বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৫০১৬০০ / ১,৩১৩

৫০১.
"খাসমহল" শব্দের মধ্যে 'খাস' এবং 'মহল' যথাক্রমে- 
  1. বিশেষ্য; বিশেষণ
  2. বিশেষণ; বিশেষণ
  3. বিশেষণ; বিশেষ্য
  4. বিশেষ্য; বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিশেষণ; বিশেষ্য।

--------------
ব্যাখ্যা:
"খাসমহল" = খাস + মহল।

বিশ্লেষণ:
১. খাস = বিশেষণ পদ।

অর্থ: বিশেষ, নিজস্ব, রাজকীয়।
এটি 'মহল' শব্দটিকে বিশেষিত করছে।

কোন ধরনের মহল? → খাস মহল (বিশেষ মহল)।

২. মহল = বিশেষ্য।

অর্থ: প্রাসাদ, অট্টালিকা, বাসগৃহ।
এটি একটি স্থান/বস্তুর নাম।

এমন আরো কিছু শব্দ:
লালবাগ = লাল (বিশেষণ) + বাগ (বিশেষ্য)
নীলনকশা = নীল (বিশেষণ) + নকশা (বিশেষ্য)
খাসকামরা = খাস (বিশেষণ) + কামরা (বিশেষ্য)

​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫০২.
অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ পায় কোন ধরনের আবেগ - এর মাধ্যমে?
  1. ক) আতঙ্ক আবেগ
  2. খ) অলংকার আবেগ
  3. গ) সিদ্ধান্ত আবেগ
  4. ঘ) প্রশংসা আবেগ
ব্যাখ্যা

মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
১. সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

২. প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

৩. বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

৪. আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

৫. বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

৬. করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

৭. সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

৮. অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০৩.
নিচের কোনটি অব্যয়ের ধরন নয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী
  2. খ) অনন্বয়ী
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) অনুকার
ব্যাখ্যা
অব্যয় প্রধানত চার প্রকার। যথা - সমুচ্চয়ী, অনন্বয়ী, অনুসর্গ, অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫০৪.
নিচের কোন বাক্যে বিশেষণ এর বিশেষণ রয়েছে?
  1. এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত
  2. ধীরে চল
  3. একটু দুধ খাও
  4. পরে একবার এসো
ব্যাখ্যা
- যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
- সামান্য একটু দুধ দাও (সামান্য)।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত (অতিশয়)।
- রকেট অতি দ্রুত চলে (অতি) ইত্যাদি শব্দগুলো বিশেষণীয় বিশেষণ।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৫.
গুণবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. জনতা
  2. সৌরভ
  3. ফরাসি
  4. মাটি
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য: 
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘জনতা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- ‘ফরাসি’ জাতিবাচক বিশেষ্য।
- ‘মাটি’ - বস্তুবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৬.
"শন শন" - কোন প্রকার অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
স্রোতের ধ্বনি – কল কল। 
বাতাসের গতি – শন শন
শুষ্ক পাতার শব্দ – মর মর। 
নূপুরের আওয়াজ – রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৭.
'উৎকর্ষ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ষ' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- উৎকৃষ্টতা, শ্রেষ্ঠত্ব,
- উন্নতি, বৃদ্ধি; আধিক্য।

উল্লেখ্য,
উৎকর্ণ - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫০৮.
'হাসেম কিংবা কাসেম এই কাজের জন্য দায়ী।' বাক্যে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চায়ী
  2. অনন্বয়ী
  3. পদান্বয়ী
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'হাসেম কিংবা কাসেম এই কাজের জন্য দায়ী।' বাক্যে 'কিংবা' সমুচ্চায়ী অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
- সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।

• সংযোজক অব্যয়:
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে 'ও' সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে 'তাই' সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।
- আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। 'কিন্তু' অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে 'অথচ' সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৯.
কোন শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না?
  1. বিশেষণ 
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।

- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১০.
'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি।' - বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি 'বিশেষণ' পদ।

বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।

যেমন
- সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

তেমনি,
- নিশীত রাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

৫১১.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. জানুয়ারি
  2. সাগর
  3. ইত্তেফাক
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

৫১২.
'স্বাস্থ্য' কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. গুণবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. ভাববাচক
  4. বস্তুবাচক
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৩.
"বীণার ঝঙ্কারসম যে প্রীতি ধ্বনিত হয় নিতি।" - এখানে 'প্রীতি' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয় 
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• "বীণার ঝঙ্কারসম যে প্রীতি ধ্বনিত হয় নিতি" - এই বাক্যে 'প্রীতি' একটি বিশেষ্য পদ।

তবে, 
"প্রীতিময় মুখ" - এখানে 'প্রীতিময়' বিশেষণ।
------------
এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ:
- গাম্ভীর্য হলো বিশেষ্য পদ। 
- গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।
- 'ইচ্ছা' শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- জাত ও উদ্ধত - বিশেষণ পদ। 
- গৈরিক - বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫১৪.
কেবলমাত্র ____ ও _____ পদের বচনভেদ হয়। শুণ্যস্থান গুলোতে কী কী বসবে?
  1. ক) বিশেষ্য, বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ, সর্বনাম
  3. গ) বিশেষ্য, সর্বনাম
  4. ঘ) সর্বনাম, ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।

কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোন কোন সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে করে বিশেষ্যের একবচক নির্দেশ করা হয়।
যেমনঃ গরুটা, বাছুরটা, কলমটা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৫.
"থালা, বাটি, মাটি" - কোন প্রকারের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টিবাচক 
  2. বস্তুবাচক
  3. গুণবাচক 
  4. জাতিবাচক 
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
বেলে মাটি: এখানে "মাটি" একটি বস্তুবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক পদার্থ (মাটি) কে নির্দেশ করছে। "বেলে" হলো বিশেষণ, যা মাটির ধরন বর্ণনা করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৬.
'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫১৭.
'জনতা' - শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• 'জনতা' (বিশেষ্য পদ):
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সাধারণ মানুষ,
- জনসাধারণ।
- অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।

--------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৮.
'আকাশ' শব্দটি কোন ধরণের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য: 
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। 

♣ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: 
১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। 
- যেমন: হাবিব, সজল, বাংলাদেশ, পদ্মা, বৈশাখ ইত্যাদি।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 
- যেমন: ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।   

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।  
- যেমন: জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।  

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। 
- যেমন: সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।   

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যেমন: ক্রিয়া বা কাজের নাম বুঝায়। পঠন, ভোজন,শয়ন, করা ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫১৯.
'হঠাৎ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• হঠাৎ, 
- হিন্দি ভাষার শব্দ।  
- অর্থ অনুসারে অব্যয় ও ক্রিয়াবিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
অর্থ:
- সহসা,
- অকস্মাৎ।

• অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন:
হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২০.
'রুম ঝুম' কোন ধরনের অব্যয়? 
  1. সম্মুচ্চয়ী
  2. অনুকার
  3. অনন্বয়ী
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা

অনুকার অব্যয়:
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যথা:
বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম।
স্রোতের ধ্বনি- কল কল।
বাতাসের গতি- শন শন।
শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর।
নূপুরের আওয়াজ- রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৫২১.
কোনটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ?
  1.  চলন্ত ট্রেনে উঠা বারণ।
  2. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  3. সবুজ মাঠে বাচ্চারা খেলছে।
  4. নীল আকাশের নিচে বসে আছি।
ব্যাখ্যা

 ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

অন্যদিকে,
রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
অবস্থাবাচক বিশেষণ: চলন্ত ট্রেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫২২.
কোন কোন পদের পুরুষ আছে?
  1. ক) বিশেষ্য, সর্বনাম ও অব্যয়
  2. খ) বিশেষ্য, বিশেষণ ও অব্যয়
  3. গ) বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

'পুরুষ' একটী পারিভাষিক শব্দ।
- বাংলা ব্যাকরণে কেবলমাত্র বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেরই পুরুষ আছে।
- বিশেষণ ও অব্যয়ের কোন পুরুষ নাই।

পুরুষ তিন প্রকার।যথা-
উত্তম পুরুষ - আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি
মধ্যম পুরুষ - তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনি, আপনারা ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ - সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি নাম পুরুষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

৫২৩.
’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা

’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ:

⇒ যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন : সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ। 

⇒ বিশেষণ এর বিভিন্ন প্রকার:
১. বর্ণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ। -
২. গুণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ। -
৩. অবস্থাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
৪. ক্রমবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।
৫. পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।
৬. পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন - আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।
৭. উপাদানবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন-বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৫২৪.
"সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে” বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৫.
জাতিবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. পর্বত
  2. মাটি
  3. পানি
  4. খাতা
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৫২৬.
'দুবলারচর বঙ্গোপসাগরের একটি চর।' - বাক্যে 'বঙ্গোপসাগর' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'দুবলারচর বঙ্গোপসাগরের একটি চর।' - বাক্যে 'বঙ্গোপসাগর' নাম-বিশেষ্যের উদাহরণ। 

নাম-বিশেষ্য:

- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা, বঙ্গোপসাগর
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫২৭.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. বুনো
  2. লাজ
  3. লজ্জাকর
  4. লাজুক
ব্যাখ্যা
• 'লাজ' শব্দটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।

অন্যদিকে,
- 'লাজুক' বিশেষণ পদ।
- 'লজ্জাকর' বিশেষণ পদ।
- 'বুনো' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫২৮.
“সেতার” এর সে কোন অর্থ দ্যোতনা করে?
  1. ক) তার
  2. খ) অনেক
  3. গ) প্রত্যেক
  4. ঘ) সকল
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- সেতার উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে ব্যবহূত বাদ্যযন্ত্রগুলির মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। আমির খসরু এর উদ্ভাবক।
- সেতার ত্রিতন্ত্রী বীণার উন্নত সংস্করণ। পারস্য ভাষায় ‘সে’ মানে ‘তিন’; তিনটি তারের সমন্বয়ে তৈরি বলে আমির খসরু এর নামকরণ করেন সেতার। প্রাচীনকালে সেতার তিনটি তার সহযোগে বাজানো হতো, কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর রূপ পাল্টাতে থাকে।
- বর্তমান সেতারে তিনটির পরিবর্তে আঠারোটি পর্যন্ত তার ব্যবহার করা হয়।
তাই এটি 'অনেক' অর্থের দ্যাতনা করছে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫২৯.
'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি।' - বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

 'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি 'বিশেষণ' পদ।

বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।

যেমন
- সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

তেমনি,
- নিশীত রাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

৫৩০.
'চৌকস লোক' বাক্যে 'চৌকস' শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. রূপবাচক
  4. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৩১.
নিচের কোনগুলি সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) আকাশ, বই
  2. খ) নদী, ছাগল
  3. গ) আনন্দ, দীনতা
  4. ঘ) মিছিল, পরিবার
ব্যাখ্যা
‘নদী, ছাগল’ সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ ।

সাধারণ-বিশেষ্য:

জাতি বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

- আকাশ, বই বস্তু-বিশেষ্য এর উদাহরণ ।
- আনন্দ, দীনতা গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ ।
- মিছিল, পরিবার সমষ্টি - বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
৫৩২.
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে কী বলে?
  1. ভাববাচক বিশেষ্য
  2. বস্তুবাচক বিশেষ্য
  3. জাতিবাচক বিশেষ্য
  4. সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
পদ:
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দই অপর কোনো বর্ণ বা বর্ণসমষ্টির সাথে যুক্ত হয়ে রূপান্তর লাভ করে পদে।
- শব্দের সাথে এরূপ বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যোগ হলে এগুলোকে বলা হয় বিভক্তি। 
- বিভক্তিযুক্ত শব্দই পদ। 
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ (Parts of speech)।
- সহজভাবে বলা যায়, বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে। 

পদের প্রকারভেদ:
- পদ প্রধানত দুই প্রকার: অব্যয় ও সব্যয়।
- সব্যয় পদ চার প্রকার : ১. বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া।
- সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। 

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে।
- বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। 
- বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-

১. সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য (Proper Noun):
যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য বলে। যেমন-
• ব্যক্তির নাম: সারা, কনিকা, শিলা, মাসুদ, দেলোয়ার প্রভৃতি।
• ভৌগোলিক অস্থানের নাম: কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডন প্ৰভৃতি। 
• ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি): করতোয়া, মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর প্রভৃতি। 
• গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নি-বীণা, গীতাঞ্জলি, পথের দাবী, সঞ্চিতা, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী প্রভৃতি।

২. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun):
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ প্রভৃতি। 

৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য (Material Noun):
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা— বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, পানি, লবণ প্রভৃতি। 

৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun):
- যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা–ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা— সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

৫. ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun):
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন।
তদ্রুপ : ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি। 
আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর ‘আই’ প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। √ চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

৬. গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun):
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। তদ্রুপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৩.
"আজ বাজারে গিয়ে তাজা সবজি কিনলাম।" এখানে তাজা কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. রূপবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. পরিমাণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• "আজ বাজারে গিয়ে তাজা সবজি কিনলাম।" - এখানে 'তাজা' অবস্থাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৩৪.
দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে - ‘দুর্ভাগ্যক্রমে’ কোন প্রকারের বিশেষণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়ের বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বাক্যের বিশেষণ : কখনো কখনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে। যেমন : দুভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অব্যয়ের বিশেষণ : যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন: ধিক্ তারে,শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৫.
"মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এ বাক্যে কী ধরনের অব্যয় রয়েছে?
  1. অনুকার
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনুসর্গ
  4. অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

বাক্যে ব্যবহার: 
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

অন্যদিকে,
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
- সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যেমন:
- 'লেখাপড়া কর নতুবা ফেল করবে' বাক্যের ‘নতুবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।

• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৬.
সমুচ্চয়ী অব্যয় কত প্রকার?
  1. ক) তিন
  2. খ) পাঁচ
  3. গ) দুই
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা

সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

সংযোজক অব্যয় :
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয় :
ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।
খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।
সংকোচক অব্যয় : তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৭.
”বেলে মাটি”-বাক্যটিতে 'বেলে' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. বর্ণবাচক
  2. উপাদানবাচক 
  3. গুণবাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা

• উপাদানবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি
- এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
 • বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। 
যেমন
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৫৩৮.
কোন পদ সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়?
  1. অব্যয় পদ
  2. সর্বনাম পদ
  3. ক্রিয়াপদ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ:
অব্যয় শব্দের অর্থ “ন ব্যয়,” অর্থাৎ যার কোনো ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না। অব্যয় পদ হচ্ছে সেই শব্দসমূহ, যেগুলো বাক্যে অপরিবর্তনীয় থেকে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।

অব্যয়ের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
• অব্যয় পদগুলো অপরিবর্তনীয়, অর্থাৎ এই শব্দগুলোর কোনো রূপান্তর ঘটে না।
• এসব শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না এবং এর একবচন বা বহুবচন নেই।
• অব্যয় পদে কোনো পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক পার্থক্য থাকে না।
• অব্যয় শব্দ সাধু ও চলিত উভয় রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়।
• অব্যয় পদ বাক্যে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে। কখনো বাক্যের শোভা বৃদ্ধি করে, আবার কখনো বাক্যের বিভিন্ন অংশের সংযোগ বা বিয়োগ ঘটায়।

উদাহরণ:
-  “তবু,” “যদি,” “অবশ্য,” “কিন্তু,” “যেমন,” ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৯.
'এ, এই, এরা' - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. অনির্দিষ্ট
  2. আত্মবাচক
  3. নির্দেশক
  4. সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
 
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৪০.
রাম রায় এত বিদ্বান অথচ এতটুকু অহংকার নেই। রেখা চিহ্নিত শব্দটি কোন ধরনের অব্যয় নির্ণয় করুন?
  1. সমুচ্চয়ী
  2. অনন্বয়ী
  3. সমুচ্চয়ী বিয়োজক
  4. সমুচ্চয়ী সংকোচক
ব্যাখ্যা
• রাম রায় এত বিদ্বান অথচ এতটুকু অহংকার নেই। রেখা চিহ্নিত শব্দটি - সমুচ্চয়ী সংকোচক অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়:

যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- 'লেখাপড়া কর নতুবা ফেল করবে' বাক্যের ‘নতুবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা:
• বিয়োজক অব্যয়:
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়।
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং - শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪১.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদের উদাহরণ?
  1. বিশ্বস্ত
  2. বিশ্বাসী
  3. বিশ্বাস
  4. বিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদের উদাহরণ - বিশ্বাস
- এটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সত্য বলে বিবেচনা।

অন্যদিকে,
- বিশ্বাস্য, বিশ্বাসী, বিশ্বস্ত - বিশেষণ পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৪২.
নিচের কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. দুঃখ
  2. সৌরভ
  3. বড়াই
  4. তিক্ততা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-
১. বিশেষ্য,
২. নামবাচক,
৩. জাতিবাচক,
৪. বস্তুবাচক,
৫. সমষ্টিবাচক,
৬. ভাববাচক,
৭. গুণবাচক।

• ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun):
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ: ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

- আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

• গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun):
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা।
তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৩.
নিম্নলিখিত কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
  1. আশেপাশের পরিবেশটা সুন্দর।
  2. ইশরাক ভালো মানুষ।
  3. জায়গাটা সংকীর্ণ।
  4. জেট বিমান খুব দ্রুত চলে।
ব্যাখ্যা

• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

-------------
• প্রশ্নের বাক্যটি - জেট বিমান খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

অন্যদিকে,
ক) "আশেপাশের পরিবেশটা সুন্দর।"
এখানে "সুন্দর" একটি বিশেষণ (adjective) যা পরিবেশ শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি কোনো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এটি সরাসরি একটি বিশেষণ।

গ) "ইশরাক ভালো মানুষ।"
এখানে "ভালো" একটি বিশেষণ। এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

ঘ) "জায়গাটা সংকীর্ণ।"
এখানে "সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা জায়গা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪৪.
কোন পদের আগে 'অজস্র' বসালে বহুবচন হয়?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কেবল সর্বনাম ও বিশেষ্য পদের বচনভেদ রয়েছে। 
'অজস্র' শব্দটি বিশেষণ যার অর্থ অসংখ্য। 
'অজস্র' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদের  পূর্বে বসে। 
যেমন: অজস্র পাখি
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫৪৫.
নিচের কোনটি পরিমাণবাচক বিশেষণ নির্দেশ করে?
  1. আধা
  2. তরল
  3. কঠিন
  4. ঘোলা
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
- যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা।   

♣ বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ:
১. বর্ণবাচক:
- রং নির্দেশ করা হয়। যেমন: কালো, নীল, সবুজ, লাল।
২. গুণবাচক:
- গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়। যেমন: চালাক, ঠান্ডা। 
৩. অবস্থাবাচক:
- অবস্থা বোঝায়। যেমন: তাজা, রোগা,  চলন্ত, তরল, কঠিন।   
৪. ক্রমবাচক:
- ক্রমসংখ্যা বোঝায়। যেমন:  এক, আট।
৫. পূরণবাচক:
- পূরণসংখ্যা বোঝায়। যেমন: তৃতীয়, ৩৪তম। 
৬. পরিমাণবাচক:
- পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়। যেমন: আধা, অনেক।
৭. উপাদানবাচক:
- উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে, পাথুরে। 
৮. প্রশ্নবাচক:
-প্রশ্নঝচকতা নির্দেশিত হয়। যেমন: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক:
- বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন: এই, সেই। 
১০. ভাববাচক:
-বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে। যেমন: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ:
- বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: যেমন: পাগল, ঘোলা।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৬.
'সভা সমাপ্ত হলো।'-এখানে 'সভা' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'সভা সমাপ্ত হলো।'-এখানে 'সভা' বিশেষ্য পদ। 

• সভা (বিশেষ্য পদ)
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- আলোচনার উদ্দেশ্যে বৈঠক।
- সম্মেলন,
- সংঘ,
- পরিষদ (আইনসভা)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৪৭.
'পরে একবার এসো।' - এখানে 'পরে' কোন প্রকার বিশেষণের উদাহরণ?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. বিশেষণের বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অন্যদিকে,
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন-
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪৮.
‘পৃথিবী’ শব্দের বিশেষণ রূপ কি?
  1. ক) পৃথ্বী
  2. খ) পার্থিব
  3. গ) পৃথিবীয়
  4. ঘ) পৃথিবীক
ব্যাখ্যা
‘পৃথিবী’ বিশেষ্য পদ, এর বিশেষণ রূপ হচ্ছে ‘পার্থিব’।
সূত্রঃ বাংলা একাডেমী ডিকশনারি
৫৪৯.
'প্রকর্ষ' শব্দটি - 
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়া বিশেষণ 
  4. অব্যয় 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• প্রকর্ষ (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- শ্রেষ্ঠত্ব;
- উৎকর্ষ;
- উন্নতি;
- শ্রীবৃদ্ধি;
- সমৃদ্ধি।

• 'প্রকর্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ “উৎকর্ষ”।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৫০.
'করুণাময় তুমি।' - এখানে 'করুণাময়' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষ্যের বিশেষণ: চলন্ত গাড়ি।
সর্বনামের বিশেষণ: করুণাময় তুমি।
ক্রিয়া বিশেষণ: দ্রুত চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫১.
বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. পটুত্ব
  2. চৌকশ 
  3. পাথুরে
  4. খোঁড়া
ব্যাখ্যা

• বিশেষণজাত (গুণবাচক) বিশেষ্য: 
বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্যকারী অন্ত্যপ্রত্যয় যোগ করে এ ধরনের বিশেষ্য গঠিত হয়।
যেমন: ধীর+তা = ধীরতা; এরকম- দ্রুততা, চালাকি, পটুত্ব, শৌখিনতা, নষ্টামি ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• গুণবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন: চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• উপাদানবাচক বিশেষণ:  বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫৫২.
'ষোল আনা দখল'-এ 'ষোল আনা' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক বিশেষণ
  2. খ) অংশবাচক বিশেষণ
  3. গ) উপাদানবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ :
ক. রূপবাচক : নীল আকাশ, কালো মেঘ;
খ. গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক : তাজা মাছ, রোগা ছেলে;
ঘ. সংখ্যাবাচক : হাজার লোক, দশ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক : দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা;
চ. পরিমাণবাচক : পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক : অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ;
জ. উপাদানবাচক : বেলে মাটি, মেটে কলসি।
ঝ. প্রশ্নবাচক : কতদূর পথ, কেমন অবস্থা;
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
৫৫৩.
নির্দেশক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ওরা খেলায় অংশ নেয় নি।
  2. খ) সে নিজে অঙ্কটিা করছে।
  3. গ) কজন এসে খবরটা দেয়।
  4. ঘ) নিজেরা নিজেরা কাজটি সম্পন্ন করেছে।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম বলে।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিচু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয, তাকেঅনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি দ্বারা অনির্দিষ্টতা নির্দেশ করা হয়্।
যেমন: একজন এসে খবরটা দেয়।

নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
 যেমন:
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
- দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। আত্মবাচক নির্দেশক: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
যেমন: সে নিজে অঙ্কটিা করছে।

পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৪.
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয়-
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশের ব্যবহৃত হয় তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমনঃ
• 'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।'
- বাক্যটি 'তো' এর সাথে অন্য কোনো পদের মিল নেই।
• এটি ছাড়াও বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে।
• তাই 'তো' এখানে অনন্বয়ী অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫৫.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. হিমালয়
  2. ফুল
  3. লবণ
  4. ইট
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বস্তু-বিশেষ্য - ইট, লবণ।
নাম-বিশেষ্য - হিমালয়

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৫৬.
"মন্দকে মন্দ বলতে হবে" বাক্যে দুইটি "মন্দ" শব্দ যথাক্রমে -
  1. বিশেষণ, বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য, বিশেষণ
  3. বিশেষণ, বিশেষণ
  4. উভয়ই বিশেষ্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "মন্দকে মন্দ বলতে হবে" বাক্যে দুইটি "মন্দ" শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, এবং তাদের পদভিত্তিক বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

• প্রথম "মন্দ" শব্দটি বিশেষ্য, যা দ্বারা কোনও নিন্দনীয় বা খারাপ ব্যক্তি বা বস্তু বোঝানো হয়েছে।
• দ্বিতীয় "মন্দ" শব্দটি বিশেষণ, যা প্রথম "মন্দ" বা খারাপ জিনিসের গুণ বা অবস্থা নির্দেশ করছে।

তাই বলা যায়- 
প্রথম "মন্দ" বিশেষ্য এবং দ্বিতীয় "মন্দ" বিশেষণ।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৭.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. পঞ্চায়েত
  2. মানুষ
  3. কলম
  4. পর্বত
ব্যাখ্যা

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৮.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. অবজ্ঞেয়
  2. অবজ্ঞা
  3. অবজ্ঞাত
  4. অজ্ঞাত
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ -  অবজ্ঞা
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য, ঘৃণা, অপমান।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ -  অজ্ঞাত, অবজ্ঞাত, অবজ্ঞেয়।

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৫৯.
‘শয়ন’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয় পদ
  5. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘শয়ন’ ক্রিয়া-বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

---------------------
• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫৬০.
‘ভোজন’ শব্দটি কোন প্রকারের বিশেষ্য?
  1. বস্তুবাচক
  2. সমষ্টিবাচক
  3. গুণবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।

যথা:
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬১.
"গমন, দর্শন" - কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  2. ভাববাচক বিশেষ্য
  3. জাতিবাচক বিশেষ্য
  4. সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।

উল্লেখ্য,
ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬২.
কোনটি বিদেশী অব্যয় শব্দ?
  1. সহসা
  2. বহুত
  3. পুনশ্চ
  4. আবার
ব্যাখ্যা
বিদেশি অব্যয় শব্দ:
আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম অব্যয় শব্দ:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।

বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৩.
‘সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না।’ - বাক্যে ‘অথচ’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।

- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, অথচ, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬৪.
'ধীরে ধীরে বায়ু বয়' - বাক্যটিতে কোন বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অন্যদিকে,
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন-
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৫.
‘দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্যে চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন।’ এই বাক্যের বিশেষ্য পদটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) দুঃসাহসী
  2. খ) চিরন্তন
  3. গ) প্রস্তুত
  4. ঘ) অভিযাত্রী
ব্যাখ্যা
‘দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্যে চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন।’ এই বাক্যে বিশেষ্য পদ - অভিযাত্রী, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ। বিশেষণ পদ - দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫৬৬.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. ধৈর্য
  2. উদারতা 
  3. সরলতা
  4. আলসে
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণ হলো এমন শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, পরিমাপ, অবস্থা, বা পরিচয় বোঝায় এবং তাকে বিশেষিত করে। বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের পূর্বে বা পরে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

আলসে (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অলস, কুঁড়ে। 
বাক্য: আলসে নয় সে, ওঠে রোজ সকালে।(কবি নজরুল)

অন্যদিকে, 
-----------------
• গুণবাচক-বিশেষ্য: 
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, উদারতা, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫৬৭.
‘চলন্ত ট্রেন’- বাক্যে ‘চলন্ত’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘চলন্ত ট্রেন’- বাক্যে ‘চলন্ত’ বিশেষণ পদের উদাহরণ।

------------------------
• বিশেষণ পদ:

যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যথা:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’- বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
৫৬৮.
নিচের কোন বাক্যে সংকোচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী
  2. খ) তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন
  3. গ) এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার
  4. ঘ) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে
ব্যাখ্যা
- 'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন' বাক্যটিতে সংকোচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।

সংযোজক অব্যয়
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী

সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ।
সুতরাং, 'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন ' এ বাক্যে ‘অথচ’ হলো সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
৫৬৯.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ বিদেশী অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বহুত, খুব, মারহাবা
  2. খুব, বরং, খাসা
  3. দৈবাৎ, বরং, আবার
  4. পুনশ্চ, মারহাবা, খুব
ব্যাখ্যা
বিদেশি অব্যয় শব্দ:

যেমন:
- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম অব্যয় শব্দ:

যেমন:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য।

বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭০.
'জানুয়ারি' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭১.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ? 
  1. গুরুত্ব
  2. ভোজন
  3. পঠন
  4. শয়ন
ব্যাখ্যা

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫৭২.
'যৌবন' কোন পদের উদাহরণ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. গুণবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৩.
'সুন্দর ফুল'- এখানে 'সুন্দর' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুন, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন:
- সুন্দর ফুল। 
- সাদা বাড়ি।
- সুন্দর বাগান।
- চটপটে ছেলে।

[এখানে সাদা, সুন্দর ও চটপটে বিশেষণ পদ।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৫৭৪.
পদক্রম অনুসারে সমন্ধ পদ বাক্যে কোথায় বসে?
  1. বিশেষণের পূর্বে
  2. অব্যয়ের পরে
  3. বিশেষ্যের পূর্বে
  4. ক্রিয়ার পরে
ব্যাখ্যা

- বাক্যে পদ সংস্থাপনার ক্রম অনুসারে, সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
যেমন - ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।
- তবে কবিতায় ইত্যাদিতে ছন্দের প্রয়োজনে পরেও বসতে পারে।
যেমন - হে আদি জননী সিন্ধু, বসুন্ধরা সন্তান তোমার।

- বিধেয় বিশেষণ সর্বদাই বাক্যের বিশেষ্যের পরে বসে।
যেমন - লোকটি যে জ্ঞানী তাতে সন্দেহ নেই। 

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।

৫৭৫.
কোনটি বিমূর্ত বিশেষ্য?
  1. নদী
  2. বই
  3. সৌন্দর্য
  4. কাঁঠাল
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ, নদী, বই, কাঁঠাল ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৭৬.
'গুরুত্ব' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. জাতি
  2. বস্তু
  3. সমষ্টি
  4. গুণ
ব্যাখ্যা
• 'গুরুত্ব' - গুণ-বিশেষ্য।
-------------------- 
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
---------------------- 
১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন –
ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন –
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি। 

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৫৭৭.
'ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।' বাক্যে 'ভালো' কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
• প্রদত্ত বাক্যটিতে বাড়ি বিশেষ্য পদ।
• 'ভালো' বাড়িটির গুণ প্রকাশ করেছে।
• তাই বাক্যে ভালো বিশেষণ পদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৮.
নিচের কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ? 
  1. ঠান্ডা 
  2. তরল
  3. বেশ
  4. খুব 
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
• যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
• যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা। 

♣ বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ: 
১. বর্ণবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা।
২. গুণবাচক: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি। 
৩. অবস্থাবাচক: চলন্ত গাড়ি, তরল পদার্থ।  
৪. ক্রমবাচক: এক টাকা, আট দিন।
৫. পূরণবাচক: তৃতীয়, ৩৪তম।
৬. পরিমাণবাচক: আধা কেজি, অনেক।
৭. উপাদানবাচক: বেলে, পাথুরে।
৮. প্রশ্নবাচক: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক: এই, সেই।
১০. ভাববাচক: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ: লোকটা পাগল, পানি ঘোলা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৫৭৯.
‘ভোজন’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. অব্যয়
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন- নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ: যে শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন:
- সুন্দর ফুল।
- পঞ্চাশ টাকা।
- হাজার সমস্যা

• সর্বনাম: বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। 
যেমন:
- সে নিজে অঙ্ক টা করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮০.
বাংলায় কোন পদের পুরুষ হয় না?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
- বাংলায় অব্যয় পদের পুরুষ হয় না।  

সর্বনামের পুরুষ:
- 'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ার পুরুষ আছে। 
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। 
- ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা- 
১। উত্তম পুরুষ- আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি। 
২। মধ্যম পুরুষ- তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনার, আপনাদের ইত্যাদি। 
৩। নাম পুরুষ- সে, তারা, তাহারা, তাদের, তিনি, তাঁকে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮১.
গুণ- বিশেষ্য কোনটি?
  1. বৈশাখ
  2. ধৈর্য
  3. সাগর
  4. জনতা
ব্যাখ্যা

• 'ধৈর্য'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৮২.
কোন শব্দটি বিশেষ্য বিশেষণ উভয়রূপে ব্যবহৃত হতে পারে?
  1. ক) দেশ
  2. খ) সুন্দর
  3. গ) ব্যথা
  4. ঘ) বন্দর
ব্যাখ্যা
- 'সুন্দর’ শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়রূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বিশেষণরূপে: বেশ সুন্দর কথা বলেছ।
- বিশেষ্যরূপে: সে সুন্দর কী তা জানে না।
- আরাে কিছু শব্দ রয়েছে যা বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ভালাে, মন্দ, পুণ্য, নিশীথ, শীত, সত্য ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮৩.
‘তরল’ শব্দের বিশেষ্য কী?
  1. তারল্যতা
  2. তরল্য
  3. তারল্য
  4. তরল্য
ব্যাখ্যা
তরল বিশেষণ শব্দকে দুইভাবে বিশেষ্যে রূপান্তর করা যায়।
তরল + তা = তরলতা।
আবার তরল + য = তারল্য
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৫৮৪.
‘সমাজ’ কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) নামবাচক বিশেষ্য
  3. গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) জাতিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
‘সমাজ’ - সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

• গণনযোগ্যতা বিচারে সাধারণ বিশেষ্যকে তিনটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
- গণন বিশেষ্য
- পরিমাপ বিশেষ্য
- সমষ্টি বিশেষ্য

গণন বিশেষ্য: সংখ্যা দিয়ে গণনা করা যায় এবং এগুলোর বহুবচন হয়। যেমন— দিন (পাঁচ দিন, দিনগুলো), শিক্ষক (শিক্ষকবৃন্দ), গ্রন্থ (গ্রন্থাবলি), বিড়াল, জাহাজ ইত্যাদি।

পরিমাপ বিশেষ্য: সংখ্যার সাহায্যে গণনা করা যায় না এবং ধারণার দিক থেকেও না; কিন্তু পরিমাপ করা সম্ভব। যেমন- চাল, ডাল, চিনি, তেল, নুন, পানি মাটি ইত্যাদি। সাধারণভাবে এ বিশেষ্যের বহুবচন হয় না।

সমষ্টি বিশেষ্য: কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বা সমষ্টি বোঝায়। যেমন- গুচ্ছ, ঝাঁক, দল, জনতা, পরিবার, বাহিনী, মিছিল, শ্রেণি, সংসদ, সভা, সমাজ, সমিতি ইত্যাদি সাধারণ প্রয়োগে এ জাতীয় বিশেষ্যেরও বহুবচন হয় না, বিশেষ প্রয়োগে হতে পারে। সেখানে এদের 'একক' হিসেবে গণ্য করা হয় (শ্রেণিগুলো, সমিতিগুলো)।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫৮৫.
নিচের কোনটি পারস্পরিক সর্বনাম ?
  1. কিছু
  2. নিজেরা নিজেরা
  3. নিজে
  4. উনি
ব্যাখ্যা
• 'নিজেরা নিজেরা'-  পারস্পরিক সর্বনাম। 

পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে । 
যেমন – কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন – নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন – নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৫৮৬.
'আমি আজ আলবত যাব।' - এ বাক্যে 'আলবত' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনুকার অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৮৭.
কোনটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. গরু
  3. বীরত্ব
  4. সমিতি
ব্যাখ্যা
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো গুণ, অবস্থা ও ভাবের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: সুখ, দুঃখ, দয়া, বীরত্ব ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৫৮৮.
বাক্যের মধ্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
যেমন -
"শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৮৯.
কোন সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. নির্দেশক সর্বনাম
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতীয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

• সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অর্নিদিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

• নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯০.
'যত' ও 'তত' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প
  2. সাপেক্ষ
  3. বিরোধ
  4. সাধারণ
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯১.
সামীপ্যবাচক সর্বনাম নিচের কোনটি?
  1. যিনি
  2. ইনি
  3. তিনি
  4. তারা
ব্যাখ্যা

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক:কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি,যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৯২.
‘চালাক ছেলে’ এখানে ‘চালাক’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যথা:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’- বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
৫৯৩.
'আনন্দ' শব্দটি কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ভাব বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
বস্তু-বিশেষ্য - ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
ভাববাচক বিশেষ্য - ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৪.
জন্ম শব্দের বিশেষণ?
  1. ক) জীবন
  2. খ) জাত
  3. গ) বংশ
  4. ঘ) জাতি
ব্যাখ্যা

জাত (বিশেষণ) - জন্মেছে এরূপ (নবজাত)।
- উৎপন্ন; সঞ্জাত; উদ্ভূত।

(বিশেষ্য) জন্ম


উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৫৯৫.
‘যদি’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• ‘যদি’ যোজক পদের উদাহরণ।

যোজক:

- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫৯৬.
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষণ পদ
  2. অব্যয় পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. সম্বোধন পদ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: 
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি। 

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: 
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

অন্যদিকে,
• 'সম্বোধন’ পদ:
- 'সম্বোধন’ অর্থ আহবান। যাকে সম্বোধন বা আহবান করে কিছু বলা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। ওহে মাঝি, আমাকে পার করো।
- অনেক সম্বোধন পদের পূর্বে ওগো, ওরে, হে, অয়ি প্রভৃতি অব্যয়বাচক শব্দ বসে সম্বোধন সূচনা করে। যেমন: ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে, অয়ি নিরমল ঊষা, কে তোমাকে নিরমিল?

- সম্বোধন পদের পর অনেক বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেওয়া হয়। এই ধরনের বিস্ময়সূচক চিহ্নকে সম্বোধন চিহ্ন বলা হয়ে থাকে।
আধুনিক নিয়মে সম্বোধন চিহ্ন স্থানে কমা (,) চিহ্নের প্রয়োগ বেশি। যেমন: ওরে খোকা, এখানে আয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৭.
"পর্বত" কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।


অন্যদিকে,
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন –
- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৯৮.
'তোমার নাম কী?'-এখানে 'কী' কোন প্রকারের পদ?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন:
- সুন্দর ফুল। 
- বাজে কথা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে? [প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫৯৯.
"ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।" - নিম্নরেখ অব্যয়টি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উচ্ছ্বাস
  2. সম্মতি
  3. সম্বোধন
  4. নিরাশা
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৬০০.
'এখন যেয়ো না' এখানে 'না' শব্দটি কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'এখন যেয়ো না' এখানে 'না' শব্দটি 'অব্যয়' পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)
 
অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
 
আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।
 
তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ অব্যয় পদ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।