বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৭ - ১৯৫৩)

মোট প্রশ্ন৯৫০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৭ - ১৯৫৩)

PrepBank · পাতা / ১০ · ১০১২০০ / ৯৫০

১০১.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৫৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
- কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

♦ প্রথম শহীদ মিনার
- প্রথম শহীদ মিনার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রথম শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
১০২.
বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন কে?
  1. আবুল হোসেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. আবদুল মতিন
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (১৯৪৮–১৯৫০)
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সেই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
- বাংলা ভাষাকে বিকৃত করার এই চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়, যা তথাকথিত ভাষা সংস্কারের নামে বাংলা ভাষার অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিরোধিতা করে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
- ভাষার অধিকার রক্ষায় নতুন করে আন্দোলনের সংগঠিত প্রয়াস শুরু হয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- এই কমিটির নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এবং জনগণের সচেতনতা ও প্রতিবাদের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হয়ে ওঠে।
- এই ধারাবাহিকতা ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১০৩.
বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হলো-
  1. ক) আঞ্চলিকতা
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) রাজনীতি
  4. ঘ) ভাষা ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হলো ভাষা ও সংস্কৃতি।
- ভাষা আন্দোলন তৎকালীন রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয় ।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। 
- কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এবং তরুণ কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ‘স্মৃতির মিনার’ শীর্ষক কবিতা রচনা করেন।
- হাসান হাফিজুর রহমানের ‘একুশের সংকলন' ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা।
- আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফে রচনা ও সুরে ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়'।
- বাগেরহাটের চারণ কবি শামসুদ্দিন আহমেদ রচনা করেন ‘তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি' শীর্ষক গান।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন ‘কবর' নাটক এবং জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন’ শীর্ষক উপন্যাস।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এসব কবিতা, গান, নাটক ও উপন্যাস বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে ছাত্রজনতা ধর্মঘট পালন করে?
  1. ক) ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ একটি স্মরণীয় দিন। গণপরিষদের ভাষা তালিকা থেকে বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাখার প্রতিবাদস্বরূপ ঐ দিন ঢাকা শহরে প্রথম ধর্মঘট পালিত হয়।
ধর্মঘটের পক্ষে ‘রাষ্ট্রভা্ষা বাংলা চাই’ এই স্লোগানে মিছিল করার সময় শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী গোলাম মাহবুব, শওকত আলী, আবদুল ওয়াহেদ প্রমুখ গ্রেফতার হন।
একজন পুলিশের নিকট থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের আঘাতে মোহাম্মদ তোয়াহা মারাত্মকভাবে আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১২-১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া।
১০৫.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ ভাষা আন্দোলনের সময়ে রচিত জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ে লেখা ও সুর করা আবদুল লতিফের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গান - ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ এবং “তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি “।
- গোবিন্দ হালদার - এক সাগর রক্তের বিনিময়ে/মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে/পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে…
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির সুরকার দুইজন। প্রথমে আব্দুল লতিফ গানটিতে সুর দেন এবং পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদ গানটিতে সুর দেন। বর্তমানে যে সুরে গানটি গাওয়া হয় সেটি আলতাফ মাহমুদের দেয়া।
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' -সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন।

[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]

১০৬.
কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী
  2. অসাম্প্রদায়িকতা
  3. বাঙ্গালী সামাজিক চেতনা
  4. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
- স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। 
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

অন্যদিকে,
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়।
- ১৯৪৭ সালের সেপ্টেন্বরে পূর্ব বাংলায় ‘তমুদ্দুন মজলিস’ নামে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- তমুদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন তরুণ অধ্যাপক আবুল কাশেম। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
১০৭.
কাগমারি সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচি ছিল কোনটি?
  1. ক) পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) ক ও গ
  3. গ) জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- কাগমারি সম্মেলন টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
-  ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি। 
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। 
- ১৯৫৪ সালে  যুক্তফ্রণ্ট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর একুশ দফা প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল জোটনিরপেক্ষ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। 
- সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বক্তব্য আওয়ামী লীগের বামপন্থি নেতৃবৃন্দ সমর্থন করেন নি। 
- এঁদের পুরোধা ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি (সম্মেলনেরও সভাপতি) মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী। 
- আওয়ামী লীগের আইনসভার সদস্য ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কাউন্সিল অধিবেশনে মওলানা ভাসানী সোহরাওয়ার্দীর অনুসৃত সামরিক জোটের সমালোচনা করেন। 
- ওই ভাষণে মওলানা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
-  সোহরাওয়ার্দী সামরিক জোটের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন। তিনি পাকিস্তান স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি এবং কেন্দ্র কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে আরোপিত অর্থনৈতিক নীতিমালার পক্ষেও রায় দেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০৮.
What is the first incident of the Bengali national liberation struggle?
  1. Education movement
  2. Language movement
  3. Six point movement
  4. Liberation war
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৯.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারী ইউনেস্কো কর্তৃক কবে স্বীকৃত হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৮৯ সালে
  3. গ) ১৯৯৯ সালে
  4. ঘ) ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১১০.
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গণপরিষদে প্রথম প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. আবুল কাসেম
  3. মাওলানা আব্দুর রহমান তর্কবাগীশ
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গণপরিষদে প্রথম প্রস্তাব উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের  প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
- এই অধিবেশনে বিরোধী দল দুটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।"
- "প্রথম প্রস্তাবটিতে বৎসরে অন্তত একবার ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল ভাষা বিষয়ক। এটিতে উর্দু ও ইংরেজির সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পূর্ব বাঙলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।"
- পরে বিভিন্ন পর্যায়ে মি. দত্ত মোট তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন গণপরিষদে, যার প্রতিটিতেই বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব ছিল।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাবটি উত্থাপনের একদিন পর ২৫শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে তুমুল বিতর্ক হয়। প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান।
- মি. দত্তের প্রস্তাবটিই ছিল বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব।
- পরে পাকিস্তানের শাসকরা ১৯৫৬ সালে দেশটির প্রথম শাসনতন্ত্রে উর্দুর সাথে বাংলাকেও সরকারি ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলো, যার মাধ্যমে বাংলা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
১১১.
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র-
  1. ক) একুশে সংকলন
  2. খ) সাপ্তাহিক জয়বাংলা
  3. গ) দৈনিক ইত্তেফাক
  4. ঘ) সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল - 'সৈনিক' পত্রিকা। এটি সাপ্তাহিক আকারে প্রকাশিত হত।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ' - এর উদ্যোক্তাগণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন। সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিশেরও মুখপত্র। এতে তৎকালীন বাংলা ভাষার প্রতিযশা সকল লেখকগণই লিখে বাংলা সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।
সাপ্তাহিক সৈনিক - এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় - ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন - শাহেদ আলী। পরে এর সম্পাদক ছিলেন - আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

উল্লেখ্য, তমুদ্দিন মজলিশের উদ্যোগে আরো একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো যার নাম - 'মাসিক দ্যুতি'
মাসিক দ্যুতি - ভাষা আন্দোলনের স্বপক্ষে কাজ করলেও সে অর্থে এটিকে ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র বলা যায় না।
এছাড়াও, 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকাও ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার পক্ষে বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশ করতো।
বাংলা ভাষার পক্ষের আরো কয়েকটি পত্রিকা হচ্ছে - ইনসাফ, মিল্লাত, ইত্তেহাদ, ইত্তেফাক, ঢাকাপ্রকাশ, সীমান্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 'মর্নিং নিউজ' উর্দুর পক্ষে নিউজ প্রকাশ করে বাংলা ভাষার তীব্র বিরোধিতা করতো।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

১১২.
পাকিস্তানের শতকরা কত ভাগ মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা?
  1. ৪৬%
  2. ৫৬%
  3. ৭৬%
  4. ৫০%
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তিকরে ভারত উপমহাদেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান ।
- তৎকালীন পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীকালে এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকালে পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬% বাংলা ভাষী এবং ৩.২৭% উর্দু ভাষী ছিল।
- তবুও শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
- বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ প্রথমেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন।
তাঁরা এই অন্যায় ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।
- এভাবেই পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত।
- ১৯৫২ সালে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। ভাষার জন্য প্রতিবাদী আন্দোলনে পৃথিবীতে প্রথম শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ অনেকেই।
- ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সময়কালে বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি রচনা করেছিল ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করে।
- যার প্রেরণায় দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১৩.
জাতিসংঘ কবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ১৯৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক বাঙালির অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন কানাডাপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম।
- এবং কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক সংগঠন ‘মাতৃভাষা প্রেমিক গোষ্ঠী’।
- তৎকালীন সরকার ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় ঘোষণা করেন।
- আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউট সেগুন বাগিচা, ঢাকা।
- ১৫ মার্চ ২০০১ ঢাকার সেগুনবাগিচায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি এ আনান এ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

উল্লেখ্য,
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

উৎস: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।
১১৪.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) শামীম শিকদার
  3. গ) আমিনুল ইসলাম
  4. ঘ) নিতুন কুণ্ডু
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি।
- তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- এ নকশায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলের সম্মুখভাগের বিস্তৃত এলাকা এর অন্তর্ভূক্ত ছিল।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১১৫.
কার সম্পাদনায় ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি প্রকাশিত হয়?
  1. ক) এম আকতার মুকুল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• পুস্তিকার নাম - ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’। 
• প্রকাশ - ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। 
সম্পাদক -  অধ্যাপক আবুল কাশেম
• অন্যান্য লেখক - কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ।  
• ‘তমদ্দুন মজলিশ’ এর প্রথম সভাপতি - দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। 

বিঃদ্রঃ - যদি কোথাও তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠার তারিখ ২ সেপ্টেম্বর না থেকে ১ সেপ্টেম্বর থাকে তাহলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর করতে হবে । অনুরুপ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি কখন প্রকাশিত হয় জানতে চাইলে ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে । আর যদি ১৬ সেপ্টেম্বর না থাকে তাহলে হবে ১৫ সেপ্টেম্বর । 

তথ্যসূত্র:- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১১৬.
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে কার সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. আদেলউদ্দিন আহমদ
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাস করে।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন অব্যাহত ছিল।
- পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের মাধ্যমে এই আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে।
- জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) এক পর্যায়ে এর সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের (১৯১৩-১৯৮১) দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

১১৭.
প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় -
  1. ২২শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  2. ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  3. ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  4. ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১৮.
তমুদ্দিন মজলিসের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. ক) জ্ঞানাঙ্কুর
  2. খ) শিখা
  3. গ) সৈনিক
  4. ঘ) মিল্লাত
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন হলো তমুদ্দিন মজলিস। এটি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমুদ্দিন মজলিসের মুখপাত্র হিসেবে সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্যে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। এর আহবায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১১৯.
নিচের কোনটি বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ছয় দফা আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সংগ্রাম:
- বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা।
- এই ঘোষণা করলে সদ্য জাত রাষ্ট্রে ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সালে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১২০.
পাকিস্তান শাসনতান্ত্রিক পরিষদের (Constituent Assembly) ধারা বিবরণীতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি কে প্রথম করেছিলেন?
  1. ক) আবুল হাশেম
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১) আইনজীবী, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ।
১৯৪৭ সালের পর একজন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক হিসেবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট পাকিস্তান গণপরিষদে তিনি অধিবেশনের সকল কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবি উত্থাপন করেন।
Source: Banglapedia
১২১.
ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ক) ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৯
  2. খ) ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯
  3. গ) ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯
  4. ঘ) ১৯ নভেম্বর, ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম আন্দোলন।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে শহীদ হন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত ও সফিউররা। 
- ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' বিশ্বজুড়ে বিশাল জাতীয় গৌরব ও সম্মানের।
-  ২০০০ সাল থেকে UNESCO এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে।
- ২০১০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারণ অধিবেশনে ৪র্থ কমিটিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করে এবং প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। 
- আর এভাবেই বাংলা ভাষার বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া চলমান।

উৎস: i) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, portal.gov.bd.
          ii) যুগান্তর, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮।
১২২.
‘উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’- এ কথাটি প্রথম কে বলেছিলেন?
  1. নূরুল আমিন
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৭ সালেই করাচিতে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ব্যবহারের সুপারিশসহ প্রচার মাধ্যমে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল উর্দু ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়।
- ১৯৪৭ সালের ৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সমাবেশ ও মিছিল হয়।
- ১৯৪৮ সালের ১৯ শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
- তিনি ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪শে মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ঘোষণা করেন-
"Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan"
“উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”

- উভয় জায়গাতেই তার এই ঘোষণায় উপস্থিত জনতা ও ছাত্ররা 'না না' ধ্বনি দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা; নবম-দশম শ্রেণি।
১২৩.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা

◉ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন। 

ভাষা আন্দোলন: 
- ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত এক গণআন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু ঘোষণার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে দাবি ওঠে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে রফিক, জববার, বরকতসহ অনেকে শহীদ হন।
- আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- ১৯৫২ সালে গভর্নর ছিলেন গোলাম মুহাম্মদ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১২৪.
'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি' গঠিত হয়—
  1. ক) ১৯৪৮ সালে
  2. খ) ১৯৫০ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- বাঙ্গালির জীবনে ভাষা আন্দোলন এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায়। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের সময়কাল। 
- বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে ভাষা আন্দোলনকে আরো জোরদার করার জন্য ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি "সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি" গঠিত হয়।
- কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন - কাজী গোলাম মাহবুব।

উৎস: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব by ড. মযহারুল ইসলাম
প্রকাশকাল: ১৯৭৪; পৃষ্ঠা নং: ১২৮।

=============
সবার জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি,
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি - বোর্ড বই, সংগ্রামের নোট বুক ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (১ম খন্ড) ইত্যাদিতে "সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ" নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

=============
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:

- ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক বসে।
- এই বৈঠকে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখ নেতা ১৪৪ ধারা অমান্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে জোরালো মত দেন।
- অবশেষে সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চত্বর) ছাত্রদের সভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
------------------
অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭। এর আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
- দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় - ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (১ম খন্ড), ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকাটির নাম কী?
  1. রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
  2. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  3. আমাদের ভাষা আমাদের দাবি
  4. উর্দু বনাম বাংলা
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
- পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৬.
পাকিস্তানের গণপরিষদে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কবে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি উত্থাপন কর?
  1. ১৯৪৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৪৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৫১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ও ধীরেন্দনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- তবে মুসলিম লীগের সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি কুমিল্লা শহরে বাস করতেন।
- ১৯৪৬ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে বঙ্গীয় বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকবাহিনী তাকে কুমিল্লার বাসা থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৭.
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দীন
  3. গ) লিয়াকত আলী খান
  4. ঘ) নূরুল আমীন
ব্যাখ্যা
খাজা নাজিমুদ্দীন পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৮ম শ্রেণি।
১২৮.
UNESCO কত সালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘােষণা করে?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১২৯.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ০৪ জানুয়ারি ১৯৫২
  2. ২২ জানুয়ারি ১৯৫২
  3. ২৮ জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ৪০সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
Who was the president of the 21th February 1952 student movement?
  1. Abdul Matin
  2. Kaji Golam Mahabub
  3. Samsul Alam
  4. Gaziul Haque
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
- বক্তব্য রাখেন শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ ও আবদুল মতিন।
- সভাপতি ১০ জন করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নির্দেশ দেন।
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
১৩১.
ভাষা আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. বর্ধমান হাউজ
  2. বাংলা একাডেমি
  3. বাংলা মঞ্চ
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা:
ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫-তে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (বাংলা ভাষায় পাঠ্য পুস্তুক রচনার উদ্দেশ্যে) ও বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে) হয়।

বাংলা একাডেমী: 
- বাংলা একাডেমী  বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সালে ঢাকার বর্ধমান হাউজে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- ১৯৫৩ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
- যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কিন্তু অল্পদিনেই তাদের পতন হওয়ায় সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
- দ্বিতীয়বার যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩২.
কোন আন্দোলনভিত্তিক ঐক্য বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে?
  1. সিপাহি বিদ্রোহ
  2. বঙ্গভঙ্গ রদ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে।

পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মােহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তােলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে।

ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

১৩৩.
'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটি গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপরিষদ কর্তৃক পঠিত মূলনীতি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।
- দেশজুড়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ চলতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৩৪.
ভাষা আন্দোলন নির্ভর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) জীবন ক্ষুদা
  3. গ) আরেক ফালগুণ
  4. ঘ) আনন্দের মৃত্যু
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন। প্রকাশকাল - ১৯৬৮ সাল। এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালন নিয়ে লেখা। পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো’ যা প্রণিধানযোগ্য। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৫.
'তমদ্দুন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. আবুল কালাম
  2. আবুল কাশেম
  3. আবুল আহমদ
  4. আবুল হাসেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস:
 - 'তমদ্দুন মজলিস' ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।
উল্লেখ্য - তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে তথ্যকল্পদ্রুমের ৭নং পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 
১৩৬.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় কবে?
  1. ক) ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. গ) ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ঘ) ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ব্যারাক হোস্টেলের ১২নং গেটের সামনে মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সম্মিলিত শ্রমে নির্মিত হয়েছিল প্রথম শহীদ মিনার। এই শহীদ মিনারের নকশাকার ছিলেন ডা. বদরুল আলম।

সূত্র: সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং বোর্ড বই।

• তবে অনেক ভাষা সৈনিকদের মতে, প্রথম শহীদ মিনার হয়েছিল রাজশাহীতে। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ দিবাগত রাতে রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন এলাকায় এটি তৈরি হয়। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ছয় দশক পরও প্রথম শহীদ মিনারের রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি পায়নি রাজশাহীবাসী।

উৎস: মানবজমিন পত্রিকা।

[যেহেতু এই তথ্যের রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি নাই, তাছাড়া প্রশ্নকর্তা বোর্ড বই অনুসারে প্রশ্নটি করেছেন তাই আমরা সঠিক উত্তর হিসেবে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ কে ধরে নিচ্ছি। মূল পরীক্ষায় আপনারা আপনাদের বিবেচনা থেকে উত্তর করবেন।]
১৩৭.
৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ কে?
  1. ক) আব্দুস সালাম
  2. খ) আব্দুল জব্বার
  3. গ) আবুল বরকত
  4. ঘ) রফিক উদ্দিন
ব্যাখ্যা
শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ রফিক

- বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ রফিক

- তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার পারিল গ্রামের উত্তর পাড়ায় ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম আব্দুল লতিফ এবং মাতার নাম রাফিজা খাতুন।
- বাবুবাজার-বাদামতলীর একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক ছিলেন জনাব আব্দুল লতিফ।
- রফিক জগন্নাথ কলেজের (মতান্তরে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের) ছাত্র ছিলেন।
- পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে রফিক তার পিতার কাজে সাহায্য করতেন।
- একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলনত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
- বিকেল সাড়ে তিনটার পর মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশ ছাত্রদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে রফিক ঘটনাস্থলেই সাথে সাথে মারা যান।
- তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৩৮.
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ- 
  1. ছয়দফা
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান 
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ।
- দীর্ঘ দু'শো বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণের পর ভারত ও পাকিস্তান নামের দু'টি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা অঞ্চল দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
- কলকাতাসহ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ভারতের অধীনে এবং ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বেশি দিন পর্যন্ত অখন্ড থাকতে পারেনি।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়।
- পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘিষ্ট মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
- জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য এ অঞ্চলের জনমনে প্রবল অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- ফলে শুলুথেকেই স্বাধিকারের প্রশ্নে এই অঞ্চলের জনগণকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়।
- সূচিত হয় ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৯.
ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

১৪০.
বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি কে উত্থাপন করেন?
  1. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. নুরুল আমিন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা:
- ভাষা আন্দোলনের ফলে জনগণের স্বাধিকার আদায়ের পদক্ষেপের সূচনা হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- এর জন্মের পর পশ্চিম পাকিস্তানীদের বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়।
- তারা বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত হানে।
- ১৯৪৮ সালে গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার পল্টন ময়দানে ঘোষণা করেন।
- "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা"।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ অধিবেশনে;
- বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন পূর্ব বাংলার সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে খাজা নাজিমউদ্দিন জিন্নাহর কথার পুনরাবৃত্তি করেন।
- ফলে ছাত্র-সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে।
- সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সারা পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মঘট আহবান ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল স্থান দখল করে আছে।
- জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
কোন সম্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করা হয়?
  1. লাহোর
  2. করাচি
  3. ঢাকা
  4. ইসলামাবাদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন  তমুদ্দুন মজলিস গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর।
- তমুদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে। 
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পাশাপাশি পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ, পূর্ববঙ্গ বুদ্ধিজীবী সমাজ, সাংবাদিক সংঘ বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান।
- সবকিছুকে উপেক্ষা করে ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংবিধান সভার কাছে সুপারিশ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৪২.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত?
  1. সাপ্তাহিক সৈনিক
  2. সাপ্তাহিক ধূমকেতু
  3. সাপ্তাহিক বাংলা
  4. সাপ্তাহিক ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল- 'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকা। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ' -এর উদ্যোক্তা গণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিসেরও মুখপত্র।
- সাপ্তাহিক সৈনিক -এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। 
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন - শাহেদ আলী। 
- পরে এর সম্পাদক ছিলেন - আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

অন্যদিকে,
- তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে আরো একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো যার নাম - 'মাসিক দ্যুতি'।
- মাসিক দ্যুতি - ভাষা আন্দোলনের স্বপক্ষে কাজ করলেও সে অর্থে এটিকে ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র বলা যায় না।
- এছাড়াও, 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকাও ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার পক্ষে বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশ করতো।
- বাংলা ভাষার পক্ষের আরো কয়েকটি পত্রিকা হচ্ছে - ইনসাফ, মিল্লাত, ইত্তেহাদ, ইত্তেফাক, ঢাকা প্রকাশ, সীমান্ত ইত্যাদি।
- 'মর্নিং নিউজ' উর্দুর পক্ষে নিউজ প্রকাশ করে বাংলা ভাষার তীব্র বিরোধিতা করতো। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো ও কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১৪৩.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন-
  1. ক) ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
  2. খ) ফজলুল হালিম চৌধুরী
  3. গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) ড. মাহমুদ হাসান
ব্যাখ্যা
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। তার মেয়াদকাল ছিল ২২ অক্টোবর, ১৯৪৮ থেকে ০৮ নভেম্বর, ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
উৎসঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।
১৪৪.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. স্বাধীনতার আন্দোলন
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. কৃষক আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• তমদ্দুন মজলিশ:
-
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে, ১৯৪৭ সালের মে মাসে চৌধুরী খলিকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দীন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর কেন্দ্রীয় সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করলে এর প্রতিবাদে একটি অরাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে তমুদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- সংগঠনটি মূলত ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে তমদ্দুন মজলিস প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এবং ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা—না উর্দু?’ শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা – নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৫.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেয় কবে? 
  1. ১৯৯৮ সালের ১৭ নভেম্বর
  2. ১৯৯৯ সালের ২৭ নভেম্বর
  3. ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর
  4. ২০০১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। 
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। 

১৪৬.
ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় কোন তারিখে?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৮
  2. ২৬ মার্চ ১৯৯৯
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০০
  4. ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের পর প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দু ও বাংলাকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে অনুমোদন করা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- এই স্বীকৃতি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা বেড়েছে।
-  ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫-তে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (বাংলা ভাষায় পাঠ্য পুস্তুক রচনার উদ্দেশ্যে) ও বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে) হয়।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪৭.
গণপরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৩
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৫
  4. ঘ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা

• ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
• ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪৮.
'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় - 
  1. ২১ অক্টোবর, ১৯৪৭
  2. ২ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ১১ মার্চ, ১৯৫০
  4. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

⇒ তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি আগে ঘটেছিল-
  1. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  2. আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের নেতৃত্বে প্রথম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় ১৯৫২ সাল।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং নির্বাচন হয় ৮-১২ মার্চ, ১৯৫৪ সালে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৫০.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ ভাষা আন্দোলনের সময়ে রচিত জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ে লেখা আবদুল লতিফের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গান - ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’। এ গানটিতে তিনি বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের আবহ ও সুরকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গানটি পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী গানের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো এর প্রথম সুরকার’।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
১৫১.
কোথায় বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়?
  1. লাহোর
  2. করাচি
  3. ইসলামাবাদ
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা

-• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (১৯৪৮–১৯৫০)
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সেই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
- বাংলা ভাষাকে বিকৃত করার এই চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়, যা তথাকথিত ভাষা সংস্কারের নামে বাংলা ভাষার অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিরোধিতা করে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
- ভাষার অধিকার রক্ষায় নতুন করে আন্দোলনের সংগঠিত প্রয়াস শুরু হয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- এই কমিটির নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এবং জনগণের সচেতনতা ও প্রতিবাদের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হয়ে ওঠে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি।

১৫২.
তমদ্দুন মজলিশের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সৈনিক
  3. গ) ইত্তেফাক
  4. ঘ) মিল্লাত
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন হলো তমদ্দুন মজলিস। এটি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদকমন্ডলীর প্রথম সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী। পরবর্তীতে সভাপতি হন আবদুল গফুর। একটি আজিমপুর থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ এবং মিল্লাত পত্রিকা বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের উদ্যোগে প্রকাশিত হতো।
সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১৫৩.
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে গঠিত দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' কবে গঠিত হয়?
  1. ৩রা মার্চ, ১৯৪৮
  2. ১২ই মার্চ, ১৯৪৮
  3. ৪ঠা মার্চ, ১৯৪৮
  4. ২রা মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- এ সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের এক সভায় শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
-  মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করতে থাকে।
- ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঢাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ, ১৯৪৮ সালে দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৫৪.
পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটির সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. আল মাহমুদ
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
⇒ পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।

- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'। কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৫.
Who was the Governor of East-Bangla during the Language movement?
  1. Khaja Nijamuddin
  2. Golam Mahmud
  3. Firoz Khan Nun
  4. Nurul Amin
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।
১৫৬.
পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা কত ভাগ লোকের মুখের ভাষা উর্দু ছিল?
  1. ক) ৫৬.৪০%
  2. খ) ৩.২৭%
  3. গ) ৪০.২৩%
  4. ঘ) ৩২.৩৫%
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ৫৬.৪০ ভাগের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘিষ্ট মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ১৯৪৮ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে উর্দু ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১৫৭.
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি আগে ঘটেছিল-
  1. ক) যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  2. খ) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের নেতৃত্বে প্রথম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় ১৯৫২ সাল।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং নির্বাচন হয় ৮-১২ মার্চ, ১৯৫৪ সালে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৫৮.
'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' উক্তিটি কার?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় একটি ভাষণে বলেছিলেন— ‘আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই”।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি।
১৫৯.
ভাষা আন্দোলন বাংলা কোন সনে হয়েছিল?
  1. ১৩৫৬ সনে
  2. ১৩৫৭ সনে
  3. ১৩৫৮ সনে
  4. ১৩৫৯ সনে
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: শিক্ষক বাতায়ন।
১৬০.
২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় প্রথম গুলি চালানোর নির্দেশ কোথায় দেওয়া হয়েছিল?
  1. সংসদ ভবনের কাছে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে
  3. সচিবালয়ের সামনে
  4. ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পুলিশ এই আন্দোলনকে দমনের জন্য কঠোর অবস্থান নেয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তার কাছে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়।
- মিছিলে গুলি চালালে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেক।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬১.
ভাষা আন্দোলনে কোন পত্রিকা সাহসী ভূমিকা পালন করে?
  1. ইনকিলাব
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সমাচার দর্পণ
  4. জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
দৈনিক আজাদ:
- এটি একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা।
- ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।
- এই পত্রিকার সঙ্গে আরো যুক্ত ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও নজীর আহমদ চৌধুরী।
- ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর ১৯৪৮ সালের ১৯ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনে দৈনিক আজাদ সাহসী ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬২.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কবে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী উত্থাপন করেছিলেন?
  1. ক) ২৩ মার্চ, ১৯৪৮
  2. খ) ২৪ মার্চ, ১৯৪৮
  3. গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮
  4. ঘ) ২২ এপ্রিল, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১):
- ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
-  ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।

- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভার সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণে তিনি মুক্তি সংঘ নামে একটি সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা গঠন করেন। 
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারেরও প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যদের বিরোধিতায় এ প্রস্তাব গৃহিত হয়নি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১৬৩.
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশ কোন পুস্তিকা প্রকাশ করে?
  1. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  2. রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
  3. মায়ের ভাষা
  4. বাংলা ভাষা
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
- পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. তোফাজ্জল হোসেন
  2. গাজীউল হক
  3. কাশেম আলী
  4. অলি আহাদ
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
- বক্তব্য রাখেন শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ ও আবদুল মতিন।
- সভাপতি ১০ জন করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নির্দেশ দেন।
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
১৬৫.
'All parties state language movement committee' was formed on-
  1. 18 February, 1952
  2. 20 February, 1952
  3. 2 February, 1952
  4. 31 January, 1952
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন:  
১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। 
• পরিষদের আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব। 
• এ সভায় একুশে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

♣♣ 
• ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট 'তমদ্দুন মজলিশ' গঠিত হয়। 
• এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
• এ সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়। 

• তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ';
• যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।

• ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। 

• ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ দেশের ছাত্রসমাজ বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহ্বানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।  

• ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে ঘোষণা দেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু ।
• এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০শে জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘটের আহ্বান করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৬.
‘তমদ্দুন মজলিশ’ সাংস্কৃতিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2.  ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

⇒ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন বাস্তবতায় তমদ্দুন মজলিস কেবল বাংলা ভাষায়ই নয়, বরং একটা সার্বিক জীবন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ভাষায় একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বেই ১৯৪৭ সালের পহেলা অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের দোসরা মার্চ তমদ্দুন মজলিশসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' নামে নতুন কমিটি হয়েছিলো।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৬৭.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আবুল কাশেম
  3. শামসুল হক
  4. আবদুল হক
ব্যাখ্যা

→ তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম।

ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১৬৮.
ইউনেস্কোর কততম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়?
  1. ২৮ তম
  2. ২৯ তম
  3. ৩০ তম
  4. ৩১ তম
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১৬৯.
সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কবে?
  1. ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  3. ৩০ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ১ অক্টোবর ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
→ ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন:
 
- সময়: ২৭ জানুয়ারি, ১৯৫২
- পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঢাকায় এক জনসভায় ঘোষণা করেন:
- "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।"
- এই ঘোষণায় ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী সমাজে চরম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
- ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ছাত্র ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
- ঐ সভায় ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল ও সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

• ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২: 
- স্থান: বার লাইব্রেরি, ঢাকা
- সভাপতি: মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী উদ্দেশ্যঅ
• উপস্থিত সংগঠনসমূহ:
- পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
- তমাদ্দুন মজলিশ
- ইসলামী ছাত্রসংঘ
- যুবসংঘ
- পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ
- সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- সদস্য সংখ্যা: ২৮ জন (মতান্তরে ৪০ জন)
-  উদ্দেশ্য: রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।

উৎস: বিশ্বসভ্যতা ও ইতিহাস, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
ভাষা আন্দোলনের কোন শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. আবদুল জব্বার
  2. আবদুস সালাম
  3. আবুল বরকত
  4. রফিক উদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল বরকত:
- ভাষা আন্দোলনের আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

⇒ ভাষা শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৩ জুন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার ঢাকায় চলে আসেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
- রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৭১.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস এর রচয়িতা-
  1. ক) ড. মুনীর চৌধুরী
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭২.
কত তারিখে শহীদ শফিউরের পিতা প্রথম শহীদ মিনারের অনানুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭৩.
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে কোন চেতনার উন্মেষ ঘটেছিলো?
  1. ক) সাম্প্রদায়িক চেতনা
  2. খ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  3. গ) মুসলিম জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা

- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)

১৭৪.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন কে?
  1. গোলাম মাহবুব
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন 

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৮-১৯৫২):
- মাতৃভাষার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার।
- পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জনের মাতৃভাষা ছিল বাংলা।
- উর্দু কোনো অঞ্চলেরই মাতৃভাষা ছিল না।
- অথচ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
- অগণতান্ত্রিকভাবে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বাঙালিদের যে আন্দোলন শুরু হয়, তা-ই ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
- পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- তাদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে পরিষদের ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিতা, নবম দশম শ্রেণি।
১৭৫.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম শহিদ মিনার:
- ঢাকায় প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে।
- নির্মিত হয়: ২৩ ফ্রেবুয়ারি, ১৯৫২ সালে।
- এর ডিজাইনার ছিলেন- ডা. বদরুল আলম।
- ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহবুবুর রহমান এ শহিদ মিনার টি উদ্ধোধন করেন।


কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ কারীদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- নির্মিত হয়: ১৯৬৩ সালে।
- স্থপতি: হামিদুর রহমান ও সহকর্মী ছিলেন- নভেরা আহমেদ।
- স্তম্ভ রয়েছে- ৫ টি।
- ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন (১৯৬৩ সালে)

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা অফিস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৭৬.
‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ কত সালে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৬৯
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫২
ব্যাখ্যা
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
⇨ কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
⇨ এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অন্যদিকে, 
⇨ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
⇨ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
⇨ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৭.
’রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. গোলাম কিবরিয়া 
  2. আব্দুল মতিন চৌধুরি
  3. অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া
  4. সজিব রেজা চৌধুরি
ব্যাখ্যা

'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

 - ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ'
- ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

১৭৮.
ভাষা আন্দোলন কত সালে হয়?
  1. ১৯৪৭
  2. ১৯৫২
  3. ১৯৬৬
  4. ১৯৭১
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন হয়েছিল ১৯৫২ সালে।

ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৯.
নিচের কে ভাষা আন্দোলনের শহীদ নন-
  1. ক) জব্বার
  2. খ) রফিক
  3. গ) মতিউর
  4. ঘ) বরকত
ব্যাখ্যা
রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত প্রমুখ ভাষা আন্দোলনের শহীদ। আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ), মতিউর রহমান মল্লিক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মুহম্মদ শামসুদ্দোহা, শহীদ আনোয়ারা বেগম, শহীদ রুস্তম প্রমুখ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।
১৮০.
নিচের কোন জন ভাষা শহিদ নন?
  1. ক) আব্দুল জব্বার
  2. খ) মতিউর রহমান
  3. গ) শফিউর রহমান
  4. ঘ) আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যে আবুল বরকত, শফিউর রহমান, আবদুল জব্বার, আব্দুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ জীবন উৎসর্গ করেন।
অন্যদিকে, মতিউর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর সেনানী। তবে ‘মতিউর’ নামে নবম শ্রেণীর এক কিশোর ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে শহিদ হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৮১.
দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ছিলেন—
  1. আবদুল মতিন
  2. শামসুল আলম
  3. নূরুল হক ভূইয়া
  4. শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন- শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮২.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।'
- এর রচয়িতা মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণের পর মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতাটি লিখেন
১৯৫০ সালে তিনি দাঙ্গাবিরোধী 'সীমান্ত' প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮৩.
'ভাষা আন্দোলন' বাংলা কত সনে হয়েছিল?
  1. ১১৫২
  2. ১১৫৮
  3. ১৩৫২
  4. ১৩৫৮
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: শিক্ষক বাতায়ন
১৮৪.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ
• তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
• তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

বি:দ্র: - যদি কোথাও তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠার তারিখ ২ সেপ্টেম্বর না থেকে ১ সেপ্টেম্বর থাকে তাহলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর করতে হবে। অনুরুপ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি কখন প্রকাশিত হয় জানতে চাইলে ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে। আর যদি ১৬ সেপ্টেম্বর না থাকে তাহলে হবে ১৫ সেপ্টেম্বর।  

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৫.
দ্বিতীয়বারে মত ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৫০ সালে 
  2. ১৯৪৮ সালে 
  3. ১৯৪৭ সালে 
  4. ১৯৫১ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে   ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৬.
নিচের কোন সংস্থাটি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ক) UNDP
  2. খ) UNESCO
  3. গ) UNICEF
  4. ঘ) UNCTAD
ব্যাখ্যা
The idea to celebrate International Mother Language Day was the initiative of Bangladesh. It was approved at the 1999 UNESCO.
Source: unesco.org
১৮৭.
কোন পত্রিকাটি তথ্য বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়?
  1. ক) আজাদ
  2. খ) মর্নিং নিউজ
  3. গ) সৈনিক
  4. ঘ) পাকিস্তান অবজারভার
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিলো অসামান্য। সৈনিক, ইত্তেফাক, আজাদ, সংবাদ, অগত্যা, পাকিস্তান অবজারভার দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক ইনসাফ, দৈনিক আমার দেশ প্রভৃতি পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে জোরালো ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে মর্নিং নিউজ ছিল উর্দু ভাষার সমর্থক। পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উগ্র প্রচারণা চালায়। ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকেও তারা বিকৃত করে ২২ ফেব্রুয়ারি খবর প্রকাশ করে। ২২ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ জনতা ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে অবস্থিত মর্নিং নিউজের প্রেস ও অফিস জ্বালিয়ে দেয়।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক ইনকিলাব ও প্রথম আলো পত্রিকা]
১৮৮.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ছয়দফা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১৮৯.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেছিলেন কে?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কামাল ফারুক
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. নূরুল আলম
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:

- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১৯০.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম পত্রিকার সম্পাদকের নাম -
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  3. জহির রায়হান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম পত্রিকা:
- হাসান হাফিজুর রহমান ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম পত্রিকার সম্পাদক।

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- এটি ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার শুরু ছাত্রজীবনথেকেই।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'অমর একুশে' রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রথম উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' এর রচয়িতা জহির রায়হান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯১.
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় কোন ভাবাদর্শ ছড়িয়ে পড়ে?
  1. স্বজাত্যবোধ
  2. বাঙালি জাতীয়তাবোধ
  3. দ্বিজাতিতত্ত্ব
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানটি কত সালে প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই:
- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তমদ্দুন মজলিস-এর মাধ্যমে প্রথম উচ্চারিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে রশীদ ভবনে ছিল এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
- "ভাষা আন্দোলনের সাংগঠনিক প্রয়াসের প্রাথমিক কৃতিত্ব গণ আজাদী লীগের। এর পর এ আন্দোলন বেগবান করতে সবচেয়ে অবদান রেখেছে অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তমদ্দুন মজলিস। 
- ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর মানে, অর্গানাইজেশনটা প্রতিষ্ঠার দুই সপ্তাহের মধ্যে একটা বই বের করলে 'পাকিস্তানের রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা—না উর্দু?’ শীর্ষক পুস্তিকা। এখানে লিখেছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ। এই পুস্তিকার প্রথম অংশ সংযোজিত ছিল তমদ্দুন মজলিসের পক্ষে ভাষা বিষয়ক প্রস্তাব, তার প্রথম দফাই ছিল—‘বাংলা ভাষাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন; পূর্ব পাকিস্তানের আদালতের ভাষা; পূর্ব পাকিস্তানের অফিসাদির ভাষা’।
- ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর পূর্ব বাংলার তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সরকারি বাসভবন বর্ধমান হাউজে (বর্তমান বাংলা একাডেমি) বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে কি হবে না এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই এ সভার আয়োজন। বৈঠক চলাকালে বুদ্ধিজীবী সংস্কৃতিকর্মী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বর্ধমান হাউজে মিছিল সহকারে উপস্থিত হয়। মিছিলে একটাই মাত্র স্লোগান উচ্চারিত হয়েছে—‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।

• পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম সভায় ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। 
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন যে, প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু। সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় এবং ‘রাষ্টভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) BBC.
iii) প্রথম আলো।
iv) বণিক বার্তা।

১৯৩.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি -
  1. শামীম শিকদার
  2. জয়নাল আবেদিন
  3. হামিদুর রহমান
  4. নিতুন কুন্ডু
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। 
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯৪.
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে কোন সালে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2.  ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

 • ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ৯ মে ১৯৫৪।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৫.
কোন সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে?
  1. ১৯৫৬ সাল
  2. ১৯৭২ সাল
  3. ১৯৯৯ সাল
  4. ২০০০ সাল
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
পাকিস্তান গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের প্রথম দাবি জানান কে?
  1. আর. সি. দত্ত
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার দাবি: 
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ববাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয়।
- ডিসেম্বর মাসেই 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিছিল, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
- পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান।
- তাঁর দাবি অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনর্গঠিত হয়।
- এ সংগঠন ১১ই মার্চ 'বাংলা ভাষা দাবি দিবস' পালনের ঘোষণা দেয়। ঐ দিন সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৯৭.
তমদ্দুন মজলিস কোন আন্দোলনের সংগঠন?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. দেশ বিভাগ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. শাসনতন্ত্র আন্দোলন
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস: 
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠিত হয় ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস। 
- ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পাশাপাশি পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ, পূর্ববঙ্গ বুদ্ধিজীবী সমাজ, সাংবাদিক সংঘ বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান।
- সবকিছুকে উপেক্ষা করে ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংবিধান সভার কাছে সুপারিশ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১৯৮.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটির লেখক নন -
  1. ক) কাজী মোতাহার হোসেন 
  2. খ) ড. এনামুল হক
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ 
  4. ঘ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকা

- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব - বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও তুলে ধরেন।
- এই মূল পুস্তিকার মুখবন্ধে, পুস্তিকার সম্পাদক আবুল কাশেম কর্তৃক প্রণীত বাংলাকে স্বীকৃতি দানের দাবির একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনাও ছিল।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৯৯.
প্রথম শহীদ মিনার কে উদ্ভোধন করেন?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. শহিদ শফিউরের মা
  3. শহিদ বরকতের মা
  4. শহিদ শফিউরের পিতা
ব্যাখ্যা
• প্রথম শহীদ মিনার:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে এই স্তম্ভ নির্মিত হয়, যা বর্তমানে ‘শহীদ মিনার’ নামে পরিচিত।
- শহীদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
- এর পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন ও নির্মাণকাজ সবই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।
- বর্তমান শহীদ মিনারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শহীদদের রক্তভেজা স্থানে সাড়ে ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া ভিত্তির ওপর ছোট স্থাপত্যটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এর গায়ে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ লেখা একটি ফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- নির্মাণের পরপরই এটি শহরবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে; প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রতীকী মর্যাদা লাভ করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ওই দিনই বিকেলে পুলিশ হোস্টেল ঘেরাও করে এটি ভেঙ্গে ফেলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০০.
কোন প্রতিষ্ঠান ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে?
  1. বাংলা একাডেমি
  2. কমনওয়েলথ
  3. ইউনেস্কো
  4. ইউনিসেফ
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।