বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪২ / ৬৪ · ৪,১০১৪,২০০ / ৬,৪০৯

৪,১০১.
ক্লোরোপিকরিন এর রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. CH₃CHOHCH₃
  2. CCl3-NO2
  3. H-CHO
  4. CH₃ -CHO
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপিকরিন 
- কাঁদুনে গ্যাস/টিয়ার গ্যাস ক্লোরোপিকরিন CCl3-NO2। রাসায়নিক নাম ট্রাইক্লোরো নাইট্রোমিথেন।
- এটি একটি জৈব। কারণ এটি মিথেন CH4 এর ৪টি H পরমাণু ১ নাইট্রো মূলক -NO2 ও ৩টি ক্লোরিন পরমাণু -Cl দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে গঠিত হয়েছে।
- নাইট্রোক্লোরোফর্মের এই ব্যবহারের জন্য এটিকে ‘রায়ট কন্ট্রোল এজেন্ট’ও বলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশে ‘অবৈধ’ জমায়েত হটাতে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- এই গ্যাসের কারণে চোখ দিয়ে অবিরত জল পড়া, চোখ জ্বালা করা, চামড়ায় দাগ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে অধিক মাত্রায় এই গ্যাস ব্যবহার করা হলে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে।
- সিডব্লিউসি অনুযায়ী, যুদ্ধে ক্লোরোপিকরিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- ওপিসিডব্লিউ-এর তালিকায় এটি ‘চোকিং এজেন্ট’ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

সূত্র-  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর  রসায়ন প্রথম পত্র। 
৪,১০২.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি? 
  1. বায়ু 
  2. শূন্যস্থান 
  3. ইস্পাত 
  4. পানি 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১০৩.
নিচের কোন আলোকযন্ত্রটির সাথে চোখের মিল আছে?
  1. ক) ক্যামেরা
  2. খ) দূরবীক্ষণ যন্ত্র
  3. গ) অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) টেলিভিশন
ব্যাখ্যা

আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র এমন একটি যন্ত্র, যেটি দৃশ্যমান আলোতে ক্রিয়া করে।
লেন্সের সাহায্যে যন্ত্রটি ছোট জিনিসকে বড় করে দেখতে সাহায্য করে। আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র সবচেয়ে পুরাতন অণুবীক্ষণ যন্ত্র।
সপ্তদশ শতাব্দীতে যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান

৪,১০৪.
গ্রাডিমিটার কী?
  1. ক) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র
  2. খ) পানির নিচে মাটি কাটার যন্ত্র
  3. গ) পানির তলায় শব্দ নিরুপণের যন্ত্র
  4. ঘ) পানির তলায় তেলের সঞ্চয় নির্ণায়ক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
পানির তলায় তেলের সঞ্চয় নির্ণেয়ের জন্য়  যন্ত্র  = গ্রাডিমিটার।

অপরদিকে 
ফ্যাদোমিটার – সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র
ড্রেজার — পানির নিচে মাটি কাটার যন্ত্র
হাইড্রোফোন — পানির তলায় শব্দ নিরুপণের যন্ত্র
৪,১০৫.
স্থির চাপে গ্যাসের আয়তন প্রসারণ সহগের মান কত? 
  1. 0.0366°C-1
  2. 36.66° C-1 
  3. 1/273° C-1
  4. -1/273° C-1
ব্যাখ্যা

1/273 Degree C-1

প্রসারণ সহগ:
- স্থির চাপে গ্যাসের আয়তন প্রসারণ সহগ হলো গ্যাসের আয়তন পরিবর্তনের হার যা প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ঘটে, যখন চাপ স্থির থাকে।
- চার্লসের সূত্র অনুযায়ী, স্থির চাপে গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রার সাথে সরাসরি সমানুপাতিক।

নিখুঁত গ্যাসের জন্য:
β=1/T​
T = কেলভিন তাপমাত্রা
স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় (0°C = 273° K)
β= 1 / 273 C-1

- পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, 0°C তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে প্রাথমিক আয়তনের 1/273 অংশ বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই

৪,১০৬.
কুকুরের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা কত?
  1. ক) 20,000Hz
  2. খ) 35,000Hz
  3. গ) 45,000Hz
  4. ঘ) 1,00,000Hz
ব্যাখ্যা
• মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
• কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
• বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz
• ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
• বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১০৭.
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাই হচ্ছে ঐ মৌলের- 
  1. প্রোটন সংখ্যা
  2. পজিট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা
  4. ইলেকট্রন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা, Z= 11 । 
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = 17 । 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটায়; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটায় না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৪,১০৮.
ফোটন কণার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. শূন্য ভর
  2. বিদ্যুৎ চার্জ আছে
  3. আলোর গতিতে চলে
  4. আয়নিত করা যায় না
ব্যাখ্যা
• ফোটন কণা চার্জবিহীন। অর্থাৎ এর কোন বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। 
• ফোটন:

- কোনো বস্তু থেকে আলো বা কোনো শক্তির নিঃসরণ নিরবচ্ছিন্নভাবে হয়না। আলোর এই কণা বা প্যাকেট বা কোয়ান্টাকে ফোটন (Photon) বলে। এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ যা আলোর কোয়ান্টাম হিসেবে কাজ করে।

• ফোটনের বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিটি ফোটন কণাই চার্জহীন। তাই তড়িৎ ক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা এর কোনো বিক্ষেপ হয় না।
- প্রতিটি ফোটন কণা আলোর বেগে চলে। এই বেগের কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি নেই।
-  ফোটন কণার স্থির ভর শূন্য।।
-  এদের আয়নিত করা যায় না।
-  ফোটন ভরহীন কণা হলেও এর সুনির্দিষ্ট ভরবেগ আছে। 

তথ্যসূত্র:
-  ব্রিটানিকা। 
৪,১০৯.
বরফের আপেক্ষিক তাপ কোনটি?
  1. 2100 Jkg-1K-1
  2. 2000 Jkg-1K-1
  3. 4200 Jkg-1K-1
  4. 2400 Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তাপ: 
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। 
যেমন- আঁধা লিটার (0.5 kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5 kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি। 
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়। 
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1 kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। 
- তাই 1 kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। 
- আপেক্ষিক তাপকে ইংরেজি S অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-1K-1 । 
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১১০.
Which of the following in not a metal ?
  1. ক) Gold
  2. খ) Diamond
  3. গ) Silver
  4. ঘ) Copper
  5. ঙ) None of these
ব্যাখ্যা
Diamond বা হীরা মূলত কার্বনের একটি রুপভেদ।
কার্বন একটি অধাতু। তাই হীরাও অধাতু।

গ্রাফাইট কার্বনের আরেকটি রুপভেদ।

অন্যদিকে, Gold, Silver, Copper ধাতু।
৪,১১১.
নিচের কোন ধাতুটি পানির চেয়ে হালকা নয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) পটাসিয়াম
  4. ঘ) হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

অপশনে তিনটি ধাতু এবং একটি গ্যাস আছে।

- ক্যালসিয়াম ধাতুটি পানি চেয়ে ভারি।

- লিথিয়াম, পটাসিয়াম এবং সোডিয়াম এই তিনটি ধাতু পানির চেয়ে হালকা।
অর্থাৎ, অপশনগুলোর মধ্যে খ) সোডিয়াম ও গ) পটাশিয়াম দুটিই পানির চেয়ে হালকা।

- হিলিয়াম একটি নিস্ক্রিয় গ্যাস; ধাতু নয়।

৪,১১২.
তাপ প্রয়োগে রাবারের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. রঙ বদলায়
  2. আয়তন কমে যায়
  3. আয়তন বেড়ে যায়
  4. আয়তন কমে আবার বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১১৩.
একটি বদ্ধ ঘরে একটি চালু ফ্রিজের দরজা খুলে রাখলে ঘরের তাপমাত্রা -
  1. হ্রাস পাবে
  2. বৃদ্ধি পাবে
  3. একই থাকবে
  4. শীতকাল হলে হ্রাস পাবে
ব্যাখ্যা
ফ্রিজের ভেতর ঠান্ডা করার জন্য যে এনার্জি ব্যবহৃত হয়, তার সবটুকু ব্যবহার হয় না বলে সেটার প্রতিক্রিয়া স্বরুপ তাপ উৎপন্ন হয় যা ফ্রিজের বাইরে বাঁ পেছন দিক দিয়ে বের হয়, অর্থাৎ একটি আবদ্ধ ফ্রিজ আদতে ঘরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

এখন আসা যাক প্রশ্নের আলোচনায়, একটি বদ্ধ ঘরের ভেতরে ফ্রিজের দরজা খোলা রাখলে এটি আগে যে অল্প আবদ্ধ জায়গা নিয়ে খাবার ঠান্ডা রাখতো, সেই জায়গাটা অনেক বেড়ে যায়, ফলে ফ্রিজকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। ফলে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। 

Source: [Link]
৪,১১৪.
উপসর্গ “পিকো (pico)” দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1. 10-12
  2. 10-9
  3. 10-6
  4. 10-15
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “পিকো (pico)” দ্বারা বোঝানো হয় 10-12 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়। 



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১১৫.
MRI-যন্ত্রে মূলত কোন অণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI যন্ত্রে মূলত হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়। 

এমআরআই (MRI): 
- মানুষের শরীরের প্রায় সত্তরভাগ পানি, যার অর্থ মানুষের শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি থাকে। পানির প্রতিটি অণুতে থাকে হাইড্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস হচ্ছে প্রোটন। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে প্রোটনগুলো চৌম্বকক্ষেত্রের দিক সারিবদ্ধ হয়ে যায়, তখন নির্দিষ্ট একটি কম্পনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠানো হলে এই প্রোটনগুলো সেই তরঙ্গ থেকে শক্তি গ্রহণ করে তাদের দিক পরিবর্তন করে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স। 
- তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এমআরআই (MRI: Magnetic Resonance Imaging)। এই যন্ত্রটি দেখতে সিটিস্ক্যান যন্ত্রের মতো কিন্তু এর কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয় কিন্তু এমআরআই যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষত্রের মাধ্যমে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়। 

- শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- সিটিস্ক্যান দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, এমআরআই দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। তবে এমআরআই দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বুঝা সম্ভব। 
- সিটিস্ক্যান করতে যে সময়ের দরকার হয় তার তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে এমআরআই করতে। সিটিস্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে, যা এমআরআইয়ে সেই ঝুঁকি নেই। 
- শরীরের ভেতর কোনো ধাতব কিছু থাকলে (যেমন: পেস মেকার) এমআরআই করা যায় না, কারণ আরএফ (RF) তরঙ্গ ধাতুকে উত্তপ্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১১৬.
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন ধরনের শক্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়?
  1. জলবিদ্যুৎ শক্তি
  2. সৌর শক্তি
  3. নিউক্লিয়ার শক্তি
  4. বায়ু শক্তি
ব্যাখ্যা

• রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিউক্লিয়ার শক্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা দেশের বৈদ্যুতিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো পারমাণবিক ইন্ধনকে নিয়ন্ত্রণকৃত নিউক্লিয়ার বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এই তাপ জলকে বাষ্পে পরিণত করে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। রূপপুরের মতো নিউক্লিয়ার কেন্দ্রের সুবিধা হলো এটি স্থায়ী ও বড় পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম এবং দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যেখানে কার্বন নিঃসরণও কম থাকে। তাই রূপপুর প্রকল্পটি বাংলাদেশের শক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

সঠিক উত্তর: গ) নিউক্লিয়ার শক্তি।

প্রাকৃতিক নিয়ম ব্যবহার করে প্রযুক্তির বিকাশ: 
- আইনস্টাইন তার থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে E = mc2 সূত্রটি বের করে দেখিয়েছিলেন ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- 1938 সালে অটোহান এবং স্ট্রেসম্যান একটি নিউক্লিয়াসকে ভেঙে দেখান যে, নিউক্লিয়াসের ভর যেটুকু কমে গিয়েছে, সেটা শক্তি হিসেবে বের হয়েছে। এই সূত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার বোমা তৈরি করে। শুধু যে এই মারণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব তা নয়, এই শক্তি মানুষের কাজেও লাগানো সম্ভব। এই সূত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার বৈদ্যুতিক কেন্দ্র (Nuclear Power Plant) তৈরি করা হয়। যেমন- রূপপুরে সেরকম একটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে কঠিন অবস্থার পদার্থবিজ্ঞান এবং সেখানে অর্ধপরিবাহী নিয়ে কাজ করা হয়। এই অর্ধপরিবাহীর সাথে বিশেষ মৌল মিশিয়ে তাদের যুক্ত করে ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়। এই প্রযুক্তি দিয়ে ইলেকট্রনিকসের একটি অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমান সভ্যতায় এই ইলেকট্রনিকসের একটি অনেক বড় অবদান রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১১৭.
কোনটি চার্লসের সূত্রকে সমর্থন করে?
  1. ক) PV = ধ্রুবক
  2. খ) TV = ধ্রুবক
  3. গ) T/V = ধ্রুবক
  4. ঘ) V/T = ধ্রুবক
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র:
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় ।
- গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
- গাণিতিকভাবে, V ∝ T বা, V/T = ধ্রুবক।

বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
- গাণিতিকভাবে, P ∝ 1/V বা, PV = ধ্রুবক।

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক ।
- গাণিতিকভাবে, P ∝ T বা, P/T = ধ্রুবক।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৪,১১৮.
ভিনেগার খাদ্য সংরক্ষণে কিভাবে সাহায্য করে? 
  1. খাদ্যের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে 
  2. খাদ্যের তাপমাত্রা কমায়
  3. খাদ্যের প্রোটিন বৃদ্ধি করে 
  4. pH কমিয়ে অণুজীবের বংশ বিস্তার রোধ করে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়।
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়, তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১১৯.
কোন পদার্থের ভেতর দিয়ে তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না?
  1. সিলিকন
  2. কাচ
  3. রূপা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যে ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় যুক্ত অবস্থায় থেকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে সেগুলোকে বলা হয় পরিবাহী পদার্থ। 
যেমন - সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। 
- এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন, জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১২০.
ঘরের টিউবলাইটের ভেতর কোন অবস্থা তৈরি হয়? 
  1. তরল
  2. গ্যাসীয়
  3. প্লাজমা
  4. কঠিন
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা (প্লাজমা): 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হতে পারে, এর নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। 
- ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়। 
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, আবার নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে। 
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে। 
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১২১.
এমপ্লিফায়ারে ভোল্টেজ গেইন প্রকাশ করা-
  1. ক) Ap
  2. খ) Av
  3. গ) AI
  4. ঘ) dB
ব্যাখ্যা
এমপ্লিফায়ার: 
- একটি ট্রানজিস্টর এমপ্লিফায়ার হিসাবে কাজ করে।
- এমপ্লিফায়ার এর কাজ হল ইনপুট সিগনালকে আউটপুটে বিবর্ধিত করে দেয়া।
- এমপ্লিফায়ারে ৩ ধরনের বিবর্ধন হয়।

কারেন্ট এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট কারেন্ট এর অনুপাত।

AI =Ioutput/Iinput

ভোল্টেজ এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট ভোল্টেজের অনুপাত।

Av = Voutput/Vinput

পাওয়ার এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট পাওয়ার এর অনুপাত।

Ap = Poutput/Pinput

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।
৪,১২২.
চোখের Myopia দূর করার জন্য কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) উত্তল লেন্স
  2. খ) দ্বি-উত্তল লেন্স
  3. গ) অবতল লেন্স
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি বা মাইওপিয়া (Short sight or Myopia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না, তবে কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পায়। চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব বা নিকট দূরত্ব কমে যায়। নিকট বিন্দু চোখের সামনে চলে আসে। চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।

এই ত্রুটি দূর করার জন্য চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যের বা পাওয়ারের অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। অবতল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফোকাস রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,১২৩.
নিচের কোনটি আলাদা?
  1. পানি (H20)
  2. চিনি (C12H22O11)
  3. মিথেন (CH4)
  4. সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
ব্যাখ্যা
পানি, চিনি ও সালফিউরিক এসিড - প্রত্যেক যৌগে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকলেও মিথেনে নেই।
সকল চিনির রাসায়নিক নাম সুক্রোজ। এবং এর রাসায়নিক সংকেত = C12H22O11
গ্লুকোজ(C6H12O6) ও ফ্রুক্টোজ এর সমন্বয়ে সুক্রোজ গঠিত হয়।
[ ফ্রুক্টোজ হলো ৬ কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড। এর আণবিক সংকেত হল C6H12O6 যা গ্লুকোজের মতই।
এটিও একটি রিডিউসিং শ্যুগার।
এর গঠনে কিটো গ্রুপ থাকায় একে কিটোহেক্সোজও বলা হয়। ]
পানির সংকেত = H20
সালফিউরিক এসিড সংকেত = H2SO4
মিথেন এর সংকেত = CH4
৪,১২৪.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?
  1. ক) 0°C
  2. খ) -100°C
  3. গ) -273°C
  4. ঘ) 273K
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে।
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৪,১২৫.
For normal elderly people, the minimum distance of clear vision typically is:
  1. 45 cm
  2. 35 cm
  3. 25 cm
  4. 15 cm
  5. 5 cm
ব্যাখ্যা
• দৃষ্টিসীমার নিকটতম বিন্দু:
- মানুষ তার চোখের লেন্সে ফোকাস দূরত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে একটা বস্তুকে সবসময় স্পষ্ট দেখার চেষ্টা করে।
- কিন্তু লক্ষ্যবস্তু চোখের কাছাকাছি একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে বেশি কাছে এলে আর স্পষ্ট দেখা যায় না।
- চোখের সবচেয়ে কাছের যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে ঐ বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়।
- এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

- একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার বা ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- দূর বিন্দু চোখ থেকে অসীম দূরত্বে অবস্থান করে। এ কারণে বহুদূরের নক্ষত্রও খালি চোখে দেখা যায়।
- সুস্থ ও স্বাভাবিক চোখ “নিকট বিন্দু” (near point) থেকে শুরু করে অসীম দূরত্বের দূর বিন্দুর মাঝখানে যে স্থানেই কোন বস্তু থাকুক না কেন সেটা স্পষ্ট দেখতে পারে। আর এটাই হচ্ছে চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি।।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১২৬.
নিচের কোনটি অধাতু? 
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. জিংক
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতু: 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 

অধাতু: 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১২৭.
নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ কোনগুলি?
  1. ক) গ্যাস, কয়লা, তেল
  2. খ) তেল,গ্যাস,পানি
  3. গ) বায়ু, পানি, সূর্যের আলো
  4. ঘ) বায়ু, গ্যাস, কয়লা
ব্যাখ্যা

নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় অর্থাৎ যা ফুরিয়ে যাবার কোনাে আশঙ্কা নেই। তাকে নবায়নযোগ্য (Renewable Energy) শক্তি বলা হয়। যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বাতাস, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান।

৪,১২৮.
Which color of light has the minimum wavelength?
  1. Red
  2. Green
  3. Blue
  4. Violet
  5. Orange
ব্যাখ্যা
• বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। 

• দৃশ্যমান আলো (Visible light):

- তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির যে অংশ মানুষের চোখে দৃশ্যমান অর্থ্যাৎ প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার (nm) পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বলা হয়।

• তরঙ্গ দৈর্ঘ্য:
- লাল আলোর জন্য প্রায় ৭০০ (৬২০ - ৭৫০nm) ন্যানোমিটার।
- বেগুনি আলোর জন্য প্রায় ৪০০ (৩৮০ - ৪৫০nm) ন্যানোমিটার।
- এই দুটি সীমার মধ্যে অন্য বর্ণের আলোগুলো হলো নীল, সবুজ, হলুদ, এবং কমলা।

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত কম, তার প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। 
যেমন- বেগুনি আলো। 

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ খুব কম হয়। 
যেমন- লাল আলো। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে এর প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলো সবচেয়ে বেশি দুর হতে দেখা যায়। বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অধিক বলে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় আমরা সূর্যকে লাল দেখি।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১২৯.
রংধনুতে কয়টি রং?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
রংধনু: 
- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশ্লিষ্ট হয়।
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু। 
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোক রশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়, আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে। 
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়। 
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
অর্থাৎ, প্রিজমে আলো প্রতিসরিত হয়। 
- প্রিজম যে দুটি তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে, তাকে প্রিজমের প্রতিসারক তল বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৩০.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম কী?
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) অণু
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) ইলেক্ট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম পরমাণু ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪,১৩১.
শব্দেতর তরঙ্গের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ক) ২০০০০ Hz এর চেয়ে কম
  2. খ) ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি
  3. গ) ২০ Hz - ২০০০০ Hz
  4. ঘ) ২০ Hz এর কম
ব্যাখ্যা

উৎসের কম্পাঙ্ক ২০ Hz - ২০০০০ Hz এর মধ্যে থাকলেই কেবল তা শুনতে পায় মানুষ। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে।
- যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি- তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- আর যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর চেয়ে কম-তাকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,১৩২.
নিচের কোনটি স্থায়ী চুম্বক?
  1. সেমিরিয়াম কোবাল্ট
  2. অ্যালনিকো
  3. নিউডাইমিয়াম আয়রন বোরন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে চৌম্বক পদার্থের মিশ্রণের বিভিন্নতার উপর ভিত্তি করে নিম্নে চার ধরনের স্থায়ী চুম্বক দেখানো হলো:

১। নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন:
নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন এ ধরনের স্থায়ী চুম্বক ল্যান্থানাইড শ্রেণিভুক্ত এবং শক্তিশালী প্রকৃতির।
এদেরকে সহজে বিচুম্বকায়ন করা যায় না।

২। সেমিরিয়াম কোবাল্ট:
এটিও এক প্রকার স্থায়ী চুম্বক।

৩। অ্যালনিকো: এটি অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল ও কোবাল্টের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি। এটি স্থায়ী চুম্বক হলেও
বিচুম্বকায়ন করা যায়। এটি বহুল ব্যবহৃত হয় তবে এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।

৪। ফেরাইট:
এটি বহুল ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক। এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,১৩৩.
গ্যাসীয় পদার্থে কোনটি বিদ্যমান থাকে?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন
  2. নির্দিষ্ট ভর
  3. নির্দিষ্ট আকার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বায়বীয় পদার্থ:
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই।
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে।
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম।

• উদাহরণ:
- অক্সিজেন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- হাইড্রোজেন,
- নাইট্রোজেন,
- অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৩৪.
এক্স-রে হলো এক ধরনের- 
  1. কণিকা বিকিরণ
  2. তাপ বিকিরণ
  3. আলোক বিকিরণ
  4. তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ
ব্যাখ্যা
এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন, তাই এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমণ্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়।
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়।
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়।
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 
- এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। 
- অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৩৫.
সরিষার তেলে কোন এসিড বিদ্যমান?
  1. ক) পাইরুভিক এসিড
  2. খ) ইরোসিক এসিড
  3. গ) হাইপোক্লোরাস এসিড
  4. ঘ) হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সর্দি-কাশি হলে অনেকে সরিষার তৈল নাকে-মুখে ব্যবহার করেন।
- কিন্তু এই তৈলের একটি বড় অসুবিধা হলো এতে প্রায় ৪০-৪৫% ইরোসিক এসিড নামক একটি
ক্ষতিকারক ফ্যাটি এসিড আছে যা হৃৎপিন্ডের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- বর্তমানে আমরা যে পরিমান সরিষার তৈল দৈনিক আহার করি তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
 
উৎস: School of Agriculture & Rural Development, Bangladesh Open University
৪,১৩৬.
What is an example of a magnetic material?
  1. Aluminum
  2. Copper
  3. Cobalt
  4. Silver
  5. Zinc
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৩৭.
স্বল্পমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাসিয়াম ক্লোরাইড
  3. ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute):
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়।
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব।
একইভাবে,
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব।
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব।

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন- 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), 
• সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), 
• সিলভার আয়োডাইড (AgI), 
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), 
• ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), 
ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), 
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), 
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), 
পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI), 
পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3), 
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI), 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৩৮.
মৌলিক রাশি কয়টি?
  1. ক) ৫ টি
  2. খ) ৭ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) অসংখ্য
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এগুলো হলো দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,১৩৯.
এক মাইক্রোফ্যারাড বলতে বুঝায় -
  1. এক ফ্যারাডের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  2. এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  3. এক ফ্যারাডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ
  4. এক ফ্যারাডের দশ কোটি ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর ধারকত্ব: 
- কোনো বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহকের ধারকত্ব বলে। 
মনে করি, কোনো পরিবাহকের বিভব V পরিমাণ বৃদ্ধি করতে Q পরিমাণ আধান প্রয়োজন হয়। 
সুতরাং, পরিবাহকের ধারকত্ব, Q ∞ V 
বা, Q/V = ধ্রবক = ধারকত্ব 
∴ C = Q/V. 

একক: 
- এস. আই বা S.I পদ্ধতিতে ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
- উপরের সমীকরণ থেকে দেখা যায় যে, V = 1 ভোল্ট (V) এবং Q = 1 কুলম্ব (C) হলে C = 1 ফ্যারাড (F) হয়। 

ফ্যারাডের সংজ্ঞা: 
- কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (IV) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (IC) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্বকে এক ফ্যারাড (IF) বলে। 
∴ 1F= 1C/1V = 1 CV-1 
- এক ফ্যারাড (1F) বেশ বড় একক বিধায়, একে সচরাচর ব্যবহার করা হয় না মাইক্রোফ্যারাড (µF) কেই ধারাকত্বের একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে এক মাইক্রোফ্যারাড বলে। 
অর্থাৎ, 1µF = 10-6F. 
- মাইক্রোফ্যারাড ছাড়াও ন্যানোফ্যারাড (nF), পিকোফ্যারাড বা মাইক্রো মাইক্রোফ্যারাড (µµF) এককও ব্যবহার করা হয়। 
1nF = 10-9F এবং 1pF = 1µµF =10-12F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪০.
মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে নিচের কোন উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না?
  1. লোহা
  2. নিকেল
  3. ক্রোমিয়াম
  4. কপার
ব্যাখ্যা
- মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে 'কপার' উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না।

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
- আবার, লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। 
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচে কিছু সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪১.
নিচের কোনটি নির্ণয় করার জন্য একটি Transformer এর No-load টেস্ট করা হয়-
  1. Copper loss
  2. No-load current and no-load loss
  3. Efficiency of the transformer
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- Transformer এ সাধারণর no load test ও short circuit test করা হয়। 

- no load test এর মাধ্যমে No-load current and no-load loss নির্ণয় করা হয়। 

No load test
ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়:
রেটেড ভোল্টেজ ট্রান্সফরমারের প্রাথমিক উইন্ডিংয়ে প্রয়োগ করা হয়।

সেকেন্ডারি উইন্ডিং ওপেন: সেকেন্ডারি উইন্ডিং ওপেন-সার্কিটেড থাকে, মানে এর সাথে কোনো লোড সংযুক্ত থাকে না।

পরিমাপ:
নো-লোড কারেন্ট  পরিমাপ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কোর চুম্বকীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় কারেন্ট এবং নো লোড লস। 

- অন্যদিকে, short circuit test করা হয় Copper loss নির্ণয়ের জন্য। 
৪,১৪২.
রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ-
  1. ক) এটি হালকা ও দামে সস্তা
  2. খ) এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
  3. গ) এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
  4. ঘ) এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা
সহজলভ্য ধাতুর মধ্যে অন্যান্য ধাতব পদার্থের তুলনায় এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবহন ক্ষমতা বেশি বলে এলুমিনিয়ামের তৈরী হাড়ি পাতিল খাদ্যদ্রব্য দ্রুত সিদ্ধ করতে পারে এবং তাপ শক্তির কম অপচয় হয়।
৪,১৪৩.
ডিজিটাল টেলিফোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ডিজিটাল সিগনালে বার্তা প্রেরণ
  2. বোতাম টিপিয়া ডায়াল করা
  3. অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার
  4. নতুন ধরনের মাইক্রোফোন
ব্যাখ্যা
- টেলিফোনে প্রধানত দুটো প্রধান অংশ থাকে। 
যথা- গ্রাহক যন্ত্র ও প্রেরক যন্ত্র। 
- টেলিফোনে সংবাদ আধানে দুটি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। 
যথা- এনালগ ও ডিজিটাল। 
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দকে সরাসরি তড়িতে পরিণত করে প্রেরণ করা হয়। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে তড়িৎশক্তিকে ডিজিটাল সংবাদে রূপান্তর করে বার্তা প্রেরণ করে
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দ আদান-প্রদানে অসুবিধা হয় কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে শব্দ আদান প্রদানে সুবিধা হয়। 
- বর্তমানে ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা বহুলভাবে প্রচলিত। এটির সুবিধা হল কম্পিউটার ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪৪.
পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ কীভাবে পরিবর্তিত হবে? 
  1. অর্ধেক হবে 
  2. দ্বিগুণ হবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. চারগুণ হবে 
ব্যাখ্যা

- পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ দ্বিগুণ হারে পরিবর্তিত হবে। 

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৪৫.
আলো যখন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবেশ করে বা প্রতিফলিত হয়, তখন কোন ঘটনা ঘটে?
  1. প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন
  2. বিচ্ছুরণ, সমবর্তন
  3. উভয়ই (ক ও খ)
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

•  আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।

• আলো:
• কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব মাধ্যমে আলো সরলপথে চলে।
• কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে বা মাধ্যম ছাড়া আলো একটি নির্দিষ্ট বেগে চলে।
• শূন্যস্থানে এই বেগের মান c = ৩ × ১০ m/s
• সূর্য থেকে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট সময় লাগে।
•  আলো এক ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
• আলোর একমাত্র উপাদান হলো ফোটন, বা কণা ধর্মের প্রকাশ করে।
• আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।
• আলো কখনো তরঙ্গের ন্যায় আবার কখনো কণার মতো আচরণ করে।
• ১ আলোকবর্ষ ৯.৪৬১ × ১০১২ কি.মি= ৫.৮৭৯ ×  ১০১২ মাইল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৪৬.
নিচের কোনটিতে নিউট্রন নেই?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে।
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪৭.
আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ৩৩
  2. ৩৮
  3. ৩৬
  4. ৪৪
ব্যাখ্যা
- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩। 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11  । 
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17  । 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- স্ট্রনসিয়ামের (Sr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮। 
- ক্রিপটনের (Kr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৬। 
- রুথেনিয়াম (Ru) পারমাণবিক সংখ্যা ৪৪। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৪,১৪৮.
সহসা দরজা খুলতে চাইলে দরজার কোথায় বল প্রয়োগ করা উচিত?
  1. ক) কব্জার বিপরীত প্রান্তে
  2. খ) মাঝখানে
  3. গ) কব্জার কাছে
  4. ঘ) উপরের প্রান্তে
ব্যাখ্যা
কব্জার কাছে বল প্রয়োগ করার চেয়ে কব্জার বিপরীত প্রান্তে বল প্রয়োগ করলে সহজে দরজা খুলে যায়। 
কারণ বিপরীত প্রান্তে অল্প বল প্রয়োগ করলে দরজা খুলে যাবে।
৪,১৪৯.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. K
  2. Ca
  3. Li
  4. Na
ব্যাখ্যা
মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৫০.
বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধসীমা -
  1. ক) 1,000 Hz
  2. খ) 10,000 Hz
  3. গ) 1,00,000 Hz
  4. ঘ) 10,00,000 Hz
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz
ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১,০০,০০০ Hz

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,১৫১.
শীতকালে কোন রঙেয়ের কাপড় আরামদায়ক?
  1. ক) সাদা
  2. খ) সবুজ
  3. গ) কাল
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা

কালো রং অন্য সকল রংকে শোষণ করতে পারে বলে শীতকালে কালো রঙের কাপড় পরা আরামদায়ক।
অন্যদিকে, সাদা রং অন্য সকল রংকে প্রতিফলিত করে দেয় বলে গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের কাপড় পরা আরামদায়ক।

৪,১৫২.
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কোন ধরনের শক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে?
  1. আলোক শক্তি
  2. স্থিতি শক্তি
  3. গতি শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা

• জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা, স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়।

• জলবিদ্যুৎ:

- পানির স্রোতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- পানির স্রোত এবং জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
- পানির স্রোতে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি বিদ্যমান, যা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের একটি উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।
- এই প্রকল্পে বিভব শক্তি এবং স্থিতি শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়, যা যান্ত্রিক শক্তি তৈরি করে।
- এই যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৫৩.
ইলেকট্রনের কণা ও তরঙ্গ ধর্ম উভয়ই বিদ্যমান- এই তত্ত্ব প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৪ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা

- বোর পরমাণু মডেলে ইলেকট্রনকে শুধু কণা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
- ১৯২৪ সালে বিজ্ঞানী লুই ডি ব্রগলি মত প্রকাশ করেন যে, ইলেকট্রনের কণা ও তরঙ্গ উভয় ধর্ম আছে।
- লুই ডি ব্রগলির এ বক্তব্যকে ১৯২৬ সালে বিজ্ঞামী ই. স্রোডিঞ্জার আরও সংশোধন ও পরিমার্জন করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,১৫৪.
বিটা রশ্মির আধানের পরিমাণ কত?
  1. - ১.৬ × ১০- ২১ কুলম্ব
  2. - ১.৬ × ১০-১৯ কুলম্ব
  3. - ৯.৮ × ১০-২৩ কুলম্ব
  4. - ৬.০২ × ১০-১৯ কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• বিটা (β) রশ্মি:
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- বিটা রশ্মি হচ্ছে অতি উচ্চ দ্রুতি সম্পন্ন ইলেক্ট্রনের প্রবাহ।
- বিটা কণার দ্রুতি আলোর দ্রুতির প্রায় সমান। (শতকরা ৯৮ ভাগ)।
- এটি ঋণাত্বক চার্জযুক্ত। এর আধান - ১.৬ × ১০-১৯ কুলম্ব।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- ভেদন ক্ষমতা আলফা কণা অপেক্ষা বেশী।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান। ৯.১×১০-৩১ কেজি।

উতস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৫৫.
অর্ধপরিবাহী পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে রোধ কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 
  1. হ্রাস পায় 
  2. বৃদ্ধি পায় 
  3. এলোমেলোভাবে পরিবর্তিত হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৫৬.
হাইড্রোজেনের তুলনায় কোন মৌল কম সক্রিয়? 
  1. সোডিয়াম 
  2. সিলভার 
  3. লিথিয়াম 
  4. আয়রন 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেন অপেক্ষা কম সক্রিয় মৌল- সিলভার (Ag)। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। - মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৫৭.
নিচের কোনটি একটি বামন গ্রহ?
  1. সেরেস
  2. আলফ সেন্টুরি
  3. প্লুটো
  4. বুধ
ব্যাখ্যা

১৯৩০ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লাইভ টমবার্গ যখন প্লুটোকে খুঁজে বের করেন তখন একে সৌরজগতের একটি গ্রহের মর্যাদা দেওয়া হলেও ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের সংজ্ঞানুসারে প্লুটোকে বামন গ্রহ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্লুটো ছাড়াও সৌতজগতে এরিস, ম্যাকিম্যাকি ও সিরেস নামে আরো কয়েকটি বামনগ্রহ রয়েছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,১৫৮.
ওয়াটার গ্যাসের উপাদানগুলো কি কি?
  1. হাইড্রোজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন ও কার্বন-মনোঅক্সাইড
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- ওয়াটার গ্যাস হলো একটি গ্যাসীয় মিশ্রণ যা হাইড্রোজেন (H₂) এবং কার্বন-মনোঅক্সাইড (CO) দ্বারা গঠিত।
- এটি সাধারণত কোক বা কোলে স্টিম (বাষ্প) দ্বারা উত্তপ্ত করে প্রস্তুত করা হয়।
- এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কোক বা কাঠের কার্বন গ্যাসের সাথে প্রতিক্রিয়া করে কার্বন-মনোঅক্সাইড এবং হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে, যা ওয়াটার গ্যাস হিসেবে পরিচিত।
- রাসায়নিক সমীকরণ: C + H2O → CO + H2

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,১৫৯.
আচার সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

ভিনেগার বা এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৬০.
মৌলিক বল নয় কোনটি?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. ঘর্ষণ বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
বলের বিভিন্নতা সত্ত্বেও সকল প্রকার বলকে মাত্র চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই চার প্রকার বলকে মৌলিক বল বলে।
“যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে”।

মৌলিক বলগুলো হল :
১. মহাকর্ষ বল
২. তাড়িতচৌম্বক বল 
৩. সবল নিউক্লিয় বল 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,১৬১.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বলে ________। 
  1. ক) বিস্তার 
  2. খ) দশা 
  3. গ) কম্পাঙ্ক 
  4. ঘ) প্রতিধ্বনি 
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 
৪,১৬২.
শিলার বৈশিষ্ট্য কোনটি সঠিক?
  1. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায় না
  2. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায়
  3. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয় এবং গাছ পালা জন্মে
  4. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে না
ব্যাখ্যা
মাটি: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 

শিলা: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

খনিজ পদার্থ ও খনিজ সম্পদ: 
- ভূপৃষ্টের সকল স্থানেই বিভিন্ন ধাতু বা অধাতুর যৌগ পাওয়া গেলেও তা সব সময় লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় না। যদি ভূপৃষ্টের উপরিতলে বা ভূপৃষ্টের অভ্যন্তরে কোন যৌগ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা থেকে কোন ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায়, তবে সেই স্থানকে খনি বলে। আর খনি থেকে প্রাপ্ত পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। 
- আবার যদি এসকল পদার্থ লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় তবে এদের খনিজ সম্পদ বলা হয়। 
- স্বর্ণ, হীরা, কয়লা, সালফার ইত্যাদি খনিতে মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়, তাই এগুলো মৌলিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 
- মৌলিক খনিজ ব্যতিত সকল খনিজই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায় এবং এগুলো যৌগিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না, খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬৩.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
  1. g
  2. L
  3. T
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে 'T' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• সেকেন্ড দোলক:

- একটি সরল দোলক, যার পূর্ণ দোলনকাল দুই সেকেন্ড। অর্থাৎ, এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এবং আবার ফিরে আসতে মোট দুই সেকেন্ড সময় নেয়, তাকে সেকেন্ড দোলক বলা হয়।
- সেকেন্ড দোলক প্রতি ১ সেকেন্ডে একটি অর্ধদোলন সম্পন্ন করে।

• সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য:
- সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল, T = 2s

আমরা জানি,
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g)
∴ সেকেন্ড দোলকের জন্য, 2s = 2π √(L/g)
⇒ L = gs22

∴ দেখা যায় যে, সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
- সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৪,১৬৪.
রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে কী উপাদান যোগ করা হলে এটি পানের অযোগ্য হয়ে যায়? 
  1. গ্লুকোজ
  2. ফসফেট
  3. অ্যামোনিয়া
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬৫.
'তাপ ইঞ্জিন একটি যন্ত্র' যা রূপান্তর করে- 
  1. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে
  4. যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। 
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। 
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬৬.
ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হল-
  1. hλ/c
  2. hc/λ
  3. cλ/h
  4. chλ
ব্যাখ্যা
◉ ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হলো- E = hc/λ

ফোটন কণা:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ, আলো তড়িৎ ক্রিয়া, কম্পটন ক্রিয়াগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিকিরণ শক্তিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেটের গুচ্ছ প্রবাহ আকারে বিবেচনা করা হয়। এই শক্তিকে আলোর কোয়ান্টা (quanta) বা ফোটন (photon) বলে।

• প্রতিটি ফোটনের শক্তি মান E = hf, যেখানে কম্পাংক, f = c/λ.
বা, E = hf
বা, E = h × c/λ
∴ E = hc/λ

এখানে, λ হলো বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬৭.
নিচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর?
  1. তামা
  2. সিলিকন
  3. রূপা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• সিলিকন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর, কারণ এটি সহজলভ্য, স্থিতিশীল এবং তাপমাত্রা ও অমিশ্রণের মাধ্যমে এর তড়িৎ পরিবাহিতা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

• সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor):

- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, সেগুলোকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী পদার্থ বলা হয়।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির ভিত্তি হলো সেমিকন্ডাক্টর।
- সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা তাপমাত্রা, আলো ও অমিশ্রণ (Impurity) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- সাধারণ তাপমাত্রায় সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা কম থাকে, কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর হলো সিলিকন (Silicon)।
- সিলিকন পরমাণুর বহিঃকক্ষে চারটি ইলেকট্রন থাকে।
- বিশুদ্ধ সিলিকনে প্রতিটি পরমাণু চারটি প্রতিবেশী পরমাণুর সাথে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে।
- বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা খুব কম থাকায় তড়িৎ পরিবাহিতা সীমিত হয়।
- সেমিকন্ডাক্টরে উপযুক্ত অমিশ্রণ যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ট্রানজিস্টর, ডায়োড ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪,১৬৮.
পানির ফোঁটা গোলাকৃতি ধারণ করার কারণ কী? 
  1. প্লবতা
  2. বায়ুচাপ
  3. পৃষ্ঠটান
  4. স্থিতিস্থাপকতা
ব্যাখ্যা
তলটান বা পৃষ্ঠটান: 
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে। 
- পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘটনা ঘটে তা হলো- 
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা। 
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা। 
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া। 

- পানির ছোট ফোঁটা পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকৃতির হয়। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৬৯.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়ু
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। যেমন- ইস্পাত, লোহা।
- তরল পদার্থে শব্দের বেগ কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়।
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।

উল্লেখ্য,
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে কোনো মাধ্যম নেই, তাই শব্দ সেখানে চলাচল করতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৭০.
সর্বপ্রথম তড়িৎ চুম্বকের ধারণা দেন কে?
  1. ওয়ারস্টেড
  2. ওয়েবার
  3. গিলবার্ট
  4. কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়া:
- আধুনিক বিজ্ঞান জগতে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে।
- ফ্যান, মোটর, ইত্যাদি ঘূর্ণায়মান সকল যন্ত্রই তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাবে কাজ করে।
- তড়িৎ প্রবাহ চারিদিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে।
- এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনার আবিষ্কারক কোপেনহেগেনের অধ্যাপক বিজ্ঞানী হেন্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড (1820)।
- ওয়েরস্টডের এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাঁর নাম অনুসারে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের একক ওয়েরস্টেড (Oersted) করা হয়েছিল।
- তড়িৎ প্রবাহ যেহেতু গতিশীল তড়িৎ আধান, অতএব তড়িৎ আধান গতিশীল হলেই চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
- আধান স্থির থাকলে একে ঘিরে যে তড়িৎ ক্ষেত্র বর্তমান থাকে, আধান গতিশীল হলে তা দূরীভূত হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৭১.
নিচের কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. এক্সরে
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (আলফা, বিটা ও গামা) নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত নিউক্লীয় ও স্বাভাবিক ঘটনা। 
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি তারাই মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
- যেমন: ইউরোনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, নেপচুনিয়াম, রেডিয়াম, রেডন, থোরিয়াম ইত্যাদি।
- ভরের বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে (বেশি হতে কম) আলফা রশ্মি > বিটা রশ্মি > গামা রশ্মি।
- ভেদন ক্ষমতার বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে: গামা রশ্মি > বিটা রশ্মি> আলফা রশ্মি।

উল্লেখ্য, 
- 1896 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল (Henry Becquerel) সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য দুটি একক রয়েছে, যথা- 
(১) কুরী (Curie) এবং (২) বেকেরেল (Becquerel)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪,১৭২.
কোমল এক্স-রে (Soft X-ray)-এর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. উচ্চ বিভব প্রয়োগে উৎপন্ন
  2.  তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট, ভেদন ক্ষমতা বেশি
  3. তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়, ভেদন ক্ষমতা কম
  4. শুধুমাত্র ধাতব পদার্থ অতিক্রম করতে পারে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-Rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় আকস্মিকভাবে এক্স-রে (X-Rays) আবিষ্কার করেন। 
- তিনি 10-3 mmHg চাপে একটি ক্ষরণ নল (Crookes tube) ব্যবহার করছিলেন। পরীক্ষার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে নলের কাছে রাখা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড আবৃত পাতের ওপর একটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হচ্ছে। 
- আরও বিশদ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ক্যাথোড রশ্মি যেখানে আপতিত হয়, সেখান থেকে সবুজাভ-হলুদ আলো বিকিরিত হওয়ার পাশাপাশি এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে। যেহেতু সে সময় এই রশ্মির প্রকৃতি জানা ছিল না, তাই প্রফেসর রঞ্জন একে "X-Rays" নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হন যে, উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের (Target) সাথে সংঘর্ষে বাঁধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার। 
যথা- কোমল এক্সরে (Soft X-ray) এবং কঠিন এক্সরে (Hard X-ray)। 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৭৩.
কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি?
  1. ক) কালো
  2. খ) সাদা
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
- কালো রংয়ের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি। 
- তাই গ্রীষ্মকালে কালো রংয়ের জামা পরিধান করলে এতে গরম বেশি অনুভূত হয়। 
- গরমের সময় কালো রং ব্যবহার করার ফলে অনেক সময় ঘামাচি বা  র‌্যাশ দেখা দেয়।
-  তাই গ্রীষ্মকালে কালো রং ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
 
অপরদিকে,
- সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক; কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম।
 
উৎস: বিডিনিউজ 


৪,১৭৪.
পদার্থের এটম নামক অবিভাজ্য একক রয়েছে- উক্তিটি কার?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) পিথাগোরাস
  3. গ) থেলিস
  4. ঘ) লোডস্টোন
ব্যাখ্যা

- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 

৪,১৭৫.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. ফসফরাস-32
  3. কার্বন-14 
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-32 (P-32) ব্যবহার করে উদ্ভিদের মূল থেকে বিভিন্ন অংশে খাদ্যবস্তু পৌঁছানোর কৌশল এবং উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ ও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 

- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৭৬.
একটি ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল কত?
  1. ১২ ঘন্টা
  2. ২৪ ঘন্টা
  3. ০ ঘন্টা
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল ২৪ ঘন্টা। অর্থাৎ ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল পৃথিবীর আবর্তনকালের সমান। পৃথিবীর আবর্তনকাল ও ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল সমান হওয়ায় পৃথিবীর একজন পর্যবেক্ষকের নিকট একে সব সময়ই স্থির মনে হবে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,১৭৭.
ঈস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম নয় কোনটি? 
  1. মলটেস
  2. জাইমেস
  3. ডায়াস্টেস 
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট (Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৭৮.
জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হওয়া এসিডকে কী বলা হয়?
  1. তীব্র এসিড
  2. দুর্বল এসিড 
  3. অজৈব এসিড 
  4. জৈব এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এটি নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৭৯.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক (frequency) প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কী?
  1. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার বন্ধ হয়
  2. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
  3. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
  4. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার উঠানামা করে
ব্যাখ্যা
• যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)। বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না।
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা-

(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ:
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়।
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ:
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ।
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী।
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো।
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়।
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়।
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,১৮০.
রঙ্গিন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সালফার
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) জিঙ্ক
  4. ঘ) নিয়ন
ব্যাখ্যা
রঙ্গিন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন নামক নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

- নিয়ন একটি গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থ। এটি একটি নিস্ক্রিয় গ্যাস।
- এর প্রতীক Ne এবং এর পারমাণবিক সংখ্যা ১০।
- নিয়ন পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৮ এবং পর্যায়-২ অবস্থিত।

নিয়ন গ্যাসের ব্যবহার-  
১. নিয়ন বাতি ও নিয়ন চিহ্ন প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।
২. আলোকসজ্জার জন্য নিয়ন গ্যাস ইলেকট্রিক বাল্বে ব্যবহৃত হয়।
৩. সবুজ ঘরে উদ্ভিদ ও ফুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৪. টেলিভিশন সেট, বেতার চিত্র এবং শব্দ চলচ্চিত্র ইত্যাদি’তে নিয়ন ব্যবহার করা হয়।
৫. বৈদ্যুতিক যন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে নিয়ন ও হিলিয়াম এর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- ৬৬ পৃষ্ঠা, রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৮১.
কোন অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘g‘ এর মান সর্বোচ্চ?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. বিষুব অঞ্চলে
  3. ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
g-এর মান কোনো ধ্রব রাশি নয়। বস্তু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব পরিবর্তনের সাথে সাথে g-এর মান পরিবর্তন হয়।
পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির কারণেও পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে বস্তুর উপর g-এর মানের পরিবর্তন ঘটে। বিষুব রেখা বরাবর
g-এর মান সর্বনিম্ন এবং মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ। পরীক্ষা করে দেখা যায় বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় ৯.৭৮ মি/সে
এবং মেরু এলাকায়, ৯.৮৩ মি/সে

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,১৮২.
H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত?
  1. 74
  2. 72
  3. 96
  4. 98
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক আণবিক ভর
- কোন অণুর ভর ও কার্বন-১২ পরমাণুর ভরের ১/১২ অংশের অণুপাত কে সেই অণুর আপেক্ষিক আণবিক ভর বলা হয় (যা ডাল্টন নামেও পরিচিত)।
- এটি এককবিহীন হয়। 

আণবিক ভর
- আণবিক ভর (M) হল কোন পদার্থের একটি অণুর ভর।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ পদার্থের আণবিক ভর একটি ভৌত ধর্ম। 
- একাধিক পদার্থের আপেক্ষিক আনবিক ভর সমান হতে পারে কিন্ত আনবিক ভর প্রত্যেক পদার্থের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র।

H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর : 

- সালফিউরিক এসিড(H2SO4) এর অণুতে 2 পরমাণু হাইড্রোজেন, পরমাণু  সালফার ও 4 পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1, সালফার এর পারমাণবিক ভর 32 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 

সুতরাং, H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = (1×2 + 32×1+ 16 x 4) 
 = 98. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৮৩.
রংধনু কোন দিকে দেখা যায়? 
  1. মেঘের দিকে 
  2. সূর্যের দিকে 
  3. সূর্যের বিপরীত আকাশে 
  4. সরাসরি মাথার উপরে 
ব্যাখ্যা

রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয় যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারেনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখে। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ ওঠে তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 
- রংধনু সব সময়ই সূর্যের বিপরীত আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৮৪.
'অ্যাটম' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) অবিভাজ্য
  2. খ) খন্ডিত
  3. গ) বিভক্ত
  4. ঘ) বিস্ফোরক
ব্যাখ্যা
- খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন পদার্থ কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘অ্যাটম' । 
- গ্রীক শব্দ ‘অ্যাটমের’ অর্থ হচ্ছে অবিভাজ্য। ডেমোক্রিটাসের ধারণা অনুযায়ী বিশ্বের যাবতীয় বস্তু অ্যাটম নামক খুবই ক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে গঠিত এবং এই অ্যাটমকে আর কোনক্রমেই ভাগ করা সম্ভব নয়।

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৮৫.
একটি কাগজের পৃষ্ঠা দিয়েই কোন রশ্মির গতি রোধ করা সম্ভব?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি মূলত একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
এটি পজিটিভ চার্জযুক্ত।
আলফা রশ্মি খুব বেশি আয়নিত করে শক্তি ক্ষয় করতে পারে বলে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়ে এটাকে থামানো সম্ভব।

অন্যদিকে
- বিটা রশ্মিকে থামাতে কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম ও
- গামা রশ্মির চার্জ না থাকাতে এটিকে থামাতে পুরু সিসার পাতের দরকার হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৪,১৮৬.
চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা কী নির্দেশ করে?
  1. ইলেকট্রনের ঘূর্ণন
  2. ইলেকট্রনের শক্তিস্তর
  3. অরবিটালের ত্রিমাত্রিক অবস্থান বিন্যাস
  4. নিউক্লিয়াস থেকে ইলেকট্রনের দূরত্ব
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম সংখ্যা: 
- কোনো পরমাণুতে একটি ইলেকট্রনের অবস্থান অর্থাৎ ইলেকট্রন কক্ষপথের আকার-আকৃতি তথা নিউক্লিয়াস হতে কক্ষপথটির দূরত্ব, কক্ষপথটি বৃত্তাকার না উপবৃত্তাকার, কক্ষপথের ত্রিমাত্রিক দিক বিন্যাস, কক্ষপথে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন ইত্যাদি জানার জন্য যে চারটি রাশি ব্যবহার করা হয়, সেই রাশিগুলোকে কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।
- পরমাণুতে কোনো ইলেকট্রনকে সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করার জন্য যে চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার প্রয়োজন তা হলো- 
১. প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (Principal Quantum Number), 
২. সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা (Subsidiary Quantum Number), 
৩. চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা (Magnetic Quantum Number) এবং 
৪. ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা (Spin Quantum Number)। 

- পরমাণুতে একটি ইলেকট্রন সম্পর্কে জানতে হলে চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার প্রয়োজন হয়। 
- পরমাণুতে প্রত্যেকটি কোয়ান্টাম সংখ্যা ইলেকট্রন সম্পর্কে যে তথ্য প্রদান করে তা নিম্নরূপ- 
১. প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) হতে ইলেকট্রন কক্ষপথের আকার এবং ইলেকট্রনটি নিউক্লিয়াস হতে কত দূরে অবস্থিত তা জানা যায়। 
২. সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনটি যে অরবিটালে অবস্থান করে তার আকৃতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। 
৩. চৌম্বক কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনটি যে অরবিটালে অবস্থান করে তার ত্রিমাত্রিক অবস্থান জানা যায়। 
৪. ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনের ঘূর্ণন সম্পর্কে জানা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৮৭.
শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত?
  1. 5.5
  2. 7.0
  3. 7.5
  4. 8.5
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৮৮.
ট্রান্সফরমার মূলত কিসের উপর নির্ভর করে কাজ করে?
  1. ধাতু
  2. বায়ু মাধ্যম
  3. কয়েলের পাক
  4. আইসি (IC)
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফরমার (Transformer) হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা একটি এসি (AC) ভোল্টেজকে অন্য একটি এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয় যাতে ভোল্টেজের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে । এটি দুইটি কুণ্ডলী (Primary ও Secondary Coil) এবং একটি লোহানির্মিত কোর নিয়ে তৈরি
-   এটি মূলত তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির উপর কাজ করে এবং এর কার্যক্ষমতা নির্ভর করে কয়েলের পাক সংখ্যা (Number of turns) এর উপর।
-   একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল তড়িৎপ্রবাহ থাকলে, অন্য কুণ্ডলীতে আবেশিত ভোল্টেজ তৈরি হয়।

Vs / Vp = Ns / Np

যেখানে:
Vp​ = প্রাইমারি ভোল্টেজ
Vs​ = সেকেন্ডারি ভোল্টেজ
Np​ = প্রাইমারি কয়েলের পাক
Ns​ = সেকেন্ডারি কয়েলের পাক
এই সূত্রের মাধ্যমে বোঝা যায়, ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ রূপান্তর সরাসরি কয়েলের পাক সংখ্যার অনুপাতের উপর নির্ভরশীল। 

অন্যদিকে, 
-  ট্রান্সফরমারে ধাতু থাকে কোর হিসেবে, তবে ধাতুর উপর কাজ নির্ভর করে না ।
-  ট্রান্সফরমার বায়ুমাদ্ধমের উপর নির্ভর করে নয়া।
-  ট্রান্সফরমারে আইসি থাকে না, এটি এনালগ যন্ত্র। 

তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  Britannica.
৪,১৮৯.
অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা কত?
  1. 6.023 × 1021
  2. 6.023 × 1022
  3. 6.023 × 1023
  4. 6.023 × 1024
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা:
- অ্যাভোগাড্রোর সূত্র অনুসারে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের মোলার আয়তন সমান এবং একই তাপমাত্রা ও চাপে সমান আয়তনের সকল গ্যাসে সমান সংখ্যাক অনু থাকে। অর্থাৎ সকল গ্যাসের ১ মোলে সমান সংখ্যক অণু আছে।
- ২ গ্রাম হাইড্রোজেনে যত সংখ্যক অণু আছে, ৩২ গ্রাম অক্সিজেনের একই সংখ্যক অণু আছে।
- তেমনি ৪৪ গ্রাম কার্বন দাই অক্সাইডে যে সংখ্যক অণু আছে, ১৮ গ্রাম পানিতেও একই সংখ্যক অণু আছে। 
- অ্যাভোগাড্রোর এই সংখ্যা কঠিন বা তরলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
- এই সংখ্যাকে অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা বলে যাকে N দ্বারাপ্রকাশ করা হয়।
- N এর মান হলো 6.023 × 1023 .
- কোনো বস্তুতে এই সংখ্যক অণু থাকলে সেটি হবে ১ মোল।
- অর্থাৎ ১ মোল Na অর্থাৎ ২৩ গ্রাম সোডিয়ামে 6.023 × 1023 সংখ্যক অণু আছে।
- যেকোনো মৌলের একতি অণুর ভর বের করতে হলে আনবিক ভরকে অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা দ্বারা ভাগ করতে হবে।



উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৯০.
ট্রানজিস্টর জনপ্রিয় হওয়ার একটি প্রধান কারণ কী? 
  1. এটি ব্যাটারিতে চলে
  2. এটি শুধু কম্পিউটারেই ব্যবহার হয়
  3. এটি কেবল সেন্সর হিসেবে কাজ করে
  4. এটি অল্প খরচে তৈরি করা যায়
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র, ওজন খুবই কম। 
- এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। 
- এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিয়েছে এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি করা নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি হাতের নাগালে পাওয়ার ফলে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৯১.
RFID এর পূর্ণরূপ-
  1. Random Frequency Information
  2. Radio Frequency Information
  3. Radio Frequency Identification
  4. Random Frequency Identification
ব্যাখ্যা
• Radio Frequency Identification (RFID):
- RFID এর পূর্ণরূপ Radio Frequency Identification.
- রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা RFID একটি বেতার যোগাযোগ পদ্ধতি।
- এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে বস্তু, মানুষ বা প্রাণীর সাথে যুক্ত ট্যাগ শনাক্ত ও ট্র্যাক করে।
- এই ট্যাগগুলিকে RFID ট্যাগ বলা হয়।
- RFID ট্যাগে ডিজিটালি সংরক্ষিত তথ্য থাকে, যা RFID রিডার দ্বারা পড়া যায়।
- বারকোড রিডারের মতো সরাসরি দৃষ্টিসীমায় না থাকলেও RFID রিডার কয়েক মিটার দূর থেকে ট্যাগ পড়তে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,১৯২.
প্লাজমা অবস্থার জন্য প্রয়োজন কী? 
  1. সাধারণ তাপমাত্রা 
  2. খুব নিম্ন তাপমাত্রা 
  3. প্রায় শূন্য তাপমাত্রা 
  4. অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়, তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৯৩.
ঝালাই প্রক্রিয়ায় অক্সিডেশন প্রতিরোধ করতে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নিয়ন গ্যাস
  2. আর্গন গ্যাস
  3. ক্রিপ্টন গ্যাস
  4. রেডন গ্যাস
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় আর্গন গ্যাসের ব্যবহার: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়
- আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
- তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৯৪.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার না থাকলেও দৃঢ়তা এবং আয়তন আছে
  2. খ) তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং দৃঢ়তা না থাকলেও আয়তন আছে
  3. গ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং দৃঢ়তা থাকলেও আয়তন নেই
  4. ঘ) তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার না থাকলেও দৃঢ়তা এবং আয়তন আছে
ব্যাখ্যা
অবস্থাভেদে পদার্থ তিন প্রকার হয়৷ যথা- কঠিন, তরল ও বায়বীয়৷
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও দৃঢ়তা আছে৷
তরল পদার্থে নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার এবং দৃঢ়তা নেই৷
গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন এবং দৃঢ়তা কোনোটিই নেই।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৪,১৯৫.
আলকেমিস্টদের মধ্যে সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা কে শুরু করেন? 
  1. জন ডাল্টন 
  2. রবার্ট বয়েল 
  3. জাবির-ইবনে-হাইয়ান 
  4. অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে 
ব্যাখ্যা

Chemistry শব্দের উৎপত্তি: 
- মধ্যযুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সোনার মতো দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন যেগুলো ছিল মূলত রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা। 
- মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো আর গবেষকদের বলা হতো আলকেমিস্ট (Alchemist)। 
- আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আল-কিমিয়া থেকে। আল-কিমিয়া শব্দটি আবার এসেছে কিমি (Chemi বা Kimi) শব্দ থেকে। এই Chemi শব্দ থেকেই Chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রসায়ন। 

- আলকেমিস্ট জাবির-ইবনে-হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা করেন, তাই তাঁকে অনেক সময় রসায়নের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জাবির-ইবনে-হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তিনি এসব নিয়ে গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না। 
- তবে রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবনে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী। 
- অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৯৬.
দুর্বল নিউক্লীয় বলের কারণে কোন ধরনের কণা বা রশ্মির নির্গমন ঘটে? 
  1. ফোটন কণা 
  2. আলফা (α) রশ্মি 
  3. গামা (γ) রশ্মি 
  4. বিটা (β) রশ্মি 
ব্যাখ্যা

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিয়ন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোনো দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই বলটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-18 m) কাজ করে। 
- তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে যে বিটা (β) রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় সেটার কারণ এই দুর্বল নিউক্লীয় বল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৯৭.
ব্যাটারিতে সাধারণত কোন অংশটি থাকে?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. ইলেকট্রোলাইট
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V।
- সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V। 
- আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৪,১৯৮.
নিউটন/বর্গমিটার দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. শক্তি
  2. চাপ
  3. ভরবেগ
  4. বল
ব্যাখ্যা

• নিউটন প্রতি বর্গমিটার (N/m2) হলো চাপের একক। চাপ হলো কোনো পৃষ্ঠের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে লেগে থাকা বলের পরিমাণ। অর্থাৎ, যদি একটি পৃষ্ঠে কোনো বল প্রয়োগ করা হয়, সেই বল যতটা বেশি এবং পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল যত ছোট, চাপ তত বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি একটি বড় বই টেবিলের ওপর রাখেন, চাপ কম থাকে, কিন্তু যদি সেই বইয়ের কোণ দিয়ে রাখেন, চাপ অনেক বেশি হয়। সুতরাং, N/m2 বা প্যাসকেল (Pa) মূলত চাপের পরিমাপের একক, বল, শক্তি বা ভরবেগের জন্য ব্যবহার করা হয় না। সঠিক উত্তর হলো খ) চাপ।
 
• চাপ (Pressure):
- চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের প্রতি প্রয়োগ করা বলের পরিমাণ।  
- এটি বলের অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়া বা বাহ্যিক প্রভাবকে বোঝায় যা কোনো পৃষ্ঠের উপর লেগে থাকে।  
- SI এককে চাপকে নিউটন/বর্গমিটার (N/m2) বা প্যাসকেল (Pa) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।  
- চাপ গণনার সূত্র: P = F / A, যেখানে F = বল, A = ক্ষেত্রফল।  
- উদাহরণ: বাতাসের চাপ, জলস্তরের চাপ, হাইড্রোলিক সিস্টেমের চাপ ইত্যাদি।  

- অপশন আলোচনা: 
- নিউটন (N) হলো বলের একক, শক্তি নয়।  
- শক্তি (Energy) জুল (J) দ্বারা পরিমাপ করা হয়, N/m2 দ্বারা নয়।  
- ভরবেগ (Momentum) কেজি·মিটার/সেকেন্ড (kg·m/s) দ্বারা পরিমাপ হয়।  
- তাই N/m2 শুধু চাপের জন্য প্রযোজ্য।  

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৪,১৯৯.
একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি টুলকে একই ত্বরণে সরাতে গেলে দেখা গেল ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হচ্ছে। এই ঘটনার ব্যাখ্যা কোন সূত্রের সাহায্যে করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. মহাকর্ষ সূত্র
ব্যাখ্যা

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র — একই ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর বেশি হলে বেশি বল প্রয়োজন হয়; তাই এ ঘটনাটি নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

 
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- কোনো বস্তুর উপর প্রয়োগকৃত বল তার ভর ও ত্বরণের গুণফলের সমান।
- গাণিতিকভাবে, F = ma.
- নির্দিষ্ট ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর যত বেশি হবে, প্রয়োজনীয় বলও তত বেশি হবে।
 
• ঘটনার বিশ্লেষণ:
- ড্রেসিং টেবিলের ভর টুলের তুলনায় বেশি।
- একই ত্বরণে সরাতে হলে ড্রেসিং টেবিলের জন্য বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়।
- তাই ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- নিউটনের প্রথম সূত্র: বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তু স্থির বা সমবেগে চলমান থাকে।
- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।
- মহাকর্ষ সূত্র: দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল নির্ণয়ের সূত্র।
 
উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

৪,২০০.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) বিজ্ঞানী মার্কনী
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।