বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২২ / ৬৪ · ২,১০১২,২০০ / ৬,৪০৯

২,১০১.
নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা নয়? 
  1. কাঁদাপাথর
  2. বেলেপাথর
  3. চুনাপাথর
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

• ভুত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার।
- যথাঃ আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।

• পাললিক শিলাঃ
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।

• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

• অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা: 
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী। 

২,১০২.
পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৫০ নিউটন হলে চাঁদে তার মান কেমন হবে?
  1. হ্রাস পাবে
  2. বৃদ্ধি পাবে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. শূন্য হবে
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৫০ নিউটন হলে চাঁদে তার মান হবে ১/৬ অংশ অর্থাৎ হ্রাস পাবে। 

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলে প্রভাব মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়তে থাকা বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

• একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- g - মান নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
- ব্যাসার্ধ বেশি হলে g এর মান কম হয় এবং ব্যাসার্ধ কম হলে g এর মান বেশি হয়।
- বিষুব রেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায় ব্যাসার্ধ R-এর মান ততই কমতে থাকে এবং মেরু বিন্দুতে সর্ব নিম্ন হয়।
- বিষুব অক্ষরে g এর মান কম কারণ সেখানে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি। বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় 9.78 ms-2.
- অপরদিকে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারণে g এর মান সেখানে বেশি হয় যা সর্বাধিক। মেরু এলাকায় g-এর মান প্রায় 9.83 ms-2.

• ওজন:
- কোনো বস্তুর ওজন বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম হলে বস্তুর ওজন কম হবে এবং ত্বরণের মান বেশি হলে ওজনও বেশি হবে।
- চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের ১/৬ অংশ।
- অর্থাৎ পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন যত হবে চাঁদে তার ১/৬ অংশ হবে অর্থাৎ ওজন হ্রাস পাবে।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ব্রিটানিকা।
২,১০৩.
মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনীতে উপাদান থাকে -
  1. প্রায় ১০ টি
  2. প্রায় ১০০ টি
  3. প্রায় ১০০০ টি
  4. প্রায় ১০০০০ টি
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি (Integrated Circuits or IC): 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়। 
- এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট (microelecrtonic circuit) বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 

- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। 
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits)
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits)
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits)
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০টির অধিক উপাদান থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০৪.
বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে কোনটি? 
  1. স্পিকার
  2. মোটর
  3. ব্যাটারি
  4. জেনারেটর
ব্যাখ্যা
স্পিকার: 
-  স্পিকার মাইক্রোফোনের ঠিক বিপরীত কাজটি করে অর্থাৎ বিদ্যুৎ শক্তিটিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোনের ডায়াফ্রামের বদলে স্পিকারে চলকুন্ডলী বা Coil টি কাগজ বা হালকা ধাতুর তৈরি একটি কোন (Cone) বা শঙ্কুর সাথে লাগানো থাকে। 
- যখন শব্দ থেকে তৈরি বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফায়ার দিয়ে বিবর্ধিত করে স্পিকারে পাঠানো হয় তখন কাগজ বা হালকা ধাতুর তৈরি শঙ্কু বা কোনটি সামনে-পেছনে কম্পিত হয়ে যথাযথ শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১০৫.
ফরমালিন হলো ফরমালডিহাইডের-
  1. ক) ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. খ) ৩০% জলীয় দ্রবণ
  3. গ) ২০% জলীয় দ্রবণ
  4. ঘ) ১০% জলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা
• ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- ফরমালিনে ৪০ ভাগ মিথান্যাল ও ৬০ ভাগ পানি থাকে। 
- ফরমালিন মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,১০৬.
কোনটি অ্যান্টিবায়োটিক?
  1. ইথিলিন
  2. পেনিসিলিন
  3. ইনসুলিন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন-MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০৭.
তরঙ্গ বেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মধ্যে সম্পর্ক কোনটি? 
  1. v = 1/f
  2. v = fλ
  3. v = f/t
  4. v = t/f
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ । 
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল। 
- পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ । 
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T
- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে। 
অতএব এক্ষত্রে তরঙ্গের বেগ, v = λ/T 
বা, v = (1/T) × λ 
v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০৮.
চুন বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. ক্যালসিয়াম সালফেট
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম অক্সাইড হলো চুন।
- স্ল্যাক লাইম বা চুনের পানি হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড। 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট হলো চক পাউডার।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
২,১০৯.
ঘড়ির কাঁটার গতি কি ধরনের গতি?
  1. রৈখিক গতি
  2. পর্যায়বৃত্ত গতি
  3. স্পন্দন গতি
  4. উপবৃত্তাকার গতি
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো গতিশীল বস্তু যদি একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
- ঘড়ির কাঁটার গতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেকেন্ডের কাটাটি প্রতি এক মিনিটে একবার এর কেন্দ্র বিন্দুর চারদিকে ঘুরে আসে। 
- ঘড়ির কাঁটাটি বারবার একটি পথে ঘুরছে অর্থাৎ এর গতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ধরনের গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি।  
- বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারপাক দৌড়ের একজন প্রতিযোগী একই দিক থেকে চারবার অতিক্রম করে যা একটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি, পাকদৌড়ের গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,১১০.
কোনো কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. বাষ্পীভবন
  2. গলন
  3. ঊর্ধ্বপাতন
  4. ব্যাপন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঊর্ধ্বপাতন। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- তাই এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থও বলা হয়। 
- কঠিন অবস্থায় ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থে তাপ প্রয়োগ করতে থাকলে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ সহজেই বাষ্পীভূত হয়। 
- আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণের মধ্যে আয়োডিন একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১১.
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে অর্ধপরিবাহীর রোধের কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. রোধ হ্রাস পায়
  2. রোধ বৃদ্ধি পায়
  3. রোধ অপরিবর্তিত থাকে
  4. রোধ অসীম হয়ে যায়
ব্যাখ্যা

- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে অর্ধপরিবাহীর রোধ বা রেজিস্ট্যান্স হ্রাস পায় এবং এর পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা বাড়লে আরও বেশি সংখ্যক ইলেকট্রন শক্তি অর্জন করে এবং যোজ্যতা ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে, যার ফলে চার্জ বাহকের সংখ্যা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সহজ হয়। 

অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor): 
- আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর। 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় এবং অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১২.
শুষ্ক কোষে ছদন নিবারক হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) KMnO4
  2. খ) MnO2
  3. গ) SiO2
  4. ঘ) K2Cr2O7
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell): 
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ। 
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে। 

গঠন: 
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। 
- চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়। 
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে। 
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে। 
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে। 
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়। 
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। 
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে। 
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে। 
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
২,১১৩.
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি ও হিটারে কোন ধাতুর তার ব্যবহার করা হয়? 
  1. স্টেনিয়াম 
  2. নাইক্রোম 
  3. প্লাটিনাম
  4. টাংস্টেন 
ব্যাখ্যা

নাইক্রোম তার: 
- বৈদ্যুতিক হিটার এবং ইস্ত্রিসহ আরো অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রে নাইক্রোমের তার ব্যবহার করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক হিটারের মধ্যে অপরিবাহী পদার্থের একটি গোল চাকতি থাকে। 
- চাকতিতে নাইক্রোম তারের কুণ্ডলী সাজিয়ে রাখা হয়। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তারটি গরম হয় এবং উত্তপ্ত হয়ে তাপ বিকিরণ করে। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির নাইক্রোম তারটি ইস্ত্রির নিচের মসৃণ লৌহ নির্মিত তলটিকে উত্তপ্ত করে। 
- এক্ষেত্রে তাপ উৎপাদন বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। 
- প্রবাহ বেশি হলে ইস্ত্রি বেশি উত্তপ্ত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১১৪.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই?
  1. স্ফটিক
  2. কঠিন 
  3. তরল 
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১১৫.
বায়োগ্যাস প্লান্টের মূল অসুবিধা কী?
  1. এটি দুষণমুক্ত জ্বালানী উৎপাদন করে
  2. উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
  3. পরিবেশ বান্ধব 
  4. রান্নাঘরের ধোঁয়া কমায়
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের একটি অন্যতম বড় অসুবিধা হলো এর নিম্ন উৎপাদন দক্ষতা। বর্তমানে ব্যবহৃত সিস্টেমগুলো খুব একটা আধুনিক নয় এবং অল্প খরচে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর মতো বড় আকারের উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এছাড়া এর উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট আবহাওয়া ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো বা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টসাধ্য। 

বায়োগ্যাস প্লান্ট: 
- বায়োগ্যাসমূলত বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, যাতে মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোজেন, বায়োগ্যাস ইত্যাদি মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। গ্যাস মিশ্রনে উপাদানের সম্ভাব্য শতকরা হার নিম্নরূপ- 

- বায়োগ্যাস প্লান্ট একটি অন্যতম নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন পদ্ধতি। যে সব স্থানে ঘন বসতি এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সে সকল স্থানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করার উপযোগী। জৈব বর্জ, শিল্পবর্জ, পৌর বর্জ্য হতেও এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী। 
- এ ধরনের প্লান্ট ব্যবস্থাপনা একটু অস্বাস্থ্যকর বিধায় আমাদের দেশে এটি এখনও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু উপযুক্ত ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করা গেলে এ ধরণের প্লান্ট খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা পাবে যদিও খুব অল্পসংখক প্লান্ট প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফলতার মুখ দেখেছে। 
- এধরণের প্লান্টে তিন ধরণের সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জালানীগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কম্পোস্ট সার উৎপাদন। 
- বর্তমানে উন্নত দেশেও এ গ্যাসকে বিশুদ্ধ করে সি.এন.জি. হিসাবে গাড়ী ও অন্যান্য ট্রান্সপোর্টে জ্বালানী হিসবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- নিম্নে বায়োগ্যাস প্লান্টের গঠন প্রণালী দেখানো হলো- 

- এধরণের ট্যাংকে একটি গম্বুজের মত পাত্র থাকে যার নিচের অংশকে ডাইজেষ্টার বলে এবং উপরের অংশকে বলে গ্যাস স্টোরেজ। মিশ্রণ ট্যাংকে গোবর বা গোবাদির মলমূত্র এমনকি মানুষের মলমূত্র পানির সাথে ভালভাবে মিশ্রিত করে ইনলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে ডাইজেষ্টারে পাঠানো হয় যেখানে জীবাণুর মাধ্যমে বিক্রিয়ার দ্বারা মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস উৎপন্ন হয়ে গম্বুজ আকৃতির গ্যাস স্টোরেজ অংশে জমা হয়। এর উপরের অংশে একটি নল যুক্ত থাকে যার মাধ্যমে গ্যাস বিভিন্ন যন্ত্রে পাঠানো হয়। এই নলে গ্যাস প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি ভাল্ব লাগানো থাকে। গোবর বা মলমূত্রের মিশ্রন আউটলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে বের হয়ে আসে যা পরবর্তিতে কম্পোস্ট সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

বায়ো গ্যাসপ্লান্টের সুবিধা-অসুবিধা: 
সুবিধা: 
১) এটি দুষনমুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানী সরবরাহ করে। 
২) এটি জ্বালানী কাঠ সংগ্রহের কষ্ট হতে মুক্তি দেয়। 
৩) রান্না ঘরের ধুয়া ও ময়লা হতে মুক্তি দেয়। 
৪) এটি থেকে বাইপ্রডাক্ট হিসাবে জৈব সার পাওয়া যায় যা পরিবেশ বান্ধব ও শস্য উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেয়। 
৫) বর্জ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার মাধ্যমে পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখে। 
৬) বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায় যাতে দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটায়। 
৭) যে কোন পচনশীল বস্তু এতে ফিড হিসাবে ব্যবহার করা যায় ফলে পরিবেশে দূর্গন্ধ ছড়ায় না। 

অসুবিধা: 
১) পদ্ধতিগতভাবে এটি অস্বাস্থ্যকর। 
২) উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর। 
৩) এটির মিশ্রণে কিছু ক্ষয়কর উপাদান থাকে যা ব্যবহার্য ধাতব যন্ত্রে ক্ষতি করে। 
৪) এটি সব জায়গায় স্থাপন করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১৬.
কুরি তাপমাত্রা বলতে কী বুঝায়?
  1. যে তাপমাত্রায় কোন বস্তু তার চৌম্বকত্ব হারায়
  2. যে তাপমাত্রায় কোন বস্তু তার ভৌত গঠন পরিবর্তন করে
  3. যে তাপমাত্রায় কোন বস্তু তার রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৭.
উৎস ও শ্রোতার মধ্যবর্তী দূরত্ব যতো বাড়বে শব্দের তীব্রতা ততো কীরূপ হবে?
  1. বাড়বে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ। 
- শব্দের তীব্রতা বলতে বুঝি, শব্দ সঞ্চালনের পথে লম্বভাবে অবস্থিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- শব্দের তীব্রতা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে- 
যেমন- 
১। মাধ্যমের ঘনত্ব: 
- যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হবে তার ঘনত্ব বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

২। মাধ্যমের বেগ: 
- মাধ্যমের বেগের দিকে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়। 

৩। উৎসের আকার: 
- উৎসের আকার বড় হলে শব্দ তরঙ্গ বেশি পরিমাণ শক্তি সঞ্চালিত রতে পারে ফলে তীব্রতা বেড়ে যায়। 

৪। উৎসের বিস্তার: 
- শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পনের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- শব্দের তীব্রতা I এবং বিস্তার A হলে, I ∞ A2

৫। উৎস থেকে শ্রোতার দূরত্ব: 
- উৎস ও শ্রোতার মধ্যবর্তী দূরত্ব যতো বাড়বে শব্দের তীব্রতা ততো কমে যাবে কারণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার ফলে শব্দ তরঙ্গের শক্তি কমে যায়। 
- তীব্রতা দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। 
- যদি তীব্রতা I এবং দূরত্ব r হয় তাহলে, I ∞ 1/r2. 

৬। অনুনাদী বস্তুর উপস্থিতি: 
- উৎসের কাছে কোনো অনুনাদী বস্তু থাকলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায়। 
- একটি সুরশলাকাকে বাতাসে স্পন্দিত করলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় টেবিল বা কোনো ফাঁপা কাঠের বাক্সের সাথে লাগিয়ে স্পন্দিত করলে শব্দের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। 
- এক্ষেত্রে বেশি আয়তনের বায়ু কম্পিত হয় বলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,১১৮.
কোন যৌগের ক্ষার হবার শর্ত হলো-
  1. ক) যৌগটিতে হাইড্রক্সাইড যৌগমূলক থাকতে হবে
  2. খ) যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে
  3. গ) পানিতে দ্রবীভূত হবে না
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধাতু বা ধাতুর মত ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সাইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। কোন যৌগের ক্ষার হবার শর্ত হলো- যৌগটিতে হাইড্রক্সাইড যৌগমূলক থাকতে হবে এবং যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে।
উৎসঃ রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১৯.
নিচের কোনটি হাইড্রোকার্বন?
  1. NaHCO3
  2. NaCl
  3. C6H6
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। যেমন: মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C2H12), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার: (i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও (ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন।

 (i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন:
- অ্যালিফেটিক কথাটির অর্থ হলো চর্বিজাত। এই শ্রেণির হাইড্রোকার্বন মূলত প্রাণীর চর্বি থেকে পাওয়া গিয়েছিল। তাই এ ধরনের হাইড্রোকার্বনের নাম অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন দেওয়া হয়েছে। 
- মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C6H12), সাইক্লোবিউটিন হচ্ছে অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ। 

(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন:
- গ্রিক শব্দ অ্যারোমা (Aroma) থেকে অ্যারোমেটিক শব্দটি এসেছে। অ্যারোমেটিক শব্দের অর্থ হলো সুগন্ধযুক্ত। প্রথমে যে অ্যারোমেটিক যৌগগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো ছিল সুগন্ধযুক্ত, তাই এ ধরনের নামকরণ করা হয়েছে।
- বেনজিন (C6H6) বা ন্যাপথলিন (C10H8) হচ্ছে অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ।

- অপরদিকে NaHCO3 এবং NaCl হচ্ছে অজৈব লবণ।

উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।

২,১২০.
অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর আদর্শ মান কত?
  1. ৯.৬ মিটার/সেকেন্ড
  2. ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড
  3. ১০ মিটার/সেকেন্ড
  4. ৮.৯ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মানের উপর নির্ভরশীল।
- অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর আদর্শমান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড২। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সেই স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুবীয় (নিরক্ষীয়) অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে কম তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে বেশি তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,১২১.
কোয়ান্টাম মেকানিক্সে Zero-point energy কী?
  1. বস্তু বা কণার সর্বাধিক শক্তি
  2. কোন কণার ইলেকট্রন হারানো
  3. বস্তু বা কণার সবচেয়ে কম গতিশীল শক্তি
  4. পরমাণুর ভাঙ্গনের সময় উৎপন্ন শক্তি
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম মেকানিক্সে Zero-point energy বলতে বোঝায় বস্তু বা কণার সবচেয়ে কম গতিশীল শক্তি।

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া, দ্য ব্রগলি তরঙ্গ, কম্পটন প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
- ১৯০৫ সালে আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তিত হয়।
- আইনষ্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে ভর ও শক্তির, E = mc2 বিখ্যাত সম্পর্কটি বের করেন।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হলো - কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা। [লিঙ্ক]
২.পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২,১২২.
নিচের কোনটিকে সাবান বললে তা সঠিক হবে?
  1. ক) সোডিয়াম স্টিবোগ্লুকোনেট
  2. খ) পটাশিয়াম সাইট্রেট
  3. গ) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম পামিটেট
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
প্রকৃতপক্ষে সোডিয়াম বা পটাশিয়াম এর স্টিয়ারেট লবণকে সাবান বলা হয়।
সাবানের সংকেত হলো C17H35COONa অথবা C17H35COOK
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,১২৩.
প্রতিটি শেলে সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ণয় করতে কোন সূত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. 2n2
  2. n3
  3. 2n
  4. n2
ব্যাখ্যা

বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (যেখানে n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (1)2 টি = 2 টি, 
• ২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (2)2 টি = 8 টি, 
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (3)2 টি = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (4)2 টি = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২৪.
'চিলি সল্টপিটার' কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. ক্যালসিয়াম 
  2. অ্যালুমিনিয়াম 
  3. সোডিয়াম 
  4. আয়রন 
ব্যাখ্যা
• আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২,১২৫.
ট্রানজিস্টর তৈরিতে কোন প্রকার পদার্থ ব‍্যবহৃত হয়?
  1. প্লাস্টিক (Plastic)
  2. অর্ধ-পরিবাহী (Semiconductor)
  3. পরিবাহী (Conductor)
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর (অর্ধ-পরিবাহী) দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যেটাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফায়ার। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২৬.
এক্রোলিন পরীক্ষা দ্বারা কোনটি শনাক্ত করা হয়?
  1. ইথানল
  2. গ্লিসারিন
  3. গ্লুকোজ
  4. ইথান্যাল
ব্যাখ্যা
গ্লিসারিন: 
- গ্লিসারিন ও ফেনল উভয় যৌগে অ্যালকোহলের মতো -OH মূলক কার্যকরী মূলকরূপে থাকলেও উভয় যৌগের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সাধারণ অ্যালকোহল থেকে ভিন্ন। 
- প্রকৃতিতে প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ সব ফ্যাট বা চর্বি ও তৈল হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ট্রাই গ্লিসারাইড। 
- গ্লিসারিন ছাড়া এ তৈল ও চর্বি গঠন সম্ভব নয়। 
- গ্লিসারিন এর অপর নাম হলো গ্লিসারল বা প্রোপেন-1, 2, 3- ট্রাইঅল, HO-CH2-CH(OH)-CH2-OH. 

গ্লিসারিন প্রস্তুতি (Glycerine Preparation): 
- নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে গ্লিাসারিন উৎপন্ন করা হয়। 
যেমন- 
(১) তৈল বা চর্বির ক্ষারীয় আর্দ্র বিশ্লেষণ: সাবানায়ন প্রক্রিয়া, 
(২) তৈল বা চর্বির অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণ: গ্লিসারিন ও ফ্যাটি এসিড উৎপাদন, 
(৩) প্রোপিন থেকে গ্লিসারিন: আধুনিক সংশ্লেষণ পদ্ধতি। 

অপসারণ বিক্রিয়া: 
- নিরুদক পটাসিয়াম হাইড্রোজেন সালফেট (KHSO4) এর উপস্থিতিতে অথবা উচ্চ তাপমাত্রায় গ্লিসারিনকে উত্তপ্ত করলে গ্লিসারিন অণু থেকে দুই অণু পানি অপসারিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস রোধক ঝাঁঝালো এক্রোলিন উৎপন্ন হয়। 
- এটি গ্লিসারিন শনাক্তকরণের এক্রোলিন টেস্ট। 
- তৈল ও চর্বি আগুনে পড়লে বিষাক্ত এক্রোলিনের ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,১২৭.
পর্যায় সারণির কোন পর্যায়কে অতি দীর্ঘ পর্যায় বলা হয়?
  1. চতুর্থ পর্যায়কে
  2. পঞ্চম পর্যায়কে
  3. দ্বিতীয় পর্যায়কে
  4. সপ্তম পর্যায়কে
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণীতে মোট ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ রয়েছে।

পর্যায় তালিকার 
- ১ম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল, H ও He.
- ২য় পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ৮টি।
- ৩য় পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ৮টি।
- ৪র্থ পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ১৮টি।
- ৫ম পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ১৮টি।
- ৬ষ্ঠ পর্যায়ে মৌলের সংখ্যা ৩২টি।
- ৭ম পর্যায়েও মৌলর সংখ্যা ৩২টি।

ল্যান্থানাম, La(57) সহ পরবর্তী আরো ১৪টি মৌল অর্থাৎ এ ১৫টি মৌলকে ল্যান্থানাইড সিরিজের মৌল বলা হয়।
একইভাবে অ্যাক্টেনিয়াম, Ac(89) সহ পরবর্তি আরো ১৪টি মৌল অর্থাৎ এ ১৫টি মৌলকে অ্যাক্টেনাইড সিরিজের মৌল বলা হয়।

সুতরাং, পর্যায় সারণীর ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায় দুটোই অতি দীর্ঘ পর্যায় বলে বিবেচিত হবে।
২,১২৮.
কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ না অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায় কোনটির সাহায্যে?
  1. ক) গলনাঙ্ক
  2. খ) স্ফুটনাঙ্ক
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।
গলনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - রসায়ন বোর্ড বই।
২,১২৯.
ভারি পানি গঠনে নিচের কোনটি অংশ নেয়?
  1. প্রোটিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. টিট্রিয়াম
  4. ডিউটেরিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
হাইড্রোজেনের তিনটি প্রাকৃতিক আইসোটোপ হলো প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, টিট্রিয়াম। এদের মধ্যে পানি গঠন করে হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম। আর ভারি পানি গঠন করে ডিউটেরিয়াম।
ডিউটেরিয়ামের ভর সংখ্যা ২, প্রোটন সংখ্যা ১ এবং নিউট্রন সংখ্যা ১।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,১৩০.
ব্রহ্মাণ্ডে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা কত হতে পারে?
  1. 0 Kelvin
  2. -273.15 Kelvin
  3. 0°C
  4. -100°C
ব্যাখ্যা
• পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - ২৭৩°C ।
- অর্থাৎ - ২৭৩°C বা ০ কেলভিন তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন তত্ত্বীয়ভাবে শূন্য হয়।
- ব্রহ্মাণ্ডে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ০ কেলভিন।

- আমরা জানি, - ২৭৩°C = ০ কেলভিন।
 - তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রার স্কেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তাকে তাপমাত্রার পরম স্কেল বা কেলভিন স্কেল বলে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩১.
একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন না করে এর উপর প্রযুক্ত টান নয়গুণ করা হলে, তারের কম্পাঙ্কের কত পরিবর্তন হবে?
  1. ৮১ গুণ
  2. ১ গুণ
  3. ৩ গুণ
  4. ৯ গুণ
ব্যাখ্যা
- কম্পমান তারের দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f), টানের(T) বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
- f ∝ √T
- অতএব, টান নয়গুণ করলে কম্পাঙ্ক তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। 

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩২.
বিজারকের ধর্ম -
  1. ক) ইলেকট্রন গ্রহণ
  2. খ) একই সাথে ইলেক্ট্রন গ্রহণ ও বর্জন
  3. গ) ইলেকট্রন বর্জন
  4. ঘ) প্রোটন গ্রহণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na+Cl2=2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na -e→Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)

Cl+e→Cl (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,১৩৩.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. ডায়োড
  2. ক্যাপাসিটর
  3. অ্যামপ্লিফায়ার
  4. রেজিস্টার 
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। - এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামেও পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩৪.
কোন ঘটনা থেকে শব্দ উৎপন্ন হয়?
  1. বস্তুর কম্পন
  2. বস্তুর প্রসারণ
  3. মাধ্যমের সংকোচন
  4. মাধ্যমের প্রসারণ
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে।
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে কানে প্রবেশ করে।
- কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
যেমন- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৫.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ-
  1. ৮০ - ৮৫%
  2. ৮৫ - ৯০ %
  3. ৯০ - ৯২ %
  4. ৯৫ - ৯৯%
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas):
- সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের বিভিন্ন উপাদানের অনুপাত তার প্রাকৃতিক উৎসের ভিত্তিতে ভিন্ন হয়ে থাকে।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (৪০%)।
- এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন (7%), প্রোপেন (6%), বিউটেন ও আইসোবিউটেন (4%) এবং পেন্টেন (3%) থাকে।
- কিন্তু বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে তাতে 95-99% মিথেন থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,১৩৬.
ফোটন কণা কোন ধরনের বল বহন করে? 
  1. তড়িৎ বল
  2. চৌম্বক বল
  3. তড়িৎচৌম্বক বল
  4. মাধ্যাকর্ষণ বল
ব্যাখ্যা
ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৭.
বৈদ্যুতিক উপায়ে, AC কে DC তে রূপান্তর করে একমুখীকরণ করতে কোন মেশিন ব্যবহার করা হয়?
  1. ট্রান্সফর্মার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ডায়নামো
  4. মোটর
ব্যাখ্যা
• রেকটিফায়ার:
- যে সার্কিট অলটারনেটিং বা AC কারন্টকে ডাইরেক্ট বা DC কারেন্টে রূপান্তর করে তা রেকটিফায়ার।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে।
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না।
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
- এটি মূলত AC কারেন্টকে পালসেটিং DC তে রূপান্তর করে।
- অধিকাংশ ইলেকট্রিক সার্কিট লো- ভোল্টেজ এবং লো-ডি.সি. কারেন্টে চলে।
- এই বিপুল পরিমাণ পাওয়ারের চাহিদা মেটাতে সেল ব্যবহার সাশ্রয়ী নয়।
- তাই এ.সি. কে প্রয়োজনীয় মানে কমিয়ে ডি.সি. তে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।

• রেকটিফায়ার সার্কিটের প্রকারভেদ:
১. হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার (Half Wave Rectifier)
২. ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Full Wave Rectifier)
৩. সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Center Tape Full Wave Rectifier)
৪.ব্রীজ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Bridge Full Wave Rectifier)।

উৎস:
১. পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. www.eeebangla.com.
২,১৩৮.
এসিডীয় দ্রবণের pH কত?
  1. pH = 7
  2. pH > 7
  3. pH < 7
  4. pH < -7
ব্যাখ্যা

কোনো দ্রবনের pH = 7 তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি
কোনো দ্রবনের pH < 7 তা এসিডীয় দ্রবণ হবে
কোনো দ্রবনের pH > 7 তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে।
[উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণি বিজ্ঞান ,পৃষ্ঠা -১৪৫]

২,১৩৯.
Motor এর equation-
  1. V = Eb - IaRa
  2. V = Eb + IaRa
  3. Eb = IaRa - V
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মোটরের সূত্র
Eb = V - IaRa
⇒ V = Eb + IaRa

এখানে, Eb = back EMF
V = terminal voltage
Ia = armature current
Ra = armature resistance

২,১৪০.
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীতে কোন রশ্মির শক্তি সবচেয়ে বেশি?
  1. মাইক্রোওয়েভ
  2. অতিবেগুনী রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4.  রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর মধ্যে গামা রশ্মি-এর শক্তি সবচেয়ে বেশি।

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী এবং শক্তির সম্পর্ক:
-
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী হলো বিভিন্ন ধরনের বিকিরণের একটি বিন্যাস, যা তাদের কম্পাঙ্ক (frequency), তরঙ্গদৈর্ঘ্য (wavelength) এবং শক্তির (energy) ভিত্তিতে সাজানো হয়। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য পরস্পর সম্পর্কিত।
- শক্তির সাথে কম্পাঙ্কের সম্পর্ক হলো সমানুপাতিক (E ∝ ν) এবং শক্তির সাথে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক হলো ব্যস্তানুপাতিক (E ∝ 1/λ)। 
- যে রশ্মির কম্পাঙ্ক যত বেশি, তার শক্তিও তত বেশি।
- যে রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার শক্তিও তত বেশি।
- তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীতে যে রশ্মিগুলোর কম্পাঙ্ক সর্বোচ্চ এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন, সেগুলোর শক্তিও সর্বোচ্চ হবে।

গামা রশ্মি (γ-রশ্মি):
- গামা রশ্মি সাধারণ অর্থে কোনো কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ।
- α-কণা বা β-কণা বিচ্ছুরণের পর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তির পূর্ণবিন্যাসের ফলে γ-রশ্মির উদ্ভব ঘটে।
- তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর মধ্যে গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক সর্বোচ্চ এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন, তাই এর শক্তিও সবচেয়ে বেশি।
- এই রশ্মিগুলো এতটাই শক্তিশালী যে এদের ভেদন ক্ষমতা (penetrating power) অত্যন্ত বেশি এবং এরা জীবন্ত কোষের ডিএনএ-এর ক্ষতি করতে পারে। 
- এই কারণে, ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য রেডিয়েশন থেরাপিতে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
- রঞ্জন রশ্মি (X-rays): গামা রশ্মির ঠিক পরেই এদের অবস্থান। এদেরও উচ্চ শক্তি এবং ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে, যা শরীরের নরম টিস্যু ভেদ করে হাড়ের ছবি তুলতে সক্ষম। যদিও এদের শক্তি অনেক বেশি, এটি গামা রশ্মির চেয়ে কম।
- অতিবেগুনী রশ্মি (Ultraviolet rays): রঞ্জন রশ্মির চেয়ে কম শক্তি সম্পন্ন এবং দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি শক্তি সম্পন্ন। সূর্যের আলোয় এটি থাকে এবং এর অতিরিক্ত সংস্পর্শে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
- মাইক্রোওয়েভ (Microwaves): বর্ণালীর সর্বনিম্ন শক্তির দিকে এদের অবস্থান। এদের শক্তি অতিবেগুনী রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মির চেয়ে অনেক কম। এগুলো সাধারণত মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় (যেমন: ওয়াইফাই) ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১। উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী ও নাগ। 
২। ব্রিটানিকা।

২,১৪১.
'এটম' শব্দটির প্রবক্তা কে?
  1. জন ডাল্টন
  2. প্লেটো
  3. অ্যারিস্টটল
  4. ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা

পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

২,১৪২.
পরিবেশ বান্ধব শক্তি কোনটি? 
  1. কয়লা
  2. সৌর শক্তি
  3. নিউক্লিয় শক্তি
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ বান্ধব শক্তি - সৌর শক্তি। 

শক্তি: 
- শক্তির উৎস হচ্ছে দুইটি। 
যথা - 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে সবুজ শক্তি বলা হয়। 
- এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম অনবায়নযোগ্য শক্তির উপর নির্ভরশীল। 
- প্রতি বছর জাতীয় রাজস্বের একটি বড় বরাদ্দ শক্তি আমদানীর পিছনে ব্যয় হয়। 
- বাংলাদেশে সীমিত পরিমান অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস আছে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৩.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের ক্ষেত্রে সত্য কোনটি?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
  2. আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
  3. রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
  4. বিদ্যুৎ শক্তি থেকে আলোক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি : কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৪.
ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ কোনটি?
  1. পিট কয়লা
  2. লিগনাইট কয়লা
  3. বিটুমিনাস কয়লা
  4. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- প্রাকৃতিক কারণে গাছপালা ভূগর্ভে মাটির নিচে চাপা পড়ে। 
- দীর্ঘকাল যাবৎ অধিক চাপ ও তাপের প্রভাবে চাপাপড়া গাছপালার মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তখন স্তরীভূত ও কঠিন পদার্থরূপে পরিণত ঐ দহনযোগ্য জীবাশ্মকে কয়লা বলে। 
- ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ হলো পিট কয়লা। 
- তারপর ধারাবাহিক রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লিগনাইট কয়লা, বিটুমিনাস কয়লা ও শেষে উন্নত অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় পরিণত হয়। 

বাংলাদেশের কয়লা ক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ হলো কয়লা। 
- অনেক দেশে কয়লাকে black diamond বলা হয়। 
- বাংলাদেশের রাজশাহীর বগুড়া জেলার জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ি ও দীঘিপাড়া এবং রংপুর জেলার খালিসপুর ইত্যাদি পাঁচটি খনিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা আছে। 
- সিলেট জেলায় উন্নতমানের বিটুমিনাস ও লিগনাইট কয়লার খনি আছে। 
- ফরিদপুরে বাঘিয়া ও চান্দাবিল, খুলনার কোলা বিল ও সিলেটে পীট (peat) জাতীয় নিম্নমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,১৪৫.
রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
রঙিন টেলিভিশন:

- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৬.
কোন যন্ত্র লো ভোল্টেজকে হাই ভোল্টেজে রূপান্তর করে?
  1. জেনারেটর
  2. ডায়নামো
  3. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
  4. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তী প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে।
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমাণ চৌম্বক বলরেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তী প্রবাহ করলে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা:
 → স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও
 → স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।


figure: Step-up Transformer (image source: arrow.com)

 → স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার: এটি লো ভোল্টেজকে হাই ভোল্টেজে রূপান্তর করে।
 → স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার: এটি উচ্চ ভোল্টেজকে নিম্ন ভোল্টেজে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৭.
বায়োগ্যাসের কোন উপাদান জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা
- বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসাবে বায়োগ্যাস একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
- বিভিন্ন পচনশীল জৈব পদার্থ বা বর্জ্যপদার্থ যেমন গোবর, হাঁস- মুরগীর মলমূত্র, গৃহস্থালীর বর্জ্য ইত্যাদি বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচনের ফলে যে গ্যাস তৈরী হয় তাকে বায়োগ্যাস বলে।
- এ জাতীয় গ্যাসে অধিকাংশ পরিমাণই থাকে মিথেন।

উৎসঃ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়।
২,১৪৮.
যে সর্বোচ্চ শ্রুতি সীমার উপরে মানুষ বধির হতে পারে তা হল -
  1. ৭৫ ডেসিবেল
  2. ৯৫ ডেসিবেল
  3. ১০৫ ডেসিবেল
  4. ১২৫ ডেসিবেল
ব্যাখ্যা
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (ডিবি)। 
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডিবি হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। 
- ৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা শুরু হয়। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতানুসারে, 
- সাধারণত ৬০ ডিবি শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে বধির করে ফেলতে পারে এবং ১০০ ডিবি শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে। 

বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপ অনুসারে, 
- যেকোন ব্যক্তি যেকোন স্থানে আঁধা-ঘণ্টা বা তার অধিক সময় ধরে ১০০ ডিবি বা তার অধিক শব্দ দূষণের ফলে বধির হয়ে যেতে পারে। 
যেহেতু, ১০০ ডিবি অপশনে নেই সেহেতু অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে ১০৫ ডিবি নেয়া হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৯.
নিচের কোন শক্তিকে সবুজ শক্তি বলা যায়?
  1. কয়লা 
  2. পানি
  3. গ্যাস
  4. তেল
ব্যাখ্যা

- জলবিদ্যুৎ অর্থাৎ পানির স্রোত একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।

শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলো হচ্ছে- 
- সৌর শক্তি, 
- জলবিদ্যুৎ, 
- বায়ুশক্তি, 
- ভূতাপীয় শক্তি, 
- জোয়ার ভাটা ও 
- সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) মজদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- পেট্রোলিয়াম, পারমাণবিক জ্বালানি এবং ফুয়েল সেল হলো অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫০.
রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কোন তিনটি মৌলিক রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে?
  1. হলুদ, লাল ও নীল
  2. কালো, নীল ও সবুজ
  3. লাল, নীল ও সাদা
  4. লাল, নীল ও সবুজ
ব্যাখ্যা
• রঙিন টেলিভিশন: 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি মৌলিক রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়। 
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে। ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে। 
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫১.
গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশে STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0° C
  2. 25° C
  3. - 298° C
  4. 298 K
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে। 
যেমন- 
(১) STP পদ্ধতি: 
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure. 
- STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol-1

(২) SATP পদ্ধতি: 
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure. 
- এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 25°C বা 298K ও চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, Vmθ = 24.789 Lmol-1

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
২,১৫২.
সম্পূর্ণ ঘর আলোকিত হয় নিচের কোনটির কারণে?
  1. ক) নিয়মিত প্রতিফলন 
  2. খ) ব্যাপ্ত প্রতিফলন
  3. গ) প্রতিসরণ 
  4. ঘ) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
ব্যাপ্ত প্রতিফলন
যদি একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোক রশ্মি কোন পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর অসমান্তরাল হয় বা অভিসারী বা অপসারীগুচ্ছে পরিণত না হয় তবে আলোর সেই প্রতিফলনকে ব্যাপ্ত বা বিক্ষিপ্ত বা অনিয়মিত প্রতিফলন বলে।  

প্রশ্নে উল্লেখিত সম্পূর্ণ ঘর আলোকিত হয় ব্যাপ্ত প্রতিফলন এর মাধ্যমে।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
২,১৫৩.
আর্কিমিডিসের জন্মস্থান-
  1. সিসিলি
  2. বার্সিলোনা
  3. ইস্তাম্বুল
  4. টরেন্টো
ব্যাখ্যা
- বিখ্যাত গণিতবিদ ও দার্শনিক আর্কিমিডিস আনুমানিক ২৮৭ খৃস্টপূর্বাব্দে তৎকালীন বৃহত্তর গ্রিসের উপনিবেশ সিসিলি দ্বীপের সিরাকিউজ নামের বন্দর নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। 

আর্কিমিডিসের নীতি: 
- বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়।
- বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্ব চাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। 
- তাই কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,১৫৪.
সরল দোলকের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধীরে চলে।
  2. শীতকালে দোলকঘড়ি ধীরে চলে।
  3. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে।
  4. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে।
ব্যাখ্যা
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, T = দোলনকাল, L = কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g = অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধীরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।
২,১৫৫.
কোনটি NaCl এর ব্যবহার নয়-
  1. বেকিং সোডা প্রস্তুতি
  2. সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড তৈরি
  3. খাবার স্যালাইন তৈরি
  4. ব্লিচিং পাউডার তৈরি
ব্যাখ্যা
NaCl এর ব্যবহার:
- NaCl অনেক কাজে ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- ভাত-এর সাথে আমরা তরকারি খাই। তরকারিতে NaCl লবণ না দিলে তরকারি সুস্বাদু হয় না।
- শিল্পকারখানায় NaOH যৌগ প্রস্তুত করার জন্য NaCl ব্যবহৃত হয়।
- ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা পূরণের জন্য ওষুধ শিল্পে স্যালাইনের মধ্যে NaCl প্রয়োজন হয়।
- বেকিং সোডা তৈরিতে NaCl ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- 40°C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করলে ব্লিচিং পাউডার, Ca(OCl)Cl উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,১৫৬.
এন্টাসিড ঔষধে মূলত কোনটি থাকে?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম অক্সাইড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
এন্টাসিড ঔষধ:
- এন্টাসিড ঔষধ হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] যা সাসপেনশান ও ট্যাবলেট দুভাবেই পাওয়া যায়।
- ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] এর সাসপেনশান মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া (Milk of Magnesia) নামেই অধিক পরিচিত।
- কখনো কখনো এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও [Al(OH)3] থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,১৫৭.
সলিনয়েডের মধ্যে এক খন্ড লৌহ স্থাপন করলে তা -
  1. ক) তড়িৎ আধারে পরিণত হয়
  2. খ) ইলেক্ট্রন নির্গত করে
  3. গ) ইস্পাতে পরিণত হয়
  4. ঘ) তড়িৎ চুম্বকে পরিণত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সলিনয়েডের মধ্যে এক খন্ড লৌহ স্থাপন করলে তা তড়িৎ চুম্বকে পরিণত হয়।

একটি লম্বা অন্তরীত পরিবাহী তারকে স্প্রিং-এর মতাে বহুপাকে ঘন সন্নিবিষ্ট করে সাজিয়ে বা কয়েল তৈরি করে তা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে একটি দন্ড চুম্বকের ন্যায় চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। এরকম কুন্ডলীকে সলিনয়েড বলে।

যতক্ষণ পর্যন্ত তড়িৎ প্রবাহ চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত লোহার দন্ডটি শক্তিশালী চুম্বক হিসাবে কাজ করবে। কিন্তু তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করলে এর চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হবে। স্পষ্টত:ই এটি অস্থায়ী চুম্বক। এ ধরনের চুম্বককে তড়িৎচুম্বক বলা হয়। সিলিন্ডারের মধ্যে কাঁটা লোহার পরিবর্তে ইস্পাতের দণ্ড ব্যবহার করলে সেটি স্থায়ী চুম্বকে পরিণত হবে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৫৮.
১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে তাপকে অণুগুলোর গতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. কাউন্ট রামফোর্ড
  2. জে. জে. থমসন
  3. হেনরি বেকেরেল
  4. মাদাম কুরি
ব্যাখ্যা

• কাউন্ট রামফোর্ড ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রমাণ করেন যে তাপ পদার্থের অণুগুলোর গতির ফল।

• তাপ ও তাপমাত্রা:
- এক খণ্ড বরফ হাতে নিলে ঠান্ডা এবং ফুটন্ত পানিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়।
- এই অনুভূতির কারণই তাপ।
- তাপ এক প্রকার শক্তি যার অভাবে ঠান্ডা এবং যার প্রভাবে বস্তু গরম হয়।
- এক সময় ধারণা ছিল তাপ ক্যালরিক নামে সূক্ষ্ম তরল বা বায়বীয় পদার্থ।
- কোনো বস্তুতে ক্যালরিক কম হলে বস্তু ঠান্ডা এবং বেশি হলে বস্তু গরম হয় বলে মনে করা হতো।
- ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে কাউন্ট রামফোর্ড আবিষ্কার করেন, পদার্থের অণুসমূহের গতির ফলই তাপ।

• অণুর গতি ও তাপ:
- পদার্থের অণুগুলো সর্বদা গতিশীল অবস্থায় থাকে।
- বাইরে থেকে শক্তি প্রয়োগ করলে অণুর গতি বৃদ্ধি পায়।
- অণুর গতি বৃদ্ধি পেলে বস্তু গরম হয়।
- তাপ হলো বস্তুর অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি।
- তাপ শক্তি দ্বারা কাজ সম্পাদন হয়।
- তাপ শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় এবং অন্য শক্তিকেও তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে এবং তাপ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপমাত্রা:
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার গরমের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- গরমের মাত্রা প্রকাশ করতে উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
- দুইটি বস্তুকে তাপীয় সংস্পর্শে আনলে তাপের আদান প্রদান ঘটে।
- তাপের আদান প্রদান তাপের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না।
- এটি বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর নির্ভর করে।
- বস্তুর তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ গরম বস্তু থেকে ঠান্ডা বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়।
- বস্তুর এই তাপীয় অবস্থাকেই উষ্ণতা বা তাপমাত্রা বলে।

• অন্যান্য অপশন:
- জে. জে. থমসন → ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
- হেনরি বেকেরেল → তেজস্ক্রিয় রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- মাদাম কুরি → তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫৯.
CO2 কী ধরনের অণু?
  1. যৌগের অণু
  2. মৌলের অণু
  3. একক পরমাণুর অণু
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। 
যেমন- O2 । 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। 
যেমন- CO2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৬০.
পানিতে রাখা মুদ্রা প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় সামান্য উপরের দিকে দেখতে পাওয়ার মূল কারণ কী?'
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর শোষণ
ব্যাখ্যা

• প্রতিসরণের কারণে পানিতে রাখা মুদ্রার অবস্থান পরিবর্তন হয়ে একটু উপরে মনে হয়।

• আলোর প্রতিসরণ:
- আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদতলে তির্যকভাবে আপতিত আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তন করার ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- প্রতিসরনের সূত্র আপতিত রশ্নি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব ও প্রতিসরিত রশ্নি একই সমতলে থাকে।
- একজোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম বা আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত ধ্রুব থাকে।
- এটি (স্নেলের সূত্র নামে পরিচিত এবং এই ধ্রুব সংখ্যাটিকে বলা হয় প্রতিসরণাঙ্ক।

• আলোর প্রতিসরণের বাস্তব প্রয়োগ:
- লাঠিকে পানিতে ডুবালে সেটি ছোট, মোটা ও উপরে দেখা যাবে প্রতিসরণের কারণে।
- প্রতিসরণের কারণে পানিতে রাখা মুদ্রার অবস্থান পরিবর্তন হয়ে একটু উপরে মনে হয়।
- প্রতিসরণের কারণে পানিতে মাছের অবস্থানের পরিবর্তন হয়ে একটু উপরে মনে হয়।
- প্রতিসরণের কারণে সূর্যোদয়ের কিছুটা আগে ও পরে সূর্যকে (বড় দেখায়)।
- চাঁদকে দিগন্তের কাছে বড় দেখায়।
- রাতের আকাশে তারা ঝিকঝিক করে জ্বলে।
- পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায় আলোর প্রতিসরণের কারণে।
- বিভিন্ন চশমায় ব্যবহৃত লেন্স প্রতিসরণ ঘটিয়ে দেখতে সাহায্য করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬১.
ব্লু ভিট্রিওল যৌগে কত অণু পানি যুক্ত থাকে?
  1. ৩ অণু
  2. ৫ অণু
  3. ৭ অণু
  4. ১০ অণু
ব্যাখ্যা

- তুঁতে বা ব্লু ভিট্রিওল (Blue Vitriol) হলো আর্দ্র কপার সালফেট, এর রাসায়নিক সংকেত হলো  CuSO4.5H2O । এই সংকেত থেকে দেখা যায় যে, প্রতি অণু কপার সালফেটের সাথে ৫ অণু স্ফটিক পানি (Water of crystallization) যুক্ত থাকে। 

রাসায়নিক যৌগ ও তাদের সংকেত: 

- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতে বা ব্লু ভিট্রিওল যৌগের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৬২.
লাল আলোতে হলুদ রঙের বস্তু কেমন দেখায়?
  1. লাল
  2. হলুদ
  3. সাদা
  4. কালো
ব্যাখ্যা
- লাল আলোতে নীল, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের বস্তুকে লাল দেখায়।

যেহেতু হলুদ আলো লাল এবং সবুজ আলোর মিশ্রণ, তাই হলুদ রঙের বস্তু লাল এবং সবুজ আলোকে প্রতিফলিত করবে।
- এর অর্থ হল একটি হলুদ বস্তু লাল আলোর নীচে লাল এবং সবুজ আলোর নীচে সবুজ দেখাবে।
- হলুদ বর্ণে নীল রঙের উপস্থিতি নেই, তাই এটি নীল আলোর নিচে কালো দেখাবে।

উৎস: এডেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট 
২,১৬৩.
নিচের কোনটি আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব এসেছে? 
  1. ট্রানজিস্টর
  2. অসিলেটর
  3. টেলিভিশন
  4. কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন।
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর।
- এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে।
- আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৪.
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে -
  1. সিলভার ব্রোমাইডের
  2. সিলভার ক্লোরাইডের
  3. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের
  4. সিলভার ফ্লোরাইডের
ব্যাখ্যা
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইডের। 
- সিলভার ব্রোমাইডের রাসায়নিক সংকেত হলো AgBr. 
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ সাধারণত সিলভার হ্যালাইডের (ব্রোমাইড বা আয়োডাইড) আবরণ থাকে। 
- ব্রোমাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যাতে একটি ব্রোমাইড আয়ন বা লিগ্যান্ড রয়েছে। 
- এটি −১ (Br) আধান সহ আয়নিত একটি ব্রোমাইড পরমাণু। 
যেমন- সিজিয়াম ব্রোমাইড এর সিজিয়াম ধনাত্মক আয়ন(CS+)বৈদ্যুতিক ভাবে আকর্ষিত হতে পারে ব্রোমাইড অ্যানায়ন(Br) এর প্রতি। 
- ফলে বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ আয়নিক যৌগ CsBr গঠিত হয়। 

Dry plate, in photography, glass plate coated with a gelatin emulsion of silver bromide. It can be stored until exposure, and after exposure it can be brought back to a darkroom for development at leisure.

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,১৬৫.
যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো- 
  1. অ্যান্টিবায়োটিক
  2. ব্যথানাশক
  3. অ্যান্টিসেপটিক
  4. চেতনানাশক 
ব্যাখ্যা

- যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত এবং ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বৃদ্ধি রোধে কাজ করে, বিশেষত Mycobacterium tuberculosis-এর বিরুদ্ধে এটি কার্যকর। 

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 

- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনানাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬৬.
কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  3. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করে
  4. পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)।  
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৭.
জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞান কোনটি? 
  1. প্যালিয়েন্টোলজি
  2. ফসিওলজি
  3. ফাইটোজেনি
  4. মরফোলজি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম (Fossil): 
✔ জীবাশ্ম বা ফসিল শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Fossilis" থেকে, যার অর্থ "খুঁড়ে তোলা" (dug out)। 
✔ প্রাচীনকালে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যেকোনো কিছুই জীবাশ্ম হিসেবে গণ্য করা হতো। 
✔ তবে আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা তাদের চিহ্নকে জীবাশ্ম বলে। 

বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম: 
- ট্রেস ফসিল (Trace Fossil): জীবের চলাচলের চিহ্ন, যেমন—গমন পথ, ট্রেইল, জীবজনিত গর্ত। 
- ইকনোফসিল (Ichnofossil): ট্রেস ফসিলের আরেকটি নাম। 
- জার্মান ভাষায় "Lebenspuren" নামেও পরিচিত। 

জীবাশ্মবিদ্যা (Palaeontology): 
- জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞান "প্যালিয়েন্টোলজি" নামে পরিচিত। 
- এই শাস্ত্র প্রাগৈতিহাসিক জীব ও তাদের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৮.
Which one is a saturated hydrocarbon?
  1. Ethene
  2. Propene
  3. Ethane
  4. Butene
  5. Ethyne
ব্যাখ্যা
• ইথেন হলো সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H6
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৯.
লা-শাতেলিয়ার নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয় কোনটি?
  1. তাপ
  2. চাপ
  3. ঘনমাত্রা
  4. ভর
ব্যাখ্যা

লা-শাতেলিয়ার নীতি:
কোনো রসায়নিক সমীকরণ সমান্তরাল অবস্থায় থাকলে, যদি বাহ্যিক প্রভাব (যেমন তাপ, চাপ, বা ঘনত্ব) প্রয়োগ করা হয়, প্রতিক্রিয়া সেই প্রভাবকে কমাতে সচেষ্ট হবে।

সম্পৃক্ত বাহ্যিক প্রভাব:
তাপ: তাপ বৃদ্ধি বা হ্রাস প্রতিক্রিয়ার সমীকরণকে সামঞ্জস্য করে।
চাপ: গ্যাসীয় প্রতিক্রিয়ায় চাপ পরিবর্তন সমীকরণের দিকে প্রভাব ফেলে।
ঘনমাত্রা : পদার্থের ঘনত্ব পরিবর্তন প্রতিক্রিয়ার দিক পরিবর্তন করে।

অসম্পৃক্ত:
ভর (Mass): রসায়নে স্থির থাকে, লা-শাতেলিয়ার প্রভাবের অংশ নয়।


তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

২,১৭০.
নিচের কোনটি জৈব যৌগ নয়? 
  1. প্রোপিন 
  2. পেন্টাইন 
  3. মরিচা 
  4. ইথেন 
ব্যাখ্যা

জৈব যৌগ:  
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।  
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ।  
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে।  
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।  
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার।  

অজৈব যৌগ:  
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে।  
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

২,১৭১.
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিম্নের কোন বিক্রিয়াটি বহুল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ফিশন
  2. খ) ফিউশন
  3. গ) হাইড্রোলাইসিস
  4. ঘ) বিযোজন
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু পরমাণুকে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরমাণুতে পরিণত করলে অর্থাৎ ফিশন বিক্রিয়া ঘটালে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি বের হয়। এই তাপশক্তি ব্যবহার করে জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। আমরা সেটিকে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র বলি।
উৎস: নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান
২,১৭২.
হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) ফসফরাস-32
  2. খ) প্লুটোনিয়াম -২৩৮
  3. গ) আয়োডিন-131
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১. শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য Co - 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।

২. থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

৩. শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leukemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।

৪. দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

৫. প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৩.
এক কেজি বস্তুর ভর পৃথিবীতে এবং চাঁদের মধ্যে কোথায় বেশি?
  1. চাঁদে বেশি
  2. পৃথিবীতে বেশি
  3. চাঁদে ভর নেই
  4. সমান
ব্যাখ্যা
• "ভর" (Mass) হলো কোনো বস্তুর বস্তুগত পরিমাণ, যা তার অণু-পরমাণুর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে।
-  এটি একটি মৌলিক ভৌত রাশি এবং এটি নির্দিষ্ট স্থানে পরিবর্তিত হয় না। অর্থাৎ, এক কেজি বস্তুর ভর পৃথিবীতে যেমন, চাঁদেও তেমনই থাকবে।

অন্যদিকে,
ওজন (Weight) ভিন্ন একটি রাশি। 

ওজনের সূত্র থেকে আমরা জানি,
W = mg 

এখানে,
W = বস্তুর ওজন
m = বস্তুর ভর
g= অভিকর্ষজ ত্বরণ 
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে বস্তুর ওজন নির্ভর করে বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর। 
• চাঁদে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১/৬ হওয়ায়, বস্তুর ওজন চাঁদে কম হবে, কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকবে কারন ভর মৌলিক রাশি। 

তথ্যসূত্র:

- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
২,১৭৪.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি গ্রুপ আছে? 
  1. ১৭ 
  2. ১৬ 
  3. ১৯ 
  4. ১৮
ব্যাখ্যা

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- আধুনিক পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র আধুনিক পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭৫.
মহাকর্ষীয় বিভব কোন রাশির উপর নির্ভর করে?
  1. ক্ষুদ্র ভরের বস্তুটির ভর
  2. বৃহৎ ভরের বস্তুটির ভর
  3. বৃহৎ ভরের বস্তুটির ব্যাসার্ধ
  4. ক্ষুদ্র ভরের বস্তুটির ব্যাসার্ধ
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষীয় বিভব:
কোনো বৃহৎ ভরের বস্তুর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের বাইরের কোনো স্থান তথা অসীম দূরত্ব থেকে একক ভরের একটি বস্তুকে, ঐ ক্ষেত্রের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে আনতে মহাকর্ষের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, তাকে ঐ নির্দিষ্ট বিন্দুর মহাকর্ষীয় বিভব বলে।
- এটি একটি স্কেলার রাশি।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মহাকর্ষীয় বিভবের একক Jkg-1। এর মাত্রা L-2T-2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৬.
২০°-২৭°C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH কত?
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 

গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে।  
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

তড়িৎ পরিবাহিতা: 
- বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ অপরিবাহী। 
- তবে পানিতে আয়নিক লবণ দ্রবীভূত থাকলে তা তড়িৎ পরিবহন করে। 
- তাই নদী পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।  

দ্রাবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
-  এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ, ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ, বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

পানির রাসায়নিক গঠন: 
- পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। 
- পানির আনবিক সংকেত H2O এবং আণবিক ভর ১৮। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৭.
মৌলিক রাশির অন্তর্ভূক্ত নয় কোনটি?
  1. সময়
  2. তাপমাত্রা
  3. ত্বরণ
  4. পদার্থের পরিমাণ
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে। 
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না। 

লব্ধ রাশি: 
- যে রাশিগুলো মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল তাদেরকে লব্ধ রাশি বলে। 
যেমন- বেগ, কাজ, ত্বরণ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৮.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?  
  1. - 100°C
  2. 0°C
  3. - 273°C
  4. 273°K
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
২,১৭৯.
ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকির শক্তি কোন কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. আলো ও বিদ্যুৎ শক্তি 
  2. আলোক ও চৌম্বক শক্তি
  3. রাসায়নিক ও তাপ শক্তি 
  4. তাপ ও শব্দ শক্তি
ব্যাখ্যা

• ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকি ব্যবহার করলে মানুষের পেশিশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন হয়। এই যান্ত্রিক শক্তি যখন ধানের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন ঢেঁকি ও ধানের মধ্যে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং আঘাতের ফলে শক্তির রূপান্তর ঘটে। ঘর্ষণের কারণে কিছু শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যার ফলে সামান্য উষ্ণতা অনুভূত হয়। আবার ঢেঁকি পড়া ও ধান ভাঙার সময় যে শব্দ হয়, তা থেকে বোঝা যায় যে কিছু শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। তাই ধান ভাঙার প্রক্রিয়ায় ঢেঁকির শক্তি মূলত তাপ ও শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- সঠিক উত্তর: ঘ) তাপ ও শব্দ শক্তি।

 
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাত দিয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশ ঘষলে গরম অনুভূত হয় ফলে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাঁশি বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- এক খন্ড পাথরের উপর একটি ধাতব দন্ড দ্বারা জোরে আঘাত করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায় এবং এক ধরনের শব্দেরও সৃষ্টি হয়। ধাতব দণ্ড ও পাথর খন্ডটি খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে যান্ত্রিক শক্তি তাপ, শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় এতে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- একই ভাবে দোলনার ক্ষেত্রে স্থিতি ও গতিশক্তির রূপান্তর ঘটে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২,১৮০.
নিচের কোনটিতে স্থির তড়িৎ এর ব্যবহার হয়?
  1. স্প্রের সাহায্যে কোন বস্তু রং করতে
  2. ক্যামেরায়
  3. ফটোকপি মেশিনে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
কল কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোয়ার কারণে বায়ুদূষণ মুক্ত করা, ছোট বা অসম আকৃতির বস্তুকে স্প্রের সাহায্যে রং করা, উচ্চ বিভব সৃষ্টি করা ইত্যাদির জন্য আমরা স্থির তড়িৎ ব্যবহার করে থাকি।
ফটোকপি মেশিনে স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়।

এমনকি বর্তমানে যে সব মুভি ক্যামেরা এবং স্থির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয় সেগুলোও পরিচালনার জন্য স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮১.
কোন রংয়ের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কাল
  3. গ) লাল
  4. ঘ) ধূসর
ব্যাখ্যা
কালো রঙ্গের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমান তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে।
২,১৮২.
পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) ইস্পাত
  3. গ) হীরক
  4. ঘ) পাথর
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ হলো হীরক যা কার্বনের একটি রুপভেদ। 
• অসংখ্য কার্বন পরমাণু পরস্পরের সাথে বন্ধনযুক্ত হয়ে এ অণু তৈরি করে।
• একটি হীরক খণ্ডকে টুকরো করতে হলে অনেকগুলো শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন ছিন্ন করতে হয় বলে হীরক অত্যন্ত কঠিন।
• ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো: লোহা (Fe), তামা  (Cu), সোনা (Au), কিংবা রূপা  (Ag)।
•  অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ।
•  আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৮৩.
কোন কৃষ্ণবস্তু থেকে সর্বাধিক শক্তি বিকিরণের জন্য তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কৃষ্ণবস্তুটির পরম তাপমাত্রার -
  1. সমানুপাতিক
  2. ব্যস্তানুপাতিক
  3. সমান
  4. বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা
- ভীনের সরণ সূত্র জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ডব্লিউ জে ভীন ( জার্মান শব্দ Wien এর উচ্চারণ ভীন) ১৮৯৬ সালে তাপ গতিবিদ্যার তত্ত্ব প্ৰয়োগ করে কৃষ্ণবস্তুর বর্ণালীতে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য শক্তি বন্টন বিষয়ক দুটি সূত্র প্রদান করেন।
- এই সূত্র দুটির নাম যথাক্রমে ভীনের সরণ সূত্র ও পঞ্চঘাত সূত্র।

-ভীনের সরণ সূত্রটি হলো:
কোন কৃষ্ণবস্তু থেকে সর্বাধিক শক্তি বিকিরণের জন্য তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কৃষ্ণবস্তুটির পরম তাপমাত্রার ব্যস্তানুপাতিক । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৪.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশির ধর্ম?
  1. ক) সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায়।
  2. খ) ভেক্টর রাশির মান নেই।
  3. গ) ভেক্টর রাশির দিক নেই।
  4. ঘ) ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে।
ব্যাখ্যা
ভেক্টর রাশি:

- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
- যেমন, সরণ, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি ।
- ভেক্টর রাশির ধর্ম -
১. ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
২. সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
৩. দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
৪. দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
৫. ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
৬. ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

তথ্যসূত্র – পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৫.
কোন পদার্থ থেকে আলফা, বিটা ও গামা কণিকা নির্গত হয়?
  1. সাধারণ ধাতব পদার্থ 
  2. তাপীয় পদার্থ
  3. বিদ্যুৎ চুম্বকীয় পদার্থ
  4. তেজস্ক্রিয় পদার্থ
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় রশ্মি: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পরমাণু। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি"। 
- পরবর্তিতে মাদাম কুরী (Madame Marie Curie) এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত। 

তেজস্ক্রিয়তার প্রকারভেদ: 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা। 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: 
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: 
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়- 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ) নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮৬.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস- 
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  3. পাহাড়ী নদী
  4. উপরের সব সঠিক
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তরটি হলো ঘ) উপরের সব সঠিক।
• বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উল্লেখিত সবগুলো উৎসই ব্যবহার করা হয়। 
প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas):
- এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস। মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বৃহৎ অংশ গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে (প্রায় ৪০% এর বেশি)।
খনিজ তেল (Oil/Liquid Fuel):
- তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ করে ফার্নেস তেল (HFO) এবং ডিজেল (HSD) ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটিও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস (প্রায় ২০% এর কাছাকাছি)।
পাহাড়ী নদী (Hydro/জলবিদ্যুৎ):
- বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হলো কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কাপ্তাই বাঁধ) যা পাহাড়ী নদী কর্ণফুলী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। যদিও মোট উৎপাদনে এর ভাগ খুব কম, কিন্তু এটি একটি ব্যবহৃত উৎস।

-  উপরিউক্ত তিনটি প্রধান উৎস ছাড়াও, বাংলাদেশে বর্তমানে কয়লা (Coal), আমদানিকৃত বিদ্যুৎ (Imported Electricity) এবং নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy - সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- যদিও সবগুলোই উৎস, তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের বিদ্যুৎ শক্তির প্রধান উৎস।

উৎস: বিজ্ঞান , সপ্তম শ্রেণি।

২,১৮৭.
একটি উত্তল লেন্স দ্বারা সাধারণত কী ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
  1. সর্বদা সোজা ও বাস্তব
  2. সর্বদা উল্টো ও কাল্পনিক
  3. সাধারণত উল্টো ও বাস্তব
  4. সর্বদা সোজা ও কাল্পনিক
ব্যাখ্যা

• একটি উত্তল লেন্স দ্বারা সাধারণত বাস্তব ও উল্টো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

• লেন্স:
- লেন্স হলো এমন একটি স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যম যা দুইটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।
- এটি আলোর প্রতিসরণ (Refraction) ঘটিয়ে বস্তুর প্রতিবিম্ব (Image) তৈরি করে।

লেন্স প্রধানত ২ প্রকার:
১. উত্তল লেন্স (Convex Lens) এবং 
২. অবতল লেন্স (Concave Lens)। 

• উত্তল লেন্সের বৈশিষ্ট্য:
- সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে এক বিন্দুতে সমবেত করে।
- সাধারণত বাস্তব ও উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরি করে।

• উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
• ফটোগ্রাফি ক্যামেরায় ছবি তৈরির জন্য।
• অণুবীক্ষণ যন্ত্রে (Microscope) ক্ষুদ্র বস্তু বড় করে দেখার জন্য।
• বিবর্ধক কাচ / ম্যাগনিফাইং গ্লাস হিসেবে ছোট বস্তু বড় করে দেখাতে।
• আতিশী কাচ হিসেবে সূর্যের আলোকে একত্র করে আগুন জ্বালাতে (প্রচলিতভাবে আর্কিমিডিসের সাথে উল্লেখ করা হয়)।
• চশমায় ব্যবহার করা হয় দূরদৃষ্টি (Hypermetropia) সংশোধনের জন্য।
• সিনেমাস্কোপ বা প্রজেক্টরে বড় পর্দায় ছবি প্রক্ষেপণের জন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮৮.
কতগুলো তরঙ্গ পাদ এবং তরঙ্গ শীর্ষের সমন্বয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) অসংখ্য
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ শীর্ষ ও তরঙ্গ পাদ (Wave crest and wave trough):
- তরঙ্গের সাম্যাবস্থান থেকে সর্বোচ্চ (ধনাত্মক) বিস্তারের বিন্দুটিকে তরঙ্গ শীর্ষ এবং সর্বনিম্ন (ঋণাত্মক) বিস্তারের বিন্দুটিকে তরঙ্গ পাদ বলা হয়।
- অসংখ্য তরঙ্গ পাদ এবং তরঙ্গ শীর্ষ নিয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৯.
নিউট্রন কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯৩২ সালে
  2. খ) ১৯৩৬ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা
নিউট্রন:

- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 গ্রাম।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯০.
কাচ তৈরির কাচামাল কোনটি?
  1. ক) সিলিকোন
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) সিলোক্সেন
  4. ঘ) সিলিকন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• কাচ তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে বালু এবং বালুর প্রধান উপাদান হলো সিলিকা অর্থাৎ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড

- কাচ স্বচ্ছ পদার্থ এবং এটি স্বচ্ছ বলেই এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি ভেদ করে চলে যেতে পারে।
- কাচ হচ্ছে মূলত সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণ। 
- রাসয়নিকভাবে কাচ একটি ক্ষারীয় দ্বি-লবণ।  
- সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে সম্পূর্ণরূপে গলিয়ে শীতল করলে যে শক্ত, অনিয়তাকার স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কাচ বলে। 

• সিলিকন (Silicon) হচ্ছে অর্ধপরিবাহী, যা ট্রানজিস্টারে সেমি-কন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• সিলিকোন (silicone) হল পলিসিলোক্সেন যা সিলোক্সেন এর পলিমার।

সূত্র: রসায়ন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯১.
বরফের আপেক্ষিক তাপ কত?
  1. 130 Jkg- 1K- 1
  2. 400 Jkg- 1K- 1
  3. 4200 Jkg- 1K- 1
  4. 2100 Jkg- 1K- 1
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) 2100 Jkg- 1K- 1

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):

- একই পদার্থের পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাদের তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
যেমন- আঁধা লিটার (0.5kg) পানির তাপ ধারণ ক্ষমতা থেকে পাঁচ লিটার বা (5kg) পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতার তুলনা করতে হলে সব ক্ষেত্রে ভরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হয়।
- তাই এক্ষেত্রে একক ভর বা 1kg ভরের বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
- তাই 1kg ভরের কোন বস্তুর তাপমাত্রা 1K বাড়াতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ বস্তুর উপাদানের আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপের একক Jkg- 1K- 1.
- বরফের আপেক্ষিক তাপ 2100 Jkg- 1K- 1 বলতে বুঝায় 1kg বরফের তাপমাত্রা 1K বাড়াতে 2100 J তাপের প্রয়োজন।
- কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক তাপ: 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯২.
মিরাজ ডাবল নেয়ার জন্য অপরপ্রান্তের উইকেটের দিকে দ্রুত দৌড়ে ২০ মিটার গেলো। এখানে ২০ মিটার-
  1. ক) গতি
  2. খ) দ্রুতি
  3. গ) সরণ
  4. ঘ) দূরত্ব
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমরা জানি কোনো নির্দিষ্ট দিকে অতিক্রান্ত দূরত্বকে সরণ বলে যা একটি ভেক্টর রাশি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৯৩.
চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলে? 
  1. চৌম্বক মধ্যতল
  2. চৌম্বক মেরু 
  3. ভৌগোলিক মধ্যতল 
  4. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চৌম্বক মেরু (Magnetic pole): 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে।
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মেরু N ও S দেখানো হয়েছে।

N = North Pole (উত্তরমেরু),
S = South Pole (দক্ষিণমেরু)।

চৌম্বক অক্ষ (Magnetic axis): 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।
চিত্রে, AB দন্ড চুম্বকের অক্ষ।

চৌম্বক দৈর্ঘ্য (Magnetic length): 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে
চিত্রে, NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য।

চৌম্বক মধ্যতল (Magnetic meridian): 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে।

ভৌগোলিক মধ্যতল (Geographical meridian): 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে।
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯৪.
আলো দেখতে হলে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত হতে হবে? 
  1. 100 nm – 300 nm
  2. 300 nm – 500 nm
  3. 400 nm – 700 nm
  4. 700 nm – 1000 nm
ব্যাখ্যা

আলো: 
- আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- এটি পর্যাবৃত্ত তরঙ্গও বটে। সকল পর্যাবৃত্ত তরঙ্গের একটা তরঙ্গদের্ঘ্য থাকে, তেমনি আলোরও তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে। 
- আলোর নানা ধরনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকতে পারে। যেমন- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের দৈর্ঘ্য কয়েক কিলোমিটার থেকেও বেশি হতে পারে, আবার এক মিটারের ট্রিলিয়ান ট্রিলিয়ান ভাগের এক ভাগও হতে পারে (1 ট্রিলিয়ান=1012)। 
- এই সম্ভাব্য বিশাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ছোট একটা অংশের আলো দেখা যায়, কিন্তু তরঙ্গদৈর্ঘ্যে এর থেকে বেশি হলে বা এর থেকে ছোট হলে এই আলো দেখা যায় না। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য 400 nm থেকে 700 nm -এর ভেতর হলে যে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেখতে পাওয়া যায় সেটাই হচ্ছে আলো। 

- চোখ যে নানান রং দেখতে পাই, সেগুলো আসলে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য যখন ছোট হয় সেটা হয় বেগুনি। 
- যখন তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে, তখন সেটা নীল সবুজ হলুদ কমলা লাল হয়ে চোখের কাছে অদৃশ্য হয়ে যায়। মানুষের চোখ এই ব্যাপ্তির বাইরে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দেখতে পায় না, কিন্তু পোকামাকড় বা অন্য অনেক প্রাণী এর বাইরেও দেখতে পায়। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য থেকেও ছোট হয়, সেই আলোকে বলা হয় আলট্রা ভায়োলেট বা অতিবেগুণী আলো, আরো ছোট হলে এক্স-রে, আরো ছোট হলে গামা রে-যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়। 
- আবার তরঙ্গদৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্য থেকেও বড় হয়, সেই আলোকে বলা হয় ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলো, আরো বড় হলে মাইক্রোওয়েভ, আরো বড় হলে রেডিও ওয়েভ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৯৫.
পাউরুটি ফোলানোর জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. টি-২ ফাজ
  2. ঈস্ট
  3. অ্যামিবা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ইস্ট:
- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৬.
Alternating current (AC)-এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. প্রবাহের মান স্থির থাকে
  2. প্রবাহ কেবল ধনাত্মক মান গ্রহণ করে
  3. প্রবাহ একদিকে স্থায়ীভাবে চলতে থাকে 
  4. প্রবাহের দিক পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা

• প্রবাহের দিক পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হওয়াই Alternating Current (AC)-এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

• Alternating Current (AC):
- Alternating Current হলো এমন এক ধরনের বৈদ্যুতিক প্রবাহ যেখানে ইলেকট্রনের গতি সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে।
- AC-তে তড়িৎধারা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
- AC-তে ভোল্টেজ ও কারেন্ট উভয়ের মান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়।
- AC সাধারণত sine wave আকারে পরিবর্তিত হয়।
- এক পূর্ণ চক্রে মান শূন্য, ধনাত্মক, পুনরায় শূন্য, ঋণাত্মক, আবার শূন্য অবস্থায় ফিরে আসে।

• AC ও DC-এর পার্থক্য:
- DC (Direct Current) একদিকে স্থায়ীভাবে প্রবাহিত হয়।
- AC নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে।
- DC-তে ভোল্টেজ সাধারণত স্থির থাকে।
- AC-তে ভোল্টেজ ও কারেন্ট পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়।

• AC-এর ব্যবহারিক গুরুত্ব:
- AC সহজেই ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ভোল্টেজ বৃদ্ধি ও হ্রাস করা যায়।
- উচ্চ ভোল্টেজে শক্তি দূরদূরান্তে পরিবহন করা যায়।
- গৃহস্থালী ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহে AC ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- প্রবাহের মান স্থির থাকে → এটি DC-এর বৈশিষ্ট্য।
- প্রবাহ কেবল ধনাত্মক মান গ্রহণ করে → এটি একমুখী প্রবাহের ধারণা।
- প্রবাহ একদিকে স্থায়ীভাবে চলতে থাকে → এটি Direct Current-এর বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা [লিংক]।

২,১৯৭.
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন গ্যাস
  2. অক্সিজেন গ্যাস
  3. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস
  4. নাইট্রোজেন গ্যাস
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপর জৈব যৌগের প্রভাব: 
• বিভিন্ন জৈব যৌগ যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার পর তা আশেপাশের পরিবেশে ফেলা হয়। 
- সে সব পদার্থ পচনশীল হলে তা ছত্রাক ও ব্যকটেরিয়া দ্বারা বিযোজিত হয়ে মাটির 'হিউমাস' বৃদ্ধি করে। 
- হিউমাস মাটির পানি, বাতাস ও পুষ্টি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে মাটির গঠন সংযুক্তিতে পরিবর্তন আনে। 
- এসব পদার্থ হলো আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহৃত শাকসবজি জাতীয় প্রাকৃতিক পলিমারের অংশ বিশেষ। 
- এসব প্রাকৃতিক জৈব বর্জকে নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে মাটি চাপা দিতে হয়, না হলে পরিবেশ দুষণ ঘটায়। 

• পরিবহনের ইঞ্জিন হতে পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস দহনের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও পানি বের হয়ে আসে যেগুলো গ্রীন হাউজ গ্যাস হিসাবে পরিচিত। 
- এই গ্রীন হাউজ গ্যাস (কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি) -এর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। 

• বিভিন্ন সাংশ্লেষিক পলিমার যেমন- পলিথিন ব্যাগ, বিভিন্ন প্যাকেজিং সামগ্রী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা বিযোজিত হয় না অর্থাৎ অবিকৃত অবস্থায় মাটিতে ও পানির তলদেশে থেকে যায়।
- এগুলো মাটি ও পানির যেরূপ ক্ষতি করে তেমনি ভাবে জলজ প্রাণীও এগুলোর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 

• ফসলের জমিতে বিভিন্ন পোকামাকড়, জীবানু ধ্বংস করতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় যেগুলো বৃষ্টির পানির মাধ্যমে খাল-বিল, নদী-নালায় ছড়িয়ে পরে যা পানি ও বায়ুর দূষণ ঘটায়। ফলে পানির DO হ্রাস পায়। 
- এতে পানির মাছ ও জলজ প্রাণি মরে যায় ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। 

• শিল্প কারখানা হতে বিভিন্ন জৈব দ্রাবক রাসায়নিক পদার্থ বর্জ্যরূপে বেড়িয়ে আসে। 
- এগুলো সাধারণত উদ্বায়ী, ফলে এগুলো খুব সহজেই বায়ুতে মিশ্রিত হয়ে বায়ু দূষণ ঘটায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৮.
কোন ধরনের কণার পারস্পরিক বিনিময়ের ফলে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল হয়?
  1. বোসন
  2. গ্রাভিটন
  3. মেসন
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force) । 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। 
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। 
- এ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি। 
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। 
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৯.
০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের বেগ কত?
  1. ৫১০০ মিটার/সেকেন্ড
  2. ১৪৯০ মিটার/সেকেন্ড
  3. ৫৬০ মিটার/সেকেন্ড
  4. ৩৩০ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

- ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৩০ মিটার। তবে ২০° সেলসিয়াস সাধারণ তাপমাত্রায় এই বেগ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৪৩-৩৪৪ মিটার/সেকেন্ড।
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়।
- শব্দ নামক যান্ত্রিক তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। তরলে শব্দের বেগ বাতাসে বেগের থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তার থেকেও বেশি।

- বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ:



উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২,২০০.
সরলরেখায় গতিশীল একটি গাড়ীর আদিবেগ u ; এবং সুষম ত্বরণ at2। t সময় পর বেগ v হলে নিচের কোন সমীকরণটি সঠিক?
  1. ক) v = u + at
  2. খ) v = u + at3
  3. গ) v = 4 + at3/2
  4. ঘ) v = 4 + at4/2
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন:সরলরেখায় গতিশীল একটি গাড়ীর আদিবেগ u ; এবং সুষম ত্বরণ at2। t সময় পর বেগ v হলে নিচের কোন সমীকরণটি সঠিক? 

সমাধান:
আমরা জানি,
ত্বরণ = (শেষ বেগ - আদি বেগ)/অতিক্রান্ত সময়
⇒ at2 = (v - u)/t
⇒ at3 = v - u
∴ v = u + at3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।