বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪৩ / ৬৪ · ৪,২০১৪,৩০০ / ৬,৪০৯

৪,২০১.
নবায়নযোগ্য শক্তির একটি বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. এটি মজুদ করা যায় না
  2. এটি পরিবেশবান্ধব
  3. এটি কেবল খনিজ থেকে পাওয়া যায়
  4. এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

অন্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: 
ক) নবায়নযোগ্য শক্তি অনেক সময় মজুদ করা যায় (যথাযথ- প্রযুক্তির মাধ্যমে)। 
গ) এটি খনিজ নয়, প্রাকৃতিক উৎস (যেমন- সূর্য, বায়ু) থেকে আসে। 
ঘ) এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২০২.
নিচের কোনটির একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন?
  1. ভরবেগের পরিবর্তনের হার
  2. ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল
  3. ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
  4. ঘনত্ব × আয়তন × বেগ
ব্যাখ্যা
• ভরবেগের পরিবর্তনের হার:
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার = কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমান
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার ও বলের একক একই হবে।
- ভরবেগের পরিবর্তনের হারের একক নিউটন (N).

• ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল:
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর দৈর্ঘ্য পীড়ন ও দৈর্ঘ্য বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা । এই ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের বা ইয়ং গুণাঙ্ক বলে। 
- ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংকের একক Nm−2
- ক্ষেত্রফলের একক m2
-  ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফলের একক = Nm−2 × m= N (নিউটন)।

• ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ = প্রযুক্ত বল যেহেতু, F = mg.
- বলের এককই ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক।
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক N (নিউটন)।

• ঘনত্ব × আয়তন × বেগ:
- ঘনত্বের একক kgm−3
- আয়তনের একক m3
- বেগের একক ms−1
- ঘনত্ব × আয়তন × বেগের একক = kgms−1

• সুতরাং, ঘনত্ব × আয়তন × বেগ - এর একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান - ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন , মুহম্মদ আজিজ হাসান , ড. রানা চৌধুরী।
৪,২০৩.
বিবর্তনবিদ্যার আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. ক) প্রাণের বিকাশ
  2. খ) জীবের বিবর্তন
  3. গ) কালের বিবর্তন
  4. ঘ) জীবের ক্রমবিকাশ
ব্যাখ্যা
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবংক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলােচনা এ শাখার বিষয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,২০৪.
লেড (Pb) আহরণের জন্য কোন আকরিক ব্যবহৃত হয়? 
  1. চুনাপাথর 
  2. ক্যালামাইন 
  3. গ্যালেনা 
  4. কপার পাইরাইট 
ব্যাখ্যা

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে, এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
ধাতু ⇒ আকরিক: 
• মার্কারি ⇒ সিন্নাবার (HgS), 
লেড ⇒ গ্যালেনা (PbS)
• ক্যালসিয়াম ⇒ চুনাপাথর (CaCO3), 
• অ্যালুমিনিয়াম ⇒ বক্সাইট (Al2O3.2H2O), 
• জিংক ⇒ জিংক ব্লেন্ড (ZnS) ও ক্যালামাইন (ZnCO3), 
• কপার ⇒ কপার পাইরাইট (CuFeS2) ও চালকোসাইট (Cu2S) এবং 
• আয়রন ⇒ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), হেমাটাইট (Fe2O3) ও লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২০৫.
পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড 
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড 
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা
ক্লোরিন একটি অধাতু এবং হ্যালোজেন গ্রুপভুক্ত মৌল। 
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় কারণ ক্লোরিন পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে। 
৪,২০৬.
নিচের কোনটি ধাতুর ধর্ম নয়?
  1. ক) উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  2. খ) এদের দ্যুতি আছে
  3. গ) এরা ঘাতসহ নয়
  4. ঘ) এরা নমনীয় প্রকৃতির
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metalic Properties) :
পর্যায় সারণিতে বিভিন্ন সারিতে এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলসমূহকে ধাতু, অধাতু এবং অপধাতুতে ভাগ করা হয়েছে।
মৌলের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের উল্লিখিত নামে বিভক্ত করা হয়েছে।

ধাতুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন—
- এরা উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী,
- এদের ধাতব দ্যুতি আছে এবং
- এরা নমনীয় প্রকৃতির।
- ঘাতসহ।
- এদের ছুরি বা চাকু দিয়ে সহজেই কাটা যায়। অর্থাৎ এরা নরম প্রকৃতির।

ধাতুর এসব বৈশিষ্ট্যই হলো ধাতব ধর্ম। সাধারণত যেসব মৌলের তড়িৎ ধনাত্মকতা যত বেশি হয় এবং আয়নিকরণ শক্তি যত কম হয় ঐ সব মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি হয়। পর্যায় সারণিতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যেহেতু বাম থেকে যতই ডানে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ধনাত্মকা হ্রাস পায় তাই মৌলের ধাতু ধর্মও হ্রাস পায়। তাই পর্যায় সারণির বামে 1 এবং 2 শ্রেণির মৌলসমূহের ধাতু ধর্ম প্রবল অথচ ডান পার্শ্বের 17 শ্রেণির মৌলের ধাতব ধর্ম নেই বললেই চলে। পর্যায় সারণির মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থিত জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, টেলুরিয়াম প্রভৃতি উপধাতু ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২০৭.
প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন শতকরা কী পরিমাণে থাকে?
  1. ৪০ - ৫০%
  2. ৬০ - ৭০%
  3. ৮০ -৯০%
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস:
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার আছে।
- বিভিন্ন শিল্প কারখানায় এর ব্যবহার রয়েছে। এর ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে।
- বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও ব্যবহার রয়েছে অনেক সার কারখানায়।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়

• প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলো হলো:

- মিথেন - ৮০% - ৯০%,
- ইথেন - ১৩%,
- প্রোপেন - ৩%1
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে।
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫% - ৯৯%।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা
৪,২০৮.
অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে - 
  1. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
  2. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল
  3. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  4. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,২০৯.
কোনটি অকেলাসিত পদার্থ? 
  1. মাইকা
  2. তামা
  3. কাচ
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে। 
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে। 
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন। 
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত। 
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়। 

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রবার, সালফার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২১০.
দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ -
  1. ক) এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
  2. খ) এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
  3. গ) অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
  4. ঘ) প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে। যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়। ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়। এজন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৪,২১১.
নিচের কোনটি রেক্টিফায়ার হিসাবে কাজ করে?
  1. ক) p-n junction
  2. খ) p-n-p junction
  3. গ) n-p-n junction
  4. ঘ) AND gate
ব্যাখ্যা
- রেক্টিফায়ার এর কাজ হলো  AC কে DC তে পরিবর্তন করা ।

- রেক্টিফায়ার এর অপর নাম হলো ডায়োড / p-n junction 

- p-n-p junction এবং n-p-n junction হলো ট্রানজিস্টর যার কাজ হলো দুর্বল সংকেত কে শক্তিশালী সংকেত এ রুপান্তরিত করা ।

- AND gate  এর কাজ হলো বাইনারি গুণের কাজ করা ।

উৎস: একাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই, শাহজাহান তপন স্যার।
৪,২১২.
চাক্রিক অ্যালকেনকে পেট্রোলিয়াম শিল্পে কী বলে?
  1. ক) ন্যাপথালিন
  2. খ) কলিচুন
  3. গ) সিরকা
  4. ঘ) নিশাদল
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম:
- ল্যাটিন শব্দ ‘পেট্রো’ অর্থ পাথর এবং ‘অলিয়াম’ অর্থ তেল। এ দুটি শব্দ থেকে পেট্রোলিয়াম শব্দের উৎপত্তি।
- পেট্রোলিয়াম শব্দের অর্থ পাথুরে তেল।
- ভূ-অভ্যন্তরের বিভিন্ন গভীরতায় ৫০০০-১৫০০০ ফুট বা তার চেয়েও বেশি গভীরতায় কঠিন শিলাস্তরের মাঝে উচ্চ তাপ ও চাপে পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদান সঞ্চিত থাকে।
- উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক প্রাণির দেহাবশেষ হাজার হাজার বছর পরিবর্তিত হয়ে এ জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে।
- পেট্রোলিয়াম হচ্ছে হাইড্রোকার্বনসহ শতাধিক যৌগের একটি জটিল মিশ্রণ।
- এর প্রধান উপাদান হিসেবে অ্যালকেন, চাক্রিক অ্যালকেন ও অ্যারোমেটিক যৌগ।
- এছাড়াও সামান্য পরিমাণে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও সালফার যৌগ পেট্রোলিয়ামে উপস্থিত থাকে।
- চাক্রিক অ্যালকেনকে পেট্রোলিয়াম শিল্পে ন্যাপথালিন বলে।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২১৩.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণ করা যায়?
  1. ক্রনোমিটার
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. অ্যাটমোমিটার
  4. অডিওমিটার
ব্যাখ্যা
ক্রনোমিটার (Chronometer):
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।
- বাষ্পীভবনের হার মাপার যন্ত্র অ্যাটমোমিটার।
- শ্রাব্যতা মাপার যন্ত্র মাপার যন্ত্র অডিওমিটার।
- বায়ুচাপ বলোমিটার(bolometer) - তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ মাপার যন্ত্র ক্যালোরিমিটার।
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব মাপার যন্ত্র ল্যাক্টোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- ধাবমান বস্তুর গতি/বেগ মাপার যন্ত্র স্পিডোমিটার।
- রক্ত চাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগোমোম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
৪,২১৪.
প্রিজমে পতিত আলো সাধারণত-
  1. ক) প্রতিফলিত হয়
  2. খ) বিকরিত হয় না
  3. গ) বিকরিত হয়
  4. ঘ) প্রতিসরিত হয়
ব্যাখ্যা

সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশ্লিষ্ট হয়। প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে।
বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়।
কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। অর্থাৎ, প্রিজমে আলো প্রতিসরিত হয়।
প্রিজম যে দুটি তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে, তাকে প্রিজমের প্রতিসারক তল বলে। 
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪,২১৫.
কম্পোজিট কণিকা কোনটি? 
  1. ইলেকট্রন 
  2. প্রোটন 
  3. আলফা কণিকা 
  4. পাইওন 
ব্যাখ্যা

পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে। 
- প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। 
যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়। 
- মূল উপাদানরূপে যেসব অতি সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা তিন প্রকার। 
যথা: 
১। স্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
- স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

২। অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। 
- অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়। 

৩। কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। 
যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৪,২১৬.
কোনটির মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয় না?
  1. ক) পোলোনিয়াম
  2. খ) টাইটেনিয়াম
  3. গ) প্লোটোনিয়াম
  4. ঘ) কার্বন - ১৪
ব্যাখ্যা
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪, পোলোনিয়াম-৮৪ ইত্যাদি।

কার্বন মৌলের ৬ টি প্রােটন ও তিনটি আইসােটোপ রয়েছে- কার্বন-১২, কার্বন-১৩ ও কার্বন-১৪।
এই তিনটির মধ্যে কার্বন-১৪ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। এতে ৬টি প্রােটন ও ৮টি নিউট্রন রয়েছে।
কার্বন-১৪ (14) ব্যবহৃত হয় মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স হিসাব করতে।
টাইটেনিয়ামে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয় না।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই এবং নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বই (উন্মুক্ত)
৪,২১৭.
কোনটি এক্সরের ধর্ম নয়?
  1. আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
  2. এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে না।
  3. এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
  4. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
ব্যাখ্যা
• এক্স-রে :
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।

• এক্স-রে এর ধর্ম:
১. এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২. এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩. এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪. এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫. এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬. আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭. এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮. এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯. এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০. এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১. এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২. এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩. এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২১৮.
জেনারেটরে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়?
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. স্থায়ী চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক
  4. সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা

• জেনারেটরে সাধারণত স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় না। জেনারেটরে মূলত চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে অস্থায়ী চুম্বক বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়। ইলেক্ট্রোম্যাগনেট তৈরি হয় লোহা বা লৌহকাঠের সলিড কোরের চারপাশে কয়েল ওয়্যার ঘোরানোর মাধ্যমে, যেখানে বৈদ্যুতিক ধারা প্রবাহিত করলে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয়। এটি শক্তিশালী এবং নিয়ন্ত্রিত চৌম্বক ক্ষেত্র প্রদান করতে সক্ষম, যা ঘূর্ণমান রটার বা কুণ্ডলীর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। তাই, জেনারেটরে সাধারণভাবে অস্থায়ী চুম্বক (ইলেক্ট্রোম্যাগনেট) ব্যবহার করা হয়, যা চাহিদা অনুযায়ী চালু-বন্দ করতে বা চুম্বকীয় শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধাজনক।

- সঠিক উত্তর: ক) অস্থায়ী চুম্বক।

কৃত্রিম চুম্বক: কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক।
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২১৯.
নিউটনের গতির প্রথম সূত্র কী নামে পরিচিত?
  1. জড়তার সূত্র
  2. ত্বরণের সূত্র
  3. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র
  4. মহাকর্ষের সূত্র
ব্যাখ্যা

◉ নিউটনের প্রথম সূত্র:
“কোনো বস্তুর উপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ না হলে, স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং গতি সম্পন্ন বস্তু একই বেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।”
এই সূত্রকে “জড়তার সূত্র (Law of Inertia)” বলা হয়।

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 

সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বলের সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২২০.
ক্ষমতার এস.আই একক কোনটি?
  1. জুল
  2. নিউটন
  3. ওয়াট
  4. কিলোওয়াট
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতা হলো কাজ করার হার বা শক্তি স্থানান্তরের হার। আন্তর্জাতিক একক ব্যবস্থায় (S.I) ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট (W), যা প্রতি সেকেন্ডে এক জুলের (J) সমান (1 W = 1 J/s)

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
• ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, ক্ষমতা = (বল × সরণ)/সময় 
বা, ক্ষমতা = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 হর্স পাওয়ার (H.P) = 746 ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে ML2T -3

অন্যদিকে, 
- জুল (Joule) কাজ বা শক্তির এস.আই একক। 
- নিউটন (Newton) বলের এস.আই একক। 
- কিলোওয়াট (Kilowatt) ক্ষমতার একটি একক, তবে এটি ওয়াটের চেয়ে বড় একটি প্রায়োগিক একক (১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২২১.
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কী?
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. ট্যাকোমিটার
  3. অ্যালটিমিটার
  4. হাইড্রোমিটার
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্র:
- স্থলভাগের প্রকৃতি যেমন বন্ধুর সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপও তেমন বন্ধুর প্রকৃতির।
- শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার।

উল্লেখ্য,
- উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র-  অ্যালটিমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম - সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - রিখটার স্কেল।
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার
- রক্তের চাপ মাপক যন্ত্র - স্ফিগমেমোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র - ল্যাকটোমিটার।
- তাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম - ক্যালরিমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,২২২.
CNG- শব্দ-সংক্ষেপের পূর্নরূপ-
  1. ক) Compressed Natural Gas
  2. খ) Carbonated Nitrogen Gas
  3. গ) Complete Natural Gas
  4. ঘ) None of above
ব্যাখ্যা
CNG - Compressed Natural Gas
৪,২২৩.
0° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) 330m/s
  2. খ) 340m/s
  3. গ) 335m/s
  4. ঘ) 0m/s
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ: 
- শব্দ প্রতি একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের বেগ বলে।

বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ উৎপন্ন হয় কম্পনের ফলে।
- শব্দ একধরনের শক্তি যা আমাদের কানে শ্রবণের অনুভূতি জোগায়।
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না। চাঁদে বায়ু না থাকায় চাঁদে কথা বললে শোনা যায় না।
- দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়।
- ০° তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে। মাধ্যমের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। যেমন: পানিতে শব্দের বেগ ১৮৯৩ মি/সে এবং লোহায় ৫১৩০ মি/সে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই।
৪,২২৪.
​ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ কোনটি? 
  1. রূপা 
  2. পানি 
  3. লোহা 
  4. অক্সিজেন 
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে।
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে।
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে।
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না।

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না।
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়।
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে।
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না।

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে, কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না।
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২২৫.
আলোর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে কত কিলোমিটার?
  1. ক) ২ লক্ষ কিলোমিটার
  2. খ) ৩ লক্ষ কিলোমিটার
  3. গ) ৪ লক্ষ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৮ লক্ষ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

আলো এক প্রকার শক্তি, যা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে।
SI এককের সংজ্ঞা অনুসারে আলোর দ্রুতি প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার ।
উৎস: নবম অধ্যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই

৪,২২৬.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড নয় কোনটি? 
  1. অলিয়িক এসিড 
  2. স্টিয়ারিক এসিড 
  3. পামিটিক এসিড 
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড।

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৪,২২৭.
শব্দের তীব্রতা এবং তরঙ্গের বিস্তার কিভাবে সম্পর্কিত?
  1. তীব্রতা বিস্তারের বিপরীত
  2. তীব্রতা সরাসরি এক ধরনের বিস্তার
  3. তীব্রতা বিস্তারের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২২৮.
গোয়েন্দা বিভাগে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) এক্স রশ্মি
  2. খ) গামা রশ্মি
  3. গ) বিটা রশ্মি
  4. ঘ) বেকেরেল রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্স রে
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- রঞ্জনরশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩x১০১৬ থেকে ৩x১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়।

এক্স রে এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি ব্যবহৃত হয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২২৯.
E = mc2 কে কোন সমীকরণ বলা হয়?
  1. তাপগতিবিদ্যার সমীকরণ 
  2. কৃষ্ণ বস্তুর সমীকরণ 
  3. ভর-শক্তির সমীকরণ 
  4. ভর-বেগের সমীকরণ
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass Energy Relation): 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। 
- এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
- অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়।

ভর-শক্তি সমীকরণ: 
- E = mcকে ভর-শক্তির সমীকরণ বলা হয়।
- এটিই আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লীয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তির সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
- অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজাগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৩০.
কোন বৈশিষ্ট্য এক্সরে-কে অন্য রশ্মি থেকে আলাদা করে? 
  1. এটি আলোর সমবেগে যায় না 
  2. এটি দৃশ্যমান 
  3. এটি আলোর মতো প্রতিসরণ করে না 
  4. এটি তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

এক্সরের ধর্ম (Properties of X-ray): 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এক্সরে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না, সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৩১.
যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়- 
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোটোন 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

◉ যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা (Mass number) সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়, তাদেরকে আইসোবার (Isobar) বলা হয়।

আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

অন্যদিকে, 
আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।

আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৩২.
পতিত জমিতে নিম্নের কোন উপাদান মিথেন উৎপাদন করে?
  1. ক) ন্যাপথালিন
  2. খ) লেবাইল জৈব কার্বন
  3. গ) ইথাইল ব্রোমিন
  4. ঘ) ফার্মামেন্ট
ব্যাখ্যা
- মিথেন হলো কৃষির কারণে নির্গত আরেকটি গ্রিনহাউস গ্যাস। 
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ জমিতে ধানচাষ হয়। 
- ধান চাষাবাদের কারণে একদিকে যেমন গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরিত হয়, তেমনি ধানগাছ তার শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ফর্মে এসব গ্যাস শোষণ করে থাকে। 
- তা ছাড়া ধানের জমি থেকে নিঃসরণকৃত গ্যাস আধুনিক ও ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তার সিংহভাগ প্রশমন করা সম্ভব।
- গবেষণায় দেখা গেছে, ধান চাষাবাদে ধানগাছ মাত্র ৫-১০% মিথেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে বাকি ৯০-৯৫% মিথেন মাটি থেকে আসে। 
- জলাবদ্ধ জমিতে লেবাইল জৈব কার্বন  (Labile organic carbon) এবং মিথানোজেনিক ব্যাক্টেরিয়া মিথেন উৎপন্ন করে। 
- অতএব, দেখা যায়, ধান চাষের চেয়ে পতিত জমি মিথেন নিঃসরণের জন্য বেশি দায়ী।

উৎস: www.ais.gov.bd
৪,২৩৩.
একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায়-
  1. 1840 গুণ ভারী
  2. 1840 গুণ হালকা
  3. 1640 গুণ হালকা
  4. 1640 গুণ ভারী
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- এর ভর অতি সামান্য, একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e-
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C. 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৩৪.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ফাইবার অপটিক্স কিসের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ করে?
  1. তড়িৎ প্রবাহ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. আলোক সংকেত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়, যা পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে।

• ফাইবার অপটিক্স এর কাজের প্রক্রিয়া:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে (light signal) রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
৪,২৩৫.
সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) সালফার
  2. খ) জিপসাম
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ ব্যবহার
সিলভার - গহনা ও ধাতব মুদ্রা তৈরিতে।
মাইকা - বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে।
কোয়ার্টজ - কাচ, সিরিচ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে।
জিপসাম - সিমেন্ট ও প্লাস্টার অফ প্যারিস তৈরীর কাঁচামাল।
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।

৪,২৩৬.
প্লাস্টার অফ প্যারিস বলা হয়-
  1. শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট
  2. শুষ্ক ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম সালফেটের অণুকে
  4. দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অণুকে
ব্যাখ্যা
• প্লাস্টার অফ প্যারিস (Plaster of Paris - POP) হলো শুষ্ক ক্যালসিয়াম সালফেট।
- এটি ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট বা জিপসাম (Gypsum) কে গরম করে পানি মুক্ত করলে তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
- শুষ্ক ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) → এটি চুনাপাথর (Limestone) বা মার্বেল নামে পরিচিত।
- দুই অণু পানি সহযোগে গঠিত ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO₄·2H₂O) → এটি জিপসাম (Gypsum), যা POP তৈরির মূল উপাদান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,২৩৭.
১ ডিগ্রি সেলসিয়াস সমান কত ডিগ্রি ফারেনহাইট?
  1. ৩২.৬
  2. ৩২.৪
  3. ৩২.৮
  4. ৩৩.৮
ব্যাখ্যা
• ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস = ৩৩.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
- C/5 = (F-32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]।
এখানে,
1/5 = (F-32)/9
∴ F = 33.8 

উল্লেখ্য,
- -40 ডিগ্রিতে সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,২৩৮.
অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে কী বলা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. FET
  3. রেকটিফায়ার
  4. অ্যামপ্লিফায়ার 
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: অর্ধপরিবাহী ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক উপাদান যা কেবলমাত্র একদিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহকে বাধা দেয়।
- এই একমুখী প্রবাহের ধর্মের কারণে ডায়োড AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) তে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়। তাই, অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে রেকটিফায়ার বলা হয়।

ডায়োড সাধারণত দুটি স্তরবিশিষ্ট অর্ধপরিবাহী দ্বারা তৈরি হয়:
- P-type (ধনাত্মক স্তর)
- N-type (ঋণাত্মক স্তর)
- সংযুক্ত অবস্থায় এটি PN জংশন তৈরি করে, যা রেকটিফায়ার ক্রিয়ার জন্য দায়ী।

ট্রানজিস্টর: তিন স্তরের (PNP বা NPN) যন্ত্র, যা প্রবাহ বৃদ্ধি (amplification) বা সুইচিংয়ে ব্যবহৃত হয়।
FET (Field Effect Transistor): এটি একটি বিশেষ ধরণের ট্রানজিস্টর, সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
অ্যামপ্লিফায়ার: এটি সিগন্যাল বৃদ্ধি করে, কিন্তু ডায়োড নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৪,২৩৯.
রাবার কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়? 
  1. ওজোন 
  2. পানি 
  3. অ্যামোনিয়া 
  4. মিথেন 
ব্যাখ্যা

রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার কর, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবকে (যেমন-এসিটোন, মিথানল) অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী, তবে আজকাল বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে। কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, কারণ রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২৪০.
নিচের কোনটি স্ল্যাক লাইম নামে পরিচিত? 
  1. CaO
  2. CaCO3
  3. CaCl2
  4. Ca(OH)2
ব্যাখ্যা
- চুনে পানি যোগ করার ফলে, চুন ও পানির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন হয়। 
CaO + H2O → Ca(OH)2
অর্থাৎ, ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি →  ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
- উৎপন্ন Ca(OH)2 স্ল্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত
- এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে।
- স্ল্যাক লাইম বা Ca(OH)2 পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
- আর পানিতে Ca(OH)2 এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৪,২৪১.
পিঁপড়ার কামড়ে কোন এসিড থাকে?
  1. টারটারিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. ফরমিক এসিড
  4. এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক এসিড থাকে।
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৪,২৪২.
কোন পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়?
  1. কঠিন পদার্থ
  2. তরল পদার্থ
  3. গ্যাসীয় পদার্থ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে কম এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সর্বাধিক থাকে। 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন অবস্থায় অণুর স্থানান্তর ও আবর্তন গতি প্রায় থাকে না; তবে অণুসমূহের কম্পন গতি থাকে। 
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়লে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কিছুটা বাড়ে ও অণুর কম্পন বাড়ে; সেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কঠিন পদার্থের আয়তন কিছুটা বাড়ে, তবে এ বৃদ্ধি খুবই কম। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ ও অণুর স্থানান্তর গতি প্রায় সমান থাকে। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- কিন্তু যেহেতু তরল অবস্থাতেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে থাকে; সেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ালে অণুসমূহের স্থানান্তর, আবর্তন ও কম্পন গতি বৃদ্ধি পায়, তাই তরল পদার্থের আয়তনও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে। 
- কিন্তু এক্ষেত্রেও আয়তন বৃদ্ধি খুব বেশি নয়; কেননা, তিন প্রকার গতি বৃদ্ধি পেলেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে অবস্থান করে। 
- তবে তরল পদার্থের অণুসমূহ কঠিন পদার্থের তুলনায় কম সুশৃঙ্খল থাকে। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে। 
- তাই গ্যাসীয় অবস্থায় অণুসমূহ সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে। 
- তখন অণুসমূহ অধিকতর কম্পন, আবর্তন ও স্থানাস্তর গতি সহকারে আন্তঃআণবিক আকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তভাবে চলাচল করে। 
- তখন অণুসমূহ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 
- তাই গ্যাসের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই। 
- যেহেতু অণুসমূহ আর পরস্পরের নিকটে থাকে না, সেহেতু গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন কঠিন বা তরল অবস্থা থেকে অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৪,২৪৩.
একটি ক্যাপাসিটরের মূল কাজ কী?
  1. বিদ্যুৎ প্রবাহকে বাধা দেওয়া
  2. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
  3. বিদ্যুৎ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করা
  4. বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা
ব্যাখ্যা

◉ ধারক (Capacitor) হলো একটি ইলেকট্রনিক উপাদান, যা বৈদ্যুতিক চার্জ (Electric Charge) সংরক্ষণ করতে পারে।

ধারক (Capacitor):
- যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- এটি দুটি পরিবাহী প্লেটের মধ্যে একটি ডাই-ইলেকট্রিক (Non-conductive insulating material) পদার্থ দ্বারা গঠিত হয়।
- যখন ক্যাপাসিটরের দুই প্লেটে ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি চার্জ জমা করে এবং প্রয়োজনে সেই চার্জ সরবরাহ করতে পারে।

ধরকের কাজ: 
- এটি চার্জ ধরে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ে চার্জ মুক্ত করতে পারে।
- এটি AC প্রবাহকে পার করতে দেয়, কিন্তু DC প্রবাহকে বাধা দেয়।
- পাওয়ার সার্কিটে সার্কিটের সঠিক ভোল্টেজ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,২৪৪.
নিচের কোনটি বেকিং পাউডার হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম বাই কার্বনেট আর আর্দ্র রূপ
  2. সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট এর শুষ্ক রূপ
  3. সোডিয়াম কার্বনেট
  4. সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট হলো খাবার সোডা বা বেকিং সোডা।
- সোডিয়াম কার্বনেট হলো কাপড় কাচার সোডা
- সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ হলো বেকিং পাউডার।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,২৪৫.
________ছাড়া আধুনিক জীবনযাপন অসম্ভব।
  1. ক) গাড়ী
  2. খ) মোবাইল ফোন
  3. গ) বিদ্যুৎ
  4. ঘ) ফ্যাশন
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবনযাপন অসম্ভব।
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটিক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ-এর প্রয়োগ দেখা যায়।
- দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি সেটি হচ্ছে চল বিদ্যুৎ।
- বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট আলোকিত করা, কলকারখানা, ট্রাম, ট্রেন, পাখা সবকিছুর জন্য বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন।
- টেলিভিশন, রেডিও, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ প্রভৃতি সচল রাখতে বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন।
- এসবক্ষেত্রে বিদ্যুৎকে আলোকশক্তি, তাপশক্তি, যান্ত্রিক শক্তি ইত্যাদিতে রূপান্তর করা হয়।
- সুতরাং বিদ্যুৎ এক প্রকার শক্তি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৪৬.
কোন যৌগটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ধন গঠন করে?
  1. ক) ইথানল
  2. খ) ইথার
  3. গ) পানি
  4. ঘ) বিউটেন
ব্যাখ্যা
পানির অণু, H2O:
- দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রত্যেকে তাদের একটি করে ইলেকট্রন দিয়ে অক্সিজেনের একটি ইলেকট্রন শেয়ার করলে অক্সিজেন পরমাণুটি তার শেষ কক্ষপথে আটটি এবং উভয় হাইড্রোজেন পরমাণু তাদের একমাত্র কক্ষপথে দুটি করে ইলেকট্রন পেয়ে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মত সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস (হিলিয়ামের মত) অর্জন করতে পারে। 
- ফলে একটি অক্সিজেন পরামানু দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে দুই জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে দুটি সমযোজী বন্ধন গঠন করে এবং এভাবে H2O অণু সৃষ্টি হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৪৭.
উড়োজাহাজের মডেল তৈরি করেছিলেন কে?
  1. রবার্ট বয়েল
  2. রবার্ট হুক
  3. বিজ্ঞানী হাইগেনস
  4. লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি
ব্যাখ্যা
- লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি ছিলেন মূলত একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। 
- তিনি উড়োজাহাজের মডেল তৈরি করেছিলেন। 

অন্যদিকে, 
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 
- জার্মানীর বিজ্ঞানী স্নেল প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। 
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী রবার্ট বয়েল গ্যাসের সূত্র আবিস্কার করেন। 
- রোমার বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাণ করেন, যা তখনকার বিজ্ঞানীদের নিকট গ্রহণযোগ্য ছিল না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৪৮.
নিচের কোনটি কৃত্রিম পলিমারের উদাহরণ? 
  1. উল 
  2. সিল্ক 
  3. পলিস্ট্যারিন 
  4. রেশম 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়। 
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়। 
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল-আলু এ সব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৪৯.
পানি কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে?
  1. ক) ০°C
  2. খ) ৪°C
  3. গ) ৫০°C
  4. ঘ) ১০০°C
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন।
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।  আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক।
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
- পানির স্ফুটনাংক হলো ১০০° সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৫০.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে তাপ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. মোটর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. ডায়নামো
  4. লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা
• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
- কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়।
- এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়।
- যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়।
- আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
- এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

অন্যদিকে,
- মোটর বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ বিভব বাড়ান কমানোর কাজ করে।।
- লাউড স্পিকার বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৫১.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী কেপলার।
  3. গ) সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ।
  4. ঘ) কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ:

- পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
- অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
- অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
- অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
- মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
- অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।

মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ।
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।

• সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
• গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৫২.
নিম্নের কোন বৈশিষ্ট্যটি শব্দ তরঙ্গের ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ এবং মাধ্যমে কণার সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
  2. শব্দ আড় তরঙ্গ এবং কণার উপর-নিচ স্পন্দনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
  3. শব্দ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হয়
  4. শব্দ কেবল তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
ব্যাখ্যা

• শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, যা মাধ্যমে কণার সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• শব্দ ও শব্দের উৎপত্তি:
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভূত হয়।
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়।
- কম্পন বন্ধ হলে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়।
- শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং অনুদৈর্ঘ্য প্রকৃতির।

• শব্দ সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য বস্তুগত মাধ্যম প্রয়োজন।
- কম্পনশীল বস্তু সংলগ্ন মাধ্যমের কণায় সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি করে।
- এই সংকোচন-প্রসারণ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- মাধ্যমের কণাগুলো সামনের-পেছনের দিকে স্পন্দিত হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয় না।
- শব্দ শূন্য মাধ্যমে সঞ্চালিত হয় না।

• শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- শব্দ যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি, ঘনত্ব, তাপমাত্রা ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল।
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও অপবর্তন ঘটাতে পারে।
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৫৩.
বেকিং পাউডারের মূল উপাদানের হচ্ছে:
  1. NaHCO3
  2. CaCO3
  3. (NH4)2CO3
  4. NH4HCO3
ব্যাখ্যা

• বেকিং পাউডারের মূল উপাদান হলো NaHCO3 (সোডিয়াম বাইকার্বনেট), অর্থাৎ সঠিক উত্তর ক)। বেকিং পাউডার সাধারণত সোডিয়াম বাইকার্বনেট, একটি অম্লীয় লবণ (যেমন টারটারিক অ্যাসিড) এবং শোষক পদার্থের মিশ্রণ। NaHCO3 উত্তাপ বা অম্লের সংস্পর্শে এলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাসের কারণে কেক, পাউরুটি বা বিস্কুট ফুলে ওঠে ও নরম হয়।

বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 

- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডা বা বেকিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O, 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৫৪.
কোন বিজ্ঞানী পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেন? 
  1. কেপলার
  2. নিউটন
  3. গ্যালিলিও
  4. আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): 
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৫৫.
নিচের কোন রাশির ধারণা নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র থেকে পাওয়া যায়? 
  1. কাজ
  2. শক্তি
  3. জড়তা
  4. ভরবেগ
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতি সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৫৬.
একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে কয়টি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৫৭.
আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
  1. প্লাঙ্ক
  2. নিউটন
  3. হাইগেন
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব: ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিয় শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৫৮.
বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড কত সালে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন? 
  1. ১৯০৮ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল: 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সোলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলা হয়। 
- এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। 
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৫৯.
ত্বরণ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1. বস্তুর ভর 
  2. বস্তুর বেগের মান 
  3. সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হার 
  4. বস্তুর অবস্থার পরিবর্তনের হার 
ব্যাখ্যা

ত্বরণ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। 
- ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো বস্তুর ত্বরণ জানতে হলে বস্তুটির বেগের পরিবর্তনের হার এবং উক্ত পরিবর্তনের দিক উভয়ই জানতে হয়। 

গড় ত্বরণ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে বেগের যে পরিবর্তন হয় তাকে বস্তুটির গড় ত্বরণ বলে। 
- কোনো নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে, বস্তুর বেগের যে পরিবর্তন হয় তাকে উক্ত সময় ব্যবধান দিয়ে ভাগ করলে গড় ত্বরণ পাওয়া যায়। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমত্বরণ: 
- কোনো গতিশীল বস্তুর ত্বরণ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমত্বরণ বলে। 
- এক্ষেত্রে ত্বরণের মান ও দিক উভয়ই ধ্রুব থাকতে হবে। 
- মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ সমত্বরণের একটি বাস্তব উদাহরণ। 

অসম ত্বরণ: 
- কোনো গতিশীল বস্তুর সময়ের সাথে যখন ত্বরণ ভিন্ন হয় তখন তাকে অসম ত্বরণ বলে। 
- ত্বরণের মান বা দিক কিংবা মান এবং দিক উভয়ের পরিবর্তনের জন্য অসম ত্বরণ সৃষ্টি হতে পারে। 
যেমন- বাস, ট্রেন, মোটগাতি ইত্যাদির ত্বরণ অসম ত্বরণের উদাহরণ। 
অর্থাৎ, গতিশীল প্রায় বস্তুর ত্বরণই অসম ত্বরণ। 

মন্দন: 
- সময়ে সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। 
অর্থাৎ, একক সময়ে গতিশীল বস্তুকণার বেগের পরিবর্তন কমতে থাকলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে মন্দন বলে। 
- মন্দনের একক ও মাত্রা ত্বরণের অনুরূপ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৬০.
Which nuclei have the same number of neutrons but different mass numbers?
  1. Isobar
  2. Isotone
  3. Isomer
  4. Isotope
ব্যাখ্যা
আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৬১.
এসিড সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য?
  1. pH মান 7-এর বেশি
  2. স্বাদ তিক্ত
  3. ধাতুর সাথে বিক্রিয়ায় CO2 উৎপন্ন করে
  4. নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
ব্যাখ্যা

◉ এসিড সাধারণত নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। 

এসিড: 
এসিড হলো সেই পদার্থ, যা জলে দ্রবীভূত হয়ে H+ (প্রোটন বা হাইড্রোজেন আয়ন) উৎপন্ন করে।

এসিডের ধর্ম: 
১। প্রায় সকল এসিড টক স্বাদযুক্ত। 
২। এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩। এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে। 
৪। এসিড ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
৫। ধাতব কার্বনেট বা হাইড্রোজেন কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে থাকে। 
৬। pH মান 7-এর কম হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,২৬২.
তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয় কেন? 
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
  2. খুব দ্রুত চার্জের ভারসাম্য বজায় রাখতে
  3. আয়নগুলো দ্রবণের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করতে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
লবণ সেতু: 
- ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন এর আয়নীয় গতিবেগ সমান এমন একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের জলীয় দ্রবণে আগর আগর জেলি মিশিয়ে উত্তপ্ত করে পরে ঠান্ডা করে লবণ সেতু বা সল্ট ব্রিজ তৈরি করা হয়। 
- লবণ সেতু ছাড়া যদি কোনও পূর্ণাঙ্গ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ তৈরি করা হয়, তবে একটি দ্রবণ দ্রুত ধনাত্মক চার্জ সংগ্রহ করবে এবং অন্যটি নেগেটিভ চার্জ জমা করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন থামিয়ে দেবে। 
- লবণ সেতুর উদ্দেশ্য হলো বৈদ্যুতিক রাসায়নিক বিক্রিয়াকে খুব দ্রুত ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে বিরত রাখা। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয়। 
- লবণ সেতুর লবণের আয়নগুলো তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষের উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলাচল করে। 
- আয়নগুলো দ্রবণের সাথে কোন প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। 
- জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ঋণাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- একইভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ঋণাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ধনাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৪,২৬৩.
নিচের কোনটি অভিকর্ষজ ত্বরণ g-কে সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
  1. পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বস্তুতে অনুভূত বেগ বৃদ্ধির হার
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
  3. সূর্যের চারপাশে গ্রহের কক্ষপথে বেগ বৃদ্ধির হার
  4. বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ বা প্রতিরোধের কারণে বেগ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- প্রত্যেকটি বস্তুকে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরের যেকোনো উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে তা নিচের দিকে পড়তে থাকে বা গতিশীল হয়।
- যতই নিচে নামে বলের প্রভাবে বস্তুর গতি তত বৃদ্ধি পেতে থাকে বা ত্বরণ হয়।
- নিউটনের সূত্র থেকে আমরা জানি বস্তুর উপর বল প্রয়োগে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- তাই অভিকর্ষ বলের প্রভাবে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ বেগ বৃদ্ধির হার সুতরাং এর একক ms- 2 এবং এর মাত্রা LT-2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৬৪.
কোন বস্তুর রং কালো দেখায় কারণ-
  1. ক) মেলানিনের উপস্থিতির কারণে
  2. খ) আলোর বেগুনি রশ্মি শোষণ করে
  3. গ) আলোর লাল ও হলুদ রশ্মি শোষণ করে
  4. ঘ) আলোর সব রশ্মিই শোষণ করে
ব্যাখ্যা

কোন বস্তুর রং সাদা দেখায় কারণ ঔ বস্তুটি সবগুলো আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলন করে।
একই কারণে বরফকেও সাদা দেখায়।

আবার কোন বস্তুর রং লাল দেখায় কারণ বস্তুটি লাল ছাড়া সব আলোর রশ্মিই শোষণ করে নেয়, শুধু লাল আলোর রশ্মিই প্রতিফলন করে।
কোন বস্তুর রং কালো দেখায় কারণ বস্তুটি সবগুলো আলোর সব রশ্মিই শোষণ করে নেয়, আলোর কোন রশ্মিই প্রতিফলন করে না।

৪,২৬৫.
গামা রশ্মি বিকিরণে নিচের কোনটি পরিবর্তিত হয়?
  1. প্রোটন সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এবং এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল গামা রশ্মি নির্গত করে থাকে।
- এটি নির্গমনের সাথে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো ভর নেই।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. নাসা ওয়েবসাইট।
২. পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৬৬.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. মশা
  2. পিঁপড়া
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৬৭.
স্টিফেন হকিং তাঁর কোন বইতে বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন?
  1. ক) The Grand Design
  2. খ) The Universe in a Nutshell
  3. গ) A Brief History of Time
  4. ঘ) The Explosion of Universe
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
তাঁর রচিত বইসমূহ-
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell
- The Grand Design, ইত্যাদি। 

- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.

সূত্র: ব্রিটানিকা
৪,২৬৮.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা-
  1. -1
  2. 0
  3. +1
  4. +2
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়:

- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল।
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2. 

তথ্যসূত্র - রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৬৯.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. লেড সঞ্চয়ী কোষ
  2. ড্যানিয়েল কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪,২৭০.
জাল টাকার নোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয় কোন রশ্মি?
  1. IR-Ray
  2. X-Ray
  3. y-Ray
  4. UV-Ray
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি: 
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে। 
- অতিবেগুনী রশ্মি এক ধরনের তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ছোটো এবং রঞ্জন রশ্মির চেয়ে বড়। 
- এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ ন্যানোমিটার থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার এবং শক্তি ৩ ইলেকট্রন-ভোল্ট থেকে ১২৪ ইলেকট্রন-ভোল্ট। 
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না। 
 - প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না। এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়। 
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি। 
 
উৎস: দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা এবং ব্রিটানিকা।
৪,২৭১.
জাল টাকা শনাক্তকরণে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. এক্সরে
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. অতিবেগুনী রশ্মি
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি:
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে।
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)।
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি।
- সূর্য রশ্মি এই বিকিরণের প্রধান উৎস।
- এই রশ্মি আমাদের শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে।
- তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়।
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উল্লেখ্য,
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না।
- প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না।
- এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়।
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি।

উৎস: i) Britannica.
ii) উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৭২.
কোনো স্থানে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ৯ গুণ বাড়বে
  2. ৯ গুণ কমবে
  3. ৩ গুণ বাড়বে
  4. ৩ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল মধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। 
৪,২৭৩.
বিটা কণিকার ভর হচ্ছে:
  1. 9.9 × 1031 kg
  2. 9.1 × 10-19 kg
  3. 9.1 × 10-31 kg
  4. 9.4 × 10-28 kg
ব্যাখ্যা

• বিটা কণিকা মূলত একটি ইলেকট্রনের সমতুল্য পারমাণবিক কণিকা। ইলেকট্রনের ভর খুবই ছোট, যা প্রায় 9.1 × 10-31 kg কিলোগ্রাম। এটি এটমের ভরের তুলনায় প্রায় অতি ক্ষুদ্র। 

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:

- বিটা কণিকা খুব হালকা।
- এর ভর 9.1×10-31 kg।
- এরা ঋণাত্নক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6×10-19 কুলম্ব ।
- তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়।
- এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম ।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী ।
- জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৭৪.
মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. কপার সালফেট
  3. ইথানয়িক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte): 
- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 

তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Strong Electrolyte): 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Weak Electrolyte): 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৭৫.
পেট্রোলিয়ামে শতকরা কত ভাগ কেরোসিন থাকে? 
  1. ৬ ভাগ
  2. ৫ ভাগ
  3. ১৮ ভাগ
  4. ১৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়। 
- পেট্রোলিয়ামের সাথে অনেক সময় প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে, যা পেট্রোলিয়ামের উপরিভাগে চাপ প্রয়োগ করে। 
- কূপ খনন করা হলে এই প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়ামকে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসতে সাহায্য করে। 
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বা পেট্রোলিয়াম বলে। 
- এই অপরিশোধিত তেল অস্বচ্ছ, এতে কখনো কখনো সালফারের কিছু কিছু যৌগ থাকার কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 
- পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, এদের স্ফুটনাঙ্কও বিভিন্ন। 
- এই পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এই অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাঙ্কের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়। 
- অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের উপযুক্ত নয়, কিন্তু একে যদি আংশিক পাতনের সাহায্যে পৃথক করা হয় তবে এ অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, ন্যাপথা, কেরোসিন, ডিজেল, প্যারাফিন মোম এবং পিচ প্রভৃতি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়, যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। 

কেরোসিন: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 121°C থেকে 170°C পর্যন্ত। 
- এ অংশে যে সকল হাইড্রোকার্বন থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 11 থেকে 16 পর্যন্ত। 
- পেট্রোলিয়ামে শতকরা ১৩ ভাগ কেরোসিন থাকে। 
- পেট্রোলিয়ামের এই অংশকে জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৭৬.
দুটি ভিন্ন বিভবে আহিত বস্তুকে একই সাথে স্পর্শ করলে শরীরের ভিতর দিয়ে কোনটি ঘটবে?
  1. ক) শুধু নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  2. খ) নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  3. গ) উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  4. ঘ) শুধু উচ্চ বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
ব্যাখ্যা
স্থির তড়িতের বিপদ থেকে রক্ষার কৌশল:  
- উচ্চ বা ধনাত্মক আধানে আহিত কোনো বস্তুর বিভব পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভব থেকে বেশী (কারণ পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভবকে শূন্য ধরেই উচ্চ বা নিম্ন বিভব বিবেচনা করা হয়)।
- আবার নিম্ন বা ঋণাত্মক আধানে আহিত কোনো বস্তুর বিভব পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভব থেকে কম। বিভব কম বা বেশী যাই হোক না কেন ভূ-সংযোগ করলে আধান প্রবাহিত হবে। 
- সুতরাং যে কোনো আহিত বস্তুকে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে শরীরের মধ্য দিয়ে ভূমিতে আধান প্রবাহিত হবে (মানব দেহ তড়িৎ পরিবাহী) একে আমরা শক্ লাগা বলি। আধান প্রবাহ অর্থাৎ তড়িৎ প্রবাহ বেশী হলে মানব দেহের জন্য বিপদজ্জনক এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
- ভেজা শরীর আরো বেশী তড়িৎ পরিবাহী। সেজন্য ভেজা শরীরে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে আরো দ্রুত তড়িৎ প্রবাহ হয় বলে প্রবাহের মাত্রা আরো বেড়ে যায়, ফলে আরো বেশী বিপদজ্জনক।
- দুটি ভিন্ন বিভবে আহিত বস্তুকে একই সাথে স্পর্শ করলে শরীরের ভিতর দিয়ে উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে। সে ক্ষেত্রেও শক্ লাগতে পারে।
- সুতরাং স্থির তড়িৎ নিয়ে কাজ করার সময় কতকগুলি সতর্কতা বা কৌশল অবলম্বন করা উচিৎ যেন আমাদের শরীরের ভিতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ না হয়। শুকনো কাঠ, শুকনো রবার, চীনামাটি, প্লাস্টিক, শুকনো কাপড় (যেমন, লেপ, তোষক, বালিশ, কম্বল ইত্যাদি) তড়িৎ অপরিবাহী।
- সুতরাং এর উপরে দাঁড়িয়ে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে বস্তুর বিভব এবং শরীরের বিভব সমান হয়ে যায় কিন্তু ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে শরীরের মধ্য দিয়ে কোনো তড়িৎ প্রবাহ হয় না।
- রবার সোলের জুতা (সোলে যেন কোনো কাঁটা লাগানো না থাকে) পরেও নিরাপদে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করা যায়।
- হাতে রবারের হাত মোজা অর্থাৎ রবারের গ্লাভস পরে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে শরীর থেকে আহিত বস্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং শরীরের ভিতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হবে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৭৭.
মৌলিক পদার্থ সনাক্তকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোনটি? 
  1. IUPC
  2. IUPAC
  3. NASA
  4. UN
ব্যাখ্যা

• মৌলের নাম, সংকেত এবং সনাক্তকরণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সর্বাধিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো IUPAC।

• পূর্ণরূপ ও পরিচয়:
- IUPAC এর পূর্ণরূপ International Union of Pure and Applied Chemistry।
- এটি বিশ্বব্যাপী রসায়ন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- রসায়ন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গবেষক সবার জন্য মৌল, রাসায়নিক যৌগ, প্রতিক্রিয়া ও পরিমাপের মানক রূপ স্থির করে IUPAC।

• IUPAC এর কাজ:
- নতুন কোনো মৌল আবিষ্কৃত হলে সেটি বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য কিনা তা যাচাই করে IUPAC।
- গবেষণা, প্রমাণ, বিকিরণ বৈশিষ্ট্য, স্থিতিশীলতা এবং নিউক্লিয়ার বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করে মৌলটি সনাক্ত করা হয়।
- IUPAC মৌলের নাম, প্রতীক (Symbol), পারমাণবিক সংখ্যা ইত্যাদি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদন করে। যেমন: Og → Oganesson (নতুন মৌল)
- নতুন মৌল যুক্ত হলে IUPAC Periodic Table আপডেট করে এবং বিশ্বব্যাপী একীকরণ নিশ্চিত করে।
- বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা একই পরিভাষা ব্যবহার করে যেন গবেষণায় বিভ্রান্তি না ঘটে, সে জন্য শব্দভাণ্ডার ও নিয়ম তৈরি করে।

• IUPAC এর গুরুত্ব:
- একই মৌল বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- IUPAC এই বিশৃঙ্খলা দূর করে একক আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে।
- নতুন মৌলের পরমাণু গঠন, ভর সংখ্যা, ব্যবহারযোগ্যতা ও প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারিত নিয়মে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়।
- গবেষণা ও শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় থাকে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪,২৭৮.
হার্জ (hertz) দিয়ে প্রকাশ করা হয়-
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. দোলনকাল
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
- কম্পাঙ্কের একক s-1। 
- একে Hz দিয়ে ও প্রকাশ করা হয়।
- কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

অন্যদিকে, 
- বিস্তার, তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একক মিটার। 
- দোলনকালের একক সেকেন্ড। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
৪,২৭৯.
(Cl) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 18
  2. 17
  3. 35
  4. 52
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

ক্লোরিন (Cl) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- ক্লোরিনের নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর = 35 এবং 
- ক্লোরিনের প্রোটন সংখ্যা = 17 
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে = (35 - 17) = 18  ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৮০.
রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কী?
  1. এক্স-রে
  2. আলোক তরঙ্গ
  3. ইনফ্রারেড
  4. মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম মাইক্রোওয়েভ।
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে ৩০০MHz থেকে ৩০০GHz.
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।

• মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ দু' ধরনের হতে পারে। যথা:
১. টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave) ও
২. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা
২. পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৮১.
গামা রশ্মির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য -
  1. ক) ধনাত্মক চার্জযুক্ত
  2. খ) ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. গ) এর ভর ইলেক্ট্রনের ভরের সমান
  4. ঘ) এর বেগ আলোর বেগের সমান
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:

১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল
৩। এর কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,২৮২.
Optical Fiber কী?
  1. সরু তার
  2. ধাতব তার
  3. সরু ধাতব তার
  4. সরু কাঁচ তন্তু
ব্যাখ্যা
- অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তু।
- আলো বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৮৩.
বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে কোনটি?
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) নিউট্রনের প্রবাহ
  3. গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. ঘ) তাপের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনের প্রবাহ।
- ধাতুর শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন দুর্বলভাবে নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত থাকে, সামান্য বিভব পার্থক (voltage) প্রয়োগ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
- অন্যদিকে, প্রোটন ও নিউট্রন অপেক্ষাকৃত ভারী কণা এবং এরা শক্তিশালী Strong Nuclear Force এর জন্য নিউক্লিয়াসে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে।

কিন্তু ইলেকট্রন আবিষ্কারের পূর্বে মানুষের ধারণা ছিল যে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের জন্য তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যেহেতু ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত, সেহেতু কনভেনশনাল নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে তড়িৎ প্রবাহের দিক ধরা হয় ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন। 
৪,২৮৪.
রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৮০% ইথাইল এলকোহল + ২০% পানি
  2. ৯০% ইথাইল এলকোহল + ১০% পানি
  3. ৯২% ইথাইল এলকোহল + ৮% পানি
  4. ৯৫% ইথাইল এলকোহল + ৫% পানি
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৮৫.
সমন্বিত বর্তনী (IC)–এর একটি মূল সুবিধা কী? 
  1. আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হয়
  2. কেবল ট্রানজিস্টার দিয়েই তৈরি হয়
  3. এতে বিদ্যুৎ সঞ্চয় হয় না
  4. সকল প্রয়োজনীয় উপাদান একত্রে তৈরি হয়
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৮৬.
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে কোনটি?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. রেজিস্টর
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- অর্থাৎ, এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে- রেকটিফায়ার। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। 
যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 
 
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
 
উৎস: 
১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন। 
৩। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৮৭.
মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল কোনটি?
  1. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. দুর্বল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলটি হলো মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২৮৮.
শেভিং ফোমে থাকে নিচের কোনটি?
  1. ক) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. খ) পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) পটাশ অ্যালাম
ব্যাখ্যা

- আমরা কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করি তা হলো মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট।
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট।
- কাপড় কাচার সোডা হিসাবে সোডিয়াম কার্বনেট ব্যবহার করা হয়।
- পটাশ অ্যালাম হলো ফিটকিরি যা পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,২৮৯.
জিওফোন (Geophone) ব্যবহৃত হয়- 
  1. যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে
  2. শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করতে
  3. গর্ভের শিশুর নড়াচড়া ধরতে
  4. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন গ্রহণ করতে
ব্যাখ্যা
শব্দের ব্যবহার (Usages of Sound): 
- শব্দের প্রচলিত ব্যবহারের কথা নিশ্চয়ই কাউকে আলাদা করে বলতে হবে না। 
যেমন- কথা বলা, গান শুনা, হৃৎস্পন্দন শোনা, যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার হয়। 
- শব্দের আরো কিছু ব্যবহার আছে যেমন- সন্তানসম্ভবা মায়ের গর্ভে যে নবজাতকটি বড় হয় বাইরে থেকে তাকে দেখার কোনো উপায় ছিল না, এখন আলট্রাসনোগ্রাফি নামে একটি প্রক্রিয়ায় সেটি দেখা সম্ভব হয়।

১। ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে (3D Seismic Survey): 
- মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। 
- এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। 
- জিওফোন (Geophone) নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ (Detect) করা হয়। 
- সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে, কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করা যায়। 
- শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোনগুলো কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোনে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়। 

২। আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার: 
- ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয়, এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৯০.
নিচের কোনটি ফরমালিন?
  1. ক) মিথানলের ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. খ) ফরমিক এসিডের ৪% জলীয় দ্রবণ
  3. গ) মিথান্যাল এর ৪০% জলীয় দ্রবণ
  4. ঘ) মিথেনের ০.৪% অ্যালকোহলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। ফরমালিনে ৪০ ভাগ মিথন্যাল আর ৬০ ভাগ পানি থাকে। বিভিন্ন মৃত প্রাণীদেহ সংরক্ষণ করার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: মাধমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,২৯১.
বাতাসের আদ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
  1. মাইক্রোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. গ্রাভিমিটার
ব্যাখ্যা

• বাতাসের আদ্রতা মাপার যন্ত্র (Hygrometer):
- হাইগ্রোমিটার হলো একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে বাতাসের আদ্রতার মাত্রা (humidity) পরিমাপ করা হয়।
- এটি পরিবেশগত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, গৃহস্থালি, এবং গবেষণায় ব্যবহার হয়।
- হাইগ্রোমিটার বিভিন্ন প্রকার হতে পারে, যেমন- ক্যাপাসিটিভ, রেজিস্টিভ, বা সায়োকোমেট্রিক টাইপ।
- মাইক্রোমিটার, ব্যারোমিটার বা গ্রাভিমিটার বাতাসের আদ্রতা মাপার জন্য ব্যবহার হয় না। 
- সুতরাং, বাতাসের আদ্রতা মাপার জন্য হাইগ্রোমিটার ব্যবহার করা হয়।

অপশন আলোচনা -

ক) মাইক্রোমিটার – ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য বা বস্তুর মাত্রা মাপার যন্ত্র।
খ) হাইগ্রোমিটার – বাতাসের আদ্রতা (humidity) মাপার যন্ত্র।
গ) ব্যারোমিটার – বায়ুর চাপ (atmospheric pressure) মাপার যন্ত্র।
ঘ) গ্রাভিমিটার – পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মাপার যন্ত্র।

সঠিক উত্তর: খ) হাইগ্রোমিটার। 

সূত্র - ব্রিটানিকা। 

৪,২৯২.
তরল পদার্থের প্রসারণ মূলত কোন আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘটে?
  1. আকার
  2. দৈর্ঘ্য
  3. ক্ষেত্রফল
  4. আয়তন
ব্যাখ্যা

তরল পদার্থের প্রসারণ:
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে।
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। কঠিন পদার্থের দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয়।
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈর্ঘ্য নেই, যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়, তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়।
- আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না। তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৯৩.
বয়েলের সূত্রে ধ্রুব রাশি কোনটি?
  1. চাপ
  2. আয়তন
  3. তাপমাত্রা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বয়েলের সূত্র: 
- ১৬৬২ সালে রবার্ট বয়েল এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি বয়েলের সূত্র বলে পরিচিত। 
- সূত্রটি হলো- "তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক"। 

ব্যাখ্যা: 
- এই সূত্রানুসারে, তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের তার আয়তন চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে তাপমাত্রা T, আয়তন V এবং চাপ p হলে; 
V ∞ 1/p  [যখন T স্থির থাকে] 
বা, pV = K  [এখানে K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক] 
- K এর মান গ্যাসের ভর এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
সুতরাং, যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন যথাক্রমে V1, V2, V3, V4......... Vn ইত্যাদি এবং চাপ যথাক্রমে P1, P2, P3, P4........ Pn ইত্যাদি হয় তাহলে, 
P1V1 = P2V2 = P3V3 = P4V4 .......= PnVn = ধ্রুবক (K) । 
- অতএব, চাপ দ্বিগুণ হলে আয়তন অর্ধেক হবে। চাপ তিনগুণ হলে আয়তন এক তৃতীয়াংশ হবে। বা চাপ অর্ধেক হলে আয়তন দ্বিগুণ হবে। এভাবে একটি বাড়লে অন্যটি কমবে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৯৪.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্য ধাতুর নয়?
  1. ঘাতসহনীয়তা 
  2. নমনীয়তা
  3. অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা
  4. উচ্চ ঘনত্ব 
ব্যাখ্যা

- ধাতুর সাধারণ ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ঘাতসহনীয়তা, নমনীয়তা এবং উচ্চ ঘনত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা ধাতুর সাধারণ কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। 

ধাতু-অধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে।আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৯৫.
কোনটি জৈব যৌগ?
  1. CO2
  2. CO
  3. Na2CO3
  4. CH4
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
যেমন: মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৯৬.
ব্যাটারিতে শক্তির রূপান্তর কীভাবে ঘটে? 
  1. আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি
  2. গতি শক্তি → তাপ শক্তি
  3. তাপ শক্তি → রাসায়নিক শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি → তড়িৎ শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করে থাকে। 
রাসায়নিক শক্তি → তড়িৎ শক্তি
- মহাবিশ্বে শক্তির রূপান্তরের ঘটনা ক্রমাগত চলতে থাকে, যা প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম পর্যায়ে ঘটে। 
- শক্তি এক রূপ থেকে একাধিক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে, তবে মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ কখনোই পরিবর্তিত হয় না। 
- এক রূপের শক্তি অন্য রূপে রূপান্তরিত হওয়াকে শক্তির রূপান্তর বলা হয়। 
- এর মাধ্যমে শক্তির ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের কার্য সম্পাদিত হয়, যেমন যান্ত্রিক শক্তি থেকে তাপ শক্তি, গতি শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি ইত্যাদি। 

রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন- তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা হয়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৯৭.
প্রকৃতিতে কত ধরনের মৌলিক বল আছে?
  1. ৪ 
  2. ২ 
  3. ৫ 
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে। 

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২৯৮.
বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা কেক বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

প্রাত্যহিক জীবনে এসিডের ব্যবহার: 
- বোলতা বা বিচ্ছু হুল ফুটালে প্রচণ্ড জ্বালা করে কারণ বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে হিস্টামিন (Histamine) নামে এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ। তাই এসব ক্ষেত্রে জ্বালা নিবারণের জন্য এসিড কিংবা এসিডজাতীয় মলম ব্যবহার করা হয়, যাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা।  এসিড কিংবা এসিডজাতীয় ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে, ফলে জ্বালা আর থাকে না। 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর খাবার হজম করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পান করা হয়, কারণ পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। এই মাত্রার হেরফের হলে পরিপাকে অসুবিধা হয়। কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় পরিপাকে সাহায্য করে। 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি নানা রকম ফলের মাঝে আছে নানা রকমের জৈব এসিড যেগুলো খুবই প্রয়োজনীয় এবং রোগ প্রতিরোধ করে। যেমন- ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড। ভিটামিন সি ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 
- বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড হজমে সহায়তা করে। 

- বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে বেকিং সোডা ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 
- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যেসব পরিষ্কারক ব্যবহার করা হয় তার মূল উপাদান হলো শক্তিশালী এসিড, যেমন- HCl, HNO3 কিংবা H2SO4 । 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য বা বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার অন্যতম উপাদান হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট (NH4)2SO4 ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4 । সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) দিয়ে। 
- এসিড কাপড়ে লাগলে কাপড় পুড়ে যায় কিংবা ছিদ্র হয়ে যায়। একইভাবে ধাতব পদার্থসমূহ এসিডের সংস্পর্শে এলে তাও ক্ষয় হয়ে যায়। অতএব এসিডের ব্যবহারে খুবই সাবধান হতে হবে। কোনো কারণে গায়ে এসিড পড়লে সাথে সাথে প্রচুর পানি দিয়ে সেই জায়গাটা ধুয়ে ফেলতে হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২৯৯.
অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কোথায় সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) ভূ-কেন্দ্রে
  2. খ) মাটির নিচে
  3. গ) ভূপৃষ্ঠে
  4. ঘ) পাহাড়ের উপরে
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত অপশনে,  অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি।

- তবে, মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

Source: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৪,৩০০.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র তৈরি করা হয়? 
  1. বৈদ্যুতিক হিটার
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ডায়োড
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশ (Electromagnetic Induction) হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে কোনো পরিবাহীতে তড়িৎ চালক শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
- ট্রান্সফরমার এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি স্থির যন্ত্র, যা পারস্পরিক আবেশের মাধ্যমে এক কুন্ডলী থেকে অন্য কুন্ডলীতে শক্তি স্থানান্তর করে এবং ভোল্টেজ পরিবর্তন করে।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ: 
- একটি তারের কুণ্ডিলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুন্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে। 
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি। 

• ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।