বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৬৪ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৬,৪০৯

৩,৫০১.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত? 
  1. ৫৪.৯° সেলসিয়াস
  2. ৯৮.৪° সেলসিয়াস
  3. ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  4. ৯৮.৪° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে। 
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাঁটা থাকে। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৩,৫০২.
ডেকেনে হাইড্রোজেনের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১২
  2. খ) ১৮
  3. গ) ২২
  4. ঘ) ২৬
ব্যাখ্যা
অ্যালকেনের সাধারণ সংকেত CnH2n + 2

ডেকেন হলে, n = 10

CnH2n + 2
= C10 H2 × 10 + 2
= C10H22


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫০৩.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫০৪.
গ্লুবার লবণ এবং তুঁতের মধ্যে অবস্থিত পানির অনুপাত কত?
  1. ৩ : ২
  2. ১ : ২
  3. ২ : ১
  4. ৪ : ৩
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

- গ্লুবার লবণে পানি রয়েছে - ১০ অণু,
- তুঁতেতে পানি রয়েছে - ৫ অণু,

সুতরাং, গ্লুবার লবণ এবং তুঁতেতে অবস্থিত পানির অনুপাত হচ্ছে: ২ : ১।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০৫.
বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কি?
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্ট মিটার
  3. গ্যালভানো মিটার
  4. ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপক যন্ত্র হলো অ্যামিটার। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য নির্ণয়ের যন্ত্র হলো ভোল্টমিটার। 
- ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি গতিহীন নিশ্চল বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫০৬.
এক অনু সালফিউরিক এসিডে কতটি পরমাণু আছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৯
ব্যাখ্যা

এক অনু সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO4 । এতে পরমাণু সংখ্যা 2+1+4 = 7 টি।

৩,৫০৭.
টেপ রেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কোন ধরনের ব্যবহৃত হয়?
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. সিরামিক চুম্বক
  3. কোমল চুম্বক 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫০৮.
SMOG সৃষ্টির উৎস কোনটি?
  1. ক) তুষারপাত ও ধোঁয়া
  2. খ) কুয়াশা ও বৃষ্টি
  3. গ) ধোঁয়া ও কুয়াশা
  4. ঘ) কালোধোঁয়া ও বাতাস
ব্যাখ্যা
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- ‘SMOG’ শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যান্সার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভূতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়।

 উৎস : National Geographic Society.
৩,৫০৯.
নক্ষত্রের ক্ষেত্রে চন্দ্রশেখর সীমা কোনটি?
  1. ক) ১ সৌরভর
  2. খ) ১.৪ সৌরভর
  3. গ) ৩.২ সৌরভর
  4. ঘ) ২ সৌরভর
ব্যাখ্যা
১৯৩০ সালে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী সুব্রাহহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর  মাত্র ১৯ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা ও আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব ব্যবহার করে দেখান যে, কোনো নক্ষত্রের ভর যদি ১.৪ সৌরভর হের চেয়ে বেশী হয়, তাহলে সেটি শ্বেত বামন নক্ষত্র হিসেবে স্থায়িত্ব লাভ করতে পারবে না। নক্ষত্রের এই ভরকে চন্দ্রশেখর সীমা বলে। কোন নক্ষত্রের ভর চন্দ্রশেখর সীমার চেয়ে বেশী হলে সেটি হয় নিউট্রন নক্ষত্র বা কৃষ্ণ গহবরে রুপান্তরিত হয়। ১৯৮৩ সালে এই আবিষ্কারের জন্য চন্দ্রশেখর উইলিয়াম ফাউলারের সাথে যুগ্মভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী
৩,৫১০.
আসল ও নকল রত্নের পার্থক্য নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি 
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা

- রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করে পদার্থের ভেতরের গঠন ও ঘনত্বের পার্থক্য বোঝা যায়। আসল ও নকল রত্নের কেলাস গঠন এবং তাদের মধ্য দিয়ে রশ্মি চলাচলের ক্ষমতা (Radiolucency) ভিন্ন হওয়ার কারণে মণিকারেরা রঞ্জন রশ্মির সাহায্যে সহজেই এদের শনাক্ত করতে পারেন। 

এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 

- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫১১.
তুঁতের রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. Ca(OH)2
  2. Na2CO3.10H2O
  3. CuSO4.5H2O
  4. C17H35COOK
ব্যাখ্যা

তুঁতের রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে CuSO₄·5H₂O।

রাসায়নিক সংকেত:
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত - CuSO4.5H2O.
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত - ZnCO3.
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত - Ca(OH)2.
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত - NaHCO3.
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যার রাসায়নিক সংকেত হলো - C17H35COOK.
- কাপড় কাচার সাবানে থাকে মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট, যার রাসায়নিক সংকেত - C17H35COONa.
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত - Na2CO3.10H2O.
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত - [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O].

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫১২.
সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে কী বলে?
  1. ক) ত্বরণ
  2. খ) দ্রুতি
  3. গ) সরণ
  4. ঘ) ভরবেগ
ব্যাখ্যা
ত্বরণ 
- সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে।
- যদি বেগের মান বাড়তে থাকলে বস্তুটির ত্বরণ হবে।
- আবার বেগের মান কমতে থাকলে তাহলে ঋণাত্মক ত্বরণ বা মন্দন হবে।
- ত্বরণ = (শেষ বেগ - আদি বেগ)/অতিক্রান্ত সময়
- ত্বরণের মাত্রা, [a] = [LT-2]
- ত্বরণের একক = ms-2

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫১৩.
কোনটিতে সদ বিম্ব গঠিত হয়?
  1. ক) অবতল লেন্স
  2. খ) উত্তল লেন্স
  3. গ) উত্তল দর্পন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সদ বিম্ব: কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে তবে তাকে সদ বা বাস্তব প্রতিবিম্ব বলে।

• অবতল দর্পণ উত্তল লেন্সে সদ বিম্ব গঠিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫১৪.
কোনো জলীয় দ্রবণে pH = 0 দ্রবণটির প্রকৃতি হবে-
  1. প্রশম
  2. অম্লীয়
  3. ক্ষারীয়
  4. উভধর্মী
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে। 
অর্থাৎ pH = -log[H+
- একইভাবে, কোনো দ্রবণের হাইড্রোক্সাইড আয়নের [OH-] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pOH বলে। 
অর্থাৎ, pOH = -log[OH-
- 25° C তাপমাত্রায় পানির [H+] ও [OH-] এর গুণফল হবে = 10-14
- যেকোনো নিরপেক্ষ দ্রবণে [H+] = [OH-] = 10-7 mol L-1, তাই নিরপেক্ষ দ্রবণের pH = pOH = 7. 
- বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7. তাই বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে অর্থাৎ pH < 7 হয়। আবার বিশুদ্ধ পানিতে ক্ষার যোগ করা হলে pH এর মান বাড়তে থাকে অর্থাৎ pH > 7 হয়। 
সুতরাং, কোনো জলীয় দ্রবণের pH বা pOH = 7 হলে উক্ত দ্রবণ নিরপেক্ষ। pH < 7 হলে উক্ত দ্রবণ অম্লীয় এবং pH > 7 হলে উক্ত দ্রবণ ক্ষারকীয় হবে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১৫.
গ্যালেনা (PbS) কোন ধাতুর আকরিক?
  1. সীসা 
  2. তামা
  3. লোহা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

- গ্যালেনা হলো সীসা বা লেড-এর প্রধান আকরিক, এর রাসায়নিক সংকেত PbS (লেড সালফাইড)। এটি পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যাওয়া সালফাইড খনিজগুলোর মধ্যে একটি এবং বাণিজ্যিক সীসা উৎপাদনের প্রধান উৎস। 

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়।
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে।

আকরিক (Ores): 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে।
যেমন- গ্যালেনা (PbS) থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়।
- আবার, বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়।
- কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়।
অতএব, আকরিক অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে।
- আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস (FeS2) বলা হয়, আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫১৬.
রেকটিফায়ার এর কাজ কি?
  1. ভোল্টেজকে বাড়ানো বা কমানো
  2. তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপ করা
  3. পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে পরিবর্তন
  4.  সুইচ বা অ্যামপ্লিফায়ার হিসাবে কাজ করা
ব্যাখ্যা

একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- ক। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং  খ। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

অন্যদিকে, 
- ট্রান্সফরমার: এটি AC ভোল্টেজকে বাড়াতে বা কমাতে পারে, কিন্তু এটি AC-কে DC-তে রূপান্তর করে না। 
- অ্যামিটার: অ্যামিটার বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- ট্রানজিস্টর: এটি মূলত একটি সুইচ বা অ্যামপ্লিফায়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি সরাসরি AC-কে DC-তে রূপান্তর করে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৫১৭.
গতিশীল চার্জের উপর যে বল ক্রিয়া করে তাকে বলে-
  1. ক) চৌম্বক বল
  2. খ) তড়িৎ বল
  3. গ) কুলম্ব বল
  4. ঘ) তড়িৎ-চুম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা
ধরা যাক, q পরিমাণ চার্জ B চৌম্বক আবেশযুক্ত ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে v বেগে গতিশীল। পরীক্ষালব্ধ ফলাফল হতে দেখা যায় যে, গতিশীল চার্জের ওপর একটি বল ক্রিয়া করে। এ বলকে চৌম্বক বল বলে। এ বল নিম্নরূপ:
F = qvBSinθ
এ বলের মান ও দিক ভেক্টর গুণনের বিধি দ্বারা নির্ধারিত।
এখানে, θ হল v ও B এর মধ্যবর্তী কোণ।
যদি v = 0 হয়, তবে F=0 অর্থাৎ স্থির চার্জের ওপর চৌম্বক বল শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১৮.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. ক) কাজ ও তাপের একক অভিন্ন।
  2. খ) তাপের SI একক ক্যালরি।
  3. গ) ১ জুল = ৪.২ক্যালরি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
তাপ শক্তির একটি রূপ। তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক।
তাপের SI একক জুল (J)।
এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১°C বাড়াতে বা কমাতে যতটা
তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য।
তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল।
∴ ১ জুল = ১/৪.২ ক্যালরি
= ০.২৪ ক্যালরি

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৫১৯.
3717Cl এবং 3718Ar কে বলা হয় পরস্পরের-
  1. ক) আইসোমার
  2. খ) আইসোবার
  3. গ) আইসোটোন
  4. ঘ) আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
Isobar, in nuclear physics, any member of a group of atomic or nuclear species all of which have the same mass number—that is, the same total number of protons and neutrons. Thus, chlorine-37 and argon-37 are isobars. Chlorine-37 has 17 protons and 20 neutrons in its nucleus, whereas argon-37 has a nucleus comprising 18 protons and 19 neutrons. In beta decay, mother and daughter nuclei are always isobars, because either a neutron is converted to a proton or a proton is converted to a neutron in the process. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,৫২০.
ট্রান্সফরমারের তড়িৎ শক্তি রূপান্তরের সময় শক্তির পরিমাণ কী হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অর্ধেক হয় 
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- ১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫২১.
কোন ধাতুটি অ্যানোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তামা
  2. খ) লোহা
  3. গ) ব্রোঞ্জ
  4. ঘ) নিকেল
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন (Electroplating) : তড়িৎ বিশ্লেষণ করে একটি ধাতুর ওপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বলে। সাধারণত কোনো কম দামি ধাতু (যেমন তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি) দিয়ে তৈরি জিনিসকে জলবায়ু থেকে রক্ষা করার জন্য কিংবা সুন্দর দেখানোর জন্য সেগুলোর ওপর সোনা, রুপা, নিকেল এরকম মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়। যে ধাতব বস্তুটিকে প্রলেপ দিতে হবে, সেটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি পাত্রে রাখতে হবে। এটি হবে ক্যাথোড ইলেকট্রোড। যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়। তড়িৎ দ্রব হিসেবে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, তার কোনো একটি লবণের দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। এখন ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে রাখা ধাতব বস্তুর ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে।

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
৩,৫২২.
নিচের কোনটি ঋণাত্মক কাজের উদাহরণ?
  1. সমতলে হাটা
  2. সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা
  3. রশ্মি বেয়ে নিচে নামা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ঋণাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের বিপরীত দিকে সরে যায় তাহলে সেই বল যে কাজ সম্পন্ন করে তাকে ঋণাত্মক কাজ বলে। 
- একটি বস্তুকে মাটি থেকে উপরে ওঠালে বস্তুর উপর অভিকর্ষজ বল নিচের দিকে ক্রিয়া করে।
- এক্ষেত্রে বল ও সরণ বিপরীতমুখী হওয়ায় অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন হবে। এটি ঋণাত্মক কাজ।
 
উপরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা একটি ঋণাত্মক কাজ। 

ধনাত্মক কাজ:
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের দিকে সরে যায় তখন বল যে কাজ সম্পন্ন করে তাকে বলের দ্বারা কাজ বা ধনাত্মক কাজ বলা হয়।
- একটি বস্তু উপর থেকে ফেলে দিলে বস্তুটি অভিকর্ষ বলের দিকে পড়বে, ফলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল দ্বারা কাজ সম্পন্ন হবে। এটি ধনাত্মক কাজ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
৩,৫২৩.
নিচের সংকেতটি কোন যৌগের?
  1. বেনজিন
  2. ন্যাপথলিন
  3. প্যারাসিটামল
  4. সাইক্লিক এসিড
ব্যাখ্যা
সংকেতটি ন্যাপথলিন এর।
এটি অ্যারোমেটিক যৌগ। 
অ্যারোমেটিক যৌগ গুলো সাধারনতঃ ৫, ৬ বা ৭ সদস্যর সমতলীয় যৌগ। 

উৎস - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৩,৫২৪.
যে সকল যৌগ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু আহরণ করা যায়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. শিলা
  2. আকরিক
  3. খনিজ
  4. খনিজমল
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না, খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 

খনিজ পদার্থ ও খনিজ সম্পদ: 
- ভূপৃষ্টের সকল স্থানেই বিভিন্ন ধাতু বা অধাতুর যৌগ পাওয়া গেলেও তা সব সময় লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় না। যদি ভূপৃষ্টের উপরিতলে বা ভূপৃষ্টের অভ্যন্তরে কোন যৌগ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা থেকে কোন ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায়, তবে সেই স্থানকে খনি বলে। আর খনি থেকে প্রাপ্ত পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। 
- আবার যদি এসকল পদার্থ লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় তবে এদের খনিজ সম্পদ বলা হয়। 
- স্বর্ণ, হীরা, কয়লা, সালফার ইত্যাদি খনিতে মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়, তাই এগুলো মৌলিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 
- মৌলিক খনিজ ব্যতিত সকল খনিজই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায় এবং এগুলো যৌগিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৫.
বৈদ্যুতিক কলিংবেলে কোন চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. পারম্যালয়
  3. অস্থায়ী চুম্বক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

• স্থায়ী চুম্বক:
- কোনো ফেরোচৌম্বক পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করার পর চুম্বকায়ন শক্তি অপসারণ করলেও যদি চুম্বকত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে ঐ চুম্বককে স্থায়ী চুম্বক বলে।
• অস্থায়ী চুম্বক:
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলা হয়।
• অস্থায়ী চুম্বকের বৈশিষ্ট্য:
- এটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ প্রবাহ চলাকালীন চুম্বকের মতো কাজ করে।
- সাধারণত নরম লোহার কোর ব্যবহার করা হয়, যা সহজে চুম্বকত্ব হারায়।
- এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে বৈদ্যুতিক কলিংবেল তৈরি করতে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয়। 

• বৈদ্যুতিক কলিংবেল (Electric Bell) কাজ করে তড়িৎ-চুম্বকীয় নীতির (Electromagnetic Principle) উপর।
- এতে একটি অস্থায়ী চুম্বক (Electromagnet) ব্যবহৃত হয়, যা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে চুম্বকে পরিণত হয় এবং প্রবাহ বন্ধ হলে চুম্বকত্ব হারায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,৫২৬.
একটি বাল্বে 60W – 220V লেখা থাকলে তার রোধ কত ওহম?
  1. ক) 16.36
  2. খ) 160.67
  3. গ) 280.36
  4. ঘ) 806.67
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাল্বে 60W – 220V লেখা থাকলে তার রোধ কত ওহম?

সমাধান: 
এখানে,
বিভব পার্থক্য, V = 220V
ক্ষমতা, P = 60 W
রােধ, R = ?

আমরা জানি,
P = V2/R
বা, R = V2/P
বা, R = 220×220/60
∴ R = 806.67 ওহম
৩,৫২৭.
শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হতে পারে নিচের কোন মাধ্যমে?
  1. বায়ু
  2. তরল
  3. কঠিন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
শব্দঃ শব্দ এক প্রকার শক্তি। বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। জড়
মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের
মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে আমাদের কানে প্রবেশ করে।
বায়ু বা যে কোন জড় মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করলে তা শুধু একদিকে নয় অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গাকারে
(গোলকাকৃতিকভাবে) সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৮.
কোনো সিলিকন চিপে লক্ষ লক্ষ বর্তনী সংযোজিত হলে তাকে কী বলে?
  1. সমান্তরাল বর্তনী
  2. অর্ধপরিবাহী ট্রানজিস্টর
  3. অর্ধপরিবাহী ডায়োড
  4. সমন্বিত বর্তনী
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- 1952 এর দিকেই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হলেও সত্যিকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় ষাটের দশকে। - পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা প্লেটে (Wafer) অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করার সময় এই প্রক্রিয়াটিকে আর একটুখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল।
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয়। এর নাম দেওয়া হলো ইন্টিগ্রেডেট সার্কিট (আইসি IC) বা সমন্বিত বর্তনী।
- প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অল্প জায়গায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর বসানো শুরু হলো এবং তার নাম দেওয়া হলো প্রথমে লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (LSI), পরে ভেরি লার্জ স্কেল ইন্ট্রেগ্রেশন (VLSI)।
- এই সার্কিটগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে প্যাকেজ করা হতো যেন সরাসরি সার্কিট বোর্ডে ব্যবহার করা যায়।
- মাইক্রোকম্পিউটার, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ভিডিও ক্যামেরা এবং যোগাযোগের উপগ্রহ এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ছাড়া কোনো দিনই সম্ভব হতো না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
৩,৫২৯.
জৈব যৌগে কোনটি অবশ্যই থাকবে?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) কার্বন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা
উৎস বা প্রস্তুত পদ্ধতি যাই হোক না কেন সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। তাই বলা যায় জৈব যৌগ মূলত কার্বন যৌগ।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।

বর্তমানে জৈব যৌগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় ‘কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।’

যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩০.
কিসের সংস্পর্শে এলে লোহায় মরিচা ধরে?
  1. ক) বাতাস
  2. খ) পানি
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা
লোহার পৃষ্ঠ বায়ুর সংস্পর্শে এলে বিক্রিয়ায় আয়রন অক্সাইড বা মরিচা উৎপন্ন হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৫৩১.
পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে চাঁদে তার ভর কত হবে?
  1. ৯.৮ কেজি
  2. ১ কেজি
  3. ০ কেজি
  4. ১.৬৩ কেজি
ব্যাখ্যা

স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে।
আমরা জানি, ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি।
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি।

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ।
তাই চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১.৬৩ নিউটন।

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৫৩২.
তাপ সঞ্চালন ______ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে চলে যায়, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলা হয়।

• তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়:

১. পরিবহন
২. পরিচলন
৩. বিকিরণ

• তাপ পরিচলন:
- একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে বসিয়ে তাপ দিলে পুরো পাত্রের পানিই গরম হতে থাকে।
- এক্ষেত্রে, পানির কণাগুলো তাপ গ্রহণ করে শক্তি অর্জন করে।
- শক্তি অর্জন করে গরম পানিকণা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়।
- উপরের ঠাণ্ডা পানির কণাগুলো নিচে নেমে এসে তাপ গ্রহণ করে।
- এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল কণা তাপ গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয় এবং তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়।
- কণাদের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়াকে পরিচলন বলা হয়।
- তরল পদার্থের কণার মতো, বায়বীয় পদার্থের কণারাও উত্তপ্ত হয়ে সহজেই স্থান পরিবর্তন করে তাপ সঞ্চালন করে।
- তরল ও বায়বীয় পদার্থে পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৫৩৩.
দেহের তাপমাত্রা 98°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?
  1. 36.7°
  2. 38°
  3. 39.1°
  4. 40.5°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দেহের তাপমাত্রা 98°F হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ঐ তাপমাত্রা কত হবে?

সমাধান:
ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের সম্পর্ক হলোঃ C/5 = (F - 32)/9
F = 98° হলে,
C/5 = (98 - 32)/9
⇒ C/5 = 66/9
⇒ C = (66 × 5)/9
⇒ C = 330/9
∴ C = 36.7°

সঠিক উত্তর- ক) 36.7° 

৩,৫৩৪.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপন হার বেশি?
  1. CO2
  2. NH3
  3. H2SO4
  4. HCl
ব্যাখ্যা
• CO2 এর আনবিক ভর = 44
• NH3 এর আনবিক ভর = 17 
• H2SO4 এর আনবিক ভর = 98
• HCl এর আনবিক ভর = 36.5
• NH3 এর আনবিক ভর সবচেয়ে কম। তাই এর  ব্যাপন হার বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৩,৫৩৫.
নিচের কোন জেলায় কঠিন-শিলা খনি পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. নেত্রকোনা
  3. খুলনা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:

• কঠিন শিলা (Hard Rock):
- রেলপথ, রাস্তাঘাট, গৃহ, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার  পার্বতীপুর, কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- রংপুরের রানীপুকুর থেকে বৈদেশিক সহযোগিতায় শিলা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, এখান থেকে বছরে প্রায় ১৭ লক্ষ টন শিলা উত্তোলন করা যাবে। 

• খনিজ তেলঃ
- দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- এ তেলক্ষেত্রে তেলের মোট মজুতের পরিমাণ প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
- ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- উৎপাদন শুরুর পরবর্তী সাড়ে ছয় বছরে এ তেলক্ষেত্র থেকে ০.৫৬ মিলিয়ন ব্যারেল খনিজ তেল উৎপাদন করা হয়।
- ১৯৯৪ সালের জুলাই মাস থেকে তেল উৎপাদন স্থগিত হয়ে যায়।
- বিশেষজ্ঞগণের মতে, হরিপুর তেলক্ষেত্রটিকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা হয় নি এবং সঠিক উপায়ে মূল্যায়নকার্য পরিচালনার পর পূর্ণমাত্রায় তেল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

* প্রাকৃতিক গ্যাসঃ
- মোট বানিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের ৭১% পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে
- আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি
- সর্বশেষে গ্যাসক্ষেত্র- ভোলা জেলার ইলিশা-১।
- সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র- তিতাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো
৩,৫৩৬.
মাইক্রোপ্রসেসরের মূল কাজ কী?
  1. তথ্য প্রদান করা
  2. তথ্য গ্রহণ করা
  3. তথ্য সংরক্ষণ করা 
  4. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
ব্যাখ্যা

মাইক্রোপ্রসেসর: 
- সমন্বিত (Integrated Circuit) বর্তনী আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং গাণিতিক/যুক্তি ইউনিটগুলো একই সংগে মাইক্রোপ্রসেসরে থাকে। ফলে আধুনিক কম্পিউটারে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকেই বুঝায়। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যের উপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজগুলো হলো- 
১. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সংগে কাজের সমন্বয় সাধন করা। 
২. গাণিতিক/যুক্তির কাজ করা। 
৩. কম্পিউটারের স্মৃতিতে সঞ্চিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা। 
৪. স্মৃতি ও গাণিতিক/যুক্তি অংশের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং অন্যান্য অংশের সাথে তথ্য বিনিময়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। 
- এই সমস্ত কাজ সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে প্রয়োজনীয় বর্তনী থাকে। 
- উপরে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরের সংগঠনকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নিয়ন্ত্রণ অংশ, 
২। গাণিতিক/যুক্তি অংশ এবং   
৩। স্মৃতি । 


উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৩৭.
কৃষ্ণবিবরের ঘনত্ব ও আয়তনের অবস্থা কেমন হয়? 
  1. আয়তন প্রায় বেশি, ঘনত্ব কম
  2. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
  3. আয়তন প্রায় অসীম, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  4. উভয়ই অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩৮.
পাহাড়ে ওঠার সময় আমাদের সামনের দিকে ঝুঁকতে হয়, কারণ-
  1. ক) বেগ বাড়ানোর জন্য
  2. খ) ক্লান্তি এড়ানোর জন্য
  3. গ) শরীরকে স্থির রাখার জন্য
  4. ঘ) পেছনের দিকে হেলে পড়া রোধের জন্য
ব্যাখ্যা
পাহাড়ে উঠার সময় আমাদের শরীরের ভরকেন্দ্রের (Center of gravity) ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়, সেজন্য সামনের দিকে ঝুকে হাটতে হয়, নইলে নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার পাহাড় থেকে নামার সময় একই কারণে পেছনের দিকে হেলে হাটতে হয়।
৩,৫৩৯.
কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. ক) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  2. খ) মাটির ক্ষয়রোধ করার জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
ব্যাখ্যা
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৫৪০.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. এডুইন হাবল
  2. স্টিফেন হকিং 
  3. জর্জ গ্যামো
  4. জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩,৫৪১.
একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে-
  1. পাথরের টুকরাটি আগে মাটিতে পড়বে
  2. কাগজের টুকরাটি আগে মাটিতে পড়বে
  3. এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে
  4. উভয়টি শূন্যে ঝুলন্ত থাকবে
ব্যাখ্যা
একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে।
 
• পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রথম সূত্র : স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সব বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে।

প্রথম সূত্র : এ সূত্রানুসারে স্থির অবস্থান থেকে কোনো বস্তু ছেড়ে দিলে তা যদি বিনা বাধায় মাটিতে পড়ে, তাহলে মাটিতে পড়তে যে সময় লাগে তা বস্তুর ভর, আকৃতি বা আয়তনের ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন ভরের, আকারের ও আয়তনের বস্তুকে যদি একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এগুলো যদি বিনা বাধায় মুক্তভাবে পড়তে থাকে, তাহলে সবগুলোই একই সময়ে মাটিতে পৌঁছবে।

এই সূত্রানুসারে, একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৪২.
ধনাত্মক আধান বা পজিটিভ চার্জ বিশিষ্ঠ আয়নকে কি বলে?
  1. অ্যানায়ন
  2. ক্যাটায়ন
  3. সমযোজী
  4. আয়নিক
ব্যাখ্যা
- সাধারনত পরমানুর নিউক্লিয়াসে যতটি ধনাত্মক আধান বা প্রোটন থাকে, এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ঠিক ততটি ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রন থাকে। এভাবেই একটি পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ হয়। এরকম একটি আধান নিরপেক্ষ পরমাণুর বাইরের শক্তি স্তর থেকে এক বা একাধিক ইলেক্ট্রন সরিয়ে নিলে সেটি নিরপেক্ষ না থেকে সামগ্রিকভাবে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট আয়নে পরিণত হয়।
ধনাত্মক আধান/পজিটিভ চার্জ বিশিষ্ট এরূপ আয়নকে ক্যাটায়ন বলে।

সূত্রঃ উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৩,৫৪৩.
কোনটিতে তামা অনুপস্থিত থাকে?
  1. ব্রোঞ্জ
  2. ২১ ক্যারেট স্বর্ণ
  3. ২২ ক্যারেট স্বর্ণ
  4. ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ২৪ ক্যারেট স্বর্ণে তামা বা অন্য কোনো খাঁদ থাকে না। 

• সংকর ধাতু:
- কতকগুলো ধাতুকে একত্রে গলানোর পর গলিত মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে ধাতু মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 

• সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
• সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
• প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করাহয়। যেমন- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু।
• স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• সংকর ধাতু মরিচাবিহীন ইস্পাতে কপার অনুপস্থিত।
- এর উপাদান গুলো হলো লোহা, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
• সংকর ধাতু ডুরালুমিনে কপারের পরিমাণ 4% ।
• 21 ক্যারেট ও 22 ক্যারেট স্বর্ণে খাদ হিসেবে কপার ও অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ যথাক্রমে 12.5% ও 8.33%। 
• 24 ক্যারেট স্বর্ণে স্বর্ণের পরিমাণ 100% । অর্থাৎ এতে তামা বা অন্য কোনো খাঁদ থাকে না। 

তথ্যসুত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৫৪৪.
সালফিউরিক এসিডে ভরের অনুপাতে প্রায় কত ভাগ সালফিউরিক এসিড থাকে?
  1. ক) ৯৮ ভাগ
  2. খ) ৬৭ ভাগ
  3. গ) ৪৫ ভাগ
  4. ঘ) ৫৬ ভাগ
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO4
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৫৪৫.
নিচের কোনটি পানির ঘনত্ব? 
  1. 1000 gm-3
  2. 1000 kgm-3
  3. 1280 kgm-3
  4. 10000 kgm-3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, p = m/V. 

ঘনত্বের একক: 
- কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kgm)। 
4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1g/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৬.
গোয়েন্দা বিভাগে কোন ধরনের রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
• গোয়েন্দা বিভাগে "রঞ্জন রশ্মি" ব্যবহৃত হয়।

• রঞ্জন রশ্মি:

- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি উৎপন্ন হয়।
- এক্স-রের একক রন্টজেন।
- এক্স-রে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩ × ১০১৬ থেকে
৩ × ১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়।

• এক্স-রে (ঞ্জন রশ্মি) এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৭.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র নিচের কোনটি? 
  1. অডিওমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ক্রনোমিটার 
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে- অডিওমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৫৪৮.
নিচের কোন মৌলটির অক্সাইড এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে?
  1. C
  2. Fe
  3. P
  4. S
ব্যাখ্যা
দূষক হচ্ছে সে সকল পদার্থ যার উপস্থিতি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে মানুষ তথা প্রাণিকূলের স্বাভাবিক জীবন যাপন হুমকি হয়ে উঠে। 

সিমেন্ট শিল্পের দূষক সমূহ (Pollutants in cement industry)
সিমেন্ট তৈরীর প্রতিটি ধাপে দূষক পদার্থ উৎপন্ন হয় যা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। নিম্নে সিমেন্ট শিল্পে উৎপন্ন কতিপয় উল্লেখযোগ্য দূষকের বর্ণনা দেয়া হলো :
১। সিমেন্ট তৈরীতে CaCO3 কে তাপ দিয়ে CaO এ পরিণত করা হয় এতে প্রচুর CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা বায়ুকে দুষিত করে।
২। সিমেন্ট কারখানায় ঘুর্নায়মান চুল্লীতে উচ্চ তাপ প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন রকমের জ্বালানী যেমন- কোক, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ইত্যাদি দহন করা হয়। এ সব জ্বালানি দহনে প্রচুর পরিমাণে CO2, SO,NOx ইত্যাদি বায়ু দূষক গ্যাস উৎপন্ন হয় ফলে বায়ু দূষিত হয়। অধিকন্তু নাইট্রোজেন ও সালফারের অম্লীয় অক্সাইডসমূহ অম্ল-বৃষ্টি সৃষ্টি করে যার প্রভাবে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় ও গাছ-পালা বিনষ্ট হয়।
৩। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের থ্যালিয়াম (T1), ক্যাডমিয়াম (Cd), মারকারী (Hg) প্রভৃতি উদ্বায়ী ভারী ধাতু অপদ্রব্য হিসেবে থাকে । চুল্লীর উচ্চ তাপমাত্রায় এসব বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে ।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৯.
কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (1V) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (IC) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্ব-
  1. ক) 1 F
  2. খ) 2 F
  3. গ) 3 F
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরিবাহকের ধারকত্ব : কোনো পরিবাহীর বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহীর ধারকত্ব বলে ।
ফ্যারাড: কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (1V) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (IC) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্ব এক ফ্যারাড (1F) বলে ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫০.
শব্দ কী? 
  1. এক ধরনের পদার্থ
  2. এক ধরনের শক্তি
  3. এক ধরনের আলো
  4. এক ধরনের তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকারের শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫১.
রাবার কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়?
  1. পানি
  2. এসিড
  3. দুর্বল ক্ষার
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার কর, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবকে (যেমন-এসিটোন, মিথানল) অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী, তবে আজকাল বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে। কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, কারণ রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৫২.
আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ভিত্তিতে কোনটির ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. ক) মহাকর্ষ
  2. খ) নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. গ) সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

আপেক্ষিকতার নীতি (Principle of Relativity)

- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়। 
- কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। 
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়। 
- তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়।
অর্থাৎ সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করি। 

- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি। 
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান। 
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। 

- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধ মানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। 
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন। এটাই আপেক্ষিকতার নীতি। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৩.
নিচের কোনটি উত্তল লেন্সের ব্যবহার নয়? 
  1. অণুবীক্ষণ যন্ত্র 
  2. চশমা
  3. আতশী কাঁচ 
  4. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 

উত্তল লেন্সের ব্যবহার: 
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। 
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 

অবতল লেন্সের ব্যবহার: 
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়। 
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৫৪.
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট মিলিত হয় কোন বিন্দুতে?
  1. -40° 
  2. 100°
  3. -273°
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ
F =9C ⁄ 5 + 32

-40° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন -40°F
0° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন 32°F 
100° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন 212°F
-273° সেলসিয়াসে, ফারেনহাইট স্কেলে তখন -459.4°F

*সূত্র ছাড়াও মনে রাখার বিষয় হল -40° তেই শুধুমাত্র সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট মিলিত হয়। 
* সেলসিয়াস ও কেলভিন কখনো মিলিত হয় না। 

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন।

৩,৫৫৫.
মৌলিক রাশির একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. কেলভিন
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে। 
- মৌলিক রাশি সাতটি। 
যেমন- 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা ও পদার্থের পরিমাণ। 

মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। 
যেমন- 
দৈর্ঘ্যের একক- মিটার
• ভরের একক- কিলোগ্রাম, 
• সময়ের একক- সেকেন্ড, 
তাপমাত্রা/উষ্ণতার একক- কেলভিন
তড়িৎ প্রবাহের একক- অ্যাম্পিয়ার
• দীপন তীব্রতার একক- ক্যান্ডেলা ও 
• পদার্থের পরিমাণের একক- মোল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৬.
আর্কিমিডিসের সূত্র কোন অবস্থায় প্রযোজ্য? 
  1. কেবল বায়ুর জন্য
  2. কেবল কঠিন বস্তুর জন্য
  3. কেবল সম্পূর্ণ নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
  4. তরল বা বায়ুতে নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। 
এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৭.
পাখা ঘোরাতে কোন ধরনের বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়?
  1. স্থির বিদ্যুৎ
  2. চল বিদ্যুৎ
  3. সম বিদ্যুৎ
  4. বিষম বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

যখন চার্জগুলাে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে অনবরত নির্দিষ্ট দিকে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে তাকে চল বিদ্যুৎ বলে।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি সেটি হচ্ছে চল বিদ্যুৎ। এ চল বিদ্যুই পাখা ঘােরায়, বাতি জ্বালায়, কলকারখানা চালায় এবং নানাবিধ কাজ সম্পন্ন করে থাকে।
চল বিদ্যুৎকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- একমুখী প্রবাহ ও পরিবর্তী প্রবাহ।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৫৫৮.
সেন্টিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতিলিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ কত?
  1. ১ মোল
  2. ০.১ মোল
  3. ০.০১ মোল
  4. ০.০০১ মোল
ব্যাখ্যা
- সেন্টিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতিলিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ হচ্ছে- ০.০১ মোল । 

মোলার দ্রবণ: 

দুই বা ততোধিক কঠিন তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমস্বত্ত্ব মিশ্রনকে দ্রবণ বলে। 
- দ্রবণের দুটি অংশ-একটি দ্রাবক ও অপরটি দ্রব, অর্থাৎ দ্রবণ = (দ্রাবক + দ্রব)। 
- দ্রবণে যে উপাদান অপর উপাদানকে দ্রবীভূত করে তাকে দ্রাবক বলে। যেমন- পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, এসিড প্রভৃতি দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- পানিকে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত দ্রবণকে জলীয় দ্রবণ বলে। 
- সাধারণত দ্রবণের ভৌত অবস্থা নির্ধারিত হয় দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর। 
- দ্রবণে যে উপাদানাটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে তাকে দ্রব বলে। 
- দ্রব, দ্রাবকের মধ্যে দ্রবীভূত হয়। 
- সাধারণভাবে দ্রবণের ঘনমাত্রা বলতে দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট আয়তনে কী পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত আছে তা বোঝা যায়। 
- প্রতি একক আয়তন দ্রবণে একই দ্রবের বিভিন্ন পরিমাণ দ্রবীভূত থাকলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বিভিন্ন হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার, মোলার দ্রবণকে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৯.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হচ্ছে-
  1. ট্রেসার হিসাবে
  2. মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে
  3. হরমোন সংশ্লেষণে
  4. নিউট্রিয়েন্ট সংযোজনে
ব্যাখ্যা

◉ তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে ট্রেসার (Tracer) হিসাবে অর্থাৎ শনাক্তকরণে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ব্যবহার অন্যতম

তেজস্ক্রিয়তা:
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়। রেডিওনিউক্লাইড ট্রেসার (Radionuclide Tracer) ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড সমস্যা ও হৃৎপিণ্ডের রোগ শনাক্ত করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়

উৎস- পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৬০.
ভরবেগের মাত্রা কোনটি?
  1. ক) M
  2. খ) MLT-1
  3. গ) MLT-2
  4. ঘ) ML2T-2
ব্যাখ্যা
ভর হচ্ছে ভর ও বেগের গুণফল। ভর m ও বেগ v হলে,
ভরবেগ, p = mv

- ভরবেগের একক kgms-1
- ভরবেগের মাত্রা MLT-1 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৩,৫৬১.
কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসর মধ্যে নিউট্রন কণিকাটি অনুপস্থিত?
  1. হাইড্রোজেন
  2. লিথিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- ডালটনের পরমাণুবাদে পরমাণুকে অবিভাজ্য বলা হয়েছে কিন্তু  উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে প্রমাণিত হয়, পরমাণু অনেকগুলো সূক্ষ কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- এ সব অতি সূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না, এদেরকে পরমাণুর মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
অর্থাৎ, যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

ইলেকট্রন (Electron): 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন। 
- পরমাণুর ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e- । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 Coulomb । 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 । 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- ইহার সংকেত H+। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60× 10-19 Coulomb । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 । 

নিউট্রন (Neutron): 
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n । 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675× 10-24 g । 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য (০)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬২.
কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. নীল
  2. হলুদ
  3. লাল
  4. কালো
ব্যাখ্যা

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৩.
নিচের কোন মৌলটি রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. দস্তা
  2. সোডিয়াম
  3. স্ক্যান্ডেনিয়াম
  4. লোহা
ব্যাখ্যা

অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য হলো-
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে।
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
দস্তা, সোডিয়াম, স্ক্যান্ডেনিয়াম এবং লোহার মধ্যে একমাত্র লোহাই অবস্থান্তর মৌল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৫৬৪.
ক্যালকুলাসের জনক কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) কোপার্নিকাস
  4. ঘ) আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা

নিউটন ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক।
নিউটন প্রথমে ফ্লাক্সিওন নামে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন বটে, কিন্তু তিনি তার আবিষ্কার ঠিকমত প্রকাশও করেননি।
তবে ক্যালকুলাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব নিউটন আর লিবনিজ দুজনকেই দেওয়া হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

৩,৫৬৫.
তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মিতে শ্রেণিবদ্ধ করেন কে?
  1. পিয়ের কুরি
  2. মেরি কুরি
  3. আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
  4. হেনরি বেকেরেল
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মিতে শ্রেণিবদ্ধ করেন আর্নেস্ট রাদারফোর্ড।

• মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক অবদান:
- মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি ইউরেনিয়াম যৌগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে কিছু পদার্থ বাহ্যিক প্রভাব ছাড়াই শক্তিশালী বিকিরণ নির্গত করে।
- তাঁরা গবেষণার মাধ্যমে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম (Ra), পোলোনিয়াম (Po) আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তার ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- এটি আধুনিক পরমাণুবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়তা করে।
- মেরি কুরি ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (বেকেরেল, পিয়ের কুরি সহ) লাভ করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি এককভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করেন যে তেজস্ক্রিয়তা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং এটি পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনজনিত প্রক্রিয়া।

• রাদারফোর্ডের অবদান:
- রাদারফোর্ড তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান রশ্মি শনাক্ত করেন।
- আলফা (α) রশ্মি → ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ভারী, কম অনুপ্রবেশক্ষম।
- বিটা (β) রশ্মি → ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন সদৃশ কণা।
- গামা (γ) রশ্মি → কোনো চার্জ নেই, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, সর্বাধিক অনুপ্রবেশক্ষম।

• অন্যান্য অপশন:
- পিয়ের কুরি → তেজস্ক্রিয় মৌল আবিষ্কারে অবদান রাখেন।
- মেরি কুরি → রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেন।
- হেনরি বেকেরেল → তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৩,৫৬৬.
বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ -
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) প্রথমে কমে, পরে বাড়ে
  4. ঘ) অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
- যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে।
- যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি।
- ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।
- সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৩,৫৬৭.
যদি Al এর প্রোটন সংখ্যা ১৩ এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা ২৭ হয় তাহলে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ২৭
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা
যদি Al প্রোটন সংখ্যা ১৩ এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা ২৭ হয় তাহলে নিউট্রন সংখ্যা (২৭-১৩) = ১৪৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৫৬৮.
নিচের কোন তাপমাত্রায় ১ কেজি পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয়?
  1. ১০০° সেলসিয়াস
  2. ৪° ফারেনহাইট
  3. ০° সেলসিয়াস
  4. ৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ৪° সেলসিয়াস
পানির একটা খুব মজার এবং অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে, যাকে বলা হয় 'পানির অস্বাভাবিক প্রসারণ'(Anomalous expansion of water)।

অন্যান্য তরল পদার্থের ক্ষেত্রে যা হয়,
তাপমাত্রা বাড়লে → আয়তন বাড়ে → ঘনত্ব কমে
কিন্তু পানির ক্ষেত্রে একটা বিশেষ জায়গায় এটা উল্টো হয়।

বিভিন্ন তাপমাত্রায় যা ঘটে-
⋅ ০° সেলসিয়াসে ⇒ পানির আয়তন বেশি (ঘনত্ব কম)
⋅ তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে (০° থেকে ৪° পর্যন্ত) ⇒ পানির আয়তন কমতে থাকে
⋅ ঠিক ৪° সেলসিয়াসে ⇒ পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয় ⇒ ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ১০০০ কেজি/মি)
⋅ ৪°-এর উপরে আবার তাপমাত্রা বাড়লে ⇒ আয়তন বাড়তে শুরু করে (যেমন সাধারণ তরলের মতো)

সুতরাং, ১ কেজি পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয় ৪° সেলসিয়াসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৬৯.
কোন তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়?
  1. ০°
  2. ৪°
  3. - ৪০°
  4. ২৭৩.১৫°
ব্যাখ্যা
• - 40° তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়। 

• তাপমাত্রা পরিমাপের স্কেলের মধ্যে অন্যতম হলো সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল।

আমরা জানি, সেলসিয়াস (C) ও ফারেনহাইট (F) এর মধ্যে সম্পর্ক:
C/5 = (F - 32)/9

ধরি,
সেলসিয়াস স্কেলের পাঠ C = ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ F

এখন,
C/5 = (C - 32)/9
⇒ 5(C - 32) = 9C
⇒ 5C - 160 = 9C
⇒ 9C - 5C = - 160
⇒ 4C = - 160
⇒ C = - 160/4 = - 40 

∴ C = F = - 40°

অর্থাৎ - 40° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান সমান হবে।
৩,৫৭০.
শব্দের বেগ মাধ্যমের কোন বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে?
  1. মাধ্যমের ঘনত্ব
  2. মাধ্যমের আর্দ্রতা
  3. মাধ্যমের তাপমাত্রা
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 

- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭১.
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?
  1. HNO2
  2. H3PO4
  3. H2SO4
  4. HCl
ব্যাখ্যা

- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।

এসিডের ব্যবহার:

- ফলমূলে যে অ্যাসিড থাকে সেগুলো জৈব অ্যাসিড।
- এর মধ্যে অনেক অ্যাসিড আছে যা আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।
- এসকরবিক অ্যাসিড যা আমরা ভিটামিন সি বলে জানি তার অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়।
- ভিটামিন 'সি' ক্ষত সারাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- পাকস্থলীতে খাদ্যবস্তু হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এর প্রয়োজন হয় যা আমাদের দেহের গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হয়।
- সফট ড্রিংকসের মত দই বা বোরহানি খেলে দই বা বোরহানিতে বিদ্যমান ল্যাকটিক অ্যাসিড খাবার হজমে সহায়তা করে।
- সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
- টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৭২.
'শেভিং ফোম' এর উপাদান কোনটি?
  1. ক) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. খ) সোডিয়াম গ্লুটামেট
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
ব্যাখ্যা
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) - সাধারণ লবণ, খাবার লবণ বা টেবিল লবণ 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট - টেস্টিং সল্ট
• সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) - কাপড় কাচার সাবান
• পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) - শেভিং ফোম বা জেল

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৩,৫৭৩.
ইস্পাত সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। কারণ এতে-
  1. বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহার করা হয়েছে
  2. সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
  3. লোহাকে টেম্পারিং করা হয়েছে
  4. সব বিজাতীয় দ্রব্য বের করে দেয়া হয়েছে
ব্যাখ্যা
- সাধারণ লোহার সাথে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা হয়, তাই এটি সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। 
- ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যার মধ্যে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে। 
- এছাড়াও ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম এবং ট্যাংস্টেন লোহার সাথে মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৭৪.
তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন কেমন হয়? 
  1. কম হয়
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. ধীরে ধীরে কম হয়
  4. বেশি হয়
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের নির্ভরশীলতা: 
- বর্ষাকালের বৃষ্টিভেজা দিনগুলোতে ভেজা কাপড় কিছুতেই শুকাতে চায় না। আবার শীতকালে ঘরের ভেতর ছায়াতেও একটা কাপড় শুকিয়ে যায় কারণ বিষয়টি পানির বাষ্পায়ন ছাড়া আর কিছু না। 
- পানির বাষ্পায়ন বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
- সাধারণভাবেই একটা তরলের বাষ্পায়ন কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে তা নিম্নে দেওয়া হলো- 

বাতাসের প্রবাহ: 
- বাতাসের প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল: 
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। 

তরলের প্রকৃতি: 
- তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। উদ্বায়ী তরলের বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি। 

বাতাসের চাপ: 
- বাতাসের চাপ যত কম হবে বাষ্পায়নের হার তত বেশি। শূন্যস্থানে বাষ্পায়ন সবচেয়ে বেশি, তাই খাদ্য সংরক্ষণের জন্য খাবারকে শুকাতে পাম্প দিয়ে বাতাস বের করে নেওয়া হয়। 

উষ্ণতা: 
- তরল এবং তরলের কাছাকাছি বাতাসের উষ্ণতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বেশি হয়। 

বায়ুর শুষ্কতা: 
- বাতাস যত শুষ্ক হবে তরল তত তাড়াতাড়ি বাষ্পায়ন হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৭৫.
নিচের কোন প্রতীক দ্বারা পদার্থের পরিমাণের একক প্রকাশ করা হয়?
  1. ক) kg
  2. খ) mol
  3. গ) m
  4. ঘ) g
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি ও একক:

- যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে।
- মৌলিক রাশি সাতটি।
- যেমনঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা ও পদার্থের পরিমাণ।
- মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। যেমনঃ
- দৈর্ঘ্যের একক - মিটার (m)
- ভর- কিলোগ্রাম (kg)
- সময়- সেকেন্ড (s)
- তাপমাত্রা - কেলভিন (K)
- তড়িৎ প্রবাহ - অ্যাম্পিয়ার (A)
- দীপন তীব্রতা - ক্যানডেলা (Cd)
- পদার্থের পরিমাণ - মোল (mol)

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭৬.
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর কত?
  1. 1×10-7 m থেকে 4×10-7 m
  2. 4×10-6 m থেকে 7×10-6 m
  3. 7×10-7 m থেকে 1×10-6 m
  4. 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m
ব্যাখ্যা

• দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m.

• আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলোর বর্ণক্রম, বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
- এই বর্ণগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m।
- ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।

• তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও বিক্ষেপণ:
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে বিক্ষেপণ কম হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৫৭৭.
তড়িৎ বিশ্লেষণে কোন তড়িৎদ্বার ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত হয়?
  1. ক্যাথোড
  2. অ্যানোড
  3. ক্যাথোড ও অ্যানোড উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে দুটি ধাতব পরিবাহী বা গ্রাফাইট দন্ড ব্যবহৃত হয়, যা তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- একটির মাধ্যমে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে, অন্যটির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। 
- তড়িৎদ্বার ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে এবং কোষের বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের জন্য দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যেমন- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৭৮.
যদি ট্রান্সফরমারে বিভব বৃদ্ধি পায় তাহলে তড়িৎ প্রবাহ কেমন হয়?
  1. হ্রাস পায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. শূন্য হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে।
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৭৯.
মানুষের চোখের শ্বেত মন্ডলের সামনের অংশের নাম- 
  1. তারার
  2. কর্নিয়া
  3. রেটিনা
  4. আইরিস
ব্যাখ্যা
চোখ: 
- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়। 
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক। 
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল। 
- শ্বেত মন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া। 
- শ্বেত মন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল। 
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়। 
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে। 
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮০.
বেকিং পাউডার মূলত-
  1. বেকিং সোডা + পটাশ এলাম
  2. বেকিং সোডা + এসকরবিক এসিড
  3. বেকিং সোডা + গ্লুকোজ
  4. বেকিং সোডা + টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা
• বেকিং পাউডার:
- বেকিং পাউডার বেকিং সোডা বা খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3)।
- বেকিং সোডা (NaHCO3) তৈরি করে তার মধ্যে টারটারিক এসিড (C₂H₂O) মিশালে বেকিং পাউডার তৈরি হয়।
- সাধারণত কেক বানানোর কাজে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।

• বেকিং সোডা প্রস্তুতি:
- অ্যামোনিয়া গ্যাস, খাদ্য লবণ, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে বেকিং সোডা প্রস্তুত করা যায়।
- প্রথমে পানির মধ্যে NaCl কে দ্রবীভূত করে NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়।
- এবার এই সম্পৃক্ত দ্রবণের মধ্যে NH₃ গ্যাস প্রবাহিত করে NH₃ দ্বারা সম্পৃক্ত করা হয়।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে NH₃ সম্পৃক্ত NaCl দ্রবণের মধ্যে প্রবাহিত করা হয়।
- এক্ষেত্রে CO2, NH3, H2O একত্র হয়ে প্রথমে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NH4HCO3) উৎপন্ন হয়।
- এরপর অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট সোডিয়াম ক্লোরাইড-এর সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) বা বেকিং সোডা উৎপন্ন করে।

CO2 + NH3 + H2O → NH4HCO3
NH4HCO3 + NaCl→ NaHCO3 + NH4Cl

- বেকিং সোডাকে বিক্রিয়া পাত্র থেকে পৃথক করে তার সাথে টারটারিক এসিড মেশানো হয়।
- এ মিশ্রণকে বেকিং পাউডার বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৮১.
মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়-
  1. ইনফ্রারেড
  2. মাইক্রোওয়েভ
  3. আল্ট্রাভায়োলেট
  4. এক্স- রে
ব্যাখ্যা

মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয় মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি ।
- অণুতরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ (ইংরেজি: Microwave) দ্বারা সে সকল তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ নির্দেশ করা হয় যাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ন্যূনতম ১ মিলিমিটার হতে সর্বোচ্চ ১ মিটার পর্যন্ত।
- এদের কম্পাঙ্ক ৩০০ মেগাহার্জ (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১ মিটার) হতে ৩০০ গিগাহার্জ (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১ মিলিমিটার) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

উৎস:সাধারণ বিজ্ঞান নবম দশম শ্রেণি

৩,৫৮২.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৮৩.
বাতাসের চেয়ে পানিতে শব্দ কত গুণ দ্রুত চলে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৫
ব্যাখ্যা
বাতাসের চেয়ে পানিতে শব্দ ৪ গুণ দ্রুত চলে। বাতাসের চেয়ে লোহার মধ্যে শব্দ প্রায় ১৫ গুণ দ্রুত চলে।
এছাড়াও-
১. শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে কঠিন মাধ্যমে
২. তরল মাধ্যমে তার চেয়ে ধীরে চলে
৩. বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম
৪. ভ্যাকুয়ামে বা শূন্যে শব্দের দ্রুতি শূন্য
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৮৪.
নিউক্লিয়াসে কোন কণিকাগুলো অবস্থান করে? 
  1. নিউট্রন এবং পজিট্রন 
  2. প্রোটন এবং নিউট্রন 
  3. প্রোটন এবং ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন এবং ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকা তিনটি। 
যথা- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটিকে পরমাণুর স্থায়ী কণিকাও বলা হয়। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য হয়। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮৫.
নিচের কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অন্যগুলোর থেকে বেশি?
  1. ক) বেগুনী
  2. খ) হলুদ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) সবুজ
ব্যাখ্যা
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি
- অপশনের চারটির মধ্যে হলুদ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৫৮৬.
1 a.m.u =?
  1. 1.66 × 10-23 গ্রাম
  2. 1.66 × 10-24 গ্রাম
  3. 1.66 × 10-27 গ্রাম
  4. 1.66 × 10-28 গ্রাম
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়।
• আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয় ।
1 a.m.u (atomic mass unit) = 1.66 × 10-24 গ্রাম । 
• আণবিক ও পারমাণবিক ভর পরিমাণ বস্তুকে গ্রাম-এ ওজন করা হলে তাকে গ্রাম আণবিক ভর ও গ্রাম পারমাণবিক ভর বলা হয় ।
• কোন বস্তুর এক গ্রাম আণবিক ভর পরিমাণকে ঐ বস্তুর মোল বলা হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৭.
আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন কে? 
  1. কেপলার
  2. নিউটন
  3. রবার্ট হুক
  4. কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
আইজ্যাক নিউটন: 
- আইজ্যাক নিউটন ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়াও তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

রবার্ট হুক: 
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- এছাড়াও রবার্ট বয়েল গ্যাসের সূত্র আবিস্কার করেন। 

নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

অন্যদিকে, 
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 
- জার্মানীর বিজ্ঞানী স্নেল প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৮.
শূন্য মাধ্যমে তাপ সঞ্চারিত হয় কোন পদ্ধতিতে?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. সঞ্চালন
ব্যাখ্যা

শূন্য মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয় বিকিরণ পদ্ধতিতে।
যে পদ্ধতিতে তাপ জড় মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের আকারে উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুতে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকিরণ বলে।
তাপ পরিবহন ও তাপ পরিচলনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বিকিরণের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।

৩,৫৮৯.
বাল্বের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত হলে কোন শক্তি সৃষ্টি হয়?
  1. তাপ ও আলোক শক্তি
  2. আলোক ও চৌম্বক শক্তি
  3. তাপ ও শব্দ শক্তি
  4. চৌম্বক ও শব্দ শক্তি
ব্যাখ্যা
• বাল্বের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত হলে তাপ ও আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯০.
নিচের কোনটি নোবেল গ্যাস?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।

- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৯১.
একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটারকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে পরিণত করতে হলে এর সাথে কী যুক্ত করতে হবে?
  1. ব্যাটারি
  2. তামার তার
  3. রোধ
  4. ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
• একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটার (Low Range Ammeter) কেবলমাত্র সীমিত পরিমাণ বৈদ্যুতিক প্রবাহ (Current) মাপতে পারে।
-  কিন্তু যদি এই অ্যামিটারকে বেশি কারেন্ট মাপার উপযোগী করতে চাই, তবে তাকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে (High Range Ammeter) পরিণত করতে হবে।

•একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটারকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে পরিণত করতে হলে এর সাথে একটি শাণ্ট রোধ (shunt resistor)  সমান্তরাল সংযোগে যুক্ত করতে হয়।

একটি কম রোধবিশিষ্ট শাণ্ট রোধ সমান্তরালভাবে যুক্ত করা হলে এর ফলে মোট কারেন্টটি দুটি পথে বিভক্ত হয়।
→ বেশিরভাগ কারেন্ট চলে যায় শাণ্ট রোধের মধ্য দিয়ে, আর অ্যামিটারের মধ্য দিয়ে অল্প অংশ যায়।
→ ফলে বেশি রেঞ্জ এ কারেন্ট মাপা যায়।

তথ্যসূত্র: 
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
৩,৫৯২.
জিংক ধাতুর আকরিক কোনটি? 
  1. ক্যালামাইন 
  2. চালকোসাইট 
  3. গ্যালেনা
  4. সিন্নাবার 
ব্যাখ্যা

- 'ক্যালামাইন' জিংক ধাতুর আকরিক। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। 
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯৩.
কোনটি সবচেয়ে ভারী ধাতু?
  1. ক) লিথিয়াম
  2. খ) পারদ
  3. গ) প্লাটিনাম
  4. ঘ) নিকেল
ব্যাখ্যা

ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়। ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।

- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।

- অপশনে যেগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে মার্কারি/পারদ (Mercury) সবচেয়ে বেশি ভারি। এর আনবিক ভর - ২০০.৫৯।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮

- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

৩,৫৯৪.
পদার্থ সাধারণত কয়টি অবস্থায় থাকে?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকে।কঠিন, তরল এবং বায়বীয়। এর চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন এবং পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৫৯৫.
AC কে DC-তে রূপান্তর করতে কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়?
  1. রেকটিফায়ার
  2. মোটর
  3. ডায়নামো
  4. ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা

• AC-কে DC-তে রূপান্তর করতে যা ব্যবহার করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলা হয়। রেকটিফায়ার মূলত বৈদ্যুতিক বর্তমানকে একমুখী ধারায় পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান যেমন ডায়োডের মাধ্যমে কাজ করে। যখন AC প্রবাহ রেকটিফায়ারের মধ্য দিয়ে যায়, তখন এটি শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হয় এবং বিপরীত দিকের কারেন্ট ব্লক হয়ে যায়। ফলে আমাদের কাছে একমুখী DC প্রবাহ পাওয়া যায়। এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং চার্জিং সিস্টেমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ক) রেকটিফায়ার।


• রেকটিফায়ার:
- যে সার্কিট অলটারনেটিং বা AC কারন্টকে ডাইরেক্ট বা DC কারেন্টে রূপান্তর করে তা রেকটিফায়ার।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে।
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না।
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
- এটি মূলত AC কারেন্টকে পালসেটিং DC তে রূপান্তর করে।
- অধিকাংশ ইলেকট্রিক সার্কিট লো- ভোল্টেজ এবং লো-ডি.সি. কারেন্টে চলে।
- এই বিপুল পরিমাণ পাওয়ারের চাহিদা মেটাতে সেল ব্যবহার সাশ্রয়ী নয়।
- তাই এ.সি. কে প্রয়োজনীয় মানে কমিয়ে ডি.সি. তে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।

• রেকটিফায়ার সার্কিটের প্রকারভেদ:
১. হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার (Half Wave Rectifier),
২. ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Full Wave Rectifier),
৩. সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Center Tape Full Wave Rectifier),
৪. ব্রীজ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Bridge Full Wave Rectifier)।

উৎস:
- পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯৬.
বাদুড়ের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা হলো-
  1. ৪৫,০০০ Hz
  2. ১,০০,০০০ Hz
  3. ৩৫,০০০ Hz
  4. ২০,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 

- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয়, মানুষের শ্রাব্যতার সীমা/পাল্লা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 

- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচে উল্লেখ করা হলো - 

• মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz,
• কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz,
• বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz,
• ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz,
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১,০০,০০০ Hz।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯৭.
'জিপসাম' কোন খনিজের আকরিক? 
  1. আয়রন
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৯৮.
মিথেন কোন ধরণের যৌগ?
  1. মুক্ত শিকল ও অসম্পৃক্ত যৌগ
  2. বদ্ধ শিকল ও সুষমচাক্রিক যৌগ
  3. বদ্ধ শিকল ও বিষমচাক্রিক যৌগ
  4. মুক্ত শিকল ও সম্পৃক্ত যৌগ
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Organic Compounds): 
- কার্বন শিকলের গঠনের উপর ভিত্তি করে জৈব যৌগসমূহকে প্রধান দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১। মুক্ত শিকল যৌগ (Open chain compounds), 
২। বদ্ধ শিকল যৌগ (Closed chain or cyclic compounds)। 

১। মুক্ত শিকল বা অ্যালিফেটিক যৌগ :
- যে সব জৈব যৌগের কার্বন শিকলের দুই প্রান্ত পরস্পর যুক্ত হয় না তাদেরকে মুক্ত শিকল বা অ্যালিফেটিক জৈব যৌগ বলা হয়।
যেমন- প্রোপেন, ইথিন ইত্যাদি। 

- বন্ধন প্রকৃতি অনুযায়ী অ্যালিফেটিক যৌগসমূহকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- (i) সম্পৃক্ত যৌগ ও (ii) অসম্পৃক্ত যৌগ। 

(i) সম্পৃক্ত যৌগ: যে সব যৌগের কার্বন শিকলের কার্বন পরমাণুসমূহ পরস্পর একক বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে তাদেরকে সম্পৃক্ত যৌগ বলে।
যেমন-  মিথেন, ইথানল ইত্যাদি। 

(ii) অসম্পৃক্ত যৌগ: যে সব যৌগের কার্বন শিকলে অন্তত দুটি কার্বন পরমাণু দ্বি-বন্ধন বা ত্রি-বন্ধন দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে তাদেরকে অসম্পৃক্ত যৌগ বলে । যেমন- ইথিন, প্রোপাইন ইত্যাদি। 

২। বদ্ধ শিকল যৌগ:
- যে সব জৈব যৌগের অণুর কার্বন শিকলের দু'প্রান্তের কার্বন নিজেদের মধ্যে সরাসরি যুক্ত হয়ে অথবা অপর মৌলের পরমাণু যেমন- N, O, S ইত্যাদির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলয় বা চক্র গঠন করে তাদেরকে বদ্ধ শিকল যৌগ বলে।
যেমন- সাইক্লো প্রোপেন। 
- বদ্ধ শিকল যৌগসমূহকে তাদের বলয় গঠনকারী পরমাণুর প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে দু'টি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- (ক) কার্বোসাইক্লিক বা হোমোসাইক্লিক বা সুষমচাক্রিক যৌগ ও (খ) হেটারোসাইক্লিক বা বিষমচাক্রিক যৌগ।

(ক) কার্বোসাইক্লিক বা হোমোসাইক্লিক যৌগ: যে সব বদ্ধ শিকল যৌগের কাঠামো বলয় কেবলমাত্র কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত তাদেরকে কার্বোসাইক্লিক যৌগ বলে । যেমন- সাইক্লোপ্রোপেন, বেনজিন ইত্যাদি। 

(খ) হেটারোসাইক্লিক যৌগ: যে সব বদ্ধ শিকল যৌগে কার্বন পরমাণুর সাথে ভিন্ন মৌল যেমন-N, O, S ইত্যাদি যুক্ত হয়ে বলয় গঠন করে তাদেরকে হেটারোসাইক্লিক বা বিষমচাক্রিক যৌগ বলে। 
যেমন- ইথিলিন অক্সাইড, থায়োফিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯৯.
নিচের কোনটি কাজের এককের সমতুল্য? 
  1. Jm-1
  2. Nm 
  3. Nm-1
  4. mN-1
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T -2.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।
1 J = 1 Nm.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৩,৬০০.
ক্যালকুলেটরের ডায়ালে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আয়রণ চিপ
  2. খ) কপার চিপ
  3. গ) কার্কা চিপ
  4. ঘ) সিলিকন চিপ