বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৯ / ৬৪ · ১,৮০১১,৯০০ / ৬,৪০৯

১,৮০১.
রাবার নিচের কোন জৈব দ্রাবকে অদ্রবণীয় থাকে?
  1. বেনজিন
  2. ইথার
  3. পেট্রোল
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০২.
উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ও সহজে পরিবহনযোগ্য আধুনিক কম্পিউটারের ভিত্তি হচ্ছে -
  1. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেজিস্টর
  4. ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC)
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা IC  হল ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটরের সমন্বয়ে গঠিত একটি সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী প্রথম IC তৈরি করেন।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। 
- বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার- IBM system 360।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৩.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. হিমায়িত অক্সিজেন
  2. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইড
  3. হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ বা 'ড্রাই আইস' হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড-78.5°C উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় বা বাষ্পে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৪.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) বিজারক
  2. খ) জারক
  3. গ) বিকারক
  4. ঘ) প্রভাবক
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৮০৫.
নিচের কোনটি উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়?
  1. ক) বেনজয়িক এসিড
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। আয়োডিন, বেনজয়িক এসিড কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথলিন, কার্বন, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড প্রভৃতি পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে উর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১,৮০৬.
ফোটন কণার চার্জের ধরন কী? 
  1. ধনাত্মক 
  2. নিরপেক্ষ 
  3. ঋণাত্মক 
  4. পরিবর্তনশীল 
ব্যাখ্যা

ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৭.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা অভিন্ন কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন তাদেরকে কী বলে?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
ব্যাখ্যা
আইসোবার : প্রকৃতিতে এমন কিছু পরমাণু রয়েছে যাদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু ভর সংখ্যা অভিন্ন। এ ধরনের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোবার বলে।
যেমন- 146C ও 147N পরস্পর আইসোবার। কারণ কার্বন ও নাইট্রোজেন প্রত্যেকেরই ভর সংখ্যা ১৪ করে কিন্তু কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬ ও নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৮.
pH স্কেলের সর্বোচ্চ সীমা কত পর্যন্ত হতে পারে?
  1. 6
  2. 7
  3. 18
  4. 14
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন বা নিরপেক্ষ হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৯.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. তড়িৎ বিভব 
  3. ইলেকট্রোলাইসিস
  4. লেকট্রোফোরেসিস
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং (Electroplating): 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 
যেমন-লোহার উপর কপার ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার জন্য CuSO4 এর একটি দ্রবণ নেওয়া হয় এবং কপার দণ্ডকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে এবং লোহা দণ্ডকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করে দ্রবণে তড়িৎ প্রবাহিত করা হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহকালে Cu দণ্ডের কপার 2টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Cu2+ হিসেবে দ্রবণে চলে যায়। 
• Cu → Cu2+ + 2e-  [জারণ বিক্রিয়া] 
- এবার এই Cu2+ দ্রবণের মধ্য দিয়ে Fe দণ্ড থেকে ২টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cu এ পরিণত হয় এবং Fe দণ্ডের উপর লেগে যায়। 
• Cu2+ + 2e- → Cu  [বিজারণ বিক্রিয়া] । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১০.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত তেজস্ক্রিয় মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা সাধারণত কত হয়?
  1. ক) ৮৯ এর বেশি
  2. খ) ৮২ এর বেশি
  3. গ) ১০৫ এর বেশি
  4. ঘ) ৮৫ এর বেশি
ব্যাখ্যা
- কোনো প্রাকৃতিক পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ঘটনা ঘটলে সেসব পদার্থকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলে।
- যেমন- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম, থোরিয়াম ইত্যাদি হলো প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় মৌল।
- এসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা সাধারণত ৮২ বা তার থেকে বেশি হয়ে থাকে। 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৮১১.
অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ১৬, নিউট্রন সংখ্যা ৮, এর পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ২৪
  2. খ) ১২
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুতে একটি প্রোটন আছে। তাই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১। অক্সিজেনের একটি পরমাণুতে ৮টি প্রোটন আছে। তাই অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮। 
 কোনো মৌলের পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টিকে ভরসংখ্যা হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

অর্থাৎ কোনো মৌলের ভরসংখ্যা = ঐ মৌলের পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যা + নিউট্রনের সংখ্যা
যেমন অক্সিজেনের ভরসংখ্যা ১৬, নিউট্রন সংখ্যা ৮, তাহলে প্রোটন সংখ্যা ৮। প্রোটন সংখ্যাকেই পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
অতএব, অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
১,৮১২.
নিচের কোন রশ্মিটির ভেদন ক্ষমতা সবথেকে বেশি?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) রঞ্জন রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি:

- গামা রশ্মি চার্জ নিরপেক্ষ অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে এই রশ্মির ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি।
- স্বল্প আয়নায়ন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- এই রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
- এর কোন ভর নেই।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১৩.
নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে 'ভারী জল' কী হিসেবে ভূমিকা পালন করে? 
  1. ফুয়েল হিসেবে 
  2. মডারেটর হিসেবে 
  3. প্রোটেকশন হিসেবে 
  4. তাপশক্তি উৎপাদনের জন্য 
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরে 'ভারী জল' মডারেটর হিসেবে হিসেবে ভূমিকা পালন করে। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

মডারেটর: 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181 MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড এবং গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৪.
লোহা ও নিকেল কোন ধরণের চৌম্বক পদার্থ?
  1. ক) ফেরো চৌম্বক পদার্থ
  2. খ) প্যারা চৌম্বক পদার্থ
  3. গ) ডায়া চৌম্বক পদার্থ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ডায়া চৌম্বক পদার্থ:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
- অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়।
- এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• প্যারা চৌম্বক পদার্থ:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়।
- এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরো চৌম্বক পদার্থ:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়।
- এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,৮১৫.
2 মিটার ফোকাস দূরত্ব বিশিষ্ট উত্তল লেন্সের ক্ষমতা কত হবে?
  1. + 0.5 D
  2. + 1.0 D
  3. - 2.0 D 
  4. - 0.5 D
ব্যাখ্যা

- 2 মিটার ফোকাস দূরত্ব বিশিষ্ট উত্তল লেন্সের ক্ষমতা হবে +0.5 D, কারণ লেন্সের ক্ষমতা (P)) হলো ফোকাস দূরত্বের (f)) ব্যস্তানুপাতিক (P = 1/f) এবং উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ধনাত্মক (positive) হওয়ায় ক্ষমতাও ধনাত্মক হয়, তাই P = 1/2 মিটার = +0.5 ডায়াপ্টর (D)। 

লেন্সের ক্ষমতা: 
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল এক গুচ্ছ আলোকরশ্মিকে উত্তল লেন্স কেন্দ্রীভূত বা অভিসারী করে এক বিন্দুতে মিলিত করে। অপরদিকে অবতল লেন্স একগুচ্ছ সমান্তরাল রশ্মিকে অপসারী করে; ফলে ঐ রশ্মিগুচ্ছ কোনো একটি বিন্দু থেকে অপসারিত হচ্ছে বা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। 
- আলোকরশ্মিকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াটি পরিমাপ করার জন্য লেন্সের ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়। 
• ১-কে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব (মিটারে প্রকাশ করে) দিয়ে ভাগ করা হলে লেন্সের ক্ষমতা পাওয়া যায়, যার একক হল ডায়াপ্টর। 
অর্থাৎ, একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হলে তার ক্ষমতা হবে ১/২ ডায়াপ্টর = ০.৫ ডায়াপ্টর। 
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক বা ঋণাত্মক উভয়ই হতে পারে। 
- কোনো লেন্সের ক্ষমতা +1D বলতে বোঝায়, লেন্সটি উত্তল এবং এটি প্রধান অক্ষের ১ মিটার দূরে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে মিলিত করবে। 
- একইভাবে, লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে, লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলো কোনো লেন্স থেকে ১/২ মিটার বা ৫০ সেমি দূরের কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮১৬.
কোনটির উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়েছে? 
  1. চৌম্বকীয় আবেশ
  2. তড়িৎ আবেশ
  3. তড়িৎ চৌম্বক আবেশ
  4. স্থির তড়িৎ আবেশ
ব্যাখ্যা
জেনারেটর (Generator): 
- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্রকে জেনারেটর বলে। 
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়। 
- জেনারেটর দুই ধরনের হয়ে থাকে। 
যেমন- ডি. সি. জেনারেটর ও এ. সি. জেনারেটর।  
- এ. সি. জেনারেটরই বহুল ব্যবহৃত হয়। 
- মোটর ও জেনারেটরের গঠন প্রায় একই। 
- মোটরে তড়িৎ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যান্ত্রিক শক্তি সৃষ্টি করা হয়। 
- আর জেনারেটরে যান্ত্রিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ শক্তি সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৭.
কোনটি একমুখী বিক্রিয়া?
  1. অ্যামোনিয়া উৎপাদন 
  2. CO2 উৎপন্ন
  3. এস্টার সংশ্লেষণ
  4. CaCO3 তাপীয় বিয়োজন
ব্যাখ্যা

CO2 উৎপন্ন এটি একমুখী বিক্রিয়া। 

রাসায়নিক বিক্রিয়ার দিক (Direction of Reaction)
রাসায়নিক বিক্রিয়ার দিকের উপর ভিত্তি করে বিক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

ক) একমুখী বিক্রিয়া (Irreversible Reaction)
- এই ধরনের বিক্রিয়ায় শুধুমাত্র বিক্রিয়ক পদার্থ বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয়।
- উৎপাদসমূহ পুনরায় বিক্রিয়ক পদার্থে পরিবর্তিত হয় না।
- সম্মুখ বিক্রিয়ার গতিবেগই বর্তমান থাকে, পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়ার কোনো গতিবেগ নেই।

উদাহরণসমূহ:
1. গাছে পাতা, ফুল, ফল ঝরে পড়া; খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক; জীবদেহের বার্ধক্য ও মৃত্যু।
2. কার্বনকে আগুনে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়: C(s) + O₂(g) → CO₂(g)
3. পটাশিয়াম ক্লোরেট (KClO₃) উত্তাপে KCl ও O₂ উৎপন্ন করে:
2KClO₃(s) → 2KCl(s) + 3O₂(g)
4. আয়নিক বিক্রিয়া: NaCl(aq) + AgNO₃(aq) → AgCl↓ + NaNO₃(aq)

খ) উভমুখী বিক্রিয়া (Reversible Reaction)
- উভমুখী বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক পদার্থ উৎপাদে পরিণত হয় এবং উৎপাদ পদার্থও পুনরায় বিক্রিয়ক পদার্থে ফিরে যায়।
- সম্মুখ ও পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়া একসাথে চলতে থাকে।
- উভমুখী বিক্রিয়ার সমীকরণে ⇌ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণসমূহ:
1. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের বিক্রিয়া অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে:
N₂(g) + 3H₂(g) ⇌ 2NH₃(g)
- উৎপন্ন NH₃ তাপ শোষণ করে পুনরায় N₂ ও H₂ তে পরিণত হয়।

2. আবদ্ধ পাত্রে কঠিন চুনাপাথরের (CaCO₃) তাপীয় বিয়োজন:
CaCO₃(s) ⇌ CaO(s) + CO₂(g)
- উৎপন্ন CaO ও CO₂ পুনরায় CaCO₃ এ ফিরে আসে।

3. এস্টার সংশ্লেষণ (ইথানল + ইথানোয়িক এসিড):
CH₃-CH₂OH + CH₃-COOH ⇌ CH₃-CO-O-CH₂-CH₃ + H₂O

4. হাইড্রোজেন ও আয়োডিনের বিক্রিয়া:
H₂ + I₂ ⇌ 2HI
- দীর্ঘ সময় পরেও বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। কারণ HI গ্যাসও পুনরায় H₂ ও I₂ তে বিয়োজিত হয়।
- উভমুখী বিক্রিয়ায় বদ্ধ পাত্রে H₂, I₂ ও HI তিনটি উপাদানই উপস্থিত থাকে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৮.
কোনটি অম্লীয় যৌগ?
  1. ক) FeCI3
  2. খ) KCI
  3. গ) CH3CI
  4. ঘ) C6H5CI
ব্যাখ্যা
- FeCl3 একটি লুইস এসিড।
- FeCl3 লুইস কাঠামোতে, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে Fe +3 অক্সিডেশন অবস্থা এবং এটির d অরবিটালে পাঁচটি ইলেকট্রন রয়েছে এবং d অরবিটালে সর্বোচ্চ সংখ্যক ইলেকট্রন জমা হয় 10।
- সুতরাং, এটি তার d অরবিটালে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে। এটি লুইস এসিড হিসাবে কাজ করে।
- অর্থাৎ FeCl3 একটি অম্লীয় যৌগ।
১,৮১৯.
হাট বাজারে শব্দের তীব্রতার স্তর কত ডেসিবল? 
  1. ৩০ ডেসিবল 
  2. ৫০ ডেসিবল 
  3. ৪০ ডেসিবল 
  4. ৭০ ডেসিবল 
ব্যাখ্যা

- হাট বাজারে শব্দের তীব্রতার স্তর বা শব্দের তীব্রতা লেভেল হচ্ছে ৭০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2  । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা যার মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২০.
কোনটি টুথপেষ্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সিডার উড
  2. খ) তারপিনল
  3. গ) লিনানল
  4. ঘ) মেনথল
ব্যাখ্যা
টুথপেস্ট তৈরিতে উপাদান হিসেবে মেনথল ব্যবহৃত হয়। দাঁত ব্রাশ করলে শীতল এবং ফ্রেশ অনুভূতির উৎস মেনথল।
১,৮২১.
মানুষের মস্তিষ্কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত?
  1. ক) ১/১০ সেকেন্ড
  2. খ) ১/১০০ সেকেন্ড
  3. গ) ১ সেকেন্ড
  4. ঘ) ১/১০০০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
মানুষের মস্তিষ্কে মূল শব্দের অনুভূতি বা শব্দানুভূতির স্থায়িত্ব কাল বা শ্রুতি রেশ ০.১ সেকেন্ড বা ১/১০ সেকেন্ড।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২২.
‘ড্রাই আইস’ (dry ice) হলো -
  1. ক) কঠিন অবস্থায় কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. খ) কঠিন অবস্থায় সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. গ) শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে বরফ
  4. ঘ) হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের কঠিন অবস্থা
ব্যাখ্যা
Dry ice, carbon dioxide in its solid form, a dense, snowlike substance that sublimes (passes directly into the vapour without melting) at −78.5 °C (−109.3 °F), used as a refrigerant, especially during shipping of perishable products such as meats or ice cream. Source: britannica.com
১,৮২৩.
কোন মৌলটির আয়নীকরণ শক্তি বেশি?
  1. ক) Li
  2. খ) B
  3. গ) C
  4. ঘ) Ne
ব্যাখ্যা
• আয়নীকরণ শক্তি: গ্যাসীয় অবস্থায় কোন মৌলের নিরপেক্ষ পরমাণু থেকে ইলেকট্রন অপসারণ করে ধনাত্বক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে মৌলটির আয়নীকরণ শক্তি বলা হয়।
- পরমাণুর বাইরের স্তর থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে প্রথম আয়নীকরণ শক্তি, পরের ১টি ইলেকট্রন অপসারণ করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে দ্বিতীয় আয়নীকরণ শক্তি বলা হয়।

- দেখা যাচ্ছে যে পর্যায়ের বাম থেকে ডান দিকে গেলে সাধারণত  ১ম আয়নীকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
- পর্যায় সারণির বাম থেকে ডান দিকে গেলে পরমাণুর আকার ছোট হতে থাকে।
- এতে বাইরের স্তরের ইলেকট্রনের সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বাড়তে থাকে।
- ফলে ইলেকট্রন অপসারণ কষ্টকর হয়, তাই আয়নীকরণ শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৪.
ফটোস্ট্যাট মেশিনে ব্যবহৃত মৌলিক পদার্থটির নাম কী?
  1. সেলেনিয়াম
  2. মলিবডেনাম
  3. সিলভার
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
সেলেনিয়াম:
• সেলেনিয়াম একটি রাসায়নিক মৌল যার প্রতীক Se এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৩৪।
• এটি পর্যায় সারণীতে সালফার এবং টেলুরিয়াম উপাদান গুলোর মধ্যে থাকা একটি অধাতু।
ফটোস্ট্যাট মেশিনে সেলেনিয়াম ব্যবহার করা হয়


উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৮২৫.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) মহাকাশযান উৎক্ষেপণ
  2. খ) একজন মাঝির নৌকা চালানো
  3. গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
  4. ঘ) বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র: বল প্রয়ােগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে। উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়ােগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
নিউটনের তৃতীয় সূত্র: যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। উদাহরণঃ
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮২৬.
কোনটি সরল ছন্দিত স্পন্দনের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সরল রৈখিক গতি
  2. ত্বরণ সর্বদা নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী
  3. ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের ব্যস্তানুপাতিক
  4. পর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা
• যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক।

• সরল ছন্দিত স্পন্দন:

- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। যেমন-
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি।
- তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি।
- পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি।

• সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য:
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি,
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি,
৩. এটি সরল রৈখিক গতি,
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক,
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৭.
নিচের কোনটি প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষের উদাহরণ নয়?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. শুষ্ক কোষ
  3. লেড–এসিড সঞ্চয়ী কোষ
  4. ভোল্টা কোষ
ব্যাখ্যা

• লেড–এসিড সঞ্চয়ী কোষ সেকেন্ডারি তড়িৎ রাসায়নিক কোষের উদাহরণ।

• তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। - তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ:
যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ:
যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৮২৮.
বাতাসে শব্দের বেগ কত?
  1. 330 m/s
  2. 1284 m/s
  3. 1493 m/s
  4. 1450 m/s
ব্যাখ্যা
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে,
- পানিতে শব্দের বেগ ১৪৯৩ মি/সে এবং
- লোহাতে শব্দের বেগ ৫১৩০ মি/সে।
- হাইড্রোজেনে  শব্দের বেগ ১২৮৪ মি/সে,
- পারদে শব্দের বেগ  ১৪৫০ মি/সে,

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
১,৮২৯.
এক হর্স পাওয়ার = কত ওয়াট?
  1. ৭৪৬
  2. ৭৬৪
  3. ৭৮৬
  4. ৭৬৮
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 

- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩০.
দীপন তীব্রতার একককে কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
  1. ক) cd
  2. খ) ca
  3. গ) ad
  4. ঘ) cc
ব্যাখ্যা

দীপন তীব্রতা (Luminous intensity)
আমরা বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন প্রকার আলোক উৎস ব্যবহার করি। কোনোটি বেশি আলো দেয়, আবার কোনোটি কম আলো দেয়। একটি উৎস কি পরিমাণ আলো দেয় তার পরিমাণকে বলা হয় দীপন উৎসের তীব্রতা।
অর্থাৎ উৎসের দীপন তীব্রতা বলতে বুঝায় এটি প্রতি সেকেন্ডে কি পরিমাণ আলো দেয় বা এ থেকে কি পরিমাণ আলোক শক্তি নির্গত হয়।
একটি বিন্দু উৎস থেকে নির্দিষ্ট দিকে, প্রতি সেকেন্ডে একক ঘনকোণে যে পরিমাণ আলোক নির্গত হয় তাকে ঐ উৎসের দীপন তীব্রতা বলে। এর সংকেত I.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে দীপন তীব্রতার একক ক্যান্ডেলা (cd)।

আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ১৯৮৯ সালে ক্যান্ডেলার নিম্নরূপ সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে।
এক ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে  540 × 1012  হার্জ কম্পাঙ্কের এক বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরেডিয়ান ঘনকোণে 1/683 ওয়াট।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৩১.
রেকটিফাইড স্পিরিট কী?  
  1. মিথানলের জলীয় দ্রবণ 
  2. ইথানলের জলীয় দ্রবণ  
  3. মিথোনয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ 
  4. ইথোনয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ 
ব্যাখ্যা

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 

- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৩২.
এসিড বৃষ্টি কেন হয়?
  1. ক) আগ্নেয় গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে
  2. খ) দাবানলের কারণে
  3. গ) গাছপালার পচনের কারণে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ি দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পচন, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে।
একইভাবে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বিশেষ করে কয়লা বা গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইট ভাটা, যানবাহন, চুলা ইত্যাদি উৎস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা এসিডে পরিনত হয় এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৮৩৩.
উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ হচ্ছে -
  1. ক) ডিটারজেন্ট
  2. খ) খাবার লবণ
  3. গ) সাবান
  4. ঘ) বেকিং সোডা
ব্যাখ্যা
সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৮৩৪.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. বেরিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি মৌলগুলোকে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই মৌলগুলোর প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 
যেমন- 
• লিথিয়াম (Li), 
সোডিয়াম (Na), 
• পটাসিয়াম (K), 
রুবিডিয়াম (Rb), 
সিজিয়াম (Cs) এবং 
• ফ্রান্সিয়াম (Fr)। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
যেমন- 
• বেরিলিয়াম (Be), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• স্ট্রনসিয়াম (Sr), 
বেরিয়াম (Ba) এবং 
• রেডিয়াম (Ra)। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। 
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৩৫.
কক্ষতাপমাত্রায় গ্যাসের ঘনত্ব -
  1. অনেক বেশি
  2. তরলের তুলনায় বেশি
  3. খুবই কম
  4. তরল অবস্থার সমান
ব্যাখ্যা

গ্যাসের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Gas):
- কক্ষ তাপমাত্রায় যে সব উপাদান বায়বীয় অবস্থায় থাকে তাকে গ্যাস বলা হয়।
- যেমন- O2, N2, H2, CO2, He এ সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ।

গ্যাসীয় পদার্থগুলো বেশিকিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। যেমন-
১। আকার ও আয়তন: গ্যাসীয় পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। সাধারণত যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন বলে ধরা হয়।
২। সম্প্রসারণশীলতা: গ্যাসের সম্প্রসারণ ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় খুব দ্রুত ঐ পাত্রের সমস্ত জায়গায় গ্যাস বিস্তৃত হয়ে পড়ে।
৩। ব্যাপন: গ্যাসের ব্যাপনের ক্ষমতা খুব বেশি। দুই বা ততোধিক গ্যাস পরস্পরের মধ্যে দ্রুত গতিতে পরিব্যাপ্ত হয়ে সমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরি করে থাকে। গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক শূন্য স্থান থাকে বলে এটি সম্ভব হয়।
৪। আন্তঃকণা আকর্ষণ বল: গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য। এ বলের মান ততই কম যে সাধারণভাবে একে শূন্য বলে ধরে নেয়া হয়।
৫। ঘনত্ব: কক্ষতাপমাত্রায় গ্যাসের ঘনত্ব খুবই কম। উপাদানের একক আয়তনের ভরকে উপাদানের ঘনত্ব বলা হয়। গ্যাসীয় অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক দূরত্ব অধিক হওয়ায় একক আয়তনে গ্যাস অণুর সংখ্যা কম হয়। এ কারণে একক আয়তনের ভর তথা ঘনত্ব কম হয়।
৬। গ্যাসের চাপ: যে পাত্রে গ্যাস রাখা থাকে ঐ গাত্রের দেয়ালের উপর গ্যাস চাপ প্রয়োগ করে। গ্যাস অণুগুলো গতিশীল থাকায় পাত্রের দেয়ালে চাপ বা বল প্রয়োগ করে। গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক আরোপিত এ চাপ পাত্রের উপরে, নিচে, পার্শ্বে সব জায়গায় সমান থাকে। প্রকৃত পক্ষে স্থির তাপমাত্রায় একক ক্ষেত্রফলের উপর পাত্রের দেয়ালে গ্যাস যে বল প্রয়োগ করে তাকে গ্যাসের চাপ বলা হয়।
৭। অণুর গতি: গ্যাস অণুগুলোর গতিশক্তি যথেষ্টভাবে অধিক এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি জনিত কারণে অণুগুলোর গতিশক্তির বৃদ্ধি ঘটে। গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম হওয়ায় অণুগুলো স্বাধীন এবং বিক্ষিপ্তভাবে গতিশীল থাকে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮৩৬.
তাপমাত্রা কমলে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা-
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তাপমাত্রা বাড়লে এই ধারণ ক্ষমতা বাড়ে আবার তাপমাত্রা কমলে ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
১,৮৩৭.
যে সর্বোচ্চ শ্রুতি সীমার উপরে মানুষ বধির হতে পারে তা হচ্ছে-
  1. ৭৫ ডিবি
  2. ৯০ ডিবি
  3. ১০৫ ডিবি
  4. ১২০ ডিবি
ব্যাখ্যা
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (DB)।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে সাধারণত 60 ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং 100 ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
- পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে অতি-শব্দ মানুষের মানসিক এবং দৈহিক ক্ষতির কারণ।
- ৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
- বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপ অনুসারে, যেকোন ব্যক্তি যেকোন স্থানে আধঘণ্টা বা তার অধিক সময় ধরে ঘটা ১০০ ডিবি বা তার অধিক শব্দ দূষণের ফলে বধির হয়ে যেতে পারে।

[১০০ ডিবি অপশনে না থাকায় অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে ১০৫ ডিবি সঠিক উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে]

উৎস:
১. পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩৮.
Among these scientists, who first proposed that "Earth itself is a big magnet"?
  1. Galileo Galilei
  2. Nikola Tesla
  3. Michael Faraday
  4. William Gilbert
  5. Isaac Newton
ব্যাখ্যা
চুম্বকত্ব: 
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্ম বিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং যাকে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্যাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দিকে (উত্তর -দক্ষিণে) মুখ করে থাকে, তাকেই সাধারণ ভাবে চুম্বক বলা হয়। 
- যে ধর্মের জন্য একটি চুম্বক অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে সেই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌত ধর্ম। 

- কোন পদার্থকে কৃত্রিম উপায়ে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা ইত্যাদির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- আর যেসব বস্তু চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত বা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ (Magnetic substance) বলা হয়। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 

- একটি চুম্বক শলাকাকে এর ভারকেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি সর্বদাই উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে। 
- চুম্বকের এই অবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রানী এলিজাবেথের গৃহ চিকিৎসক ড. গিলবার্ট সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি চুম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক। 
- পৃথিবীর এ চুম্বকত্বকে ভূ-চুম্বকত্ব বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৯.
বিদ্যুৎ পরিবাহকের রোধের একক-
  1. ওয়াট
  2. কুলম্ব
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. ওহম
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- রোধ হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিবাহীর ধর্ম।
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় তাই হলো রোধ।
- রোধের এসআই (SI) একক ও’ম (Ω)।

অন্যদিকে, 
ক্ষমতার একক ওয়াট। 
চার্জের একক কুলম্ব। 
বিদ্যুৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১,৮৪০.
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে?
  1. ফিটকিরি
  2. চুন
  3. সেভিং সোপ
  4. কস্টিক সোডা
ব্যাখ্যা
[এলুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি যার রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]
(পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট. ২৪ অণু পানি); একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।]

• পটাশ অ্যালাম:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪১.
সবল নিউক্লীয় বল নিচের কোন দূরত্বে কাজ করে?
  1. 10-8 m
  2. 10-15 m
  3. 10-10 m
  4. 10-25 m
ব্যাখ্যা
বল
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে।
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে।
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিয়ন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০⁻¹⁸ m) কাজ করে।
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুন বেশি শক্তিশালি।
- কিন্তু সবল নিউক্লীয় বলও খুবই অল্প দূরত্বে (10⁻¹⁵ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪২.
যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়-
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
ব্যাখ্যা

যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা (Mass number) সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়, তাদেরকে আইসোবার (Isobar) বলা হয়।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

অন্যদিকে,
• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

• আইসোমার (Isomer): 
- যাদের আণবিক সংকেত একই কিন্তু গাঠনিক সংকেত বা পরমাণুর বিন্যাস ভিন্ন। এটি মূলত জৈব যৌগের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৩.
নিচের কোনটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীতমুখী হয়ে কাজ করে?
  1. জেনারেটর
  2. সৌর প্যানেল
  3. তাপীয় পাম্প
  4. থার্মোস্ট্যাট
ব্যাখ্যা

- একটি তাপ ইঞ্জিন উচ্চ তাপমাত্রা থেকে তাপ গ্রহণ করে কাজ সম্পাদন করে, কিন্তু তাপীয় পাম্প তার বিপরীত কাজ করে। এটি বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো শক্তির সাহায্যে কাজ সম্পাদন করে তাপকে নিম্ন তাপমাত্রা থেকে উচ্চ তাপমাত্রার দিকে স্থানান্তর করে ৷
- রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারও একই মূলনীতিতে কাজ করে।

• তাপীয় ইঞ্জিন:

- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে ।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ
করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে।
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে।
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে ।

অন্যদিকে,
• তাপীয় পাম্প:
- তাপীয় পাম্প (Heat Pump) হলো এমন একটি যন্ত্র যা তাপগতিবিদ্যার নীতির ওপর ভিত্তি করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে। এটি রেফ্রিজারেটর বা এয়ার কন্ডিশনারের মতোই কাজ করে।
- একটি তাপীয় পাম্প যান্ত্রিক কাজ (বিদ্যুৎ) ব্যবহার করে তাপকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে, যা তাপ ইঞ্জিনের কাজের সম্পূর্ণ বিপরীত।
- অর্থাৎ, তাপ ইঞ্জিন তাপকে কাজে পরিণত করে, আর তাপীয় পাম্প কাজকে তাপ স্থানান্তরে পরিণত করে।

উল্লেখ্য,
- জেনারেটর কোনো তাপীয় যন্ত্র নয়, বরং এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সৌর প্যানেল আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি তাপ ইঞ্জিনের বিপরীত নয় ।
- থার্মোস্ট্যাট হলো একটি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, যা তাপমাত্ৰা নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু নিজে তাপ স্থানান্তর করে না ।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৪.
সলিনয়েড কী?
  1. ক) লোহার দন্ড
  2. খ) পিতলের গুড়া
  3. গ) তারের কুণ্ডলী
  4. ঘ) বিদ্যুৎ পরিবাহী তার
ব্যাখ্যা
একটি লম্বা অন্তরীত পরিবাহী তারকে স্প্রিং-এর মতাে বহুপাকে ঘন সন্নিবিষ্ট করে সাজিয়ে বা কয়েল তৈরি করে তা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে একটি দন্ড চুম্বকের ন্যায় চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। এরকম কুন্ডলীকে সলিনয়েড বলে।
১,৮৪৫.
পৃথিবীর সঙ্গে একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তাকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়? 
  1. পীড়ন
  2. স্থিতিস্থাপকতা
  3. অভিকর্ষ বল
  4. তাড়িতচৌম্বক বল
ব্যাখ্যা

• অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৬.
সবল নিউক্লিয় বল সাধারণত কোথায় কাজ করে? 
  1. বিভিন্ন অণুর মধ্যে
  2. ইলেকট্রন ও নিউট্রনের মধ্যে
  3. নিউট্রন ও প্রোটনের মাঝে
  4. পরমাণুর বাইরের ইলেকট্রনে
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force)। 

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪৭.
কোন মাধ্যমে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলাচল করে?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) বায়ু 
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। শব্দ সবচেয়ে বেশি দ্রুত চলাচল করে থাকে কঠিন মাধ্যমে, এরপর যথাক্রমে তরল এবং গ্যাসীয় মাধ্যমে।
শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

১,৮৪৮.
ডিজিটাল সংকেত সাধারণত কোন দুটি স্তর প্রদর্শন করে? 
  1. উচ্চ এবং নিম্ন
  2. দুর্বল ও শক্তিশালী
  3. ধনাত্মক ও ঋণাত্মক
  4. সংকীর্ণ ও বিস্তৃত
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system) এবং 
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system) । 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- ডিজিটাল সংকেত একটি বিশেষ ধরনের সংকেত যা একটি নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মান ধারণ করে। এই সংকেতের মধ্যে অন্য কোনো স্তর বা মধ্যবর্তী মান থাকে না। 
- এই ধরনের সংকেতকে চৌকো তরঙ্গ (square waves) বলা হয়, কারণ এটি কেবল দুটি স্তরের (উচ্চ এবং নিম্ন) মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।
- ডিজিটাল সিগন্যালের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের পরিবর্তে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহৃত হয়।
- ইলেকট্রনিক্সে এই ধরনের সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারি (binary) সংকেত বলা হয়।
- ডিজিটাল সংকেতের জন্য, দুটি আলাদা অবস্থায় কাজ করা যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ট্রানজিস্টরের সচল (on) বা অচল (off) অবস্থা দ্বারা এই সংকেতকে বোঝানো সম্ভব।
- এছাড়াও, প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি, অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা এবং অচৌম্বকায়িত অবস্থা ব্যবহার করেও ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটি চিহ্নিত করা যায়।
- ডিজিটাল সংকেতের দুটি স্তরকে সাধারণত 0 এবং 1, সত্য এবং মিথ্যা, অথবা উচ্চ এবং নিম্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি জনপ্রিয় ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৯.
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোন দেশের এক জন পদার্থবিজ্ঞানী?
  1. জার্মানি
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. রাশিয়া
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
- জন্ম ২৩ এপ্রিল, ১৮৫৮, কিয়েল , শ্লেসউইগ [জার্মানি]।
- তিনি ছিলেন একজন জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিদ।
- যিনি কোয়ান্টাম তত্ত্বের উদ্ভব করেছিলেন ।
- এ অবদানের  জন্য ১৯১৮ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
- প্ল্যাঙ্ক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে অনেক অবদান রেখেছিলেন , কিন্তু তার খ্যাতি মূলত তার প্রবর্তক হিসাবে তার ভূমিকার উপর নির্ভর করে।
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব . এই তত্ত্বটি পারমাণবিক এবং উপপারমাণবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের বোঝার বিপ্লব ঘটিয়েছে।
-  বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্ব গঠন করে । 
- মৃত্যু ৪ অক্টোবর, ১৯৪৭ গটিংজেন , জার্মানি। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৮৫০.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে কী বলা হয়?
  1. পরমাণু
  2. অণু
  3. ইলেকট্রন
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
• পরমাণু:
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

• অণু:

- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।

• ইলেকট্রন:
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।

• নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫১.
চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কি কারণে?
  1. ক) ত্বরণ
  2. খ) বেগ
  3. গ) গতি
  4. ঘ) জড়তা
ব্যাখ্যা
স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতা কে জড়তা বলে। চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে বসে থাকা যাত্রীর নিচের অংশ স্থির হয়ে গেলেও জড়তার কারণে উপরের অংশ গতিশীল থাকে তাই যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
১,৮৫২.
ক্ষার ধাতু পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে অবস্থিত? 
  1. গ্রুপ-1
  2. গ্রুপ-2
  3. গ্রুপ-11
  4. গ্রুপ-17
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৩.
বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি -
  1. অপরিবর্তিত থাকে
  2. কমে যায়
  3. তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে
  4. বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
• বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।

• শব্দের বেগের পরিবর্তন:

- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3 × 108 ms- 1 নির্দিষ্ট।
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms- 1.
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা I K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6ms- 1 পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৪.
নিচের কোনটি মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়?
  1. গ্লাইসিন
  2. ভ্যালিন
  3. লিউসিন
  4. থ্রিওনাইন
ব্যাখ্যা
আমিষ: 

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। 
- এগুলো হলো:
• লাইসিন,
• ট্রিপেটোফ্যান,
• মিথিওনিন,
• ভ্যালিন,
• লিউসিন,
• আইসোলিউসিন,
• ফিনাইল অ্যালানিন ও
• থ্রিওনাইন। 

- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৫.
কোন দর্পণে প্রতিবিম্বের আকার সবসময় লক্ষ্যবস্তুর সমান হয়? 
  1. উত্তল দর্পণে 
  2. অবতল লেন্সে 
  3. সমতল দর্পণে 
  4. অবতল দর্পণে 
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়, কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৬.
৮ নিউটন বল কোন বস্তুর ২ সেকেন্ড ব্যপী ক্রিয়া করলে, ভরবেগের পরিবর্তন কত হবে?
  1. ক) ৪ kgms-1
  2. খ) ৮ kgms-1
  3. গ) ১৬ kgms-1
  4. ঘ) ৩২ kgms-1
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 
বল = ভরবেগের পরিবর্তন / সময় 
⇒ ভরবেগের পরিবর্তন = বল × সময় 
= ৮ × ২ kgms-1
= ১৬ kgms-1

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৭.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৮.
সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত সূত্র কে দেন?
  1. গ্যালিলিও
  2. কোপারনিকাস
  3. কেপলার
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৯.
কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অনিশ্চয়তা নীতির প্রবক্তা কে?
  1. আইনস্টাইন
  2. হাইজেনবার্গ
  3. বোর
  4. শ্রোডিঞ্জার 
ব্যাখ্যা

◉ ভার্নার হাইজেনবার্গ (Heisenberg) ১৯২৭ সালে Uncertainty Principle (অনিশ্চয়তা নীতি) প্রবর্তন করেন।

হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি (Uncertainty Principle): 
- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ভার্নার হাইজেনবার্গ ১৯২৭ সালে এই নীতি প্রবর্তন করেন।
- কোনো কণার অবস্থান (position) এবং বেগ/ভরবেগ (velocity/momentum) একসাথে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব। প্রকৃতিতে “একই সাথে সঠিক অবস্থান ও সঠিক ভরবেগ”-এর ধারণাটির কোনো বাস্তব অর্থ নেই।
- পরমাণু বা পরমাণু কণার (যেমন: ইলেকট্রন) ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। ইলেকট্রনের বেগ নির্ণয় করতে গেলে অবস্থান পরিবর্তিত হয়, আর অবস্থান মাপতে গেলে বেগের তথ্য অনিশ্চিত হয়।
- অনিশ্চয়তা নীতির ধারণা থেকেই তৈরি হয়েছে কণা ত্বরক বা পার্টিকল অ্যাকসিলারেটর যন্ত্র। যেমন সুইজারল্যান্ডের লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার।

গাণিতিক রূপ:
Δx⋅Δp ≥ h/4π

এখানে, 
Δx = অবস্থান নির্ণয়ের অনিশ্চয়তা, 
Δp = ভরবেগ নির্ণয়ের অনিশ্চয়তা, 
h = প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবক। 

অন্যান্য অপশনসমূহ,
আলবার্ট আইনস্টাইন (Einstein): আপেক্ষিকতার বিশেষ ও সাধারণ তত্ত্বের প্রবক্তা।
নিলস বোর (Bohr): পরমাণুর গঠন ও বোর মডেলের প্রবক্তা।
এরউইন শ্রোডিঙ্গার (Schrödinger): তরঙ্গ যান্ত্রিকতায় (wave mechanics) অবদান ও Schrödinger সমীকরণ প্রদান করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১,৮৬০.
২য় শেল (L-শেল) সর্বাধিক কতটি ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে? 
  1. 18
  2. 2
  3. 8
  4. 32
ব্যাখ্যা

বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাস: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। 
n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন ( যেখানে, n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
যেমন- 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (2)2 = 8 টি
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (3)2 = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (4)2 = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬১.
রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
• রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।

• টেলিভিশন:

- টেলিভিশন শব্দের অর্থ দূরদর্শন।
- ১৯২৬ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী লজি বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের।
- এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র।
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

• রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬২.
সোডিয়ামের আকরিক নিচের কোনটি?
  1. চুনাপাথর
  2. হেমাটাইট
  3. বক্সাইট
  4. রকসল্ট
ব্যাখ্যা
• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬৩.
বজ্রপাতের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেন কীভাবে পৌঁছায়?
  1. বাতাসের চাপের মাধ্যমে
  2. বজ্রপাত দ্বারা নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াম ও নাইট্রেটে রূপান্তর, বৃষ্টিতে মাটিতে পৌঁছানো
  3. সূর্যালোকের বিকিরণ দ্বারা
  4. অক্সিজেনের সরাসরি আঘাতের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়াম (NH4+) এবং নাইট্রেটে (NO3-) রূপান্তরিত করে, পরে বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে পৌঁছায়।

- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
 - উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার।
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট।
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়।
- গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
- যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৪.
পদার্থের চতুর্থ অবস্থাটির নাম কী?
  1. গ্যাস
  2. প্লাজমা
  3. তরল স্ফটিক
  4. বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট
ব্যাখ্যা

• পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
- এই প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস। প্লাজমার বড় উৎস হচ্ছে সূর্য। তাছাড়াও অন্যান্য নক্ষত্রগুলোও প্লাজমার উৎস। প্রায় কয়েক হাজার ডিগ্রী সেলসিয়অস তাপমাত্রায় প্লাজমা অবস্থার উৎপত্তি হয়। 

• বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থের এই অবস্থাটি আয়নিত রূপে থাকে।
- প্লাজমা অবস্থার মূল উৎস হচ্ছে সূর্য। 
- সূর্য ব্যতীত মহাবিশ্বের তারা বা নক্ষত্র পদার্থের এই চতুর্থ অবস্থার উৎস হিসেবে কাজ করে।
- অত্যাধিক তাপমাত্রায় (প্রায় ১-২ হাজার ডিগ্রী ) প্লাজমা অবস্থার উদ্ভব ঘটে।
- গবেষণাগারে নিম্নচাপে গ্যাসীয় পদার্থকে উত্তপ্ত করে প্লাজমা তৈরি করা যায়। 
- গ্যাসীয় পদার্থের মতো প্লাজমার নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই। 
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায়ও প্লাজমা সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে। 

অন্যান্য অপশন:
- গ্যাস (Gas): এটি পদার্থের তৃতীয় অবস্থা।
- তরল স্ফটিক (Liquid Crystal): এটি পদার্থের একটি মধ্যবর্তী বিশেষ অবস্থা, যা সাধারণত বৈদ্যুতিক ডিসপ্লেতে ব্যবহৃত হয়। এটি পদার্থের মূল অবস্থাগুলোর মধ্যে গণ্য হয় না।
- বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট (BEC): এটি হলো পদার্থের পঞ্চম অবস্থা, যা অতি নিম্ন তাপমাত্রায় তৈরি হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১,৮৬৫.
কোন লেন্সে আলো এক বিন্দুতে মিলিত হওয়ার পর আবার ছড়িয়ে পড়ে?
  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. অপসারী লেন্স
  4. সমতল লেন্স
ব্যাখ্যা
লেন্স: 
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দিয়ে সীমাবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- অধিকাংশ লেন্স কাচের তৈরি হয়। তবে কোয়ার্টজ এবং প্লাস্টিক দিয়েও আজকাল লেন্স তৈরি হয় এবং এদের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। 
- লেন্স সাধারণত দুই ধরনের। 
যথা- 
(ক) উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex lens): 
- উত্তল বা অভিসারী লেন্সে আলো রশ্মি হচ্ছে অভিসারী অর্থাৎ এক বিন্দুতে মিলিত হয়। 
- উত্তল লেন্সের মাঝখানে মোটা ও প্রান্ত সরু, তাই এটিকে কখনো কখনো স্থূলমধ্য লেন্সও বলা হয়। 
- আলোকরশ্মি উত্তল লেন্সের উত্তল পৃষ্ঠে আপতিত হয়। 
- এই লেন্স সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোকরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত বা অভিসারী করে কোনো একটি বিন্দুতে মিলিত করে। এই বিন্দুটি হচ্ছে লেন্সের ফোকাস বিন্দু এবং লেন্সের কেন্দ্র থেকে এই বিন্দুর দূরত্ব হচ্ছে ফোকাস দূরত্ব। 
- উত্তল লেন্সে আলো এক বিন্দুতে মিলিত হওয়ার পর সেটি আবার ছড়িয়ে পড়ে। 

(খ) অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave lens): 
- অবতল বা অপসারী লেন্সে আলোকরশ্মি অপসারী অর্থাৎ পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। 
- অবতল লেন্সের মাঝখানে সরু ও প্রান্তের দিকটা মোটা। 
- এই লেন্সের অবতল পৃষ্ঠে সমান্তরাল আলোক রশ্মি আপতিত হলে আলোকরশ্মি অপসারী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। 
- যদি অপসারিত রশ্মিগুচ্ছ সোজা পিছনের দিকে বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে কল্পনা করে নিলে সেগুলো একটি বিন্দুতে মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয়। এই বিন্দুটি হচ্ছে অবতল লেন্সের ফোকাস বিন্দু এবং লেন্সের কেন্দ্র থেকে এই বিন্দুর দূরত্ব হচ্ছে ফোকাস দূরত্ব। 

উল্লেখ্য, 
- অবতল বা অপসারী লেন্সে আলোকরশ্মি মিলিত না হয়ে ছড়িয়ে যায়, কল্পিতভাবে পেছনের দিকে এক বিন্দুতে মিলিত হতে দেখা যায়। 
- সমতল লেন্সে সাধারণত আলো কোনো উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬৬.
শরীরের ব্যথা-বেদনা উপশমে নিচের কোন রশ্মিটি ব্যবহৃত হয় ?
  1. ক) অতিবেগুনি রশ্মি
  2. খ) এক্স রশ্মি
  3. গ) অবলােহিত রশ্মি
  4. ঘ) বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন রােগের চিকিৎসায়, জ্যোতির্বিদ্যায়, শিল্প কারখানায় অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়। অন্ধকারে দেখার জন্য নাইট গগলস হিসেবে এবং অন্ধকারে ছবি তােলার জন্য এই রশ্মির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। মাংসপেশীর ব্যথা ও টান এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। (উৎসঃ  ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

১,৮৬৭.
তড়িৎ বলরেখার ধারণা সর্বপ্রথম কে দেন?
  1. নিউটন 
  2. কেপলার 
  3. আইনস্টাইন 
  4. ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বলরেখা: 
- দুটি আধান পরস্পরকে বল প্রয়োগ করে, এই বল কিভাবে ক্রিয়া করে তা ব্যাখ্যা করার জন্য ফ্যারাডে সর্বপ্রথম বলরেখার ধারণা দেন। এই বলরেখাগুলো ফ্যারাডের কাল্পনিক রেখা, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। 
- কোনো তড়িৎ ক্ষেত্রে একটি অতি ক্ষুদ্র ধনাত্মক আধান রাখলে আধানটি এক প্রকার বল অনুভব করে এবং ঐ বলের প্রভাবে ক্ষুদ্র ধনাত্মক আধানটি গতিশীল হয়। 
- তড়িৎ ক্ষেত্রে একটি মুক্ত ধনাত্মক আধান রাখলে আধানটি যে পথে গতিশীল হয় সেই পথকে তড়িৎ বলরেখা বলে। 
- তড়িৎগ্রস্থ বস্তুর চারিপার্শ্বে এবং তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে এমন অসংখ্য বল রেখা টানা যেতে পারে। 
- বলরেখাগুলো দিয়ে ফ্যারাডে দুটি আধানের মধ্যে আকর্ষণ ও বিকর্ষণ সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন। 
- পরবর্তিতে বলরেখাগুলো তড়িৎ ক্ষেত্র ব্যাখ্যা করার জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। 
সুতরাং, তড়িৎ ক্ষেত্রকে বুঝানোর জন্য তড়িৎ বলরেখা কল্পনা করা হয়। 

- এই কাল্পনিক তড়িৎ বলরেখাগুলির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 
যেমন- 
১। তড়িৎ বলরেখাগুলো বক্ররেখা এবং ধনাত্মক আধানের পৃষ্ঠ থেকে লম্বভাবে নির্গত হয়ে ঋণাত্মক আধানের পৃষ্ঠে লম্বভাবে আপতিত হয়। 
২। এরা কখনো পরস্পরকে ছেদ করেনা। 
৩। এই বলরেখাগুলো স্থিতিস্থাপক সূতার ন্যায় আচরণ করে এবং দৈর্ঘ্য বরাবর সংকুচিত হতে চায়। 
৪। এই বলরেখাগুলো পরস্পরের উপর পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে। 
৫। শূন্য বা বায়ু মাধ্যমে 1 C আধান থেকে 1/∈° সংখ্যক বলরেখা নির্গত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৮.
সর্বোচ্চ গলনাংক বিশিষ্ট ধাতু কোনটি?
  1. টাইটেনিয়াম
  2. প্লাটিনাম
  3. টাংস্টেন
  4. জারকানিয়াম
ব্যাখ্যা
- একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি কারণ টাংস্টেন সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক (৩৪২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বিশিষ্ট, সর্বনিম্ন বাষ্পীয় চাপ বিশিষ্ট এবং ইহা ধাতুগুলোর মাঝে সর্বাধিক প্রসারণযোগ্য। 
- এটি গলে যাওয়ার আগে উচ্চ তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন। 
- টাংস্টেনের (Wolfram) এর সংকেত W. 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬৯.
পৃথিবী থেকে কোনো বস্তুর মুক্তিবেগের (Escape velocity) মান কত?
  1. 9.8 km/s
  2. 11.2 km/s
  3. 15.8 km/s2
  4. 25 km/s
ব্যাখ্যা

- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে খাড়া ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সে বেগকে মুক্তিবেগ বলে।

• মুক্তিবেগের মান:
- কোনো বস্তুকে এমন গতিশক্তি দিতে হবে যাতে সেটি পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যেতে পারে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কোনো বস্তুকে অসীমে নিয়ে যেতে যে কাজ করতে হবে বস্তুটিকে নিক্ষেপের সময় সে গতিশক্তি প্রদান করতে হবে। এরূপ গতিশক্তি অর্জন করতে যে বেগ দিতে হবে তাই মুক্তিবেগ Ve .
- পৃথিবীর মুক্তিবেগের মান 11.2 kms- 1 .
- অর্থাৎ, কোন বস্তুকে এই বেগে নিক্ষেপ করলে তা পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।

১,৮৭০.
ট্রান্সফরমার এর মাধ্যমে কি প্রবাহিত হয়?
  1. বিদ্যুৎ
  2. ভোল্টেজ
  3. ফ্রিকোয়েন্সি
  4. বিদ্যুৎ ও ভোল্টেজ
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্ত ও নিম্ন বিভক্তির ছবি ভাবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলেv
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফর্মার ভোল্টেজ এবং তড়িৎ প্রবাহকে রূপান্তর করে।
- ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার । -

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি

১,৮৭১.
ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে কী বলা হয়?
  1. Transformer
  2. Emitter
  3. Collector
  4. Base
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে Base বলা হয়। ট্রানজিস্টর মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত—Emitter, Base, এবং Collector। Emitter হলো সেই অংশ যেখান থেকে ইলেকট্রন বা হোল প্রবাহ শুরু হয়, আর Collector হলো যেখানে তারা জমা হয়। Base অংশটি খুবই পাতলা এবং এটি Emitter এবং Collector এর মাঝখানে অবস্থান করে। Base এর মাধ্যমে ছোট একটি সিগন্যাল প্রবাহিত হলে Emitter থেকে Collector পর্যন্ত বড় সিগন্যালের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই Base ট্রানজিস্টরের নিয়ন্ত্রণকারী অংশ হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে ট্রানজিস্টর সুইচ বা অ্যাম্প্লিফায়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।
- সঠিক উত্তর: ঘ) Base.

ট্রানজিস্টর (Transistor):

- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়।
- আর একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়।

- তাই একটি ট্রানজিস্টরকে দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়।
- ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে।
- প্রান্তের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে।
- যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭২.
মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে যে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রচলিত তাতে মাইক্রোওয়েভ অধিকাংশ দূরত্ব অতিক্রম করে-
  1. ওয়েভ গাইডের মধ্য দিয়ে
  2. ভূমি ও আয়নোস্ফেয়ারের মধ্যে প্রতিফলন হতে হবে
  3. বিশেষ ধরনের ক্যাবলের মধ্য দিয়ে
  4. খোলামেলা জায়গার মধ্য দিয়ে সরল রেখায়
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোওয়েভ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় সঠিক উত্তরটি হল "ঘ) খোলামেলা জায়গার মধ্য দিয়ে সরল রেখায়"।

এর কারণগুলো হল:
1) মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ অত্যন্ত উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির (সাধারণত 300 MHz থেকে 300 GHz) হওয়ায় এটি সরল রেখায় চলে।
2) দুটি মাইক্রোওয়েভ টাওয়ারের মধ্যে সরাসরি দৃষ্টিরেখা (Line of Sight) থাকা আবশ্যক।

3) এই পদ্ধতিতে অন্যান্য মাধ্যম যেমন ক্যাবল বা ওয়েভগাইডের প্রয়োজন হয় না।
4) আয়নোস্ফিয়ার প্রতিফলনের প্রয়োজন নেই, কারণ মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ আয়নোস্ফিয়ার ভেদ করে যায়।

এই কারণে বাংলাদেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে মাইক্রোওয়েভ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় টাওয়ারগুলি এমনভাবে স্থাপন করা হয় যাতে তাদের মধ্যে সরাসরি দৃষ্টিরেখা (Line of Sight) বজায় থাকে এবং সিগন্যাল খোলা আকাশের মধ্য দিয়ে সরল রেখায় যেতে পারে।

১,৮৭৩.
বর্ণালীর প্রান্তীয় বর্ণ কি কি?
  1. বেগুনি ও হলুদ
  2. লাল ও নীল
  3. নীল ও সবুজ
  4. বেগুনি ও লাল
ব্যাখ্যা
- বর্ণালির প্রান্তীয় বৰ্ণগুলো হচ্ছে- বেগুনী এবং লাল। 
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল। 
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়। 
- আবার আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ তত কম হয়। 
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৪.
সময়ের সাথে সরণের পরিবর্তনের হারকে কী বলে?
  1. ক) দ্রুতি
  2. খ) বেগ
  3. গ) গতি
  4. ঘ) ত্বরণ
ব্যাখ্যা
বেগ:
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে।
- কোনো নির্দিষ্ট দিকে দ্রুতিকে বলা হয় বেগ।
- বেগের মান বলার সাথে দিকও উল্লেখ করতে হয়। কারণ, বেগের মান ও দিক উভয়ই আছে।
- নির্দিষ্ট কোনো দিকে ১০০ মিটার দৌড়ে প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হলো বেগ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
১,৮৭৫.
বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি হলো-
  1. ৫০ হার্জ
  2. ২২০ হার্জ
  3. ২০০ হার্জ
  4. ১০০ হার্জ
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ: 
- যে তড়িৎ প্রবাহ নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে তাকে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ (Alternating Current ) বলে।
- আমাদের দেশে বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার দিক পরিবর্তন করে।
অর্থাৎ, বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি ৫০ হার্জ। 

- বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কতৃক ৪ ধরনের বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়। 
যথা- 
১। নিম্নচাপ (এলটি): ২৩০/৪০০ ভোল্ট। 
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: নিম্নচাপ এসি সিঙ্গেল ফেজ ২৩০ ভোল্ট এবং তিন ফেজ ৪০০ ভোল্ট। 
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড। 

২। মধ্যমচাপ (এমটি): ১১ কেভি। 
-বিদ্যুৎ সরবরাহ: মধ্যমচাপ এসি ১১ কেভি। 
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড। 

৩। উচ্চচাপ (এইচটি): ৩৩ কেভি । 
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: উচ্চচাপ এসি ৩৩ কেভি। 
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড। 

৪। অতি উচ্চচাপ (ইএইচটি): ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি । 
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: অতি উচ্চচাপ এসি ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি। 
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড। 

উৎস: desco.org.b; বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৮৭৬.
আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ওয়াকিটকি কোন ট্রান্সমিশন মোডে কাজ করে? 
  1. সিমপ্লেক্স
  2. হাফ-ডুপ্লেক্স
  3. ফুল-ডুপ্লেক্স
  4. কো-ডুপ্লেক্স
ব্যাখ্যা
ডেটা ট্রান্সমিশন মোড: 
- উৎস থেকে গন্তব্যে ডাটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ডেটা প্রবাহের দিককে বিবেচনা করে ডেটা পাঠানোর পদ্ধতিকে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড বলা হয়। 
- ডেটা প্রবাহের দিকের উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন মোডকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। সিমপ্লেক্স: 
- শুধুমাত্র একদিকে ডেটা প্রেরণের মোড বা পদ্ধতিকে বলা হয় সিমপ্লেক্স। 
- এক্ষেত্রে গ্রাহক যন্ত্রটি কখনোই প্রেরক যন্ত্রটিতে ডেটা পাঠাতে পারে না। 
উদাহরণ- রেডিও, টিভি। 

২। হাফ-ডুপ্লেক্স: 
- হাফ-ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে যে কোন প্রান্ত ডেটা গ্রহণ অথবা প্রেরণ করতে পারে কিন্তু গ্রহণ এবং প্রেরণ একই সাথে করতে পারে না। 
উদাহরণ- ওয়াকিটকি। 

৩। ফুল-ডুপ্লেক্স: 
- এক্ষেত্রে একই সময়ে উভয় দিক হতে ডাটা প্ররণের ব্যবস্থা থাকে। 
- যে কোন প্রান্ত প্রয়োজনে ডেটা প্রেরণ করার সময় ডেটা গ্রহণ অথবা ডাটা গ্রহণের সময় প্রেরণও করতে পারবে। 
উদাহরণ- টেলিফোন, মোবাইল। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৭.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের Frequency কত?
  1. ক) ৫০ হার্জ
  2. খ) ৬০ হার্জ
  3. গ) ৩৩ হার্জ
  4. ঘ) ৬৬ হার্জ
ব্যাখ্যা
বাসা বাড়ির বিদ্যুৎ ফ্রিকোয়েন্সিঃ ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কতৃক ৪ ধরনের বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়।

১। নিম্নচাপ (এলটি): ২৩০/৪০০ ভোল্ট
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: নিম্নচাপ এসি সিঙ্গেল ফেজ ২৩০ ভোল্ট এবং তিন ফেজ ৪০০ ভোল্ট।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

২। মধ্যমচাপ (এমটি): ১১ কেভি
 -বিদ্যুৎ সরবরাহ: মধ্যমচাপ এসি ১১ কেভি।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

৩। উচ্চচাপ (এইচটি): ৩৩ কেভি
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: উচ্চচাপ এসি ৩৩ কেভি।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

৪। অতি উচ্চচাপ (ইএইচটি): ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: অতি উচ্চচাপ এসি ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

উৎস: Source: desco.org.bd, জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [link].
১,৮৭৮.
যে ভৌত রাশিগুলোর মান ও দিক উভয়ই আছে, সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ঘূর্ণন রাশি
  3. অদিক রাশি 
  4. ভেক্টর রাশি 
ব্যাখ্যা

• যে সকল ভৌত রাশির মানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দিকও থাকে, সেগুলোকে ভেক্টর রাশি বলা হয়। ভেক্টর রাশির ক্ষেত্রে শুধু পরিমাণ জানলেই যথেষ্ট নয়, কোন দিকে ক্রিয়া করছে তাও জানা জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বল, বেগ, ত্বরণ ও বল উল্লেখযোগ্য। এর বিপরীতে স্কেলার রাশির শুধু মান থাকে, দিক থাকে না, যেমন ভর বা তাপমাত্রা। 

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

১। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

২। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭৯.
নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?
  1. P4O10
  2. MgO
  3. CO
  4. ZnO
ব্যাখ্যা
- ক্ষারকীয় অক্সাইড হলো এমন অক্সাইড যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষার তৈরি করে। 
- এদের মধ্যে (MgO) ধাতব অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয় হয়। 
- MgO পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)2 গঠন করে, যা একটি ক্ষার। 

Magnesium oxide (MgO) is again a simple basic oxide, because it also contains oxide ions.

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৮৮০.
পৃষ্ঠটান প্রধানত কোন বলের কারণে সৃষ্টি হয়?
  1. ঘর্ষণ বল
  2. অভিকর্ষ বল
  3. বাহ্যিক চাপ
  4. আন্তঃআণবিক আকর্ষণ
ব্যাখ্যা

• আন্তঃআণবিক আকর্ষণ — তরলের পৃষ্ঠে অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বলের অসম বণ্টনের ফলেই পৃষ্ঠটান সৃষ্টি হয়।

• পৃষ্ঠটান:
- তরলের পৃষ্ঠে অবস্থিত অণুগুলোর উপর ভেতরের দিকে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে।
- পৃষ্ঠের অণুগুলো চারদিক থেকে সমান বল পায় না।
- ভেতরের অণুগুলো চারদিক থেকে সমান আকর্ষণ পায়, কিন্তু পৃষ্ঠের অণুগুলো নিচের ও পাশের দিক থেকে আকর্ষণ পায়। ফলে পৃষ্ঠটি সংকুচিত হয়ে টানটান অবস্থায় থাকতে চায়। এই প্রবণতাকে পৃষ্ঠটান বলা হয়।

• পৃষ্ঠটানের বৈশিষ্ট্য:
- তরলের পৃষ্ঠকে স্থিতিস্থাপক পর্দার মতো আচরণ করতে দেখা যায়।
- পৃষ্ঠটান কম হলে তরল সহজে ছড়িয়ে পড়ে।
- পৃষ্ঠটান বেশি হলে তরল ফোঁটার আকার ধারণ করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।

• পৃষ্ঠটানের উদাহরণ:
- পানির ফোঁটা গোলাকার হয়।
- ক্ষুদ্র পোকা পানির উপর ভাসতে পারে।
- সাবান মেশালে পানির পৃষ্ঠটান কমে যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- অভিকর্ষ বল → তরলকে নিচের দিকে টানে, পৃষ্ঠটানের কারণ নয়।
- ঘর্ষণ বল → সংস্পর্শে গতির প্রতিবন্ধক বল।
- বাহ্যিক চাপ → পৃষ্ঠটানের মৌলিক কারণ নয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১,৮৮১.
দুধের রং সাদা হয় কেন?
  1. ক) প্রোটিনের জন্য
  2. খ) ফ্যাটের জন্য
  3. গ) মিনারেলের জন্য
  4. ঘ) কার্বোহাইড্রেটের জন্য
ব্যাখ্যা
প্রোটিনের জন্য দুধের রং সাদা হয়।
- ক্যাসেন এক ধরনের প্রোটিন।
- দুধে এই প্রোটিনটি-ই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে।
- এই ক্যাসেনে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
- ক্যালসিয়াম দেহের হাড়গুলোকে শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,৮৮২.
পানির ঘনত্ব -
  1. ক) 1 gm/cc
  2. খ) 1 gm/m
  3. গ) 1 cm/m2
  4. ঘ) 1 kg/m
ব্যাখ্যা
পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/মিলিলিটার (আসলে 4°C তাপমাত্রায় এই মানটা ১ এর চেয়ে একটু কম, ০.৯৯৯৮৩৯৫ g/ml) অথবা ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার (1 g/cm3)
১,৮৮৩.
কোন পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে? 
  1. লোহা
  2. ইস্পাত
  3. প্লাস্টিক
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
- জার্মেনিয়ামের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর পদার্থের মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে। 

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন - রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না, সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন - কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮৪.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই?
  1. তরল
  2. গ্যাসীয়
  3. কঠিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৫.
নিউটনের গতিবিষয়ক সূত্র কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা
১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর অমর গ্রন্থ "ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা" তে বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতি সূত্র নামে পরিচিত। 

নিউটনের সূত্র তিনটি। যথা:

প্রথম সূত্র: বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।

দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।

তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান। 
১,৮৮৬.
কোন রং আলোর প্রায় সব রং প্রতিফলিত করে?
  1. কালো
  2. সাদা
  3. লাল
  4. বেগুনি
ব্যাখ্যা
রঙ: 
- কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে। 
- তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়। 
- সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়। 
- যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। 
- কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়। 
যেমন- আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৮৮৭.
তুঁতে বা কপার সালফেটের কৃষিতে প্রধান ব্যবহার কী? 
  1. খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি
  2. পানি বিশুদ্ধকরণ
  3. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি
  4. ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত এক ধরনের লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৮.
ক্ষার ধাতু সমূহের জারণ সংখ্যা সাধারণত কত?
  1. 0
  2. +1
  3. -1
  4. +2
ব্যাখ্যা

- ক্ষার ধাতুগুলো (যেমন- লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম) পর্যায় সারণির গ্রুপ-১ এর অন্তর্ভুক্ত। এদের ইলেকট্রন বিন্যাসের শেষ কক্ষপথে মাত্র একটি ইলেকট্রন থাকে, যা ত্যাগ করে এরা সহজেই স্থিতিশীলতা অর্জন করে এবং +1 আধানযুক্ত আয়নে পরিণত হয়। 

জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1. 
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্য সব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮৯.
দ্রবণে সাধারণত দ্রাবকের পরিমাণ দ্রবের তুলনায় কেমন হয়?
  1. বেশি
  2. কম
  3. সমান
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দ্রবণ (Solution) হলো দুই বা ততোধিক পদার্থের মিশ্রণ, যেখানে একটি পদার্থ প্রধানত দ্রাবক (Solvent) এবং অন্যগুলো দ্রব (Solute)। 

দ্রাবক হলো সেই পদার্থ যার পরিমাণ দ্রবণে তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং যেটিতে অন্য পদার্থ (দ্রব) দ্রবীভূত হয়।

• দ্রব হলো সেই পদার্থ যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং যা দ্রাবকে মিশে যায়।

উদাহারণ:-
- সাধারণ লবণ পানি: এখানে পানির পরিমাণ বেশি থাকে (দ্রাবক >> দ্রাব)। 
- চিনির সিরাপ: এখানেও পানি প্রধান উপাদান।   

ব্যতিক্রম:-
- অ্যালকোহল-পানি মিশ্রণ: কখনো কখনো সমান অনুপাতে থাকতে পারে। 
- অম্ল: H₂SO₄ এর ক্ষেত্রে দ্রাব বেশি হতে পারে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৮৯০.
কোনটি তড়িতচৌম্বক তরঙ্গ নয়?
  1. ক) গামা
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) বিটা
  4. ঘ) অতিবেগুণী
ব্যাখ্যা
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না তাকে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ বলে।
- যেমন: 
রেডিও তরঙ্গ,
মাইক্রোওয়েভ,
অবলোহিত রশ্মি,
দৃশ্যমান আলো,
অতিবেগুণী রশ্মি, 
এক্সরে,
গামা রশ্মি।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৮৯১.
পদার্থের অবিভাজ্য একক সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারনা দেন কে?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) পিথাগোরাস
  4. ঘ) ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
• পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 
১,৮৯২.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোকসম্পাত করলে আলোক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. বৈদ্যুতিক শক্তি
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তির রূপান্তর:
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়।
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়।
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৯৩.
লাল আলোতে নীল রঙের বস্তু কেমন দেখায়?
  1. বেগুনী
  2. সবুজ
  3. হলুদ
  4. কালো
ব্যাখ্যা
- লাল আলোতে নীল, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের বস্তুকে কালো দেখায়। 
- আমরা জানি, কোন বর্ণ ঐ বর্ণের আলো ছাড়া অন্য সকল বর্ণের আলোকে শোষণ করে নেয়। 
- এক্ষেত্রে লাল আলোতে হলুদ বস্তুর রং লাল আলো শোষণ করে নেবে। 
- ফলে কোনো বর্ণের আলো প্রতিফলিত হবে না। 
সুতরাং, লাল আলোতে হলুদ বস্তু কালো দেখাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান,  নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৯৪.
প্রতিফলক তলের মসৃণতা বৃদ্ধি পেলে আলোর প্রতিফলনের উপর কী প্রভাব পড়ে?
  1. প্রতিফলনের পরিমাণ হ্রাস পায়
  2. প্রতিফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  3. প্রতিসরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  4. আলোর শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

• প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়।

• আলোর প্রতিফলন :
কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে।
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি।
- সাধারণতঃ দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না।
পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
 তা হলো -
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ।

 - প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়।
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়।
- যেমন সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়।
- কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে।
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়।
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়।
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়।

- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে;
তা হলো-
১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং
২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৯৫.
আলফা কণিকা সম্পর্কিত কোন তথ্যটি ভুল? 
  1. আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে।
  2. আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
  3. আলফা কণিকার ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি।
  4. আলফা কণিকা চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরণের রশ্মি নির্গত হয়। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- আবার যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- আর যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা (α) রশ্মি, ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ রশ্মিকে বিটা (β) রশ্মি এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা (γ) রশ্মি বলে। 

আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব। 
৩। এর শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৬.
‘হিগস বোসন’ কণার আবিষ্কারক কে?
  1. স্টিভেন হকিং
  2. জন বারডিন
  3. পিটার হিগস
  4. জেমস ফ্রাংক
ব্যাখ্যা
‘হিগস বোসন’ কণা
- হিগস বোসন বা ঈশ্বর কণা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রস্তাবিত মৌলিক কণা।
- হিগস ক্ষেত্র এবং তার সহযোগী হিগস বোসন অস্তিত্ব সহজ কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে কিভাবে কিছু প্রাথমিক কণা ভর আছে ব্যাখ্যা করা হবে।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল বলছে এই কণার হিগস ক্ষেত্র, যা অ শূন্য শক্তি আছে সর্বত্র এমনকি অন্যথায় ফাঁকা জায়গাও, সাথে আলাপচারিতার দ্বারা ভর অর্জন।
- ‘হিগস বোসন’ কণার আবিষ্কার করেন পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস। 
- পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ও সত্যেন বোস-এর নামে এই কণার নামকরণ করা হয়।
- যে তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা ভাগ করতে পারি তাকে The Standard Model of Particle Physics বলে।
- এই তথ্য অনুসারে মহাবিশ্বের ব্যারিওনিক ম্যাটার অর্থ্যাত যাদের প্রোটন এবং নিউট্রন রয়েছে কিন্তু ইলেকট্রন বা নিউট্রিনো নেই, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- একটি হলো ফার্মিওন যেখানে কণাগুলোর ভর আছে এবং ইলেকট্রিক চার্জ আছে।
- অন্যদিকে, আরেকটি ভাগ হল বোসন যেখানে কণাগুলো প্রকৃতির বল ধারণ করে।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে আরেকটি অভিনব কণার সন্ধান মিলতে পারে বলে ১৯৬০ সাল থেকে আশাবাদী ছিলেন পদার্থবিদেরা।
- অবশেষে ৪ জুলাই, ২০১২ সালে CERN এ অবস্থিত Large Hadron Collider(LHC) দিয়ে সেই অভিনব কণার সন্ধান মেলে।
- এই হিগস-বোসন এর চিহ্ন হলো H0।

সূত্র- openspace.org.bd. 
১,৮৯৭.
তথ্য প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ও ব্যাপক বিকাশের সূচনা মূলত কোন ঘটনার মাধ্যমে ঘটে?
  1. উপগ্রহ যোগাযোগের সূচনা
  2. মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার
  3. ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ব্যবহার
  4. ইন্টেলস্যাট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার — ১৯৭০-৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার ও সফল কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির প্রকৃত বিকাশ শুরু হয়।

• তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবিকাশ:
- আধুনিক যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ।
- এ প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল।
- প্রাচীনকালে মানুষ আকার-ইঙ্গিতে তথ্য আদান-প্রদান করত।
- পরবর্তীতে দেয়ালে আঁচড় কেটে, পাথর খোদাই করে তথ্য সংরক্ষণ করা হতো।
- কাগজ-কলমের আবির্ভাব তথ্য সংরক্ষণে নতুন ধাপ সৃষ্টি করে।
- আধুনিক সভ্যতার উন্নয়ন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল।

• ইলেক্ট্রনিক্স ও উপগ্রহ যোগাযোগ:
- ইলেক্ট্রনিক্স, ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ, কম্পিউটার প্রযুক্তির সমন্বয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে।
- ইলেক্ট্রনিক্স প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটিং, কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্সকে পৃথকভাবে কল্পনা করা যায় না।
- ষাটের দশকে উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগে নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
- ১৯৬৫ সালে প্রতিটি ইন্টেলস্যাট উপগ্রহে ২৪০টি টেলিফোন সার্কিট অথবা একটি টেলিভিশন চ্যানেল পরিবহনের ব্যবস্থা ছিল।

• তথ্য প্রযুক্তির প্রকৃত বিকাশ:
- ১৯৭০-৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার তথ্য প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
- ১৯৭৬ সালে মাইক্রোকম্পিউটার, ১৯৮১ সালে পার্সোনাল কম্পিউটার, ১৯৮৪ সালে মেকিনটোশ, ১৯৯৬ সালে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- আধুনিক টেলিযোগাযোগ, ডাটা নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট এ প্রযুক্তির ভিত্তি।

• ডিজিটাল যুগ ও ফাইবার অপটিক:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বশেষ ধারা হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি।
- ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তি বাইনারি পদ্ধতি।
- বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ বলা হয়।
- ফাইবার অপটিক ক্যাবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
- ফাইবার অপটিক সংকেতের মান উপগ্রহ সংকেতের তুলনায় উন্নত।

• অন্যান্য অপশন:
- উপগ্রহ যোগাযোগের সূচনা → ষাটের দশকে টেলিযোগাযোগে নতুন ধাপের সূচনা করে।
- ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ব্যবহার → আন্তর্জাতিক যোগাযোগে উচ্চগতির ডাটা পরিবহনে ব্যবহৃত।
- ইন্টেলস্যাট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ → ১৯৬৫ সালে ২৪০টি টেলিফোন সার্কিট পরিবহনের সক্ষমতা ছিল।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৯৮.
সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি? 
  1. তৈল
  2. চর্বি
  3. সাবান
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদ দেহে কিন্তু চর্বি প্রাণি দেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন - সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
১,৮৯৯.
কৃষিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে কোন লবণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. NaCl
  2. KNO3
  3. CuSO4
  4. NH4NO3
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯০০.
আলট্রাসনোগ্রাফি হলো -
  1. ক) এক প্রকার আলোক তরঙ্গ
  2. খ) এক্স-রে এর মাধ্যমে ইমেজিং
  3. গ) ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যর শব্দের দ্বারা ইমেজিং
  4. ঘ) শক্তিশালী শব্দ দিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
ব্যাখ্যা
আলট্রাসনোগ্রাফি দিয়ে শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মাংসপেশি ইত্যাদির ছবি তোলা হয়।
এটি করার জন্য খুব উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ ও ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দ ব্যবহার করে তার প্রতিধ্বনিকে শনাক্ত করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।