ তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও আদর্শ চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়।
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol- 1.

২. SATP পদ্ধতি:
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure.
- Ambient শব্দের অর্থ হলো পারিপার্শ্বিক বা আবহমণ্ডল বা কক্ষ।
- এ পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাপি গ্যাসের কক্ষ তাপমাত্রা 25°C বা 298 K (কেলভিন) এবং বায়ুমণ্ডল চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়।
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, Vθm = 24.789 Lmol- 1 ধরা হয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ড. হাজারী ও নাগ।
৪,৪৬৫.
সিরকা হিসেবে বেশ পরিচিত কোনটি?
  1. ক) সাইট্রিক এসিড
  2. খ) অ্যাসিটিক এসিড
  3. গ) ল্যাকটিক এসিড
  4. ঘ) ম্যালিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে।  
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
১. মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
২. যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
৩. ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
৪. পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
৫. দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৪৬৬.
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়।
- এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন, যথা-
• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব।
• সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা - 

• প্রথম স্বীকার্য
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে ।
• দ্বিতীয় স্বীকার্য - শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৬৭.
ভর বর্ণালী বিক্ষেপণ পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায় -
  1. আধান
  2. পরমাণুর ভর
  3. অণুর ভর
  4. তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: 
- পরমাণু ও অণু এত ক্ষুদ্র যে বিজ্ঞানীগণের পক্ষে এদের প্রকৃত ভর সরাসরি পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। 
- তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে (ভর বর্ণালী বিক্ষণ পদ্ধতিতে) পরমাণুর ভর পরিমাপ করে দেখেছেন যে, হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 0.167×10-23 গ্রাম এবং কার্বনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 1.992×10-23 গ্রাম। 
সুতরাং, পরমাণুর প্রকৃত ভরের এ মানগুলো এত ক্ষুদ্র যে রাসায়নিক গণনার ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার করা বেশ অসুবিধাজনক। 
- তাই কোন একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে প্রমাণ (Standard) ধরে তার সাপেক্ষে অন্যান্য মৌলের পরমাণু কতগুণ ভারী তা নির্ণয় করা হয়। একেই সংশ্লিষ্ট মৌলের পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বলা হয়। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরকে প্রমাণ হিসাবে ধরে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর গণনা করা হতো। 
- বর্তমানে একটি কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে প্রমাণ ধরে বিভিন্ন পরমাণুর আপেক্ষিক ভর গণনা করা হয়। 
অর্থাৎ, কোন মৌলের (আপেক্ষিক) পারমাণবিক ভর = {মৌলটির একটি পরমাণুর ভর/একটি কার্বন-১২ পরমাণু ভরের (১/১২) অংশ}। 
- কার্বন-12' আইসোটোপের ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে অ্যাটমিক মাস ইউনিট (atomic mass unit সংক্ষেপে amu) বলা হয়। 
1 amu = 1.66×10-24 গ্রাম। 
- আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয়। 
- পর্যায় সারণিতে পরমাণুসমূহের যে পারমাণবিক ভর দেয়া হয়েছে তা সকলই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। 
- কোনো পরমাণুর আইসোটোপ না থাকলে সেগুলোর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ও ভর সংখ্যা সমান হয়। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের জন্য অ্যামিটার ব্যবহৃত হয়। 
- তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কোনো বস্তুতে উপস্থিত আধানের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয়। 
- অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যা ব্যবহার করে কোনো পদার্থের একটি অণুর ভর নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৬৮.
ক্ষার হতে হলে কোন শর্তগুলি পূরণ করতে হবে?
  1. যৌগে OH⁻ মূলক থাকতে হবে
  2. যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে
  3. ক) ও খ) উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে-
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 

- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক।
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৪৬৯.
বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপের যন্ত্র কোনটি?
  1. গ্যালভানোমিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. ওহমমিটার
  4. অ্যামিটার
ব্যাখ্যা
• অ্যামিটার:
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক: Ampere (A)
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের যন্ত্র: অ্যামিটার

• গ্যালভানোমিটার:

- এটি খুবই সংবেদনশীল যন্ত্র, যা কারেন্টের উপস্থিতি ও দিক দেখায়।
- তবে এটি সরাসরি কারেন্টের পরিমাণ (Ampere) মাপে না।
- এটা সাধারণত ডিটেকশন বা সেন্স করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

• ভোল্টমিটার:
- এটি ভোল্টেজ (Voltage) পরিমাপ করে।
- অর্থাৎ বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য মাপার যন্ত্র।

• ওহমমিটার:
- এটি রোধ (Resistance) পরিমাপ করে।
- একক: ওহম (Ω)

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,৪৭০.
উড়োজাহাজের বডি তৈরিতে কোন সংকর ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইটিনল
  2. খ) ক্রায়োলাইট
  3. গ) ডুরালমিন
  4. ঘ) গান মেটাল
ব্যাখ্যা
উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলে পার্টস ইত্যাদিতে সংকর ধাতু ডুরালমিন ব্যবহৃত হয়৷
ডুরালমিনে আছে ৯৫% এলুমিনিয়াম, ৪% কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা ১%৷

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৪৭১.
মোটরগাড়ির হেডলাইটে কিরূপ দর্পণ ব্যবহার করা হয় ?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) সমতল
  4. ঘ) গোলতল
ব্যাখ্যা

কিছু গাইড বইতে ভুল দেয়া থাকতে পারে।
গাড়ির হেডলাইটে উত্তল লেন্স এবং অবতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, উত্তল লেন্সের ব্যবহার গাড়ির রিয়ার ভিউ মিররেও হয়।

অবতল দর্পণের ফোকাসে একটি বাল্ব রাখা থাকে। বাল্বটি জ্বললে উৎপন্ন অপসারী আলােকরশ্মি অবতল দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে সমান্তরাল আলােকরশ্মি গুচ্ছ পরিণত হয় এবং অনেক দূর পর্যন্ত যায়। এর ফলে চালক রাতের অন্ধকারে অনেক দূরের বস্তু কে দেখতে পায়।

নিচের ডায়াগ্রাম দেখুন -

৪,৪৭২.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ? 
  1. ক্লোরিন 
  2. ব্রোমিন 
  3. হাইড্রোজেন
  4. অক্সিজেন 
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, Br2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

৪,৪৭৩.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. বিস্তার
  4. দশা
ব্যাখ্যা
• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায় কাল বলে।
পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।

• কম্পাঙ্ক: তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
• বিস্তার: তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যেকোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 
• দশা: তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থাকে তার দশা বলে। 

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৭৪.
তরঙ্গের বেগ (v) নির্ণয় করার সূত্র কোনটি? 
  1. v = λ × f × T
  2. v = λ × T 
  3. v = λ / T
  4. v = T / λ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ । 
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল। 
- পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ । 
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T । 

- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ 1 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বেগ, v = λ/T 
বা, v = (1/T) × λ 
∴ v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T] । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৭৫.
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?
  1. ক) পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
  2. খ) দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
  3. গ) সংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
  4. ঘ) সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠন (Sodium Chloride Structure):
- সোডিয়াম ক্লোরাইড কেলাসে Na+ আয়ন ও CI- আয়নসমূহ স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ দ্বারা সুবিন্যস্থ থাকে।
- গোলক আকারের এসব আয়নের ব্যাসার্ধ যথাক্রমে 95 ও 181 pm (পিকোমিটার, 1 x 10-12m)।
- এক্ষেত্রে ক্যাটায়ন (Na+) ও অ্যানায়ন (Cl-) এর ব্যাসার্ধ অনুপাত হল (95 ÷ 181) = 0.525, যা ব্যাসার্ধ-অনুপাত নিয়মে 0.4140.72 এর মধ্যে অবস্থিত।
- সুতরাং ব্যাসার্ধ অনুপাত ও ক্যাটায়নের সন্নিবেশ সংখ্যার সম্পর্ক মতে, Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা হল 6 ও NaCl এর কেলাস গঠন হবে অষ্টতলকীয়।
- বাস্তবে দেখা যায় যে, উভয় আয়নের গোলকের ব্যাসার্ধ অনুসারে একই তলে Na+ আয়নের চারদিকে চারটি CI- আয়ন স্পর্শ করে থাকে, কিন্তু নিজেরা বিকর্ষণের কারণে স্পর্শ করে না।
- একই তলে এ পাঁচটি আয়ন থাকে এবং ঠিক উপরে ও নিচে আরো দুটি Cl- আয়ন অবস্থান নিতে পারে।
- এ ছয়টি CI- আয়ন ও একটি Na+ আয়নের কেন্দ্রের অবস্থানকে দেখানো হয়েছে; এতে Na+ আয়নটি একটি অষ্টতলকের কেন্দ্রে এবং ছয়টি CI- আয়ন ঐ অষ্টতলকের ছয়টি শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত।
- সুতরাং এ গঠনে Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা 6 হয়েছে।
- স্থূল সংকেত NaCl অনুসারে প্রতিটি CI- আয়নের চারদিকে ছয়টি Na+ আয়ন থাকতে হবে, তাই CI- আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যাও 6 হবে। 
- এ ছয়টি Na+ আয়ন ও একটি সুষম অষ্টতলক সৃষ্টি করে, যার কেন্দ্রে CI- আয়নটি অবস্থিত।
- এ প্রকার Na+ আয়ন কেন্দ্রিক ও Cl- আয়ন কেন্দ্রিক অসংখ্য অষ্টতলক কেলাস জালিতে বিন্যস্ত হয়ে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকীয় NaCl এর কেলাস
গঠন করে।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৪,৪৭৬.
প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?
  1. সমান ও বিপরীতমুখী
  2. সমান ও একইমুখী
  3. অসমান ও বিপরীতমুখী
  4. অসমান ও একইমুখী
ব্যাখ্যা

• সমান ও বিপরীতমুখী — নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান মানের ও বিপরীত দিকের প্রতিক্রিয়া থাকে।

• নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া একই সরলরেখায় কিন্তু বিপরীতমুখী।

• সূত্রের বৈশিষ্ট্য:
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মান সমান।
- দিক বিপরীত।
- একই সময়ে ঘটে।
- একই বস্তুর উপর নয়, পৃথক বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৪,৪৭৭.
দুটি আহিত বস্তুকে কোন পদার্থ দ্বারা যুক্ত করলে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয় না?
  1. অপরিবাহী 
  2. সুপরিবাহী 
  3. পরিবাহী
  4. অর্ধপরিবাহী 
ব্যাখ্যা

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী: 
- যে পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- অর্থাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৭৮.
রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত?
  1. 10-10 m থেকে 10-19 m
  2. 10-8 m থেকে 10-13 m
  3. 10-11 m থেকে 10-19 m
  4. 10-4 m থেকে 10-11 m
ব্যাখ্যা
এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি:
- এটি এক ধরনের তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ। সাধারণ আলোর সঙ্গে এক্স-রের পার্থক্য হলো তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে।
- বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- এজন্য তিনি ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম নোবেল পুরস্কার।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

এক্সরের ধর্ম:
• এক্সরে সরল পথে গমন করে।
• এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
• এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
• এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
• এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
• আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
• এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
• এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
• এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই ।
• এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
• এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
• এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
• এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৭৯.
এক্স-রে কোন মাধ্যমকে আয়নিত করে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
এক্স-রে 
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন। 
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- এক্স-রে এক ধরনের চার্জহীন বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

এক্স-রের ব্যবহার :
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়।
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

-  তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়: 
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে।
-  এক্স-রে যন্ত্রে প্রযুক্ত বিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্স-রে উৎপাদিত হয় তাকে কঠিন এক্স-রে বলে। 
- কম বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে যে এক্স-রে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্স-রে বলে। 

তথ্যসূত্র - HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
৪,৪৮০.
প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- 
  1. তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. কঠিন ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে
  3. কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
প্যাসকেলের সূত্র: 
- প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি যা তরলের গতিবিদ্যা (fluid dynamics) এর অন্তর্গত। 
- এই সূত্রটি প্রথম ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেজ প্যাসকেল প্রস্তাব করেছিলেন। 
- প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- বায়বীয় ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে। 

প্যাসকেলের সূত্রটি নিম্নরূপ: 
- "কোনো আবদ্ধ তরলের মধ্যে চাপের পরিবর্তন হলে, সেই পরিবর্তনটি তরলের সব দিকেই সমানভাবে সঞ্চারিত হয়"। 
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়- 
P = F/A 
এখানে, 
- P হলো চাপ (Pressure), 
- F হলো বল (Force), 
- A হলো ক্ষেত্রফল (Area). 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৮১.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস:
১। রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
২। পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।

৪,৪৮২.
ম্যাক্সওয়েল কত সালে আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন?
  1. ১৮৬৪ সালে
  2. ১৮৭৪ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৮৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৮৩.
শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে জামাকাপড় পরিষ্কার করার সময় শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটে? 
  1. আলোক শক্তি → শব্দ শক্তি 
  2. তড়িৎ শক্তি → আলোক শক্তি 
  3. রাসায়নিক শক্তি → তাপ শক্তি 
  4. শব্দ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- এখানে কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হলো- 
১। যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

২। বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৩। তাপ শক্তির রূপান্তর: 
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়। 

৪। আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৫। রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারি কাজ করা যায়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৬। শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

৭। চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৮। নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর: 
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়। 
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৮৪.
Which atom does not contain any neutrons?
  1. Chlorine
  2. Hydrogen
  3. Oxygen
  4. Carbon
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ আইসোটোপ হলো প্রোটিয়াম। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১। আমরা জানি যে - কোনো পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা বের করার সূত্র হলো:
নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা)
- প্রোটিয়ামের ক্ষেত্রে: ১ - ১ = ০। অর্থাৎ, এর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন থাকে না।
অন্যদিকে, 
- ক্লোরিন, অক্সিজেন এবং কার্বন প্রত্যেকটি মৌলের নিউক্লিয়াসকে স্থিতিশীল রাখার জন্য এবং পারমাণবিক ভর গঠনের জন্য অবশ্যই নিউট্রন প্রয়োজন।

• মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে।
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৮৫.
কোনো বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. স্থির থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে যাবে 
  4. আংশিক ভাসবে
ব্যাখ্যা

- যদি কোনো বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হয়, তাহলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে, কারণ বস্তুর ওপর নিচের দিকে ক্রিয়াশীল ওজন (মহাকর্ষ বল) উপরের দিকে ক্রিয়াশীল প্লবতা বল (অপসারিত পানির ওজন) থেকে বেশি হয়, ফলে বস্তুটি ডুবে যায়। 

আর্কিমিডিসের সূত্র: 

- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে- 
• W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
• W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
• W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৮৬.
শুষ্ক কোষে ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) দস্তার চোঙ
  2. খ) কার্বন দণ্ড
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা
টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমােট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলােকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
সাধারণ ড্রাইসেলে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানােড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দণ্ড ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে।

সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি। 
৪,৪৮৭.
কোন তড়িৎদ্বারে জারণ (Oxidation) ক্রিয়া ঘটে? 
  1. ধাতব পাতে 
  2. অ্যানোডে
  3. ক্যাথোডে 
  4. ইলেকট্রোলাইটে 
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৮৮.
পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. বিভব
  2. তাপমাত্রা
  3. রোধ
  4. পরিবাহিতা
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৮৯.
নিচের কোনটি সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে? 
  1. নিউট্রন
  2. অণু
  3. পরমাণু
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা 'পরমাণু' যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের একটি ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন—হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. বিভিন্ন প্রকার পরমাণুর সংখ্যা সীমিত। 
৫. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৯০.
পচা ডিম পানিতে ভাসে কেন?
  1. ক) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব কম
  2. খ) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব বেশি
  3. গ) তুলনামূলক ভাবে ওজন কম
  4. ঘ) তুলনামূলক ভাবে ওজন বেশি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পচা ডিমের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়েও কম তাই এটি পানিতে ভাসে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৯১.
কোন রশ্মির মাধ্যমে সর্বপ্রথম পরমাণুর গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়?
  1. আলফা রশ্মি 
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরমাণুর গঠন  এবং আলফা (α) রশ্মি 
- আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত সৌর মডেল প্রদান করেন।
- আলফা (α) কণা বা রশ্মি বিক্ষেপণ করে তিনি সর্বপ্রথম পরমাণুর গঠন সম্পর্কে ধারণা দেন।

আলফা (α) রশ্মি 
- আলফা কণা হলো তেজস্ক্রিয় বিকিরণে নির্গত ধনাত্বক আধানযুক্ত কণা বা রশ্মি।
- একটি আলফা কণার আধান = + ৩.২×১০-১৯ কুলম্ব।
- একটি আলফা কণা মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস বা দ্বি আয়নিত হিলিয়াম পরমাণু (He2+)।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা বিটা ও গামা কণার তুলনায় যথাক্রমে ১০০ ও ১০০০ গুণ বেশী।

তথ্যসূত্র - HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
৪,৪৯২.
নিচের কোনটিতে প্রধানত ইনফ্রারেড ডিভাইস ব্যবহার করা হয়?
  1. ল্যাপটপে
  2. TV রিমোট কন্ট্রোলে
  3. ম্যানে
  4. মোবাইল ফোনে
ব্যাখ্যা
• TV রিমোট কন্ট্রোলে সাধারণত ইনফ্রারেড ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।

• ইনফ্রারেড:
- ইনফ্রারেড হল এক ধরনের তরঙ্গ যার ফ্রিকুয়েন্সী সীমা 300 GHz থেকে 400 THz পর্যন্ত বিস্তৃত।
- খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুইটি ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্ফ্রারেড ব্যবহার করা হয়।
- এ ধরনের যোগাযোগে দুই প্রান্তে ট্রান্সমিটার ও রিসিভার থাকে।
- টেলিভিশন এবং ভিসিআর এর রিমোট কন্ট্রোলে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, বিভিন্ন ডিভাইসে যেমন কী-বোর্ড, মাউস এবং প্রিন্টার ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৯৩.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. মিউরেট অব পটাশ
  2. জৈব সার
  3. টি, এস, পি
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া:

- নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
- ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন-১ম পত্র, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৯৪.
পূর্ণ স্পন্দনের সময়কালকে কী বলে?
  1. ক) পর্যায়কাল
  2. খ) কম্পাঙ্ক
  3. গ) গতি
  4. ঘ) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

কোন কম্পনশীল বস্তু একটি পূর্ণ দোলন সম্পূর্ণ করতে যে সময় লাগে,তাকে দোলনকাল বলে ।
সরল দোলকের একটি পূর্ণ দোলনের যে সময় লাগে, তাই দোলনকাল অথবা,পর্যায়কাল বলে।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।

৪,৪৯৫.
নিচের কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. নমনীয়তা 
  2. তাপ নিরোধকতা 
  3. ঘাতসহনীয়তা 
  4. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা 
ব্যাখ্যা

- ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়- তাপ নিরোধকতা, কারণ ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহন করতে পারে, তাই তারা তাপ নিরোধক নয়। তাপ নিরোধকতা হলো এমন পদার্থের ধর্ম, যা তাপ প্রবাহে বাধা দেয় যেমন- কাঠ, কাচ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 

ধাতু-অধাতু: 

- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৯৬.
ফটো-ভোল্টেইক সেলের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে কোনটি ঘটে?
  1. ক) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) তাপশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
ফটো-ভোল্টেইক সেলের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৯৭.
ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে আই সি (IC) ব্যবহারের সুবিধা কী?
  1. খুব কম জায়গা দখল করে
  2. সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর তুলনায় খরচ কম
  3. অধিকতর নির্ভরযোগ্যতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমন্বিত বর্তনী ব্যবহারে সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনী অপেক্ষা অনেক বেশী সুবিধা পাওয়া যায়। নীচে সুবিধাগুলো দেয়া হলো-
১। সমন্বিত বর্তনী অতি উচ্চ মাত্রার নির্ভরযোগ্য বর্তনী।
২। সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর তুলনায় অত্যন্ত কম জায়গা দখল করে।
৩। সমন্বিত বর্তনী ব্যবহার করলে সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর চেয়ে অনেক কম খরচ পড়ে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৯৮.
আলোর গতি ও বেতার তরঙ্গের গতি __
  1. সমান নয়
  2. সমান
  3. আলোর গতি বেশি
  4. বেতার তরঙ্গের গতি বেশি
ব্যাখ্যা
• আমরা সূর্য থেকে আলো এবং তাপ পাই। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ।
বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মি, গামারশ্মি, তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ।
আলো একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
- ১৮৬২ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ধ্রুব দ্রুতিতে গমন করতে পারে।       
- ১৮৬৪ সালে তিনি আলোর তাড়িতচৌম্বক তত্ত্বের অবতারণা করেন।

তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের ধর্ম:
যদিও বিভিন্ন তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের উৎস বিভিন্ন এবং তাদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে বিরাট পার্থক্য বর্তমান কিন্তু কিছু কিছু ধৰ্ম বা মৌলিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এদের মধ্যে মিল আছে। এসব বৈশিষ্ট্য হল :
১. তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন জড় মাধ্যমের প্রয়োজন নেই।
২. তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণ মুক্ত স্থানে (free Space) আলোর দ্রুতিতে (3×108 ms- 1) অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার দ্রুতিতে সরল রেখায় গমন করে। মুক্ত স্থান বলতে এখানে ভ্যাকুয়াম বা বায়ু শূন্য স্থান বোঝানো হয়েছে।

• যেহেতু আলো একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ এবং বেতার তরঙ্গও তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ এবং তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণ মুক্ত স্থানে (free Space) আলোর দ্রুতিতে (3×108 ms- 1) গমন করে তাই বলা যায় আলোর গতি ও বেতার তরঙ্গের গতি সমান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান (এসএসসি), পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪,৪৯৯.
অপটিক্যাল ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. গামা রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. অতিবেগুনি রশ্মি
  4. অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। 
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলোতে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫০০.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে -
  1. ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে
  2. ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
  3. একবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
  4. সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান, পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে এবং বেকেরেল আবিষ্কার করেন যে, কিছু কিছু পদার্থ থেকে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে রশ্মি নির্গমনের মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- মেরী কুরী (১৮৬৭-১৯৩৪) এবং পিয়েরে কুরী (১৮৫৯-১৯০৬) এ ঘটনার নাম দেন তেজস্ক্রিয়তা। 
- ১৮৯৭ সালে জে.জে. থমসন ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন যা থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।