বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৩০১৪০০ / ১,৩১৩

৩০১.
'তিতাস একটি নদীর নাম' বাক্যটিতে 'নদী' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) নামবাচক
  2. খ) জাতিবাচক
  3. গ) বস্তুবাচক
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
নাম-বিশেষ্য
জাতি-বিশেষ্য
বহু-বিশেষ্য
সমষ্টি-বিশেষ্য
গুণ-বিশেষ্য
ক্রিয়া-বিশেষ্য

জাতি-বিশেষ্য :
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনাে নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

তাই 'তিতাস একটি নদীর নাম' বাক্যটিতে 'নদী' জাতি-বিশেষ্য ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০২.
নিচের কোনটি নামবাচক বিশেষ্য নয়?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) গোমতী
  3. গ) হিমালয়
  4. ঘ) মানুষ
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য বিশেষ ব্যক্তি, স্থান, দেশ, শিল্পকর্ম, পত্রিকা, বই, মাস, দিন ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট নাম বুঝায় তাকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঢাকা, পদ্মা, বৈশাখ, মঙ্গলবার ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ বই।
৩০৩.
'ভাটিয়াল' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ভাটিয়াল' - শব্দটি বিশেষণ পদ।

অর্থ: দক্ষিণ দেশীয়; যে নৌকা ভাটার মুখে যায়।




উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩০৪.
তিনি স্বয়ং তোমাকে দেখতে আসবেন।- বাক্যে ‘স্বয়ং’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ্যের মতোই কারক ও বচন ভেদে তার রূপের পরিবর্তন হয়।
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে- এ ভাব জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য আত্মবাচক সর্মনাম ব্যবহৃত।
যেমন:
- আমি নিজে নিজে অঙ্কটি করেছি।
- তিনি স্বয়ং তোমাকে দেখতে আসবেন।
- যাত্রীরা স্ব স্ব আসনে গিয়ে বসলেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩০৫.
“নীল আকাশ” – এখানে ‘নীল’ শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. বর্ণবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা
“নীল আকাশ” – এখানে ‘নীল’ শব্দটি বর্ণবাচক বিশেষণ।
-------------------------
• বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩০৬.
আত্মবাচক সর্বনাম কোনটি? 
  1. একজন
  2. যারা-তারা
  3. স্বয়ং 
  4. উনি
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।

যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নির্দেশক সর্বনাম - উনি।
সাপেক্ষ সর্বনাম - যারা-তারা।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - একজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০৭.
সমষ্টি-বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আকাশ
  2. দীনতা
  3. মানুষ
  4. মিছিল
ব্যাখ্যা
• সমষ্টি-বিশেষ্য = মিছিল

বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন - জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বস্তু-বিশেষ্যে = আকাশ।
• গুণ-বিশেষ্যে = দীনতা।
• জাতি-বিশেষ্যে = মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৮.
'সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?' বাক্যে 'সুস্থ-সবল' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• নাম-বিশেষণ:
যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে, তাকে নাম-বিশেষণ বলে। একই শব্দ বিশেষ্য কিংবা সর্বনামের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

যেমন-
• বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- তিনি অভিজ্ঞ মিস্ত্রি।

• সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবানগুণবান
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৯.
"তুমি কী গান করেছ।" - এখানে 'কী' কোন পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম 
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

• বাক্যটি — “তুমি কী গান করেছ?”
এখানে, “কী” শব্দটি ‘গান’ (বিশেষ্য)-কে বিশেষিত করছে।
অর্থাৎ, “কেমন গান” বা “কোন গান” — এইভাবে প্রশ্ন করছে।

তাই “কী” এখানে প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) বিশেষণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১০.
‘নীল আকাশ’ কি বাচক নাম বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক
  2. খ) গুণবাচক
  3. গ) ভাববাচক
  4. ঘ) অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
• নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

• রূপবাচক: নীল আকাশ, কালো মেঘ;
• গুণবাচক: দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে;
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ টাকা।
• ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা;
• পরিমাণবাচক: পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
• অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ;
• উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ, কেমন অবস্থা;
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১১.
ইউরোপের দেশগুলোতে গাড়ি বেশ জোড়ে চলে। এখানে ‘বেশ’ শব্দটি কী?
  1. ক) ভাববাচক বিশেষণ
  2. খ) বিধেয় বিশেষণ
  3. গ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর' ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩১২.
"কেরোসিন একটি তরল পদার্থ।" এখানে 'তরল' কোন ধরণের বিশেষণ?
  1. ভাববাচক
  2. গুণবাচক
  3. উপাদান বাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
• "কেরোসিন একটি তরল পদার্থ।" এখানে 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩১৩.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পানি
  2. দল
  3. পর্বত
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
​-------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
​যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
​যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩১৪.
নিচের কোনটি বাক্যে সংকোচক অব্যয় হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ও
  2. খ) কিংবা
  3. গ) যদিও
  4. ঘ) অথচ
ব্যাখ্যা
সংযোজক অব্যয় - ও, তাই, আর ইত্যাদি।
বিয়োজক অব্যয় - কিংবা, কিন্তু, অথবা ইত্যাদি।
সংকোচক অব্যয় - অথচ, বরংচ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৫.
কোনটি বস্তু বিশেষ্য?
  1. বই
  2. গরু
  3. পদ্মা
  4. সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

বস্তু-বিশেষ্য:
​- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।

​যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য - সঞ্চিতা, পদ্মা।
জাতি-বিশেষ্য- গরু।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩১৬.
কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. এরা
  2. কোথাও
  3. যারা-তারা
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি। নির্দেশক সর্বনাম - নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩১৭.
'লোকটি চলন্ত ট্রেনে লাফিয়ে উঠল' বাক্যে 'চলন্ত' শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) অবস্থাবাচক
  3. গ) উপাদানবাচক
  4. ঘ) বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বাক্যে 'চলন্ত' শব্দটি অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

- অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

- ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

- উপাদানবাচক: 
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। 
যেমন, 'বেলে মাটি' 'পাথুরে মুর্তি' তে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

- বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘লােকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘােলা’ – বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৮.
জাতিবাচক বিশেষ্য পদের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পর্বত
  2. নদী
  3. সাগর
  4. আকাশ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৯.
"এ যে আমাদের চেনা লোক" বাক্যে 'চেনা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে ‘চেনা’ - বিশেষণ পদ।
---------------- 
• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেষণ পদ] 

• ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে বিশেষ্য - 'লােক' শব্দটির অবস্থা বর্ণনা করেছে 'চেনা' শব্দটি। তাই 'চেনা' শব্দটি বিশেষণ।
- এছাড়াও,
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘চেনা’ বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২০.
নিচের কোনটিতে বিশেষণের অতিশায়ন আছে?
  1. ক) তিল থেকে তৈল হয়।
  2. খ) আসমান হতে বৃষ্টি পড়ে।
  3. গ) তুমি আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।
  4. ঘ) চিনির চেয়ে মধু মিষ্টি বেশি।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
বিশেষণের মধ্যে তুলনা থাকবে না।
যেমন:
- তিল থেকে তৈল হয়। 
- আসমান হতে বৃষ্টি পড়ে।
- তুমি আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।

বিশেষণের অতিশায়ন:
বিশেষণের মধ্যে তুলনা থাকবে।
- গোরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি।
- পদ্ম হতে গোলাপ বেশি সুন্দর। 
- বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
৩২১.
'এ যে আমাদের চেনা লোক'- এ বাক্যে 'চেনা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে ‘চেনা’ - বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেসণ পদ]

- ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে বিশেষ্য 'লােক' শব্দটির অবস্থা বর্ণনা করেছে 'চেনা' শব্দটি। তাই 'চেনা' শব্দটি বিশেষণ।
- এছাড়াও, বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘চেনা’ বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩২২.
নিচের কোনটি ব্যক্তিবাচক সর্বনামের সম্ভ্রমাত্মক রূপ?
  1. আমরা
  2. তুমি
  3. তাঁর
  4. তোমাকে
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনামের রূপ: 
সাধারণ রূপ : আমি, আমরা, আমাকে, আমাদিগকে, আমার, আমাদের,  তোমাদিগকে, তোমার, তোমাদের তুমি, তোমরা, তোমাকে, সে, তারা, তাহারা, তাকে, তাহাকে, মোর, মোরা।

• সম্ভ্রমাত্মক রুপ :  আপনি, আপনারা, আপনাকে, আপনার, আপনাদের, তিনি, তাঁরা, তাঁহারা, তাঁদের, তাঁহাদের, তাঁহাদিগকে, তাঁদেরকে, তাঁহাকে, তাঁকে, ইনি, এঁর, এঁরা, ইঁহাদের, এঁদের, ইহাকে, এঁকে, উনি, ওঁর, ওঁরা, ওঁদের।

• তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক : ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা, ও, ওরা, ওদের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৩২৩.
'অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ' বাক্যটির 'অতি' শব্দটি-
  1. নাম বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ভাব বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোন বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
[এখানে "অতি" বিশেষ্য পদ  "ভক্তি"কে বিশেষিত করছে। তাই এখানে 'অতি' হচ্ছে বিশেষ্যের বিশেষণ।]

"অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ" বাক্যটিতে 'অতি' শব্দটি হল বিশেষ্যের বিশেষণ।

এই বাক্যে "অতি" শব্দটি "ভক্তি" শব্দের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। "অতি" শব্দটি "ভক্তি" নামক বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ ভক্তির মাত্রা বা পরিমাণকে নির্দেশ করছে। এখানে "অতি" শব্দটি "অত্যধিক" বা "অতিরিক্ত" ভক্তিকে বোঝাচ্ছে।

বিশেষ্যের বিশেষণ হল এমন বিশেষণ যা কোনো বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে অথবা তার গুণ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি নির্দেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।।
৩২৪.
'শ্রেণি' শব্দটির পদ শনাক্ত করুন।
  1. ক) দ্রব্যবাচক বিশেষ্য
  2. খ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  3. গ) শ্রেণিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা একজাতীয় ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, শ্রেণী, বাহিনী, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩২৫.
'আমি কি যাব?' - বাক্যটিতে 'কি' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
 
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
 
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৬.
'উজ্জ্বলতা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'উজ্জ্বলতা':
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- প্রভা, দীপ্তি, নির্মলতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২৭.
'সামান্য একটু পানি দাও' এই বাক্যে 'সামান্য' কোন পদ?
  1. বিশেষণীয় বিশেষণ
  2. সর্বনামের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন: 'সামান্য একটু পানি দাও।' এই বাক্যে 'সামান্য' বিশেষণীয় বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
- যেমন: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।

• অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
- যথা- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলাভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩২৮.
"তুমি আজ স্কুলে যাবে কি?" - এখানে 'কি' কোন প্রকারের পদ?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "তুমি আজ স্কুলে যাবে কি?" - এখানে 'কি' অব্যয় পদ।

• বাক্যটি — "তুমি আজ স্কুলে যাবে কি?" — এখানে "কি" শব্দটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর কোনো লিঙ্গ, বচন, কারক বা কাল পরিবর্তন হয় না। বাংলা ব্যাকরণে এমন অপরিবর্তনীয় শব্দকে অব্যয় বলা হয়।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম হতো যদি শব্দটি কোনো বস্তু, ব্যক্তি বা সংখ্যাকে নির্দেশ করত (যেমন: কে, কী, কোন)। 'তোমার জেলার নাম কী?' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ।

• কিন্তু এখানে "কি" কেবল প্রশ্ন করার ভঙ্গি যোগ করছে, তাই এটি প্রশ্নসূচক অব্যয়

সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ]; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা লেখার নিয়মকানুন- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৯.
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন। এই বাক্যের ‘হে’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা

সম্বোধন বা আহবান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়া শব্দকে সম্বোধন আবেগ বলে।
যেমন :
- ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।
- হে বন্ধু, বিদায়
- হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০২১)

৩৩০.
‘দহন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. দহনকারী
  2. দাহ্য
  3. দাহ্যনীয়
  4. দগ্ধ
ব্যাখ্যা
• দহন [দহোন্‌] (বিশেষ্য):
শব্দের অর্থ:
১ দগ্ধকরণ; জ্বালা; পোড়া; দাহ।
২ অগ্নি (বেহান বিকাল যায় দহন সেবনে-কবি কঙ্কণ কুমুন্দরাম চক্রবর্তী)।
৩ ((আলঙ্কারিক)) যন্ত্রণা (হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয়-চণ্ডীদাস)।

- দাহক (বিশেষণ) ; দহনকারী (বিশ্বদহন ক্রোধ)।
- দহনক্রিয়া (বিশেষ্য) জ্বলনের কাজ (দহনক্রিয়ার অর্থই হল দ্রুতবেগে অক্সিজেনের সঙ্গে মিলন-শামসুল হক ফজলুর রহমান)।
- দাহ্য; দহনীয় (বিশেষণ)  দহনের উপযুক্ত; দহনযোগ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান
৩৩১.
‘যাকগে, ওসব কথা থাক।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘যাকগে’ কোন পদের দৃষ্টান্ত? 
  1. আবেগ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-শব্দ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩২.
বপন শব্দের বিশেষণরূপ কী?
  1. বপনকৃত
  2. বপনতা
  3. উপ্ত
  4. সুপ্ত
ব্যাখ্যা

বপন শব্দের বিশেষণ উপ্ত।
আরও উদাহরণ :
ঐক্য - এক
সূর্য - সৌর
ভোজন - ভুক্ত
লয় – লীন
শক্তি - শাক্ত

৩৩৩.
পদ বিবেচনায় শব্দকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. পাঁচ
  2. চার
  3. আট
  4. সাত
ব্যাখ্যা
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়াবিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক ও ৮. আবেগ।

→ বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন, যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি- তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩৪.
রূপবাচক নাম বিশেষণ কোনটি?
  1. সবুজ মাঠ
  2. দক্ষ কারিগর
  3. মেটে কলসি
  4. তাজা মাছ
ব্যাখ্যা

• রূপবাচক নাম বিশেষণ - সবুজ মাঠ

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩৫.
‘তাই, ও, আর’ অব্যয়গুলোর নাম কী?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• তাই, ও, আর অব্যয়গুলোর নাম - সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়:

- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।
(ii) 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক। আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক। বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়। 

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৬.
"মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! " - বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন,
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৩৭.
‘সবুজ মাঠের পরে আমাদের গ্রাম’- বাক্যটিতে বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. আমাদের
  2. মাঠের
  3. সবুজ
  4. পরে
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যেসব শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুন, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন,
সুন্দর ফুল, বাজে কথা, লাল ফিতা, নীল আকাশ ইত্যাদি।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন, 
- নীল আকাশ।
- লাল ফিতা।
এখানে 'নীল', 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

একইভাবে, 
'সবুজ মাঠ পেরিয়ে আমাদের গ্রাম।' - বাক্যটিতে 'সবুজ' বিশেষণ পদ।

তথ্যসূত্র:-  বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৮.
'যেমন-তেমন' - কোন প্রকার সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক
  2. অনির্দিষ্ট
  3. নির্দেশক
  4. সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।
নির্দেশক সর্বনাম - নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩৯.
'পর্বত' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. বস্তুবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪০.
‘যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যদি’ শব্দটি কোন পদ নির্দেশ করে?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যদি’ শব্দটি যোজক পদ হিসেবে বাক্য ও পদ যুক্ত করেছে।

যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৪১.
বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
সর্বনামের পুরুষ:
- বাংলা ব্যাকরণে কেবলমাত্র বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেরই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের কোন পুরুষ নাই।

বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ ৩ প্রকার।
যথা-
উত্তম পুরুষ: আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি
মধ্যম পুরুষ: তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনি, আপনারা ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ: সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি নাম পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪২.
"তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।" - বাক্যে ‘না’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সম্ভাবনা
  2. সংশয়
  3. বিস্ময়
  4. অনুমান 
ব্যাখ্যা

• "তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।" - বাক্যে ‘না’ শব্দটি — সম্ভাবনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে 'না' অব্যয়ের ব্যবহার-
নিষেধ অর্থে - এখন যেও না।
• বিকল্প প্রকাশে - তিনি যাবেন, না হয় আমি যাব। 
• আদর প্রকাশে বা অনুরােধে-  আর একটি মিষ্টি খাও না খােকা। আর একটা গান গাও না।
• সম্ভাবনায় - তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।
• বিস্ময়ে - কী করেই না দিন কাটাচ্ছ। 
• তুলনায় - ছেলে তাে না, যেন একটা হিটলার।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৩.
কোনটি বিস্ময় আবেগের দৃষ্টান্ত?
  1. অ্যাঁ, বলছ কী?
  2. বাহ, চমৎকার লিখেছ।
  3. বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
  4. আহ! কী বিপদ।
ব্যাখ্যা
⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

অন্যদিকে,
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৪.
'তিক্ততা' কোন পদের উদাহরণ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. গুণবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৫.
নিচের কোন বাক্যে ‘কি’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তুমি যাবে কী?
  2. তুমি কি আমাকে চেনো?
  3. কী করি আজ ভেবে না পাই!
  4. আহা! কি যে সুন্দর!
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) তুমি কি আমাকে চেনো?

--------------------
'কি' এবং 'কী' এর ব্যবহারবিধি:

'কি' (হ্রস্ব ই-কার):
- প্রশ্নবোধক অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় (হ্যাঁ/না উত্তরের প্রশ্নে)। ("তুমি যাবে কী?" না হয়ে হবে- তুমি যাবে কি?")
- সন্দেহ বা বিস্ময় প্রকাশে। ("কী করি আজ ভেবে না পাই!" না হয়ে হবে- কি করি আজ ভেবে না পাই!)

'কী' (দীর্ঘ ঈ-কার):
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম (কোন জিনিস/বিষয়)।
- বিস্ময়সূচক অব্যয়।
- বিস্ময়সূচক বাক্যের প্রথমে অব্যয় হয়। ("আহা! কি যে সুন্দর!" না হয়ে হবে- আহা! কী যে সুন্দর!)

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৪৬.
বাক্যের অপরিবর্তনীয় পদ কোনটি?
  1. বিশেষ্য 
  2. সর্বনাম পদ
  3. অব্যয় পদ
  4. ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৭.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. ক) মোহ
  2. খ) বিষাদ
  3. গ) লাজ
  4. ঘ) বাস্তব
ব্যাখ্যা
বাস্তব হলো বিশেষণ পদ যার বিশেষ্য রূপ হলো বস্তু। অন্যদিকে মোহ, বিষাদ এবং লাজ হলো বিশেষ্য পদ যাদের বিশেষণ হলো যথাক্রমে মুগ্ধ/মূঢ়, বিষণ্ন এবং লাজুক। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৩৪৮.
"এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

• "এ বিষয়ে তোমার মত কী?" - এ বাক্যে 'মত' বিশেষ্য পদ। 



বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৯.
'ইত্তেফাক' - শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৫০.
'ঐকতান' বোঝায়-
  1. ক) সমস্বর
  2. খ) ঐক্য
  3. গ) সমবেদনা
  4. ঘ) বংশীধ্বনি
ব্যাখ্যা
ঐকতান (বিশেষ্য) 
অর্থ: সম্মিলিত সুর, বৃন্দবাদন, একাধিক কণ্ঠে সমস্বরে গায়ন।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৫১.
যে পদ দ্বারা কোনো এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বুঝায়, তাকে বলে -
  1. ভাববাচক বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. জাতিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন-
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫২.
কোন ধরনের বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. বিধেয় বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষণ
  4. বর্ণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর। 
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[ এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।]

---------------------
• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘লােকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘােলা’ – বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ কবা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে নীল, সবুজ বা ললি’ হলাে বর্ণবাচক বিশেষণ।


• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৫৩.
‘আনন্দ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. আবেগ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘আনন্দ’ গুণবাচক বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

--------------------------
• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৪.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চিরন্তন
  2. চিরনিদ্রা
  3. চিরতুষার
  4. চিরদারিদ্র্য
ব্যাখ্যা


• বিশেষণ পদ:

যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- চিরন্তন, চিরঞ্জীবী, চিরতরুণ, চিরদীন, চিরবাঞ্চিত।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- চিরনিদ্রা, চিরদৈন্য, চিরতুষার, চিরদারিদ্র্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৫৫.
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. সমষ্টি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।

১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন –
ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।


৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি। 

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৩৫৬.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. অভিমুখিতা
  2. চিরন্তন
  3. গতকল্য
  4. গতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - চিরন্তন। 
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- নিত্য; চিরকালীন,
- দীর্ঘকালব্যাপী; অবিনশ্বর।

বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।

বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- গতিবিদ্যা, গতকল্য, অভিমুখিতা, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৫৭.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) ত্রিনয়ণ
  2. খ) দুর্ণিবার
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) নিপুন
ব্যাখ্যা
সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন- নিপুণ, মাণিক্য, বাণিজ্য, লবণ, মণ, কল্যাণ, গুণ, বিপণি, পাণি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৮.
কর্তা নিজেই কোন কাজ করেছে, তা বোঝাতে কোন সর্বনাম হয়?
  1. নির্দেশক
  2. ব্যক্তিবাচক
  3. আত্মবাচক
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝাতে আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 
নিজে (সে নিজে অঙ্কটি করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
-------------- 
নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
- দূর নির্দেশক:  ও, ওই, ওরা, উনি।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৯.
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। এখানে 'ঝির ঝির' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তিঃ
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে : সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা : ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

৩৬০.
"সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে।” - এ বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ:
যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
- সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
- সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬১.
'ফুল' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৬২.
কোনটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম?
  1. ক) পর
  2. খ) সমস্ত
  3. গ) কোথাও
  4. ঘ) সে
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনামঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
• আত্মবাচক সর্বনামঃ স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
নির্দেশক সর্বনাম:
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
• অনির্দষ্ট সর্বনাম: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
• প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
• সাপেক্ষ সর্বনাম: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
• পারস্পারিক সর্বনাম: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
• সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
• অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: নবম - দশম শ্রেণীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬৩.
"হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।" বাক্যে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
. সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

• সমুচ্চয়ী অব্যয় ৪ প্রকারের।

- সংকোচক অব্যয়, 
- বিয়োজক অব্যয়, 
- সংযোজক অব্যয়,
- অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়,

• বিয়োজক অব্যয়:

"হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।"
এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।

অন্যদিকে,

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।

• অনুসর্গ অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যথা: ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।

• সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৬৪.
কোন বাক্যে দাগাঙ্কিত শব্দটি বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) তোমার এ পূণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক হোক।
  2. খ) এ এক বিরাট সত্য
  3. গ) মন্দ কথা বলতে নেই
  4. ঘ) নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
ব্যাখ্যা
'এ এক বিরাট সত্য।' বাক্যে 'সত্য' বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'সত্য পথে থেকে সত্য কথা বলবে।' বাক্যে সত্য বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে

'মন্দ কথা বলতে নেই'
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।'
'তোমার এ পূণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক হোক।'
উপরোক্ত বাক্য তিনটিতে, 'মন্দ', 'নিশীথ' এবং 'পূণ্য' বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৫.
নিচের কোনটি বৈকল্পিক যোজক?
  1. যেহেতু
  2. অথচ
  3. তবু
  4. কিন্তু
ব্যাখ্যা

• যোজক শব্দের কাজ একাধিক পদ, খণ্ডবাক্য কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। অর্থ ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী যোজক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে।
যেমন:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের শব্দশ্রেণি দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। সাধারণ যোজক শব্দ হলো- এবং, ও, আর। যেমন : মিমিয়া আর আলিয়া দু বোন। সুখ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে না। স্কুলে যাও এবং পঠ মন দাও।

• বৈকল্পিক যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ। যেমন- সাদা বা কালো। তিনি হয় রিকশায় না হয় হেঁটে যাবেন। সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

• বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে। বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু। যেমন: তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। এই বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।

• কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। কারণবাচক যোজক হলো– কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব। যেমন: জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট। যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপুরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলে যথা... তথা, যত .... তত, যখন ... তখন, যেমন তেমন, যেরূপ সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬৬.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. বৈশাখ
  2. ছাগল
  3. ইত্তেফাক
  4. গীতাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - বৈশাখ, ইত্তেফাক, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬৭.
“কেউ-কোথাও” কোন ধরনের সর্বনাম পদের উদাহরণ?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. পারস্পরিক সর্বনাম
  3. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  5. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি। 

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৮.
কোনটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বিশিষ্ট বাক্য?
  1. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  2. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  3. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে - একটি ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
• উদাহরণ
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
• উদাহরণ
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
• উদাহরণ
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:

- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
• উদাহরণ
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৯.
'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ কোনটি?
  1. সার্বজনীয়
  2. সর্বজনীনতা
  3. সার্বজনীন
  4. সর্বজনীয়
ব্যাখ্যা
• 'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ — 'সার্বজনীন'।

• 'সর্বজন' - শব্দের অর্থ:
- সকল নরনারী।

অন্যদিকে, 
সর্বজনীন (বিশেষ্য) - সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৭০.
'চলন্ত ট্রেন' - এখানে 'চলন্ত' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ভাববাচক বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে:
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৭১.
সর্বনাম পদ কে কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৭
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
সর্বনামকে নয় টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথা: 
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
২. আত্নবাচক সর্বনাম
৩. নির্দেশক সর্বনাম
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম
৭. পারস্পরিক সর্বনাম
৮. সকলবাচক সর্বনাম
৯. অন্যবাচক সর্বনাম

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭২.
'যথা ধর্ম তথা জয়' - এটি কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বাক্যালংকার অব্যয়
  2. নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন: যথা-তথা, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।
উদাহরণ-
- যথা ধর্ম তথা জয়।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়:
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়।
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যেমন:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বাতাসের ধ্বনি - শনশন।
নূপুরের আওয়াজ - রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৩.
'মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ।' -বাক্যে 'মরি মরি' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. অনুসর্গ
  2. অনন্বয়ী
  3. অনুকার
  4. পদান্বয়ী
ব্যাখ্যা

• 'মরি মরি ! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ।'- এ বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়। 

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭৪.
ছেলেটি চালাক। - এ বাক্যে ‘চালাক’ কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. ভাববাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ছেলেটি চালাক/ চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৭৫.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. অথবা
  2. যেরূপ-সেরূপ
  3. শন শন
  4. অধিকন্তু
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যেরূপ-সেরূপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অধিকন্তু - সংযোজক অব্যয়।
- অথবা - বিয়োজক অব্যয়।
- শন শন - অনুকার দ্বিরুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭৬.
'কেউ' কোন ধরনের সর্বনাম? 
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. পারস্পরিক সর্বনাম
  3. সকলবাচক সর্বনাম
  4. অন্যবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

• সকলবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়।
যেমন- সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

• অন্যবাচক সর্বনাম:
- নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন - অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩৭৭.
'ঠান্ডা হাওয়া' এখানে 'ঠান্ডা'কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. বর্ণবাচক
ব্যাখ্যা

• নাম-বিশেষণ:
যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে, তাকে নাম-বিশেষণ বলে।
নাম-বিশেষণ নিম্নলিখিত কয়েক প্রকারের হতে পারে।
যেমন:
• বর্ণবাচক: বিশেষিত পদের বর্ণ বা রং নির্দেশ করে।যেমন: সবুজ মাঠ, নীল আকাশ, কালো মেঘ ইত্যাদি।
• গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
• অংশবাচক: বিশেষিত পদের অংশ প্রকাশ করে। যেমন: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
• অবস্থাবাচক: বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা নির্দেশ করে। যেমন: হাজার লোক, দশ টাকা, শ টাকা, সাত দিন।
• ক্রমবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা ক্রমিক অবস্থা নির্দেশ করে। যেমন: দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
• পরিমাণবাচক: বিশেষিত পদের পরিমাণ বা মাত্রা নির্দেশ করে। যেমন: বিষাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, এক কেজি চাল ইত্যাদি।
• উপাদানবাচক: বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
• প্রশ্নবাচক: প্রশ্নবাচক পদের জবাব বিশেষণ হয়। যেমন: কত দূর পথ? কেমন অবস্থা? কতক্ষণ সময়?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭৮.
আমি বলি কী, পরীক্ষাটা এবার দিয়ে দাও।। - এ বাক্যে ‘কী’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে সর্বনাম দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটায় তাকে সংযোগবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন : 
- কলেজে গিয়ে দেখি যে, ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। 
- আমি বলি কী, পরীক্ষাটা এবার দিয়ে দাও।

উৎস : মাধ্যমিক ব্যাকরণ (নতুন) এবং বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
৩৭৯.
নিচের কোনটি সামীপ্যবাচক সর্বনাম পদ?
  1. ঐসব
  2. ইহারা
  3. সমুদয়
  4. নিজে নিজে
ব্যাখ্যা
সর্বনাম পদ: 
বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। 
যেমন,
- রাহাত ভালো ছেলে, সে নিয়মিত স্কুলে যায়। 
- উপরোক্ত উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘সে' শব্দটি রাহাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ‘সে’ হলো সর্বনাম পদ। 

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 
• ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা ইত্যাদি। 
• আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ইত্যাদি। 
• সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। 
• দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব ইত্যাদি। 
• সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি। 
• প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ইত্যাদি। 
• অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি। 
• ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি। 
• সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি। 
• অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮০.
'পরিশ্রমীরা উন্নতি করে' - বাক্যে 'পরিশ্রমীরা' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. রূপবাচক বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- সততা একটি মহৎ গুণ। বিশেষণ করিম সৎ তাই সে মহৎ।
- তাহলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?
- উভয়ের দুটি উদাহরণ লক্ষ করা যাক- প্রথম বাক্যে সততা হলো সৎ ব্যক্তির গুণ অর্থাৎ যাদের মধ্যে সৎ গুণ রয়েছে তারাই 'সততা'র অন্তর্ভুক্ত।
- তাহলে সততা' একটি বিশেষ গুণের নামকেই প্রকাশ করছে, সুতরাং 'সততা' শব্দটি গুণবাচক বিশেষ্য হবে।
- অপর পক্ষে দ্বিতীয় বাক্যটিতে 'করিম' সম্পর্কে গুণ প্রকাশ করা সম্পর্কে যদি গুণ প্রকাশ করা হয় তবে তা হবে বিশেষণ।

একইভাবে,
• সাহসী হওয়া ভাল - 'সাহসী' বিশেষণ।
• তার সাহস আছে - 'সাহস' গুণবাচক বিশেষ্য।
• পরিশ্রমীরা উন্নতি করে - 'পরিশ্রমীরা' গুণবাচক বিশেষ্য।
• সে পরিশ্রমী - 'পরিশ্রমী' বিশেষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮১.
'চাতুর্য' এর বিশেষণ কোনটি?
  1. চতুরালি
  2. চতুরতা
  3. চাতুরতা
  4. চতুর
ব্যাখ্যা
• 'চাতুর্য' শব্দের বিশেষণ = 'চতুর'।

চাতুর্য (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ: চতুরতা। 

চতুর (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ:
- ধূর্ত, বুদ্ধিমান, নিপুন।
- ঠগ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৮২.
‘যমুনা’ কোন ধরণের বিশেষ্য?
  1. ক) বস্তু-বিশেষ্য
  2. খ) স্থাননাম-বিশেষ্য
  3. গ) সৃষ্টিনাম-বিশেষ্য
  4. ঘ) কালনাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন -
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

বস্তু বিশেষ্য: কোনাে দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সুতরাং, যমুনা স্থাননাম বিশেষ্য হবে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩৮৩.
'নিশ্চয়ই পারব।' এখানে 'নিশ্চয়ই' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
হ্যাঁ, আমি যাব।
না, আমি যাব না।

সম্মতি প্রকাশে:
-আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৮৪.
"তুমি" সর্বনামবাচক শব্দটি কোন পুরুষ?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. নাম পুরুষ
  4. ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক পুরুষ
ব্যাখ্যা
• সর্বনামের পুরুষ:
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।

১. উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

২. মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, তোমাদিগকে, আপনি, আপনারা, আপনার, আপনাদের প্রভৃতি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

৩. নাম পুরুষ:
অনুপস্থিত অথবা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীই নাম পুরুষ। সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁকে, তাঁরা, তাঁদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৮৫.
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে কী বলে?
  1. ক) ভাব বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে। অর্থাৎ এই পদ বিশেষণ পদকে বিশেষিত করে।
যেমন -
খুব ভালো ছাত্র।

নাম বিশেষণ:
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে তাকে নাম বিশেষণ বলে। বিশেশ্যকে বিশেষিত করলে তাকে বলা হয় বিশেষ্যের বিশেষণ; ার সর্বনামকে বিশেষিত করলে তাকে বলা হয় সর্বনামের বিশেষণ। তবে একই শব্দ বিশেষ্য কিংবা সর্বনামের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ: 
বিশেষ্যের বিশেষণ: দুষ্ট ছেলেটা দৌড়ে পালালো।
সর্বনামের বিশেষণ: দুষ্ট, তোকে দিয়ে কোনো কাজ হবে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৮৬.
'গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।' - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. অনুসর্গ
  3. বিয়োজক
  4. সংযোজক
ব্যাখ্যা

• 'গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।'- এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
- গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 

এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮৭.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।' - বাক্যে 'উঃ!' কী ধরনের অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনুসর্গ
  4. অনুকার
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

কিছু অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ হলো:
•  ‘হ্যাঁ’ আমি যাব না (স্বীকৃতি জ্ঞাপনে)।
•  উঃ!’ পায়ে বড্ড লেগেছে (যন্ত্রণা প্রকাশে)।
• ‘ওগো’ আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে' (সম্বোধন অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৮.
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে কী শব্দ বলে?
  1. ক্রিয়া
  2. অনুসর্গ
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
- দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
- সর্বনাম মোট নয় প্রকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩৮৯.
জাতি বাচক বিশেষ্যের উদহারণ কোনটি?
  1. সৌরভ
  2. বই
  3. গাছ
  4. সমিতি
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল,  বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]
 
৩৯০.
“তুমি, তোমরা, আপনি” – কোন পুরুষের উদাহরণ?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. নাম পুরুষ
  4. প্রথম পুরুষ
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯১.
সিক্ত নীলাম্বরী রেখাঙ্কিত পদের নাম কী?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সিক্ত (বিশেষণ) - ভেজা; আর্দ্র।
• নীলাম্বরী (বিশেষ্য) - নীল শাড়ি; নীল বস্ত্র।

• কেবল 'সিক্ত' বা কেবল 'নীলাম্বরী' পদ যদি রেখাঙ্কিত থাকতো তাহলে এখানে নির্দিষ্ট করে বিশেষ্য বা বিশেষণ চিহ্নিত করা যেত। 
কিন্তু এখানে যেহেতু সম্পূর্ণ 'সিক্ত নীলাম্বরী' অংশ রেখাঙ্কিত রয়েছে তাই এটি বিশেষ্য পদ হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা শব্দগুচ্ছ হিসেবে এটি বস্তু-বিশেষ্য নির্দেশ করছে।

• বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকেই বিশেষ্য বলে।
- যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
- কোন দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৯২.
'সুশোভন' - কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সুশোভন' - বিশেষণ পদ।

বিশেষণ :
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন - 
রক্তাক্ত (বিশেষণ): রক্তে মাখা; রক্তরঞ্জিত।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯৩.
নিচের কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) মানুষ
  2. খ) পর্বত
  3. গ) নদী
  4. ঘ) সভা
ব্যাখ্যা

- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।

অপরদিকে,
মানুষ, পর্বত ও নদী হলো জাতিবাচক বিশেষ্য৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৯৪.
বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় -
  1. ক) যথা
  2. খ) সদা
  3. গ) শাবাশ
  4. ঘ) অর্থাৎ
ব্যাখ্যা

ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে--
বাংলা অব্যয়- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয়- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, বৈদাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশি অব্যয়- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯৫.
"সে অত্যন্ত পরিশ্রমী" – এখানে "অত্যন্ত" কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

উপরিউক্ত বাক্যটিতে,
"পরিশ্রমী" হলো একটি নাম-বিশেষণ, যা কোনো ব্যক্তির গুণ প্রকাশ করে।
আবার, "অত্যন্ত" শব্দটি "পরিশ্রমী" বিশেষণটিকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ এটি বিশেষণকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করছে।
যেহেতু, যেসব শব্দ বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাদের বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। সুতরাং, এ বাক্যে 'অত্যন্ত' বিশেষণের বিশেষণ।

অন্য অপশন:
(ক) বিশেষ্য → "অত্যন্ত" বিশেষ্য নয়, কারণ এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নির্দেশ করে না।
(খ) ক্রিয়া → "অত্যন্ত" কোনো কাজ বা কর্ম বোঝাচ্ছে না, তাই এটি ক্রিয়া নয়।
 (ঘ) সর্বনাম → এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তু নির্দেশ করছে না, তাই সর্বনামও নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯৬.
'কর্তব্য' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) কাজ
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) কার্য
  4. ঘ) করণীয়
ব্যাখ্যা
কর্তব্য (বিশেষণ) 
অর্থ: করণীয়, উচিত। 


কার্য  (বিশেষ্য) 
অর্থ: 
- কাজকর্ম 
- প্রয়োজন, নিমিত্ত
- উপকার, ফল
- শাস্ত্র বিহিত ক্রিয়াকর্ম ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৯৭.
'পঞ্চায়েত' কোন প্রকার বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. নামবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন-
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।

নামবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৯৮.
'বুদ্ধিমান' এর বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. বৃদ্ধিত্ব
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বৃদ্ধি
  4. চাতুর্য
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিমত্তা (বিশেষ্য) : 
- ধীশক্তি,
- বুদ্ধিশালিতা, 
- বিজ্ঞতা, 
- মনীষা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
৩৯৯.
'সমুদয় সভ্যগণ আসিয়াছেন।' - বাক্যে 'সমুদয়' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'সমুদয় সভ্যগণ আসিয়াছেন।' - বাক্যে 'সমুদয়' সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম।

সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম:

- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪০০.
বিভক্তিযুক্ত শব্দকে কী বলে?
  1. পদ
  2. প্রাতিপাদিক
  3. অক্ষর
  4. বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দকে - পদ বলে। 

পদ: 
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।