আলু বোরন নামের পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির জন্য সংবেদনশীল।
বোরনের ঘাটতি আলুর কন্দের বৃদ্ধি ও গুণগত মানের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বোরনের অভাবে আলুর কন্দে ফাটল দেখা দিতে পারে, কন্দের আকৃতি অস্বাভাবিক হতে পারে এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাদামী দাগ (brown heart) সৃষ্টি হতে পারে। বাকী অপশনগুলো (নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, দস্তা) ঘাটতি হলে আলুতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়—যেমন নাইট্রোজেনে পাতার হলদে হওয়া, পটাশিয়ামে প্রান্তিক ক্লোরোসিস কিন্তু আলুর মধ্যে বিশেষভাবে ক্ষতিকর ও স্পর্শকাতর প্রভাব তৈরি করে বোরনের ঘাটতি।
গোলআলু:
- গোলআলু যা সাধারণত আলু নামেই পরিচিত।
- আলু'র বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum।
- গোলআলু বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি এবং অর্থকরী ফসল।
- এটি একটি কন্দ (tuber) যা গাছের রূপান্তরিত কান্ড থেকে উৎপন্ন হয়।
- বাংলাদেশের সর্বত্রই কম বেশি আলুর চাষ হয়।
- আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার।
- আলুতে কার্বোহাইড্রেট (স্টার্চ), প্রোটিন, ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, এবং কিছু মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন বি৬ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে।
- আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। আলু'র বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum। এতে একদিকে যেমনি ভাতের মতো শর্করা আছে তেমনি সবজির মতো খাবার আঁশ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে শর্করা আছে ১৯ গ্রাম, খাবার আঁশ ২.২ গ্রাম, উদ্ভিদ প্রোটিন ২ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫২ গ্রাম যার মধ্যে পটাশিয়াম লবণই ০.৪২ গ্রাম, এবং ভিটামিন ০.০২ গ্রাম।
- বেলে দোআঁশ থেকে দোআঁশ মাটি আলু চাষের জন্য উত্তম।
⇒ সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
- গোবর, অর্ধেক ইউরিয়া, টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও জিঙ্ক সালফেট (প্রয়োজন বোধে) রোপণের সময় জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে৷ বাকি ইউরিয়া রোপণের ৩০-৩৫ দিন পর অর্থাৎ দ্বিতীয় বার মাটি তোলার সময় প্রয়োগ করতে হবে৷ অম্লীয় বেলে মাটির জন্য ৮০-১০০ কেজি/হেক্টর ম্যাগনেসিয়াম সালফেট এবং বেলে মাটির জন্য বোরন ৮-১০ কেজি/হেক্টর প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়৷
আলুর নাইট্রোজেন সারের ঘাটতি
লক্ষণঃ
নাইট্রোজেন ঘাটতি হলে আলুর পুরাতন পাতার শিরার মধ্যবর্তী অংশ হলুদ হয়ে যায়। পাতা কিনারা থেকে শুকাতে শুরু করে আস্তে আস্তে কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয় ।
উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) ওয়েবসাইট।