বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্যান্য

মোট প্রশ্ন৫৪০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্যান্য

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৫৪০

৩০১.
Which tribe celebrates 'Biju' festival?
  1. Lusai
  2. Garo
  3. Tripura
  4. Marma
  5. Chakma
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি খুব বেশি ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
৩০২.
বাংলাদেশে মগ নামে পরিচিত কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী? 
  1. চাকমা 
  2. রাখাইন
  3. সাঁওতাল
  4. খাসিয়া 
ব্যাখ্যা

রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- রাখাইনরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৩০৩.
জ্যাত্ কোন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
জ্যাত্: 
- জ্যাত্: মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি।
- জ্যাত্ হলো মারমাদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি।
- এর মাধ্যমে মারমা সম্প্রদায়ের আদি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।
- আদিকালের রাজা-রাজড়াদের জীবনধারা এতে কাহিনির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়।
- সাধারণ মানুষের জীবনধারা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এতে সুর, তাল ও লয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।
- জ্যাত্ মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে উৎসবমুখর করতে আয়োজন করা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- অতিথিদের বিনোদন এবং আনন্দ দেওয়ার জন্য জ্যাত্ পরিবেশিত হয়।
- এটি মারমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে প্রচারের একটি মাধ্যম।

উল্লেখ্য, 
- বান্দরবানের থোয়াইংগ্য পাড়ায় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য ‘মাচয়ইং’ পরিবেশিত হয়।
- রুমার থানা পাড়া জ্যাত্ দল লোকনাট্যটি পরিবেশন করেন।
- ২ জানুয়ারি, ২০২৫ শনিবার রাত ৯টায় পরিবেশনা শুরু হয়ে রাতভর চলে। 
- এটি আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেল।

এছাড়াও
- বিজু চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় উৎসব।
- ওয়ানগালা গারো সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব।
- বৈসু ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব।
- সোহরাই সাঁওতালদের প্রধান উৎসব।
- সাংগ্রেই রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব।
- মণিপুরী নাচ মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি [লিঙ্ক] ও প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
৩০৪.
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে? [মে, ২০২৫]
  1. ৪৮টি
  2. ৫০টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৪টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২:
- সময়কাল: ১৫-২১ জুন, ২০২২ সাল।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৩০৫.
খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে কোন জেলায়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙ্গামাটি
  3. কক্সবাজার
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩০৬.
'গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মূলত কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. দিনাজপুর
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিলেট
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

• 'গারো' উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়। 

- তাছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে। 
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি। 
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৩০৭.
ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?
  1. ইন্দো-আর্য
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা) 
  4. তিব্বত-বর্মী
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল: 
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।

সাঁওতালরা খুবই উৎসবপ্রিয় জাতি। বাঙালিদের মতো এদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব যা নৃত্যগীতবাদ্য সহযোগে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

নববর্ষের মাস ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব,
- চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি,
- বৈশাখে হোম,
- আশ্বিনে দিবি, 
- পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩০৮.
লুসাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসন্ত উৎসব কোনটি?
  1. মীমতুত
  2. সাংগ্রং
  3. পলকুত
  4. চাপচারকূত
ব্যাখ্যা

লুসাই:
- লুসাই  নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩০৯.
কোন জেলায় খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর নিবাস?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রাজশাহী
  3. রাঙ্গামাটি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
• খাসিয়া সম্প্রদায়:
- বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়াদের ভাষা বর্মী।
- খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- খাসিয়াদের ধর্ম খ্রিস্টান।
- খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীদের গ্রামকে বলা হয় পঞ্জি।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- রাজশাহী জেলায় সাঁওতালদের বসবাস।
- রাঙ্গামাটি জেলায় চাকমা, মারমা ও রাখাইনদের বসবাস।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১০.
'মুরং' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাহাড়ের দেবতা -
  1. তুরাই
  2. সাংতুং
  3. ওরেং
  4. লুলোইং
ব্যাখ্যা
মুরং/ম্রো:
- ম্রো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত।
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না। ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- পিতা পরিবারের প্রধান।
- ম্রোরা ধর্মপ্রাণবাদী এবং তাদের তিনজন দেবতা আছে- 'তুরাই' যিনি বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা, 'সাংতুং' অর্থাৎ পাহাড়ের দেবতা এবং 'ওরেং' যিনি নদীর দেবী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩১১.
বাঙালি জাতির প্রধান অংশ কোন মূল জাতি-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. দ্ৰাবিড়
  2. নেগ্রিটো
  3. মঙ্গোলীয়
  4. অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতির প্রধান অংশ অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 

• বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।

- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।

- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস:
i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
iii)বাংলাপিডিয়া ও বাঙালির ইতিহাস, নিহারঞ্জন রায়।

৩১২.
নিচের কোন জেলায় ওরাওঁ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. কক্সবাজার
  2. কুড়িগ্রাম
  3. বান্দরবান
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা

ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- তারা মুঘল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- ওরাওঁরা জড়োপাসক, তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ধরমেশকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে পূজা করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩১৩.
পাহাড়ী জনগণের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন কে?
  1. কুনেন্টু চাকমা
  2. সন্তু লারমা
  3. দেবাশীষ রায়
  4. মানবেন্দ্র নারায়ণ চাকমা
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি:
- পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি হলো বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন: বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

⇒ পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তিচুক্তি পাহাড়ি জনগণের বিশেষ অবস্থান ও মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে। এই শান্তিচুক্তির আওতায় তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। উপজাতীয় আইন এবং সামাজিক বিচারকাজ এই পরিষদের অধীনে থাকবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা। উপজাতীয়দের ভূমি মালিকানা অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা।

উল্লেখ্য,
- এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।
- পাহাড়ি জনগণের দাবি মেনে নিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে।

উৎস: i) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
  1. আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ
  2. আহমেদ বিন জায়েদ
  3. ফয়সল বিন জামান
  4. আব্দুল জলিল
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি:
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চটগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- চুক্তিতে বালাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।
- ২ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩১৫.
বাংলাদেশের বিখ্যাত মণিপুরী নাচ কোন অঞ্চলের?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. রংপুর
  3. কুমিল্লা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
মনিপুরি নৃত্য:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মণিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- মণিপুরীদের মধ্যে ঋতুভিত্তিক আচার অনুষ্ঠান বেশি।
- বছরের শুরুতে হয় মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়াদের বিষু এবং মৈতৈদের চৈরাউবা উৎসব।
- আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও কাঙ উৎসবের সময় প্রতিরাত্রে মণিপুরী উপাসনালয় ও মন্ডপগুলোতে বৈষ্ণব কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দ নাচ ও গানের তালে পরিবেশন করা হয়।
- কার্ত্তিক মাসে মাসব্যাপী চলে ধর্মীয় নানান গ্রন্থের পঠন-শ্রবন।
- এরপর আসে মণিপুরীদের বৃহত্ম উৎসব রাসপূর্ণিমা। 

উল্লেখ্য,
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙন।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩১৬.
বাংলাদেশে বসবাসকারী সর্বাধিক জনসংখ্যার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোনটি? [মে, ২০২৫]
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২:
- সময়কাল: ১৫-২১ জুন, ২০২২ সাল।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ তে বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৩১৭.
মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম কী?
  1. মৈতরা
  2. সাংগ্রাই
  3. ক্রামা
  4. বিজু
ব্যাখ্যা
মারমা:
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
৩১৮.
রাখাইন জাতিসত্তার বর্ষবরণ উৎসব কী নামে পরিচিত?
  1. বৈসুক
  2. বিঝু
  3. বৈসাবি
  4. সাংগ্রাই 
ব্যাখ্যা

• রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন  জাতিসত্তার বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই।

- চৈত্র মাসের শেষ দুদিন ও বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই উৎসব পালিত হয়।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নামও সাংগ্রাই।

অপরদিকে,
- বৈসুক বা বৈসু হলো ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বিঝু হলো চাকমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বৈসাবি হলো চাকমা (বিঝু), ত্রিপুরা (বৈসুক), মারামা-রাখাইন (সাংগ্রাই), অহমিয়া (বিহু) জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত বর্ষবরণ উৎসব।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী।

৩১৯.
Which of the following is a plainland indigenous group in Bangladesh?
  1. Chakma
  2. Tripura
  3. Santal
  4. Mro
ব্যাখ্যা

⇒ সাঁওতাল বাংলাদেশের সমতল ভূমির আদিবাসী গোষ্ঠী।

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩২০.
’মেইতেই’ নামে  ডাকা হয় কোন জনগোষ্ঠীকে? 
  1. ওরাঁও
  2. বম 
  3. মণিপুরী  
  4. মারমা
ব্যাখ্যা

মণিপুরী জাতিসত্তা:
- অবস্থান: মণিপুরী জাতিগোষ্ঠী মূলত ভারতের মণিপুর রাজ্যের বাসিন্দা।
- বাংলাদেশে তাদের বসবাস প্রধানত সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায়।
- অন্য নাম: মণিপুরী জনগোষ্ঠীকে "মেইতেই" নামেও ডাকা হয়।
- উৎপত্তি: এরা মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- ধারণা করা হয়, প্রায় ১৭শ শতাব্দীতে তারা মণিপুর রাজ্য থেকে সিলেট অঞ্চলে আসেন।
- ভাষা: মণিপুরী ভাষা বা "মেইতেই লোন"।
- ভাষাটি তিব্বত-বর্মণ ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
- ধর্ম: মূলত হিন্দু (বিশেষত বৈষ্ণব সম্প্রদায়)।
- কিছু মণিপুরী মুসলিম (পাঙাল বা মণিপুরী মুসলমান নামে পরিচিত)।
- পেশা: কৃষিকাজ, তাঁতশিল্প (বিশেষত শাড়ি ও কাপড় বুনন), এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়োজিত।
- সংস্কৃতি: মণিপুরী নৃত্য (বিশ্ববিখ্যাত শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলী)।
- নিজস্ব উৎসব যেমন রাস উৎসব।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৩২১.
’রাসপূর্ণিমা’ উৎসব কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত?
  1. গারো
  2. ওঁরাও
  3. মণিপুরী
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
• মণিপুরী: 
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- প্রাচীনকালের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখনকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো।
- মহারাজ গরীব নেওয়াজের শাসনামলে সিলেট থেকে আগত মিশনারিগণ এই স্থানকে মহাভারতে বর্ণিত একটি স্থান মনে করে এই ভূখণ্ডের নাম দেন মণিপুর। 
- এভাবেই এখানকার প্রধান অধিবাসী মেইতেইদের নাম হয়ে যায় মণিপুরী।
- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জে ও সুনামগঞ্জের  বসবাস করে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- ’রাসপূর্ণিমা’ উৎসব  মণিপুরীদের।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে  রাসা (Rasa) নৃত্য।
- চৈতন্য ধারার সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী।
- এছাড়া অনেক মণিপুরী আছে যারা একইসঙ্গে আগের বিশ্বাস এবং ইসলাম ধর্ম পালন করে।
- এদের বলা হয় মেইতেই পানগন (Meitei Pangon) বা মণিপুরী মুসলমান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২২.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. খাসিয়া
  4. হাজং
ব্যাখ্যা

মাতৃতান্ত্রিক সমাজ:
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়।
- বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।

অপরদিকে,
- চাকমা, হাজং এবং মারমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৩২৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. চাকমা
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. পাঙ্গাল
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- গারো ও খাসিয়া নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে চাকমাদের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশী।
- একমাত্র মুসলিম নৃগোষ্ঠী পাঙ্গাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২৪.
রাজবংশী' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিম্নের কোন জেলায় বাস করে?
  1. সিলেট
  2. বান্দরবান
  3. চট্টগ্রাম
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- খরা, অনাবৃষ্টি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হুদুমা’ পূজা রাজবংশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই। এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।
- রাজবংশীরা মৃতদেহ পুড়িয়ে সৎকার কাজ সম্পন্ন করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৩২৫.
পাঙন সম্প্রদায় কোন নৃগোষ্ঠীর শাখা?
  1. চাকমা
  2. মণিপুরী
  3. গারো
  4. তঞ্চঙ্গ্যা
ব্যাখ্যা

- পাঙনরা মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর একটি শাখা।

মণিপুরী: 

- পাঙন সম্প্রদায় মূলত মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর একটি শাখা।
- মণিপুরের রাজা চৌরজিৎ সিংহের সময়কালে সংঘটিত বার্মা-মণিপুর যুদ্ধ (১৮১৯-১৮২৫) এর প্রেক্ষাপটে মণিপুরী জনগণের একটি অংশ ভারত ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
- বাংলাদেশে আগত মণিপুরীরা প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়: (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ এবং (৩) পাঙন।
- পাঙনরা আর্য বংশভুক্ত হলেও মৈতৈ ভাষায় কথা বলেন এবং তারা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন।
- এদের ভাষাগত পরিচিতি মৈতৈদের সঙ্গে মিলে গেলেও ধর্মীয় পরিচয় আলাদা। ফলে, পাঙনদের আলাদা একটি সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসে মুসলিম হলেও, তারা মণিপুরী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই বিবেচিত।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ। 

৩২৬.
প্রধানত কোন জেলায় চাকমা সার্কেল এর অবস্থান?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান
  3. কক্সবাজার
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি সার্কেল রয়েছে।
- বোমাং সার্কেল: বান্দরবান জেলার বৃহত্তর অংশ ও রাঙামাটি জেলার কিছু অংশ নিয়ে বোমাং সার্কেল।
- চাকমা সার্কেল: রাঙামাটি জেলার বৃহত্তর অংশ ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ নিয়ে চাকমা সার্কেল।
- মং সার্কেল: খাগড়াছড়ি জেলার বৃহত্তর অংশ নিয়ে মং সার্কেল।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধান্রা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবে পরিচিত।
- সরকারিভাবে তাদের সার্কেল চীফ বলা হয়। 

উৎস: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ওয়েবসাইট।
৩২৭.
পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বাকার জাতি কোনটি?
  1. টোডা
  2. পিগমি
  3. জুলু
  4. মাওরি
ব্যাখ্যা
• পিগমি জাতি: 
• Pygmy শব্দটি সাধারণত আফ্রিকার এমন কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর জন্য ব্যবহৃত হয়।
- যাঁদের গড় উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম (প্রায় ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি বা কম)।
- এরাই পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বাকার জাতি।
- তবে এটি শুধুমাত্র দৈহিক গঠনের পরিচয় নয় তাঁদের একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয় রয়েছে।
• বসবাসের স্থান:
- মূলত কেন্দ্রীয় আফ্রিকার গহীন বনে বসবাস করে।
- দেশসমূহ:
- কঙ্গো (DRC),
- গ্যাবন,
- ক্যামেরুন,
- রুয়ান্ডা,
- উগান্ডা।

উৎস: Britannica. 
৩২৮.
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 'মনিপুরী' বাংলাদেশের কোন জেলায় বেশি?
  1. সিলেট
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• মনিপুরী নৃগোষ্ঠী:
- মনিপুরী এর পূর্ব পুরুষরা হলো পাখাংবা এর বংশধর।
- ৩৩ সালে মণিপুরী রাজা পাখাংবা-র (Pakhangba) সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- মণিপুরী (The Manipuris) বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- প্রাচীনকালের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখনকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। 
- তবে তারা অধিক সংখ্যক বাস করে মৌলভীবাজার জেলায়।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া। 

৩২৯.
'বিষ্ণুপ্রিয়া' নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি সম্প্রদায়?
  1. সাঁওতাল 
  2. গারো 
  3. ত্রিপুরা 
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। 

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৩০.
বাংলাদেশের মোট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা কত?
  1. ৪৯টি
  2. ৪৭টি
  3. ৫০টি
  4. ৪৩টি
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
- দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা – ৫০টি।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা (৪,৮৩,৩৬৫ জন)।
- জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যথাক্রমে মারমা (২,২৪,২৯৯ জন) ও ত্রিপুরা (১,৫৬,৬২০ জন)।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিল (৯৫জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে জেলায় -রাঙ্গামাটি (৩,৭২,৮৭৫ জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম যে জেলায় লালমনিরহাট (১১৮ জন)।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৩৩১.
কন্দ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে কোন জেলায়?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. কক্সবাজার
  3. মৌলভীবাজার
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি। এগুলো কন্দদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৩২.
বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে?
  1. ত্রিপুরা
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা:
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়। 
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় খাসিয়া ও গারো মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।

অন্যদিকে,
- ত্রিপুরাদের পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় পিতাই পরিবারের প্রধান।
- সাঁওতালদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পিতাই পরিবারের প্রধান।
- মণিপুরিদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত। 
- রাখাইনদের পরিবারব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৩৩.
বাংলাদেশের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. রাজশাহী
  3. কক্সবাজার
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর:
- বাংলাদেশের 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর' রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদি নামক স্থানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের অভ্যন্তরে এ জাদুঘরটি অবস্থিত।
- এখানে পার্বত্য অঞ্চলে ববাসরত উপজাতি সমূহের ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যাবে।
- জাদুঘরে রক্ষিত উপজাতীয়দের বিভিন্ন যে কাউকে মুগ্ধ করে সহজে।
- এছাড়াও জাদুঘরের অভ্যন্তরে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমূহের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র।
- এর ভবনটি অনন্য আধুনিক স্থাপত্য কলায় নির্মিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৩৪.
সাঁওতাল বিদ্রোহ কাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. জমিদারদের বিরুদ্ধে
  2. পুলিশের বিরুদ্ধে
  3. মহাজনদের বিরুদ্ধে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল বিদ্রোহ: 
- সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬)  জমিদার, মহাজন ও পুলিশের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের সশস্ত্র বিদ্রোহ।
- সাঁওতালদের  উপর নিপীড়নকারী  জমিদার,  মহাজন, পুলিশ,  রেলওয়ে ঠিকাদারসহ অন্য যারা তাদের এলাকায় গিয়ে বিত্তশালী হবার চেষ্টা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে এক সুসংগঠিত সশস্ত্র বিদ্রোহ গড়ে তোলে।
- প্রথম দিকে সাঁওতালরা তাদের আদি বাসভূমি কটক, ধলভূম, মানভূম, বড়ভূম, ছোটনাগপুর, পালামৌ, হাজারীবাগ, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ও বীরভূমের পার্বত্য এলাকা ছেড়ে  রাজমহল পাহাড়ের সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।-
- সাঁওতালরা বাঙালিদের ‘মইরা’ ও ‘দিকু’ নামে ডাকত এবং তাদের শত্রু মনে করত, কেননা এই বাঙালিরাই ছিল জমিদার, মহাজন, দোকানদার ও রেলওয়ে শ্রমিক-ঠিকাদার, যারা কমবেশি সবাই ছিল শোষক ও নির্যাতনকারী।
- এইসব মইরা ও দিকুর হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সাঁওতালরা ১৮৫৫ সালের গোড়ার দিকে সংগঠিত হতে শুরু করে।
- যখন সাঁওতাল নেতা বীর সিংহকে পাকুড় রাজের কাচারিতে তলব করে তার অনুসারীদের সামনে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়, তখনই শুরু হয় মূল বিদ্রোহ।

উল্লেখ্য,
- পিপলিতে সাঁওতালরা মেজর বারোজের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানকে সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত করে।
- ১৮৫৫ সালের ১৯ জুলাই সামরিক আইন জারি করা হয়।
- সাঁওতালদের দমনের জন্য তিনটি সৈন্যদল পাঠানো হয়।
- সাঁওতালদের রক্তে সিক্ত হয় রাজমহল পার্বত্য এলাকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৩৫.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি হয় কত সালে?
  1. ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
  2. ১৫ জুলাই ১৯৯৮
  3. ২ ডিসেম্বর ১৯৯৮
  4. ২৭ মে ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি:
- দীপঙ্কর প্রসাদ চাকমার মতো শান্তিবাহিনীর বহু সদস্য ১৯৮০ এবং ৯০’র দশকে পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে লড়াই করেছিলেন।
- প্রায় দুই দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের ইতি হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তির মাধ্যমে। 

⇒ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন:
- তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ।
- ও জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, যিনি সন্তু লারমা হিসেবে পরিচিত।

যে-সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল: 
- তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হবে।
- উপজাতীয় আইন এবং সামাজিক বিচারকাজ এই পরিষদের অধীনে থাকবে।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা
- উপজাতীয়দের ভূমি মালিকানা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা।

উৎস: বিবিসি বাংলা, ২ ডিসেম্বর ২০২২।
৩৩৬.
কোন জনগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘রোয়াজা’ বলা হয়?
  1. সাঁওতাল
  2. মারমা
  3. চাকমা
  4. খাসিয়া 
ব্যাখ্যা

মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী। 
- তারা প্রধানত পার্বত্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাস করে।
- মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত। 
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যা বর্মী ভাষার ‘ভোট বর্মী’ শাখার অন্তর্গত।
- তাদের বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা, যা বাম থেকে ডানদিকে লেখা হয় এবং ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত।

- মারমাদের ঘরবাড়ি সাধারণত বাঁশ, পাহাড়ি ছন ও ঘাস দিয়ে তৈরি, যা উঁচু মাচাং-এর ওপর নির্মিত হয়।
- মারমাদের প্রধান খাদ্য ভাত ও সিদ্ধ শাক।
- মারমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- তাদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে রয়েছে- বুদ্ধ পূর্ণিমা, ওয়াছো বা আষাঢ়ী পূর্ণিমা এবং প্রবারণা পূর্ণিমা।
- সবচেয়ে বড় উৎসব হলো সাংগ্রাই, যা সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

- মারমাদের জীবিকা মূলত কৃষি নির্ভর, বিশেষ করে জুমচাষ।
- মারমাদের গ্রামকে বলা হয়- রোয়াজ।
- মারমা জনগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘রোয়াজা’ বলা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণি;
বাংলাপিডিয়া।  

৩৩৭.
বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. সাওতাল
  2. মারমা
  3. চাকমা
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

উল্লেখ্য, 
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯। 
- বিভাগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ জন বাস করে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯।
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা।
- মারমাদের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬২ আর ত্রিপুরাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮।
- চতুর্থ স্থানে আছে সমতলের জাতিগোষ্ঠী সাঁওতাল। তাঁদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।
- জেলার নিরিখে দেশে, রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪ জন।
- রাঙামাটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাস করে- চাকমা।
- এরপরই আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। এখানে জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।

৩৩৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় 'ওরাওঁ' নৃগোষ্ঠী বসবাস করে না?
  1. রাজশাহী
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. বান্দরবান
  4. নওগাঁ
ব্যাখ্যা
- বান্দরবানে 'ওরাওঁ' নৃগোষ্ঠী বসবাস করে না। 

ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি আদিবাসী নৃগোষ্ঠী, তাদের প্রধান বসবাস বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে।
- বরেন্দ্র অঞ্চল বলতে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো বোঝানো হয়, যেমন রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, জয়পুরহাট, বগুড়া, দিনাজপুর ও গাইবান্ধা।
- এছাড়া তারা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন গ্রামে বসবাস করে।
- সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওরাওঁ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।
- বর্তমানে গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলাতেও তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩৩৯.
খাসিয়া উপজাতি বাংলাদেশের কোন জেলায় বাস করে?
  1. ময়মনসিংহ
  2. নেত্রকোণা
  3. সিলেট
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৪০.
রাখাইন জনগোষ্ঠীর আদি নিবাস কোথায়?
  1. চীন
  2. ভারত
  3. মিয়ানমার
  4. ভুটান
ব্যাখ্যা
রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদি নিবাস মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য।
- এরা নিজেদের 'রাক্ষাইন' নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- রাখাইনরা এক সময় 'মগ' নামে পরিচিত ছিলো।
- অনেক গবেষকের মতে, রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত।
- রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৩৪১.
ওঁরাও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. গাজীপুর
  2. রাজশাহী
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী- ওঁরাও:
- ওঁরাও দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় নৃগোষ্ঠী।।
- ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে এদের বাস।
- বাংলাদেশে বর্তমানে গাজীপুর, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলা বসবাস করে।
- ওঁরাওদের ভাষার নাম কুরুখ ও সাদ্রি।
- এই ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই।
- ওঁরাও আদিবাসীরা নৃতাত্ত্বিক বিচারে আদি অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রেলীয়) জনগোষ্ঠীর উত্তরপুরুষ।
- ওঁরাও সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।
- এদের গ্রামপ্রধানকে বলা হয় মাহাতো।
- ধর্মবিশ্বাসে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে সর্বশক্তিমান ‘ধরমী’ বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’ স্বীকৃত।
- তাদের প্রধান উৎসবের নাম কারাম।

উৎস: ¡) বাংলাপিডিয়া।
         ¡¡) কালের কণ্ঠ।
৩৪২.
নিচের কোন জেলায় 'ওরাওঁ' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. বান্দরবান
  2. চট্টগ্রাম
  3. কক্সবাজার
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- তারা মুঘল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- ওরাওঁরা জড়োপাসক, তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ধরমেশকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে পূজা করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৪৩.
কোন উপজাতিটির আবাসস্থল “বিরিশিরি” নেত্রকোনায়?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. খাসিয়া
  4. মুরং
ব্যাখ্যা
• 'গারো' উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস — ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়া, শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে।
- তবে,
ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে।

উল্লেখ্য,
বিরিশিরি - নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার একটি ইউনিয়ন। 'বিরিশিরি' এলাকায় গারোদের বিশেষভাবে দেখা যায়, যেখানে তারা নিজেদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি ধরে রেখেছে।

তাই বলা যায়,
গারো - উপজাতিটির আবাসস্থল “বিরিশিরি” নেত্রকোনায়।
------------------- 
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি।
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
৩৪৪.
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. খ্রিষ্টান
  2. সনাতন
  3. বৌদ্ধ
  4. ইসলাম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন উপজাতি ও তাদের ধর্মমত:
- বাংলাদেশে লুসাই, খাসিয়া ও মাহালী, গারো উপজাতির ধর্ম খ্রিস্টান।
- ডালু ও মণিপুরীদের ধর্ম বৈষ্ণব।
- ত্রিপুরা, হাজংদের ধর্ম সনাতন।
- রাখাইন, চাকমা, মারমা, চাক, খুমি, খিয়াং ইত্যাদি উপজাতির ধর্ম বৌদ্ধ।
- পাঙন উপজাতির ধর্ম ইসলাম।

উৎস: বান্দরবান জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া।
৩৪৫.
'পলকূত' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শস্য কাটার উৎসব?
  1. হাজং
  2. মারমা
  3. লুসাই
  4. বম
ব্যাখ্যা

লুসাই:
- লুসাই  নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৪৬.
চাকমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব-
  1. বিজু উৎসব
  2. চাপচার কুত
  3. সাংগ্রাই উৎসব
  4. পহেলা বৈশাখ
ব্যাখ্যা
বিজু উৎসব: 
- বিজু হচ্ছে চাকমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব।
- রাঙামাটি, খাগড়াছডড়ি ও বান্দরবান এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠা পার্বত্য চট্টগ্রাম উৎসব পালন করে।

অন্যদিকে, 
- সাংগ্রাই মারমা জনগোষ্ঠীর একটি উৎসবের নাম।
- লুসাই সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব চাপচার কুত।

• চাকমা:

- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৪৭.
যে জেলায় হাজংদের বসবাস নেই -
  1. শেরপুর
  2. নেত্রকোনা
  3. ময়মনসিংহ
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। 
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদি নিবাস উত্তর বার্মায়।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। 
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪৮.
বাংলাদেশের 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর: বাংলাদেশের 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘর' রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদি নামক স্থানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের অভ্যন্তরে এ জাদুঘরটি অবস্থিত।
- এখানে পার্বত্য অঞ্চলে ববাসরত উপজাতি সমূহের ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যাবে।
- জাদুঘরে রক্ষিত উপজাতীয়দের বিভিন্ন যে কাউকে মুগ্ধ করে সহজে।
- এছাড়াও জাদুঘরের অভ্যন্তরে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমূহের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র।
- এর ভবনটি অনন্য আধুনিক স্থাপত্য কলায় নির্মিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৪৯.
খাসিয়া জনগোষ্ঠীর গ্রামকে কী বলা হয়?
  1. টোল
  2. পাড়া
  3. পুঞ্জি
  4. মহল্লা
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৫০.
কোন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের গ্রামকে 'পুঞ্জি' বলা হয়?
  1. সাঁওতাল
  2. মণিপুরী
  3. খাসিয়া
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৫১.
পাঙন সম্প্রদায় বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে পরিচিত?
  1. খাসিয়া
  2. মারমা
  3. মণিপুরী
  4. হাজং
ব্যাখ্যা

মণিপুরী: 
- পাঙন সম্প্রদায় মূলত মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর একটি শাখা।
- মণিপুরের রাজা চৌরজিৎ সিংহের সময়কালে সংঘটিত বার্মা-মণিপুর যুদ্ধ (১৮১৯-১৮২৫) এর প্রেক্ষাপটে মণিপুরী জনগণের একটি অংশ ভারত ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
- বাংলাদেশে আগত মণিপুরীরা প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়: (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ এবং (৩) পাঙন।
- পাঙনরা আর্য বংশভুক্ত হলেও মৈতৈ ভাষায় কথা বলেন এবং তারা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন।
- এদের ভাষাগত পরিচিতি মৈতৈদের সঙ্গে মিলে গেলেও ধর্মীয় পরিচয় আলাদা। ফলে, পাঙনদের আলাদা একটি সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসে মুসলিম হলেও, তারা মণিপুরী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই বিবেচিত।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ। 

৩৫২.
চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসবের নাম কী?
  1. বৈসু
  2. ওয়াংগালা
  3. বিজু
  4. সাংগ্রাই
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৩৫৩.
ত্রিপুরারা বর্ষবরণ উৎসবকে কী নামে অভিহিত করে?
  1. বৈসু 
  2. সাজিবু চেইরাওবা
  3. ওয়ানগালা 
  4.  লাইহারাওবা
ব্যাখ্যা

- ত্রিপুরারা বর্ষবরণ উৎসবকে বৈসু  নামে অভিহিত করে।

বৈসাবি: 
- বৈসাবি  বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈসাবি নামের উৎপত্তি।
- তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে বাংলা নববর্ষ।
- আদিবাসীরা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে বিভিন্ন নামে।
- কেউ বৈসু, কেউ সাংগ্রাই আবার কেউ বিজু।
- বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিজু বলে অভিহিত করে।
- এবং এগুলি বৈসাবি নামে পরিচিত।
- সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

অন্যদিকে,
-  মণিপূরীরা পূর্বের ধর্মীয় অনুষ্ঠান লাইহারাওবা (Laiharaoba), সাজিবু চেইরাওবা (Sajibu Chairaoba) ইত্যাদিও পালন করে। 
- গারোদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ওয়ানগালা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩৫৪.
নিম্নের কোন জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. কোচ
  2. মুন্ডা
  3. পাংখো
  4. পশতুন
ব্যাখ্যা
• 'পশতুন' জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে বাস করে না।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:

- বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। 

কোচ:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘কোচ’।
- বর্তমানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলায় তাদের বসবাস।
- কোচ ও রাজবংশীদের প্রায় সময় একই জাতি মনে করা হয়।

মুন্ডা:
- বাংলাদেশে বসবাসরত আরেকটি উপজাতি হলো ‘মুন্ডা’।
- মুন্ডা জনগোষ্ঠী যে ভাষায় কথা বলে, তার নাম মুন্ডারি।
- এরা অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্গত। 

পাংখো:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ‘পাংখো বা পাংখোয়া’।
- বাংলাদেশে চট্টগ্রামের পার্বত্য জেলার রাঙ্গামাটিতে এরা বসবাস করে।

অপরদিকে,
→ পশতুন হচ্ছে আফগানিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী।

তথ্যসূত্র:
i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) Britannica.
৩৫৫.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা নয়?
  1. দুর্নীতি
  2. জঙ্গিবাদ
  3. বেকারত্ব
  4. দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি
ব্যাখ্যা
- দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি সামাজিক সমস্যা নয়, বরং এটি মূলত অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার সমস্যা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিজেই একটি অর্থনৈতিক সমস্যা, তবে তা সরাসরি সামাজিক সমস্যা হয়ে ওঠে না। 

সামাজিক সমস্যা:

সামাজিক সমস্যা হলো এমন এক ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যা স্বাভাবিক সামাজিক জীবনাচরণের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নাজুক সামাজিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে মোকাবেলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যাসমূহ:
- পূর্বে যেসব সামাজিক সমস্যা সমাজে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে সেগুলোর মধ্যে-জনসংখ্যা সমস্যা, অধিক জনসংখ্যার প্রভাব, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি, দুর্নীতি ইত্যাদি।
- সুশাসনের অভাব আগেও ছিল এখনো আছে, তবে এর প্রকৃতি এবং পরিধি পাল্টেছে।

- সাম্প্রতিককালে আরও যেসব সামাজিক সমস্যা যুক্ত হয়েছে:  বাংলাদেশে নারীর সামাজিক নিরাপত্তাজনিত সমস্যা; যেমন যৌন নিপীড়ন, সাইবার অপরাধ এবং কর্মজীবী নারীর সমস্যা, জেন্ডার বৈষম্য, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ, বার্ধক্য সমস্যা ইত্যাদি।
- সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামাজিক সমস্যা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

- বর্তমানে সাইবার অপরাধ তীব্র আকার ধারণ করেছ। এর প্রধান শিকার নারী। শ্লীলতাহানি কিংবা গোপন যৌন সম্পর্কের ছবি বা ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়।

- সাম্প্রতিককালে বার্ধক্য সমস্যা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যেমন- কর্মস্থলের দূরত্ব, মানুষের নগরমুখিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, ব্যক্তিস্বার্থপরতার প্রভাব বৃদ্ধি, অণু পরিবারের প্রতি আগ্রহ, যৌথ বা বর্ধিত পরিবারে অনীহা ইত্যাদি কারণে বার্ধক্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

তবে সাম্প্রতিককালে যেসব সামাজিক সমস্যা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে তার মধ্যে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ অন্যতম।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মগ নামে পরিচিত?
  1. খাসিয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. রাখাইন
  4. সাঁওতাল 
ব্যাখ্যা
রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম।
- রাখাইনরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।
- এছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়।
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা।
- প্রথমে একে বলা হত রক্ষাইন যার অর্থ রক্ষণশীল জাতি।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।
৩৫৭.
খাসিয়া নৃগোষ্ঠী কোন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? 
  1. দ্রাবিড়
  2. আর্য
  3. কুকি-চিন
  4. মঙ্গোলীয়
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া ও গারো বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- এদের গাত্রবর্ণ হরিদ্রাভ, নাক-মুখ চ্যাপ্টা, চোয়াল উঁচু, চোখ কালো ও ছোট টানা এবং খর্বকায়।
- এরা পাঁচ শত বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- খাসিয়াদের গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জিপ্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তরপূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ ,হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার আবাস তাদের।
- ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে।
- বর্তমানে শতকরা ৮০-৯০ ভাগ খাসিয়াই খ্রিষ্টান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৫৮.
বাংলাদেশের সমতলে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার কোন নৃ-গোষ্ঠীর বাস?
  1. মনিপুরি
  2. গারো
  3. সাওঁতাল
  4. বম
ব্যাখ্যা

⇒ সাঁওতাল বাংলাদেশের সমতল ভূমির আদিবাসী গোষ্ঠী।

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৫৯.
নিচের কোন উপজাতি রংপুর অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. মণিপুরী
  2. গারো
  3. খাসিয়া
  4. রাজবংশী
ব্যাখ্যা
রাজবংশী উপজাতি রংপুর অঞ্চলে বসবাস করে।
এছাড়াও ওঁরাও উপজাতি রংপুর অঞ্চলে বসবাস করে।

অন্যদিকে,
- গারো -ময়মনসিংহ,টাইঙ্গাইল,শেরপুর নেত্রকোনা।
- খাসিয়া- সিলেট।
- মণিপুরী - মৌলভীবাজার,সিলেট,হবিগঞ্জ।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
৩৬০.
বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
  1. গারো
  2. খাসিয়া
  3. পাঙন
  4. খিয়াং
ব্যাখ্যা

পাঙন:
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়।
- পাঙন বা পাঙাল হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তারা জাতিগতভাবে মণিপুরি হলেও ধর্মীয়ভাবে মুসলমান।
- তাদের বসবাস প্রধানত মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে।
- পাঙালরা নিজেদের ভাষা, রীতি-নীতি ও সামাজিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ধরে রেখেছে।
- তারা ইসলামী রীতিতে বিয়ে করে, তবে সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করে নিজস্ব ঐতিহ্যে।  

সূত্র: বিবিসি নিউজ ও কালের কণ্ঠ। 

৩৬১.
নিচের কোন জেলায় হাজং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. ময়মনসিংহ
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
হাজং:
 
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- তিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৬২.
নিচের কোনটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. লুসাই
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৬৩.
মণিপুরীদের সর্ববৃহৎ উৎসবের নাম কী?
  1. বিঝু
  2. মাইলুকমা
  3. রাস পুর্ণিমা
  4. বৈসুক
ব্যাখ্যা

- মণিপুরীদের সর্ববৃহৎ উৎসবের নাম রাস পুর্ণিমা।

মণিপুরী:
- অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মণিপুর রাজ্যের অধিবাসীরা দেশত্যাগ করে পাক-ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করে।
- বর্তমানে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় মণিপুরী জনগোষ্ঠীর লোক বাস করে।
- ভাষাগত এবং ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে বাংলাদেশের মণিপুরীরা তিনটি শাখায় বিভক্ত
- স্থানীয়ভাবে তারা (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ ও (৩) পাঙন নামে পরিচিত।
- তাদের ভাষার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা।
- মৈতৈরা মঙ্গোলয়েড মহাজাতির তিব্বতী-বর্মী উপ-পরিবারের অন্তর্গত এবং তাদের ভাষার নাম মৈতৈ।
- পাঙনরা আর্য বংশদ্ভুত হলেও মৈতৈ ভাষায় কথা বলে এবং ধর্মীয়ভাবে তারা মুসলিম।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরীদের বৃহৎ উৎসব রাসপূর্ণিমা।
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে মণিপুরের রাজা মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র প্রবর্তিত শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলানুকরন বা রাসপুর্ণিমা নামের মণিপুরীদের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রায় দেড়শত বছর ধরে (আনুমানিক ১৮৪৩ খ্রী: থেকে) পালিত হয়ে আসছে।
- কার্ত্তিকের পুর্ণিমা তিথিতে দুরদুরান্তের ল ল ভক্ত-দর্শক মৌলবীবাজার জেলার সিলেটের কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড়ামন্ডবের এই বিশাল ও বর্ণাঢ্য উৎসবের আকর্ষনে ছুটে আসেন। 

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

৩৬৪.
'সোহরাই' বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. ত্রিপুরা 
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। 
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য সূর্য।
- সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিনির্ভর। 
- সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। 
- সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই।
- সাঁওতালদের মধ্যে এখনও ১২টি গোত্রবিভাগ রয়েছে। 
- সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৩৬৫.
বাংলাদেশের একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি কোথায় বাস করে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. বান্দরবান
  3. নেত্রকোনা
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
পাঙন উপজাতি:
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩৬৬.
ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব কোনটি?
  1. সাংগ্রাই
  2. বিজু
  3. বৈসু
  4. সোহরাই
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৩৬৭.
গ্রাম পঞ্চায়েত কোন সমাজের মূলভিত্তি?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. গারো
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
পঞ্চায়েত ব্যবস্থা শুধুমাত্র সাঁওতাল সমাজে প্রচলিত।

সাঁওতাল:

- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি প্রধান নৃগোষ্ঠী হলো সাঁওতাল।
- তারা রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় বাস করে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীভুক্ত লোক।  
- সাঁওতাল সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- তাদের সমাজে পিতার সূত্র ধরে সন্তানের দল ও গোত্র পরিচয় নির্ণয় করা হয়।
- সাঁওতাল সমাজের মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রাম পঞ্চায়েত।
- পঞ্চায়েত পরিচালনার জন্য সাধারণত পাঁচজন সদস্য থাকেন। এরা হলো মাঞ্জাহি হারাম, জগমাঞ্জাহি, জগপরানিক, গোডেৎ ও নায়কি।
- নায়কিকে তারা পঞ্চায়েত সদস্য নয় বরং ধর্মগুরু হিসাবে মনে করে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৩৬৮.
দেশে প্রথম উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি:
- বাংলাদেশে প্রথম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র 'উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি' নেত্রকোনার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, মান্দাই প্রভৃতি নৃগোষ্ঠী অনাদিকাল থেকে নিজস্ব জীবন ও সমাজ তথা ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি লালন করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বসবাস করে আসছে।
- এই সকল নৃগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৭৭ সালে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রথম পরিচালক ছিলেন সিস বিভা সাংমা।
- এর চারটি শাখা রয়েছে: ক) সংস্কৃতি খ) গবেষণা গ) লাইব্রেরি ও ঘ) জাদুঘর।
- এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩৬৯.
ওরাওঁ সমাজে গ্রামীণ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গঠিত সংগঠনের নাম কী?
  1. পাঁড়হা
  2. পাঞ্চেস
  3. নাইগাস
  4. মহাতোষ
ব্যাখ্যা

ওরাওঁ
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। 
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে। 
- তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় যে, তারা বরেন্দ্র অঞ্চল ছাড়াও ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলায়ও বসবাস করত।
- যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস। 
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ থাকে এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকে। 
- গ্রামের বয়স্ক সাত-আটজন ব্যক্তি দ্বারা পাঞ্চেস গঠিত হয়। পাঞ্চেস-এর কার্যকাল সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য হয়। 
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক। এ ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই। তাদের সাহিত্য মৌখিক।  

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩৭০.
'ওয়ানগালা' উৎসব যে নৃ-গোষ্ঠী পালন করে-
  1. সাঁওতাল
  2. চাকমা
  3. গারো
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
⇒ 'ওয়ানগালা' উৎসব গারো নৃ-গোষ্ঠী পালন করে।

গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৭১.
সাঁওতালদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোনটি?
  1. বৈসুক
  2. সোহরাই
  3. সাংগ্রাই
  4. ওয়ানগালা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসরত কয়েকটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর উৎসব সমূহ:

- ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসবের নাম - বৈসুক,
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসবের নাম - সোহরাই,
- মারমা/রাখাইনদের প্রধান উৎসবের নাম - সাংগ্রাই এবং
- গারোদের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রধান উৎসবের নাম - ওয়ানগালা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী।
৩৭২.
কোন উপজাতি নিজেদেরকে ’মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন?
  1. গারো 
  2. ম্রো
  3. খিয়াং
  4. পাঙ্গন
ব্যাখ্যা

ম্রো :
- ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত। 
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না।
- ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রোরা তিববতী-বর্মী গ্রুপের একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলে।
- বতর্মানে এদের নিজস্ব ভাষায় ও বর্ণমালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই প্রণীত হয়েছে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রোদের বংশ পরিচয় পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩৭৩.
কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দেন?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. মণিপুরী
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
গারো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দেন।

গারো:
- ‘গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- বর্তমানে গারোদের বেশিরভাগই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
৩৭৪.
কোন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ নামে অভিহিত করেন?
  1. খাসিয়া
  2. রাখাইন
  3. ম্রো
  4. ওঁরাও 
ব্যাখ্যা

ম্রো :
- ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত। 
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না।
- ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রোরা তিববতী-বর্মী গ্রুপের একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলে।
- বতর্মানে এদের নিজস্ব ভাষায় ও বর্ণমালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই প্রণীত হয়েছে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রোদের বংশ পরিচয় পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩৭৫.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাড়িকে ‘কিং’ বলে?
  1. মুরং
  2. চাক
  3. মারমা
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
⇒ চাকরা বাড়িকে ‘কিং’ এবং গ্রামকে ‘ঠি’ বলে।

চাক:

- চাক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর বসবাসের স্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি।
- পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামোতে চাকদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী শুধু ছেলেরা।
- চাক সমাজ প্রধানত ২টি গোত্রে বিভক্ত।
- গোত্রীয় প্রতীক জালোয়া বা পইত্যা (পাকানো সুতার রশি)।
- তাদের জীবনধারা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যমন্ডিত।
- শিশুর জন্ম ও নামকরণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদির মধ্যে নাইংছাঙাহাং-এ অবস্থান, পুতরংবুওয়ে (জন্মপরবর্তী অনুষ্ঠান), ভেগলুংশাত পো (চুংবংলংউচ্ছেং ছাহেকা) উল্লেখযোগ্য।
- বিবাহ সংক্রান্ত প্রথার মধ্যে আচাংগায়ুগা (কনে দেখা), চাঁগায়ুগা (কোষ্ঠী বিচার)-সহ আরো অনেক প্রথা পালন করা হয়।
- চাকরা দুই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা (লক্ষ্মীপূজা বা ওয়াইগ্যা, ফুলপূজা, প্রদীপপূজা) করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৭৬.
মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম কী?
  1. বিজু
  2. বৈসু
  3. বিহু
  4. সাংগ্রাই
ব্যাখ্যা

মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।

উল্লেখ্য,
- সাংগ্রাই রাখাইন জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ ও প্রধান উৎসব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৩৭৭.
হাজং নৃগোষ্ঠী প্রধানত নিচের কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. বান্দরবান
  2. রাঙামাটি
  3. মৌলভীবাজার
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। 
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। 
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিজ
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৭৮.
নরগোষ্ঠী সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
  2. আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
  3. ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
  4. ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠীর বিভাজন
ব্যাখ্যা
নরগোষ্ঠীর সংজ্ঞা: 
- নরগোষ্ঠীকে এমন একটি মানবসমষ্টি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যার সদস্যদের জন্মগতভাবে প্রাপ্ত অভিন্ন কিছু দৈহিক বৈশিষ্ট থাকে যা তাদেরকে অন্যান্য মানবগোষ্ঠী থেকে পৃথক করে।
- সামাজিক নৃবিজ্ঞানী E. B. Tylor-এর মতে, নরগোষ্ঠী হল স্বাতন্ত্র্যসূচক এবং জন্মসূত্রে বর্তায় এমন দৈহিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়ে গঠিত মানবজাতির একটি প্রধান বিভাগ।
- সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এমন জনগোষ্ঠীকেও তিনি নৃগোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন (Ethnic community is a group distinguished by common cultural characteristics)।
- সুতরাং নরগোষ্ঠী হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্যে অধিকারী মানগোষ্ঠী, যারা বিশ্বের নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অভিন্ন সংস্কৃতির অনুসারী হয়ে বসবাস করে।
- একটি নরগোষ্ঠীর সদস্যগণ সাধারণত অন্য নরগোষ্ঠীর সদস্যদের থেকে সাংস্কৃতিক ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

নরগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য: 
(ক) নরগোষ্ঠী হচ্ছে মানবজাতির অন্যতম প্রধান উপবিভাগ;
(খ) নরগোষ্ঠীর মূলে রয়েছে স্বতন্ত্র ও সাধারণ কিছু দৈহিক বৈশিষ্ট্য, যা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়;
(গ) সাধারণত মাথার গড়ন, মুখের চোয়াল, চুলের রং ও ধরন, গায়ের রং, নাক, চোখ, শারীরিক গঠন ও উচ্চতার মাধ্যমে নরগোষ্ঠী নির্ধারিত হয়;
(ঘ) বংশগতভাবে প্রাপ্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই নরগোষ্ঠীকে পৃথক করা হয়;
(ঙ) নরগোষ্ঠী মানুষের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য যা বংশ পরম্পরায় অব্যাহত থাকে;
(চ) নির্দিষ্ট নরগোষ্ঠী প্রায়শ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে বসবাস করে;
(ছ) প্রত্যেক নরগোষ্ঠীর নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রয়েছে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৯.
কোনটি মাতৃপ্রধান উপজাতি? 
  1. চাকমা
  2. খুমি
  3. খাসিয়া
  4. মারমা
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৮০.
মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম কী?
  1. বিজু
  2. রাশ
  3. সাংগ্রাই
  4. বাইশু
ব্যাখ্যা
◉ মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম ⎯ সাংগ্রাই।
➝ এটি মূলত মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।

বৈসাবি:
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে বর্ষবরণ উৎসবই সবচেয়ে বড় এবং ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ৩ বড় নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবকে একত্রে বৈসাবি বলা হয়।
ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম ⎯ বৈসুখ/বৈসু/বাইশু,
মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম ⎯ সাংগ্রাই,
চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম ⎯ বিজু

এই ৩ বড় উৎসবকে একত্রে বৈসাবি বলা হয়। সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

মারমা ও সাংগ্রাই উৎসব:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত। তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধানের পদবী ⎯  কারবারি; মৌজা পর্যায়ের প্রধান ⎯ হেডম্যান; সার্কেল প্রধান হলেন ⎯ রাজা।

- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- সাংগ্রাই শব্দটি এসেছে ‘সাক্রাই’ থেকে; এর মানে ‘সংক্রান্তি’।
- সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন এই উৎসব পালিত হয়।
- এ উৎসবের মূল আয়োজন ⎯ ‘পানিখেলা’ বা ‘জলোৎসব’। নৌকা বা বড় পাত্রে পানি রেখে একপক্ষ আরেক পক্ষকে পানি ছিটিয়ে দেয়।

অন্যদিকে,
- রাস হলো মণিপুরিদের প্রধান উৎসব। শরতের পূর্ণিমায় এই রাস হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই।
৩৮১.
চাকমাদের গ্রাম প্রধানের উপাধি- 
  1. হেডম্যান
  2. আদাম
  3. কার্বারী
  4. সার্কেল প্রধান
ব্যাখ্যা

- চাকমা গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 

চাকমা জাতিসত্তা: 

- পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে চাকমারা জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম। 
- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলাতে তাদের বসবাস রয়েছে।
- এছাড়া চাকরিসূত্রে চাকমারা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করছে। 
- আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ও দিল্লীসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেক চাকমা বসবাস করে।
- খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ এবং রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে চাকমা সার্কেল যার প্রধান হলেন চাকমা চীফ বা চাকমা রাজা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের আরও দুটি সার্কেলের মতো চাকমা সার্কেলও অনেক মৌজা নিয়ে গঠিত। 
- চাকমা ভাষায় গ্রামকে আদাম বা পাড়া বলা হয়। 
- গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 
- কয়েকটি 'আদাম' বা গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় এক-একটি মৌজা।
- মৌজা প্রধান হলেন 'হেডম্যান' যার নেতৃত্বে মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খাজনা আদায়, বিভিন্ন সামাজিক বিরোধের বিচারসহ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনগণের ভালমন্দ দেখভালের কাজগুলো পরিচালিত হয়। 

উৎস:  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০১৮ বোর্ড বই।

৩৮২.
বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের সমাজব্যবস্থা কেমন?
  1. মাতৃতান্ত্রিক
  2. পিতৃতান্ত্রিক
  3. সামন্ততান্ত্রিক
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

ত্রিপুরা: 

- ত্রিপুরা, ত্রিপুরী বা তিপ্রা হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একটি নৃগোষ্ঠী।
- তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমতল এলাকার কুমিল্লা, সিলেট, বৃহত্তর চট্টগামের বিভিন্ন উপজেলা, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, ফরিদপুর প্রভৃতি অঞ্চলেও বর্তমানে বসবাস করে।
- বাংলাদেশে এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে।
- পরবর্তী সময়ে এই জনগোষ্ঠী ভারতের আসাম হয়ে অত্র অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে।
- ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর ভাষার নাম ককবরক।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরাদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।
- ত্রিপুরারা সনাতন ধর্মের অনুসারী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৩.
মারমাদের মৌজা বা এলাকা প্রধানকে কী বলা হয়? 
  1. কারবারি
  2. হেডম্যান
  3. মাহাতো
  4. নকসা
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা  বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- প্রায়শই তাদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়।
- ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মারমা জনসংখ্যা ১,৫৭,৩০১।
- মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণ গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- মারমাদের ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা।
- বাম থেকে ডানদিকে লেখার রীতি অনুসারী বর্ণমালা উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি হতে উদ্ভূত।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা, ওয়াছো বা আষাঢ়ি পূর্ণিমা এবং ওয়াগোয়াই বা প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করে।
- মার্মাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই।
- মারমা জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। 
- মারমা গ্রাম প্রধানকে কারবারি বলে।
- মৌজা বা এলাকা প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।

অপরদিকে,
- গারোরা গ্রাম প্রধানকে বলে নকসা।
- ওরাঁওদের গ্রাম প্রধান বলা হয় মাহাতো।
- মারমা গ্রাম প্রধানকে কারবারি বলে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৪.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গ্রামকে আদাম বলা হয়?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. খাসিয়া
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম উপজাতি হলো চাকমা।
- তারা প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাস করে।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে প্রভাবশালী উপজাতি।
- তাদের গ্রামকে ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’ বলা হয়।
- কয়েকটি পরিবার নিয়ে চাকমাদের গ্রাম গঠিত হয়।
- চাকমাগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘কার্বারি’ বলা হয়।
- চাকমারা থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান উৎসব হলো বিজু, যা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে পালিত হয়।

উৎস: Britannica; বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ। 

৩৮৫.
চাকমা সমাজে পাড়ার প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. কার্বারি
  2. হেডম্যান
  3. আদাম
  4. রাজা
ব্যাখ্যা
চাকমা: 
- বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।
- বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।
- চাকমা সমাজে মূল অংশ পরিবার।
- কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় 'আদাম' বা 'পাড়া'। পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি।
- কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা। মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
- কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
- কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা।
- চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক।
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৮৬.
লুসাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শস্য কাটার উৎসব কী নামে পরিচিত?
  1. পলকূত
  2. মীমতূত
  3. চাপচারকূত
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৮৭.
আদিবাসী গোষ্ঠী গারোদের প্রধান ধর্মবিশ্বাস কোনটি?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. খ্রিস্টধর্ম
  3. সনাতন ধর্ম
  4. প্রকৃতিবাদ
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টায় শিক্ষাক্ষেত্রে গারোরা ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে।
- উনিশ শতকের শেষদিকে খ্রিস্টান মিশনারিগণ গারোদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচার শুরু করে।
- বর্তমানে গারোদের অধিকাংশই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।
- তবে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পূর্বে গারোদের আদিধর্মকে অনেকেই জড়োপাসনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গারোদের আদিধর্ম জড়োপাসনা ছিল না।
- কারণ গারোরা সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বেও বিশ্বাস করতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৮.
মারমা সম্প্রদায়ের লোকেরা গ্রামকে কী নামে ডাকে?
  1. গেরাম
  2. রোয়া
  3. নম
  4. বিনায়রা
ব্যাখ্যা
মারমা:
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে মারমাদের অবস্থান দ্বিতীয়।
- মারমা নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে।
- ‘মারমা' শব্দটি 'ম্রাইমা' শব্দ থেকে উদ্ভূত। পাবর্ত্য অঞ্চলে বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভূক্ত মারমা সমাজের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা।
- প্রত্যেক মৌজায় কতগুলো গ্রাম রয়েছে। গ্রামবাসী গ্রামের প্রধান মনোনীত করে।
- মারমারা গ্রামকে তাদের ভাষায় ‘রোয়া’ এবং গ্রামের প্রধানকে 'রোয়াজা' বলে।
- মারমা পরিবারে পিতার স্থান সর্বোচ্চ হলেও পারিবারিক কাজকর্মে মাতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৩৮৯.
খাসিয়া উপজাতি কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. কুরুখ
  2. মন খেমে
  3. আচিক খুসিক
  4. পালি
ব্যাখ্যা
উপজাতিদের ভাষা:
খাসিয়া - মন খেমে
চাকমা - চাকমা ভাষা
ওঁরাও - কুরুখ, শাদ্রি
গারো - আচিক খুসিক
ত্রিপুরা - ককবরক
মগ - পালি

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯০.
'চাপচারকূত' কোন ধরনের উৎসব?
  1. মৃত আত্মাদের স্মরণে
  2. শস্য কাটার উৎসব
  3. বসন্ত উৎসব
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৯১.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের মাতৃপ্রধান উপজাতি?
  1. খুমি
  2. খাসিয়া
  3. চাকমা
  4. মুরং
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৯২.
মহারাসলীলা কোন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব?
  1. হাজং
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। 

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৯৩.
উপজাতি কালচারাল একাডেমি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮৮ সাল
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
উপজাতি কালচারাল একাডেমি:
- অবস্থান: বিরিশিরি, দুর্গাপুর, নেত্রকোণা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়:  ১৯৭৭ সালে।
- গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একাডেমিকে ১৬-৭-১৯৭৯ তারিখে 'তথ্য সম্প্রচার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের 'ক্রীড়া ও সংস্কৃতি' বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। 
- ২০১০ সালে 'উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি-এর পরিবর্তে 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি' নামটি প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে।

⇒ অপরদিকে,
- মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, মৌলভীবাজার।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি।
- রাখাইন সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রামু কক্সবাজার। 

উৎস: ¡) বাংলাপিডিয়া।
          ¡¡) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩৯৪.
কোন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়?
  1. পৌষ মাস
  2. ফাল্গুন মাস
  3. চৈত্র মাস
  4. বৈশাখ মাস
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- ওরাও নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক। 
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস।
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ থাকে এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকে। 
- ওরাওঁরা জন্মান্তরবাদী। 
- ওরাওঁদের মাঝে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। 
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত ফাগুয়া।
- ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯৫.
সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য দেবতা কে?
  1. সূর্য
  2. থাকুর
  3. মারাং বুরু
  4. সিংবোঙ্গা
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৯৬.
কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা বিদ্যমান?
  1. সাঁওতাল ও মণিপুরী
  2. ত্রিপুরা ও রাখাইন
  3. গারো ও খাসিয়া
  4. রাখাইন ও খাসিয়া
ব্যাখ্যা
মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা:
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়। 
- বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।

অন্যদিকে,
- ত্রিপুরাদের পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় পিতাই পরিবারের প্রধান।
- সাঁওতালদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পিতাই পরিবারের প্রধান।
- মণিপুরিদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত। 
- রাখাইনদের পরিবারব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৯৭.
খিয়াং সম্প্রদায় বাংলাদেশের কোথায় বসবাস করে?   
  1. পটুয়াখালী
  2.  দিনাজপুর 
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম 
  4. সিলেট 
ব্যাখ্যা
খিয়াং:
- পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- দক্ষিণের টেম চিন (Tame Chin) বা উত্তরের ওয়াইল্ড চিন (Wild Chin) নামে অভিহিত আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- কবে খিয়াংরা এদেশে এসেছে তার স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও কেউ কেউ মনে করে ১৬ ও ১৭ শতকে খিয়াংরা বাংলাদেশে আগমন করে।
- পার্বত্য জেলা বান্দরবানের মুরারনজা পর্বতমালায় খিয়াংরা সর্ব প্রথম বসবাস শুরু করে।
- এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে জুম চাষ করার মাধ্যমে তাদের বসতি স্থানান্তর হতে থাকে।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।

উল্লেখ্য,
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
- অন্যায় বা অপরাধের সাথে জড়িত কোনো লোকের বিচার গ্রামের কার্বারী তাদের নিজস্ব প্রথা অনুসারে করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯৮.
সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. রাজশাহী
  2. সিলেট
  3. রাঙ্গামাটি
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• সাঁওতাল:
• সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
• তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
• সাঁওতালদের ভাষা: সাঁওতালি।
• সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে।
• সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই। খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা তাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারিত হচ্ছে।
• প্রধান উৎস: সোহরাই।
• সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯৯.
লুসাই জনগোষ্ঠীর 'মৃত আত্মাদের স্মরণে' পালিত উৎসব কী নামে পরিচিত?
  1. চাপচারকূত
  2. মীমতূত
  3. পলকূত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪০০.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বান্দরবান
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে।
- জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর
- ১৪.৮২% রাজশাহী,
- ৮.২৮% সিলেট,
- ৫.৫২% রংপুর ও
- ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
         ii) প্রথম আলো।