বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভৌত বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৬,৪০৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভৌত বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০ / ৬৪ · ৯০১১,০০০ / ৬,৪০৯

৯০১.
স্কোপোলামিন কোন উদ্ভিদ থেকে তৈরি করা হয়? 
  1. আফিম 
  2. ধুতুরা 
  3. গোলাপ 
  4. কাকডুমুর 
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

৯০২.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) জারক
  2. খ) বিকারক
  3. গ) সংযোজক
  4. ঘ) বিজারক
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৯০৩.
বস্তুর 'দ্রুতি' কোন ধরণের রাশি?
  1. স্কেলার
  2. ভেক্টর
  3. মৌলিক
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্কেলার রাশি
যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন—দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি।

♦ শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়। 
♦ স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
♦ দুটি স্কেলার রাশির কোনোটির মান শূন্য না হলে এদের গুণফল শূন্য হয় না।
♦ দুটি স্কেলার রাশির গুণফলে সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়।

ভেক্টর রাশি

যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন—সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।

♦ শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
♦ ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।
♦ দুটি ভেক্টর রাশির কোনো একটির মান শূন্য না হলেও এদের ভেক্টর গুণফল শূন্য হতে পারে।
♦ দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
৯০৪.
তেজস্ক্রিয় মৌলের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্ভর করে- 
  1. চাপের উপর
  2. তাপমাত্রার উপর
  3. রাসায়নিক বিক্রিয়ার উপর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity): 
- হেনরি বেকরেল 1896 সালে ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কার করেন। 
- পরবর্তিতে বিজ্ঞানী (মাদাম) মেরি কুরি থোরিয়াম মৌলেও ইউরেনিয়ামের মত ধর্ম দেখতে পান। পরবর্তিতে মেরি কুরি এবং পিয়েরে কুরি ইউরেনিয়াম আকরিক থেকে পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম নিস্কাশন করেন। এদের তেজস্ক্রিয়তা কয়েক হাজার গুণ বেশি। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরাম এক রহস্যময়ী কণা এবং রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- কোনো অস্থায়ী নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নিঃসরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় বলে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বলে। 
- তেজস্ক্রিয় মৌলের যে পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ঘটে তাকে জনক পরমাণু বলে। 
- নিউক্লিয়াসে থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হবার পর যে পরমাণুটি পড়ে থাকে তাকে দুহিতা পরমাণু বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিরামহীন ঘটনা। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ কোনো মৌলের যেকোনো যৌগের তেজস্ক্রিয় ধর্ম অভিন্ন। 
৩। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 
৪। তেজস্ক্রিয়তা তেজস্ক্রিয় পদার্থের তাপমাত্রা, চাপ, রাসায়নিক সংযোগ, আলো, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র ইত্যাদির উপর নির্ভর করে না। 
৫। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল পদার্থের নিউক্লিয়াসে। 
৬। তেজস্ক্রিয়তার বিকিরণ ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা ও তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ প্রবাহের সমষ্টি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৫.
যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে কী বলে?
  1. অ্যানায়ন
  2. ক্যাটায়ন
  3. নিউট্রন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কোনো অম্ল, ক্ষারক বা লবণ জাতীয় পদার্থের দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর দ্রব পদার্থের প্রত্যেকটি অণু দুটি তড়িতাহিত অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। যথা:
১। তড়িৎ বিশ্লেষণ:
- কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋনাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।

২। তড়িৎ বিশ্লেষ্য:
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবণের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
-  সকল এসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, এসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। যেমন: H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি। 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়।
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলক -এ যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশি ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋনাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে।
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তবে তাতে ধনাত্মক চার্জের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়, এ কারণে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৬.
নিচের কোনটি মূলত সাবান?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  4. গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে।
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রধান উৎপাদ হিসাবে সাবান অর্থাৎ সোডিয়াম স্টিয়ারেট বা পটাশিয়াম স্টিয়ারেট পাওয়া যায় এবং উপজাত হিসাবে পাওয়া যায় গ্লিসারিন। 
- সাবান দুই ধরণের হতে পারে - প্রসাধনী সাবান এবং লন্ড্রি সাবান।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯০৭.
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে তুলনা করা হয় -
  1. সোলার প্যানেলের সাথে।
  2. লুনার মডেলের সাথে।
  3. বোর মডেলের সাথে।
  4. সৌর মডেলের সাথে।
ব্যাখ্যা

রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল: 
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড 1911 সালে α-কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা শেষে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল উপস্থাপন করেন। সেটি হলো- 

i. পরমাণুর দুটি অংশ একটি নিউক্লিয়াস এবং অপরটি নিউক্লিয়াসের বাইরের অংশ।
ii. পরমাণু প্রায় সমস্ত ভর পরমাণুর আয়তনের তুলনায় খুব সূক্ষ্ম স্থানে পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। পরমাণুর কেন্দ্রের এ সূক্ষ্ম অংশকে নিউক্লিয়াস বলে। নিউক্লিয়াসের আকার গোলাকার এবং ব্যাস 10-12 10-13 cm এর মধ্যে।
iii. ভারী ধনাত্মক আধান যুক্ত কণা প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত নগণ্য। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে।
iv. পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। পরমাণুতে ধনাত্মক আধান যুক্ত প্রোটনের সংখ্যা ও ঋণাত্মক আধান যুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। একটি প্রোটন যে পরিমাণ ধনাত্মক আধান বহন করে, একটি ইলেকট্রন ঠিক ঐ একই পরিমাণ ঋণাত্মক আধান বহন করে।
v. নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতগতিতে আবর্তন করে।

রাদারফোর্ড পরমাণুর মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করা হয়। কারণ-
- রাদারফোর্ড তাঁর পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষ পথে বিভিন্ন গ্রহগুলো যেভাবে পরিভ্রমণ করে ঠিক একইভাবে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষপথে তীব্র বেগে পরিভ্রমণ করে।
- তাঁর ধারণা মতে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের মধ্যে বিদ্যমান স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণজনিত কেন্দ্রমুখী বল এবং অপরটি ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল।
- এ দুই প্রকার বলের মান পরস্পর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী।
- তাই বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করেন।

তথ্যসূত্র: রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯০৮.
অ্যালকেন সমগোত্রীয় শ্রেণির সাধারণ সংকেত কী? 
  1. CnH2n+1
  2. CnH2n
  3. CnH2n-2
  4. CnH2n+2
ব্যাখ্যা
সমগোত্রীয় শ্রেণি (Homologous): 
- যে সকল যৌগের কার্যকরীমূলক একই হওয়ায় তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের গভীর মিল থাকে তারা একই শ্রেণিভুক্ত, এদেরকে সমগোত্রীয় শ্রেণি বলে।
- একই সমগোত্রীয় শ্রেণির সকল সদস্যকে একটি সাধারণ সংকেত দিয়ে প্রকাশ করা যায়। 
যেমন- অ্যালকেন সমগোত্রীয় শ্রেণির সকল যৌগকে CnH2n+2 সংকেত দিয়ে প্রকাশ করা যেতে পারে। 
- নিচে বিভিন্ন সমগোত্রীয় শ্রেণির উদাহরণ দেওয়া হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৯.
পর্যায় সারণিতে নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে পরিচিত নয় কোনটি?
  1. He
  2. Ar
  3. Kr
  4. Br
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিলো।
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে। 
যেমন- ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।  
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

নিষ্ক্রিয় মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ তে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ অবস্থান করে। 
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn) এ ছয়টি পর্যায় সারণির 18তম গ্রুপের মৌল। 
- সাধারণত এরা যৌগ গঠন করে না বলে এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবেল গ্যাস হিসাবে পরিচিতি। 
- এ মৌলগুলো প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়। 
- মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণ পরে আবিষ্কৃত হয়। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারের জন্য লর্ড রেলি (Lord Rayleigh) ও স্যার উইলিয়াম রামসে (Sir William Ramsay) কে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১০.
শব্দের তীব্রতা কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে? 
  1. উৎসের আকার
  2. উৎসের বিস্তার
  3. মাধ্যমের ঘনত্ব
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ। 
- শব্দের তীব্রতা বলতে বুঝি, শব্দ সঞ্চালনের পথে লম্বভাবে অবস্থিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- শব্দের তীব্রতা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে- 

১। উৎসের বিস্তার: 
- শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পনের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- শব্দের তীব্রতা I এবং বিস্তার A হলে, I ∞ A2

২। উৎসের আকার: 
- উৎসের আকার বড় হলে শব্দ তরঙ্গ বেশি পরিমাণ শক্তি সঞ্চালিত রতে পারে ফলে তীব্রতা বেড়ে যায়। 

৩। উৎস থেকে শ্রোতার দূরত্ব: 
- উৎস ও শ্রোতার মধ্যবর্তী দূরত্ব যতো বাড়বে শব্দের তীব্রতা ততো কমে যাবে কারণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার ফলে শব্দ তরঙ্গের শক্তি কমে যায়। 
- তীব্রতা দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। 
- যদি তীব্রতা এবং দূরত্ব r হয় তাহলে, I ∞ 1/r2

৪। মাধ্যমের ঘনত্ব: 
- যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হবে তার ঘনত্ব বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

৫। মাধ্যমের বেগ: 
- মাধ্যমের বেগের দিকে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়। 

৬। অনুনাদী বস্তুর উপস্থিতি: 
- উৎসের কাছে কোনো অনুনাদী বস্তু থাকলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায়। 
- একটি সুরশলাকাকে বাতাসে স্পন্দিত করলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় টেবিল বা কোনো ফাঁপা কাঠের বাক্সের সাথে লাগিয়ে স্পন্দিত করলে শব্দের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। 
- এক্ষেত্রে বেশি আয়তনের বায়ু কম্পিত হয় বলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৯১১.
কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
  3. এক্সরে রশ্মি
  4. ইনফ্রারেড রশ্মি
৯১২.
বিটা কণিকার চার্জ কী? 
  1. নিরপেক্ষ চার্জ
  2. ধনাত্মক চার্জ
  3. ঋণাত্মক চার্জ
  4. কোনো চার্জ নেই
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্মি। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা: প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা। 

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1×10-31 কেজি। 
২। বিটা কণিকা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান - 1.6×10-19 কুলম্ব। 
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9×108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশি। 
৮। জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৩.
পটাশ অ্যালামে কত অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে? 
  1. 12
  2. 18
  3. 24
  4. 30
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৪.
The wave theory of light was proposed by which of the following scientists?
  1. Erwin Schrödinger
  2. Max Planck
  3. Albert Einstein
  4. Robert Hooke
  5. Christiaan Huygens
ব্যাখ্যা
• আলোর প্রকৃতি সম্পৰ্কীয় বিভিন্ন তত্ত্ব:
- আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রকাশ করেন হাইগেনস (Christiaan Huygens)।
- তরঙ্গ তত্ত্বানুসারে আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়।
- কণা তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে।
- আইজাক নিউটন ১৬৭৫ সালে আলোর কণা তত্ত্ব প্রদান করেন।
- তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৫.
গাড়িতে ব্যবহৃত Odometer কী পরিমাপ করে?
  1. গতি
  2. দূরত্ব
  3. ফুয়েল
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
• গাড়িতে ব্যবহৃত Odometer দূরত্ব পরিমাপ করে।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার।
- হাইড্রোমিটার তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র গ্রাডিমিটার।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
৯১৬.
CH4(g) + 2O2(g) →  CO2 (g) + 2H2O(g) বিক্রিয়াটি কোন ধরণের?
  1. দহন
  2. পলিমারকরণ
  3. বিয়োজন
  4. প্রতিস্থাপন
ব্যাখ্যা
• দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction):
-  কোনো মৌলকে বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে।
দহন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন এর আদান-প্রদান ঘটে। যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়ায় করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে , এটি দহন বিক্রিয়ার ফলে ঘটে। 

• দহন বিক্রিয়ার উদাহরণ:
CH4(g) + 202(g) →  CO2 (g) + 2H2O(g) + তাপ

• দহন বিক্রিয়া জারন-বিজারন বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৯১৭.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. বায়ু
  2. পানি
  3. ইস্পাত
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা

◉ শব্দের গতি মাধ্যমের ঘনত্ব এবং স্থিতিস্থাপকতার উপর নির্ভর করে। সাধারণত, কঠিন পদার্থে শব্দের গতি বেশি হয়, তরলে কম এবং গ্যাসে সবচেয়ে কম। ইস্পাত একটি কঠিন পদার্থ এবং এতে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।

শব্দের বেগ:
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়।
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১৮.
নিচের কোন প্রাণী শব্দেতর কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়?
  1. ক) হাতি
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বাদুড়
  4. ঘ) কুকুর
ব্যাখ্যা
শব্দের কম্পাঙ্ক ২০Hz থেকে কম হলে সেটাকে শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে। এই কম্পনের শব্দ মানুষ শুনতে পায়না তবে কোনো কোনো জীব-জন্তু শুনতে পায়। হাতি এই কম্পনের শব্দ দ্বারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে কারণ হাতির শ্রাব্যতার সীমা ১৬Hz থেকে ১২,০০০Hz। মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০Hz থেকে ২০,০০০Hz।
[সূত্রঃ ব্রিটানিকা]
৯১৯.
নিম্নে উল্লিখিত কোন যন্ত্র বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. জেনারেটর
  2. লাউড স্পিকার
  3. উইন্ডমিল
  4. মাইক্রোফোন
ব্যাখ্যা

• উল্লিখিত যন্ত্রগুলির মধ্যে লাউড স্পিকার বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। লাউড স্পিকারের মূল কাজ হলো বিদ্যুৎ সংকেতকে যান্ত্রিক কম্পনের মাধ্যমে বায়ুর কণার কম্পন সৃষ্টি করা, যা মানুষের কানের কাছে শব্দ হিসেবে পৌঁছায়। যখন স্পিকারে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল প্রবাহিত হয়, তখন এটি স্পিকারের কনাস বা ঝিল্লিকে আড়ম্বরপূর্ণভাবে কম্পিত করে। এই কম্পন বায়ুর মধ্যে তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রোতার কানে শব্দ হিসাবে শোনা যায়। অন্যদিকে, জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, উইন্ডমিল যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদন করে, এবং মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে। তাই স্পিকারই একমাত্র যন্ত্র যা বিদ্যুৎকে শব্দে রূপান্তরিত করে।

শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২০.
জিংক এর খনিজ উৎস কোনটি?
  1. গ্যালেনা
  2. ক্যালামাইন
  3. বক্সাইট
  4. সিন্নাবার
ব্যাখ্যা
• জিংক এর খনিজ উৎস ক্যালামাইন।

• খনিজ সম্পদ:

- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়।
- এক বা একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ।
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ।
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ধাতব খনিজ:
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে।
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে।
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল।
- অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ:
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে।
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ:
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- গ্যালেনা সীসার খনিজ উৎস।
- বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ উৎস।
- সিন্নাবার মার্কারির খনিজ উৎস।

উৎস:
১. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২১.
নিচের কোনটির মধ্যে চার্জ নেই?
  1. ক) গামা রশ্মি ও বিটা রশ্মি
  2. খ) আলফা রশ্মি ও এক্স-রে
  3. গ) এক্স-রে ও গামা রশ্মি
  4. ঘ) প্রোটন ও ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
এক্স রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতিঃ
- এক্স-রশ্মি চার্জিত কোন কণার প্রবাহ নয়।

- এরা দৃশ্যমান আলোকের মতই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- দৃশ্যমান আলো ও এক্স-রশ্মির প্রধান পার্থক্য এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যে।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 7×10-7m  4 ×10-7m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8m থেকে 10-13m  পর্যন্ত।
- সাধারণ আলো বা দৃশ্যমান আলো অস্বচ্ছ পদার্থ ভেদ করতে পারে না।
- কিন্তু, এক্স-রশ্ম উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এটি চামড়া, মাংস ইত্যাদি ভেদ করে যেতে পারে।

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতিঃ
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল।
৩। এর কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২২.
বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে নিচের কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. তড়িচ্চৌম্বকীয় শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৩.
অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর কত?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৩২
  3. গ) ১৬
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের আণবিক ভর হল 32 একক।
- অক্সিজেনের রাসায়নিক সংকেত O2
- এতে ২টি পরমাণু উপস্থিত রয়েছে।
সুতরাং, অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ১৬।

উৎস
: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২৪.
হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না?
  1. ট্রাইটিয়াম
  2. ডিউটেরিয়াম
  3. প্রোটিয়াম
  4. কুইন্টিয়াম
ব্যাখ্যা

• কুইন্টিয়াম - প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। 

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২৫.
কত ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ৯১°
  2. ১০০°
  3. ৯৭°
  4. ৯৫°
ব্যাখ্যা

গলনাংক:
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে।
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়।
- পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়?
- অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস।

স্ফুটনাংক:
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়।
- অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৬.
বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন কে? 
  1. জন বেয়ার্ড
  2. জি. মার্কনী
  3. গ্রাহাম বেল
  4. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৭.
দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম কী?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ল্যাকটোমিটার
  3. পাইরোমিটার
  4. ক্রোনোমিটার
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:
- দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম ল্যাকটোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৯২৮.
কোন বিজ্ঞানীকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়?
  1. হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  2. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
ভৌত বিজ্ঞানে বিজ্ঞানীদের অবদান: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 
- গ্যালিলিও গ্যালিলিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 
- আইজ্যাক নিউটন ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 
- অষ্টাদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আবিষ্কার ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটায়। 
- জেমস্ ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। 
- হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। 
- পরবর্তীতে মাইকেল ফ্যারাডে, হেনরী, লেঞ্জ প্রমূখ বিজ্ঞানীগণ চৌম্বকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপাদন করার তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। এটি ছিল যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরের কৌশল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৯.
কোন অবস্থায় প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর আকারের সমান হয়? 
  1. m = 1
  2. m < 1
  3. m > 1
  4. m = 0
ব্যাখ্যা

রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়, কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়।
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
• m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩০.
জৈব যৌগসমূহ সাধারণত কোন বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়?
  1. ক) আয়নিক
  2. খ) ধাতব
  3. গ) সন্নিবেশ
  4. ঘ) সমযোজী
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।
- অজৈব যৌগ: পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি।
-জৈব যৌগ: মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি।
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে।
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩১.
সর্বাপেক্ষা বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে-
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) রেডিও ওয়েভ
  3. গ) আল্ট্রা ভায়োলেট আলো
  4. ঘ) মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরো ছোট হলে এক্স-রে আরো ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়। আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরো বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরো বড় হলে রেডিও ওয়েভ।
সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে গামা রে বলে এবং সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে রেডিও ওয়েভ বলে। 

[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৯৩২.
আইপিএস চালানোর জন্য এবং গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. সালফিউরিক এসিড
  3. ফসফরিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH₄)₂SO₄] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH₄)₃PO₄]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO₃), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) এবং ফসফরিক এসিড (H₃PO₄) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৯৩৩.
উত্তম জারক পদার্থ হচ্ছে -
  1. O3
  2. H2
  3. H2O
  4. Na
ব্যাখ্যা
- জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
- জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
- যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।
জারক মনে রাখার উপায়:- সকল পারঅক্সাইড,অক্সি এসিড, ক্যাটায়ন, ইক্ লবণ, অক্সিজেন, ওজোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল জারক।
FeSO4 বাদে অক্সিজেনেরর প্রাচুর্য আছে এমন সকল যৌগ জারক।
বিজারক মনে রাখার উপায়:- সকল আস্ লবণ, ধাতু, C ও CO ও হাইড্রোজেন বিজারক।
তাছাড়া H2O2, SO2 , O3 তিনটি পদার্থে জারক, বিজারক দুইটা ধর্মই আছে।
O3 হচ্ছে উত্তম জারক পদার্থ। 

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন (২য় পত্র) বোর্ড বই ও মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৪.
সিলভারিং কী?
  1. কাচের ওপর ধাতুর প্রলেপ
  2. লোহার ওপর ধাতুর প্রলেপ
  3. টিনের ওপর ধাতুর প্রলেপ
  4. প্লাটিনামের ওপর ধাতুর প্রলেপ
ব্যাখ্যা
সিলভারিং:
- কাচের ওপর পারদ বা রূপার প্রলেপ লাগানোর প্রক্রিয়াকে সিলভারিং বলে।
- একে প্যারা লাগানোও বলা হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৫.
এসিড বৃষ্টির ক্ষেত্রে বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান কত হয়?
  1. ৭ এর কম কিন্তু ৬ এর বেশি
  2. ৫.৬ এর কম
  3. ৩.৫ এর কম
  4. ২.৬ এর কম
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান ৫.৬ এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে।
- এসিড বৃষ্টির কারণ হলো মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া।
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান ৫.৬ থেকে ৩.৫ এর মধ্যে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯৩৬.
বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে সাধারণত বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় না কারণ-
  1. ক) পাখির গায়ে বিদ্যুৎরোধী আবরণ থাকে
  2. খ) পাখির দেহের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না
  3. গ) বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হলেও পাখি মরে না
  4. ঘ) মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে সাধারণত বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় না কারণ মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
- বর্তনী সম্পূর্ণ করতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জের সংযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে বর্তনী পূর্ণ হয় না বলে পাখি বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায় না। 
- কিন্তু পাখিটি যদি অন্য তার স্পর্শ করে কিংবা ভূ - সংযুক্ত কোনো পরিবাহীর সংস্পর্শে আসে, তাহলে বর্তনী পূর্ণ হবে এবং এর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে পাখিটি মারা যাবে।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৯৩৭.
পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে বস্তুর ওজন - 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. স্থির থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৩৮.
বর্ষাকালে কাপড় দেরিতে শুকায়, এর প্রধান কারণ কী?
  1. বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে
  2. আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
  3. বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- বর্ষাকাল অপেক্ষা শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় ভিজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
- বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে।
- ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়।
- অন্য দিকে শীত কালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৯.
আলট্রাভায়োলেট রশ্মি কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) ব্লাড ক্যান্সার
  2. খ) চর্ম ক্যান্সার
  3. গ) ব্রেন ক্যান্সার
  4. ঘ) এইডস
ব্যাখ্যা

মানুষ তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশন, এ্যারোসল ব্যবহার করে থাকে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এসমস্ত যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
এসমস্ত যন্ত্র থেকে ক্লোরো ফ্লরো কার্বন (CFC) গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ধ্বংসের সহায়ক।
জানা গেছে CFC-র ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ওজোন স্তরে ছিদ্র দেখা দিয়েছে।
ওজোন স্তরে ছিদ্রের সৃষ্টি হলে সূর্য থেকে ক্ষতিকর অতিবেগুনীরশ্মি পৃথিবীতে চলে আসবে, যা ত্বক ক্যান্সারসহ অন্যান্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৯৪০.
Corona loss কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. Conductor Size
  2. Atmosphere
  3. Line voltage
  4. Height of the Conductor
ব্যাখ্যা
- করোনা লস বলতে করোনা ডিসচার্জের কারণে উচ্চ-ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইনে যে বিদ্যুৎ ক্ষয় হয় তাকে বোঝায়।
- যখন একটি উচ্চ-ভোল্টেজ কন্ডাক্টরের চারপাশের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট প্রান্তিক সীমা অতিক্রম করে, তখন আশেপাশের বায়ু ভেঙ্গে এবং আয়নাইজ করতে পারে, যা করোনা নামক একটি উজ্জ্বল ডিসচার্জ তৈরি করতে পারে।
- এই করোনা ডিসচার্জে আলো, তাপ এবং শব্দ আকারে শক্তির ক্ষতির দিকে পরিচালিত করে।
- কন্ডাকটরের কাছাকাছি বায়ুর অণুগুলির আয়নকরণ এবং ভাঙ্গনের ফলে শক্তি অপচয় হয়, যার ফলে করোনার ক্ষতি হয়।

এট নির্ভর করে- 
- Voltage Level
- Conductor Shape
- Atmospheric Conditions
- Conductor Spacing
- Frequency
- Environmental Factors
- Conductor Material ইত্যাদির উপর। 
৯৪১.
পরিবাহী পদার্থকে তাপ দিলে এর রোধের কী ধরণের পরিবর্তন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পরিবাহী:

- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
- যেমন-রুপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
-  পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪২.
একটি তড়িৎ মোটরের গতি এবং শক্তি বৃদ্ধি করা যায়-
  1. কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি কর।
  2. কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে।
  3. তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি. সি মোটর ও এ. সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- একটি ডি.সি. মোটরের বিভিন্ন অংশের নাম নীচে দেয়া হলো- 
১। ক্ষেত্র চুম্বক, 
২। আর্মেচার, 
৩। কম্যুটেটর, 
৪। ব্রাশ এবং 
৫। বহিঃবর্তনী। 

- কুণ্ডলীতে বলরেখার পরিবর্তন হবার কারণে কিছু আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির উদ্ভব হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে বৃদ্ধি করা যায়। 
যথা- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৩.
একটি যৌগে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. নিউট্রনের সংখ্যা
  2. পারমাণবিক ব্যাসার্ধ
  3. অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা
  4. ঐ মৌলের ভর সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৪.
চুম্বক আবিষ্কৃত হয় কোন দেশে?
  1. ক) আমেরিকায়
  2. খ) ইংল্যান্ডে
  3. গ) গ্রীসে
  4. ঘ) তুরস্কে
ব্যাখ্যা

চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে
যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদে কে চুম্বক বলে।

প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক।

চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ।

যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে তার দুই প্রান্তে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান, যুগান্তর পত্রিকা (ব্যাখ্যা)

৯৪৫.
ফস-চেক কি কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. আগুন নেভানো
  2. আগুন জ্বালানো
  3. পানি উঠানো
  4. বালি উঠানো
ব্যাখ্যা
ফস-চেক: 
- ফস-চেক আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হয়
- এটি উজ্জ্বল গোলাপি রঙের পাউডার জাতীয় পদার্থ।
- এটি এক ধরনের গুঁড়া অগ্নিপ্রতিরোধক, এটি পেরিমিটার নামের একটি কোম্পানি এটা বিক্রি করে।

উল্লেখ্য, 
- আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯৬৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফস-চেকের ব্যবহার হয়ে আসছে। 
- ফস-চেকে রঙের ব্যবহার সম্পর্কে পেরিমিটার জানায়, এর লাল-গোলাপি রং বৈমানিক ও অগ্নিনির্বাপণকর্মী উভয়ের জন্য দৃশ্যমান থাকে, তাই সহজে তারা এটা দেখতে পান।
- যেসব এলাকায় আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে এটি ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে বিশাল এলাকাজুড়ে আকাশ থেকে এই রঙিন গুঁড়া ছিটানো হয়েছে। 

উৎস: বিবিসি এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা।
৯৪৬.
Among these scientists, who first observed the magnetic effect of electric current?
  1. James Clerk Maxwell
  2. Michael Faraday
  3. Isaac Newton
  4. Albert Einstein
  5. Hans Christian Ørsted
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া: 
- তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড। 
- কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর চারপাশে একটি চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, একে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া বলে। 
- ১৮২০ সালে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া যান্ত্রিক বল উৎপন্ন করে। 
- বৈদ্যুতিক ফ্যান, মোটর ইত্যাদিতে চৌম্বক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৭.
একক সংক্রান্ত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা
  2. খ) ক্ষমতা- ওয়াট
  3. গ) তড়িৎ তীব্রতা- ভোল্ট
  4. ঘ) পরিবাহিতা- সিমেন্স
ব্যাখ্যা
তড়িৎ তীব্রতার একক- নিউটন/কুলম্ব। আরো কিছু একক হলোঃ দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা, দীপন (Illumination)- লাক্স, ক্ষমতা- ওয়াট, তড়িৎ বিভব- ভোল্ট, পরিবাহিতা- সিমেন্স, বল- নিউটন, ওজন- নিউটন, কাজ- জুল, শক্তি- জুল, তাপ- জুল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৮.
কোন ধাতু তরল অবস্থায় থাকে?
  1. ক) Au
  2. খ) Hg
  3. গ) Cu
  4. ঘ) Na
ব্যাখ্যা
- পারদ (Hg) একমাত্র ধাতু যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮০। 
- পারদের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৮.৮৩° সেলসিয়াস। 
- তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 

 অন্যদিকে, 
- সাধারণ তাপমাত্রায় ব্রোমিন তরল অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। 
- কিন্তু ব্রোমিন একটি অধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৯.
ডিজেল সাইকেলের ইফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি পায়-
  1. ক) Cut-off কমালে
  2. খ) Cut-off বাড়ালে
  3. গ) Cut-off ধ্রুব থাকলে
  4. ঘ) কম্প্রেশন অনুপাত কমালে
ব্যাখ্যা


এখানে, 

ηdiesel= ডিজেল ইঞ্জিনের দক্ষতা বা ইফিসিয়েন্সি।

α = Cut-off রেশিও। দহনের পূর্বে ও পরে আয়তনের অনুপাত।

CR = কম্প্রেশন রেশিও।

K = Cp/C

K এর  মান ধ্রুবক। তাই Cut-off রেশিও যদি কম হয় তাহলে ইফিসিয়েন্সি বেশি হবে।
৯৫০.
স্থির তরঙ্গ সাধারণত কোন বাদ্যযন্ত্রের তারে দেখা যায়? 
  1. গীটার 
  2. ড্রাম 
  3. বাঁশি 
  4. তবলা 
ব্যাখ্যা

স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
​- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫১.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান ব্যবহার কোনটি?
  1. পরিবহন মাধ্যম হিসেবে
  2. রাসায়নিক গবেষণায়
  3. শিল্প কাঁচামাল হিসেবে
  4. রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বহু ব্যবহার আছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে, বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- এছাড়াও গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 

- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির এই উৎসসমূহ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, ফলে শক্তির বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। 
- তাই পরিবেশ বান্ধব নবায়যোগ্য শক্তির যেমন- সৌরশক্তি, পানি প্রবাহ থেকে প্রাপ্ত শক্তি, জোয়ার-ভাটা শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োমাস ইত্যাদি ব্যপকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ উৎসগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্যের উপর নির্ভরশীল। তাই যতদিন পৃথিবী সূর্যের আলো পেতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত এ সকল উৎস থেকে শক্তির সরবরাহ সম্ভব হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫২.
কোনটির সাহায্যে যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়? 
  1. কাজ
  2. চাপ
  3. ক্ষমতা
  4. কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 
∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1-E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৩.
প্রিজমের মাধ্যমে আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার কারণ-
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ কোণের পরিবর্তন
  3. আলোর বেগের ভিন্নতা
  4. আলোর মেরুকরণ
ব্যাখ্যা

• প্রিজম:
- প্রিজম হলো স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি ত্রিভুজাকার অপটিক্যাল যন্ত্র, যার দুটি সমতল পৃষ্ঠ পরস্পরের সাথে একটি নির্দিষ্ট কোণে ঝোঁকানো থাকে।
- যখন সাদা আলো (বিভিন্ন রঙের সমষ্টি) প্রিজমে প্রবেশ করে, প্রতিটি রঙের জন্য প্রতিসরণ কোণ ভিন্ন হয়।
- বিভিন্ন রঙের আলোর বেগ ভিন্ন হয় কাঁচের মধ্যে। কাঁচের মধ্যে বেগ যত কম, প্রতিসরণ তত বেশি।
- নীল ও বেগুনি আলোর বেগ কাঁচে কম, তাই এগুলোর প্রতিসরণ বেশি।
- লাল আলোর বেগ বেশি হওয়ায় প্রতিসরণ কম।
- সাদা আলো প্রিজমের অপর প্রান্ত দিয়ে বের হওয়ার সময় বিভিন্ন রঙে ভেঙে যায়। এই ঘটনাকেই বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলা হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৯৫৪.
বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে কত বার দিক পরিবর্তন করে?
  1. ৫০ বার
  2. ৬০ বার
  3. ৮০ বার
  4. ১০০ বার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা- 

(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৫৫.
কোনটির আপেক্ষিক রোধ সবচেয়ে বেশি?
  1. বাতাস
  2. হীরা
  3. গ্রাফাইট
  4. তামা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ক) বাতাস

• আপেক্ষিক রোধ:

- নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একক দৈর্ঘ্য ও একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো পরিবাহীর রোধকে ঐ পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ (Resistivity) বা রোধাঙ্ক বলে।
- এটি পরিবাহীর উপাদানের মৌলিক ধর্ম, যা বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নির্দেশ করে।
- একটা নির্দিষ্ট পদার্থের জন্য ρ হচ্ছে আপেক্ষিক রোধ এবং এর একক হচ্ছে Ω m.
- কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক রোধ:


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৬.
বৈদ্যুতিক পাখার গতি এক ধরনের -
  1. স্পন্দন গতি
  2. রৈখিক গতি
  3. পর্যায়বৃত্ত গতি
  4. উপবৃত্তাকার গতি
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো গতিশীল বস্তু যদি একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেকেন্ডের কাটাটি প্রতি এক মিনিটে একবার এর কেন্দ্র বিন্দুর চারদিকে ঘুরে আসে। 
- ঘড়ির কাঁটাটি বারবার একটি পথে ঘুরছে অর্থাৎ এর গতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ধরনের গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 
- বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারপাক দৌড়ের একজন প্রতিযোগী একই দিক থেকে চারবার অতিক্রম করে যা একটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি, পাকদৌড়ের গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯৫৭.
মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন-
  1. ক) তেজস্ক্রিয়তা
  2. খ) ডিনামাইট
  3. গ) ডায়নামো
  4. ঘ) পারমাণবিক বোমা
ব্যাখ্যা
যুক্তরাজ্যের বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট; ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; এবং তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করে হেনরি বেকেরেল। সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৯৫৮.
নিম্নের কোনটি একটি অম্লধর্মী অক্সাইড? 
  1. ZnO
  2. CO2
  3. CaO
  4. H2O
ব্যাখ্যা
অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে, তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) । 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে, তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন-অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না, তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৯.
নিচের কোন অণুটি এক পরমাণুবিশিষ্ট?
  1. হাইড্রোজেন
  2. ক্লোরিন
  3. হিলিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

- মৌলিক গ্যাসের অণুসমূহ দ্বিপরমাণুক। যেমন- হাইড্রোজেন, ক্লোরিন, অক্সিজেন ইত্যাদি।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অণুসমূহ এক পরমাণুবিশিষ্ট। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ইত্যাদি।
- ফসফরাস এর অণু হলো চার পরমাণুবিশিষ্ট।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৯৬০.
নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি-
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. সৌরতাপ
ব্যাখ্যা
• নবায়নযোগ্য জ্বালানি:
যেসব শক্তি বা জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় কিংবা যে সব শক্তি বা জ্বালানির উৎস ব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যায় না তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা শক্তি বলে।

• নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদাহরণ:
- পরমাণুর শক্তি,
- সৌরতাপ,
- বায়ু,
- জিওথার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি,
- জলবিদ্যুৎ,
- বায়োগ্যাস ইত্যাদি।

• অনবায়নযোগ্য জ্বালানি উদাহরণ:
- পেট্রোল,
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬১.
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন বজায় থাকার মূল কারণ কী? 
  1. কণিকাগুলো স্থির থাকে
  2. কণিকাগুলো ঘূর্ণায়মান থাকে
  3. কণিকাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক শক্তি খুব কম
  4. কণিকাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল প্রবল
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন বজায় থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। 
- এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬২.
আইনস্টাইনের দ্বিতীয় স্বীকার্য অনুযায়ী আলোর বেগের কোন বৈশিষ্ট্য সত্য?
  1. আলোর বেগ পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল
  2. আলোর বেগ নির্দিষ্ট জড় প্রেক্ষাপটের জন্য পরিবর্তনশীল
  3. আলোর বেগ আলোর উৎসের গতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়
  4. শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রেক্ষাপটের পর্যবেক্ষকের জন্য সমান
ব্যাখ্যা

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা।
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
যথা -
প্রথম স্বীকার্য:
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।

দ্বিতীয় স্বীকার্য:
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৩.
তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) আরহেনিয়াস
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত বিজ্ঞানী আরহেনিয়াস ১৮৮১ সালে প্রথম তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা দেন।
তিনি দেখিয়েছিলেন এসিড, ক্ষার বা লবণজাতীয় যৌগিক পদার্থকে তরলে দ্রবীভূত করলে সেগুলো আয়নায়িত হয়ে সম-পরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধানে ভাগ হয়ে যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬৪.
বায়োমাস শক্তি কী ধরনের শক্তি? 
  1. জীবাশ্ম জ্বালানি
  2. নবায়নযোগ্য শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা
বায়োমাস শক্তি: 
- বায়োমাস শক্তি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যে শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে।
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস।
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন।
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৫.
কোন তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেল সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে? 
  1. ০ ডিগ্রি 
  2. ৪ ডিগ্রি 
  3. - ৪০ ডিগ্রি
  4. ৪০ ডিগ্রি 
ব্যাখ্যা

- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো- 
• C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা] 

এখন, 
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/৫ = (x - ৩২)/৯
Or, ৯x = ৫x - ১৬০
Or, ৪x = - ১৬০
Or, x = - ৪০
অর্থাৎ, - ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬৬.
ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত-
  1. 2H2O2
  2. H2O
  3. D2O
  4. HD2O2
ব্যাখ্যা
• পানি:
- পানির সংকেত হলো H2O.
- ভারী পানির সংকেত হলো D2O।
- রাসায়নিক নাম হচ্ছে ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
- পানিতে উপস্থিত থাকে প্রোটিয়াম এবং অক্সিজেন।
- ভারী পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন।
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ।
- সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৭.
নিম্নের কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে N-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) Inductor
  2. খ) Capacitor
  3. গ) Solar cell
  4. ঘ) Resistor
ব্যাখ্যা
- একটি সৌর কোষ হল এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা সিলিকনের মতো অর্ধপরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করে সৌর শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।  
-  সৌর কোষে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে এন-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহৃত হয়। এর ফলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।  
- যখন সূর্যালোক সৌর কোষে আঘাত করে, তখন শক্তি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান দ্বারা শোষিত হয় এবং সার্কিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয়।

উৎস : https://www.energy.gov, https://www.nrel.gov/
৯৬৮.
নিচের কোনটি পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  3. তাপীয় বিক্রিয়া
  4. রাসায়নিক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া। 
- নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি পারমাণু ভেঙ্গে একাধিক হালকা ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৯.
ফিটকিরি এর অপর নাম কি?
  1. কস্টিক পটাশ
  2. চুন
  3. পটাশ অ্যালাম
  4. সাধারণ লবণ
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

Other Options:
Potassium Hydroxide = কস্টিক পটাশ।
Calcium Carbonate = চুন।
Sodium Chloride = সাধারণ লবণ।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭০.
সাধারণ তাপমাত্রায় বায়ুচাপে পানি কত ডিগ্রি তাপামাত্রায় ফোটে?
  1. ১০০° সেন্টিগ্রেড
  2. ১০৮° সেন্টিগ্রেড
  3. ৯৯° সেন্টিগ্রেড
  4. ২১২° সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়, আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক হলো ১০০° সেলসিয়াস, এই তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭১.
ট্যাকোমিটার কী?
  1. শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র
  2. মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  3. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  4. গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র- ক্যালরিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েসাইট।
৯৭২.
নিচের কোনটি পানিতে অদ্রবনীয়?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) সালফিউরিক এসিড
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম কার্বনেট বিশুদ্ধ পানিতে দ্রবীভূত হয় না।

- সোডিয়ামের যৌগ সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণ স্বচ্ছ, বর্ণহীন কঠিন পদার্থ এবং পানিতে দ্রবণীয়।
- বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড ঘন তৈলাক্ত পদার্থ, যা পানিতে সহজেই দ্রবীভূত হয়।
- অ্যালকোহল সকল মাত্রায় পানিতে দ্রবীভূত হয়।

• অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রকৃতিতে চুনাপাথর, মার্বেল পাথর, চক ও অন্যান্য রূপে বিদ্যমান; যা বিশুদ্ধ পানিতে সম্পূর্ণভাবে অদ্রবণীয়।

Source: chem.ncbi.nlm.nih.gov & Britannica Encyclopedia.
৯৭৩.
পলিমারের ক্ষুদ্র অংশকে কী বলা হয়? 
  1. মনোস্যাকারাইড
  2. মনোমার
  3. ডাইমার
  4. ট্রাইমার
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে। 
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন। প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৪.
অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি? 
  1. ডিটারজেন্ট
  2. সাবান
  3. চর্বি
  4. তৈল
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী ও নাগ)।
৯৭৫.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না? 
  1. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া 
  2. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  3. সমচাপ প্রক্রিয়া 
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া 
ব্যাখ্যা

এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি।
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৯৭৬.
কোন ধরনের পদার্থ লিটমাস কাগজকে নীল করে?
  1. Acid (এসিড)
  2. Alkali (ক্ষার)
  3. Salt (লবণ)
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রঙ পরিবর্তন করে নীল করে।
- আর সকল এসিড নীল লিটমাসের বর্ণ পরিবর্তন করে লাল করে থাকে।
 
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড। কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না। 
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। 
 
- Alkali (ক্ষার) is any of the soluble hydroxides of the alkali metals—i.e., lithium, sodium, potassium, rubidium, and cesium. 
- Alkalies are strong bases that turn litmus paper from red to blue.
- they react with acids to yield neutral salts; and they are caustic and in concentrated form are corrosive to organic tissues.

সূত্র: ব্রিটানিকা, মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 
৯৭৭.
নিচের কোন পদার্থটি ঊর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. আয়োডিন
  2. সোডা অ্যাশ
  3. ন্যাপথলিন
  4. নিশাদল
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল, কর্পূর, ন্যাপথলিন, কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড, আয়োডিন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ওয়াশিং সোডা, সোডা অ্যাশ এবং সোডা স্ফটিক নামেও পরিচিত। 
- সোডিয়াম কার্বনেটের সব রূপই সাদা বর্ণের। 
- ভৌত ধর্মের দিক থেকে এটি গন্ধহীন এবং জলে দ্রাব্য। 
- জলে দ্রবীভূত হয়ে এটি ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৯৭৮.
গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি সত্য নয়?
  1. দৃশ্যমান আলোর চেয়ে শক্তি কম
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট
  3. এটি কম্পাঙ্ক বেশি রাখে
  4. এটি জীবনের জন্য ক্ষতিকর
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি হলো তড়িৎচৌম্বকীয় বর্ণালীর সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। এর শক্তি দৃশ্যমান আলোর শক্তির তুলনায় কয়েক হাজার গুণ বেশি হতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রানুসারে, বিকিরণের শক্তি তার কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক। যেহেতু গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক অনেক বেশি, তাই এর শক্তিও অনেক বেশি। 

গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray । 
- গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে গামা রশ্মির শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য গামা রশ্মিটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৯.
ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভাল পদ্ধতি –
  1. বয়লিং
  2. বেনজিন ওয়াশ
  3. ফরমালিন ওয়াশ
  4. কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
ব্যাখ্যা
কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন: 
- কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ধারালো যন্ত্রপাতি বা সংবেদনশীল উপকরণগুলো জীবাণুমুক্ত করতে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
- এই পদ্ধতি বিশেষত তাপ-সংবেদনশীল (heat-sensitive) বা উচ্চ তাপমাত্রায় বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য কার্যকর।
- ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য 'কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন' সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। 

অন্যদিকে, 
বয়লিং: 
- উচ্চ তাপমাত্রায় কিছু জীবাণু এবং স্পোর বেঁচে যেতে পারে। তাই ধারালো যন্ত্রপাতির ধার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

বেনজিন ওয়াশ: 
- বেনজিন জীবাণু ধ্বংসে কার্যকর নয় এবং এটি পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও জীবাণুমুক্ত করতে পারে না। 

ফরমালিন ওয়াশ: 
- ফরমালিন শুধুমাত্র জীবাণুনাশক (disinfectant) হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি পুরোপুরি স্টেরিলাইজ করার জন্য যথেষ্ট নয়।
৯৮০.
কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয় নিচের কোন পদার্থটি?
  1. ক) ন্যাপথালিন
  2. খ) বরফ
  3. গ) পিভিসি
  4. ঘ) স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
কিছু পদার্থ আছে যারা কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। যেমন: ন্যাপথালিন, আয়োডিন, কর্পূর, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড ইত্যাদি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৯৮১.
কোন স্থানে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ক) ৯ গুণ বাড়বে
  2. খ) ৯ গুণ কমবে
  3. গ) ৩ গুণ বাড়বে
  4. ঘ) ৩ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।

দোলনকাল মধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।

সুতরাং,  মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে
৯৮২.
ইস্ট ব্যবহার করলে পাউরুটি ফুলে উঠে কেন?
  1. ইস্ট কার্বোনিক এসিড উপন্ন করে বলে
  2. ইস্ট কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে
  3. ইস্ট মিথেন গ্যাস উপন্ন করে বলে
  4. ইস্ট কার্বন মনো অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে
ব্যাখ্যা
ইস্ট:

- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৩.
তীব্র এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. জলীয় দ্রবণে অম্লধর্ম প্রকাশ করে না
  2. এটি ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে না
  3. এটি আংশিকভাবে আয়নিত হয়
  4. এটি সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা

- তীব্র এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
অন্যদিকে, সব এসিডই জলীয় দ্রবণে অম্লধর্ম প্রকাশ করে; তীব্র এসিড সাধারণত সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে এবং আংশিকভাবে আয়নিত হওয়া দুর্বল এসিডের (weak acids) বৈশিষ্ট্য। 

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এসিড ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীল লিটমাসকে লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস:
রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৪.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ নয়? 
  1. ফ্লোরিন 
  2. লিথিয়াম 
  3. পটাশিয়াম 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সবই ইলেকট্রন দান করে, তাই এ পদার্থগুলো বিজারক। কিন্তু ফ্লোরিন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এটি জারক। 

বিজারক পদার্থ: 

- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- অক্সিজেন (O2), ক্লোরিন (Cl2), ফ্লোরিন (F2), H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৫.
নিচের কোন রাশির মান সরাসরি মাপা যায় না কিন্তু মৌলিক রাশি থেকে নির্ণয় করা যায়? 
  1. বেগ
  2. দৈর্ঘ্য 
  3. ভর 
  4. সময় 
ব্যাখ্যা

- বেগ হলো একটি লব্ধ রাশি, যা সরাসরি মাপা যায় না, কিন্তু মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য এবং সময় থেকে নির্ণয় করা যায়। বেগকে দূরত্ব (দৈর্ঘ্য) এবং সময় দ্বারা ভাগ করে (বেগ = দূরত্ব / সময়) হিসাব করা হয়। 

রাশি: 

- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এ রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলা হয়।
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।  
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৬.
কোনটি সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ?
  1. ক) আল্ট্রা ভায়োলেট
  2. খ) এক্স-রে
  3. গ) রেডিও ওয়েভ
  4. ঘ) গামা রে
ব্যাখ্যা

- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮৭.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়া মূলত কত ধরনের হয়ে থাকে?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দু'ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৮.
আকাশ নীল দেখায়, কারণ- 
  1. নীল রঙের বিক্ষেপণ বেশি হয়
  2. নীল রঙের বিক্ষেপণ কম হয়
  3. সূর্যরশ্মি সরাসরি নীল রঙের হওয়ায় 
  4. সব রঙ সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে 
ব্যাখ্যা

বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- এই আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়। 
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৮৯.
বয়লার অথবা কেটলির তলায় কিসের স্তর পড়ে?
  1. ক) সোডিয়াম সালফেট
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৯৯০.
নিম্নের কোনটি ফোটন কণার ধর্ম নয়? 
  1. তড়িৎ নিরপেক্ষ
  2. নিশ্চল ভর শূন্য
  3. নিউটনের বলবিদ্যার দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়
  4. আলোর সমবেগে চলে
ব্যাখ্যা
ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯১.
এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে এর ভেদন ক্ষমতা কী হয়? 
  1. অসীম হয়ে যায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. কমে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার।
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬ । আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯২.
কুরি বিন্দু বলতে বুঝায় - 
  1. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া
  2. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব অর্ধেক নষ্ট হয়ে যাওয়া
  3. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব এক-চতুর্থাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া
  4. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৩.
দৃশ্যমান আলোক বর্ণালির মাঝমাঝি তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর? 
  1. নীল 
  2. আসমানি 
  3. হলুদ
  4. সবুজ
ব্যাখ্যা
• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে মাঝমাঝি তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলো সবুজ।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯৯৪.
রোধের এস. আই একক কোনটি?
  1. ক) অ্যাম্পিয়ার
  2. খ) ও'ম
  3. গ) ভোল্ট
  4. ঘ) সিমেন্স
ব্যাখ্যা
এস. আই একক বা আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে :
- রোধের একক - ও'ম (Ω)।
যে পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 1 ভোল্ট (V) হলে তার মধ্য দিয়ে 1 অ্যাম্পিয়ার (A) তড়িৎ প্রবাহ চলে সেই পরিবাহীর রোধকে 1 ও'ম (Ω) বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক - অ্যাম্পিয়ার (A)।
- বিভব পার্থক্যের একক - ভোল্ট (V)। 
- তড়িৎ পরিবাহিতার একক - সিমেন্স (S)। 

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৯৯৫.
নিচের কোনটি যৌগিক রাশি?
  1. সময়
  2. ত্বরণ
  3. ভর
  4. দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৬.
রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৯০% ইথাইল অ্যালকোহল +১০% পানি
  2. ৮০% ইথাইল অ্যালকোহল + ২০% পানি
  3. ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
  4. ৯৮% ইথাইল অ্যালকোহল + ২% পানি
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৭.
কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন কত হবে?
  1. ১০০ কেজি
  2. ২৪০ কেজি
  3. ৪০ কেজি
  4. ২০ কেজি
ব্যাখ্যা
[লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে টাইপিং এর ভুল ছিল। ২০ এর পরিবর্তে ১২০ দেয়া ছিল। যেহেতু জব সল্যুশনের প্রশ্ন, তাই প্রশ্ন সংশোধন করে দেয়া হয়েছে।]

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 
আমরা জানি, 
ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
৯৯৮.
Which phenomenon occurs if the temperature of a conductor is raised?
  1. The resistance increases
  2. It behaves like an insulator
  3. The resistance decreases
  4. The resistance remains constant
  5. The flow of electric current increases
ব্যাখ্যা
• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৯.
গোলীয় দর্পণের বক্রতার ব্যাসার্ধ ফোকাস দূরত্বের-
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) দ্বিগুণ
  3. গ) সমান
  4. ঘ) চার গুণ
ব্যাখ্যা

উত্তল দর্পণ এবং অবতল দর্পণ উভয় ক্ষেত্রেই দর্পণের ফোকাস দূরত্ব তার বক্রতার ব্যাসার্ধের অর্ধেক। অর্থাৎ ফোকাস দূরত্ব, f এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ, r হলে, f=r/2
বা, r=2f
অর্থাৎ, বক্রতার ব্যাসার্ধ=২×ফোকাস দূরত্ব

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,০০০.
চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না-
  1. নিকেল
  2. আয়রন
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- এ সকল পদার্থকে সহজেই চুম্বকে পরিণত করা যায়।

• অচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- কাঠ, কাঁচ, তামা, সোনা, রুপা ইত্যাদতসঃ

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।