বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৩ / ৬৪ · ৩,২০১৩,৩০০ / ৬,৪০৯

৩,২০১.
উত্তল লেন্সের অপর নাম কী?
  1. অপসারী লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. ক্ষীণ মধ্য লেন্স
  4. অভিসারী লেন্স
ব্যাখ্যা
লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা-  
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স এবং 
২। অপসারী বা অবতল লেন্স। 

অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 

অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২০২.
বাদুড় কত কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করতে সক্ষম?
  1. ক) 80 kHz
  2. খ) 90 kHz
  3. গ) 100 kHz
  4. ঘ) 120 kHz
ব্যাখ্যা

বাদুড় ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শােনার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- বাদুড় এই শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মাধ্যমে অন্ধকারে চলাফেরা করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান - ৮ম শ্রেণি

৩,২০৩.
বিদ্যুৎ একটি চৌম্বকীয় তরঙ্গ- কে প্রমাণ করেন?
  1. ক) মাইকেল ফ্যারাডে
  2. খ) চার্লস-অগাস্টিন ডি কুলম্ব
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) আইনস্টাইন 
ব্যাখ্যা

১৮৬৪ সালে ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন যে, বিদ্যুৎ একটি চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
কোন তড়িৎক্ষেত্রে চুম্বক বলরেখার মধ্যে ইলেকট্রন আধানের দ্রুত আন্দোলন বা হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলে ইলেকট্রনগুলো অতিরিক্ত শক্তি অর্জন করে বলরেখার সমান্তরালে শক্তি বিকিরণ যা তরঙ্গাকারে চারদিকে দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। একে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বলে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

৩,২০৪.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয় -
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২০৫.
Electrical energy is converted into sound energy through which device?
  1. ক) Dynamo
  2. খ) Microphone
  3. গ) Loud speaker
  4. ঘ) Generator
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা -  বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন - শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো - যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর - তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২০৬.
নিচের কোনটি ফলের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী?
  1. জ্যান্থোফিল
  2. ক্যাপসিসিন
  3. ক্যারোটিন
  4. লাইকোপিন
ব্যাখ্যা

• ফলের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী- ক্যারোটিন।
• হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী- জ্যান্থোফিল।
• লাল বর্ণের জন্য দায়ী- লাইকোপিন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,২০৭.
মাটির অম্লতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. চুন
  2. ইউরিয়া
  3. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  4. ভিনেগার
ব্যাখ্যা

চুন (Lime) হলো একটি ক্ষারধর্মী পদার্থ, যা মাটির অম্লতা প্রশমিত করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপাদান।

• ক্ষারক:
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে।
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে।
যেমন-
• NaOH → Na+ + OH-
• KOH → K+ + OH-
- ক্ষারকএসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে।
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে।

• প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার:
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে।
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

• মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার:
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে 'লাইমিং' (Liming) বলা হয়।
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি।
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য,
- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট এবং ভিনেগার মাটির অম্লতা দূর না করে বরং অম্লতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২০৮.
ইউরিয়া সার তৈরিতে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা



সূত্র: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২০৯.
তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক কে?
  1. পিয়েরে কুরি
  2. মাদাম কুরি
  3. হেনরী বেকেরেল
  4. উইলিয়াম রঞ্জন
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় রশ্মি: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পরমাণু। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি"। 
- পরবর্তিতে মাদাম কুরী (Madame Marie Curie) এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত। 

তেজস্ক্রিয়তার প্রকারভেদ: 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা- প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা। 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: 
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: 
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২১০.
সদ বিম্ব গঠিত হয় কোনটিতে?
  1. অবতল ল্যান্স
  2. অবতল দর্পণ
  3. উত্তল দর্পণ
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
সদ বিম্বঃ কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে তবে তাকে সদ বা বাস্তব প্রতিবিম্ব বলে।
অবতল দর্পণ ও উত্তল লেন্সে সদ বিম্ব গঠিত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১১.
আলট্রাসোনিক তরঙ্গ কি?
  1. শ্রাব্য শব্দের তরঙ্গ থেকে কম কম্পাঙ্কের তরঙ্গ
  2. শূন্য মাধ্যমে গঠিত তরঙ্গ
  3. শ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক থেকে বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলট্রাসোনিক তরঙ্গ: 
- শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আলট্রাসোনিক শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও বাদুর, কুকুর, মৌমাছির ন্যায় কিছু কিছু প্রাণী উৎপন্ন করতে পারে আবার তা শুনতেও পারে। 
- আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো 20 Hz থেকে 20,000 Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। 
- আবার যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তাকে শ্রবণোত্তর, শব্দোত্তর বা আলট্রাসোনিক শব্দ বা আলট্রাসোনিক তরঙ্গ বলে
- রোগ নির্ণয়ে, কাপড়ের ময়লা পরিস্কার করা, সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ধাতব পিন্ড বা পাতে সূক্ষ্মতম ফাটল অনুসন্ধানে, সূক্ষ্ম ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে, ক্ষতিকর রোগ জীবাণু ধ্বংসের কাজে শব্দোত্তর বা আলট্রাসোনিক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১২.
ফেরাস ক্লোরাইডে আয়রনের সক্রিয় যোজনী কত?
  1. ক) ০
  2. খ) ১
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে অণু গঠন করে। অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।

সাধারণত হাইড্রোজেনের যোজনী এক (1) ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো ঐ পরমাণু বা H পরমাণু বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে সেই সংখ্যাই হলো ঐ মৌলের যোজনী বা যোজ্যতা।

হাইড্রোজেনের একটি পরমাণু ক্লোরিনের একটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে HCl অণু গঠিত হয়, তাই ক্লোরিনের যোজনীও 1 (এক)। আবার অক্সিজেনের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে H2O তৈরি করে, এজন্য অক্সিজেনের যোজনী 2 (দুই)। একটি Na পরমাণু একটি Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে NaCl গঠিত হয়। সুতরাং Na এর যোজনী 1 (এক)।

কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে। কোনো মৌলের একাধিক যোজনী থাকলে সেই মৌলের যোজনীকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। যেমন: Fe এর পরিবর্তনশীল যোজনী 2 এবং 3। 

কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী এবং সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলা হয়।
যেমন: FeCl2 যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী 2 কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3 অতএব FeCl2 যৌগে Fe এর সুপ্ত যোজনী 3 – 2 = 1। আবার FeCl3, যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী 3  কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3. অতএব FeCl3, যৌগে Fe এর সুপ্ত যোজনী 3 - 3=0 |

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
৩,২১৩.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তখনই ঘটে যখন- 
  1. প্রতিসরণ কোণ সংকট কোণের চেয়ে কম হয় 
  2. আলো শূন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে 
  3. আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
  4. আলো হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে যায়
ব্যাখ্যা

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন: 
- এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১। আলোক রশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যেতে হবে। 
২। এক জোড়া নির্দিষ্ট সচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মিকে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হতে হবে। 

আলোর প্রতিফলন: 
- আপতিত রশ্মির কিছু অংশ বিভেদতল থেকে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
• প্রতিফলনের প্রথম সূত্র: আপতিত আলোক রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপাতর বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই তলে অবস্থান করে। 
• প্রতিফলনের দ্বিতীয় সূত্র: আপতিত কোণ একং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 

আলোর প্রতিসরণ: 
- প্রথম স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে আলোকরশ্মি দ্বিতীয় স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যমে বিভেদতলে তীর্যকভাবে আপতিত হলে রশ্মিগুচ্ছ বিভেদতল থেকে দিক পরিবর্তন করে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
• প্রতিসরণের প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং বিভেদ তলের আপাতন বিন্দুতে অংকিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে। 
• প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্র: এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম এবং তীর্যকভাবে আপতিত নির্দিষ্ট বর্ণের একটি আলোকরশ্মির জন্য আপাতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। একে স্নেলের সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২১৪.
নিচের কোনটি আইসোটোপ নয়? 
  1. হিলিয়াম
  2. ট্রিটিয়াম
  3. প্রোটিয়াম
  4. ডিউটেরিয়াম
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২১৫.
নিচের কোনটি লব্ধ রাশি? 
  1. ত্বরণ
  2. দীপন তীব্রতা
  3. তড়িৎপ্রবাহ
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে। 
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না। 

যৌগিক বা লব্ধ রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 
- যে গুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১৬.
Transformer এ কী কমানোর জন্য laminated core ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) Cu loss
  2. খ) Hysteresis loss
  3. গ) Eddy current loss
  4. ঘ) core loss
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Cupper loss হচ্ছে রেজিস্টারজনিত লস। Eddy current কমানোর জন্য lamineted করা হয়। Hysteresis loss হচ্ছে positive এবং negative জনিত কারণে যে loss হয় সেটা। Core loss হচ্ছে Hysteresis loss এবং Eddy current loss এর যোগফল।
৩,২১৭.
প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. শূন্য
  2. এক
  3. দুই
  4. তিন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা শূন্য। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২১৮.
শব্দের প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয় কোন যন্ত্রে?
  1. ইসিজি
  2. এক্স-রে
  3. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  4. সিটিস্ক্যান
ব্যাখ্যা
আল্ট্রাসনোগ্রাফি:

- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১৯.
নিচের কোনটিতে সম পরিমাণ পানি রেখে দিলে বাষ্পায়ন দ্রুত হবে?
  1. ক) গ্লাসে
  2. খ) চায়ের কাপে
  3. গ) বড় থালায়
  4. ঘ) একই থাকবে
ব্যাখ্যা
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।
- এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান।
৩,২২০.
কোন পদ্ধতিতে সালফিউরিক এসিড তৈরি করা হয়?
  1. সলভে পদ্ধতিতে
  2. হ্যাবার পদ্ধতিতে
  3. স্পর্শ পদ্ধতিতে
  4. বিসমার্ক পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিড: 
- সালফিউরিক এসিড অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য অপেক্ষা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বলে সালফিউরিক এসিডকে রাসায়নিক দ্রব্যের রাজা বলা হয়। 
- শিল্পকারখানায় কঠিন সালফার থেকে সালফিউরিক এসিডকে প্রস্তুত করা হয় যে পদ্ধতিতে তাকে স্পর্শ পদ্ধতি বলে। 

সালফিউরিক এসিডের ধর্ম: 
এসিড ধর্ম: 
- লঘু H2SO4 বা গাঢ় H2SO4 কোনো ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি তৈরি করে, একে H2SO4 এর এসিড ধর্ম বলে। 
যেমন: সালফিউরিক এসিড ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম সালফেট লবণ এবং পানি উৎপন্ন করে। 
• H2SO4 + Ca(OH)2 → CaSO4 + 2H2
সালফিউরিক এসিড + ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড → ক্যালসিয়াম সালফেট + পানি 

জারণ ধর্ম (Oxidation Property): 
- H2SO4 এর মধ্যে অনেক বেশি পানি থাকলে অর্থাৎ পানির মধ্যে H2SO4 দিলে সেই H2SO4 কে লঘু H2SO4 এসিড বলে, লঘু H2SO4 এর জারণ ধর্ম নেই। 
- কিন্তু যে H2SO4 এর মধ্যে পানি কম পরিমাণে থাকে সেই H2SO4 গাঢ় H2SO4 বলে, গাঢ় H2SO4 এর জারণ ধর্ম আছে। 
- গাঢ় H2SO4 কপারকে জারিত করে কপার সালফেটে পরিণত করে এবং নিজে বিজারিত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড এবং পানি উৎপন্ন করে। 
• 2H2SO4 (গাঢ়) + Cu → CuSO4 + SO2 + 2H2

নিরুদন ধর্ম (The Dehydrating Property): 
- যে পদার্থ কোনো যৌগ থেকে পানি শোষণ করে সেই পদার্থকে নিরুদক বলে। 
- পানি শোষণ করার ধর্মকে নিরুদন ধর্ম বলে। 
- লঘু H2SO4 এর কোনো নিরুদন ধর্ম নেই, কিন্তু গাঢ় H2SO4 এর নিরুদন ধর্ম আছে।
- গাঢ় H2SO4 চিনি (C12H22O11) থেকে পানি শোষণ করে, এজন্য গাঢ় H2SO4 কে নিরুদক বলে। 
• C12H22O11 + H2SO4 → 12C + H2SO4.11H2

অন্যদিকে, 
- সলভে পদ্ধতি → সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 
- হ্যাবার পদ্ধতি → অ্যামোনিয়া (NH3) তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 
- বিসমার্ক পদ্ধতি → এটি সালফিউরিক এসিড তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২২১.
P-N ডায়োডকে ফরোয়ার্ড বায়াস করলে রোধ-
  1.  কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত  থাকে
  4. মাঝামাঝি থাকে
ব্যাখ্যা

• P–N ডায়োডকে ফরোয়ার্ড বায়াস:
- P–N ডায়োডকে ফরোয়ার্ড বায়াস করলে P-টাইপ অংশকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে এবং N-টাইপ অংশকে ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- এর ফলে ডায়োডের মাঝখানে থাকা ডিপ্লিশন স্তর পাতলা হয়ে যায়।

- ডিপ্লিশন স্তর পাতলা হলে ইলেকট্রন ও হোল সহজে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারে।
- তাই বিদ্যুৎ প্রবাহ বাড়ে এবং ডায়োডের রোধ কমে যায়।

উৎস:পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২২২.
এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হবে-
  1. ক) উত্তর মেরুতে
  2. খ) দক্ষিণ মেরুতে
  3. গ) বিষুবীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর পৃষ্টেও বস্তুর ওজনের অতি সামান্য তারতম্য ঘটে। এর কারণ হচ্ছে পৃথিবী সুষম গোলক নয় এবং ভূপৃষ্টে সর্বত্র অভিকর্ষজ ত্বরণের মানও এক নয়। এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হবে পৃথিবীর দুই মেরুতে অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে। যেখানে এর ওজন হবে ৯.৮৩ নিউটন। বিষুবীয় অঞ্চলে এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম ৯.৭৮ নিউটন। ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর ওজন হবে ৯.৭৯ নিউটন।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
৩,২২৩.
তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় (Exothermic Reaction) কোনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষণ ঘটে
  2. তাপের নির্গমন ঘটে
  3. তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় তাপ‌ উৎপন্ন হয়,তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার উদাহরণ:
N2 (g)  + 3H2 (g) ⇔ 2NH3 (g) + 92 kJ

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- তাপের নির্গমন: বিক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়।
- তাপমাত্রার প্রভাব:  বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে)।
- এনথালপি পরিবর্তন (ΔH):  তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক (ΔH < 0), কারণ বিক্রিয়া থেকে শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,২২৪.
নিচের কোনটি ট্রানজিস্টরের অংশ নয়?
  1. ক) নিঃসারক
  2. খ) অন্তর্মুখ
  3. গ) পীঠ
  4. ঘ) সংগ্রাহক
ব্যাখ্যা
p-n-p or n-p-n ট্রানজিস্টরে সজ্জিত কেলাসের প্রথমটিকে নিঃসারক, মাঝেরটিকে পীঠ এবং অন্য পাশেরটিকে সংগ্রাহক বলা হয়।
ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক সার্কিট বা বর্তনীতে বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
৩,২২৫.
ঘর্মাক্ত দেহে ফ্যানের বাতাস আরাম দেয় কেন?
  1. ক) পাখার বাতাসের বেগ অনেক বেশি
  2. খ) পাখার বাতাস শরীরের ভেতর প্রবেশ করে
  3. গ) বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
  4. ঘ) গায়ের ঘাম শরীর থেকে বের হতে পারে না
ব্যাখ্যা
পাখার বাতাসে দেহের ঘর্ম (পানি) বাষ্পে পরিণত হতে যে পরিমাণ তাপ প্রয়ােজন তা শরীর থেকে গ্রহণ করে। ফলে শরীর ঠান্ডা হয় এবং আরাম বােধ হয়।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে
৩,২২৬.
অবতল লেন্সের অপর নাম কী?
  1. উত্তল লেন্স
  2. অভিসারী লেন্স
  3. অপসারী লেন্স
  4. স্থূল মধ্য লেন্স
ব্যাখ্যা
লেন্স (Lens): 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- সাধারণত লেন্স কাচের তৈরি হয়। 
- তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, কোয়ার্টজ এমন কী তরল পদার্থ বা অর্ধতরল পদার্থ দিয়েও লেন্স তৈরি হতে পারে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- অভিসারী লেন্স বা উত্তল লেন্স এবং অপসারী লেন্স বা অবতল লেন্স। 

১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স (Convex Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্য ভাগ উঁচু বা মোটা এবং প্রান্ত ভাগ সরু, তাই একে স্থূল মধ্য বা উত্তল লেন্সও বলে। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স (Concave Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী বা অবতল লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্যভাগ সরু বা পাতলা এবং প্রান্ত ভাগ মোটা তাই একে ক্ষীণ মধ্য বা অবতল লেন্সও বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২২৭.
SI পদ্ধতিতে চাপের একক কোনটি?
  1. Nm2
  2. Nm
  3. Nm-1
  4. Nm-2
ব্যাখ্যা
• চাপ:
- একক ক্ষেত্রফলের কোনো বস্তুর উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকেই চাপ বলে।
- চাপের একক হল প্যাসকেল এবং সংকেত Pa.
- চাপের মাত্রা হল- ML-1T-2
• SI পদ্ধতিতে চাপের একক  Nm-2.

উল্লেখ্য,
- বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের একক চালু থাকার ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়।
- এসকল অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বিজ্ঞানীগণ বিশ্বব্যাপী একই ধরনের একক চালুর সিদ্ধান্ত নেন, একে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এস আই (SI) একক বলে।

 SI(International System of Units) পদ্ধতিতে,
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S);
- আধানের একক কুলম্ব(C); 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার;
- বিভব পার্থক্যের একক ভোল্ট;
- রোধের একক ওহম ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২২৮.
শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম কত সময় ব্যবধান প্রয়োজন?
  1. ০.০১ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড সময় ব্যবধান প্রয়োজন।

• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলক পৃষ্ঠে আঘাত করে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে ফিরে এলে তাকে প্রতিধ্বনি বলে।
- প্রতিধ্বনি মূল শব্দের পুনরাবৃত্ত রূপ হিসেবে শোনা যায়।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে অন্তত ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হয়।
- যদি সময় ব্যবধান ০.১ সেকেন্ডের কম হয়, তবে প্রতিফলিত শব্দ মূল শব্দের সাথে মিশে যায়।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক পৃষ্ঠ যথেষ্ট দূরে থাকতে হয়।
- প্রতিধ্বনি শব্দের প্রতিফলনের ফল।

• প্রতিধ্বনি সৃষ্টির শর্ত:
- শব্দের উৎস ও প্রতিফলক পৃষ্ঠের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকতে হবে।
- মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হবে।
- প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ ও কঠিন হলে প্রতিফলন স্পষ্ট হয়।
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে প্রবেশ করলে প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৩,২২৯.
শব্দের তীক্ষ্মতার মাত্রা নির্ণয়ের একক কোনটি?
  1. ক) ডেসিবেল
  2. খ) ওহম
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) ডাইন
ব্যাখ্যা
ডেসিবেল এককে শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। এর উদ্ভাবক স্কটিশ বুজ্ঞানি আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, তার নামানুসারে ডেসিবেল নামকরণ করা হয়েছে। মানুষের চিৎকার ও বজ্রপাতের শব্দ ১১০ ডেসিবেল। পারমাণবিক বোমা সবচেয়ে বেশি ২১০ ডেসিবেল তীব্রতার শব্দ উৎপাদন করে।
৩,২৩০.
গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র নিচের কোনটি? 
  1. V ∝ n
  2. P ∝ T
  3. PV = K
  4. V ∝ T
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৩,২৩১.
পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ভর ৫০ কেজি হলে ভূ-কেন্দ্ৰে বস্তুটির ভর কত?
  1. ক) ০কেজি
  2. খ) ১০কেজি
  3. গ) ৫০কেজি
  4. ঘ) ৫কেজি
ব্যাখ্যা
ভর: প্রত্যেক বস্তু পদার্থ দ্বারা গঠিত। ভর হলো কোনো বস্তুতে পদার্থের পরিমাণ। বস্তুর ধর্ম এর অবস্থান, আকৃতি ও গতি পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তিত হয় না। যে পরমাণু ও অণু দিয়ে বস্তুটি গঠিত তার সংখ্যা ও সংযুক্তির উপর বস্তুটির ভর নির্ভর করে।

- ভরের আন্তর্জাতিক একক হলো কিলোগ্রাম বা কেজি (kg)।
- বেশি ভরকে (যেমন এক ট্রাক চাউল) মেট্রিক টনে মাপা হয়।
- এক টন ১০০০ কিলোগ্রামের সমান।
- অল্প ভরকে মাপা হয় গ্রামে।
- যেমন কোনো পেনসিলের ভর ৫ গ্রাম (g)।
- ১ কেজি সমান ১০০০ গ্রাম।
- ভর সব সময় একই থাকে।
৩,২৩২.
ডায়োডের কোন সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না? 
  1. সঠিক মেরুকরণে
  2. ফরোয়ার্ড বায়াস সংযোগে 
  3. উল্টো সংযোগে
  4. ব্যাটারির ধনাত্মক টার্মিনালে
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৩.
একটি দ্রবণের সাধারণত কয়টি অংশ থাকে? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
দ্রবণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দুই বা ততোধিক কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যার প্রতিটি উপাদানের আপেক্ষিক পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিবর্তিত করা যায়, তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের সাধারণত দুইটি অংশ থাকে। একটি হলো দ্রাবক আর অপরটি হলো দ্রব। 
অর্থাৎ, দ্রবণ= দ্রাবক + দ্রব। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয়, তাকে দ্রাবক বলা হয়। 
- দ্রব ও দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকারের দ্রবণ হয়। 
যথা: 
দ্রাবক ⇒ দ্রব ⇒ উদাহরণ  
• গ্যাস ⇒ গ্যাস ⇒ বায়ু: সাধারণভাবে 78% N2 ও 21% O2। অধিক পরিমাণে N2 এর মধ্যে কম পরিমাণে O2 এর মিশ্রণ। 
• তরল ⇒ গ্যাস ⇒ সোডা ওয়াটার: পানিতে উচ্চ চাপে CO2 কেন্দ্রীভূত করা হয়। 
• তরল ⇒ তরল ⇒ পানি-অ্যালকোহলের দ্রবণ: পানিতে কিছু পরিমাণ অ্যালকোহল দ্রবীভূত করা হয়। 
• কঠিন ⇒ কঠিন ⇒ ধাতু সংকর: কপার ও জিংকের সমসত্ত্ব মিশ্রণ। 
• কঠিন ⇒ তরল ⇒ পারদ সংকর বা জিংক অ্যামালগাম। 
• কঠিন ⇒ গ্যাস ⇒ কঠিন প্যালাডিয়াম ধাতু দ্বারা H2 গ্যাস শোষিত হয়। 
• গ্যাস ⇒ তরল ⇒ মেঘ: বায়ুতে জলীয় বাষ্প। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৪.
ইলেকট্রন ভোল্ট কোন ফিজিক্যাল কোয়ান্টিটির জন্য ব্যবহার হয়?
  1. ধারকত্ব
  2. বিভব
  3. শক্তি
  4. আধান
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রন ভোল্ট (eV) মূলত শক্তি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত একটি একক। এটি একটি ছোট মানের শক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা পারমাণবিক এবং উপ-পরমাণবিক কণার ক্ষেত্রে সহজে বোঝা যায়। একটি ইলেকট্রন ভোল্ট হলো সেই শক্তি যা একটি একক ইলেকট্রন একটি ভোল্টের বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য অতিক্রম করলে অর্জন করে। বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র এবং কণার শক্তি সংক্রান্ত সমস্যায় এই এককটি খুবই সুবিধাজনক, কারণ জুলের তুলনায় এটি খুব ছোট এবং কণার দিক থেকে প্রাকৃতিক। তাই ইলেকট্রন ভোল্ট শক্তি (Energy) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়, ধারকত্ব, বিভব বা আধানের জন্য নয়।

- সঠিক উত্তর: গ) শক্তি।
 
• ইলেকট্রন ভোল্ট (Electron Volt):
- ইলেকট্রন ভোল্ট হলো একটি শক্তির একক, যা মূলত পরমাণুর ইলেকট্রন বা চার্জযুক্ত কণার শক্তি পরিমাপের জন্য ব্যবহার হয়।
- ১ ইলেকট্রন ভোল্ট (1 eV) হলো সেই শক্তি যা একটি ইলেকট্রন একটি ভোল্ট বিভব পার্থক্য অতিক্রম করার সময় অর্জন করে।
- এটি মূলত শক্তি সম্পর্কিত সমস্যা, যেমন- পরমাণুর আভ্যন্তরীণ শক্তি, আলোর ফোটন শক্তি, এবং ইলেকট্রনের কাইনেটিক শক্তি নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।
- ইলেকট্রন ভোল্ট ধারকত্ব, বিভব বা আধানের একক নয়।
- বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলী এটি ক্ষুদ্র শক্তি মান পরিমাপের জন্য ব্যবহার করে থাকেন, বিশেষ করে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে।  

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৩,২৩৫.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) পর্যাবৃত্ত গতি
  2. খ) স্পন্দন গতি
  3. গ) ঘূর্ণন গতি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ।

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য:
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৬.
কোন রঙের তলে আলোর প্রতিফলন সবচেয়ে বেশি হয়? 
  1. সাদা
  2. কালো
  3. নীল
  4. লাল
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। 
- পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তা হলো- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয় এবং কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম, এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। 
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং 
২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৭.
অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে- 
  1. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল 
  2. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল 
  3. খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল
  4. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত।
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,২৩৮.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. দীপন তীব্রতা
  2. ত্বরণ
  3. বল
  4. বিভব
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৯.
খাদ্য সংরক্ষণে মূলত কোন যৌগটি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে? 
  1. হাইড্রোজেন সালফাইড
  2. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. সালফার ট্রাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালফার ডাই-অক্সাইড এর খাদ্য সংরক্ষণ কৌশল: 
- সালফার ডাই-অক্সাইড মূলত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং এনজাইমের ক্রিয়া প্রতিরোধ করে। 
- হালকা বর্ণের ফল ও সবজির বর্ণ বিপর্যয় কমাতে SO2 জারণ রোধক (Anti-oxident) হিসেবে কাজ করে। 
- যার জন্য খাদ্যে এসকরবিক এসিড, ক্যারোটিন এবং অন্যান্য জারণ যোগ্য যৌগ ধারণ করতে সাহায্য করে। 
- সালফার ডাই-অক্সাইড সাধারণত তার সালফাইট, বাইসালফাইট এবং মেটাসালফাইট লবণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- মদে আকাঙ্ক্ষিত ঈস্টের জন্ম বা বৃদ্ধিতে বাধা দেয় কিন্তু ব্যাকটেরিয়াল কোষের সাথে বিক্রিয়া করে ধ্বংস করে এবং বংশ বিস্তার প্রতিহত করে। এজন্যই মদ তৈরিতে সালফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- তবে ভিটামিন B1 (থায়ামিন) সমৃদ্ধ খাদ্যে সালফাইটের ব্যবহারে তা নষ্ট হয় বলে তার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 
- টিনজাতকৃত খাদ্যে SO2 ব্যবহার করলে H2S উৎপন্ন হয়ে কটু গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। 

SO2 ব্যবহারের সুবিধাসমূহ: 
(ক) ব্যাকটেরিয়াঘটিত গাঁজন রোধে এটা সোডিয়াম বেনজোয়েট অপেক্ষা ভালো কাজ করে। 
(খ) সোডিয়াম বেনজোয়েট অপেক্ষা বেভারেজ পানীয় রং দীর্ঘদিন ধারণ করে। 
(গ) এটা গ্যাস হওয়ায় ফলের রসের পৃষ্ঠতলকেও রক্ষা করে। 
(ঘ) এটা সোডিয়াম বেনজোয়েট অপেক্ষা পানিতে অধিক দ্রবণীয় হওয়ায় ফলের জুস ও স্কোয়াসের সাথে ভালোভাবে মিশে এবং তাদের সংরক্ষণ করে। 
(ঙ) 71°C তাপমাত্রায় বা বায়ু চালনা করে অথবা জুস পাত্র বায়ুশূন্য করে অতিরিক্ত SO2 গ্যাস সহজেই দূর করা যায়। 

SO2 ব্যবহারের অসুবিধাসমূহ: 
(ক) বরই, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর ইত্যাদি প্রাকৃতিক রঙিন ফল বা ফলের রস সংরক্ষণে SO2 গ্যাস ব্যবহার করা যায় না। কারণ SO2 কিছুটা বিবর্ণকারী (bleaching agent)। (খ) কনটেইনারের টিনের সাথে বিক্রিয়ায় ফিনোলস H2S উৎপন্ন করে যার কটু গন্ধ আছে এবং টিনের আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে আয়রন সালফাইট (কালো যৌগ) উৎপন্ন করে যা প্রত্যাশিত নয়। 
   SO2 + 2H2O → H2SO4 + 2[H] 
   রঙিন বস্তু + [H]  → বর্ণহীন বস্তু 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪০.
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমারে কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কেমন থাকে? 
  1. মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে 
  2. মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা অত্যধিক বেশি থাকে 
  3. গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে 
  4. মুখ্য ও গৌণ দুই কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা সমান থাকে 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এই ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
সুতরাং, যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। 
- অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৪১.
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. অক্সিজেন
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
• পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস হলো মূলত কার্বন এবং হাইড্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব পদার্থ, যা ভূগর্ভে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার প্রভাবে তৈরি হয়েছে।
- এদের প্রধান উপাদান হলো হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon)। যার মূল গঠন কার্বন (C) ও হাইড্রোজেন (H) দিয়ে তৈরি।
- তবে, হাইড্রোকার্বনের গঠন এবং বৈশিষ্ট্যের মূল ভিত্তি হলো কার্বন পরমাণুর চেইন বা রিং কাঠামো।
- কার্বন পরমাণুগুলির মধ্যে একক, দ্বি-বন্ধন, ত্রি-বন্ধন তৈরি হয়ে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উপাদান সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, 
নাইট্রোজেন: মৌলিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারে, তবে এটি প্রধান উপাদান নয়।

অক্সিজেন: এটি দহনে প্রয়োজনীয় কিন্তু জ্বালানীর মূল উপাদান নয়। 

ক্যালসিয়াম: ক্যালসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌল। কিন্তু এটি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান নয় ।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ। 
- "Fundamentals of Petroleum" by Kate Van Dyke
৩,২৪২.
প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে - কে এটি বলেন
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তার অমর গ্রন্থ “ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকাতে” (Philosopher Naturalis Principia Mathematica) বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতিসূত্র (Newtons laws of motion) নামে পরিচিত।
৩,২৪৩.
তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি কার? 
  1. দস্তা 
  2. রূপা
  3. তামা
  4. সোনা 
ব্যাখ্যা

পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I  
-​ পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, I ∝ V 
বা, I = GV. এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি।
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা।
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৪৪.
নিচের কোনটি রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা?
  1. ইলেকট্রনের চার্জের প্রকৃতি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ
  2. নিউট্রনের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ
  3. পরমানুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ
  4. প্রোটনের চার্জ নির্ণয় করতে ব্যর্থ
ব্যাখ্যা
• রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু মডেল দেন।

• যেখানে তিনি দেখান যে:-
-  প্রত্যেকটি পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে।
যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয় কাজেই নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের ভরই পরমাণুর ভর। 

- নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ও পরমাণুর ভেতরে বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা।

- ধনাত্মক চার্জবাহী নিউক্লিয়াসের প্রতি ঋণাত্মক চার্জবাহী ইলেকট্রন এক ধরনের আকর্ষণ বল অনুভব করে।
এই আকর্ষণ বল কেন্দ্রমুখী এবং এই কেন্দ্রমুখী বলের কারণে পৃথিবী যেরকম সূর্যের চারদিকে ঘুরে ইলেকট্রন সেরকম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে।

• তবে তাঁর মডেলের প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল:
 - ইলেকট্রন কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে শক্তি হারায় (তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের কারণে) ফলে তা অবশেষে নিউক্লিয়াসে পতিত হতো এবং পরমাণু স্থিতিশীল থাকে না।
 কিন্তু প্রকৃতিতে পরমাণু স্থিতিশীল, তাই এই মডেল পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৩,২৪৫.
শুষ্ককোষে ধনাত্মক তড়িৎদ্বার হিসাবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ধাতব টুপিযুক্ত কার্বন দন্ড
  3. গ) দস্তার চোঙ
  4. ঘ) ম্যাংগানিজ ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তাকে ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ বলে। শুষ্ক কোষে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসাবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দন্ডের উপরিভাগ ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড হিসাবে কাজ করে৷

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৩,২৪৬.
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাকে বলা হয় -
  1. ক) চৌম্বক ফ্লাক্স
  2. খ) চৌম্বক ভ্রামক
  3. গ) চৌম্বক মধ্যতল
  4. ঘ) চৌম্বক দ্বিমেরু
ব্যাখ্যা
চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ:
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত্ বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে।

চৌম্বক ফ্লাক্সের (SI) একক ওয়েবার (Weber) বা সংক্ষেপে (Wb).

জার্মান পদার্থবিদ উইলিয়াম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। 
৩,২৪৭.
আপেক্ষিক তাপের একক কী?
  1. Jkg- 1K- 2
  2. JkgK- 1
  3. Jkg- 2K- 1
  4. Jkg- 1K- 1
ব্যাখ্যা
•  আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-  1K-  1.

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):

- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়।
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg- 1K- 1.
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg- 1K- 1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪৮.
গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O
  2. CuSO4.5H2O
  3. Na2SO4.10H2O
  4. Na2CO3.10H2O
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪৯.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটে?
  1. আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি
  2. আলোক শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি
  3. বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি
  4. আলোক শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি : কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৫০.
'সিন্নাবার' কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. লেড
  2. কপার
  3. মার্কারি
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
- সিন্নাবার 'মার্কারি' ধাতুর একটি আকরিক। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। 
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫১.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৮ N এবং ১৫ N, তাদের লব্ধি পরিমাণ কত?
  1. ৭ N
  2. ২২ N
  3. ১৩ N
  4. ১৭ N
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৮ N এবং ১৫ N, তাদের লব্ধি পরিমাণ কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
প্রথম শক্তি, F1 = ৮ N
দ্বিতীয় শক্তি, F2 = ১৫ N
দুটি শক্তি পরস্পর লম্বালম্বি।

যেহেতু বল দুটি লম্বালম্বিভাবে (অর্থাৎ ৯০° কোণে) কাজ করছে, তাদের লব্ধি (R) নির্ণয়ের জন্য পিথাগোরাসের উপপাদ্য (Pythagorean theorem) ব্যবহার করা হয়।

লব্ধি, R = √(F12 + F22)
= √(৮ + ১৫)
= √(৬৪ + ২২৫)
= √২৮৯ N
= ১৭ N

সুতরাং, লব্ধি পরিমাণ হলো ১৭ N।

৩,২৫২.
একটি বাল্বে '60W-220V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম (Ohm)?
  1. 16.36
  2. 160
  3. 280
  4. 806.67
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাল্বে '60W-220V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম (Ohm)? 

সমাধান: 
এখানে, 
বিভব পার্থক্য, V = 220V 
ক্ষমতা, P = 60 W 
রােধ, R = ? 

আমরা জানি, 
P = V2/R 
বা, R = V2/P 
বা, R = (220×220)/60 
∴ R = 806.67 ওহম।
৩,২৫৩.
কোথায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় আছে?
  1. চন্দ্র পৃষ্ঠের পাহাড়ে
  2. সূর্যের অভ্যন্তরে
  3. পৃথিবীর পানিতে
  4. উত্তর মেরুর বরফে
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা (Plasma State): 
- প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস। 
- এ অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা  হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। আবার, তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
অন্যভাবে বলা যায়, গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরূজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 
- শিল্প কারখানায় প্লাজমা টর্চ ব্যবহৃত হয়। 
- সূর্যসহ মহাবিশ্বের নক্ষত্রসমূহের অভ্যন্তরভাগ প্লাজমা অবস্থার উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৪.
এক্স-রে কোন বেগে গমন করে?
  1. 3×104 m/s
  2. 3×106 m/s
  3. 3×108 m/s
  4. 3×109 m/s
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি থেকে এক্স-রে (X-rays) আবিষ্কার করেন।
- প্রফেসর রঞ্জন একে "X-rays" নামে অভিহিত করেন, পরবর্তীতে একে 'রঞ্জন রশ্মি' নামেও ডাকা হয়। 
- উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি (সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এক্সরের ক্ষেত্রে এমন ঘটে না)। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এক্সরে আলোর সমবেগে (3×108 ms-1) বেগে গমন করে। 
- এক্সরেতে আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এক্স রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না (এক্সরের কোন চার্জ নাই)।
- এক্স রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৫৫.
উড পেন্সিলের সীস হিসাবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) সিলভার
ব্যাখ্যা

গ্রাফাইট, হীরক, গ্রাফিন, ফুলারিন প্রভৃতি হলো কার্বনের বিভিন্ন রূপভেদ। উড পেন্সিলের সীস হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট। গ্রাফাইট অধাতু হওয়া সত্ত্বেও তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। এছাড়া সোডিয়াম ধাতু নিষ্কাশনে গ্রাফাইট অ্যানোড তড়িদ্বার হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

৩,২৫৬.
C.N.G. (সি.এন.জি) দ্বারা কী বুঝায়?
  1. ক) রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম
  3. গ) এক ধরনের সীসা
  4. ঘ) অতি প্রাকৃত গ্যাস
ব্যাখ্যা
C.N.G. (সি.এন.জি) হচ্ছে এক ধরণের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস। 

- সিএনজি (CNG) বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত মিথেনের গঠিত হয় যখন এলপিজি বা তরলিত পেট্রোলিয়াম গ্যাস প্রধানত প্রোপেন, বেতেন এবং অন্যান্য গ্যাস দ্বারা গঠিত।
- CNG বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (Compressed Natural Gas) জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি রূপ।
- বাংলাদেশে পাওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের শতকরা ৯৯% বিশুদ্ধ মিথেন। সিএনজি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি অন্যান্য জ্বালানী উৎসের তুলনায় অনেক বেশি সস্তা এবং নিরাপদ বিকল্প, এটি একটি পরিবেশ বান্ধব বিকল্প এবং সাধারণত উন্নত দেশগুলিতে ব্যবহৃত হয়।
- সিএনজির প্রাথমিক উৎস হল ভূগর্ভস্থ, এবং এখান থেকেই এই মৌলিক গ্যাসের উৎপত্তি। 

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৩,২৫৭.
কোনটি লব্ধ রাশি?
  1. তাপমাত্রা
  2. ভর
  3. তাপ
  4. তড়িৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• তাপ হচ্ছে লব্ধ রাশি।

• লব্ধ রাশি:

- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় তাকে লব্ধ রাশি বলে।
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।

• লব্ধ রাশির উদাহারণ:

- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি।

• মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না তাকে মৌলিক রাশি বলে।
- যেমন সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ হলো মৌলিক রাশি।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৮.
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রথম স্বীকার্য কী?
  1. আলোর বেগ শূন্য
  2. জড় প্রসঙ্গ কাঠামো অপরিবর্তিত
  3. ভরের আপেক্ষিকতা
  4. শক্তির সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

• আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,২৫৯.
কাপড় কাচার জন্য সাধারণত কোন ধরণের সাবান ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট 
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

- কাপড় কাচার জন্য সাধারণত সোডিয়াম স্টিয়ারেট ব্যবহার করা হয়। সোডিয়াম স্টিয়ারেট (Sodium stearate) হলো স্টিয়ারিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ এবং এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরণের সাবান। কাপড় কাচা সাবান বা লন্ড্রি সোপ সাধারণত সোডিয়াম লবণ দিয়ে তৈরি শক্ত সাবান হয়। এই সোডিয়াম লবণগুলো পানিতে দ্রবণীয় এবং পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়। 

সাবান: 
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK)। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয়। 
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি। 
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়। 
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন ও বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৬০.
পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকে পড়ে যাই না-
  1. ক) মহাকর্ষ বলের জন্য
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
  3. গ) আমরা স্থির থাকার জন্য
  4. ঘ) পৃথিবীর সাথে আমাদের আবর্তনের জন্য
ব্যাখ্যা
মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকে পড়ি না।
- কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা নিজের দিকে টানে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- যে বস্তুর ভর যত বেশি, তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও ততই বেশি।
- চাঁদ পৃথিবীর চেয়ে ছোট ও তার ভর কম হওয়ায় পৃথিবীর চেয়ে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৬১.
একটি দোলক এক সেকেন্ডে যতবার পূর্ণ দোলন সম্পন্ন করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. বিস্তার
  2. কৌণিক বিস্তার
  3. কম্পাঙ্ক
  4. দোলনকাল
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক: 
- কোনো কম্পমান বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতবার কম্পন বা দোলন বা পুনরাবৃত্তি ঘটায় তাকে কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে ƒ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 


দোলনকাল বা পর্যায়কাল: 
- একবার পূর্ণ দোলন দিতে যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে। 
- দোলনকালকে T দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- চিত্রে C থেকে A হয়ে B তে পৌঁছিয়ে আবার B থেকে A হয়ে C তে পৌঁছাতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বা দোলনকাল বলে। 

দোলন তল: 
- সূতাসহ ববটি যে তলে দুলতে থাকে তাকে দোলন তল বলে। 
চিত্রে, OBAC যে তলে অবস্থিত সেটিই দোলন তল। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- আলম্ব বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে দোলকের কার্যকর দৈর্ঘ্য বলে। 
- r ব্যাসার্ধের গোলকাকৃতি ববের ভারকেন্দ্রটি ববের কেন্দ্রে অবস্থিত হয়; ফলে সুতোর দৈর্ঘ্য I হলে দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য, L = I + r  । 

বিস্তার: 
- সাম্যাবস্থান থেকে যেকোনো দিকে ববের সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলা হয়। 
প্রদত্ত চিত্রে, AB বা AC হল দোলকের বিস্তার। 
- বিস্তারকে সাধারণত x দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

কৌণিক বিস্তার: 
- ববের সাম্যাবস্থান ও সর্বাধিক সরণের অবস্থান লম্বন বিন্দুতে যে কোণ উৎপন্ন করে তাকে দোলকের কৌণিক বিস্তার বলা হয়। 
- কৌণিক বিস্তারকে সাধারণত θ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
এক্ষেত্রে চিত্র অনুসারে কৌণিক বিস্তার θ = ∠AOB = ∠AOC 
উল্লেখ্য, 
- সরল দোকের কৌণিক বিস্তার 4° এর কম হওয়া উচিত, যাতে CAB বৃত্তচাপটি প্রায় সরলরেখার আকার ধারণ করে। তাই AB বা AC কে পিন্ডের সর্বাধিক সরণ হিসেবে ধরা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৬২.
গ্রীন হাউস গ্যাস নয় কোনটি?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. ওজোন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস গ্যাস:

- হিলিয়াম গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে - 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.
৩,২৬৩.
সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - 
  1. CH2COONa
  2. (CH3COO)2Ca
  3. CH3COONa
  4. CHCOONa
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O, 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৬৪.
ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. KCl.Al2(SO4)3.6H2O
  2. K2SO4.Fe2(SO4)3.24H2O
  3. Na2SO4.Al2(SO4)3.24H2
  4. K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৬৫.
নিচের কোন মানটি pH স্কেলে নিরপেক্ষতা নির্দেশ করে?
  1. ৫.৫
  2. ৪.৫
ব্যাখ্যা
• pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 

অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৬৬.
তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. আইজ্যাক নিউটন
  3. হাইগেন
  4. ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন তত্ত্বের প্রবক্তা:

- আলোর কণা তত্ত্বের প্রবক্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন।
- তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা হাইগেন।
- তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সপ্লাঙ্ক।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৬৭.
খনিজ এসিডের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) ফসফরিক এসিড
  3. গ) নাইট্রিক এসিড
  4. ঘ) এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসকরবিক এসিড জৈব এসিডের উদাহরণ। 

- এসকরবিক এসিড ফলমূল এবং সবজিতে পাওয়া যায়।
- যে সকল এসিড প্রকৃতিতে প্রাপ্ত নানা রকম খনিজ থেকে তৈরি করা হয়, সেগুলোকে খনিজ এসিড বলে। 
যেমন- সালফিউরিক এসিড , ফসফরিক এসিড ইত্যাদি। 

সূত্র- ১০৮ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,২৬৮.
কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সাধারণত কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. সোডিয়াম কার্বোনেট
  3. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
ব্যাখ্যা

সাবান: 
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট। আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট ব্যবহার করা হয়। 
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি। 
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়। 
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে, 
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড: এটি "কস্টিক সোডা" (NaOH) নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষার এবং কাপড় কাচার সোডা হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তবে সাবান তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে।
- পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড: এটি "কস্টিক পটাশ" (KOH) নামে পরিচিত। এটি সাধারণত তরল সাবান বা নরম সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- সোডিয়াম স্টিয়ারেট: এটি সাবানের একটি প্রধান উপাদান, কিন্তু এটি নিজে কাপড় কাচার সোডা নয়। সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো একটি ফ্যাটি অ্যাসিডের লবণ যা পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন ও বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৬৯.
Cast Iron তৈরিতে ব্যবহৃত ফার্নেস হল-
  1. Bessemer Converter
  2. Cupola furanace
  3. Open hearth furnace
  4. Blast furnace
ব্যাখ্যা
লোহা:
- লোহা [(Iron), (Fe)] বা লৌহ একটি ধাতব মৌল। 
- এটি আমাদের অতীব প্রয়োজনীয় একটি মৌলিক পদার্থ। কিন্তু পৃথিবী পৃষ্ঠে লৌহ সাধারণত একাধিক যৌগ হিসাবে খনিতে পাওয়া যায়।
- লৌহের উল্লেখযোগ্য আকরিক হলো: হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট, লিমোনাইট, পাইরাইটস ইত্যাদি।
- শিল্প ক্ষেত্রে লোহার আকরিকের সাথে কোক (কার্বন চূর্ণ) ও চুনাপাথর মিশিয়ে অতি উচ্চ তাপে ব্লাস্ট ফার্নেস নামক বিশেষ চুল্লিতে গলান হয়। এতে লোহার বিভিন্ন অপদ্রব্য দূরীভূত হয়। গলিত লোহা চুলার তলায় জমা হয়। গলিত লোহাকে ঠান্ডা করলে শক্ত লোহা পাওয়া যায়।
- লোহাতে বিভিন্ন অনুপাতে কার্বন মিশিয়ে এর গুণাগুণ নির্ধারণ করা হয়।

• লোহার মধ্যে কার্বনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে লোহাকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। যথা:
ঢালাই লোহা (Cast iron), পেটা লোহা (Wrought iron) ও ইস্পাত (Steel)।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭০.
ভূপৃষ্ঠে বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম -
  1. ক) মেরু অঞ্চলে
  2. খ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  3. গ) বিষুব অঞ্চলে
  4. ঘ) পাহাড়ের উপর
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর পৃষ্টে বস্তুর ওজনের অতি সামান্য তারতম্য ঘটে। এর কারণ হচ্ছে পৃথিবী সুষম গোলক নয় এবং ভূপৃষ্টে সর্বত্র অভিকর্ষজ ত্বরণের মানও এক নয়।
এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হবে পৃথিবীর দুই মেরুতে অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে। যেখানে এর ওজন হবে ৯.৮৩ নিউটন।
বিষুবীয় অঞ্চলে এক কেজি ভরের কোন বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম ৯.৭৮ নিউটন।
ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর ওজন হবে ৯.৭৯ নিউটন।
উৎসঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।

৩,২৭১.
নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা কোনটি?
  1. ক) নবায়ন শক্তি সাধারণত ব্যয়বহুল
  2. খ) পরিবেশ দূষণ করে
  3. গ) গ্লোবাল ওয়ার্মিং তৈরি করে
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা হচ্ছে- নবায়ন শক্তি সাধারণত ব্যয়বহুল। 

নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা-
১. বায়োগ্যাস হতে যে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় তার পরিমাণ কম এবং সীমিত।
২. বায়ুপ্রবাহ ও স্রোত হতে যে নবায়নযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তার উৎস সীমিত। কারণ, এর জন্য যে প্লান্ট তৈরি করতে হয়, তার জন্য সুবিধাজনক জায়গা লাগে। বায়ুর মাধ্যমে উৎপাদনের অন্যতম সমস্যা হল সবসময় বায়ুপ্রবাহ থাকে না।
৩. সূর্যের আলো থাকলে সৌরশক্তি নির্ভর নবায়নযোগ্য শক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু বৃষ্টির জন্য এর উৎপাদন ব্যহত হতে পারে।
৪. অনেক সময় পানির জোয়ার-ভাটাকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহারের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়।
৫. সৌর, পানির স্রোত, এবং বায়ু থেকে উৎপন্ন নবায়নযোগ্য শক্তি সাধারণত ব্যয়বহুল।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

৩,২৭২.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কিসের উপর নির্ভর করে? 
  1. কণাদ্বয়ের তাপমাত্রা ও বায়ুর চাপ
  2. কণাদ্বয়ের ঘনত্ব ও চৌম্বক ক্ষেত্র
  3. কণাদ্বয়ের গতিবেগ ও ত্বরণ
  4. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুসারে দুটি কণার মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল F এর মান কণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক।
• F = G (m1 × m2)/r2  
- এখানে G হল মহাকর্ষীয় ধ্রুবক।

• মহাকর্ষ:

- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,২৭৩.
BJT ট্রানজিস্টরের তিনটি টার্মিনাল কী কী?
  1. Gate, Source, Drain
  2. Base, Collector, Emitter
  3. Anode, Cathode, Grid
  4. Input, Output, Ground
ব্যাখ্যা

◉ BJT (Bipolar Junction Transistor)-এর তিনটি টার্মিনাল থাকে—

Base (B): ট্রানজিস্টরের নিয়ন্ত্রণ টার্মিনাল।
Collector (C): যেখানে প্রধানত কারেন্ট প্রবাহিত হয় এবং সংগ্রহ করা হয়।
Emitter (E): যেখানে থেকে চার্জ বাহক (electrons/holes) নির্গত হয়।

​ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
- এটি ১৯৪৮ সালে আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরিতে (Bell Laboratories) প্রথম আবিষ্কৃত হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকে এটি ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
- ট্রানজিস্টর সাধারণত বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বিদ্যুৎ সংকেতকে শক্তিশালী করে।
- যেহেতু ট্রানজিস্টারে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় চার্জ বাহক থাকে, একে বাইপোলার জাংশন ট্রানজিস্টর (Bipolar Junction Transistor) বলা হয়।

​ট্রানজিস্টরের তিনটি টার্মিনাল। যথা:
১. এমিটার (Emitter)
২. বেস (Base)
৩. কালেক্টর (Collector)

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৭৪.
টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় - 
  1. ক) রেডিও ওয়েভ
  2. খ) অবলোহিত রশ্মি
  3. গ) আলট্রা ভায়োলেট
  4. ঘ) দৃশ্যমান রশ্মি
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের। আর এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র। একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

শব্দ প্রেরণ:
এক্ষেত্রে শব্দ প্রেরণকারী যন্ত্র মাইক্রোফোনের সাহায্যে বক্তার শব্দ সংগ্রহ করে। মাইক্রোফোনে একটি পাতলা ধাতব পদার্থ থাকে, একে ডায়াফ্রাম বলে। মাইক্রোফোনে আগত শব্দ এই ডায়াফ্রামটিকে কম্পিত করে, এ যান্ত্রিক কম্পন তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত হয়। এভাবে মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। এরপর এ সংকেতকে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গে রুপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

ছবি প্রেরণ:
যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্যদিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। এরপর তড়িৎ সংকেতকে তাড়িত চৌম্বক বেতার তরঙ্গে (রেডিও তরঙ্গ) রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।



অর্থাৎ, অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - ক) রেডিও ওয়েভ

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৫.
44g CO2 এ অণুর সংখ্যা কতটি
  1. ক) 1টি
  2. খ) 44টি
  3. গ) 6.023×1023টি
  4. ঘ) 1.3×1022টি
ব্যাখ্যা
CO
= ১২ + (১৬ × ২)
= ১২ + ৩২
= ৪৪g
= ১ মোল 
∴ ৪৪ গ্রাম CO2 এর অণুর সংখ্যা 6.023×1023টি

- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল।
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023টি অণুকে বুঝায়।
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023টি পরমাণু বুঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৬.
কোন তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়? 
  1. 25°
  2. 100°
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V.
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়।
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4°C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়।
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়
- তাই পানির ঘনত্ব 1000kg m-3 অথবা 1gm/cc.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৭.
সার্কিট ব্রেকার বা ফিউজ ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. বিদ্যুতের গতি বাড়ানো 
  2. বিদ্যুৎ উৎপাদন করা 
  3. বিদ্যুতের দিক পরিবর্তন করা 
  4. হঠাৎ বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করা 
ব্যাখ্যা

সার্কিট ব্রেকার এবং ফিউজ: 
- বিদ্যুতের বড় বড় দুর্ঘটনা হয় যখন হঠাৎ কোনো একটা ত্রুটির কারণে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- হঠাৎ করে বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই সার্কিট ব্রেক (বিচ্ছিন্ন) করে দেয়।
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু একটা তারের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়। যদি কোনো কারণে বেশি বিদ্যুৎ যাওয়ার চেষ্টা করে ফিউজের সরু তার সেই (রোধ বেশি, কাজেই I2R বেশি অর্থাৎ তাপ বেশি) বিদ্যুতের কারণে উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ফেলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৭৮.
'আপেক্ষিকতা তত্ত্ব' সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. আইনস্টাইন এটার জন্য নোবেল পুরষ্কার পান।
  2. ১৯০৫ সালে তত্ত্বটি প্রকাশিত হয়।
  3. তত্ত্ব অনুসারে স্থান পরিবর্তনশীল।
  4. তত্ত্ব অনুসারে সময় পরিবর্তনশীল।
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইন আলোক তড়িৎ ক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র আবিষ্কারের জন্য ১৯২১ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
- কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে -মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৩,২৭৯.
কাঠের দহনের প্রধান উৎপাদিত গ্যাস কোনটি? 
  1. O3
  2. O2
  3. CO2
  4. CO
ব্যাখ্যা

- কাঠের দহনের ফলে উৎপন্ন প্রধান গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। যখন কাঠ পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়, তখন মূলত এই গ্যাসটি নির্গত হয়

সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৮০.
পৃথিবীর সঙ্গে একটি বইয়ের আকর্ষণকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. পীড়ন
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. অভিকর্ষ বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়।
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না।
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ।
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৮১.
আর্গনের (Ar) জারণ সংখ্যা-
  1. শূন্য
  2. এক
  3. চার
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• জারণ সংখ্যা:

• যৌগ গঠনের সময় একটি মৌল অপর মৌলের সাথে যুক্ত হতে যে কয়টি ইলেকট্রন আদান প্রদান করে সেই আদান প্রদানকৃত ইলেকট্রনের সংখ্যাকে জারণ সংখ্যা বলে।
• জারণ সংখ্যা ধনাত্মক, ঋণাত্মক, ভগ্নাংশ এবং শূন্য হতে পারে। একটি মৌলের একাধিক জারণ সংখ্যা হতে পারে। একে পরিবর্তনশীল জারণ সংখ্যা বলে। 
• জানা মৌলের জারণ সংখ্যার সাহায্যে কোন মৌলের অজানা জারণ সংখ্যা সহজেই নির্ণয় করা যায়।
• যেসব মৌলের জারণ সংখ্যা মনে রাখা প্রয়োজন তা নিম্নরূপ- 
১. চার্জ নিরপেক্ষ পরমাণুর জারণ সংখ্যা শূন্য হয়।
- যেমন: Na ; K ; Mg ; Ca ; Fe ইত্যাদি।

২. দ্বি-মৌলিক গ্যাসের জারণ সংখ্যা শূন্য।
- যেমন: Cl₂ ; Br₂ ; I₂ ; N₂ ; O₂ ; F₂ ; H₂ ইত্যাদি।

৩. নিষ্ক্রিয় গ্যাসের জারণ সংখ্যা শূন্য।
- যেমন: He ; Ne ; Ar ; Kr ; Xe ; Rn.

৪. গ্রুপ- 1 এর মৌল সমূহের জারণ সংখ্যা +1.
- যেমন: H ; Li ; Na ; K ; ইত্যাদি।

৫. গ্রুপ -2 এর মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা +2.
- যেমন: Be ; Mg ; Ca ইত্যাদি।

৬. গ্রুপ -17 মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা -1.
- যেমন: Cl₂ ; Br₂ ; I₂ ; F₂.

৭. গ্রুপ -16 মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা -2.
- যেমন: O₂ ; S ইত্যাদি।

৮. সাধারণ অক্সাইডের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- যেমন: Na₂O, MgO ; CaO ; ইত্যাদি।
- পার অক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- যেমন: H₂O₂ ; Na₂O₂ ইত্যাদি। আবার সুপার অক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1/2. যেমনঃ NaO₂ ; KO₂ ইত্যাদি।

৯. হাইড্রোজেন যদি অধাতুর সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে জারণ সংখ্যা +1 হয়।
- যেমন: HCl ; HBr ; HI ; H₂O ইত্যাদি। আবার হাইড্রোজেন ধাতুর সঙ্গে যুক্ত থাকলে জারণ সংখ্যা -1 হয়। যেমন: NaH ; CaH₂ ; LiH ইত্যাদি।
- একটি যৌগের মোট জারণ সংখ্যার পরিবর্তন শূন্য হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ। 
৩,২৮২.
নিচের কোনটি পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ভঙ্গুরতা দেখা যায়
  2. এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি
  3. এই শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না
  4. কয়লা এক প্রকার পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ। 

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- এই শিলায় স্তরায়ন এবং কাদার চির খাওয়া দাগ লক্ষ্য করা যায়।
- একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
- এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি।
- ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।
- কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার এই শিলা।
- কাঠিন্য আগ্নেয় শিলার থেকে কম।
- ফাটল বা কেলাসের গঠন থাকে না।

অন্যদিকে -
- আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।
- রূপান্তরিত শিলা: মার্বেল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৮৩.
p-n জাংশন ডায়োড কিভাবে তৈরি হয়?
  1. দুটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী যোগ করে 
  2. দুটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী যোগ করে 
  3. একটি ইলেকট্রন ও প্রোটন যোগ করে
  4. একটি p টাইপ এবং একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি লাগিয়ে 
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৮৪.
কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?
  1. পায়খানা, প্রস্রাবখানায়
  2. গোসলখানায়
  3. পুকুরে
  4. নালায়
ব্যাখ্যা
- সলিড ফিনাইল একটি শক্ত ধরনের জীবাণুনাশক এবং দুর্গন্ধনাশক, যা বিশেষ করে পায়খানা-প্রস্রাবখানা, এবং বিভিন্ন স্যানিটারি স্থানে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি সাধারণত টয়লেট বা প্রস্রাবখানার দুর্গন্ধ দূর করতে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। 

দৈনন্দিন জীবনে কিছু রাসায়নিক জিনিসের ব্যবহার: 
- সাবান এবং ডিটারজেন্ট শরীর এবং কাপড় পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়। 
- টুথপেস্ট দাঁত পরিষ্কার করতে এবং মুখের জীবাণু ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। 
- ব্লিচিং পাউডার কাপড়ের দাগ তুলতে, পানি জীবাণুমুক্ত করতে এবং পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- বেকিং সোডা (সোডিয়াম বাইকার্বোনেট) রান্নায়, কেক-রুটি ফোলাতে, এবং ঘরোয়া পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ক্লোরোফর্ম সার্জারি বা চিকিৎসায় অজ্ঞান করার জন্য অতীতে ব্যবহৃত হতো ইত্যাদি। 
৩,২৮৫.
নিচের কোনটি ধাতব ধর্ম?
  1. ক) নমনীয়
  2. খ) তাপ পরিবাহী
  3. গ) বিদ্যুৎ পরিবাহী
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metalic Properties) :
পর্যায় সারণিতে বিভিন্ন সারিতে এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলসমূহকে ধাতু, অধাতু এবং অপধাতুতে ভাগ করা হয়েছে।
মৌলের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের উল্লিখিত নামে বিভক্ত করা হয়েছে।

ধাতুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন—
- এরা উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী,
- এদের ধাতব দ্যুতি আছে এবং
- এরা নমনীয় প্রকৃতির।

ধাতুর এসব বৈশিষ্ট্যই হলো ধাতব ধর্ম। সাধারণত যেসব মৌলের তড়িৎ ধনাত্মকতা যত বেশি হয় এবং আয়নিকরণ শক্তি যত কম হয় ঐ সব মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি হয়। পর্যায় সারণিতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যেহেতু বাম থেকে যতই ডানে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ধনাত্মকা হ্রাস পায় তাই মৌলের ধাতু ধর্মও হ্রাস পায়। তাই পর্যায় সারণির বামে 1 এবং 2 শ্রেণির মৌলসমূহের ধাতু ধর্ম প্রবল অথচ ডান পার্শ্বের 17 শ্রেণির মৌলের ধাতব ধর্ম নেই বললেই চলে। পর্যায় সারণির মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থিত জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, টেলুরিয়াম প্রভৃতি উপধাতু ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৩,২৮৬.
ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করার যন্ত্র কোনটি?
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. ব্যারোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

- ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট তরঙ্গ বা ভূ-অভ্যন্তরের কম্পন শনাক্ত এবং রেকর্ড করার জন্য সিসমোগ্রাফ (Seismograph) যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ভূমিকম্পের উৎপত্তি, স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। যদিও ভূমিকম্পের গাণিতিক পরিমাপ বা মাত্রা প্রকাশে রিখটার স্কেল বহুল পরিচিত, তবে মূল তথ্যটি সিসমোগ্রাফ যন্ত্র থেকেই পাওয়া যায়। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,২৮৭.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. সংযোজন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৮৮.
ফিজিক্যাল ল (Physical Law) এর উপর নির্ভর করে হাইড্রলিক প্রেস কাজ করে, এটি কে আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. আর্কিমিডিস
  2. রয়েল
  3. প্যাসকেল
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law): 
- কোনো পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থ রাখলে তা পাত্রের সংলগ্ন গাত্রে চাপ প্রয়োগ করে। 
- কিন্তু এই পাত্রটি আবদ্ধ করে যদি তরলের বা বায়বীয় পদার্থের উপর যে কোনো স্থানে বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে সেই চাপ সবদিকে সঞ্চালিত হয়। 
- এ সম্পর্কে বিজ্ঞানী প্যাসকেল একটি সূত্র দেন। 
- এটি প্যাসকেলের সূত্র নামে পরিচিত। 

প্যাসকেলের সূত্র: 
- "পাত্রে আবদ্ধ তরল বা বায়বীয় পদার্থের যে কোনো অংশের উপর বাইরের থেকে চাপ প্রয়োগ করলে সেই চাপ কিছু মাত্র না কমে পদার্থের মধ্যে সব দিকে সঞ্চালিত হয় এবং পদার্থ সংলগ্ন পাত্র পৃষ্ঠের সর্বত্র লম্বভাবে সমান চাপ প্রয়োগ করে"। 
- ফিজিক্যাল ল (Physical Law) এর উপর নির্ভর করে হাইড্রলিক প্রেস কাজ করে, এটি প্যাসকেল আবিষ্কার করেছিলেন। 

- প্যাসকেলের সূত্রের বল বৃদ্ধির নীতি কাজে লাগিয়ে ১৭৯৫ সালে ব্রামা নামে একজন বৃটিশ ইঞ্জিনিয়ার এই যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- আবিষ্কারকের নাম অনুসারে একে ব্রামার প্রেসও বলা হয়।
- আবার তরল পদার্থ দ্বারা চালিত বলে একে হাইড্রোলিক প্রেসও বলা হয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ।
৩,২৮৯.
নিউটনের গতিসূত্রের প্রথমটি কোন রাশি সম্পর্কে ধারণা দেয়?
  1. জড়তা 
  2. ভরবেগ 
  3. ত্বরণ 
  4. সরণ 
ব্যাখ্যা

নিউটনের গতিসূত্র: 
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ধারণার উপর ভিত্তি করে স্যার আইজ্যাক নিউটন গতির সূত্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে স্যার আইজাক নিউটন তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন যা তাঁর অমর গ্রন্থ ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া ম্যাথমেটিকাতে ১৬৮৭ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়। 
- এই সূত্র তিনটি নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত। 
প্রথম সূত্র: 
- "বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে (১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং (২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তা-ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চাওয়ার এই প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতির পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 
- যখন বস্তুর উপর বাহ্যিক লব্ধি বল প্রযুক্ত হয়। 
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে ভরবেগের পরিবর্তন, বলের অভিমুখ, বলের পরিমাপ, বল ও ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক এবং বলের একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৯০.
নিম্নলিখিত কোনটির মাধ্যমে আলো শত শত কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত পরিবাহিত করা যায়?
  1. প্রিজম
  2. পেরিস্কোপ
  3. বাইনোকুলার
  4. অপটিক্যাল ফাইবার
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। 
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৯১.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে ঘুরতে থাকে?
  1. ক) অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ বল
  3. গ) আপেক্ষিক বল
  4. ঘ) সমান্তরাল বল
ব্যাখ্যা
স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলাে ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চালনা করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে ঐ গতি নিয়েই সে বৃত্তাকার পথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। কারণ ঐ বলের প্রভাবে পৃথিবী তাকে কেন্দ্রের দিকে টানে তাই সে ঐ সমান্তরাল অবস্থায় সােজা পথে থাকতে পারে না।
৩,২৯২.
কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) তুঁতে
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- জামা-কাপড় কাঁচার জন্য আমরা যে সাবান ব্যবহার করি তা আসলে সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) নামক লবণ । 
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) যা কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত তাও একটি লবণ। 
- তুঁতে বা ফিটকিরি যা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেটিও লবণ। 
- সেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাসিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) নামক লবণ ।
- কৃষি জমিতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে তুঁতে বা কপার সালফেটকে (CuSO4,5H2O) ব্যাপক ব্যবহার করা হয়। 
- তবে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে এটি খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 
- মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে যে চুনাপাথর বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে যে সকল সার যেমন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4], পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
 
উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২৯৩.
সাবানকে শক্ত করতে কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম সিলিকেট
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট 
  4. সোডিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা

- সাবান তৈরির প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম সিলিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো- সাবানকে শক্ত ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা, বাইন্ডার হিসেবে কাজ করা এবং ফিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

সাবান: 
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। 
- সাবানের রাসায়নিক নাম হলাে সােডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa).
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি। তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়। 
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 
- সোডিয়াম সিলিকেট সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৯৪.
সদ বিম্ব গঠিত হয় -
  1. ক) অবতল দর্পণে
  2. খ) উত্তল লেন্সে
  3. গ) অবতল লেন্সে
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা

সদ বিম্বঃ কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে তবে তাকে সদ বা বাস্তব প্রতিবিম্ব বলে।
অবতল দর্পণ ও উত্তল লেন্সে সদ বিম্ব গঠিত হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৯৫.
ল্যাকটোজ কী দিয়ে গঠিত? 
  1. গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ
  2. গ্ল্যাক্টোজ + মাল্টোজ
  3. গ্লুকোজ + সুক্রোজ
  4. গ্লুকোজ + গ্ল্যাক্টোজ
ব্যাখ্যা
দুধ: 
- দুধ হচ্ছে লিপিড, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং পানিতে দ্রবীভূত অথবা বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন অজৈব এবং জৈব লবণের মিশ্রণ। 
- দুধ একটি কলয়েড বা ইমালশন। 
- স্তন্যপায়ী স্ত্রী প্রাণীর দেহে এটি তৈরি হয় যা তাদের নবজাতক শিশুর খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দুধের প্রধান উপাদানগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. চর্বি (Lipids): 
- দুধের মধ্যে চর্বি অদ্রবণীয় সূক্ষ্ম কণারূপে বিদ্যমান থাকে। চর্বির পরিমাণ দ্বারা দুধের গুণগতমান নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উচ্চ চর্বি বিশিষ্ট দুধ অধিক ক্রিম বহন করে ও মসৃণ হয় এবং বেশি মাখন ও পনির উৎপন্ন করে। এটি শক্তির একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে। 

২. প্রোটিন (Protein): 
- দুধে উচ্চমান সম্পন্ন প্রোটিন বিদ্যমান। সাধারণত প্রতি লিটার দুধে 30-35g প্রোটিন উপস্থিত থাকে। দুধে উপস্থিত 76-86% প্রোটিনই কেজিন (Casein) দ্বারা গঠিত। প্রধানত চার প্রকার কেজিন দুধের মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন: αS1, αS2, β এবং K-কেজিন। এর সাথে অল্প পরিমাণ অ্যালবুমিন ও গ্লোবিউনিন বিদ্যমান যা বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

৩. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- দুধে বিদ্যমান প্রধান শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে ল্যাকটোজ। এক অণু গ্লুকোজ এবং এক অণু গ্ল্যাক্টোজ এর সমন্বয়ে ল্যাকটোজ তৈরি হয়। এটি দুধের মিষ্টতা বাড়ায়। দুধের মধ্যে প্রায় 4.8% ল্যাকটোজ বিদ্যমান যা দুধের 40% ক্যালরি উৎপন্ন করে। 

8. খনিজ লবণ (Minerals): 
- দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া অল্প পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, সাইট্রেট প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই প্রয়োজন। 

৫. ভিটামিন (Vitamins): 
- দুধ ভিটামিনের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। দুধের মধ্যে ভিটামিন A, B6, B12, C, D, K, F আছে। এছাড়াও থায়ামিন, নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, প্যান্টোথ্যানিক এসিড প্রভৃতি উপাদান বিদ্যমান। 

৬. পানি (Water): 
- দুধে পানির পরিমাণ গড়ে ৪7%। পানিতে দ্রবণীয় বিভিন্ন খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত থাকে। এদের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৯৬.
কোনটি টেলিফোনের অংশ নয়?
  1. ক) সুইচ
  2. খ) রিংগার
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) মাউস প্যাড
ব্যাখ্যা
১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
টেলিফোনের পাঁচটি অংশ থাকে।
যথা- সুইচ, রিংগার, কি প্যাড, মাইক্রোফোন, এবং স্পিকার।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
৩,২৯৭.
তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. বিস্তার
  3. দশা
  4. পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা

• তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বলে।

• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলা হয়।
- পর্যায়কালকে সাধারণত T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।
- একটি কণা সাম্য অবস্থান থেকে শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় সেই অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য যে সময় প্রয়োজন, সেটিই পর্যায়কাল।
- পর্যায়কাল যত কম, কণার স্পন্দন তত দ্রুত সম্পন্ন হয়।
- পর্যায়কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
- যদি কম্পাঙ্ক f হয় এবং পর্যায়কাল T হয়, তবে f = 1/T.

• পূর্ণ স্পন্দন:
- কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে একদিকে গিয়ে পুনরায় সাম্য অবস্থানে ফিরে এলে সেটি অর্ধ স্পন্দন।
- সাম্য অবস্থান থেকে বিপরীত দিকে গিয়ে আবার প্রাথমিক অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য নির্দিষ্ট সময় লাগে, যা পর্যায়কাল দ্বারা নির্দেশিত হয়।

• তরঙ্গের ক্ষেত্রে পর্যায়কালের গুরুত্ব:
- তরঙ্গের গতি, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে পর্যায়কালের গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে।
- তরঙ্গ বেগ নির্ণয়ে পর্যায়কাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- তরঙ্গের সময়ভিত্তিক আচরণ বিশ্লেষণে পর্যায়কাল ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- কম্পাঙ্ক: এক সেকেন্ডে সম্পন্ন স্পন্দনের সংখ্যা।
- বিস্তার: সাম্য অবস্থান থেকে কণার সর্বাধিক সরণ।
- দশা: নির্দিষ্ট মুহূর্তে কণার সরণ, বেগ ও ত্বরণ দ্বারা নির্দেশিত অবস্থা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৩,২৯৮.
কোন রাতে শিশির বেশি জমে? 
  1. বৃষ্টিভেজা রাতে
  2. মেঘাচ্ছন্ন রাতে
  3. কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে
  4. মেঘশূন্য রাতে
ব্যাখ্যা
মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমার কারণ: 
- সব সময়ই বিভিন্ন জলাশয়ের পানির বাষ্পায়ন ঘটছে। এই বাষ্পায়নের ফলে জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হয় এবং তা বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। 
- বায়ুমণ্ডল সৃষ্ট জলীয় বাষ্প ধারণ করে। 
- দিনের বেলায় সূর্য তাপে বাতাস গরম থাকায় ঐ জলীয় বাষ্প দ্বারা বায়ুমণ্ডল সম্পৃক্ত হয় না। 
- রাতে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে যায়। তখন বাতাস ধারণকৃত জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় এবং তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে যায়, ফলে শিশির জমে। 
- রাতের আকাশে মেঘ থাকলে, মেঘমুক্ত রাতের থেকে তাপ বিকিরণ কম হয়। 
- তাপ বিকিরণ কম হওয়ায ভূ-পৃষ্ঠের বাতাসও তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা হয়। 
- বাতাসে তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের খুব নিচে যেতে পারে না, তাই কম শিশির জমে। 
অর্থাৎ, মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৯৯.
শুষ্ককোষে ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার হিসাবে কাজ করে কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. কার্বন দন্ড
  3. দস্তার চোঙ
  4. ম্যাংগানিজ ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তাকে ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ বলে। শুষ্ক কোষে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসাবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দন্ডের উপরিভাগ ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড হিসাবে কাজ করে৷
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৩,৩০০.
ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা -
  1. ৮২
  2. ৮৮
  3. ৯১
  4. ৯২
ব্যাখ্যা
• ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা - ৯২।
- সংকেত- U
- পারমানবিক ভর -২৩৮।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলের পারমানবিক সংখ্যা:
- সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪,
- সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১,
- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২,
- ক্যালসিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ২০,
- জিংকের পারমানবিক সংখ্যা ৩০,
- অ্যালুমিনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১৩, 
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬,
- আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩,
- নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।