বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪৪ / ৬৪ · ৪,৩০১৪,৪০০ / ৬,৪০৯

৪,৩০১.
নিচের কোন পরমাণুতে নিউট্রন অনুপস্থিত? 
  1. হিলিয়াম 
  2. অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন 
  4. নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
- ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের।
যেমন- 
স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩০২.
কোন পদ্ধতিতে কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়?
  1. ঘনত্ব মাপার মাধ্যমে
  2. গলনাঙ্কের মাধ্যমে
  3. স্ফুটনাঙ্কের মাধ্যমে 
  4. আয়ন সংখ্যা নির্ণয়ের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

গলনাঙ্ক: 
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অন্যদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৩০৩.
সেমিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.১ মোল
  2. খ) ০.৫ মোল
  3. গ) ০.০১ মোল
  4. ঘ) ০.০০১ মোল
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩০৪.
পানিতে কোন কোন মৌল থাকে?
  1. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন
  3. সোডিয়াম ও অক্সিজেন
  4. সোডিয়াম ও ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
- পানির অনুর সংকেত H2O
- ভর : ১৮
- হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত: ২ : ১।
- পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমযোজী বন্ধনে গঠিত একটি যৌগ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন বই।
৪,৩০৫.
বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সালফার
  2. রক ফসফেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আমরা নানা কাজে ব্যবহার করি।
- এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউরিয়া সার উৎপাদন।
- শতকরা প্রায় ২১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিদ্যুৎও উৎপন্ন করা হয় প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে।
- শতকরা প্রায় ৫১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাসই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- প্রায় শতকরা ২২ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয় শিল্পকারখানায়, ১১ ভাগ বাসাবাড়িতে এবং ১১ ভাগ জ্বালানি হিসেবে।
- এছাড়া প্রায় শতকরা ১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত হয়।
- বাকি শতকরা ৫ ভাগ অপচয় (System Loss) হয়।
- আমাদের দেশে ২০০৩ সাল থেকে যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা শুরু হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৩০৬.
গাড়ির হেডলাইটে কোন ধরনের দর্পণ ব্যবহার করা?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) উভউত্তল
  4. ঘ) উভঅবতল
ব্যাখ্যা

কিছু গাইড বইতে ভুল দেয়া থাকতে পারে।
গাড়ির হেডলাইটে উত্তর লেন্স এবং অবতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, উত্তল লেন্সের ব্যবহার গাড়ির রিয়ার ভিউ মিররেও হয়।

অবতল দর্পণের ফোকাসে একটি বাল্ব রাখা থাকে। বাল্বটি জ্বললে উৎপন্ন অপসারী আলােকরশ্মি অবতল দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে সমান্তরাল আলােকরশ্মি গুচ্ছ পরিণত হয় এবং অনেক দূর পর্যন্ত যায়। এর ফলে চালক রাতের অন্ধকারে অনেক দূরের বস্তু কে দেখতে পায়।

নিচের ডায়াগ্রাম দেখুন -

৪,৩০৭.
পেট্রোলিয়াম বিশোধন করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) পাতন
  2. খ) আংশিক পাতন
  3. গ) কেলাসন
  4. ঘ) উর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
- দুই বা ততোধিক তরল মিশ্রণ যার উপাদান তরলের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য 40° সে. বা তার বেশি হলে সাধারণ পাতন প্রক্রিয়ায় এদেরকে পৃথক করা যায়। 
- কিন্তু যদি মিশ্রণের উপাদানগুলোর স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুব কম হয় তখন সাধারণ পাতন প্রণালিতে এদের পৃথক করা যায় না। 
- এক্ষেত্রে পাতন ফ্লাস্কের এবং শীতকের মধ্যে ‘অংশ কলাম' ব্যবহার করে পাতন প্রক্রিয়ায় মিশ্রিত তরলের উপাদানগুলো পৃথক করা হয়। 
- ‘অংশ কলাম’ ব্যবহার করে পাতন প্রক্রিয়ায় মিশ্রণের তরল উপাদানসমূহকে পৃথক করার প্রক্রিয়াকে আংশিক পাতন বলে।
 
বর্তমানে আংশিক পাতন প্রক্রিয়ায় পেট্রোলিয়াম বিশোধন, আলকাতরার অংশ পাতন, রেকটিফাইড স্পিরিট উৎপাদনসহ অসংখ্য পৃথকীকরণ করা হয়।
 
উৎস : রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৩০৮.
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে-
  1. অফসেট মুদ্রণ পদ্ধতিতে
  2. পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে
  3. ডিজিট্যাল ইমেজিং পদ্ধতিতে
  4. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
• অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে।

- অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যা স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিসিটি বা স্থির বৈদ্যুতিক চার্জের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এই প্রক্রিয়াটি মূলত জেরোগ্রাফি (Xerography) নামে পরিচিত।
• ফটোকপি মেশিনের কাজের পদ্ধতি সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করে:
- প্রাথমিক চার্জিং (Charging): একটি ড্রাম বা বেলন যন্ত্র একটি উচ্চ ভোল্টেজের দ্বারা সমানভাবে চার্জ করা হয়।
- ইমেজিং (Imaging): মূল ডকুমেন্টের ছবি একটি শক্তিশালী আলোর উৎস দ্বারা ড্রামে প্রক্ষেপিত হয়। যেখানে আলো ড্রামে পড়ে, সেখানে চার্জ মুক্ত হয়ে যায় এবং যেখানে আলো পড়ে না, সেখানে চার্জ থাকে। এভাবে ড্রামে একটি লুকানো বা ল্যাটেন্ট ইমেজ তৈরি হয়।
- ডেভেলপিং (Developing): ড্রামটি টোনার (এক ধরনের কালো পাউডার) দ্বারা আবৃত হয়, যা চার্জ করা অংশে আটকে যায়। এতে ড্রামে একটি দৃশ্যমান ইমেজ তৈরি হয়।
- ট্রান্সফারিং (Transferring): ড্রাম থেকে টোনার কাগজে স্থানান্তরিত করা হয়। কাগজটি একটি উচ্চ চার্জযুক্ত রোলার বা বেলন দ্বারা আকর্ষিত হয়, ফলে টোনার কাগজের উপর স্থানান্তরিত হয়।
- ফিউজিং (Fusing): কাগজটি একটি উত্তপ্ত রোলারের মাধ্যমে পাস হয়, যা টোনারকে গলিয়ে কাগজের সাথে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করে।
- ক্লিনিং (Cleaning): ড্রামের বাকি টোনার অপসারণ করা হয় এবং ড্রামটি পুনরায় চার্জিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. [xerox]
৪,৩০৯.
ধাতুর যে ধর্মের কারণে পিটিয়ে পাত (Sheet) এ পরিণত করা যায় তা হলো
  1. Ductility
  2. Brittleness
  3. Malleability
  4. Toughness
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম:
১. ধাতুসমূহ ঘাতসহনশীল। এদের যে কোন আকার দেওয়া যায়। [ঘাতসহনশীলতাকে Malleability বলে]
২.ধাতু নমনীয়। একে পিটিয়ে সরু তারে পরিণত করা যায়।
৩. ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
৪. আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়।
৫. ধাতুর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক উচ্চ হয়।
৬. ধাতুসমূহের ঘনত্ব অধাতুর তুলনায় অনেক বেশি।
৭. বিশুদ্ধ ধাতুকে ছুরি দিয়ে কাটা যায়।

উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, রসায়ন ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩১০.
পর্যায় সারণির একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে পরমাণুর আকার- 
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায় 
  3. হঠাৎ কমে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ: 
- পরমাণুর আকার তথা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- যেকোনো একটি পর্যায়ের যতই বামদিক থেকে ডান দিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ তত কমতে থাকে এবং যেকোনো একটি গ্রুপের যতই উপর দিক থেকে নিচের দিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ তত বাড়তে থাকে। 
- একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে যত ডান দিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক সংখ্যা তত বাড়তে থাকে কিন্তু প্রধান শক্তিস্তরের সংখ্যা বাড়ে না। 
- পারমাণবিক সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ইলেকট্রন সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। 
- নিউক্লিয়াসের অধিক প্রোটন সংখ্যা এবং নিউক্লিয়াসের বাইরের অধিক ইলেকট্রন সংখ্যার মধ্যে আকর্ষণ বেশি হয় ফলে ইলেকট্রনগুলোর শক্তিস্তর নিউক্লিয়াসের কাছে চলে আসে, ফলে পরমাণুর আকার ছোট হয়ে যায়। 

- আবার, একই গ্রুপে যতই উপর থেকে নিচের দিকে যাওয়া যায় ততই বাইরের দিকে একটি করে নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হয়, একটি করে নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায়। 
- একই গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে গেলে নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা এবং বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আকর্ষণ বৃদ্ধি হয়ে পরমাণুর আকার যতটুকু হ্রাস পায়, নতুন একটি শক্তিস্তর যোগ হওয়ার কারণে পরমাণুর আকার তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। যে কারণে উপরের মৌলের চেয়ে নিচের মৌলের আকার বড় হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩১১.
নিচের কোনটিতে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি হবে?
  1. ক) বাতাসে
  2. খ) পানিতে
  3. গ) পারদে
  4. ঘ) কাঠে
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি।

কঠিন পদার্থের ঘনত্ব তরল ও বায়বীয় পদার্থের থেকে বেশি হয়ে থাকে। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে কাঠে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি হবে।

পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

সুত্রঃ বিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩১২.
কোনটি আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব এসেছে? 
  1. অসিলেটর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেজিস্টর
  4. টেলিভিশন
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন।
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর।
- এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে।
- আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩১৩.
আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় কেন?
  1. ক) মেঘের অসংখ্য জলকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
  2. খ) দুইখণ্ড মেঘের ঘর্ষণের ফলে
  3. গ) মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষের সৃষ্টি হলে
  4. ঘ) মেঘের মধ্যদিয়ে বাতাস প্রবাহিত হলে
ব্যাখ্যা

মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য মেঘের ভেতর বড় স্পার্ক হয় যেটাকে আমরা বিদ্যুৎ চমকানাে বলি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বাের্ড বই

৪,৩১৪.
নিচের কোনটির প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন? 
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৩১৫.
বিষধর সাপে কামড়ালে ক্ষতস্থানে থাকে -
  1. ক) পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ
  2. খ) অনেকগুলো ছোট দাঁতের দাগ
  3. গ) ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্ষপাত হতে থাকে
  4. ঘ) ক্ষতস্থানে প্রচুর বিষ লেগে থাকে
ব্যাখ্যা
বিষধর সাপে কাটলে শরীরে বিষক্রিয়ার কিছু লক্ষণ দেখা যায়:
- ক্ষতস্থানে বিষদাঁতের দুটি দংশনের চিহ্নের উপস্থিতি,
- ক্ষতস্থান থেকে অনবরত রক্তপাত ও ক্ষতস্থান অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা এবং প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা,
- কখনো কখনো সারা শরীর ফুলে যাওয়া, খাবার ও ঢোক গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট, চোখে ঝাপসা দেখা ও চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসা
উৎস: প্রথম আলো
৪,৩১৬.
ক্ষমতার এস. আই একক কোনটি?
  1. জুল
  2. নিউটন
  3. ওয়াট
  4. ক্যালরি
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

অন্যদিকে, 
- শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩১৭.
পরমাণুর M কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ৩২টি
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ কক্ষপথ গুলোকে যথাক্রমে K, L, M, N কক্ষপথ বলে।
পরমাণুর যে কোন কক্ষপথে 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে।
এখানে, n = কক্ষপথের সংখ্যা।

তাহলে, M তথা ৩য় কক্ষপথে থাকবে = ২ × ৩ = ২ × ৯ = ১৮টি ইলেকট্রন।

উৎস:  অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
৪,৩১৮.
মহাবিশ্বের সকল পদার্থ কোন কণিকা দ্বারা গঠিত?
  1. ক) ফার্মিওন
  2. খ) বোসন
  3. গ) গ্রাভিটন
  4. ঘ) সাবিট্রন
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সকল পদার্থ ফার্মিওন কণিকা দ্বারা গঠিত। 

- এ ধরণের কণা কখনোই একটি পরমাণুতে দুইটি ভিন্ন কণার সকল বৈশিষ্ট্য এক হতে পারে না। 
- এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন কণা আছে। 
- ফার্মিওন  কণা আবার দুই ধরণের হয়ে থাকে। যথা- Quark, Lepton. 

সূত্র- ৪২২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩১৯.
p-n জাংশনের যে অঞ্চলটিতে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, তাকে কী বলে? 
  1. প্যাসিভ স্তর
  2. পরিবাহী স্তর
  3. ডিপ্লেশন স্তর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে। 
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। 
- বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
- একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩২০.
পানির ঘনত্ব সর্বাধিক কোন তাপমাত্রায়?
  1. 0°C
  2. 4°C
  3. 25°C
  4. 100°C
ব্যাখ্যা

• পানির ঘনত্ব: সাধারণভাবে, পদার্থের ঘনত্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে কমে যায়, কারণ তাপের প্রভাবে পদার্থ প্রসারিত হয়।

পানির ব্যতিক্রম:
- 0°C এ পানি বরফে রূপান্তরিত হয় এবং বরফের ঘনত্ব পানি থেকে কম।
- পানি 4°C এ সর্বাধিক ঘন হয়।
- 4°C এর উপরে তাপমাত্রা বাড়লে পানি প্রসারিত হয় এবং ঘনত্ব কমতে থাকে।
- এটি পানির অস্বাভাবিক সম্প্রসারণ নামে পরিচিত।
- তাই পানির ঘনত্ব সর্বাধিক হয় 4°C তাপমাত্রায়, যা জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেমন হ্রদ বা নদীর জল বরফের তলায় তরল থাকে।

সুতরাং, পানির ঘনত্ব সর্বাধিক 4°C তাপমাত্রায়।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।   

৪,৩২১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) কালি ব্যবহার করা হয়? 
  1. পাসপোর্টে
  2. ট্রাভেলারস চেকে
  3. ক্রেডিট কার্ডে
  4. উপরোক্ত সবকটিতে
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
উল্লেখ্য যে,
- কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩২২.
মহাকর্ষ বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. গ্লুয়ন
  4. হিগস বোসন
ব্যাখ্যা

• মৌলিক বল:
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
- এই মৌলিক বলগুলো হলো-
১। মহাকর্ষ বল,
২। তাড়িতচৌম্বক বল,
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল।

- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন (Graviton)।
অন্যদিকে,
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুয়ন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

৪,৩২৩.
একটি Alternator -এ 0.6 Pf (lagging) -এ 300KW লোড সরবরাহ করছে। যদি Power factor উন্নীত হয়ে Unity হয়, তাহলে একই KVA loading-এ Alternator টি অতিরিক্ত কত KW সরবরাহ করতে পারবে?
  1. 50 KW
  2. 100 KW
  3. 200 KW
  4. 250 KW
ব্যাখ্যা
Apparent power = 300/0.6
= 500 KVA

যদি Power factor উন্নীত হয়ে Unity হয়,
Real power = 500 × 1
= 500 KW
 
অতিরিক্ত সরবরাহ করতে পারবে = 500 - 300
= 200 KW
৪,৩২৪.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত-
  1. 1 : 2
  2. 2 : 1
  3. 1 : 1
  4. 2 : 3
ব্যাখ্যা
• পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2 : 1। 

যৌগিক পদার্থ:

- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে।
যেমন - যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হোক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2 : 1 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩২৫.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সে.মি. এ-
  1. ৫ কি.মি.
  2. ১০ কি.মি.
  3. ২৭ কি.গ্রাম
  4. ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ১০ নিউটন। 
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত গড়ে ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থচ্ছেদের বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম এবং এটি ১০.১ নিউটন ওজন প্রয়োগ করে। যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে ১০.১নিউটন চাপের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট।
৪,৩২৬.
ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান কোনটি?
  1. ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট
  2. আইসোপ্রোপানল
  3. ক্লোরোজাইলিনল
  4. পাইন অয়েল
ব্যাখ্যা

- ডেটলের প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো ক্লোরোজাইলিনল (Chloroxylenol)। এই রাসায়নিক যৌগটির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা জীবাণু মেরে ফেলতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

ডেটল (Dettol): 
- ডেটল একটি জনপ্রিয় এন্টিসেপটিক এবং জীবাণুনাশক হলুদ বর্ণের তরল মিশ্রণ। 
- ডেটল কতগুলো রাসায়নিক পদার্থে তৈরি একটি প্রতিরোধক যা সজীব কোষ-কলার উপর জীবাণুর জন্ম ও বৃদ্ধি রোধ করে। 
- ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) যা ডেটলে সর্বোচ্চ ৪.৮% থাকে। 
- ডেটলের অন্যান্য উপাদানগুলো হলো- আইসো প্রোপানল, পাইন অয়েল, ক্যাস্টার অয়েল, সাবান এবং পানি। 

ডেটলের ব্যবহার: 
- স্যাভলনের ন্যায় ডেটল পানির সাথে মিশিয়ে কাটা, ছেঁড়া, পোকায় আক্রান্ত স্থানে তুলার সাহায্যে লাগালে জীবাণু সংক্রমণ রোধ হয়। 
- ডেটল এবং স্যাভলন উভয়কেই অ্যান্টিসেপটিক রূপে ব্যবহার করা হলেও এদেরগঠন উপাদান ভিন্ন। 
- স্যাভলন হলো ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড দ্রবণের মিশ্রণ। 
- এছাড়া পরিচ্ছন্নতার কাজে যেমন- গোসলের সময়, ধোয়া-মোছার কাজে, প্রসূতি, শিশু ও রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য কাপড়, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে, বাথরুম ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ডেটল ব্যবহার করা হয়।
- ডেটল পানির সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩২৭.
অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে কী বলে?
  1. ক) গলন
  2. খ) নিঃসরণ
  3. গ) ঊর্ধ্বপাতন
  4. ঘ) ব্যাপন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 

নিঃসরণ: 

- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নি:সরণ বলা হয়। 

গলন

- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়। 

ঊর্ধ্বপাতন
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩২৮.
পানিবিদ্যুৎ শক্তির মূল উৎস কী?
  1. রাসায়নিক শক্তি
  2. সৌর শক্তি
  3. পানির বিভব শক্তি
  4. পানির গতিশক্তি
ব্যাখ্যা

• পানিবিদ্যুৎ:
- পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণত বাঁধের মাধ্যমে পানি উঁচু স্থানে সঞ্চিত রাখা হয়।
- এই উঁচু স্থানে থাকা পানির মধ্যে বিভব শক্তি থাকে।
- যখন পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হয়, তখন এই বিভব শক্তি প্রথমে গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- সেই গতিশক্তি টারবাইন ঘোরায় এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

• তাই পানিবিদ্যুৎ শক্তির মূল উৎস হলো পানির বিভব শক্তি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪,৩২৯.
এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তুলনায়- 
  1. সমান 
  2. অনেক ছোট 
  3. অনেক বড় 
  4. আলোর চেয়ে দ্বিগুণ 
ব্যাখ্যা

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরের ধর্মগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এক্সরে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 m/s বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৩৩০.
বিটা কণিকার ভর নিচের কোনটি?
  1. 9.1×10-19 kg
  2. 9.1×10-31 kg
  3. 9.8×11-28 kg
  4. 9.8×10-19 kg
ব্যাখ্যা
বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:

- বিটা কণিকা খুব হালকা।
- এর ভর 9.1×10-31 kg।
- এরা ঋণাত্নক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6×10-19 কুলম্ব ।
- তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়।
- এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম ।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী ।
- জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩১.
স্বল্পমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. NaCl
  2. KCI
  3. NaNO3
  4. AgBr
ব্যাখ্যা
• স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 0-01 molL-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
- যেমন- সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (Agl), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম অক্সালেট (CaCO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2 ) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব।

• অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
- যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বায়ু বলতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনকে বুঝায়
  2. বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
  3. বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
  4. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
ব্যাখ্যা
মিশ্র পদার্থ: 
- যে মিশ্রণে একের অধিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে তাকে বলা হয় মিশ্র পদার্থ। 
- বায়ু এক ধরনের মিশ্র পদার্থ যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, জলীয়বাষ্পসহ অন্যান্য পদার্থ থাকে। 
- বায়ু এমন একটি মিশ্র পদার্থ যেখানে মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরনের পদার্থ রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,৩৩৩.
সময় নির্ণায়ক যন্ত্র -
  1. ক্রনোমিটার
  2. অ্যাটমোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. পাইরোমিটার
ব্যাখ্যা
নির্ণায়ক যন্ত্র:
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্র ক্রনোমিটার। বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।
- বাষ্পীভবনের হার মাপার যন্ত্র অ্যাটমোমিটার।
- শ্রাব্যতা মাপার যন্ত্র মাপার যন্ত্র অডিওমিটার।
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ মাপার যন্ত্র ক্যালোরিমিটার।
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব মাপার যন্ত্র ল্যাক্টোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- রক্ত চাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগমোম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
৪,৩৩৪.
বাতাসে শব্দের গতি ঘন্টায় কত মাইল?
  1. ক) ৭৫৭ মাইল
  2. খ) ১১৫৭মাইল
  3. গ) ৩৮৫৭মাইল
  4. ঘ) ২০৫৭মাইল
ব্যাখ্যা
বাতাসে শব্দের বেগ ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড। বাতাসে শব্দের গতি ঘণ্টায় ৭৫৭ মাইল।
উৎসঃ বিজ্ঞান ৭ম শ্রেণী।
৪,৩৩৫.
কিউরিং করে খাদ্য সংরক্ষন পদ্ধতিতে কী ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) তেল 
  2. খ) চিনি 
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
- কিউরিং করে খাদ্য সংরক্ষন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় লবণ।

প্রিজারভেটিভস:
- প্রিজারভেটিভসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
- প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল ফুড প্রিজারভেটিভস এবং কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস ।
- প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল ফুড প্রিজারভেটিভস - খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত যেসব পদার্থ ব্যবহৃত হয় তাদেরকে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল ফুড প্রিজারভেটিভস বলে। যেমন - অ্যালকোহল, ভিনেগার, লবণ, চিনি প্রভৃতি। এগুলোকে বাসাবাড়িতে জ্যাম, জেলি, আচার, সস, জুস ইত্যাদির সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও হিমায়ন, তাপ প্রয়োগ, ধোঁয়া প্রদান এবং সল্টিংকে প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস - খাদ্য সংরক্ষণে যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় তাদেরকে কৃত্রিম বা রাসায়নিক ফুড প্রিজারভেটিভস বলে। খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে এদের চাহিদা ও ব্যাপকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারণ এরা খাদ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে খাদ্য সংরক্ষণের আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেয় এবং খাদ্যের অণুজীব কার্যকরীভাবে ধ্বংস করে ফেলে। কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে সোডিয়াম বেনজোয়েট ও বেনজোয়িক এসিড, সোডিয়াম নাইট্রাইট, সরবেট প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষক তিন ধরনের রয়েছে। যথা - এন্টিঅক্সিডেন্ট এজেন্ট,এন্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট এবং কিলেটিং এজেন্ট।

তথ্যসূত্র - রসায়ন,প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩৬.
p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ কোন দিকে চলে? 
  1. সম্মুখী ঝোঁকে 
  2. বিপরীত ঝোঁকে 
  3. উভয় ঝোঁকে সমানভাবে 
  4. কোনো ঝোঁকেই নয় 
ব্যাখ্যা

p-n জাংশন বা ডায়োড: 
- p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে সম্মুখী ঝোঁকে। 
- একটি p- টাইপ এবং একটি n- টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করলে সংযোগ পৃষ্ঠকে p-n জাংশন বলে। 
- একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অংশ p- বা n- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য এবং অপর অংশে যথাক্রমে n- বা p- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- p-n জাংশন মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একধরনের আধান বাহক অনায়েসে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু বিপরীতধর্মী বাহক প্রবাহিত হতে পারেনা। 
- p-n জাংশনকে জাংশন ডায়োড বলে। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ একমুখীকরণে এবং অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৩৭.
What is the value of absolute zero temperature on the Celsius scale?
  1. 0°C
  2. - 100°C
  3. - 273.15°C
  4. - 459.67°C
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তি সর্বনিম্ন বা শূন্য হয়ে যায়। এটি মহাবিশ্বের সর্বনিম্ন সম্ভব তাপমাত্রা। সেলসিয়াস স্কেলে এর মান - 273.15°C এবং কেলভিন স্কেলে এটি 0 K।
- যদি ফারেনহাইট স্কেলে জানতে চাওয়া হতো, তবে এর মান হতো - 459.67°F।

• পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- চার্লসের সূত্রানুসারে, স্থির চাপে গাণিতিকভাবে যে তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়, সেই তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলা হয়।

• পরমশূন্য তাপমাত্রার মান হলো -273.15° সেলসিয়াস বা 0 কেলভিন (K)। 
- এই তাপমাত্রায় যে কোন গ্যাসের আয়তন তত্ত্বীয়ভাবে শূন্য হয়। 

• এই তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রার স্কেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তাকে তাপমাত্রার পরম স্কেল বলে।
- লর্ড কেলভিন এই স্কেলের ধারণা দেন বলে একে কেলভিন স্কেলও বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৩৮.
লবণ কোন ধরনের পদার্থ?
  1. ক) বেসিক
  2. খ) নিরপেক্ষ
  3. গ) ক্ষারীয়
  4. ঘ) অম্লীয়
ব্যাখ্যা
লবণ নিরপেক্ষ পদার্থ। তবে কিছু কিছু লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হতে পারে। বেকিং সোডার জলীয় দ্রবণ এসিডিক, সোডিয়াম কার্বনেটের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৩৩৯.
রেডিও টেলিস্কোপ যে তরঙ্গ সনাক্ত ও পরিমাপ করে -
  1. এক্স রশ্মি
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
রেডিও টেলিস্কোপ : 
যে যন্ত্রের সাহায্যে তারকা, গ্যালাক্সি, কোয়াসার এবং অন্যান্য নভোমন্ডলীয় বস্তু থেকে
প্রাকৃতিকভাবে নির্গত তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ (রেডিও তরঙ্গ) সনাক্ত ও পরিমাপ করে ঐ সব বস্তু সম্পর্কে অনুসন্ধান
চালানো হয় তাকে রেডিও টেলিস্কোপ বলে।
 
উৎস:  পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৩৪০.
নবায়নযোগ্য শক্তি কোনটি?
  1. ক) পারমাণবিক শক্তি
  2. খ) জিওথার্মাল
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
অনবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy): যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় অর্থাৎ যা ফুরিয়ে যাবার কোনো আশঙ্কা নেই। তাকে নবায়নযোগ্য (Renewable Energy) শক্তি বলা হয়।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- সৌরশক্তি (Solar Energy)
- জলবিদ্যুৎ (Hydropower)
- বায়ু শক্তি (Wind Energy)
- ভূতাপীয় শক্তি (Geothermal)
- জৈবিকভর (Biomass)
- জিওথার্মাল

অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non Renewable Energy): অনবায়নযোগ্য মানে হলো, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না।

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- পেট্রোলিয়াম (Petroleum)
- প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural gas)
- কয়লা (Coal)
- পারমাণবিক শক্তি (Nuclear energy)

 
পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভর করে। ইউরেনিয়ামের পরিমাণ সীমিত। তাই এই শক্তি নবায়নযোগ্য নয়।

সূত্র- www.eia.gov ও পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
৪,৩৪১.
বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী? 
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্ট মিটার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপক যন্ত্র হলো অ্যামিটার। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য নির্ণয়ের যন্ত্র হলো ভোল্টমিটার। 
- ট্রান্সফরমার একটি গতিহীন নিশ্চল বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৩৪২.
ডায়োড তৈরিতে কোন দুটি অর্ধপরিবাহী যুক্ত করা হয়? 
  1. দুইটি n টাইপ
  2. দুইটি p টাইপ
  3. একটি p টাইপ ও একটি n টাইপ
  4. একটি n টাইপ ও একটি পরিবাহী
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৪৩.
খনিজ পদার্থ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাচঁ
ব্যাখ্যা
মৌল ও যৌগ বিবেচনায় খনিন পদার্থ দুই প্রকার। মৌলিক ও যৌগিক খনিজ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪,৩৪৪.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি ধ্রুব?
  1. স্থান
  2. আলোর দ্রুতি
  3. ভর
  4. সময়
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে, আলোর দ্রুতি আপেক্ষিক নয় অর্থাৎ এটি ধ্রুব।

• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব।
- এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।
- এটি কোনো পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভর করে না।

• আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৩৪৫.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
  4. অর্ধেক ভেসে থাকবে
ব্যাখ্যা

আর্কিমিডিসের সূত্র (Archimedes' Law): 
- সিসিলির বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস আবিষ্কার করেন পানিতে নিমজ্জিত বস্তু তার আয়তনের সমান পরিমাণ পানি অপসারণ করে এবং কিছু ওজন হারায়। তার এই আবিষ্কার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি সূত্রের আকারে প্রকাশ করা হয় যা আর্কিমিডিসের সূত্র নামে পরিচিত। 
- সূত্রটি হল "কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান"। 
ব্যাখ্যা: 
- কোনো বস্তুকে যখন তরলে ডুবানো হয় তখন একই সাথে ঐ বস্তুর উপর দুটি বল কাজ করে। 
- একটি বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল, যা বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টানে। একে বলে বস্তুর ওজন। দ্বিতীয়টি বস্তুর উপর তরল পদার্থের ঊর্ধ্বমুখী চাপ বা বল, একে বলা হয় প্লবতা। 
- দুটি বিপরীতমুখী বলের লব্ধি বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল হয়। ফলে বস্তুটির ওজন কমে যায়। 
- বস্তুটি তরলে নিমজ্জিত হলে কিছু জায়গা দখল করে। তখন এই জায়গার তরল সরে যায় বা অপসারিত হয়। তরলের ঊর্ধ্বমুখী বল এই অপসারিত তরলের ওজনের সমান হয়। 
- বস্তু যত বেশি জায়গা দখল করবে অপসারিত তরলের আয়তনও তত বেশি হবে। আবার বস্তুটি যত বেশি তরল অপসারণ করবে তার ওজন তত বেশি কমবে যা আর্কিমিডিসের সূত্রের মূল কথা। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
- ধরা যাক, একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন। ঐ বস্তুটিকে পানিতে ডোবানো হলে বস্তুটির উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।
এখন- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ডুববে না, ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৪৬.
কুলম্বের সূত্র অনুসারে, দুটি আধানের আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল নির্ভর করে-
  1. আধান দুটির পরিমাণের উপর
  2. আধান দুটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর
  3. আধান দুটি যে মাধ্যমে উপস্থিত তার উপর
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• কুলম্বের সূত্র:
- কুলম্বের সূত্র (Coulomb’s Law) হলো একটি মৌলিক সূত্র যা দুইটি স্থির তড়িৎ চার্জের মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

• দুটি আধানের আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল নির্ভর করে-
- আধান দুটির পরিমাণের উপর। 
- আধান দুটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর। 
- আধান দুটি যে মাধ্যমে উপস্থিত তার উপর। 

সূত্রটি:
• F = k⋅q1⋅q2/r2

• F = বল (Newton-এ)
• q₁, q₂ = দুইটি চার্জ (Coulomb)
• r = দুই চার্জের মধ্যকার দূরত্ব (meter)
• k = ধ্রুবক

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৩৪৭.
পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. আয়োডিন-১৩১
  2. কার্বন-১৪
  3. ফসফরাস-৩২
  4. কোবাল্ট-৬০
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- পর্যায় সারণিতে 82Pb এর পরবর্তী মৌলসমূহ বিশেষ করে 86Rn থেকে শুরু করে সারণির শেষের দিকের সব মৌল এবং তাদের যৌগসমূহ তেজস্ক্রিয়।
- এই আইসোটোপগুলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয় বলে এ ধরনের আইসোটোপগুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিভাজন ঘটে এবং মৌলটি অন্য মৌলে পরিবর্তিত হয়।
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ এরও অধিক।
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার:
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে।
যেমন-
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।

• এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৪৮.
আপেক্ষিকতা অনুসারে গতিশীল অবস্থায় সময়-
  1. ক) কমে যায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) সমান থাকে
  4. ঘ) অসীম হয়ে যায়
ব্যাখ্যা

কোন একটি স্থানে একটি বল নিচে পড়ছে।
দুটি ক্ষেত্র চিন্তা করা যাক,
প্রথম ক্ষেত্রঃ
আপনি (পর্যবেক্ষক) এক জায়গায় দাড়িয়ে বলটি নিচে পড়তে দেখছেন এবং বলটি নিচে পড়তে কত সময় লাগল সেটি পরিমাপ করে S পরিমাণ সময় পেয়েছেন।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রঃ
ধরা যাক, একই ঘটনা আপনি ঐ স্থানের সাপেক্ষে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলা ট্রেন থেকে দেখেছেন এবং সময় পরিমাপ করে D পরিমাণ সময় পেয়েছেন।
দুইটা পরিমাপ মেলালে, D > S হবে।
সহজভাবে বললে, একই পর্যবেক্ষক একই ঘটনার সময়কাল যদি আপেক্ষিকভাবে স্থির এবং গতিশীল এই দুইভাবে পরিমাপ করেন, তাহলে, ঐ একই ঘটনার সময়ের পরিমাপ দুইবার দুইরকম আসবে।
এবং, আপেক্ষিক গতিশীল অবস্থায় পরিমাপকৃত সময় স্থির অবস্থায় মাপা সময়ের চেয়ে বেশি হবে।

গতিশীল কাঠামোতে অবস্থিত কোনা ঘড়িতে পরিমাপকৃত কোনো ঘটনার সময়কাল, স্থির কাঠামোতে অবস্থিত পর্যবেক্ষকের নিকট দীর্ঘ হয়। একে কাল দীর্ঘায়ণ বা সময় প্রসারণ বলে।

আবার অন্যভাবে দেখুন,
ট্রেনে বসে আপনার বন্ধু যদি নিচে একটি পাথর ফেলেন এবং পড়ার সময়কাল মাপেন;
আপনিও স্টেশনে বসে ঐ একই পাথর পড়ার সময় মাপেন তাহলে আপনার মাপা সময় বেশি হবে।
মনে হতে পারে যে, গতিশীল অবস্থায়তো তাহলে সময় কমে গেল। আসলে কমেনি। আপনার বন্ধু যখন সময়টা পরিমাপ করেছেন তখন উনি আসলে স্থির পর্যবেক্ষক, গতিশীল নন; যেহেতু, ট্রেনের সঙ্গে উনি নিজেও যাচ্ছেন। অর্থাৎ, আপেক্ষিক গতি নেই। প্রশ্নে গতিশীল অবস্থায় সময়ের পরিমাপ চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ঘটনা ও পর্যবেক্ষকের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকতে হবে।

৪,৩৪৯.
ঘর্ষণ বল কোন ধরনের বল?
  1. চৌম্বক বল
  2. অভিকর্ষজ বল
  3. সংরক্ষণশীল বল
  4. অসংরক্ষণশীল বল
ব্যাখ্যা
সংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় তাকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর সংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে। 
উদাহরণ- অভিকর্ষজ বল, বৈদ্যুতিক বল, চৌম্বক বল, আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল ইত্যাদি। 

অসংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় না তাকে অসংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর অসংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনলেও মোট কাজ শূন্য হয় না। 
উদাহরণ- ঘর্ষণ বল, সান্দ্র বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫০.
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এটি সরল রৈখিক গতি
  2. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
  3. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  4. এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচের গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক, 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫১.
'হেমাটাইট' কোন খনিজ পদার্থের একটি আকরিক?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. আয়রন
  3. সোডিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
হেমাটাইট
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৫২.
নিচের কোনটি পদার্থের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) পদার্থের ওজন আছে।
  2. খ) বল প্রয়োগে বাঁধা দেয় না।
  3. গ) পদার্থ জায়গা দখল করে।
  4. ঘ) আয়তন থাকে।
ব্যাখ্যা
প্রতিটি পদার্থেরই কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকে যার সাহায্যে পদার্থের ভিন্নতা বোঝা যায়। 

ভর: কোন বস্তুর মধ্যকার মোট পদার্থের পরিমাণই হচ্ছে তার ভর। নির্দিষ্ট কোন বস্তুর ভর সর্বত্র সমান ।
ওজন: কোন বস্তুকে পৃথিবী আকর্ষণ বল দ্বারা নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। তাই কোন বস্তুর ওজন স্থান ভেদে বিভিন্ন হতে পারে ।
আয়তন: সব পদার্থই কিছুটা জায়গা দখল করে। একে তার বিস্তৃতি বা আয়তন বলে ।
ঘনত্ব: একক আয়তনের কোন বস্তুর ভরই হচ্ছে তার ঘণত্ব ।
সচ্ছিদ্রতা: প্রতিটি পদার্থের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। একে পদার্থের সচ্ছিদ্রতা ধর্ম বলে। 
সংসক্তি: প্রত্যেকটি বস্তুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনার মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ আকর্ষণ বল। এটাই - তার সংসক্তি।

তাছাড়া পদার্থের রয়েছে স্থিতিস্থাপকতা ধর্ম; আর এজন্যই বাইরে থেকে কোন বল প্রয়োগ করে | তার দৈর্ঘ্য, আকার বা আয়তন পরিবর্তিত করতে চাইলে বাধা দেয়
এছাড়াও পদার্থের আরও কিছু সাধারণ ধর্ম থাকে। যথা— ঘর্ষণ, সংনম্যতা, আসঞ্জন, অভেদ্যতা, জড়তা ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫৩.
এ বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল দেয়া হয় যে বিষয়ে-
  1. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. আপেক্ষিক তত্ত্ব
  3. মহাকাশ বিজ্ঞান
  4. চৌম্বক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

২০২৫ সালের নোবেল বিজয়ী:
⇒ পদার্থবিজ্ঞান:
- ২০২৫ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন-জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ. ডেভোরেট এবং জন এম. মার্টিনিস।
- অবদান: বৈদ্যুতিক বর্তনীর মধ্যে‌ ‌‌‌স্থূল কোয়ান্টাম যান্ত্রিক টানেলিং এবং ‌শক্তির কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কারের জন্য তাদেরকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অদ্ভুত এবং সাধারণত ক্ষুদ্রাতীত কণার আচরণগুলো কীভাবে আমাদের পরিচিত বড় আকারের মানব-সৃষ্ট বস্তু বা অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে সেটি এ বছরের পদার্থে নোবেল পুরস্কারের বিষয় ছিল।

উল্লেখ্য, উক্ত প্রশ্নটি জব সল্যুশনের পূর্বের প্রশ্ন, তবে ২০২৫ সালে কোয়ান্টাম মেকানিক্স সম্পর্কিত বিষয়ের উপর নোবেল পুরস্কার জেতায় সর্বোত্তম উত্তর হিসেবে - কোয়ান্টাম তত্ত্ব - নেয়া হয়েছে। 

• নোবেল পুরস্কার:
- নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেল।
- ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
- অর্থনীতিতে নোবেল প্রবর্তন করা হয় ১৯৬৮ সালে।
- শুরুতে পাঁচটি শাখায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতো।
- ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু করা হয়।
- সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর ৩০০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• বর্তমানে মোট ছয়টি শাখায় নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় যথা-
- চিকিৎসা।
- পদার্থবিদ্যা।
- রসায়ন।
- সাহিত্য।
- শান্তি।
- অর্থনীতি।

উৎস: Nobel Prize ওয়েবসাইট।

৪,৩৫৪.
হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণে যে বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, একই বিক্রিয়া সংগঠিত হয় -
  1. ক) পরমাণু চুল্লিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  2. খ) সূর্যের শক্তি উৎপাদনে
  3. গ) জেট বিমানের ইঞ্জিনে
  4. ঘ) রকেটের ইঞ্জিনে
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন বোমার আরেক নাম থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা। এটি এমন এক অস্ত্র যার প্রচুর বিস্ফোরক শক্তির একটি অনিয়ন্ত্রিত স্ব-টেকসই চেইন প্রতিক্রিয়া হয়। যার ফলে হাইড্রোজেনের আইসোটোপগুলি অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার অধীনে নিউক্লিয়ার ফিউশন নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়াতে হিলিয়াম গঠন করে। প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ তাপমাত্রা একটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ দ্বারা উত্পাদিত হয়।


নিউক্লিয়ার ফিউশন:
যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে। সূর্যে এ বিক্রিয়া স্বচ্ছন্দে ঘটে। 


সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৩৫৫.
PH হলো-
  1. এসিড নির্দেশক
  2. এসিড ও ক্ষার নির্দেশক
  3. ক্ষার নির্দেশক
  4. এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫৬.
বৈদ্যুতিক আধান বা চার্জ সঞ্চয় করে রাখার যন্ত্রকে কী বলা হয়?
  1. জেনারেটর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ধারক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) ধারক 

• ধারক:
- ধারক বা ক্যাপাসিটার হল এমন একটি বৈদ্যুতিক উপাদান যা চার্জ সঞ্চয় করতে পারে।  
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে বস্তু তাপ ধারণ করে রাখে, তাই বস্তুকে তাপ ধারক বলা যায়।
- তেমনি যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- পাত্রে পানি ঢাললে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো বস্তুতে আধান প্রদান করলে বস্তুর বিভব বৃদ্ধি পায়।
- যে পরিমাণ আধান প্রদান করলে একটি বস্তুর বিভব 1V বৃদ্ধি পায় তাকে তার ধারকত্ব বলে।
- সহজ কথায় বলতে গেলে যে ধারণ করে সেই ধারক। যেমন গ্লাস, বালতি বা কলসী পানি ধারণ করে। সুতরাং তাদেরকে পানি ধারক বলা যায়।
- ধারকত্বকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ধারকের একক ফ্যারাড (F)।
- ধারকের একক ফ্যারাডে একটি বেশ বড় একক। এজন্য এর কতগুলো ছোট একক ব্যবহার করা হয়।

১. 1 μF (মাইক্রো ফ্যারাড) = 10- 6 F
২. 1 nF (ন্যানো ফ্যারাড) = 10- 9 F
৩. 1 pF (পিকো ফ্যারাড) = 10-12 F

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৫৭.
বরফের গলনাংক কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ২৫° সেলসিয়াস
  2. ০° সেলসিয়াস
  3. - ৪° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৩৫৮.
Absolute zero is equivalent to:
  1. 273.15°C
  2. -100°C
  3. -273.15°C
  4. 32°C
  5. -230.15°C
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -273.15 degrees Celsius বা -273°C. 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্ধ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৪,৩৫৯.
কোন রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল দেওয়া হয়?
  1. বেতার রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. এক্সরে রশ্মি
  4. বেকরেল রশ্মি
ব্যাখ্যা
• এক্সরে রশ্মি: ১৯০১ সালে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় বিজ্ঞানী রন্টজেন-কে, এক্সরে রশ্মি (X-ray) আবিষ্কারের জন্য। 
-  এই রশ্মি আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়,
যেমন—
- হাড় ভাঙা নির্ণয়
- অভ্যন্তরীণ শরীর পরীক্ষার (Medical Imaging) পদ্ধতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বেতার রশ্মি: আবিষ্কার করেন হেইনরিখ হার্টজ, আর পরে গুগলিয়েলমো মার্কোনি এর ব্যবহারিক প্রয়োগ করেন; মার্কোনি নোবেল পান ১৯০৯ সালে।

গামা রশ্মি:  গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন পল উলরিচ ভিলার্ড।

বেকরেল রশ্মি: হেনরি বেকরেল  তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) আবিষ্কার করেন। কিন্তু এর জন্য  স্বতন্ত্র কোন নাম ব্যবহার করেন নি।   বেকারেল ১৯০৩ সালে এই কাজের জন্য নোবেল পান, তবে সেটা ছিল পদার্থবিজ্ঞানে তৃতীয় নোবেল।

তথ্যসূত্র:
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  Nobel Prize Outreach 2025.NobelPrize.org
৪,৩৬০.
হাইড্রেজেন পরমাণুর আইসোটোপ ট্রিটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কয়টি?
  1. 0
  2. 1
  3. 2
  4. 3
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : গ) 2

• আইসোটপ (Isotopes):

- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম হাইড্রেজেন পরমাণুর আইসোটোপ।
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়।



উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।  

৪,৩৬১.
ডিজিটাল সিগন্যালকে প্রক্রিয়াকরণ করার জন্য কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. ক্যামেরা
  2. মাইক্রোফোন
  3. অ্যানালগ কনভার্টার
  4. বিশেষ ধরনের আইসি
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস: 
- ইলেকট্রনিকসের সবচেয়ে বড় অবদান হলো ডিজিটাল কম্পিউটার বা সংক্ষেপে শুধু কম্পিউটার। 
- কম্পিউটারে সকল তথ্যের আদান-প্রদান বা তথ্য প্রক্রিয়া করা হয় ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস দিয়ে। 
- ইন্টারনেট বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কেও ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। 
- শব্দ, ছবি বা ভিডিও ইত্যাদি সিগন্যাল শুরু হয় অ্যানালগ সিগন্যাল হিসেবে এবং ব্যবহারও হয় অ্যানালগ সিগন্যাল হিসেবে কিন্তু সেগুলো ডিজিটাল সিগন্যাল হিসেবে সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ বা প্রেরণ করা হয়। 
- অ্যানালগ সিগন্যালে খুব সহজেই নয়েজ (Noise) প্রবেশ করে সিগন্যালের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে কিন্তু সেটি একবার ডিজিটাল সিগন্যালে পরিবর্তিত করে নিলে সেখানে Noise এত সহজে অনুপ্রবেশ করতে পারে না; কাজেই সিগন্যালের গুণগত মান অবিকৃত থাকে। 
- ডিজিটাল সিগন্যাল প্রক্রিয়া করার জন্য বিশেষ ধরনের আইসি (IC) তৈরি করা হয়, এই আইসিগুলো ধীরে ধীরে অনেক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে। 
অর্থাৎ, অনেক কম সময়ে নির্ভুলভাবে অনেক বেশি পরিমাণ ডিজিটাল সিগন্যালে প্রক্রিয়া করতে পারে। 
- কাজেই যতই দিন যাচ্ছে ডিজিটাল প্রক্রিয়া করার বিষয়টি ততই সহজ হয়ে যাচ্ছে এবং এটি বলাই বাহুল্য নয় যে আমাদের চারপাশের জগৎটি একটি ডিজিটাল জগতে রূপান্তরিত হচ্ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৬২.
কাজের একক কোনটি?
  1. Nm2
  2. N-1m
  3. Nm
  4. Nm-1
ব্যাখ্যা
কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা হচ্ছে- ML2T-2 । N-1m

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৬৩.
যন্ত্রসভ্যতার ভিত্তি কোন খনিজ পদার্থ?
  1. লৌহ
  2. তামা
  3. গ্রাফাইট
  4. জিপসাম
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
যেমন- লৌহ (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au), রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

লৌহ আকরিক (Iron Ore): 
- লৌহ যন্ত্রসভ্যতার ভিত্তি। 
- কলকব্জা, রেলপথ, রেলগাড়ি, মোটর, জাহাজ, গৃহের কাঠামো প্রভৃতি নির্মাণে লৌহ অত্যাবশ্যক। 
- লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের উন্নতির সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি জড়িত, কিন্তু প্রচুর লৌহ না থাকলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠা খুবই কষ্টকর। 
- এ লৌহ কিন্তু সরাসরি খনি হতে পাওয়া যায় না, এটা অন্যান্য খনিজ পদার্থের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। 
- এ মিশ্রিত লোহাকে লৌহ আকরিক (Iron Ore) বলা হয়। 
- আকরিকে শতকরা ৪০ ভাগের কম লৌহ থাকলে তা উত্তোলন করা লাভজনক নয়। 
- পৃথিবীর মোট উৎপাদনের প্রায় ৯৮% চীন, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, রাশিয়া, ইউক্রেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা হতে উত্তোলিত হয়। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
যেমন- কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica), গ্রাফাইট, জিপসাম, কয়লা, খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৪,৩৬৪.
নিম্নের কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয়?
  1. ক) CaCO3
  2. খ) Ag2SO4
  3. গ) AgCl
  4. ঘ) NaCl
ব্যাখ্যা
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C₅H₈NO₄Na) লবণ।
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর (CaCO₃) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ।
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH₄)3PO₄), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) ইত্যাদি।
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO₄) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৬৫.
১ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট =_________ জুল।
  1. ১০০০ জুল
  2. ১০২৫ জুল
  3. ১০৫৫ জুল
  4. ১১০০ জুল
ব্যাখ্যা
কয়লার জ্বালানি মান বা ক্যালরিফিক মান: 
- কয়লার জ্বালানি মানকে ক্যালরিফিক মান (calorific value) বলে। 
- এ ক্যালরিফিক মান BTU এককে প্রকাশ করা হয়। 
- এক পাউন্ড কয়লাকে পোড়ালে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে সে কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা বা জ্বালানি মান বলে। 
- কয়লার জ্বালানি মানকে BTU তাপ এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- বড় পুকুরিয়া কয়লার ক্যালরিফিক মান হলো 11040 BTU/Ib. 
- রেলওয়ে লোকোমোটিভ ও বয়লারের জ্বালানিরূপে পিট কয়লা ব্যবহার করা হয়। 

ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (BTU): 
- এক পাউন্ড পানির (453.59 g) তাপমাত্রা 1° ফারেনহাইট (1°F) বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপ-শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে এক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (IBTU) বলে। 
- ক্যালরিফিক মান (1 BTU) = 1055 J = 252.145 (calorie)

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৪,৩৬৬.
আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র E = mc2 এর ‘c’ দ্বারা কি বুঝায়?
  1. ক) আলোর ভর
  2. খ) আলোর বেগ
  3. গ) চার্জের ভর
  4. ঘ) বস্তুর ভর
ব্যাখ্যা
E = mc2 সূত্রের আবিষ্কারক আলবার্ট আইনস্টাইন।
যেখানে, E = শক্তি, m = ভর, c = আলাের বেগ।
১৯০৫ সালে তিনি দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।
একে আইনস্টাইনের 'থিওরি অফ রিলেটিভিটি' বা 'আপেক্ষিকতাবাদ' বলা হয়।
৪,৩৬৭.
আপেক্ষিকতার তত্ত্বটি আইনস্টাইন কখন বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করেন?
  1. ১৮৯০ সালে
  2. ১৯১০ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Einstein's Theory of Relativity):
- চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব।
- আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
ক. আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
খ. আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)।

- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। যথা-
১. প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
২. দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

- তার ভর শক্তির সম্পর্ক সূত্রটি হলো
E = mc2
যেখানে,
E = শক্তি,
m = ভর,
c = আলাের বেগ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)।
৪,৩৬৮.
কোনটি সমযোজী বন্ধনের উদাহরণ?
  1. NaCl
  2. Cl2
  3. KBr
  4. KCl
ব্যাখ্যা

• সমযোজী বন্ধনের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হলো Cl2, যেখানে দুটি সমজাতীয় অণু এক জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে বন্ধন গঠন করে।
- এটি একটি সরল আণবিক যৌগ।
- দুটি ক্লোরিন পরমাণু একটি জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে সমযোজী বন্ধন তৈরি করে।

• সমযোজী বন্ধন:
- সমযোজী বন্ধন হলো এমন একটি রাসায়নিক বন্ধন যেখানে দুটি বা তার বেশি অ-ধাতব পরমাণু তাদের ইলেকট্রন শেয়ার করে শক্তিশালী সংযুক্তি তৈরি করে।
- এই বন্ধনে ইলেকট্রন এক বা একাধিক জোড়ায় ভাগ করা হয়।

• আয়নিক বন্ধন:
- আয়নিক বন্ধন হলো এমন একটি রাসায়নিক বন্ধন যেখানে একটি ধাতু তার ইলেকট্রন সম্পূর্ণভাবে একটি অ-ধাতুর কাছে স্থানান্তর করে।
- এর ফলে ধাতু একটি ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু একটি ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই আয়নগুলো পারস্পরিক বৈদ্যুতিক আকর্ষণে শক্তভাবে যুক্ত থাকে।

• অপশন আলোচনা:
NaCl:
- এটি একটি আয়নিক যৌগ।
- এখানে ইলেকট্রন সম্পূর্ণভাবে সোডিয়াম থেকে ক্লোরে স্থানান্তরিত হয়, সমযোজী বন্ধন নয়।
KCl / KBr:
- এটিও একটি আয়নিক যৌগ।
- পটাসিয়াম ও ক্লোরাইড / ব্রোমাইড আয়নের মধ্যে ইলেকট্রন স্থানান্তর ঘটে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪,৩৬৯.
মিথেন অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণুর অনুপাত কত?
  1. 1 : 1
  2. 1 : 2
  3. 1 : 3
  4. 1 : 4
ব্যাখ্যা

হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।
- জৈব যৌগের মধ্যে সরলতম যৌগ হলো এ হাইড্রোকার্বন। 

• অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো Cn H2n+2 , n=1,2,3............. ইত্যাদি। 

• মিথেন (Methane) হলো একটি সরল হাইড্রোকার্বন যার রাসায়নিক সংকেত: CH4
এখানে- 
কার্বন (C) = ১টি
হাইড্রোজেন (H) = ৪টি

সুতরাং, মিথেনের অণুতে কার্বন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত = ১ : ৪

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৭০.
Which of the following is the main nutrient in tea?
  1. ক) Folate
  2. খ) Polyphenols
  3. গ) Iron
  4. ঘ) Zinc
ব্যাখ্যা
- Polyphenols, or flavonoids, are likely a key component to what makes tea a healthful drink.
- These chemical compounds act as antioxidants, which control the damaging effects of free radicals in the body. 

Tea is a source Of:
- Caffeine (traditional teas, not herbal)
- Polyphenols
1)Flavonols – myricetin, quercetin, kaempferol
2) Theaflavins – formed when black tea leaves are oxidized
3) Catechins – found in green tea; epigallocatechin-3 gallate (EGCG) is the main form

Source: www.hsph.harvard.edu
৪,৩৭১.
হাইড্রোজেন বোমার জনক -
  1. আন্দ্রে দিমিত্রিভিচ শাখারভ
  2. রবার্ট ওপেন হেইমার
  3. এডওয়ার্ড টেলার
  4. স্যামুয়েল টি কোহেন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন বোমার জনক: এডওয়ার্ড টেলার 
- পারমাণবিক বোমার জনক: রবার্ট ওপেন হেইমার 
- নিউট্রন বোমার জনক: স্যামুয়েল টি কোহেন 
- সোভিয়েত হাইড্রোজেন বোমার জনক: আন্দ্রে দিমিত্রিভিচ শাখারভ
৪,৩৭২.
What is the minimum velocity required for an object to permanently escape Earth's gravitational pull?
  1. 11.2 kms- 1
  2. 11.2 kmh- 1
  3. 9.8 ms- 2
  4. 2.4 Kms- 1
  5. 11.2 ms- 1 
ব্যাখ্যা

• কোনো বস্তুকে যদি প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার অর্থাৎ, 11.2 Kms- 1 বেগে খাড়া উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হয়, তবে সেটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বল কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে। এই বিশেষ বেগকে মুক্তিবেগ বলা হয়। এটি বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর করে না, তাই একটি ছোট পাথর বা একটি বিশাল রকেটের জন্য এই বেগের মান একই থাকে।

• মুক্তি বেগ:
- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তিবেগ (Escape velocity) বলা হয়।

• মুক্তি বেগ বা তার বেশি বেগে কোন বস্তুকে নিক্ষেপ করা হলে সেটি আর পৃথিবীতে ফিরে না এসে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিন করতে থাকে।
- মুক্তি বেগের মান হলো ১১.২ কি.মি./সেকেন্ড বা 11.2 Kms- 1
- আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) কে মুক্তি বেগে উৎক্ষেপণ করা হলে সেটি পৃথিবীর অভিকর্ষকে অতিক্রম করে চলে যাবে , ফলে সেটি আর ফেরত আসবে না। 

• সাধারণত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) এর গতিবেগ হয় প্রতি সেকেন্ডে ৬ থেকে ৯ কিলোমিটার। 
- মুক্তিবেগ থেকে এই বেগ কম হওয়ায় তা আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- কিন্তু তা ১১.২ কিলোমিটার/সেকেন্ড বা তার বেশি বেগ প্রাপ্ত হলে পৃথিবীতে আর ফিরে আসবে না। 

উল্লেখ্য:
২.৪ কিমি/সেকেন্ড হলো চাঁদের মুক্তিবেগের মান যা পৃথিবীর মহাকর্ষ বল কাটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৭৩.
আলোর ফ্লাক্স পরিমাপের একক কী?
  1. ক্যান্ডেলা
  2. লুমেন
  3. লাক্স
  4. স্টেরিডিয়ান
ব্যাখ্যা
আলোর ফ্লাক্স: 
- কোন আলোর উৎস থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে, যে পরিমাণ আলোক শক্তি নির্গত হয় বা প্রবেশ করে, তাকে আলোর প্রবাহ বা আলোর ফ্লাক্স বলে। 
- আলোর ফ্লাক্স পরিমাপের একক লুমেন। 
- এক ক্যান্ডেলা দীপন ক্ষমতার কোন আলোক উৎস থেকে এক স্টেরেডিয়ান ঘনকোণে যে পরিমাণ আলোক ফ্লাক্স নির্গত হয় তাকে এক লুমেন (1 lm) বলে। 

অন্যদিকে, 
- দীপন মাত্রা পরিমাপের একক লাক্স। কোন পৃষ্ঠের প্রতি বর্গ মিটার ক্ষেত্রে এক লুমেন আলোক ফ্লাক্স যে দীপন মাত্রা সৃষ্টি করে তাকে এক লাক্স (1 lux) বলে। 
- ক্যান্ডেলা হলো আলোর শক্তির পরিমাপের একক, যা নির্দিষ্ট দিক থেকে আলোর উজ্জ্বলতার পরিমাপ করে। 
- স্টেরিডিয়ান হলো দিকের পরিমাপের একক যা আলোর উৎসের দিকে এককীয় দিকের কোণ প্রতিনিধিত্ব করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৭৪.
মানুষের কানে শ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্কের পরিসর কত?
  1. ১০ Hz – ১০০০ Hz
  2. ২০ Hz – ২০০০০ Hz
  3. ৫০ Hz – ৫০০০০ Hz
  4. ১০০ Hz – ১০০০০ Hz 
ব্যাখ্যা

• মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।

• শ্রাব্যতার সীমা:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কম্পন হলেই সব শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- মানুষের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।
- প্রতি সেকেন্ডে ২০ টির নিচে কম্পন হলে উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ টির বেশি কম্পন হলেও উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- তাই মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার মধ্যে উৎপন্ন শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলা হয়।
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

• শব্দেতর (Infrasonic) তরঙ্গ:
- ২০ Hz-এর নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
- এ ধরনের তরঙ্গ মানুষের কানে শোনা যায় না।
- শব্দের চেয়ে কম কম্পাঙ্কের জন্য একে শব্দেতর বলা হয়।

• শব্দোত্তর (Ultrasonic) তরঙ্গ:
- ২০,০০০ Hz-এর উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- এ ধরনের তরঙ্গ মানুষের কানে শোনা যায় না।
- শব্দের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের জন্য একে শব্দোত্তর বলা হয়।

• বিভিন্ন প্রাণীর শ্রাব্যতার পাল্লা:
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz,
- বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz থেকে ৬৪,০০০ Hz,
- ইঁদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz থেকে ৯১,০০০ Hz,
- বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz থেকে প্রায় ১১০,০০০ Hz,
- ডগ হুইসেল বা নীরব বাঁশিতে উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না, কিন্তু কুকুর ও বিড়াল শুনতে পারে।
- প্রাণীভেদে শ্রাব্যতার পাল্লার পার্থক্য রয়েছে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৪,৩৭৫.
এম আর আই (MRI) যন্ত্রে ব্যবহৃত হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) রেডিও তরঙ্গ
  3. গ) মাইক্রোওয়েব
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
এম আর আই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং ((Magnetic Resonance Imaging)। 
এম আর আই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।
নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র কাজ করে থাকে।
 
 এম আর আই হলো একটি কৌশল যা শরীরের যে কোনো অঙ্গের (নরম ও সংবেদনশীল) পরিষ্কার ও বিস্তারিত ছবি তুলতে পারে। 
এটি শরীরের যে কোনো অঙ্গের জন্য ব্যবহার করা হলেও মস্তিষ্ক, পেশি এবং টিউমার শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৭৬.
H+ সংকেত দ্বারা কোনটি বুঝায়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) পজিট্রন
  3. গ) ইলেকট্রন
  4. ঘ) নিউট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - 
• ইলেকট্রন, 
• প্রোটন ও 
• নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- এর ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e¯ । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C। 
- আপেক্ষিক আধান -1। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের সংকেত H+। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C. 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P। 
- আপেক্ষিক আধান +1. 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n। 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g। 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৩৭৭.
অনুভূমিকের সাথে কত কোণে নিক্ষেপ করলে একটি প্রাস সর্বাধিক অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করবে?
  1. π রেডিয়ান
  2. π/2 রেডিয়ান
  3. π/3 রেডিয়ান
  4. π/4 রেডিয়ান
ব্যাখ্যা
প্রাস:
- কোনো একটি বস্তুকে অনুভূমিকের সাথে তির্যকভাবে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হলে তাকে প্রাস বলে। আর এই ধরনের গতিকে প্রাসের গতি বলে।
- প্রাসের গতিপথ একটি অধিবৃত্ত।
- প্রাসের গতি দ্বিমাত্রিক গতি।
- প্রাস সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌছালে এর বেগ সর্বনিম্ন হয়।

সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা (Maximum Horizontal Range):
- নিক্ষিপ্ত বস্তু সর্বাধিক যে অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে আদি উচ্চতায় ফিরে আসে তাকে সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা বলে। 
- নির্দিষ্ট বেগে নিক্ষিপ্ত একটি বস্তু বা প্রাস সর্বাধিক অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে যখন বস্তুটি অনুভূমিকের সাথে 45° কোণে বা, [45° × (π/180)] = π/4 রেডিয়ান কোণে নিক্ষিপ্ত হয়। 


figure: প্রাসের গতিপথ (image source: medium.com)

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন।
৪,৩৭৮.
হাইড্রোজেনের কয়টি আইসোটোপ ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়?
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: যে সকল পরমানুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়। 

• হাইড্রোজেন পর্যায় সারণির প্রথম মৌল যার পারমানবিক সংখ্যা ১। 
• হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে। ( 1Η, 2Η, 3Η, 4Η, 5Η, 6Η, 7H )
• যার মধ্যে তিনটি প্রকৃতি তে পাওয়া যায়। এগুলো হলো প্রোটিয়াম ( 1Η ), ডিউটেরিয়াম ( 2Η ) , ট্রিটিয়াম ( 3Η )। 
অন্য ৪ টি ( 4Η, 5Η, 6Η, 7H ) প্রস্তুত করা হয় ল্যাবরেটরি তে। 

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৪,৩৭৯.
সোডিয়াম কার্বনেটের রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. Na2CO3
  2. NaCO3
  3. NaCO2
  4. Na2CO2
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম (Na) একটি ধনাত্মক একমাত্রায়ন: Na⁺
- কার্বনেট (CO₃²⁻) একটি ঋণাত্মক দ্বিমাত্রায়ন.
- সঠিক আনুপাতিক সংযোজন করতে হলে:
- ২টি Na⁺ + ১টি CO₃²⁻ = Na₂CO₃

কিছু গুরুত্বপূর্ণ যৌগের সংকেত:
- HCl - হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। 
- H₂SO₄ - সালফিউরিক অ্যাসিড। 
- HNO₃ - নাইট্রিক অ্যাসিড। 
- CH₃COOH - অ্যাসিটিক অ্যাসিড (ভিনেগার)। 
- H₂CO₃ - কার্বনিক অ্যাসিড। 

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ শ্রেণি
৪,৩৮০.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3.  প্রশমন বিক্রিয়া
  4. দহন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
 প্রশমন বিক্রিয়া :
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে।
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l)

পানি যোজন বিক্রিয়া:
আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে।
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে।

বিয়োজন বিক্রিয়া:
বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়। প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়।

দহন বিক্রিয়া :
এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৮১.
বোসন কোন ধরনের কণা?
  1. জটিল কণা
  2. যৌগিক কণা
  3. দুর্বল কণা
  4. মৌলিক কণা
ব্যাখ্যা
• 'বোসন কণা' হলো মৌলিক কণা।

• বোসন কণা:
- বোসন হল মৌলিক কণা যেগুলো পূর্ণসংখ্যার মান (0, 1, 2, ইত্যাদি) স্পিন করে।
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- স্পিন হল কণার চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যের একটি পরিমাপ।
- স্পিন পূর্ণসংখ্যা থাকার কারণে, বোসনরা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে না।
- পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে, একই শক্তিস্তরে একই কোয়ান্টাম সংখ্যা বিশিষ্ট দুটি কণা একই স্থান দখল করতে পারে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। যথা:
১. গেজ বোসন ও
২. হিগস বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৮২.
কোন উপাদানটি আইসি নির্মাণে ব্যবহৃত হয় না?
  1. Capacitor
  2. Resistor
  3. Transformer
  4. Transistor
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৪,৩৮৩.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. তাপমাত্রা
  2. ত্বরণ
  3. বিভব
  4. বল
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৮৪.
কোয়ার্টজ নিচের কোনটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. কাঁচ তৈরিতে
  2. সিরিজ কাগজ তৈরিতে
  3. রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৮৫.
নিচের কোনটি গ্লুবার লবণ?
  1. টেবিল সল্ট
  2. আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট
  3. সোডিয়াম থায়োসালফেট
  4. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা
- আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট হলো গ্লুবার লবণ।
- সোডিয়াম থায়োসালফেটকে বলা হয় হাইপো।
- মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট কে বলা হয় টেস্টিং সল্ট।
- খাবার লবণ বা টেবিল সল্ট হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৪,৩৮৬.
Ca(OH)2 কোন যৌগটির রাসায়নিক সংকেত?
  1. ক্যালামিন
  2. ফিটকিরি
  3. বেকিং সোডা
  4. মিল্ক অফ লাইম
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সংকেত: 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O. 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O]. 
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যার রাসায়নিক সংকেত হলো- C17H35COOK. 
- কাপড় কাচার সাবানে থাকে মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট, যার রাসায়নিক সংকেত- C17H35COONa. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৮৭.
টিট্রিয়ামে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 0
  2. 1
  3. 2
  4. 3
ব্যাখ্যা
আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 



উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৮৮.
ব্যাপনের হার কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. তাপমাত্রা
  2. মাধ্যমের ঘনত্ব
  3. অর্ধভেদ্য পর্দা
  4. অণুর ভর
ব্যাখ্যা
• ব্যাপনের হার অর্ধভেদ্য পর্দার উপর নির্ভর করে না। 

• ব্যাপন:
- যে প্রক্রিয়ায় একই তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসীয় বা তরল পদার্থ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্য কোনো গ্যাসীয় বা তরল মাধ্যমের উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলে। 

• ব্যাপনের গুরুত্ব:
-  সালোকসংশ্লেষণে CO2 গ্রহণ ও O2 ত্যাগ ব্যাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
-  শ্বসনে গ্লুকোজ জারণে O2 ব্যবহৃত হয় যা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। CO2-এ প্রক্রিয়ায় কোষ থেকে বের হয়ে যায়।
- উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি দেহ থেকে প্রস্বেদনের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
- প্রাণী দেহে শ্বসন ও রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান, O2 প্রভৃতি লসিকায় বহন ও লসিকা থেকে কোষে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে।

• ব্যাপনের হার অনুর ভর, মাধ্যমের ঘনত্ব ও তাপমাত্রা প্রভৃতির উপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে,
• অর্ধভেদ্য পর্দা:
- যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু আচলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয়। 
- অর্ধভেদ্য পর্দা অভিস্রবন নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যাপনের হার এটির উপর নির্ভর করে না।

তথ্যসূত্র:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, NCTB।
৪,৩৮৯.
Dry ice বলা হয়-
  1. ক) হিমায়িত অক্সিজেনকে
  2. খ) ক্য্যালসিয়াম অক্সাইডকে
  3. গ) হিমায়িত কার্বন মনোঅক্সাইডকে
  4. ঘ) হিমায়িত কার্বন ডাইঅক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস’ হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -৭৮.৫° সেলসিয়াস উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
৪,৩৯০.
কোন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না? 
  1. নিউট্রন কণা
  2. ইলেকট্রন কণা
  3. প্রোটন কণা
  4. বোসন কণা
ব্যাখ্যা

• বোসন: 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা: 
১। গেজ বোসন ও 
২। হিগস বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৯১.
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) বস্তুর কম্পনের দিক তরঙ্গের বেগের সাথে লম্ব
  2. খ) এ তরঙ্গ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়
  3. গ) আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  4. ঘ) এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে
ব্যাখ্যা
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ:
এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ :
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়। একটি সংকোচন এবং একটি প্রসারণ অংশ নিয়ে একটি তরঙ্গ গঠিত হয়। শব্দ হচ্ছে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত
৪,৩৯২.
এর নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 18
  2. 8
  3. 10
  4. 26
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) 10

এটম সংখ্যা (Z) = 8 → প্রোটনের সংখ্যা = 8
ভর সংখ্যা (A) = 18 → প্রোটন + নিউট্রন = 18

নিউট্রনের সংখ্যা:
নিউট্রন = A−Z = 18−8 = 10

পারমাণবিক সংখ্যা
- কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।
- যেমন- হিলিয়াম (He) এর একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে দুটি প্রোটন থাকে। তাই হিলিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হলো দুই।
- অক্সিজেন (০) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আটটি প্রোটন থাকে। তাই অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো আট।
- প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যাকে Z দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

ভরসংখ্যা 
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে।
- ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

নিউট্রন 
- ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। 
- অক্সিজেন (O) ভরসংখ্যা হলো 18, এর প্রোটন সংখ্যা 8, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 18 - 8 = 10

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৪,৩৯৩.
একটি হিমায়ন চক্রের হিমায়ক কর্তৃক তাপ শোষিত হয়
  1. কন্ডেন্সারে
  2. ইভাপোরেটরে
  3. কম্প্রেসরে
  4. থ্রোটল ভালভে
ব্যাখ্যা
ইভাপোরেটর:
রেফ্রিজারেশন পদ্ধতির যে অংশে তাপ শোষণ করে পার্শ্ববর্তী অংশকে অপেক্ষাকৃত নিম্নতাপমাত্রায় আনয়ন করে তাকে ইভাপোরেটর বলে।

তরল প্রবেশের উপর ভিত্তি করে ইভাপোরেটর কয়েক
ক) ফ্লাডেড টাইপ ইভাপোরেটর।
খ) ড্রাই টাইপ ইভাপোরেটর।
গ) ওয়েট ইভাপোরেটর।
৪,৩৯৪.
পর্যায় সারণির প্রথম পর্যায়ে কয়টি মৌল অবস্থান করতে পারে?
  1. আঠারটি
  2. আটটি
  3. দুইটি
  4. বত্রিশটি
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর (Bohr) মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন, এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামে পরিচিত। 
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- এ সারণিতে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ রয়েছে। 
- পর্যায় গুলোকে ১ম পর্যায়, ২য় পর্যায়, তৃতীয় পর্যায়, ৪র্থ পর্যায়, ৫ম পর্যায়, ৬ষ্ঠ পর্যায় ও ৭ম পর্যায় এভাবে ভাগ করা হয়েছে। আর গ্রুপগুলোকে যথাক্রমে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ গ্রুপ এ হিসেবে সাজানো হয়েছে। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 

পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য: 
- পর্যায় সারণি মৌল গুলোকে সাজানোর এমন একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। 
- পর্যায় সারণির মাধ্যমে আবিষ্কৃত মৌলগুলোকে এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে একজন নবীন বিজ্ঞানী বা শিক্ষানবিশ রসায়নবিদ আবিষ্কৃত মৌল সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারেন। 
- IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry) কর্তৃক স্বীকৃত আধুনিক পর্যায় সারণির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূলভিত্তি। 
২. সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। 
৩. প্রতিটি পর্যায়ের বামদিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 
৪. পর্যায় সারণি প্রথম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল থাকে। যেমন- একটি H অপরটি He । H-এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ এবং He এর অবস্থান গ্রুপ-১৮ এ। 
৫. দ্বিতীয় পর্যায় ও তৃতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে আটটি করে মৌল বর্তমান। এ আটটি মৌল গ্রুপ-১ থেকে গ্রুপ-২ এবং গ্রুপ-১৩ থেকে গ্রুপ-১৮ এর মধ্যে অবস্থিত। 
৬. ৪র্থ পর্যায় ও ৫ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপের প্রত্যেকটিতে একটি করে ১৮টি মৌল অবস্থান করে থাকে। 
৭. ৬ষ্ঠ পর্যায়ে ও ৭ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপে মৌলের সংখ্যা ৩২টি। ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ের প্রতিটি পর্যায়ে গ্রুপ-৩ এ ১৫টি করে মৌল অবস্থান করে। বাকী ১৭টি গ্রুপে ১৭টি মৌল অবস্থান করে পর্যায়ে মোট মৌলের সংখ্যা (১৫ + ১৭) = ৩২টি হয়। 
৮. মূল পর্যায় সারণির নিচে ২টি অনুভূমিক সারি এবং ১৪টি খাড়া স্তম্ভ বিশিষ্ট আরো একটি ছক উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির ৬ষ্ঠ পর্যায় ও ৭ম পর্যায়ের অংশবিশেষ মাত্র। 
৯. সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম হয়। 
১০. পর্যায় তালিকায় কোনো মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার ওপর। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৯৫.
ফরমালিন তৈরি করতে কোন যৌগ ব্যবহৃত হয়? 
  1. মিথেন
  2. মিথান্যাল
  3. এসিটোন
  4. ইথানল
ব্যাখ্যা
• ভিনেগার: 
- ৬ -১০% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে।

• ফরমালিন: 
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে ৪০% মিথান্যাল, ৫২% পানি ও ৮% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

• রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

• মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

• পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে ৩০% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৯৬.
নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?
  1. ক) P4O10
  2. খ) MgO
  3. গ) CO
  4. ঘ) ZnO
ব্যাখ্যা
Magnesium oxide (MgO) is again a simple basic oxide, because it also contains oxide ions.
Source: britannica.com
৪,৩৯৭.
শব্দের গতি কোন মাধ্যমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি?
  1. শূন্য 
  2. পানি 
  3. ইস্পাত
  4. বাতাস
ব্যাখ্যা

 - ইস্পাত তথা কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম এবং শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৩৯৮.
থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়
  1. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
  2. ফসফরাস আইসোটোপ
  3. আয়োডিন আইসোটোপ
  4. ইউরেনিয়াম আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি।
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৯৯.
বৃত্তাকার পথে চলতে থাকা বস্তুর কেন্দ্রমুখী বলের কাজ শূন্য হয়, কারণ- 
  1. বস্তুর ভর শূন্য হয় 
  2. বলের মান শূন্যের কাছাকাছি থাকে 
  3. সরণ ও বল লম্বভাবে হয় 
  4. সরণ ও বল একই দিকে থাকে 
ব্যাখ্যা

শূন্য কাজ: 
- বল প্রয়োগে যদি কোনো বস্তুর সরণ বলের লম্ব বরাবর হয়, তবে ঐ বলের দ্বারা কোনো কাজ হয় না। 
- কেননা, এই ক্ষেত্রে θ = 90° হওয়ায় W = FS cos90° = 0 । 
উদাহরণ: 
- কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে ঘোরায় যে কেন্দ্রমুখী বল, তার দ্বারা কোনো কাজ হয় না। কেননা, প্রতি মুহূর্তে বল ব্যাসার্ধ বরাবর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়া করে আর সরণ হয় বৃত্তের স্পর্শক বরাবর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৪,৪০০.
কোন স্থানের বায়ুচাপ নিচের কোনটির উপর নির্ভর করে?
  1. ক) বায়ুর আর্দ্রতা
  2. খ) তাপমাত্রা
  3. গ) জলীয় বাষ্প
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু যে বল প্রয়োগ করে, তাই বায়ুচাপ। বায়ু সবদিক থেকে চাপ দেয়। কোন স্থানের বায়ুচাপ নির্ভর করে সেখানকার তাপমাত্রার উপর। তাপমাত্রা বাড়লে কোন বদ্ধ পাত্রে বায়বীয় পদার্থের চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুচাপ কমে যায়, কারণ বায়ুমণ্ডল কোন বদ্ধ পাত্র নয়, ইহা খোলা।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান