বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৬৪ · ২০১৩০০ / ৬,৪০৯

২০১.
অকেলাসিত পদার্থ কোনটি? 
  1. চিনি
  2. কাঁচ
  3. মাইকা
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে। 
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে। 
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন। 
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত। 
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়। 

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাঁচ, রবার, সালফার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান কত? 
  1. ০ মিটার/সেকেন্ড2
  2. ৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড2
  3. ৯.৮০ মিটার/সেকেন্ড2
  4. ৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড2
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতির জন্য বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজন বিভিন্ন হওয়ার কারণ: 
- পৃথিবী সুষম গোলক না হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সকল স্থান সমদূরে নয়। 
- যেহেতু g এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g এর মানের পরিবর্তন হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় g এর মান সবচেয়ে কম (৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড)। সুতরাং বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত যাওয়া যায়, কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব তত কমতে থাকে এবং g এর মান বাড়তে থাকে (৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড)। এর ফলে বস্তুর ওজনও বাড়তে থাকে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় g এর মান মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, ফলে ওজনও সবচেয়ে বেশি হয়। 
- আবার, পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২০৩.
পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
  1. ক) ক্রিয়ার বদলে প্রতিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়
  2. খ) সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
  3. গ) পালের দাড়িতে টানের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দিকে বাতাসকে কার্যকর করে
  4. ঘ) পালের আকৃতিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
পালতোলা নৌকাতে বাতাস দুইভাবে কাজ করে।একটি বলের অভিমূখে অন্যটি বলের বিপরীত। যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে বিপরীতমূখী বলকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে নৌকা অন্যদিকের বাতাসকে সম্মুখ অভিমূখে বলের উপাংশটিকে কাজে লাগিয়ে তা নৌকার সম্মুখগতিতে ব্যাবহার করতে পারে।
২০৪.
পেট্রোলের আগুন পানি দ্বারা নেভানো যায় না, কারণ-
  1. পেট্রোলের সাথে পানি মিশে যায়
  2. পেট্রোল পানির সাথে মিশে না
  3. পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা
  4. খ ও গ উভয়ই ঠিক
ব্যাখ্যা
- পেট্রোল একধরনের প্রাকৃতিক হাইড্রোকার্বন যা পানির চেয়ে অনেক হালকা। 
- এজন্য পেট্রোলের আগুনে পানি দিলে পানি নিচে চলে যায় এবং তা পেট্রোলের সাথে মিশে না। 
- পেট্রোল উপরে উঠে আগুন জ্বলতেই থাকে। 
- পেট্রোলের আগুনে পানি ঢেলে দিলে পেট্রোলের আগুনের উত্তাপ অনেক বেশি হওয়ায় পানি বিশ্লিষ্ট হয়ে যায়। তাই পানি দ্বারা পেট্রােলের আগুন নেভানো যায় না।
২০৫.
গ্রিনহাউজ কি?
  1. ক) কাচের তৈরি ঘর
  2. খ) সবুজ আলোর আলোকিত ঘর
  3. গ) সবুজ ভবনের নাম
  4. ঘ) সবুজ গাছপালা
২০৬.
মানব শরীরে মোট কত ধরনের মৌল আছে? 
  1. ৩৩ 
  2. ১৬ 
  3. ২৬ 
  4. ৫০ 
ব্যাখ্যা

মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা বা লোহা ইত্যাদি বিশুদ্ধ পদার্থকে যতই ভাঙ হউক না কেন সেখানে তাদের ক্ষুদ্রতর কণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না। 
উদাহরণ- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার ইত্যাদি। 
- এই পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যার মধ্যে ৯৮ টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলা হয়। 
- মানব শরীরে মোট ২৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৭.
কোনটি বহুরূপী মৌল?
  1. ক) আর্সেনিক
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৮.
যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা কোনটি?
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) ইলেক্ট্রন
  3. গ) অণু
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
পরমাণু:
পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা ঐ পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে।
পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

অণু:
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে।
আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।

অণুর বৈশিষ্ট:
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
- বস্তুর বৈশিষ্ট বজায় রাখে।
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু।
- খালি চোখে দেখা যায় না।
- কোন চার্জ নাই।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
২০৯.
[Fe(CN)6]-4 এ Fe এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. -2
  2. +2
  3. -4
  4. +6
ব্যাখ্যা
ধরি [Fe(CN)6]-4 এ Fe এর জারণ সংখ্যা x
আমরা জানি, CN এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা -1 এবং সম্পূর্ণ যৌগটির আয়ন -4 ।

অতএব,
 x + (-1) × 6 = -4
⇒  x = 6 - 4
∴ x = + 2

∴ Fe এর জারণ সংখ্যা +2

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
২১০.
গ্লুকোজের স্থূল সংকেত কোনটি?
  1. CH2O
  2. C6H10O6
  3. C6H12O5
  4. C6H12O6
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
১। রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

২। আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

৩। স্থূল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O

৪। গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১১.
'তামা'-এর আপেক্ষিক তাপ কত?
  1. 130 Jkg-1K-1
  2. 230 Jkg-1K-1
  3. 400 Jkg-1K-1
  4. 420 Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা
- তামা'র আপেক্ষিক তাপ হচ্ছে- 400 Jkg-1K-1

আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat): 
- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। 
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি। 
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়। 
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। 
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে। 
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg-1K-1
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 বলতে বুঝায় 1kg সীসার তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 130 J তাপের প্রয়োজন।  
নিচের তালিকায় কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
পর্যায় কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
  1. T = f
  2. T = 1/f
  3. f = 2π/T
  4. T = 2π/f
ব্যাখ্যা
• সরল দোলন গতি:
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ওই কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়।
- অন্য ভাবে বলা যায়, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে।

• সরল দোলন গতি সম্বন্ধীয় কয়েকটি রাশি:
- দোলনকাল (Time Period): একটি পূর্ণদোলনের জন্য কোনো কণা যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বা দোলনকাল (T) বলা হয়।
- এর মাত্রা হলো সময়ের মাত্রা T এবং একক হলো সেকেন্ড (s)।

- কম্পাঙ্ক (Frequency): একক সময়ে কোনো কণা যে কয়টি পূর্ণদোলন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক (f) বলা হয়।
- যেহেতু T সময়ে 1 টি পূর্ণদোলন হয় তাই, একক সময়ে পূর্ণদোলনের সংখ্যা = 1/T
- অর্থাৎ, পর্যায় কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে সম্পর্ক হলো, f = 1/T বা, T = 1/f
- কম্পাঙ্কের মাত্রা হল T-1 এবং একক হার্জ (Hz) বলা হয়। 1Hz = 1s-1

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৩.
সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে -
  1. অ্যাটমোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. অডিওমিটার
  4. ফ্যাদোমিটার
ব্যাখ্যা
ক্রনোমিটার (Chronometer):
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।
- বাষ্পীভবনের হার মাপার যন্ত্র অ্যাটমোমিটার।
- শ্রাব্যতা মাপার যন্ত্র মাপার যন্ত্র অডিওমিটার।
- বায়ুচাপ বলোমিটার(bolometer) - তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ মাপার যন্ত্র ক্যালোরিমিটার।
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব মাপার যন্ত্র ল্যাক্টোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- ধাবমান বস্তুর গতি/বেগ মাপার যন্ত্র স্পিডোমিটার।
- রক্ত চাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগোমোম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
২১৪.
নিচের কোন প্লাস্টিক পুড়ে যাওয়ার সময় হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস নির্গত করে?
  1. পলিইউরেথেন
  2. পিভিসি
  3. পলিস্টার
  4. ব্যকেলাইট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক: 
- প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজেই ছাঁচযোগ্য। 
- নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছামতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট বস্তু সামগ্রী তৈরি করা যায়। 
যেমন- মগ, বালতি, জগ, মেলামাইনের থালা-বাসন, পিভিসি পাইপ, বাচ্চাদের খেলনা, গাড়ির সিটবেল্ট, এমনকি আসবাবপত্র সবকিছুই প্লাস্টিকের তৈরি। 
- এ সবই প্লাসটিক জাতীয় পলিমার থেকে তৈরি। 

প্লাস্টিকের ভৌত ধর্ম: 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিকই পানিতে অদ্রবণীয় যা দ্রবীভূত হয় না। 
- প্লাস্টিকের বিদ্যুৎ এবং তাপ নিরোধক হিসেবে বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো গলিত অবস্থায় এদেরকে যেকোনো আকার দেওয়া যায়। 
- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্চাদের খেলনা-এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়। এভাবে যতবারই এদেরকে তাপ দেওয়া যায়, এরা নরম হয় ও ঠান্ডা করলে শক্ত হয়, এগুলোকে থার্মোপ্লাস্টিকস (Thermoplastics) বলে। 
- অন্যদিকে মেলামাইন, ব্যকেলাইট (যা ফ্রাইং প্যানের হাতলে এবং বৈদ্যুতিক সকেটে ব্যবহার করা হয়) এগুলো তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না। এই সকল প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস (Thermosetting Plastics) বলে। 

প্লাস্টিকের রাসায়নিক ধর্ম: 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়, তাই বাতাসের জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। 
- এমনকি পাতলা এসিড বা ক্ষারের সাথেও প্লাস্টিক বিক্রিয়া করে না, তবে শক্তিশালী ও ঘনমাত্রার এসিডে কিছু কিছু প্লাস্টিক দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 
- প্লাস্টিক পচনশীল নয়, দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও এসব পচে না। 
- অবশ্য বর্তমানে বিজ্ঞানীরা পচনশীল প্লাস্টিক আবিষ্কার করেছেন, সেগুলো বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- হাত-পা কেটে গেলে বা মেডিক্যাল অপারেশনে সেলাইয়ের কাজে যে সুতা ব্যবহৃত হয়, সেগুলো এক ধরনের পচনশীল প্লাস্টিক। 
- প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। 
যেমন- পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন (Polyurethane) প্লাস্টিক (যা আসবাবপত্র, যেমন: চেয়ার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৫.
কর্মদক্ষতা হচ্ছে -
  1. কাজ ও বলের অনুপাত
  2. ক্ষমতা ও শক্তির অনুপাত
  3. কাজ ও ক্ষমতার অনুপাত
  4. কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা (Efficiency): 
- শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে একটি যন্ত্রের কার্যকর শক্তি (output energy) যন্ত্রে প্রদত্ত মোট শক্তির (input energy) সমান হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে কার্যকর শক্তি সকল সময় মোট শক্তির চেয়ে কম হয়। 
- নানা কারণে যন্ত্রে শক্তির অপচয় ঘটে এবং এ কারণে যন্ত্রের ইনপুট ও আউটপুটে শক্তির এই তারতম্যের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- জেনারেটরের ক্ষেত্রে ঘর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে শক্তির অপচয় হয় যা তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে শক্তির সংরক্ষণশীলতার সূত্রানুসারে শক্তির মোট স্থানান্তর স্থির থাকে। 
- যন্ত্রেও কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 
কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= (E1 - E2)/E1 × 100%  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
কোনটি নিষ্ক্রিয় মৌল না?
  1. ক) He
  2. খ) Fe
  3. গ) Ne
  4. ঘ) Xe
ব্যাখ্যা
He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn, Og এই সাতটি মৌল নিষ্ক্রিয় গ্রুপভুক্ত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২১৭.
চুম্বকের আকর্ষণ শক্তি মূলত কোথায় বেশি কার্যকর? 
  1. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  2. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

• চুম্বকের আকর্ষণ শক্তি মূলত চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে বেশি কার্যকর। চুম্বক একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে ক্ষেত্রের ঘনত্ব এবং লাইনগুলো প্রায়শই প্রান্তের দিকে ঘন হয়ে থাকে। এই কারণে, চুম্বকের মধ্যভাগে চৌম্বকীয় প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে, কারণ সেখানে চৌম্বক ক্ষেত্রের লাইনগুলো সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে, চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু বা প্রান্তগুলোতে চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় আকর্ষণ শক্তিও সর্বাধিক হয়। তাই যেকোনো লোহার বা চৌম্বকীয় পদার্থ চুম্বকের প্রান্তের দিকে স্থাপন করলে সর্বোচ্চ আকর্ষণ অনুভব করা যায়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: খ) চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে।

চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২১৮.
জড়তার ধারণা পাওয়া যায় নিউটনের কোন সূত্র থেকে?
  1. ক) প্রথম সূত্র
  2. খ) দ্বিতীয় সূত্র
  3. গ) তৃতীয় সূত্র
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু সম গতিতে চলতে থাকবে। অন্যদিকে স্থির বস্তু স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতাকে জড়তা বলে।
২১৯.
চারটি কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের সংকেত কী?
  1. CH4
  2. CH3-CH2-CH2-CH3
  3. CH3-CH3
  4. CH3-CH2-CH3
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- যে সকল হাইড্রোকার্বনের কার্বন শিকলে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন বিদ্যমান থাকে তাকে অ্যালকেন বলে। 
- অ্যালকেনের সাধারণ সংকেত CnH2n+2 (n = 1, 2, 3, 4,... ইত্যাদি)। 
- এ শ্রেণির প্রথম সদস্যের নাম মিথেন, প্রথম সদস্য বলে সাধারণ সংকেতে n = 1 , তাই এর সংকেত CH4 এবং দ্বিতীয় সদস্য (n = 2) এর নাম ইথেন, ইথেনের সংকেত C2H6
- অ্যালকেনের কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন ভাঙা অনেক কঠিন, তাই অ্যালকেন রাসায়নিকভাবে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এজন্য এদেরকে প্যারাফিন বলে, প্যারাফিন অর্থ আসক্তিহীন। 
- সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা, উচ্চ চাপ কিংবা শক্তিশালী প্রভাবকের উপস্থিতিতেই অ্যালকেন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 

অ্যালকেনের নামকরণ: 
- IUPAC পদ্ধতিতে অ্যালকেনের নামকরণের নিয়ম হলো- 
(i) সরল শিকলবিশিষ্ট অ্যালকেনে এক কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH4) কে মিথেন, দুই কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH3) কে ইথেন, তিন কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH2-CH3) কে প্রোপেন এবং চার কার্বনবিশিষ্ট অ্যালকেন (CH3-CH2-CH2-CH3) কে বিউটেন নাম দেওয়া হয়েছে। 
(ii) অ্যালকেনের ক্ষেত্রে কার্বন সংখ্যার গ্রিক সংখ্যাসূচক শব্দের শেষে এন (ane) যোগ করে নামকরণ করা হয়। 
- নিচে কিছু অ্যালকেনের কার্বন সংখ্যা, নাম এবং সংকেত দেওয়া হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২২০.
বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-
  1. ক) ঘনত্ব কম
  2. খ) ঘনত্ব বেশি
  3. গ) তাপমাত্রা বেশি
  4. ঘ) দ্রবণীয়তা বেশি
ব্যাখ্যা
বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
Source: britannica.com
২২১.
মাইক্রোওয়েভ কোথায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) রেডিও
  2. খ) রাডার
  3. গ) গোয়েন্দা কাজে
  4. ঘ) ক্যান্সার নির্ণয়ে
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ রাডারে ব্যবহৃত হয়। 
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
২২২.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় কোন ধাতুটি সাধারণত লোহার উপর আবরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. দস্তা
  2. সোনা
  3. নিকেল
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২২৩.
What does Newton’s first law of motion state?
  1. The relationship between force and acceleration
  2. Action-reaction principle
  3. Inertia of matter
  4. Gravitational force effect
  5. The principle of conservation of energy
ব্যাখ্যা
• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"

• এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• জড়তা:
- জড়তা হলো বস্তুর একটি ধর্ম, যা দ্বারা বস্তু তার বর্তমান গতি বা স্থির অবস্থা বজায় রাখতে চায়।
• উদাহরণ:
- গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- টেবিলের উপর রাখা বই যতক্ষণ পর্যন্ত না ঠেলা হয় ততখন পর্যন্ত নিজে থেকে নড়ে না।
 
অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বল ও ত্বরণের সম্পর্ক সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র।
• মহাকর্ষ সূত্র হলো মহাবিশ্বের ভর যুক্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল সম্পর্কিত সূত্র।
• শক্তির সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী শক্তির কোন ধ্বংস নেই, এটি কেবল এক রূপ থেক অন্য রূপে স্থানান্তরিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২২৪.
পানির স্থায়ী খরতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক্লোরিন
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. সোডিয়াম কার্বনেট
  4. সালফিউরিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
পানির খরতা (Hardness of Water): 
- পানির উৎস হলো নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, সমুদ্র বা টিউবওয়েল ইত্যাদি, এসব পানিতে বিভিন্ন খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকতে পারে। 
- পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ক্লোরাইড, সালফেট, কার্বনেট, বাইকার্বনেট ইত্যাদি লবণ দ্রবীভূত থাকলে উক্ত পানি সাবানের সাথে সহজে ফেনা উৎপন্ন করে না, এ ধরনের পানিকে খর পানি বলে। 
- অবশ্য ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম ছাড়া আয়রন, ম্যঙ্গানিজ প্রভৃতি লবণ দ্রবীভূত থাকলেও পানি খর হতে পারে। 
- খর পানিতে সাবান ঘষলে সহজে ফেনা উৎপাদন করে না, কারণ সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। 
যেমন- সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) হলো স্টিয়ারিক এসিডের সোডিয়াম লবণ, এটি সাবান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- এ সাবান দিয়ে খর পানিতে কাপড় কাচা হলে যতক্ষণ পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের লবণ উপস্থিত থাকে ততক্ষণ ফেনা উৎপন্ন হয় না এবং সাবান ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। 
• 2C17H35COONa + CaCl2 → (C17H35COO)2Ca + 2NaCl 
- ম্যাগনেসিয়াম বা অন্যান্য ধাতুর লবণও একই রূপ বিক্রিয়া করে। 
- পানির পাইপ বা কলকারখানাতে বয়লারের ভিতরে খর পানি ব্যবহার করলে খর পানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন খনিজ লবণ পাইপের গায়ে জমা হয়। ফলে পাইপের গায়ে মোটা আস্তরণ পড়ে। এতে পানির পাইপে পানি প্রবাহে বাধা পায়। বয়লারে তাপের অপচয় ঘটে এমনকি বয়লার ফেটে বিস্ফোরণ পর্যন্ত ঘটতে পারে। 
- পানির মধ্যে যে ধর্মের জন্য পানিতে সাবান ভালোভাবে ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না পানির সেই ধর্মকে পানির খারতা বলে। 
- পানির খরতা দুই প্রকার। যথা- স্থায়ী খরতা এবং অস্থায়ী খরতা। 

স্থায়ী খরতা: 
- পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে স্থায়ী খরতার সৃষ্টি হয় এবং এই পানি স্থায়ী খর পানি বলে। 
- স্থায়ী খর পানিকে শুধু উত্তপ্ত করলেই স্থায়ী খরতা দূরীভূত হয় না। বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে স্থায়ী খরতা দূর করা হয়। 
- সাধারণত বদ্ধ জলাশয় যেমন-পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি মৃদু হয় এমনকি বৃষ্টির পানিও মৃদু পানি। মৃদু পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতুর লবণ খুব বেশি দ্রবীভূত থাকে না। 
- স্থায়ী খর পানি থেকে স্থায়ী খরতা অপসারণ করে ঐ পানিকে মৃদু পানিতে পরিণত হয়। 

অস্থায়ী খরতা: 
- পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন প্রভৃতি লবণের বাইকার্বনেট (HCO3-) লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খারতা সৃষ্টি হয় তাকে অস্থায়ী খারতা বলে এবং এই পানিকে অস্থায়ী খর পানি বলা হয়। 
- অস্থায়ী খর পানিকে শুধু উত্তপ্ত করলেই অদ্রবণীয় কার্বনেট লবণ উৎপন্ন হয়। এ লবণ পাত্রের নিচে তলানি আকারে জমা হয়। এই তলানি থেকে ছাঁকনির মাধ্যমে পানিকে সহজেই পৃথক করা যায়। 
- ফলে অস্থায়ী খরতা দূর হয় এবং অস্থায়ী খর পানি মৃদু পানিতে পরিণত হয়। 
• Ca(HCO3)2  → CaCO3(s)↓ + CO2(g)↑ + H2O(l) 

স্থায়ী খরতা দূরীকরণের পদ্ধতি: 
- স্থায়ী খর পানির মধ্যে সোডিয়াম কার্বনেট যোগ করলে সোডিয়াম কার্বনেট ক্যালসিয়াম আয়ন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেটের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে। ফলে পানি থেকে ক্যালসিয়াম আয়ন এবং ম্যাগনেশিয়াম আয়ন পানি থেকে অপসারিত হয় অর্থাৎ স্থায়ী খরতা দূর হয়। 
• CaCl2 + Na2CO3 → CaCO3↓+ 2NaCl 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৫.
'তাপমাত্রা' কোন ধরনের ভৌত রাশি?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. দিক রাশি
  4. লব্ধ রাশি
ব্যাখ্যা

'তাপমাত্রা' একটি স্কেলার রাশি। 

ভৌত রাশি (Physical Quantity):
কিছু ভৌত রাশি প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মান প্রয়োজন, আবার কিছু প্রকাশের জন্য মানের পাশাপাশি দিকও প্রয়োজন। এই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির মান এবং দিক উভয়ই থাকে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলা হয়।
উদাহরণ: ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল, সরণ ইত্যাদি।
ভেক্টর রাশির ধর্ম:
- সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায়, কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
- দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
- ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
- ভেক্টরকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

২. স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বলা হয়।
উদাহরণ: তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য, কাজ, ভর, সময়, দ্রুতি ইত্যাদি।
স্কেলার রাশির ধর্ম:
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফল সর্বদা একটি স্কেলার রাশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৬.
যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্টি হতে হলে কোনটির প্রয়োজন? 
  1. শূন্য ভ্যাকুয়াম 
  2. অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম 
  3. শক্তিশালী চুম্বকক্ষেত্র 
  4. কোনো নির্দিষ্ট দিকের আলোকরশ্মি 
ব্যাখ্যা

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- বিভিন্ন উপায়ে শব্দ সৃষ্টি হয় তা বিভিন্ন জড় পদার্থের কম্পন থেকে। 
- তাই পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. এই তরঙ্গ সৃষ্টি ও সঞ্চালনের জন্য অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
২. এই তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ঘটে। 
৩. মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের বা স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
৪. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৫. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য সময় প্রয়োজন হয়। 
৬. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চারণের দিক এক নাও হতে পারে। 
৭. তরঙ্গের কণাগুলোর বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। 
অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৮. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপর নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৭.
আয়নায় প্রতিফলিত হলে নিচের কোন শব্দটির কোনো পরিবর্তন হবে না?
  1. ক) OPT
  2. খ) NOON
  3. গ) SOS
  4. ঘ) OTTO
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২২৮.
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস নিচের কোনটি? 
  1. সৌরকোষ
  2. ডায়নামো
  3. ব্যাটারি 
  4. ডিসি জেনারেটর
ব্যাখ্যা

- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস হচ্ছে 'জেনারেটর বা ডায়নামো'।

তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
১. পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

২. অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২২৯.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. লেকল্যান্স কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
২৩০.
ট্রানজিস্টরকে কোন কাজে ব্যবহার করা যায়?
  1. শুধুমাত্র তাপ উৎপাদনে
  2. উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে
  3. ব্যাটারি চার্জ করার জন্য
  4. আলো তৈরি করার জন্য
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর একটি ইংরেজি শব্দ। Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপণ্ড সংঘটিত করেছে। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন, ডব্লিউ ব্রাটেন ও ডব্লিউ সক্লে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
- দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার।
যথা- ১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং ২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩১.
নিচের কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অনমনীয়তা
  2. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি
  4. ঘাতসহনীয়তা
ব্যাখ্যা
ধাতু:
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। যথা:
• ধাতু ও
•অধাতু।

উল্লেখ্য,
⇒ ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার (Silver), গোল্ড (Gold), কপার (Copper) ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।
- আবার কার্বন (গ্রাফাইট ও হীরক-Diamond), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ই্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

⇒ ধাতুর বৈশিষ্ট্য:
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়।
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়।
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে।
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে।
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)।
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।

উৎস: i) রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩২.
বৈদ্যুতিক বাল্বে টাংস্টেন তারের সঙ্গে আর্গন গ্যাস ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য কী? 
  1. আলো তীব্র করা 
  2. তাপমাত্রা কমানো 
  3. বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি করা 
  4. টাংস্টেন তারের জারণ রোধ করা
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক বাল্বে টাংস্টেন তারের সাথে আর্গন গ্যাস ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো টাংস্টেন ফিলামেন্টের আয়ু বাড়ানো অর্থাৎ টাংস্টেন তারের জারণ রোধ করা। আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় বা নোবেল গ্যাস, যার অর্থ এটি উচ্চ তাপমাত্রায়ও টাংস্টেনের সাথে রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়া করে না। এটি ফিলামেন্টকে পুড়ে যাওয়া থেকে বাষ্পীভবনের হার কমিয়ে দেয় এবং এর ফলে বাল্বটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

আর্গনের ব্যবহার: 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে বায়ুতে আর্গনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে উচ্চ তাপে টাংস্টেন তারটি ব্যবহার করা হয় যেন জারিত হয়ে কেটে না যায় তার জন্য নিষ্ক্রিয় আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- নাইট্রোজেন থেকে আর্গন অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় এবং এর বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতাও কম, এ কারণে বৈদ্যুতিক বাল্ববে নাইট্রোজেনের পরিবর্তে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরির জন্য আর্গন বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশে আর্গন সহজলভ্য না হওয়ায় গবেষণাগারসমূহে নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে সাধারণত নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়; কিন্তু উন্নত দেশসমূহে এক্ষেত্রে আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক যন্ত্র, বিশেষত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।

২৩৩.
​ক্ষমতার সূত্র কোনটি সঠিক? 
  1. P = বল + বেগ 
  2. P = কাজ / সময়
  3. P = কাজ × সময় 
  4. P = সময় / কাজ
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৪.
কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা ইস্পাতের তুলনায় কেমন হয়?
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. চৌম্বক প্রবণতা শূন্য
ব্যাখ্যা
•  চৌম্বক প্রবণতা (Magnetic Susceptibility) হলো একটি পদার্থ কতটা সহজে চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা চুম্বকিত হতে পারে, তার পরিমাপ। এটি পদার্থটির চৌম্বক হওয়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।

কাঁচা লোহা (Soft Iron):
-  কাঁচা লোহার ডোমেইনগুলোকে বহিঃচৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে সহজে বিন্যস্ত করে চুম্বকে পরিণত করা যায়।  কিন্তু চৌম্বকক্ষেত্রের অপসারণে এরা আবার বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ফিরে যায়।
-  ফলে এদের চুম্বকত্ব নষ্ট হয়ে যায়। এজন্যে কাঁচা লোহাকে কলিংবেলের মতো যেখানে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয় সেখানে ব্যবহার করা হয়।

কাঁচা লোহার বৈশিষ্ট্য: 
-  অত্যন্ত উচ্চ চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন। 
-  দ্রুত চৌম্বকিত হয় ও দ্রুতই চৌম্বকত্ব হারায়। 
-  চুম্বক তৈরির জন্য Temporary Magnet হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

অপরদিকে,
ইস্পাত (Steel):
-  ইস্পাতের ক্ষেত্রে ডোমেইনগুলো সহজে বিন্যস্ত হতে চায় না। এজন্য বেশ শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের প্রয়োজন হয় এবং একবার চুম্বকে পরিণত হলে সহজে চুম্বকত্ব হারায় না। এজন্যে ভালো স্থায়ী চুম্বক তৈরি করতে ইস্পাতের প্রয়োজন হয়।

ইস্পাতের বৈশিষ্ট্য: 
-  তুলনামূলকভাবে কম চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন।
-  ধীরে চৌম্বকিত হয়, কিন্তু একবার চৌম্বক হলে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
-  ব্যবহৃত হয় Permanent Magnet তৈরিতে। 

অতএব, কাঁচা লোহা ইস্পাতের তুলনায় অনেক বেশি সহজে চৌম্বকিত হয়, অর্থাৎ কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা বেশি।

তথ্যসূত্র: 
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. শাহজাহান তপন। 
- Encyclopaedia Britannica. 
২৩৫.
প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে ভূত্বকে কোন মৌলিক পদার্থ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. আয়রন
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা
• ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।

• প্রাচুর্যতার ভিত্তিতে ভূত্বকে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরিমাণ:

- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ - ৪২.৭%, 
- সিলিকনের পরিমাণ - ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ - ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ - ৫.১%, 
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ - ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ - ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ - ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৬.
গাছের পাতা হলুদ হওয়া কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ভৌত পরিবর্তন
  2. রাসায়নিক পরিবর্তন
  3. জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. সাময়িক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

পদার্থের পরিবর্তন: 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে।
- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন।

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। যেমন:
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা,
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া,
• বরফ গলে পানি হওয়া,
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি।

রাসায়নিক পরিবর্তন:  
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। যেমন: 
• লোহায় মরিচা ধরা,
• দুধ থেকে দই হওয়া,
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া,
• উদ্ভিদ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বৃদ্ধি,
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি।

উৎস:
১. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৩৭.
কোনটি ওয়াটার গ্যাস নামে পরিচিত?
  1. হাইড্রোজেন + কার্বন-মনোঅক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন + কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. মিথেন + হাইড্রোজেন
  4. পানি + কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• ওয়াটার গ্যাস হলো একটি গ্যাসীয় মিশ্রণ যা হাইড্রোজেন (H₂) এবং কার্বন-মনোঅক্সাইড (CO) দ্বারা গঠিত।

• ওয়াটার গ্যাস:

- এটি সাধারণত কোক বা কোলে স্টিম (বাষ্প) দ্বারা উত্তপ্ত করে প্রস্তুত করা হয়।
- এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কোক বা কাঠের কার্বন গ্যাসের সাথে প্রতিক্রিয়া করে কার্বন-মনোঅক্সাইড এবং হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে, যা ওয়াটার গ্যাস হিসেবে পরিচিত।
• রাসায়নিক সমীকরণ:
C (s) + H2O (স্টিম) → CO + H2(ওয়াটার গ্যাস)।

উল্লেখ্য,
কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব বিষাক্ত গ্যাস, এটি নীরব ঘাতক গ্যাস নামে পরিচিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৩৮.
পানির উপস্থিতি শনাক্তের জন্য পরীক্ষাগারে যে যৌগটি ব্যবহৃত হয়—
  1. ক) CuSO4.5H2
  2. খ) CuSO4 (অনার্দ্র)
  3. গ) CaSO4
  4. ঘ) Na2SO4
ব্যাখ্যা
CuSO4
পানির উপস্থিতি শনাক্তের জন্য পরীক্ষাগারে CuSo4 যৌগটি ব্যবহৃত হয়।
- কপার (II) সালফেট (CuSO4) একটি হাইড্রেটেড, নীল কঠিন - এটি পানির অণুর সাথে সংযুক্ত। - যখন এটি হাইড্রেটেড থাকে, তখন সাধারণত একটি কুপার সালফেট অণুর সাথে পাঁচটি পানির অণু সংযুক্ত থাকে (CuSO4.5H2O).
- CuSO4 গরম করলে এটি ডিহাইড্রেট হবে। 

উৎস: National center for biotechnology center. 
২৩৯.
ভোল্ট কিসের একক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তড়িৎ প্রবাহ
  2. খ) তড়িৎ ক্ষেত্র
  3. গ) তড়িৎ বিভব
  4. ঘ) তড়িৎ আধান
ব্যাখ্যা
• বিভব পার্থক্যের একক - ভোল্ট (V);
• চার্জ বা আধানের একক হচ্ছে - কুলম্ব (C).
• তড়িৎ প্রবাহের একক - এম্পিয়ার (A);
• পরিবাহিতার একক সিমেন্স (S);
• রোধের একক - ওহম (Ω);
• কম্পাঙ্কের একক - হার্জ (Hz).

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
২৪০.
লাল লিটমাসকে নীল করে-
  1. ক) এসিড
  2. খ) ক্ষারক
  3. গ) পানি
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
লিটমাস পেপার এসিডে ডুবালে সেটি নীল লিটমাস লাল হয়। আবার, ক্ষারকের দ্রবণে ডুবালে লাল লিটমাসকে নীল করে এবং লবনের দ্রবনে লিটমাস পেপার ডুবালে তার রংয়ের কোন পরিবর্তন হবে না।
সূত্রঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
২৪১.
পোস্ট অফিস বক্সের সাহায্যে কী পরিমাপ করা যায়? 
  1. প্রবাহ
  2. আধান
  3. রোধ
  4. বিভব পার্থক্য
ব্যাখ্যা
পোস্ট অফিস বক্স: 
- যে রোধ বাক্সের রোধগুলোকে হুইটস্টোন ব্রিজের তিনটি বাহু হিসেবে বিবেচনা করে এর সাহায্যে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে পোস্ট অফিস বক্স বলে। 
- পোস্ট অফিস বক্স হুইটস্টোন ব্রিজের আরেকটি রূপ। 
- পূর্বে পোস্ট অফিসের লোকজন টেলিগ্রাম, টেলিফোন লাইনের তারের রোধ নির্ণয়ের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন বলে একে পোস্ট অফিস বক্স বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২৪২.
কম্পোজিট কণিকা কোনটি? 
  1. নিউট্রিনো 
  2. ডিউটেরন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. প্রোটন 
ব্যাখ্যা

কণিকা: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
- প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। 
যেমন- H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়। 
- মূল উপাদানরূপে যে সব অতি সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক প্রকার হতে পারে। 
যথা- 
১। স্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
 
২। অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। 
- অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়। 
 
৩। কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। 
যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা। 
 
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

২৪৩.
ড্রাই আইস কী? 
  1. হিমায়িত ভারি পানি
  2. হিমায়িত অক্সিজেন
  3. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. হিমায়িত কার্বন মনো-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
ড্রাই আইস: 
- শুষ্ক বরফ (Dry ice) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন ঘটে, অর্থাৎ এটি তার কঠিন অবস্থান থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হয়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা -78.5° C তাপমাত্রায় (বা -109.3° ফারেনহাইট) পরমানন্দ (sublimation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাসে পরিণত হয়। 
- এ কারণে এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২৪৪.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে বোঝায়- 
  1. আয়তন প্রসারণ
  2. ক্ষেত্রফল প্রসারণ
  3. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  4. পৃষ্ঠতল প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল কিছুই নেই, শুধু তরল পদার্থের আয়তন আছে। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তার আয়তন প্রসারণকেই বোঝায়। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ মাপার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয় কারণ তরল পদার্থকে সব সময়ই কোনো পাত্রে রাখতে হয়। কাজেই প্রসারণ সহগ মাপতে চাইলে যখন তরলটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পাত্রটিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাত্রটিরও একটি প্রসারণ হয়। কাজেই পাত্রে তরল যে প্রসারণ দেখা যায় সেটা সত্যিকারের প্রসারণ না, সেটা হচ্ছে আপাত প্রসারণ। 
- কাজেই প্রকৃত প্রসারণ বের করতে হলে পাত্রের প্রসারণের ব্যাপারটা সব সময়ই মনে রাখতে হবে। 
- সাধারণত তরলের প্রসারণ কঠিন পদার্থের প্রসারণ থেকে বেশি হয়। যদি তা না হতো তাহলে আপাত প্রসারণটি হয়তো দেখা যেত না, মনে হতো আপাত সংকোচন। 
- তরল পদার্থের প্রসারণের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে থার্মোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৫.
খাদ্যের কাজ হলো-
  1. ক) দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ
  2. খ) দেহে তাপ উৎপাদন, কর্মশক্তি প্রদান
  3. গ) রোগ প্রতিরোধ করা, দেহকে সুস্থ, সবল রাখা
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি৷ যথাঃ দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ; দেহে তাপ উৎপাদন, কর্মশক্তি প্রদান; রোগ প্রতিরোধ করা, দেহকে সুস্থ, সবল রাখা ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৬.
গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র নিচের কোনটি?
  1. V ∝ n
  2. V ∝ T
  3. P ∝ T
  4. PV = K
ব্যাখ্যা
গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T
 
চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273; 
- এ সূত্রটি অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
২৪৭.
পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে কী ধরনের শক্তি সঞ্চিত থাকে?
  1. স্থিতিশক্তি
  2. আলোকশক্তি
  3. তাপশক্তি
  4. গতিশক্তি
ব্যাখ্যা

• পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে স্থিতিশক্তি (Potential Energy) সঞ্চিত থাকে। এটি মূলত ভর এবং উচ্চতার কারণে সঞ্চিত শক্তি। যেহেতু বরফ পাহাড়ের উচ্চ স্থানে অবস্থিত, তাই তার নিজস্ব ভরের কারণে ভূমিকর্ষণের বিপরীতে একটি সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তি তখন প্রকাশ পায় যখন বরফ নেমে আসে বা কোনাে বলের আঘাতে সরানো হয়, তখন তা গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বরফের মধ্যে আলোকশক্তি বা তাপশক্তি অল্প পরিমাণে থাকতে পারে, কিন্তু প্রধানভাবে শক্তি হিসেবে এটি স্থিতিশক্তি হিসাবেই বিবেচিত হয়। তাই পাহাড়ের চূড়ার বরফে প্রধান শক্তি ধরণ হলো স্থিতিশক্তি।

- সঠিক উত্তর: ক) স্থিতিশক্তি।

• পাহাড়ের চূড়ায় বরফের মধ্যে শক্তি (Energy in Snow on Mountain Peak):
- পাহাড়ের চূড়ায় থাকা বরফকে উপরে তুলে রাখা অবস্থায় একটি বিশেষ ধরনের শক্তি সঞ্চিত থাকে।  
- এই শক্তি মূলত উচ্চতাজনিত শক্তি, অর্থাৎ স্থিতিশক্তি (Potential Energy)।  
- কারণ, যেকোনো বস্তুকে উচ্চ অবস্থানে রাখলে তার নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  
- এই সম্ভাব্য শক্তি স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে, যেমন বরফ নেমে আসার সময়।  
- বরফের মধ্যে আলোকশক্তি বা তাপশক্তি থাকলেও এটি মূলত তার উচ্চতা বা অবস্থানের কারণে সঞ্চিত হয়।  

বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ।
- অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। যথা- একটি হচ্ছে গতি শক্তি এবং অপরটি হচ্ছে বিভবশক্তি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৮.
সাবান মূলত কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ?
  1. অ্যালকোহল 
  2. প্রোটিন 
  3. কার্বোহাইড্রেট 
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড 
ব্যাখ্যা

- সাবান মূলত উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি লবণ। 

সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 যেখানে n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৯.
ইথানলকে কোন খাতে জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়? 
  1. বিদ্যুৎ সংরক্ষণে
  2. খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে 
  3. তাপ ইঞ্জিনে 
  4. শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে 
ব্যাখ্যা
জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার: 
- ইথানল-এর অপর নাম ইথাইল অ্যালকোহল। 
- ইথানলের রাসায়নিক সংকেত CH3-CH2-OH. 
- জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল প্রভৃতির মতো ইথানলকে পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন হয়। 
- তাই জীবাশ্ম জ্বালানির মতো ইথানলকেও তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করে কলকারখানা, গাড়ি, বিমান, জাহাজ প্রভৃতি চালানো যেতে পারে। 
- উত্তর আমেরিকাসহ অনেক দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির সাথে ইথানলকে মিশিয়ে তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়িতে পেট্রলের সাথে শতকরা 10 ভাগ ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই যত ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ততই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫০.
নিচের কোনটি উপধাতু?
  1. ক) জার্মেনিয়াম
  2. খ) আর্সেনিক
  3. গ) টেলুরিয়াম
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metalic Properties) :
পর্যায় সারণিতে বিভিন্ন সারিতে এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলসমূহকে ধাতু, অধাতু এবং অপধাতুতে ভাগ করা হয়েছে।
মৌলের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের উল্লিখিত নামে বিভক্ত করা হয়েছে।

ধাতুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন—
- এরা উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী,
- এদের ধাতব দ্যুতি আছে এবং
- এরা নমনীয় প্রকৃতির।

ধাতুর এসব বৈশিষ্ট্যই হলো ধাতব ধর্ম। সাধারণত যেসব মৌলের তড়িৎ ধনাত্মকতা যত বেশি হয় এবং আয়নিকরণ শক্তি যত কম হয় ঐ সব মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি হয়। পর্যায় সারণিতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যেহেতু বাম থেকে যতই ডানে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ধনাত্মকা হ্রাস পায় তাই মৌলের ধাতু ধর্মও হ্রাস পায়। তাই পর্যায় সারণির বামে 1 এবং 2 শ্রেণির মৌলসমূহের ধাতু ধর্ম প্রবল অথচ ডান পার্শ্বের 17 শ্রেণির মৌলের ধাতব ধর্ম নেই বললেই চলে। পর্যায় সারণির মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থিত জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, টেলুরিয়াম প্রভৃতি উপধাতু ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
২৫১.
সমুদ্রের জোয়ারভাটা থেকে কোন ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. তাপশক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা

জোয়ারভাটা শক্তি (Tidal Energy) হলো সমুদ্রের পানির উত্থান-পতনের ফলে সৃষ্ট যান্ত্রিক শক্তি, যা টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। পানির গতি ও চাপের পরিবর্তন থেকে এই শক্তি উৎপন্ন হয়, তাই এটি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস।

জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।
- এই ট্রার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২৫২.
পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরিতে কার্বনের কোন বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ?
  1. বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা
  2. কাঠিন্যতা
  3. যৌগ গঠনের ক্ষমতা
  4. উচ্চ তাপ পরিবাহিতা
ব্যাখ্যা
পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরিতে কার্বনের যৌগ গঠনের ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-  কার্বন (C) একে একে চারটি বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম, যা তাকে বিভিন্ন ধরনের জটিল যৌগ গঠনে সক্ষম করে তোলে।
-  এটি ক্লোরিন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং অন্যান্য মৌলগুলির সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের পলিমার ও প্লাস্টিক তৈরি করা সম্ভব হয়।
-  পলিথিন, পলিপ্রোপিলিন, নাইলন ইত্যাদির পলিমার গঠন করা হয় কার্বন সম্বলিত মনোমারের সাহায্যে।  

অন্যদিকে, 
বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা:  এটি সাধারণত পলিমার ও প্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য নয়।

কাঠিন্যতা: কাঠিন্যতা (hardness) প্লাস্টিকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

উচ্চ তাপ পরিবাহিতা: প্লাস্টিকের মধ্যে সাধারণত কম তাপ পরিবাহিতা থাকে কারন পলিমার সাধারণত তাপ কুপরিবাহী।

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ২য় পত্রএকাদশ-দ্বাদশ। 
- "Polymer Chemistry: An Introduction" by Malcom P. Stevens. 
২৫৩.
দৃশ্যমান আলোর তুলনায় এক্সরে রশ্মির -
  1. ক) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি
  2. খ) কম্পাঙ্ক কম
  3. গ) ভেদন ক্ষমতা বেশি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাধারণ আলো অস্বচ্ছ পদার্থকে ভেদ করতে পারেনা। এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন। এক্স-রশ্মি অনেক কিছু ভেদ করে যেতে পারে। যেমন, মানুষের শরীর, কাঠ এমনকি লোহাকেও ভেদ করতে পারে।
এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক ছোট।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২৫৪.
বিভবশক্তি সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. অপর নাম স্থিতিশক্তি
  2. উচ্চতার উপর নির্ভর করে
  3. যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বিভবশক্তি সম্পর্কিত উল্লিখিত সবগুলো তথ্যই সঠিক।

• বিভবশক্তি:

- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি।
- বিভবশক্তি নির্ভর করে উচ্চতার উপর।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
- যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- বস্তু কর্তৃক সম্পন্ন কাজ বা বিভবশক্তি,
Ep = বল × সরণ (উচ্চতা)
⇒ Ep = mgh

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
একটি PV cell উৎপন্ন করে
  1. AC voltage
  2. DC voltage
  3. Both AC and DC voltages
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- একটি ফটোভোলটাইক (পিভি) সেল, সাধারণত একটি সৌর কোষ হিসাবে পরিচিত, একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা আলোক শক্তিকে ফটোভোলটাইক প্রভাবের মাধ্যমে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।
- এই কোষগুলি সৌর প্যানেলের বিল্ডিং ব্লক।
- PV কোষ DC voltage উৎপন্ন করে। একাধিক কোষ একটি সৌর প্যানেল বা মডিউল গঠন করতে সংযুক্ত করা হয়।
- এই প্যানেলগুলি উচ্চ শক্তি আউটপুট উত্পাদন করতে সক্ষম। 
- একটি সৌর অ্যারে তৈরি করতে প্যানেলগুলি সংযুক্ত করা যেতে পারে।
২৫৬.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে? 
  1. লোহা
  2. প্লাস্টিক
  3. সিলিকন
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৫৭.
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে নিম্ন কম্পাঙ্ক (২ - ৫ MHz) কোন অঙ্গের জন্য উপযোগী?
  1. থাইরয়েড গ্রন্থি
  2. ত্বক ও চোখ
  3. লিভার ও কিডনি
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) লিভার ও কিডনি
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে (২-৫ MHz) কম্পাঙ্ক (Frequency) সাধারণত শরীরের গভীর স্তরের বা ভেতরের অঙ্গগুলো দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মূল কারণ হলো নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ টিস্যুর অনেক গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এই কম্পাঙ্ক প্রধানত নিচের অঙ্গগুলোর পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়:
১. পেটের ভেতরের অঙ্গ (Abdominal Organs): যকৃৎ (Liver), পিত্তথলি (Gallbladder), অগ্ন্যাশয় (Pancreas), কিডনি (Kidney) এবং প্লীহা (Spleen)।

২. প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ (Obstetrics and Gynecology): গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের পরীক্ষার জন্য।

৩. গভীর রক্তনালী: শরীরের গভীরে অবস্থিত বড় রক্তনালীগুলোর প্রবাহ পর্যবেক্ষণে।

সহজ কথা: অঙ্গ যত গভীরে হবে, কম্পাঙ্ক তত কম (যেমন ২-৫ MHz) প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, শরীরের উপরিভাগের অঙ্গ (যেমন- থাইরয়েড বা স্তন) পরীক্ষার জন্য উচ্চ কম্পাঙ্ক (৭-১৫ MHz) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

২৫৮.
প্রমাণ দ্রবণ কোনটি?
  1. 1.0M Na2CO3
  2. 1.0g H2SO4
  3. 1.0mL H2SO4
  4. 1.0 mol H2SO4
ব্যাখ্যা
প্রমাণ দ্রবণ: 
- কোনো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের নমুনা দিয়ে তৈরি করা দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে জানা থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ নমুনা দ্রবের প্রমাণ দ্রবণ বলে। 
যেমন- 1M Na2CO3 দ্রবণ, 0.5M Na2CO3 দ্রবণ, 0.1M Na2CO3 দ্রবণ হলো প্রত্যেকেই এক একটি প্রমাণ দ্রবণ। 
কারণ, Na2CO3 প্রথমত প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ এবং দ্বিতীয়ত প্রতিটি প্রস্তুত করা দ্রবণের বেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ Na2CO3 রাসায়নিক নিক্তিতে সঠিকভাবে ওজন করে দ্রবণটি তৈরি করা হয়। 

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যেসব কঠিন রাসায়নিক পদার্থকে (১) বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়; (২) এরা বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প বা O2 সহ বিক্রিয়া করে না; (৩) এদের ওজন নেয়ার সময় রাসায়নিক নিক্তিকে ক্ষয় করে না এবং (৪) এদের দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, এদেরকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ক্ষার, 
(২) কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড (H2C2O4.2H2O), 
(৩) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) জারক পদার্থ, 
(৪) কেলাসিত সোডিয়াম ইথেন ডাইওয়েট বা অক্সালেট (Na2C2O4.2H2O) বিজারক পদার্থ ইত্যাদি হলো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ। 

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের যেমন বিশুদ্ধতা, বাতাসে অপরিবর্তিত থাকা, রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় না করা অথবা ঘনমাত্রার পরিবর্তন না ঘটা ইত্যাদির মধ্যে কোনো একটির অভাব ঘটলে, এদেরকে সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) NaOH ক্ষার, 
(২) HCl এসিড, 
(৩) H2SO4 এসিড, 
(৪) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) জারক পদার্থ, 
(৫) সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3.5H2O) বিজারক ইত্যাদি। 
- এ সব সেকেন্ডারি পদার্থের মোলার দ্রবণ বা ডেসিমোলার (0.1M) দ্রবণ প্রমাণ দ্রবণ হয় না। 
- সেকেন্ডারি পদার্থের দ্রবণকে অপর পদার্থের প্রমাণ দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে এর সঠিক মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। 
- এরূপ সেকেন্ডারি পদার্থের যেমন KMnO4 এর 0.1M দ্রবণ তৈরি করে জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২৫৯.
Which is the symbol for Carbonic acid?
  1. H3C2O4
  2. H2CO3
  3. CH3-COOH
  4. C6H8O7
  5. H3PO4
ব্যাখ্যা
এসিডের নাম ও সংকেত:
• ফসফরিক এসিড - H3PO4
• ফরমিক এসিড - H-COOH
• অ্যাসিটিক এসিড - CH3-COOH
• কার্বনিক এসিড - H2CO3
• সাইট্রিক এসিড - C6H8O7
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড - HCI
• নাইট্রিক এসিড - HNO3
• সালফিউরিক এসিড - H2SO4

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
তরল সাবান তৈরি করতে সাধারণত কোন যৌগ বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. NaOH
  2. NH3
  3. HCI
  4. KOH
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- সাবান সাধারণত শক্ত এবং কোমল এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
- শক্ত সাবান তৈরিতে কষ্টিক সোডা (NaOH)।
- কোমল সাবান তৈরিতে কস্টিক পটাসের (KOH) ব্যবহার হয়ে থাকে।
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও,
- সাবানকে শক্ত ও ভারী করার জন্য সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ব্যবহার করা হয়।
- তবে, এটা পরিমাণমত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬১.
কোনটি অপরিবাহী পদার্থ?
  1. ক) লোহা
  2. খ) তামা
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) সিলিকন
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৬২.
100 W এর একটি বাতি জ্বালালে প্রতি সেকেন্ডে কত ওয়াট শক্তি ব্যয় হয়?
  1. ক) 1W
  2. খ) 100W
  3. গ) 100/60 W
  4. ঘ) 100/3600 W
ব্যাখ্যা
যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে আমরা বলি 1ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
আমরা যদি 100 W এর একটা বাতি জ্বালাই তার অর্থ এই বাড়িতে প্রতি সেকেন্ডে 100W শক্তি ব্যয় হচ্ছে।

যখন আমরা খবরের কাগজ পড়ি, দেশে 1000 MW নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হবে তার অর্থ সেই নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে প্রতি সেকেন্ডে 1000 x 10J বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হবে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৬৩.
শক্তিশালী চুম্বক তৈরীর জন্য কোন ধরনের চৌম্বক পদার্থ প্রয়োজন?
  1. ক) ফেরো-চৌম্বক পদার্থ
  2. খ) প্যারা-চৌম্বক পদার্থ
  3. গ) ডায়া-চৌম্বক পদার্থ
  4. ঘ) যে কোনো চৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরনের চৌম্বক পদার্থঃ
- প্যারা-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা - চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে।
যেমন - অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, পন্টিনিয়াম, টিন ইত্যাদি।
- ডায়া-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।
- ফেরো-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২৬৪.
নিচের কোন মৌলটির ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি? 
  1. Be
  2. Ca
  3. Ra
  4. Mg
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- 
- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল। এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৫.
যখন দুটি পদার্থকে ঘর্ষণ করা হয়, তখন চার্জ (আধান) সৃষ্টির প্রধান কারণ কী? 
  1. নতুন ইলেকট্রন তৈরি হয়
  2. নিউট্রন চার্জ উৎপন্ন করে
  3. প্রোটন এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে চলে যায়
  4. এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
আধান বা চার্জের উৎপত্তি: 
- পদার্থ কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, যার নাম পরমাণু। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সমন্বয়ে পরমাণু গঠিত। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যা প্রোটন ও নিউট্রনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- ইলেকট্রন এই নিউক্লিয়াসের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে। 
- প্রোটন ধনাত্মক (+) আধানযুক্ত, ইলেকট্রন ঋণাত্মক (-) আধানযুক্ত এবং নিউট্রন হলো আধান নিরপেক্ষ কণা। 
- প্রোটনের ধনাত্মক চার্জের পরিমাণ ইলেক্ট্রনের ঋণাত্মক চার্জের সমান ও বিপরীতধর্মী। 

- কিন্তু পরমাণু নিজে আধান নিরপেক্ষ, পরমাণু ধনাত্মক বা ঋণাত্মক কোনোটাই নয়। 
- পরমাণুতে কোনো মোট চার্জ থাকে না, কারণ একটি পরমাণুতে যে কয়টি প্রোটন থাকে, সেই কয়টিই ইলেকট্রন থাকে। যার ফলে পরমাণু চার্জ বা আধান নিরপেক্ষ হয়। 
- কিন্তু যখনই দুটো পদার্থকে ঘর্ষণ করা হয়, তখন একটি পদার্থের ইলেকট্রন অন্য একটি পদার্থে স্থানান্তরিত হয় ফলে একটি পদার্থে ইলেকট্রনের আধিক্য দেখা দিতে পারে। 
- ঘর্ষণের ফলে নতুন কোনো আধানের সৃষ্টি হয় না বরং পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান ইলেকট্রনে অবস্থিত আধান ইলেকট্রনের সাথে এক পদার্থ থেকে অন্য পদার্থে স্থানান্তরিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৬৬.
শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার/সেকেন্ড হলে, প্রতিফলনের ন্যূনতম কোন দূরত্বে প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?
  1. ক) ৩৩ মিটার
  2. খ) ১৭.৬ মিটার
  3. গ) ১৫.৬ মিটার
  4. ঘ) ১৬.৫ মিটার
ব্যাখ্যা
আমরা যখন কোন শব্দ শুনি তার অনুভূতি মস্তিষ্কে ০.১ সেকেন্ড সময় পর্যন্ত থেকে যায়। তাই দুটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে ০.১ সেকেন্ডের একটি ব্যবধান থাকা দরকার।
শব্দের বেগ ৩৩০ m/s হলে ০.১ সেকেন্ডের ব্যবধান তৈরি করতে শব্দকে কমপক্ষে ৩৩ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। তাই উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব এর অর্ধেক (১৬.৫ মিটার) হলে, শব্দটি গিয়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড সময় লাগবে এবং আমরা প্রতিধ্বনি শুনতে পাব।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৭.
"চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে" এটি নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. নিউটনের চতুর্থ সূত্র
ব্যাখ্যা
১. নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
• উদাহরণ:
- চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

২. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

৩. নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।
• উদাহরণ:
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৮.
বর্ণান্ধ লোকেরা কোন কোন রং বুঝতে পারে না?
  1. লাল ও সবুজ
  2. লাল ও নীল
  3. লাল, নীল ও সবুজ
  4. সবুজ ও নীল
ব্যাখ্যা
বর্ণান্ধতা: 
- কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা হলো নির্দিষ্ট রং চেনার অক্ষমতা। 
- বর্ণান্ধতা হলো চোখের দৃষ্টিশক্তির এমন একটি অবস্থা, যখন আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক আলোয় বিশেষ কিছু রঙের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পান না। 
- সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষদের এই রোগ বেশি হয়। প্রতি ১০ জন পুরুষের ১ জনের এই সমস্যা দেখা যায়। 
- কালার ব্লাইন্ডের অন্য একটি নাম ‘কালার ভিশন ডিফিসিয়েন্সি’। 
- মানুষের চোখের ভেতরে রেটিনা নামে একটি পাতলা স্তর রয়েছে, যেটি দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ বা ফটোরিসেপ্টর বহন করে। 
- এগুলো হলো রড কোষ ও কোন কোষ। 
- কোন কোষ আমাদের বিভিন্ন রং চেনাতে সাহায্য করে এবং এই কোষের মাধ্যমেই আমরা বিভিন্ন রঙের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি। 
- অন্যদিকে রড কোষ আমাদের আলো শনাক্ত করতে এবং আলোর ধরন বুঝতে সাহায্য করে, কিন্তু রং চেনানোর ব্যাপারে এই কোষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। 
- বর্ণান্ধ হওয়ার ব্যাপারটি তাই কোন কোষের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 
- আমাদের চোখে তিন ধরনের কোন কোষ রয়েছে। 
- এগুলো তিনটি মৌলিক রং শনাক্ত করতে পারে- লাল, সবুজ ও নীল। 
- চোখের রেটিনায় কোনোভাবে যদি এই তিন ধরনের কোন কোষের যেকোনো একটির ঘাটতি দেখা যায়, তাহলে বর্ণান্ধতা তৈরি হয়। 
- সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়, যখন কোনো ব্যক্তির চোখের রেটিনায় এই তিন ধরনের কোন কোষই অনুপস্থিত থাকে। 
- ওই ব্যক্তি এ ধরনের সমস্যার কারণে সব রংই ধূসর বা সাদা-কালো দেখেন। 
- এমনকি নিজের রক্তও তিনি সাদা-কালো দেখেন। 
- কালার ব্লাইন্ড তিন ধরনের হতে পারে। 
যেমন লাল-সবুজ, নীল-হলুদ ও কমপ্লিট কালার। 

কারণ: 
- বর্ণান্ধ হওয়ার পেছনে জেনেটিক ও বংশগত উভয় কারণই রয়েছে। 
- এছাড়া আরও কিছু কারণ আছে যেমন- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, গুরুতর আঘাত, চোখে ছানি পড়া। 
- পারকিনসন রোগ, শরীরে ভিটামিন-এ–এর ঘাটতি হলেও বর্ণান্ধতা দেখা দিতে পারে। 
- অনেক সময় স্রেফ বার্ধক্যজনিত কারণেও বর্ণান্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

প্রতিকার: 
- বর্ণান্ধতার কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা নেই। 
- তবে বিশেষ কিছু চশমা (যেমন এনক্রোমা গ্লাস) ও মোবাইলভিত্তিক অ্যাপের সাহায্যে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (৩০ জানুয়ারি, ২০২৩)।
২৬৯.
বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য প্রেরণ করা হয়- 
  1. তড়িৎ প্রবাহের মাধ্যমে
  2. শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে
  3. আলোক সংকেতের মাধ্যমে
  4. চৌম্বক তরঙ্গের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপটিক্যাল ফাইবারে তথ্য প্রেরণ করা হয় আলোক সংকেতের মাধ্যমে। অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি এক ধরণের পাতলা তন্তু, যার মধ্য দিয়ে তথ্য পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) প্রক্রিয়ায় আলোর গতিতে যাতায়াত করে। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭০.
পিঁপড়ার কামড়ে জ্বালাপোড়া করে কোন রাসায়নিক পদার্থের কারণে?
  1. ফরমিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. জিংক সালফাইড
ব্যাখ্যা
• ফরমিক এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়া হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়।
- এসব জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, যা নিষ্ক্রিয় করতে জিংক কার্বোনেট, বেকিং সোডা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে,
- আপেল, টমেটোতে ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়।
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড পাওয়া যায়।
- সাপের বিষে জিংক সালফাইড  পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২৭১.
কোন অ্যালকোহল খাবার বা পানীয়ে ব্যবহারযোগ্য?
  1. প্রোপানল
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. মিথানল
  4. ইথানল
ব্যাখ্যা

• খাবার বা পানীয়ে ব্যবহারযোগ্য অ্যালকোহল হলো ইথানল (ঘ)। ইথানল সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে মানবদেহের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এটি বিভিন্ন খাদ্য, পানীয় ও ওষুধে ব্যবহৃত হয়। মদ্যপ পানীয়, ভিনেগার প্রস্তুতকরণ এবং ফুড ফ্লেভার এক্সট্রাকশনে ইথানল ব্যবহারের প্রচলন আছে। অন্যদিকে প্রোপানল, মিথানল ও মেথিলেটেড স্পিরিট মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত। বিশেষ করে মিথানল অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলেও অন্ধত্ব বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মেথিলেটেড স্পিরিটে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো থাকে, তাই তা খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।

• অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন: 
মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭২.
নিচের কোন বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) সেতার
  2. খ) গীটার
  3. গ) একতারা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
স্থির তরঙ্গ
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। 
- এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। 
- প্রথমোক্ত বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং শেষোক্ত বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৩.
'মিথাইল অরেঞ্জ' নির্দেশক ক্ষারকে কোন রং প্রদর্শন করে?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) কমলা
  4. ঘ) হলুদ
ব্যাখ্যা
- মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক হলো-

• লিটমাস কাগজ - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।
• মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল, এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।
•  ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

সুত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই
২৭৪.
অর্ধপরিবাহীর উদাহরণ কোনটি? 
  1. লোহা 
  2. জার্মেনিয়াম 
  3. তামা
  4. প্লাস্টিক 
ব্যাখ্যা

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৫.
তেল বা চর্বিকে NaOH বা KOH দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে কী উৎপন্ন হয়?
  1. এসিড
  2. লবণ
  3. সাবান
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা

• তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH)–এর জলীয় দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis / Saponification) করলে সাবান উৎপন্ন হয়।

• সাবান (Soap):
- সাবান একটি বহুল ব্যবহৃত পরিষ্কারক পদার্থ, যা দেহ ও কাপড়–চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- আধুনিক জীবনে সাবানের পাশাপাশি ডিটারজেন্ট, ইমালশন, পলিশ ইত্যাদিও পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 
• রাসায়নিক গঠন:
- সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
 
• কাঁচামাল:
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো তেল বা চর্বি।
 
• সাবান তৈরির প্রক্রিয়া:
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) অথবা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH)–এর জলীয় দ্রবণের সাথে আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis) করলে—
- সোডিয়াম সাবান অথবা
- পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
 
• উপজাত পদার্থ:
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন (Glycerin) পাওয়া যায়।

উৎস: রসায়ন, নবম–দশম শ্রেণি।

২৭৬.
বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে কত বার দিক পরিবর্তন করে?
  1. আশি
  2. সত্তর
  3. পঞ্চাশ
  4. ষাট
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ এবং 
(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ। 

(ক) অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

(খ) পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৭৭.
পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে বস্তুর ওজন- 
  1. স্থির থাকে
  2. বাড়ে
  3. কমে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৭৮.
কোন ধাতুর Ductility সর্বোচ্চ?
  1. কাচা লোহা
  2. তামা
  3. জিঙ্ক
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
• Ductility বা নমনীয়তা:
- Ductility বা নমনীয়তা (নমনশীলতা) হলো একটি পদার্থের সেই বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে সেটিকে সহজেই তার (wire) আকারে টানা যায়, ভেঙে না গিয়ে।
- সোনার (Gold - Au) Ductility সর্বোচ্চ।

• কারণ:
- এটি অত্যন্ত নমনীয় এবং প্রসারণযোগ্য ধাতু।
- মাত্র ১ গ্রাম সোনা দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার (২০০০ মিটার) লম্বা তার তৈরি করা যায়!
- সোনা সহজে না ভাঙে, না ফাটে, বরং খুব পাতলা ও লম্বা আকৃতিতে টানা যায়।
- এটি অন্যান্য ধাতুর তুলনায় বেশি নমনীয়, তাই গয়না, বৈদ্যুতিক তার ও ন্যানো টেকনোলজিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৭৯.
সরু তারের ব্যাস নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. স্লাইড ক্যালিপার্স 
  2. তুলা যন্ত্র
  3. স্ক্রু গজ 
  4. মিটার স্কেল 
ব্যাখ্যা

স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- স্ক্রু যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮০.
চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম কী? 
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম সালফেট
  3. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক নাম - Fe2O3.nH2O. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮১.
ডায়োডের কোন অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বলা হয়?
  1. গেট 
  2. সোর্স 
  3. ক্যাথোড
  4. অ্যানোড 
ব্যাখ্যা

- ডায়োডের অ্যানোড অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বা ধনাত্মক টার্মিনাল বলা হয়। ডায়োডের কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, যখন অ্যানোডকে ব্যাটারির পজিটিভ (+) প্রান্তের সাথে এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ (-) প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন ডায়োডটি 'ফরোয়ার্ড বায়াস' অবস্থায় থাকে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয়। 

ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮২.
সাধারণত হাইড্রোজেন বলতে হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপকে বোঝায়?
  1. প্রোটিয়াম
  2. ডিউটেরিয়াম
  3. ট্রিটিয়াম
  4. হাইড্রোজেন-৪
ব্যাখ্যা
• সাধারণত হাইড্রোজেন বলতে হাইড্রোজেনের প্রথম আইসোটোপ প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 

• হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে।
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়।

• সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই (1H) বোঝায়। 


তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৮৩.
মিথেনের দহন কোন ধরনের পরিবর্তন? 
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন উভয়ই 
  4. জৈব পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন। 
১। ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
যেমন- 
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

২। রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়।
যেমন- 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানির (H2O) সৃষ্টি হয়, এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৪.
তড়িৎ প্রবাহের একক কোনটি?
  1. ক্যান্ডেলা
  2. কুলম্ব
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. ভোল্ট
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

অন্যদিকে, 
- আলোক তীব্রতার একক ক্যান্ডেলা। । 
- রোধেের একক ওহম।
- আধানের একক কুলম্ব।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮৫.
ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সাধারণত কত?
  1. 2-10 Hz
  2. 2-10 kHz
  3. 2-10 MHz
  4. 2-10 GHz
ব্যাখ্যা

- ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গ বা আল্ট্রাসাউন্ডের কম্পাঙ্ক সাধারণত 2 থেকে 10 মেগাহার্টজ (MHz) এর মধ্যে থাকে। 

ইকোকার্ডিওগ্রাফি: 

- ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের সাহায্যে হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়। 
- শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিণ্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে 2-10 MHz কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- টিস্যুর মধ্যে শব্দ তরঙ্গ সাধারণত 1540 ms-1 এবং রক্তের মধ্যে 1570 ms-1 বেগে সঞ্চালিত হয়। 
- আপতিত শব্দ তরঙ্গ হৃৎযন্ত্রের টিস্যুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃৎযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত হতে থাকে। 
- যত বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, প্রতিফলিত বিম্বের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা তত বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৬.
সুনামি কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) চীনা
  2. খ) উত্তর কোরিয়ান
  3. গ) জাপানি
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা

Tsunami একটি জাপানি শব্দ। সু অর্থ বন্দর এবং নামি অর্থ ঢেউ। সুতরাং সুনামি অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্মরণকালের ভয়ঙ্কর সুনামি ঘটেছিলো।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২৮৭.
যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে কোনটি?
  1. বৈদ্যুতিক মোটর
  2. জেনারেটর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
কয়েকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র এবং কাজের ধরণ:

• বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• ডায়নামো বা জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• লাউড স্পিকার তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
• এমিটার - বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ করে।
• ভোল্টমিটার- বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
• ট্রান্সফরমার - একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সির কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পদার্থবিজ্ঞান বই।
২৮৮.
কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত রশ্মি নিচের কোনটি? 
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার: 
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ। 
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়। 
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?
  1. হীরক
  2. ইস্পাত
  3. টাইটেনিয়াম
  4. প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা
• কার্বন:
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক।
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়।
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস  তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯০.
অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় কোনটিতে?
  1. ক) মোটরে
  2. খ) জেনারেটরে
  3. গ) ট্রান্সফর্মারে
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায় । 

কৃত্রিম চুম্বক:
কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক, 
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক। 

অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯১.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল কত?
  1. ২ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ৫ সেকেন্ড
  4. ১০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

সরল দোলক:
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।

সরল দোলন গতি:
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে।

সেকেন্ড দোলক:
- যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে

কার্যকরী দৈর্ঘ্য:
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

২৯২.
নিচের কোনটি সুপরিবাহী?
  1. ক) সিলিকন
  2. খ) অ্যালুমিনিয়াম
  3. গ) জার্মেনিয়াম
  4. ঘ) গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে। 
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
- যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহী বলে। 
- যেমন- কাঁচ, কাঠ, রাবার, পাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ।
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- যেমন: জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম  ইত্যাদি  অর্ধপরিবাহী পদার্থ।

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
রোধ পরিমাপের একক কোনটি?
  1. কুলম্ব (C)
  2. অ্যাম্পিয়ার (A)
  3. ওহম (Ω)
  4. ভোল্ট (V)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- গ) ওহম (Ω)

• রোধ:
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ (ইলেকট্রন প্রবাহ) বাধাগ্রস্ত হয় বা বিঘ্নিত হয়, তাকে রোধ (Resistance) বলে।
- এটি পরিবাহীর এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা বিদ্যুৎ চলাচলের বিরোধিতা করে।
- পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদ, উপাদান এবং তাপমাত্রার ওপর রোধ নির্ভর করে।
- এই রোধ বা Resistance-এর একক হচ্ছে ওহম (Ohm)।
- এটাকে গ্রিক অক্ষর Ω (ওমেগা) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- কোনো বস্তুর দুই প্রান্তে 1 V বিভব পার্থক্য প্রযুক্ত হলে যদি দেখা যায় 1 A বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে সেই বস্তুর রোধ 1 Ω।
- বৈদ্যুতিক রোধ (Resistance) পরিমাপের প্রধান যন্ত্রের নাম ওহমমিটার (Ohmmeter)।

অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আধান বা চার্জের একক হলো কুলম্ব (C)।
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট (V)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৯৪.
স্ফিগ্‌মোম্যানোমিটার কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে
  2. খ) মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণয়ে
  3. গ) মোটর গাড়ির গতি নির্ণয়ে
  4. ঘ) সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপে
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র হলো - স্ফিগমোম্যানোমিটার;
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার;
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র ওডোমিটার;
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।

সূত্র: ব্রিটানিকা
২৯৫.
জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র আবিষ্কার করেন? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. ব্যারোমিটার
  4. স্পেকট্রোমিটার
ব্যাখ্যা
জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৬.
কোনো ধাতুর উপর জিংক বা দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে বলে- 
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. ভলকানাইজিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. টিনপ্লেটিং
ব্যাখ্যা

• গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংক বা দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়।

• ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৯৭.
কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে?
  1. ক) এডামেন্টিয়াম
  2. খ) মার্কারি
  3. গ) ড্রাই হিলিয়াম
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
পারদ(Mercury) একমাত্র মৌলিক ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় (Room temperature) তরল থাকে।
পানি একটি তরল পদার্থ যা দুটি অধাতুর (অক্সিজেন এবং হাইড্রোজন) সমন্বয়ে তৈরি।
কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে উচ্চচাপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে রাখা হলে তা তরল অবস্থায় থাকে৷
হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস৷
উৎসঃ ব্রিটানিকা এবং বিভিন্ন শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই৷
২৯৮.
Among the following, which substance is not radioactive?
  1. Na
  2. Rn
  3. Ra
  4. Th
  5. U
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 

- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। 
- এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

অন্যদিকে, 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয় - সোডিয়াম (Na)। 
- সোডিয়াম হলো একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Na এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১১। 
- এটি পর্যায় সারণীর তৃতীয় পর্যায়ে এবং প্রথম শ্রেণীতে অবস্থিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৯.
যে তিনটি মুখ্য বর্ণের সমন্বয়ে অন্যান্য বর্ণ সৃষ্টি করা যায় সেগুলো হলো-
  1. লাল, হলুদ, নীল
  2. লাল, কমলা, বেগুনী
  3. হলুদ, সবুজ, নীল
  4. লাল, নীল, সবুজ
ব্যাখ্যা
- কেবল তিনটি রঙের মাধ্যমেই সাদাসহ যেকোনো রঙের সৃষ্টি সম্ভব। 
- এই তিনটি রঙকে বলা হয় মৌলিক রং (Primary color)। 
যেমন- লাল, সবুজ আর নীল। 
যেমন: লাল ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে হলুদ রং সৃষ্টি হয়। 
- রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ যথা- লাল, সবুজ এবং আসমানী বা নীল রং ব্যবহার করে সকল ধরনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। 
- রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ প্রদর্শনের জন্য তিন ধরনের ইলেকট্রন গান থাকে। 
- রঙ তিনটি হলো- লাল, নীল ও সবুজ। 

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।
৩০০.
নীচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
• কার্বন মনোক্সাইড:
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে।
- কার্বন মনোক্সাইড ইংরেজিতে Carbon Monoxide (রাসায়নিক সংকেত: CO) হল একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম।
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত।

• কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
- দুর্বলতা,
- বমি বমি ভাব,
- মাথা ঘোরানো,
- ক্লান্তি,
- ক্ষুধা,
- মাথা ব্যাথা,
- অজ্ঞান হওয়া,
- খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website.