বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৮ / ৬৪ · ১,৭০১১,৮০০ / ৬,৪০৯

১,৭০১.
প্রভাবকের ধর্ম নয় কোনটি?
  1. বিক্রিয়ার গতি বাড়ানো
  2. বিক্রিয়ার গতি কমানো
  3. বিক্রিয়া শুরু করা
  4. বিক্রিয়া শেষে ভর অপরিবর্তিত থাকা
ব্যাখ্যা
• "বিক্রিয়া শুরু করা" প্রভাবকের ধর্ম নয়। 

• প্রভাবক:
- যেসব পদার্থ বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি বা হ্রাস করে এবং বিক্রিয়া শেষে ভর ও সংযুক্তিতে অপরিবর্তিত থাকে তাদেরকে প্রভাবক বলা হয়।
- প্রভাবক দ্বারা বিক্রিয়ার গতি হ্রাস-বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকে প্রভাবন (Catalysis) বলে।

• প্রভাবকের বৈশিষ্ট্য:
-  প্রভাবক কোনো বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সময় বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে আবার নাও পারে। তবে প্রভাবন শেষে প্রভাবক ভর, ধর্ম, গঠন ও সংযুক্তিতে অপরিবর্তিত থাকে।
-  কোনো বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবে খুব সামান্য পরিমাণে প্রভাবক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
-  প্রভাবক পদার্থ বিক্রিয়া প্রভাবিত করলেও বিক্রিয়া শুরু করতে পারে না।
-   আবার উভমুখী বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থায় অবস্থানও পরিবর্তন করতে পারে না।
-  কোনো নির্দিষ্ট বিক্রিয়ার প্রভাবকও নির্দিষ্ট অর্থাৎ যেকোনো প্রভাবক যেকোনো বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে না।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০২.
নিচের কোন ক্ষেত্রে স্ববিজারণ ঘটে?
  1. ক) পটাশিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) কপার অক্সাইড
ব্যাখ্যা

সক্রিয়তা সিরিজে নিচের দিকে অবস্থিত কম সক্রিয় ধাতু কপার বা তামা, পারদ, রূপা ধাতুসমূহের অক্সাইড এর ক্ষেত্রে কোনো বিজারক যোগ না করেই শুধু উত্তপ্ত করেও বিজারণ ঘটানো হয়। একে স্ববিজারণ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭০৩.
What happens during a fusion reaction?
  1. One atom splits into two atoms
  2. Several atoms fuse to form a new atom
  3. A nucleus breaks apart releasing huge energy
  4. Multiple atoms split to form multiple atoms
  5. Radioactive decay
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে।

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ার পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে।

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ২ প্রকার।
যথা- নিউক্লিয়ার ফিশন ও নিউক্লিয়ার ফিউশন।

• নিউক্লিয়ার ফিশন:
- নিউক্লিয়ার ফিশন হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস (যেমন- ইউরেনিয়াম- 235 বা প্লুটোনিয়াম- 239) দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়.
- এই প্রক্রিয়ায় নিউট্রন ও বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।
• ব্যবহার:
-পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
-পারমাণবিক অস্ত্র (Atomic Bomb)।

• নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion):
- নিউক্লিয়ার ফিউশন (Fusion) হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে.
- এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।
• উদাহরণ:
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে প্রতিনিয়ত হাইড্রোজেন ফিউশন ঘটে, যার ফলে হিলিয়াম তৈরি হয় ও বিশাল শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,৭০৪.
ক্ষমতার একক কী? 
  1. ওয়াট (W) 
  2. জুল (J) 
  3. কিলোগ্রাম (kg) 
  4. নিউটন (N) 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W পরিমাণ কাজ করা হলে ক্ষমতা P হবে, P = W/t. 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। তাই বলা যায়, ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। 
- কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে- ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে, [P] = ML2T -3
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে বলা হয় 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
- 100 W এর একটা বাতি জ্বালানোর অর্থ হচ্ছে বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 
- আবার যখন শুনা যায়, দেশে 1000 MW নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হবে তার অর্থ সেই নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে প্রতি সেকেন্ডে 1000×106 J বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হবে। 

অন্যদিকে, 
- কিলোগ্রাম (kg) ভরের একক। 
- জুল (J) কাজ বা শক্তির একক। 
- নিউটন (N) বলের একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭০৫.
নিচের কোনটির তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি?
  1. সিলিকন
  2. জার্মেনিয়াম
  3. রূপা
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
পরিবাহিতা:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens)।
- একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি।
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা।

⇒ উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।

⇒ তামা, রূপা, গ্রাফাইট, সোনা ইত্যাদি সবই তড়িৎ পরিবাহী পদার্থ।
- তবে এদের মধ্যে রুপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি।
- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি হলেও রূপার দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বৈদ্যুতিক সংযোগে তামার তার ব্যবহার করা হয়।
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৬.
কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে কোন শক্তির রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে
  3. গ) বিভব শক্তি গতি শক্তিতে
  4. ঘ) যান্ত্রিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূ-পৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে। নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৭.
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরিতে নিচের কোন বিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্ট্রিপিং ও পিক-আপ বিক্রিয়া
  2. খ) ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া
  3. গ) ফিশান বা নিউক্লীয় বিভাজন
  4. ঘ) ফিউশান বা নিউক্লীয় সংযোজন
ব্যাখ্যা
নিউক্লীয় বিক্রিয়ার শ্রেণীবিভাগ Classification of Nuclear Reactions)
- নিউক্লীয় বিক্রিয়া বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন-
(১) ট্রান্সম্যুটেশন
(২) স্ট্রিপিং ও পিক-আপ বিক্রিয়া
(৩) বিক্ষেপণ
(৪) স্প্যালেশন
(৫) ফিশান বা নিউক্লীয় বিভাজন
(৬) ফ্র্যাগমেন্টেশন ও
(৭) ফিউশান বা নিউক্লীয় সংযোজন।
- আইসোটোপ তৈরির জন্য ট্রান্সম্যুটেশন এবং পারমাণবিক শক্তির জন্য ফিউশান ও ফিশান বিক্রিয়া বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া:
- কোন মৌলের স্থায়ী নিউক্লিয়াসকে উচ্চ গতিশীল নিউট্রন, প্রোটন অথবা আল্‌ফা কণা দ্বারা আঘাত করে নতুন মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত করাকে ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া বলে।
- এক্ষেত্রে উৎপাদ নিউক্লিয়াস ও বিক্রিয়ক বা ট্রার্গেট নিউক্লিয়াসের মধ্যে ভর সংখ্যার পার্থক্য ৩ থেকে ৪ এককের বেশি হয় না।
- এ ধরনের বিক্রিয়া প্রধানত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৭০৮.
বিশুদ্ধ পানির pH এর মান কত?
  1. ১২
  2. ৮.৮
  3. ৭.০
  4. ৬.২
ব্যাখ্যা
• pH:
- কোন দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার লগারিদমের ঋণাত্বক মানকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়, এর মান অনুযায়ী দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হবে তা নির্ধারিত হয়।
- pH এর মান ৭ হলে তাকে নিরপেক্ষ দ্রবণ বা প্রশম দ্রবণ বলা হয়।
- pH স্কেলের বিস্তৃতি: ০ – ১৪, 
- বিশুদ্ধ পানির pH হলো ৭;
- pH এর মান ৭ এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় এবং এর বেশি হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।
- মানুষের রক্তের pH এর মান 7.4 (ঈষৎ ক্ষারীয়)। 

উৎস: ৯ম-১০ম শ্রেণি রসায়ন বই এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
১,৭০৯.
অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় কোথায়?
  1. মোটর
  2. জেনারেটর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম চুম্বক:
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

২.স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক।
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭১০.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো চলাচলের মূল নীতি কী?
  1. ব্যতিচার
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিচ্ছুরণ
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত সরু এবং নমনীয় এক ধরণের কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু যার মাধ্যমে তথ্য বা সংকেত আলোক রশ্মি হিসেবে প্রবাহিত হয়। যখন আলোক রশ্মি ফাইবারের ঘন মাধ্যম (কোর) থেকে হালকা মাধ্যম (ক্ল্যাডিং)-এর সীমানায় সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তখন আলো প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই প্রক্রিয়াটিকেই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) বলা হয়। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 

- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৭১১.
ঘরের তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধের ক্রম কত?
  1. 10−4 Ωm
  2. 10−8 Ωm
  3. 106 Ωm
  4. 1011 Ωm
ব্যাখ্যা
পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10−8 Ωm ক্রমের। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 1012 Ωm ক্রমের। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে। 
- পরিবাহীর চেয়ে অত্যন্ত কম কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10−4 Ωm ক্রমের। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১২.
বস্তুর ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে গতিসূত্র প্রদান করেন কে?
  1. কোপার্নিকাস
  2. নিউটন
  3. আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
• স্যার আইজ্যাক নিউটন বস্তুর ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে গতিসূত্র প্রদান করেন।

• নিউটনের গতিসূত্র:

- ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন।
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে।
- এ তিনটি সূত্র নিউটনের বা গতিসূত্র Newtons laws of motion নামে পরিচিত।

• প্রথম সূত্র (জড়তার সূত্র):
- বাহ্যিক বল প্রয়োগে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন করতে বাধ্য না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সমবেগে অর্থাৎ সমদ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।

• দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

• তৃতীয় সূত্র (ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র):
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।

• অপশন আলোচনা:
- কোপার্নিকাস ১৫৪৩ সালে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি টেলিস্কোপেরও আবিষ্কারক।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি।
১,৭১৩.
The nature of electricity being produced using sun rays is :
  1. ক) AC
  2. খ) DC
  3. গ) Both AC and DC
  4. ঘ) None
ব্যাখ্যা
সৌরশক্তি বা সোলার পাওয়ার:
সূর্য রশ্মির আলো ও তাপ কে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এর ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্টকে কাজে লাগিয়ে ফটোভোল্টাইক কোষের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

Solar panels produce direct current: the sun shining on the panels stimulates the flow of electrons, creating current. Because these electrons flow in the same direction, the current is direct.
১,৭১৪.
আবহাওয়ায় ৯৫% আদ্রতা মানে-
  1. ক) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯৫%
  2. খ) ১০০ ভাগ বাতাসে ৯৫ ভাগ জলীয় বাষ্প
  3. গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯৫%
  4. ঘ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃষ্টিপাতের সময়ের ৯৫%
ব্যাখ্যা
আবহাওয়ার আপেক্ষিক আদ্রতা ৯৫% মানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯৫%।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭১৫.
নিচের কোন রাশিটির মান ও দিক উভয়ই বিদ্যমান?
  1. ত্বরণ
  2. দৈর্ঘ্য
  3. দ্রুতি
  4. কাজ
ব্যাখ্যা

- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়েরই প্রয়োজন হয় তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি।
- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না- তাদেরকে স্কেলার রাশি বলে।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, দ্রুতি, কাজ ইত্যাদি।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭১৬.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. সৌর শক্তি
  2. খনিজ তেল
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭১৭.
নিচের কোনটি সম্ভব নয়?
  1. আপেক্ষিক গতি
  2. ত্রিমাত্রিক গতি
  3. মহাকর্ষীয় গতি
  4. পরম গতি
ব্যাখ্যা
◉ পরমস্থিতি ও পরমগতি (Absolute Rest and Absolute Motion):
- কোনো বস্তু প্রকৃত পক্ষে স্থির না গতিশীল তা নির্ভর করে প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর।
- প্রসঙ্গ কাঠামো যদি প্রকৃতপক্ষে স্থির হয় তবে তার সাপেক্ষে যে বস্তু স্থিতিশীল রয়েছে তাও প্রকৃত পক্ষে স্থির। এ ধরনের স্থিতিকে পরম স্থিতি বলে।
- আবার পরম স্থিতিশীল প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর গতিকে পরম গতি বলা যায়।

- কিন্তু আপনারা জানেন এ মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই স্থির নয় তাই পরম স্থিতিশীল প্রসঙ্গ কাঠামো পাওয়া সম্ভব নয়।
- কারণ পৃথিবী মূলত সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনরত, আবার মহাকাশের অন্যান্য নক্ষত্রের সাপেক্ষে সূর্যও গতিশীল।
- তাই আপনারা যখন কোনো বস্তুকে স্থিতিশীল বা গতিশীল বলেন তা কোনো আপাত স্থিতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে বলতে পারেন।
- সুতরাং বলা যায় যে - মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই পরম স্থির বা পরম গতি সম্পন্ন নয়।

◉ আপেক্ষিক গতি (Relative Motion):
- একটি গতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে অপর একটি গতিশীল বস্তুর গতিকে আপেক্ষিক গতি বলা হয়।
- যেমন- চলন্ত ট্রেনের একজন যাত্রীর কাছে ট্রেনের দরজা জানালা স্থির কিন্তু প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক ট্রেনের যাত্রীসহ সবকিছুই গতিশীল দেখতে পারেন।
- আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন দুটি ট্রেন পরস্পর বিপরীত দিকে একে অন্যকে অতিক্রম করলে, যাত্রীর কাছে মনে হয় ট্রেনটির বেগ কমে গেছে।
- আসলে আমরা একটি ট্রেনের সাপেক্ষে অপর ট্রেনের বেগ পরিমাপ করি বলেই এমন মনে হয়।
- আপেক্ষিক বেগ পরিমাপ করার সময় যে বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তুর বেগ পরিমাপ করা হয় তার বেগ যে বস্তুর বেগ পরিমাপ করছি তা থেকে বিয়োগ করতে হয়।

◉ ত্রিমাত্রিক গতি:
- কোন বস্তু যদি কোন স্থানে (space) গতিশীল থাকে তাহলে তার গতিকে ত্রিমাত্রিক গতি বলা হয়।
- ত্রিমাত্রিক গতি বর্ণনার জন্য আমাদেরকে তিনটি অক্ষের তথা ত্রিমাত্রিক প্রসঙ্গ কাঠামোর প্রয়োজন হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয়?
  1. কৃষিক্ষেত্রে অধিক ফসল ফলানো
  2. প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের সময়কাল নির্ণয়ের কাজে
  3. চিকিৎসা শাস্ত্রে ক্যানসার, টিউমার প্রভৃতির চিকিৎসায়
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার:

১। কৃষিক্ষেত্র: কৃষিক্ষেত্রে বীজ সংরক্ষণ, কীটমুক্তকরণ, অধিক ফসল ফলানো, একই গাছে বিভিন্ন বর্ণের ফুল ফুটানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
২। চিকিৎসা শাস্ত্র: চিকিৎসা শাস্ত্রে ক্যানসার, টিউমার প্রভৃতির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৩৷ গবেষণা বিজ্ঞান: জীববিদ্যার বিভিন্ন গবেষণায় এবং রসায়নবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
৪৷ শিল্প বিজ্ঞান: বিভিন্ন শিল্প কাজে ও নানা প্রকার প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের সময়কাল নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭১৯.
মৌলিক বল নয় কোনটি?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. অভিকর্ষ বল
  3. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
  4. দূর্বল  নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
• মৌলিক বল:
- যা কোন স্থির বস্তুতে প্রয়োগ করলে তা গতিশীল হয় বা কোন গতিশীল বস্তুর উপর প্রয়োগ করলে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- প্রকৃতিতে ৪টি বল আছে যাদের অন্য কোন বলে বিশ্লেষণ করা যায় না তাদেরকে মৌলিক বল বলে। যথা-

১. মহাকর্ষ বল, 
২. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল, 
৩. সবল নিউক্লিয় বল ও
৪. দূর্বল  নিউক্লিয় বল।

• পৃথিবী ও মহাবিশ্বের যেকোনো একটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১,৭২০.
মিটার ব্রীজ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. বিভব পার্থক্য
  2. অজানা রোধ
  3. তড়িৎ প্রবাহ 
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

- মিটার ব্রিজ হলো এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা হুইটস্টোন ব্রিজ নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে এক মিটার লম্বা একটি সুষম রোধের তার ব্যবহার করা হয় বলে একে মিটার ব্রিজ বলা হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায়। 

মিটার ব্রীজ: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের তারের অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে মিটার ব্রীজ বলা হয়। 
- হুইটস্টোন ব্রীজ নীতি প্রয়োগ করে মিটার ব্রীজ তৈরী করা হয়। 
- পরীক্ষাগারে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ নির্ণয় করার জন্য মিটার ব্রীজ ব্যবহার করা হয়। 

পোস্ট অফিস বক্স: 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে পোষ্ট অফিসে টেলিগ্রাফের তারের রোধ নির্ণয় করা হতো বলে এটি পোষ্ট অফিস বক্স নামে পরিচিত। 

পোটেনশিওমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বিভবপতন পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্য ও বিদ্যুৎচালক শক্তি সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায়, তাকে পোটেনশিওমিটার বলা হয়। 
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে স্বল্প মানের তড়িৎপ্রবাহ ও নিম্নমানের রোধ মাপা সম্ভব হয়। 

অ্যামমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে অ্যামমিটার বলা হয়। 
- অ্যামমিটারের সাথে অতিরিক্ত শান্ট ব্যবহার করে এর পাল্লা বৃদ্ধি করা যায়। 

ভোল্টমিটার: 
- যেকোনো দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২১.
সিলিকন অর্ধ-পরিবাহীর যোজন ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যেকার শক্তি পার্থক্য কত?
  1. 0.7 eV
  2. 1.8 eV
  3. 0.8 eV
  4. 1.1 eV
ব্যাখ্যা
• পরিবাহী:
- পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে আংশিক উপরিপাত (overlapping) হয়।
- আসলে এ দুই ব্যান্ডের মধ্যে ভৌত পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন।
- সুতরাং পরিবাহী পদার্থে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা মাত্র মুক্ত ইলেকট্রনের প্রবাহ ঘটে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।

• অন্তরক:
- অন্তরক পদার্থে যোজন ব্যান্ড সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে এবং পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ খালি থাকে এবং এ দুই ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য অনেক বেশি থাকে (সাধারণত: 10ev এর বেশি)।
- পরিবহন ব্যান্ডে ইলেকট্রন না থাকায় বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে না।
- যোজন ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে কোন ইলেকট্রন নিতে হলে যথেষ্ট শক্তি প্রয়োজন হয়। 

• অর্ধপরিবাহী:
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য অন্তরকের তুলনায় অনেক কম থাকে।
- যেমন: সিলিকনের ক্ষেত্রে এর মান 1.1 ev এবং জার্মেনিয়াম কেলাসের জন্য 0.7ev।

- পরম শূন্য তাপমাত্রায় পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ খালি এবং যোজন ব্যান্ড সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে, তাই এ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী আদর্শ অন্তরক হয়। কম তামপত্রায় পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ এবং যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে।
- তাপমাত্রা বাড়ালে যোজন ব্যান্ড থেকে অধিক পরিমাণ ইলেকট্রন শক্তি সঞ্চয় করে পরিবহন ব্যান্ডে প্রবেশ করে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহে অংশগ্রহণ করে।
- তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২২.
ফারেনহাইট স্কেলে বরফের গলনাঙ্ক কত ডিগ্রি?
  1. ১০০
  2. ৩২
  3. ২১২
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, বরফের গলনাঙ্ক  ০° C।
∴ ০/৫ = (x-৩২)/৯
(x-৩২)/৯ = ০
x = ০+ ৩২ = ৩২° F
১,৭২৩.
একটি পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ১১ এবং নিউট্রন সংখ্যা ১২ হলে, পরমাণুটির ভর সংখ্যা কত? 
  1. ২৩
  2. ৩২
  3. ৪৬
ব্যাখ্যা
- কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। 
- আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে। 
- তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান। 
- কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা। 
অর্থাৎ, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা 
বা, ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা 
বা, ভর সংখ্যা = ১১ + ১২ 
∴ ভর সংখ্যা = ২৩ । 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৭২৪.
তরল পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1.  নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন থাকে 
  2.  নির্দিষ্ট আকার নেই, কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই এবং আয়তনও নেই 
  4. পারস্পরিক আকর্ষণ বল নেই 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২৫.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ডায়মন্ড
  2. কপার
  3. সিলভার
  4. কোনোটিই নয়।
ব্যাখ্যা
• অধাতু:
- যেসব মৌলিক পদার্থ সাধারণত নরম, অ-চকচকে, স্বচ্ছ এবং ভঙ্গুর হয়, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে।
- কার্বন, সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- ডায়মন্ড হচ্ছে কার্বনের একটি রূপভেদ তাই ডায়মন্ড অধাতু।

অন্যদিকে,
• ধাতু:
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
-ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭২৬.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম
  2. কপার
  3. জিংক
  4. লেড
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও,
- IAEA তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩২টি দেশে মোট ৪৪০টি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে।
- এগুলো বিশ্বের ১০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক চুল্লির সংখ্যা বাড়বে ৫৬টি।
- এই পারমাণবিক চুল্লি বর্তমানে ১২টি দেশে নির্মাণাধীন রয়েছে।
- নতুন চুল্লিগুলোর ইনস্টলেশন ক্ষমতা হবে মোট ৬২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। 

উৎস: i) রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) IAEA ওয়েবসাইট।
১,৭২৭.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্লুঅন
  2. ফোটন
  3. গ্রাভিটন 
  4. Z বোসন
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বল হলো প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বল। এই বল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। গ্লুঅন (Gluon) নামক ভরহীন কণা বিনিময়ের মাধ্যমে এই বলটি ক্রিয়াশীল হয়। 

মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 

অন্যদিকে,
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

১,৭২৮.
Which of the following is a blue planet?
  1. ক) Neptune
  2. খ) Venus
  3. গ) Jupiter
  4. ঘ) Mars
ব্যাখ্যা
সৌরজগতে পৃথিবীর পর অন্য যে গ্রহটি নীল গ্রহ (Blue Planet) নামে পরিচিত, তার নাম হলো নেপচুন। 

সৌরজগতের গ্রহসমূহের রং:
Mercury – Grey
Venus – Brown and grey
Earth – Blue, brown green and white
Mars – Red, brown and tan
Jupiter – Brown, orange and tan, with white cloud stripes
Saturn – Golden, brown, and blue-grey
Uranus – Blue-green
Neptune – Blue

উৎসঃ নাসা ওয়েবসাইট, স্পেস.কম ওয়েবসাইট।
১,৭২৯.
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক কে?
  1. বোর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. হাইজেনবার্গ
  4. ডিরাক
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২৪ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 

- ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং ১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক ১৯৩১ সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৬ সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩০.
পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে নোবেল গ্যাস অবস্থান করে?
  1. গ্রুপ ১
  2. গ্রুপ ২
  3. গ্রুপ ১৮
  4. গ্রুপ ১৭
ব্যাখ্যা

• নোবেল গ্যাসগুলি পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮-এ অবস্থান করে। এই গ্যাসগুলোকে Inert Gas-ও বলা হয়, কারণ এরা রাসায়নিকভাবে খুবই স্থিতিশীল এবং সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রায় কোনো যৌগ তৈরি করে না। এর প্রধান কারণ হলো এদের বাহ্যিক শক্তস্তর (ভ্যালেন্স শেল) পূর্ণ, যা অন্য পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার বা গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। গ্রুপ ১৮-এ হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন এবং রেডন অন্তর্ভুক্ত। এরা সাধারণত গ্যাস আকারে থাকে, বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অক্রিয়। অন্য গ্রুপের ধাতু বা অ-ধাতুর তুলনায় নোবেল গ্যাসের প্রতিক্রিয়া খুবই সীমিত।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) গ্রুপ ১৮।


• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

• পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
• এ গ্রুপের মৌল গুলো হল -
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

১,৭৩১.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত? 
  1. 0
  2. 332 km/s
  3. 3×105 m/s
  4. 3×108 m/s
ব্যাখ্যা
আলোক: 
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ। 
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল। 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 3×108 m/s বা 3×105 km/s
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়। 
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭৩২.
p- টাইপ অর্ধপরিবাহকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) আর্সেনিক
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম।
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে n- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১,৭৩৩.
ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯০০ সালে
  2. খ) ১৯০১ সালে
  3. গ) ১৯০৩ সালে
  4. ঘ) ১৯০২ সালে
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৭৩৪.
কোন ধরনের ডিভাইস এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে?
  1. ক্যাপাসিটর
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেজিস্টর
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩৫.
বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার 
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. ব্যারােমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো ব্যারোমিটার (Barometer)। এটি মূলত বায়ুর চাপ মাপতে ব্যবহৃত হয়। ব্যারোমিটারের কাজের পদ্ধতি হলো বায়ুর ওজন দ্বারা একটি তরল বা যান্ত্রিক যন্ত্রে চাপের পরিবর্তন পরিমাপ করা। প্রচলিত ধরণের ব্যারোমিটারে সাধারণত পারদ (Mercury) ব্যবহার করা হয়, যা একটি উল্লম্ব নলিকায় রাখা থাকে। বায়ুর চাপ বাড়লে পারদের স্তর উপরে ওঠে এবং চাপ কমলে স্তর নিচে নামে। ব্যারোমিটার আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও ব্যবহৃত হয়, কারণ বায়ুর চাপের পরিবর্তন দিয়ে বৃষ্টি, কুয়াশা বা শুকনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৭৩৬.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ?
  1. ক) অক্সালিক এসিড
  2. খ) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
  3. গ) তরল ব্রোমিন
  4. ঘ) ফেরিক ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রাস এসিড, সালফিউরাস এসিড, অধিকাংশ ধাতু, কার্বন, ফেরাস লবণ, সোডিয়াম থায়ো সালফেট, অক্সালিক এসিড ইত্যাদি হলো বিভিন্ন বিজারক পদার্থের উদাহরণ।
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, ওজোন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, পটাশিয়াম ক্লোরেট ইত্যাদি হলো বিভিন্ন জারক পদার্থের উদাহরণ।

১,৭৩৭.
ফোটনের বেগের মান কত?
  1. 3 × 106 ms-1
  2. 3 × 1016 ms-1
  3. 3 × 108 ms-1
  4. 3 × 1036 ms-1
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) 3 × 108 ms-1

ফোটন (Photon):
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২. শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3 × 108  ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না।
৩. প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমাণ E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৩৮.
কোন ধাতু পানি অপেক্ষা হালকা?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) পারদ
ব্যাখ্যা
পানিতে ভাসে এবং ছুরি দিয়ে কাটা যায়, সোডিয়ামকে পোড়ালে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের শিখা পাওয়া যায়, এটি পানির থেকেও হালকা হয়।
১,৭৩৯.
শব্দের কোন অস্তিত্বই নেই কোথায়?
  1. ক) মহাশূন্যে
  2. খ) পানিতে
  3. গ) বদ্ধ ঘরে
  4. ঘ) প্লাস্টিকের বক্সে
ব্যাখ্যা

- শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের গতি বা দ্রুতি বলে।
- কঠিন মাধ্যমে (যেমন- ইস্পাত, লোহা) শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে,
- তরল মাধ্যমে (যেমন- পানি) তার চেয়ে ধীরে চলে‌,
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।

উল্লেখ্য, শব্দ মাধ্যম ছাড়া পরিবাহিত হতে পারে না। তাই শূণ্যতায় শব্দের কোন অস্তিত্বই নেই, গতি কম বা বেশি হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৪০.
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় কোন শক্তি থেকে?
  1. তাপ শক্তি 
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

 - পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় তাপশক্তি থেকে।

তাপশক্তি (Heat Energy):
- পরিমাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় তাপশক্তি থেকে।
- যাবতীয় যন্ত্রের যাবতীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- থার্মোকাপলে (Thermocouple) দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদাহরণ থাকলেও প্রকৃত পক্ষে প্রায় সবক্ষেত্রেই তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি তৈরি করা হয়।
- (পরিবেশ রক্ষা করার জন্য আমরা আজকাল শক্তির অপচয় করতে চাই না। তাই তাপ দিয়ে আলো তৈরি হয় সে রকম লাইট বাল্ব ব্যবহার না করে আজকাল বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহার করা হয়।)
- আমরা মোমবাতির শিখায় রাসায়নিক শক্তিতে সৃষ্ট তাপের কারণে উত্তপ্ত গ্যাসের কণা বা বাল্বের ফিলামেন্টে তাপকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে দেখি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৭৪১.
এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি 
  2. লবণ ও গ্যাস
  3. পানি ও অক্সিজেন
  4. শুধুই লবণ
ব্যাখ্যা

• এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া: এটি এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে এসিড ও ক্ষার একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ (Salt) এবং পানি (Water) উৎপন্ন হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) + NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) → NaCl (লবণ) + H₂O (পানি)
এখানে, এসিডের H⁺ আয়ন এবং ক্ষারের OH⁻ আয়ন মিলে পানি তৈরি করে, এবং লবণ (NaCl) থাকে।

অপরদিকে, 
- লবণ ও গ্যাস: এটি শুধু কিছু বিশেষ বিক্রিয়ায় ঘটে, যেমন কার্বনেট যৌগ + অ্যাসিড।
- পানি ও অক্সিজেন: সাধারণ এসিড-ক্ষার বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় না।
- শুধুই লবণ: এটি ভুল, কারণ পানিও উৎপন্ন হয়। 

সুতরাং, এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে সর্বদা উৎপন্ন হয় লবণ ও পানি।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।    

১,৭৪২.
কোমল পানীয়সমূহে কী দ্রবীভূত থাকে?
  1. বেকিং সোডা
  2. এসিটিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড
  4. সোডিয়াম ফ্লোরাইড
ব্যাখ্যা
বেকিং সোডা (Baking Soda) :
বেকিং সোডা (NaHCO3)। বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী। এক্ষেত্রে NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে H2CO3 এসিড উৎপন্ন করে। H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে। 

এটি কখনও কখনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে পানীয়গুলিতে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে যেখানে বেকিং সোডা পানীয়গুলিতে ব্যবহার করা যেতে পারে:

Alka-Seltzer:
বেকিং সোডা হল কিছু অ্যান্টাসিড পণ্যের মূল উপাদান, যেমন আলকা-সেল্টজার। এই পণ্যগুলি পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড নিরপেক্ষ করে অম্বল, বদহজম এবং পেট খারাপ করতে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্পোর্টস ড্রিংকস:
কিছু লোক তীব্র ব্যায়ামের সময় ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করতে বাফার করতে স্পোর্টস ড্রিংক বা জলে এক চিমটি বেকিং সোডা যোগ করে।  এই ব্যবহার  সাবধানতার সাথে করা উচিত, কারণ অত্যধিক বেকিং সোডা খাওয়া ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার দিকে পরিচালিত করতে পারে।

অ্যাসিড হ্রাস:
বেকিং সোডা পানীয়গুলিতে অতিরিক্ত অম্লতা নিরপেক্ষ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি পানীয় খুব অ্যাসিডিক হয়, তাহলে পিএইচ ভারসাম্য এবং অম্লতা কমাতে অল্প পরিমাণে বেকিং সোডা যোগ করা যেতে পারে।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১,৭৪৩.
কোনটি সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ? 
  1. অলিয়িক এসিড
  2. লিনোলিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. অক্সালিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড(Fatty Acid): 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়, কারণ এ শ্রেণীর উচ্চতর সদস্যকে প্রাথমিকভাবে ‘ফ্যাট বা চর্বি' থেকে অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণে প্রস্তুত করা হয়। 
যেমন- পামিটিক এসিড [CH3(CH2)14.COOH), স্টেয়ারিক এসিড (CH3(CH2)16.COOH] ইত্যাদি। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1-COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 

সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড CH3CH2COOH, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড C17H35COOH
(৩) পামিটিক এসিড C15H31COOH ইত্যাদি। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ: 
(১) অক্সালিক এসিড CH2=CHCOOH, 
(২) অলিয়িক এসিড C17H33COOH, 
(৩) লিনোলিক এসিড C17H31COOH ইত্যাদি। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৭৪৪.
নিচের কোন পদার্থ ফটো ইলেকট্রিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে না?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. আয়রন
  3. পটাশিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম প্রভৃতি ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেক্ট্রন নির্গত হতে দেখা যায়।
ফটো- ইলেক্ট্রিক কোষ এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
এরূপ একটি কোষে আলো ফেলে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৭৪৫.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে বেশি শক্ত ধাতুর নাম কি?
  1. ক) হীরা
  2. খ) রুপা
  3. গ) স্বর্ণ
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা

প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন।
অপশনে টাংস্টেন নেই। অপশন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত স্বর্ণ, তারপর যথাক্রমে রুপা এবং তামা।
উল্লেখ্য, প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হীরা (অধাতু)। হীরা কার্বনের একটি রূপ।

১,৭৪৬.
পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধের ক্রম কোনটি?
  1. 10- 4 Ωm
  2. 10- 8 Ωm
  3. 10- 12 Ωm
  4. 10- 16 Ωm
ব্যাখ্যা
• পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 8 Ωm ক্রমের।

• পরিবাহী:

- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
- যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 8 Ωm ক্রমের।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• অপরিবাহী:
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 12 Ωm ক্রমের।

• অর্ধপরিবাহী:
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে।
- পরিবাহীর চেয়ে অত্যন্ত কম কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 4 Ωm ক্রমের।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৭.
পর্যাবৃত্ত গতি কেমন হয়?
  1. সরল রৈখিক
  2. উপবৃত্তাকার
  3. বৃত্তাকার
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো বস্তু নিৰ্দ্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। 
- এই গতি বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার, সরল রৈখিকও হতে পারে। 
- পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যাবৃত্ত গতি দু' ধরণের। যথা- ঘুর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি। 

- ঘড়ির কাঁটা, বৈদ্যুতিক পাখা সবসময় একই দিকে চলছে। আবার দোলনায় দোল খাওয়া, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি সবসময় একই দিকে হচ্ছে না, কিছুক্ষণ পরপর গতির দিক পাল্টে যাচ্ছে। 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে ঐ গতিকে স্পন্দন গতি বা ছন্দিত গতি বলে। 
- রক্তনালীর মধ্য দিয়ে রক্তের গতি, পানির তরঙ্গের গতি, সরল দোলকের গতি এধরনের ছন্দিত গতি। 

- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।
যেমন- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৮.
'সমুদ্রের ঢেউ' কোন ধরনের শক্তির উৎস?
  1. গ্রীন শক্তি
  2. অনবায়নযোগ্য শক্তি
  3. নবায়নযোগ্য শক্তি
  4. ক+গ
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

• নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: সৌরশক্তি, জোয়ার-ভাটা, ভূ-তাপীয় শক্তি,বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৯.
বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দান করার পর কী হয়? 
  1. নিজেই বিজারিত হয়
  2. নিজেই জারিত হয় 
  3. নিজে শক্তিশালী হয় 
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না 
ব্যাখ্যা

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, Br2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে।
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে।

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৫০.
নিম্নের কোনটি পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) আংশিক ভর
  4. ঘ) ফাঁকা স্থান
ব্যাখ্যা
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। এর ভর অতি সামান্য। একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। ইলেকট্রনের সংকেত e¯। ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C। আপেক্ষিক আধান -1।

প্রোটন
: ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। ইহার সংকেত H+। প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C। প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। প্রোটনের আরেকটি সংকেত P। আপেক্ষিক আধান +1।

নিউট্রন: নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n। নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g। আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫১.
একটি তড়িৎ ক্ষেত্র কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে?
  1. ১০ মিটার
  2. ১০০ মিটার
  3. অসীম পর্যন্ত
  4. কেবল আহিত বস্তুর উপরিভাগ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- গ) অসীম পর্যন্ত

• তড়িৎ ক্ষেত্র (Electric Field):
 
- দুটি আধান পরস্পরকে বল প্রয়োগ করে। সমধর্মী আধান হলে বিকর্ষণ বল এবং বিপরীতধর্মী আধান হলে আকর্ষণ বল।
- লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো এই বল ক্রিয়া করার জন্য আহিত বস্তু দুটির মধ্যে পরস্পরের সাথে কোনো সংস্পর্শ করার প্রয়োজন হয় না। পরস্পর যেকোনো দূরত্বে থেকে এই বল ক্রিয়া করতে পারে। এই জাতীয় বলকে অস্পর্শী বল বলে।
- যে অঞ্চল জুড়ে অস্পর্শী বল ক্রিয়াশীল থাকে তাকে তার ক্ষেত্র বলে।
- সুতরাং বলা যায়, কোনো আহিত বস্তুর চারিদিকে যে অঞ্চল জুড়ে তড়িতের প্রভাব থাকে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে।
- ঐ আহিত বস্তু দিয়ে তড়িৎ ক্ষেত্রের বাইরের কোনো আহিত বা অনাহিত বস্তুকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করতে পারেনা।
- যেহেতু তড়িৎ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক অর্থাৎ F ∝ (1/r2) সেহেতু, তত্ত্বীয় ভাবে বলা যায় তড়িৎ ক্ষেত্র অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত। কারণ বল শূন্য হলে সমীকরণ অনুসারে দূরত্ব অসীম হতে হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৫২.
দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়ায় কোন খনিজ প্রকল্পের কাজ চলছে?
  1. কঠিন শিলা
  2. কয়লা
  3. চুনাপাথর
  4. কাদামাটি
ব্যাখ্যা
- দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। 
- বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ। 
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি। 
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত। 
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে। 
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫৩.
ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে কোন মেরু হিসেবে কাজ করে?
  1. দক্ষিণ মেরু
  2. উত্তর মেরু
  3. পশ্চিম মেরু
  4. পূর্ব মেরু
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। 
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়। 
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান। 
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে। 
- এখানে দন্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে, ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৫৪.
৩ নিউটন বল কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর ওপর প্রয়োগ করায় বস্তুটি ৬ মিটার দূরে সরে গেল। সম্পন্ন কাজের পরিমাণ কত?
  1. ২ জুল
  2. ১৫ জুল
  3. ১৮ জুল
  4. ৯ জুল
ব্যাখ্যা
• আমরা জানি,
কাজ = বল × সরণ
= ৩ × ৬
= ১৮ জুল
অর্থাৎ, সম্পন্ন কাজের পরিমাণ ১৮ জুল।

- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T-2.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।
∴ 1 J = 1 Nm.

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,৭৫৫.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1.  ধারক 
  2. ক্যাথোড 
  3. অ্যানোড 
  4. রেজিস্টার 
ব্যাখ্যা

তড়িৎদ্বার (Electrode): 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড অর্ধেক ডুবানো থাকে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা ঋণাত্বক আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- অপর তড়িৎ দ্বারে ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় এবং সম্পূর্ণ কোষের মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার আর যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৫৬.
পরমাণুর বহিঃস্থ শক্তিস্তরে অবস্থিত ইলেকট্রনকে কী বলে?
  1. নিউক্লিয়ন
  2. ভ্যালেন্স ইলেকট্রন
  3. কোয়ার্ক
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা
• যোজ্যতা ইলেকট্রন (Valence Electron):
- কোন মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলা হয়। 
- এই ইলেকট্রন গুলোই রাসায়নিক বিক্রিয়া ও রাসায়নিক বন্ধন এর জন্য দায়ী। 

• উদাহরণ
সোডিয়াম (Na) পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s1
এখানে দেখা যায় যে,  শেষ শক্তিস্তর বা ৩য় শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন আছে, সেটিই ভ্যালেন্স বা যোজ্যতা ইলেকট্রন।  

অন্যদিকে,
• কোয়ার্ক হলো একটি মৌলিক কণা যা প্রোটন ও নিউট্রনের উপাদান। এটি পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে (নিউক্লিয়াসে) অবস্থিত কণাগুলোর অংশ।

• নিউক্লিয়ন বলতে বোঝানো হয় প্রোটন এবং নিউট্রনকে, যেগুলো পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে থাকে। এগুলো ইলেকট্রনের মতো শক্তিস্তরে অবস্থান করে না।

• ফোটন হলো আলোর কণা। এটি পরমাণুর শক্তিস্তরের কোন অংশ নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৭.
রঙ্গিন টেলিভিশন হতে ক্ষতিকর কোন রশ্মি বের হয়?
  1. মৃদু রঞ্জন রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. কসমিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
- রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়। 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়। 
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে। 
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে। 
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 
টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৮.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক?
  1. ক) ফরমালিন
  2. খ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড  প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক।

খাদ্য সংরক্ষণ:
- খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যকে খাদ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত রেখে
স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখার ব্যবস্থা। 
- খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করা হয়।

প্রিজারভেটিভস:
- সব রাসায়নিক পদার্থ নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহারের ফলে খাদ্যবস্তুতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, খাদ্যবস্তু রক্ষিত থাকে, এদেরকে ফুড প্রিজারভেটিভস বা
প্রিজারভেটিভস বলা হয়।

• প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভস হলো- খাদ্য লবণ।
- রাসায়নিক সংকেত: NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)।

খাদ্য লবণ:
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে খাদ্য লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রিজ আবিষ্কারের পূর্বে এটি বহুল প্রচলিত ছিল।
- খাদ্যদ্রব্যকে খাবার লবণ দ্বারা সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে কিউরিং বলে।
- এ পদ্ধতিতে মাছ, মাংস, ফল ও শাকসবজিকেও সংরক্ষণ করা যায় ।

 উৎস: রসায়ন-১ম পত্র ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৯.
স্বর্ণের খাদ বের করতে ব্যবহার করা হয়-
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সাইট্রিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
- 1 মোল HNO3 ও 3 মোল HCl এর মিশ্রণকে রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে। 
- স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই অম্ল ব্যবহৃত হয়। 
স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য তাকে নাইট্রিক এসিড দিয়ে পোড়ানো হয়। 
- আর সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত  হয় সালফিউরিক এসিড। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যেকোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 

উৎস: MIT 
১,৭৬০.
‘ব্ল্যাকবক্স’ যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) রকেটে
  2. খ) বিমানে
  3. গ) জাহাজে
  4. ঘ) রাডারে
ব্যাখ্যা
সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
১,৭৬১.
বজ্রপাত কোন ধরনের বিদ্যুতের উদাহরণ?
  1. প্রবাহ বিদ্যুৎ
  2. স্থির বিদ্যুৎ
  3. চৌম্বক বিদ্যুৎ
  4. বিকল্প বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

• বজ্রপাত ঘটে মেঘের মধ্যে সঞ্চিত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক স্থির চার্জের হঠাৎ নির্গমনের ফলে, তাই এটি স্থির বিদ্যুতের উদাহরণ।

• স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity):
- স্থির বিদ্যুৎ হলো এমন বিদ্যুৎ, যেখানে বৈদ্যুতিক চার্জ কোনো বস্তুর উপর স্থির অবস্থায় জমা থাকে এবং প্রবাহিত হয় না।
- দুইটি বস্তুকে ঘর্ষণ করলে এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়।
- ইলেকট্রন গ্রহণকারী বস্তু ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং ইলেকট্রন হারানো বস্তু ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়।
- এই চার্জের সৃষ্টি ও সঞ্চয় প্রক্রিয়াকে স্থির বিদ্যুৎ বলা হয়।
 
• স্থির বিদ্যুতের উদাহরণ:
- শীতকালে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর চিরুনি কাগজের টুকরা আকর্ষণ করা।
- শুকনো আবহাওয়ায় দরজার হাতল বা ধাতব বস্তু স্পর্শ করলে হালকা ঝাঁকুনি লাগা।
- মেঘের মধ্যে চার্জ সঞ্চয়ের ফলে বজ্রপাত হওয়া।
 
• বজ্রপাত ও স্থির বিদ্যুৎ:
- মেঘের মধ্যে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ পৃথকভাবে জমা হয়।
- চার্জের পার্থক্য বেশি হলে হঠাৎ বিদ্যুৎ নির্গমন ঘটে, যাকে বজ্রপাত বলা হয়।
- বজ্রপাত হলো স্থির বিদ্যুতের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ।
 
• স্থির বিদ্যুতের বৈশিষ্ট্য:
- এতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না।
- চার্জ সাধারণত অন্তরক বস্তুর উপর সহজে জমা হয়।
- চার্জ নিরপেক্ষ করতে ভূমিসংযোগ (Earthing) কার্যকর।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৬২.
VSB মডুলেশন নিম্নের কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়?
  1. Television Transmission
  2. Radio Transmission
  3. Telephony
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- VSB (Vestigial Sideband)  মড্যুলেশন একটি মডুলেশন কৌশল যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে এনালগ টেলিভিশন সম্প্রচারে।
- এটি Amplitude মড্যুলেশন (AM) এর একটি রূপ যা বর্ণালী ব্যবহারে সহায়তা করে।

 VSB modulation এ বিদ্যমান:
- Sidebands
- Vestigial Sideband
- Carrier
১,৭৬৩.
আইসোটোন তৈরি হয় কোনটির তারতম্যের কারণে?
  1. নিউট্রন সংখ্যা
  2. প্রোটন সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- প্রোটন সংখ্যার তারতম্যের কারণে আইসোটোন তৈরি হয়।

•আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

উল্লেখ্য,
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

উৎসঃ রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭৬৪.
দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. গ্রাম
  2. মোল
  3. গ্রাম-তুল্যভর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৫.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলিকে কী বলা হয়?
  1. উৎপাদ
  2. প্রতিক্রিয়া
  3. সমীকরণ
  4. বিক্রিয়ক
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বিক্রিয়া: 
- যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
- যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়। 
- রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
- যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। 
- বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৬৬.
চৌম্বকক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক একক কোনটি?
  1. টেসলা
  2. ক্যান্ডেলা
  3. নিউটন
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

- চৌম্বকক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক একক হলো টেসলা।
- দীপন তীব্রতার আন্তর্জাতিক একক হলো ক্যান্ডেলা।
- বলের আন্তর্জাতিক একক হলো নিউটন।
- বিদ্যুৎ প্রবাহের আন্তর্জাতিক একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৭৬৭.
মানব অক্ষি-গোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে যে রোগ হয় তার নাম কী?
  1. ক) দীর্ঘদৃষ্টি
  2. খ) হ্রসদৃষ্টি
  3. গ) গ্লোকোমা
  4. ঘ) পুঞ্জাক্ষি
ব্যাখ্যা
হ্রস্বদৃষ্টি বা ক্ষীণদৃষ্টি (Myopia)
- যখন  চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখা পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে হ্রস্বদৃষ্টি বলে।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী দূরত্ব বেড়ে গেলে বা ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে।
- কোন কারনে চোখের অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেলে।
প্রতিকার: অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

----------------------------
দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia)
- যখন কোন চোখ দূরের বস্তু দেখে কিন্তু কাছের বস্তু দেখতে পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বলে।
- সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ত্রুটি দেখা যায়।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে অথবা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে।
- কোন কারণে অক্ষি-গোলকের ব্যাসার্ধের কমে গেলে। 
প্রতিকার: উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬৮.
পাকা কলায় কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) ইথাইল বিউটারেট
  2. খ) অকটাইল অ্যাসিটেড
  3. গ) মিথাইল বিউটারেট
  4. ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা

- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।

১,৭৬৯.
Cl + e → Cl- এই বিক্রিয়ায় কি ঘটেছে?
  1. বিকিরণ
  2. প্রতিস্থাপন
  3. বিজারণ
  4. জারণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 = 2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৭৭০.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না?
  1. লোহা
  2. প্লাস্টিক
  3. তামা
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৭১.
কোন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুবই কম? 
  1. গামা রশ্মি 
  2. রঞ্জন রশ্মি 
  3. বিটা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি 
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মি (γ-রশ্মি): 
- গামা রশ্মি সাধারণ অর্থে কোনো কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ। 
- α-কণা বা β-কণা বিচ্ছুরণের পর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তির পূর্ণবিন্যাসের ফলে γ-রশ্মির উদ্ভব ঘটে। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুবই কম, এমনকি রঞ্জন রশ্মি অপেক্ষাও কম হয়। 
- এরা প্রধানত পরোক্ষভাবে পদার্থকে আয়নিত করে। বহু দীর্ঘ পথে ঐ আয়নীকরণ সংঘটিত হয় বলে গামা রশ্মির আপেক্ষিক আয়নীকরণ ক্ষমতা খুব কম। 
- রঞ্জন রশ্মির ন্যায় তা বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। 
- গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না, কারণ গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির (γ-রশ্মি) কোন ভর বা চার্জ নেই। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

১,৭৭২.
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৭
  4. ২০
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ( Na) এর পারমানবিক সংখ্যা ১১ ও পারমানবিক ভর ২৩। 
এর তিনটি প্রধান শক্তিস্তর আছে। K শক্তিস্তরে ২ টি, L শক্তিস্তরে ৮ টি ও M শক্তিস্তরে ১ টি ইলেকট্রন আছে। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
১,৭৭৩.
ফোটনের ভর কত?
  1. ধনাত্মক
  2. শূন্য 
  3. ঋণাত্মক
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলোর ক্ষুদ্রতম কণা বা কোয়ান্টাম। আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, ফোটন একটি ভরহীন কণা এবং এর নিশ্চল ভর সর্বদা শূন্য। 

আলোর প্রকৃতি (Nature of Light): 

- বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, গতিশীল চার্জযুক্ত কণিকা দ্বারা আলোর বিকিরণ হয়। আলো কখনো কণিকা আবার কখনো তরঙ্গ।
- আলোর কণিকাগুলোকে বলা হয় ফোটন, কিন্তু বস্তু কণা থেকে ফোটন কণার ভিন্নতা হলো এর কোন ভর নাই এবং সবসময় শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি ৩০০,০০০ কি.মি/সে। যখন আলো কোনো বস্তুর কিনারায় বাধাগ্রস্থ হয়ে বেঁকে যায় অর্থাৎ বিচ্ছুরণ ঘটে, তখন তরঙ্গের মতো ধর্ম প্রদর্শন বা আচরণ করে। 

আলোর বৈশিষ্ট্য: 
- আলোর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. আলো হচ্ছে এক প্রকার শক্তি। 
২. আলো সরলরেখায় বা সরলপথে গমন করে। 
৩. আলো কখনও কণিকা আবার কখনও তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়। 
৪. আলো হলো উচ্চ মাত্রার বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ। 
৫. আলো অত্যন্ত দ্রুত চলে যা সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার অতিক্রম করে। 
৬. আলো কম ঘন মাধ্যম থেকে বেশি ঘন মাধ্যমে অধিক বেগে চলে। 
৭. আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন এবং বিচ্ছুরণ ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৭৪.
বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পরমাণুতে একটি কেন্দ্র আছে তা প্রমাণ করেন?
  1. α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  2. β কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  3. ∞ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  4. γ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করে প্রমাণ করেন পমানুর একটি কেন্দ্র আছে।
যেখানে থাকে নিউট্রন ও প্রোটন।
বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড এর নাম দেন নিউক্লিয়াস।
সুত্রঃ

১,৭৭৫.
'তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ ফোটনের প্রবাহ'- কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. কণা তত্ত্ব
  2. তরঙ্গ তত্ত্ব
  3. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  4. আপেক্ষিকতার তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টার আকার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ-  
১. প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২. শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
৩. প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৬.
পিঁপড়া ও মৌমাছির কামড়ে থাকে—
  1. ক) অ্যাসকরবিক এসিড
  2. খ) অক্সালিক এসিড
  3. গ) মিথানয়িক এসিড
  4. ঘ) টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা
পিঁপড়া ও মৌমাছির কামড়ে মিথানয়িক এসিড বিদ্যমান। 

- মিথানয়িক এসিডের অপর নাম ফরমিক এসিড। 
- মিথানয়িক এসিড কার্বক্সিলিক এসিডের অন্তর্ভুক্ত একটি এসিড যা, টেক্সটাইল শিল্পে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,৭৭৭.
ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান কত?
  1. 0
  2. − 1
  3. − 2
  4. 1
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন (Electron):
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন।
- এর ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা ।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e - .
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 ও -1.60×10-19 Coulomb ।
- আপেক্ষিক আধান -1 .

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৮.
শুষ্ক কোষে কোনটি ইলেকট্রন দান করে?
  1. ক) দস্তার খোল
  2. খ) কয়লার গুড়া
  3. গ) কার্বন দণ্ড
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell):
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ।
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে।   
গঠন:
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। - চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়।
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে।
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে।
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে।
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়।
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে।
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে।
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন দান করে।
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৭৭৯.
রংধনু সাধারণত কখন দেখা যায়? 
  1. রাতের বেলায়
  2. ঝড়ের সময়
  3. কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায়
  4. বৃষ্টির পরে সূর্য উঠলে
ব্যাখ্যা
রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয় যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারোনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখেছ। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ উঠে তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 
- রংধনু সব সময়ই সূর্যের বিপরীত আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৮০.
তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়া কোন উপায়ে প্রভাবিত হয় না? 
  1. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র
  2. তাপমাত্রা পরিবর্তন
  3. চাপ প্রয়োগ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তা বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৮১.
পৃথিবীর বিভব-
  1. ক) অসীম
  2. খ) শূন্য
  3. গ) ধনাত্মক
  4. ঘ) ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর তড়িৎ বিভব:
কোনো আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটি নিস্তাড়িত বা আধান নিরপেক্ষ হয়, ধনাত্মক আধানে আহিত বস্তুকে ভু-সংযুক্ত করলে পৃথিবী থেকে ইলেকট্রন এসে বস্তুটিকে নিস্তাড়িত করে। আবার ঋণাত্মকভাবে আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে সংযুক্ত করলে বস্তু থেকে ইলেকট্রন ভূমিতে চলে যায়। ফলে বস্তুটি নিস্তাড়িত হয়। পৃথিবী এত বড় যে, এতে ইলেকট্রন যুক্ত হলে বা এ থেকে ইলেকট্রন চলে গেলে এর বিভবের আদৌ কোনো পরিবর্তন হয় না। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন বস্তুতে ইলেকট্রন প্রদানও করছে। ফলে পৃথিবীকে বিভবশূন্য মনে করা হয় এবং ভু-সংযুক্ত পরিবাহীর বিভবও শূন্য ধরা হয়। উল্লেখ্য যে, বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রা্‌ম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৭৮২.
মিল্ক অফ লাইম কোন যৌগের রাসায়নিক নাম?
  1. Ca(OH)2
  2. CH3COOH
  3. NaHCO3
  4. CuSO4.5H2O
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৮৩.
যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে কী বলে?
  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. সমতল লেন্স
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লেন্স:
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-

১. অভিসারী বা উত্তল লেন্স:

- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে।

২. অপসারী বা অবতল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৭৮৪.
দর্পণ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ৫ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
দর্পণ: 
- যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে। 
- দর্পণ প্রধানত দুই প্রকার। যথা- 
১। সমতল দর্পণ ও 
২। গোলীয় দর্পণ। 

- আবার গোলীয় দর্পণ ২ প্রকার। যথা- 
১। উত্তল দর্পণ ও 
২। অবতল দর্পণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭৮৫.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-2'তে অবস্থিত মৌলগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ষার ধাতু 
  2. স্বাভাবিক ধাতু 
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৬.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. দ্রুতি
  2. সরণ
  3. ভর 
  4. সময় 
ব্যাখ্যা

- সরণ হলো একটি নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন, যার নির্দিষ্ট মান এবং দিক থাকে, তাই এটি একটি ভেক্টর রাশি। 

ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৭.
মোমের প্রধান উপাদান কী? 
  1. কার্বন 
  2. কার্বোহাইড্রেট 
  3. সালফার 
  4. হাইড্রোকার্বন 
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় রসায়নের বিশ্লেষণ: 
- কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড যেমন: সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, যার ফলে কাঁচা আম টক হয়। 
- কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়, তাই পাকা আম মিষ্টি হয়। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এইগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এইগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

- পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। 
- এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, এই দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস রসায়নের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখার একটি হলো রসায়ন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৮৮.
এক্স-রের প্রকৃতি সম্পর্কিত সঠিক তথ্য কোনটি? 
  1. ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড়
  3. প্রতিসরণ ঘটে না
  4. পোলারণ ঘটে না
ব্যাখ্যা

• এক্সরের প্রকৃতি হলো এর ভেদন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। এক্সরে হলো একটি ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যা সহজেই কঠিন পদার্থ, ধাতু ও হাড়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব ছোট, তাই এগুলি অণু বা পরমাণুর স্তরের বিন্যাসকেও ছেদ করতে পারে। এক্সরকে বিভিন্ন পদার্থে প্রতিসরণ বা পোলারণের দিক থেকে সীমিত বলা যায়, কারণ এগুলি মূলত ভেদন ক্ষমতার জন্য পরিচিত। তাই এক্সরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ ভেদন ক্ষমতা।

- সঠিক উত্তর: ক) ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।

এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৯.
পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন কেন শূন্য হয়?
  1. কারণ বস্তুতে ভর নেই 
  2. কারণ সেখানে তাপ শূন্য 
  3. কারণ অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য
  4. কারণ বস্তুর আকার পরিবর্তিত হয় 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৭৯০.
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মিথেন ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করে কোন যৌগ তৈরি করে? 
  1. অ্যালডিহাইড
  2. অ্যালকাইল হ্যালাইড
  3. অ্যালকোহল
  4. জৈব এসিড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুতি: 
- পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান হচ্ছে হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন) এবং এই হাইড্রোকার্বন থেকেও অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুত করা যায়। 
যেমন- 
(i) সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল হ্যালাইড উৎপন্ন করে। সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে মিথেনের সাথে ক্লোরিন বিক্রিয়া করে। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন হাইড্রোজেন ব্রোমাইডের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল ব্রোমাইড উৎপন্ন করে। অ্যালকাইল হ্যালাইড সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জলীয় দ্রবণের সাথে বিক্রিয়ায় অ্যালকোহলে পরিণত হয়। উৎপন্ন অ্যালকোহলকে শক্তিশালী জারক (K2Cr2O7 ও H2SO4) দ্বারা জারিত করলে প্রথমে অ্যালডিহাইড/কিটোন এবং পরবর্তীকালে জৈব এসিডে পরিণত হয়। 

(ii) ফসফরিক এসিডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন 300°C তাপমাত্রায় এবং 60 atm চাপে জলীয় বাষ্পের (H2O) সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। 2% মারকিউরিক সালফেট (HgSO4) এবং 20% সালফিউরিক এসিডের (H2SO4) উপস্থিতিতে অ্যালকাইন (ইথাইন) পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালডিহাইড উৎপন্ন করে। তবে HgSO4 বিষাক্ত হওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত অ্যালকেনকে উচ্চ তাপ ও চাপে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করলে জৈব এসিড উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৯১.
ফটোগ্রাফিক প্লেটে কোন যৌগের আবরণ থাকে?
  1. ক) AgCl
  2. খ) AgBr
  3. গ) NH4Cl
  4. ঘ) AgF
ব্যাখ্যা
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইডের। 
সিলভার ব্রোমাইডের রাসায়নিক সংকেত হলো AgBr
 
Dry plate, in photography, glass plate coated with a gelatin emulsion of silver bromide. It can be stored until exposure, and after exposure it can be brought back to a darkroom for development at leisure. 
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৭৯২.
সিলিন্ডারে যে গ্যাস বিক্রি হয় তার নাম কি?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ইথেন
  3. গ) প্রোপেন
  4. ঘ) বিউটেন
ব্যাখ্যা
সিলিন্ডারে করে বাজারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তার মূল উপাদান হলো বিউটেন, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে, কিন্তু উচ্চচাপে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করা হয় যা উচ্চচাপ যুক্ত আধারে সংরক্ষণ ব্যবহার ও স্থানান্তরের জন্য সুবিধাজনক।
বিউটেন একটি চার কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন। কক্ষতাপমাত্রায় বিউটেন একটি গ্যাসীয় পদার্থ। বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত C4H10। বিউটেনের দুটি আইসোমার বা সমাণু আছে। n-বিউটেন এবং আইসো বিউটেন। আইসো বিউটেনের আরেকটি নাম মিথাইল প্রোপেন। এটি মূলত জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
১,৭৯৩.
'সিলভার ব্রোমাইড' এর রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. AgBr
  2. AgBr2
  3. Ag2Br2
  4. Ag2Br3
ব্যাখ্যা
• 'সিলভার ব্রোমাইড' এর রাসায়নিক সংকেত AgBr।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ সাধারণত সিলভার হ্যালাইডের (ব্রোমাইড বা আয়োডাইড) আবরণ থাকে।
- ব্রোমাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যাতে একটি ব্রোমাইড আয়ন বা লিগ্যান্ড রয়েছে।
- এটি -১ (Br-) আধান সহ আয়নিত একটি ব্রোমাইড পরমাণু।
- যেমন- সিজিয়াম ব্রোমাইড এর সিজিয়াম ধনাত্মক আয়ন (CS+) বৈদ্যুতিক ভাবে আকর্ষিত হতে পারে ব্রোমাইড অ্যানায়ন (Br-) এর প্রতি।
- ফলে বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ আয়নিক যৌগ CsBr গঠিত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৭৯৪.
পরিবাহকের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ইলেকট্রনের বেগ হ্রাস পাওয়ার ফলে যে বাঁধা সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যাম্পিয়ার
  2. রোধ
  3. ভোল্টেজ
  4. তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- ইলেকট্রন প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
- ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- পরিবাহীর মধ্যদিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহের সময় পরিবাহীর মধ্যস্থ অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ হয়, এই সংঘর্ষের ফলে ইলেকট্রনের গতি বাঁধা প্রাপ্ত হয় এবং বেগ হ্রাস পায়। 
- ইলেকট্রনের বেগ হ্রাস পাওয়ার ফলে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয়।
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবতনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 
- সাধারণত রেডিও, ক্যাসেট, অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদিতে শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবর্তনশীল রোধ লাগানো থাকে। 
- ফ্যানের রেগুলেটরে ফ্যানের পাখাকে জোরে বা আস্তে ঘোরানোর জন্য পরিবর্তনশীল রোধ ব্যবহার করা হয়, যেহেতু এগুলোকে ঘন ঘন পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে তাই এটি বাইরের দিকে লাগানো হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৫.
ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে পার্থক্য কী? 
  1. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে
  2. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে না
  3. সাবান ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, ডিটারজেন্ট গলে না
  4. ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
ব্যাখ্যা
ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৬.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. Sr
  2. Cs
  3. Fr
  4. Li
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৯৭.
'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' কত ডেসিবেলের অধিক মাত্রার শব্দকে 'শব্দ দূষণ' হিসেবে ঘোষণা করেছে?
  1. ৫০ ডেসিবল
  2. ৬০ ডেসিবল
  3. ৪০ ডেসিবল
  4. ১০০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' ৬০ ডেসিবেলের অধিক মাত্রার শব্দকে 'শব্দ দূষণ' হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে সাধারণত 60 ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং 100 ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।

 শব্দ দূষণের কারণ:
- বাস, ট্রাক, ট্রেন ও লঞ্চের হর্ণ, রেডিও, ক্যাসেট, টেলিভিশন ও মাইক উচ্চ শব্দে বাজানো।
- এছাড়া সাইরেন ও যুদ্ধসামগ্রীর শব্দ, বোমার বিস্ফোরণ, মেঘের গর্জন প্রভৃতি শব্দ দূষণের উৎস।

 শব্দের তীব্রতা:
- শব্দের তীব্রতা বলতে শব্দতরঙ্গ যে দিকে সঞ্চারিত হচ্ছে, তার সাথে লম্বভাবে প্রতি একক সময়ে প্রতি একক ক্ষেত্রফল এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শক্তির পরিমাণকে বোঝায়।

বিভিন্ন ধরণের শব্দের পরিমাণ:
- জেট ইঞ্জিন: ১১০-১৪০ ডেসিবেল।
- ট্রাফিক: ৮০-৯০ ডেসিবেল।
- কারখানার কোলাহলের শব্দের তীব্রতা : ৮০ ডেসিবেল।
- স্বাভাবিক কথাবার্তার শব্দের তীব্রতা: ৬০ ডেসিবেল।
- হাটবাজারের শব্দের তীব্রতা: ৭০ ডেসিবেল।
- মাইকে ব্যান্ড সংগীতের শব্দের তীব্রতা: ১২০ ডেসিবেল।
- যে কোনো আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেডের তীব্রতা সাধারণত ১৭০ ডেসিবেল হয়ে থাকে।

উৎস:
•  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট।
•  পদার্থ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
•  বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৮.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে তাকে কী বলে?
  1. নিম্ন স্থির বিন্দু
  2. পানির ত্রৈধ বিন্দু
  3. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৯.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ১ N
  2. √৬১ N
  3. ৩০ N
  4. √১১ N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N 
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৬ + ৫)
= √(৩৬ + ২৫)
= √৬১ N  ।
১,৮০০.
মাটির পাত্রে পানি ঠাণ্ডা থাকে কেন?
  1. মাটির পাত্র পানি থেকে তাপ শোষণ করে
  2. মাটির পাত্র ভালো তাপ পরিবাহী
  3. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  4. মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
- বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে। 
- গরমের দিনে মাটির কলসীতে পানি রেখে পানি ঠান্ডা করা হয়। 
- মাটির কলসীর গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে সর্বদা পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে। 
- ফলে কলসীর বাইরের গাটি সবসময়ই ভেজা থাকে। 
- এই পানির কণা কলসীর গা এবং সংলগ্ন বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় সুপ্ত তাপ সংগ্ৰহ করে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। 
- কলসীর গা ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে, ফলে কলসীর ভেতরের পানিও ঠান্ডা হয়। 
- এছাড়া বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণের নীতিকে কাজে লাগিয়ে রিফ্রিজারেটর তৈরি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।