বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৪০১৫০০ / ১,৩১৩

৪০১.
কোনটি বিশেষণ?
  1. সৎ
  2. একতা
  3. দর্শন
  4. জনতা
ব্যাখ্যা

উত্তর: ক) সৎ।

বিশেষণ:
বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণ হলো এমন শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, পরিমাপ, অবস্থা, বা পরিচয় বোঝায় এবং তাকে বিশেষিত করে। বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের পূর্বে বা পরে ব্যবহৃত হয়।

নিচে অপশনগুলোর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

ক) সৎ:
অর্থ: নৈতিকভাবে ভালো, সত্যবাদী।
- এটি একটি বিশেষণ, কারণ এটি বিশেষ্যের গুণ বা অবস্থা বোঝায়।
উদাহরণ: সৎ মানুষ (মানুষ বিশেষ্যকে সৎ বিশেষিত করছে)।

খ) একতা:
অর্থ: ঐক্য বা মিলন।
- এটি গুণবাচক বিশেষ্য।

গ) দর্শন:
অর্থ: দৃষ্টি, দর্শনশাস্ত্র, বা দেখা।
- এটি ভাববাচক বিশেষ্য।

ঘ) জনতা:
অর্থ: জনসাধারণ বা মানুষের সমষ্টি।
- এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪০২.
'তাগিদ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়া 
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা
• 'তাগিদ' শব্দটি বিশেষ্য পদ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০৩.
নিম্নলিখিত কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
  1. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  2. বাগানটি সুন্দর।
  3. বই টেবিলে আছে।
  4. রাস্তা সংকীর্ণ।
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

অন্যদিকে,
খ) "বাগানটি সুন্দর।"
এখানে "সুন্দর" একটি বিশেষণ (adjective) যা বাগান শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি কোনো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এটি সরাসরি একটি বিশেষণ। তাই এখানে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

গ) "বই টেবিলে আছে।"
এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

ঘ) "রাস্তা সংকীর্ণ।"
এখানে "সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা রাস্তা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৪.
সামীপ্যবাচক সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. নিজে
  2. কাহার
  3. যাহারা
  4. ইহারা
ব্যাখ্যা
সর্বনাম পদ: 
- বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। 
যেমন- রাহাত ভালো ছেলে, সে নিয়মিত স্কুলে যায়। 
- উপরোক্ত উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘সে' শব্দটি রাহাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ‘সে’ হলো সর্বনাম পদ। 
- সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ বাক্যে বিভিন্নরূপে সর্বনাম পদের ব্যবহার হয়। 

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 
• ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা ইত্যাদি। 
• আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ইত্যাদি। 
সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। 
• দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব ইত্যাদি। 
• সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি। 
• প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ইত্যাদি। 
• অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি। 
• ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি। 
• সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি। 
• অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪০৫.
"শাহিন কিংবা রনি এই কাজের জন্য দায়ী।" কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয় 
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3.  অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• "শাহিন কিংবা রনি এই কাজের জন্য দায়ী।" - সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয় :

- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা: সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

সংযোজক অব্যয় :
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয় :
ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।
খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।
সংকোচক অব্যয় :
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৪০৬.
এখনো দেখনি তুমি? এখানে ‘নি’ কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণঃ
নি-
এখনো দেখ নি তুমি?
ফুল কি ফোটে নি শাখে?
পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? রাখি নি সন্ধান
রহে নি, সে ভুলে নি তো
না-
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?
রচিয়া লহ না আজও গীতি।
ভুলিতে পারি না কোন মতে।
নাই-
শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান
নাই হল, না হোক এবারে
করে নাই অর্ঘ্য বিরুন?

৪০৭.
'আজ তটিনীর ২৫তম জন্মবার্ষিকী।' বাক্যে '২৫তম' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. পরিমাণবাচক বিশেষণ
  3. পূরণবাচক বিশেষণ
  4. গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'আজ তটিনীর ২৫তম জন্মবার্ষিকী।' বাক্যে '২৫তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক বিশেষণ:

- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪০৮.
নিচের কোনটি পদান্বয়ী অব্যয়?
  1. মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! 
  2. উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  3. ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• 'সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।' - এখানে 'জন্য' পদান্বয়ী অব্যয়।

• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৪০৯.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' বাক্যে ‘আমাদের’ কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. মানী পক্ষের সর্বনাম
  2. শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম
  3. বক্তা পক্ষের সর্বনাম
  4. অন্য পক্ষের সর্বনাম
ব্যাখ্যা
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' বাক্যে ‘আমাদের’ বক্তা পক্ষের সর্বনাম।

⇒ ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

⇒ শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
⇒ সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১০.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. দর্শন
  2. শয়ন
  3. স্বাস্থ্য
  4. ভোজন
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য - ভোজন, শয়ন, দর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪১১.
'নদী' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪১২.
নিচের কোনটি অব্যয়টি নাম বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
  2. খ) আবার যেতে হবে
  3. গ) অন্যত্র চলে যায়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- অব্যয়ের নাম বিশেষণের উদাহরণ হচ্ছে- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।  

অব্যয় বিশেষণ:
- কতগুলো অব্যয় বাক্যে ব্যবহৃত হলে নাম-বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং বিশেষণীয় বিশেষণের অর্থবাচকতা প্রকাশ করে থাকে। এদের অব্যয় বিশেষণ বলা হয়। যথা- 
• নাম-বিশেষণ- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। 
• ভাব-বিশেষণ- আবার যেতে হবে। 
• ক্রিয়া- বিশেষণ- অন্যত্র চলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৩.
"আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. যোজক 
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিশেষণ।

ব্যাখ্যা:
বিশেষণের সংজ্ঞা:
বিশেষণ = যে পদ বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত (গুণ, অবস্থা, পরিমাণ নির্দেশ) করে।

বাক্য বিশ্লেষণ: "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।"
- এখানে 'সোনার' শব্দটি বিশেষণ পদ।

কারণ, এই বাক্যে:
বাংলা = বিশেষ্য (দেশের নাম)। এবং, সোনার = বিশেষণ (বাংলাকে বিশেষিত করছে)
'সোনার' শব্দটি 'বাংলা' বিশেষ্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছে।
 
'সোনার' শব্দের অর্থ:
- সোনার মতো মূল্যবান; সুন্দর, মনোরম।
এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও প্রিয়তা বোঝাতে।

 উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৪১৪.
গুণ- বিশেষ্য কোনটি?
  1. লবণ
  2. গীতাঞ্জলি
  3. গুরুত্ব
  4. ঝাঁক
ব্যাখ্যা

• 'গুরুত্ব'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

-----------------
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪১৫.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. কল্পনা
  2. চিরন্তন
  3. রাজ্য
  4. দেশ
ব্যাখ্যা
• চিরন্তন (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- চিরকালীন,
- নিত্য । 

অন্যদিকে, 
• দেশ, কল্পনা, রাজ্য বিশেষ্য পদ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪১৬.
কোনগুলো সাকুল্যবাচক সর্বনাম?
  1. এরা, ইহারা, ইনি
  2. যে, যিনি, যারা
  3. সব, সকল, তাবৎ
  4. স্বয়ং, খোদ, আপনি
ব্যাখ্যা
• সাকুল্যবাচক সর্বনাম - সব, সকল, তাবৎ।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৭.
'যেমন কর্ম তেমন ফল' - এখানে 'যেমন' ও 'তেমন' কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. সকলবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যেমন-তেমন’ শব্দটি সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
--------------- 
অন্যদিকে,
পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বােঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন -
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

সকলবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন – সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১ )।
৪১৮.
কোন শব্দটি জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পরিবার
  2. জনতা
  3. বৈশাখ
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ - ফুল। 

বিশেষ্য:

- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন - মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য - বৈশাখ।
• সমষ্টি-বিশেষ্য - পরিবার, জনতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১৯.
'কার কাছে যাবে?'- এখানে 'কার' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ]।
৪২০.
তদ্ধিতান্ত বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. হৃত সম্পত্তি
  3. শনশনে হাওয়া
  4. কাঁদকাঁদ চেহারা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিতান্ত বিশেষণের উদাহরণ - জাতীয় সম্পদ

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনাম জাত: কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ: বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, জানাশোনা লোক, পায়ে-চলা পথ, হৃত সম্পত্তি, অতীত কাল।
জ. তদ্ধিতান্ত: জাতীয় সম্পদ, নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখুঁত কাজ, অপহৃত সম্পদ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, লাওয়ারিশ মাল, লাখেরাজ সম্পত্তি, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৪২১.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) ভোজন
  2. খ) জনতা
  3. গ) হিমালয়
  4. ঘ) যৌবন
ব্যাখ্যা

• যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- সভা,
- জনতা,
- সমিতি,
- পঞ্চায়েত,
- মাহফিল,
- ঝাঁক,
- বহর,
- দল।
• যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- গমন,
- দর্শন,
- ভোজন,
- শয়ন,
- দেখা,
- শোনা।
• যৌবন গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
• হিমালয় সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২২.
মেট্রোরেল অতি দ্রুত চলে। এ বাক্যে ‘অতি’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
এ বাক্যে দ্রুত ক্রিয়া বিশেষণ আর দ্রুতকে অতি শব্দ বিশেষিত করেছে বলে অতি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
৪২৩.
‘বুনো’ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বুনো (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ বন থেকে বুনো শব্দটি এসছে।
অর্থ:
- বনে জাত (বুণো ওল),
- বনবাসী,
- বন্য,
- অমার্জিত (বুনো আচরণ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪২৪.
কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. যারা-তারা
  2. পরস্পর
  3. এই
  4. নিজেরা নিজেরা
ব্যাখ্যা
 নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
• যারা-তারা - সাপেক্ষ সর্বনাম।
• পরস্পর - পারস্পরিক সর্বনাম।
• নিজেরা নিজেরা - পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৫.
কোনটি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. টিপ টিপ
  2. যে
  3. যথাসময়ে
  4. কোথাও
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৬.
কোনটি বিশেষণ?
  1. দারিদ্র্য
  2. সভ্যতা
  3. দাহ
  4. বিমুগ্ধ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) বিমুগ্ধ।

অপশন ব্যাখ্যা:
• দারিদ্র্য - বিশেষ্য - গরিবি বা দারিদ্র অবস্থা বোঝায়।
• সভ্যতা - বিশেষ্য - সমাজ বা জাতির উন্নত অবস্থা বোঝায়।
• দাহ - বিশেষ্য - পোড়ানো বা জ্বালানো বোঝায়।
• বিমুগ্ধ - বিশেষণ - বিশেষভাবে মুগ্ধ; মোহগ্রস্থ ইত্যাদি বোঝাতে ব্যবহার হয়। 

সুতরাং, ‘বিমুগ্ধ’ একটি বিশেষণ। 

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৭.
'তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে' বাক্যের 'তাই' কোন প্রকারের অব্যয়?
  1. বিভক্তিসূচক
  2. সংকোচক
  3. বিয়োজক
  4. সংযোজক
ব্যাখ্যা
• 'তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে' - এখানে 'তাই' সংযোজক অব্যয়। 

সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা: সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক। 

সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৮.
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয় 
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

বাক্যে ব্যবহার: 
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

প্রশ্নে আলোচিত বাক্য - 'তুমি তাে ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’
- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।

৪২৯.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. ক) পদ
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩০.
'মন' শব্দের বিশেষণ-
  1. মানস
  2. মানসিক
  3. মনন
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• 'মন' শব্দের বিশেষণ - মানসিক

• মন (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ মনস্ শব্দ থেকে উদ্ভূত শব্দ
অর্থ: যে বৃত্তির সাহায্যে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী তার চারপাশের জগৎ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং কোনো বিষয়ে চিন্তা বা কোনো কিছু অনুভব করতে পারে, চিত্ত, হৃদয়, অন্তঃকরণ, অন্তরিন্দ্রিয়।
- স্মরণ,
- বোধ, ধারণা
- ইচ্ছা, প্রবৃত্তি।
- নিষ্ঠা
- মনোযোগ
- পছন্দ

• মানসিক (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মানস+ইক
অর্থ: মনোগত, কল্পনাপ্রসূত।

অন্যদিকে,
- বিশেষ্য পদ - মানস, মনন এবং মানুষ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৪৩১.
'কাঠের পুতুল' শব্দবন্ধে 'কাঠের' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. গুণবাচক
  4. বর্ণবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- বেলে মাটি।
- পাথুরে মূর্তি।
- কাঠের পুতুল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৩২.
কোনটি রূপবাচক বিশেষণ?
  1. চৌকস লোক
  2. ঠাণ্ডা হাওয়া
  3. কালো মেঘ
  4. তাজা মাছ
ব্যাখ্যা

বিশেষণের প্রকারভেদ:
রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৩৩.
'আধিক্য' কোন পদ?
  1. ক্রিয়া 
  2. বিশেষণ 
  3. বিশেষ্য 
  4. ক্রিয়া বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• আধিক্য (বিশেষ্য পদ)।
- এটি একটি সন্দকৃত শব্দ।
অর্থ:
- আতি-শয্য;
- বাড়াবাড়ি; 
- প্রাধান্য;
- প্রবলতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

৪৩৪.
‘স্বয়ং’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম:
 কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: 
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: 
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৫.
"ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল।" - এখানে অব্যয় পদটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তুলনায় 
  2. অনুমান প্রকাশে 
  3. ব্যঙ্গ প্রকাশে
  4. নির্দেশ অর্থে 
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদ:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহারের সময় যে পদের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যেমন- এবং, ও, আর, কার্যত, যেন, বরং।
সুতরাং,
'ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল'- এখানে 'যেন' একটি অব্যয় পদ।
- এই বাক্যে 'যেন' অব্যয় পদটি - ব্যঙ্গ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিঙ্গাসা।

৪৩৬.
‘পুণ্যে মতি হোক।’- এখানে ‘পুণ্য’ কী রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
  5. ঙ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। এখানে ‘পুণ্য’ নাম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে, ‘তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক’- এখানে ‘পুণ্য’ বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
৪৩৭.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. শয়ন
  2. শোনা
  3. তারুণ্য
  4. শ্রবণ
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা: মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ)।
৪৩৮.
'স্বর্ণময় পত্র' - এখানে কোন প্রকার বিশেষণ রয়েছে?
  1. গুণবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. বর্ণবাচক
ব্যাখ্যা
• 'স্বর্ণময় পত্র' - এখানে উপাদানবাচক বিশেষণ রয়েছে।

• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- বেলে মাটি।
- পাথুরে মূর্তি।
- মেটে কলসি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৪৩৯.
‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’ - এখানে ‘যেমন-তেমন’ কোন সর্বনামের উদাহরণ?
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পারস্পরিক সর্বনাম - পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।
সকলবাচক সর্বনাম – সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১ )।
৪৪০.
'বহর' - কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. গুণ বিশেষ্য
  2. জাতিবাচক
  3. সমষ্টিবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
----------------------
সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – 
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বহর, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৪১.
'অর্ধেক সম্পত্তি' – এখানে 'অর্ধেক' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) নামবাচক বিশেষ্য
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নাম বিশেষণঃ যে বিশেষণ পদ কোন বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ পদ বলে।
'অর্ধেক সম্পত্তি' – এখানে 'অর্ধেক' একটি নাম বিশেষণ পদ।

এরূপঃ
- ষোল আনা দখল,
- সিকি পথ।


সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী।

৪৪২.
কোন শব্দটি বিশেষ্য পদ?
  1. গরিষ্ঠ
  2. দার্শনিক
  3. পার্থিব
  4. স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - গরিষ্ঠ, দার্শনিক, পার্থিব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪৪৩.
“সে দ্রুত দৌড়াল।” এখানে 'দ্রুত' শব্দটি কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য 
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ।
---------------

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে, দ্রুত, ধীরে — শব্দগুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

প্রশ্নে দেওয়া বাক্যটি হলো: “সে দ্রুত দৌড়াল।”
 — ‘দ্রুত’ শব্দের অর্থ হলো — ‘শীঘ্র’ বা ‘তাড়াতাড়ি’। এটি বাক্যে ‘দৌড়াল’ ক্রিয়াটির গতি বা পদ্ধতি বর্ণনা করছে।
এ বাক্যে, ‘দ্রুত’ — ক্রিয়া ‘দৌড়াল’- এর গুণ বা অবস্থা বিশেষিত করছে, যা ক্রিয়া-বিশেষণের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৪৪.
নিচের কোনগুলি গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) লবণ, জনতা
  2. খ) পরিবার, দয়া
  3. গ) ভোজন, সরলতা
  4. ঘ) আনন্দ, ধৈর্য
ব্যাখ্যা
- আনন্দ, ধৈর্য হচ্ছে গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৪৪৫.
কোনটি বস্তুবাচক বিশেষ্য?
  1. হিমালয়
  2. নদী
  3. পর্বত
  4. পানি
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, পানি, লবণ প্রভৃতি।


অন্যদিকে,
--------------------
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ প্রভৃতি।

• সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
ব্যক্তির নাম: সারা, কনিকা, শিলা, মাসুদ, দেলোয়ার প্রভৃতি।
ভৌগোলিক অস্থানের নাম: কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডন প্রভৃতি।
ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি): করতোয়া, মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর প্রভৃতি।
গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নি-বীণা, গীতাঞ্জলি, পথের দাবী, সঞ্চিতা, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
"আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।" - বাক্যে কী ধরনের অব্যয়ের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-

১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

• "আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।" - এখানে 'যদি'- অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়।

অন্যদিকে,
• সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং।
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে।

• বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।

• সংকোচক অব্যয় - অথচ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৪৭.
নিচের কোন বাক্যে পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
  2. তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  3. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৪৮.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. সামুদ্রক
  2. সামুদ্রিক
  3. সামুদ্রকবিদ্যা
  4. সমুদ্রতট
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - সামুদ্রিক
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সমুদ্রবিষয়ক।
- সমুদ্রে জাত (সামুদ্রিক মাছ)।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - সামুদ্রক, সামুদ্রকবিদ্যা, সমুদ্রতট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৪৯.
'পিপাসিত' এর বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. পিপাসু
  2. পিপাসা
  3. পিয়াসী
  4. পিপাসী
ব্যাখ্যা
• 'পিপাসিত' শব্দটি বিশেষণ পদ।- শব্দের অর্থ - পিপাসাযুক্ত, তৃষ্ণার্ত।
- 'পিপাসিত' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ - পিপাসিতা।
 
উল্লেখ্য,
• 'পিপাসিত' এর বিশেষ্য পদ 'পিপাসা'। 

অন্যদিকে,
- পিপাসী এবং পিপাসু বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৫০.
‘নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি’ বাক্যে ‘নিশীথে’ কোন পদ?
  1. বিশেষণের বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
•  ‘নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি’ বাক্যে ‘নিশীথে’ বিশেষণ পদ।

• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -
বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫১.
'টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।' - বাক্যটিতে 'টিপ টিপ' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫২.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. দাহ্য
  2. মাধুর্য
  3. ন্যায্য
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - মাধুর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- মধুরতা, মনোহারিতা,
- সৌন্দর্য, লাবণ্য।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - দাহ্য, ন্যায্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৫৩.
কোনটি সংকোচক অব্যয়?
  1. তাই
  2. বরং
  3. নতুবা
  4. কিংবা
ব্যাখ্যা
সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 

- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫৪.
'তুমি ঐখানে কী করছিলে?' এই বাক্যে 'কী' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'তুমি এতক্ষণ করেছ' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
যে সর্বনাম দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্ন করা বুঝায় তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে।
এ জাতীয় সর্বনাম হলো : কে, কী, কোন, কার, কাকে, কীসে ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- অব্যয় পদ হিসেব 'কি' লিখতে হয়।
- যেমন:
- তুমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাও?
- তুমি কি বিসিএস পরীক্ষা দিতে চাও?

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪৫৫.
‘ওরা কারা বুনো দল ঢোকে এরি মধ্যে’- বাক্যে ‘ওরা’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ওরা কারা বুনো দল ঢোকে এরি মধ্যে’- বাক্যে ‘ওরা’ সর্বনাম পদের উদাহরণ।

---------------------------
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে),
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫৬.
'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে
পাছে লোকে কিছু বলে।' বাক্যে 'পাছে' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনন্বয়ী
  4. পদান্বয়ী
ব্যাখ্যা

• যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
• প্রদত্ত বাক্যে 'পাছে' অনন্বয়ী অব্যয়।
• এর দ্বারা সম্ভাবনায় অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৭.
‘গীতাঞ্জলি’ কোন জাতীয় নাম বিশেষ্য?
  1. ক) স্থাননাম
  2. খ) কালনাম
  3. গ) সৃষ্টিনাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য,
- জাতি-বিশেষ্য,
- বস্তু-বিশেষ্য,
- সমষ্টি-বিশেষ্য,
- গুণ-বিশেষ্য,
- ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন –

• ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

• স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।

• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।

• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
৪৫৮.
'যথা ধর্ম তথা জয়।' বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাক্যালঙ্কার
  2. অনন্বয়ী
  3. নিত্য সম্বন্ধীয়
  4. অনুকার
ব্যাখ্যা

• কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় হিসেবে পরিচিত। যেমনঃ
- যথা-তথা,
- যত-তত,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন ইত্যাদি।
• কয়েকটি উদাহরণঃ
- যেমন কর্ম তেমন ফল,
- যথা ধর্ম তথা জয়,
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৯.
অবস্থাবাচক বিশেষণের উদাহরণ রয়েছে কোন বাক্যে?
  1. তরল পদার্থ
  2. নীল আকাশ
  3. ঠান্ডা পানি
  4. পাথুরে মূর্তি
ব্যাখ্যা
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে, 
----------------
• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৬০.
বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও যুক্ত হয় -
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সর্বনাম 
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: “শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।” দ্বিতীয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের শিমুল’-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।   

♣ সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ: 
• সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।  
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- যেমন: আমি, আমরা আমাকে, আমাদের, তুমি, তোমরা, তুই তোরা, আপনি, আপনারা তোমাকে, তোকে, আপনাকে, সে, তারা, তিনি তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি। 
২. আত্মবাচক সর্বনাম: 
- যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।  
৩. নির্দেশক সর্বনাম:
- যেমন: এ, এই, এরা, ইনি, ও, ওই, ওরা, উনি।  
৪.অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- যেমন: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি। 
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
- যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।  
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
- যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।  
৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
- যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি। 
৮. সকলবাচক সর্বনাম:
- যেমন: সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।  
৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
- যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪৬১.
‘শয়ন’ শব্দটি কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. ক) সমষ্টিবাচক
  2. খ) বস্তুবাচক
  3. গ) গুণবাচক
  4. ঘ) ভাববাচক
ব্যাখ্যা

কয়েক ধরনের বিশেষ্য পদঃ
১. গুণবাচক বিশেষ্যঃ মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন ইত্যাদি।
২. ভাববাচকঃ গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।
৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচকঃ বই, খাতা, কলম ইত্যাদি।
৪. সমষ্টিবাচক - পঞ্চায়েত, মাহফিল, জনতা, সভা, সমিতি ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম-দশম শ্রেণী

৪৬২.
‘যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে’- বাক্যে ‘নিজেরা নিজেরা’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বােঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন -
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১ )।
৪৬৩.
'ভালো' শব্দটি বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আপন ভালো সবাই চায়।
  2. তিনি সবসময় অন্যের ভালোর জন্য কাজ করেন।
  3. ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
  4. ভালো আর মন্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝা দরকার।
ব্যাখ্যা

ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।

[এই বাক্যে "ভালো" শব্দটি বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি "বাড়ি" শব্দটির গুণ বা বিশেষত্ব বর্ণনা করছে, অর্থাৎ বাড়ির গুণগত মান বা ভালোত্ব নির্দেশ করছে। অতএব, "ভালো" এখানে একটি বিশেষণ পদ।]

অন্যদিকে,
• আপন ভালো সবাই চায়।- এখানে "ভালো" শব্দটি বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
• তিনি সবসময় অন্যের ভালোর জন্য কাজ করেন।- এখানে "ভালো" শব্দটি বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
• ভালো আর মন্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝা দরকার।- এই বাক্যে "ভালো" এবং "মন্দ" উভয়ই বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

--------------------------
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন-
ভালো:
বিশেষণ রূপে- ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্য রূপে-  আপন ভালো সবাই চায়।

মন্দ:
বিশেষণ রূপে- মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্য রূপে-  এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

পুণ্য:
বিশেষণ রূপে- তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্য রূপে- পুণ্যে মতি হোক।

নিশীথ:
বিশেষণ রূপে- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
বিশেষ্য রূপে- গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

শীত:
বিশেষণ রূপে- শীতকালে কুয়াশা পড়ে।
বিশেষ্য রূপে- শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬৪.
'আপনা-আপনি' কোন সর্বনামের উদাহরণ?
  1. সংযােগজ্ঞাপক
  2. আত্মবাচক
  3. ব্যক্তিবাচক
  4. ব্যতিহারিক
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
- বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
- বাক্যে বিভিন্নরূপে সর্বনাম পদের ব্যবহার হয়। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি যায়।

যেমন:
→ ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তােমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা।
→ আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খােদ, আপনি।
→ সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
→ দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব। সাকল্যবাচক : সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
→ প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে।
→ অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
ব্যতিহারিক: আপনা-আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি।
→ সংযােগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যারা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
→ অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬৫.
ধাতুর শেষে 'আনি' প্রত্যয় যুক্ত করলে কোন পদ গঠিত হয়?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া  
ব্যাখ্যা
আনি - প্রত্যয়:
বিশেষ্য গঠনে প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
√জান্ + আনি = জানানি
√শুন্ + আনি = শুনানি
√উড়্ + আনি = উড়ানি

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৪৬৬.
"ওরা নিজেরা নিজেরা সমস্যার সমাধান করে ফেললো।"- বাক্যে 'নিজেরা নিজেরা'---
  1. ক) পারস্পরিক সর্বনাম
  2. খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. গ) নির্দেশক সর্বনাম
  4. ঘ) আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথাঃ
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনামঃ
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পরিক সর্বনাম: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলোঃ ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৬৭.
কোন শব্দটি বিশেষণ পদ?
  1. ইতিহাস
  2. উৎকর্ষ
  3. দারিদ্র্য
  4. অভ্যস্ত
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - অভ্যস্ত
- 'অভ্যস্ত' শব্দের বিশেষ্য পদ - অভ্যাস।
-  শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অভ্যাসদ্বারা আয়ত্ত।
- নিত্য আচরণজাত, স্বভাবপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ইতিহাস।
বিশেষণ পদ - ঐতিহাসিক।

বিশেষ্য পদ - উৎকর্ষ।
বিশেষণ পদ - উৎকৃষ্ট।

বিশেষ্য পদ - দারিদ্র্য।
বিশেষণ পদ - দরিদ্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৬৮.
কোনটি বিশ্লেষণ (বিশেষণ) বাচক শব্দ?
  1. ক) জীবনী
  2. খ) জীবন
  3. গ) জীবিকা
  4. ঘ) জীবাণু
ব্যাখ্যা
জীবন, জীবিকা ও জীবাণু বিশেষ্য বাচক শব্দ।
জীবনী বা আয়ু দান করে এমন অর্থে জীবনী বিশেষণ বাচক, কিন্তু জীবনবৃত্তান্ত বা জীবন কাহিনী অর্থে 'জীবনী' বিশেষ্য বাচক।

উৎস: বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৯.
'কিছু না খেলে আর পারছি না'- এখানে ‘কিছু’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• যে সর্বনাম দ্বারা অনির্দিষ্ট ও পরিচয়হীন কোন কিছুকে বুঝায় তাকে অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম বলে
এ ধরনের সর্বনাম হলো: কেউ, কেউ কেউ, কিছু
যেমন:
কোথাও কেউ নেই।
কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন।
কোন কিছু আমার জানা নেই।
কিছু না খেলে আর পারছি না
যে কেউ এর নিন্দা করেবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭০.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. ওর
  2. পরস্পর
  3. নিজে
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের। যথা:
→ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
→ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
→ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে , স্বয়ং।
• পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭১.
"শোনা" কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা- 
১. সংজ্ঞা বা নামবাচক, 
২. জাতিবাচক, 
৩. দ্রব্যবাচক, 
৪. সমষ্টিবাচক,
৫. ভাববাচক,
৬. গুণবাচক। 

১. সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য: যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে। যথা-
(ক) ব্যক্তির নাম: নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল। 
(খ) ভৌগোলিক স্থানের: ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা। 
(গ) ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর। 
(ঘ) গ্রন্থের নাম: 'গীতাঞ্জলি', 'অগ্নিবীণা', 'দেশে বিদেশে', 'বিশ্বনবি'। 

২. জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

৩. কতুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।

৫. ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), দেখা, শোনা।

৬. গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা-মধুর মিষ্টত্বের গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ-তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ- তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি। তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৪৭২.
বস্তু বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. বহর
  2. গমন
  3. বই
  4. সুখ
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সমষ্টিবাচক বিশেষ্য - বহর।
- ভাববাচক বিশেষ্য - গমন।
- গুণবাচক বিশেষ্য - সুখ।

বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭৩.
'হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।' এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• 'হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।' এখানে 'কিংবা' একটি বিয়োজক অব্যয়। 

--------------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়: 

যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

ক. সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

খ. বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
[এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।]

(ii) 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক।
[আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক।]

বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়।

গ. সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৭৪.
'আনন্দ' কোন জাতীয় বিশেষ্য?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. নাম-বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৪৭৫.
'যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।' এখানে 'যে-সে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক-এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪৭৬.
'দ্বেষ' এর বিশেষণ রূপ কী?
  1. ক) দ্বিষ্ট
  2. খ) বিদ্বেষ
  3. গ) দিষ্ট
  4. ঘ) দ্বেষী
ব্যাখ্যা

দ্বেষ (বিশেষ্য) ঈর্ষা; হিংসা; পরশ্রীকাতরতা।
দ্বিষ্ট (বিশেষণ) শত্রুভাবাপন্ন; যার প্রতি দ্বেষ করা হয়েছে; হিংসিত।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৪৭৭.
কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ?
  1. কালো মেঘ
  2. দক্ষ কারিগর
  3. রোগা ছেলে
  4. ছাব্বিশে মার্চ
ব্যাখ্যা
• অবস্থাবাচক বিশেষণ - রোগা ছেলে। 

নাম বিশেষণ:

- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
রূপবাচক: নীল আকাশ, কালো মেঘ;
গুণবাচক: দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে
সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ টাকা।
ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
পরিমাণবাচক: পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ?, কেমন অবস্থা।
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭৮.
'যার লাঠি, তার মাটি।' - কোন পদের উদাহরণ?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. যোজক
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'যার লাঠি, তার মাটি।' - সাপেক্ষ সর্বনাম পদের উদাহরণ।

সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন -
- যারা-তারা,
- যে-সে,
- যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল),
- যার-তার (যার লাঠি, তার মাটি) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭৯.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষণ?
  1. জগৎ
  2. উন্নয়ন
  3. সৌন্দর্য
  4. জাগতিক
ব্যাখ্যা
• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।

• 'উন্নয়ন'- শব্দটি বিশেষ্য। 
- উন্নয়ন এর বিশেষণ পদ- উন্নীত।

• সৌন্দর্য (বিশেষ্য):
অর্থ -
১ রূপ; মনোহর রূপমাধুরী (দৈহিক সৌন্দর্য)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
৪৮০.
কোনটি অনুকার অব্যয়?
  1. ক) কড় কড়
  2. খ) মর মর
  3. গ) ঝম ঝম
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে। যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়, বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম, শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর, বাতাসের গতি-, শন শন, কোকিলের রব- কুহু কুহু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮১.
নিচের কোনটি ব্যতিহারিক সর্বনাম?
  1. ক) আপসে
  2. খ) স্বয়ং
  3. গ) ওরা
  4. ঘ) সকল
ব্যাখ্যা
ব্যাতিহারিক সর্বনাম - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি। খোদ, স্বয়ং আত্মবাচক সর্বনাম। সব, সকল - সাকুল্যবাচক সর্বনাম। আমি, আমরা, তুমি, ওরা, তারা ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪৮২.
কোনটি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. যথাসময়ে
  2. কোথাও
  3. যে
  4. সামনে
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।

যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - কোথাও, সামনে।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - যথাসময়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৩.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
  1. দীনতা
  2. দয়া
  3. চালাক
  4. ধৈর্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- ঠান্ডা পানি।
[উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪৮৪.
কোনটি অন্য পক্ষের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
  1. আমাদের
  2. ওদের
  3. তোমরা
  4. আপনাকে
ব্যাখ্যা
• অন্য পক্ষের সর্বনামের উদাহরণ হলো: ওদের।

• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
 
• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
 
শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।
 
----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
 
সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।
 
- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৫.
নিচের কোন বিশেষ-বিশেষণ জোড় শুদ্ধ নয়?
  1. জরা-জীর্ণ
  2. চুরি-চোরাই
  3. জগৎ-জাগতিক
  4. ঢাল-ঢিলে
ব্যাখ্যা

[প্রশ্নে বানান ভুল আছে। প্রশ্নটি হতো- নিচের কোন বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় শুদ্ধ নয়?]

⇒ অশুদ্ধ বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় - ঢাল-ঢিলে।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ঢাল (বিশেষ্য),
- এটি হিন্দি শব্দ।
- অর্থ: ঢালু জমি, অস্ত্রাঘাত থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহৃত চামড়া পুরু বর্ম।
- ঢাল এর বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢালু।

• ঢিলা শব্দটি বাক্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা শব্দ।
অর্থ: শিথিলতা, অলস, শিথিল।
- ঢিলা শব্দের বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢিলে।

অন্যদিকে,
• জরা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- জরা শব্দের অর্থ: বৃদ্ধ, স্থবিরতা, বার্ধক্য।
- জরা শব্দের বিশেষণ: জীর্ণ।

• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।

• চুরি (বিশেষ্য),
- এটি তদ্ভব শব্দ।
- যার অর্থ: না বলে পরদ্রব্য হরণ, চৌর্য, গোপনে আত্মসাৎকরণ।
- চুরি শব্দের বিশেষণ: চোরাই।

৪৮৬.
‘পদ্মা’ কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৭.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের।
যথা:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।

• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।

• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৮.
‘স্বয়ং’ কোন ধরনের সর্বনাম পদের উদাহরণ?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম:
 কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: 
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: 
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৯.
ভাব বিশেষণ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

ভাব বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
- ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার

যথা:
১. ক্রিয়া বিশেষণ,
২. বিশেষণের বিশেষণ,
৩. অব্যয়ের বিশেষণ ও
৪. বাক্যের বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৯০.
'ঘুমন্ত শিশু' এখানে 'ঘুমন্ত' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
ব্যাখ্যা

 • 'ঘুমন্ত শিশু' এখানে 'ঘুমন্ত' অবস্থাবাচক  বিশেষণ।

অবস্থাবাচক বিশেষণ:

- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৪৯১.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) বাক্স
  3. গ) ইচ্ছা
  4. ঘ) হাত
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য: এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় । যেমন-  গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য: নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়। যেমন-
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড)।
৪৯২.
‘ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।’ বাক্যে ‘দ্রুত’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ: 
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৯৩.
'সাগর' - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. গুণ-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৯৪.
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। এখানে 'টাপুর টুপুর' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তিঃ
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে : সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা : ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

৪৯৫.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. তারুণ্য
  2. দুঃখ
  3. চলন্ত
  4. তিক্ততা 
ব্যাখ্যা



• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ। এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

-------------------------
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

৪৯৬.
“তোমরা নিজেরা নিজেরা সমস্যাটি মিটিয়ে ফেল।”- 
বাক্যটিতে  “নিজেরা নিজেরা” কোন ধরনের সর্বনাম পদ নির্দেশ করছে? 
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. ব্যতিহারিক সর্বনাম
  4. খ + গ 
ব্যাখ্যা

• “তোমরা নিজেরা নিজেরা সমস্যাটি মিটিয়ে ফেল।”—
এখানে “নিজেরা নিজেরা” হলো ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম এর উদাহরণ। 
- ব্যতিহারিক সর্বনাম পারস্পরিকতা বা একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
-------------------------------- 
ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম:
- ব্যতিহারিক সর্বনাম হলো সেইসব সর্বনাম, যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা পারস্পরিক ক্রিয়া প্রকাশ করে। 
- অর্থাৎ, এই সর্বনামগুলো ব্যবহার করা হয় তখন, যখন একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু একে অপরের প্রতি কোনো কাজ করে বা পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- এগুলো সাধারণত একই শব্দের পুনরাবৃত্তি বা সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- যেমন: আপনা-আপনি, নিজে-নিজে, আপসে, পরস্পর। 

- উদাহরণস্বরূপ,
- "পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে"? 
- “তারা আপনা-আপনিই সব কাজ করেছে”,
- “তারা পরস্পরকে সাহায্য করে”,
- “শিক্ষার্থীরা নিজে-নিজে খেলা করছে”- এই বাক্যগুলোতে দেখা যায়, কাজটি কেবল একমুখী নয়, বরং পক্ষগুলোর মধ্যে আবর্তিত হয়েছে।
------------------------ 
অন্যদিকে,
সকলবাচক সর্বনাম: 
- সকলবাচক সর্বনাম হচ্ছে বাক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি। 
- যেমন- 
- সবাই গেছে বনে। 
- সকলেই খাবার খেয়েছেন। 
- সকলেই ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন। 
- সবাই সমুদ্রে ঘুরতে যেতে চাচ্ছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

৪৯৭.
নিচের কোনটি কালনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) হিমালয়
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) পবন
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষ্যঃ ব্যক্তি, স্থান, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম বিশেষ্য বলে
যেমন-
ব্যক্তিনামঃ হাবিব, সজল, লতা, পাতা।
স্থাননামঃ ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনামঃ সোমবার, জানুয়ারি, বৈশাখ, রমজান।
সৃষ্টিনামঃ গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী) ২০২১ সালের এডিশন।
 
৪৯৮.
নিচের কোনটি ব্যক্তিবাচক সর্বনাম?
  1. আমি
  2. স্বয়ং
  3. উনি
  4. একজন
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের।
যথা:
→ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
→ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
→ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
- নির্দেশক সর্বনাম - উনি।
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম - একজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৪৯৯.
নিম্নের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. এবং
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিমান'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

• 'ঢাকা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• 'রাজশাহী'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• 'এবং'
- এটি একটি অব্যয় পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫০০.
নিচের কোনটি সর্বনামের প্রকারভেদ নয়?
  1. সংযোগজ্ঞাপক
  2. ব্যতিহারিক
  3. সামীপ্যবাচক
  4. পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

এখানে,
পূরণবাচক - নামে কোন সর্বনাম পদ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।