বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৬ / ৬৪ · ১,৫০১১,৬০০ / ৬,৪০৯

১,৫০১.
পরমাণু চুল্লীতে সচরাচর কোন্‌ জ্বালানী ব্যবহার করা হয়?
  1. ইউরেনিয়াম-২৩৫
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৮
  3. থোরিয়াম-১৩২
  4. প্লুটোনিয়াম-২৪০
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক চুল্লিতে প্রধানত বিভাজনযোগ্য আইসোটোপ ব্যবহার করা হয় যা নিউট্রন আঘাত করলে ভেঙে গিয়ে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন করে। ইউরেনিয়াম-২৩৫ হলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একমাত্র আইসোটোপ যা এই শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) বজায় রাখতে সক্ষম। 

নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়াগুলোই মূলত নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া (Chain Reaction)। 
- যে বিক্রিয়া একবার শুরু হলে তাকে চালু রাখার জন্য অতিরিক্ত কোনো শক্তির প্রয়োজন হয় না তাকে নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া বলে। 
- একটি আইসোটোপকে একটি নিউট্রন দিয়ে আঘাত করা হলে আইসোটোপটি ভেঙে একটি নিউক্লিয়াস, একটি নিউক্লিয়াস, 3টি নিউট্রন এবং প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- এই 3টি নিউট্রনের গতি কমানো সম্ভব হলে সেগুলোর একটি অংশ আবার অন্য আইসোটোপকে আঘাত করে, এভাবে আরো নিউট্রন উৎপন্ন হয়।
- সেই নিউট্রনগুলোর গতিবেগ কমানো হলে তাদের একটি অংশ আবার অন্য কে আঘাত করে ফলে আবার নিউট্রন উৎপন্ন হয়। এভাবে চলমান বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যথেষ্ট জটিল এবং এই বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে পারমাণবিক চুল্লিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫০২.
কোনটি প্রমাণ তাপমাত্রা হিসাবে গণ্য করা হয়? 
  1. 0°C
  2. 25°C
  3. 100°C
  4. 273°C
ব্যাখ্যা
মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 
অর্থাৎ, 
• এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৩.
নিচের কোনটি সাবানের ক্ষেত্রে মিথ্যা?
  1. খর পানিতে ভাল কাজ করতে পারে।
  2. সাবান উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে সাপনিফিকেশন বলে।
  3. সাবান তৈরির মূল উপাদান চর্বি।
  4. সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাবান হলো দীর্ঘ কার্বন শিকলবিশিষ্ট ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি খর পানিতে ভাল কাজ করতে পারে না।
- ডিটারজেন্টের চেয়ে পরিষ্কারকরণের ক্ষমতা কম।
- অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করলে ক্ষার হাতের ক্ষতি করে।
- সাবানের রাসায়নিক সংকেত- C17H35COONa.
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।
- চর্বি বা ট্যাল্লো, ক্ষার, অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি যেমন সোডিয়াম-বাই-কার্বনেট, সোডিয়াম সিলিকেট এবং বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধি ও রঞ্জক পদার্থ সাবান তৈরির মূল উপাদান।
- সাবান উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বা সাপনিফিকেশন (Saponification) বলে।

উৎস: 
১. রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি[২০১৯ সংস্করণ]
২. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৪.
বেকিং সোডা হচ্ছে মূলত-
  1. ক) পটাশিয়াম বাই-টারটারেট
  2. খ) সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
ব্যাখ্যা
বেকিং সোডা (Baking Soda):
বেকিং সোডা (NaHCO3) বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন  উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী।
- এক্ষেত্রে NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে H2CO3 এসিড উৎপন্ন করে। H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে।

বেকিং পাউডার :
বেকিং পাউডার হচ্ছে NaHCO3 ও পটাশিয়াম বাই-টারটারেটের অথবা সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট এর মিশ্রণ।
- উত্তপ্ত করলে বেকিং পাউডার থেকে CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা কেক বা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৫.
আলোর প্রতিসরণের ফলে কোন ঘটনাটি ঘটে?
  1. আয়নার সামনে দাঁড়ালে প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
  2. জলাশয়ের পানিতে আকাশ বা গাছের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। 
  3. প্রিজমের মাধ্যমে সাদা আলো রংধনু রঙে বিভক্ত হয়।
  4. পানির নিচে ডুবে থাকা পয়সা প্রকৃত অবস্থান থেকে উপরে দেখা যায়।
ব্যাখ্যা

আলোর প্রতিসরণ:
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয় তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে।
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে।
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না।

• আলোর প্রতিসরণের ফলে:
- পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়।
- একটি সরল দণ্ডকে তির্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়।
- পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়।
- খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়।
- পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) আয়নার সামনে দাঁড়ালে প্রতিবিম্ব দেখা যায়। (প্রতিফলন) 
খ) জলাশয়ের পানিতে আকাশ বা গাছের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। (প্রতিফলন) 
গ) প্রিজমের মাধ্যমে সাদা আলো রংধনু রঙে বিভক্ত হয়। (বিচ্ছুরণ) 

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫০৬.
পর্যায় সারণিকে কতটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণি:

- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন।
- এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে।
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৭.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলে?
  1. ক) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  2. খ) তরঙ্গ বেগ
  3. গ) বিস্তার
  4. ঘ) কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক: তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
১,৫০৮.
কোন পরমাণু মডেলটি সৌর মডেল নামে পরিচিত?
  1. অ্যাভোগেড্রোর পরমাণু মডেল
  2. বোর পরমাণু মডেল
  3. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
  4. ডাল্টনের পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা
পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৯.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে নিচের কোন ধাতুর বিজারণ সম্পন্ন করা হয়?
  1. Ca
  2. Cu
  3. Ag
  4. Au
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে 'ক্যালসিয়াম (Ca)' ধাতুর বিজারণ সম্পন্ন করা হয়। 

ধাতব অক্সাইডকে মুক্ত ধাতুতে রূপান্তর: 

- আকরিককে ভষ্মীকরণ বা তাপজারণ করায় যে ধাতব অক্সাইড পাওয়া যায় তাদেরকে বিজারিত করলে ধাতু পাওয়া যায়। 
- বিভিন্নভাবে এ বিজারণ সম্পন্ন করা যায়। 
যেমন- তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজারণ, কার্বন বিজারণ পদ্ধতি, স্ববিজারণ ইত্যাদি।
- ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে তাদের অবস্থানের উপর কোন পদ্ধতিতে বিজারণ সম্পন্ন করা হবে তা নির্ভর করে।
যেমন- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১০.
রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়?
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. কসমিক রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
• রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়।

- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।
- টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জনরশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১১.
ভালো মান সম্পন্ন পানির BOD এর মান কত হওয়া উচিত?
  1. 10 ppm
  2. 15 ppm
  3. 6 ppm
  4. 20 ppm
ব্যাখ্যা
প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological Oxygen Demand, BOD): 
- পানিতে উপস্থিত জৈব বর্জ্য পদার্থসমূহের বিয়োজনের জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। 
- পানিতে যতো বেশি পারিমাণে বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থ উপস্থিত থাকে তার জন্য অক্সিজেন চাহিদাও ততো বেশি। 
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য জৈব পদার্থের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা BOD বলে। 
- ভালো মান সম্পন্ন পানির BOD মান 6 ppm এর বেশি হওয়া উচিত নয়। 
অর্থাৎ, প্রতি 1000 mL পানিতে বর্তমান জৈব বর্জ্য দূষকের বিয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন 6 mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়। 
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি ঐ পানির দূষকের মাত্রা ততো বেশি। 
- পানিতে BOD এর মান যতো বেশি হবে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর পরিমাণ ততো হ্রাস পায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১২.
শব্দ দূষণ(নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, নীরব এলাকায় শব্দের মানমাত্রা কত?
  1. ৫৫ ও ৪৫ ডেসিবল
  2. ৭০ ও ৬০ ডেসিবল
  3. ৩৫ ও ৪০ ডেসিবল
  4. ৫০ ও ৪০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ(নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী, 
- নীরব এলাকায় শব্দের মানমাত্রা দিনে (ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা) ৫০ ডেসিবল ও রাতে (রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা) ৪০ ডেসিবল। 
- আবাসিক এলাকায় নীরব এলাকায় দিনে ও রাতে যথাক্রমে ৫৫ ও ৪৫ ডেসিবল; 
- মিশ্র এলাকায় ৬০ ও ৫০ ডেসিবল;
- বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ও ৬০ ডেসিবল;
- এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ও ৭০ ডেসিবল।

সূত্র-  পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।  
১,৫১৩.
সার তৈরিতে কোনটি ব্যাবহৃত হয় না?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, ফসফরাস ইত্যাদি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগের সমন্বয়ে সার তৈরি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৫১৪.
একটি পদার্থের স্থির অবস্থায় কোন শক্তি থাকে না?
  1. গতিশীল শক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. বিভব শক্তি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• একটি পদার্থ স্থির অবস্থায় কোন গতিশক্তি থাকে না। 

গতিশক্তি: 
- একটি বস্তু গতিশীল হওয়া বা থাকার ফলে তার গতিশক্তি লক্ষ্য করা যায়। একটি স্থির বস্তুর বেগ শূন্য হলে তার গতিশক্তি শূন্য হবে। 
- একে কাইনেটিক এনার্জি বলা হয়ে থাকে।
- Ek = 1/2 mv2, v = 0 হলে Ek = 0 হয়। 

রাসায়নিক শক্তি: 
- রাসায়নিক শক্তি হলো বস্তুর অণুর অভ্যন্তরীণ বন্ধনের মধ্যে সঞ্চিত শক্তি।
- এই শক্তি বস্তু স্থির বা চলমান যাই হোক না কেন, অভ্যন্তরীণভাবে থাকে।
- যেমনঃ ব্যাটারি বা খাবারে রাসায়নিক শক্তি থাকে যদিও তা স্থির।

বিভব শক্তি: 
- কোনো বস্তু স্থির থাকলেও, যদি তার কোনো অবস্থান বা অবস্থাগত পরিবর্তন থাকে, তবে তার বিভব শক্তি থাকতে পারে।
- পটেনশিয়াল শক্তি বস্তুর অবস্থান বা অবস্থার কারণে থাকে।
- মাটি থেকে কোনো উচ্চতায় থাকলে মাধ্যাকর্ষণজনিত বিভব শক্তি থাকে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।

১,৫১৫.
ডায়োড সাধারণত সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়- 
  1. ইনভার্টার হিসেবে
  2. রেকটিফায়ার হিসেবে
  3. অ্যামপ্লিফায়ার হিসেবে
  4. রেজিস্টরের বিকল্প হিসেবে
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হলো LED (Light Emitting Diode). 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- একটি ডায়োড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১৬.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলে?
  1. ক) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  2. খ) তরঙ্গ বেগ
  3. গ) বিস্তার
  4. ঘ) কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ:

- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে
- একে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয় Hz।
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা কোনো বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় ঐ বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণস্পন্দন বলে।
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৭.
When you rub your hands together, mechanical energy is converted into:
  1. Sound
  2. Electrical
  3. Kinetic
  4. Potential
  5. Thermal
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়।
- এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি (Mechanical Energy) তাপ শক্তিতে (Thermal Energy) রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূ-পৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে। নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৮.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক চুল্লি: 
- নিউক্লিয়ার রিয়‍্যাক্টর বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়। 
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়‍্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং IAEA ওয়েবসাইট।
১,৫১৯.
কম্পনশীল বস্তুর একটি পূর্ণকম্পনে যে সময় লাগে সে সময়ে তরঙ্গ কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্বকে বলে? 
  1. ক) বিস্তার 
  2. খ) তরঙ্গবেগ 
  3. গ) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 
  4. ঘ) তরঙ্গচূড়া
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।
λ দ্বারা একে প্রকাশ করা হয়।
১,৫২০.
হীরক ও গ্রাফাইটের সাধারণ উপাদান কী?
  1. কার্বন
  2. আর্গন 
  3. নিয়ন 
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা

- হীরক ও গ্রাফাইটের সাধারণ উপাদান হলো কার্বন। 

হীরক ধাতু: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫২১.
আকাশ নীল দেখায় কারণ- 
  1. লাল আলোর বেগ বেশি
  2. নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য লম্বা
  3. সূর্যের আলোতে নীল রঙ বেশি থাকে
  4. নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি 
ব্যাখ্যা

- সূর্যের আলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তা বায়ুমণ্ডলের গ্যাস ও সূক্ষ্ম ধূলিকণা দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, একে আলোর বিক্ষেপণ বলা হয়। দৃশ্যমান আলোর সাতটি রঙের মধ্যে নীল ও বেগুনি রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় এদের বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি হয়। আমাদের চোখ নীল রঙের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় আকাশকে নীল দেখা যায়। 

আলোর বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এই কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়। ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৫২২.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) জারক
  2. খ) বিকারক
  3. গ) সংযোজক
  4. ঘ) বিজারক
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৫২৩.
বিশুদ্ধ কপার বা কাঁসা বা পিতলের তৈরি জিনিসপত্র দীর্ঘদিন বাতাসে থাকার ফলে এদের উপর কালো বা বাদামী বা সবুজ বর্ণের একটি আস্তরণ পড়ে। এই আস্তরণকে কী বলা হয়?
  1. ক) মরিচা
  2. খ) মরীচিকা
  3. গ) তাম্রমল
  4. ঘ) ধাতুমল
ব্যাখ্যা
তাম্রমল:
বিশুদ্ধ কপার বা কাঁসা বা পিতলের তৈরি জিনিসপত্র দীর্ঘদিন বাতাসে থাকার ফলে এদের উপর কালো বা বাদামী বা সবুজ বর্ণের একটি আস্তরণ পড়ে। এই আস্তরণকে কপারের তাম্রমল বলা হয়। তাম্রমল তৈরির মাধ্যমে তামা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

মরিচা:
আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ। এই যৌগই মরিচা। মরিচা লোহার রং নষ্ট করে। লোহার সামগ্রীতে মরিচা পড়লে তা ক্রমশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে ভঙ্গুর হয়ে যায়।

মরীচিকা:
মরীচিকা হচ্ছে আলাের পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল। আলােকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে। প্রবেশ করে তখন প্রতিসরণের দরুণ অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। আর আলাে যখন ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে বিভেদতলে আপতিত হয় তখন প্রতিসরিত হয়ে প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে। আর এভাবেই ঘটে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।আর এর ফলেই সৃষ্টি হয় মরীচিকার। মরুভূমিতে দিনের বেলায় দেখা যায় এই মরীচিকা।

• ধাতুমল:
শিলাস্তূপে প্রচুর পরিমাণ যৌগ বা মুক্ত মৌল হিসেবে মূল্যবান ধাতু ও অধাতু পাওয়া যায়। এ বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় রূপান্তর করা হয়।  পরবর্তীতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ধাতু নিষ্কাশন করা হয়। শিলা থেকে অপদ্রব্যসহ প্রাপ্ত ধাতুকে ধাতুমল বলে।
১,৫২৪.
ভিনেগার তৈরি করার সময় কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
সিরকা বা ভিনেগার: 
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 


খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন, H+ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২৫.
সোডিয়ামের ভর সংখ্যা ২৩ হলে এর নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৩
ব্যাখ্যা
যেহেতু ভরসংখ্যা হলাে প্রােটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রােটন সংখ্যা বিয়ােগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়।
সােডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলাে 23, এর প্রােটন সংখ্যা 11, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে = 23 -11= 12।
১,৫২৬.
তরঙ্গ একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  2. খ) তরঙ্গ বেগ
  3. গ) কম্পাঙ্ক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ বেগ: 
তরঙ্গ একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।
তরঙ্গ বেগ = কম্পাঙ্ক × তরঙ্গদৈর্ঘ্য

কম্পাঙ্ক:
তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য:
তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। তরঙ্গের উপর পরপর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫২৭.
কোন কারণে পরমাণু আধান নিরপেক্ষ থাকে?
  1. পরমাণুর মধ্যে শুধু ইলেকট্রন থাকে
  2. পরমাণুর মধ্যে শুধু প্রোটন থাকে
  3. নিউট্রনের সংখ্যা বেশি থাকে 
  4. প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫২৮.
সোডিয়ামের (Na) নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ২৩
  2. ১২
  3. ১১
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- কোনো একটি মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫২৯.
পদার্থ যেই অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা তাকে বলে - 
  1. বেগ
  2. জড়তা
  3. ভরবেগ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
জড়তা: 
- পদার্থ যেই অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যেই প্রবণতা, তাকে জড়তা বলে। 
- জড়তা দুই প্রকার। 
যথা- 
১। স্থিতি জড়তা: 
- স্থির বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যেই ধর্ম বা প্রবণতা তাকে স্থিতি জড়তা বলে। 

২। গতি জড়তা: 
- গতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যেই ধর্ম বা প্রবণতা তাকে স্থিতি জড়তা বলে। 
- গতিশীল গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে গাড়িতে বসা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। 
- গাড়ি যখন গতিশীল ছিল তখন যাত্রীর শরীরের উপরের অংশ এবং নিচের অংশ উভয়ই গতিশীল ছিল। কিন্তু গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ায় গাড়ি সংলগ্ন শরীরের নিচের অংশ সর্বপ্রথম থেমে যায় বা স্থির হয়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকায় তা গতিশীলই থাকতে চায়। ফলে আরোহী বা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পরে। এটি গতি জড়তা এর উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩০.
যদি কোন যৌগের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে তাহলে সেটি-
  1. ক) ক্ষার
  2. খ) অম্ল
  3. গ) ক্ষারক
  4. ঘ) খর
ব্যাখ্যা
যদি কোন যৌগের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে তাহলে সেটি হচ্ছে অম্ল।
কারণ এসিড বা অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে।
১,৫৩১.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ইউরেনিয়াম
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) গ্রাফাইট
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।
Liquid sodium is used as a coolant in fast breeder reactors on account of its excellent heat transfer properties.
It must, however, be in the pure form to be compatible with structural materials.

- অন্যদিকে, জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা
১,৫৩২.
নিচের কোনটি পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা?
  1. 0 K
  2. 170.44 K
  3. 273.16 K
  4. 323.27 K
ব্যাখ্যা
পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা: 273.16 K.
- এর উপর ভিত্তি করে পরম শূন্য তাপমাত্রা 0 K, বরফ বিন্দু 273.15 K এবং স্টিম বিন্দু 373.15 K ধরা হয়।
- তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে 273.15 K এবং স্টিম বিন্দুকে 373.15 K ধরে মৌলিক ব্যবধানকে 100 ভাগে ভাগ করা হয়।
- এক একটি ভাগকে এক কেলভিন বলা হয়।
- সেলসিয়াস এবং কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে: K = C+273.15

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৩.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে শতকরা কত ভাগ মিথেন থাকে? 
  1. ৬৫-৭০ ভাগ
  2. ৬০-৬৫ ভাগ 
  3. ৯৫-৯৯ ভাগ 
  4. ৭৫-৮৫ ভাগ 
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে-
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে।
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৪.
হিউমাস কী?
  1. ক) মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ
  2. খ) মাটিতে বিদ্যমান অজৈব পদার্থ
  3. গ) মাটিতে বিদ্যমান বিভিন্ন পদার্থ
  4. ঘ) মাটিতে বিদ্যমান উপকারি জীব
ব্যাখ্যা
- মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থ হিউমাস নামে পরিচিত।
 -হিউমাস আসলে এমিনো এসিড, প্রোটিন, চিনি, এলকোহল, চর্বি, তেল, লিগ্নিন, ট্যানিন ও অনন্য এরোমেটিক যৌগ নিয়ে গঠিত বিশেষ জটিল পদার্থ।
 -এই হিউমাস তৈরি হয় গাছপালা ও মৃত প্রানির দেহাবশেষ থেকে। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৫৩৫.
B.T.U এর পূর্ণ রূপ কী?
  1. ক) Board Of Trade unit
  2. খ) Board Of Tax unit
  3. গ) Board Of Transport
  4. ঘ) Board Of Transmission
ব্যাখ্যা
- B.O.T বা B.T.U : তড়িৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান কিলোওয়াট ঘন্টা (kWh) এককে শক্তির পরিমাপ করে।
 -সারা বিশ্বে তড়িৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এ একক ব্যবহার করে।
- এজন্য এ একককে বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট (Board Of Trade unit) বলে।
- সংক্ষেপে একে শুধু ইউনিট বলে।

সূত্র - SSC, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ড বই
১,৫৩৬.
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মির কণাকে কী বলে ?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) কসমিক রশ্মি
  4. ঘ) গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
কসমিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে কণাসমূহ প্রবেশ করে, তাদের সমষ্টিকে মহাজগতিক রশ্মি বা কসমিক রশ্মি বলে। 
- বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৩৭.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস-
  1. ক) খনিজ তেল
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) পাহাড়ী নদী
  4. ঘ) ওপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস-খনিজ তেল,প্রাকৃতিক গ্যাস,পাহাড়ী নদী

সাধারণত বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক হিসাবের জন্য কিলোওয়াট-ঘন্টা একক ব্যবহৃত হয়।
এক কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোন যন্ত্র এক ঘন্টা কাজ করলে যে শক্তি ব্যয় হয় তাকে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বলে।
কোন পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিমাপ করা হয় ভোল্ট একক দ্বারা।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান (১ম পত্র) বোর্ড বই
১,৫৩৮.
প্রশমন বিক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক) লবণ
  2. খ) পানি
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) শক্তি
  5. ঙ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড এবং ক্ষার একত্রে মিশালে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,৫৩৯.
টয়লেট্রিজ ও ভ্যাসলিন তৈরিতে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গ্যাসোলিন 
  2. পিচ
  3. ন্যাপথা 
  4. প্যারাফিন মোম 
ব্যাখ্যা

পেট্রোলিয়াম গ্যাস: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 0°C থেকে 20°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 1 থেকে 4 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা দুই ভাগ পেট্রোলিয়াম গ্যাস থাকে। এ গ্যাসকে চাপ প্রয়োগ করে তরলে পরিণত করে সিলিন্ডারে ভর্তি করা হয় এবং LPG (Liquefied Petroleum Gas) নামে রান্নার কাজে ও অন্যান্য কাজে তাপ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। 

পেট্রোল (গ্যাসোলিন): 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 21°C থেকে 70°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 5 থেকে 10 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 5 ভাগ পেট্রল থাকে। একে গ্যাসোলিনও বলা হয়। যানবাহনের ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাসোলিন ব্যবহার করা হয়। 

ন্যাপথা: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 71°C থেকে 120°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 7 থেকে 14 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 10 ভাগ ন্যাপথা থাকে। জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য অনেক ব্যবহার্য দ্রব্য তৈরি করা হয়। 

কেরোসিন: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 121°C থেকে 170°C পর্যন্ত। এ অংশে যে সকল হাইড্রোকার্বন থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 11 থেকে 16 পর্যন্ত। পেট্রোলিয়ামে শতকরা 13 ভাগ কেরোসিন থাকে। পেট্রোলিয়ামের এই অংশকে জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

ডিজেল: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 171°C থেকে 270°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 17 থেকে 20 পর্যন্ত। যানবাহনের জ্বালানি, পিচ্ছিলকারক পদার্থ ও দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

প্যারাফিন মোম: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 271°C থেকে 340°C পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 20 থেকে 30 পর্যন্ত। প্যারাফিন মোম টয়লেট্রিজ এবং ভ্যাসলিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

পিচ: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 340°C থেকে উচ্চ তাপমাত্রা পর্যন্ত। এ অংশে যে হাইড্রোকার্বনসমূহ থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 30 এর বেশি। রাস্তা তৈরিতে এটি কাজ লাগে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৪০.
কয়লা কোন ধরনের শিলা?
  1. ক) জৈব শিলা
  2. খ) আগ্নেয় শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)।
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। যথা: অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট।
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে।
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৫৪১.
কোনটির ভর সবচেয়ে নগন্য?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের ভর 9.1093837015 × 10−31 kg
নিউট্রনের ভর 1.67493 × 10−27 kg
প্রোটনের ভর 1.67262 × 10−27 kg


সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান। 

১,৫৪২.
p-n জাংশনের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ কীভাবে প্রবাহিত হয়? 
  1. বিপরীতমুখী ঝোঁকে
  2. মধ্যবর্তী ঝোঁকে
  3. সম্মুখী ঝোঁকে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• p-n জাংশনের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ সকল ক্ষেত্রে মূলত সম্মুখী ঝোঁকে (গ) প্রবাহিত হয়, অর্থাৎ p-পদার্থ থেকে n-পদার্থের দিকে বৈদ্যুতিক ধারা যায়। বিপরীতমুখী ঝোঁকে প্রায়ই খুব সামান্য লিকেজ কারেন্ট ছাড়া প্রবাহ ঘটে না।

p-n জাংশন বা ডায়োড: 
- p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে সম্মুখী ঝোঁকে। 
- একটি p- টাইপ এবং একটি n- টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করলে সংযোগ পৃষ্ঠকে p-n জাংশন বলে। 
- একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অংশ p- বা n- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য এবং অপর অংশে যথাক্রমে n- বা p- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- p-n জাংশন মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একধরনের আধান বাহক অনায়েসে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু বিপরীতধর্মী বাহক প্রবাহিত হতে পারেনা। 
- p-n জাংশনকে জাংশন ডায়োড বলে। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ একমুখীকরণে এবং অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪৩.
নিম্নের কোন ফলে ম্যালিক এসিড বিদ্যমান?
  1. ক) কমলা
  2. খ) আনারস
  3. গ) আমলকি
  4. ঘ) টমেটো
ব্যাখ্যা
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড;
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড;
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড;
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড;
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।

উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৪৪.
সেন্টার ট্যাপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয় কোন ধরনের রেকটিফায়ারে?
  1. ক) হাফ ওয়েভ
  2. খ) ফুল ওয়েভ
  3. গ) ব্রীজ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সেন্টার ট্যাপ ট্রান্সফরমার:
- একটি সেন্টার ট্যাপ ট্রান্সফরমার হল এমন একটি ডিভাইস যা তার সেকেন্ডারি উইন্ডিংয়ের মাঝখানে ট্যাপ করে। 
- সেন্টার ট্যাপড ট্রান্সফরমার "টু ফেজ থ্রি ওয়্যার" ট্রান্সফরমার নামেও পরিচিত।
- এটি একটি একক ইনপুট চক্রের জন্য দুটি আউটপুট চক্র সরবরাহ করে। একটি V ভোল্ট ট্রান্সফরমার এটিকে কেন্দ্রে ট্যাপ করে তৈরি করা দুটি অর্ধেক উইন্ডিং জুড়ে প্রতিটি V/2 ভোল্ট পরিমাপ করে। 
- ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার হল সেন্টার ট্যাপ ট্রান্সফরমারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ।
- একটি সম্পূর্ণ তরঙ্গ সংশোধনকারীর জন্য এসি সংকেত থেকে সম্পূর্ণ ডিসি আউটপুট প্রয়োজন। কেন্দ্রের ট্যাপ ট্রান্সফরমার উভয় চক্রে কারেন্টের অনুমতি দিয়ে এটি করে।

উৎস: lambdagreeks. 
১,৫৪৫.
অবতল লেন্সে কোন ধরনের বিম্ব গঠিত হয়?
  1. ক) অবাস্তব, সোজা ও খর্বিত
  2. খ) বাস্তব ও উলটো
  3. গ) অবাস্তব, সোজা ও বিবর্ধিত
  4. ঘ) অবাস্তব, উলটো ও খর্বিত
ব্যাখ্যা
অবতল লেন্সের সামনে লক্ষ্যবস্তু থাকলে তার অবাস্তব, সোজা ও খর্বিত বিম্ব গঠিত হয়। আবার উত্তল লেন্সে লক্ষ্যবস্তুর অবাস্তব, সোজা ও বিবর্ধিত বিম্ব গঠিত হয়। উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
১,৫৪৬.
কোন তাপমাত্রায় ১ লিটার পানির ওজন সবচেয়ে বেশি হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. - ২৭৩° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৪৭.
বিদ্যুৎ প্রবাহের একক কোনটি? 
  1. ভোল্ট
  2. ওয়াট
  3. জুল
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
- অর্থাৎ কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

অন্যদিকে, 
- ক্ষমতার একক ওয়াট।  
- কাজ ও তাপের একক জুল। 
- তড়িৎ বিভব মাপার জন্য ব্যবহৃত হয় ভোল্ট। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৮.
তড়িৎ বিভবের ব্যবহারিক একক হলো -
  1. অ্যাম্পিয়ার
  2. ওহম
  3. ভোল্ট
  4. ওয়াট
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিভব (Electric Potential): এমন একটি রাশি যা কোনো তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি একক ধনাত্মক আধানকে অসীম দূরত্ব থেকে ওই বিন্দুতে আনতে যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, তাকে তড়িৎ বিভব বলে। 
এটি একটি তড়িৎগ্রস্ত বস্তুর এমন একটি অবস্থা যা স্থির করে যে বস্তুটি অন্য বস্তুকে আধান দেবে নাকি গ্রহণ করবে।  যার একক ভোল্ট (V) এবং সূত্রটি হলো V = W/Q (কৃতকার্য/আধান)। 

- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ভোল্ট।

তড়িৎ ক্ষেত্র: 
- একটি আহিত বস্তুর চারপাশে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে অর্থাৎ অন্য কোনো আহিত বস্তু আনা হলে সেটি আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল লাভ করে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে।

তড়িৎ প্রাবল্য: 
- তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি একক ধনাত্মক আধান স্থাপন করলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ প্রাবল্য বলে।

তড়িৎ দ্বিমেরু: 
- এক জোড়া সমান ও বিপরীত বিন্দু আধান অল্প দূরত্বে অবস্থিত থাকলে তাকে তড়িৎ দ্বিমেরু বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১,৫৪৯.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় পার্থক্য কত?
  1. 1.0 সেকেন্ড
  2. 0.1 সেকেন্ড
  3. 0.05 সেকেন্ড
  4. 0.5 সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময়ের পার্থক্য হলো 0.1 সেকেন্ড। মানুষের কানে কোনো শব্দের রেশ বা অনুভূতি প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তাই, একটি স্পষ্ট প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমপক্ষে  0.1 সেকেন্ড হতে হবে, এই সময়ের পার্থক্যের কারণেই উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে দূরত্বের প্রয়োজন হয়। 

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে, এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
অতএব, প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫০.
নিচের কোন মৌলটি যৌগ গঠন করে না? 
  1. N
  2. Kr
  3. H
  4. Fe
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn) এ ছয়টি মৌল পর্যায় সারণিতে 18তম গ্রুপের মৌল। 
- সাধারণত এরা যৌগ গঠন করে না বলে এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবেল গ্যাস হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে
- এ মৌলগুলো প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়। 
- মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণ পরে আবিষ্কৃত হয়। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারের জন্য লর্ড রেলি (Lord Rayleigh) ও স্যার উইলিয়াম রামসে (Sir William Ramsay) কে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫১.
কোন জ্বালানিটি Nuclear Power Plant-এ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. Plutonium (Pu-239)
  2. Thorium (Tb-232)
  3. Uranium (U-235)
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি প্রাথমিকভাবে জ্বালানী হিসাবে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে।
- সবচেয়ে সাধারণ ধরনের পারমাণবিক জ্বালানী হল ইউরেনিয়াম-235 (U-235),
- ইউরেনিয়ামের একটি প্রাকৃতিক আইসোটোপ।
- সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সিরামিক পেলেট গঠিত হয় যা জ্বালানী রডগুলিতে স্ট্যাক করা হয়।
- এই জ্বালানী রডগুলি নিয়ে জ্বালানী অ্যাসেম্বলি সাজানো হয় যা পারমাণবিক চুল্লিকে শক্তি দেয়।
১,৫৫২.
ভিনেগার প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে কিভাবে কাজ করে? 
  1. খাদ্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে
  2. খাদ্যের রঙ পরিবর্তন করে 
  3. খাদ্যের pH কমিয়ে অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে
  4. খাদ্যের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্যদ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগার ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায় ফলে অণুজীবগুলো বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- 
- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে, তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫৩.
দুইটি আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে- 
  1. আধান দুইটির পরিমাণের উপর 
  2. আধান দুইটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর 
  3. আধান দুইটি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর 
  4. উল্লিখিত সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বল: 
- একটি আহিত স্থির বস্তুর নিকট অন্য একটি আহিত বস্তু আনলে বস্তু দু'টির মধ্যে একটি বল কাজ করবে।
- আহিত বস্তু দু'টি যদি সমধর্মী আধান অর্থাৎ দু'টি বস্তুই ধনাত্মক বা দু'টি বস্তুই ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে বিকর্ষণ বল কাজ করবে।
আবার, আহিত বস্তু দু'টি বিপরীতধর্মী অর্থাৎ একটি বস্তু ধনাত্মক আধানে এবং অপর বস্তু ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করবে, আর এ বিকর্ষণ বা আকর্ষণ বলকে তড়িৎ বল বলে।
- দু'টি আধানের মধ্যবর্তী এ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে -
১. আধান দু'টির পরিমাণের উপর,
২. আধান দু'টির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর এবং
৩. আধান দু'টি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫৪.
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে কোন তত্ত্বের উন্নয়নের মাধ্যমে?
  1. ক) স্ট্রিং থিউরী
  2. খ) কোয়ান্টাম থিউরী
  3. গ) রিলেটিভিটি থিউরী
  4. ঘ) থিউরী অব এক্সপানশন
ব্যাখ্যা
- আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত.১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।

 উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
১,৫৫৫.
কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের অন্তর্ভুক্ত?
  1. pH = 2
  2. pH = 5
  3. pH = 8
  4. pH = 7
ব্যাখ্যা
বিশুদ্ধ পানির pH = 7 
 pH এর মান কমতে থাকলে এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। 
 pH এর মান বাড়তে থাকলে ক্ষারের মাত্রা বেড়ে যায়।
যে দ্রবনের বা বস্তুর pH এর মান সবচেয়ে কম উক্ত দ্রবন বা বস্তুর এসিডের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। 
তাই অপশনের ক) সঠিক

সূত্র - রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১,৫৫৬.
পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তন -
  1. কমবে
  2. বাড়বে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তন বাড়বে। এই কারণে পানির তুলনায় বরফের ঘনত্ব কম। 
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়। 
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে। 
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি। 

উৎস:
ব্রিটানিকা।
১,৫৫৭.
বাদুড় কিভাবে চলে? 
  1. ক) চোখে দেখে 
  2. খ) অন্য প্রাণির সহযোগীতায় 
  3. গ) প্রতিধ্বনির সাহায্যে
  4. ঘ) অপবর্তনের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
বাদুর, তিমি মাছ, ডলফিন, মাকড়সা তাদের জীবন যাত্রায় প্রতিধ্বনি কাজে লাগায়। 
বাদুর, এরা দেখতে পারে না। বাদুর পথ চলতে, খাদ্যবস্তু এবং তার অবস্থান সনাক্ত করতে শব্দোত্তর তরঙ্গের প্রতিফলন ব্যবহার করে। এরা বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে। এবং এদের চলার পথে, চারিদিকে এধরণের তরঙ্গ ছড়িয়ে দিতে দিতে চলে। 
১,৫৫৮.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউস গ্যাস?
  1. মিথেন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউস:
- গ্রিন হাউস গ্যাস (Greenhouse gases) বলতে বুঝায় যেসব গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সূর্যের তাপ শোষণ করে এবং তা আটকে রাখে, ফলে পৃথিবী উষ্ণ থাকে।
- এই গ্যাসগুলো গ্রিন হাউস ইফেক্টের জন্য দায়ী।
- গ্রিন হাউস ইফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।

⇒ গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC),
- ফ্লোরিনেটেড গ্যাস (CFCs, HFCs, PFCs),
- ওজোন (O₃)।

উৎস: i) U.S. Environmental Protection Agency (.gov)।
ii) Britannica.
১,৫৫৯.
উত্তল লেন্সের আরেকটি নাম কী?
  1. অপসারী লেন্স
  2. ক্ষীণ লেন্স
  3. অভিসারী লেন্স
  4. অবতল লেন্স 
ব্যাখ্যা

- উত্তল লেন্সের মধ্য দিয়ে আলো যাওয়ার সময় তা একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে একত্রিত হয়, অর্থাৎ আলোকরশ্মিগুলি অভিসারী হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে উত্তল লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলা হয়। 

লেন্স (Lens): 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- সাধারণত লেন্স কাচের তৈরি হয়। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, কোয়ার্টজ এমন কী তরল পদার্থ বা অর্ধতরল পদার্থ দিয়েও লেন্স তৈরি হতে পারে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স (Convex Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে উত্তল লেন্স বা অভিসারী লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্য ভাগ উঁচু বা মোটা এবং প্রান্ত ভাগ সরু, তাই একে স্থূল মধ্য বা উত্তল লেন্সও বলে। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স (Concave Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী বা অবতল লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্যভাগ সরু বা পাতলা এবং প্রান্ত ভাগ মোটা তাই একে ক্ষীণ মধ্য বা অবতল লেন্সও বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬০.
মরীচিকা ব্যাখ্যা করতে হলে মূলত কোনটি প্রয়োজনীয়?
  1. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিফলন সূত্র
  3. আলোর বিচ্ছুরণ 
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

• মরীচিকা ব্যাখ্যা করতে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন প্রয়োজন। মরীচিকা সাধারণত গরম সড়ক বা মরুভূমির উপর দেখা যায়, যেখানে বাতাসের বিভিন্ন স্তর বিভিন্ন তাপমাত্রায় থাকে। গরম বাতাসের স্তরে সূর্যের আলো দ্রুতগতিতে চলে, আর ঠাণ্ডা স্তরে ধীরে চলে। এই কারণে আলো বক্রভাবে মোড় নেয় এবং আমাদের চোখে পানি বা ঝিলমিল করে ভাসমান ছবি মনে হয়। এটি অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফলে ঘটে, যেখানে আলো তাপমাত্রার ভিন্ন ভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন কোণে প্রতিফলিত হয়। আলোর প্রতিফলন সূত্র বা প্রতিসরণ সরাসরি মরীচিকার কারণ নয়, তবে অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তাদের দৃশ্যমান করে তোলে। তাই মরীচিকা ব্যাখ্যার জন্য ক) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন প্রয়োজন।
 
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন: 
- এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১। আলোক রশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যেতে হবে। 
২। এক জোড়া নির্দিষ্ট সচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মিকে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হতে হবে। 

আলোর প্রতিফলন: 
- আপতিত রশ্মির কিছু অংশ বিভেদতল থেকে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
• প্রতিফলনের প্রথম সূত্র: আপতিত আলোক রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপাতর বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই তলে অবস্থান করে। 
• প্রতিফলনের দ্বিতীয় সূত্র: আপতিত কোণ একং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 

আলোর বিচ্ছুরণ (Scattering of Light):
- যখন আলো কোনো স্বচ্ছ মাধ্যম বা কণার সঙ্গে সংঘর্ষ করে এবং সবদিকে ছড়িয়ে যায়, তাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলা হয়।
- অর্থাৎ, আলো শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পথে চলে না, বরং বিভিন্ন দিকে ছিটকে যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬১.
সর্বপ্রথম পরমাণু সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন কে?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) জেমস রেনেল 
ব্যাখ্যা
গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেয়া হয়েছিল এটম। তবে, সে সময় তার ধারনাটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ করবার জন্য কোন উপায় ছিল না বলে, সবার কাছে উনার মতবাদটি গ্রহণযোগ্য হয়নি।
ডেমোক্রিটাসের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় যে কারণে তা হলো তার পারমাণবিক তত্ত্ব।
সৌভাগ্যক্রমে তার এই তত্ত্বটি অনেকটাই মৌলিকরূপে টিকে আছে বিভিন্ন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীর লেখায়।
বিশেষ করে অ্যারিস্টটলের লেখায় ডেমোক্রিটাসের পারমাণবিক তত্ত্বের মৌলিক অংশটিই পাওয়া যায়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
১,৫৬২.
কোন ধাতু তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে হালকা?
  1. হিলিয়াম
  2. পারদ
  3. লিথিয়াম
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো গ) লিথিয়াম।
লিথিয়াম একটি ধাতু যা খুবই হালকা। এটি প্রধানত ব্যাটারি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগে ব্যবহৃত হয়। হিলিয়াম ধাতু নয়, এটি একটি গ্যাস। পারদ এবং সোডিয়াম ধাতু হলেও ওদের ঘনত্ব লিথিয়ামের তুলনায় অনেক বেশি। তাই তুলনামূলকভাবে লিথিয়াম সবচেয়ে হালকা ধাতু হিসেবে পরিচিত। এটি খুব কম ঘনত্বের কারণে সহজে ভাসতে পারে এবং বিভিন্ন হালকা যন্ত্রপাতিতে ব্যবহার করা যায়। লিথিয়ামের এই বৈশিষ্ট্য এর ব্যবহারকে আরো কার্যকরী করে তোলে।

 
 • লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।

১,৫৬৩.
কেলাসিত পদার্থ নয় কোনটি?
  1. ক) মাইকা
  2. খ) সালফার
  3. গ) তামা
  4. ঘ) কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে। 
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে। 
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন। 
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত। 
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়। 

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রবার, সালফার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৪.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. বেশি হয়
  2. কম হয়
  3. খুব কম হয়
  4. একই থাকে
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক পাখা:
- বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ একই হয়। 
- ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফুল স্পিডে বা আস্তে যেভাবেই ঘুরান পাওয়ার একই খরচ হয়। কারন ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ইন্ডাকটর দ্বারা তৈরি।
- ফ্যান চলার সময় এই রেগুলেটর কমিয়ে দিলে ফ্যানের গতি কমে কিন্তু ইন্ডাক্টর উত্তপ্ত হয়। এই উত্তাপের কারনে বৈদ্যুতিক পাওয়ার খরচ হয়। 
- আবার ইলেকট্রনিক রেগুলেটরের বেলায় ভিন্ন। এটি একটি ভেরিয়েবল রেজিস্টর। এটি তৈরি হয় থাইরিস্টর ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে। 
- এতে উত্তাপের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকার কারনে রেগুলেটর লসও খুবি নগন্য হয়। ফলে ফ্যানের গতি কমালে পাওয়ার কম খরচ হবে এবং ফ্যানের গতি বাড়ালে পাওয়ার খরচ বাড়বে। 
- তাই ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম হলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। 

তথ্যসূত্র - সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৫.
তেজস্ক্রিয়তার এস. আই লব্ধ একক কোনটি? 
  1. কুরী
  2. ওহম
  3. রন্টজেন
  4. বেকেরেল
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তার এস. আই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৬.
p-n জাংশন কোন ডিভাইসের মূল উপাদান?
  1. রেজিস্টর
  2. ডায়োড
  3. ট্রানজিস্টর
  4. ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা

- p-n জাংশন মূলত ডায়োডের মূল উপাদান। 

ডায়োড: 

- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত।
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬৭.
কাজের সংজ্ঞা কোনটির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়?
  1. ভর ও গতির গুণফল
  2. তাপ ও চাপের গুণফল
  3. বল ও সরণের ভেক্টর গুণফল
  4. বল ও সরণের স্কেলার গুণফল
ব্যাখ্যা

- পদার্থবিজ্ঞানে কোনো বস্তুর ওপর বল (F) প্রয়োগ করার ফলে যদি বস্তুটির সরণ (s) ঘটে, তবে বল এবং সরণের ডট গুণফল বা স্কেলার গুণফলকে কাজ (W) বলা হয়। গাণিতিকভাবে, W = Fs cosθ যেখানে θ হলো বল এবং সরণের মধ্যবর্তী কোণ। যেহেতু কাজের শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দিক নেই, তাই কাজ একটি স্কেলার রাশি। 

কাজ: 

- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা, [W] = [ML2T -2]. 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 
∴ 1 J = 1 Nm. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১,৫৬৮.
কোনটি ১০০% স্বর্ণ?
  1. ক) ২০ ক্যারেট
  2. খ) ২১ ক্যারেট
  3. গ) ২২ ক্যারেট
  4. ঘ) ২৩ ক্যারেট
  5. ঙ) ২৪ ক্যারেট
ব্যাখ্যা
খাটি স্বর্ণ হলো ১০০ ভাগ স্বর্ণ সম্বলিত ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,৫৬৯.
প্রোটনের ভর প্রায় কোনটির ভরের সমান?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) সিলিকন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
প্রোটন:
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা।
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়।
- ইহার সংকেত H+
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক।
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P।
- আপেক্ষিক আধান +1।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭০.
কোথায় অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান আদর্শ হিসেবে ধরা হয়?
  1. ক) বিষুব রেখা
  2. খ) মেরু বিন্দু
  3. গ) 15° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতল
  4. ঘ) 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মানঃ 
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2 
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81ms-2 
-  সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত g-এর মান 9.75 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-2 । 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৭১.
সূর্য ও অধিকাংশ নক্ষত্র কোন অবস্থার পদার্থ দিয়ে গঠিত?
  1. বায়বীয়
  2. প্লাজমা
  3. তরল 
  4. কঠিন 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়াও পদার্থের আর একটি অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয় অর্থাৎ, গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭২.
মানুষের কানে শোনা অনুভূতির স্থায়িত্ব কত সময় ধরে থাকে?
  1. ০.৫ সেকেন্ড
  2. ০.০০১ সেকেন্ড
  3. ২.৫ সেকেন্ড
  4. ০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• মানুষের কানে শোনা অনুভূতির স্থায়িত্ব সাধারণত খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য থাকে। একটি শব্দের শোনার পরে, মস্তিষ্ক সেই শব্দের তথ্যকে প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত স্মরণ রাখতে সক্ষম হয়। এটি মানে, আমাদের কানে আসা শব্দগুলি দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয় না, বরং খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উপস্থিত থাকে, যা আমাদের সঠিকভাবে শব্দ শনাক্ত এবং বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে। এই সংক্ষিপ্ত সময়কাল শোনার প্রক্রিয়ায় ক্রমবর্ধমান সঙ্গতি ও শব্দের ধারাবাহিকতা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্ব প্রায় ০.১ সেকেন্ড। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) ০.১ সেকেন্ড।

• শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল:
- মানুষের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of Hearing) হল সেই সময়কাল যখন শব্দের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও সেই শব্দের রেশ মস্তিষ্কে থেকে যায়।
- এই সময়সীমা প্রায় ০.১ সেকেন্ড (100 মিলিসেকেন্ড)।
- যদি দুটি শব্দ ০.১ সেকেন্ডের মধ্যে আসে, তবে আমরা সেটিকে একটি শব্দ হিসেবেই শুনি।
- দুইটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুইটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান দরকার।
- কোনো শব্দ যদি প্রতিফলিত হয়ে ০.১ সেকেন্ডের পরে আমাদের কানে ফিরে আসে, তবেই আমরা আলাদা প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক পৃষ্ঠ কমপক্ষে ১৬.৫ মিটার দূরে থাকা প্রয়োজন।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১,৫৭৩.
কোন গ্রিক বিজ্ঞানী পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয় করেছিলেন?
  1. পিথাগোরাস
  2. অ্যারিস্টটল 
  3. ইরাতোস্থিনিস
  4. আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা

গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়, প্রাচীনকালে সেটি শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিসের (BC 624-586) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কারণ তিনিই প্রথম কার্যকারণ এবং যুক্তি ছাড়া শুধু ধর্ম, অতীন্দ্রিয় এবং পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- সেই সময়ের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের মাঝে পিথাগোরাস (527 BC) একটি স্মরণীয় নাম। জ্যামিতি এবং কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ ছিল। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাটম (এই নামটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকে)। তবে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তার ধারণাটি প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না বলে সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। 
- সেই সময়কার সবচেয়ে বড় দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন দিয়ে সবকিছু তৈরি হওয়ার মতবাদটিই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। 
- আরিস্তারাকস (310 BC) প্রথমে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দিয়েছিলেন এবং তার অনুসারী সেলেউকাস যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছিলেন, যদিও সেই যুক্তিগুলো এখন কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। 
- গ্রিক বিজ্ঞান এবং গণিত তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের (287 BC) সময়। তরল পদার্থে ঊর্ধ্বমুখী বলের বিষয়টি এখনো বিজ্ঞান বইয়ের পঠনসূচিতে থাকে। গোলীয় আয়নায় সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে দূর থেকে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরিয়ে তিনি যুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। 
- গ্রিক আমলের আরেকজন বিজ্ঞানী ছিলেন ইরাতোস্থিনিস (276 BC), যিনি সেই সময়ে সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেছিলেন। 

- এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রায় বন্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতীয়, মুসলিম এবং চীনা ধারার সভ্যতা গ্রিক ধারার এই জ্ঞানচর্চাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 
- ভারতবর্ষে আর্যভট্ট (476), ব্রহ্মগুপ্ত এবং ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন। 
- শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করার কাজটিও ভারতবর্ষে (আর্যভট্ট) করা হয়েছিল। 
- মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর আল খোয়ারিজমির (783) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। তার লেখা আল জাবির বই থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 
- ইবনে আল হাইয়াম (965) কে আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আল মাসুদি (896) প্রকৃতির ইতিহাস নিয়ে 30 খণ্ডে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেছিলেন। 
- ওমর খৈয়ামের নাম সবাই কবি হিসেবে জানে; কিন্তু তিনি ছিলেন উঁচুমাপের একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। 
- চীনা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরাও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাদের মাঝে শেন কুয়োর নামটি উল্লেখ করা যায় (1031), যিনি চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভ্রমণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৭৪.
ম্যালিক অ্যাসিড পাওয়া যায়-
  1. আপেলে
  2. কমলাতে
  3. টমেটোতে
  4. কাঁঠালে
ব্যাখ্যা

- আপেল, আনারসে ম্যালিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।
অন্যদিকে,
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক অ্যাসিড।
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড।
- স্ট্রবেরিতে থাকে স্যালিসাইলিক এসিড।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী

১,৫৭৫.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে? 
  1. ওপেনহাইমার
  2. রোজেনবার্গ
  3. অটোহ্যান
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
রবার্ট ওপেনহাইমার: 
- জুলিয়াস রবার্ট ওপেনহাইমার এর জন্ম ২২ এপ্রিল, ১৯০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। 
- রবার্ট ওপেনহাইমার পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করেন। 
- রবার্ট ওপেনহেইমার নিউ মেক্সিকোতে লস আলামোসের ল্যাবরেটরির পরিচালক ছিলেন। 
- সেখানে তিনি পরমাণু বোমার নকশা করেছিলেন। 
- তাকে 'Father of Atomic Bomb' হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় ইউরেনিয়াম-২৩৫। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান নামের যে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ওই দুটি বোমা তৈরিতেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল। 
- মৃত্যু: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ সালে নিউ জার্সির প্রিন্সটনে। 

উৎস: Britannica.
১,৫৭৬.
রাতের আকাশে তারাগুলি মিটমিট করার কারণ আলোর-
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. বিচ্ছুরণ
  4. পোলারায়ণ
ব্যাখ্যা
তারাদের এমন মিটমিট করে জ্বলার পেছনে মূল যে কারণ সেটি হল আলোর প্রতিসরণ।

প্রতিসরণ (Refraction):
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- পৃথিবীতে আসতে হলে তারা থেকে আগত আলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূ-পৃষ্ঠে আসতে হয়।
- এরপর যখন এরা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান গ্যাসের কারণে আলোর যাত্রাপথে মাধমের পরিবর্তন ঘটে এবং প্রতিসরণ ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৭.
হিলিয়াম (He) পরমাণুর যোজ্যতাস্তর পূর্ণ হতে কয়টি ইলেকট্রন প্রয়োজন?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৬ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন ও রাসায়নিক বন্ধন গঠনের কারণ: 
- কোনো একটি পরমাণুর বন্ধন গঠনের ক্ষমতাকে তার যোজ্যতা বলে।
- নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar) এসব মৌলের বন্ধন গঠনের ক্ষমতা নেই, ফলে এদের যোজ্যতা শূন্য। 
- আবার H এর যোজ্যতা এক, O এর যোজ্যতা দুই, N এর যোজ্যতা তিন ও C এর যোজ্যতা সাধারণত চার হয়। 
- কোনো পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে বর্তমান ইলেকট্রনগুলোকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে। 
- এ ইলেকট্রনগুলোই বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। 
- পরমাণুর সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরকে যোজ্যতাস্তর বলে। 
- রাসায়নিক বন্ধনের আধুনিক মতবাদ অনুসারে রাসায়নিক বন্ধন গঠনকালে পরমাণুগুলো সর্বাধিক স্থায়ী ইলেকট্রন গঠন কাঠামো অর্জনের চেষ্টা করে। - নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ইলেকট্রন গঠনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় He ভিন্ন প্রত্যেকেরই যোজ্যতা স্তরে আটটি করে ইলেকট্রন বর্তমান। 
- He পরমাণুর যোজ্যতা স্তর প্রথম শক্তি স্তর, এখানে মাত্র দুটি ইলেকট্রন বর্তমান থেকেই যোজ্যতাস্তরকে ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭৮.
গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী?
  1. ক) জিংক
  2. খ) কার্বন
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
গ্রাফিন কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। সহজভাবে বললে, এটা কার্বনের একটি ষড়ভুজাকৃতির স্ফটিক স্তর বা স্তর বিন্যাস যেখানে প্রতিটি স্তরের পুরুত্ব এক পরমাণুর সমান।

এটি আবিষ্কারের জন্য আন্দ্রেঁ গেইম এবং কনস্টানটিন নভোসেলভ ২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

Britannica থেকে:
Graphene, a two-dimensional form of crystalline carbon, either a single layer of carbon atoms forming a honeycomb (hexagonal) lattice or several coupled layers of this honeycomb structure. The word graphene, when used without specifying the form (e.g., bilayer graphene, multilayer graphene), usually refers to single-layer graphene. Graphene is a parent form of all graphitic structures of carbon: graphite, which is a three-dimensional crystal consisting of relatively weakly coupled graphene layers; nanotubes, which may be represented as scrolls of graphene; and buckyballs, spherical molecules made from graphene with some hexagonal rings replaced by pentagonal rings.
১,৫৭৯.
যদি হাইড্রোজেনের 1H, 2H এবং 3H একে অপরের আইসোটোপ হয়, তাহলে তাদের মধ্যে ভরসংখ্যা কেমন হবে? 
  1. ভিন্ন
  2. সমান
  3. প্রোটন সংখ্যার সমান
  4. নিউট্রন সংখ্যার সমান
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেনের 1H, 2H এবং 3H একে অপরের আইসোটোপ হলে তাদের মধ্যে ভরসংখ্যা ভিন্ন হবে 

আইসোেটাপ (Isotopes): 

- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। এদের মধ্যে শুধু তিনটি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকি আইসোটোপগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৮০.
​তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রকে বলা হয়- 
  1. প্ল্যাঙ্কের সূত্র
  2. আর্নল্ড সূত্র 
  3. হ্যাজেন সূত্র 
  4. জুলের সূত্র
ব্যাখ্যা

তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে।
সুতরাং, W ∝ H.
বা, W = JH
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়।
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন।
- এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮১.
কাঁদুনে গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত কী? 
  1. CCl3NO2
  2. CCl2NO2
  3. CCl3NO3
  4. CCl2NO3
ব্যাখ্যা
• কাঁদুনে গ্যাস:
- কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম ক্লোরোপিকরিন।
- অশ্রু উৎপাদক বলে একে কাঁদুনে গ্যাস বলা হয়।
- এর রাসায়নিক নাম হলো নাইট্রোক্লোরোফরম।
- কাঁদুনে গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত CCI3NO2 .

উৎস: ব্রিটানিকা
১,৫৮২.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে কি বলে?
  1. পর্যায়কাল
  2. কম্পাঙ্ক
  3. বিস্তার
  4. দশা
ব্যাখ্যা
পর্যায়কাল (Time period): 
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s) ।

দশা (Phase): তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

কম্পাঙ্ক (Frequency): তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয়, Hz।

বিস্তার (Amplitude): তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৩.
শব্দ তরঙ্গ এক ধরনের-
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  2. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  3. গামা রশ্মির তরঙ্গ
  4. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- পুরুষের গলার স্বর মোটা এবং নারী ও শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ। যখন কোনো একটা শব্দ করা হয় তখন আমাদের ফুসফুস থেকে বাতাস গলা দিয়ে দিয়ে বের হয়ে আসে। আমাদের গলায় ও ফুসফুসে বাতাস ঢোকার জন্য এবং বের হওয়ার জন্য রয়েছে Wind pipe এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে স্বরযন্ত্র (Larynx)। সেখানে দুটো পর্দা ভালভের মতো কাজ করে, এই পর্দা দুটির নাম ভোকাল কর্ড (Vocal Cord)। বাতাস বের করার সময় এগুলো কাঁপতে পারে এবং শব্দ তৈরি করে। 
- বয়সের সাথে সাথে পুরুষের ভোকাল কর্ড শক্ত হয়ে যায়, নারীদেরটি কোমল থাকে। সে জন্য পুরুষেরা কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে মেয়েরা বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে। সে কারণে পুরুষের গলার স্বর মোটা, নারীর স্বর তীক্ষ্ণ। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়।
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৪.
কোন ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়?
  1. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

ক্ষার: 
- যে সব ক্ষারক পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়।
- ক্ষার আসলে এক বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
- NaOH, NH₂OH, Ca(OH)₂ এরা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) দান করে তাই এরা ক্ষার আবার ক্ষারকও।
- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক তবে পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়।
- ক্ষার বা ক্ষারক অ্যাসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারক এর জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয় এবং এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক সাধারণত কটু স্বাদযুক্ত হয়।

তীব্র ক্ষার: 
যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। যেমন- পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3, ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৫৮৫.
নিচের কোনটি ক্ষারের বৈশিষ্ট্য?
  1. পানিতে দ্রবণীয়
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. লাল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্ষার:
ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।

ক্ষারের বৈশিষ্ট্য:
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH মান সাধারণত ৭-এর বেশি, সাধারণত ৮-১৪ এর মধ্যে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮৬.
৬ - ১০% ইথানোয়িক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলা হয়?
  1. ফরমালিন
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. ভিনেগার
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা

• ৬ - ১০% ইথানোয়িক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।

• ভিনেগার:
- (৬ - ১০)% ইথানোয়িক অ্যাসিডের (Ethanoic acid) জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।
- এটি খাদ্য সংরক্ষণ এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

• ফরমালিন:
- ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল (Methanal)-এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- অর্থাৎ এতে থাকে ৪০ ভাগ মিথান্যাল এবং ৬০ ভাগ পানি।
- এটি একটি সংরক্ষণকারী পদার্থ, যা বিভিন্ন মৃত প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

• রেকটিফাইড স্পিরিট:
- এটি ৯৫.৬% ইথানল এবং ৪.৪% পানির মিশ্রণ।
- এটি সাধারণত জীবাণুনাশক, ঔষধ প্রস্তুতি এবং পরীক্ষাগারে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• মিথানল:
- এটি সবচেয়ে সরল অ্যালকোহল এবং বর্ণহীন, হালকা, দাহ্য তরল।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৮৭.
কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হলে তার ওজন -
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. অর্ধেক হয়
ব্যাখ্যা
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে।
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি।
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি।
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম।
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি।
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর কোনো ওজন শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৮.
 ³⁵₁₇Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 17
  2. খ) 18
  3. গ) 35
  4. ঘ) 70
ব্যাখ্যা
কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন + নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।
এখানে, Cl- এর ভরসংখ্যা 35 এবং প্রোটন সংখ্যা 17।
সুতরাং, নিউট্রন সংখ্যা= 35-17 = 18।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,৫৮৯.
দুধের প্রধান প্রোটিন কোনটি?
  1. লিপিড
  2. ক্যাজিন
  3. ক্যারোটিন
  4. ল্যাক্টোবুমিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন (Protein): 
- দুধে তিন শ্রেণির প্রোটিন থাকে। 
যেমন- ক্যাজিন (casein), ল্যাক্ট এলবুমিন (lact albumin) ও ল্যাক্টো গ্লোবুলিন (lactoglobulin). 
- ল্যাক্ট এলবুমিন ও ল্যাকটোগ্লোবুলিনকে সেরাম বা হোয়ে-প্রোটিন (whey protein or serum) বলে। 
- দুধের মোট প্রোটিন (0.9-4.6%) এর মধ্যে 82% হলো ক্যাজিন এবং 18% হলো হোয়ে-প্রোটিন। 
- ক্যাজিন হলো দুধের প্রধান প্রোটিন উপাদান। 
- গ্লুটামিন ও এস্পারাজিন অ্যামাইনো এসিড বাদে অন্য সব অ্যামাইনো এসিড ক্যাজিনে আছে, তাই তরুণ-তরুণীদের দেহ বৃদ্ধির জন্য প্রায় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ দুধের প্রোটিন উৎকৃষ্ট প্রোটিন খাদ্যরূপে বিবেচিত হয়। 
- ক্যাজিন হলো এক প্রকার ফসফোপ্রোটিন। 
- আর্দ্রবিশ্লেষণের ফলে ক্যাজিন ফসফরিক এসিড ও অ্যামাইনো এসিডে বিভক্ত হয়। 
- ক্যাজিন পানিতে অদ্রবণীয়; দুধে এসিড মিশালে ক্যাজিন অধঃক্ষেপরূপে পৃথক হয়ে পড়ে। 
- মায়ের দুধে 0.9% এবং পশুর দুধে 3.2-4.6% প্রোটিন থাকে। 
- আবার দুধের প্রধান প্রোটিন ক্যাজিন চার ধরনের হয়। 
যেমন- αS1 ক্যাজিন, αS2 ক্যাজিন, β ক্যাজিন ও Κ (kappa) ক্যাজিন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৫৯০.
প্রাকৃতিকভাবে স্টার্চ কোন মনোমারের পলিমার?
  1. ইউরিক অ্যাসিড
  2. ফ্যাটি অ্যাসিড
  3. গ্লুকোজ
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

- স্টার্চ বা শ্বেতসার হলো উদ্ভিদের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য, যা হাজার হাজার গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি পলিস্যাকারাইড। এটি মূলত দুই ধরণের (অ্যামাইলোজ এবং অ্যামাইলোপেক্টিন) পলিমারের মিশ্রণ। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অতিরিক্ত গ্লুকোজ উদ্ভিদদেহে স্টার্চ হিসেবে জমা থাকে। 

পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়।
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়।
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার।
যথা- 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল, পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব, গোল আলু এসব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস, ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন, নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯১.
রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরের উদাহরণ কোনটি?
  1. বিদ্যুৎ বাল্ব
  2. সোলার প্যানেল
  3. কয়লা পোড়ানো
  4. টারবাইন চালানো
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
• নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো-

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
- কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:

বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
- বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
- বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
- কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
- কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
- ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
১,৫৯২.
ফোটনের বেগ কত?
  1. 0 m/s
  2. 3 × 106 m/s
  3. 3 × 108 m/s
  4. 3 × 1010 m/s
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে, কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯৩.
নিচের কোথায় সাঁতার কাটা সবচেয়ে সহজ?
  1. সাগরে
  2. নদীতে
  3. সুইমিং পুলে
  4. মৃত সাগরে
ব্যাখ্যা
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ। সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যার ফলে পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি। তাই সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।

তবে, এই প্রশ্নের উত্তর 'মৃত সাগর' হবে। নামে সমুদ্র হলেও ডেড সি বা মৃত সাগর আসলে একটি হ্রদ।
পানিতে মানুষ ডুবে গেলেও ডেড সি বা মৃত সাগরের পানিতে লবণের পরিমাণ অনেক বেশি তাই মৃত সাগরের পানিতে কেউ ডুবে না। এতে কোন মাছ উৎপাদন হয় না।
ডেড সির পশ্চিমে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল, পূর্বে জর্ডান অবস্থিত।

উৎস: যুগান্তর এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন।
১,৫৯৪.
নিচের কোন খনিজের মধ্য দিয়ে আলো প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু কিছু দেখতে পাওয়া যায় না?
  1. কোয়ার্টজ
  2. ক্যালসাইট
  3. অ্যারাগনাইট
  4. সিলিকা
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থের ভৌত ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত দানাদার বা কেলাসাকার হয়। 
- অনেক খনিজ পদার্থ আছে, যাদের রাসায়নিক সংযুক্তি একই কিন্তু তাদের কেলাস গঠন ভিন্ন যে কারণে তাদের ভৌত ধর্মও ভিন্ন। যেমন- গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড। 
- যদিও দুটি পদার্থই কার্বন দিয়ে গঠিত, কিন্তু গঠনের ভিন্নতার কারণে গ্রাফাইট (যা পেন্সিলে ব্যবহার করা হয়) নরম হয় কিন্তু ডায়মন্ড বা হীরা এখন পর্যন্ত জানা খনিজের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ। 
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত কঠিন হয় এবং একেকটি খনিজের কাঠিন্য একেক রকম। 
- বেশি কঠিন খনিজ খুব সহজেই কম কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে; কিন্তু কম কঠিন খনিজ বেশি কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে না। 
- কাঠিন্য অনুযায়ী সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (Talc), যা দিয়ে ট্যালকাম পাউডার তৈরি হয় এবং সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা বা ডায়মন্ড। 
- খনিজ পদার্থের নির্দিষ্ট দ্যুতি থাকে। ধাতব খনিজ যেমন- পাইরাইটস ধাতুর মতোই দ্যুতি প্রদর্শন করে অর্থাৎ অনেকটা ধাতুর মতোই চকচক করে। খনিজ হীরা অধাতু এবং এটিকে দেখে সাধারণ কাচের মতো মনে হতে পারে কিন্তু এটি কাটার পর এর দ্যুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

- কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যেগুলো খুব স্বচ্ছ এবং এর মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে। যেমন- কোয়ার্টজ বা সিলিকা। 
- আবার কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে, যার মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশ করলেও এর মধ্য দিয়ে কোনো বস্তু দেখা যায় না। যেমন- অ্যারাগনাইট। 
- অন্যদিকে এমন খনিজও আছে, যার মধ্য দিয়ে মোটেই আলো প্রবেশ করতে পারে না। যেমন- ক্যালসাইট (Calcite) বা চুনাপাথর। 
- সাধারণত প্রতিটি খনিজ পদার্থেরই একটা নির্দিষ্ট বর্ণ আছে, যা দিয়ে একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করা যায়। 
- বেশির ভাগ খনিজ পদার্থে ফাটল থাকে, যা দেখে অনুমান করা যায় এটি ভাঙলে কী ধরনের আকার-আকৃতিবিশিষ্ট ছোট ছোট টুকরা পাওয়া যাবে। 
- বেশির ভাগ খনিজ পদার্থের আপেক্ষিক গুরুত্ব ২.৫-৩.৫-এর মধ্যে হয়, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। 

খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম: 
- খনিজ পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম নির্ভর করে এতে বিদ্যমান উপাদানের উপর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৫.
মাটির pH এর মান কত হলে সবচেয়ে ভালো হয়?
  1. ক) <3
  2. খ) 4.0-6.0
  3. গ) 6.0-8.0
  4. ঘ) 10.0>
ব্যাখ্যা
মাটির pH এর মান 6.0 থেকে 8.0 হলে সবচেয়ে ভালো। এর pH এর মান 3.0 থেকে কমে গেলে বা 10.0 থেকে বেড়ে গেলে উপকারী অণুজীব মারা যায়।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫৯৬.
কাজ করার সামর্থ্যকে কী বলে?
  1. বল
  2. চাপ
  3. শক্তি
  4. ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। 

অপরদিকে, 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগে যদি বস্তুটির সরণ ঘটে, তাহলে বল এবং বলের দিকে বলের প্রয়োগ বিন্দুর সরণের উপাংশের গুণফলকে কাজ বলে। 
- একক সময়ে ব্যক্তি বা উৎসটি দ্বারা সম্পাদিত কাজের পরিমাণই হচ্ছে ক্ষমতা। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৭.
ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট কোন ধরনের শিলা? 
  1. স্তরীভূত শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। 
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে। 
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা। 
- এই শিলায় জীবাশ্ম নেই। এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অস্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী। 
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়। 

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): 
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম এবং রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি। 

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): 
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৮.
নিচের কোন শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়?
  1. কয়লা
  2. তেল
  3. বায়ুবিদ্যুৎ
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি জনপ্রিয় করা এবং এদের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৯.
বর্তনীতে কেন ফিউজ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) নিরাপত্তার জন্য।
  2. খ) বেশি আলো পাওয়ার জন্য।
  3. গ) বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য।
  4. ঘ) রোধ বৃদ্ধির জন্য।
ব্যাখ্যা
তড়িতের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার:

- বর্তনীতে নিরাপত্তার জন্য ফিউজ ব্যবহার করা হয় নিরাপত্তার জন্য।
- তড়িৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে 220V (AC) হিসেবে সরবরাহ করে।
- এখানে AC বলতে (Alternating Current) পরিবর্তী প্রবাহ বোঝানো হয়।
- হৃৎপিন্ডের ভেতর দিয়ে সরাসরি 10 mA তড়িৎ প্রবাহ হলেই মানুষ মারা যেতে পারে।
- হঠাৎ করে মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করার জন্য সরবরাহ লাইনে সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়।
- সর্বদা উচ্চ বিভবের তারের সাথে সুইচ লাগানো হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০০.
পদার্থের কঠিন অবস্থার ধর্ম নয় কোনটি?
  1. সুনির্দিষ্ট বিন্যাস
  2. আলোক ধর্ম
  3. দৃঢ়তা
  4. আকৃতিবিহীন
ব্যাখ্যা
• "আকৃতিবিহীন" পদার্থের কঠিন অবস্থার ধর্ম নয়, এটি তরল অবস্থার ধর্ম। 

• পদার্থ:
- যার ভর ও আয়তন আছে, একটি নির্দিষ্ট স্থান দখল করে এবং চাপ প্রয়োগে বাধাদান করে তাকে পদার্থ বলা হয়।

• অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা:
- কঠিন পদার্থ, তরল পদার্থ ও বায়বীয় পদার্থ। 
এই ৩ টি অবস্থা ছাড়াও পদার্থের আরো ২ টি অবস্থা দেখা যায়।
যথা 
- তরল স্ফটিক অবস্থা ও প্লাজমা অবস্থা। 

• কঠিন অবস্থা (Solid state):
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে।
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য।
- গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে।

• কঠিন অবস্থার ধর্ম:
- সুনির্দিষ্ট বিন্যাস,
- দৃঢ়তা ও আলোক ধর্ম ,
- নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন থাকে।

অন্যদিকে,
প্রবাহ ধর্ম, পৃষ্ঠতলটান, আকৃতি বিহীন ইত্যাদি পদার্থের তরল অবস্থার ধর্ম।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।