বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৮০১৯০০ / ১,৩১৩

৮০১.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
  1. ঠান্ডা পানি
  2. খুব ভালো খরব
  3. এই দিনে
  4. কেমন গান?
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
নির্দিষ্টতাবাচক - এই দিনে।
ভাববাচক বিশেষণ - খুব ভালো খরব।
প্রশ্নবাচক বিশেষণ - কেমন গান?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮০২.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. ছাগল
  2. মানুষ
  3. ঝাঁক
  4. পর্বত
ব্যাখ্যা
• 'ঝাঁক' সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

------------------
• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
যথা:

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৮০৩.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. পাথুরে
  2. রোগা
  3. তারুণ্য
  4. নিশিত
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা: মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - রোগা, পাথুরে, এবং নিশিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮০৪.
'মারহাবা' কোন ধরনের অব্যয় শব্দ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) তৎসম
  3. গ) বিদেশি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না তাই অব্যয়। বাংলা ভাষায় ৩ প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে। যথা- ১. বাংলা অব্যয় শব্দ, ২. তৎসম অব্যয় শব্দ ও ৩. বিদেশি অব্যয় শব্দ। কিছু বিদেশি অব্যয় শব্দ হলো- আলবাত, বহুত, খুব, খাসা, মাইরি, মারহাবা, শাবাশ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০৫.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. লবণ
  2. আকাশ
  3. সাগর
  4. ঝাঁক
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮০৬.
'বিজ্ঞান' শব্দের বিশেষণ কোনটি?
  1. ক) বিজ্ঞানবিশারদ
  2. খ) বৈজ্ঞানিক
  3. গ) বিজ্ঞানী
  4. ঘ) বিজ্ঞানসমেত
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞান (বিশেষ্য) - বিশেষ জ্ঞান। 
বৈজ্ঞানিক (বিশেষণ) - বিজ্ঞান সম্বন্ধীয়।
বিজ্ঞানী (বিশেষ্য) - পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি এক বা একাধিক বিজ্ঞানশাস্ত্রে জ্ঞানী ব্যক্তি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮০৭.
‘মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!’ — এখানে ‘মরি মরি’ অব্যয়টি কোন ভাব প্রকাশ করছে?
  1. যন্ত্রণা
  2. উচ্ছ্বাস
  3. ঘৃণা
  4. সম্বোধন
ব্যাখ্যা

• "মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!" (এখানে ‘মরি মরি’ - অনন্বয়ী অব্যয়)।
-----------------
• অনন্বয়ী অব্যয়:

যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন -
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! (এখানে ‘মরি মরি’
- স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব।
- সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
- অনুমোদনবাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব।
- সমর্থনসূচক জবাবে: আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
- যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ! এ কষ্ট অসহ্য।
- ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি, তুমি এত নীচ! কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সম্বোধনে: 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।'
- সম্ভাবনায়: 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮০৮.
'যেমন-তেমন' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. সকলবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

• সকলবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮০৯.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. শায়িত
  2. শোয়ানো
  3. শয়ন
  4. শোয়াবসা
ব্যাখ্যা
শায়িত - বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- শয়ন করানো হয়েছে এমন।

অন্যদিকে,
- শোয়ানো - ক্রিয়া বিশেষ্য।
- শয়ন - বিশেষ্য পদ।
- শোয়াবসা - বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮১০.
নিচের কোন বাক্যে বিশেষ্য পদের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে?
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল
  2. খ) সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে
  3. গ) শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
  4. ঘ) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, মুক্তি মেলে নি
ব্যাখ্যা

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ বা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়।
যেমনঃ সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ রূপঃ সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

- অপশন ক) তে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে।
এর সঠিক রূপঃক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
- অপশন গ) তে হুল্যজনিত অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ শুধু এই কটা টাকা দিলে?
- অপশন ঘ) তে বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ যুক্তি খন্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮১১.
কোনটি উপসর্গটি নঞ্‌ অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নি
  2. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় "অ, আ, নি" — তিনটি উপসর্গই নঞ্‌ অর্থ (না-বোধক, নেই, নয়, অভাব) প্রকাশ করে।

 
১. অ-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- অজানা = না জানা;
- অচেনা = না চেনা;
- অসম্ভব = না সম্ভব;
- অনিচ্ছা = না ইচ্ছা।
 
২. আ-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- আকাল = না কাল (অসময়);
- আধোয়া = না ধোয়া (অর্ধ ধোয়া)।
 
৩. নি-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- নিখুঁত = না খুঁত (দোষহীন);
- নিরাপদ = না আপদ (বিপদমুক্ত)।


উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮১২.
যে সমস্ত শব্দ দ্বারা কোনো কর্ম বা গুণের নাম বোঝায় তাকে কোন পদ বলে?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ পদ
  4. বিশেষণের বিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা, কর্ম ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন,
নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
যথা - 
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১৩.
'চাল, চিনি, পানি' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) বস্তুবাচক
  2. খ) ভাববাচক
  3. গ) গুণবাচক
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা
যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যেমন- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৪.
‘তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।’ বাক্যে ‘তবু’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. উপসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৮১৫.
'সততা' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'সততা' শব্দটি বিশেষ্য পদ।

• 'সততা' শব্দের অর্থ:
- সাধুতা,
- ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮১৬.
‘ঝাঁক’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ঝাঁক’ সমষ্টি-বিশেষ্যের উদাহরণ।

------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১৭.
বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় শব্দ কোনটি?
  1. সহসা
  2. আবার
  3. আলবত
  4. আপাতত
ব্যাখ্যা
• অব্যয়:
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
যথা,
- ১. বাংলা ২. তৎসম ৩. বিদেশি।
বাংলা অব্যয় শব্দ : আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দ : যদি, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, পুনশ্চ, আপাতত, দৈবাৎ, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশি অব্যয় শব্দ : আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮১৮.
‘ওরা দস্যি ছেলের দল।’- বাক্যে ‘ওরা’ কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. অনির্দষ্ট সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘ওরা দস্যি ছেলের দল।’- বাক্যে ‘ওরা’ নির্দেশক সর্বনাম পদের উদাহরণ।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮১৯.
নিচের কোনটি বিশেষ্যপদ?
  1. প্রচুর
  2. গুরুত্ব
  3. লাজুক
  4. লাগাতার
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'গুরুত্ব'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- 'লাজুক' শব্দটি বিশেষণ।
- 'প্রচুর' শব্দটি বিশেষণ।
- 'লাগাতার' শব্দটি বিশেষণ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৮২০.
কোনটি সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম?
  1. স্বয়ং
  2. ইহারা
  3. যিনি
  4. সকল
ব্যাখ্যা
• সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম - যিনি। 

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮২১.
আরে! তুমি আবার কখন এলে?- বাক্যে ‘আরে’ কোন আবেগের উদাহরণ?
  1. সিদ্ধান্ত আবেগ
  2. সম্বোধন আবেগ
  3. অলংকার আবেগ
  4. বিস্ময় আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮২২.
'উৎকর্ণ' - শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. অব্যয়
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ণ' শব্দটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- শোনার জন্য কান খাড়া করে আছে এমন, শুনতে ব্যগ্র এমন।

উল্লেখ্য,
'উৎকর্ষ' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮২৩.
‘সাগর' কোন ধরনের বিশেষ্য পদের উদাহরণ?
  1. সমষ্টি-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮২৪.
গাছে টসটসে ফল দেখা যায়। বাক্যে টসটসে কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য পদ
  2. খ) বিশেষণ পদ
  3. গ) অব্যয় পদ
  4. ঘ) সর্বনাম পদ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ পদ
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষণ পদকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১. নাম বিশেষণ
২. ভাব বিশেষণ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।  
৮২৫.
নিম্নের কোনটি বাংলা ব্যাকরণের পদ নয়?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ।
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দ কে ৮ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়
যথা বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

৮২৬.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. নিজে
  2. আমরা
  3. ইহারা
  4. ইনি
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের। যথা:
→ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
→ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
→ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে , স্বয়ং।
• সামীপ্যবাচক সর্বনাম - ইহারা, ইনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮২৭.
ক্রমবাচক বিশেষণ ব্যবহার হয়েছে কোথায়?
  1. ক) হাজার লোক
  2. খ) সত্তর পৃষ্ঠা
  3. গ) ষোলো আনা দখল
  4. ঘ) শ টাকা
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক বিশেষণ - হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ক্রমবাচক বিশেষণ - দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
অংশ বাচক বিশেষণ - অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৮২৮.
নিচের কোন উদাহরণে ভাববাচক বিশেষণ রয়েছে?
  1. কতক্ষণ সময়
  2. আধা কেজি চাল
  3. লোকটা পাগল
  4. খুব ভালো খবর
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ - কতক্ষণ সময়।
- পরিমাণবাচক বিশেষণ - আধা কেজি চাল।
- বিধেয় বিশেষণ - লোকটা পাগল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১ ও ২০১৯)।
৮২৯.
'আমি' কোন পুরুষের উদাহরণ?
  1. প্রথম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. উত্তম পুরুষ
  4. নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে।
আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি।

• উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

• মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৩০.
নিচের কোনটি মানীপক্ষের সর্বনাম?
  1. ইনি
  2. সে
  3. তুমি
ব্যাখ্যা
• মানী সর্বনাম - ইনি। 

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:

- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
- সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে),
- মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
- ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, )।

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৩১.
'চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ো না' বাক্যটিতে 'চলন্ত' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. বর্ণবাচক
  3. ভাববাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন
সুন্দর ফুল,
বাজে কথা,

• বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

•  গুণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন : চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:  চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি - এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• প্রশ্নবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৮৩২.
নিচের কোনটি বস্তুবাচক বিশেষ্য? 
  1. টেবিল
  2. সাগর
  3. ধৈর্য
  4. বাহিনী
ব্যাখ্যা
• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সাগর-  জাতি-বিশেষ্য।
- ধৈর্য- গুণ-বিশেষ্য। 
- বাহিনী - সমষ্টি-বিশেষ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮৩৩.
'লবণ' শব্দের বিশেষ্য কোনটি?
  1. লবণাক্ত
  2. লবণ
  3. নোনতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) লবণ।

• "লবণ" শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য।
বিশেষ্য হল যে শব্দ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, ভাব ইত্যাদির নাম বোঝায়। "লবণ" শব্দটি একটি বস্তুর (নুন) নাম, তাই এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• লবণ (বিশেষ্য পদ),

- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নুন,
- সোডিয়াম ও ক্লোরিন পরমানুর রাসায়নিক বিক্রিয়াজাত কেলাসিত খনিজপদার্থ।
- সমুদ্রের জল শুকিয়ে প্রপ্ত লবণাক্ত সাদা যৌগবিশেষ।

অন্য বিকল্পগুলির ক্ষেত্রে:
"লবণাক্ত" হল বিশেষণ (যা লবণযুক্ত বা নোনতা)
"নোনতা" হল বিশেষণ (যা লবণযুক্ত স্বাদবিশিষ্ট)

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৩৪.
ঘটনাচক্রে তারা চোর সন্দেহে জেলে গেছে। এই বাক্যে ‘ঘটনাচক্রে’ কী?
  1. ক) বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) বাক্যের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়ার বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ঘটনাচক্রে তারা চোর সন্দেহে জেলে গেছে, দুর্ভাগ্যক্রমে দেশে অপশক্তির উত্থান ঘটেছে, বাস্তবিকই তোমাদের সামনে দেশরক্ষার কঠিন সংগ্রাম উপস্থিত। এই বাক্যগুলোতে দুর্ভাগ্যক্রমে, ঘটনাচক্রে, বাস্তবিকই বাক্যকে বিশেষায়িত করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮৩৫.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. প্রস্তুত
  2. চিরন্তন
  3. দুঃসাহসী
  4. অভিমুখিতা
ব্যাখ্যা



• বিশেষ্য পদ:

কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- অভিমুখিতা, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।

-------------------
• বিশেষণ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৮৩৬.
বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. চৌকশ
  2. চৌকস
  3. কী
  4. বালক
ব্যাখ্যা

• 'চৌকশ' হিন্দি ভাষার শব্দ। 
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- সব বিষয়ে অভিজ্ঞ।
- চতুর। 
- চারদিকে দৃষ্টি আছে এমন। 



• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ বাক্যে ব্যবহৃত শব্দকে বিশেষিত করে শব্দের অর্থকে বিশদ বা সীমিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশদ করে। যেমন-নীল আকাশ, ঠান্ডা হাওয়া, চৌকশ লোক, সাদা বাড়ি, সুন্দর বাগান, চটপটে ছেলে, ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন- চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, চটপটে ছেলে, ঠান্ডা হাওয়া।

অন্যদিকে,
• 'চৌকস' বানানটি অশুদ্ধ। 
• 'কী' অর্থ অনুসারে অব্যয়, সর্বনাম ও বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• 'বালক' শব্দটি অর্থের ভিত্তিতে বিশেষ্য অ বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৩৭.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।' - বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. কারণ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. সাধারণ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৩৮.
‘লাজ’ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• ‘লাজ’- বিশেষ্য পদ। 
-  ‘লাজ’ শব্দের অর্থ- লজ্জা, শরম। 
- 'লাজ' এর বিশেষণ পদ: 'লাজুক'।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৩৯.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. তুলো
  2. শুকনো
  3. জুতো
  4. মস্তক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - শুকনো
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- ভেজা নয় এমন,
- মলিন বা অসার।

অন্যদিকে,
- জুতো, তুলো এবং মস্তক - বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৪০.
'চালাক ছেলে' কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষণ
  4. গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।

যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষণ - খুব ভালো খরব। গাড়িটা বেশ জোরে চলছে। এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।
অবস্থাবাচক বিশেষণ - চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ - এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৪১.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. তারুণ্য
  2. তারল্য
  3. মধুরতা
  4. ভোজন
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), দেখা, শোনা।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা-মধুর মিষ্টত্বের গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ-তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ- তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৮৪২.
নিচের কোনটি ক্রিয়া বিশেষ্য?
  1. ভোজন
  2. গুরুত্ব
  3. আনন্দ
  4. সরলতা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮৪৩.
‘করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে’ — এখানে ‘ও’ কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প যোজক
  2. সাপেক্ষ যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম রহিম এ কাজটি করেছে।

অন্যদিকে,
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান। লাল বা নীল কলমটা আনো।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৪৪.
সাকুল্য অর্থে 'কি/কী' এর ব্যবহার ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
  2. খ) কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।
  3. গ) কী বিপদ, লােকটা যে পিছু ছাড়ে না।
  4. ঘ) তােমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন  অর্থে 'কি/কী' এর ব্যবহার- 

জিজ্ঞাসায় - তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
বিরক্তি প্রকাশে - কী বিপদ, লােকটা যে পিছু ছাড়ে না।
সাকুল্য অর্থে - কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে। 
বিড়ম্বনা প্রকাশে - তােমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৪৫.
নিচের কোনটি বিদেশি অব্যয় শব্দ?
  1. আবার
  2. যথা
  3. আলবত
  4. বরং
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
যথা- 
- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ।

১. বাংলা অব্যয় শব্দ গুলো হলো: আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
২. তৎসম অব্যয় শব্দ গুলো হলো: যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।
৩. বিদেশি অব্যয় শব্দ গুলো হলো: আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৪৬.
‘ভোজন’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৮৪৭.
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো কাজের নাম বোঝায়, তাকে কী বলে?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮৪৮.
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’- বাক্যে ‘টাপুর টুপুর’ কোন ধরনের দ্বিরুক্তি পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি শব্দ-
১.ভাবের গভীরতা বোঝাতে : ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিট মিট।
৫. ধ্বনি ব্যঞ্জনা : বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।

৮৪৯.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. যেমন-তেমন
  2. চলন্ত, কতক্ষণ
  3. অবধি, বাইরে
  4. তবু, অথবা
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দারুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
যেমন-তেমন সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।
চলন্ত, কতক্ষণ বিশেষণের উদাহরণ।
তবু, অথবা যোজক পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৮৫০.
কর্তা নিজেই কাজ করছে এই ভাবকে জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য কোন সর্বনাম ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সাপেক্ষ
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) আত্নবাচক
  4. ঘ) সকলবাচক
ব্যাখ্যা
কর্তা নিজেই কাজ করছে এই ভাবকে জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য আত্নবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের
সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন – নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি। 

সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বােঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন - সবাই,সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত সব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৫১.
'এক' এর বিশেষ্যরূপ কোনটি?
  1. ক) একাধিক
  2. খ) বহু
  3. গ) একতা
  4. ঘ) একক
ব্যাখ্যা
'এক' এর বিশেষ্যরূপ 'একতা'

একতা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = এক+তা 
অর্থ:
- ঐক্য, অভিন্নতা, অভেদত্ব, একত্ব;
- একভাব;
- মিলন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮৫২.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. হিমালয়
  2. পদ্মা
  3. নদী
  4. আকাশ
ব্যাখ্যা
• 'নদী' জাতি-বিশেষ্য এর উদাহরণ।
• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

 অন্যদিকে,
- 'পদ্মা' ও 'হিমালয়' নাম-বিশেষ্য।
- 'আকাশ' বস্তু-বিশেষ্য।
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৫৩.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চৌকশ 
  2. তাজা 
  3. তারুণ্য
  4. রোগা 
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যে পদ:
কোনো ব্যক্তি, স্থান, দ্রব্যসামগ্রী, গুণ বা অবস্থার নাম বিশেষ্য শব্দশ্রেণির মধ্যে পড়ে। যেমন: নজরুল, ঢাকা, চট্টগ্রাম, দয়া, হাসি। এছাড়া যাতে -র/-এর বা -গুলি/-গুলো বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং যা কর্তা/উদ্দেশ্য বা কর্ম হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে তা-ই বিশেষ্য। বাংলায় সংস্কৃত শব্দঋণ ও তদ্ভব অংশে কেবল বিশেষ্য শব্দেরই শ্রীলিঙ্গ রূপ পাওয়া যায়।

বিশেষ্যের উদাহরণ:
• নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, অগ্নিবীণা– এই উদাহরণগুলো সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
• মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী—এই উদাহরণগুলো জাতিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• বই, খাতা, কলম, লোহা, জল, চিনি—এই উদাহরণগুলো দ্রব্যবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• সভা, সমিতি, জনতা, মাহফিল, দল, পাল—এই উদাহরণগুলো সমষ্টিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• গমন, দর্শন, ভোজন— এই উদাহরণগুলো ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বা অবস্থাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
তারুণ্য, সৌন্দর্য, বীরত্ব, যৌবন, দুঃখ, সুখ—এই উদাহরণগুলো গুণবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, 
চৌকশ, তাজা ও রোগা বিশেষণ পদ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৮৫৪.
'সলিম সাহেবের তৃতীয় প্রজন্ম এখন ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছে।' বাক্যে 'তৃতীয়' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পূরণবাচক
  3. নির্দিষ্টতাবাচক
  4. পরিমাণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• ক্রমবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।
• পরিমাণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।
• নির্দিষ্টতাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৫৫.
আত্মবাচক সর্বনাম কোনটি? 
  1. নিজে 
  2. আমি 
  3. আমাদের
  4. সবাই
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আমাদের', 'আমি' ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম।
- 'সবাই'  সকলবাচক সর্বনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮৫৬.
"ওই, ওরা" - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. অনির্দষ্ট সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৫৭.
কোনটি বাতিহারিক সর্বনাম?
  1. ক) যার-তার
  2. খ) আমি-তুমি
  3. গ) নিজে-নিজে
  4. ঘ) এরা-ওরা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকেঃ

১. ব্যাক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক - স্বয়ং, খোদ, নিজে, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব ইত্যাদি।
৫. সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার ইত্যাদি।
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই

৮৫৮.
'প্রচুর' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. প্রাচুর্য্য
  2. প্রাচুর্য
  3. প্রাচুর্যতা
  4. প্রচুর
ব্যাখ্যা

• 'প্রচুর' এর বিশেষ্য রূপ- প্রাচুর্য।

প্রচুর (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+√ চুর্‌ + অ। 
অর্থ: ঢের, পর্যাপ্ত।

প্রাচুর্য (বিশেষ্য): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর + য। 
অর্থ:
- আধিক্য।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮৫৯.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) মধুর
  2. খ) দেখা
  3. গ) যৌবন
  4. ঘ) সুখ
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য পদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- গমন, দর্শন, ভোজন, দেখা, শোনা, শয়ন ইত্যাদি। যে বিশেষ দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায় তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যেমন- মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, সৌরভ, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬০.
’আপনি’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. মানী সর্বনাম
  2. সাধারণ সর্বনাম
  3. ঘনিষ্ট সর্বনাম
  4. তুচ্ছ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনামগুলো মর্যাদার ভিত্তিতে আবার তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলো হলো:
- সাধারণ সর্বনাম (যেমন: তুমি, সে),
- মানী সর্বনাম (যেমন: আপনি, তিনি, ইনি, উনি)।
- ঘনিষ্ট সর্বনাম (যেমন: তুই, এ, ও)।

উল্লেখ্য,
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- এ ধরনের সর্বনাম হলো এমন এক ধরনের সর্বনাম, যা কোনো ব্যক্তি নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৮৬১.
'ইচ্ছা' বিশেষ্যের বিশেষণ নির্দেশ করুন-
  1. ইচ্ছাময়
  2. ঐচ্ছিক
  3. ইচ্ছুক
  4. অনিচ্ছা
ব্যাখ্যা
• ইচ্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অভিলাষ; স্পৃহা; বাসনা।
- রুচি; প্রবৃত্তি (খাওয়ার ইচ্ছা নাই)।
- অভিপ্রায় (খোদার ইচ্ছায় সব হয়)।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছুক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অভিলাষী;
- বাসনাযুক্ত
- রাজি;
- সম্মত।

• ঐচ্ছিক ( বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

- ঐচ্ছিক এবং ইচ্ছুক দুটিই বিশেষণ পদ।
- কিন্তু এখানে ইচ্ছা- কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করছে। তাই এর বিশেষণ হিসেবেও এমন শব্দ চয়ন করা উচিত যেটা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ না করে একটি বিমূর্ত ধারণাকে প্রকাশ করবে।

• ইচ্ছুক - সাধারণত ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
• ঐচ্ছিক - বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করে।

সুতরাং, ‘ইচ্ছা’ শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিশেষণর পদ হচ্ছে- ঐচ্ছিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৬২.
বিদেশি অব্যয়ের উদাহরণ হল-
  1. ক) ইদানিং
  2. খ) বেশ
  3. গ) যদি
  4. ঘ) অপিচ
ব্যাখ্যা

- 'বেশ' একটি ফারসি (বিদেশি) শব্দ ৷ বাক্যে এটি বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়৷
- এটি অনুমোদনবাচক অব্যয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়৷ যেমন- আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব৷

- 'ইদানীং', 'যদি', 'অপিচ' হলো সংস্কৃত অব্যয়৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৮৬৩.
কোন শব্দটি বিশেষণ?
  1. সান্ধ্য
  2. বিধি
  3. দীন
  4. নিসর্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'সান্ধ্য' শব্দটি বিশেষণ।
- অর্থ: সন্ধ্যা সম্পর্কিত, সন্ধ্যাকালীন।
- 'সান্ধ্য' শব্দটির বিশেষ্য 'সন্ধ্যা'।

অন্যদিকে,
- 'বিধি' শব্দটি বিশেষ্য।
- 'দীন' শব্দটি বিশেষ্য।
- 'নিসর্গ' শব্দটি বিশেষ্য।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮৬৪.
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে কী বলে?
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. নির্দেশক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৬৫.
'প্রস্তুত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'প্রস্তুত' - বিশেষণ পদ।
-----------
• 'প্রস্তুত' শব্দের অর্থ:
- নির্মিত, তৈরি, সম্পাদিত।
- উদ্যোগ বা আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৮৬৬.
"মধুরতা" - কোন ধরনের শব্দ?
  1. গুণ বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষ্য 
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• গুণবাচক বিশেষ্য: 
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৭.
‘করানো’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৬৮.
'মরি মরি!' - কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. অনন্বয়ী
  3. পদান্বয়ী
  4. সমুচ্চয়ী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।

সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৬৯.
কোনটি জাতি  বিশেষ্য?
  1. পদ্মা
  2. ফুল
  3. হিমালয়
  4. গীতাঞ্জলি
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য: 
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - পদ্মা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮৭০.
‘আমরা নির্ভয়ে গুহায় ঢুকলাম।’- বাক্যে ‘নির্ভয়ে’ কোন পদ?
  1. আবেগ
  2. ক্রিয়া
  3. যোজক
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে। ক্রিয়াবিশেষণ বাক্যের ক্রিয়াকে বিশেষিত করে। এটি ক্রিয়ার গুণ, প্রকৃতি , বৈশিষ্ট্য ও অর্থ প্রকাশক শব্দ হিসেবে কাজ করে এবং ক্রিয়া সময়, স্থান, প্রকার, উৎস, তীব্রতা, উপকরণ ইত্যাদি প্রকৃতিগত অবস্থার অর্থগত ধারণা দেয়।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনো ক্রিয়া কীভাবে বা কেমনভাবে সংঘটিত হলো তা বোঝায়।
যেমন:
- আমরা নির্ভয়ে গুহায় ঢুকলাম।
- সে দ্রুত দৌড়াতে পারে।
- কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৭১.
গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. দর্শন
  2. দুঃখ
  3. সৌরভ
  4. স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দর্শন - ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭২.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. জীবন্ত
  2. অজ্ঞাত
  3. জীবাণু
  4. আনন্দময়
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - জীবাণু।

শব্দের অর্থ:
- অণুবীক্ষণে দৃ্শ্য অতিসূক্ষ্ম প্রাণী বা উদ্ভিদ; প্রাণবিশিষ্ট অতি ক্ষুদ্র কণা।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, জীবন্ত, আনন্দময়।

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮৭৩.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. ক) সমিতি
  2. খ) গমন
  3. গ) সৌরভ
  4. ঘ) মধুরতা
ব্যাখ্যা
'গমন'- ভাববাচক বিশেষ্য। 
ভাববাচক বিশেষ্য: 

বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্যঃ কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্যঃ এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্যঃ গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৮৭৪.
নিচের কোন বাক্যে গুণবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বেলে মাটি
  2. তরল দুধ
  3. চালাক লোক
  4. সবুজ পাতা
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
উপাদানবাচক বিশেষণ : বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি, ইত্যাদি।

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, সবুজ পাতা, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- চলন্ত ট্রেন, তরল দুধ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৭৫.
'যেমন কর্ম তেমন ফল।'- বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিত্য সম্বন্ধীয়
  2. খ) অনুকার
  3. গ) বাক্যালঙ্কার
  4. ঘ) অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত। যেমন- যথা-তথা, যত-তত, যখন-তখন, যেমন-তেমন ইত্যাদি। উদাহরণ- যেমন কর্ম তেমন ফল, যথা ধর্ম তথা জয়, যত গর্জে তত বর্ষে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৬.
"ফুল" - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮৭৭.
বিশেষণ বর্গের উদাহরণ কোনটি?
  1.  অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  2. আমার ভাই পড়তে বসেছে।
  3. পোকায় খাঁওয়া কাঠ দিয়ে ভালো আসবাব হয় না।
  4. সে লিখছে আর হাসছে।
ব্যাখ্যা

বিশেষণবর্গ
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।

যেমন:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর
- ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ
- পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে আসবাব বানানো ঠিক নয়।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াবর্গ:
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গতৈরি করে।
যেমন:
- সে লিখছে আর হাসছে

বিশেষ্যবর্গ:
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন 
- আমার ভাই পড়তে বসেছে।
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮৭৮.
"আ মরি বাংলা ভাষা”- এ চরণে 'আ' দ্বারা কী প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আগ্রাবাদ
  2. আবেগ
  3. আনন্দ
  4. আনুগত্য
ব্যাখ্যা
'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এ চরণে 'আ' দ্বারা আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।

• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এটি অতুলপ্রসাদ সেন রচিত জনপ্রিয় দেশাত্ববোধক গান।
- তাঁর এই গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- অনেক আন্দোলন, ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত আমাদের মাতৃভাষা 'বাংলা', যার মাধ্যমে আমরা আবেগ, ভালোবাসা ইত্যাদি প্রকাশ করে আনন্দ পাই, এই ভাবই এই গানে প্রকাশ পেয়েছে।

তাছাড়া, 'আ' (অব্যয়) বিভিন্ন বাক্যে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়:

• আনন্দ প্রকাশে-  আ মরি বাংলা ভাষা!
• সুখবোধে - আ কি আরাম!
• বিদ্রূপে - আ মরণ আর কী!
• প্রশংসায় - আ মরি! আ মরি! কী শোভা!
• স্বস্তিতে - আ! বাঁচা গেল
• স্মরণে - আ, তাই বটে!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭৯.
'সে নিজে অঙ্কটা করেছে।' - বাক্যে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৮০.
"যৌবন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়।"- এ বাক্যে ‘যৌবন’ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা

• "যৌবন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়।"- এ বাক্যে ‘যৌবন’ শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এখানে 'যৌবন' হলো গুণবাচক বিশেষ্য।
--------------

• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য।
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮৮১.
কোনটি বিশেষণ পদ না?
  1. ক) দুঃসাহসী
  2. খ) অভিযাত্রী
  3. গ) চিরন্তন
  4. ঘ) প্রস্তুত
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ - অভিযাত্রী, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।
বিশেষণ পদ - দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৮৮২.
নিচের কোনটি 'বিশেষ্য' পদ?
  1. উজ্জ্বল
  2. সুন্দর
  3. পীড়িত
  4. সুপথ
ব্যাখ্যা
• 'সুপথ':
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- উত্তম পথ; সদুপায়।

অন্যদিকে,
• 'উজ্জ্বল':
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- আলোকিত, দীপ্তিমান, উদ্ভাসিত ইত্যাদি।

• 'সুন্দর':
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- সুশ্রী;, সুদর্শন।

• 'পীড়িত':
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- রোগগ্রস্থ, ,অসুস্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৮৩.
বাক্যে বিশেষ্যের পরিবর্তে কোনটি ব্যবহার করা যায়?
  1. ক্রিয়া
  2. অনুসর্গ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
- দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
- সর্বনাম মোট নয় প্রকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৮৪.
কোন পদ বাক্যের শোভা বর্ধন করে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোন বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, এর কোন একবচন-বহুবচন হয় না।
- এই শব্দসমূহের কোন পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক শব্দ নির্ণয় করা যায় না।

• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৮৫.
কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, তা বোঝাতে কোন সর্বনাম হয়?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. সামীপ্যবাচক
  3. আত্মবাচক
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝাতে আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 
নিজে (সে নিজে অঙ্কটি করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
-------------- 
নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
- দূর নির্দেশক:  ও, ওই, ওরা, উনি।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৮৬.
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে ___ সর্বনাম বলে।
  1. আত্মবাচক
  2. অনির্দিষ্ট
  3. সাপেক্ষ
  4. নির্দেশক
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
 
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮৮৭.
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে কী বলে?
  1. বিশেষণ
  2. ভাব বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
- ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার।

যথা:
১. ক্রিয়া বিশেষণ,
২. বিশেষণের বিশেষণ,
৩. অব্যয়ের বিশেষণ ও
৪. বাক্যের বিশেষণ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৮৮.
সাপেক্ষ সর্বনাম কোনটি?
  1. অন্য
  2. ইহারা
  3. পরস্পর
  4. যারা-তারা
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অন্য' অন্যবাচক সর্বনাম।
- 'ইহারা' সামীপ্যবাচক সর্বনাম।
- 'পরস্পর' পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৮৯.
কোন বাক্যে উপাদানবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. চালাক ছাত্র
  2. সবুজ মাঠ
  3. ঠাণ্ডা পানি
  4. বেলে মাটি
ব্যাখ্যা

• উপাদানবাচক বিশেষণ: 
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন,
- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: 
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ছেলেটি চালাক/ চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
এভাবেই,  'নিপুণ কারিগর' এ কারিগর এর গুণ 'নিপুণ' এর মাধ্যমে গুণবাচক বিশেষণ প্রকাশ পেয়েছে। 

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• রূপবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৮৯০.
কোনটি সংকোচক অব্যয়?
  1. তাই
  2. অথচ
  3. নতুবা
  4. কিংবা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৯১.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. মানুষ
  2. মাহফিল
  3. ইংরেজ
  4. থালা
ব্যাখ্যা

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ
বস্তুবাচক বিশেষ্য - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৯২.
'কেমন গান?'— এখানে 'কেমন' কী ধরনের বিশেষণ?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. গুণবাচক
  3. নির্দিষ্টতাবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৮৯৩.
'আমি আজ আলবত যাব।' - বাক্যে 'আলবত' কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

কয়েকটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৮৯৪.
চলন্ত ট্রেন থেকে নামবে না। বাক্যে 'চলন্ত' কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়াজাত বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণজাত বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
- চলে ক্রিয়াপদ থেকে 'চলন্ত' শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি কৃদন্ত পদ এবং এটি ক্রিয়াজাত বিশেষণ।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৮৯৫.
‘বাহিনী’ কোন পদের উদাহরণ
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• ‘বাহিনী’ সমষ্টি-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৯৬.
"আজ বাজারে গিয়ে তাজা মাছ কিনলাম।" - এখানে 'তাজা' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. অংশবাচক বিশেষণ
  4. রূপবাচক বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• "আজ বাজারে গিয়ে তাজা মাছ কিনলাম।" - এখানে 'তাজা' অবস্থাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮৯৭.
নিচের কোনগুলো ব্যতিহারিক সর্বনাম পদ?
  1. ক) স্বয়ং, খোদ, আপনি
  2. খ) এ, ইহারা, ইনি
  3. গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
  4. ঘ) সব, সকল, তাবৎ
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে - স্বয়ং, খোদ,
আপনি- আত্মবাচক সর্বনাম
এ, ইহারা, ইনি - সমীপ্যবাচক সর্বনাম
নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর - ব্যতিহারিক সর্বনাম এবং
সব, সকল, তাবৎ - সাকুল্যবাচক সর্বনাম পদ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৮.
'দুঃসাহসী' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দুঃসাহসী (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
- উচ্চারণ- দুশ্‌শাহোশি।
অর্থ  
অত্যধিক সাহসী, নির্ভীক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৮৯৯.
'ধৈর্য' কোন ধরনের বিশেষ্যে বাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) বস্তু বিশেষ্য
  2. খ) গুণ-বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ গুণ-বিশেষ্য : গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।


⇒ বস্তু বিশেষ্য: কোনাে দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বন্ধু বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

⇒ ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনাে ক্রিয়া বা কাজের নাম বােঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন – পঠন, ভেজিন, শয়ন, করা, করানাে, পাঠানাে, নেওয়া ইত্যাদি।

⇒ নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা। কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান। সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯০০.
কোনটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) সমিতি
  2. খ) বীরত্ব
  3. গ) সৌরব
  4. ঘ) বিশ্বনবি
ব্যাখ্যা

সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য : যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে।
যথা:
ক. ব্যক্তির নাম : নজরুল, রহিম, সানিয়া।
খ. ভৌগোলিক স্থানের : ঢাকা, মক্কা, দিল্লি।
গ. ভৌগোলিক সংজ্ঞা : (নদী, সমুদ্র, পর্বত ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর।
ঘ. গ্রন্থের নাম : অগ্নিবীণা, গীতাঞ্জলি, বিশ্বনবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।